প্রবন্ধ

বাঙালি হিপোক্রিট পুরুষ-লেখকদের চরিত্র — ১

তসলিমা নাসরিন | ২০ আগস্ট ২০১৭ ১০:০১ অপরাহ্ন

taslimaগত ১২ অগাস্ট ২০১৭ তারিখে রাজু আলাউদ্দিনের নেয়া কবি নির্মলেন্দু গুণ-এর একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিল আর্টস বিভাগে। তাতে কথা প্রসঙ্গে– সাক্ষাৎকারগ্রহিতার প্রশ্নের জবাবে–কবি নির্মলেন্দু গুণ মন্তব্য করেন কবি কলামিস্ট তসলিমা নাসরিন সম্পর্কে। সেই মন্তব্যের সূত্রে তসলিমা নাসরিন এই লেখাটিতে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বি. স.

বাঙালি পুরুষ-লেখকদের মধ্যে ভয়ংকর পুরুষতান্ত্রিক, ভয়ংকর নারীবিদ্বেষী, দুশ্চরিত্র, দু’নম্বর লোকের অভাব নেই। ব্যক্তিগতভাবে আমি ক’জনকে জানি, যাঁরা মানুষ হিসেবে অতি নিম্নমানের। তাঁরা ঈর্ষাকাতর, মিথ্যেবাদী। পুরুষ-লেখক বলেই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তাঁদের নিন্দে করার কেউ নেই। এঁদের দোষগুলোকে অবশ্য সমাজের বেশিরভাগ পুরুষের চোখে দোষ বলে মনে হয় না। কারণ ‘সেক্সিজম’ এ দেশে দোষের কিছু নয়। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, হুমায়ুন আজাদ,আহমদ ছফা, সৈয়দ শামসুল হকরা বিনা সমালোচনায় জনপ্রিয়তা ভোগ করতে পারেন বাংলায়, বাংলা বলেই সম্ভব। সভ্য দেশ হলে সম্ভব হতো না। তাঁদের জীবনাচরণের অসততা নিয়ে প্রশ্ন উঠতো। আজ নাস্তিক লেখক স্যাম হ্যারিসের সেক্সিজম নিয়ে নিন্দে হচ্ছে, নাস্তিকরাই নিন্দে করছেন। শুধু স্যাম হ্যারিস নয়, প্রচণ্ড জনপ্রিয় নাস্তিক-বিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিন্সের কিছু নারীবিরোধী উক্তির কারণে তাঁকে নাস্তানাবুদ করেছেন নাস্তিক-নারীবাদীরা। ডকিন্স নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু বাংলার পুরুষ-লেখকদের ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া তো দূরের কথা, ভুল ধরিয়ে দেওয়ার কাজটিতেও নির্বোধ স্তাবকদের আপত্তি। যেহেতু ভালো একটি বই লিখেছেন, সুতরাং তাঁর সাত খুন মাফ—নাস্তিক বাঙালির এই আবেগের সঙ্গে ধর্মান্ধ বাঙালির আবেগের কোনও পার্থক্য নেই।

সম্প্রতি বিডিনিউজ২৪ ডটকম কবি নির্মলেন্দু গুণের একটা সাক্ষাতকার ছাপিয়েছে। ওতে আমার বিরুদ্ধে একগাদা মিথ্যে কথা বলেছেন নির্মলেন্দু গুণ। সম্ভবত ‘স্বাধীনতা পদক’ পাওয়ার জন্য কিছুকাল আগে তাঁর মরিয়া হয়ে ওঠার সমালোচনা করেছিলাম বলে শোধ নিয়েছেন। আমি লিখেছিলাম – ‘শুনলাম কবি নির্মলেন্দু গুণ নাকি স্বাধীনতার পদক পাওয়ার জন্য ক্ষেপেছেন। অনেক তো পুরস্কার পেলেন। আরো পেতে হবে? কী হয় এসব পুরস্কারে? কিছু লোকের হাততালি পাওয়া যায় আর সম্ভবত কিছু টাকা পাওয়া যায়। টাকা তো সেদিনও শেখ হাসিনা দিয়েছেন তাঁকে। হয়তো তিনি মনে করেছেন স্বাধীনতা পদক পাওয়ার যোগ্য তিনি, তাই পদক দাবি করছেন। কত কেউ তো কত কিছুর যোগ্য। সবারই কি সব কিছু পাওয়া হয়? গ্রাহাম গ্রীন যে অত বড় লেখক, নোবেল তো পাননি। (সম্পূর্ণ…)

