প্রবন্ধ

জীবনানন্দ দাশ: হৃদয়ের কাছাকাছি যার বসবাস

লীনা দিলরুবা | ২২ অক্টোবর ২০১৭ ৭:২৮ অপরাহ্ন

J das-1
‘চিত্র: বিয়ের আসনে জীবনানন্দ ও লাবণ্য দাশ
এক.
মুহূর্তের আনন্দময় অনুভূতি যেন সুখ নয়। ওট প্রপঞ্চ, ইল্যুশন। দুঃখবোধ প্রকৃত প্রস্তাবে সুমহান করে তোলে মানবজীবন। যেমনটি ঘটেছিল জীবনানন্দ দাশ-এর জীবনে। প্রহেলিকার মতন দেখা দেয়া কিছু সুন্দর সময় বিপরীতে সুদীর্ঘ বিষাদময় অভিজ্ঞতা তাঁকে কখনোই স্বস্তিদায়ক কোনো পরিস্থিতির নিশ্চয়তা দেয়নি কিন্তু ঘটনাটিতে বাংলাসাহিত্য, সর্বোপরি বিশ্বসাহিত্য পেয়েছিল এমন এক নিভৃত কবিকে, এমন এক সুরেলা কবিকে, যার কবিতা না পড়লে অজানা থেকে যেত অনেক কিছু। অজানা থেকে যেত কারো কারো সকালের বিষন্ন সময় অলস মাছির শব্দে ভরে থাকে, আমার কথা সে শুনে নাই কিছুই তবু আমার সকল গান ছিল তাকেই লক্ষ্য করে…।
অজানা থেকে যেত, অন্ধকারের গায়ে ঠেস দিয়ে বসে থাকা যায়। যেমনটি তিনি লিখেছিলেন–
যেদিন শীতের রাতে সোনালি জরির কাজ ফেলে
প্রদীপ নিভায়ে র’ব বিছানায় শুয়ে।
অন্ধকারে ঠেস দিয়ে জেগে র’ব
বাদুড়ের আঁকাবাঁকা আকাশের মতো।
স্থবিরতা, কবে তুমি আসিবে বল তো।

এই বায়বীয় অন্ধকার কেমন? যার শরীর রয়েছে। যাকে স্পর্শ করা যায়? (সম্পূর্ণ…)

শীতের রাত, প্রকৃতি কিংবা ‘মৃত্যুর আগে’

নাহিদ আহসান | ২২ অক্টোবর ২০১৭ ৫:৫০ অপরাহ্ন

winterব্যাখ্যায় কবিতার স্নিগ্ধতা ঝলসে যায়–এটা বহু সময় অনুভব করি। তবু কিছু কিছু পংক্তি আমাদের এমন বোধের ভেতর নিক্ষেপ করে; আনন্দময় অনুরণনে এমনভাবে কম্পিত করে, যাতে পাঠক হিসেবে নীবর ভূমিকা আর পালন করা যায় না। কাউকে বলতে ইচ্ছে করে, বহুকে বলতে ইচ্ছে করে। মনের ভেতর গুঞ্জন সৃষ্টি হয় যা আসলে অব্যক্ত, কিন্তু তা ব্যক্ত করার দুঃসাধ্য চেষ্টা আমাদের পেয়ে বসে।
আমরা বেসেছি যারা অন্ধকারে দীর্ঘ শীত-রাত্রিটিরে ভালো:
চমক্ দেয়া চিত্রকল্প, সাংগীতিক মাধুর্য, গভীর বক্তব্য- তেমন কিছুই নেই এখানে; তবু জীবনানন্দ দাশের ‘মৃত্যুর আগে’ কবিতাটির এই পংক্তি আমাকে আলোড়িত করে যায় একমাত্র প্রকৃতিকে যারা প্রতিটি রোমকূপ দিয়ে অনুভব করে– ত্বকে তার স্পর্শ পায়– তারাই এর বক্তব্যকে সনাক্ত করতে পারবে হৃদয়ের মধ্যে। ‘অনুভব’ এই শব্দটির ওপর আমি জোর দিতে চাই। কারণ এখানে মস্তিস্ক দিয়ে বোঝার প্রায় কিছুই নেই। মনে হয়, একটি শীতের রাত তার সমস্ত কুহকী বৈশিষ্ট্য নিয়ে এই বাক্যে উপস্থিত হয়েছে।
প্রকৃতির বহু ঐশ্বর্য আছে যা ঝলমলে; চোখকে নিমেষেই অধিকার করে নেয়। ধরা যাক-একটি ফুলে ফুলে রঞ্জিত কৃষ্ণচূড়া কিংবা ঘোর কৃষ্ণবর্ণ ঝমঝমে বর্ষা। (সম্পূর্ণ…)

