কবিতা

আশেক ইব্রাহীমের কবিতা: অপেক্ষা

আশেক ইব্রাহীম | ২৩ মে ২০১৮ ১:১৪ পূর্বাহ্ন

মোহাম্মদ ইকবালের চিত্রকর্ম

১.
আমার পূর্বপূরুষের মৃত্যু
আমাকে ব্যাথিত করেনি
পৃথিবীর যত ক্লেদ-কান্না আর বিভৎস পাপ
আমাকে আহত করেনি
আমি অপেক্ষা করতে শিখেছি

আমার ঘরে
দরজার ওপাশে ওৎ পেতে অপেক্ষায় আছে মৃত্যু—
কাঁচের জানালার ওপাশ থেকে মিহিন আঙুলের ইশারায়
আমার ঘরের সমস্ত আসবাব অদ্ভুদ এক কোরাসে
আমাকে ঘুমিয়ে রাখে ঘুমের ভেতর
কোন কোন গভীর রাতে
অদ্ভুদ রিংটোনে বেজে ওঠে সিম্ফনি
ঘুম ভেঙ্গে গেলে দেখি সেলফোনটা অন্ধ হয়ে পড়ে আছে
আমি নৈঃশব্দকে কাছে ডাকি—
কাছে এসো, আমার বাহুতে মাথা রেখে
একটু ঘুমোও
কি হবে আর
আমাকে অহেতুক শত্রুর মত পাহারায় রেখে! (সম্পূর্ণ…)

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের কবিতা: মানুষের দেশে

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ২০ মে ২০১৮ ৮:৩৮ অপরাহ্ন


চিত্রকর্ম:শিল্পী মোহাম্মদ ইকবাল

কিছুকাল মানুষের দেশে বসবাস করেছি,
নিজের ছায়াও তাদের শত্রু।
তারা হুমায়ূন আজাদকে খুন করে, নিহত করে ভোর।
বইয়ের বুকে চালায় চাকু, কালো অক্ষর রক্তাক্ত হয়ে কাঁদে।

পরশ্রীকাতর। স্ত্রীর চেয়ে বেশি ভালোবাসে অন্য নারী,
তার চেয়েও অনেক বেশী পছন্দ করে টাকা এবং মিথ্যে
মানুষ ছাড়া আর কোনো প্রাণী মিথ্যে বলেনা,
অদ্ভূত দেশে সেই মানুষের সাথ বসবাস করে না পরীরা,
চাঁদও ভ্রমণে আসেনা, পাঠিয়ে দেয় জোছনা।

বুড়িগঙ্গার ওপাড়ে কন্যাসন্তান হলে তারা দুধের বদলে
খেতে দেয় জলগলানো আটাদুধ।
তারা বই পড়েনা কিন্তু বই লেখে, অযথা কবিতা লিখে
বাদ মাগরেবে আর কোনো কাজ করেনা! (সম্পূর্ণ…)

লতিফুল ইসলাম শিবলীর কবিতা ‘ফাদি আবু সালাহ্’

লতিফুল ইসলাম শিবলী | ১৬ মে ২০১৮ ৮:৫১ অপরাহ্ন


তোমাকে দেখার আগে
জানা ছিল না-
মানুষের পা কেড়ে নিলে
তার পিঠে গজায় ডানা,
আর হাঁটতে বাধা দিলে
মানুষ শিখে যায় উড়তে।

ওরা শুরু করেছিল তোমার পায়ের নিচের মাটি থেকে,
তাই প্রথমে ওরা কেড়ে নিয়েছে তোমার জমিন।

দেশ নামের যে এক চিলতে জেলখানায় তুমি থাকতে
সে জমিন শত শত শহীদের ভিড়ে কবেই হয়ে গেছে মর্ত্যের জান্নাত।

এরপর ওরা কেড়ে নিয়েছে তোমার শৈশব,
অথচ তুমি কখনোই শিশু ছিলে না,
তুমি ছিলে সেই জান্নাতের সবুজ আবাবিল। (সম্পূর্ণ…)

শামীম আজাদ: তাকিয়ে দেখি তলানীতে রক্ত পড়ে আছে

শামীম আজাদ | ২৩ এপ্রিল ২০১৮ ২:৩০ অপরাহ্ন


বলেছিলাম চলো,
পেয়ালা ভরে পান করি
চা দিয়ে বেরিয়ে গেলে
চোখ বুজে চা নিঃশেষ করে
তাকিয়ে দেখি তলানীতে রক্ত পড়ে আছে


