.

সানাউল হক খানের পাঁচটি কবিতা

সানাউল হক খান | ২৭ জুন ২০১৮ ৮:৩৬ অপরাহ্ন


অলংকরণ:ফাহমিদা জামান ফ্লোরার চিত্রকর্ম

আমার স্বপ্নমোহবন্ধন

অপরের কাছে থেকে
কতোবার যে নিজেকে
চড়ামূল্যে খরিদ করেছি
তার হিসেব রাখিনি

কতোবার যে নিজেকে
অল্পদামে বিক্রি করে
সেই ভুলেরই মাশুল গুনেছি
তার হিসেবও জানা নেই
অসুখীর হৃদয়ে সুখ দিয়ে
দুুখী মানুষের কাতারে দাঁড়িয়েছি
অভাবীর মতো নষ্ট-স্বভাবে

রৌদ্রকে ছায়া দিয়ে
ছায়াকে রৌদ্র দিয়ে
নাড়িয়ে দিয়েছি প্রকৃতির বুক

আমার ইচ্ছাগুলোই আমার শব্দ
আমার স্বাধীনতা
আমার স্বপ্নমোহবন্ধণ (সম্পূর্ণ…)

স্মৃতিযাপন : খোন্দকার আশরাফ হোসেন

সৈয়দ তারিক | ২৪ জুন ২০১৮ ১০:১৯ পূর্বাহ্ন

ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ৮২-৮৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হলাম সম্মান শ্রেণিতে। অবশ্য আমার ইচ্ছে ছিলো বাংলা সাহিত্য পড়বার। অগ্রজপ্রতিম আফজালুল বাসার ভাই আমাকে ভজিয়েছিলেন যে সাহিত্যচর্চার জন্য সহায়ক হবে ইংরেজি বিভাগের পড়াশোনা; বাংলা সাহিত্য নিজেই পড়ে নেওয়া যাবে।

প্রথমবর্ষ থেকেই যে-শিক্ষকদের কাছ থেকে পাঠ পেয়েছিলাম তাদের একজন ছিলেন খোন্দকার আশরাফ হোসেন স্যার। কোঁকরানো কেশভার, শ্যামবরণ অবয়ব, খাড়া নাসিকা, পোশাকে-ভঙ্গীতে-বাচনে একরকম প্রাকৃত নিজস্বতা নিয়ে তিনি বিরাজমান ছিলেন।

প্রথমবর্ষে তিনি পড়াতেন রোমান্টিক কবিতা— শেলি ও কিটস। প্রারম্ভিক ক্লাসে রোমান্টিক আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু ক্লাসের শুরুতেই তার সাথে ঈষৎ নিরানন্দজনক একটা ঘটনা ঘটল।

তিনি বক্তৃতা শুরু করলেন (ইংরেজিতেই বটে) এভাবে, ‘রোমান্টিক পুনরুত্থান শুরু হয় ১৭৯৮ সাল থেকে। কেন এই বছর?’ তখনই হাত তুললাম আমি। তার অনুমতি পেয়ে বললাম, ‘এর কারণ এই বছরই ওয়ার্ডসওয়ার্থ আর কোলরিজ মিলে দ্য লিরিক্যাল ব্যালাডস প্রকাশ করলেন, যার ভূমিকাকে রোমান্টিক আন্দোলনের ইশতেহার হিসেবে গণ্য করা যায়।’ তিনি বললেন, ‘ঠিক, কিন্তু আমি তো কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি নাই।’ আমি একটা ধাক্কা খেলাম। তার ‘হোয়াই দিস ইয়ার’ কথাটার পরিপ্রেক্ষিতেই তো আমি হাত তুলেছিলাম। অগত্যা চুপচাপ বসে তার বক্তৃতা শুনতে লাগলাম। (সম্পূর্ণ…)

