.

প্রদীপ করের পাঁচটি কবিতা

প্রদীপ কর | ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১০:৪৯ অপরাহ্ন


অপরিচয়

হঠাৎ বৃষ্টির শেষে, শহরের বিশ্রী ঘেরাটোপে
গাড়ির জানলায় টোকা দিলো এক ভ্রমরকালো ছেলে
হাতে গোলাপের তোড়া।

অর্ধপ্রস্ফুটিত একগুচ্ছ গোলাপের পাশে ছেলেটির মুখ
উগ্র নোংরা আর বিশুদ্ধ কুৎসিত লাগে।

শুধু বালকের অপলক চোখ, তার সকরুণ চোখের আলোয়
গোলাপের পাপড়িগুলি ম্রিয়মান

ঝরে পড়ে আমার গভীরে।…

হাসি

হুইলচেয়ারে বসে হাসলে
ঝিলমিল করে উঠলো কাঞ্চনজঙ্ঘা।

এটা দক্ষিণভারতের কোনো হাসপাতাল নয়,
তুমিও নিছক কোনো শিশু নও
অসুখ নামের কোনো চিরায়ত পাতা
উড়ে এসে পড়েনি এখানে। (সম্পূর্ণ…)

বিরিয়ানি — যাত্রা থেকে গন্তব্য

তানবীরা তালুকদার | ২২ আগস্ট ২০১৮ ৮:২০ পূর্বাহ্ন


যদিও বিরিয়ানি এখন আমাদের নিজস্ব খাদ্য হিসেবেই পরিচিত কিন্তু তারপরও কি জানতে ইচ্ছে করে না কিভাবে কখন কোথা থেকে এ খাবারটি আমাদের দেশে এসেছে?

বিরিয়ানি’র যাত্রা ইরান থেকে শুরু হয়েছে এ নিয়ে খুব বেশি সন্দেহের অবকাশ নেই, পার্সিয়ান শব্দ “বিরিয়ান” যার আক্ষরিক মানে রান্নার আগে ভেজে নেওয়া। আর পার্সি শব্দ ব্রিনিজ মানে হচ্ছে চাল। এ শব্দটি যে বিরিয়ানি নামের উৎস সে ব্যাপারে মোটামুটি সবাই নিশ্চিত। এ পক্ষের দাবি বিরিয়ানিটা পশ্চিম এশিয়া থেকেই ভারতে এসেছে। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের মাধ্যমে উৎপত্তি লাভ করে। ইরানে “ডেগ” মানে হাড়ি যাতে মসলা মাখানো মাংস খুব কম জ্বালে বসিয়ে রেখে মাংসের ভেতরের নিজের রসেই এটিকে
সেদ্ধ করা হতো যাকে বলা হতো “দমে” দেয়া আর তার সাথে স্তরে স্তরে দেয়া থাকতো চাল আর সুগন্ধি মশলা। বিরিয়ানিতে কমপক্ষে ১৫ ধরনের মসলার ব্যবহার হয় যার মধ্যে কেওড়া পানি, জাফরান, গোলাপ জল কিংবা আতর থাকেই। হাড়িতে দেয়ার আগে চাল মৃদ্যু ভাজা হত।

ইতিহাসের পাতায় খাবারের ব্যাপারটা বেশ গুরুত্ব দিয়েই উল্লেখ করা থাকে। পনের শতাব্দী থেকে উনিশ শতাব্দী পর্যন্ত মুঘল শাসনামলে ভারতে, পোলাও, কাবাব, বিরিয়ানি ইত্যাদি’র আগমন ও চর্চা হয় ব্যাপক আকারে। এ নিয়ে একটি গল্পও প্রচলিত আছে, বলা হয় সম্রাট শাহজাহানের বেগম মমতাজ (১৫৯৩- ১৬৩১) একবার সেনাদের ছাউনি পরিদর্শনে যান এবং সেনাদের দেখে তাঁর মনে হয়েছিলো, সৈন্য’রা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। তিনি তখন সৈন্যদের বাবুর্চিকে তাদের জন্যে পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করতে বলেন, সেই থেকেও হয়ত চাল, মাংস, ঘিতে রান্না এই সুস্বাদু খাবারটি’র প্রচলন হয়ে থাকতে পারে। মুঘলরা সারা বিশ্বে চরম বিলাসি জীবন যাপনের জন্যে বিখ্যাত। এই খাবারটি সাধারণত মুঘলদের বিশেষ অনুষ্ঠানে পরিবেশন হত। নিঃসন্দেহে ভারতে এই খাবারটি বিভিন্ন স্বাদে ও বৈচিত্র্যে প্রচার ও প্রসার লাভ করে। (সম্পূর্ণ…)

