সি. পি. কাভাফির কবিতা

কুমার চক্রবর্তী | ২৯ এপ্রিল ২০১৭ ১০:৪২ পূর্বাহ্ন

Cavafyগ্রিক কবিতায় অবিস্মরণীয় এক নাম কনস্তানতিন কাভাফি ১৮৬৩ সালের ২৯ এপ্রিল আলেকজান্দ্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। কর্মসূত্রে তিনি ছিলেন সরকারি চাকুরে, ১৮৯২ সালে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে তিনি যে পদ পান এবং সেখানেই অবসর নেওয়া পর্যন্ত তিনি কর্মরত ছিলেন। একই সময়ে তিনি লেখালেখি করতে থাকেন, তাঁর প্রথম দিকের লেখালেখিতে গ্রিক ইতিহাস, পুরাণ, ধ্রুপদি ও হেলেনীয়, বাইজানটীয় বিষয়বস্তুর প্রাধান্য ছিল। তিনি তাঁর মা হারিক্লেইয়া-র সাথে রাতের খাবার খেতেন, তারপর অধিকাংশ সময়ে পালিয়ে শহরের সমকামী পল্লিতে ঢুকে যেতেন। এই বিষয়টি তাঁর লেখাকে ঋদ্ধ করেছে। মানবকামের গূঢ়ৈষা তাঁর অভীপ্সিত ছিল। আজীবন ধুমপায়ী কাভাফি ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৩২ সালের গ্রীষ্মে চিকিৎসার জন্য আথেন্সে এসে পরে ফিরে যান তাঁর প্রিয় আলেকজান্দ্রিয়ায়, সেখানেই পরের বছর সত্তরতম জন্মদিনে মারা যান। তাঁর সম্পর্কে ই. এম. ফরস্টার বলেছিলেন: ‘খড়ের টুপি মাথায় কিছুটা বাঁকা হয়ে একবারে স্থাণুবৎ জগতে দাঁড়িয়ে থাকা এক গ্রিক ভদ্রলোক।’ কাভাফি ছিলেন অনবদ্য এক আধুনিক। প্রাচীন বিশুদ্ধ ভাষা আর জনভাষাকে তিনি অতি শৈল্পিকভাবে কাজে লাগিয়েছেন তাঁর লেখায়, কাথেরঔসাকে দেমোতিকের সাথে নিজের ইচ্ছামতো বিমিশ্রিত করেছেন তিনি। পুরোদস্তুর অভিজাত এবং শহুরে হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক জীবনের প্রতি তাঁর এক গোপন ঘৃণা ছিল, ধ্রুপদি অতীতের প্রতি ছিল তাঁর এক মোহ ও প্রত্যাগমনাভিলাষ। যেহেতু তাঁর স্বপ্নের জগৎ ছিল অতীতের জগৎ, তাই প্রাচীন ভাষার ব্যবহার তাঁর কবিতায় লক্ষ্যণীয় কিন্তু তা বোধগম্য এবং উপযোগীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। গোপনীয়তায় লেখালেখি করে গেছেন তিনি, চল্লিশ বছর বয়স হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁর প্রতিভার আঁচ টের পাওয়া যায়নি। একান্ত ব্যক্তিগত সীমারেখায় তিনি কবিতা লিখে যেতেন, আর তখন ফরস্টার ও অল্পসংখ্যকই তাঁর কবিতার গুণগ্রাহী ছিলেন। ১৯৩৫ সালের আগে তাঁর কবিতা প্রকাশ্যে বেরও হয়নি। তাঁর সমকামীবন্ধু ফরস্টার ১৯২২ সালে তাঁর গাইড টু আলেকজান্দ্রিয়া বইয়ের মাধ্যমে তাঁকে সারাবিশ্বে পরিচয় করিয়ে দেন যেখানে তাঁর কিছু কবিতার অনুবাদও ছিল। পেগানবাদ এবং খ্রিস্টানত্বের সম্মিলন কাভাফির লেখায় পরিলক্ষিত। তাঁর প্রসিদ্ধ কাজগুলো হলো, ইথাকা, ওয়েটিং ফর দ্য বারবারিয়ানস, দ্য গড অ্যাবানডন্স অ্যান্টনি।
এমন এক বিষন্নতার ভেতর থেকে তিনি লেখেন, যিনি তাঁর যুগ এবং ধূসর সৌন্দর্যের সাথে একাত্ম হতে পারেন না: হে কাব্যশিল্প, আমি তোমার কাছে ফিরে আসি / যেহেতু তোমার আছে নিদানের স্ববিশেষ জ্ঞান: / ভাষা আর কল্পনার সুনিশ্চিত নিদ্রাবটিকা। (সম্পূর্ণ…)

