কবিতা

গোলাম কিবরিয়া পিনু’র কবিতা

গোলাম কিবরিয়া পিনু | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৯:৩০ পূর্বাহ্ন

পেটে ধরে রাখা জন্তু

নদীটার স্বচ্ছজল ও উল্লোল দেখে
আমারও ভালো লেগেছিল!
তার পারে গিয়ে বসলাম–
অন্যান্য দূষিত নদী থেকে
তাকে আলাদা ভাবতে লাগলাম!
যখনই তার জলে নেমে
সাঁতরাতে থাকলাম
তখন কী কাণ্ড!
নদীটার ভাণ্ডভরা জল
এঁদোপুকুরের জল হয়ে গেল
মজাপুকুরের জল হয়ে গেল!
আমি ভাবলাম–
নদীও কি পেটে ধরে রাখে কোনো জন্তু
তার জলহস্তী দূষণ তৈরিতে পটু! (সম্পূর্ণ…)

পুলক হাসান: শিরোনামহীন ও অন্যান্য কবিতাগুচ্ছ

পুলক হাসান | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৭:২৫ অপরাহ্ন


শিরোনামহীন

সময়ের বরফ যে গলে
সে তোমার উষ্ণতার ফলে
যেন তুমি সুন্দরী এক বালিকা
শূন্য বুকে নামাও স্বস্তির চাকা।
মনে হয় তখন আশাহত অতীত
পেল বুঝি মজবুত এক ভিত
সহসা হচ্ছে না আর নড়বড়ে
হঠাৎ পাওয়া কোনো ঝড়ে!
বিপর্যয় যদিওবা ঢুকে পড়ে
তার নিবিড় বেষ্টন ভেদ করে
বেরুবার পথ আছে খোলা
তুমি সেই নির্ভরতার ডালা।
কিন্তু তারপরও থাকে গুপ্ত ভয়
যখন এসে ভর করে সন্দেহ সংশয়
নিমিষে খান খান তাসের ঘর
চির আপন হয়ে যায় দ্রুতই পর।
এই যে প্রাপ্তির পরও হৃদয় ফাঁকা
সে আদপে সুখের অসুখ
যেন তুমি জীবনমন্ত্র সুবর্ণরেখা
তুমি ছাড়া প্রান্তর বিমুখ
হে আমার অমল ধবল টাকা। (সম্পূর্ণ…)

স্বদেশ রায়-এর ইঁদুর

স্বদেশ রায় | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৭:২৭ অপরাহ্ন


সেদিন একটা গ্রামের পথে গিয়েছিলাম আমরা ক’জন হাঁটতে।
না, আমরা কোন শখের গ্রাম দেখা লোকজন নই বরং ঘরকুনো আর মহল্লাকুনো।
বছরের পর বছর আমরা আমাদের শহরের এই কয়েকটি মাত্র গলিতে কাটিয়ে দেই-
যা নিয়ে আমাদের কোন কিছুই পাপ তাপ নেই, হেরফের হয়না জীবনের কোন কিছু।
এমনকি বিদেশে গেলেও কোন কাজ না থাকলে হোটেলের রুমেই আমরা কাটিয়ে দেই সময়।
তাই সেদিন হঠ্যাৎ গ্রামের রাস্তায় আমাদেরকে আবিস্কার করে আমরা বিস্মিত হই-
যা হবার নয়, হবার কথা ছিলো না কেমন করে ঘটলো তা, সেটা ভাবি কিছুক্ষণ।
গ্রামের চারপাশের সবুজ দেখে আমরা খুব উদ্বেলিত হইনি, কয়েকটি হাঁসকে
শাদা জলে ভাসতে দেখে আমাদের শরীরে কোন পুলক জাগেনি। বরং রোদে
আমরা কিছুটা ঘেমে গিয়েছিলাম, যেমন আগে ঘামতাম আমরা বিদ্যুত চলে গেলে
অন্ধকার রাতে। সে সব রাতে কখনও কখনও আমরা রাস্তায় বেরিয়েছি, দেখেছি
কয়েকটি ইঁদুর পাশ কেটে চলে গেছে, ওরা আমাদের মহল্লার ড্রেনের ইঁদুর কিনা তাও ভাবিনি
কোনদিন। আমাদের রাস্তায় বৃষ্টি নামলে জলে ভরে ওঠে, রিকসাগুলো সাতার কাটে,
তখন ইঁদুরগুলো কোথায় থাকে তাও ঠিক জানা নেই আমাদের। (সম্পূর্ণ…)

