স্মরণ

জীবনানন্দ-র উত্তরসামরিকী

ওমর শামস | ২১ অক্টোবর ২০১৬ ৪:২৪ অপরাহ্ন

Jibanananda‘উত্তর সামরিকী’, জীবনানন্দ-র অসাধারণ গদ্য-কবিতা। কতো বড়ো কল্পনা-প্রতিভা থাকলে, কতো গভীর-নিবিড় ইতিহাসবোধ থাকলে,ধাবমান বর্তমানকে ধরে বুঝবার জন্য কতো প্রত্যুৎপন্নতা থাকলে, বর্তমানে আচ্ছন্ন হয়েও ভবিষ্যতকে কম্পাসে রাখতে কতো দূরদর্শিতা থাকলে, কবিতা-সাধনায় কতো ঐকান্তিক হলে, ‘বাদামের খোসার মতো বিশুষ্ক’ বিষয়কেও প্রকাশ করা যায় ধ্বনি অনুরণিত চিত্রকল্পে – মানে কবিতায়! শুধু প্রজ্ঞা বা স্থান-কাল-ইতিহাসই নয়, মানুষের জন্য কতোটা ভালোবাসা থাকলে এমন একটি কবিতা, ‘উত্তর সামরিকী’ লেখা যায়, আমারা বুঝে উঠতে চেষ্টা করবো। উদ্ধৃত করা যাক :

উত্তর সামরিকী

আকাশের থেকে আলো নিভে যায় ব’লে মনে হয়।
আবার একটি দিন আমাদের মৃগতৃষ্ণার মতো পৃথিবীতে
শেষ হয়ে গেল তবে– শহরের ট্রাম
উত্তেজিত হয়ে উঠে সহজেই ভবিতব্যতার
যাত্রীদের বুকে নিয়ে কোন এক নিরুদ্দেশ কুড়োতে চলেছে।
এই পায়দলদের ভিড়– ঐ দিকে টর্চের মশালে বার-বার
যে যার নিজের নামে সকলের চেয়ে আগে নিজের নিকটে
পরিচিত; ব্যাক্তির মতন নিঃসহায়;
জনতাকে অবিকল অমঙ্গল সমুদ্রের মতো মনে ক’রে
যে যার নিজের কাছে নিবারিত দ্বীপের মতন
হয়ে পড়ে অভিমানে– ক্ষমাহীন কঠিন আবেগে।

সে মুহূর্ত কেটে যায়: ভালোবাসা চায় না কি মানুষ নিজের
পৃথিবীর মানুষের? শহরে রাত্রির পথে হেঁটে যেতে যেতে
কোথাও ট্রাফিক থেকে উৎসারিত আবিল ফাঁস
নাগপাশ খুলে ফেলে কিছুক্ষণ থেমে থেমে এ-রকম কথা
মনে হয় অনেকেরি:
আত্মসমাহিতিকূট ঘুমায়ে গিয়াছে হৃদয়ের। (সম্পূর্ণ…)

শহীদ কাদরীর ফেরা ও আমাদের আত্মানুসন্ধান

পুলক হাসান | ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৮:৪৬ অপরাহ্ন

Shahidকবিত্ব শক্তিতে এক আকর্ষণীয় প্রতিভা কবি শহীদ কাদরী। তীব্র নাগরিকবোধ ও মননে তিনি সমর সেনেরই যথার্থ উত্তর সাধক। কিন্তু চমক সৃষ্টিতে রুশ কবি আন্দ্রেই ভজনেসেনস্কির বাংলা সংস্করণ, আবার কাব্য কুশলতায় তাঁর কবিতায় দেখি মেক্সিকান কবি অক্তাভিও পাজের কবিতার ঝলকও। আসলে নাগরিক উপাদানে ভরপুর তাঁর কবিতার প্রধান আকর্ষণ চমক সৃষ্টি। সেই চমক শব্দ, বাক্য, উপমা, স্বর ও দ্যোতনায় একেবারেই কাদরীয়। কবিতায় তাঁর চমক সৃষ্টিতেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম মোহাবিষ্ট। তিনি যখন ‘গণহত্যা’ শব্দের বদলে ‘গণচুম্বন’ এবং সৈনিকের কাঁধে রাইফেলের বদলে ‘গোলাপ গুচ্ছে’র কথা বলেন তখন অবাক হতে হয় বৈকি! স্মার্ট, নিজস্বতায় উজ্জ্বল, সম্মোহনী কাব্যভাষা ও শুদ্ধ আধুনিকতাবোধের জন্য শুরুতেই মেধাবী কবি হিসেবে চিহ্নিত তিনি প্রতিষ্ঠিত করেন তাঁর সেই বুদ্ধিদীপ্ত ক্যারিসমেটিক অভিনবত্ব। জীবদ্দশায় লিখেছেন মাত্র ১৮০টি কবিতা, কাব্যগ্রন্থ চারটি : উত্তরাধিকার (১৯৬৭), তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা (১৯৭৪), কোথাও ক্রন্দন নেই (১৯৭৮) এবং আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও (২০০৯)। তবে প্রথম তিনটি গ্রন্থেই তিনি খ্যাতির শিখরে অধিষ্ঠিত। (সম্পূর্ণ…)

