অনুবাদ

উপেক্ষিত কাভাফির অর্জুন ও আমরা

রাজু আলাউদ্দিন | ২১ জুন ২০১৬ ১:৩৯ পূর্বাহ্ন

cavafy2.jpgসি. পি. কাভাফির কবিতার সঙ্গে আমার লিপ্ততা দিয়েই লেখাটা শুরু করছি বলে মার্জনা করবেন, তবে এই উল্লেখ অপ্রাসঙ্গিক হবে না বলেই ব্যক্তিগত অবতারণা। সি. পি কাভাফির কবিতা শীর্ষক একটা অনুবাদ গ্রন্থ বেরিয়েছিল ১৯৯২ সালে, তার মানে গ্রন্থভুক্ত কবিতাগুলো অনূদিত হয়েছিলো আরও অন্তত দুএক বছর আগে। তখনও পর্যন্ত কাভাফির কোন কবিতার তর্জমা-গ্রন্থ বাংলাভাষায় প্রকাশিত হয়নি। গ্রীক চিরায়ত সাহিত্যের প্রতি আমাদের প্রধান লেখক-অনুবাদকরা মনোযোগী হলেও, আধুনিক গ্রীক সাহিত্যের প্রতি তারা খুব বেশি উৎসাহী ছিলেন বলে কোনো নজির পাওয়া যায় না। অথচ আধুনিক যুগের দুজন গ্রীক কবি, জর্জ সেফেরিস ও ওডেসিয়ুস এলিটিস নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হওয়া সত্ত্বেও এই ভাষার কবিতা সম্পর্কে আমাদের কৌতূহল খুব একটা দানা বাঁধেনি। সত্য বটে জর্জ সেফেরিসের নির্বাচিত কবিতা শিরোনামে প্রয়াত শিশির কুমার দাশের একটি অনুবাদ গ্রন্থ বেরিয়েছিল নব্বুইয়ের দশকের প্রথম দিকে বোধহয়। কিন্তু এলিটিসের বাংলা তর্জমা বোধ হয় এখনও পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। হয়েছে কি? সেফেরিস এবং এলিটিসেরও পূর্বসূরী কাভাফি, যিনি মৌলিকতায় ও কাব্যিক গুরুত্বে আরও বেশি শীর্ষ পর্যায়ের, তার কবিতার ব্যাপারে আমাদের দীর্ঘ নিরবতাকে আমার কাছে খানিকটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল তখন। ঐ নিরবতার পুকুরে আমার বইটি ছিল একটি বুদবুদ মাত্র। আমি ধরে নিয়েছিলাম পরে কেউ যোগ্য হাতে কাভাফির কবিতা অনুবাদ করবেন, করেছেনও দেখলাম। ১৯৯৭ সালে পুস্কর দাশগুপ্ত মূল থেকে অনুবাদ করেছেন। কিন্তু তিনি অনুবাদ করার পরেও কেন আমি আবার কাভাফির ‘চিরন্তন’ (নিচে দেখুন) কবিতাটি অনুবাদ করছি? প্রথম কথা হলো, এই কবিতাটি তিনি অনুবাদ করেননি। কেন করেননি জানি না। এর কোনো হদিস কি আগে জানা ছিল না? মনে হয় জানা ছিল না কারোরই। এই কবিতাটি, কাভাফির ইংরেজিতে যেসব অনুবাদ গ্রন্থ সহজলভ্য–জন মাভরোগর্দাতো, এডমান্ড কিলি, ফিলিপ শেরার্ড বা রায়ে ডালভেনের অনুবাদে এটি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। কবিতাটির হদিস পাওয়া গেল ২০১২ সালে প্রকাশিত ড্যানিয়েল ম্যান্ডেলসন-এর Complete poems by C. P. Cavafy নামক গ্রন্থে। (সম্পূর্ণ…)

স্টিফেন হকিং: ‘ব্ল্যাক হোল থেকেও পদার্থ বেরিয়ে আসতে পারে’

অরণি সেমন্তি খান | ১৭ জুন ২০১৬ ৯:৩৩ অপরাহ্ন

s-h.jpgপদার্থবিজ্ঞানের জীবন্ত কিংবদন্তী স্টিফেন হকিং মহাবিশ্ব, ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্ব এবং এদের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে দিয়েছিলেন ‘রেইথ লেকচার’। বিবিসি’র রেডিও ফোর’কে গত বছর দেয়া এ বক্তৃতার অনুলিপি এ বছরের ২৬ জানুয়ারি থেকে প্রকাশ করে বিবিসি। দুই খন্ডের সেই অনুলিপি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য অনুবাদ করেছেন অরণি সেমন্তি খান।