সাইয়েদ জামিলের কবিতা

সাইয়েদ জামিল | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ২:১৩ অপরাহ্ন


চিত্রশিল্পী রনি আহম্মেদের রেখাচিত্র

বেদখল রবীন্দ্রনাথ

কাদম্বরী, তোমার রবীন্দ্রনাথ বেদখল হ’য়ে গেছে
তুমি যাঁকে স্নেহ দিয়ে, প্রেম দিয়ে,
বড়ো করেছিলে, সেই বালক রবীন্দ্রনাথ
তুমি যাঁকে সঁপে দিয়ে তোমার যৌবন,
পুরুষ করেছিলে, সেই যুবক রবীন্দ্রনাথ
সেই হার্ডকোর রকার আজ বেদখল

কাদম্বরী, দুঃখ হয়, তুমি যাঁকে
তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলে
নিজেকে নিঃশেষ ক’রে, সেই তোমার
রবীন্দ্রনাথ আজ কতিপয় ব্যাকডেটেড
অধ্যাপকের মগজ-বন্দী,
য্যানো তাঁরা ইজারা নিয়েছে

এবং আরও অনেক ভণ্ড মিলে গড়েছে
রবীন্দ্র গবেষণা পরিষদ,
গড়েছে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী পরিষদ
এইসব নপুংসকের দল সারাদিন সারারাত
কেবলই ‘রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ’ জপ করতে করতে
সারাদেশ রবীন্দ্রনাথময় ক’রে তুলছে

কাদম্বরী, বিশ্বাস করো,
রবীন্দ্রনাথ এখন এক শব্দ দূষণ (সম্পূর্ণ…)

রেজাউদ্দিন স্টালিনের কবিতা

রেজাউদ্দিন স্টালিন | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১:৩৭ অপরাহ্ন

বঙ্গবাহাদুর

তখন তার মাথার মধ্যে চক্কর দিচ্ছিলো
শত শত গ্যালিলিও গ্যালিলে
পৃথিবী হুমড়ি খেয়ে পড়লো তার পায়ের কাছে
জল স্পর্শ করে শপথ নিলো
মৃত্যু হলেও সে থেকে যাবে এই বাঙলায়
ঐ ভগ্নাংশ সময়ের মধ্যে তার মনে পড়লো
হিয়েন সাঙের প্রিয়
ইবনে বতুতার প্রশংসা ধন্য এই দেশ
বেনোজল বেয়ে এসে বঙ্গদেশ তার ভালো লেগেছিলো
অপূর্ব অথৈ সবুজ–আকাশের অর্ধেক পা নদীর ভেতর
কৌতুহলী দিগন্ত চারিদিকে
প্রচুর প্রণালী পট ও পাটের বিস্তার
তার প্রিয় আহার্য কদলীবৃক্ষ নাগালের অত্যন্ত নিকটে (সম্পূর্ণ…)

নাভীমূলের সঙ্গীত

স্বদেশ রায় | ২৯ আগস্ট ২০১৮ ১০:১৭ পূর্বাহ্ন


নাভীমূল থেকে উৎসারিত একটা সুর শিহরণ জাগালো সারা শরীরে-
গভীর অন্ধকারে একাকী তখন প্রপিতামহের শেষকৃত্য’র স্মৃতিস্তম্ভে দাঁড়িয়ে।
পায়ের কূল ঘেষে বয়ে যাচ্ছে গঙ্গা, তারও সারা শরীরে গভীর অন্ধকার
আর জলের শরীর জুড়ে শুধু সুর আর সুর- যা হয়তো আরো আগে শুনে গেছে
অনেকে, এমনি অনেক রাত জেগে, প্রপিতামহের স্মৃতিস্তম্ভে দাঁড়িয়ে।
এ অন্ধকার কেন আমাকে এখানে টেনে নিয়ে এলো, কার কাছে আজ প্রার্থনা আমার?
নিশিথের প্রার্থনার সাক্ষী শুধু অন্ধকার একাকী কি- না, আরো অনেক কিছু চোখ মেলে থাকে?
চোখ মেলে শুধু নয়, কান পেতে থাকে, সেই সব কান যারা সুর ভালোবেসে চলে গেছে,
চলে যাচ্ছে বা চলে যাবে আরো অনেক গাঢ় কালো অন্ধকার রাতে।
গঙ্গার এলোমেলো বাতাস কি তাদের কেউ? আমার প্রপিতামহ কি আছেন তাদের দলে
যারা আজ রাতে আমার এই নাভীমূল থেকে উৎসারিত সুরের ভাগী হতে চায়। (সম্পূর্ণ…)