ভূমেন্দ্র গুহ: পশ্চিমবঙ্গ বলে একটা দেশ যার কোনো পিতা নেই, মাতা নেই, চরিত্র নেই, কিচ্ছু নেই

রাজু আলাউদ্দিন | ১০ আগস্ট ২০১৮ ৫:৫৯ অপরাহ্ন


২০১৫ সালের ৪ এপ্রিল একেবারে অপরিকল্পিতভাবেই দেখা হয়েছিল কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক ভূমেন্দ্র গুহর সাথে কোলকাতায় তার নিজস্ব বাসভবনে। অসামান্য এই ব্যক্তিত্বের সাথে দেখা করার সুযোগটা করে দিয়েছিল আমার বন্ধু কবি রাহুল পুরকায়স্থ। বিকেলের দিকে রাহুলের সাথে কফি হাউজে দেখা করার কথা। লক্ষ্য ওখানে বসে আড্ডা দেয়া কিংবা রাহুলের হাত ধরে কোলকাতার অলিগলি ঘুরে দেখা। কফি হাউজে পৌঁছাতেই রাহুল বললো, ভূমেনদার সাথে তোমার কখনো আলাপ হয়েছে, পরিচয় আছে তার সাথে? আমি বললাম, এই মশহুর মানুষটির খ্যাতির সুবাস পাচ্ছি অনেক বছর থেকেই, কিন্তু কোনদিন দেখা সাক্ষাৎ হয়নি। দেখা হয়নি কখনো? না। তাহলে চলো ভূমেনদার সাথে তোমার দেখা করিয়ে দেই। সে কি? এখনই? হ্যাঁ, অসুবিধা আছে কোনো? না না, অসুবিধা নেই। আমিতো ভাবতেই পারছি না কিংবদন্তীতুল্য এই মানুষটির সাথে এত সহজেই দেখা করা সম্ভব। রাহুল আমার বিস্ময়সূচক সম্মতি পেয়েই বলে উঠলো, চলো তাহলে। কিন্তু তাকে আগে জানাবে না যে আমরা আসছি? রাহুল প্রায় তোয়াক্কাহীন ভঙ্গিতে বললো, বলতে হবে না, চল। তক্ষুণি একটা ট্যাক্সি ধরে আমরা রওয়ানা হয়ে গেলাম করুণময়ী সল্ট লেকের দিকে। তখন বোধহয় কোন এক ছুটির দিন ছিল সেটা। রাস্তাঘাট বেশ ফাঁকা। রাহুল মাঝেমধ্যেই কথার ফাঁকে ফাঁকে আশেপাশে কী যেন খুঁজছিল। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম বোধহয় ভূমেনদার বাড়ি খুঁজছে। কী খুঁজছ জিজ্ঞেস করে তখন কোনো সদুত্তর পাইনি। এর উত্তর পাওয়া গেল পরে, ভূমেনদা আর রাহুলের আলাপচারিতার ভেতরে। সম্ভবত ২০/২৫ মিনিট লেগেছিল তার বাসায় পৌঁছুতে। সুউচ্চ এক ফ্ল্যাট বাড়ির তৃতীয় তলায় গিয়ে রাহুল কলিং বেল-এ টিপ দিতেই এক যুবতী নারী দরজা খুলে দিলেন। সম্ভবত ভূমেনদার মেয়ে হবেন। ভূমেনদা আছেন না?–এটা প্রশ্ন হলেও রাহুল এমনভাবে বললো যেন ভূমেনদা আছেন, রাহুলের এতে কোনো সন্দেহ নেই। স্রেফ সৌজন্যের খাতিরে জিজ্ঞেস করে প্রবেশ করতে হয়, তাই এই প্রশ্ন। সেই নারী আমাদেরকে অতিথি কক্ষে বসিয়ে ভূমেনদাকে ডাকতে গেলেন। অতিথি কক্ষের দক্ষিণদিকে একটা দরজা যেটা যুক্ত হয়েছে এই বাসার একদিলের বারান্দার সাথে। ওখানে একটা
