আর্টস

নোবেল ২০২০ জয়ী লুইজ গ্লাকের দুটো কবিতা

জ্যোতির্ময় নন্দী | 9 Oct , 2020  


সাহিত্যে চলতি ২০২০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন মার্কিন কবি লুইজ গ্লাক (Louise Glück)। নোবের পুরস্কার কমিটি জানিয়েছে, গ্লাককে পুরস্কৃত করা হলো ‘তাঁর সংশয়াতীত কাব্যিক কণ্ঠস্বরের জন্যে, যার সরল নিরাভরণ সৌন্দর্য ব্যক্তিসত্তাকে বিশ্বজনীন করে তোলে’।
লুইজ গ্লাকের জন্ম ১৯৪৩-এ, নিউ ইয়র্কে। কনেক্টিকাটের ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজির অধ্যাপিকা তিনি। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ফার্স্টবর্ন’ (Firstborn) প্রকাশিত হয় ১৯৬৮-তে। পুলিৎজার পুরস্কার পান ১৯৯৩-এ। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গ্রন্থ পুরস্কার (National Book Award) পান ২০১৪-তে।
গ্লাক হলেন বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত নোবেল সাহিত্য পুরস্কারজয়ী ১৬তম মহিলা। এ পর্যন্ত তাঁর এক ডজন কাব্যগ্রন্থ এবং আরো কয়েকটি কবিতা বিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। নোবেল কমিটি চেয়ারম্যান অ্যন্ডার্স অলসনের মতে, গ্লাকের কবিতার বৈশিষ্ট্য হলো বক্তব্যের যথাসম্ভব স্বচ্ছতা এবং শৈশব ও পারিবারিক সম্পর্ক বিষয়ক থিমগুলোতে নিবদ্ধ মনোযোগ।
লুইজ গ্লাকের দুটো কবিতা ‘A Fantasy’ এবং ‘The Drowned Children’ এখানে মূল কবিতার সঙ্গে অনুবাদ করে দেয়া হলো যথাক্রমে ‘দিবাস্বপ্ন’ ও ‘ডুবে মরা বাচ্চারা’ নামে।

বাংলা তর্জমা: জ্যোতির্ময় নন্দী


দিবাস্বপ্ন

তোমাকে কিছু বলতে চাই: প্রতিদিন
লোক মরছে। আর এটা শুরুমাত্র।
প্রতিদিন শেষকৃত্যাগারগুলোতে জন্ম নিচ্ছে নতুন বিধবা,
নতুন অনাথ। তারা বসে থাকে হাত গুটিয়ে,
চেষ্টা করে এই নতুন জীবন নিয়ে ভাবনা চিন্তার।
তারপর তারা গোরস্তানে যায়, কেউ কেউ
জীবনে প্রথম। কাঁদতে তারা ভয় পায়,
কখনো-বা কাঁদতে না পারার জন্যেও। কেউ একজন ঝুঁকে পড়ে
তাদেরকে বলে এর পর কী করতে হবে, যার মানে হতে পারে
দু-একটা কথা বলা, কিংবা খোলা কবরের গর্তে মাটি ছুঁড়ে দেয়া।
আর তারপর, প্রত্যেকেই বাড়ি ফিরে যায়,
হঠাৎ করেই যেটা ভরে যায় অভ্যাগতে।
নতুন বিধবা কোচে বসে থাকে, খুব রাজকীয়ভাবে,
যাতে লোকজন সারি বেঁধে তার কাছে আসতে পারে,
কেউ কেউ তার হাত ধরে, তাকে জড়িয়েও ধরে কেউ কেউ।
প্রত্যেককে বলার মত কিছু কথা সে খুঁজে নেয়,
তাদেরকে ধন্যবাদ দেয়, ধন্যবাদ দেয় তাদের আসার জন্যে।
তার মনের ভেতরে সে চায়, এরা চলে যাক।
সে আবার ফিরে যেতে চায় গোরস্থানে,
ফিরে যেতে চায় হাসপাতালে, রোগীকক্ষে। সে জানে, সম্ভব
নয় এটা। কিন্তু এটা তার একমাত্র আশা,
পেছনে চলে যাওয়ার এই ইচ্ছে। আর শুধু একটুখানিই,
সেই বিয়ে কিংবা প্রথম চুম্বন পর্যন্ত তো নয়।

ডুবে মরা বাচ্চারা
দেখো, তারা সুবিচার পায় নি।
তাই এটাই স্বাভাবিক যে, তারা ডুবে মরবে।
প্রথমে বরফ তাদেরকে ভেতরে নিয়ে যাবে
আর তারপর, সারা শীতভর, তাদের পশমি স্কার্ফগুলো
তাদের পেছনে পেছনে ভাসবে যখন তারা ক্রমশ ডুবতে থাকবে
একদম চুপচাপ হয়ে না যাওয়া পর্যন্ত।
আর তারপর পুকুরটা তাদেরকে তুলে ধরবে তার অনেক ভাঁজের হাতগুলো দিয়ে।
কিন্তু মৃত্যু নিশ্চয় অন্যভাবেও তাদের কাছে আসতে পারতো,
শুরুর এত কাছাকাছি।
যেন তারা সবসময়েই ছিলো অন্ধ আর ভরহীন। তাই
বাকিটা স্বপ্নে দেখা গেছে, বাতি,
ভালো সাদা কাপড়, যা দিয়ে ঢাকা হয়েছে টেবিল,
তাদের শরীর।
এবং তবুও তারা তাদের ব্যবহৃত নামগুলো শোনে
পুকুরের জলের ওপর দিয়ে পিছলে যাওয়া টোপের মতো:
কিসের জন্যে অপেক্ষা করছো?
বাড়ি চলে এসো, বাড়ি চলে এসো, হারিয়ে যাও
জলে– নীলে এবং চিরস্থায়িত্বে।


1 Response

  1. Tushar Das says:

    Bah!! Chomotkar!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.