হোর্হে লুইস বোর্হেসের প্যারাবোল: রাজ প্রাসাদের রূপকথা

খালিকুজ্জামান ইলিয়াস | ২৩ আগস্ট ২০১৬ ৯:৫৩ অপরাহ্ন

মূলত গল্পকার হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হলেও, হোর্হে লুইস বোর্হেস(১৮৯৯-১৯৮৬) ছিলেন একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, প্যারাবোল-রচয়িতা ও গল্পকার। ২৪ আগস্ট তার ১১৭তম জন্মদিন। বাংলাভাষার শীর্ষস্থানীয় অনুবাদক ও প্রাবন্ধিক খালিকুজ্জামান ইলিয়াসের অনুবাদে বোর্হেসের অসামান্য একটি প্যারাবোল অনুবাদের মাধ্যমে আর্হেন্তিনার এই অসামান্য লেখককে বিডিনিউজটোয়েটিফোর ডটকম-এর আর্টস বিভাগের পক্ষ থেকে জানাই জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলী। বি. স.

al-hamraসেদিন পীতাঙ্গ সম্রাট কবিকে তাঁর প্রাসাদ দেখালেন। তাঁরা প্রাসাদের পশ্চিম প্রান্তের সারবদ্ধ প্রথম অলিন্দগুলি পার হয়ে এগিয়ে গেলেন; গিয়ে দাঁড়ালেন সেখানে যেখানে মুক্তমঞ্চের অসংখ্য সিঁড়ির মতো নেমে গেছে সেইসব অলিন্দচত্তর। গিয়ে মিশেছে স্বর্গপুরীতে বা নন্দনকাননে। সেখানে ধাতব মুকুর আর পেঁচানো জটাজালে বিস্তৃত জুনিপার ঝোপঝাড় এক গোলকধাঁধারই ইঙ্গিত দেয়। প্রথমে ওরা বেশ হাস্যলাস্যেই ওই ধাঁধায় হারিয়ে গেলেন যেন বা লুকোচুরি খেলা খেলতে খেলতে; কিন্তু পরে তাঁদের চিত্তে জমে শঙ্কা কারণ সোজাসিধে পথগুলো চলিষ্ণু অবস্থাতেই ক্রমে বেঁকে যাচ্ছিল (আসলে ওই পথগুলো ছিল এক একটা গোপন বৃত্ত)। রাত ঘনিয়ে এলে তাঁরা আকাশের গ্রহরাজি দেখেন, এবং লগ্ন হলে একটা কচ্ছপ বলি দেন। এরপর সেই আপাতঃ ঘোরলাগা অঞ্চল থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসেন, কিন্তু হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কাবোধ থেকে বেরোতে পারেন না। এবং শেষ পর্যন্তও এই বোধ তাঁদের সঙ্গে সেঁটেই থাকে। প্রশস্ত অলিন্দ-চত্ত্বর আর পাঠাগার তাঁরা পার হয়ে আসেন, পার হন জলঘড়িরাখা ষড়ভুজ কক্ষটিও। একদিন সকালবেলা এক উচ্চমিনার থেকে তাঁরা দেখেন এক প্রস্তর মানবকে, কিন্তু লোকটা মুহূর্তে কোথায় হাওয়া হয়ে যায় যে আর কখনো তাকে দেখাই গেল না। চন্দনকাঠের নৌকায় চড়ে তারা কত ঝিলিমিলি জলের নদী পেরিয়ে গেলেন–নাকি একটি নদীই তারা বার বার পার হলেন? রাজ শোভাযাত্রা পেরিয়ে যায় কত জনপদ আর লোকে করে সাষ্ঠাঙ্গে প্রণিপাত। কিন্তু একদিন তাঁরা এক দ্বীপে এসে তাঁবু গাড়ে, সেখানে একটি লোক রাজাকে প্রণিপাত করে না কারণ সে তো কখনো দেবদূত দেখেই নি। তখন আর কি, রাজজল্লাদকে তার কল্লা নিতে হলো। কালো চুলের মাথা আর কৃষ্ণাঙ্গ যুবানৃত্য আর জটিল আঁকিবুকির সোনালী মুখোশ নির্লিপ্ত চোখে তাকিয়ে থাকে; বাস্তব আর স্বপ্নের ভেদরেখা যায় ঘুঁচে–নাকি বাস্তবই হয়ে দাঁড়ায় স্বপ্নের স্বরূপ? তখন মনেই হয় না যে পৃথিবীটা এক বাগিচা কি জলাধার কি স্থাপত্যশিল্প কি জমকালো সব সাকার বস্তুর সমাহার ছাড়া অন্য কিছু। প্রতি শতপদ ফারাকে এক একটি মিনার উঠে ফুঁড়ে গেছে নীল আকাশ; চর্মচক্ষে তাদের রঙ এক ও অভিন্ন, তবু প্রথম মিনার দেখতে হলুদ আর সারির শেষটি লাল। এই রঙের ক্রমবিস্তার খুবই নাজুক, ফিনফিনে আর মিনার সারিও খুব দীর্ঘ ও প্রলম্বিত। (সম্পূর্ণ…)