ভালোবাসি সেই খেলা যে-খেলায় জিত আছে উভয় দলের

রাজু আলাউদ্দিন | ২৮ এপ্রিল ২০১৭ ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

Arabian-3
খেলায় আমার কোন আগ্রহ নেই বলে সহকর্মী, বন্ধুরা, এমন কি, আত্মীয়রাও
স্বাভাবিক নই বলে সন্দেহ করে।
ফুটবল, পিংপং, ক্রিকেট, টেনিস, এমনকি রাগবিও
আমার মধ্যে কোনো উত্তেজনা সঞ্চার করে না কখনো।

কিন্তু আমি অন্য কিছু খেলতে ভালোবাসি
চৌষট্টি চালের এক আমরণ খেলা
যেখানে আমার প্রতিপক্ষ শুধুই একজন;
এ খেলায় নেই কোনো ইনজুরি কিংবা প্রমাদ
এ খেলায় দর্শক থাকে না কখনো।
লাগে না ফুটবল কিংবা গল্ফের মতো কোনো সুবিশাল মাঠ,
দরকার নেই কোনো আলো;
অন্ধকারে এই খেলা জমে বেশি ভালো।
অধিকন্তু এই খেলায় লাগে না রেফারি,
যেহেতু থাকে না এতে নিয়ম কানুন।
খেলতে গিয়ে যদি একে অন্যকে চার্জ করে, তাতে কোনো
ইনজুরি নেই, বরং উত্তেজনা আছে, আছে আনন্দ অপার।
আর এটা এমনই এক খেলা, যে-খেলায় দুই দলই চ্যাম্পিয়ন হয়।
হার নেই, শুধু জিত আছে উভয় দলের।
এ-খেলার একমাত্র ইনাম–‘তৃপ্তি’
যা আসলে দুই দলই সমানভাবে ভাগ করে নেয়।
আমি এই সাম্যবাদী খেলা ভালোবাসি। (সম্পূর্ণ…)

মোস্তফা তারিকুল আহসানের এক গুচ্ছ কবিতা

মোস্তফা তারিকুল আহসান | ২৭ এপ্রিল ২০১৭ ৮:৪৩ পূর্বাহ্ন

জ্ঞানকাণ্ড

কতটা ঘেন্না জমা হলে মেয়েরা আত্মহত্যা করে তা জানে না চঞ্চল খরগোস; কতটা ম্লানিমা
জমা হলে মনে, মরে যেতে ইচ্ছে করে হাটবার দিন লোকচক্ষুর আড়ালে জানে
না হাটুরে স্বামী। শুধু মরণের হলুদ প্রজাপতি ডানা মেলে চোখের তারায় ;ক্ষণে ক্ষণে বায়ু
আসে তপ্ত আগুন নিয়ে । ছেলেধরা দুজন গতকাল যারা পালিয়ে গিয়েছিল তারা মাঝরাঙা
চোখ নিয়ে আবার ফিরেছে আজ। তুমি কী ভালো করে বলতে পারবে মরার পর আলী বাবা
কীভাবে সেলাই করেছিল মৃত মানুষের চামড়া? কতটা নুন লেগেছিল তার? কিংবা কতটুকু
ধার দেয়া ছিল সোনালি কাস্তেতে? সভ্যতা মানুষের ইতিহাস লেখে,ব্যক্তিগত মৃত্যুর রহস্য
জানে না কেউ। অক্ষম ঈশ্বর কিছু গল্প জানে শেয়ালপণ্ডিত জানতে পারে গোটাকতক শ্লোক
আত্মহত্যার পরিসংখ্যান নিয়ে কতিপয় সমাজ বিজ্ঞানি যেসব উপপাদ্য জড়ো করেছে তা ডাহা
মিথ্যের বেসাতি। আমাদের অভিজ্ঞানসূত্র বলে মরণের মিথ নিয়ে বড় বেশি পাকা নয় পাশ্চাত্য পণ্ডিত।
Murtaja Baseer (সম্পূর্ণ…)

