কবিতা

রনি আহম্মেদের সুফি কবিতা

রনি আহম্মেদ | ১৯ জুলাই ২০১৮ ৬:৫২ অপরাহ্ন

মায়ের গন্ধ মাখা আকাশ

অন্য জগতের
এই জগৎ রয়ে গেলো ,
নদীর ভিতর তোমার সাথে
হলো দেখা…..
যেন হয়নি আর
কিছুই কখনো!

যখন প্রভাতগুলো
জড়ো হয়
নিঃশব্দ ময়ূরের ঠোঁটে,
আমিতো নূর নাইতে
বসে আছি!

মহাগগন ভেদ করে
তাকিয়ে থাকা নবীকে
সালাম দাও…

মনে রেখো,
স্বপ্ন একটি জীবিত পাথর
যার মুখে লেখা আছে তার
গোপন নাম …

শুধু পিয়ানোগুলো
ভেসে যায়
দেহ থেকে দেহে… (সম্পূর্ণ…)

হাতেম মাঝি স্মরণে

রুদ্র সাইফুল | ১০ জুলাই ২০১৮ ১১:১৭ পূর্বাহ্ন

একদা শপথ করেছিলাম কবি হবো এই পৃথিবীর,
কবিতায় বুনবো ঘাসফড়িংয়ের ওড়াউড়ি,
জীবনের রঙিন লেনদেন; আমার স্বাধীনতা।

হাতেম মাঝির কথাও কবিতায় বুনবো ভেবেছিলাম,
যে হাতেম মাঝি উত্তাল একাত্তরের জীবন্ত কিংবদন্তি,
সেবার প্রবল বর্ষণে চারিদিকে বান ডেকেছিলো-
নদী পার করার নামে মাঝ নদীতে ডুবিয়ে মেরেছিলেন
হাফ ডজন খান সেনা, হাতেম মাঝি তখন টগবগে যুবা।

হাতেম মাঝি মেধাবী ছিলেন না কিন্তু বাঙালি ছিলেন,
ঘরে বৃদ্ধ মা আর অন্তঃসত্ত্বা বউ, এই তাঁর সংসার;
ধারালো অস্ত্র, থ্রি নট থ্রি কিংবা স্টেনগান নয়,
নৌকাই ছিলো তাঁর একমাত্র হাতিয়ার। (সম্পূর্ণ…)

আমাদের প্রচুর ভালোবাসতে হবে

মাজহার সরকার | ৮ জুলাই ২০১৮ ৫:৩৩ অপরাহ্ন


অলংকরণ: ফাহমিদা জামান ফ্লোরার চিত্রকর্ম

জিজ্ঞাসা

একদিন আমি মাটি খুঁড়ছিলাম, দীর্ণ ব্যথায় কাতর বিষধর পৃথিবীর রুদ্ধ কপাট খোলে না আর। চারপাশে মানুষ জড়ো হয়ে গেছে, করছোটা কী মাজহার? জল তোল জল! তেষ্টা পেয়েছি বুঝি আহারে বন্ধুর মতো। দুই হাতে খালি কাদা উজ্জ্বল সড়কের চেটোয় হামা দিয়ে মাথা গুঁজে এইখানে হ্যাঁ এইখানেই তো রেখেছিলাম, কোথায় গেলো শহরের শবের ছোট্ট লাশের মতো ব্যাগটা, সোনা নাকি? না। মুক্তোর মালা? না না, উৎসবের দর্পনে লম্বমান আর তারার ঝুলির ভেতর কোনোখানে নেই তেমন হৃদয়, দিয়েছে কর্মের ত্রাণহীন ব্যর্থসম সঞ্চয়। গর্তটা আমার আহত স্বরূপখানা কিছুই পড়ে না চোখে, ওটা কী! লুক্কায়িত বেদনার দানা, ঝরা দিনের দাহ, যাকে ফুল মনে করে হাতে নিয়েছিলাম। আজ কাদায় ডোবানো কব্জিতে আরও খুঁড়ে যেতে হবে, কতটুকু যেতে হবে ধমনীর লুকানো গহ্বরে নেমে পাশের ক্ষুদ্র নদীটাকে দেখে উবুড় হয়ে মহিষের মতো জল টেনেছি মুখে মাঠে মাঠে বেড়াতে। পেয়েছি পেয়েছি, বিশ্বব্যাপী অস্তির স্বর্ণরঙ ফলে হারিয়ে কি সে আত্মলোপী বীজ। মাটির গভীরে পুঁতে আরও মাটি চাপা দিয়ে জীবনের শব যেন হেঁটে এসেছি এইখানে। আজ গর্তটা খুঁড়ে দেখি ন্যূনতম ত্রুটির মোহে নিজের একক দেহ টেনে মানবজীবন কাকে বলে, এগিয়ে এসে কেউ আমাকে করেনি জিজ্ঞাসা। (সম্পূর্ণ…)

