কবিতা

কিশোর রাসেল

মোস্তফা তোফায়েল | ১৯ অক্টোবর ২০১৭ ১২:৪৫ অপরাহ্ন

russelবেহুলা বোনেরা যায় কলার ভেলায়
স্বর্গদেশ অভিমুখে, মুজিবের খোঁজে
বঙ্গবন্ধু মুজিবুর, শেখ মুজিবুর।
সে এক অনন্তপুরী স্বর্গভূমি দেশ,
হাজারো ঝরনাধারা ঝংকৃত পুরী:
সেখানে দিগন্ত জুড়ে বীথিকা বিলাস;
সেখানে অনন্তপুরে শারদ শাপলা;
হেমন্তের কুন্দকলি, শীতে লোধ্ররেণু;
বসন্তের কুরুবাক, গ্রীষ্মের শিরীষ;
বরষা বর্ষণ কালে কদম ও কেয়া।
ঈষৎ নীলাভ লাল মহুয়ার গুটি
ঝুলে আছে, দোল খাচ্ছে মৃদুমন্দ বায়ে;
ঠোঁটের সমুখে অতি সন্নিকটে ঝুলে
ইশারায় দিচ্ছে ডাক চুম্বন আবেগে। (সম্পূর্ণ…)

গুয়ান্তানামেরা গান ও কিছু কথা

জয়া চৌধুরী | ১ অক্টোবর ২০১৭ ১২:০০ অপরাহ্ন

Guajiraআমি মানুষ সৎ একজনা
পাম গাছেদের দেশে আমার বাড়ি,
যাবার আগে মনের কথাখানা
জানিয়ে যেতে চাইতে আমি পারি

গুয়ান্তানামোর মেয়ে,
ওগো ও চাষি মেয়ে।
গুয়ান্তানামোর মেয়ে,
ওগো ও চাষি মেয়ে।

স্বচ্ছ সবুজ আমার শব্দেরা
জ্বলতে থাকা লাল গোলাপের মত
আহত হরিণের সেই রাশি কথা
কোল খুঁজে ফেরে পাহাড়ের বুকে আজও। (সম্পূর্ণ…)

জয়তু জাতিসত্তার কবি

মোস্তফা তোফায়েল | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১:২৪ পূর্বাহ্ন

nurul-huda.jpgআপনি পূর্বপুরুষের কথা বলেছেন
তামাটে দ্রাবিড়দের কথা বলেছেন
কৈবর্ত কুলের কথা বলেছেন
সাদা আর্যদের কথা বলেছেন

জেলেদের কথা, হেলেদের কথা বলেছেন।

আপনি পাখিদের কথা, পশুদের কথা বলেছেন,
কামুক জানোয়ারদের কথা, বানরের কথা, মানব-মানবীর কথা বলেছেন।
আপনি অগ্নি উদ্গীরণকারী ড্রাগনের কথা বলেছেন,
বায়ু-পায়ী উদ্ভিদের কথা বলেছেন,
বিদ্যুৎ-গতি ভুজঙ্গমের কথা বলেছেন,
মৃত্তিকাভোজী মহীলতার কথা বলেছেন,
আপনি আমার পূর্বজনমের কথা বলেছেন,
বাঙালির পূর্বপুরুষদের কথা বলেছেন।

আপনার হাতের খড়ি ধরে আমি কথা বলা শিখতে চাই;
রাজহাঁসের ছদ্মবেশধারী আমার জন্মদাতা জিউসের কথা বলতে চাই;
আমি ডাচ দস্যুদের লোহার শেকলের ঝনন ঝন স্মরণ করতে চাই;
পর্তুগিজ ডাকাতদের ধারালো ক্ষুরে আমার পিতামহদের
দেহের মাংশ কর্তনের কথা স্মরণ করতে চাই;
আমার পিতামহ মাতামহীগণ জন্মগতভাবে ক্রীতদাস ছিলেন না, (সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতা: শুভ হোক শান্তিজন্ম

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১:২৮ পূর্বাহ্ন

Hasina-1
জননী বেগম ফজিলতুন্নেছা, জন্মদেশ বাংলাদেশ
বাবা মুজিবের বুক সন্তানের আশ্রয় অশেষ

ঘরে ঘরে জাতিভাই, ঘরে ঘরে জাতিবোন
তোমার বাঙালি ভাই, তোমার বাঙালি বোন
জাতিবাঙালির দিকে জগতের দৃষ্টি নির্নিমেষ

তুমি সেই বাঙালির প্রতিকৃতি জগৎ-সভায়
সম্প্রীতির শরণার্থী এ পৃথিবী তোমাকেই চায়
শান্তির সোয়ারি তুমি দেশে দেশে সোনার নৌকায়

পিতৃহীন মাতৃহীন হে অনাথ যাও ভেসে যাও
পিতৃহীন মাতৃহীন জগতের সব শিশু কোলে তুলে নাও
অনাথ শান্তির মুখে জননীর বুক খুলে দাও (সম্পূর্ণ…)