‘বানের জলে ভাইস্যা গেলো বারো মাইসা শিশু’

মাজহার সরকার | ২৬ এপ্রিল ২০১৭ ৮:৫২ পূর্বাহ্ন

kobita, mazharবাজান, কি কমু দুক্ষের কতা। চওখটা মেইল্লাই দেহি পানি
আগুনের মতন আইতাসে কলকলাইয়া
সরকারের কুটি ট্যাকার বাঁধ ভাইঙ্গা গেলো নাইল্লার শলা যেমুন
বাজান, আমার বারো মাইসা পুতটা ঘুমায় আছিলো
ভাইস্যা গেলো হাঁসের বাচ্চা যেমুন হাতুর কাডে গাবুসগুবুস পানিত।
বউডা উটলো চিল্লাইয়া, পানি গো উজানের পানি!
লালুরগোয়ালা থাইক্যা সাহেবনগর আর তাহিরপুর
আমি কি করি! ফাল দিয়া পড়লাম জোয়ারে
পুত তো আমার ফাই না, পুত নাই ধান নাই
ঘড়ডা ক্যাড়ক্যাড় কইরা উটলো, ওহ খোদা ঢলের পানি
মাছ মইরা ভাইস্যা উটলো, পেটফুলা মরা গরু গন্ধ ছুডাইলো
এক থালা ভাত কাচা মরিচ দিয়ে মাইক্কা খাইসিলাম (সম্পূর্ণ…)

ঢাকাবাসীর নাসিরুদ্দিন শাহ্ দর্শন ও কয়েকটি প্রশ্ন

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ২৫ এপ্রিল ২০১৭ ৩:২৭ অপরাহ্ন

Heeba Shah in an Unique momentতার গল্প নিয়ে এ সমস্ত কারবার দেখে কী ইসমত চুঘতাই হেসে খুন হয়ে যেতেন?— এই প্রশ্ন নিয়েই বেরুলাম বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রী হল থেকে, গত শুক্রবার রাতে।

অঝোর বৃষ্টি তখন, এই শহরের অভিজাত নাট্যামোদী মানুষেরা, যাদের চেহারা আমি শিল্পকলা একাডেমি কিংবা নাটমণ্ডলে কোনদিন দেখিনি, আমার প্রায় এক দশকের সাংস্কৃতিক সাংবাদিকতার জীবনে, তারা তখন পার্কিং লটের যানজট ভেঙে গাড়ি আসার অপেক্ষায় মিলনায়তনের বাইরে দাঁড়িয়ে—অনেকক্ষণ দেখলাম ঘুরে ঘুরে তাদের মুখ, হাস্যোজ্জ্বল সামাজিক গণযোগাযোগ। কারো মুখেই নাটক নিয়ে কোন কথা নেই।

থিয়েটারের খ্যাতনামা অভিনেত্রী ত্রপা মজুমদারের সাথে দেখা হলো পার্কিং লটে, আমার অফিসের বাহনও তখন আটকে পড়ে আছে।

—— আপা কেমন লাগলো নাটক?
—— ভালো, খুব ভালো। বিশেষত সর্বশেষটা, নাসিরুদ্দিন শাহ বড় অভিনেতা।

আচ্ছা, নাটকের তৃপ্ত মানুষ পাওয়া যাচ্ছে তাহলে। বেশ লাগলো আমার ত্রপা আপার মুগ্ধতা। (সম্পূর্ণ…)