কাজুও ইশিগুরো: ১৯৮৯-এ ম্যান বুকার , ২০১৭-এ নোবেল বিজয়

আবদুস সেলিম | ১৫ অক্টোবর ২০১৭ ৯:৪২ অপরাহ্ন

unnamed২০০৯ সালে আমি আমার এক ইংরেজি ফিচারে (৯ই অক্টোবর ২০০৯-এ ‘স্টার ইউকএএন্ড’ প্রকাশিত) কাজুও ইশিগুরোর প্রসঙ্গে কিছু মন্তব্য করেছিলাম। সেখানে বলেছিলাম ঠিক কবে আমি তার লেখা পড়েছি আমার স্মরণে নেই–সম্ভবত ১৯৮৯-এ লেখা তার ‘দ্য রিমেইন্স অফ দ্যা ডে’ উপন্যাসটিই যেটি ঐ বছরই ম্যান বুকার পুরস্কার পেয়েছিল– আমার প্রথম পড়া কাজুওর লেখা। পড়েছিলাম ১৯৯০ সালে এবং বলতে দ্বিধা নেই, আমার এই উপন্যাস পড়াটি কোন বিচারেই সুখকর ছিল না এবং ফলে তার লেখা অপরাপর সাহিত্যকৃতি নিয়ে আমি আর উৎসাহিত বোধ করিনি। কাজুও সম্মন্ধে আমার কৌতুহলের সেখানেই সাময়িক অবসান ঘটে। আমার এই মনোভাবের সমর্থন পরবর্তীতে খুঁজে পাই ‘দ্য টাইমস্’ পত্রিকায় প্রকাশিত নীল মুখার্জির সমালোচনা নিরীক্ষায়। তিনি লিখেছিলেন, কাজুও ইশিগুরো-র পাঁচটি ছোটগল্পের সংকলন ‘নকটার্নস্’ প্রসঙ্গেঁ, “… কাজুও ইশিগুরো তর্কাতিতভাবে অস্পষ্টতা, প্রান্তিক অবস্থান এবং অবিরাম পরিবর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব।” স্পষ্টতই বোঝা যায় নীল-এর মন্তব্য কূটাভাস আকীর্ণ এবং স্ববিরোধীও বটে কারণ একজন গল্প-উপন্যাস লেখক তার গল্পগাঁথুনীতে অস্পষ্ট, প্রান্তিক এবং অবিরাম পরিবর্তমান হয়েও প্রতিভাবান হতে পারে তার উদাহরণ বেশ অপ্রতুল।

অবশ্য উপরোক্ত সমালোচনাটি পড়েই আমি ২০০৯ সালে আরও একবার কাজুও ইশিগুরো পড়ায় উদ্বুদ্ধ হই। আমার এক পরদেশি সংযোগের মাধ্যমে বইটি সংগ্রহ করি। আগেই বলেছি বইটি এক ছোটগল্প সংকলন। সর্বমোট পাঁচটি গল্প সম্বলিত এই বইয়ের একটি উপনামও আছে–‘ফাইভ স্টোরিজ অব মিউজিক এ্যান্ড নাইটফল’-এই সংকলনের মূল শিরোনাম ‘নকটার্নস্’-এর সাথে মিল রয়েছে, যার অর্থ, ‘স্বপ্নিল সংগীতাংশ’। এ বইটি পড়ার অভিজ্ঞাও তেমন আনন্দদায়ক ছিল না আমার যদিও লেখক ভালবাসা, সংগীত এবং সময়ের গতিময়তার কথা পাঁচটি গল্পেরই প্রতিপাদ্য রূপে উত্তম পুরুষীয় বৃত্তান্তে লিপিবদ্ধ করেছে। এই বৃত্তান্তলিপিকে কাজুও ইশিগুরো সংজ্ঞায়িত করেছেন ‘অদ্যন্ত এক সমরূপী, সংগঠিত প্রক্ষেপ রূপে’ অর্থাৎ পুরো সংকলনে এক ঐক্যতানের অন্তস্রোত পাঁচটি গল্পকে একীভূত করেছে। এই অভূতপূর্ব পরিকল্পনাটিই কাজুও ইশিগুরোকে লেখকরূপে স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করে। সম্ভবত ২০১৭ সালে তার সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পাবার একটি অন্যতম মানদন্ড এই স্বাতন্ত্র্য। (সম্পূর্ণ…)

