কবিতা

তাপস গায়েনের দুটি `বিভ্রম’

তাপস গায়েন | ১১ december ২০১৭ ১১:১৫ পূর্বাহ্ন

eyeবিভ্রম-১

একদিন এই আকাশ ছিল ঈশ্বরের প্রকাশ, আজ সেইখানে শুধু নক্ষত্রের সমাহার। এতো যে চুম্বকগতি, এতো যে বিদ্যুৎ বলরেখা, এইসব উপস্থিতি নিয়েও আমার আচ্ছন্নতায় আমি থেকে যাই নির্বাক। ফুলের শুভ্রতা আর বর্শার ফলকের মতো ক্ষিপ্রতা নিয়ে ধূমকেতু চলে গেছে, যেভাবে এই পৃথিবী পাড়ি দিয়ে চলে যায় সোনার সংসার, কিন্তু রেখে যায় অপরিচ্ছন্ন দর্পণ, ভাঙা আধুলির মতো কিছু সঞ্চয়, আর শরীরে অপরিচিতের প্রেম।

শেষ বিকালের আলোয় অপসৃয়মান হতে থাকে প্রিয় নদীর বাঁক, যেভাবে হারিয়ে ফেলেছি পিতার আদল আর মাতৃমুখ! তবু জেটিতে নোঙ্গর করেছে যে জাহাজ, তার মাস্তুলে চক্রাকারে পাক খায় সিগ্যল, আর তাদের ডানা থেকে খসে পড়ে অনির্নীত সময়। এই পৃথিবীতে এসে দেখে গেলাম অগ্ন্যূৎপাত, ভূমিকম্প, কালবৈশাখীর ঝড়, আর মানুষের উৎসব। প্রাণের প্রকাশ নিয়ে বাজে যুদ্ধের দামামা, আর বীরের শরীর নিয়ে উড়ে চলে পরিযায়ী পাখি মহাদেশব্যাপী। এই যে মহানগরী, যেখানে ভীড়েছি আমি, ভীড়েছে বিভিন্ন গোত্র আর বর্ণের মানুষ আর তাদের অভিজ্ঞান, তাদের ব্যর্থ প্রেম, আর ধ্বংসের প্রবৃত্তি। বিবিধ পানশালায় মাতাল আমি জীবনকে নিরন্তর পুণ্য করে তুলি। (সম্পূর্ণ…)

হৃদয়হীনা সোফিয়া

স্বদেশ রায় | ১০ december ২০১৭ ৯:৫১ অপরাহ্ন

Sofia
সোফিয়া তুমি কি পুরবী দাশের চেয়েও হৃদয়হীনা? সৌমিক সারা রাত কাটিয়েছিলো
রাস্তায়, আকাশে চাঁদ গিয়েছিলো ক্ষয়ে। নীরবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো
পুরবী দাশের জানালা। সকালের আলোয় নীরব সৌমিক দেখেছিলো ঘুম ভাঙ্গা চোখের
পুরবী দাশ নেমে এসেছিলো মর্নিং ওয়াকে, বৃদ্ধা ঠাকুমার সাথে কত কথা তার –
মনে হয়নি একবারও সৌমিককে বলে, কোথা থেকে এলে, চোখ এত লাল কেন?
রাত জাগা ওই লাল চোখ দেখলে সোফিয়া তুমি নিশ্চয়ই বলতে, এত লাল কেন চোখ?
সোফিয়া তোমাকে দেখে, খুশি ডগমগ ফিরে গেছে সবাই, কাঁদেনি কেউ।
সৌমিক পাহাড়ের সিডি বেয়ে ফিরে গিয়েছিলো লজে, অনেক ক্লান্ত পায়ে । (সম্পূর্ণ…)

