স্মরণ

ফেদেরিকো গারথিয়া লোরকা-র জন্য গোলাপ

ওমর শামস | ১৬ নভেম্বর ২০১৬ ১:১০ অপরাহ্ন

Lorca১ ভূমিকা :
অগাস্ট ১৯, ১৯৩৬ ফেদেরিকো গারথিয়া লোরকা (Federico Garcia Lorca)-র মৃত্যু দিন, জন্ম – জুন ৫, ১৮৯৮। এই লেখাটুকু আজকে লোরকা এবং তার কবিতা-কাজের স্মরণ, সঙ্গে–সঙ্গে শ্রদ্ধা তর্পণ। লোরকা সারা পৃথিবীর কবিতায় ইউনিক। তিনি অনন্য তাঁর কবিতার বিষয়ে, কবিতার ধারণায়, কলাকৌশলে, ভাষা-ধ্বনি প্রয়োগে, জীবন যাপনেও। আমি তাঁর নাটক বা ছবির কথা বলছি না এখানে। লোরকার ১৮ বছরের কবিতা রচনার মধ্যে ৪ টি ধারা আছে :
১. প্রস্তুতির ও প্রাথমিক বছরগুলো (১৯১৮-১৯২৭)/ Impresiones y Paisajes, 1918; Libro de Poemas, 1921
২. জিপসি বালাদ (১৯২৬-২৮) /Romancero Gitano, 1928
৩. নিউ ইয়র্কে লেখা কবিতা (১২২৯-৩০) /Poeta en Nueva York, 1940
৪. তার পরের কবিতা (১৯৩১-৩৬)/ Llanto por Ignacio Sanchez Mejias, 1935; The Tamarit Divan, 1940
এর মধ্যে মৌলিক ও মূল্যবান হচ্ছে জিপসি বালাদ এবং নিউইয়র্কে কবি। মোটা দাগে জিপসি বালাদের মধ্যে লোরকা গীতলতা এবং চিত্রকল্প ব্যাবহার করে ঐতিহ্যগত লোকজ জিনিশে নতুনত্ব ভরিয়ে দিলেন। নিউইয়র্কে লেখা কবিতাগুলোয়, যা পরে Poeta en Nueva York (নিউইয়র্কে কবি) কাব্য গ্রন্থে প্রকাশিত হয়, তিনি চিত্রকল্প এবং কোলাজ এমন ভাবে বিচ্ছিন্ন আবার একই সঙ্গে সংগ্রথিত করেছেন যে এগুলো সুররিয়ালিস্টিক অভিধা প্রাপ্ত হয়ে উঠেছে। এইসব কথা আমরা আরেকটু বিশদভাবে নিচে বলবো।
উল্লিখিত রচনার বাইরে, লোরকা নাটক লিখেছিলেন, গান বেঁধেছিলেন, ছবি এঁকেছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

চাঁদে পাওয়া মানুষ হুমায়ূন আহমেদ

মাজহারুল ইসলাম | ১৩ নভেম্বর ২০১৬ ৬:২৫ অপরাহ্ন

ছোট ছোট ৫৭টি শব্দে লেখা কয়েক লাইনের চিঠি।

মাজহার,
ভাই, আরও দশ পৃষ্ঠা লিখতে হবে। এই দশ পৃষ্ঠা তাড়াহুড়া করলে উপন্যাসের ভয়ংকর ক্ষতি হবে। আগামীকাল সন্ধ্যার আগে শেষ দশ পৃষ্ঠা লেখা যাচ্ছে না।
তোমার পত্রিকা যদি পঁচিশ তারিখে বের করতেই হয় তাহলে আমার উপন্যাস যতটুক দেওয়া হয়েছে ততটুক ছেপে নিচে লিখে দাও–আগামী সংখ্যায় সমাপ্য।
আর কোনো বুদ্ধি তো বের করতে পারছি না।
হুমায়ূন আহমেদ