ডেভিড বোয়ির প্রিয় শত বই

ফাহমিদা জামান ফ্লোরা | ২৮ মে ২০১৮ ১:২৭ অপরাহ্ন


পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে গানের যাদু ছড়ানো শিল্পী ডেভিড বোয়ি, যিনি তার নিজস্ব গায়কী এবং প্রতিভা দিয়ে পপ এবং রক দুনিয়ায় বিপ্লব এনেছিলেন। গায়ক, সুরকার, গীতিকার, অভিনয়শিল্পী, স্যাক্সোফোন বাদক-শিল্পের নানান শাখাতেই ছিল তার বৈশিষ্টপূর্ণ উপস্থিতি।
১৯৪৭ সালে ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া বোয়ি মাত্র ১৫ বছর বয়সে নিজের প্রথম ব্যান্ড তৈরি করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় পর ১৯৬৯ সালে তার প্রকাশিত “স্পেস ওডিটি” এ্যালবামটি তাকে পৌঁছে দেয় জনপ্রিয়তার শীর্ষে। জিগি স্টারডাস্ট খ্যাত এ তারকা শুধু গান নয়, অভিনয়েও ছিলেন সমান পারদর্শী। অসংখ্য জনপ্রিয় এবং শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে সাড়া জাগানো গানের পাশাপাশি তার ভক্তদের ৩০ টিরও বেশি সিনেমা উপহার দিয়েছেন। ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি বোয়ি ৬৯তম জন্মদিনে প্রকাশ করেন তার জীবনের শেষ এ্যালবাম “ব্লাকস্টার”। কিন্তু প্রত্যাশিত এ এ্যালবামটির সাফল্য স্বচক্ষে দেখে যেতে পারেন নি তিনি। অবশেষে ডেভিড বোয়ি ২০১৬ সালের ১০ জানুয়ারি দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধে হার মেনে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন।

বিচিত্র প্রতিভার অধিকারী এই ডেভিড বোয়ি ছিলেন একনিষ্ঠ পাঠক, যেমনটা আমরা দেখতে পাই বব ডিলানের ক্ষেত্রেও। তিনি ১৯৭৬ সালে মেক্সিকোতে “দ্যা ম্যান হু ফেল টু আর্থ” চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় সঙ্গে শতাধিক বই বহন করেছিলেন যা ছিলো একধরনের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীর মতোই। “বই রাখার জন্য আমার এই কেবিনেটগুলো ছিল যেগুলো দেখতে অ্যামপ্লিফায়ার রাখার যে মস্ত বক্সগুলো দেখা যায় ঠিক সেগুলোর মতো”, বলছিলেন তিনি। “সহশিল্পী বাক হেনরি আরো বলেছিলেন, বোয়ি যে লিমোজিনে চড়তেন সেটাতেও এক ব্যাগ ভর্তি বই থাকতো। (সম্পূর্ণ…)

মারুফুল ইসলামের কবিতা: সাতজনের সংসার

মারুফুল ইসলাম | ২১ মে ২০১৮ ১২:০৩ অপরাহ্ন

১.

শায়েস্তানগরে আমাদের পাশের বাসায় এক সকালে ওরা এলো
ফুটফুটে ছোট্ট মেয়েটার নাম নাহিন

আমরা তখন তিন ভাই
এক বোন
নাহিনের মাকে আমি খালা ডাকতাম
তিনি সারাদিন খাটে শুয়ে থাকতেন
আমি আর নাহিন খেলতাম
কখনো আমদের বাসায়
কখনো ওদের
দুজনেই তখন পাঁচ


জলরংয়ে আঁকা ফাহমিদা জামান ফ্লোরার চিত্রকর্ম

এক রাতে নাহিনের মার মৃত্যু হলে ওরা চলে গেল
আমাদের আর কখনোই দেখা হয়নি
আম্মাকে বললাম
আমার একটা বোন হলে ওর নাম রাখব
নাহিন (সম্পূর্ণ…)

লতিফুল ইসলাম শিবলীর কবিতা ‘ফাদি আবু সালাহ্’

লতিফুল ইসলাম শিবলী | ১৬ মে ২০১৮ ৮:৫১ অপরাহ্ন


তোমাকে দেখার আগে
জানা ছিল না-
মানুষের পা কেড়ে নিলে
তার পিঠে গজায় ডানা,
আর হাঁটতে বাধা দিলে
মানুষ শিখে যায় উড়তে।

ওরা শুরু করেছিল তোমার পায়ের নিচের মাটি থেকে,
তাই প্রথমে ওরা কেড়ে নিয়েছে তোমার জমিন।

দেশ নামের যে এক চিলতে জেলখানায় তুমি থাকতে
সে জমিন শত শত শহীদের ভিড়ে কবেই হয়ে গেছে মর্ত্যের জান্নাত।

এরপর ওরা কেড়ে নিয়েছে তোমার শৈশব,
অথচ তুমি কখনোই শিশু ছিলে না,
তুমি ছিলে সেই জান্নাতের সবুজ আবাবিল। (সম্পূর্ণ…)