অবারিত ইচ্ছের আকাশ

স্বদেশ রায় | ২৮ নভেম্বর ২০১৭ ৮:৩৮ পূর্বাহ্ন

বন্ধুটি বললো হুইস্কি বাদদে রেড ওয়াইন ধর স্বাস্থ্যের জন্যে ভালো।
ছোটবেলায় ফুল বাগান করার সময় পুরুত ঠাকুর বলেছিলেন,
শাদা জবার থেকে লাল জবা বেশি লাগাও, মায়ের পুজায় লাল
জবা লাগে বেশি। ইদানিং ডাক্তারও বলেন, অত রাত জাগবেন না
আর্লি ঘুমিয়ে যাবেন, হার্টের জন্যে ভালো।
পুরুত ঠাকুরের কথামতো লাল জবাতে বাগান ভরে ফেলেনি, সাত পুরুষের
লাগানো গাছ থেকে একটিই শুধু শ্বেত জবার ডাল এনে লাগিয়েছিলাম
শাদা মল্লিকার সঙ্গে মেলানোর জন্যে। মল্লিকা ফুলের চেয়ে মল্লিকা নামটি
তখন আমার অনেক প্রিয় ছিলো। তা্ই বলে মল্লিকার জন্যে দেবদাস হয়নি।
মল্লিকা চলে গেছে মল্লিকার মত, আমিও চলেছি নিজের মত- প্রেমের দীর্ঘশ্বাসে
ফুটো করেনি জীবনের কোন প্রান্ত, বরং এখনও খুশি হই মল্লিকার সেই মুখটি
যখন হঠ্যাৎ কোন স্মৃতি ঠেলে ওপরে উঠে এসে জীবনকে দেয় এক টুকরো আনন্দ।
হুইস্কিকে এখনও রেখেছি গভীর রাতে কাজের সঙ্গী হিসেবে, প্রিয় বন্ধুদের আড্ডার টেবিলে।
তা্ই বলে কখনও মনে করি না এ আমার স্বর্গের সোমরস পানীয়, দু চারদিন
এমনি ভুলে থাকি হুইস্কিকে। তাতেও কিছু এসে যায় না। স্বাস্থ্যকে ছেড়ে দিয়েছি
খোলা আকাশের নিচে সুইমিং পুলের এক ঘন্টায়, জানিনা কী আসে সেখান থেকে
স্বাস্থ্যে, তবে মনটা থাকে তখন আকাশে ফুটে ওঠা তারাদের গায়ে। (সম্পূর্ণ…)

রেজাউদ্দিন স্টালিনের কবিতা: অন্তিম আহার

রেজাউদ্দিন স্টালিন | ২২ নভেম্বর ২০১৭ ১:৩৯ অপরাহ্ন

জন্ম কেন হয় ?
এই প্রশ্নে ত্রিভুবনময়
দক্ষ যজ্ঞ কান্ড করে গৌতম
তথাগত। মৃত্যু কেন হয় ?
এ প্রশ্নে আপোসহীন বুদ্ধ নির্ভয়।

মৌলিক কথার কোনো সদুত্তর নেই,
বর্তমানই শ্রেষ্ঠ সময়-
ভেবে-অতীতকে ভেঙে ফেলে অনেক বর্বর,
যে দেশের স্মৃতি নেই, ইতিহাসও থাকে নিরুত্তর।

সিদ্ধার্থের পায়ে-পায়ে দ- রাহুল,
সুজাতার পায়েসান্ন সেও ছিলো ভুল ? (সম্পূর্ণ…)

দেবাশীষ ধরের কবিতা: নভেম্বরের চিঠি

দেবাশীষ ধর | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ৬:১৮ অপরাহ্ন

Monirul Islam১.
হেমন্তের ঠান্ডা বাতাস শরীরী মেজাজে মনতাজ
তৈরি করলে রাত বারটা বাজে, বাঁশিতে সুর ওঠে।
ইতিহাস এস্রাজে প্রগলভ হচ্ছে জলপাই আচারের
মতো। শ্যামু, জন্মমাসে আরেকবার জন্ম নাও
এবার প্রসব করো শুক্রবারের একটি শীতের
সকাল, ধানখেতের ভেতর লুকিয়ে লুকিয়ে বেদনার ফুল ফোঁটাও। (সম্পূর্ণ…)

মিলটন রহমানের পাঁচটি কবিতা

মিলটন রহমান | ১৮ নভেম্বর ২০১৭ ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