শাপলা সপর্যিতার সাতটি কবিতা

শাপলা সপর্যিতা | ২৩ আগস্ট ২০১৬ ৬:০৭ অপরাহ্ন

জলে, আয়না

ঘুরে ফিরে তোমার কাছেই আসি ।
ভোরবেলা ফুল নেই – চুল বাঁধি।
প্রভাতের শিউলি দুষ্প্রাপ্য এই বিরল শহরে
পুকুরের এপাড় খুঁজি। ওপার দেখি না ।
জঙলার ধার, সর্পিল পায়ে চলার পথ
দীর্ঘ মানুষ সরে সরে যায় দূ-রে
একপায়ে তালগাছ, প্রসারিত সবুজের মাঠ,
সুবিশাল স্কুল বিল্ডিং পেরিয়ে ময়নামতির চুড়ায় দাঁড়ালে
নিচে–জলে পড়েছিল কার যেন ছায়া !
ধীরে রৌদ্র বেড়েছে, প্রখর হয়েছে ঝড়,
বৃষ্টি ছেয়েছে বসন তারও বেশি মন ।
অনাগত আত্মজ ফিরিয়ে নিয়েছে সোনা সোনা মুখ
জলে কার যেন ছায়া পড়ে আছে! (সম্পূর্ণ…)

জুনান নাশিতের পাঁচটি কবিতা

জুনান নাশিত | ২১ আগস্ট ২০১৬ ৯:৫৮ অপরাহ্ন

দাগ
দাগে ভরে যাচ্ছে আমাদের কোমল নিঃশ্বাসের রেখা;
বিশ্বাসের ভিতু কাহিনী মানুষের মুখ থেকে মুখে
চকমকি তীরে একাকী হাঁটার কালে মেঘ বলেছিল,
ঝরবো না আর, ভেসে যাবো হাওয়ায় হাওয়ায়
সেই থেকে আমিও ভেবেছি, শুধুই ভাসবো হাওয়ায়
দখিন দুয়ারী কান্নার মোড়ক খুলে ভেঙে দেবো
প্রজাপতি ঘুম, শুষে নেবো উপবাসী সুর।

উড়তে পারিনি আমি।
দ্বিতল বিন্যাসে গড়া স্থবির প্রপাতে আটকে আছি
যেন শ্যাওলা জড়ানো স্মৃতিগন্ধা হিম।

কালো বিষ

ছুরির ফলায় গেঁথে আছে চোখ
হাড়ের ভেতর অগ্নিধারা
অদৃশ্য কপাল জুড়ে অপেক্ষার শিরস্ত্রাণ।

মণি দু’টো শব্দহীন কান্নার ভেতর ডুবে যাওয়ার আগে
আমি অপেক্ষার শিরস্ত্রাণ খুলে ঘুরে আসি
জীবন খোয়ানো সেই মুহূর্তের পাড়ে
একদিন যেখানে তোমার কাঁধ ছুঁয়ে উড়িয়েছি
অজস্র বাতাস, মিলিয়েছি ঠোঁট, জিহ্বার করতল। (সম্পূর্ণ…)