আমি তোমাদের কবি

মুহাম্মদ সামাদ | ২৪ আগস্ট ২০১৮ ১২:৪৮ অপরাহ্ন


আমি তোমাদের কবি–তোমরা আমাকে নাও

ছায়াঢাকা গাঁয়ের মাটির মসজিদ–সুরেলা আজান
প্রাচীন মন্দির, ঊলুধ্বনি, কীর্তন, গাজনের গান
পুরনো গির্জার ঘণ্টা, প্রণত প্রার্থনা, যিশুর বন্দনা
কিয়াঙে কিয়াঙে জোড়হাতে– বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি…

লাল হালখাতা, হাওয়াই মিঠাই, চিনির হাতি-ঘোড়া
কুমোরের চাকা, মাটির পুতুল, ঢেঁকিতে গাঁয়ের বধূ
নাগরদোলার ঘূর্ণি, রাতভর যাত্রাপালা, লালনের গান
কবি নজরুল-রবীন্দ্রনাথ, বঙ্গবন্ধু মুজিবের মুখ;

রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, শোকার্ত প্রভাতফেরি
ঊনসত্তুরের গণঅভ্যুত্থান– আসাদের রক্তমাখা শার্ট;
সাতই মার্চের রেসকোর্স, জয় বাংলা, মুক্তিযুদ্ধ
লক্ষ লক্ষ শহিদের রক্তেভেজা প্রিয় স্বাধীনতা;

আমি তোমাদের কবি–তোমরা আমাকে নাও। (সম্পূর্ণ…)

কুরবানী

মানিক বৈরাগী | ২২ আগস্ট ২০১৮ ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

শোণিতে বেদ ত্রিপিটক
বাম হাতে বাইবেল ডান হাতে কুরআন
মগজে মনসুর হাল্লাজ
বাম হাতে গীতাঞ্জলি ডান হাতে মসনবি শরিফ
চেতনায় নজরুল খৈয়াম হাফিজ।

“এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির কাবা নাই”
বিবেকি পরান শুধু আকুলি-বিকুলি করে প্রাণ হরণে
বিগত জিকির ধ্যানে, পঠন পাঠনে বিবর্তিত চিন্তায়
মনের বিরিষ শিং উছিয়ে গুতা দেয় বিবেকি কলবে (সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদা: আয় বাঙালি ঘরে আয়

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৫ আগস্ট ২০১৮ ১২:৪১ অপরাহ্ন


পিতা, তোমার চিরজন্ম হলে
পাখপাখালি কথা বলে
পাল তুলে সব নৌকা চলে
ঘাতক পালায় সদলবলে

বুকে যখন লাগলো গুলি
গুলি হলো অমর তুলি
রক্ততুলির রক্তে দেখা
জন্মপঞ্জি রক্তে লেখা

সেই থেকেই অনাদিকাল
সেই থেকেই অরাত্রিকাল
বাংলাজোড়া বসন্তকাল
ফুলফসলের শুভ্রসকাল

বদর বদর হাঁকছে মাঝি
হাসছে তারার আতশবাজি
জয়-বাংলার তুমিই পাল
নাওবাংলার তুমিই হাল (সম্পূর্ণ…)

অমর দেয়ালের ছবিগুলো

ঝর্না রহমান | ১৫ আগস্ট ২০১৮ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন


তুমি যেদিন রমনার রেসকোর্স ময়দানে দীর্ঘবাহু,
আকাশপটে তর্জনীতে সিরাতাম মুস্তাকীম এঁকে বলেছিলে,