Huকিছুক্ষণ আগে ধানমণ্ডির বাসা থেকে ফিরে এসে ‘অন্যদিন’-এর কর্মী রতন এই চিঠি আমাকে দিয়েছে। আমাকে লেখা হুমায়ূন আহমেদের প্রথম চিঠি।
চিঠিটি পড়ে আমি চিন্তিত হয়ে পড়লাম। এদিকে বাজারে অন্য ঈদসংখ্যাগুলো সব চলে এসেছে। অন্যদিন ঈদসংখ্যার সব ফর্মা প্রেসে চলে গেছে। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের শেষ অংশের জন্য কয়েকটি ফর্মা আটকে আছে। কী করব বুঝতে পারছি না।
আমার চিন্তিত অবস্থার মধ্যেই হঠাৎ হুমায়ূন আহমেদের টেলিফোন–মাজহার শোনো, জীবনে বহু ঈদসংখ্যা প্রকাশ করার সুযোগ পাবে। কিন্তু এরকম জোছনা এক শ’ বছর পর আবার আসবে। এটা দেখার আর সুযোগ পাবে না। কাজেই দলবল নিয়ে নুহাশপল­ী চলে আসো। একসঙ্গে জোছনা দেখব এবং রাতে নুহাশপল্লীতে থাকবে। ভালো গান-বাজনার আয়োজন আছে। সঙ্গে সঙ্গে বললাম, স্যার, অবশ্যই আসব।
জোছনার প্রতি হুমায়ূন আহমেদের ভালো লাগা কী তীব্র ছিল, তা জেনেছি তাঁর লেখালেখি পড়ে, নাটক দেখে। ‘আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে’–প্রিয় এই রবীন্দ্রসঙ্গীতটি অনুভূতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল যেদিন এর অপূর্ব চিত্রায়ন দেখলাম তুমুল জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’-তে। তখনই জোছনার প্রতি একটা আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল আমার ভেতর। কিন্তু জোছনা উদযাপন করতে হয় কীভাবে সে সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিল না। তাই হুমায়ূন আহমেদের আমন্ত্রণ লুফে নিলাম তাৎক্ষণিকভাবে। আরেকটি বিষয় কাজ করেছিল, চাঁদ আর পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্ব কমতে কমতে প্রতি এক শ’ বছরে একবার চাঁদ এতটা কাছে আসে পৃথিবীর। তাই এরকম প্রখর চাঁদের আলো প্রতি এক শ’ বছর পর পাওয়া যায়। কারও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার জন্য নিশ্চয়ই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আর এরকম একটি ঘটনায় এ মুহূর্তে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ পাওয়াটাও অনেক সৌভাগ্যের বিষয়। (সম্পূর্ণ…)

হুমায়ূননামা

কামরুল হাসান | ১৩ নভেম্বর ২০১৬ ১:১৯ পূর্বাহ্ন

Humayunইতিহাসের পাতায় যে-হুমায়ুন আমাদের প্রথম নাড়া দিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি বাবর পুত্র হুমায়ুন। একবার কঠিন অসুখে পতিত হলে ভারতবর্ষে মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবর সৃষ্টিকর্তার দরবারে প্রাণপ্রিয় পুত্রের জন্য আকুল প্রার্থনা জানিয়েছিলেন, যেন তার নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও পুত্রের জীবন রক্ষা পায়। ঘটেছিলোও তাই। হুমায়ুন ধীরে ধীরে আরোগ্যলাভ করেন আর বাবর শয্যাশায়ী হন। সেটাই ছিল বাবরের অন্তিম শয়ান। সম্রাটরা সাধারণত খুব একটা দয়ালু হন না, নিষ্ঠুর সব যুদ্ধে সংখ্যাতীত মানুষের রক্তভেজা প্রান্তরের ওপর দিয়ে বিজয়ের রথ চালিয়ে তারা সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। তাই সম্রাট-হৃদয় পাষাণে গড়া; কিন্তু সম্রাট যখন পিতা, তখন তিনি স্নেহার্দ্র। বাবরের প্রার্থনা ইতিহাসের পাতায় সন্তানের জন্য পিতার আত্মোৎসর্গের এক অনুপম দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

