অনুবাদ

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের চোখে সালভাদোর আইয়েন্দের মৃত্যু

এনামুল হাবীব | ১৪ december ২০১৭ ৯:০৪ অপরাহ্ন

মূল: গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস

অনুবাদ: এনামুল হাবীব

Allendeচিলির সান্তিয়াগোর লা মনেদা প্রাসাদে চিলির নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সালভাদর আইয়েন্দের মৃত্যুর ৪৫ বছর গত হয়েছে, যে প্রাসাদে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে আইয়েন্দে ফিদেল কাস্ত্রোর উপহার দেয়া AK-47 রাইফেল দিয়ে নিজেকে প্রতিরোধের শেষ চেষ্টা চালিয়েছিলেন। সালভাদর আইয়েন্দের মৃত্যুর (১১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩) পর নিউ স্টেটম্যান্ট জার্নালে ১৯৭৪ সালের মার্চে নোবেল বিজয়ী কথাসাহিত্যিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস চিলিতে আইয়েন্দের উত্থান, তার বামপন্থী পপুলার ইউনিটি পার্টির রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল, রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরের বুর্জোয়া দল ও সামরিক বাহিনীর একাংশের সাথে আইয়েন্দেকে উৎখাতে সিআইয়ের গোপন আঁতাত আর রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একনায়ক সামরিক জেনারেল আগাস্তো পিনোচেট-এর ক্ষমতা দখল নিয়ে যে ইতিহাসভিত্তিক সাড়া জাগানো প্রবন্ধ লিখেন তারই নাম – The Death of Salvador Allende। বি.স.

১৯৬৯ সালের শেষের দিকের ঘটনা। পেন্টগনের তিনজন জেনারেল ওয়াশিংটনের কোনো এক শহরতলীতে চিলির পাঁচজন মিলিটারি অফিসারের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে ব্যস্ত। আমন্ত্রিত এই পাঁচজন অতিথির মধ্যে অন্যতম ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্ণেল হেরার্দো লোপেস (আমেরিকায় চিলির সামরিক মিশনের সহকারী বিমান এটাশে)। অন্যান্য অতিথিরা লোপেসেরই সহকর্মী। মধ্যাহ্নভোজটি যার সম্মানে আয়োজন করা হয়েছে তিনি চিলির বিমান একাডেমীর পরিচালক জেনারেল কার্লোস তরো মাসোতে, মাত্র একদিন আগে আমেরিকায় এক শিক্ষা সফরে মেসোত হাজির হয়েছিলেন। আটজন অফিসার অধিকাংশ কথাবার্তাই বলছিলেন ইংরেজিতে। আলোচনা মূলত কেন্দ্রীভূত ছিলো একটি মাত্র বিষয়ে: চিলিতে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। ভোজসভার শেষের দিকে পেন্টাগনের একজন জেনারেল প্রশ্ন করলেন, বামপন্থীদের মনোনীত কোনো প্রার্থী, ধরা যাক সালভাদোর আইয়েন্দে, নির্বাচনে জয়ী হলে সেনাবাহিনী কী ভূমিকা নেবে। জেনারেল মাসোতে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলেন, আমরা আধ ঘন্টার মধ্যে মনেদা প্রাসাদ দখল করে নেবো। এজন্য যদি ঐ প্রাসাদ জ্বালিয়ে দিতে হয়,তবু। (সম্পূর্ণ…)

অক্তাবিও পাস: ভারত এমন এক আধুনিকতা দিয়ে শুরু করেছে যা স্পানঞলদের চেয়েও অনেক বেশি আধুনিক

