শ্রদ্ধাঞ্জলি

বৈশাখে-শীতে, শ্রাবণে-ফাল্গুনে: সনজীদা খাতুনের জন্মদিনে

সনৎকুমার সাহা | ৪ এপ্রিল ২০১৮ ৯:০৩ পূর্বাহ্ন

মাত্র ক’সপ্তাহ আগে, ফাল্গুণের ২৫-১৭ বা ৯-১১ মার্চ নীলফামারীতে সম্পন্ন হলো জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের ৩৭তম বার্ষিক অধিবেশন। সবটাই সনজীদা আপা, সনজীদা খাতুনের তত্ত্বাবধানে। নীলফামারী কোনো উজ্জ্বল নগরকেন্দ্র নয়। বিশ্ব রঙ্গমঞ্চের পাদপ্রদীপ সেখানে আলো ছড়ায় খুব কমই। ঢাকা থেকে সাধারণ যাতায়াত কঠিন না হলেও তাতে বাঁকবদলের ঝঞ্ঝাট আছে। কেন্দ্র থেকে আরামে-আয়েশে অনুষ্ঠান সারতে চাইলে, প্রচারণা মাধ্যমের প্রসাদ-ভিক্ষা করলে এই জায়গা বাছাই করার জন্য কোনো যুক্তি খাড়া করা কঠিন। বরং উল্টোটাই ঘটতে পারে, সর্বোত্তম নির্বাচন যে এটা নয়, তা প্রমাণ করা খুব সহজ। এটা কি বেহিসেবি খামখেয়াল? সনজীদা খাতুন কি তবে বিচার-বুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছেন? তবে এমন কেন?
আমরা আলটপকা এমন উদ্ভট কথা ভাবতে পারি। কিন্তু সাংস্কৃতি অবিভাজ্যতার কথা মাথায় থাকলে, আর ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ‘আমার যেটুকু সাধ্য করিব তা আমি’–এই সংকল্প নিয়ে এগোতে চাইলে এটা বোঝায় কোনো ভ্রান্তি থাকার কথা নয় যে, এমনটিই নীলফামারীর মতো অঞ্চলে অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই প্রকৃতপক্ষে যথার্থ। মানবিক উজ্জীবন কেন্দ্রেই শুধু আলো জ্বালাবে না, আলোর মশাল প্রান্তেও জ্বালাতে হয়। অপরদিকে, সর্ব অভিমান ঝেড়ে ফেলে প্রান্ত থেকেও আলোর উৎস খুঁজে নিতে হয়। এবং তা দাতার অহংকার নিয়ে নয়, কেড়ে নেবার মানসিকতাতেও নয়, সশ্রদ্ধ দাতার মতো, বিনয়ী ভিক্ষুর মতো। সব কাজে এই মন্ত্রের সাধনই সনজীদা খাতুনের ব্রত। তাঁর দেখানো পথ ধরে সে ব্রত রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ ও ছায়ানটেরও। তাঁর সত্য-দৃষ্টি, সৎ সংকল্প ও সৎ উদ্যম তাতে পথ দেখায়। এখনও। তিনিই তো সব ঝড়-ঝাপটা মাথায় নিয়ে মারের সাগর পাড়ি দেবার কাণ্ডারি! (সম্পূর্ণ…)

শওকত আলী : ইতিহাসের অমৃতপুত্র

সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম | ২৬ জানুয়ারি ২০১৮ ১:১৫ অপরাহ্ন

