উৎসব

স্বাগত ১৪২০

সৈয়দ শামসুল হক | ১৩ এপ্রিল ২০১৩ ১০:২১ অপরাহ্ন

সুখ আর দুঃখ — এই নিয়ে আমাদের জীবন। নকশীকাঁথায় রঙিন ফুল আজও ওঠে। পেছনের সবকিছু জঞ্জাল সরিয়ে, পতন সরিয়ে, সকল বিপর্যয় উপেক্ষা করে একেবারে নতুন হয়ে মানুষ ওঠে এই বৈশাখ যখন আসে। এবং আমি চাই, এই প্রেরণা, এই অনুভব যেন স্থায়ী হয়ে থাকে। (সম্পূর্ণ…)

দরিয়ানগর কবিতামেলা ও শান্তিযাত্রার অবিস্মরণীয় আয়োজন

ফরিদ আহমদ দুলাল | ১৪ জানুয়ারি ২০১৩ ১০:৩৭ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের কবিতার অঙ্গনে ‘কবিতাবাংলা’ নামটি খুব পুরোনো নয়, কিন্তু ইতোমধ্যেই নিজেদের কর্মচাঞ্চল্যে হয়ে উঠেছে দেশের আলোচিত কবিতার সংগঠন। বিশ্বব্যাপী শুদ্ধ কবিতা চর্চার আহবান জানিয়ে কবিতাবাংলা তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে ২০০৮ সালে। ‘কবিতাবাংলা’ নামের কবিতা বিষয়ক কাগজ প্রকাশের মাধ্যমেই কবিতাবাংলার প্রথম পথচলা। ২০০৯ ‘মানবিক সৌন্দর্যের জন্য কবিতা’ শ্লোগানকে উপজীব্য করে আয়োজন করা হয় ‘দরিয়ানগর কবিতামেলা ১৪১৬’ অনুষ্ঠানের। দরিয়ানগর-খ্যাত কক্সবাজারে আয়োজিত দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় শান্তিশপথ, শোভাযাত্রা, কবিতাপাঠ, সেমিনার ও পুরস্কারপ্রদান ছাড়াও ছিলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পিঠা উৎসব। প্রথম কবিতামেলায় দেশের প্রায় দুইশতাধিক কবি-সাহিত্যিক অংশ গ্রহণ করেন। সে বছর সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হককে ‘কবিশ্রেষ্ঠ’ অভিধায় ভূষিত করে কবিতাবাংলা। মেলারকবি সম্মাননা পান কবি অসীম সাহা। অন্যান্যের মধ্যে কবিতায় কবি আসাদ মান্নান, ছড়ায় আসলাম সানী, নাসের মাহমুদ ও আলম তালুকদারকে সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়। সাহিত্য সংগঠন হিসেবে জাতীয় কবিতা পরিষদ, ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ, ম্যাজিক লণ্ঠন ও কবিতাবাংলা-কুমিল্লা শাখাকে কবিতাবাংলা পদক প্রদান করা হয়। (সম্পূর্ণ…)