কবি শহীদ কাদরীর ঘরে ফেরা

শেখ ফিরোজ আহমদ | ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৮:৪৬ পূর্বাহ্ন

Shahid-Kadree-singleকবি শহীদ কাদরী অন্যভুবনে যাত্রার আগে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে চির বোহেমিয়ান কবি ৩৮ বছর পর ফিরলেন বটে তার সতীর্থ অনুরাগীদের মাঝে। কিন্তু এই রকম প্রাণহীন ফেরা তো কাম্য ছিলো না কারো। যিনি একদা বলতে পেরেছিলেন ‘রাষ্ট্র মানে লেফট রাইট লেফট’, সমরযন্ত্রের অশুভ আঁতাতে বিপর্যস্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে যিনি কবিতার শক্তি দিয়ে আঘাত করেছিলেন, সেই তাকেই পরিবর্তিত রাষ্ট্র অন্তিম অভিবাদন জানায় শহীদ মিনারের পবিত্র পাদদেশে। প্রয়াত কবির সৌজন্যে ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে এই বিভা ছিলো আশ্চর্য ও অভাবিত। এভাবে না ফিরে অবশ্য তার আগেই শহীদ কাদরী নিজ দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন অন্যভাবে। চতুর্থ বই আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও-এর ‘সব নদী ঘরে ফেরে’ কবিতায় এজন্যই বলতে পেরেছেন-

তোমার আমার প্রিয় কবি কোথায় যেন বলেছিলেন-
সব পাখিরা ঘরে ফেরে,
সব নদী।
আমরা কেন দন্ডায়মান
গাছতলাতে নিরবধি।
কীর্তিনাশার কালোস্রোতে
নৌকো ভাসে সারি সারি
এবার আমি বলতে পারি-
যাচ্ছি বাড়ি।
যাচ্ছি বাড়ি।
(সম্পূর্ণ…)

‘তোমার অভিসারে যাব অগম পারে’– কবি শহীদ কাদরীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

লুতফুন নাহার লতা | ১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৩:৪৬ অপরাহ্ন

Shahid-Lataনিকটজন কেউ মারা গেলে চট করে তাঁকে নিয়ে কিছু লেখা প্রায় অসম্ভব কাজ। বিশেষ করে আমার জন্যে। আমি তখন কেমন তলিয়ে যাই নানান রকম স্মৃতির ভেতর। ঠিক কোথা থেকে কি দিয়ে শুরু করব তা বুঝতে পারি না। ২৮ আগস্ট কবি শহীদ কাদরী চলে গেলেন। আমার সেই একই বাণী-প্রতিবন্দী দশা।
ভেকেশানে ছিলাম কানাডার টরন্টোতে। সেখানে থেকেই জানলাম কবি শহীদ কাদরী আবার হাসপাতালে। মন খারাপ হয়ে গেল। ফেসবুকে খুটিয়ে খুটিয়ে নিউজগুলো পড়লাম। রক্তে ইনফেকশান। জ্বর। তাঁর শরীর ডায়ালিসিস আর নিতে পারছে না। মন বলল এমন তো অনেকবারই হয়েছে। ঠিক হয়ে যাবে। টরন্টোর ভেকেশান শেষে ফিরে এসেছি নিউইয়র্কে। কবির শরীর আগের চেয়ে ভাল জেনেছি। কারা কবির পাশে আছেন কেমন আছেন খোঁজ নিয়ে জেনেছি। কবি দু’চার দিনের মধ্যে নীরা ভাবীর জামাইকার পারসন্স বুলোভার্ডের বাসায় ফিরবেন তাও জেনেছি। মন শান্ত হয়েছে জেনে যে তিনি ভাল আছেন, কথাবার্তা বলছেন।
২৮ তারিখ সকালে হাঁটাহাটি শেষে ঘরে ফিরব বলে পা বাড়াতেই পকেটে বেজে উঠল ফোন। উডসাইডের বাসা থেকে ফোন করেছে দিঠি হাসনাত। কালি ও কলমের সম্পাদক আবুল হাসনাত ভাইয়ের মেয়ে দিঠি বেশ কিছুদিন হল আছে এই শহরে। ওর ফোনে জানলাম শহীদ কাদরী এই ভোরেই মারা গেছেন। ঢাকা থেকে হাসনাত ভাই তাকে জানিয়েছে। কাকে ফোন করলে সব খবর পাওয়া যাবে জানতে চাইলে হাসান ফেরদৌসকে কল করতে বললাম এবং জানলাম ওরা তখনো হাসপাতালে পৌঁছায়নি, পথে আছে। মুহূর্তেই আমার সারা আকাশ অসম্ভব নীলের চাঁদোয়ায় নিজেকে ঢেকে বোঁ বোঁ করে ঘুরতে লাগল। সারা আকাশ জুড়ে যেন নৃত্যের শেষ ঘূর্ণিচক্রের শেষে, নর্তকীর ঘাগরায় অলস বাতাসের ঝিমধরা ঘূর্ণন। আমি টলতে টলতে ঘরে এসে বসলাম। মন শুধু বলছে ‘অসম্ভব, এ অসম্ভব।’ (সম্পূর্ণ…)

