প্রবন্ধ

সেলিম আল দীনের ঐতিহ্যবিকাশী ভাবনা

আবু সাঈদ তুলু | ১৪ জানুয়ারি ২০১৮ ১২:২৯ পূর্বাহ্ন

সেলিম আল দীন বাংলা সংস্কৃতিচর্চায় কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তিত্ব। শিল্প-সাহিত্যের পথপরিক্রমায় তিনি হেঁটেছেন আবহমান বাঙলার ঐতিহ্যের পথ ধরে। হাজার বছরের বাঙলার নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরেছেন সমকালীন শিল্পনন্দনে। উপনিবেশের দু’শ বছরের মধ্যখ-নকে পাশ কাটিয়ে হাজার বছরের বাঙলার নিজস্ব ঐতিহ্যের বিকাশী প্রচেষ্টায় আমৃত্যু সংগ্রামী ছিলেন তিনি। উপনিবেশ জ্ঞানতত্ত্বকে প্রত্যাখ্যান করে বাঙালির জারিত রসের নিজস্ব নন্দনভাবনার একছত্র প্রচেষ্টা সত্যিই বিস্ময়জাগানিয়া। শুধু ইউরোপীয় আধিপত্য নয়; সংস্কৃত নন্দনতত্ত্বের আগ্রাসী মনোভাবের মধ্যেও তিনি ছিলেন হাজার বছরের বাঙলার নিজস্ব শিল্পদর্শনে স্থিত। সেলিম আল দীন বাঙলার গ্রামগঞ্জে পালা, জারি, যাত্রাগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন গভীরভাবে। নানা আঙ্গিককে তুলে এনে সমকালীন বৈশ্বিক রুচিবোধের অনুকুলে উপস্থাপন করেছেন। বিষয়বস্তু থেকে শুরু করে রচনারীতিসহ সামগ্রিকতায় তিনি বাঙালির বহমান রীতিকেই গ্রহণ করেছিলেন। বক্ষমান প্রবন্ধে আমরা অনুসন্ধান করবো কীভাবে সেলিম আল দীন তার রচিত নাটকে হাজার বছরের ঐতিহ্যকে ধারণ করে সমকালীন রুচির আলেখ্যে উপস্থাপন করেছেন। তিনি কীভাবে সংস্কৃতির পরনির্ভরতাকে পুরোপুুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সেলিম আল দীন বিশ্বাস করতেন নিজ সংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমেই আত্মমর্যাদায় অধিষ্ঠান হওয়া উচিত এবং এতেই গৌরব। (সম্পূর্ণ…)

দেবতারে প্রিয় করি প্রিয়রে দেবতা

দেবলীনা সুর | ২ জানুয়ারি ২০১৮ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

tagore“দেবতারে প্রিয় করি প্রিয়রে দেবতা”- রবীন্দ্রনাথ যিনি দূরকে নিকট করেছেন,দেবতাকে প্রিয় করেছেন। বিশালের সাথে তুচ্ছের যোগ ঘটিয়েছেন। ছোটকে বড়র কাছে বড়কে ছোটর কাছে নিয়ে গেছেন। সীমাকে অসীমের কাছে অসীমকে সীমার মধ্যে একটা বিন্দুতে মিলিয়েছেন, পৃথিবীর সব রূপ-রস-গন্ধ-আলো-বাতাস-জল-স্থল-পাহাড়-প্রকৃতি-অরণ্য-পাখির ডাক-সাগরের গর্জন-মানুষের চিরদিনের কামনা বাসনা, প্রেম-দুঃখবেদনা-আবেগ সব কিছুকে একটি পরিবারের বাঁধনে বেঁধেছেন। এ কারণেই রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লিখতে গেলে দিশাহারা হতে হয়। দিশাহারা হই শুধু তার রচনা সম্ভারের বিশালতায় নয়, তার বৈভবে-বৈচিত্রে। তিনি যেন পৃথিবী জুড়ে একটা শিল্পের মেলা বসিয়ে রেখেছেন। সে মেলার কোলাহল কান-মনকে আকুল করে। কি নেই সেই মেলায়! খুব ছোট করে তাকে বলা বড় কষ্টসাধ্য তবু এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয় জলে স্থলে আকাশে নক্ষত্রে অন্ধকার গুহা মাটির স্তর ভেদ করে কোথায় ফেলেননি তার মন্থন রজ্জু? সেখান থেকে কুড়িয়ে অজস্র মনিমুক্তা যা দিয়ে গেঁথেছেন মনিহার। সে মনিহার বাংলাসাহিত্য সম্ভারকে অপরূপ করে তুলেছে। (সম্পূর্ণ…)