নগরভাদগ্রাম, চরপাড়া ও শেওড়াতৈলে চৈত্রসংক্রান্তি

বাংলার বছরবিদায়

সাইমন জাকারিয়া | ১৩ এপ্রিল ২০১০ ৫:৪০ অপরাহ্ন

radha-krisno.jpg
রাধা-কৃষ্ণের সাজে

নতুন বাংলা ক্যালেন্ডারের কারণে বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী শহরবাসীর চেয়ে একদিন পিছিয়ে আছে। শহরের লোকেরা যেদিন মহা ধুমধামে বর্ষবরণ করে গ্রামেগঞ্জে তখন মহা ধুমধামে বর্ষবিদায় তথা চৈত্রসংক্রান্তির আয়োজন চলে। গ্রামের লোকেরা সরকারী ক্যালেন্ডারটি গ্রহণ না করার কারণে এমনটি ঘটে। ইংরেজি বর্ষপঞ্জির সঙ্গে সমন্বয় সাধন করতে গিয়ে সরকার এক সময় চাষবাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা তারিখ বদলে দিয়েছিল। শহরের লোকেরা এই নতুন তারিখ মেনে নিলেও গ্রামে সেই পুরোনো তারিখের হিসাবই প্রচলিত আছে। বর্ষবরণের রীতিও আগের মতই রয়ে গেছে। শহরে যেখানে চৈত্রসংক্রান্তি এবং বর্ষবরণ উৎসব গুটিকয়েক অনুষ্ঠানের ভেতর দিয়ে দুই দিন এক রাত্রিতে সীমাবদ্ধ, গ্রামে সেখানে এই উৎসব চলে সপ্তাহ থেকে পক্ষকালব্যাপী।

সে রকমই এক উৎসবের বর্ণনা এই লেখা। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত প্রায় প্রতি বছরই টাঙ্গাইলের তিনটি গ্রামে ব্যাপ্ত এই উৎসবে যোগ দেই আমি। সে সময়কার উল্লেখযোগ্য কিছু অনুষ্ঠানের বিবরণ এই লেখা।


টাঙ্গাইলের একটি গ্রামে চৈত্রসংক্রান্তি উৎসবের ভিডিও, ২০০৬। ফিলিপাইনসসের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ইউনেস্কো আইটিআই-এর ওয়ার্ল্ড থিয়েটার কংগ্রেসে প্রদর্শিত ভিডিও। নির্মাতা: সাইমন জাকারিয়া।

২.
বাংলায় নতুন বছরকে আহ্বান করা হয় মূলত পুরাতন বছরকে মহাসমারোহে বিদায় জানিয়ে। প্রতিবছর তাই চৈত্রসংক্রান্তি এলেই গ্রামে গ্রামে বিচিত্র কৃত্যাচারের হুল্লোড় পড়ে যায়। কেউ হর-গৌরি সেজে গ্রামের পথে পথে হাঁটে এবং গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে উঠানে গিয়ে ঢাক, কাসি, করতাল বাজিয়ে নৃত্য করে ফেরে, কেউবা আবার কৃষ্ণ, রাধা, শিব, কালী, অসুর ইত্যাদি পৌরাণিক চরিত্র সেজে অভিনয়ে অংশ নেয়। শুধু তাই নয়, অনেকে আবার গ্রামের সামাজিক জীবনের বিভিন্ন চরিত্র বাইদ্যা-বাইদ্যানী, ঘোড়সাওর, হাইল্যা ইত্যাদি সেজে বাড়ি বাড়ি ঘুরে আনন্দ খুঁজে ফেরে। বর্তমান প্রতিবেদনে একটি এলাকার কয়েকটি গ্রামের চৈত্রসংক্রান্তির প্রত্যক্ষ বিবরণ উপস্থাপন করা হচ্ছে।

এলাকাটি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার অধীন। আর গ্রামগুলো হলো: নগরভাদগ্রাম, চরপাড়া ও শেওড়াতৈল। এই গ্রামগুলো প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ বছর ধরে চৈত্রসংক্রান্তির কিছু কৃত্যানুষ্ঠান করে আসছে। এই সব কৃত্যানুষ্ঠানের মধ্যে আছে: হর-গৌরির নাচ, বাইদ্যার নাচ, ডুগনী, কবিতা, বীচট, কালীকাচ, পরীনাচ, কুচকি বানাম, মইন জাগানো, সঙখেলা, চড়ক ও স্বাদ গ্রহণ। পর্যায়ক্রমে সেই সব কৃত্যানুষ্ঠান, নাট্যপালা ও চড়কের বিবরণ তুলে ধরছি। (সম্পূর্ণ…)

রাসলীলা প্রত্যক্ষণ

সাইমন জাকারিয়া | ৮ নভেম্বর ২০০৮ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন

[আগামী ১৩ নভেম্বর রাসপূর্ণিমা। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষ্ণ, চৈতন্য ও বৈষ্ণবভক্ত মানুষেরা এই পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে বিভিন্নভাবে রাসলীলা উদযাপন করে থাকেন। রাসলীলা উদযাপনের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে এদেশের মণিপুরী জনগোষ্ঠীর। রাসপূর্ণিমাকে শরণে রেখে বৃহত্তর পাঠক-ভক্তদের উদ্দেশ্যে অত্র প্রবন্ধটি মুদ্রণ করা হলো।]

1.jpg
মৈতৈ মণিপুরি রাসলীলার নিপাপালয় পুঙবাদকগণ রাসধারীদের মুখোমুখি।

প্রথম কয়েক বছর মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার মাধবপুর গ্রামের জোড়মণ্ডপের মণিপুরি রাস উৎসবে যোগ দিয়ে হয়ে উঠেছিলাম মুগ্ধ আর বিস্মিত দর্শকমাত্র। তবে, সেই বিস্ময় আর মুগ্ধতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা বঙ্গীয় লীলার আনন্দ অনুভব করা প্রথম দর্শনে সত্যি দুষ্কর হয়ে পড়ে। তাই
—————————————————————–
মণিপুরীদের রাসলীলার উৎসবের পোশাক-পরিচ্ছদে, নৃত্যে-গীতে এবং মঞ্চ-অলঙ্করণে যে রাজকীয় গাম্ভীর্য দৃষ্ট হয় তা আমাদের দেশের অন্য কোনো সাংস্কৃতিক পরিবেশনার কোথাও দেখা যায় না। … লোককথায় বলা হয়েছে, আধুনিককালে রাস প্রচলন করেন মণিপুরী রাজা ভাগ্যচন্দ্র আর রাজা ভাগ্যচন্দ্র নিজেও নাকি রাসের পোশাক পরে নেচেছিলেন। অতএব, রাসের জন্ম হয়েছে রাজদরবারে। কিন্তু তাকে গ্রহণ করে নিয়েছেন সাধারণ মণিপুরী জনগণ।
—————————————————————-
কেবলই মুগ্ধতা-বিস্ময়ে বারবার ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকি পাশাপাশি অবস্থান নেওয়া তিন তিনটি মণ্ডপের রাসনৃত্য। প্রথমদিকে মণিপুরী পল্লীর তেমন 6.jpg…….
বিষ্ণুপ্রিয়া রাসলীলার নৃত্যভঙ্গিমা।
……..
কারো সাথে পরিচয়ও ছিল না, এক শুভাশিস সিনহা আর তাদের পরিবারের সদস্য এবং কয়েকজন প্রতিবেশী ভিন্ন। পরবর্তীতে অনেকের সাথে ভাব জমে ওঠে, শুভাশিসদের বাড়ি হয়ে ওঠে নিজের বাড়ি। আর মণিপুরীদের গ্রামগুলো যেন হয়ে যায় নিজের গ্রাম। সেই থেকে রাসের আসল রসাস্বাদন আমার পক্ষে একটুখানি সহজ হয়ে দেখা দেয়। বুঝতে পারি রাসলীলা আসলে মানুষের প্রতীকে পরম পুরুষের সঙ্গে প্রকৃতির চিরন্তন লীলা। অন্যদিকে রাসের নাটকীয় গুণসমূহও আমার চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আর এটা ঘটে কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে রাসলীলা পর্যবেক্ষণ করার পর। পরবর্তীতে আরো দুই বছর আদমপুর গ্রামে মৈতৈ মণিপুরিদের রাস পর্যবেক্ষণ করে পুরো মণিপুরি জনগোষ্ঠীর রাসলীলার বৈচিত্র্য আরো স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করি। বর্তমান লেখায় বিষ্ণুপ্রিয়া রাসলীলা ও মৈতৈ রাসলীলার বর্ণনা আলাদাভাবে উপস্থাপন করা হলো। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা |

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com