কবি শহীদ কাদরীর প্রয়াণে অগ্রজ ও অনুজ কবিদের প্রতিক্রিয়া

অলাত এহ্সান | ৩১ আগস্ট ২০১৬ ১১:৪৪ অপরাহ্ন

Shahid-Kadree-singleপঞ্চাশের দশকের তিন দিকপাল কবির একজন শহীদ কাদরী। কবিতা কম্পাসে কাটা এখনো তার দিকে দিপ্যমান। স্বাধীনতার আগে থেকে তার যে তুমুল জনপ্রিয়তা তা এখনো অটুট। ১৪ বছর বয়সে বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদিক ‘কবিতা’ পত্রিকা কবিতা প্রকাশ করার পর থেকে কবি হিসেবে তিনি সুপ্রতিষ্ঠিতি। দুই বাংলাই তিনি সমান জনপ্রিয়।
৭৩ বছরের জীবনে প্রায় ৬ দশক তারা সাহিত্যের কাল। জনপ্রিয়তার মাঝেও কবিতার সংখ্যায় তিনি ছিলেন আশ্চর্য নির্ভার। খসড়া কবিতায় সংখ্যা বৃদ্ধির চেয়ে সম্পন্ন কবিতা সীমিত থেকেছে তার কাব্যচর্চা। তাই মাত্র চারটি কবিতার বইয়ে ১২৬টি প্রকাশিত কবিতা তার। এই নিয়েই বাংলা কবিতায় স্থায়ী আসন, অমরতা। ষাটের দশকের ‘কণ্ঠস্বর’ ও ‘সমকাল’-এর সফলমিছিলে ঢুকেও স্বকীয়তায় উজ্জ্বল ছিলেন। নাগরিক চৈতন্য, তীর্যক দৃষ্টি, গভীর নির্জনতা, প্রগলভ একাকীত্ব, অমীমাংসিত নির্বাসন তার কবিতায় প্রতিফলিত।
১৯৭৯ সালে দেশ ছাড়া শহীদ কাদরী ৩৭ বছরের প্রবাসজীবনে কোলকাতা, জার্মানি, ইংল্যান্ড, আমেরিকার বোস্টন ও পরে নিউইয়র্কে থিতু হয়েছিলেন। মাঝখানে অবশ্য একবার ঢাকায় ছিলেন কয়েকমাস। তাছাড়া আর আসেননি আড্ডাপ্রাণ এই মানুষটি। এমনকি একুশে পদক নিতেও না। তবু প্রবাস থেকে তিনি লিখেন, ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’।
কবির শেষ ইচ্ছা, তাকে যেন মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শায়িত করা হয়।
এই কবির প্রয়াণে শোকস্তদ্ধ কবিতাপ্রেমি ও সংগ্রামীরা। তাকে নিয়ে কথা বলেছেন তার অগ্রজ, সমসাময়িক এবং অনুজ কবিগণ। তাদের কথা এখানে গ্রন্থণা করেছেন তরুণ গল্পকার অলাত এহ্সান। (সম্পূর্ণ…)