বিশ শতকের বহুলপঠিত নারীবাদী কথাসাহিত্য

বিপাশা চক্রবর্তী | ১৪ মে ২০১৮ ১:২৬ পূর্বাহ্ন


যদিও অসামান্য এই কথাসাহিত্যগুলো নিষ্ক্রান্ত হয়েছিল নারীদের হাত থেকে, তার বিষয়বস্তুও ছিল নারী, কিন্তু তার পাঠক কেবল নারীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, সর্বজনীনতার গুণে তার পাঠক ছিল নারীপুরুষ নির্বিশেষে সকলেই।
অন্য অনেক কিছুর মতোই অনেক আগে থেকেই সাহিত্য জগতও পুরুষশাসিত। সেখানে নারীদের লেখালেখি অনেকের জন্য যন্ত্রণাদায়কও বটে। .আঠারো শতকের শেষের দিকে গল্প পড়া–বিশেষ করে সেই লেখা যদি কোন নারীর হতো–তাহলে তা নারীদের জন্য মানসিক ও শারিরীকভাবে বিপদের কারণ হয়ে দেখা দিত। পরিস্থিতির উদাহরণ দিতে গেলে ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের বিখ্যাত দুই লেখিকা বোনের কথা বলা যেতে পারে, যারা ব্রন্টি সিস্টারস নামে সাহিত্য জগতে পরিচিত লাভ করেছেন; শুরুতে তারাও পুরুষের ছদ্মনামে লেখা প্রকাশ করতেন। প্রেম-ভালোবাসার গল্প রীতিমত নিষিদ্ধ এক বস্তু ছিল তাদের জন্য। ইংল্যান্ডে তখন বিদ্যমান ছিল এক কর্তৃত্বপূর্ণ সংস্কৃতি, নারীদের শিল্প-সাহিত্য চর্চা ছিল বিপজ্জনক। সেই পরিস্থিতি বদল হতে অনেক কাল লেগেছিল।

বর্তমানে প্রকাশক, বিক্রেতা ও সমালোচকরা কোন সাহিত্য কি ধরনের, তার জন্য শুরুতেই তারা একটি লেবেল বা মার্কা দিয়ে দেন; যাতে করে পাঠকরা সহজেই নির্দিষ্ট বইটি খুঁজে পেতে পারেন। যেমন একটি বইকে যদি “গোয়েন্দা গল্প” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তাহলে গোয়েন্দা বইয়ের পাঠকদের জন্য তা বিশেষভাবে সহায়ক হয়। প্রকাশক ও বই বিক্রেতারা এমন যুক্তিই তুলে ধরেন। (সম্পূর্ণ…)

মুজতবা আলীর অগ্রন্থিত রচনা: উইন্টারনিৎসকৃত কবি রবীন্দ্রনাথের ধর্ম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন

সৈয়দ মুজতবা আলী | ৮ মে ২০১৮ ৯:২৭ পূর্বাহ্ন

রবীন্দ্রনাথের সাথে সৈয়দ মুজতবা আলীর সম্পর্ক যৌবনের শুরু থেকেই। ১৯২১ সালে সিলেট ছেড়ে তিনি রবীন্দ্রনাথের প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন-এ ভর্তি হন। রবীন্দ্রনাথের সরাসারি ছাত্র হওয়া ছাড়াও মুজতবা আলী রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে সত্যিকার অর্থেই ছিলেন বিশেষজ্ঞ। তথাকথিত বিশেষজ্ঞদের মতো তিনি গবেষণাধর্মী কোনো গ্রন্থ লেখেননি বটে, কিন্তু ছোট ছোট যে-সব লেখা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তিনি লিখেছেন তা বহুভাষী মুজতবা আলীর পাণ্ডিত্য ও তুল্যমূল্যের বিচারে অনন্য হয়ে উঠেছে। মুজতবা আলীর মৃত্যুর পর স্মৃতি আর মূল্যায়নধর্মী বেশ কিছু লেখার একটি সংকলন বেরিয়েছিল গুরুদেব ও শান্তিনিকেতন নামে। তবে এই বইটি ছাড়াও রবীন্দ্রনাথ নিয়ে মুজতবা আলীর দুএকটি লেখা রয়েছে যা এখনও পর্যন্ত তার রচনাবলীর অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এটি সেই অগ্রন্থিত লেখাগুলোর একটি। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল রবীন্দ্রজন্মশতবর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে দেশ পত্রিকায় বাংলা ১৩৬৯ সনে। বিডিআর্টসের পাঠকদের জন্য লেখাটি পত্রস্থ করা হলো।