বিজয়োৎসব: আনন্দ-বেদনার কাব্য

ফরিদ আহমদ দুলাল | ১৬ december ২০১৭ ১:১৩ পূর্বাহ্ন

আমাদের উৎসবের আরও একটি দিন সমাগতপ্রায়; যে উৎসবে আমাদের পরম পুলক আর অনিন্দ্য আনন্দ; যে উৎসব আমাদের গভীর বেদনারও দিন। আসন্ন উৎসব আনন্দের, আনন্দের কারণ একটাই, কিন্তু বেদনার কারণ একাধিক। উৎসব আনন্দের; আনন্দের কারণ, এ দিনে আমরা বাঙালি জাতি চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিলাম; বাংলা ভাষাভাষি মানুষের নিজস্ব ভূখ- চিহ্নিত করতে পেরেছিলাম, নিজস্ব পতাকা–নিজস্ব জাতীয় সঙ্গীত–নিজস্ব মানচিত্র শনাক্ত করতে পেরেছিলাম; স্বতন্ত্র-স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছিলাম। আনন্দ আমাদের সৌর্য-বীর্য, আমাদের আত্মত্যাগ এবং আনন্দ আমাদের ঐক্যের– বঙ্গবন্ধুর তর্জনীর মাথায় সাড়ে সাতকোটি বাঙালির অবিস্মরণীয় ঐক্যের; আর বেদনা? বিজয় দিবস মানে ত্রিশলক্ষ বাঙালি-স্বজনের রক্তনদীর দুঃসহ স্মৃতি, বেদনা ১৯৭১-এর ৯ মাস অবরুদ্ধ বাংলাদেশে নির্যাতন-নিপীড়ন-অগ্নিসংযোগ-ধর্ষণ-উৎকণ্ঠার মুহূর্তগুলো, বেদনা আমাদের মা-বোনের সম্ভ্রমহানীর; বেদনা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে নির্বিচারে শিশু-নারীহত্যা–ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষের জীবন-সম্পদ লুন্ঠণ, বেদনা প্রায় এককোটি বাঙালির উদ্বাস্তু হয়ে দেশান্তর হওয়া মানুষের জন্য–তাদের মানবেতর জীবনযাপনের জন্য; এবং বেদনা ১৯৭৫-এর রক্তাক্ত ক্ষতের জন্য। আসন্ন বিজয় দিবসে আরও এক গভীর বেদনা, যখন আমরা বিজয়ের অর্ধশতাব্দী অতিক্রমণের দ্বারপ্রান্তে তখনো আমরা লক্ষ করছি, ১৯৭১-এর ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স মাঠে যে জগৎখ্যাত ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, সে ভাষণে তিনি যা-কিছু বাণী উচ্চারণ করেছিলেন, তার অধিকাংশই আমরা সত্যে রূপান্তরিত করেছিলাম; কিন্তু ‘স্বাধীনতা’ শব্দটির পাশাপাশি ‘মুক্তি’র আকাক্সক্ষা বঙ্গবন্ধু উচ্চারণ করেছিলেন, সে ‘মুক্তি’ আজও আমরা অর্জন করতে পারিনি। (সম্পূর্ণ…)

দেশে বিদেশে-র নেপথ্যকাহিনি

মুহিত হাসান | ৯ december ২০১৭ ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