জীবনের অকপট ও অন্তরঙ্গ বয়ানে বারট্রান্ড রাসেল

লীনা দিলরুবা | ১৪ অক্টোবর ২০১৭ ১২:০৬ অপরাহ্ন

Russel picরাসেল-এর আত্মজীবনী-‘দ্য অটোবায়োগ্রাফি অব বার্ট্রান্ড রাসেল’কে পৃথিবীর ইতিহাসে এ-পর্যন্ত লিখিত আত্মজীবনীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ আত্মজীবনী বলা হয়ে থাকে। ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন তিনি। তাকে বিশ্লেষণী দর্শনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিবেচনা করা হয়। জীবনের আলোকিত দিকের গুণকীর্তন কেবল নয়, নিজের জীবনের অন্ধকার দিকের কথা রাসেল তাঁর আত্মজীবনীতে লিখে গেছেন। বয়ঃসন্ধিতে শারীরিক পরিবর্তনের যে অভিজ্ঞতা সেটি তাঁর মনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। স্ব-মেহনের অভ্যেস বিশ বছর পর্যন্ত বজায় রেখে তিনি মনে মনে পুড়তেন। এটি বন্ধ করার অভিপ্রায়ের কথাও বলেন। যখন প্রেমে পড়েন তখন অভ্যেসটি বন্ধ হয়ে যায়। নারী শরীরের প্রতি অতি আগ্রহ কমিয়ে আনতে নানা কায়দা-কানুনের আশ্রয় নিতেন। কিন্তু এক সময় এসব নিয়ে মনোযাতনায় ভুগলেও বিষয়গুলিকে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান অর্জন ধারণা করে মানসিক ব্যাধিগ্রস্ততা বলে মনে করতেন না। নারী শরীরের প্রতি মোহমুগ্ধতার কারণেই কবিতার প্রেমে পড়ে যান। ষোল-সতের বছর বয়সেই মিলটন, বায়রন, শেলীর কবিতা পড়ে শেষ করেছিলেন। তাঁর প্রকৃত নাম বার্ট্রান্ড আর্থার উইলিয়াম রাসেল। ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করা এই মহান দার্শনিক ৯৭ বছর আয়ু পেয়েছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

কাজুও ইশিগুরোর দ্য রিমেইন্স অফ দ্য ডে – এক আত্মপ্রতারকের প্রতিকৃতি

যুবায়ের মাহবুব | ৬ অক্টোবর ২০১৭ ৩:৫৫ অপরাহ্ন

Kazuo-1পাঠকসমাজে যুগপৎ বিস্ময় ও পুলক সৃষ্টি করে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতলেন কাজুও ইশিগুরো। বিস্ময়, কারণ আলাপটা মোটামুটি সীমাবদ্ধ ছিল মুরাকামি-নগুগি-কাদারে-আদুনিস-অ্যাটউড এই কয়েকজনকে ঘিরে। পুরস্কারের কয়েকদিন আগেও মার্কিন পত্রিকা নিউ রিপাবলিক প্রায় ৮০জন সম্ভাব্য বিজয়ীর তালিকা বানিয়ে যে প্রবন্ধ ছেপেছিল, সেখানে ইশিগুরোর নাম একবারও উচ্চারিত হয়নি। পুরোদস্তুর আউটসাইডার হিসেবেই ছিনিয়ে নিলেন তিনি এবারের নোবেল। তদুপরি, টানা দুই বছর একই ভাষার লেখককে পুরস্কৃত করার রেওয়াজ নেই খুব একটা, বব ডিলানের পরপরই ইশিগুরোকে সম্মানিত করে সুইডিশ একাডেমি সেই সমীকরণটাও ভেঙে দিলেন।

আর পুলক, কারণ তার লেখনীর সাথে যারা পরিচিত, তারা জানেন ইশিগুরোর কলমের প্রকৃত শক্তি। জানেন যে ওঁর শ্রেষ্ঠ বইগুলো সঙ্গত কারণেই আধুনিক সাহিত্যের সেরা সংগ্রহের মাঝে স্থান করে নিয়েছে, ইতিমধ্যে অনূদিত হয়েছে চল্লিশটি ভাষায়।

এতক্ষণে সবাই জেনে গেলেও জীবনীটি আরেকবার ঝালাই করাই যায়। এটম বোমা বিস্ফোরণের নয় বছর পরে ১৯৫৪ সালে জাপানের নাগাসাকিতে জন্মগ্রহণ করেন কাজুও ইশিগুরো। তার বয়স যখন ছয়, তখন পুরো পরিবার চলে আসে বিলেতে, লন্ডনের অদূরে সারে কাউন্টিতে বেড়ে ওঠেন তিনি। পড়াশোনা কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে, অতঃপর ঈস্ট অ্যাঙ্গলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত ক্রিয়েটিভ রাইটিং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন, এবং সেখান থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। এই প্রোগ্রাম থেকেই বেরিয়ে আসে তার প্রথম উপন্যাস, ১৯৮২ সালে। (সম্পূর্ণ…)