প্রস্তুতির পরও যে মৃত্যুর খবর স্তব্ধ করে, তার ব্যাপ্তি জীবনেরই সমান। বেঁচে থাকলে নতুন কিছু লিখতেন না তিনি। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তরুণের হাতে হয়ত তুলে দিতে পারতেন না পুরস্কার। মাইক্রোফোনের সামনে মূল্যবান শব্দ উচ্চারণও অসম্ভব ছিল গত এক বছর ধরে। তবুও সত্যি যে, কথা সাহিত্যিক শওকত আলীর প্রয়াণে পাঠক বেদনা-ভারাক্রান্ত। তাঁর দীর্ঘ স্মৃতিই তাকে অমূল্য করে তুলেছিল। ৮২ বছর বয়সের অনেক মানুষই হয়ত আছেন যারা স্মৃতি-ভ্রষ্ট নন, গুছিয়ে বলতে পারেন সব কথা। সমাজ ও মানুষ দেখার জীবনবোধে শওকত আলী স্বতন্ত্র,স্মৃতি বিভ্রমে যেন তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মানুষ সবচেয়ে বেশি অকপট হয়ে উঠেন তাঁর ব্যক্তিগত দিনলিপির কাছে। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর কয়েকটা দিনলিপি দেখার সুযোগ হয়েছিল আমার। কিছু পড়ে দেখা, কিছু ছবি তুলে আনা। অধিকাংশ ধূলিধূসর আর বেশ কিছুদিন আগের। সেই দিনলিপি দেখে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, তথ্য আর হিসেবের অমন আতিশয্যে ভারাক্রান্ত মানুষ কেমন করে দরদ দিয়ে সৃষ্টি করেন লীলাবতী বা শ্যামাঙ্গদের মতো মানবিক চরিত্র! বরাবরই হয়ত তিনি তাই নিজের আবেগকে সুসংহত করে রেখেছেন শুধু লিখবেন বলে। নিজের শব্দ বাক্যের কাছে যে লেখক আত্মসমর্পণ করেন এমনই তো হওয়ার কথা তাঁর। ভি.এস. নাইপল তাঁর নোবেল বক্তৃতায় তেমনই তো বলেছিলেন। “আমাকে ভাষণ দিতে বললে, বলে দিয়েছি যে ভাষণ দেওয়ার মতো কিছু আমার কাছে নেই। এবং কথাটা সত্যি। বলতে কী, একজন লোক, যে কিনা প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে কথা, নানা আবেগ এবং ধারণা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছে, তার কাছ থেকে ক’টা কথা পাওয়া যাবে না, এ আশ্চর্যজনক বলে মনে হতেই পারে। কিন্তু আমার তরফে মূল্যবান যা কিছু, সব আমার বইগুলোতে রয়েছে। এর অতিরিক্তি যেটুকু কোনও এক ক্ষণে আমার কাছ থেকে পাওয়া যেতে পারে, তা যে ঠিকমত কোনও সুস্পষ্ট অবয়ব ধারণ করে থাকে এমন নয়। (সম্পূর্ণ…)

বিদায় নিকানোর পাররা

জাহেদ সরওয়ার | ২৬ জানুয়ারি ২০১৮ ১২:০০ অপরাহ্ন

নিকানোর পাররার কবিতা পড়ে প্রতিক্রিয়া না দেখানো অসম্ভব। এখানেই হয়ত তাঁর কবিতার শক্তিমত্তা। কবিতা পড়তে পড়তে হয়ত মনে হতে পারে এ আদৌ কবিতা নয়। এতদিন ধরে গড়ে ওঠা কবিতার ধারণাকে ভেঙে ফেলার জন্যই বুঝি এই কবিতা। নিকানোর পাররার কবিতাগুলো যদি কবিতা হয়– প্রশ্ন জাগা অস্বাভাবিক নয় যে তাহলে আগে আমরা কবিতা নামে যা পড়েছি তা কী? তিনি তাঁর এই কবিতাসমূহের নাম দিয়েছিলেন প্রতিকবিতা। নিকানোর পাররার কবিতার বই প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে সত্যিকার অর্থে বিশ্বকবিতায় সূচিত হয়েছিল নতুন এক কবিতার যাত্রা। প্রতিকবিতা। বলা হয়ে থাকে যে কবিতা এখন কোথায় সেটা জানতে গেলে প্রতিকবিতা পড়তে হবে। এটি কবিতার ইতিহাসের ধারাবাহিকতা। তিনি নিজেই তার একটা কবিতায় বলেন,

পৃথিবীতে কোনোকিছুই আপনাআপনি আলপটকা ঘটনা/দাদইজম/কিউবিজম/সুররিয়ালিজম/অথবা আত্মার আত্মপরাজয়/যা হয়/তা আগে যা ঘটেছে তারই যুক্তিসিদ্ধ ফলাফল। [হলোকস্ট; শ্রেষ্ট কবিতা ও প্রতিকবিতা, অনুবাদ: মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়] (সম্পূর্ণ…)