জলচৌকিতে বসে উবু হয়ে বসে আছেন তিনি, চারিদিকে শিশুর খেলনার মতো পাণ্ডুলিপি অার বইপত্র ছড়ানো ছিটানো। পরনে একটা চেক লুঙ্গি, গায়ে হাতাকাটা গেঞ্চি। রাহুলের আওয়াজ পেয়েই তিনি কাত হয়ে রাহুলকে দেখতে পেয়ে উঠে এলেন অতিথি কক্ষে। গায়ের রং ফর্সা। তিনি প্রবেশ করতেই রাহুল তার সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দিলেন। আমি উঠে দাঁড়িয়ে তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলাম। আমার সম্পর্কে রাহুল এটা সেটা বললো, প্রথম পরিচয় করিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা যেমনটা করি থাকি। রাহুলের দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন, সাহেবকে নিয়ে এলেন, কিন্তু ‘জিনিস’ নিয়ে এলেন না যে। আমি সঙ্গে সঙ্গেই বুঝে ফেললাম এই ‘জিনিস’-এর মানে। রাহুল জবাবদিহির ভঙ্গিতে জানালো, খুঁজেছি, পেলাম না। সবগুলোই বন্ধ পেলাম। ভূমেনদা রাহুলের উত্তরে নির্বাপিত না হয়ে অন্য একটা ঠিকানা দিলেন। রাহুল সেখানে যেতে উদ্যত হতেই, আমি সদ্য জ্বলে ওঠা উৎসাহের শিখাটিকে ফু দিয়ে নিভিয়ে দেয়ার জন্য বললাম, ভূমেনদা, আজ নয়, কারণ বৌবাচ্চাদেরকে হোটেলে রেখে এসেছি। ওরা ক্লান্ত হয়ে ঘুমাচ্ছে। উঠেই আমার উপস্থিতি আশা করবে। সুতরাং, পরের বারের জন্য এই আতিথেয়তা বরাদ্দ থাকুক। ভূমেনদার বয়স তখন ৮২ বছর, এই বয়সেও তিনি দিব্য সিগারেট ফুকছেন, এমনকি সোমরসেও তার আসক্তি অটুট আছে দেখে আমি সত্যি অবাক হয়েছি। নিজে ডাক্তার ছিলেন, খুবই বড় নামকরা ডাক্তার। কিন্তুু বাঙালি-কথিত এইসব ‘বদভ্যাস’ থেকে নিজেকে একটু দূরে সরিয়ে রাখেননি। তার সাথে এটা সেটা টুকটাক কথাবার্তা চলতেই আমি তার সাথে কথাবার্তা রেকর্ড করার অনুমতি এক প্রশ্ন করার অনুমতি চাইতেই তিনি উদারতার সাথে সম্মতি দিলেন। প্রয়াত ভূমেনদার সাথে আমার আলাপচারিতার পূর্ণ বিবরণটি এখানে প্রকাশ করা হলো। বিডিআর্টসের পাঠকের জন্য অপ্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারটি শ্রতি থেকে লিপিরূপটি তৈরি করেছেন তরুণ গল্পকার অলাত এহসাত।–রাজু আলাউদ্দিন। (সম্পূর্ণ…)