রাজু আলাউদ্দিন | ২৮ নভেম্বর ২০১৭ ১১:২৩ অপরাহ্ন

Mexican poet Octavio Paz
‘চিত্র: ভারতবর্ষ বিষয়ক স্বরচিত বই হাতে অক্তাবিও পাস
তিনি কেবল সৃষ্টিশীল কবিই ছিলেন না, ছিলেন ইতিহাস ও রাজনীতি, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, শিল্প ও সমাজতত্ত্ব, নৃবিজ্ঞান ও ধর্মতত্ত্বসহ মানবসভ্যতার নানান বিষয়ে পান্ডিত্যের অধিকারী ও ব্যাখ্যাকার। স্বাভাবিক কারণেই এ ধরনের ব্যক্তিত্ব গণমাধ্যমসহ বিদ্যায়তনের ভাবুক ও লেখকদের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে মতামতের উৎস হয়ে ওঠেন। অক্তাবিও পাস তাই লেখালেখির বাইরেও জীবদ্দশায় লাতিন আমেরিকার সর্বোচ্চ সাক্ষাৎকারদাতাদের একজন হয়ে উঠেছিলেন। অসংখ্য বিচ্ছিন্ন সাক্ষাৎকার ছাড়াও এককভাবে নেয়া তার সাক্ষাৎকারের আছে একাধিক গ্রন্থ, যেমন এলেনা পনিয়াতৌস্কার নেওয়া Las Palabras del Arbol কিংবা ব্রাউলিও পেরাল্তার নেয়া গ্রন্থ El Poeta en su tierra । স্বাভাবিক কারণেই তার বৃহদায়তনের সাক্ষাৎকারে অনিবার্যভাবে এসে পড়বে ভারতের প্রসঙ্গ যেহেতু সবারই জানা যে তিনি ভারতে মেহিকোর রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাটিয়েছেন বেশ কয়েক বছর এবং তার নানান ধরনের লেখায় রয়েছে ভারতীয় সংস্কৃতির উল্লেখ ও সৃষ্টিশীল প্রভাব। কেবল, বিভিন্ন লেখাতেই নয়, গোটা একটি বই-ই তিনি লিখেছিলেন ভারতবর্ষ নিয়ে। সাংবাদিক ও লেখক ব্রাউলিও পেরাল্তা যখন পাসের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন তখন ভারতবর্ষ নিয়ে পাসের লেখা Vislumbres de la India বইটি মাত্র প্রকাশিত হয়েছে। ব্রাউলিও পেরাল্তার El Poeta en su tierra নামক গ্রন্থদীর্ঘ সাক্ষাৎকারের একটি পর্ব ছিল ভারতবর্ষ নিয়ে। পাস তার স্বভাবসুলভ স্বচ্ছতা ও তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণসহ মেহিকোর সাথে ভারতের বিভিন্ন দিক তুলনা করে দেখিয়েছেন পরস্পরের স্বাতন্ত্র্য ও সাযুজ্য, শক্তি ও দুর্বলতাগুলো। সাক্ষাৎকারটি স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিন।
সাক্ষাৎকারগ্রহিতা ব্রাউলিও পেরাল্তার জন্ম ১৯৫৩ সালে মেহিকোর বেরাক্রুসের অন্তর্গত তুক্সপান-এ। পেশায় তিনি সাংবাদিক। La Jornada-র সাংবাদিক এবং পরে Equis, cultura y sociedad-এর সম্পাদক ব্রাউলিও পেরাল্তা পাসের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছিলেন ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত। সাক্ষাৎকারগুলো প্রকাশিত হয়েছিল unomasuno এবং La jornada নামক মেহিকোর প্রথম সারির দুটো পত্রিকায়। এগুলো গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে স্বয়ং পাস দেখে দিয়েছিলেন। বাংলা এ তর্জমাটি সাক্ষাৎকারগ্রহিতার অনুমতিসাপেক্ষে বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম-এর পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

আগা শাহিদ আলির `রিজওয়ান’

আভিষেক মজুমদার | ৪ নভেম্বর ২০১৭ ১:৪৮ অপরাহ্ন

RIZWAN 2নাট্যকারের ভূমিকা
২০১০-এর জানুয়ারি মাসে, FTII, পুনেতে রিজওয়ান নাটকটি প্রথম মঞ্চস্থ হয়। FTII এর অভিনয় বিভাগের ছাত্রদের সাথে একটি নাটক করার প্রস্তাব আমার কাছে আসে এবং আমি আগা শাহিদ আলির ‘Country without a Post Office’ নাটকটি নিয়ে সেখানে যাই।

এই বইটি আমাকে একজন উপহার দিয়েছিলেন কয়েক বছর আগে। তারপর থেকে টানা চার-পাঁচ বছর ধরে কবিতাগুলো আমার মাথায় ঘুরছিলো। ছাত্রদের সাথে কবিতাগুলো পড়ে আমার মাথায় আসে যে বইটিতে তিন বার রিজওয়ানের মৃত্যুর প্রসঙ্গ আছে। প্রথমে একটি কবিতায় যেখানে আগা শাহিদ স্বপ্নে দেখেন রিজওয়ান তাকে নিজের মৃত্যুর কথা বলছে, এবং বলছে, ‘Don’t Tell my Father’। আরেকটি জায়গায়, যেখানে আগা শাহিদ একটি চিঠি পান, যাতে রিজওয়ানের মৃত্যুর কথা ওনাকে জানানো হয় এবং শেষের দিকে একটি কবিতায়, যেখানে রিজওয়ানের মৃত্যুর ঘটনাটি লেখা হয়। এইখান থেকেই আমরা এই প্রশ্নটি নিয়ে কাজ করতে শুরু করি যে কোনও মানুষ বা জায়গা বা সময়ের মৃত্যু আসলে কখন হয়? যখন সেটা বাস্তবে ঘটে, যখন সেটা স্বপ্নরূপে দেখা যায না কি যখন আমরা তার সংবাদ পাই?