ফুকোর হাসি, একটি গ্রন্থের জন্ম এবং বোর্হেস

রাজু আলাউদ্দিন | ২৪ আগস্ট ২০১৬ ৭:১৪ অপরাহ্ন

Jorge-Luis-Borges-008ফরাসী দার্শনিক মিশেল ফুকো তাঁর বস্তুর বিন্যাস (Order of Things) গ্রন্থের বীজ কীভাবে পেলেন সে-সম্পর্কে তিনি বইটির ভূমিকায় হোর্হে লুইস বোর্হেসের একটি লেখার উল্লেখ করেছিলেন। লেখাটির নাম তিনি ভূমিকার কোথাও উল্লেখ করেননি, কিন্তু আমরা জানি বোর্হেসের এই লেখাটির নাম ‘জন উইলকিন্সের বিশ্লেষী ভাষা’। লেখাটি পড়তে গিয়ে প্রচণ্ড হাসিতে তাঁর–এমন কি আমাদেরও–পরিচিত সব ভাবুকতার, যে-ভাবুকতায় আমরা অভ্যস্ত এবং যা আমাদের দেশ-কালের লক্ষণ-চিহ্নে শোভিত, আর ‘ভিন্ন’ ও ‘অভিন্ন’-এর মধ্যেকার বর্ষীয়ান যে ভেদস্তম্ভটি যুগ যুগ ধরে সগৌরবে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে ছিলো, তা ভেঙে পড়ে। কী এমন রয়েছে বোর্হেসের ঐ লেখায় যা ফুকোর অনুভূতিতে তীব্র হাসির সঞ্চার করতে পারে, যে-হাসির তীব্রতায় খানখান হয়ে যাবে আমাদের এতকালের চিন্তা-জগতের প্রচলিত সব বিন্যাস? ফুকো জানাচ্ছেন যে বোর্হেসের লেখাটিতে এক চীনা বিশ্বকোষের (বোর্হেসের উদ্ভাবিত, এমনকি বোর্হেসের এই লেখাটিও প্রবন্ধের ছদ্মবেশে আসলে একটি গল্প) উল্লেখ রয়েছে যেখানে প্রাণীদের ভাগ করা হয়েছে এভাবে “(ক) সম্রাটের যারা মালিকানাধীন, (খ) যারা সুবাসিত, (গ) যাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে, (ঘ) চোষণকারী শুকোর ছানা, (ঙ) মৎস্যকন্যা, (চ) কাল্পনিক, (ছ) পথকুকুর (জ) এই বিভাগে যাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, (ঝ) পাগলের মতো যারা কাঁপুনি দেয়, (ঞ) যারা অগণ্য, (ট) উটের লোমের ব্রাশে যাদের আঁচড়ানো হয়েছে (ঠ) অন্যান্যরা (ড) এইমাত্র যারা কোনো ফুলদানি ভেঙ্গেছে (ঢ) দূর থেকে যাদের মাছি বলে ভ্রম হয়।” এই বর্গীকরণের মধ্যে অন্য এক ভাবনা-পদ্ধতির অদ্ভুত আনন্দের প্রকাশ আমাদেরকে সচকিত করে তোলে। যেমনটা করেছে এ কালের গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক মিশেল ফুকোকে। (সম্পূর্ণ…)

হোর্হে লুইস বোর্হেসের প্যারাবোল: রাজ প্রাসাদের রূপকথা

খালিকুজ্জামান ইলিয়াস | ২৩ আগস্ট ২০১৬ ৯:৫৩ অপরাহ্ন

মূলত গল্পকার হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হলেও, হোর্হে লুইস বোর্হেস(১৮৯৯-১৯৮৬) ছিলেন একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, প্যারাবোল-রচয়িতা ও গল্পকার। ২৪ আগস্ট তার ১১৭তম জন্মদিন। বাংলাভাষার শীর্ষস্থানীয় অনুবাদক ও প্রাবন্ধিক খালিকুজ্জামান ইলিয়াসের অনুবাদে বোর্হেসের অসামান্য একটি প্যারাবোল অনুবাদের মাধ্যমে আর্হেন্তিনার এই অসামান্য লেখককে বিডিনিউজটোয়েটিফোর ডটকম-এর আর্টস বিভাগের পক্ষ থেকে জানাই জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলী। বি. স.