আরেক হুমায়ুন ভারতবর্ষের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি হুমায়ুন কবির। ছাত্রজীবনে অসামান্য মেধাবী মানুষটি শেরে বাংলার কৃষক-প্রজা পার্টি দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও পরবর্তী সময়ে জওহরলাল নেহেরু এবং লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মন্ত্রীসভায় শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। ব্রিটিশ পরবর্তী ভারতে শিক্ষানীতি ও শিক্ষা-কাঠামো নির্মাণে তাঁর সবিশেষ অবদান রয়েছে। কৃষক-শ্রমিকের কল্যাণকামী মানুষটি ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, ছিলেন বিধানসভা ও রাজ্যসভায় একাধিকবার নির্বাচিত সদস্য। এবং এক সময় মওলানা আবুল কালাম আজাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তবে তার সাথে আমাদের পরিচয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, কবি হিসেবে। শৈশবে পাঠ্যবইয়ের পাতায় তাঁর কবিতা আমরা পাঠ করেছি সাগ্রহে, পরিণত বয়সে তাঁর প্রবন্ধ আমাদের চেতনা ও উপলব্ধির জগৎকে সমৃদ্ধ করেছে। (সম্পূর্ণ…)

কবি শামসুর রাহমান স্মরণে কবিতা: হাসপাতালের বেডে কয়েকটা কমলালেবু

মাজহার সরকার | ২৩ অক্টোবর ২০১৬ ৭:৪৩ অপরাহ্ন

shamsur-rahman-101হাসপাতালের বেডে ওই লোকটা
নদীর মতন সরলরেখায় শুয়ে আছে
শিশুর আঙুলে দুরন্ত ফড়িঙের পাখা তার
সাদা এক জোড়া কাচের চোখ।
পাশে চিন্তিত মহিলা চুলে মেখে দেয় কালো চিরুনির স্নেহ
আঙুলের ফাঁক দিয়ে ঝড়ে পড়ে সোহাগ
মাছের হৃদয় হয় পুকুরের জলের সমান
পৃথিবীর মতো গোল, কিছুটা চ্যাপ্টা ও সামান্য রুগ্ন
কয়েকটা কমলালেবু টেবিলের কারুণ্য নিয়ে উজ্জ্বল
টেপ খাওয়া হাড়ির মতো কলকল হেসে উঠে।
কমলালেবু আসে কমলালেবু যায়
প্যাকেটের ভেতর স্থবির সুস্বাদু শরীরের
পতনে, কমলার রক্ত লাফিয়ে নামে আমাদের বিলম্বিত
সৌজন্যের শোকে, এখন কেমন আছেন ভাই? (সম্পূর্ণ…)

জীবনানন্দ-র উত্তরসামরিকী

ওমর শামস | ২১ অক্টোবর ২০১৬ ৪:২৪ অপরাহ্ন

Jibanananda‘উত্তর সামরিকী’, জীবনানন্দ-র অসাধারণ গদ্য-কবিতা। কতো বড়ো কল্পনা-প্রতিভা থাকলে, কতো গভীর-নিবিড় ইতিহাসবোধ থাকলে,ধাবমান বর্তমানকে ধরে বুঝবার জন্য কতো প্রত্যুৎপন্নতা থাকলে, বর্তমানে আচ্ছন্ন হয়েও ভবিষ্যতকে কম্পাসে রাখতে কতো দূরদর্শিতা থাকলে, কবিতা-সাধনায় কতো ঐকান্তিক হলে, ‘বাদামের খোসার মতো বিশুষ্ক’ বিষয়কেও প্রকাশ করা যায় ধ্বনি অনুরণিত চিত্রকল্পে – মানে কবিতায়! শুধু প্রজ্ঞা বা স্থান-কাল-ইতিহাসই নয়, মানুষের জন্য কতোটা ভালোবাসা থাকলে এমন একটি কবিতা, ‘উত্তর সামরিকী’ লেখা যায়, আমারা বুঝে উঠতে চেষ্টা করবো। উদ্ধৃত করা যাক :

উত্তর সামরিকী

আকাশের থেকে আলো নিভে যায় ব’লে মনে হয়।
আবার একটি দিন আমাদের মৃগতৃষ্ণার মতো পৃথিবীতে
শেষ হয়ে গেল তবে– শহরের ট্রাম
উত্তেজিত হয়ে উঠে সহজেই ভবিতব্যতার
যাত্রীদের বুকে নিয়ে কোন এক নিরুদ্দেশ কুড়োতে চলেছে।
এই পায়দলদের ভিড়– ঐ দিকে টর্চের মশালে বার-বার
যে যার নিজের নামে সকলের চেয়ে আগে নিজের নিকটে
পরিচিত; ব্যাক্তির মতন নিঃসহায়;
জনতাকে অবিকল অমঙ্গল সমুদ্রের মতো মনে ক’রে
যে যার নিজের কাছে নিবারিত দ্বীপের মতন
হয়ে পড়ে অভিমানে– ক্ষমাহীন কঠিন আবেগে।

