
আমি চলে যেতে চাই এই ঘোর চতুর্দশীর অন্ধকার রাত হতে আরো দূরে
এ যে তেমনি রাত, যে রাতে আমি
গাঙুড়ের গাঙে ছুঁতে গিয়েছিলাম বেহুলার শরীর।
সেদিন নদীর সকল ঢেউ সাপের ফণা হয়ে আঘাত করেছিলো আমাকে-
নীলাভ বিষভরা শরীরে তাই আজো বুঝি আমি- কত শক্তি রাখে বেহুলা-শরীর।
এদিকে কেবলই রক্তাত্ত সামিয়া হক তার দ্বাদশী শরীর নিয়ে নিথর পড়ে থাকে আখ খেতে
চারপাশ ঘিরে ডেকে ওঠে শেয়ালেরা-
পিতা মাতা তার তখন ডেকে ফিরেছে সামিয়া- সামিয়া বলে
মনে করে অন্ধকারে পথ হারিয়েছে সে-
অথচ পথ ছেড়ে গিয়েছে চলে সে অনেক আগে
রক্তাত্ত শরীর তার পারেনি হতে মনসা-মঙ্গলের ‘গাঙুড়ের বেহুলা’
সে শুধু শুয়ে আছে বাংলার আখ ক্ষেতে
কাম-সর্বস্ব পুরুষের দাঁতে, নখে আর লিঙ্গে ক্ষত বিক্ষত হয়ে।
আমাকে সেদিন ফেরাতে পেরেছিলো নদীর ঢেউয়েরা সাপের ফণা হয়ে
আজ কেন দিকে দিকে মানুষেরা হয়না নদীর ঢেউ!
তাদের ফণার আঘাতে কেন বিষ জর্জরিত হয়না ওই সব পুরুষ-
যারা আখক্ষেতে ‘যশোরের বেহুলা’ সামিয়াকে নিথর নীরব করে-
স্তব্ধ হয়ে যায় বাংলার সেই দুটি পা-
যা আর কোনদিন নাচিবে না ইন্দ্রের সভায়
বাংলার ভাটফুল, আর শেয়াকুল কাটা নিয়ে।
Comments RSS Feed