সেলিনামঙ্গল

বিশ্বজিৎ ঘোষ | ১৪ জুন ২০১৭ ২:১৫ পূর্বাহ্ন

Selina-coverবর্তমান সময়ের বাংলা সাহিত্যের ধারায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক সেলিনা হোসেন (জন্ম ১৯৪৭)। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও ঔপন্যাসিক হিসেবেই তিনি সমধিক খ্যাত। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের নিরন্তর সাধনায় ইতোমধ্যে তিনি নির্মাণ করেছেন নিজস্ব এক শিল্পভুবন, পাঠককে শুনিয়েছেন তাঁর স্বতন্ত্র সত্তার স্বরগ্রাম। সেলিনা হোসেনের ঔপন্যাসিক প্রতিবেদন বিষয়গৌরবে যেমন বিশিষ্ট, তেমনি প্রকরণ-প্রসাধনেও। ইতিহাসের গভীরে সন্ধানী আলো ফেলে ঔপন্যাসিক প্রতিবেদন সৃষ্টিতে তাঁর সিদ্ধি কিংবদন্তিতুল্য। বস্তুত ইতিহাসের আধারেই তিনি সন্ধান করেন বর্তমানকে শিল্পিত করার নানামাত্রিক শিল্প-উপকরণ। সমকালীন জীবন ও সংগ্রামকে সাহিত্যের শব্দস্রোতে ধারণ করাই সেলিনা হোসেনের শিল্প-অভিযাত্রার মৌল অন্বিষ্ট। এক্ষেত্রে শ্রেণি-অবস্থান এবং শ্রেণিসংগ্রাম চেতনা প্রায়শই শিল্পিতা পায় তাঁর ঔপন্যাসিক বয়ানে, তাঁর শিল্প-আখ্যানে। কেবল শ্রেণিচেতনা নয়, ঐতিহ্যস্মরণও তাঁর কথাসাহিত্যের একটি সাধারণ লক্ষণ। উপন্যাসে তিনি পৌনঃপুনিক ব্যবহার করেছেন ঐতিহাসিক উপাদান, কখনো-বা সাহিত্যিক নির্মাণ।
ইতিহাসের নান্দনিক প্রতিবেদন নির্মাণে সেলিনা হোসেনের সিদ্ধি শীর্ষবিন্দুস্পর্শী। এ প্রসঙ্গে তাঁর চাঁদবেনে, নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি, কাঁটাতারে প্রজাপতি, গায়ত্রী সন্ধ্যা, সোনালি ডুমুর— এসব উপন্যাসের কথা স্মরণ করতে পারি। এসব উপন্যাসে সেলিনা হোসেন নিজস্ব ভাবনায় ইতিহাসকে সমকালের সঙ্গে বিমণ্ডিত করেছেন– ইতিহাসের কঙ্কালেই নির্মাণ করেছেন সমকালের জীবনবেদ। ইতিহাস ও শিল্পের রসায়নে সেলিনা হোসেন পারঙ্গম শিল্পী। ইতিহাসের সঙ্গে সমকালীন মানবভাগ্য বিমণ্ডিত করতে গিয়ে সেলিনা হোসেন, অদ্ভুত এক নিরাসক্তিতে, উভয়ের যে আনুপাতিক সম্পর্ক নির্মাণ করেন, বাংলা উপন্যাসের ধারায় তা এক স্বতন্ত্র অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। তাঁর উপন্যাস পাঠ করলে বিস্মৃত হতে হয় কোনটা ইতিহাস আর কোনটা কল্পনা। (সম্পূর্ণ…)

শান্তনু কায়সার : তাঁর স্মৃতি ও সৃষ্টি

পিয়াস মজিদ | ১৩ এপ্রিল ২০১৭ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন

photoশান্তনু কায়সারকে (১৯৫০-২০১৭) দেখেছি আমার বেড়ে ওঠার শহর কুমিল্লায়। লেখক নাম ‘শান্তনু কায়সারে’র আড়ালে তাঁর প্রকৃত নাম ‘আবদুর রাজ্জাক’; এ তথ্য জেনেছি যখন তখন ভাবতাম তিনি বুঝি কন্যাকুমারী উপন্যাসের লেখক আবদুর রাজ্জাক। পরে আমার ভুল ভাঙে; জেনেছি তিনি মূলত প্রাবন্ধিক-গবেষক। তবে তাঁর প্রথম দিকের গ্রন্থতালিকায় পাওয়া যাবে কবিতাগ্রন্থ রাখালের আত্মচরিত (১৯৮২) এবং গল্পগ্রন্থ শ্রীনাথ পণ্ডিতের প্রাণপাখি (১৯৮৭)। তাঁর কবিতাগ্রন্থটির প্রচ্ছদ করেছিলেন অকালপ্রয়াত কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। পরে যখন প্রাবন্ধিক-গবেষক হিসেবে শান্তনু কায়সারের চূড়ান্ত সিদ্ধি তখনও কিন্তু তিনি কি এক অন্তর্তাগিদে লিখে গেছেন কবিতাগ্রন্থ শুভ সুবর্ণ জয়ন্তী (২০০২), গল্পগ্রন্থ ফুল হাসে পাখি ডাকে (২০০১), অর্ধশতাব্দী, উপন্যাস- ঐ নূতনের কেতন উড়ে, উপন্যাসিকা সংকলন ত্রয়ী। শকুন শিরোনামে একটি ধারাবাহিক উপন্যাসও কুমিল্লার কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল যা গ্রন্থরূপ পায়নি।
কুমিল্লা শহরে প্রায়শই মন্টুর দোকান নামে পত্রিকাবিপণিতে তাঁকে দেখা যেত একগাদা পত্রিকা কিনে সহ প্রাতঃভ্রমণকারীদের সাথে রাজনীতি থেকে সাহিত্য, সাহিত্য থেকে সংসার ইত্যাদি নানা বিষয়ে আড্ডা দিতে দিতে সময় পার করতে। জীবন চলার বাঁকে বাঁকে দেখা হওয়া, কথা হওয়া প্রতিটি মানুষই তাঁর কাছে ভীষণ মূল্যবান ছিলেন। তাই আমরা দেখি পত্রিকার দোকানদার মন্টু মারা গেলে যেমন তিনি তাঁকে স্মরণ করে লিখেছেন তেমনি তাঁর সুদীর্ঘদিনের সুহৃদ সমীর মজুমদারের পিতা ভুবনেশ্বর মজুমদারের প্রয়াণেও শোকার্ত কলম ধরেছেন। যে মানুষটি লিখেছেন দুই খন্ডে বঙ্কিমচন্দ্র (১৯৮২ ও ৮৪), মীর মশাররফ হোসেনকে নিয়ে গবেষণাগ্রন্থ তৃতীয় মীর (১৯৯৪) এবং অদ্বৈত মল্লবর্মনকে নিয়ে দুই বাংলায় পথিকৃৎপ্রতিম বেশ কয়েকটি গ্রন্থ, তাঁকে আমরা কুমিল্লা শহরে হেঁটো পথিকের মতো মাঠে-ঘাটে সক্রিয় দেখেছি। (সম্পূর্ণ…)

শওকত আলী: প্রাকৃতজনের প্রদোষকাল

সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১২:৫০ অপরাহ্ন

border=0টিকাটুলীর ‘বিরতি ভিলা’র নীচের তলায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কুঠুরিতে বহুকাল আগে থাকতেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক ইলিয়াস জগন্নাথ কলেজে পড়াতে শুরু করেই ঘরটা ভাড়া নিয়েছিলেন। তখন চারপাশে খোলামেলা ছিলো, এখন আলো-হাওয়া নেই, বাইরের শব্দ পৌঁছায়না। বেল বাজিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কেউ দরজা খুলবেনা। তবে এখনো একজন থাকেন এখানে। তাঁর বিস্মৃত স্মৃতির গহ্বর থেকে যা কিছু উঠে আসে অধিকাংশই শৈশবের রায়গঞ্জ আর লেখার কথা। এর ভেতরও বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে বন্ধু ইলিয়াসের স্মৃতি। বললেন, তাদের দুজনেরই চেতনা ও উপলব্ধির জায়গাটা এক। প্রকাশের ভাষাটা স্বতন্ত্র।
চারতলা ‘বিরতি ভিলা’র প্রায় পরিত্যক্ত এই ঘর এখন প্রদোষে প্রাকৃতজন-এর লেখক শওকত আলীর পৃথিবী। অপরিচ্ছন্ন ছোট একটি বারান্দা আর পা আটকে যাওয়া ঘরে গুমোট হাওয়া। জানালার সাথে নানা রকম প্লাস্টিকের ব্যাগে ওষুধপত্র, কাপড় দলা পাকানো। দেওয়ালে স্ত্রীর বিশাল ছবি কালো ফ্রেমে বাঁধানো, গাদাগাদি করে আছে বইসমেত দুটো বুকসেলফ। সেখানে গর্ডন চাইল্ডের হোয়াট হ্যাপেনড ইন হিস্ট্রি থেকে রোডি ডোয়েলের দ্য ডেড রিপাবলিক। রবীন্দ্র রচনাবলী ও ফয়জুল লতিফ চৌধুরী সম্পাদিত জীবনানন্দ দাশের চিঠিপত্র বইগুলোতেও দু’স্তরের ধুলোর পরত। জানতে চাইলাম পড়েন কিনা? মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। নিরাসক্তভাবে মনোযোগ সরিয়ে বন্ধ জানালায় চোখ রেখে কিছু দেখলেন। জানালেন, কিছুই আর পড়তে তেমন আগ্রহ পাননা। রাতে ঘুম হয়না, পড়তে চেষ্টা করলে চোখে কষ্ট হয়। তাকে এখন কেউ দেখতে আসেনা তবে এতে অভিযোগ নেই বললেন। জানতে না চাইলেও এই যে ‘অভিযোগ নেই’ বললেন, ওতেই টের পাওয়া গেলো অভিমানের উত্তাপ। এই ঘরে তিনি একাই থাকেন। ছেলেরা উপরের ভিন্ন ভিন্ন তলায়। চলাফেরার শক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন বাংলা সাহিত্যের শক্তিমান লেখক শওকত আলী, পায়ের পাতা দুটো ফুলে আছে। চোখের ওষুধ নিতে চেষ্টা করেন, হাত কেঁপে গড়িয়ে যায়। সাহায্য করতে চাইলে বাধা দিলেন। তখন মনে হলো, তিনি নিজেরই তৈরি চরিত্র শ্যামাঙ্গের মতো যেন জীবনের কাছে আহত ও প্রতারিত। (সম্পূর্ণ…)