এইখান থেকে ইম্প্রোভাইজেশন, দিনে আর রাতে লেখা। সেখান থেকে নাটক তৈরী। পরবর্তী সময়ে এই নাটক আমাদের কোম্পানি ইন্ডিয়ান অন্‌সম্বল মঞ্চস্থ করে এবং First Festival of Contemporary Indian Plays, Paris-এ নির্বাচিত হয়। Theatre Du Solleil-এর পঞ্চাশ বছর উদযাপন অনুষ্ঠানে ফরাসী ভাষায় এটির একটি পাঠ হয় এবং Paris Review-তে নাটকটি ফরাসীতে প্রকাশিত হয়। আমার নিজের কাছে যেটা এই নাটকের সব থেকে বড় প্রাপ্তি বলে মনে হয়েছে, সেটা হল কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের আগা শাহিদ আলি সেমিনারে এই নাটকটি নিয়ে একটি সেশন হয় এবং আমি সেখানে গিয়ে এই নাটকটি নিয়ে চর্চা করার সুযোগ পাই। তারপরেই ঋদ্ধিবেশ ভট্টাচার্যের বাংলা অনুবাদে এবং ড. জামিল আহমেদের নির্দেশনায় ঢাকায় এই আলোচিত মঞ্চায়ন। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস এবং মেহিকোর সঙ্গে তার সংযোগ

অরুন্ধতী ভট্টাচার্য | ২৯ অক্টোবর ২০১৭ ৯:৫৪ অপরাহ্ন

garcia-marquez-unoগাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের জন্ম কলোম্বিয়ায় হলেও কার্যত মেহিকোই হয়ে উঠেছিল তার জন্মভূমির মতো। সিআইএর তাড়া খেয়ে সেই যে ১৯৬১ সনের ২ জুলাই মাসে এই দেশটিতে আশ্রয় নিয়ে তারপর থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত কলম্বিয়ায় তিনি নিয়মিত যাতায়াত করলেও তার কর্মক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল মেহিকোই। পরে অবশ্য তিনি একেবারে স্থায়ীভাবেই আমৃত্যু মেহিকোতে থেকে যান। মেহিকোর সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে Televisa.news পত্রিকায় ৬ মার্চ ২০১৭ সালে Gabriel García Márquez y su relación con México শিরোনামে যে-নিবন্ধটি প্রকাশিত এটি তারই অনুবাদ। অনুবাদ করেছেন প্রাবন্ধিক অনুবাদক অরুদ্ধতী ভট্টাচার্য। (সম্পূর্ণ…)

স্মৃতির স্থিতি ও বিলয় : প্রেক্ষিত কাজুও ইশিগুরোর “দ্য ব্যারিড জায়ান্ট”

শাকিলা পারভীন বীথি | ৮ অক্টোবর ২০১৭ ৮:১৪ অপরাহ্ন

kazuo-1কাজুও ইশিগুরো প্রথম উপন্যাস লেখেন দশ বছর ধরে যা একই সাথে সাহিত্য জগতের এক নতুন ঘটনা এবং পত্রিকার খবরে পরিণত হয় । ম্যান বুকার পুরস্কারপ্রাপ্ত “The Remains of the Day” এর লেখক ইতিহাসের অনেক গভীরে প্রবেশ করেন এমন এক গল্পের বয়ানে যেখানে কোন দম্পতির যাত্রা পথের কাহিনী ও এক মহৎ সভ্যতার রহস্যময়তার যুগপৎ অবস্থান । দ্য ব্যারিড জায়ান্ট উপন্যাসের বুনন রাজা আর্থার এর যুগের ইংল্যান্ডের সময়াশ্রিত । কিন্তু এ ক্যামিলটের গল্প নয় যা রাজকীয় ব্যক্তি, ধূর্ত জাদুকর, সদর্পে পদচারণা করা ঘোড়া আর সাহসী অভিযানে ঠাঁসা ।

এনপিআর এর প্রতিনিধি স্কট সিমন কে দেয়া সাক্ষাতকারে ইশিগুরো জানান তিনি সেভাবেই লিখতে চান যেভাবে সমাজ মনে রাখে বা ভুলে যায় তার ইতিহাসের কথা , ইতিহাসের বাঁকে বিস্মৃত চোরাবালির কথা । “ আমার ভীষণ ইচ্ছে করে এ সময়ের ঘটনাগুলো লিখে রাখি; যুগোস্লোভিয়ার বিচ্ছিনতা, রুয়ান্ডার গণহত্যা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত ফ্রান্সের কথা। কিন্তু দিন শেষে আমি চাইনি তেমন একটা সময় ও স্থানের আশ্রয়ে সেই গল্পগুলো বলতে । আমি এমন কোন বই লিখতে চাইনি যা পত্রিকার প্রতিবেদন হয়ে দাঁড়ায় । একজন উপন্যাসিক হিসেবে আমি বার বার ফিরে গেছি আরো গভীরভাবে রুপকাশ্রিত বুননে ।”