প্রত্যাখ্যাত ৮টি গবেষণার নোবেলজয়

বিপাশা চক্রবর্তী | ২০ আগস্ট ২০১৬ ১:০৬ অপরাহ্ন

নোবেলবিজয়ী সব গবেষণা বা আইডিয়া প্রথমেই নিজ বলয়ে গৃহীত হয়নি। সংজ্ঞাগত দিক থেকেই হোক কিংবা দৃষ্টান্ত ও উদাহরণের দিক থেকে সেগুলো ছিল আসলেই বৈপ্লবিক। সে অনুযায়ী, অনেক আলোচিত গবেষণা, তত্ত্ব ও আবিষ্কার এমনকি পরবর্তীকালে টেক্সটবুকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এমন, অনেকগুলোই প্রাথমিক অবস্থায় বাতিল বলে ঘোষিত হয়েছিল। উপহাস যদিও বা না করে থাকেন তবুও প্রথম পর্যায়ে বিজ্ঞানী মহল ঐসব ঘোষণাকে বাতিল বলেই ঘোষণা করা হয়েছিল। মার্কিন জীনতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড মার্টিন টেমিন যখন “রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেস’ (RT) প্রস্তাব করলেন, যেখানে বলা হলো- “ আরএনএ অনেক সময় ডিএনএ তৈরি করতে সক্ষম”। এই তত্ত্বকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেয়া হল। সেটা ছিল ১৯৭০ সাল। অন্যসব বিজ্ঞানীদের মতে হাস্যকর এ প্রস্তাব নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হল ১৯৭৫ সালে। অনেক সমালোচনা অনেক বিতর্কের পরেও সে সময় অনেক বাঘা বাঘা বিজ্ঞানী নেতারা মানতে নারাজ ছিলেন টেমিনের এই তত্ত্ব, যে কিছু ভাইরাস আরএন-এ আকারে থেকে তাদের জেনেটিক তথ্য বহন করে আক্রান্ত কোষের ডিএনএ’তে তার অনুলিপি তৈরি করে ফেলতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে ‘বিপরীত বা রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন’ বলে আখ্যায়িত করা হলো। কেননা, রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেস (RT) হচ্ছে এক ধরনের এনজাইম যা ব্যবহার করে আরএনএ টেমপ্লেট থেকে পরিপূরক ডিএনএ বা কমপ্লিমেন্টরি ডিএনএ উৎপাদন করা যায়। একই কান্ড ঘটেছিল সুইস মাইক্রোবায়োলজিস্ট ওয়ার্নার আর্বার-এর বেলাতেও। ১৯৭৮ সালে তিনিও নোবেল পান। ওয়ার্নার রেস্ট্রিকশন এনজাইমের কাজ নিয়ে গবেষণা করেছিলেন।

এখানে নোবেল জয়ী ৮টি গবেষণাপত্রের রূপরেখা দেয়া হলো যেগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে সম্মিলিত পর্যালোচনায় বিভিন্ন বিজ্ঞান সাময়িকী, জার্নাল বা বিজ্ঞান পত্রিকায় প্রকাশের জন্য মনোনীত হয়নি এবং প্রকাশের অযোগ্য বলে বাতিল হয়েছিল।

border=0১। রসায়নশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার (১৯৯৭) বিজয়ীদের একজন মার্কিন প্রাণরসায়নবিদ পল বয়ার। এডিনসন ট্রাইফসফেট সংশ্লেষণের প্রক্রিয়া চিহ্নিত করার জন্য তিনি এ পুরস্কারের অংশীদার হন। (সম্পূর্ণ…)

মাঘরজনীর সবিতা: মোহাম্মদ রফিকের দু’টি গাথাকাব্য

সনৎকুমার সাহা | ১৮ আগস্ট ২০১৬ ৭:০৫ অপরাহ্ন

rafiq‘ক্রেসিডা’-কবিতার নান্দীপাঠ সারেন বিষ্ণু দে এই বলে, ‘স্বপ্ন আমার কবিতা/ অমাবস্যার দেয়ালি/ ধূম্রলোচন নিদ্রাহীন/মাঘরজনীর সবিতা।’ আপাতদৃষ্টে এতে কোন স্বাভাবিক পরম্পরা নেই। এমনকি কর্তা-কর্মের অবস্থান অনিশ্চিত। কূটাভাসের বা অদৃশ্য বাস্তবতার ছোঁয়াও বুঝি লাগে। কিন্তু একে অসংলগ্ন বলা যাবে না। বরং প্রবলভাবে প্রত্যক্ষকে অতিক্রম করে বোধের কোনো অলিন্দে পা ফেলার প্রত্যাশা জাগায়। এবং তাতে সারি সারি প্রতীকের হাতছানি। কারণ নান্দীপাঠেই তার আবাহন নিশ্চিত।

অনেক পরে বিষ্ণু দে একালের কবিতার (১৯৬৩) ভূমিকায় বিষয়টি স্পষ্ট করেন :