সাহিত্যে নোবেল : কাজুও ইশিগুরোর উপন্যাসের অত্যাশ্চর্য ভুবন

কামরুল হাসান | ৬ অক্টোবর ২০১৭ ৯:৪৯ পূর্বাহ্ন

Ishiguroসবাইকে চমকে দিয়ে এবছরের সাহিত্যে নোবেল পেলেন এমন একজন লেখক যার নামটি গত কয়েক বছরের নোবেল পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ওঠেনি, বাজিকরদের হাঁকডাকের মাঝেও তিনি ছিলেন না। সাম্প্রতিক সময়ে নোবেল কমিটি সাহিত্য দুনিয়াকে চমকের পর চমক উপহার দিয়ে চলেছে; সকল অনুমান ও প্রত্যাশাকে উল্টে দিয়ে তারা ধ্রুপদী অর্থে সাহিত্যিক নন এমন ব্যক্তিদেরও পুরস্কারের আওতায় নিয়ে এসেছেন। গত বছর তারা পুরস্কারটি দিলেন কোন ঔপন্যাসিক বা কবিকে নন, একজন সঙ্গীতস্রষ্ট্রা বব ডিলানকে, তারও আগে একজন সাংবাদিককে যিনি চেরনোবিল দুর্ঘটনা ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ নারীদের স্মৃতিকথা সংগ্রহ করেছিলেন। দুটো পুরস্কারই তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল সাহিত্যমোদী দুনিয়ায়, কিন্তু নোবেল কমিটির সদস্যরা সেসব গ্রাহ্য করেন নি। তারা চেয়েছিলেন সাহিত্যের সংজ্ঞার পরিধি বাড়াতে। এবার নোবেল ফিরে এলো সাহিত্যের প্রচলিত ঘরানায়- উপন্যাসে– সাহিত্যের যে শাখাটি অন্য সব শাখাকে বারংবার হারিয়ে দিয়েছে ঐ পুরস্কার প্রাপ্তির বিবেচনায়। এবার যিনি পেলেন তিনি জাপানি বংশোদ্ভূত, শুনে মনে হবে এবার পুরস্কারটি বুঝি জাপানের ঘরে গেল। কিন্তু জাপানের নাগাসাকিতে জন্ম নেয়া কাজুও ইশিগুরোর আর কোন জাপানি পরিচয় নেই। শৈশবে পাঁচ বছর বয়সে মা-বাবার সাথে জাপান ছেড়ে আসার পর তিনি প্রথম জাপান সফরে গিয়েছিলেন ৩৮ বছর বয়সে এক সাহিত্যসভায় যোগ দিতে। তাঁর বেড়ে ওঠা ও শিক্ষা ইংল্যান্ডে, তিনি লিখেনও ইংরেজিতে, নোবেল পুরস্কারটি জাপান নয়, গেছে ইংল্যান্ডের থলিতে, যে ভাষাটি পুরস্কার পেল সেটি জাপানি নয়, ইংরেজি। তবে তার মানে এই নয় যে তিনি অখ্যাত কোন লেখক, আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যের পরিমণ্ডলে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হয় তার নাম, সাহিত্যের জন্য অনেক আগেই জিতেছেন মান বুকার প্রাইজ এবং আরও কিছু পুরস্কার। রানী তাকে ‘অর্ডার অব ব্রিটিশ আম্পায়ারে’ ভূষিত করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যে জাপানি লেখকের নাম ঘুরে-ফিরে নোবেল কমিটির সংক্ষিপ্ত তালিকায়, বুকিদের অনুমান ও বোদ্ধাদের ধারণায় থাকতো তিনি হারুকি মুরাকামি, কাজুও ইশিগুরো নন। সুতরাং তাঁর নোবেল প্রাপ্তি কেবল সাহিত্য দুনিয়াকেই চমকিত করেনি, স্বয়ং লেখক ভীষণ চমকে গেছেন। প্রথমে ভেবেছিলেন ভুল শুনেছেন বা কেউ তার সাথে মজা করছে। তিনি তার বিস্ময় লুকান নি, বলেছেন এটা অপ্রত্যাশিত এক আনন্দ বয়ে এনেছে। নোবেলের ইতিহাসে এ পর্যন্ত যে ১১৪জন সাহিত্যিককে এই বিরল সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে তাদের সারিতে উঠতে পারাটা গর্বের। নোবেল প্রদানের ঘোষণায় সুইডেনের নোবেল কমিটি ইশিগুরোর উপন্যাসের ‘প্রবল আবেগময় শক্তি’ ও ‘জগতের সাথে সম্পর্কে নির্মাণে আমাদের যে ইন্দ্রিয়জ বিভ্রান্তি জন্মে তার সুগভীরতা’ তুলে ধরার প্রশংসা করেন। (সম্পূর্ণ…)