ভাষার প্রতিভা ও সৃষ্টির ডালপালা

রাজু আলাউদ্দিন | ১৯ আগস্ট ২০১৭ ৪:২৬ অপরাহ্ন

Languages-1নিতান্ত কৌতূহলবশত ২০১০ সালের শুরুর দিকে ওয়েব-রাজ্যের একটি খবরে আমার নজর আটকে পড়েছিল। খবরটা বেদনাদায়ক, কিন্তু অবাক করার মতো কিছু নয়। ক্যামেরুনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ফুরুবানার অধিবাসী এক মহিলা বিকিয়া ভাষায় কথা বলতেন। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি এ ভাষাটি জানতেন। তার ভাষিক নিঃসঙ্গতার কথা ভাবলে আমরা বিষণ্ন না হয়ে পারি না। এই মহিলার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে যাবে এ ভাষাটি। হয়তো এতদিনে তার মৃত্যুর মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়েও গেছে। একটি ভাষা গড়ে উঠতে কত সহস্র বছর লাগে–ভাবা যায়! কত সব সৃষ্টিশীল মনের অবদানের যোগফল যে-ভাষা, তা মাত্র একদিনেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে!
মার্টিন হাইডেগার, একালের দার্শনিকদের মধ্যে যিনি বিশিষ্ট হয়ে আছেন ভাষা এবং কবিতার ওপর আমাদের মনোযোগকে কেন্দ্রীভূত করার জন্য। তিনি বলেছিলেন, ‘যেখানে ভাষা কেবল সেখানেই বিশ্ব।’ কিংবা ‘ভাষার ভিত্তির ওপর অস্তিত্বের সমগ্র ধারণাটা দাঁড়িয়ে আছে।’ অর্থাৎ ভাষার বাইরে আমাদের আসলেই কোনো অস্তিত্ব সম্ভব নয়। সম্ভব নয় এই বিশ্বজগতের ধারণা করা। কারণ, তা কোনো না কোনোভাবে ভাষাশ্রয়ী। বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ভাষাগুলোর তুলনায় বাংলা ভাষা কেবল অস্তিত্বশীলই নয়, রীতিমত পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ ভাষাগুলোর একটি। ভাবুন, বায়ান্ন সালে সত্যি সত্যি যদি আমাদের ভাষার বিজয় না হতো, তাহলে আমাদের সৃজনশীলতা বা আগের সব সৃজনশীলতার যোগফলটুকু ক্রমশ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়ে যেতে পারত চিরকালের জন্য। ইতিহাসে এমন নজির কম নয়। গোটা মানবসভ্যতার ইতিহাসে হাতে গোনা প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন যিশু খ্রিষ্ট, তাঁর মুখের বুলি আরামায়িক বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে বিলুপ্তির ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও যে তা টিকে গেল, তার জন্য আমাদের গভীর শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা মহান ভাষাশহীদদের প্রতি, যাঁরা একেকজন আমাদের প্রাণের, আমাদের অস্তিত্বের চিরন্তন বর্ণমালা হয়ে আছেন। (সম্পূর্ণ…)

চিরদিন বিকল্পবিহীন

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৫ আগস্ট ২০১৭ ১:৫৪ পূর্বাহ্ন

Mujib-2বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির জন্যে বঙ্গবন্ধু চিরদিন বিকল্পবিহীন। কথাটি গতানুগতিক বা প্রথাসিদ্ধ শোনালেও আজ এই সত্যটিকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার সময় এসেছে। কারণ সময় ও পরিপ্রেক্ষিত দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। বাস্তব ঘটনা বা তথ্যকে বিকৃত করে ইতিহাসকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার  চেষ্টা চলছে দীর্ঘদিন। এখন তা আরো ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের যাঁরা ঘোষিত বিরোধিতাকারী কেবল তাঁরাই নয়, যাঁরা তাঁকে জাতির পিতা হিসাবে স্বীকিৃতি দিয়ে থাকেন, সম্প্রতি তাদেরও কেউ কেউ কৌশলে বঙ্গবন্ধুর মৌলিক অবদানকে খাটো করে দেখতে ও দেখাতে  শুরু করেছেন। হয়তো এভাবেই তাঁরা নিজেদেরকে সমাজের নব্যবিবেক হিসেবে চিহ্নিত করে আত্মপ্রতিষ্ঠার উচ্চাকাঙ্ক্ষী সিঁড়িটাকে মজবুত করতে প্রস্তুত। এটি সামষ্টিক স্বার্থ-প্রসূত বিবেচনা বলে মনে হয় না। বঙ্গবন্ধু বা অন্য কেউ একা বাংলাদেশকে স্বাধীন করেনি, এটা কোনো নতুন তথ্য বা যুক্তি নয়। এই আটপৌরে যুক্তি তুলে বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করার কোনো কারণ থাকতে পারে না।
বরং যে যুক্তি, তথ্য ও সত্য সর্বাধিক বাস্তবতাসম্মত সেটি হচ্ছে, একমাত্র বঙ্গবন্ধুর নিখুঁত ও নির্বিকল্প উপলব্ধি, তাঁর দ্বিধাহীন ঘোষণা, তৎপ্রণীত বাস্তবায়নযোগ্য পরিকলপনা, রাজনৈতিক কর্মসূচী, তার ধাপানুক্রমিক বাস্তবায়ন, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি, সর্বোপরি দেশ ও জাতির জন্যে তার চূড়ান্ত আত্মদানের মাধ্যমেই বাঙালি জাতির নব-উত্থান-বাহিত একটি সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভবপর হয়েছে। রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর গুরু, পূর্বসূরী ও সহযাত্রী আছেন অনেক শ্রদ্ধেয় নেতা। কিন্তু  দ্বিতীয় কারো ভূমিকা বঙ্গবন্ধুর এই আনুপূর্বিক ভূমিকার সঙ্গে তুলনীয় নয়। (সম্পূর্ণ…)