আমাদের সাযযাদ ভাই

আনিসুর রহমান | ২৩ এপ্রিল ২০১৭ ৬:৪৩ অপরাহ্ন

sajjad-kadirকবি সাযযাদ কাদিরের এবং আমার জন্ম একই জেলায় হলেও তাঁর সাথে পরিচয় এবং সান্নিধ্য ঢাকায় এসে। ১৯৯০ দশকের শেষের দিকে গ্রাম এবং মফস্বলের পাট চুকিয়ে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবে ভর্তি হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে জাতীয় কবিতা উৎসবের দফতরে একটু আধটু যাওয়া আসা করি। ওখানে অন্য বয়োজ্যেষ্ঠ কবিরা যেমন সৈয়দ শামসুল হক, বেলাল চৌধুরী, রফিক আজাদ, খালেদা এদিব চৌধুরী, মোহন রায়হান, রবিউল হুসাইন, সমুদ্র গুপ্ত, মুহাম্মদ সামাদ, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, মুহাম্মদ নূরুল হুদা, আসাদ চৌধুরী, ফারুক মাহমুদ, আসলাম সানী এবং তারিক সুজাতসহ অনেকেই আসেন। ওনারা একটি নির্দিষ্ট টেবিলে বসেন। আমরা কম বয়সীরা অন্য টেবিলে বসি। গ্রাম থেকে আসার কারণে প্রতিষ্ঠিত কবি লেখকদের কাউকেই চিনি না। আরো যদি খোলাসা করে বলি প্রথম যেদিন ঢাকা শহরে পা দিই আমার নিজেকে ছাড়া কাউকেই চিনি নি। প্রথম দিনে ঢাকাকে ছমছম করা ভয় জাগানো নির্মম এক মোহনীয় শহর মনে হয়েছে আমার কাছে। কবিতা উৎসবেও অনেকটা কাউকেই চিনি না, ততদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠিকানা হবার কারণে চেনা পরিচয় যদিও বাড়তে শুরু করেছে। ঘটনাচক্রে কবি মুহাম্মদ সামাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং জহুরুল হক হলেরও আবাসিক শিক্ষক। আমি একই হলের আবাসিক ছাত্র। তখনও আমি জানি না আমাদের হলের অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ একজন প্রতিষ্ঠিত কবি এবং কবিতা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। দূর থেকে তিনি আমার নাম ধরে ঢেকে উপস্থিত অন্য কবিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। সেই শুরু। এরপর ঢাকা শহরের যত কবি সাহিত্যিকদের সাথে আমি ঘণিষ্ঠ স্নেহসান্নিধ্য লাভ করেছি তাদের বেশির ভাগের সাথে পরিচয় ঘটেছে সামাদ স্যারের সূত্রে। এক্ষেত্রে কবি সাযযাদ কাদিরও ব্যতিক্রম নন। (সম্পূর্ণ…)

একজন ভাত ব্যবসায়ীর সাথে ঘটে যাওয়া কিছু খণ্ড দৃশ্য

আশরাফ জুয়েল | ২৩ এপ্রিল ২০১৭ ৬:০৩ অপরাহ্ন

“ঐ চুতমারানির পোলা, কি অয়ছে? আমি কি তর বাপের লগে শুইতে গেচি? ভাগ খানকির পোলা, রাস্তা মাপ। এই সক্কাল রাইতে ভজর ভজর চোদাইতে আইচে, ফাল পাড়বি তো গুয়ার ভিত্রে…”-

(এই ধরণের উপভাষা দিয়ে যখন একটা গল্প আরম্ভ হয় তখন সেই গল্পের গতিবিধি, এমন কি এর অন্তিম পরিণতি কি তা অনুমান করা কিছুটা সহজ হয়ে যায়। গল্পের এমন একটা অবস্থায় পাঠকের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে তিনি কোন ধরণের সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে যাবেন- এক্ষেত্রে পাঠকের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তসমূহ জেনে নেবার চেষ্টা করা যেতে পারে-

ক। অশ্লীল শব্দ ব্যবহারে বিরক্ত হয়ে গল্প পাঠে বিরত থাকা।
খ।
গ।
ঘ। শত অনিচ্ছা স্বত্বেও গল্পটার সাথে খানিকটা এগিয়ে যাওয়া।

একজন লেখক সব সময় আশাবাদী মানুষ, তাই ‘ঘ’-কে পাঠকের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত ধরে নিয়ে সম্মানিত পাঠক এবং গল্পটির সাথে এগিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেন। )