বৌদ্ধ প্রবারণা উৎসব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি

ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় | ৫ অক্টোবর ২০১৭ ৮:৩৩ অপরাহ্ন

gautama.jpgশুভ প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধদের আনন্দময় উৎসব। ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত পালন শেষে প্রবারণা পূর্ণিমা আসে শারদীয় আমেজ নিয়ে। প্রবারণার আনন্দে অবগাহন করেন সকলেই। এটি সর্বজনীন উৎসব। আকাশে উড়ানো হয় নানা রকম রঙ্গিন ফানুস যেটাকে আকাশ প্রদীপও বলা হয়। নদীতে ভাসানো হয় হরেক রকমের প্যাগোডা আকৃতির জাহাজ । সবাই আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে নানা রকমের কীর্তন, গান গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। আবহমান বাংলার সংস্কৃতি, কৃষ্টিকে তুলে ধরে উৎসবের মধ্যে দিয়ে। এ উৎসব আশ্বিনী পূর্ণিমাকে ঘিরে হয়ে থাকে। এ পূর্ণিমায় বৌদ্ধদের তিন মাসব্যাপী আত্মসংযম ও শীল- সমাধি, প্রজ্ঞার সাধনার পরিসমাপ্তি ও পরিশুদ্ধতার অনুষ্ঠান বলে বৌদ্ধ ইতিহাসে এ পূর্ণিমার গুরুত্ব অপরিসীম । ফলে এ পূর্ণিমা বৌদ্ধদের কাছে দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসবে রূপ পেয়েছে ।
আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা – এ তিন মাস বৌদ্ধদের কাছে বর্ষাবাস বা ব্রত অধিষ্ঠান হিসাবে পরিচিত । বর্ষার সময় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে দেখে ভগবান বুদ্ধ ভিক্ষু সংঘকে তিন মাস বিহারে অবস্থান করে শীল – সমাধি — প্রজ্ঞার সাধনা করার জন্য বিনয় প্রজ্ঞাপ্ত করেন । সেই থেকেই তিনমাস বর্ষাব্রত অধিষ্ঠান পালনের শুরু । গৃহী বৌদ্ধরাও এ তিনমাস ব্রত পালন করে থাকে । এ তিমাস ব্রত পালনের পরিসমাপ্তি প্রবারণা । প্রবারণার আনন্দকে সবাই ভাগাভাগি করে নেয় । প্রবারণার অর্থ আশার তৃপ্তি, অভিলাষ পূরণ , ধ্যান সমাধির শেষ বুঝালেও বৌদ্ধ বিনয় পিটকে প্রবারণার অর্থ হচ্ছ ত্রুটি বা নৈতিক স্খলন নির্দেশ করাকে বুঝায়। অর্থ্যৎ কারও কোন দোষ ত্রুটি বা অপরাধ দেখলে তা সংশোধন করার সনিবন্ধ অনুরোধ। (সম্পূর্ণ…)

জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা

ফরিদ আহমদ দুলাল | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১:১৩ পূর্বাহ্ন