কাব্য সুষমায় বঙ্গবন্ধু

ফরিদ আহমদ দুলাল | ১৫ আগস্ট ২০১৭ ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

Mujiburবাঙালির হাজার বছরের শিল্প-সাহিত্য-শিক্ষা-ক্রীড়া-সংস্কৃতি অথবা গ্রামীণ জীবন, যেখানেই ইতিহাস ও প্রত্নবিদের পর্যবেক্ষণী দৃষ্টিতে অনুসন্ধান করা যায়; মহাকালের আবর্তে বাঙালির সংগ্রামী জীবনে মহাকাব্যিক দ্যোতনায় নায়োকোচিত সৌর্য-বীর্য আর দীপ্যমান ঔজ্জ্বল্য নিয়ে যে বাঙালি মহানায়ক অনিবার্য ভাস্বর হয়ে ওঠেন, তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নিজের অপরিসর যাপিত জীবনে বড় মাপের মানুষ যত প্রত্যক্ষ করেছি সামনা-সামনি অথবা পত্রপত্রিকায়, যাদের জীবন পাঠের সুযোগ পেয়েছি, তাতে নিজের সাথে পরামর্শ করে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে নির্দ্বিধায় বলতে পারি বঙ্গবন্ধুর যাপিত জীবন, বেড়ে ওঠা, বিকশিত হওয়া, বাঙালির জন্য তাঁর আপোশহীন সংগ্রাম এবং তাঁর প্রয়াণ—সব কিছুর মধ্যে রয়েছে মহাকাব্যিক দ্যুতির ব্যাঞ্জনা। বঙ্গবন্ধুর জীবনের সেই মহাকাব্যিক দ্যুতিতে যদি কেউ নিজেকে আলোকিত করে নিতে পারেন তাহলে তার নিজের ভেতরের কিছু অন্ধকার অনায়াসেই দূর করে নিতে পারবেন। (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রনাথ ও জাপান

সৌরভ সিকদার | ৬ আগস্ট ২০১৭ ৮:১১ অপরাহ্ন

tagore1 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একজন বহুমাত্রিক লেখক। তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘গীতাঞ্জলির জন্য ১৯১৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি এশিয়ার কবি-লেখকদের মধ্যে প্রথম যে এই পুরস্কার লাভ করেন। তাই সঙ্গত কারণেই এই মরমী (Mystic) কবিকে নিয়ে জাপানি জনগণ এবং সেদেশের সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়। বিশ শতকের সূচনালগ্ন থেকেই জাপান ছিল এশীয় দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান, বিজ্ঞান, অর্থ ও সমর শক্তিতে অগ্রসর। এমনকি শিল্প-সাহিত্য চর্চায় ও তারা কৃতিত্বের সাক্ষর রেখেছিল।
জাপানীদের কাছে রবীন্দ্র বিষয়ে আগ্রহ তৈরি নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির কারণে হলেও জাপান বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছিল বেশ আগেই। তিনি জমিদার পরিবারের সন্তান হওয়ায় যুবক বয়সে ইউরোপ তথা ইংল্যান্ড ভ্রমন করেছিলেন। পাশ্চাত্যের সমাজ, সভ্যতা ও সাহিত্য জ্ঞান ক্ষেত্রের বিষয়ে তাঁর একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু জাপানে যাবার এবং সেখানকার জীবন আচরণের অভিজ্ঞতা তখনও তার হয়নি- অর্থাৎ সুযোগ ছিল না। কবির নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তি সে দরোজা খুলে দিলো। জাপানের আমন্ত্রনে তাই ১৯১৬ সালে প্রথম কলকাতা থেকে জাহাজে তার জাপান যাত্রা শুরু হল। (সম্পূর্ণ…)

