মুহাম্মদ সামাদের কবিতা: পঁচিশে মার্চ

মুহাম্মদ সামাদ | ২৫ মার্চ ২০১৭ ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

BangladeshGenocideএ রাতে হঠাৎ নামে ঝাঁকে ঝাঁকে কনভয়
ঘুমন্ত মানুষ কাঁপে চোখে মুখে তার ভয়।
খুনের নেশায় যমদূতের হিংস্র কড়া নাড়া।
নবজাতকের কান্নায় চিৎকার করে পাড়া।
লেলিহান শিখায় শহর বস্তি ছাত্রাবাস পোড়ে।
আকাশে বাতাসে গগনবিদারী আর্তনাদ ওড়ে।
পথে ঘাটে পড়ে গুলিতে ঝাঁঝরা লাশ।
চারিদিকে শুধু হত্যা আর হত্যার উল্লাস!

আমার বোনকে হায়েনা খুবলে খায়
ভাইয়ের মস্তক গুলিতে উড়ে যায়
পিতা ছিন্নভিন্ন বেয়োনেটের খোঁচায়
রক্তাক্ত মেজেতে মা আমার লুটায়
ভয় বাড়ে স্তব্ধ নীরবতায়!

এ কেমন ভয় নামে, ভয়!
আমার সবুজ দেশে
হলোকাস্ট বা ভিয়েতনাম আজ
গণহত্যার উপমা হয়! (সম্পূর্ণ…)

‘সমুদ্রস্তন দ্বীপের মতো সে আছে ঘুমিয়ে’ : ডেরেক ওয়ালকটের প্রস্থান

কুমার চক্রবর্তী | ২৪ মার্চ ২০১৭ ১১:০৭ অপরাহ্ন

Walcott১.
শীতল কাচ ছায়াময় হয়ে ওঠে। এলিজাবেথ একবার লিখেছিল—
আমরা কাচকে আমাদের ব্যথার চিত্রকল্প বানিয়ে ফেলি।

২.
কাছে এসো ফিরে
আমার ভাষা।

ওয়ালকট, তাঁর নিজের ভাষায়, প্রথমত এক ক্যারিবীয় লেখক যিনি মানবগোষ্ঠীর একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে সবকিছু দেখেছেন আর বলেছেন, পরিপক্বতা হলো প্রত্যেক পূর্বসূরির বৈশিষ্ট্যের সাঙ্গীকরণ। তাঁর একীকরণের বিষয় ছিল ল্যাঙ্গুয়েজ কনটিনাম আর কালচারাল স্ট্রেটাম। ১৯৯২ সালে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত, সেন্ট লুসিয়ার ক্যাস্টিসে ১৯৩০-এর ২৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণকারী ডেরেক ওয়ালকট মনে করতেন যে, অধিকাংশ কৃষ্ণাঙ্গ লেখকই তাঁদের আত্মবিচ্ছিন্নতা দ্বারা নিজেদের পঙ্গু করে ফেলেন, কবি হিসেবে মানবতার বিভাজনে বিশ্বাস অনুচিত। তাঁর স্টার-আপেল কিংডম কাব্যের ‘দ্য স্কুনার ফ্লাইট’ কবিতায় এই চেতনার স্যাবাইন বলছে এমন কথা যা থেকে তাঁর প্রাতিস্বিকতার পরিচয় ধরা পড়ে:
আমি হলাম সোজাসাপটা একজন লাল নিগার যে সমুদ্রপ্রেমিক,
আমার রয়েছে ঠিকঠাক ঔপনিবেশিক শিক্ষা,
আমি একাধারে ডাচ, কৃষ্ণাঙ্গ এবং ইংরেজ
আর হয় আমি কেউ নই নতুবা
আমি এক জাতি।

তাঁর ভেতর ইউরোপীয় ইতিহাস, শিল্পসাহিত্য আর সেন্ট লুসিয়ার আফ্রিকানির্ভর সংস্কৃতির সার্থক মিলন ঘটেছে। তিনি ছিলেন না ইউরোপীয় গোছের, আবার সেন্ট লুসিয়ার কৃষ্ণাঙ্গদের মতো কালোও ছিলেন না, ছিলেন কিছুটা সাদাটে। ফলে বিভিন্ন ঐতিহ্য থেকে গ্রহণের ক্ষমতা তাঁকে দিয়েছে সময়ের এক অতলান্ত কৌলিনত্ব। তিনি বলেছিলেন: ‘আামি এক বিচ্ছিন্ন লেখক: আমার মধ্যে রয়েছে এমন-এক ঐতিহ্য যা একদিকে গ্রহণ করে যায়, আর আছে অন্য এক ঐতিহ্য যা অন্যদিকে বিস্তারিত হয়। একদিকে অনুকরণশীল, বর্ণনাত্মক ও নৃতাত্ত্বিক উপাদান অন্যদিকে তা আবার সাহিত্য ও ধ্রুপদি ঐতিহ্যে শক্তিশালী।’ (সম্পূর্ণ…)