nurul-huda-1.jpgকবি ও কাব্যকোবিদ মুহম্মদ নূরুল হুদার সাহিত্যজীবনকে যদি ব্যবচ্ছেদ করা যায়, দেখবো, অগ্রজ-সমসাময়িক বন্ধু এবং পরবর্তী প্রজন্মের অনুজ কবিদের এবং তাঁদের কবিতা সম্পর্কে অসংখ্য গদ্য লিখেছেন তিনি, লিখেছেন নানান সামাজিক- সাংস্কৃতিক- রাজনৈতিক নিবন্ধ, আত্মজৈবনিক গদ্য- স্মৃতিকথা এবং শিল্প-সাহিত্যের নানান অনুষঙ্গ নিয়ে বিস্তর রচনা। তাঁর এসব গদ্য রচনার প্রবণতা, দায় এবং উপলক্ষ নিয়ে ভাবতে বসলে অবাক হতে হয়। তাঁর গদ্যে যেমন আছে স্বীকৃতি, তেমনি আছে স্বীকারোক্তি। সব রচনায়-ই যে তাঁর সুদূর পরিকল্পনার আভাস পাওয়া যাবে তা নয়, বরং অধিকাংশের ক্ষেত্রেই লক্ষ করা যাবে সাময়িক আবেগ। এবং একটি আবেগকে যখন অন্য একটি আবেগ ভাসিয়ে নিয়ে যায় তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় আগের আবেগটি খোয়া গেছে; যদি পূর্ব পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনার ছক কাটা থাকতো তবে নিশ্চয়ই পরিকল্পনা অনুযায়ী সব গুছিয়ে রাখতেন এবং গুছিয়ে করতেন। অবশ্য রবীন্দ্রনাথের মতো এমন গোছানো লেখক ক’জনই বা আছেন বাংলা সাহিত্যে? সে অর্থে মুহম্মদ নূরুল হুদা সেই ধারার লেখক যাঁকে আবিষ্কারের জন্য প্রয়োজন হয় আরও অনেক ক’জন গবেষকের। নিষ্ঠ গবেষকের অভাবে এ ধারার লেখকরা অনেক সময় কালের আবর্তে হারিয়ে যান এ কথাও মিথ্যে নয়। কিন্তু মুহম্মদ নূরুল হুদার বিস্তৃতি ও ব্যাপ্তি, তাঁর প্রজ্ঞা ও মনীষা, সমাজঘনিষ্ঠতা এবং মানুষের সাথে সম্পৃক্তি এতটাই গভীর, যে তাঁকে হারিয়ে ফেলা প্রায় অসম্ভব। (সম্পূর্ণ…)

নূরুল হুদার কাব্য: বিষয় ও রূপের রসায়ন

মতিন বৈরাগী | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন

nurul.gifপ্রতিভাধর কবি, সাহিত্যিক,শিল্পী কখনোই জীবনবিমুখ হন না। সৃষ্টিতে নানা ব্যতিক্রম থাকলেও তাঁদের প্রতিভার প্রকাশ শেষমেষ মানুষের পক্ষে থেকে যায় । দা’ ভিঞ্চি বলেছিলেন ‘একজন শিল্পী তখনই শিল্পী যখন অন্য মানুষের চকিতে অনুভব করা সত্যকে সৃষ্টিযোগ্য বিষয় রূপে দেখেন’ । বহু কবিতার বিশাল ভাণ্ডার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার। তাঁর কবিতাগুলো সবটাই পড়ে নিয়ে একজন পাঠকের দু’কথা বলতে হলে অনেক সময় ও ভাবনার প্রয়োজন। তবু কোনো সচেতন পাঠক লক্ষ করলেই দেখতে পাবেন যে তাঁর ব্যাপক সৃষ্টিতে নানামুখী বৈচিত্র্য রয়েছে। তিনি যেমন বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে মনোযোগী থেকেছেন তেমনি বিষয়কে বলবার ক্ষেত্রে রূপের নতুনত্ব এনেছেন। এ কারণে তার কবিতা একঘেয়েমীতে পড়ে না, এবং প্রায় কবিতা ‘ন্যারেটিভ বা বিমূর্তভাবনা মূর্তায়নের ইঙ্গিতময় হোক’, এমন নির্মাণগুণে পারঙ্গম হয়েছে দৃশ্য ও ভাবযোজনায় বহুতল সৃষ্টিতে। ইদানিং প্রকাশিত কাব্য ‘বেদনার বংশধর’ অন্যরকম ভাব অনুসন্ধানের কাব্য পাঠকচিত্তকে নানাভাবে দোলায়িত করবে।

‘অনন্ত বসন্ত এসে
অনন্তর খেলে কানামাছি;
আছি তবু আছি,
চিবুকে চিবুক রেখে
হৃদয়ের খুব কাছাকাছি
***
আমরা আদম হাওয়া
বেদনার চির বংশধর’ [ বেদনার বংশধর] (সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদার প্রবন্ধ: রোহিঙ্গারাও যেহেতু মানুষ

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১১:০৫ অপরাহ্ন

Rohingaরোহিঙ্গা সমস্যার মূল সমাধান নিহিত রয়েছে রোসাঙ্গ রাজ্যের মাটিতে। এ রাজ্যের মাটিতে যাঁদের জন্ম, বংশপরম্পরায় এখানে যাঁদের বসবাস, যাঁরা এই রাজ্যের ভূমিপুত্র বা ভূমিকন্যা, তাঁদেরকে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দিতে বাধা কোথায়? তাদের জানমালের নিরাপত্তা কেন দেবে না বা দিতে পারবে না মিয়ানমার সরকার বা তথাকথিত শান্তিনারী অং-সাং-সুচি বা তাঁর অনুগত সাঙ্গপাঙ্গরা? তাদেরকে বাধ্য করার দায়িত্ব অবশ্যই জাতিসঙ্ঘ ও বৃহৎশক্তিরূপী বিশ্বমোড়লদের।