সানাউল হক খানের পাঁচটি কবিতা

সানাউল হক খান | ২৭ জুন ২০১৮ ৮:৩৬ অপরাহ্ন


অলংকরণ:ফাহমিদা জামান ফ্লোরার চিত্রকর্ম

আমার স্বপ্নমোহবন্ধন

অপরের কাছে থেকে
কতোবার যে নিজেকে
চড়ামূল্যে খরিদ করেছি
তার হিসেব রাখিনি

কতোবার যে নিজেকে
অল্পদামে বিক্রি করে
সেই ভুলেরই মাশুল গুনেছি
তার হিসেবও জানা নেই
অসুখীর হৃদয়ে সুখ দিয়ে
দুুখী মানুষের কাতারে দাঁড়িয়েছি
অভাবীর মতো নষ্ট-স্বভাবে

রৌদ্রকে ছায়া দিয়ে
ছায়াকে রৌদ্র দিয়ে
নাড়িয়ে দিয়েছি প্রকৃতির বুক

আমার ইচ্ছাগুলোই আমার শব্দ
আমার স্বাধীনতা
আমার স্বপ্নমোহবন্ধণ (সম্পূর্ণ…)

স্মৃতিযাপন : খোন্দকার আশরাফ হোসেন

সৈয়দ তারিক | ২৪ জুন ২০১৮ ১০:১৯ পূর্বাহ্ন

ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ৮২-৮৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হলাম সম্মান শ্রেণিতে। অবশ্য আমার ইচ্ছে ছিলো বাংলা সাহিত্য পড়বার। অগ্রজপ্রতিম আফজালুল বাসার ভাই আমাকে ভজিয়েছিলেন যে সাহিত্যচর্চার জন্য সহায়ক হবে ইংরেজি বিভাগের পড়াশোনা; বাংলা সাহিত্য নিজেই পড়ে নেওয়া যাবে।

প্রথমবর্ষ থেকেই যে-শিক্ষকদের কাছ থেকে পাঠ পেয়েছিলাম তাদের একজন ছিলেন খোন্দকার আশরাফ হোসেন স্যার। কোঁকরানো কেশভার, শ্যামবরণ অবয়ব, খাড়া নাসিকা, পোশাকে-ভঙ্গীতে-বাচনে একরকম প্রাকৃত নিজস্বতা নিয়ে তিনি বিরাজমান ছিলেন।

প্রথমবর্ষে তিনি পড়াতেন রোমান্টিক কবিতা— শেলি ও কিটস। প্রারম্ভিক ক্লাসে রোমান্টিক আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু ক্লাসের শুরুতেই তার সাথে ঈষৎ নিরানন্দজনক একটা ঘটনা ঘটল।

তিনি বক্তৃতা শুরু করলেন (ইংরেজিতেই বটে) এভাবে, ‘রোমান্টিক পুনরুত্থান শুরু হয় ১৭৯৮ সাল থেকে। কেন এই বছর?’ তখনই হাত তুললাম আমি। তার অনুমতি পেয়ে বললাম, ‘এর কারণ এই বছরই ওয়ার্ডসওয়ার্থ আর কোলরিজ মিলে দ্য লিরিক্যাল ব্যালাডস প্রকাশ করলেন, যার ভূমিকাকে রোমান্টিক আন্দোলনের ইশতেহার হিসেবে গণ্য করা যায়।’ তিনি বললেন, ‘ঠিক, কিন্তু আমি তো কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি নাই।’ আমি একটা ধাক্কা খেলাম। তার ‘হোয়াই দিস ইয়ার’ কথাটার পরিপ্রেক্ষিতেই তো আমি হাত তুলেছিলাম। অগত্যা চুপচাপ বসে তার বক্তৃতা শুনতে লাগলাম। (সম্পূর্ণ…)

ডেভিড বোয়ির প্রিয় শত বই

ফাহমিদা জামান ফ্লোরা | ২৮ মে ২০১৮ ১:২৭ অপরাহ্ন


পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে গানের যাদু ছড়ানো শিল্পী ডেভিড বোয়ি, যিনি তার নিজস্ব গায়কী এবং প্রতিভা দিয়ে পপ এবং রক দুনিয়ায় বিপ্লব এনেছিলেন। গায়ক, সুরকার, গীতিকার, অভিনয়শিল্পী, স্যাক্সোফোন বাদক-শিল্পের নানান শাখাতেই ছিল তার বৈশিষ্টপূর্ণ উপস্থিতি।
১৯৪৭ সালে ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া বোয়ি মাত্র ১৫ বছর বয়সে নিজের প্রথম ব্যান্ড তৈরি করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় পর ১৯৬৯ সালে তার প্রকাশিত “স্পেস ওডিটি” এ্যালবামটি তাকে পৌঁছে দেয় জনপ্রিয়তার শীর্ষে। জিগি স্টারডাস্ট খ্যাত এ তারকা শুধু গান নয়, অভিনয়েও ছিলেন সমান পারদর্শী। অসংখ্য জনপ্রিয় এবং শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে সাড়া জাগানো গানের পাশাপাশি তার ভক্তদের ৩০ টিরও বেশি সিনেমা উপহার দিয়েছেন। ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি বোয়ি ৬৯তম জন্মদিনে প্রকাশ করেন তার জীবনের শেষ এ্যালবাম “ব্লাকস্টার”। কিন্তু প্রত্যাশিত এ এ্যালবামটির সাফল্য স্বচক্ষে দেখে যেতে পারেন নি তিনি। অবশেষে ডেভিড বোয়ি ২০১৬ সালের ১০ জানুয়ারি দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধে হার মেনে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন।

