কবিতা

দেখছো, নাকি দেখেও দেখছো না ?

এনামুল করিম নির্ঝর | 9 Jul , 2020  

[পাঠপ্রস্তুতি হিসেব কল্পনা করি আমার বয়স পাঁচ বা সাতের নীচে, আমি এখনো জাগতিক জটিলতার ধারে কাছে পৌছাইনি। নেহাৎ অতি কৌতুহলবশত: বয়ান করছি অবলোকন। যেহেতু প্রাপ্তবয়স্ক দরজায় যেতে এখনো অনেক বাঁকী, তাই আমার কোন প্রশ্ন অপরাধ হিসেবে গণ্য হবেনা।]


চিত্রকর্ম: কাজী রকিব

একজন অন্ধ হাঁটছে অন্ধকারে !
একজন অন্ধ যথারীতি হাঁটছে ভীষন অন্ধকারে
কারণ সেতো আলো আর কালো’র তফাৎটাই বোঝেনা সংসারে,
তুমি বোঝো ? তোমরা বোঝো ?

এইযে চোখের সামনে এতোকিছু ঘটে যাচ্ছে অহরহ
দেখো ? দেখতে পাও ?
নাকি দেখেও দেখছোনা ?
সোনা-মানিক বলে আমার হাত থেকে
টিভি রিমোটটা কেড়ে নিয়ে
লাফিয়ে লাফিয়ে পাল্টাছো চ্যানেল !
দেখছো কিছু ? নাকি দেখেও দেখছোনা ?
পেপার নিচ্ছো প্রতিদিন; বুঁদ হয়ে পড়ে থাকছো তাতে পুরো সকালটা
পড়ছো ? নাকি পড়েও পড়ছোনা ?

একটা ছুটিরদিন সকালে
তোমার আগেই কে যেন খবরের কাগজের ভাঁজটা খুলে ফেলেছিল,
সারাদিন তাই রেগেমেগে মুখটা হাঁড়ি করে রাখলে-
বারবার টয়লেটে যাওয়া আসা করে অবশেষে বললে,
নাহ্, আজকে আর হবেটবে নাহ্ !
তারপর, কিরকম গুষ্ঠি গুষ্ঠি বলে গালাগালি চললো মায়ের সাথে!
….. বাপরে !

আমি একটা ফ্যাশান না কিসের রঙচঙে পত্রিকা দেখছিলাম উল্টে-পাল্টে,
দেখে বললে, এ্যাই, এগুলোতো বড়দের বই!
রাখ, তুইতো ছোট…
বুঝলাম, বইও বড়দের ছোটদের হয়,
এবং সেটা নিয়ে তোমাদের অনেক অনেক ভয় !

তারপর আরেকদিন রাতে পরীক্ষা শেষে আপু ছবি দেখছিল হাসিমুখে।
মা এসে বললো, এটাতো বড়দের ছবি, অন্যকিছু দেখো !
এইতো সেদিন আমরা দু’ভাইবোন যখন তোমার স্মার্টফোনটা নিয়ে
ইউটিউবে একটু টোকা দিচ্ছি;
কেড়ে নিয়ে কি একটা কার্টুন সিরিজ ধরিয়ে দিলে!

কিন্তু তোমাদের চোখের সামনে যে এতোকিছু ঘটে যাচ্ছে,
দেখছোনা কিছু ? নাকি দেখেও দেখছোনা ?
সেগুলোকি বড়দের ? নাকি ছোটদের ?
লুটপাট, চুরি, রেপ, খুন এমন আরো কতরকম অন্যায় ।
কতজন মিথ্যেকথা বলে নাটকের মতো সৎ সাজছে চোখের সামনে।
দেখছো ? নাকি দেখেও দেখছোনা ?