নিরাপত্তা বলয় তো করা যেতেই পারে, কিন্তু সেটা সাময়িক সমাধান। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে স্বায়ত্তশাসিত পৃথক রোসাঙ্গ রাজ্যগঠন ছাড়া স্থায়ী সমাধান হবে না কখনো। গত কয়েকশ বছরের নৃশংসতা অন্তত সেই কথাই বলে। আমাদের প্রস্তাবিত স্বায়ত্তশাসিত রোসাঙ্গ রাজ্যের শাসন ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বও দিতে হবে রোহিঙ্গাদেরকেই। তাহলেই প্রতিষ্ঠিত হবে রোহিঙ্গা-শান্তি। অন্য কোনোভাবে এই শান্তি আসার পথ সহজে চোখে পড়ে না।

আপাতত বাংলাদেশসহ পৃথিবীর নানাদেশে প্রকৃত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসন তথা নিরাপদ বসতি নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ তো করছেই যথাসাধ্য। শরণার্থী শিবির ছাড়াও কক্সবাজারসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের এমন কোনো চর, পাড়া, ঘোনা, মুড়া বা টিলা নেই যেখানে অশনাক্ত রোহিঙ্গা বসতি নেই। এভাবে প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে, বলা যতে পারে, নিজেদের সাধ্যাতীত করছে এদেশের জনগণ ও সরকার। কিন্তু কি করছে চীন, ভারত বা আশেপাশের অন্য বড় দেশগুলো? কেবল কতিপয় ইসলামি দেশের কিছু মিটিং-মিছিল দিয়ে সমাধান আসবে না। তাতে বরং রোহিঙ্গাদেরকেই ঘায়েল করার কুযুক্তি পাবে ঘাতকেরা। বিশ্বের অপেক্ষাকৃত নিরপেক্ষ ও স্বল্পবসতিপূর্ণ বড় বড় কিছু দেশে তাদের সাময়িক বা স্থায়ী পুনর্বাসন করতে বাধা কোথায়? (সম্পূর্ণ…)

নির্মলেন্দু গুণ: মায়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চাই

নির্মলেন্দু গুণ | ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৫:১৪ অপরাহ্ন

Rohingyaনিরস্ত্র নিরপরাধ রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর বার্মার সৈনিকদের বর্বর অত্যাচারের যে ভিডিওচিত্রগুলি আড়চোখে দেখলাম, তাতে প্রশ্ন জাগলো মনে, ১৯৭১ সালের পাক-সেনারা কি তুলনামূলকভাবে কম নিষ্ঠুর ছিলো?
১৯৭১ সালে পাকসেনাদের অত্যাচারের ভিডিও চিত্র ধারণ করা আজকের মতো সহজ ছিলো না বলে,
আমার এমনটি মনে হতে পারে।

আমি বিভিন্নসূত্রে ফেইসবুকে আপলোডকৃত মায়ানমারে ঘটতে থাকা নির্মমতার ভিডিওচিত্রগুলি আড়চোখে দেখেছি। ঐ রকমের মানব-পীড়নের দৃশ্য সোজা চোখে দেখার সাহস আমি সঞ্চয় করতে পারিনি।
আমার পক্ষে মায়ানমারের রাজনেতিক নেতৃত্বের ঔদ্ধত্ব এবং তার বর্বর সেনাদের এই অবিশ্বাস্য অমানবিক আচরণ মেনে নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমি ঘুমাতে পারছি না।

আমি মনে করি, বাংলাদেশের পক্ষে বার্মা সরকারের যথেচ্ছাচারের নীরব দর্শক হয়ে সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকার সুযোগ নেই। শয়তানদের সমুচিত জবাব দেবার জন্য এখন আমাদের সীমান্ত অতিক্রম করার সময় এসেছে। মায়ানমারের সামরিক জান্তা ও শান্তির জন্য নোবেলজয়ী অশান্তি বেগমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার কথা এখনই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হোক। অনেক হয়েছে, আর নয়। (সম্পূর্ণ…)