…আধুনিক কাব্যের কল্পপ্রতিমা রূপকীকৃত না হয়ে প্রতীকোৎসারী হয়ে উঠে, অতিভাষী সুবোধ্যতার মসৃন ময়দান ছেড়ে কবিতা বিহার করতে ওঠে মিতবাক হয়তো উচ্চাবচ, এমনকি হয়তো আপাতদুর্বোধ্যতার পাথুরে জমিতে। একই কারণে কাব্যের ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাসের প্রাবল্যের চেয়ে ব্যক্তি-সমাজের নিহিত ভাষা বিনিময়ের আততিই হচ্ছে আধুনিক কাব্যের মৌলিক লক্ষণ। এবং… এর নির্মাণের লৌহভিত্তি আত্মসম্মানের অভ্যাসে গ্রথিত।…

প্রাসঙ্গিক আলোচনায় যাবার আগে আরো একটু বলে রাখি, বিষ্ণু দে-র চোরাবালি কাব্যের ‘ক্রেসিডা’ (১৯৩৬) বা এ জাতীয় কবিতায় বিদেশি উৎস থেকে প্রতীকের আমদানি ও দেশি-বিদেশি প্রতীকের মেলবন্ধনে অপ্রস্তুত পাঠককে চমকে দেওয়া তখন রবীন্দ্রনাথের অনুমোদন পায়নি। তবে আজ, মনে হয়, ‘ক্রেসিডা’ বাংলাভাষায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা। কাল তাকে প্রত্যাখ্যান করেনি। বরং তার উজ্জ্বলতা ক্রমাগত বাড়ছে। তবে বিষ্ণু দে পরে পাশ্চাত্য পুরানোৎসারিত প্রতীকের ব্যবহার থেকে সরে এসেছেন, যদিও প্রতীকের গুরুত্ব এতটুকু খাটো করেননি। বিশেষ মূল্যবান হয়ে উঠেছে, যেগুলো মানুষের জীবন ও কর্মের অবিশ্রাম ধারায় ঘর্ষণে ঘর্ষণে হীরকখণ্ডের মত উজ্জ্বল হয়ে তাঁর চেতনায় ধরা দিয়েছে। যেমন, তাঁর ‘জল দাও’ কবিতায়। (সম্পূর্ণ…)

শিল্পী মুর্তজা বশীরকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

রাজু আলাউদ্দিন | ১৭ আগস্ট ২০১৬ ৯:৩৬ অপরাহ্ন

M.B-1
ছবি:নিজ গৃহে শিল্পী মুর্তজা বশীর। :
কবি এবং চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর ভাইয়ের সাথে আমার সখ্য গড়ে উঠতে পারতো অনেক আগেই। আমার লেখকজীবনের প্রায় সূচনা থেকেই তাকে নামে চিনি। কারণ তিনিতো কেবল চিত্রশিল্পী নন, তিনি কবি ও কথাসাহিত্যিক হিসেবেও তখন থেকে আমাদের কাছে পরিচিত। অতএব ছবির সূত্রে না হোক, অন্তত কবিতার সূত্রেই তিনি আমাদের কাছে আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। অার কোন চিত্রশিল্পী আছেন যিনি একাধারে শিল্পের নানান মাধ্যমে সব্যসাচীতায় দীপ্যমান? আর ছবির কথাই বা বলবো না কেন, না আঁকতে পারি, কিন্তু ছবিতে আমার আগ্রহতো অকিঞ্চিতকর নয়। সে নিয়েওতো সংযোগ তৈরি হতে পারতো। তবে দেরিতে হলেও যে সেটা সম্ভব হলো এজন্য আমি কৃতজ্ঞবোধ করছি। কারণ তার সাথে আড্ডা মানে কেবল শিল্প নিয়ে কথাবার্তাই নয়, অনিবার্যভাবেই চলে আসে নানান বিষয়: সাহিত্য, রাজনীতি, শিল্পের ইতিহাস, ভারতের ইতিহাস, শিল্পতত্ত্ব, বিট জেনারেশন, ব্রিটেনের এ্যাংরি ইয়ং ম্যান প্রজন্ম–কী নয়! ৮৫ বছরের বশীর ভাইয়ের স্মৃতির ভাণ্ডারও বিশাল। ওতে ঘুরে বেড়ালেও শিহরিত হতে হয়ে চমৎকারিত্বে আর তার সজীবতায়। এ্যাংরি ইয়ং ম্যান প্রজন্মের লেখকদের বইয়ের যে সংকলন তার ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারে আছে তা আমাদের অনেক লেখকের কাছেও পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। নানান বিষয়ে তার আগ্রহ এবং অধিকার মুগ্ধ করার মতো। আমার আগ্রহের অনেক লেখক কবি সম্পর্কে তিনি শুধু জানেনই না, তাদের কারোর কারোর কবিতা তিনি অনুবাদও করেছেন, যেমন ফেদেরিকো গার্সিয়া লোর্কা।
বশীর ভাই আামার কাছে অাকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব তাঁর বহুমুথিতার জন্য, স্পষ্টভাষণের জন্য, শিশুতোষ সারল্যের জন্য, অকপটতার জন্য, আর সর্বোপরি তাঁর সৃজনশীল বিকিরণের জন্য। আর, হ্যাঁ, আজকাল যা বিলুপ্ত ডোডো পাখির মতোই ধুসর স্মৃতিমাত্র আমাদের জীবনে, তিনি সেই নিরাপোষকামিতাকে জীবনে প্রয়োগ করে বঞ্চনার ঐশ্বর্যে বলীয়ান হয়ে আছেন। তার সান্নিধ্য আমার জন্য সবসময়ই এক গৌরবময় স্মৃতি। (সম্পূর্ণ…)