al-hamraসেদিন পীতাঙ্গ সম্রাট কবিকে তাঁর প্রাসাদ দেখালেন। তাঁরা প্রাসাদের পশ্চিম প্রান্তের সারবদ্ধ প্রথম অলিন্দগুলি পার হয়ে এগিয়ে গেলেন; গিয়ে দাঁড়ালেন সেখানে যেখানে মুক্তমঞ্চের অসংখ্য সিঁড়ির মতো নেমে গেছে সেইসব অলিন্দচত্তর। গিয়ে মিশেছে স্বর্গপুরীতে বা নন্দনকাননে। সেখানে ধাতব মুকুর আর পেঁচানো জটাজালে বিস্তৃত জুনিপার ঝোপঝাড় এক গোলকধাঁধারই ইঙ্গিত দেয়। প্রথমে ওরা বেশ হাস্যলাস্যেই ওই ধাঁধায় হারিয়ে গেলেন যেন বা লুকোচুরি খেলা খেলতে খেলতে; কিন্তু পরে তাঁদের চিত্তে জমে শঙ্কা কারণ সোজাসিধে পথগুলো চলিষ্ণু অবস্থাতেই ক্রমে বেঁকে যাচ্ছিল (আসলে ওই পথগুলো ছিল এক একটা গোপন বৃত্ত)। রাত ঘনিয়ে এলে তাঁরা আকাশের গ্রহরাজি দেখেন, এবং লগ্ন হলে একটা কচ্ছপ বলি দেন। এরপর সেই আপাতঃ ঘোরলাগা অঞ্চল থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসেন, কিন্তু হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কাবোধ থেকে বেরোতে পারেন না। এবং শেষ পর্যন্তও এই বোধ তাঁদের সঙ্গে সেঁটেই থাকে। প্রশস্ত অলিন্দ-চত্ত্বর আর পাঠাগার তাঁরা পার হয়ে আসেন, পার হন জলঘড়িরাখা ষড়ভুজ কক্ষটিও। একদিন সকালবেলা এক উচ্চমিনার থেকে তাঁরা দেখেন এক প্রস্তর মানবকে, কিন্তু লোকটা মুহূর্তে কোথায় হাওয়া হয়ে যায় যে আর কখনো তাকে দেখাই গেল না। চন্দনকাঠের নৌকায় চড়ে তারা কত ঝিলিমিলি জলের নদী পেরিয়ে গেলেন–নাকি একটি নদীই তারা বার বার পার হলেন? রাজ শোভাযাত্রা পেরিয়ে যায় কত জনপদ আর লোকে করে সাষ্ঠাঙ্গে প্রণিপাত। কিন্তু একদিন তাঁরা এক দ্বীপে এসে তাঁবু গাড়ে, সেখানে একটি লোক রাজাকে প্রণিপাত করে না কারণ সে তো কখনো দেবদূত দেখেই নি। তখন আর কি, রাজজল্লাদকে তার কল্লা নিতে হলো। কালো চুলের মাথা আর কৃষ্ণাঙ্গ যুবানৃত্য আর জটিল আঁকিবুকির সোনালী মুখোশ নির্লিপ্ত চোখে তাকিয়ে থাকে; বাস্তব আর স্বপ্নের ভেদরেখা যায় ঘুঁচে–নাকি বাস্তবই হয়ে দাঁড়ায় স্বপ্নের স্বরূপ? তখন মনেই হয় না যে পৃথিবীটা এক বাগিচা কি জলাধার কি স্থাপত্যশিল্প কি জমকালো সব সাকার বস্তুর সমাহার ছাড়া অন্য কিছু। প্রতি শতপদ ফারাকে এক একটি মিনার উঠে ফুঁড়ে গেছে নীল আকাশ; চর্মচক্ষে তাদের রঙ এক ও অভিন্ন, তবু প্রথম মিনার দেখতে হলুদ আর সারির শেষটি লাল। এই রঙের ক্রমবিস্তার খুবই নাজুক, ফিনফিনে আর মিনার সারিও খুব দীর্ঘ ও প্রলম্বিত। (সম্পূর্ণ…)

বিদেশি লেখকদের মূল্যায়নে শেখ মুজিব

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ১৫ আগস্ট ২০১৬ ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন

Mujibরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- এই দুই শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলা ভাষা- সংস্কৃতিকে এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের শীর্ষ আসনে স্থান করে দিয়েছেন। এঁদের অমূল্য অবদান অনিবার্যভাবেই অনন্তকাল থাকবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব লেখক ছিলেন না: কিন্তু লেখার বিষয়বস্তু হয়েছেন। শুধু স্বদেশের শিল্পী-সাহিত্যকরাই নয়, বিদেশী লেখক-কবি-সাহিত্যিক- সাংবাদিকরা তাঁকে নিয়ে লেখালেখি করেছেন। ২৫ বছর আগে যেসব লেখালেখি শিল্পচর্চা তাঁকে নিয়ে হয়েছে, সেইসব দৃষ্টান্ত কালের আবর্তে হারিয়ে গেছে এবং যাচ্ছে।
বিদেশি পত্র-পত্রিকা ছাড়াও বিদেশি লেখকদের গল্পে, উপন্যাসে এবং কবিতায় বঙ্গবন্ধুকে স্থান দিয়েছেন। যেমন মার্কিন লেখক রবার্ট পেইন, সালমান রুশদী, জাপানি কবি মাৎসুও শুকাইয়া, গবেষক ড. কাজুও আজুমা, প্রফেসর নারা, মার্কিন কবি লোরী এ্যান ওয়ালশ, জামান কবি গিয়ার্ড লুইপকে, বসনিয়ার কবি ইভিকা পিচেস্কি, বৃটিশ কবি টেড হিউজের কবিতায় বঙ্গবন্ধু উপস্থাপিত হয়েছেন। অবশ্য ভারতীয় ও পাকিস্তানি প্রচুর কবিই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা রচনা করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিদেশিরাও বেশ কিছু গ্রন্থ লিখেন। তার একটি অসম্পূর্ণ তালিকা নিম্নরূপ: (সম্পূর্ণ…)