চৌম্বক অংশ :
প্রাথমিকভাবে এটি একটি প্রেমের উপন্যাস। কিন্তু তোমরা জানো, প্রেমের গল্প বলতে কেমন মিলনের গল্প জেগে ওঠে আমাদের কল্পনায় । আর তা প্রেমে পড়ার নানাবিধ উপকরণে সাজানো। কিন্তু এটি সে অর্থে কোন প্রেমের গল্প নেয়। বরং বলা যায় , উপন্যাসটি প্রেমের পথে ধাবিত হবার গল্প বলে। আমি আগেই বলেছিলাম সামাজিকভাবে স্মৃতি বা বিস্মৃতির পালাবদল কেমন প্রশ্নের জন্ম দেয় আমার মনে । যেমনটা দেয় সমাজের ঘৃণিত ইতিহাস চাপা দেবার বিষয়টি। একই বিষয়ের প্রতিফলন আমরা বিবাহিত জীবনেও দেখি। এই উপন্যাসের কেন্দ্রে তেমনই জীবনযাত্রা দেখি। এক বৃদ্ধ দম্পতি স্মৃতির অন্বেষণে শেষবারের পথে নামে । সময় ও স্থানকে ডিঙিয়ে তাঁরা তা অনুভব করতে পারে। (সম্পূর্ণ…)

গার্সিয়া মার্কেসের প্রবন্ধ: ফিরে এলাম মেহিকো শহরে

যুবায়ের মাহবুব | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৫:৪৯ অপরাহ্ন

M-1
আলোকচিত্র: মেহিকোতে সপরিবারে মার্কেস
সম্প্রতি ভূমিকম্পের শক্তিশালী আঘাতে মেহিকো শহরে প্রায় তিনশ’র মতো লোক প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্ববিখ্যাত কথাসাহিত্যিক গার্সিয়া মার্কেস জীবনের একটা বিরাট অংশ কাটিয়েছেন এই শহরে । মেহিকোর সাথে গার্সিয়া মার্কেসের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। লেখালেখির সূচনা এখানে না হলেও কিংবদন্তীতুল্য উপন্যাস একশ বছরের নিঃসঙ্গতা থেকে শুরু করে তার প্রধান সব সাহিত্যকর্মের জন্মভূমি এই মেহিকো। এই লেখাটির শেষের দিকে তিনি নিজেই বলেছেন: “এখানে লিখেছি আমার সমস্ত বই, এখানে লালনপালন করেছি আমার সন্তানদের, আমার জীবনবৃক্ষ রোপন করেছি ঠিক এখানেই।” মেহিকো হয়ে উঠেছিলো তার দ্বিতীয় মাতৃভূমি। সিআইএ’র হুমকি এড়াতে এই মাতৃভূমিতে তিনি এসেছিলেন ১৯৬১ সনের ২ জুলাই। এই সময় থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত মেহিকো এবং কলম্বিয়ায় তিনি নিয়মিত যাতায়াত করতেন, থাকতেন দুই দেশেই। পরে অবশ্য তিনি একেবারে স্থায়ীভাবেই আমৃত্যু মেহিকোতেই থেকে যান। স্প্যানিশ থেকে অনুবাদক যুবায়ের মাহবুব কর্তৃক অনূদিত মার্কেসের এই লেখাটিতে রয়েছে মেহিকোর প্রতি তার ভালো লাগার অনবদ্য স্মৃতিচিত্র। লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল El Pais পত্রিকায় ১৯৮৩ সালের ২৬শে জানুয়ারি। (সম্পূর্ণ…)

সদ্যপ্রয়াত কবি জন অ্যাশবেরির সাক্ষাৎকার: সমালোচনা লেখা একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রক্রিয়া