Monirul Islamশাহবাগ মোড়ে দাঁড়িয়ে টি এস সি-এর দিকে তাকালে প্রথমে কি কি চোখে আসে? বামে তাকালে ফুল মার্কেট, ডানে যাদুঘরের গেট। আরেকটু এগোলে ডানে পাবলিক লাইব্রেরী, বামে শাহবাগ থানা, আর খানিকটা এগোলে বামে ময়লা ফেলার ভাগাড় ডানে চারুকলা, দৃষ্টিকে আরও খানিকটা দূরে ছুঁড়ে মারলে বামে ছবির হাট, ডানে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সামাধিস্থল। কি অদ্ভুত? ফুল মার্কেট, যাদুঘর, পাবলিক লাইব্রেরী, থানা, চারুকলা, ময়লা ফেলার জায়গা, ছবির হাট, নজরুল ইসলামের সামাধিস্থল! কারো সঙ্গে কারুরই কোন সামঞ্জস্য নেই তবু এরা নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে, মানিয়ে নেয়া শিখেছে, শিখে নিতে হয়েছে। এই গল্পের প্লট টি এস সিমুখী নয়। বরং আজিজ’কে পেছন করে দাঁড়িয়ে সামনে এগিয়ে যেতে থাকলে যা যা চোখে পড়বে- তাদের পাশ কাটিয়ে আরও খানিকটা এগিয়ে মৎস্য ভবনের দিকে। শিশু পার্কের বিপরীতে ঢাকা ক্লাব! এক পা দুই পা করে আরও খানিক এগিয়ে গেলে দেখা যায়- হ্যাঁ এই জায়গাটাতে রমনা পার্ক-সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, পরস্পরকে চুমু দেয়ার ভঙ্গিতে ঠোঁট বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু চুমু দেয়া হচ্ছে না। ঠোঁটের মাঝ বরাবর পিচ ঢালা ঢাকার নৃশংস রাজপথ। এই- এই জায়গাটা হচ্ছে এই গল্পের প্লট। সোহরাওয়ার্দীর দিকে মুখ হা করে দাঁড়িয়ে থাকা ফুটপাত, মানে রমনা’র গা ঘেঁষে আছে যে ফুটপাত তাঁকে আশ্রয় করে গড়ে উঠেছে একটা খুপরি। খুপরিটাকে কেন্দ্র করে একটা সংসার ঘুরপাক খায়। সদস্য- সখিনা সঙ্গে পাঁচ ছয় জন বাচ্চা, একটা লালা, লালার বাচ্চারা, আর অসংখ্য খদ্দের, ভাতের খদ্দের। (সম্পূর্ণ…)

মোহাম্মদ রফিকের তিনটি কবিতা

মোহাম্মদ রফিক | ২২ এপ্রিল ২০১৭ ৭:১৯ অপরাহ্ন

জয়, পরাজয়

পুরোপুরি পরাজিত করে না কাউকেই,
যূপকাষ্ঠ মুখোমুখি, ঠায় দাঁড় করিয়ে রেখেছে বহুকাল
গুনছে ক্ষণ, জল্লাদ প্রস্তুত হাতে তরবারি হিলহিলে
ঠোঁটে চন্দ্রবোড়া হাসি
অবশেষে, অন্তিম মুহূর্তে
ভেবে নাও, তুমি জয়ী।

যাবার কালে

তোমার নিজের বলে কিছুই রইল না
তুমি তবে চলে যাচ্ছ নীরবে নিঃশব্দে
স্মৃতি বলে কোনো কিছু, হয়তো তাও নয়,
তখনো ভাঙেনি ঘুম প্রগাঢ় রাতের,

আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসেনি বাতাস
চলে গেলে ধীর পায়ে মৃদুমন্দ লয়ে
তোমার কী অবশেষ সংগীত মূর্ছনা
একবার ডুকরে উঠে মিলিয়ে গিয়েছে;

ঢেউ ভাঙা ভাঙা ঢেউ ফুলের কুড়িতে
তুমি চলে গেলে পর পাপড়ি ওষ্ঠ মেলে
হাসি, বিচ্ছুরিত কাদাজলে, শুকতারা কয়,
পরবাসী, এইবার, ফিরে এসো ঘরে;

মর্ত্যবাসীদের ঘুম ভাঙেনি তখনো
কালনিদ্রা হয়তো ভাঙবে না কোনো কালে,
চৈত্রের সুদীর্ঘ দিন ক্লান্ত ও ধূসর
কিছু ফাঁপা স্বপ্ন নিয়ে নায়ে চড়লে তুমি। (সম্পূর্ণ…)