পিতা, তুমি চলে যাওয়ায়

মারুফ কবির | ১৫ আগস্ট ২০১৬ ৯:৫৩ পূর্বাহ্ন

mojibহে শ্রেষ্ঠ বাঙালী তুমি যে মানুষগুলোর ভালবাসায় একটি জাতির পিতা হয়ে উঠেছিলে-
সে মানুষগুলো কালের বিবর্তনে আজ বড্ড অবহেলিত হয়ে গেলো।
তার বদলে সেই সব চাটার দলের শিরোমণিদের কাছে ক্ষমতার বিশাল ভার,
তাদের সন্তানেরা থাকে বিলাত কিংবা আমেরিকার মস্ত বড়লোকদের পাডায়;
তোমার বাংলা থেকে চুরি করা টাকা নিত্য তাদের বিলাসিতায় যায়।
আর যে সরল সাধারন তোমার স্বপ্ন বুকে ধারন করে পথ চলতো তারা এখনো তোমাকেই ভালবাসে,
তাদের সন্তানেরা জীবনের প্রতিপদে সংগ্রামে এখনো মুখর তোমারই স্বপ্নের দেশ গড়তে।
হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর পিতা তোমার সোনার বাংলায় এখন দস্যুর হানা,
পার্বত্য চট্রগ্রাম থেকে সর্বত্র সবাই এখন চায় দানবীয় উন্নয়ন। (সম্পূর্ণ…)

শহীদ কাদরীর কবিতা

ওমর শামস | ১৩ আগস্ট ২০১৬ ৩:০৬ অপরাহ্ন

shahid-qudri-10শহীদ কাদরী, ২০০৫ এর দিকে, তাঁর ‘বৃষ্টি’ কবিতা প্রসঙ্গে আমাকে একদিন ফোনে বলেছিলেন, “এই হচ্ছে আমার ওয়েস্ট ল্যান্ড”। এটি তাঁরই কবিতা হলেও, আমি ঠিক ওই বিবেচনায় রচনাটির রস গ্রহণ করি না। তবে উক্তিটির মধ্যে কাদরীর কবিতাবোধের ও কবিতা রচনার প্রক্রিয়ার অনেকখানি সূত্র আছে। আরেকটু বিস্তৃত করা যাক। রোমান্টিসিজম-এর পরে উনিশ শতকের শেষার্ধ থেকে ফরাসী, জর্মন, ইংরেজী তার কিছু পরের হিস্পানীক কবিতায় যে এবং যে সব বাঁক উঠলো তাতে চিন্তা এবং সারবত্তার আয়তন সমধিক বৃদ্ধি পেয়ে সেটি নির্মল আবেগের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়ালো। এই ধরনের ঘটনা যে কোন শিল্পের, চিত্র এবং সংগীতেরও প্রগতির অন্ত:সার হতে বাধ্য। কেননা ব্যক্তিগত এবং সামাজিকভাবে আমরা বেশি জানতে এবং ভাবতে অভ্যস্ত হচ্ছি প্রতিদিন। রাজনীতি, ইতিহাস, বিজ্ঞান, যুদ্ধ, অর্থনীতি, ব্যবসা, জনগোত্রের বিস্তার – আমরা সবই আরো-আরো জানছি । ১৮ শতক থেকে যন্ত্রবিপ্লবের সঙ্গে-সঙ্গে মানুষ গ্রাম থেকে শহরে জড়ো হয়েছে, এখনো হচ্ছে। ফলে কবিতা শুধু মাত্র প্রকৃতি, ঈশ্বর, সৌন্দর্য এইসব বিষয় থেকে অপরাপর বিষয় নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে । ১৯ শতকের মাঝামাঝির থেকে বোদলেয়ার যা করেছিলেন, তার সারার্থ হচ্ছেঃ ১) কবিতাকে মেদ নিষ্ক্রান্ত করে, শ্রুতি-চিত্রকল্পে ব্যঞ্জনা বৃদ্ধির কৌশল নিরূপণ, ২) নাগরিক জীবনের চিত্রায়ন, ৩) প্রকৃতি বিরূপতা, ৪) জীবনের ক্লেদ-গ্লানি থেকেও কবিতা তৈরী করা। বোদলেয়ার রোমান্টিসিজমের কবিতাকে যে স্তরে নিয়ে গেলেন, সেটাকেই আধুনিক কবিতা, অন্তত এক প্রকারের আধুনিক কবিতা স্বীকার করে নেয়া হয়েছে। তাঁর উত্তরসুরি– র‍্যাম্বো, মালার্মে, ভালেরি – আধুনিক কবিতাকে আরো অন্যান্য সম্পদে বিত্তশালী করে তোলেন পরবর্তী কালে। সেই বিবরণে যাবার সুযোগ নেই এখানে। ফরাসী এই কবিতা-ধারা, যাকে সিম্বলিজমও বলা হয়ে থাকে, পরে ইংরেজী এবং জর্মন কবি ও কবিতাকে আক্রান্ত করে – ইয়েটস, এলিয়ট, পাউন্ড, রিলকে-র কবিতা তার সাক্ষ্য। (সম্পূর্ণ…)