বাইবেলের ঈশ্বরকে

জাহিদ সোহাগ | ১৬ আগস্ট ২০১৬ ৮:২২ অপরাহ্ন

Shely
এক

আমার পায়ের পাতা ভিজে গেছে তোমার শিশিরে আর অমনি খুলে গেলো, যাকে বলে অপৌরুষেয়, তাতে প্রবেশ করে কার যৌনজীবন যেন এক শূন্য খাতা লিখে দিচ্ছো ইচ্ছেমতো বল্লমে আর আমার কণ্ঠায় বাজাও তোমার মেঘমল্লার

আমি তো পশুপালন আর নারীর গর্ভে কোনো ভেদ দেখেনি; সদাপ্রভু, বলো, সংখ্যাতীত এই বংশধর আমায় কি দিয়েছে মটরশুটির মতো নির্জনতা

বলি, আজ তুমি আমায় ফুঁ দিয়ে নেভাও, নেভাও; আর নারীর পাঁজরে বেঁধে দাও আমার সোনালি রূপালি

দুই

নিজের দীর্ঘ ছায়া ছাড়া আর কিছু নেই। পেছনে পশুপালন স্ত্রী আর দাসীদের যোনি তামার পয়সার মতো হারিয়ে গেছে

বহু জাতি আমাকে শূন্য করে নিরর্থক করে দু’হাতে তুলে দিয়েছে আমারই অস্থি, আজ তার সামনেই নতজানু; তুমি যে আমার নাম ধরে ডাকবে, হায়, সে নামও বহু নামে চাঁদজ্বলা হতাশায় কাঁপছে

আমি অপেক্ষা করছি তোমাকে তোমরই রিপুর ভেতর ছুঁড়ে দিতে; কাদামাটি ছেনে যে খেলায় ক্লান্ত তুমি দিয়েছো রাশিরাশি স্বপ্নাদেশ, তাকে ফিরে পেতে; তুমি দাও আবার আমাকে ব্যাটারি-চালিত ইচ্ছার সক্রিয়তা, গমের বীজ ও মানুষের সম্ভাব্য কলরব

অথবা এসো আমরা শুরু করি উল্টো খেলা: তুমি হও কাদামাটি, নিজের রূপে তোমাকে ছেনে, নিক্ষেপ করি দুর্ভিক্ষ যুদ্ধ ও অবিশ্বাসে; তুমি এসে তোমার অস্তমিত সূর্যের সামনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করো অর্থহীনতা (সম্পূর্ণ…)