12107115_10206549098980001_4721273367198876708_n
‘চিত্র: সৈয়দ মুজতবা আলী
সৈয়দ মুজতবা আলীর সবচেয়ে বিখ্যাত ও তাঁর প্রথম বই, দেশে বিদেশে রচনার নেপথ্যে দুটি ঘটনা নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছিল বলে বর্তমান নিবন্ধকারের মনে হয়। ১.ভ্রাতুষ্পুত্রী জাহানারার প্রেরণা ও ২.বন্ধু বীরভদ্র রাও-এর প্ররোচনা।
একবার ঘটনাক্রমে সিলেটে মুজতবা আলীর সঙ্গে আবু সয়ীদ আইয়ুবের প্রথম পরিচয় হয়েছিল। তখন দুজনেই বয়সের দিক থেকে নিতান্ত কিশোর। ১৯৪৫ সালে কাবুল-জার্মানি ফেরতা ও বরোদার চাকরি ছেড়ে আসা মুজতবা আলী শুধু লেখালেখি করে জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে কলকাতায় খানিক থিতু হওয়াতে দুজনের মধ্যে ফের একটি যোগাযোগ তৈরি হলো। বরোদা থেকে কলকাতায় আসার পর আইয়ুবের ৫ নম্বর পার্ল রোডের বাড়িতেই আশ্রয় নিলেন মুজতবা। তবে আইয়ুবের নিজের স্বাস্থ্যও তখন খুব ভালো যাচ্ছিল না। এর মধ্যে ছেচল্লিশের দাঙ্গা কলকাতা শহরকে তছনছ করে দিয়ে গেছে। এমন সময় আইয়ুবের দেহে যক্ষ্মা ধরা পড়লো। অতএব আইয়ুবের চিকিৎসার জন্য ছোটাছুটি আরম্ভ করতে হলো মুজতবাকেই। চিকিৎসকরা একসময় সুস্থতার জন্য হাওয়া বদলের পরামর্শ দিলেন। অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই মুজতবা বন্ধু আইয়ুবকে নিয়ে ছুটলেট দাক্ষিণাত্যের মদনপল্লীর বিখ্যাত স্যানেটোরিয়ামে। আইয়ুব সেখানকার উত্তম পরিবেশে কয়েকমাস থেকে আরোগ্য লাভ করলেন বেশ দ্রুততার সাথেই। সুস্থ হয়ে আইয়ুব কলকাতায় ফিরে গেলেও মুজতবা দক্ষিণ ভারত ভ্রমণের জন্য সেখানেই থেকে গেলেন। চললেন রমণ মহর্ষির অরুণাচল আশ্রমে। সেখানে বেশকিছু দিন থাকবার পর যান তাঁর আরেক বন্ধু, অন্ধ্রপ্রদেশের বীরভদ্র রাওয়ের বাড়িতে। তৎকালীন মাদ্রাজের এক সমুদ্রসৈকতের ধারে ছিল বীরভদ্রের গৃহ। সমুদ্রতটের চিত্র দেখে তাঁর দিন মন্দ কাটছিল না। ওই সময়ের বর্ণনা দিয়েছেন তিনি এভাবে: ‘মাদ্রাজের বেলাভূমিতে…সমুদ্রের ওপারে চমৎকার সূর্যোদয় হয়। সূর্যাস্ত অবশ্য সমুদ্রগর্ভে হয় না। অর্থাৎ পূর্বাকাশে যে রঙে রঙে রঙিন চিত্রলেখা অঙ্কিত হয় সেটি কারো দৃষ্টি এড়াতে পারে না। আমি মাঝে মাঝে তারই বর্ণনা আপন ডাইরিতে লিখি। বীরভদ্র রাওকে মাঝে মধ্যে পড়ে শোনাই…।’ (সম্পূর্ণ…)

বাড়ির কাছে আরশি নগর: পাওলো কোয়েলো, ফরিদ উদ্দিন আত্তার এবং পিটার ব্রুক

হোসেন আলমগীর | ২৬ নভেম্বর ২০১৭ ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

koheloব্রাজিলের ঔপন্যাসিক পাওলো কোয়েলো তাঁর ‘দি অ্যালকেমিস্ট’ উপন্যাসে পরমাত্মার অন্বেষণে মানুষের অভিযাত্রাকে রূপকের আশ্রয়ে বর্ণনা করেছেন। এ উপন্যাসের সাথে পারস্যের সুফি দর্শনের ঘনিষ্ট মিল লক্ষ্য করা যায়। এক্ষেত্রে খোরসানের (বর্তমান ইরান) নিশাপুরের দার্শনিক ও কবি ফরিদ উদ্দিন আত্তারের Manteq-At-Tair (Conference of the Birds)’ বা ‘পক্ষী সম্মেলন’র ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে। খ্রীস্টিয় বারো শতকে আত্তার কবিতার মাধ্যমে পাঠকের কাছে যে দর্শন সহজবোধ্য করেছিলেন, বিশ শতকের অন্তে পাওলো কোয়েলো ‘দি অ্যালকেমিস্ট’ উপন্যাসে তারই পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছেন। দু-জনের বিষয় মূলত অভিন্ন- পরমাত্মার সন্ধান লাভ। বিশ্বখ্যাত নাট্য নির্দেশক পিটার ব্রুক এবং জ্যঁ ক্লদ কাহিয়ে মিলে আত্তারের কাহিনীর নাট্যরূপ দিয়েছিলেন। পিটার ব্রুক ছিলেন এ নাটকের নির্দেশক। নাটকটি প্রযোজনার আগে তিনি এবং তাঁর দল সাহারা মরুভূমিতে একটি দীর্ঘ সফরে অংশ নিয়েছিলেন । যেমন করেছিল ‘দি অ্যালকেমিস্ট’র সান্তিয়াগো, কিম্বা আত্তারের ত্রিশটি পাখি। এ সফরের মূল লক্ষ্য-সত্যানুসন্ধান। (সম্পূর্ণ…)