সাহস আর অহংকারের কবি হুমায়ুন আজাদ

ফরিদ আহমদ দুলাল | ১২ আগস্ট ২০১৬ ১২:৩১ অপরাহ্ন

humayun_azadকবিতা যখন ঘুমভাঙানিয়া গান শোনায়, তারুণ্যকে উদ্দীপ্ত করে, অহংকারের বাতিঘরের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়; কবিতা যখন সাহসী হবার প্রেরণা যোগায়; কবিতা যখন সমাজমনষ্ক করে তোলে, সত্য উচ্চারণের স্পর্ধা এনে দেয় নতুন প্রজন্মের অন্তরে; কবিতা যখন আত্মপরিচয়ের ঠিকানা বলে দেয়; পাঠক সে কবিতার কাছে বারবার ফিরে ফিরে আসে। বাংলাসাহিত্যে তেমন কবির সংখ্যা খুব বেশি নয় বরং দুর্লভ; প্রথাবিরোধী লেখক হিসেবে পরিচিত হুমায়ুন আজাদ সেই দুর্লভদের অন্যতম। ভাষাবিজ্ঞানী হুমায়ুন আজাদের সাহিত্যকর্মে আমরা পেয়েছি উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা ও প্রবচনগুচ্ছ। হুমায়ুন আজাদের কবিতায় তিনি নানান প্রবচন ব্যবহারের মাধ্যমে কবিতায় বাণীস্বত্ব সংযোজনের প্রয়াশ পেয়েছেন সব সময় যে কারণে তার কবিতা সমাজ ও জাতির সংকটকালে উচ্চারিত হয়েছে মানুষের মুখে মুখে। স্খলিত সময়ের প্রেক্ষাপটে মানুষ যেমন উচ্চারণ করেছে জীবনানন্দ দাশের ‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে পৃথিবীতে আজ’, পাশাপাশি উচ্চারণ করেছে, ‘সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’। হুমায়ুন আজাদ তাঁর জীবদ্দশায় ‘অলৌকিক ইস্টিমার’(১৯৭৩), ‘জ্বলো চিতাবাঘ’(১৯৮০), ‘সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’(১৯৮৫), ‘যতোই গভীরে যাই মধু যতোই ওপরে যাই নীল’(১৯৮৭), ‘আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে’(১৯৯০), ‘কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু’(১৯৯৮) এবং ‘পেরোনোর কিছু নেই’(২০০৪) সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও ‘হুমায়ুন আজাদের শ্রেষ্ঠ কবিতা’(১৯৯৩) ও ‘কাব্যসংগ্রহ’(১৯৯৮); ৯টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করে গেছেন যা তাঁর সমসাময়িক অন্য অনেক কবির চেয়ে সংখ্যায় নগন্য বলা যায়; কিন্তু এই অল্প সংখ্যক কবিতা দিয়েই তিনি নিজস্ব একটি কাব্যভুবন তৈরি করে যেতে সমর্থ হয়েছেন। বিশেষ করে অনুসন্ধিৎসু তারুণ্যের কাছে হুমায়ুন আজাদ হয়ে উঠেছেন একজন ব্যতিক্রমী কবি। এ ছাড়াও হুমায়ুন আজাদের সৃষ্টিসম্ভারে আছে আলোচিত-বিতর্কিত বেশ কিছু প্রবন্ধগ্রন্থ এবং উপন্যাস। হুমায়ুন আজাদ অনুবাদ করেছেন জন কীট্স, ম্যাথিউ আরনল্ড, ডব্লিউ বি ইয়েটস, ই ই কামিংস, হাইনরিশ হাইনে প্রমুখ কবির কবিতা। ২০০৪-এর ১২ আগস্ট জার্মানির মিউনিখের ফ্ল্যাটে নিজ কক্ষে রহস্যজনকভাবে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, সে সময় তিনি হাইনরিশ হাইনের উপর গবেষণাবৃত্তি নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন। একই বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির বইমেলা থেকে ফেরার পথে আততায়ীর হাতে গুরুতর আহত হন এবং বেশ ক’দিন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কাটিয়ে জীবনের দিকে ফিরে আসেন। আমাদের আজকের আলোচনা হুমায়ুন আজাদের প্রকাশিত ৭টি কাব্যগ্রন্থের কবিতা নিয়ে। (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্র-ভাবনায় বর্ষা