স্বদেশ রায়ের ভয়

স্বদেশ রায় | ৪ জুলাই ২০১৮ ১২:০৮ অপরাহ্ন

মানুষ মাঝে মাঝে ভয় পায়, যদিও ভীত নয় কেউ-
তারপরেও ভয়ের গন্ধ নামে মানুষের শরীরে।
সে গন্ধ পরিচিত কি অপরিচিত তা জানেনা যদিও,
জানানোর প্রয়োজনও পড়ে না, কারো কাছে।
কেবলি এক ফালি ভয়ের ঢেউ এসে মিলিয়ে
যায়, কিশোরীর মুখ থেকে ঠিকরে পড়া সূর্যের আলো যেন।
এইসব ভয় নিয়ে গল্প লেখা হয় অনেক, যেমন
গল্প লেখে সকলে, গর্ভীনি নারীদের সৌন্দর্য একে,
যে সৌন্দর্য কেবল নারীর শরীরেই নামে।
অথচ মানুষেরা বলে, মানুষ ভয় পায় হরিনীর মতো।
এ কেমন কথা তা জানতে চায় না কেউ গভীর চাঁদনী রাতে। (সম্পূর্ণ…)

চে গুয়েভারার প্রতি

আশরাফুল কবীর | ১ জুলাই ২০১৮ ১:৫৯ অপরাহ্ন

ওরা দেখেনি তোমার চোখ, কি মায়াময় তা
যেখানে খেলা করতো এক গভীর আবেগ।
ওরা বোঝেনি তোমার ভাষা, বুঝতে চায়নি
চেয়েছিল শুধু ঝাঁঝড়া করতে-
তোমার ঐ বুক, যা ফুলিয়েছিলে
গহীণ কাঠ কয়লার বলিভিয়ার জঙ্গলে।

কাটা হাত, সঙ্গী ফরমালডিহাইডের জারন
শুধু মিশ্রণই জানে তার রসায়ন,
আর জানে এই ব্রহ্মা-
কি অদ্ভুত এক তেজ, আর তার ঝাঁপটা।

এসেছিলে আটাশে জুনের কোনো এক সকালে –
বিপ্লবের দুয়ারে দুলতে, দোলাতে
ঠিক যেন চাবি দেয়া পেণ্ডুলামের মত
প্রতি ঘণ্টার প্রতিধ্বনি, শংকিত করে
কাঁপিয়ে দিতে শোষকদেরকে। (সম্পূর্ণ…)

পুলক হাসানের পাঁচটি কবিতা

পুলক হাসান | ২০ জুন ২০১৮ ৮:৪৯ পূর্বাহ্ন


সার্কাস সুন্দর

ভেবেছি তোমার প্রেম
একটি স্বপ্নযাত্রা
স্বপ্নভঙ্গের উপশম
এখন দেখি দৃষ্টির বিভ্রম
অহেতু দিবানিদ্রার ঢেউ
শুকনো পাতা খরস্রোতা
যে ছায়াটি পুষি
তাকেই মনে হয় গুপ্তচর
মনে হয় খুনি, ছদ্মবেশী
ভাবতে পারি না সহচর
হৃদয়ের আদান-প্রদান করি
ব্যাকুল তিয়াসে আশাবরী
নেই কেউ
কেউ নেই মুক্ত নিঃশ্বাসে
দোর খুলে বেরিয়ে এসে
জানায় স্বাগতম
তবু তুমি নীলাম্বরী
সার্কাস সুন্দর। (সম্পূর্ণ…)