যেভাবে নিজের অপরাধবোধকে গল্পে রূপান্তরিত করেছেন রুডইয়ার্ড কিপলিং

সোহরাব সুমন | ২৯ জুলাই ২০১৭ ৮:২১ অপরাহ্ন

Rudyard-Kiplingঠিক কোন জিনিসটি ফিকশন লেখকদের ফিকশনের কাছে টেনে আনে? প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা, সাংবাদিকতা– গদ্যের এমন অনেক কাঠামোয় রয়েছে অকাট্য সব সুযোগের হাতছানি। তবে, আগে থেকে প্রস্তুত রক্তমাংসের কিছু চরিত্র নিয়ে বড় ধরনের বাজি ধরবার শিহরণ এসবের মাঝে নেই। বাস্তবে এমন সুনির্দিষ্ট কিছু ঘটনা সত্যিই ঘটেছে কী-না তা জানবার শিহরণ। কী-করে এই অবাস্তব বাছ-বিচারহীন আবিষ্কারের অব্যবহারিক দক্ষতাটিকে বুঝে ওঠা যেতে পারে? কেমন করে পাওয়া যাবে মিথের অজানা জলরাশির সন্ধানে নিশ্চিত বাস্তব জীবন থেকে প্রস্থান করবার প্রেরণাটুকুকে?
সম্প্রতি কথাসাহিত্যের এমন সব জটিল বিষয় নিয়ে দ্য আটলান্টিক ডেইলি’র প্রতিবেদক জো ফাসলা কথা বলেন ঔপন্যাসিক স্কট স্পেন্সার-এর সঙ্গে। এই কথোপকথনে স্পেন্সার সাহিত্য আবেদনের কাঁচামাল তৈরী সম্পর্কে তার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। এসময় তিনি রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর মনোমুগ্ধকর ছোট গল্প “দ্য গার্ডেনার”কে পথনির্দেশ হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি দেখাতে চেয়েছেন, ফিকশন কী-করে জীবনের দ্বান্দ্বিক ও অপমানজনক, একই সঙ্গে জটিল সব ঘটনা প্রবাহ আঁকড়ে থাকতে আমাদেরকে সহয়তা করে আসছে। লেখক কীভাবে তার চরিত্রসমূহ কল্পনা করেন। কীভাবে তিনি একের পর এক দৃশ্যাবলীর বুনট বাছাই করেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য চরম দক্ষতায় অবতারের মতো নিজের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার থেকে উপাদান মেলে ধরেন– এমন আরো অনেক বিষয় নিয়েও তিনি আলোচনা করেছেন। (সম্পূর্ণ…)

হুমায়ুন আজাদ-এর কবিতা

ওমর শামস | ২৭ জুলাই ২০১৭ ১১:৪০ অপরাহ্ন

humayun_azadহুমায়ূন আজাদ-এর কবিতা লেখার শুরু ষাটের দশকের শেষের দিক থেকে। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ, অলৌকিক ইস্টিমার -এর প্রকাশ ১৯৭৩ সনে। প্রথম বইতেই তাঁর পাকা হাতের স্বাক্ষর এবং এই রচনাগুলোতেই তাঁর কবিতার ভাবনার প্রধান স্রোত এবং টেকনিক, যা পরে আরও কিছু বিস্তৃত হয়েছিলো, তার সবই আছে। সেই জন্য এই গ্রন্থের কবিতাগুলোকে মনোযোগ দিয়ে পড়া দরকার। প্রথম কবিতা, ‘স্নানের জন্য’-এ তাঁর উক্তি : “আমি কি ক’রে ভাসাই নৌকো জলে নামি স্নান করি …… পেছনে স্বভাব কবির কন্ঠনিঃসৃত পদ্যের মতোন ধুঁয়ো ওঠে কারখানার চিমনি চিরে …বড্ডো ময়লা জমে গেছে এ-শরীরে স্নান তাই অতি আবশ্যক… “। স্নান প্রতীকী । প্রচলিত কবিতার প্রতি তাঁর কটুক্তি এবং তিনি যে কিছু করতে চান সে উদ্যাোগ বর্তমান।
১. অলৌকিক ইস্টিমার-এ আজাদ এই সব বিষয়ে, আবহে, টেকনিকে কবিতা লিখেছেন :
• স্ত্রী, পুত্র, কন্যাদের জীবনের মধ্যে দিয়ে সামাজিক সমস্যা, অনিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ সংকট। / [ ‘জল দাও বাতাস –জননী,আমার সন্তান’, ‘আমার কন্যার জন্য প্রার্থনা’ ]
স্ত্রী, পুত্র, কন্যাদের জীবনের মধ্যে দিয়ে সামাজিক সমস্যা, অনিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ সংকট – এ ক্ষেত্রটি খুব সাহসের, অন্তত বলার দিক থেকে। আজাদ ছাড়া অন্য সমসাময়িক কেউ এ-ধরণের কবিতা লেখেন নি। ‘জল দাও, বাতাস’-এর তিনটি কবিতা – ‘জননী’, ‘আমার সন্তান’, ‘আমার কন্যার জন্য প্রার্থনা’ – এই আশংকা, সামাজিক অধঃপতনের আভাষ। ‘জননী’ পাকা অক্ষরবৃত্তে সনেট, বাকি দুটো গদ্য-কবিতা। দ্বিতীয় কবিতার শুরু, “আমার সন্তান যাবে অধঃপাতে, চন্দ্রলোকে নীল বন তাকে মোহিত করবে না। কেবল হোঁচট খাবে রাস্তায় সিঁড়িতে ড্রয়িং রুমে সমভূমি মনে হবে বন্ধুর পাহাড় …”। আরও অধঃপতনের বিস্তারের পরে সব শেষে জিজ্ঞাসা, “ তুমি কি আসবে ওগো স্নিগ্ধ দিব্য প্রসন্ন সন্তান পতনকে লক্ষ্য ক’রে …”। (সম্পূর্ণ…)