ফাতেমা খান | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৩:২৩ অপরাহ্ন

Ashberyজন অ্যাশবেরি গত পঞ্চাশ বছর যাবত “মহত্তম জীবিত কবি” – এই অভিধার যথার্থ প্রতিদ্বন্দী হিসেবে ছিলেন। এরই মধ্যে তিনি লিখেছেন প্রথমে Art news এবং পরে New York Herald Tribune ও Newsweek এর প্যারিস সংস্করণের জন্য। স্তেফান মালার্মে, আর্তুর র‌্যাঁবো, রেমোঁ রাসেল এবং জর্জিও চিরিকোর রচনাসহ ফরাসী আভাগার্দ লেখকদের গীতল ও নির্ভরযোগ্য অনুবাদের মাধ্যমে মার্কিন ও ফরাসী ভাবনার নান্দনিকতার মাঝে এক কেন্দ্রীয় সংযোগ হিসেবে ছিলেন। জ্যারেট আর্নেস্টের সঙ্গে সদ্যপ্রয়াত কবি জন অ্যাশবেরি কথা বলেছিলেন তাঁর জীবন ও লেখার বিভিন্ন দিক নিয়ে এই সাক্ষাতকারে। এটি প্রকাশিত হয়েছিল The Booklyn Rail পত্রিকায় ২০১৬ সালের ৩ মে। এই সাক্ষাৎকারের থাকছে অ্যাশবেরির আঁকা চিত্রকর্মও। সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন ফাতেমা খান।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: আপনার কবিতা সম্পর্কে আমি অন্য সবার মত গতানুগতিক কবিসুলভ প্রশ্ন করার পরিবর্তে আপনার জীবন ও কাজ নিয়ে মানবোচিত প্রশ্ন করব, যদি তাতে আপনার সম্মতি থাকে।
জন অ্যাশবেরি: ঠিক আছে।
জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: Ashbery: Collected Poems 1956–1987 বইটির জীবনপঞ্জীতে আশ্চর্য হয়েছিলাম আপনার সম্পর্কে এই কথাগুালো দেখে: “Life ম্যাগাজিনে নিউ ইয়র্কের মডার্ন আর্ট মিউজিয়ামে অনুষ্ঠিত সুররিয়ালিজমের শীর্ষস্থানীয় প্রদর্শনী সম্পর্কে পড়ে সুররিয়ালিস্ট চিত্রশিল্পী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ” আপনার বয়স তখন নয় বছর। এটা লক্ষ্য করা বেশ মজার ব্যাপার যে আপনি কবিতা নয়, বরং চিত্রকলার মা্ধ্যমে সুররিয়ালিজমের সাথে পরিচিত হয়েছেন।
জন অ্যাশবেরি: হ্যাঁ – আসলে ওই নিবন্ধের মাধ্যমে। মূলতঃ সেই সময় প্রতি সপ্তাহে আমার Life পত্রিকাটি পড়া হত, যেমন এদেশের আর সবাই পড়ত। মনে হয় না আমি এই পত্রিকাটি পড়ে সুরিয়ালিস্ট পেইন্টার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি রচেস্টার মিউজিয়ামে আর্ট ক্লাসে আর্ট শিখিয়েছিলাম, আমার বড় হয়ে ওঠা সেখানেই। আর্ট ক্লাসে আমি আমার শিক্ষককে সুররিয়ালিজম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। উনি আমাকে বলেছিলেন “ সুররিয়ালিস্ট ধরনের কিছু চেষ্টা করছ না কেন?” তো আমি আমার আঁকায় সাধারণ পেইন্টিঙের পরিবর্তে সুরিয়ালিজম প্রয়োগের চেষ্টা করতাম। আমার কাছে এটা মহৎ ধারণা বলে মনে হয়েছিল। প্রতিদিন আমি এই কাজটি করতাম– বিশেষতঃ মহিলাদের পোষাকের ছবি। আমি ভাবতাম আমি বড় হয়ে একজন ড্রেস ডিজাইনার হব যেটায় আমি আসলেই ভাল ছিলাম। সময়টা ছিল ’৩০-এর দশকের শেষের দিকে। কিছু শিশুতোষ পদক্ষেপের কথা বাদ দিলে আমি সত্যিকার কবিতা লেখা শুরু করিনি ’৪০-এর দশকের আগ পর্যন্ত। এরপর যখন থেকে কবিতা লেখা শুরু করলাম তখন থেকে এটা আমার জীবনে আমৃত্যু সঙ্গী হয়ে রইল। (সম্পূর্ণ…)

স্প্যানিশ আখরে নজরুল-পাঠ

মারিয়া এলেনা বাররেরা-আগারওয়াল | ২০ জুলাই ২০১৭ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