সে মুহূর্ত কেটে যায়: ভালোবাসা চায় না কি মানুষ নিজের
পৃথিবীর মানুষের? শহরে রাত্রির পথে হেঁটে যেতে যেতে
কোথাও ট্রাফিক থেকে উৎসারিত আবিল ফাঁস
নাগপাশ খুলে ফেলে কিছুক্ষণ থেমে থেমে এ-রকম কথা
মনে হয় অনেকেরি:
আত্মসমাহিতিকূট ঘুমায়ে গিয়াছে হৃদয়ের। (সম্পূর্ণ…)

শহীদ কাদরীর ফেরা ও আমাদের আত্মানুসন্ধান

পুলক হাসান | ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৮:৪৬ অপরাহ্ন

Shahidকবিত্ব শক্তিতে এক আকর্ষণীয় প্রতিভা কবি শহীদ কাদরী। তীব্র নাগরিকবোধ ও মননে তিনি সমর সেনেরই যথার্থ উত্তর সাধক। কিন্তু চমক সৃষ্টিতে রুশ কবি আন্দ্রেই ভজনেসেনস্কির বাংলা সংস্করণ, আবার কাব্য কুশলতায় তাঁর কবিতায় দেখি মেক্সিকান কবি অক্তাভিও পাজের কবিতার ঝলকও। আসলে নাগরিক উপাদানে ভরপুর তাঁর কবিতার প্রধান আকর্ষণ চমক সৃষ্টি। সেই চমক শব্দ, বাক্য, উপমা, স্বর ও দ্যোতনায় একেবারেই কাদরীয়। কবিতায় তাঁর চমক সৃষ্টিতেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম মোহাবিষ্ট। তিনি যখন ‘গণহত্যা’ শব্দের বদলে ‘গণচুম্বন’ এবং সৈনিকের কাঁধে রাইফেলের বদলে ‘গোলাপ গুচ্ছে’র কথা বলেন তখন অবাক হতে হয় বৈকি! স্মার্ট, নিজস্বতায় উজ্জ্বল, সম্মোহনী কাব্যভাষা ও শুদ্ধ আধুনিকতাবোধের জন্য শুরুতেই মেধাবী কবি হিসেবে চিহ্নিত তিনি প্রতিষ্ঠিত করেন তাঁর সেই বুদ্ধিদীপ্ত ক্যারিসমেটিক অভিনবত্ব। জীবদ্দশায় লিখেছেন মাত্র ১৮০টি কবিতা, কাব্যগ্রন্থ চারটি : উত্তরাধিকার (১৯৬৭), তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা (১৯৭৪), কোথাও ক্রন্দন নেই (১৯৭৮) এবং আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও (২০০৯)। তবে প্রথম তিনটি গ্রন্থেই তিনি খ্যাতির শিখরে অধিষ্ঠিত। (সম্পূর্ণ…)

কবি শহীদ কাদরীর ঘরে ফেরা

শেখ ফিরোজ আহমদ | ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৮:৪৬ পূর্বাহ্ন

Shahid-Kadree-singleকবি শহীদ কাদরী অন্যভুবনে যাত্রার আগে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে চির বোহেমিয়ান কবি ৩৮ বছর পর ফিরলেন বটে তার সতীর্থ অনুরাগীদের মাঝে। কিন্তু এই রকম প্রাণহীন ফেরা তো কাম্য ছিলো না কারো। যিনি একদা বলতে পেরেছিলেন ‘রাষ্ট্র মানে লেফট রাইট লেফট’, সমরযন্ত্রের অশুভ আঁতাতে বিপর্যস্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে যিনি কবিতার শক্তি দিয়ে আঘাত করেছিলেন, সেই তাকেই পরিবর্তিত রাষ্ট্র অন্তিম অভিবাদন জানায় শহীদ মিনারের পবিত্র পাদদেশে। প্রয়াত কবির সৌজন্যে ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে এই বিভা ছিলো আশ্চর্য ও অভাবিত। এভাবে না ফিরে অবশ্য তার আগেই শহীদ কাদরী নিজ দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন অন্যভাবে। চতুর্থ বই আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও-এর ‘সব নদী ঘরে ফেরে’ কবিতায় এজন্যই বলতে পেরেছেন-