কেন সে কঠিন শব্দগুলোর মালিকানা নিলে
এখন তুমি ও তারা ত্বক হয়ে গেছ আর
কিছুতেই আমার গা থেকে খুলছ না


আমি যখন হাঁটি
আমার কাঁধে চড়ে
পরিভ্রমন করে
তিন সিঁড়ি নব্বুই জন
তাদের গন্ধ পাই না
দেখতেও পাই না
শুধু দুঃসহ ভার টের পাই (সম্পূর্ণ…)

অনেক অনেক চুমু ও ভালোবাসা নিও

মাজহার সরকার | ২২ এপ্রিল ২০১৮ ৭:৫৫ অপরাহ্ন

১.
আজও আমি লাল বাস, দুপুর ও যুথীকে ভালোবাসি
হাত ফসকে উড়ে যায় পাখি পাখি
পাখি উড়ে যায়
এই ভয়ে চোখ বুজে রাখি।
আজও আমি যাই মহাখালী, বিদ্যুৎবিকীর্ণ হাতে
ভালোবাসা শুইয়ে রাখি
শুধু টুকরো রুমাল নাড়ি, ক্ষতের চারপাশে ওড়ে রক্তলিপ্সু মাছি।
আজও টুপটুপ টুপটুপ মাংস ঝরে যায়
বাগানগুলো বধ্যভূমি হয়ে ওঠে, পুড়ে যায় অমল খামার
বাড়ি,
আজও পৃথিবী শেকড় বাকড় অবিরল আগাছা কেবল
চড়া বাল্ব মাছের বাজারে ভাঙা বরফ বাঁশের ঝুড়ি
মহাখালী মহাখালী, চারদিকে ইতস্তত শসার খোসা
মাথা নিচু করে হাঁটি, মাথা নিচু করে হাঁটি। (সম্পূর্ণ…)

মোহাম্মদ রফিকের জল ও পাখি

মোহাম্মদ রফিক | ১৬ এপ্রিল ২০১৮ ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

জল

কান্দে কান্দে পরাণ কান্দেরে
রয়ে রয়ে কান্দেরে পরাণ
সারা অঙ্গে দাঁড্ বাইছে কে

চুলোর ওপরে একটি হাডি্
যতটা সময় ফুটতে লাগে
সেই তবে একটি জনম

ও মেয়ে তোমার পরিচয়
ভাটির নদীকে জিগাওনা
পরিচয় এই মধ্যরাত (সম্পূর্ণ…)

আলো আঁধারের বসবাস

স্বদেশ রায় | ১৩ এপ্রিল ২০১৮ ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

স্বর্গে গিয়েও তুমি ঠিক ঠিক মানিয়ে নেবে যেমন মানিয়ে নিয়েছো আমার মতো একটা বুনো শুয়োরের সঙ্গে।
কাল রাতে এমন কথা হলো যার সঙ্গে সে আমার কেউ নয় আজ দিনের আলোতে।
অথচ আলোকে আমি অনেক বেশি ভালোবাসি, আলোতে আমার উজ্জলতা, আলোতেই আমার বসবাস।
মাঝে মাঝে রাতের অন্ধকারে আমি কোন কোন স্বপ্ন খুঁজি, স্বপ্নের সঙ্গে উড়ে যাই দূর আকাশে।
তখন কিছু শুকর, হরিন আর শেয়াল এসে আমার সারা শরীর আটকে ধরে, দেখি
চিতল হরিন আর বুনো শুয়োর কেমন পাশাপাশি শুয়ে আছে আমার শরীরে।
এই শরীর কে দিয়েছিলো আমাকে, ভগীরথী গঙ্গা না প্রলয় নৃত্যের শিব না আরো কোন অজানা কেউ?
আচ্ছা আমার শরীর যে দেয় সে দিক, নাই কোন ক্ষতি আর এখন, তুমি শুধু সত্য করে বলোতো
তুমি কি সেই, যে দিনের আলোয় এসে বেহুলা হও? টেমস নদীতে বেহুলা ভাসে না ,ভাসেনা দানিয়ুবে
কেবলই কালী গঙ্গায় তাদের যত ভাসাভাসি। দানিয়ুবের কুলে নাকি ভূত ছিলো অনেক, দীর্ঘ হতো
তাদের দেহ রাতের অন্ধকারে। তোমার দেহও কি দীর্ঘ হয় অন্ধকার রাতে- যেখানে স্বর্গ মর্ত কিছুই থাকে না
কেবল অন্ধকারের বসবাস। আমার কিন্তু কোন দীর্ঘশ্বাস আসে না অন্ধকারে বরং নীবিড় অন্ধকারে শ্বাস ফেলতে
অনেক বেশি ভালোবাসি আমি। আমাকে আসলে তুমি কী মনে করো -হাড়গোড় না রক্ত মাংস? (সম্পূর্ণ…)