জবানা ও নেতার গল্প

ফয়সাল আহমেদ | ১৬ আগস্ট ২০১৬ ৭:০১ অপরাহ্ন

mojibমুন্সি বাড়ির পুকুর পাড়ের ঠিক দক্ষিণ দিকে অনেকগুলো চেয়ার, বেতের তৈরি মোড়া ও লম্বা কাঠের টুল পাতা হয়েছে। পুকুরের এদিকটায় গাছের সংখ্যা বেশি থাকায় বেশখানিকটা জায়গাজুরে ছায়া পড়েছে। সে কারণে এখানেই বসার আয়োজন করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার, পর্দানী বাড়ির বড়পর্দানী, পূর্বপাড়া যুব কল্যাণ সমিতির সভাপতি, মুন্সি বাড়ির ছোটমিয়া, ভূইয়া বাড়ির বড় ভূইয়াসহ সবাই এসেছেন। বলতে গেলে এলাকার গণ্যমান্য কেউ বাদ যায়নি, যিনি এখানে আসেননি। জয়বাংলা বাজারের দোকানীরাও এসেছেন দলবেঁধে। ঘটনা যেহেতু ওখানেই ঘটেছে তাই বিষয়টি নিয়ে তাদের আগ্রহও অধিক। ঘটনার সাথে জড়িত দুই পক্ষও হাজির। তারপরও আলোচনা শুরু করা যাচ্ছেনা। যার জন্য সবার এই অপেক্ষা তিনি আব্দুল হালিম, তবে এলাকায় ছেলে-বুড়ো সবার কাছে জবানা মামু নামেই পরিচিত। ঘটনাচক্রে আজকের সালিশের একমাত্র সাক্ষী তিনি। বিচারের রায় কি হবে তা এই মুহূর্তে বলতে না পারলেও, এটি যে হবে জবানার কথার উপর ভিত্তি করে তা একরকম নিশ্চিত করেই বলে দেয়া যায়।
সত্য বলা মানুষ হিশেবে জবানার আলাদা একটা সুনাম আছে। যদিও সে একটু ভিন্ন প্রকৃতির খেয়লি মানুষ বলেই সবাই মনে করে। যুবক ছেলেদের সাথে আড্ডা দিয়ে রাত কাটিয়ে দেওয়া, যাত্রা দলের সাথে দিনের পর দিন পার করা, মাইলের পর মাইল হেঁটে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখা, নিজে অভাবি হলেও এলাকার কেউ সমস্যায় পড়লে তার পাশে দাঁড়ানো এসবই জবানার বৈশিষ্ট্য। ছেলেপুলেদের হৈ হৈ উল্লাসের মধ্য দিয়ে জবানা উপস্থিত। সবাই একটু নড়েচড়ে বসলেন। শুরু করলেন বড় ভূইয়া, কারণ তাকেই সবাই সভাপতি নির্বাচিত করেছেন। প্রথমপক্ষ অভিযোগকারী তার অভিযোগ উত্থাপন করার সুযোগ পেয়ে বললেন- আমার কওনের কিছু নাই, জবানা মামুই আমার একমাত্র সাক্ষী তাইনেই সব কইবেন। দ্বিতীয়পক্ষ যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেও বললো- সভাপতি সাব আমারও কিছু বলার নাই, যা বলার জবানা মামুই বলবেন। স্বাভাবিকভাবেই এবার জবানার পালা। তবে সরাসরি জবানাকে বলার সুযোগ না দিয়ে মুন্সি বাড়ির ছোট মিয়া বললেন মামু আজকের এই দরবারের রায় আপনার উপর নির্ভর করছে, সুতরাং সত্য কথাই প্রত্যাশা করি আপনার নিকট। বিষয়টি মাথায় নিয়ে কথা বলবেন। (সম্পূর্ণ…)

বিদেশি লেখকদের মূল্যায়নে শেখ মুজিব

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ১৫ আগস্ট ২০১৬ ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন

Mujibরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- এই দুই শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলা ভাষা- সংস্কৃতিকে এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের শীর্ষ আসনে স্থান করে দিয়েছেন। এঁদের অমূল্য অবদান অনিবার্যভাবেই অনন্তকাল থাকবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব লেখক ছিলেন না: কিন্তু লেখার বিষয়বস্তু হয়েছেন। শুধু স্বদেশের শিল্পী-সাহিত্যকরাই নয়, বিদেশী লেখক-কবি-সাহিত্যিক- সাংবাদিকরা তাঁকে নিয়ে লেখালেখি করেছেন। ২৫ বছর আগে যেসব লেখালেখি শিল্পচর্চা তাঁকে নিয়ে হয়েছে, সেইসব দৃষ্টান্ত কালের আবর্তে হারিয়ে গেছে এবং যাচ্ছে।
বিদেশি পত্র-পত্রিকা ছাড়াও বিদেশি লেখকদের গল্পে, উপন্যাসে এবং কবিতায় বঙ্গবন্ধুকে স্থান দিয়েছেন। যেমন মার্কিন লেখক রবার্ট পেইন, সালমান রুশদী, জাপানি কবি মাৎসুও শুকাইয়া, গবেষক ড. কাজুও আজুমা, প্রফেসর নারা, মার্কিন কবি লোরী এ্যান ওয়ালশ, জামান কবি গিয়ার্ড লুইপকে, বসনিয়ার কবি ইভিকা পিচেস্কি, বৃটিশ কবি টেড হিউজের কবিতায় বঙ্গবন্ধু উপস্থাপিত হয়েছেন। অবশ্য ভারতীয় ও পাকিস্তানি প্রচুর কবিই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা রচনা করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিদেশিরাও বেশ কিছু গ্রন্থ লিখেন। তার একটি অসম্পূর্ণ তালিকা নিম্নরূপ: (সম্পূর্ণ…)