তপন বাগচী | ৭ আগস্ট ২০১৬ ১১:২৩ পূর্বাহ্ন

R Tরবীন্দ্রনাথের জন্ম বৈশাখে আর মৃত্যু শ্রাবণে। গ্রীষ্মে আগমন আর বর্ষায় প্রস্থান। জন্ম ও মৃত্যুর উপর কারো হাত নেই জেনে কেন যেন মনে হয়, এই দুটি ঋতুকে রবীন্দ্রনাথ একটু আলাদা রকম ভালবেসেছিলেন। শরৎ হেমন্ত শীত বষন্তের চেয়ে গ্রীষ্ম-বর্ষার বন্দনা একটু বেশিই করেছেন। গীতবিতান খুললে আমরা প্রকৃতি পর্যায়ের ২৮৩টি গান পাই আর তার মধ্যে ১২০ টি গান বর্ষাকে নিয়ে। আমরা বর্ষার গানের তালিকা দেব না। আমরা জানি তার বর্ষার গানের কথা। আমরা দেখতে চাই বর্ষাকে কবি কেমন করে অনুভব করেছেন। আমরা দেখাতে চাই তার বর্ষাভাবনার স্বরূপ।
‘বিবিধ’ প্রবন্ধে ‘বর্ষার চিঠি’ প্রবন্ধের কথাই ধরা যাক। বর্ষার দিনের অনুপম বিবরণ রয়েছে এতে, ‘মনে করুন পিছল ঘাটে ভিজে ঘোমটায় বধূ জল তুলছে; বাঁশঝাড়ের তলা দিয়ে, পাঠশাল ও গয়লাবাড়ির সামনে দিয়ে সংকীর্ণ পথে ভিজতে ভিজতে জলের কলস নিয়ে তারা ঘরে ফিরে যাচ্ছে; খুঁটিতে বাঁধা গোরু গোয়ালে যাবার জন্যে হাম্বারবে চিৎকার করছে; আর মনে করুন, বিস্তীর্ণ মাঠে তরঙ্গায়িত শস্যের উপর পা ফেলে ফেলে বৃষ্টিধারা দূর থেকে কেমন ধীরে ধীরে চলে আসছে; প্রথমে মাঠের সীমান্তস্থিত মেঘের মতো আমবাগান, তার পরে এক-একটি করে বাঁশঝাড়, এক-একটি করে কুটির, এক-একটি করে গ্রাম বর্ষার শুভ্র আঁচলের আড়ালে ঝাপসা হয়ে মিলিয়ে আসছে, কুটিরের দুয়ারে বসে ছোটো ছোটো মেয়েরা হাততালি দিয়ে ডাকছে ‘আয় বৃষ্টি হেনে, ছাগল দেব মেনে’। অবশেষে বর্ষা আপনার জালের মধ্যে সমস্ত মাঠ, সমস্ত বন, সমস্ত গ্রাম ঘিরে ফেলেছে; কেবল অবিশ্রান্ত বৃষ্টি— বাঁশঝাড়ে, আমবাগানে, কুঁড়ে ঘরে, নদীর জলে, নৌকোর হালের নিকটে আসীন গুটিসুটি জড়োসড়ো কম্বলমোড়া মাঝির মাথায় অবিশ্রাম ঝরঝর বৃষ্টি পড়ছে।’ বর্ষার এই রূপ হয়তো এখন অনেকখানি বদলে গেছে। তবু রবীন্দ্রনাথের ভাবনায় যে বর্ষা, তা বাংলারই চিরায়ত রূপ বটে! রবীন্দ্রবিবরণ বর্ষার এই রূপদর্শনে আমরা বিমোহিত না হয়ে পারি না। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com