তোমার আমার প্রিয় কবি কোথায় যেন বলেছিলেন-
সব পাখিরা ঘরে ফেরে,
সব নদী।
আমরা কেন দন্ডায়মান
গাছতলাতে নিরবধি।
কীর্তিনাশার কালোস্রোতে
নৌকো ভাসে সারি সারি
এবার আমি বলতে পারি-
যাচ্ছি বাড়ি।
যাচ্ছি বাড়ি।
(সম্পূর্ণ…)

‘তোমার অভিসারে যাব অগম পারে’– কবি শহীদ কাদরীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

লুতফুন নাহার লতা | ১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৩:৪৬ অপরাহ্ন

Shahid-Lataনিকটজন কেউ মারা গেলে চট করে তাঁকে নিয়ে কিছু লেখা প্রায় অসম্ভব কাজ। বিশেষ করে আমার জন্যে। আমি তখন কেমন তলিয়ে যাই নানান রকম স্মৃতির ভেতর। ঠিক কোথা থেকে কি দিয়ে শুরু করব তা বুঝতে পারি না। ২৮ আগস্ট কবি শহীদ কাদরী চলে গেলেন। আমার সেই একই বাণী-প্রতিবন্দী দশা।
ভেকেশানে ছিলাম কানাডার টরন্টোতে। সেখানে থেকেই জানলাম কবি শহীদ কাদরী আবার হাসপাতালে। মন খারাপ হয়ে গেল। ফেসবুকে খুটিয়ে খুটিয়ে নিউজগুলো পড়লাম। রক্তে ইনফেকশান। জ্বর। তাঁর শরীর ডায়ালিসিস আর নিতে পারছে না। মন বলল এমন তো অনেকবারই হয়েছে। ঠিক হয়ে যাবে। টরন্টোর ভেকেশান শেষে ফিরে এসেছি নিউইয়র্কে। কবির শরীর আগের চেয়ে ভাল জেনেছি। কারা কবির পাশে আছেন কেমন আছেন খোঁজ নিয়ে জেনেছি। কবি দু’চার দিনের মধ্যে নীরা ভাবীর জামাইকার পারসন্স বুলোভার্ডের বাসায় ফিরবেন তাও জেনেছি। মন শান্ত হয়েছে জেনে যে তিনি ভাল আছেন, কথাবার্তা বলছেন।
২৮ তারিখ সকালে হাঁটাহাটি শেষে ঘরে ফিরব বলে পা বাড়াতেই পকেটে বেজে উঠল ফোন। উডসাইডের বাসা থেকে ফোন করেছে দিঠি হাসনাত। কালি ও কলমের সম্পাদক আবুল হাসনাত ভাইয়ের মেয়ে দিঠি বেশ কিছুদিন হল আছে এই শহরে। ওর ফোনে জানলাম শহীদ কাদরী এই ভোরেই মারা গেছেন। ঢাকা থেকে হাসনাত ভাই তাকে জানিয়েছে। কাকে ফোন করলে সব খবর পাওয়া যাবে জানতে চাইলে হাসান ফেরদৌসকে কল করতে বললাম এবং জানলাম ওরা তখনো হাসপাতালে পৌঁছায়নি, পথে আছে। মুহূর্তেই আমার সারা আকাশ অসম্ভব নীলের চাঁদোয়ায় নিজেকে ঢেকে বোঁ বোঁ করে ঘুরতে লাগল। সারা আকাশ জুড়ে যেন নৃত্যের শেষ ঘূর্ণিচক্রের শেষে, নর্তকীর ঘাগরায় অলস বাতাসের ঝিমধরা ঘূর্ণন। আমি টলতে টলতে ঘরে এসে বসলাম। মন শুধু বলছে ‘অসম্ভব, এ অসম্ভব।’ (সম্পূর্ণ…)