কুমার চক্রবর্তীর প্রবন্ধ: প্রেমের স্বর্গ নরক

কুমার চক্রবর্তী | ৩১ আগস্ট ২০১৭ ১:১০ অপরাহ্ন

rene magritteপ্রেম: যেন নিষিদ্ধ দরজার উন্মোচন,
সেই প্রস্থানপথ
যা আমাদের পৌঁছে দেয় সময়ের অন্য পারে।
মুহূর্তটি: মৃত্যুর বিপ্রতীপতা,
আমাদের ভঙ্গুর শাশ্বততা।
ভালোবাসা মানে সময়ের গভীরে আত্মকে হারিয়ে ফেলা,
অসংখ্য আয়নার ভেতর এক আয়না হয়ে ওঠা।

[বিশ্বাসপত্র: ভেতরে একটি গাছ: অক্তাবিয়ো পাস]
হেসিয়োদ তাঁর বিশ্বসৃষ্টির কাহিনিতে বলেছেন, শুরুতে ছিল অন্ধকার আর নিঃসীম শূন্যতা। এই আকারহীন শূন্যতা থেকে জন্ম নিল দুই সন্তান: রাত্রি আর এরিবাস, রাত্রি হলো অন্ধকার আর এরিবাস হলো অনন্ত গভীরতা যেখানে মৃত্যুর বসবাস। এছাড়া বিশ্বে আর কিছুই ছিল না। তারপর বিশাল বিস্ময়ের মাঝে অসীম শূন্যতা থেকে রহস্যজনকভাবে জন্ম নিল সেরাটি। আরিস্তোফেনেসের ভাষায়, কালো ডানার রাত্রি অন্ধকার এরিবাসের বুকে পাড়ল এক বাতাসতাড়িত ডিম্ব আর ঋতুচক্র সামনে এলে স্বর্ণময় ডানা থেকে জেগে উঠল আকাঙ্ক্ষিত ‘‘প্রেম’’। প্রেম থেকে এল ‘‘আলো’’ আর তার সহচর হিসেবে ‘‘দিন’’।
জার্মান মনস্তত্ত্ববিদ ও যৌনসংস্কারক ইভান ব্লোখ তাঁর আমাদের সময়ের যৌনজীবন: আধুনিক সভ্যতার সাথে তার সম্পর্ক গ্রন্থে বলেছেন, ‘‘প্রেমের ইতিহাস হলো মানবতার, সভ্যতার ইতিহাস।’’ ব্লোখ বলতে চেয়েছেন, সভ্যতার ইতিহাস এবং অস্তিত্বের উচ্চতর ভাবের প্রতি মানুষের অগ্রগমন যৌনানুশীলনের পরিবর্তনের দ্বারা মৌলিকভাবে প্রভাবিত হয়, আর এর কারণেই যৌনতার ইতিহাস নির্মাণে মানুষ তৎপর হয়ে ওঠে, গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে শরীরকে বোঝার বিষয়াদি। প্লাতোন বলেন, প্রেমের অভিজ্ঞতা হলো এমন কিছুর জন্য অস্থিরতা যা আসলে এক ধারণা, এজন্যই প্রেম-উচাটনে সর্বজনীনতার বিষয় নিহিত থাকে। দান্তে তাঁর নবীন জীবন-এ বলেছেন, প্রেম কোনো বস্তুতে নিহিত আপতিক গুণ; তার মানে দান্তে বলতে চেয়েছেন, বস্তুটি হলো মানুষ, এবং গুণটি শরীরী:
…আমার কথায় প্রেমের স্বকীয় সত্তাকে আমি এক বস্তু রূপে ধরেছি,–শুধু চেতনাযুক্ত সত্তারূপে নয়, কিন্তু দেহধারী পদার্থ রূপে। প্রকৃতপক্ষে এইটি অলীক, কারণ প্রেম স্বয়ং এক বস্তু নয়, তা কোনো বস্তুতে নিহিত আপতিক গুণ। আামি তার সম্বন্ধে তিনটি ব্যাপার বলেছি যা থেকে স্পষ্ট যে আমি তাকে যেন শরীরী, এমনকি যেন মানুষের মতো ধরি। বলেছি, আমি তাকে আসতে দেখি। যেহেতু আগমন স্থানীয় গতি বোঝায়, এবং স্থানীয় গতি সেই দার্শনিকের (অ্যারিস্টটলের) মতানুসারে কেবল অবয়বধারীর থাকতে পারে, তাই মনে হয় প্রেমকে আমি দেহী ধরি। আমি আরও জানিয়েছি সে হেসেছিল, আর কথাও বলেছিল। মনে হয় এসব, বিশেষত সহাস হওয়া, এক মানবিক গুণ। তাই দেখিয়েছে, আমি তাকে মানুষ ধরি।
[অনুবাদ: শ্যামলকুমার গঙ্গোপাধ্যায়] (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com