শঙ্খ ঘোষের জন্মবার্ষিকী : ‘কাল থেকে রোজই আমার জন্মদিন’

মুহিত হাসান | ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ২:৪০ অপরাহ্ন

Shonkhoআলোকচিত্র: রাজু আলাউদ্দিন

আজ বাংলা ভাষার প্রধানতম কবি ও গদ্যকার শঙ্খ ঘোষের ছিয়াশিতম জন্মদিন। ১৯৩২ সালের পাঁচই ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলাদেশের চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। এই শুভদিন উপলক্ষ্যে তাঁর গুণগ্রাহী ও স্নেহধন্য তিন লেখক—কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক, প্রাবন্ধিক-অর্থনীতিবিদ সনৎকুমার সাহা ও কবি-গদ্যকার মোহাম্মদ রফিকের তিনটি সংক্ষিপ্ত তাৎক্ষণিক শ্রদ্ধালেখ মুদ্রিত হলো। তাদের তাৎক্ষণিক শুভেচ্ছাবার্তাগুলোর শ্রুতিলিখন করেছেন তরুণ লেখক মুহিত হাসান। বি. স.

হাসান আজিজুল হক
border=0

তিনি শতবর্ষী হোন

শঙ্খ ঘোষ, আমাদের সকলের প্রিয় শঙ্খদা, ছিয়াশিতে পা দিলেন, এই খবরটি নির্দিষ্টভাবে জানার পর— শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সর্বোপরি তাঁর প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করার মতোন যথোপযুক্ত ভাষা আমার আয়ত্তে নেই। এই সময়ের বাঙালি কবিদের মধ্যে তাঁকেই আমি শ্রেষ্ঠতার আসন অনেক আগেই দিয়ে বসে আছি। আমি মানুষ শঙ্খদা ও কবি শঙ্খ ঘোষকে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে আবার আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানাতে চাই।

শঙ্খদার প্রতিভা, তুলনাহীন তো বটেই, আমি বলবো, তিনি উচ্চতার যে শিখরে পৌঁছেছেন, তাতে তাঁকে দুর্নিরিক্ষ্য বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু, তিনি নেমে আসেন সকলের সঙ্গে, বিপদে-আপদে। প্রতিভার এরকম নিরহংকার প্রকাশ আর আমি দেখিনি। কবি হিসেবে যেমন তিনি আজ আমাদের সকলের কাছে এসে পড়েছেন তেমনিই এক এক সময় মনে হয় তিনি অতি দূরের নক্ষত্র। তাঁর আলো এসে পৌঁছুচ্ছে আমাদের কাছে প্রতি মুহূর্তে, প্রতিক্ষণে। (সম্পূর্ণ…)

আহারে, চলে গেলো মন খারাপের গাড়ি

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ৭ december ২০১৬ ৭:৪৪ অপরাহ্ন

ক.
আমি ভালোবেসে তাকে শাকিল না বলে, শালিক পাখি বলতাম। সে বলতো, ‘আপনি তো রবীন্দ্রনাথের প্রবাস-পাখি। দুলাল ভাই, দেশে ফিরে আসুন। আপনাকে আমাদের দরকার!’

বলতাম, কানাডায় না এলে কি খুনি নূরকে নিয়ে বই লিখতে পারতাম?