আলোকচিত্র:১৯২৬ সালের অক্টোবরে প্রাগ শহরে রবীন্দ্রনাথের ডান পাশে মরিস উইন্টারনিৎস, বাদিকে ভারততত্তবিদ ভিনসেঙ্ক লেসনি। (সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদা: শর্ত একটাই

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৬ মার্চ ২০১৮ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

স্বাধীনতা চাও?
– তবে তুমি নিজেই স্বাধীন হও।

স্বাধীনতা চাও?
– তবে তুমি কাউকেই অধীন করো না।
তোমার সুন্দর তুমি নিজ কাঁধে বও।
নিজেই সশস্ত্র যদি, কাউকেই নিরস্ত্র করো না।
স্বাধীনতা মানবতা পরস্পর সশস্ত্র সুন্দর।
পরস্পর প্রতিবেশী, শক্তিশুভ্র গড়ো নিজ ঘর।

ফসল ফলাতে চোও?
– নিজ হাতে করো জমি চাষ।
আকাশ-সমুদ্র-ভূমি তোমার নিবাস।
মানুষ নিজের প্রভু, নয় কারো দাস।

ভুমিপুত্র ভূমিপুত্রী জন্মসূত্রে সবাই স্বাধীন।
জাতিতে জাতিতে জ্ঞাতি, খেলুক চড়ুইভাতি,
এ ব্রহ্মাণ্ডে কেউ নয় কারো পরাধীন। (সম্পূর্ণ…)

খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: অনুবাদ এক স্বতন্ত্র সত্তা

রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী | ১০ মার্চ ২০১৮ ১১:১১ অপরাহ্ন

সাহিত্যের একটি শাখা হল অনুবাদ। বাংলাদেশের অনুবাদ সাহিত্যের একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব হলেন খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। পেশাগতভাবে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত এই মানুষটির আস্থা অনুবাদের সৃজনশীলতায়। মূল ভাষা থেকে লক্ষ্যভাষায় এসে একটি টেক্সট আলাদা একটি সত্তা নিয়ে আবির্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে একজন অনুবাদক স্বাধীনতা নিতেই পারেন – এরকমই তার মত।
অনুবাদকর্মের জন্য জাতীয় পর্যায়ে সম্মানিত হয়েছেন, পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার। বছর চারেক আগে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে অনুবাদ প্রসঙ্গে কথা বলতে বলতেই তার সাক্ষাতকার নেয়ার কথাটি মাথায় আসে। তাকে সে কথা জানাতেই সাগ্রহে রাজী হন এবং ই-মেইলের মাধ্যমে দুই দফায় নেয়া হয় লিখিত এই সাক্ষাতকার। – রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী

রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী: আপনার কর্মজীবন সম্পর্কে সংক্ষেপে যদি একটু বলেন। খালিকুজ্জামান ইলিয়াস: কর্মজীবন শুরু স্বাধীনতার পর। সেসময়ের যুদ্ধ-পরবর্তী অনিশ্চয়তা আর রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতিতে কী করবো তা ভাবতেই ভাবতেই কেটে গেলো তিনটে বছর। সরকারী কলেজে বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করি এবং বাগমারী এম এম আলী কলেজ, টাঙ্গাইলে ইংরেজির প্রভাষক হিসেবে যোগ দিই। সেখানে মওলানা ভাসানীর সন্তোষে গঙ্গা বাড়িতে থেকে এবং তাঁর কলেজে ইংরেজির একটা দুটো ক্লাস নিয়ে বছর খানেক ভালোই কাটে। মওলানা ভাসানীর মৃত্যর পর টাঙ্গাইল শহরের দেড়শো টাকা ভাড়ায় একটা টিনের বাড়িতে বসবাস করি। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যায়ের ইংরেজি বিভাগে যোগ দিই ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বরে। সেখানে থাকি সহকারী অধ্যাপক হওয়া পর্যন্ত। এরপর ১৯৮৩ সালে ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে চলে যাই যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে তুলনামূলক কৃষ্ণাঙ্গ সাহিত্যে পড়াশোনা করতে। গবেষণা করি। এরপর এসে আবার যোগ দিই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে শিক্ষাদানের পাশাপাশি কিছুকাল কামালউদ্দীন হলের প্রভোস্ট এবং আর্টস ও হিউম্যানিটিজ ফ্যাকাল্টির নির্বাচিত ডীন হিসেব দায়িত্ব পালন করি। ১৯৯৮-এ জাহাঙ্গীরনগর থেকে বিদায় নিয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিই। সেই থেকে নর্থ সাউথেই আছি। অনুবাদ কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী পুরস্কার এবং ২০১১ সালে বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার পাই। (সম্পূর্ণ…)