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’
সেদিন সূর্যের প্রতিটি রৌদ্ররশ্মি থেকে তাক করা হয়েছিল ক্যামেরা
তোমার ছবি মুদ্রিত হয়েছিল সাড়ে সাত কোটি জনতার চোখে।
তুমি যেদিন ইবলিশের বন্দিশালায় তোমার জন্য খুঁড়ে রাখা
কবর-বিবর টপকে ফিরে এলে আপন ভূমিতে,
পরম শ্রদ্ধায় মাথা নোয়ালে তোমার নাড়ী-পোঁতা মাটিতে,
জলোচ্ছ্বাস উঠলো দুই চোখের দরিয়ায়, আয়ু দিয়ে বরণ করে নিলে
তিরিশ লক্ষ শহীদের রক্তে ভেজা পবিত্র প্রাণময়ী মাটি–
সেদিন এদেশের প্রতিটি ধূলিকণায় তোমার ছবি আঁকা হয়েছিল,
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের প্রতিটি ঘরে টাঙানো হয়েছিল তোমার অশ্রুবিলাপি ছবি। (সম্পূর্ণ…)

রেজওয়ান তানিমের কয়েকটি কবিতা

রেজওয়ান তানিম | ২১ জুলাই ২০১৮ ১০:০৫ অপরাহ্ন


চিত্রকর্ম: শিল্পী মোহাম্মদ ইকবাল
দুপুরের রোদ, একা…

কী এক অসভ্য সময়ের কাছে বন্ধক রেখেছি দুপুরের রোদ, নিজেও রাখিনি খোঁজ! ভেতরটুকু ওরা তিলে তিলে করেছে নিঃস্ব; আশ্চর্য নিপুণতায়। বর্ধিত আমিষযুক্ত খাবার, বাড়তি যোগানে যোগানে বানিয়েছে এক লোভী, উৎকট শকুন প্রজন্ম!
এইমাত্র বৃন্তখসা মিষ্টি ফল খেতে এখন অস্বীকার করে সবাই, ওতে নাকি বিষের সন্ধান মেলে। অথচ ওরাই প্যাকেট প্যাকেট বিষাক্ত মাংসের কাছে নিজেকে সঁপে নিশ্চিন্তে ঢেকুর তুলছে। আর নিয়ম করে ওদের নাকে ঘাই মারতে চায় মরা আত্মার আর্তনাদ, মাংসের মাতাল গন্ধের মত সেও ফিরে ফিরে যায় প্রতিক্রিয়াবিহীন!
এইসব দেখি শুনি, কানে তুলো গুঁজে হাটি। আমার রোদ নুয়ে এলেও কিছু আলো তো ছড়ায় এখনো। নগ্নতম নিষ্ঠুরতা গ্রাস করে নিতে এলে আবিষ্কার করি; আমার দুপুরের রোদ, একা!
হয়ে উঠি উন্মাদ ব্রহ্মচারী এক—বিদ্বেষের শীৎকার শুনি নিয়ত; মনে হয় মদিরার ঘোরে প্রলাপ বকছে কেউ মাথার ভেতরে। নির্জন এক কুলায় ফিরব বলে ক্ষ্যাপা বাউল হয়ে দিগ্বিদিক ছুটে বেড়াই। মেলে না তার দেখা। বোধ আসে বিচিত্র অন্ধকারে, সীমাহীন অসভ্যতার সঙ্গমে এইসব ডুবি ভাসি—সমস্তই মিথ্যা, ফেইক। এমনকি মৃত্যুর মত শাশ্বত সত্যটিও বানোয়াট, নত সে অন্ধকারের উজ্জ্বলতার কাছে। (সম্পূর্ণ…)

রনি আহম্মেদের সুফি কবিতা

রনি আহম্মেদ | ১৯ জুলাই ২০১৮ ৬:৫২ অপরাহ্ন

মায়ের গন্ধ মাখা আকাশ

অন্য জগতের
এই জগৎ রয়ে গেলো ,
নদীর ভিতর তোমার সাথে
হলো দেখা…..
যেন হয়নি আর
কিছুই কখনো!

যখন প্রভাতগুলো
জড়ো হয়
নিঃশব্দ ময়ূরের ঠোঁটে,
আমিতো নূর নাইতে
বসে আছি!

মহাগগন ভেদ করে
তাকিয়ে থাকা নবীকে
সালাম দাও…

মনে রেখো,
স্বপ্ন একটি জীবিত পাথর
যার মুখে লেখা আছে তার
গোপন নাম …

শুধু পিয়ানোগুলো
ভেসে যায়
দেহ থেকে দেহে… (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com