মোহাম্মদ রফিকের কবিতাগুচ্ছ

মোহাম্মদ রফিক | ১৬ জুন ২০১৮ ২:২৮ অপরাহ্ন


অলংকরণ: ফাহমিদা জামান ফ্লোরার চিত্রকর্ম

সাতরঙা জল

এক

থই থই নীলদরিয়ায়
মাঝরাতে নেমে এল ঢল
আমুণ্ড গ্রাসের ক্ষণে বলি

হায় রে যৌবন দেখিনি তো
কণ্টিকারি ঝোপ উপচে পড়ে
বেনা ফুল চোখ খোলে ধীরে

লাজনম্র কিশোরী ভ্রমরা
স্বর্নলতা বুনে গেল কোন
একদিন বরষা মেদুর

মহাকাব্য প্রেমকাহিনির
কাজলদিঘির কালোজলে
চাঁদভাঙা রাতে অন্তহীন

কারাগার শিক বেয়ে পুঁই
অচিন খাঁচার তালা ভাঙে
লালনের বাউল একতারা

ওরে ও মানুষ ভাই ভাই
আর বুঝি সত্য কিছু নাই
হত্যা করে মানুষে মানুষ

হৃদয়গগনে ওঠে চাঁদ
নিচে সাদা লাশের পাহাড়
ঘিরে শুরু মাছির কোরাস

তার ঘ্রাণ জলের ওপরে
কুয়াশায় ভারি হয়ে নামে
শীত স্যাঁতস্যাঁতে মৃত্যুহিম (সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতা: সপ্তর্ষির জন্য কবিতা

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৫ জুন ২০১৮ ১১:১৫ অপরাহ্ন

৪৫

সপ্তর্ষি সংসার করে কবির অধরে
কবিও সংসার করে সপ্তর্ষির ঘরে
ঘরে করে চরে করে করে চরাচরে
এ নিয়ে তুমুল তর্ক কামরাঙ্গা চরে

অঙ্গ মেশে অঙ্গ-ভাঁজে, মন মেশে মনে
কবি ও সপ্তর্ষি মেশে সতৃষ্ণ বন্ধনে,
সাতপাঁকে লগ্ন তারা মগ্ন আবরণে

৪৬

ঘর ছেড়ে করে ঘর বাহির-ভেতর
কে কোথায় ঘোরে ফেরে নগর-বন্দর
দিন যায় রাত যায় দরিয়া কহর
অষ্টপ্রহরের সাথে অধিক প্রহর

কবির করবী নিত্য ফুল্ল পুষ্প-ধ্যান;
সপ্তর্ষি কি বসে থাকে মত্ত-ধাবমান?
কবি ঘোরে মনে-বনে সাতআসমান (সম্পূর্ণ…)

আকেল হায়দারের একগুচ্ছ কবিতা

আকেল হায়দার | ১০ জুন ২০১৮ ১২:৫৫ অপরাহ্ন


স্ন্যাপচ্যাট

স্ন্যাপচ্যাটে আড্ডা দিতে গিয়ে সেদিন হঠাৎ বল্লে: আচ্ছা-আলাদীনের দুই দৈত্য যদি কখনো মুখোমুখি দাঁড়ায় কি হবে বল তো? শুনে খানিকটা ধন্ধে পড়ে গেলাম! খানিকটা বিরতি নিয়ে বললাম: কি আর হবে-? রোদেলা ফাগুন ফুঁড়ে একগুচ্ছ বর্ষণ মেঘ জন্ম নেবে- গুচ্ছ গুচ্ছ দমকা হাওয়া বইবে- স্রোতের তাড়া খেয়ে নদী মোহনায় ছুটবে-ঘাসবাহী নৌকাগুলো সবুজে লুটোপুটি খাবে-মেঘবাড়ী জানালায় বিজলী মেয়ে চোখটিপ দেবে-তরুণী ফুলগুলো কোমর দুলিয়ে গুলশানে হেঁটে বেড়াবে! ক্রমশঃ আরো ঘনীভূত হবে তাদের প্রেম! স্পর্শ দমকায় কেঁপে কেঁপে উঠবে মাটির পাটাতন। বৃষ্টিকলায় হিমবাহ জমবে পৃথিবী শরীরে। বৃক্ষরাজি কুর্নিশে করতালি দেবে। অতঃপর অথৈ জলস্রোতে নিমজ্জিত হবে তৃষ্ণার্ত বালিয়াড়ি। ঝড় থেমে গেলে পরস্পরকে খুঁজে বেড়াবে আপন বৃত্তে। আলাদীনের দৈত্যযুগল হয়তো ঘুমিয়ে যাবে ততক্ষনে!