স্প্যানিশ ভাষায় নজরুল-সাহিত্যের প্রথম অনুবাদক একুয়াদরের প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক মারিয়া এলেনা বাররেরা আগারওয়াল নজরুল-অনুবাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে সম্প্রতি ইংরেজি পত্রিকা ঢাকা ট্রিবিউনে একটি প্রবন্ধ লেখেন। এতে তিনি নজরুলের বিশ্বজনীন আবেদন ও অনুবাদের সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও অভিমত জানিয়েছেন তা বাংলাভাষার লেখক/পাঠকের কাছে তাৎপর্যময় বলে বিবেচিত হতে পারে ভেবে তর্জমা করা হলো। প্রবন্ধটি অনুবাদ করেছেন শাকিলা পারভীন বীথি। বি. স.
প্রাক -কথন
Nazrul-2 আমার বেড়ে ওঠার কালে রবীদ্র-সাহিত্যের স্প্যানিশ অনুবাদ গ্রন্থ ছিল অন্যতম অনুষঙ্গ । আমার ব্যাক্তিগত লাইব্রেরিতে সেনোবিয়া কাম্প্রুবি ও হুয়ান র‌ামন হিমেনেস-এর যুগ্ম অনুবাদ গ্রন্থ ছিল । গ্রন্থগুলো আর্জেন্টিনার লোসাদা প্রকাশনী কর্তৃক সম্পাদিত । রবি ঠাকুর ছিলেন আমাদের ঘরে এক সুপরিচিত নাম । আমার নানা , যিনি নিজেও কিনা কবি , তাকে ভীষণ পছন্দ করতেন । আমার মায়ের স্মৃতিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল তার বহু কবিতা । মা প্রায়শই রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করতেন । ঘরের বাইরে উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ক্যারিকুলামের সৌজন্যে বেশ গুরুত্বের সাথেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে পাঠের সুযোগ আমার হয়েছিল । কে না জানতো তিনি লাতিন আমেরিকার সেই ত্রয়ী নোবেল বিজয়ী পাবলো নেরুদা , গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল ও অক্তাভিও পাসকে কতখানি প্রভাবিত করেছিলেন !

ইউরোপ এবং আমেরিকায় গিয়ে আমার ঠিক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা হল । দেখলাম সেখানকার মানুষজন রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না । তাঁর প্রসংগ তুললে ওরা এমন ভাবলেশহীন দৃষ্টিতে তাকাতো ! বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করেছিল । আমার ধারণা ছিল লাতিন আমেরিকার মতো ইউরোপ – আমেরিকাতেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হবেন পরিচিত এক নাম । তখন আমার মনে হল তাঁর সাহিত্যকর্মের স্প্যানিশ অনুবাদের পশ্চাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে হয়তো নোবেল জয় । তবে এইরূপ বৈপরীত্য সত্যি আমাকে হতবিহ্বল করার জন্য যথেষ্ট ছিল । ঠিক কাছাকাছি সময়েই আমার সৌভাগ্য হয় ভারতীয় উপমহাদেশীয় কিছু মানুষের সংস্পর্শে আসার । তাদের মাধ্যমেই জানলাম নিজ উপমহাদেশীয় পরিমন্ডলে কতখানি সুউচ্চে তার আসন। (সম্পূর্ণ…)

লুসি কালানিথি: বৈধব্য আমার যুগল জীবনের সমাপ্তি টানেনি

রেশমী নন্দী | ১ মার্চ ২০১৭ ২:১৮ অপরাহ্ন

paulপল কালানিথি, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির নিউরোসার্জিকাল বিভাগে। ২০১৩ সালের মে মাসে তাঁর ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে। বেঁচে ছিলেন আরো বছর দুয়েক। ২০১৫ সালে মার্চ মাসে মারা যাবার আগ পর্যন্ত একজন রোগী হিসেবে এই চিকিৎসক মৃত্যুর দিকে তাঁর যাত্রা অভিজ্ঞতার কথা লিখে গেছেন যা তাঁর মৃত্যুর পর “When Breath Becomes Air” নামে প্রকাশিত হয়। তাঁর স্ত্রী লুসি কালানিথি, যিনি নিজেও একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লিনিকাল একসিলেন্স রিসার্চ সেন্টারে কর্মরত, বইটির পরিশেষ অংশে লেখেন তাঁর প্রিয় হারানোর বেদনা আর মৃত পলের হাত ধরে জীবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা। লেখাটি অনুবাদ করেছেন রেশমী নন্দী।