রেইথ লেকচার: ১

আমার বক্তৃতা ব্ল্যাক হোল নিয়ে। কথায় আছে, কিছু সত্য কল্পনার চেয়েও অদ্ভুত। আর এই কথাটি ব্ল্যাক হোলের ক্ষেত্রেই মানানসই।
যদিও ব্ল্যাক হোলের ধারণাটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী থেকেও আশ্চর্যজনক, এটি দৃঢ়ভাবে বৈজ্ঞানিক। নক্ষত্র নিজেদের মহাকর্ষের বলে নিজেরাই সংকুচিত হয় এবং এর ফলে সৃষ্ট বস্তুটির প্রকৃতি কেমন হবে, এই বিষয়টি বৈজ্ঞানিক সমাজ উপলব্ধি করতে অনেক সময় নিয়েছে।
১৯৩৯ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে আলবার্ট আইনস্টাইন দাবি করেন – যেহেতু পদার্থ একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে সংকুচিত করা যায় না, তাই নক্ষত্র নিজ মহাকর্ষ বলে সংকুচিত হতে পারে না। বহু বিজ্ঞানী তাঁর এই কথায় একমত হয়েছিলেন।
তবে একজন আমেরিকান বিজ্ঞানী সেই দলে ছিলেন না এবং তাকেই বলা যায় ব্ল্যাক হোল গল্পের পথিকৃৎ । ৫০ এবং ৬০ এর দশকে তাঁর গবেষণার কাজে তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন নক্ষত্রের সংকোচন এবং এ সংক্রান্ত তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের সমস্যাগুলোর উপর। এছাড়াও তিনি নক্ষত্রের সংকোচনের ফলে সৃষ্ট ব্ল্যাক হোলের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পোষণ করেছিলেন।
একটি সাধারণ নক্ষত্র তার সহস্র বছরের জীবনকালে তাপীয় বহির্মুখী চাপের সহায়তায় নিজের মহাকর্ষের বিপরীতে নিজেকে বজায় রাখে। এই চাপ উৎপন্ন হয় হাইড্রোজেনকে হিলিয়ামে রূপান্তর করার পারমাণবিক প্রক্রিয়ায়।
ধীরে ধীরে নক্ষত্রের এই জ্বালানী শেষ হয়ে যায়। তারপর সে সংকুচিত হয়। কিছু ক্ষেত্রে নক্ষত্রটি একটি শ্বেত বামন হিসেবে নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখে।
তবে ১৯৩০ সালে সুব্রামানিয়ান চন্দ্রশেখর দেখিয়েছিলেন, একটি শ্বেত বামনের সর্বোচ্চ ভর হতে পারে আমাদের সূর্যের ভরের ১.৪ গুন।
এছাড়াও একজন সোভিয়েত বিজ্ঞানী লেভ লান্দাউ নিউট্রন দ্বারা নির্মিত একটি নক্ষত্রের জন্য একই ধরণের সর্বোচ্চ ভরের সীমারেখা গণনা করেছিলেন।
তাহলে পারমাণবিক জ্বালানী শেষ হয়ে গেলে সেসব অসংখ্য নক্ষত্রের কি পরিণতি হবে, যাদের ভর শ্বেত বামন বা নিউট্রন নক্ষত্রের চাইতে অধিক?
এই প্রশ্নের উত্তর নিয়েই গবেষণা করেছিলেন অ্যাটম বোমার জনক হিসেবে খ্যাত রবার্ট ওপেনহাইমার। জর্জ ভল্কফ এবং হার্টল্যান্ড স্নাইডারের সঙ্গে ১৯৩৯ সালের কিছু গবেষণাপত্র তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে এমন একটি নক্ষত্র বহির্মুখী তাপীয় চাপ দিয়ে অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারবে না। এই চাপ বাদ দিলে, একটি সুষম গোলীয় নক্ষত্র অসীম ঘনত্বের একটি বিন্দুতে সংকুচিত হয়। এই বিন্দুকে বলা হয় সিঙ্গুলারিটি। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ১৫ জুন ২০১৬ ১০:১৪ পূর্বাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

দস্তয়েভস্কি ও তলস্তয়ের কি দেখা হয়েছিল?

