অনুবাদ কবিতা

তামিল কবিতাগুচ্ছ

জ্যোতির্ময় নন্দী | 20 Sep , 2020  


চিত্রকর্ম: তাশমিন নুর

উপমহাদেশে আমাদের আরেক সমৃদ্ধ পড়শি ভাষা হলো তামিল। সংস্কৃতের প্রতিস্পর্ধী সুপ্রাচীন এ ভাষারও রয়েছে নিজস্ব মহাকাব্য এবং বিশাল সাহিত্যভাণ্ডার। আধুনিক তামিল কবিতায় বুদ্ধিদীপ্ত ইঙ্গিতধর্মিতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এ সম্পর্কে একটা প্রাথমিক ধারণা দেয়ার জন্যে কয়েকজন কবির ছোট ছোট কয়েকটা কবিতা অনুবাদ করা হলো। কবিতাগুলোর বাংলা ভাষান্তর করা হয়েছে আর. এ. এ. শ্রীনিবাসন-এর করা ইংরেজি তর্জমা থেকে। বি.স.

বাংলা তর্জমা: জ্যোতির্ময় নন্দী

কবি কা. না. সু’র দুটো কবিতা:

তরু

আমার ছায়া
খেলে আর খেলে সূর্যের চারপাশে
তা সে আকাশের যেখানেই থাকুক না কেন
খালের জলে আমার ছায়া
শেকড়ের মধ্যে আটকে আছে দেখে
আমার ঘেন্না ধরে যায়

সেই যোদ্ধা
যে আমাকে কেটে ফেলতে এলো
যদি সে শুধু আমার ছায়াটা ছেঁটে ফেলতে পারতো
তা হলে আমি আরো বেড়ে উঠে অনেক উঁচুতে শাখা ছড়াতে পারতাম
বড় হয়ে উঠতাম দশগুণ

আমার সঙ্গে সঙ্গে
তুমি মেরে ফেলতে পারো
আমার ছায়াকেও
কিন্তু শুধু আমার ছায়াটা
তুমি সরিয়ে নিতে পারো?

নৈঃশব্দ্য

প্রতিটি রাত হলো
আলোর নিঃস্তব্ধতা
প্রতিটি তারা হলো
আকাশের নিঃস্তব্ধতা
প্রতিটি শব্দ
প্রশান্তির নিঃস্তব্ধতা
প্রতিটি গান
প্রেমের নিঃস্তব্ধতা

কবি আনন্দ’র একটি:

সে পাখি কোথায়

সে পাখি কোথায়
যেটা উড়ছিলো
জানলার ফ্রেমে বাঁধা আকাশে
একটুক্ষণ আগে?

উড়ছিলো ওটা
একটুক্ষণ আগেও…

কবি দেবতৎচন-এর একটি:

কীভাবে

কাছেপিঠেই ঘোরাফেরা করতে থাকা
একটা ডাইনোসরের মুখোমুখি কীভাবে হবে?
বুড়ো আঙুলের নখর ধরে রাখবে ছাতা।
পেছন থেকে দেখলে
মাথা আর লেজ বহু মাইল দূরে কোথাও,
উদর আর জননাঙ্গগুলো খাঁজের মধ্যে,
পায়ের আঙুলগুলো
কান থেকে অনেক দূরে।

কীভাবে একটা ডাইনোসরের মুখোমুখি হবে?
ওটা তো এগিয়ে আসছে আমাদের মুখোমুখি হতে…

কবি নকুলন্-এর দুটো:

কোন্ রামচন্দ্রন

আমি কি এই রামচন্দ্রনের কথা জিজ্ঞেস করেছিলাম?
সে বলেছিলো এটা রামচন্দ্রন্।

কোন্ রামচন্দ্রন্ আমি জিজ্ঞেস করি নি,
সে-ও বলে নি।

দোষারোপ

ঢেউগুলোকে দোষারোপ করে
কোনো লাভ নেই
যদি-না সাগর নিজেই দোষী হয়…

কবি শন্মুগ সুব্বিয়া’র একটি:

নিরাপত্তা

বাড়িটার চারপাশে
একটা বাগান গড়েছি,
বাগানটার চারপাশে
একটা বেড়া দিয়েছি,
বেড়ার চারপাশে রেখেছি
পাহারাদার। এবং
এখন পাহারাদারকে নিয়েই
আমার দুশ্চিন্তা…

কবি আত্মানাম-এর একটি:

দোতলার ঝুলবারান্দায়

দোতলার ঝুলবারান্দায়
একমাত্র জানলাটার পাশে
আমি নিজের সঙ্গে বসে খাচ্ছিলাম…
এমন সময় ডেকে উঠলো
কাছের নিমগাছের ডালে বসা একটা কাক।

ওটা আমার
পূর্বপুরুষ নাকি দেবতা–
ভাবতে ভাবতে আমি ছুঁড়ে দিলাম
একমুঠো ভাত…

ভাত ভাতই থেকে গেলো
আর কাকটা গেলো উড়ে পালিয়ে।

কার পূর্বপুরুষ ছিলো ওটা
সেটা আমার আর জানা হলো না।


1 Response

  1. Firoz Ehtesham says:

    কবিতাগুলো ভালো লাগল। বিশেষ করে ভালো লেগেছে কবি নকুলন্ ও কবি শন্মুগ সুব্বিয়াকে। কবি জ্যোতির্ময় নন্দীর অনুবাদও খুবই সাবলীল হয়েছে। ধন্যবাদ জ্যোতির্ময় দা, তামিল কবিতাগুলো অনুবাদ করার জন্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.