Monirul Islam
নতুন

ঘুঙুর বাজছে কোথাও, এই সোনালী সকালে বাজছে
ঘূর্ণির মত উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে জং-ধরা হলুদাভ দিন
জলসার রূপোলী আলোয় আমি জেগে উঠছি মাতাল,
মন্দাকিনী তুমি নিজেকে আরো জলজ বিকর্ষিত করো
দেহের ভাঁজ থেকে উত্থিত আলোয় তুলে নাও অমসৃন
তোমার সম্মুখে সহস্র বছর বসে রইবো হে মথুরাদেবি।

ঘুঙুর আর মন্দাকিনী দুই মিলে এই সকালে হাসছে
ভাসছে তুমুল কুঞ্জাভিভূত টঙ্কাপতির দেরাজে
কোথায় কোন কালে জেগেছিলো নতুন নগর
সেই বার্তা এতোদিন জানানো হয়নি কোথাও
এই ভোরে নতুন নগর পত্তন করো হে মন্দাকিনী
মুছে দাও সকল পাপ ও পঙ্কিল রাষ্ট্রের নাম
নতুন নগর তোলো, মন্দাকিনী নগর
যেখানে শুধুই প্রেম রইবে, জেগে রইবে সোনালী ঘুঙুর। (সম্পূর্ণ…)

ইকতিজা আহসানের কবিতা

ইকতিজা আহসান | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

Fakirতোমার সঙ্গে তোমার

তোমার সঙ্গে তোমার থাকা নিয়া আলাপ
থাকা না থাকার মাঝখানে শূন্য জায়গাটারে
দেখি খুব ফাল মারে…
মাঝেসাজে তোমারে গায়েব কইরা দেয়।
গায়েবিগঞ্জের আদ্য কানা তুমি
বোবধরা ঘুমে ডিগবাজি খেতে থাক
তোমার মতো দেখতে এক আকৃতি কুয়াশাকে
আলিঙ্গন করে
ঢেকুর তোলো তোমাকে পাওয়ার
তুমি আসলে নাই
বহুদিন তুমি তোমার সঙ্গে থাক না। (সম্পূর্ণ…)

অলভী সরকারের পাঁচটি চৌপদী

অলভী সরকার | ১১ নভেম্বর ২০১৭ ১১:১০ অপরাহ্ন

১.
মাছেরা আকাশে ওড়ে নাকি? মানুষেরা
যা খুশি তাই নিচ্ছে ভেবে তুমুল সৃষ্টিছাড়া!
এ তো গল্প, নিছক অল্প, থাকতেই পারে ডানা!
গল্পের মাছ উড়তেই পারে। মানুষের ওড়া মানা।

২.
একটি পা চৌকাঠে রেখে দাঁড়িয়ে আছি ঘরে
সময় এখন অল্প ভীষণ নিঃস্ব ভরদুপুরে।
প্রবল প্রেমে আহত হই প্রবল ঘৃণার মতো,
মরবে জেনেও মানুষগুলো সারিয়ে তুলছে ক্ষত।

৩.
শুক্রবারের দিনগুলোতে কোথায় গিয়েছিলে?
তোমার জন্য সোমেশ্বরী পাল্টে গেল ঝিলে!
সহস্র দিন চিত্রা হরিণ মেঘশিরীষের মাঠে
আমার শহর দেখছে নহর সোম-ঈশ্বরী ঘাটে। (সম্পূর্ণ…)

নওশাদ জামিলের তিনটি কবিতা

নওশাদ জামিল | ৮ নভেম্বর ২০১৭ ৮:৩৮ পূর্বাহ্ন

Fakirনীল শাড়ি

যেখান থেকে যাত্রা শুরু করি
আবার আমি সেখানে আসি ফিরে
অনেক পথ পেরিয়ে এসে দেখি
ফেরার পথে কুহক আছে ঘিরে।

পাহাড় নদী পেরিয়ে মেঠোপথ
এসেছি ফিরে হৃদয় আহ্লাদে
অন্ধ ফুলে পরাগ ঢেলে দিয়ে
আবেগ ছাড়া কে আর পড়ে ফাঁদে?