জাকিয়া সুলতানা | ২ জুন ২০১৬ ৭:২৩ অপরাহ্ন

combo.jpgফিওদর দস্তয়েভস্কি এবং লিও তলস্তয় সমসাময়িক ছিলেন তা মোটামুটি অনেকের জানা থাকলেও তাঁরা কি কখনো একে অপরের সাথে দেখা করেছিলেন?
যদিও বিস্ময়কর মনে হবে, তারপরেও তাঁরা একে অপরকে ব্যক্তিগতভাবে জানতেন না। তাঁরা দুজনেই লেখকসমাজ এবং সমালোচকদের মাঝে সুপরিচিত ছিলেন, একে অপরের কাজকে তাঁরা শ্রদ্ধাও করতেন- কিন্তু তাঁরা কখনো পরিচিত হননি! ১৮৫৫ সালে তলস্তয় যখন একজন উজ্জীবিত তরুণ লেখক তখন তিনি সেন্ট পিটার্সবুর্গে এসেছিলেন এবং তুর্গেনিভ ও নেকরাসভসহ অনেক লেখকের সাথে দেখা করেছিলেন কিন্তু তখনও পর্যন্ত দস্তয়েভস্কি ছিলেন নির্বাসিত ।

যখন War and Peace প্রকাশ পেল তখন এটা দেখে দস্তয়েভস্কি খুব অভিভূত হয়েছিলেন। তিনি তলস্তয়ের সাথে দেখা করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। ১৮৭৮ সালে উভয়েই দার্শনিক ভ্লাদিমির সলোভয়েভ্-এর একটি বক্তৃতাসভায় এসেছিলেন, কিন্ত দেখা করেননি। দু’বছর পর দস্তয়েভস্কি পুশকিনের একটি স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে অংশগ্রহণ করতে মস্কো এসেছিলেন, তখন ইয়াসনায়া পোলিয়ানা (তলস্তয়ের জন্মশহর)’য় যাওয়ার জন্য মনস্থ করেছিলেন। কিন্তু সেসময় তিনি বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পারেন যে তলস্তয় ততদিনে সামাজিক জীবন সম্পর্কে আগ্রহ হারাতে শুরু করেছেন এবং তাঁর নিজ পল্লীগ্রামের তালুকে নিভৃতচারী হয়েছেন। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ২০ মে ২০১৬ ৪:২০ অপরাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

পুশকিন ও রবীন্দ্রনাথের সাথে বেড়ে ওঠা

জাকিয়া সুলতানা | ১১ মে ২০১৬ ১:৩২ অপরাহ্ন

অচলা মৌলিক (১ জুলাই, ১৯৪১-) একজন ভারতীয় লেখিকা এবং প্রাক্তন আমলা, যিনি সর্বশেষ ভারত সরকারের শিক্ষা-সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাঙালি পরিবারে জন্ম নেয়া অচলার শিক্ষাজীবন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইতালীতে কেটেছে। পরবর্তীকালে তিনি আইসিএস কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। রুশ ইতিহাস এবং সাহিত্যের প্রতি গভীর আগ্রহ থেকে রচনা করেছেন ‘A Hundred years of Lev Tolstoy and the Indian Connection‘। রাশিয়ার সংস্কৃতি নিজ দেশে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য পেয়েছেন ‘পুশকিন মেডেল’। সম্প্রতি তিনি Growing up with Puskin and Tagore শিরোনামে যে প্রবন্ধটি লিখেছেন, জাকিয়া সুলতানার অনুবাদে তা বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম-এর পাঠকদের জন্য এখানে উপস্থাপিত হলো। বি. স. puskin-tagore.jpgঅতি সম্প্রতি ঝাড়বাতির আলোয় শোভিত এক বিশাল হলঘরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ পুশকিন-পদক প্রদান করেছেন সেই সব বিদেশিদেরকে যারা নিজেদের দেশে রুশ সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দেয়ার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। নীল ফিতায় এই রৌপ্য-পদকে রাশিয়ান কবি আলেক্সান্দর পুশকিনের আত্মপ্রতিকৃতি খোদাই করা রয়েছে।
রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ­ভ্লাদিমির পুতিনের পাশে অর্থোডক্স চার্চের বিশিষ্ট লোকজন, একজন ইমাম, রাশিয়ার উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ, কূটনীতিক, দোভাষীগণ বসে ছবির মতো সুন্দর শহর নিঝনির নভগোরোদে এই জমকালো অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। আগে ও পরে রোমাঞ্চকর সুর, সংগীত এবং লোকনৃত্যের সমাবেশে অনুষ্ঠানটি ছিল নিখুঁতভাবে পরিকল্পিত এবং পরিচালিত। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ৩ মে ২০১৬ ১১:১৪ পূর্বাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ১১ এপ্রিল ২০১৬ ৯:৩২ অপরাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