তারিক সুজাতের কবিতা: বসন্তের বাতাসটুকুর মতো

তারিক সুজাত | ১০ এপ্রিল ২০১৮ ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

১.
যে বাতাসে সুরের রঙ
সে সুরে অনাবিল
আনন্দের স্রোত …

২.
যাওয়া-আসার মাঝে
যেটুকু স্নিগ্ধ রূপ
সেই অপরূপে
ছুঁয়েছি আঙুল
বেঁধেছি বীণা
জীবনের মন্ত্রে বাঁধি
সুদূরের সুর …

৩.
কে বলে তুমি নেই
সুরের অক্ষরে তুমি আঁকা
তোমাকে বেঁধেছি শব্দ-বন্ধনে
সুরের আকাশে
দলছুট মেঘগুলো দিশেহারা
আদি-অন্ত তোমাতেই প্রকাশিত … (সম্পূর্ণ…)

শিমুল সালাহ্উদ্দিনের ‘সত্যিমিথ্যাচুমু’

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ২৯ মার্চ ২০১৮ ৭:৫৯ অপরাহ্ন

অ.

A kiss makes the heart young again
And wipes out the years.

—Rupert Brooke


‘চিত্র: পাবলো পিকাসোর আঁকা Kissing figures-at-seaside

প্রাণের ভেতরে মিথ্যামিথ্যি জমিয়ে রেখেছো বেহুদা সত্যচুমু

জেনো একাকিনী, আমাকে না পেয়ে তোমার প্রভূত ক্ষয়ই হচ্ছে—
প্রতিমুহূর্তে তোমা-কর্পুর-আতরকৌটো প্রাণের রেকাবি থেকে
উড়ে যায় সবুজ ঘ্রাণ

বিন্দু বিন্দু সেই সবুজ কণারা ক্রমাগত মিশে যাচ্ছে বাতাসে—
যেখান থেকেই অঙ্গার-অম্লজান একা বুকের ভেতরে নিয়ে
বেঁচে থাকো গুণগুণ গান গাও স্নান ঘরে,
রান্না করো জীবনের নির্মম সালুন,
শ্যামল সন্তান নিয়ে যাও ভোরের রাস্তা ধরে,
ভালো না বেসেও ঠিক তোমার স্বামীকে
ঘুম পাড়িয়ে দাও ঠোঁটে…

সাবধান হও সোনা, মিথ্যাচুমুতে ঘা হয়ে যায় মুখে (সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদা: শর্ত একটাই

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৬ মার্চ ২০১৮ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

স্বাধীনতা চাও?
– তবে তুমি নিজেই স্বাধীন হও।

স্বাধীনতা চাও?
– তবে তুমি কাউকেই অধীন করো না।
তোমার সুন্দর তুমি নিজ কাঁধে বও।
নিজেই সশস্ত্র যদি, কাউকেই নিরস্ত্র করো না।
স্বাধীনতা মানবতা পরস্পর সশস্ত্র সুন্দর।
পরস্পর প্রতিবেশী, শক্তিশুভ্র গড়ো নিজ ঘর।

ফসল ফলাতে চোও?
– নিজ হাতে করো জমি চাষ।
আকাশ-সমুদ্র-ভূমি তোমার নিবাস।
মানুষ নিজের প্রভু, নয় কারো দাস।

ভুমিপুত্র ভূমিপুত্রী জন্মসূত্রে সবাই স্বাধীন।
জাতিতে জাতিতে জ্ঞাতি, খেলুক চড়ুইভাতি,
এ ব্রহ্মাণ্ডে কেউ নয় কারো পরাধীন। (সম্পূর্ণ…)