স্প্যানিশ আখরে নজরুল-পাঠ

মারিয়া এলেনা বাররেরা-আগারওয়াল | ২০ জুলাই ২০১৭ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

স্প্যানিশ ভাষায় নজরুল-সাহিত্যের প্রথম অনুবাদক একুয়াদরের প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক মারিয়া এলেনা বাররেরা আগারওয়াল নজরুল-অনুবাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে সম্প্রতি ইংরেজি পত্রিকা ঢাকা ট্রিবিউনে একটি প্রবন্ধ লেখেন। এতে তিনি নজরুলের বিশ্বজনীন আবেদন ও অনুবাদের সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও অভিমত জানিয়েছেন তা বাংলাভাষার লেখক/পাঠকের কাছে তাৎপর্যময় বলে বিবেচিত হতে পারে ভেবে তর্জমা করা হলো। প্রবন্ধটি অনুবাদ করেছেন শাকিলা পারভীন বীথি। বি. স.
প্রাক -কথন
Nazrul-2 আমার বেড়ে ওঠার কালে রবীদ্র-সাহিত্যের স্প্যানিশ অনুবাদ গ্রন্থ ছিল অন্যতম অনুষঙ্গ । আমার ব্যাক্তিগত লাইব্রেরিতে সেনোবিয়া কাম্প্রুবি ও হুয়ান র‌ামন হিমেনেস-এর যুগ্ম অনুবাদ গ্রন্থ ছিল । গ্রন্থগুলো আর্জেন্টিনার লোসাদা প্রকাশনী কর্তৃক সম্পাদিত । রবি ঠাকুর ছিলেন আমাদের ঘরে এক সুপরিচিত নাম । আমার নানা , যিনি নিজেও কিনা কবি , তাকে ভীষণ পছন্দ করতেন । আমার মায়ের স্মৃতিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল তার বহু কবিতা । মা প্রায়শই রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করতেন । ঘরের বাইরে উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ক্যারিকুলামের সৌজন্যে বেশ গুরুত্বের সাথেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে পাঠের সুযোগ আমার হয়েছিল । কে না জানতো তিনি লাতিন আমেরিকার সেই ত্রয়ী নোবেল বিজয়ী পাবলো নেরুদা , গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল ও অক্তাভিও পাসকে কতখানি প্রভাবিত করেছিলেন !

ইউরোপ এবং আমেরিকায় গিয়ে আমার ঠিক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা হল । দেখলাম সেখানকার মানুষজন রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না । তাঁর প্রসংগ তুললে ওরা এমন ভাবলেশহীন দৃষ্টিতে তাকাতো ! বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করেছিল । আমার ধারণা ছিল লাতিন আমেরিকার মতো ইউরোপ – আমেরিকাতেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হবেন পরিচিত এক নাম । তখন আমার মনে হল তাঁর সাহিত্যকর্মের স্প্যানিশ অনুবাদের পশ্চাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে হয়তো নোবেল জয় । তবে এইরূপ বৈপরীত্য সত্যি আমাকে হতবিহ্বল করার জন্য যথেষ্ট ছিল । ঠিক কাছাকাছি সময়েই আমার সৌভাগ্য হয় ভারতীয় উপমহাদেশীয় কিছু মানুষের সংস্পর্শে আসার । তাদের মাধ্যমেই জানলাম নিজ উপমহাদেশীয় পরিমন্ডলে কতখানি সুউচ্চে তার আসন। (সম্পূর্ণ…)