পুলক হাসানের পাঁচটি কবিতা

পুলক হাসান | ২১ এপ্রিল ২০১৭ ১০:৩৪ অপরাহ্ন

ক্ষমতা

নিষিদ্ধ গন্দমের মতোই তীব্র তার টান। স্বর্গচ্যুতি ভুলে দূরন্ত বেগে ছুটে চলে তাই স্বপ্নবান যেন মসনদে আরোহণ; অঙ্গে তার বহুবর্ণের দাগ। রক্তের উন্মাদনা দেখে বুঝে নিও প্রেমিকের ছদ্মবেশে কী চায় সে সম্মোহনের শিখায় মুখোশের আড়ালে ত্রাসে গ্রাসে বেপরোয়া চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু পতঙ্গের মতোই ক্ষীণায়ু যেন নক্ষত্রের পতন; যদিও সুদিনে বাঘের গর্জনে হরিণের আত্মা শুকায়।

কবি

সময়ের ক্যানভাসে জীবনের লিপিকার সে। কিংবা বোধিবৃক্ষ যদি বলি তার মধ্যে স্বর্গের ছায়ায় লালিত এক বুলবুল সুর তুলে যায় প্রাণের যে-সুরে কথা বলে ওঠে মধ্যবিত্ত খড়ের পুতুল। আত্মবিগ্রহে ন্যুব্জ মানুষ সম্বিৎ ফিরে পায় যে সুরঝরা পথ রেখায়, হাওরের বাতাসের মতোই দরাজ মাটি ও মানুষের ঐকতানের সেই সুর শুধুই জীবনের যে জীবন ভুলে গিয়ে সামাজিক নরক তবু তৈরি করে যায় সময় স্মারক।

অসুখের পদাবলী

সুখের সন্ধানেই অসুখ বেঁধেছে বাসা বুকে কে দেয় তাকে রুখে দারুণ দুর্বিপাকে। যেন বয়ে যাচ্ছিল ঝড় বৈশাখের অগোচরে। বৃক্ষের অন্তরীক্ষে জীবন বাতিঘরে। সময় যদি না দিতো ধরা গৃহ ছেড়ে পালাতো প্রাণ ভোমরা।

২. হৃদমহল নিয়ে বাড়াবাড়ি সত্যি আত্মঘাতী এক আড়ি বুঝলাম অবিকল তীরবিদ্ধ পাখির অস্থির ছটফটানি দেখে তাই ভোরের পাখি দিনশেষে ফিরবে যে নীড়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই; বরং অদৃশ্য এক সমনে মুহূর্তেই হয়ে যেতে পারে সকল স্বপ্ন ছাই।

৩. জীবন যদি এক ফুলদানি ফুল ছাড়া অর্থহীন বেঁচে থাকা তাই ভোর স্বাধীন উড্ডীন ফুরফুরে জামদানি আপনাতেই খুলে যায় ডোর। (সম্পূর্ণ…)

আন্তর্জাতিক প্রকাশনা এসোসিয়েশনে তিন বাংলাদেশি

অলাত এহ্সান | ২১ এপ্রিল ২০১৭ ৪:৫৬ অপরাহ্ন

Mazhar+Tariq+Sayokএশিয়ার প্রকাশকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন এশিয়া প্যাসিফিক পাবলিশার্স এসোসিয়েশন (এপিপিএ)-এর প্রথম সারিতে বাংলাদেশের প্রকাশক নির্বাচিত হওয়ায় প্রকাশনা শিল্পের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই প্রথম বাংলাদেশের প্রকাশকদের নেতৃত্বের যাত্রা সূচনা হয়েছে। এ বছর এপিপিএ-এর বার্ষিক সাধারণ সভায় বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া বহুজাতিক এই সংঘের ইন্টারন্যাশনাল এফেয়ার্স এন্ড স্পেশাল ইভেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে কবি ও সাংবাদিক তারিক সুজাত। সংঘের আরেকটি নির্বাহী কমিটি কো পাবলিশিং, ট্রান্সলেশন এন্ড ডিস্ট্রিবিশন-এর চেয়ারম্যান হয়েছেন বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান শায়ক।
আন্তর্জাতিক প্রকাশক সংগঠনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ফিলিপাইনের ডোমিনেডর বুহেইন। সেক্রেটারি জেনারেল হয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার এরিক ইয়াং।
গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভা শুরু হয়। হোটেল শেরাটান ডি কিউব-এ অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে ২০১৭-২০১৮ মেয়াদের জন্য নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হন। (সম্পূর্ণ…)