গত মার্চে (মার্চ, ২০১৫) মাত্র ৩৭ বছর বয়সে আমার বর মারা যাওয়ার পর আমি শোকে এতটাই মূহ্যমান পড়েছিলাম যে দিনের পর দিন ঘুমাতে পারতাম না। সান্তাক্রুজ পাহাড়ের উঁচু মাঠে ওর যেখান সমাধি, একদিন বিকেলে সেখানে গেলাম। প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে ঘুরেও না তাকিয়ে শুয়ে পড়লাম ওর সমাধির উপর। অনেকদিন পর গভীর ঘুমে ঢলে পড়লাম। চারপাশের প্রকৃতি নয়, অশান্ত আমাকে শান্ত করেছিল পল যে ওখানেই ছিল, মাটির নীচে। ওর শরীরকে কত সহজে মনে করতে পারছি- রাতের বেলা ওকে ছুঁয়ে শুয়ে থাকা, আমার মেয়ের জন্মের সময় ওর যে নরম হাতগুলো জোরে চেপে ধরেছিলাম সেগুলো, ক্যান্সারে শুকিয়ে যাওয়ার পরও মুখের উপর ওর তীক্ষ্ন চোখ — তবুও কি কঠিন ওকে ছোঁয়া। তার বদলে মাটিতে গাল লাগিয়ে আমি ঘাসের উপর শুয়েছিলাম।
ওর সাথে পরিচয়ের পর থেকেই আমি ওকে ভালবাসতাম। ২০০৩ সালে আমরা তখন মেডিকেলের শিক্ষার্থী। ও ছিল এমন একজন যে সত্যিকার অর্থেই মানুষকে হাসাতে পারতো ( স্নাতক পড়াকালীন গরিলার পোষাক গায়ে দিয়ে ও লন্ডনে ঘুরে বেড়িয়েছিল, বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে ছবি তুলেছিল, টিউবে চড়েছিল)। কিন্তু একই সাথে ও ছিল গভীর প্রজ্ঞার অধিকারী। ওর পরিকল্পনা ছিল ইংরেজী সাহিত্যে স্নাতোকত্তর শেষ করে পিএইচডি করবে, কিন্তু তার বদলে ও মেডিকেল স্কুলে যোগ দিল গভীর এক আকাঙ্খা নিয়ে। পরে ও লিখেছিল- “ এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যা বইয়ে লেখা নেই … এমন প্রশ্নের পিছনে ধাওয়া করতে যার জবাবে মিলবে মৃত্যু ও নিঃশেষের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও মানুষের জীবনের অর্থময়তার উৎস।” (সম্পূর্ণ…)

চিকিৎসক হিসেবে আমার শেষদিন

রেশমী নন্দী | ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

kalanithi-1২০১৩ সালের মে মাসে, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির নিউরোসার্জিকাল রেসিডেন্ট পল কালানিথির ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে। ৩৬ বছর বয়সী এ চিকিৎসকের মেটাস্টিক লাংস ক্যান্সার তখন চতুর্থ ধাপে। ২০১৫ সালে মার্চ মাসে মারা যাবার আগ পর্যন্ত এ দুবছরে তিনি তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন, এক সন্তানের জনক হয়েছেন এবং একজন চিকিৎসক একই সাথে একজন রোগী হিসেবে অবশ্যম্ভাবি এ যাত্রার অভিজ্ঞতার কথা লিখে গেছেন অসাধারণ বর্ণনায়। তাঁর মৃত্যুর পর “Random House” প্রকাশনী সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয় এ লেখা। When Breath Becomes Air শিরোনামে বইটি প্রকাশিত হয় ১২ জানুয়ারী ২০১৬ তারিখে। বইটিতে চিকিৎসক হিসেবে তাঁর জীবনের শেষ দিনের বর্ণনা প্রকাশিত হয় ‘দি নিউইয়র্কার’ পত্রিকায়। পল কালানিথির এই লেখাটি অনুবাদ করেছেন রেশমী নন্দী। ……

অপারেশনের সাত মাস পর একদিন, সিটি স্ক্যান শেষ হতেই লাফ দিয়ে নেমেছি। রেসিডেন্সি শেষের আগে, একজন বাবা হিসেবে নবজন্মের আগে, ভবিষ্যতের সত্য বর্তমান হওয়ার আগে এটাই আমার শেষ স্ক্যান।
টেকনিশিয়ান বললেন, “রিপোর্টে চোখ বুলাবেন?”
আমি বলেছিলাম, “এখন না, আজ অনেক কাজ আছে।”
তখনই ৬টা বেজে গিয়েছিল। রোগী দেখতে যেতে হবে, পরের দিনের অপারেশনের সময় ঠিক করতে হবে, আনুষাঙ্গিক কাগজপত্রে চোখ বুলাতে হবে, ক্লিনিক নোটস লিখতে হবে, পোষ্ট অপারেশনের রোগীও দেখতে যেতে হবে এবং এরকম আরো শত কাজ। রাত ৮টার দিকে, নিউরোসার্জারির অফিসরুমে বসে পরের দিনের জন্য রোগীদের স্ক্যান রিপোর্ট দেখছিলাম এক এক করে, এরপর একসময় নিজের নাম টাইপ করলাম। বাচ্চাদের বইয়ের ছবি দেখার মতো করে এবার আর গতবারের রিপোর্টের ইমেজগুলো মিলাচ্ছিলাম-সব একই রকম আছে, পুরোনো টিউমারটাও আগের মতোই আছে, কেবল…. (সম্পূর্ণ…)