একজন ব্যাংকে টাকা জমা রেখেছে বিশ্বাস করে,
কিন্তু সেই টাকা আরেকজন আরামসে নিয়ে ভেগে যাচ্ছে বিদেশে
যার টাকা সে বেচারা দেশের রাস্তায়, ”কাকে বলবো ? কোথায় পাবো?”
বলতে বলতে দিশেহারা ছুটে বেড়াচ্ছে পাগল বেহুশ হয়ে
চেয়ার পেয়ে কেয়ার শব্দটা ভুলে যাচ্ছে যারা,
ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়ন বলে প্রকৃতি’র বারো বাজাচ্ছে যারা,
জমি দখল – নদী ভরাট করছে যারা !
তাদের কান্ড দেখে নীরবে বেশ হাততালি দিচ্ছে যারা
তারা কি তোমাদের চোখে পড়ছে ? নাকি দেখেও দেখছোনা ?
নাকি চোখের সামনে পড়লে মনে হচ্ছে
ধ্যাৎ, আমি এসব কিছু দেখতে পাচ্ছি নাকি ?

……এতক্ষণ আমি যেটা পড়লাম,
সেটা আসলে আমার বাবার লেখা।
কেউ বুঝে ফেললে হয়তো বলবেন,
উহু এটাতো বড়দের জন্য- তুমি কেন পড়ছো ভাই ?
পড়ছি, বুঝে-শুনেই পড়ছি
এবং একটা প্রশ্ন আমার মনে খুব খ”্ খচ্ করছে।
বাবা’কি এটা লিখেছেন তাঁর বিশ্বাস থেকে ?
নাকি শুধু হাততালি পেতেই ?
কারণ এই বিষয়গুলোতো আমি দেখছি সেই প্রথমদিন থেকেই,
বুঝতেও পারছি; কিন্তু আমাকে বাচ্চা বাচ্চা বলে
এখনো সেই টেবিলের তলাতেই বসিয়ে রাখছো তোমরা।

কি করবো বলোতো ?
আমি তোমাদের কাছ থেকেতো সব শিখেই ফেলেছি।
দেখতেও পারি, আবার দেখেও না দেখতে পারি।
যেমন এবার দেখলাম একটা জীবানু এসে
সবাইকে একদম কাৎ করে ফেলে দিলো,
তাকে কি দেখতে পাচ্ছো তোমরা ?

সে নাকি লুকিয়ে লুকিয়ে খুব ভয় দেখাচ্ছে তোমাদেরকে
হুহু করে মরে যাচ্ছে অনেক মানুষ
তারমধ্যেও নাকি এটা নিয়ে চলছে তোমাদের অনেক গল্প,
একে ওকে বোকা বানানো চালাকীও চলছে ঠিকমতো !
বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছো সবাই ?
আস্থা নেই বলে তোমরা নিরাপত্তা’র অযুহাতে
নিজেদের করে ফেলছো বিচ্ছিন্ন?
সেটাকি বুঝতে পারছো ? নাকি বুঝেও বুঝছোনা ?

কি ? শুনতে পাচ্ছো ? নাকি শুনেও শুনছো না ?
তোমার চোখ দ’ুটোতো খোলা,
দেখতে পাচ্ছোনা কিছু?
দেখো খেয়াল করে –
সামনে একটা লম্বা লাইন;
যেখানে দাঁড়িয়ে আছি তুমি-আমি,আমরা সবাই !
একজন একজন করে গিলে ফেলছে সেই জীবানু
এরপর হয়তো গিলবে আমাকে বা তোমাকে
দেখতে পাও ? নাকি দেখেও দেখছোনা ?

অযুহাতের হাত যত লম্বাই করো তুমি
তাড়া খেলে পাড়া ছাড়তে হচ্ছে ঠিকই তোমাকে,
কাব্য- কবিতার ব্যকরণের আঁচ যতই খোঁজাখুঁজি করো
একমাত্র সত্য হয়ে উঠেছে বাঁচার লড়াইয়ে টিকে থাকা !

সেদিন অষুধের আওয়াজ পেয়ে দিলে এক ছুট
অলিগলি একশো হাজার ফুট রাস্তা পেরিয়ে
কি পেলে অবশেষে ?
একজন পাগল দেয়ালে পেচ্ছাপ করতে করতে
অট্টহাসি হাসলো গগন ফাটিয়ে
পায়ের তলা থেকে একমুঠো ভেজা মাটি
তুলে নিয়ে বললো,
যা গিলে ফেল, যা…
এবার পৃথিবীর মাংস খেয়ে দেখ বাঁচতে পারিস কিনা !

১৮ এপ্রিল, ২০২০ ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.