মাজহার সরকারের কবিতা: শুভ জন্মদিন আপা

মাজহার সরকার | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১:০৫ পূর্বাহ্ন

Hasinaবাংলাদেশের মানুষ তোমার দিকে তাকিয়েই
নিজের শক্তি সম্বন্ধে সচেতন হয়
মুহূর্তে মনে হয় আমাদের আর বন্দি করা যাবে না
তুমি যখন বঙ্গোপসাগরে হেঁটেছিলে
সাগরের জল পা দুটোকে ঘিরে ধরেছে
এত সুন্দর পা, একটা আগে একটা পিছে
বালুর শরীরে শুভ্র শঙ্খের আকুতি নিয়ে হেঁটে গেছে
তুমি যখন জেলখানায় বন্দি ছিলে
ছাত্ররা রাজপথে স্লোগান দিয়েছে
অপসৃয়মাণ গ্রাম
আন্দোলিত ধানখেত
ধু-ধু প্রান্তরের দিকে
তোমাকে আর কখনো বন্দি দেখতে চাই না
এমনকি ব্যানার-ফেস্টুন-প্ল্যাকার্ডে, সোনার পয়সার পিঠে
এবার গান হবে (সম্পূর্ণ…)

অলভী সরকারের পাঁচটি চতুর্পদী

অলভী সরকার | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১:৩৮ অপরাহ্ন

১.

দেখছি না মানুষের মাথাগুলো নেই,
দেখছি না তারপরও মাথাগুলো আছে।
সুড়ঙ্গে নেমে গ্যাছে আগুনের পাখি,
শিকারী আঙুলগুলো ঝুলন্ত গাছে।

২.

তর্কের শেষ নেই কথার পেছনে
আসুন তর্কে নামি, উঠিনি যেখানে।
নামলেও ওঠা যায়, উঠলেও নামা,
আমরা শিখেছি শুরু, শিখি নাই থামা!

৩.

আমি চাই তুমি হও উড়ন্ত চিল
রাজপথে থেমে যাক আহত মিছিল।
উড়ছে উড়ুক সব বাদামী বাদুড়,
তাল ভেঙ্গে জড়সড় শত শত তিল। (সম্পূর্ণ…)

স্বদেশ রায়ের কবিতা: পদ্মভুখ

স্বদেশ রায় | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১:১১ অপরাহ্ন

Monirul Islamআমি যে মাঝে মাঝে সাঁতার কাটি এ নয় আমার মৎসাবতার অধ্যায়।
এ শুধু আমার পলাতক এক মনের খেলা, যা খেলে যায় কোন এক
অচেনা শরীরের টানে। মানুষের এই মৎস হবার বিরুদ্ধ হাওযায় অনেক কথা
ওঠে। আবার এই সাঁতারকে ভালোবেসে কত কবিতা ঝরেছে কন্ঠে কন্ঠে।
এসবের কোন কিছুর মধ্যে নই আমি, কোন দিন লিখিনি কোন কবিতা ।
মানুষের মনকে দেখিনি কখনও উপুড় করে কতটা মদির রস ঝরে পড়ে
সেখান থেকে। বরং মদিরার পাত্র উপুড় করেছি নিজের ঠোঁটে, হেঁটেছি
টালমাটাল পায়ে, রাতের শিয়ালের মত আমিও থেকেছি বুভুক্ষ এক,
ডেকেছি করুণ চিৎকারে সকলেরে, পাইনি কাছে কোন পদ্মভুখ কীটকে
যার শরীরে কেবলই পদ্ম পাপড়ির গন্ধ আছে মিশে। নতুন সুর্যোদয়ে
হেটেছি আমি অগুনিত কেরানীর সাথে, যাদের সকলের মুখ মিশে
যায় ফার্মের ইলেকট্রিক বাল্বের নিচে থাকা মুরগির সাথে, ডিম দিয়ে যায়
তারা শুধু, যে সব ডিমে সৃষ্টির নেই কোন আনন্দ, জীবনে যাদের আসেনি (সম্পূর্ণ…)

লেদা শরণার্থী ক্যাম্পে জনরব

মনির ইউসুফ | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৭:১১ অপরাহ্ন

Rohingyaউজ্জ্বল রোদের তীব্র ঝলক লেদা শরণার্থী ক্যাম্প
হালকা বাতাসের শিরশিরানি, পলিথিন ঘরগুলোতে মচমচ শব্দ
ভেসে ভেসে যাচ্ছে, ভেসে যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের জীবন…

হাজার বছর বুকে নিয়ে আমি ঘুরছি এই রোসাঙ পাহাড়ে
শবর বালিকার সেই মুগ্ধ নেত্র, সেই আদিম স্তন, শ্যামল ও বাদামী চোখে
আমাকে আহ্বানের আকুলতা
রোহিঙ্গা রমণীর ভাঁজভাঙা সুন্দরের আঁখি পল্লব আর কটাক্ষ
দুঃখী বুকে দৃষ্টির সরলতা নিঃশ্বাসে কাঁপছে