তখন জবাবে সে বলতো, তা ঠিক। আর আপনি জাতির পিতাকে নিয়ে একের পর এক যে কাজ করে যাচ্ছেন, আমরা আপনার কাছে কৃতজ্ঞ!
মাহবুবুল হক শাকিল, তোমার কাছেও আমরা কৃতজ্ঞ! তুমি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার রূপকার ভ্যাঙ্গুভারের বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম এবং কবি শহীদ কাদরী মারা যাবার পর যে ভূমিকা নিয়েছ, তা কোনো দিন ভুলবার নয়।

Dulalরফিক ভাই চলে যাবার পর তোমার কাছে যে সহযোগিতা পেয়েছি তা আজ আবারও মনে পড়ছে। তুমি প্রধানমন্ত্রীর শোকবাণী, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করেছ। এবং তারচেয়েও বেশি শহীদ ভাইয়ের মৃত্যুর পর তুমি যে কত বার কাঁদতে কাঁদতে ফোন করে অস্থির করেছো। বলেছো- দুলাল ভাই, যে ভাবেই হোক শহীদ কাদরীকে দেশের মাটিতে ঘুমানোর ব্যবস্থা করেন। তুমি সারারাত জেগে ঢাকা-টরন্টো-নিউ ইয়র্ক ক্রমাগত ফোনের পর ফোন করে যাচ্ছিলে! এবং ৩৩ বছর বিদেশে থাকার একজন কবিকে দেশে নিয়ে যে সন্মান এবং মর্যাদা দিয়েছো, তা ভাবলে গর্বে বুক ভরে যায়। (সম্পূর্ণ…)

রৌদ্রময় অনুপস্থিতি : বাংলা কবিতার আলোক

প্রদীপ কর | ২৭ নভেম্বর ২০১৬ ৭:০৭ অপরাহ্ন

Alok
ছবি: অমিতাভ দাসের ক্যামেরায় কবি আলোক সরকার

সামগ্রিক কোলাহলের ভিতরই হয়তো সৃজন সম্ভব এক নিভৃতলোক। সময় হয়তো সেই মৌলিক ধ্যানের মগ্নতায় মিশে থাকে পরম সাধনায়। নিভৃতির মৌলিক সাধনা। বাংলা কবিতার শরীরে মিশে আছে যে বিশেষ কতকগুলি সময়, পঞ্চাশের দশক সেরকমই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবর্ণ সময়। ভাঙা দেশে, ভাঙা মানুষের যন্ত্রণা পেরিয়ে এসে, অনেক না-পাওয়ার বেদনাকে অতিক্রম করে এক বিষন্ন স্বাধীনতার জন্ম। প্রাণের ভাষাকে অনন্তজীবন দেবার জন্য অকাতরে প্রাণত্যাগ… এইসব ভাঙাগড়ার মধ্যেই স্পষ্ট চিহ্নিত হয়ে উঠেছে বাংলা কবিতার পঞ্চাশকাল।

একটি তাৎপর্যপূর্ণ সময়ের মধ্যেই একদল কৃত্তিবাসী যখন ফুটপাথ বদল করতে করতে মধ্যরাতে শাসন করছে কলকাতা শহর, তখন, তার সমান্তরালে আরেক দল, বিশিষ্ট হয়ে উঠছেন ‘শতভিষা’ (১৯৫১) পত্রিকাকে অবলম্বন করে ভিন্নধারার কাব্য প্রয়াসে যার নেতৃত্বে ছিলেন কবি আলোক সরকার। ঐতিহাসিকভাবেই সত্য এই যে, এই দশকের প্রথম প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থটিও কবি আলোক সরকার রচিত উতল নির্জন। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সকলেই বুঝতে পারলেন বিশুদ্ধ কবিতার এক অন্য আলোক উদ্ভাসিত। যদিও, খুবই দুর্ভাগ্যজনকভাবে উল্লেখ করতে হয়, সম্মান, পুরস্কার ইত্যাদি সাহিত্যের সাধারণ মূল্যায়নগুলি তাকে নিয়ে হয়েছে অনেক ধীরে, অনেক পরে। ফলতঃ বাংলা কবিতায় অন্য আলোর উজ্জ্বল প্রভা সবার কাছে তেমন করে পৌঁছায়নি। ভাবি, এই-ই তো অনিত্য, যে, কোলাহল মুখরতায় মিশে থাকতে পারে হাজার হাজার মুখ কিন্তু ধ্যান তো একক। মগ্নতা তো সব সময়েই নিভৃতির। ‘হাজার ঝরাপাতার বুকে পায়ের চিহ্ন মর্মরিত আছে’ (আলোকিত সমন্বয়। নাম কবিতা) যিনি লিপিবদ্ধ করেন কিংবা বলেন:

অনেক দিন ফিরে আসার পরও
যারা পুরোনো ছবিকে নতুন নামে বলছে
তাদের ভিতরের আঁধার
কত গোপন হুহু করছে।