মান্টো এবং ইসমত কিংবা গল্পলেখক ও অশ্লীলতা

নাহিদ আহসান | ১১ জুলাই ২০১৭ ১১:২১ অপরাহ্ন

ismat-chugtai-main‘মনে হয় সাহিত্য কর্মটা এক ধরনের টেনিস টুর্নামেন্ট যেখানে মেয়ে ও ছেলেদের ম্যাচ আলাদাভাবে খেলা হয়।’ উর্দু সাহিত্যের বিখ্যাত লেখিকা ইসমত চুগতাই্কে ইংরেজী সাহিত্যের জর্জ এলিয়টের সাথে তুলনা করাকে ব্যঙ্গ করে, উর্দু সাহিত্যেরই একজন সমালোচক এই মন্তব্য করেছিলেন ।
যদিও বিখ্যাত গল্পকার সাদত হাসান মান্টো ইসমতের এই নারী সত্ত্বাকে প্রশংসা ও কিছুটা ঈর্ষার চোখে দেখতেন। তার মতে নারী হবার কারণেই তার গল্পগুলো এত লাবণ্যময়। মান্টোর মতে ইসমতের গল্পে নারী চরিত্রদের মধ্যে যেসব ছলাকলা আছে তা পুরুষের মনোরঞ্জনের জন্য নয় । স্হূল শারীরিক তৎপরতার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। এসব আত্মিক ইঙ্গিতের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের বিবেক। সেই ইঙ্গিতের সাথে সাথে ইসমত চুগতাই নারীর দুর্বোধ্য কিন্তু ভিন্ন স্বভাবকে বাঙ্ময় করে তোলে
ইসমত চুগতাই বিশ শতকের উর্দু সাহিত্যের একজন অসামান্য গল্পকার ।
রাজেন্দ্র সিং বেদী, সাদত হাসান মান্টো এবং কৃষণ চন্দর এমন সব প্রতিভাবান লেখকদের মধ্যে নিজস্ব সত্ত্বা, শৈলী , ভাষা ও চিন্তাভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন। বিখ্যাত উর্দু কথাশিল্পী ইসমত চুগতাই ছিলেন বরেণ্য গল্পকার সাদত হাসান মান্টো ও কৃষণ চন্দরের সমসাময়িক। কৃষণ চন্দরের ভাষায়, “ইসমতের কথা শুনলে পুরুষ গল্পকাররা ভয় পেতেন।’ এর কারণ সম্ভবত তারা নতুন যুগ ও ভাষা সম্পর্কে সেকেলে মানসিকতা পোষণ করতেন।’

আগ্রার চুগতাই পরিবারে ইসমতের জন্ম (১৯১১-৯১) । তার বাবা একজন বিচারপতি ছিলেন । তার বড়ভাই আজিম বেগ চুগতাই ছিলেন সে কালের খ্যাতনামা উর্দু লেখকদের অন্যতম। তার বাবা মির্জা কাশেম বেগ চুগতাই ছিলেন একজন স্বনামধন্য বিচারপতি। ইসমত রীতিমত সমাজ পরিবারের সদস্যদের সাথে লড়াই করে উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন। তিনি লক্ষ্মৌ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ ও আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.টি. পাশ করেন। এরপর তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ও স্কুল ইন্সপেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন। বোম্বের বিশিষ্ট চিত্র পরিচালক শাহেদ লতিফ-এর সাথে বিয়ের পর ইসমত চলচ্চিত্রের কাহিনী ও চিত্রনাট্য লেখা শুরু করেন। এই সময়েই তিনি তার বিখ্যাত ছোট গল্পগুলো লেখেন। তার সময় থেকেই উর্দূ সাহিত্য রোমান্টিক ঘোমটার আড়াল সরিয়ে বাস্তবতাকে চাক্ষুষ করে।

তার আত্মজীবনী থেকে জানা যায়, ইসমতের শৈশব কেটেছে ছেলেদের মত খেলাধূলা করে। তিনি ছিলেন টমবয়।এর পেছনে তার বাবার প্রশ্রয় ছিল। এমন কি কিছুটা বড় হয়ে তার বাবা ও বাবার বন্ধুদের সাথে তিনি কুরআনের আলোচনায় অংশ নিতেন।

তবে তার গল্পের ভেতর যে সজীবতা, সুগন্ধ তা তার ভেতরকার মেয়ে সত্ত্বা ও ছেলেদের মত মুক্ত জীবনযাপন –এই দুই থেকেই সৃষ্ট। মান্টোর ভাষায়, ‘ইসমতের নারী সত্তা এবং পুরুষ প্রকৃতির মাঝে আজব ধরণের জেদ ও অসঙ্গতি বিদ্যমান। হয়তো প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন কিন্তু প্রকাশ্যে অনীহা প্রকাশ করে চলেছেন। চুমোর জন্য হয়তো মন আকুতি জানাচ্ছে কিন্তু চুমোর বদলে সে গালে সুঁই চালিয়ে দিয়ে মজা দেখবেন।’ (সম্পূর্ণ…)

আবদুল মান্নান সৈয়দ-এর কবিতা

ওমর শামস | ১ জুলাই ২০১৭ ১:৫২ অপরাহ্ন

mannan-m১. ভূমিকা:

১৯৬৫-তে নিউ-মার্কেটের নলেজ হোম-এ থেমস্ হাডসন প্রকাশিত কিছু আর্টের বই আসে – পিকাসো, দালি, পাওল ক্লে, হার্বাট্ রিড-এর মডার্ন পেইন্টিং, কিউবিজম, ফভিজম, দাদাইজম ইত্যাদি। একটি বই ছিলো প্যাট্রিক ওয়াল্ডবার্গ-এর সুররিয়ালিজম। ওই গ্রন্থ থেকেই পরাবাস্তবতার মৃদু-মন্দ হাওয়া বেরোতে থাকলো – হাওয়া থেকে বাতাস, বাতাস থেকে প্রভঞ্জন, প্রভঞ্জন থেকে চৈত্রের পাতা-ঝরানো ঝড় হয়ে গ্রিন রোডের আবদুল মান্নান সৈয়দ-এর শিরে বইতে শুরু করলো। বইটি আমৃত্যু সৈয়দ-এর কাছে ছিলো, আমার কাছেও এক কপি আছে। ওই সময়ে এবং তার পরে সমকাল, কণ্ঠস্বর-এ সৈয়দ-এর কবিতা পড়েছি, মনে আছে, যেমন- ‘রক্তের পলাশবনে কালো ফেরেশতা’। এই সময়কার কবিতা ১৯৬৭-তে জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ নামের বইতে প্রকাশ পায়। লেখা আছে, রচনাকাল : ১৯৬২-৬৬। কিন্তু বেশির ভাগ লেখা ১৯৬৫ থেকে। শওকত ওসমান সমালোচনা করে লিখেছিলেন, “মান্নান আঙ্গিকের দিক থেকে পুরোপুরি পরাবাস্তববাদী বা সুররিয়ালিস্ট। চিত্রকলার মাধ্যমেই তার ভাবজগত নির্মিত। মান্নানকে ভুল-বোঝাবুঝির তাই যথেষ্ট অবকাশ আছে। কিন্তু ইউরোপীয় কাব্যধারার সঙ্গে পরিচয় থাকলে, এমন হোঁচট খাওয়ার সম্ভাবনা কম। সংকুচিত পৃথিবীতে শিল্পের ভাববস্তু (content) হোক জাতীয়, আকার প্রকার বা গড়ন (form) হোক আন্তর্জাতিক। গ্রাম্যতা সর্বতোভাবে বর্জনীয়। নতুন টেকনিক আমদানী কোন অপরাধ নয়। শুধু প্রশ্ন, তার সাফল্য দেশী ঐতিহ্যে কতটুকু সুসঙ্গতি লাভ করেছে। মান্নান এই ক্ষেত্রে আশ্চর্যরকমে সফল।” (সম্পূর্ণ…)

৭৩-এ কবি নির্মলেন্দু গুণ

ইজাজ আহমেদ মিলন | ২১ জুন ২০১৭ ৫:১২ অপরাহ্ন

goon pictur‘জন্মের সময় আমি খুব কেঁদেছিলাম,এখন আমার সব কিছুতেই হাসি পায়/ আমি জন্মের প্রয়োজনে ছোট হয়েছিলাম,এখন মৃত্যুর প্রয়োজনে বড় হচ্ছি ।’ আধুনিক কাব্য সাহিত্যের দিকপাল কবি নির্মলেন্দু গুণ জন্ম এবং মৃত্যু সম্পর্কে এভাবেই বলেছেন তার স্ববিরোধী কবিতার শেষাংশে। সত্য ও সুন্দরের উপাসক কবি গুণ তার কবিতায় যথার্থই বলেছেন। প্রত্যেকটা মানুষই জন্মের প্রয়োজনে ছোট থাকে। আর মৃত্যুর প্রয়োজনেই বড় হন। বড় হতে হতে যখন আর বড় হওয়ার জায়গা থাকে না তখনই তিনি অনিবার্য ঠিকানায় চলে যান। আর এ সব দেখে কবির বড্ড হাসি পায় যেমনটা কান্না পেয়েছিল জন্মের সময়।
আজ ২১ জুন। ছয় ফুট দীর্ঘ, উন্নত নাসিকা, রবীন্দ্রনাথের মতো শশ্রুমণ্ডিত, তীব্র-তীক্ষ্ন চোখ আজীবন ঢোলা পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত কবি নির্মলেন্দু গুণ ৭৩’এ- পা রাখলেন। এ কথা অস্বীকার করার কোনো জো নেই যে, কবি নির্মলেন্দু গুণই বাংলাদেশে জীবিতদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পাঠকনন্দিত কবি। কবিতার পেছনেই তিনি লেখক জীবনের প্রায় পুরো অংশই নিয়োগ করেছেন। এই কবিতাই তার ধ্যান জ্ঞান সাধনা। কবিতা গুণদাকে সব দিয়েছে। ঢেলে দিয়েছে। তিনি সফলতার শীর্ষে আরোহন করেছেন যৌবন শুরু হওয়ার বেশ আগেই। ১৯৬৮ সালে কবি নির্মলেন্দু গুণ তার বোন সোনালীকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন ‘আমার কাছে আমার কবিতা আমার চোখের মতো। আমার কাছে আমার কবিতা আমার আত্মার মতো। আমার কাছে আমার কবিতা আমার রক্তের মতো প্রিয়। আর কবিতাও আমাকে ভালোবাসে বলেই হয়তো ষাট দশকের যেসব কবি পূর্ববঙ্গে জন্ম নিয়েছে তাদের মধ্যে যদি পাঁচজনেরও নাম করতে হয় – তবে আমার নাম অপরিহার্য।’ গুণদা সারাটা জীবনই তার লেখনীতে সত্য আর সুন্দরের উপাসনা করেছেন। যদি তাকে ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হয় কিংবা জিহবা কেটে দেওয়া হয় তবুও তিনি কখনো মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না। নেননি কখনো। প্রবল আত্মবিশ্বাসী এ কবি চরম সত্য কথাকে যে কোনো ভর-মজলিশে অকপটে বলে যেতে পারেন। নিজের বিপক্ষে গেছে অথচ অকপটে লিখেছেনও এমন নানা সত্য কথা। যেমন – হোটেলে খেয়ে টাকা না থাকার জন্য দৌড়ে পালিয়েছেন, কলেজে হোস্টেল ম্যানেজার নির্বাচিত হয়ে টাকা চুরি করেছেন, সে টাকা দিয়ে জুয়া খেলেছেন। (সম্পূর্ণ…)