চর্যাপদের সর্বজনীনতা, ড. শহীদুল্লাহ ও অক্তাবিও পাস

রাজু আলাউদ্দিন | ২ নভেম্বর ২০১৭ ১২:৫০ পূর্বাহ্ন

Corjapodবাংলা কবিতার প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদের কালপর্ব, ভাষিক উৎস ও এর ব্যাকরণিক সম্পর্ক নির্ণয়ে ঐতিহাসিক নিশ্চয়তামূলক যে পরিমাণ তথ্যের অধিকারী আমরা হতে পেরেছি, সেই তুলনায় এর সাহিত্যিক ও শিল্পমূল্যের উচ্চতা সম্পর্কে আলোচনা খুবই অকিঞ্চিৎকর। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার এই, চর্যাপদ নিয়ে বিদ্যায়তনিক বৃত্তে এর শারীরতাত্ত্বিক আলোচনার প্রাচুর্য থাকলেও, বাংলাভাষার প্রথম সারির কবি ও কথাসাহিত্যিক, এমনকি প্রাবন্ধিকদের লেখাতেও চর্যাপদ নিয়ে তেমন কোন আলোচনা দেখা যায় না। চর্যাপদের যা-কিছু ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ আমরা দেখতে পাই তার প্রায় পুরোটাই গবেষকদের সৌজন্যে। কিন্তু তাদের এসব গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ বহু তথ্য উপাত্ত, পর্যবেক্ষণ ও টীকাটিপ্পনী থাকলেও বিশ্বসাহিত্য ও ভাবুকতার বিশ্ব-দরবারে তার ঔজ্জল্য কতটুকু কিংবা চর্যাপদের নান্দনিক গুরুত্ব আমাদের কাছে কেন আজও উর্ধ্বতন, এ নিয়ে আলোচনা তেমনটা চোখে পড়ে না। একমাত্র ব্যতিক্রম বোধহয় অতীন্দ্র মজুমদারের চর্যাপদ নামক বইটি যেখানে তিনি উত্তরকালের বাংলাভাষী কবিদের উপর চর্যাপদের প্রভাব ও বিস্তার সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন, কিন্তু সেখানে বিদেশি সাহিত্যের সাথে চর্যাপদের কোনো তুল্যমূল্য হাজির করেননি। অতীন্দ্র মজুমদারের আগে বা পরেও তা কেউ করেননি। অথচ চর্যাপদ, কেবল প্রাচীনতম নিদর্শন বলেই নয়, এর আলংকারিক, ভাষিক, কাব্যিক ও দার্শনিক প্রবনতায় রয়েছে কালোত্তর সেই সব লক্ষণ যা বিভাষী ও বিজাতি হৃদয়কেও অভিভূত করে। (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পে নারীর ক্রমবিকাশ