বিচিত্র প্রতিভার অধিকারী এই ডেভিড বোয়ি ছিলেন একনিষ্ঠ পাঠক, যেমনটা আমরা দেখতে পাই বব ডিলানের ক্ষেত্রেও। তিনি ১৯৭৬ সালে মেক্সিকোতে “দ্যা ম্যান হু ফেল টু আর্থ” চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় সঙ্গে শতাধিক বই বহন করেছিলেন যা ছিলো একধরনের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীর মতোই। “বই রাখার জন্য আমার এই কেবিনেটগুলো ছিল যেগুলো দেখতে অ্যামপ্লিফায়ার রাখার যে মস্ত বক্সগুলো দেখা যায় ঠিক সেগুলোর মতো”, বলছিলেন তিনি। “সহশিল্পী বাক হেনরি আরো বলেছিলেন, বোয়ি যে লিমোজিনে চড়তেন সেটাতেও এক ব্যাগ ভর্তি বই থাকতো। (সম্পূর্ণ…)

মারুফুল ইসলামের কবিতা: সাতজনের সংসার

মারুফুল ইসলাম | ২১ মে ২০১৮ ১২:০৩ অপরাহ্ন

১.

শায়েস্তানগরে আমাদের পাশের বাসায় এক সকালে ওরা এলো
ফুটফুটে ছোট্ট মেয়েটার নাম নাহিন

আমরা তখন তিন ভাই
এক বোন
নাহিনের মাকে আমি খালা ডাকতাম
তিনি সারাদিন খাটে শুয়ে থাকতেন
আমি আর নাহিন খেলতাম
কখনো আমদের বাসায়
কখনো ওদের
দুজনেই তখন পাঁচ


জলরংয়ে আঁকা ফাহমিদা জামান ফ্লোরার চিত্রকর্ম

এক রাতে নাহিনের মার মৃত্যু হলে ওরা চলে গেল
আমাদের আর কখনোই দেখা হয়নি
আম্মাকে বললাম
আমার একটা বোন হলে ওর নাম রাখব
নাহিন (সম্পূর্ণ…)

লতিফুল ইসলাম শিবলীর কবিতা ‘ফাদি আবু সালাহ্’

লতিফুল ইসলাম শিবলী | ১৬ মে ২০১৮ ৮:৫১ অপরাহ্ন


তোমাকে দেখার আগে
জানা ছিল না-
মানুষের পা কেড়ে নিলে
তার পিঠে গজায় ডানা,
আর হাঁটতে বাধা দিলে
মানুষ শিখে যায় উড়তে।

ওরা শুরু করেছিল তোমার পায়ের নিচের মাটি থেকে,
তাই প্রথমে ওরা কেড়ে নিয়েছে তোমার জমিন।

দেশ নামের যে এক চিলতে জেলখানায় তুমি থাকতে
সে জমিন শত শত শহীদের ভিড়ে কবেই হয়ে গেছে মর্ত্যের জান্নাত।

এরপর ওরা কেড়ে নিয়েছে তোমার শৈশব,
অথচ তুমি কখনোই শিশু ছিলে না,
তুমি ছিলে সেই জান্নাতের সবুজ আবাবিল। (সম্পূর্ণ…)