কবি শহীদ কাদরীর প্রয়াণে অগ্রজ ও অনুজ কবিদের প্রতিক্রিয়া

অলাত এহ্সান | ৩১ আগস্ট ২০১৬ ১১:৪৪ অপরাহ্ন

Shahid-Kadree-singleপঞ্চাশের দশকের তিন দিকপাল কবির একজন শহীদ কাদরী। কবিতা কম্পাসে কাটা এখনো তার দিকে দিপ্যমান। স্বাধীনতার আগে থেকে তার যে তুমুল জনপ্রিয়তা তা এখনো অটুট। ১৪ বছর বয়সে বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদিক ‘কবিতা’ পত্রিকা কবিতা প্রকাশ করার পর থেকে কবি হিসেবে তিনি সুপ্রতিষ্ঠিতি। দুই বাংলাই তিনি সমান জনপ্রিয়।
৭৩ বছরের জীবনে প্রায় ৬ দশক তারা সাহিত্যের কাল। জনপ্রিয়তার মাঝেও কবিতার সংখ্যায় তিনি ছিলেন আশ্চর্য নির্ভার। খসড়া কবিতায় সংখ্যা বৃদ্ধির চেয়ে সম্পন্ন কবিতা সীমিত থেকেছে তার কাব্যচর্চা। তাই মাত্র চারটি কবিতার বইয়ে ১২৬টি প্রকাশিত কবিতা তার। এই নিয়েই বাংলা কবিতায় স্থায়ী আসন, অমরতা। ষাটের দশকের ‘কণ্ঠস্বর’ ও ‘সমকাল’-এর সফলমিছিলে ঢুকেও স্বকীয়তায় উজ্জ্বল ছিলেন। নাগরিক চৈতন্য, তীর্যক দৃষ্টি, গভীর নির্জনতা, প্রগলভ একাকীত্ব, অমীমাংসিত নির্বাসন তার কবিতায় প্রতিফলিত।
১৯৭৯ সালে দেশ ছাড়া শহীদ কাদরী ৩৭ বছরের প্রবাসজীবনে কোলকাতা, জার্মানি, ইংল্যান্ড, আমেরিকার বোস্টন ও পরে নিউইয়র্কে থিতু হয়েছিলেন। মাঝখানে অবশ্য একবার ঢাকায় ছিলেন কয়েকমাস। তাছাড়া আর আসেননি আড্ডাপ্রাণ এই মানুষটি। এমনকি একুশে পদক নিতেও না। তবু প্রবাস থেকে তিনি লিখেন, ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’।
কবির শেষ ইচ্ছা, তাকে যেন মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শায়িত করা হয়।
এই কবির প্রয়াণে শোকস্তদ্ধ কবিতাপ্রেমি ও সংগ্রামীরা। তাকে নিয়ে কথা বলেছেন তার অগ্রজ, সমসাময়িক এবং অনুজ কবিগণ। তাদের কথা এখানে গ্রন্থণা করেছেন তরুণ গল্পকার অলাত এহ্সান। (সম্পূর্ণ…)

ফুকোর হাসি, একটি গ্রন্থের জন্ম এবং বোর্হেস

রাজু আলাউদ্দিন | ২৪ আগস্ট ২০১৬ ৭:১৪ অপরাহ্ন

Jorge-Luis-Borges-008ফরাসী দার্শনিক মিশেল ফুকো তাঁর বস্তুর বিন্যাস (Order of Things) গ্রন্থের বীজ কীভাবে পেলেন সে-সম্পর্কে তিনি বইটির ভূমিকায় হোর্হে লুইস বোর্হেসের একটি লেখার উল্লেখ করেছিলেন। লেখাটির নাম তিনি ভূমিকার কোথাও উল্লেখ করেননি, কিন্তু আমরা জানি বোর্হেসের এই লেখাটির নাম ‘জন উইলকিন্সের বিশ্লেষী ভাষা’। লেখাটি পড়তে গিয়ে প্রচণ্ড হাসিতে তাঁর–এমন কি আমাদেরও–পরিচিত সব ভাবুকতার, যে-ভাবুকতায় আমরা অভ্যস্ত এবং যা আমাদের দেশ-কালের লক্ষণ-চিহ্নে শোভিত, আর ‘ভিন্ন’ ও ‘অভিন্ন’-এর মধ্যেকার বর্ষীয়ান যে ভেদস্তম্ভটি যুগ যুগ ধরে সগৌরবে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে ছিলো, তা ভেঙে পড়ে। কী এমন রয়েছে বোর্হেসের ঐ লেখায় যা ফুকোর অনুভূতিতে তীব্র হাসির সঞ্চার করতে পারে, যে-হাসির তীব্রতায় খানখান হয়ে যাবে আমাদের এতকালের চিন্তা-জগতের প্রচলিত সব বিন্যাস? ফুকো জানাচ্ছেন যে বোর্হেসের লেখাটিতে এক চীনা বিশ্বকোষের (বোর্হেসের উদ্ভাবিত, এমনকি বোর্হেসের এই লেখাটিও প্রবন্ধের ছদ্মবেশে আসলে একটি গল্প) উল্লেখ রয়েছে যেখানে প্রাণীদের ভাগ করা হয়েছে এভাবে “(ক) সম্রাটের যারা মালিকানাধীন, (খ) যারা সুবাসিত, (গ) যাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে, (ঘ) চোষণকারী শুকোর ছানা, (ঙ) মৎস্যকন্যা, (চ) কাল্পনিক, (ছ) পথকুকুর (জ) এই বিভাগে যাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, (ঝ) পাগলের মতো যারা কাঁপুনি দেয়, (ঞ) যারা অগণ্য, (ট) উটের লোমের ব্রাশে যাদের আঁচড়ানো হয়েছে (ঠ) অন্যান্যরা (ড) এইমাত্র যারা কোনো ফুলদানি ভেঙ্গেছে (ঢ) দূর থেকে যাদের মাছি বলে ভ্রম হয়।” এই বর্গীকরণের মধ্যে অন্য এক ভাবনা-পদ্ধতির অদ্ভুত আনন্দের প্রকাশ আমাদেরকে সচকিত করে তোলে। যেমনটা করেছে এ কালের গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক মিশেল ফুকোকে। (সম্পূর্ণ…)