শান্তা মারিয়া | ২৩ অক্টোবর ২০১৭ ১০:৩১ অপরাহ্ন

tagoreরবীন্দ্রসৃষ্টির কল্যাণে বাংলা সাহিত্য পেয়েছে অবিস্মরণীয় সব নারী চরিত্র। উপন্যাস ও বড়গল্পে ‘শেষের কবিতা’র লাবণ্য, ‘ল্যাবরেটরি’র সোহিনী, ‘যোগাযোগে’র কুমু, ‘দৃষ্টিদানে’র কুমু, ‘মালঞ্চ’র সরলা ও নীরজা, ‘দুইবোনে’র শর্মিলা ও ঊর্মিলা, ‘গোরা’র সুচরিতা, ‘নৌকাডুবি’র হেমনলিনী, ‘নষ্টনীড়ে’র চারুলতা, ‘ঘরে-বাইরে’র বিমলা, ‘চোখের বালি’র বিনোদিনীর, তুলনা পুরো বাংলাসাহিত্যেই বিরল। সেই সঙ্গে অবিস্মরণীয় ছোটগল্পের নারীচরিত্ররাও। ‘স্ত্রীর পত্রে’র মৃণাল, ‘সমাপ্তি’র মৃন্ময়ী, ‘দেনাপাওনা’র নিরুপমা, ‘হৈমন্তী’র হৈমন্তী, ‘রাসমণির ছেলে’র রাসমণি, ‘মণিহারা’র মণি, ‘পোস্টমাস্টারে’র রতন, ‘ঘাটের কথা’র কুসুম, ‘সুভা’র সুভাষিণী, ‘খাতা’র ঊমা, ‘শাস্তি’র চন্দরা তাদের চরিত্রের দৃঢ়তায় বাংলা সাহিত্যের পাঠকের স্মৃতিতে নিজস্ব জ্যোতিতে ভাস্বর। বিচিত্র সব নারী চরিত্রের সমাবেশ ঘটেছে রবীন্দ্রনাটকেও। ‘রক্তকরবী’র নন্দিনী, ‘রাজা ও রাণী’র রাণী , নৃত্যনাট্য ‘শ্যামা’র সুন্দরীপ্রধানা শ্যামা, ‘মায়ার খেলা’র প্রমদা সকলেই অনন্যা।
রবীন্দ্রমানসে নারী শুধুই কোমলতা, স্নেহ বা প্রেমের প্রতিভু নয় বরং অনেক সময়ই নারী নীতির প্রশ্নে আপোষহীন, সভ্যতার সংকটে বিবেক এবং সমাজ কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে চিত্রিত। রবীন্দ্রবিশ্বের নারীরা পুরুষের ছায়ামাত্র নয় যা সেযুগের প্রেক্ষাপটে খুবই স্বাভাবিক বলে গণ্য হতে পারতো। বরং যুগের তুলনায় আশ্চর্যরকম অগ্রসর তার নারী চরিত্ররা। হয়তো ঠাকুরবাড়ির নারীদের মধ্যে এমন অনেকের দেখা রবীন্দ্রনাথ পেয়েছিলেন বলেই সাহিত্যে এমন স্বতন্ত্রবৈশিষ্ট্যমণ্ডিত নারী চরিত্রের সৃষ্টি তার পক্ষে সম্ভব হয়েছিল। ব্যক্তিজীবনে রবীন্দ্রনাথ দেখেছিলেন কাদম্বরী, জ্ঞানদানন্দিনী, স্বর্ণকুমারী, সরলা ঘোষাল, ইন্দিরা দেবীর মতো বিশিষ্ট প্রতিভার অধিকারী নারীদের। সেইসঙ্গে নিজের স্ত্রী মৃণালিনী দেবী, কন্যা মাধুরীলতা, রেণুকা, মীরাদেবীর মতো নারীর ছায়াও প্রতিফলিত হয়েছে তার সৃষ্ট চরিত্রে। নিঃসন্তান কাদম্বরী দেবীর বিপুল নিঃসঙ্গতা এবং নিঃসন্তান ও অকালমৃত বড়কন্যা মাধুরীলতাও নানাভাবে প্রতিফলিত হয়েছে তার লেখায়। তার তিনকন্যার একজনও দাম্পত্যজীবনে সুখী ছিলেন না। সেই অসুখী দাম্পত্যের প্রতিফলন ও আত্মহত্যাকারী কাদম্বরীর আদিগন্ত অভিমানের ছোঁয়াও পাওয়া যায় তার সৃষ্টির ভুবনে আকাশচারী নারীদের মানসে। বৈচিত্রের দিক থেকেও রবীন্দ্রসাহিত্যের নারীরা বিচিত্রগামী। গ্রাম্য বালিকা, কৃষক পরিবারের গৃহবধূ, বিধবা মুসলমান বৃদ্ধা, মোগল রাজকুমারী, ব্রাহ্ম পরিবারের তরুণী, হিন্দু কূলবধূ, স্বদেশী বিপ্লবী, অবাঙালি ও সংস্কারমুক্ত বিজ্ঞানমনস্ক নারী, স্বাধীন চাকরিজীবী নারীর ছবি তিনি এঁকেছেন। এই বিচিত্র সৃষ্টি সম্ভারের মধ্যেও গল্পগুচ্ছের এমন পাঁচটি নারী চরিত্র চোখে পড়ে যারা একে অন্যের প্রায় প্রতিরূপ। তবে পাঁচটি বিভিন্ন গল্পের মধ্য দিয়ে এরা এমনভাবে বিকশিত হয়েছে যে এ কথা ধারণা করা যায় রবীন্দ্রনাথ নিজেই এই পাঁচটি গল্পের ভিতর দিয়ে নারীর মুক্তির পথ অন্বেষণ করেছেন। তার চিন্তায় নারীর মুক্তির পথ যত বিকশিত হয়েছে গল্পগুলোর মধ্য দিয়েও নারীর স্বাধীনতার পথ তত উন্মোচিত হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