উমবের্তো ইকোর প্রবন্ধ: ‘‘আমি তোরে ভালবাসি পাগলের মতো’’

হোসেন মোফাজ্জল | ১৮ মার্চ ২০১৬ ৯:২৮ অপরাহ্ন

উমবের্তো ইকোর বেস্ট সেলিং উপন্যাস দ্য নেইম অফ দ্য রোজকে প্রায়শ উল্লেখ করা হয় পোস্টমর্ডান লিটেরেচার হিসেবে যা অতিক্রম করেছে জনপ্রিয় এবং সিরিয়াস সাহিত্যের সীমানাকে, উঁচু এবং নিচুর কালচারকে, এবং অন্য ঘরানা (ডিটেকটিভ নোভেল) নিয়ে তৈরী করেছেন প্যারোডি, আধুনিক যুগের নিশ্চয়তা তল্লাসে বড় ধরনের অভিব্যক্তি। তাঁর উপন্যাসের পরিশিষ্টে, ইকো উত্তরাধুনিকতা নিয়ে নিজস্ব ভাবনা পেশ করেছেন যেখানে পাওয়া যাবে এক ধরনের উৎকর্ষতা, এবং এক ধরনের প্যারোডি, আমাদের নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতাগুলো থেকে।
লেখাটি উমবের্তো ইকোর বই পোস্টক্রিপ্ট টু দ্য নেইম অফ দ্য রোজ এর অংশবিশেষ নিয়ে প্রকাশিত দ্য ফনটানা পোস্টমর্ডানিজম রিডার বই থেকে অনূদিত যার শিরোনাম ছিল: সে বলে আত্মসচেতনভাবে ‘‘আমি তোরে ভালবাসি পাগলের মতো’’। লেখাটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন হোসেন মোফাজ্জল। বি.স.

দুর্ভাগ্যক্রমে, ‘পোস্টমর্ডান’ বুলিটা হচ্ছে সকল কাজের কাজি (বোয়া তো ফে)। আমার এমন একটা ধারণা জন্মেছে এই শব্দটার ব্যবহারকারীরা যে কোন বিষয়ে আজকাল এটাকে কাজে লাগাতে পছন্দ করেন। তাছাড়া, এটাকে আগের তুলনায় বেশী বেশী ব্যবহারের চেষ্টা চলছে বলে মনে হয়: প্রথমত এটাকে আপাতদৃষ্টিতে ব্যবহার করা হয়েছিল নির্দিষ্ট কিছু লেখক এবং শিল্পীর বেলায় যারা সক্রিয় ছিলেন গেল বিশ বছর, তারপরে আস্তে আস্তে এটা পৌঁছে গেল শতাব্দির গোড়ার দিকে, তারপর গেল আরও আরও পেছনে। এবং এই পেছনে চলার রীতি চলছে তো চলছেই; শিঘ্রই হোমারকে পোস্টমর্ডান ক্যাটাগরিতে অর্ন্তভুক্ত করা হবে।
প্রকৃতপক্ষে, আমি বিশ্বাস করি উত্তরাধুনিকতা এমন কোন প্রবণতা না যা কালানুক্রমে সংজ্ঞায়িত করা যাবে, বরং বলা চলে এটা একটা আদর্শ রীতি প্রণালী বা আরো ভাল করে বললে এটা একটা কুনস্টোয়েন, কাজ করার একটা উপায়। আমরা বলতে পারি প্রতিটি কালেই ছিল তার নিজস্ব উত্তরাধুনিকতা, স্রেফ যেমনটি থাকে প্রতিটি কালের নিজস্ব ম্যানারিজম (এবং, আসলে, আমি অবাক হব উত্তরাধুনিকতা যদি মেটাহিস্টোরিক্যাল ক্যাটাগরিতে ম্যানারিজমের আধুনিক নাম না হয়ে থাকে)। আমি বিশ্বাস করি যে প্রতিটি কালেই একটা সংকট মুহূর্ত আসে যাকে নিৎসে বর্ণনা করেছেন তাঁর থটস আউট অফ সিজন বইতে, যেখানে তিনি লিখেছিলেন ইতিহাস চর্চা কিভাবে আমাদের বারোটা বাজিয়েছে। অতীত আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, লুন্ঠিত করেছে, ব্ল্যাকমেইল করেছে। ঐতিহাসিক ভ্যান-গার্ড (কিন্তু এখানে আমি ভ্যান-গার্ডকেও মেটাহিস্টোরিক্যাল ক্যাটাগোরি হিসেবে বিবেচনা করেছি) চেষ্টা করেছে অতীতের সাথে গাঁটছড়া বাঁধতে। ‘‘ডাউন উইথ মুনলাইট’’ ছিল ফিউচারিস্টদের একটা শ্লোগান– প্রতিটি ভ্যান-গার্ডের কাছে যা ছিল একটা টিপিক্যাল প্ল্যাটফর্ম; আপনাকে শুধুমাত্র যা করতে হবে তা হলো ‘মুনলাইট’-এর বদলে যে কোন চলনসই একটা বিশেষ্য বসিয়ে দিলেই হবে। ভ্যান-গার্ড ধ্বংস করেছে, অতীতকে বিকৃত করেছে: লে দুমুওয়াজেল দাভিন্য়্যূ পেইন্টিংটা হচ্ছে টিপিক্যল একটা ভ্যান-গার্ডিও কর্ম। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ৫ মার্চ ২০১৬ ১:৪৫ অপরাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ২৫ জানুয়ারি ২০১৬ ১:৩৬ অপরাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