শেষ নিশ্বাসে আঁকা আফ্রিদার আলেয়াপ্রসূত গোলকধাঁধার আলেখ্য

রনি আহম্মেদ | ১৮ জানুয়ারি ২০১৮ ১২:২০ অপরাহ্ন

প্রায় এক সপ্তাহ আগে আমি আফ্রিদা তানজিমের প্রদর্শনীর জন্য এই ছোট্ট লেখা তার ক্যাটালগ এবং অনলাইন সমালোচনা বিভাগের জন্য লিখেছিলাম! ওতে লিখেছিলাম সে তার কালোত্তীর্ণ প্রতিভাধর মনটাকে সঙ্গে নিয়ে চলে গেলো, কিন্তু তার কাজ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে জীবন একটি শক্তি, যে-শক্তির ধ্বংস নাই । আল্লাহ অনন্ত শান্তি বর্ষণ করুন ওর আত্মার উপর এবং ও জান্নাতবাসী হোক! (সম্পূর্ণ…)

নির্মলেন্দু গুণ: তিনি এতই অকৃতজ্ঞ যে সেই বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে কোনো কবিতা লেখেননি

রাজু আলাউদ্দিন | ১৩ নভেম্বর ২০১৭ ১১:২৭ অপরাহ্ন

Goon
আলোকচিত্র: রাজু আলাউদ্দিন
২৩ অক্টোবর ২০১৭ সালে কবি নির্মলেন্দু গুণের সঙ্গে কবি-প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের সাথে যে-ফোনালাপ হয় তার লিখিত রূপ তৈরি করেছেন গল্পকার সাব্বির জাদিদ। বি.স.

রাজু আলাউদ্দিন: গুণদা কেমন আছেন?
নির্মলেন্দু গুণ: আছি মোটামুটি।
রাজু আলাউদ্দিন: কোনো একটা চিত্রপ্রদর্শনীতে গেছিলেন দেখলাম!
নির্মলেন্দু গুণ: হ্যাঁ, গেছিলাম।
রাজু আলাউদ্দিন: আপনি ছবি আঁকতেছেন না নতুন করে?
নির্মলেন্দু গুণ: না না। আঁকা হচ্ছে না। সামনে আঁকার ইচ্ছা আছে। সময় সুযোগ হলে আঁকব।
রাজু আলাউদ্দিন: গুণদা, আপনি এ্খন কী নিয়ে ব্যস্ত?
নির্মলেন্দু গুণ: আমার রচনাবলী বের হচ্ছে, সেজন্য চর্যাপদ থেকে শুরু করে অদ্যাবধি যেসব কবি সাহিত্যিকরা কন্ট্রিবিউট করেছে ইন ডেভেলপমেন্ট অব বাংলা লিটারেচার, তাদের মধ্যে যারা গুরুত্বপূর্ণ, তাদেরকে আমার নয় দশ খণ্ডের রচনাবলী উৎসর্গ করব। সেজন্য আমাকে ব্যাপক পড়াশোনা করতে হচ্ছে, সেই চর্যাপদ থেকে শুরু করে একেবারে আধুনিক কাল পর্যন্ত। রিসার্চ করতে হচ্ছে আর কি। আচ্ছা, ডক্টর শহীদুল্লাহর জন্মসাল এবং মৃত্যুসাল কি মনে আছে? (সম্পূর্ণ…)