হোর্হে লুইস বোর্হেসের প্যারাবোল: রাজ প্রাসাদের রূপকথা

খালিকুজ্জামান ইলিয়াস | ২৩ আগস্ট ২০১৬ ৯:৫৩ অপরাহ্ন

মূলত গল্পকার হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হলেও, হোর্হে লুইস বোর্হেস(১৮৯৯-১৯৮৬) ছিলেন একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, প্যারাবোল-রচয়িতা ও গল্পকার। ২৪ আগস্ট তার ১১৭তম জন্মদিন। বাংলাভাষার শীর্ষস্থানীয় অনুবাদক ও প্রাবন্ধিক খালিকুজ্জামান ইলিয়াসের অনুবাদে বোর্হেসের অসামান্য একটি প্যারাবোল অনুবাদের মাধ্যমে আর্হেন্তিনার এই অসামান্য লেখককে বিডিনিউজটোয়েটিফোর ডটকম-এর আর্টস বিভাগের পক্ষ থেকে জানাই জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলী। বি. স.

al-hamraসেদিন পীতাঙ্গ সম্রাট কবিকে তাঁর প্রাসাদ দেখালেন। তাঁরা প্রাসাদের পশ্চিম প্রান্তের সারবদ্ধ প্রথম অলিন্দগুলি পার হয়ে এগিয়ে গেলেন; গিয়ে দাঁড়ালেন সেখানে যেখানে মুক্তমঞ্চের অসংখ্য সিঁড়ির মতো নেমে গেছে সেইসব অলিন্দচত্তর। গিয়ে মিশেছে স্বর্গপুরীতে বা নন্দনকাননে। সেখানে ধাতব মুকুর আর পেঁচানো জটাজালে বিস্তৃত জুনিপার ঝোপঝাড় এক গোলকধাঁধারই ইঙ্গিত দেয়। প্রথমে ওরা বেশ হাস্যলাস্যেই ওই ধাঁধায় হারিয়ে গেলেন যেন বা লুকোচুরি খেলা খেলতে খেলতে; কিন্তু পরে তাঁদের চিত্তে জমে শঙ্কা কারণ সোজাসিধে পথগুলো চলিষ্ণু অবস্থাতেই ক্রমে বেঁকে যাচ্ছিল (আসলে ওই পথগুলো ছিল এক একটা গোপন বৃত্ত)। রাত ঘনিয়ে এলে তাঁরা আকাশের গ্রহরাজি দেখেন, এবং লগ্ন হলে একটা কচ্ছপ বলি দেন। এরপর সেই আপাতঃ ঘোরলাগা অঞ্চল থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসেন, কিন্তু হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কাবোধ থেকে বেরোতে পারেন না। এবং শেষ পর্যন্তও এই বোধ তাঁদের সঙ্গে সেঁটেই থাকে। প্রশস্ত অলিন্দ-চত্ত্বর আর পাঠাগার তাঁরা পার হয়ে আসেন, পার হন জলঘড়িরাখা ষড়ভুজ কক্ষটিও। একদিন সকালবেলা এক উচ্চমিনার থেকে তাঁরা দেখেন এক প্রস্তর মানবকে, কিন্তু লোকটা মুহূর্তে কোথায় হাওয়া হয়ে যায় যে আর কখনো তাকে দেখাই গেল না। চন্দনকাঠের নৌকায় চড়ে তারা কত ঝিলিমিলি জলের নদী পেরিয়ে গেলেন–নাকি একটি নদীই তারা বার বার পার হলেন? রাজ শোভাযাত্রা পেরিয়ে যায় কত জনপদ আর লোকে করে সাষ্ঠাঙ্গে প্রণিপাত। কিন্তু একদিন তাঁরা এক দ্বীপে এসে তাঁবু গাড়ে, সেখানে একটি লোক রাজাকে প্রণিপাত করে না