কেউ শুনতেই পাচ্ছে না এমন গোপন।
(আধার। সমাকৃতি ১৯৯৫) (সম্পূর্ণ…)

ফাদার দ্যতিয়েন : বাংলা গদ্যের শক্তিমান লেখক

শামসুজ্জামান খান | ২ নভেম্বর ২০১৬ ৩:৫৬ অপরাহ্ন

father-1
আলোকচিত্র: মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৪ এর উদ্বোধনী দিনের ছবি।
বেশ ক বছর আগে ঢাকা ঘুরে গিয়েছিলেন সাদা পাঞ্জাবি পাজামা পরা শ্মশ্রুমন্ডিত এক বিদেশি সাহেব। হ্যাঁ, একটু কৌতুকের সঙ্গে তিনি নিজেকে ‘সাহেব’ও বলতেন মাঝে মধ্যে। সাধারণ পোশাক-আশাক এবং চলনবলনে তাঁকে কিন্তু এক সৌম্যকান্ত বাঙালি বৃদ্ধের মতোই মনে হত আমাদের। আসলে তিনি একজন বিদেশি মিশনারি– নাম ফাদার দ্যতিয়েন। মা-বাবা নাম রেখেছিলেন পল দ্যতিয়েন। পল দ্যতিয়েন জন্মেছিলেন বেলজিয়ামের রশ্ফয় নামের একটি জায়গায় ১৯২৪-এর ৩০ ডিসেম্বর। বাবার নাম ফ্যানি এবং মা এলিজাবেথ।
বাংলাভাষী অঞ্চলে ফাদার দ্যতিয়েন বাংলার বিদ্ব্যৎ সমাজে এক পরিচিত নাম। তাঁর মাতৃভাষা ফরাসি হলেও বাংলা ভাষায় তাঁর ব্যুৎপত্তি রীতিমত ঈর্ষণীয়। উইলিয়াম কেরীর পুত্র ফেলিক্স কেরী বহু বছর আগে বলেছিলেন, বাংলা তার দ্বিতীয় মাতৃভাষা। একথাটি খুব জোরের সাথে বলতে পারতেন ফাদার দ্যতিয়েনও। ১৯৭১-এ পুস্তকাকারে প্রকাশিত তাঁর বাংলা রচনা ডায়েরির ছেঁড়া পাতা এবং ১৯৭৩-এ প্রকাশিত রোজনামচা তাঁকে বাংলা ভাষার এক শক্তিমান লেখক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসে বসে তাঁর সঙ্গে আমাদের কথা হয় ১৯৯০-এর জুলাই মাসের ২৬ তারিখে। কথা ছিলো, সকাল দশটায় আসবেন। সোয়া নয়টায় তিনি হাজির হলেন, হেসে বললেন, “বাঙালি সময় না-সাহেবি সময় তো নয়ই– ‘অদ্ভুত’ সময়ে এলাম। পঁয়তাল্লিশ মিনিট আগে এসে গেলাম।” ‘এসে গেলাম’ কথাটি আবার উচ্চারণ করে হাসলেন এবং কৌতুকমিশ্রিত স্বরে বললেন : ‘এসে গেলাম’ আপনারা বাঙালিরা বলেন, এটি আপনাদের নিজস্ব বলবার ধরন। ‘এসে গেলাম’ মানে: ‘এসে পৌঁছলাম’, ‘এসে আবার চলে গেলাম নয়।’ কোন বিদেশি এটা না জেনে অনুবাদ করলে কেমন হবে বলুন তো। (সম্পূর্ণ…)

শহীদ কাদরী: সে এক অদ্ভুত মানুষ যে শনাক্ত হতে চায় না

অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত | ৩১ অক্টোবর ২০১৬ ১১:০০ অপরাহ্ন