বিশ শতকের বহুলপঠিত নারীবাদী কথাসাহিত্য

বিপাশা চক্রবর্তী | ১৪ মে ২০১৮ ১:২৬ পূর্বাহ্ন


যদিও অসামান্য এই কথাসাহিত্যগুলো নিষ্ক্রান্ত হয়েছিল নারীদের হাত থেকে, তার বিষয়বস্তুও ছিল নারী, কিন্তু তার পাঠক কেবল নারীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, সর্বজনীনতার গুণে তার পাঠক ছিল নারীপুরুষ নির্বিশেষে সকলেই।
অন্য অনেক কিছুর মতোই অনেক আগে থেকেই সাহিত্য জগতও পুরুষশাসিত। সেখানে নারীদের লেখালেখি অনেকের জন্য যন্ত্রণাদায়কও বটে। .আঠারো শতকের শেষের দিকে গল্প পড়া–বিশেষ করে সেই লেখা যদি কোন নারীর হতো–তাহলে তা নারীদের জন্য মানসিক ও শারিরীকভাবে বিপদের কারণ হয়ে দেখা দিত। পরিস্থিতির উদাহরণ দিতে গেলে ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের বিখ্যাত দুই লেখিকা বোনের কথা বলা যেতে পারে, যারা ব্রন্টি সিস্টারস নামে সাহিত্য জগতে পরিচিত লাভ করেছেন; শুরুতে তারাও পুরুষের ছদ্মনামে লেখা প্রকাশ করতেন। প্রেম-ভালোবাসার গল্প রীতিমত নিষিদ্ধ এক বস্তু ছিল তাদের জন্য। ইংল্যান্ডে তখন বিদ্যমান ছিল এক কর্তৃত্বপূর্ণ সংস্কৃতি, নারীদের শিল্প-সাহিত্য চর্চা ছিল বিপজ্জনক। সেই পরিস্থিতি বদল হতে অনেক কাল লেগেছিল।

বর্তমানে প্রকাশক, বিক্রেতা ও সমালোচকরা কোন সাহিত্য কি ধরনের, তার জন্য শুরুতেই তারা একটি লেবেল বা মার্কা দিয়ে দেন; যাতে করে পাঠকরা সহজেই নির্দিষ্ট বইটি খুঁজে পেতে পারেন। যেমন একটি বইকে যদি “গোয়েন্দা গল্প” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তাহলে গোয়েন্দা বইয়ের পাঠকদের জন্য তা বিশেষভাবে সহায়ক হয়। প্রকাশক ও বই বিক্রেতারা এমন যুক্তিই তুলে ধরেন। (সম্পূর্ণ…)

মুজতবা আলীর অগ্রন্থিত রচনা: উইন্টারনিৎসকৃত কবি রবীন্দ্রনাথের ধর্ম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন

সৈয়দ মুজতবা আলী | ৮ মে ২০১৮ ৯:২৭ পূর্বাহ্ন

রবীন্দ্রনাথের সাথে সৈয়দ মুজতবা আলীর সম্পর্ক যৌবনের শুরু থেকেই। ১৯২১ সালে সিলেট ছেড়ে তিনি রবীন্দ্রনাথের প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন-এ ভর্তি হন। রবীন্দ্রনাথের সরাসারি ছাত্র হওয়া ছাড়াও মুজতবা আলী রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে সত্যিকার অর্থেই ছিলেন বিশেষজ্ঞ। তথাকথিত বিশেষজ্ঞদের মতো তিনি গবেষণাধর্মী কোনো গ্রন্থ লেখেননি বটে, কিন্তু ছোট ছোট যে-সব লেখা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তিনি লিখেছেন তা বহুভাষী মুজতবা আলীর পাণ্ডিত্য ও তুল্যমূল্যের বিচারে অনন্য হয়ে উঠেছে। মুজতবা আলীর মৃত্যুর পর স্মৃতি আর মূল্যায়নধর্মী বেশ কিছু লেখার একটি সংকলন বেরিয়েছিল গুরুদেব ও শান্তিনিকেতন নামে। তবে এই বইটি ছাড়াও রবীন্দ্রনাথ নিয়ে মুজতবা আলীর দুএকটি লেখা রয়েছে যা এখনও পর্যন্ত তার রচনাবলীর অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এটি সেই অগ্রন্থিত লেখাগুলোর একটি। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল রবীন্দ্রজন্মশতবর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে দেশ পত্রিকায় বাংলা ১৩৬৯ সনে। বিডিআর্টসের পাঠকদের জন্য লেখাটি পত্রস্থ করা হলো।


আলোকচিত্র:১৯২৬ সালের অক্টোবরে প্রাগ শহরে রবীন্দ্রনাথের ডান পাশে মরিস উইন্টারনিৎস, বাদিকে ভারততত্তবিদ ভিনসেঙ্ক লেসনি। (সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদা: শর্ত একটাই

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৬ মার্চ ২০১৮ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