জীবনানন্দ দাশ: হৃদয়ের কাছাকাছি যার বসবাস

লীনা দিলরুবা | ২২ অক্টোবর ২০১৭ ৭:২৮ অপরাহ্ন

J das-1
‘চিত্র: বিয়ের আসনে জীবনানন্দ ও লাবণ্য দাশ
এক.
মুহূর্তের আনন্দময় অনুভূতি যেন সুখ নয়। ওট প্রপঞ্চ, ইল্যুশন। দুঃখবোধ প্রকৃত প্রস্তাবে সুমহান করে তোলে মানবজীবন। যেমনটি ঘটেছিল জীবনানন্দ দাশ-এর জীবনে। প্রহেলিকার মতন দেখা দেয়া কিছু সুন্দর সময় বিপরীতে সুদীর্ঘ বিষাদময় অভিজ্ঞতা তাঁকে কখনোই স্বস্তিদায়ক কোনো পরিস্থিতির নিশ্চয়তা দেয়নি কিন্তু ঘটনাটিতে বাংলাসাহিত্য, সর্বোপরি বিশ্বসাহিত্য পেয়েছিল এমন এক নিভৃত কবিকে, এমন এক সুরেলা কবিকে, যার কবিতা না পড়লে অজানা থেকে যেত অনেক কিছু। অজানা থেকে যেত কারো কারো সকালের বিষন্ন সময় অলস মাছির শব্দে ভরে থাকে, আমার কথা সে শুনে নাই কিছুই তবু আমার সকল গান ছিল তাকেই লক্ষ্য করে…।
অজানা থেকে যেত, অন্ধকারের গায়ে ঠেস দিয়ে বসে থাকা যায়। যেমনটি তিনি লিখেছিলেন–
যেদিন শীতের রাতে সোনালি জরির কাজ ফেলে
প্রদীপ নিভায়ে র’ব বিছানায় শুয়ে।
অন্ধকারে ঠেস দিয়ে জেগে র’ব
বাদুড়ের আঁকাবাঁকা আকাশের মতো।
স্থবিরতা, কবে তুমি আসিবে বল তো।

এই বায়বীয় অন্ধকার কেমন? যার শরীর রয়েছে। যাকে স্পর্শ করা যায়? (সম্পূর্ণ…)

শীতের রাত, প্রকৃতি কিংবা ‘মৃত্যুর আগে’

নাহিদ আহসান | ২২ অক্টোবর ২০১৭ ৫:৫০ অপরাহ্ন

winterব্যাখ্যায় কবিতার স্নিগ্ধতা ঝলসে যায়–এটা বহু সময় অনুভব করি। তবু কিছু কিছু পংক্তি আমাদের এমন বোধের ভেতর নিক্ষেপ করে; আনন্দময় অনুরণনে এমনভাবে কম্পিত করে, যাতে পাঠক হিসেবে নীবর ভূমিকা আর পালন করা যায় না। কাউকে বলতে ইচ্ছে করে, বহুকে বলতে ইচ্ছে করে। মনের ভেতর গুঞ্জন সৃষ্টি হয় যা আসলে অব্যক্ত, কিন্তু তা ব্যক্ত করার দুঃসাধ্য চেষ্টা আমাদের পেয়ে বসে।
আমরা বেসেছি যারা অন্ধকারে দীর্ঘ শীত-রাত্রিটিরে ভালো:
চমক্ দেয়া চিত্রকল্প, সাংগীতিক মাধুর্য, গভীর বক্তব্য- তেমন কিছুই নেই এখানে; তবু জীবনানন্দ দাশের ‘মৃত্যুর আগে’ কবিতাটির এই পংক্তি আমাকে আলোড়িত করে যায় একমাত্র প্রকৃতিকে যারা প্রতিটি রোমকূপ দিয়ে অনুভব করে– ত্বকে তার স্পর্শ পায়– তারাই এর বক্তব্যকে সনাক্ত করতে পারবে হৃদয়ের মধ্যে। ‘অনুভব’ এই শব্দটির ওপর আমি জোর দিতে চাই। কারণ এখানে মস্তিস্ক দিয়ে বোঝার প্রায় কিছুই নেই। মনে হয়, একটি শীতের রাত তার সমস্ত কুহকী বৈশিষ্ট্য নিয়ে এই বাক্যে উপস্থিত হয়েছে।
প্রকৃতির বহু ঐশ্বর্য আছে যা ঝলমলে; চোখকে নিমেষেই অধিকার করে নেয়। ধরা যাক-একটি ফুলে ফুলে রঞ্জিত কৃষ্ণচূড়া কিংবা ঘোর কৃষ্ণবর্ণ ঝমঝমে বর্ষা। (সম্পূর্ণ…)