তাহমিমা আনামের ‘গার্মেন্টস’ প্রসঙ্গে

পূরবী বসু | ১৮ জুন ২০১৭ ১০:০৮ অপরাহ্ন

tahmima_anamতাহমিমা আনাম সম্প্রতি ইংরেজিতে লিখিত তাঁর গল্প ‘গার্মেন্টস’-এর জন্যে ‘ও’ হেনরী’ সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেছেন। সংবাদটা প্রকাশিত হবার পর থেকে তাহমিমা আনাম, তাঁর লেখা, বিশেষ করে এই গল্প ও তার সাহিত্যমূল্য, তাহমিমার বংশ পরিচয় (তাঁর বিখ্যাত পিতার প্রসঙ্গ), বাস্তবতার নিরীখে গল্পের অসঙ্গতি এবং এই গল্পের কাহিনীর মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি খোয়া যাওয়ার আশংকা ইত্যাদি বহু প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন দেশের সমালোচকগণ। তাহমিমার লেখার দূর্বলতা, অবাস্তবতা, গার্মেন্টস মেয়েদের সংগ্রামী জীবনের কথার বদলে তাদের যৌনতা নিয়ে সুড়্সুড়ি দেওয়া, কাজীর অফিসে গিয়ে এক পুরুষের সঙ্গে তিন গার্মেন্টস কন্য্যার বিয়ের মতো ‘আজগুবি’ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ‘গার্মেন্টস’ গল্পটিকে ত্তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন অনেকেই। আবার কেউ কেউ (সংখ্যায় কম) প্রশংসাও করেছেন। এইসব মতামত বা আলোচনা যা এই পর্যন্ত চোখে পড়েছে ( প্রধানত ফেসবুকে), তার অধিকাংশ-ই নেতিবাচক, কিছু ইতিবাচক, যার বিস্তারিত ও স্বতন্ত্র আলোচনা এ লেখায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। এইসব মন্তব্য ছাড়াও আমার চোখ পড়েছে বিভিন্ন কাগজে প্রকাশিত কয়েকটি লেখা যে লেখাগুলো ‘গার্মেন্টস’ গল্পকে বিশ্লেষন করার চেষ্টা করেছে। এইসব আলোচকদের ভেতর দুজন নারী, তসলিমা নাসরীন ও তানিয়া মোর্শেদ যাঁরা উভয়েই গল্পটির প্রশংসা করেছেন, এবং তাঁরা বাস্তবতার সাথে গল্পের কাহিনীর অসঙ্গতি খুঁজে পান নি। বাকি দু’জন পুরুষ। একজন মোজাফফর হোসেন যিনি গল্পটির বাংলা তর্জমাও করেছেন। মোজাফফর সার্বিকভাবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। গল্পটিকে আহামরি মানের মনে না করলেও তুচ্ছ জ্ঞাণ করেননি তিনি। তাঁর যুক্তিপূর্ন আলোচনা তাহমিমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের যথার্থতা নির্ণয়ের প্রয়াস। ওদিকে তুহিন দাস সংক্ষিপ্ত এক কলামে তাহমিমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, গল্পটি সার্থকভাবে পুরুষতন্ত্র ও পুরুষতান্ত্রিক মুল্যবোধে আঘাত দিতে সমর্থ হয়েছে বলে। এঁরা ছাড়াও আরো অনেকেই হয়তো বিভিন্ন কাগজে লিখেছেন, যা পড়ার সুযোগ আমার হয়নি। আমি তাঁদের কাছে ক্ষমাপ্রার্ত্থী এজন্যে যে আমার চোখে না পড়ায় এবং পঠিত না হওয়ায় সেসব সম্পর্কে ভিন্ন করে কিছু বলতে পারলাম না। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com