স্বাধীনতা চাও?
– তবে তুমি নিজেই স্বাধীন হও।

স্বাধীনতা চাও?
– তবে তুমি কাউকেই অধীন করো না।
তোমার সুন্দর তুমি নিজ কাঁধে বও।
নিজেই সশস্ত্র যদি, কাউকেই নিরস্ত্র করো না।
স্বাধীনতা মানবতা পরস্পর সশস্ত্র সুন্দর।
পরস্পর প্রতিবেশী, শক্তিশুভ্র গড়ো নিজ ঘর।

ফসল ফলাতে চোও?
– নিজ হাতে করো জমি চাষ।
আকাশ-সমুদ্র-ভূমি তোমার নিবাস।
মানুষ নিজের প্রভু, নয় কারো দাস।

ভুমিপুত্র ভূমিপুত্রী জন্মসূত্রে সবাই স্বাধীন।
জাতিতে জাতিতে জ্ঞাতি, খেলুক চড়ুইভাতি,
এ ব্রহ্মাণ্ডে কেউ নয় কারো পরাধীন। (সম্পূর্ণ…)

খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: অনুবাদ এক স্বতন্ত্র সত্তা

রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী | ১০ মার্চ ২০১৮ ১১:১১ অপরাহ্ন

সাহিত্যের একটি শাখা হল অনুবাদ। বাংলাদেশের অনুবাদ সাহিত্যের একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব হলেন খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। পেশাগতভাবে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত এই মানুষটির আস্থা অনুবাদের সৃজনশীলতায়। মূল ভাষা থেকে লক্ষ্যভাষায় এসে একটি টেক্সট আলাদা একটি সত্তা নিয়ে আবির্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে একজন অনুবাদক স্বাধীনতা নিতেই পারেন – এরকমই তার মত।
অনুবাদকর্মের জন্য জাতীয় পর্যায়ে সম্মানিত হয়েছেন, পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার। বছর চারেক আগে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে অনুবাদ প্রসঙ্গে কথা বলতে বলতেই তার সাক্ষাতকার নেয়ার কথাটি মাথায় আসে। তাকে সে কথা জানাতেই সাগ্রহে রাজী হন এবং ই-মেইলের মাধ্যমে দুই দফায় নেয়া হয় লিখিত এই সাক্ষাতকার। – রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী

রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: আপনার কর্মজীবন সম্পর্কে সংক্ষেপে যদি একটু বলেন। খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: কর্মজীবন শুরু স্বাধীনতার পর। সেসময়ের যুদ্ধ-পরবর্তী অনিশ্চয়তা আর রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতিতে কী করবো তা ভাবতেই ভাবতেই কেটে গেলো তিনটে বছর। সরকারী কলেজে বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করি এবং বাগমারী এম এম আলী কলেজ, টাঙ্গাইলে ইংরেজির প্রভাষক হিসেবে যোগ দিই। সেখানে মওলানা ভাসানীর সন্তোষে গঙ্গা বাড়িতে থেকে এবং তাঁর কলেজে ইংরেজির একটা দুটো ক্লাস নিয়ে বছর খানেক ভালোই কাটে। মওলানা ভাসানীর মৃত্যর পর টাঙ্গাইল শহরের দেড়শো টাকা ভাড়ায় একটা টিনের বাড়িতে বসবাস করি। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যায়ের ইংরেজি বিভাগে যোগ দিই ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বরে। সেখানে থাকি সহকারী অধ্যাপক হওয়া পর্যন্ত। এরপর ১৯৮৩ সালে ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে চলে যাই যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে তুলনামূলক কৃষ্ণাঙ্গ সাহিত্যে পড়াশোনা করতে। গবেষণা করি। এরপর এসে আবার যোগ দিই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে শিক্ষাদানের পাশাপাশি কিছুকাল কামালউদ্দীন হলের প্রভোস্ট এবং আর্টস ও হিউম্যানিটিজ ফ্যাকাল্টির নির্বাচিত ডীন হিসেব দায়িত্ব পালন করি। ১৯৯৮-এ জাহাঙ্গীরনগর থেকে বিদায় নিয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিই। সেই থেকে নর্থ সাউথেই আছি। অনুবাদ কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী পুরস্কার এবং ২০১১ সালে বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার পাই। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com