গার্সিয়া মার্কেসের প্রবন্ধ: এন্থনি কুইনের বোকামি

রাজু আলাউদ্দিন | ৩০ december ২০১৬ ১:১৯ পূর্বাহ্ন

Comboঅগ্রন্থিত অবস্থায় গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের প্রচুর লেখা এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন পত্রিকায়। এটি সেগুলোরই একটি। লেখাটির এখনও কোনও ইংরেজি অনুবাদ হয়নি। বাংলা ভাষাতেও সম্ভবত এই প্রথম অনূদিত হল। অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন লেখাটি উদ্ধার করেছেন মেক্সিকো থেকে প্রকাশিত বিখ্যাত সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘এল প্রোসেসো’র ১৯৮২ সালের ১৯ এপ্রিল সংখ্যাটি থেকে। স্প্যানিশ থেকে লেখাটির পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ এখানে হাজির করা হল। প্রবাদপ্রতিম উপন্যাস শতবর্ষের নিঃসঙ্গতার চলচ্চিত্রায়নের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল, মার্কেস এই লেখায় তারই বর্ণনা দিয়েছেন।

অভিনেতা এন্থনি কুইন স্পেনের এক পত্রিকায় জানালেন, “টেলিভিশনে ৫০ ঘন্টার এক সিরিয়ালের জন্য শতবর্ষের নিঃসঙ্গতা হতে পারে একটি চমৎকার জিনিস। কিন্তু গাসিয়া মার্কেস তা বিক্রি করতে চান না।” আরও বললেন, “আমি এক মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, রাজি হননি, কারণ গার্সিয়া মার্কেস কমিউনিস্ট এবং তিনি এক মিলিয়ন ডলার নিয়েছেন–এটা কাউকে জানতে দিতে চান না। কারণ নৈশভোজের শেষে তিনি এসে আমাকে আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে বললেন, “আচ্ছা বলুন তো, প্রকাশ্যে এই টাকা-পয়সা প্রস্তাব করার ব্যাপারটা আপনার মাথায় এল কী করে? পরেরবার আমাকে আপনি কোনও রকম সাক্ষী-সাবুদ ছাড়া টাকার প্রস্তাব করুন।” (সম্পূর্ণ…)

হেমিংওয়ের মৃত্যুতে গার্সিয়া মার্কেসের প্রবন্ধ: একজন মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যু

যুবায়ের মাহবুব | ৪ december ২০১৬ ৭:৪৯ অপরাহ্ন

১৯৬১ সালের ২ জুলাই নতুন জীবন গড়ার উদ্দেশ্যে সপরিবারে মেহিকো সিটিতে এসে পৌঁছান তরুণ কলম্বিয় লেখক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস। ঘটনাক্রমে সেই একই দিনে মহাদেশের আরেক কোণে আত্মহত্যা করেন নোবেল বিজয়ী মার্কিন সাহিত্যিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। সংবাদটি পেয়ে তার ব্যক্তিগত আইডল হেমিংওয়ের প্রতি একটি শ্রদ্ধার্ঘ লিখেছিলেন গার্সিয়া মার্কেস, যেটি সপ্তাহখানেক পর স্থানীয় একটি সাংস্কৃতিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। যতদূর জানা যায়, মেহিকোয় প্রকাশিত সেটিই ছিল গার্সিয়া মার্কেসের প্রথম গদ্য রচনা। প্রথমবারের মত এটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন অনুবাদক যুবায়ের মাহবুব।
Hemingway-1

এবার বোধ হয় গুঞ্জনটি সত্যি – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে আর নেই। দূর-দূরান্তে, পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে এই সংবাদ সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছে, খবরটি পৌঁছে গেছে ক্যাফের বয়-বেয়ারাদের কাছে, শিকারী গাইড আর শিক্ষার্থী ম্যাটাডোরের কাছে, জেনে গেছেন ট্যাক্সি চালক, ভগ্নস্বাস্থ্য মুষ্টিযোদ্ধা, অবসরপ্রাপ্ত জনৈক বেনামী বন্দুকবাজ।

অথচ যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের কেচাম নামের ছোট্ট শহরে এই সুনাগরিকের মৃত্যু স্রেফ একটি দুঃখজনক স্থানীয় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, ওর বেশি কিছু নয়। গ্রীষ্মের গরমে তপ্ত এক ঘরে গত ছয় দিন ধরে লাশ রেখে দেয়া হয়েছে, সামরিক সম্মাননা প্রাপ্তির কোন দুরাশায় নয়, বরং আফ্রিকায় সিংহ শিকারে গেছেন এমন একজনের ফিরে আসার অপেক্ষায়। পর্বতশৃঙ্গে মৃত চিতাবাঘের বরফজমাট দেহের পাশে এই লাশ খোলামেলা পড়ে থাকবে না শেয়াল-শকুনের আহার হয়ে, বরং মার্কিন মুল্লুকের অতিশয় শুচিশুদ্ধ কোন এক গোরস্থানে তিনি শোবেন শান্তিতে, তাকে ঘিরে থাকবে আরো কিছু চেনাশোনা মরদেহ। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com