ক্যারিবিয় হোমারের মহাপ্রয়াণ

কামরুল হাসান | ২৪ মার্চ ২০১৭ ৫:৩৫ অপরাহ্ন

D.W.অতিসম্প্রতি প্রয়াত হলেন ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের নোবেল বিজয়ী কবি ডেরেক ওয়ালকট। উল্লেখ্য যে তিনিই পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের প্রথম নোবেল বিজয়ী কবি নন, যদিও কবিতাবিশ্বে তিনিই বেশি আলোচিত। তাঁর আগে ১৯৬০ সালে সাঁ ঝ পের্স সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন। ওয়ালকটের নোবেল প্রাপ্তি তার ৩২ বছর পরে, ১৯৯২ সালে। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেন্ট লুসিয়ায় ১৯৩০ সালে। প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা সেন্ট লুসিয়াতেই। তাঁর স্কুল শিক্ষিকা মা কবিতা ভালোবাসতেন, ঘরে উচ্চস্বরে কবিতা আবৃত্তি করতেন। শৈশবে শোনা সেসব কবিতা শিশু ও বালক ওয়ালকটের অবচেতনে প্রভাব ফেলে থাকতে পারে। তবে তিনি হতে চেয়েছিলেন তার বাবার মতো চিত্রশিল্পী। চিত্রকলায় দীক্ষাও নিয়েছিলেন হ্যারল্ড সিমন্সের কাছে। কবিতা নয়, তার প্রাথমিক হাতেখড়ি চিত্র অাঁকায়। দুর্ভাগ্য বাবার মুখ তিনি দেখতে পাননি। মাত্র ৩১ বছর বয়সে তার বাবা যখন মারা যান, তখন ডেরেক ও তার জমজ ভাই রবার্ট মাতৃগর্ভে ছিলেন।

কিছুদিন ছবি আঁকার পরেই তিনি ইংরেজি ভাষার প্রেমে পড়ে যান, যা থেকে জন্ম নেয় সাহিত্যপ্রীতি। টি এস এলিয়ট ও এজরা পাউন্ডের কবিতাপাঠ তাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে এবং সাহিত্যকেই ধ্যানজ্ঞান করেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে মায়ের কাছ থেকে ২০০ ডলার সাহায্য নিয়ে তিনি দু’টি কাব্যগ্রন্থ্ নিজেই প্রকাশ করেন। বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে বই বিক্রি করে মায়ের কষ্টে অর্জিত অর্থ ফেরৎও দিয়েছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

পার্থ চট্টোপাধ্যায়: বাংলাতে হিন্দু নেতারাই চাইলেন যে, ভারতবর্ষ ভাগ হলে বাংলাকেও ভাগ করতে হবে

সাব্বির আজম | ২২ মার্চ ২০১৭ ২:৩৮ অপরাহ্ন

Partha Chatterjeeপার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই সাক্ষাৎকারটা নিয়েছিলাম ২০১৫ সালের ৬ই অগাস্ট । সেদিনই তার সাথে সরাসরি প্রথম দেখা । এর আগে ই-মেইলে যোগাযোগ হয় । ই-মেইলে যখন বললাম কলকাতা এসে তার সাক্ষাৎকার নিতে চাই তখন তার স্বভাবগত আন্তরিকতায় দিনক্ষণ ঠিক করলেন । সাক্ষাৎকারের স্থান সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস, কলকাতা ( সিএসএসআর) । বহু বছর ধরে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে পড়ান । কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানই তার ধ্যান ও জ্ঞান । জাতীয়তাবাদ, দেশভাগ, পাকিস্তান থেইকা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম, বাঙালি জাতীয়তাবাদের বড়াই ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গে আলাপ হয়। আমি ট্রান্সক্রাইব করার পরে তিনি লিখিত রূপটি চূড়ান্ত করে পাঠান। – সাব্বির আজম

সাব্বির আজম: আপনার লেখালেখিতে জাতীয়তাবাদ যেহেতু প্রধান বিষয়, জাতীয়তাবাদ দিয়েই আলাপ শুরু করতে চাই। যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের আবির্ভাব এবং পরবর্তীতে জাতিরাষ্ট্র হিশেবে ভারতের পত্তন, সেই প্রেক্ষাপটে এর প্রধান চারিত্র্য কী?

পার্থ চট্টোপাধ্যায়
: জাতীয়তাবাদ বলতে আমি রাজনৈতিক বিরোধিতা অর্থাৎ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এক ধরনের বিরোধিতাকে বুঝি যার পেছনে আধুনিক জাতিরাষ্ট্র তৈরি করার একটা ইচ্ছা ছিল। এইটাকেই আমি জাতীয়তাবাদ ধরছি। একারণে, যেমন ধর ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ নিশ্চয়ই ব্রিটিশবিরোধী, তাতে ভারতবর্ষের বিশেষ করে উত্তর অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সমর্থনও ছিল। কিন্তু আমার মতে, একে জাতীয়তাবাদ বলা উচিত না। কারণ সেটার পেছনে ইংরেজকে সরিয়ে ফের মুঘল সম্রাটকে সামনে রেখে,বিশেষ করে রাজা-রাজড়ারা অনেক বেশি ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকবে–এরকম একটা ধারণা ছিল। একটা নতুন জাতিরাষ্ট্র বলতে আমরা এখন যা বুঝি সেরকম ধারণা এই বিদ্রোহে ছিল না। সুতরাং আমার মতে, মোটামুটি ১৮৭০-৮০-র আগে ঠিক ভারতীয় জাতীয়তাবাদ বলতে যা বোঝায় সেটা ছিল না। কিন্তু ১৮৭০-৮০ থেকে কী ধরনের জাতীয়তাবাদ এল এবং এর উদ্ভব হওয়ার কারণগুলো কী এবং এর মধ্যে কী কী বিশেষ চরিত্র আছে? (সম্পূর্ণ…)