কাজুও ইশিগুরো: ১৯৮৯-এ ম্যান বুকার , ২০১৭-এ নোবেল বিজয়

আবদুস সেলিম | ১৫ অক্টোবর ২০১৭ ৯:৪২ অপরাহ্ন

unnamed২০০৯ সালে আমি আমার এক ইংরেজি ফিচারে (৯ই অক্টোবর ২০০৯-এ ‘স্টার ইউকএএন্ড’ প্রকাশিত) কাজুও ইশিগুরোর প্রসঙ্গে কিছু মন্তব্য করেছিলাম। সেখানে বলেছিলাম ঠিক কবে আমি তার লেখা পড়েছি আমার স্মরণে নেই–সম্ভবত ১৯৮৯-এ লেখা তার ‘দ্য রিমেইন্স অফ দ্যা ডে’ উপন্যাসটিই যেটি ঐ বছরই ম্যান বুকার পুরস্কার পেয়েছিল– আমার প্রথম পড়া কাজুওর লেখা। পড়েছিলাম ১৯৯০ সালে এবং বলতে দ্বিধা নেই, আমার এই উপন্যাস পড়াটি কোন বিচারেই সুখকর ছিল না এবং ফলে তার লেখা অপরাপর সাহিত্যকৃতি নিয়ে আমি আর উৎসাহিত বোধ করিনি। কাজুও সম্মন্ধে আমার কৌতুহলের সেখানেই সাময়িক অবসান ঘটে। আমার এই মনোভাবের সমর্থন পরবর্তীতে খুঁজে পাই ‘দ্য টাইমস্’ পত্রিকায় প্রকাশিত নীল মুখার্জির সমালোচনা নিরীক্ষায়। তিনি লিখেছিলেন, কাজুও ইশিগুরো-র পাঁচটি ছোটগল্পের সংকলন ‘নকটার্নস্’ প্রসঙ্গেঁ, “… কাজুও ইশিগুরো তর্কাতিতভাবে অস্পষ্টতা, প্রান্তিক অবস্থান এবং অবিরাম পরিবর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব।” স্পষ্টতই বোঝা যায় নীল-এর মন্তব্য কূটাভাস আকীর্ণ এবং স্ববিরোধীও বটে কারণ একজন গল্প-উপন্যাস লেখক তার গল্পগাঁথুনীতে অস্পষ্ট, প্রান্তিক এবং অবিরাম পরিবর্তমান হয়েও প্রতিভাবান হতে পারে তার উদাহরণ বেশ অপ্রতুল।

অবশ্য উপরোক্ত সমালোচনাটি পড়েই আমি ২০০৯ সালে আরও একবার কাজুও ইশিগুরো পড়ায় উদ্বুদ্ধ হই। আমার এক পরদেশি সংযোগের মাধ্যমে বইটি সংগ্রহ করি। আগেই বলেছি বইটি এক ছোটগল্প সংকলন। সর্বমোট পাঁচটি গল্প সম্বলিত এই বইয়ের একটি উপনামও আছে–‘ফাইভ স্টোরিজ অব মিউজিক এ্যান্ড নাইটফল’-এই সংকলনের মূল শিরোনাম ‘নকটার্নস্’-এর সাথে মিল রয়েছে, যার অর্থ, ‘স্বপ্নিল সংগীতাংশ’। এ বইটি পড়ার অভিজ্ঞাও তেমন আনন্দদায়ক ছিল না আমার যদিও লেখক ভালবাসা, সংগীত এবং সময়ের গতিময়তার কথা পাঁচটি গল্পেরই প্রতিপাদ্য রূপে উত্তম পুরুষীয় বৃত্তান্তে লিপিবদ্ধ করেছে। এই বৃত্তান্তলিপিকে কাজুও ইশিগুরো সংজ্ঞায়িত করেছেন ‘অদ্যন্ত এক সমরূপী, সংগঠিত প্রক্ষেপ রূপে’ অর্থাৎ পুরো সংকলনে এক ঐক্যতানের অন্তস্রোত পাঁচটি গল্পকে একীভূত করেছে। এই অভূতপূর্ব পরিকল্পনাটিই কাজুও ইশিগুরোকে লেখকরূপে স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করে। সম্ভবত ২০১৭ সালে তার সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পাবার একটি অন্যতম মানদন্ড এই স্বাতন্ত্র্য। (সম্পূর্ণ…)