স্বাধীনতার সূর্য ওঠে

মুহাম্মদ সামাদ | ২৬ মার্চ ২০১৮ ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’–
শেখ মুৃজিবের বজ্রকণ্ঠে
গর্জে ওঠে বাংলাদেশ
বীর বাঙালি শপথ করে
ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে।

পঁচিশে মার্চে কালরাতে
ঝাঁকে ঝাঁকে নামে কনভয়
ঘুমন্ত মানুষ কেঁপে ওঠে
ভয়, চোখে মুখে শুধু ভয়!

যেনো খুনের নেশায়
যমদূতের হিংস্র কড়া নাড়া।
নবজাতকের আর্তনাদে
হায়! স্তব্ধ হয়ে যায় পাড়া।
লেলিহান শিখায় শহর বস্তি
ছাত্রাবাস যায় পুড়ে।

এ কেমন ভয় নামে ভয়!
আমার সবুজ দেশে
হলোকাস্ট বা ভিয়েতনাম আজ
গণহত্যার উপমা হয়!

পাখির পাখায় হাওয়ায় হাওয়ায়
গাঁয়ে গঞ্জে মাটিতে পাহাড়ে
পদ্মা মেঘনা যমুনার তীরে
উথাল ঢেউয়ে ছাব্বিশে মার্চ
শেখ মুজিবের ডাক আসে:
মুক্তি পাগল ভাইরে আমার
মুক্তি পাগল বোনরে আমার
এক হও জোট বাঁধো
কণ্ঠে তোলো জয় বাংলা
হাতে নাও যার যা আছে–
অস্ত্র ধরো অস্ত্র ধরো অস্ত্র ধরো..
বাংলাদেশ স্বাধীন করো।
সেই বসন্তে ঝরাপাতায়
রোদে জলে দিনে রাতে
অস্ত্র কাঁধে অস্ত্র হাতে
মুক্তিযুদ্ধ ছুুটে আসে।

পথে ঘাটে বন বাদাড়ে
নদীর বুকে ঝড় বাদলে
বাংলা মায়ের দামাল ছেলে
বাংলা মায়ের রুদ্র মেয়ে
জীবন দিয়ে সম্ভ্রম দিয়ে
গুলি বন্দুক গ্রেনেড ছুড়ে
যুদ্ধ করে… যুদ্ধ করে…
বীর বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ।

যুদ্ধ শেষে মুক্ত দেশে
রক্তমাখা পুব আকাশে
আলোয় আলোয় স্বপ্ন ফোটে
ঘাসে গাছে ফুলে ফুলে
স্বাধীনতার সুর্য ওঠে
স্বাধীনতার সুর্য ওঠে।।

Flag Counter

সকল হারাবার পরে

আনিসুর রহমান | ২৪ মার্চ ২০১৮ ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন

ঘর পুড়ে, কাপড় পুড়ে, বই পুড়ে খাতা পুড়ে, সহায়সম্বল পুড়ে
সকল হারিয়ে সকলে ওরা বস্তির বাসিন্দারা হাজারে হাজারে
জিডিপির সাত পারদের পরে খোলা আকাশে নিচে জগতের
ঘরবাড়ি করে, নারী শিশু সকলে পোড়াবস্তির পোড়ার নগরে !

পোড়ার পরে, কে ওদের জীবনের মানে বাতলে দিতে পারে?
পোড়খাওয়া ওরা দুমুঠো খাবারের আশা করে, রাত পেরোয়
দিন যায়, মেলে না চাল, মেলে না ডাল, ওদের জান যায় যায়
পোড়া দুনিয়া মরা সময় কে দেবে ভাত, বাড়াবে ভরসার হাত?

‘এই যে এত মানুষ আইতাছে, মানুষ যাইতাছে, ছবি তুলতাছে
একটার পর একটা প্রশ্ন করতাছে, এত প্রশ্ন দিয়া কি অইব?
উত্তর জাইন্যা কি অইব? এসব দিয়া পেটের জ্বালা মিটতাছে?
দেয় না খাবার কেউ! দেয় আগুন বস্তির ঘরে, বছরে বছরে?’ (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com