Shahidএই মুহূর্তে, এই দুঃসংবাদ, যদিও প্রত্যাশিত–তবু আমি ভীষণ ক্ষেপে আছি, এটা একেবারেই স্বতসিদ্ধ। যেহেতু প্রায় দেড় দশক দুই দশক ধরে এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম। এবং ভেবেছিলাম যে, একদিন এই চূড়ান্ত দুঃসংবাদ পাবো, এর জন্য তৈরিও ছিলাম। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, আসলে আমরা তৈরি থাকলেও, আমরা যারা নশ্বর মানুষ, তাদের পক্ষে এ রকম ঘটনা সহ্য করে নেওয়ার মতো কোনো রকম সামর্থ নেই।
যখনই এই খবর ফারুকের মধ্য দিয়ে পেলাম, ফারুক আমার ভাই স্বরূপ, আমি তখনই ফারুককে বললাম যে ফারুক, শক্তির বিয়োগ সংবাদ পেয়ে আমি একটা সনেট পাঠিয়েছিলাম, আজকে যদি তোমাকে একটা শোকগাথা পাঠাই, আমার মনে হলো আমি পারি, আমি শোকগাথা লিখতে পারবো, কিন্তু সেটা খুব আলঙ্কারিক হবে। এখন আমি যেটা বলতে চাই দু’চারটি কথা যে এই মুহূর্তে আমাদের শহীদ কাদরীর প্রতিভার মূল্যাঙ্কন করার সামর্থ আমার নেই। কিন্তু এইটুকু আমার মনে হয়, আমার ভীষণভাবে মনে হয়, গত কয়েক বছর ধরে যতদিন তাকে দেখিনি, সেই সময় অন্য একটা সান্নিধ্য গড়ে উঠেছিল, কি লিখছে কি না লিখছে। তো এখন ওর সবশেষ যেই বইটা যেটা প্রবাসে লেখা–আমার চুম্বনগুলি পৌঁছে দাও–সেটা আমার হাতে আসেনি। কে যেন টুইট করে জানিয়ে দিয়েছিল যে এই বইটা ২০০৯ সালে বেরিয়ে গেছে।
এবং আমি ভাবছিলাম যে, এলিয়ট এক জায়গায় যেমন বলেছিলেন যে, প্রত্যেক কবি, প্রত্যেক মানুষ থেকে বয়সে বিলম্বিত, অনেক বড়। প্রত্যেক কবির ক্ষেত্রে এই কথাটা বলা যায় যে, তাদের এই মৃত্যু আমাদের বিবেকের সংবিতের পক্ষে খুব প্রয়োজনীয় একটা ঘটনা।
মঁতেইগ যিনি পারসোনাল এসেস-এর প্রবক্তা ছিলেন তিনি বলেছিলেন, দার্শনিকতা করার মানে হচ্ছে, মৃত্যুকে কিভাবে আয়ত্ত করা যায় সেটা শিখে নেওয়া। এখানে একটা ঘরোয়া সেমিনারের মতো চলছিল।
বুঝতে পারলাম, নশ্বরতার একটা কবিতার মন্ত্র আছে যা কবিতাকে সঞ্চালিত করতে পারে।
আপাতত বলাই বাহুল্য যে, আমি এমন কোনো কথা বলব না যে-কথা কোনো বইয়ের, কোনো শোকলিপির উপক্রমনিকা হতে পারে। আমি সেটা বলবো না। (সম্পূর্ণ…)

মোহাম্মদ রফিকের কবিতা: যেহেতু সে ধুলো মাখে, ধুলোর চেয়েও অগণন

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ২৩ অক্টোবর ২০১৬ ১:৩৯ অপরাহ্ন

কবিকে রেহাই দেবে কে?

মাগো, তবে কাদের বাড়ির খুদে
ভরে উঠল ভাঙাথালা
কান্নায়, চিৎকারে

মাগো, তবে কাদের ঘরের ত্যানা
আমাকে জড়িয়ে নিল
রক্তহিম সরোবরে

মাগো, তবে কাদের গ্যাঁজালো পান্তা—
পেটের ভিতরে ঢুঁড়ছে
বেদম হাত পা

মাগো, মা কাদের সোহাগে ঘেন্নায়
ভিড়মি খেতে খেতে যেন
ফুল ফুটছে তারা ডাকছে

শরীরের কন্দরে কন্দরে ক্ষত ফাটছে
যেন মসলা পিষে পিষে কেউ
মাগো, ধুয়ে ফেলছে পাটা।

(মাগো, মা; মোহাম্মদ রফিক)

Mohammad Rafique-3এইভাবে একজন কবি জাগিয়া উঠেন ভাঙনের মুখোমুখি। দেশকাল, গোত্রজাতপাতহীন এই দেশে যখন কবিরা চিৎকার করিয়া বলিতে থাকেন ‘আমাদের কোন দেশ নাই’ তখন মোহাম্মদ রফিক দেখাইয়া দেন, না, কবিতা আসমান হইতে নাজিল হয় না, অন্যভাষা বা দেশ হইতে ধার করিয়া বদলানো শব্দাবলীতে কিংবা আইডিয়াতে হইয়া ওঠে না, কবির কাব্যবোধ অবশেষে কিংবা সবশেষে পানি পায় নিজভূমেই— দেশজ পৈঠায়। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com