কদম মোবারকের কাছে এক দুপুর

কাজল শাহনেওয়াজ | ২১ এপ্রিল ২০১৭ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

Rashid Chowdhuryনারায়নগঞ্জের নানাভাইয়া নবীগঞ্জে নিয়ে গেলেন পাথরে খোদানো নবীজির চরণ মোবারক কদমবুছি করাইতে। মাসুম কাবুলি নামের এক আফগান যোদ্ধা এটা কিনেছিলেন আরব ব্যবসায়িদের কাছ থেকে। এই ভদ্রলোক ঈশা খা’র সাথে মিলে আকবর বাদশাহর ফৌজের সাথে যুদ্ধ করে বাংলার একাংশকে কিছুদিন স্বাধীন রেখেছিলেন। শেষ রক্ষা করতে পারেন নাই যদিও।

নবীগঞ্জ ছিল পাটের শহর। গুদামের। বৃটিশ কম্পানির কলোনিয়াল ছাপ এর অলিতে গলিতে। পূরানা আমলের চিকন চিকন রাস্তা। উইলসন রোডে নানার বাবার বাড়ি।

‘মাম তুমি বুঝতে পারছো না, এইটা ট্রায়াঙ্গুলার না, সার্কুলার। সম্পর্ক এরকমই হয়।’ প্রিণন ওর মাকে বলছে।

‘আচ্ছা এখানে কলাগাছিয়া কই?’
নানাভাই অবাক হন, ‘কলাগাইচ্ছা? তুমি এই নাম জানলা কেমনে ভাইয়া?।
‘এইখানে ধলেশ্বরির সাথে শীতলক্ষ্যা মিলেছে না? তারপর মেঘনার সাথে?’

প্রিণন হাতের ট্যাবে মাথা ঝুকাইয়া থাকে।
ওর চোখ গুগল ম্যাপে। কিন্তু নানাভাই ভাবছে এত কিছুর ভিত্রে এই বালক নদী খুজছে ক্যান?

নারায়নগঞ্জ থেকে নবীগনঞ্জ বড় জোর ৩০০ গজ নদীর এপাড় ওপাড়। কিন্তু কোন ব্রীজ নাই। খেয়া নৌকায় হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে। সড়ক ব্যবস্থার নিদারুণ হাস্যকর প্রহসন। পাটের জমানায় কলকাতার ব্যাংক থেকে মাস পয়লা বেতনের টাকা নিয়া সি-প্লেন নামতো, আর নবীগঞ্জের ইংরেজ ক্যাসিয়ারই সেই টাকা রিসিভ করতো। নারায়নগঞ্জ তখন কেবল স্টিমার ঘাট আর রেল স্টেশন! ঢাকা-নারায়নগঞ্জ-গোয়ালন্দ-কলকাতা। শহর বলতে নবীগঞ্জ। পাটগুদাম, চিকন রাস্তা, গ্যাসের স্ট্রিট লাইট আর কদম রসুল। পাট শ্রমিকদের দরগা। রসুলের পায়ের ছাপের পাথর টুকরা! কদম রসুল। (সম্পূর্ণ…)

সময়ের আয়নায় ১৭-কে আমি ৭১ দেখি

তারিক সুজাত | ২০ এপ্রিল ২০১৭ ১০:০৯ অপরাহ্ন

রাষ্ট্র যখন প্রতিদ্বন্দ্বী
কী আর করা!
তজবীর দানার বদলে যারা
আমার পূর্বপুরুষের খুলি দিয়ে
জপমালা গেঁথেছিলো
তাদের দাড়ি আর আলখাল্লায়
আকাশ কালো করে
এ বৈশাখে ফের ঝড় ওঠে!
রুগ্ন সংবিধানটিকে
যেদিন ধর্মের পোষাক পড়ানো হলো
সেই মুহূর্তেই নগ্ন হলো
মাতৃ-প্রতিভু শহীদ মিনার,
৫২-’র উৎসভূমি থেকে
প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে ফিরে আসে
প্রতিবাদী বর্ণমালা! (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com