নৈঃশব্দের সংস্কৃতি: কথা না বলার যতো অজুহাত

পূরবী বসু | ১৬ অক্টোবর ২০১৭ ৭:৩১ অপরাহ্ন

comunicatonআধুনিকতা কিংবা ভদ্রতার আরেক নাম কি পরস্পরের সঙ্গে কথা না বলা? লিখিত রূপে কিংবা মৌখিকভাবে অন্য কারো সঙ্গে নিজের কথা বা ভাবের আদানপ্রদান না করাই কি আজকের সভ্যতা? চারদিকে দেখে শুনে তো তাই মনে হচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে, কী ব্যক্তিগত পর্যায়ে, কী কর্মক্ষেত্রে, কী অফিস-আদালতে-ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে, আজকের দিনে কেউ যেন কারো সঙ্গে একান্ত বাধ্য না হলে কথা বলতে চায় না। অন্তত এখানে, এই মার্কিন মুল্লুকে। যেহেতু জগৎ জুড়ে অনেক তরঙ্গেরই উৎস এখানে যা অতিদ্রুত তরঙ্গায়িত হয়ে মৃদু থেকে শুরু করে বিশাল আকারের ঢেউ তোলে আমাদের মতো সমাজে, ভাবছি এই ছোঁয়াচে রোগটির আক্রমণ যদি প্রতিহত করতে না পারা যায়, আসলেই কী হবে আমাদের প্রাণপ্রিয় আড্ডার, নিশ্বাস প্রশ্বাসের মতো যা নিয়ে আমরা বেঁচে থাকি অনুক্ষণ? আড্ডা হলো সেই বস্তু যা দিয়ে শূণ্য থলে বগলে নিয়ে, জাগতিক বা মূল্যবান কিছু না থা্কা সত্বেও কথার ফুলকি দিয়ে ভরে রাখি জীবন। আড্ডা দিতে দিতে আমরা স্বপ্নের ঘোরে প্রবল জ্যোত্স্নার আলো ক্রমাগত চষে বেড়াই, ঘুরে বেড়াই বন্ধুর বাইরের ঘরে অথবা পেছনের খোলা মাঠে, তছনচ করি মেঘলা ঘোলা ঘোলা আকাশের নিচে সরু বুনো পথ, কিংবা বৃষ্টিস্নাত প্রভাতে দিঘির কিনারায় হেলে পড়া হিজল গাছের ডালে শাখামৃগের মতো ঝুলতে ঝুলতে কথার খৈ ফোটাই। আড্ডার রূপ, রস, আনন্দ, আবেগ, উত্তেজনা আমাদের বাঁচার রসদ – আরেকটি নতুন ভোরে জেগে ওঠার প্রত্যয়-প্রেরণা। কথা ছাড়া আড্ডা কী করে সম্ভব? আড্ডা মানেই তো একটানা কথা বলা-নিরর্থক গল্পগুজব, তলাবিহীন তর্ক, পরনিন্দা, নিরন্তর হাসি, ঠাট্টা, কৌতুক, কাচা গলায় প্রিয় সুর ভাজার নিরলস ব্যর্থ প্রচেষ্টা।

ভাবি, এই নৈঃশব্দের সংস্কৃতি কি পরোক্ষে আপন চিন্তা, মনোভাব বা অনুভূতি পাশের মানুষটির কাছে, প্রিয় বন্ধুর কাছে খুলে ধরার, প্রকাশ করার অনীহা বা অনাগ্রহই প্রমাণ করে না? বহুকাল ধরেই একটি মন্তব্য লেখালেখির জগতে গুঞ্জরিত হয়ে আসছে। বলা হয়, সাহিত্য রচনায় পুরুষ লেখক আর নারী লেখকের এক মৌলিক পার্থক্যের কথা। কথিত আছে, যার সত্যতাও অনেক ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যে নারীদের লেখায় থাকে অনেক আবেগ, তারা সাধারণত স্পর্শকাতর। নারীরা নিজের ও অপরের বোধ, অনুভুতির হেরফের, বিচিত্র মনোভাব ও তার প্রকাশভঙ্গির কথা বিষদভাবে প্রকাশ করতে ভালোবাসে। মানুষে মানুষে সম্পর্ক নিয়ে তারা বেশি কথা লেখে। অন্যদিকে পুরুষ লেখকরা অনুভব প্রকাশে সংযত, পারস্পরিক সম্পর্কের চাইতে তাদের লেখায় ঘটমান জগৎ, বস্তু ও পরিপার্শ্ব, রাজনীতি, বেশি উপস্থিত থাকে। অনুভূতির প্রকাশের চাইতে কর্মের মনস্তাত্বিক বিশ্লেষন তাদের রচনায় অপেক্ষাকৃত বেশি প্রাধান্য পায়। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com