জীবনের অকপট ও অন্তরঙ্গ বয়ানে বারট্রান্ড রাসেল

লীনা দিলরুবা | ১৪ অক্টোবর ২০১৭ ১২:০৬ অপরাহ্ন

Russel picরাসেল-এর আত্মজীবনী-‘দ্য অটোবায়োগ্রাফি অব বার্ট্রান্ড রাসেল’কে পৃথিবীর ইতিহাসে এ-পর্যন্ত লিখিত আত্মজীবনীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ আত্মজীবনী বলা হয়ে থাকে। ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন তিনি। তাকে বিশ্লেষণী দর্শনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিবেচনা করা হয়। জীবনের আলোকিত দিকের গুণকীর্তন কেবল নয়, নিজের জীবনের অন্ধকার দিকের কথা রাসেল তাঁর আত্মজীবনীতে লিখে গেছেন। বয়ঃসন্ধিতে শারীরিক পরিবর্তনের যে অভিজ্ঞতা সেটি তাঁর মনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। স্ব-মেহনের অভ্যেস বিশ বছর পর্যন্ত বজায় রেখে তিনি মনে মনে পুড়তেন। এটি বন্ধ করার অভিপ্রায়ের কথাও বলেন। যখন প্রেমে পড়েন তখন অভ্যেসটি বন্ধ হয়ে যায়। নারী শরীরের প্রতি অতি আগ্রহ কমিয়ে আনতে নানা কায়দা-কানুনের আশ্রয় নিতেন। কিন্তু এক সময় এসব নিয়ে মনোযাতনায় ভুগলেও বিষয়গুলিকে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান অর্জন ধারণা করে মানসিক ব্যাধিগ্রস্ততা বলে মনে করতেন না। নারী শরীরের প্রতি মোহমুগ্ধতার কারণেই কবিতার প্রেমে পড়ে যান। ষোল-সতের বছর বয়সেই মিলটন, বায়রন, শেলীর কবিতা পড়ে শেষ করেছিলেন। তাঁর প্রকৃত নাম বার্ট্রান্ড আর্থার উইলিয়াম রাসেল। ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করা এই মহান দার্শনিক ৯৭ বছর আয়ু পেয়েছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

কাজুও ইশিগুরোর দ্য রিমেইন্স অফ দ্য ডে – এক আত্মপ্রতারকের প্রতিকৃতি

যুবায়ের মাহবুব | ৬ অক্টোবর ২০১৭ ৩:৫৫ অপরাহ্ন

Kazuo-1পাঠকসমাজে যুগপৎ বিস্ময় ও পুলক সৃষ্টি করে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতলেন কাজুও ইশিগুরো। বিস্ময়, কারণ আলাপটা মোটামুটি সীমাবদ্ধ ছিল মুরাকামি-নগুগি-কাদারে-আদুনিস-অ্যাটউড এই কয়েকজনকে ঘিরে। পুরস্কারের কয়েকদিন আগেও মার্কিন পত্রিকা নিউ রিপাবলিক প্রায় ৮০জন সম্ভাব্য বিজয়ীর তালিকা বানিয়ে যে প্রবন্ধ ছেপেছিল, সেখানে ইশিগুরোর নাম একবারও উচ্চারিত হয়নি। পুরোদস্তুর আউটসাইডার হিসেবেই ছিনিয়ে নিলেন তিনি এবারের নোবেল। তদুপরি, টানা দুই বছর একই ভাষার লেখককে পুরস্কৃত করার রেওয়াজ নেই খুব একটা, বব ডিলানের পরপরই ইশিগুরোকে সম্মানিত করে সুইডিশ একাডেমি সেই সমীকরণটাও ভেঙে দিলেন।

আর পুলক, কারণ তার লেখনীর সাথে যারা পরিচিত, তারা জানেন ইশিগুরোর কলমের প্রকৃত শক্তি। জানেন যে ওঁর শ্রেষ্ঠ বইগুলো সঙ্গত কারণেই আধুনিক সাহিত্যের সেরা সংগ্রহের মাঝে স্থান করে নিয়েছে, ইতিমধ্যে অনূদিত হয়েছে চল্লিশটি ভাষায়।

এতক্ষণে সবাই জেনে গেলেও জীবনীটি আরেকবার ঝালাই করাই যায়। এটম বোমা বিস্ফোরণের নয় বছর পরে ১৯৫৪ সালে জাপানের নাগাসাকিতে জন্মগ্রহণ করেন কাজুও ইশিগুরো। তার বয়স যখন ছয়, তখন পুরো পরিবার চলে আসে বিলেতে, লন্ডনের অদূরে সারে কাউন্টিতে বেড়ে ওঠেন তিনি। পড়াশোনা কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে, অতঃপর ঈস্ট অ্যাঙ্গলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত ক্রিয়েটিভ রাইটিং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন, এবং সেখান থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। এই প্রোগ্রাম থেকেই বেরিয়ে আসে তার প্রথম উপন্যাস, ১৯৮২ সালে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com