
কত মানুষ সারাদিনে আসে যায় কিন্তু কে খেয়াল রাখে কি হয়? কেমনে মানুষে জানে কই চা পাওয়া যায়? দোকানের মালিকে বেশি কিসসু কয় না, পাবলিকে আইসা চা সিঙ্গারা, পুরি খায়। পয়সা দিয়া চইলা যায়। দুই তিন টা পোলা কাম করে, কে জানে কি জানে। আসলে কে জানে এগুলা কে, কি বেচে, কত বেতন পায়, কই থাকে? সবই ঠিক আসে। কে জানে কি হয় চায়ের দোকানে।
২
বুড়াটা সন্ধ্যার দিকে আসে মাঝে মধ্যে, তারপর বইয়া থাকে বাইরের দিকে তাকাইয়া। পোলাটা কিসু না জিগাইয়া বইয়া থাকতে দেয়। লোকটা বড় গাছটার দিকে তাকাইয়া থাকে অনেকক্ষণ। পোলাটা তহন গিয়া জিগায়, “কি স্যার, কিসু দিমু?
“ওরা কয় গাস্টারে কাইটা দিবো?”
“হ, তাই শুনতাসি। ক্যান ?
“আমি ওই গাসটার থন ঝুলসি। মাজে মাজে এহনো রাত হইলে গিয়া ঝুইলা থাহি। মনে আরাম পাই। কাইট্টা ফালাইলে ঝুলুম কোন গাছ থন?
“গাসের থন ঝুললেন ক্যান? ঘরে ফ্যান আসিল না? আজকাল তো বেবাক লোক ফ্যান থিকা ঝুলে। গাস শেষ, আপ্নে বুড়া মানুষ তাই করসেন।”
“সবাই তো গাসের থিকা ঝুলতো আমার কালে। রাতে যহন ঝুলি, আরো মাইনসেরে দেহি। পুরান গাস, বহুত মানুষ অনেকদিন থিকা ঝুলসে। কি করুম বুঝিতাসি না।
পোলাটা চা দিয়ে যায়। লোকটা খায় না, বাইরে তাকায় তাহে।
৩
অনেক রাত পর্যন্ত দোকান খোলা থাকে। তখন তরুণরা আসে, কেউ নেশা কোরে, কেউ নেশা করতে। তারা চুপ চাপ বসে নিজের কাজ সামলায়, কেউ উৎফুল্ল, কেউ বিমর্ষ, কেউ কেউ বিপন্ন। একজন চায়ের কাপের চিনি নেড়ে পানিটা থামলে জিজ্ঞাসা করে , “তুমি আত্নহত্যা করোনি কেন, অনন্ত ?”
ছেলেটা চায়ের পানিটা চড়িয়ে তরুণতর কাছে এসে দুইটা পুরি রাখে। “যাওনের সময় যদি খিদা লাগে খাইয়েন। দুইটা পুরি ফ্রি দিতাসি আমরা।”
৪
পরের দিন যহন জোয়ান লোকটা আহে, তখন হেরে বুড়াটার কাসে নিয়া যায় পোলাটা। “এই লোক যাইতে চায়, গাছের খোঁজ নিতাসে। বুজান, ফিরলে থাকনের জাগা পাইবো না, গাস যদি কাইট্টা ফালায়। জোয়ানটা বুড়া মানুষটার কথা শোনে মন দিয়া। হগলের ফিরণের ঠিকানা লাগে, লোকে কয়।
৫
আইজকাল রাত নামলে নোংরা পানির লেকে ধারে বইসা যারা মদ খায় – সিএনজি ড্রাইভার, দোকানদারের ভাতিজা, কাবাবি এই রকম আর কি– রাত্তিরের পানিতে হেরা এদিক ওদিক কিলবিল করে দেইখ্তে পায়। হেরা বেশি কথা কয় না। তয় মাঝে মাঝে আইসা তাগো কাস থন বিড়ি সিগ্রেটের আগুন নেয়। কৈলে দোকানের পোলাটা চা আইনে দেয়। হেগো, এগো ….. গাছ কাটার চিন্তা নিয়া কেউ মাথা ঘামায় না আর।
এ তো নিদারুণ যন্ত্রনার গল্প! অনেক প্রতীকি ব্যঞ্জনা, যে যে-রকম, ঠিক তা বুঝে নেবে। অনেকদিন পর আমার প্রিয় লেখক আফসান ভাইয়ের গল্প পাঠ করলাম।।
Hi Prokash, many thanks for reading, commenting and appreciating. So happy. Had no idea I was anyone’s favo. You are right. Once written, a story belongs to the reader. Best wishes
”গাসের থন ঝুললেন ক্যান? ঘরে ফ্যান আসিল না? আজকাল তো বেবাক লোক ফ্যান থিকা ঝুলে। ”
”বুজান, ফিরলে থাকনের জাগা পাইবো না, গাস যদি কাইট্টা ফালায়।”
………. অপূর্ব! অনবদ্য! গদ্য….
HI Mamun,
Many thanks for liking the story. I find this English so much more expressive than conventional babu Bangla. Wish i could write even more. Best wishes
বিষয়বস্তু নিয়ে লেখক নিজেই ধোঁয়াশায় আছেন!
Hi SKD,
Many thanks for reading and commenting. Do elaborate if you can on your very interesting coment. Cheers