আঁতোয়ান দ্য স্যাঁতেকসুপেরি’র বন্দীকে লেখা চিঠি

আনন্দময়ী মজুমদার | ১৩ জানুয়ারি ২০১৬ ৮:১৫ অপরাহ্ন

আঁতোয়ান দ্য স্যাঁতেকসুপেরি (১৯০০–১৯৪৪) একজন ফরাসি কথাসাহিত্যিক, কবি, সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিত্ব ও পথিকৃৎ বৈমানিক। ফ্রান্সের কয়েকটি সেরা সাহিত্য পুরস্কার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত বই ‘ল্য প্যতি প্র্যাঁস’ (‘দ্য লিটল প্রিন্স’), ‘তের দেজোম’ (‘উইন্ড, স্যান্ড অ্যান্ড স্টারস’) ও ‘ভোল দ্য নুই’ (‘নাইট ফ্লাইট’)।

দুঃসাহসী ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় ছিলেন তিনি; ১৯৩৫ সালে প্যারিস থেকে সায়গনের উড়াল-রেকর্ড ভাঙতে চেষ্টা করেন। কিন্তু লিবিয়ার মরুভূমিতে তাঁর বিমান-দুর্ঘটনা হয়। তিনি ও তাঁর সহ-বৈমানিক মরুভূমিতে পথ হারিয়ে তিনদিন ঘুরে বেড়ানোর পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়। ১৯৩৮ সালে আরেকটি বিমান দুর্ঘটনা হয় তাঁর – এইবার নিউ ইয়র্ক থেকে আর্জেন্টিনার তিয়েরা দেল ফুয়েগোতে যাবার সময়ে, গুরুতর আহত হন তিনি। দীর্ঘদিন নিউ ইয়র্কে অচেতন ছিলেন। ৩১ জুলাই ১৯৪৪, ভূমধ্যসাগরের উপর প্যারিস থেকে করসিকা অভিমুখে এক দুঃসাহসী বিমানযাত্রার সময়ে তিনি নিখোঁজ হন – সম্ভবত বিমান-দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। এরপরের বই ‘তের দেজোম’। এটি তাঁকে আকাদেমি ফ্রঁসেজ-এর ‘গ্রঁ প্রি দ্য রমাঁ’ (উপন্যাসের জন্যে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার) ও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড এনে দেয়।

একসুপেরির ‘ছোট্ট রাজপুত্র’ বইটি আড়াইশোর বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এটি সর্বকালে সর্ববহুল বিক্রীত বইয়ের শীর্ষতালিকায় স্থান পেয়েছে। ফ্রান্সে তিনি মরণোত্তর জাতীয় বীরের মর্যাদা পেয়েছেন। নানা ভাষায় তাঁর বইয়ের অনুবাদ তাঁকে আন্তর্জাতিক ভাবে সুপরিচিত করেছে। ফ্রান্সে ও তার বাইরে পাওয়া তার প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি সম্মাননা বিবিধ, বিচিত্র ও বিপুল। ১৯৬০ সালে তাঁর দার্শনিক আত্মস্মৃতি ‘তের দেজোম’-এর নামে (আক্ষরিক অনুবাদে ‘মানুষের ভুবন’) একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার নাম রাখা হয়েছে। অন্তত তিনটি মহাদেশে তার নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার দার্শনিক প্রবন্ধ ‘বন্দীকে লেখা চিঠ ‘ এই প্রথম বাংলাভাষায় অনূদিত হলো আনন্দময়ী মজুমদারের তর্জমায়। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com