পিতা, তুমি চলে যাওয়ায়

মারুফ কবির | ১৫ আগস্ট ২০১৬ ৯:৫৩ পূর্বাহ্ন

mojibহে শ্রেষ্ঠ বাঙালী তুমি যে মানুষগুলোর ভালবাসায় একটি জাতির পিতা হয়ে উঠেছিলে-
সে মানুষগুলো কালের বিবর্তনে আজ বড্ড অবহেলিত হয়ে গেলো।
তার বদলে সেই সব চাটার দলের শিরোমণিদের কাছে ক্ষমতার বিশাল ভার,
তাদের সন্তানেরা থাকে বিলাত কিংবা আমেরিকার মস্ত বড়লোকদের পাডায়;
তোমার বাংলা থেকে চুরি করা টাকা নিত্য তাদের বিলাসিতায় যায়।
আর যে সরল সাধারন তোমার স্বপ্ন বুকে ধারন করে পথ চলতো তারা এখনো তোমাকেই ভালবাসে,
তাদের সন্তানেরা জীবনের প্রতিপদে সংগ্রামে এখনো মুখর তোমারই স্বপ্নের দেশ গড়তে।
হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর পিতা তোমার সোনার বাংলায় এখন দস্যুর হানা,
পার্বত্য চট্রগ্রাম থেকে সর্বত্র সবাই এখন চায় দানবীয় উন্নয়ন। (সম্পূর্ণ…)

আমি মুজিব বলছি

আনিসুর রহমান | ১৪ আগস্ট ২০১৬ ৯:২৯ অপরাহ্ন

Mujibবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখালেখির পরিমাণ ও পরিধি বিশাল। স্মৃতিচারণ থেকে শুরু করে কবিতা, চলচ্চিত্র, জীবনী, গবেষণা ও মূল্যায়ন, কোনোটারই কমতি নেই। অন্যদিকে দেশে বিদেশে অর্বাচীনরাও বসে নেই। সুযোগ পেলেই মহান এই মানুষটির সাথে মৃত্যুর পরেও বেয়াদবি করে। এই মানুষটি একটি জাতির আধুনিক রূপকার, একটি রাষ্ট্রের স্থপতি। প্রত্যন্ত জনপদ টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নিয়ে কিভাবে তিনি ধাপে ধাপে বাঙালির জাতিরাষ্ট্রের স্থপতি হলেন, দেশ ও দেশের মানুষকে মুক্তির পথ দেখালেন তার অনেক কিছু অনেকের লেখায় নানাভাবে উঠে এসেছে। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ পথপরিক্রমায় তাঁর মনের কি অবস্থা তা কিছুটা ঘটনা পরম্পরায় কিছুটা কল্পনায়, গদ্য-পদ্যের মিলিত বয়ানে নাট্যমঞ্চের জন্যে লেখা একটি মনোলগ বা স্বগত সংলাপ: আমি মুজিব বলছি।

মনে পড়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কথা । তিনিই আমার আর্দশ, তিনিই আমার নতো। তাই আজ এই নির্জন কারাগারে তাঁর কথাই সবার আগে মনে পড়ে। তিনি আমাকে কাছে টেনে নিলেন কি করে? তাঁর সাথে আমার পরিচয় হলো কিভাবে, কোন ভোরে?
তিনি আমাকে দেখালেন দেশ ও রাজনীতির নানা পথ।
আরো মনে পড়ে, কলিকাতা মেডিকেল কলেজের অপারেশন থিয়েটারে ডাক্তার আমার চোখের অপারেশন করে। সেই থেকে চশমা আমার শুরু।
বয়স আমার ষোল, ডাক্তারের পেছন ঘুরে বছর কয়েক নষ্ট হয়ে গেল। পড়ালেখায় পেছনে পড়ে গেলাম।
কাজ নেই, পড়া নেই। রোজ রোজ স্বদেশীদের নজরে পড়ে যাই। সুভাষ বসুর দলের ভক্ত হয়ে যাই।
ঐ বয়সে বুঝে যাই, ইংরেজদের এই দেশে থাকার অধিকার নাই।
স্বদেশীদের মিটিংয়ে ভিড় করি, গোপালগঞ্জ-মাদারীপুর যাওয়া-আসা করি।
মাদারীপুর এসডিও সাহেব আমার দাদাকে হুঁশিয়ারি করেন। (সম্পূর্ণ…)