পথের বাঁকে বাতাস ছেঁড়া মেঘ
উড়ল বুঝি আগুন হাতছানি
ধোঁয়ার রেখা মাড়িয়ে বহুদূর
পেলাম দেখা পরম ঝলকানি।

হৃদয় টানে আবার আসি ফিরে
ফেরার পথে কুহক ছড়াছড়ি
কুয়াশাজাল ছিন্ন করে দেখি
পথের বাঁকে উড়ছে নীল শাড়ি। (সম্পূর্ণ…)

জুননু রাইনের শিরোনামহীন কবিতা

জুননু রাইন | ২৫ অক্টোবর ২০১৭ ২:৪৮ অপরাহ্ন

Rien১৭.
তখন একা একা হাঁটতুম, একা মানে একাই, যাওয়া থাকত না, দাঁড়ানো থাকত না, ফেরা থাকত না, তোমাকে দেখা বা না দেখার ভয়ও থাকত না; কেবল রাত্রির কথা বলা থাকত।
সে রাতের সংঘর্ষে থিয়া রক্তাক্ত হয়েছিল, রক্তগুলো কয়েক’শ আলোকবর্ষের বৃষ্টি, বৃষ্টিরা হাসছিল জোছনা, অথবা কাঁদছিল, ফ্যাকাসে বোবা কান্না। নীল রাঙা সবুজে জীবন ফুটছ, আর হাসছ অথবা কাঁদছ, আমি হাঁটতুম আর সেই কান্না ফুলের গন্ধে ডুবে যেতে থাকতুম, ডুবতে ডুবতে পৃথিবীর ওপর এক হাত রেখে দাঁড়াতুম, আলোর কসম, আমি একা এবং একাই তোমার দিকে হাটঁছিলুম, পৃথিবীর সব ডাক তোমাকেই ডাকছিলুম। (সম্পূর্ণ…)

কার্তিকের গলে যাওয়া রাত্তিরে!

মারুফ কবির | ২১ অক্টোবর ২০১৭ ১১:৩১ অপরাহ্ন

jibananandaঅশত্থের ফাঁক গলে জীবনানন্দের শিয়রে পঞ্চমীর চাঁদ আলো ঢালে,
বেনো জলে ভেসে যায় বিপন্ন বিস্ময়, কার্তিকের বাতাসে এসে মেশে লক্ষ্মীপেঁচার দীর্ঘশ্বাস,
সোনালি ডানার চিল ছোঁ মেরে নিয়ে গেল বেঁচে থাকার সব অভিলাষ,
শুঁয়ো পোকার মতন ট্রাম এগিয়ে আসে জ্যোৎস্নার আলোতে কলকাতার রাজপথে,
শিশির ভেজা রাতে নক্ষত্রেরা মৃত আকাশ থেকে খসে পরে সফেদ সমুদ্রে।
স্বপ্নের পাণ্ডুলিপিতে রোদ্দুরের ঘ্রাণ তখনো ময়ূরের পেখম ব্যাকুল মুছে নিতে,
শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে রাত এগারটা পনের বাজে,
হেমন্তের রাত্রি চিরে স্থির হন কবি অবশেষে,
ঘন অন্ধকারে জোনাকির মতন হারিয়ে যায় কীর্তিনাশার দিকে। (সম্পূর্ণ…)

তারিক সালমনের দশটি কবিতা

তারিক সালমন | ২১ অক্টোবর ২০১৭ ১:০১ অপরাহ্ন

Rashid Chowdhury
উড়াউড়ির দিন

এইখানে ধুলো নেই। বসবে এখানে?
ফুটপাথ রয়ে গেছে রৌদ্র যেখানে।

সেইখানে তুমি ছিলে। আমিও ছিলাম।
লেখা আছে ওইখানে রাস্তার নাম।

কেউ তা দেখে না, শুধু দেখি আমরাই।
আমরা এখানে বসি। ওখানেও যাই।

এখানেই আছো তুমি। আছো ওখানেও।
এখানে একটু বসো। ওখানেও যেও।

দৃশ্যাবলি

তুমিও থাকলে শব্দের মতো জড়িয়ে
একটিই শুধু খুলে পড়েছিল অক্ষর
ছাউনিও ছিল নিঃসীম এক আকাশে
দূরে দুলছিল তোমার কণ্ঠস্বর

একটানে এঁকে ছবিটি আবার মুছে দিচ্ছিল কেউ
বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছিল সেই ছবিটি
বাসের প্রথম সিটটিতে বসে তুমি
আমি লাস্ট বেঞ্চ, দূরে এক মেগাসিটি। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com