পাহাড়ের টিলায় টিলায় বাঙালির ঘর, ভিটেজুড়ে গৃহস্তি রেখেছে আগলে
উঠোনের এককোনে চরে বেড়াচ্ছে মুরগমুরগী, গরু, ছাগল
চির সবুজের উপত্যকাজুড়ে মানুষের জনরব
আমি ঘুরছি এই নাফ নদীর তীরে, বার বার কেন ঘুরছি
এই তমিস্রা, এই অন্ধকারে, কেন ফিরে আসি এই শরণার্থী ক্যাম্পে (সম্পূর্ণ…)

নির্মলেন্দু গুণের কবিতা: বেদনা আমার

নির্মলেন্দু গুণ | ২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১:১০ পূর্বাহ্ন

আকাশ যেমন বিমানের চেয়ে বড়,
তেমনি আমার বেদনা বক্ষ থেকে।

ঝড়ো হাওয়াগুলি
হেসে ওঠে তাই দেখে।।

আকাশ আমাকে আকৃতি দেবে কবে,
সকল বেদনা সইতে পারার মতো?

কবি বলেছেন, একদিন নাকি হবে,
সকল মৃত্যু জীবনের অনুগত। (সম্পূর্ণ…)

মোহাম্মদ রফিকের কবিতা: ভালোবাসার মাস

মোহাম্মদ রফিক | ২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১:০৮ পূর্বাহ্ন

সে তো পড়ে রইল ধলেশ্বরী পদ্মা বংশী বিষখালি
পেরিয়ে যতদূর বিস্তৃত মেঘনা যমুনা গজারিয়া তিস্তা;
কোথাও-বা তিরতির জলে হাই তুলছে বালি, বেগানা
হাওয়ায় ঘোমটা খুলছে তৃণ!

থমকে-যাওয়া মেঘে-মেঘে ক্ষয়ে-আসা চতুর্দিকে প্রক্ষিপ্ত সূর্যের
ছায়াভস্ম, এতটাই নিরুদ্বিগ্ন; যেন সময়ের অশ্বক্ষুরধ্বনি
থেমে আছে পলাশীর প্রান্তরসীমা ছুঁয়ে আম্রকাননে!
শুধুমাত্র একপাল অভিবাসী পাখির দঙ্গল উড়ে চলে
মাঠ-ঘাট-নদী, কচুরিপানার ঝাঁক, হোগলার ঝোট
ছেড়ে; পায়ে কাদা, মুখে ধানশিষ!
নিঃসাড় হয়ে এলো দেহ! এইমাত্র বেরিয়ে গেল শ্বাস! (সম্পূর্ণ…)

রেজাউদ্দিন স্টালিনের কবিতা: বিরামচিহ্ন

রেজাউদ্দিন স্টালিন | ২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১:০৬ পূর্বাহ্ন

অনেক দূর যেতে হবে বলতেন–নানীমা
রবার্ট ফ্রস্ট পড়েননি তিনি
মান্য করেছি–হতোদ্যম হইনি কখনো
জানি গন্তব্য অনিঃশেষ
আর এই কবিতা যা’ জীবনের দ্যোতক
তার কোথাও বিরামচিহ্ন ফেলিনি
একটি কমার ভারও
চাপাইনি তার কাঁধে-সেমিক্লোনতো দূরে থাক
দাঁড়িচিহ্নের মধ্যে কেমন যেন মৃত্যুর গন্ধ
তাকে আপ্রাণ আড়াল রেখেছি (সম্পূর্ণ…)

মাজুল হাসানের সাতটি কবিতা

মাজুল হাসান | ২৯ আগস্ট ২০১৭ ৫:০৭ অপরাহ্ন

Murtaja Baseer

হরিণ

তুলে দিলুম শব্দতবল, বাজাও, দৃশ্যরা বাজুক তুমুল
পোড়া বনস্থালীতে বসে বসে হাসতে পারাটাই জীবন
সারথি তোমার ত্রিশূলতৃণ। তোমার স্মৃতিভ্রষ্ট আতাগাছ
কামঐশে পূর্ণ। কে দেখায় রঙশেকল?
হাঁটো। দৌড়াও। বসো-স্থিত। দ্যাখো লম্ফমান মূর্ধন্য…

অদ্বৈতবৃক্ষ

মেঘমোহিত আপাতত এটুকু বলা। স্থির পড়ে আছে প্রেম
জবা। চক্তচোখ। আমি কি তবে শোনাব না দেহকাণ্ডবীণ?
কিভাবে তৈরি হয় মনোমালিন; পৃথক আয়না?
রোজ দেখছি স্ফুটন, তবু দেখছি না—হে জড় ক্রিয়াপদ
হারিয়ে ফেলেছি পাখি ও লাউডগা সাপ-প্রিয় দংশন
সপ্তরিপুর প্রকৃত অর্থ নিয়ে শুয়ে-বসে থাকা, ফেউলাগা
গোয়েন্দার মতো
রহস্য—তোমার অদ্বৈতবৃক্ষ চিরকালই অরক্ষিত
প্রতিবেশীর ভিটায় খসিয়ে দেয় ছায়াফল… (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com