কারণ সে তো কখনো দেবদূত দেখেই নি। তখন আর কি, রাজজল্লাদকে তার কল্লা নিতে হলো। কালো চুলের মাথা আর কৃষ্ণাঙ্গ যুবানৃত্য আর জটিল আঁকিবুকির সোনালী মুখোশ নির্লিপ্ত চোখে তাকিয়ে থাকে; বাস্তব আর স্বপ্নের ভেদরেখা যায় ঘুঁচে–নাকি বাস্তবই হয়ে দাঁড়ায় স্বপ্নের স্বরূপ? তখন মনেই হয় না যে পৃথিবীটা এক বাগিচা কি জলাধার কি স্থাপত্যশিল্প কি জমকালো সব সাকার বস্তুর সমাহার ছাড়া অন্য কিছু। প্রতি শতপদ ফারাকে এক একটি মিনার উঠে ফুঁড়ে গেছে নীল আকাশ; চর্মচক্ষে তাদের রঙ এক ও অভিন্ন, তবু প্রথম মিনার দেখতে হলুদ আর সারির শেষটি লাল। এই রঙের ক্রমবিস্তার খুবই নাজুক, ফিনফিনে আর মিনার সারিও খুব দীর্ঘ ও প্রলম্বিত। (সম্পূর্ণ…)

বিদেশি লেখকদের মূল্যায়নে শেখ মুজিব

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ১৫ আগস্ট ২০১৬ ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন

Mujibরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- এই দুই শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলা ভাষা- সংস্কৃতিকে এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের শীর্ষ আসনে স্থান করে দিয়েছেন। এঁদের অমূল্য অবদান অনিবার্যভাবেই অনন্তকাল থাকবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব লেখক ছিলেন না: কিন্তু লেখার বিষয়বস্তু হয়েছেন। শুধু স্বদেশের শিল্পী-সাহিত্যকরাই নয়, বিদেশী লেখক-কবি-সাহিত্যিক- সাংবাদিকরা তাঁকে নিয়ে লেখালেখি করেছেন। ২৫ বছর আগে যেসব লেখালেখি শিল্পচর্চা তাঁকে নিয়ে হয়েছে, সেইসব দৃষ্টান্ত কালের আবর্তে হারিয়ে গেছে এবং যাচ্ছে।
বিদেশি পত্র-পত্রিকা ছাড়াও বিদেশি লেখকদের গল্পে, উপন্যাসে এবং কবিতায় বঙ্গবন্ধুকে স্থান দিয়েছেন। যেমন মার্কিন লেখক রবার্ট পেইন, সালমান রুশদী, জাপানি কবি মাৎসুও শুকাইয়া, গবেষক ড. কাজুও আজুমা, প্রফেসর নারা, মার্কিন কবি লোরী এ্যান ওয়ালশ, জামান কবি গিয়ার্ড লুইপকে, বসনিয়ার কবি ইভিকা পিচেস্কি, বৃটিশ কবি টেড হিউজের কবিতায় বঙ্গবন্ধু উপস্থাপিত হয়েছেন। অবশ্য ভারতীয় ও পাকিস্তানি প্রচুর কবিই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা রচনা করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিদেশিরাও বেশ কিছু গ্রন্থ লিখেন। তার একটি অসম্পূর্ণ তালিকা নিম্নরূপ: (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com