জলদেবী

তুমি কি ঘাসফড়িং নাকি জলডিঙা? নাকি সমুদ্র কুঠুরীতে জেগে ওঠা খরস্রোতা দেবী। যাকে দেখে দাপাদাপি করে মেঘের শাড়ি। ঝিরঝির প্রোপাতে বাজে বাতাসী নুপুর। পাতার গ্রীবায় সম্মোহনে চুমু খেয়ে যায় লাল নীল প্রজাপতি। অনুভবে কেঁপে কেঁপে ওঠে যুবতী মাঠের বুক। বৈতরণী নাও চাতক দুপুর সওয়ারী করে ছোটে দিগন্তের দিকে। ঝিকিমিকি বিকেল পাঠ করে নদীর শরীর। সন্ধ্যাচোখে পালকীতে ফেরে একাকী জোনাকি। হৃদয়তারে বাজে করুণ সেতার। কে তুমি ক্ষণে ক্ষণে কড়া নাড়ো ঘুম দরোজায়? সুনামি হয়ে তোলপাড় করে যাও বুকের নির্জন সমভূমি। (সম্পূর্ণ…)

প্রেম ও বর্ষার কবিতা

সৌরভ সিকদার | ৬ জুন ২০১৮ ১১:৩৩ অপরাহ্ন


অরুণা যেওনা তুমি, এই বর্ষায় যেওনা তুমি
তোমার শাড়ির সবুজ ঘাসে আজ
বসেছে রঙিন প্রজাপতি, ওর বড় উড়াউড়ি শখ
তোমার দীর্ঘ রেভলোন নখ
ছুঁয়ে যায় মহানগর থেকে মফস্বল
কৈশোরের প্রেমে আহত পুরুষ আজো ভয়ে নত
মনের গভীরে যে গভীর ক্ষত–
অরুণা, তাকে তুমি নতুন করে করো না আহত।
অরুণা যেওনা তুমি, যেওনা আমার সাথে
তোমার ডাইকরা চুল আজ উড়বে না মেঘের রাজ্যে,
বৃষ্টি আসবেই এবেলা নিশ্চিত জেনো
তোমার চিবুকে মেঘে মেঘে জমেছে অনেক ধূলো।

অরুণা, তুমি কি শুধু একাই বেসেছো ভালো
হতে পারে আমার অপুষ্ট মনের ভুলও –
তবু তোমার কাজলে ঢাকা টলটলে চোখ
আমি সেখানেও পড়ি অনাগত শ্লোক।
অরুণা আমি জানি, তোমার বর আছে
বাইশ বছরে হয়নি নিজের ঘর। (সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদা: লুলা আন্ধা আল্লাহর বান্দা

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ৪ জুন ২০১৮ ১১:২২ অপরাহ্ন

আমি সেই লুলা আন্ধা
আমি সেই আল্লাহর বান্দা
আমি সেই ত্রিভঙ্গ ফকির।
আমারও জানা আছে
জগতের তাবৎ ধান্ধা আর ফিক্কির।
শিবনৃত্যে জুড়েছি বটে অনঙ্গ জিকির।

বটে আমি প্রেমিক, বটে আমি ধার্মিক।
বটে আমি রাজনীতিক, বটে আমি তার্কিক।
বটে আমি কবি, বটে আমি নই নবী।
বটে আমি গেরুয়া বসনে নদী সন্ত,
বটে আমি বহমান অনাদি অনন্ত।

বটে আমি মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত।
বটে আমি প্রয়োজনে সারেন্ডার জানি দুর্দান্ত।
বটে আমি সারাবেলা,
বটে আমি বোবা নজরুলের পাগলা চেলা;
আমার হাতে আণবিক বোমার চেয়ে
শক্তিশালী বৈদিক যুগের মাটির ঢেলা।
আমি বসে থাকি পদ্মাসনে।
আমি পটু বটে ত্রিভুবনে গমনাগমনে। (সম্পূর্ণ…)

স্বদেশ রায়ের কবিতা: মন্ত্রী হবার পরে

স্বদেশ রায় | ২৭ মে ২০১৮ ১:২৪ পূর্বাহ্ন


আফরিদা তানজিম মাহির চিত্রকর্ম

মন্ত্রী হবার পরে আমার শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রাটা একটু বেড়ে গেলো
নিজের কাছে এ তাপমাত্রাটা ভালোই লাগে।
আগে এ তাপমাত্রা হলে আমি জ্বরাক্রান্ত রোগীর মত শুয়ে থাকতাম
শ্রমিক এলাকার খুপরী ঘরটিতে তখন কোন ফ্যান ছিলো না
তারপরেও আমার শীত করতো। আর এখন এ তাপমাত্রায় এসিটা
যত বেশি চালিয়ে দেই ততই আমার ভালো লাগে।
এখন হাঁটতে গেলে নিজেকে একটু বেশি দীর্ঘদেহী মনে হয়,
আগে যাদের দেহ দীর্ঘ বলে জানতাম তাদেরকে এখন খাটো মনে হয়-
যাদের বিদ্যাবুদ্ধির জন্যে সম্মান করতাম, তাদের সকলকে
এখন আমার নির্বোধ মনে হয়। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com