শহীদ কাদরীর কবিতা

ওমর শামস | ১৩ আগস্ট ২০১৬ ৩:০৬ অপরাহ্ন

shahid-qudri-10শহীদ কাদরী, ২০০৫ এর দিকে, তাঁর ‘বৃষ্টি’ কবিতা প্রসঙ্গে আমাকে একদিন ফোনে বলেছিলেন, “এই হচ্ছে আমার ওয়েস্ট ল্যান্ড”। এটি তাঁরই কবিতা হলেও, আমি ঠিক ওই বিবেচনায় রচনাটির রস গ্রহণ করি না। তবে উক্তিটির মধ্যে কাদরীর কবিতাবোধের ও কবিতা রচনার প্রক্রিয়ার অনেকখানি সূত্র আছে। আরেকটু বিস্তৃত করা যাক। রোমান্টিসিজম-এর পরে উনিশ শতকের শেষার্ধ থেকে ফরাসী, জর্মন, ইংরেজী তার কিছু পরের হিস্পানীক কবিতায় যে এবং যে সব বাঁক উঠলো তাতে চিন্তা এবং সারবত্তার আয়তন সমধিক বৃদ্ধি পেয়ে সেটি নির্মল আবেগের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়ালো। এই ধরনের ঘটনা যে কোন শিল্পের, চিত্র এবং সংগীতেরও প্রগতির অন্ত:সার হতে বাধ্য। কেননা ব্যক্তিগত এবং সামাজিকভাবে আমরা বেশি জানতে এবং ভাবতে অভ্যস্ত হচ্ছি প্রতিদিন। রাজনীতি, ইতিহাস, বিজ্ঞান, যুদ্ধ, অর্থনীতি, ব্যবসা, জনগোত্রের বিস্তার – আমরা সবই আরো-আরো জানছি । ১৮ শতক থেকে যন্ত্রবিপ্লবের সঙ্গে-সঙ্গে মানুষ গ্রাম থেকে শহরে জড়ো হয়েছে, এখনো হচ্ছে। ফলে কবিতা শুধু মাত্র প্রকৃতি, ঈশ্বর, সৌন্দর্য এইসব বিষয় থেকে অপরাপর বিষয় নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে । ১৯ শতকের মাঝামাঝির থেকে বোদলেয়ার যা করেছিলেন, তার সারার্থ হচ্ছেঃ ১) কবিতাকে মেদ নিষ্ক্রান্ত করে, শ্রুতি-চিত্রকল্পে ব্যঞ্জনা বৃদ্ধির কৌশল নিরূপণ, ২) নাগরিক জীবনের চিত্রায়ন, ৩) প্রকৃতি বিরূপতা, ৪) জীবনের ক্লেদ-গ্লানি থেকেও কবিতা তৈরী করা। বোদলেয়ার রোমান্টিসিজমের কবিতাকে যে স্তরে নিয়ে গেলেন, সেটাকেই আধুনিক কবিতা, অন্তত এক প্রকারের আধুনিক কবিতা স্বীকার করে নেয়া হয়েছে। তাঁর উত্তরসুরি– র‍্যাম্বো, মালার্মে, ভালেরি – আধুনিক কবিতাকে আরো অন্যান্য সম্পদে বিত্তশালী করে তোলেন পরবর্তী কালে। সেই বিবরণে যাবার সুযোগ নেই এখানে। ফরাসী এই কবিতা-ধারা, যাকে সিম্বলিজমও বলা হয়ে থাকে, পরে ইংরেজী এবং জর্মন কবি ও কবিতাকে আক্রান্ত করে – ইয়েটস, এলিয়ট, পাউন্ড, রিলকে-র কবিতা তার সাক্ষ্য। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com