সাগুফতা শারমীন তানিয়ার গল্প: অপ্রাপনীয়া

সাগুফতা শারমীন তানিয়া | ২০ মার্চ ২০১৭ ৬:০৬ অপরাহ্ন

-“জানো তো, ‘অন্যায় অবিচার’ সিনেমায় আমার এক রাঙাদাদা মিঠুন চক্রবর্তীর স্যাঙাতদের একজন হয়ে নেচেছিল।”
পোড়া হাতরুটির ফোস্কা ফুটো করে তাতে মিষ্টিকুমড়োর ঘ্যাঁট মাখিয়ে খেতে খেতে বলি আমি। হঠাৎ করেই। যেন এমন দাদার ছোটভাইকে এ’রকম পোড়া রুটি আর ঘ্যাঁট খেতে দিতে নেই। যাকে উদ্দেশ্য করে বলা, কাচা চাদরটা তারে মেলে দিতে দিতে সেই কাজরীর খোঁপায় লতিয়ে থাকা গামছাটা খুলে এলো। পেছন থেকে তার গলা-বুক-মুখের শ্বেতীর সামান্য ছোপগুলি দেখা যায় না আর তাকে টনটনে সুন্দর দেখায়। কাজের ঝি লতিকা জলে এক ছিপি কেরোসিন মিশিয়ে সেটা দিয়ে মুছে চকচকে করে দিয়ে গেছে পেটেন্ট স্টোনের মেঝে, সারা ঘরে মাথা ধরানো কেরোসিনের গন্ধ আর একটা চটচটে আর্দ্রতা বাতাসে। কাজরী আমার কথা গ্রাহ্যই করলো না, ওকে দেখলে মনে হবে ও এমনকি কোনো মানুষ কথা বলছে এমনটিও কানে শুনতে পায়নি। ক’দিন ধরে খুব বাড়িঘর সাফ করছে কাজরী, সব পুরনো ড্রয়ার, সিন্দুক নাড়াচাড়া দিয়ে- জিনিসপত্র বের করে বাড়িটা গোডাউন বানিয়ে ফেলেছে। বালতির বাকি কাপড় শুকোতে দিয়ে সে চটি ফটাফট করে চলে গেল আর আমার মনে হলো- কতদিন ‘হ্যাপিনেস’ শব্দটা কোথাও লেখাও দেখি না। কতদিন ধরে পোড়া হাতরুটির ফোসকা ফুটো করে মিষ্টিকুমড়োর ঘ্যাঁট মাখিয়ে খেতে খেতে আমি এই শেতলতলা, কচ্ছপখোলা- বারাসাতের একটা একতলা বাড়ির সামনের পানাপুকুর পাহারা দিয়ে যাচ্ছি। পুকুরটার জলে একরকমের শাদা শাদা ফুল হয়, তার বাংলা নাম ‘চাঁদমালা’।
tania-painting
ইটের রাস্তার ওপারে কলাবতীর ঝাড়ের পাশে কলতলায় ঝপঝপ শব্দে স্নান সারছে মেনকা সোরেন। দূরদর্শনের সকালের অনুষ্ঠানে কে ঝুমুর গাইছে ‘মন দে যৈবন দে, দুইঠো ডানাই লাগাই দে’। সাধ কত! স্নানের শব্দে আমার মনে পড়ে গেল শোভনের নানাজান গুনগুন করতে করতে ঝপঝপিয়ে তোলা জলে স্নান করতেন- ‘যাব নূতন শ্বশুরবাড়ি/ আহ্লাদে যাই গড়াগড়ি/ সাবান মেখে ফর্সা হবো/ কাটবো মাথায় লম্বা টেরি…’, মরচে লাল সিমেন্টের মেঝে স্নানের ঘরে- শোলমাছরঙা লোহার বালতি আর মগ। বের হবেন যতক্ষণে- ততক্ষণে বুক আর পিঠ গামছার লালে নাকি রগড়ানিতে গোলাপি লাল। অম্লানবদনে বলে ফেলতেন- “ওরে আমরা জোলার জাত। কাজীবাড়ির ধার দিয়া হাঁটতে দিত না আমাদের, অথচ ভক্ত কবীররে দত্তক নিছিল এক জোলা। কাজীবাড়ির কেহ ভক্ত কবীরের নাম জানে না অবশ্যি।” (আমার ওঁর মতো করে বলতে ইচ্ছে করে, মেনকা সোরেনের বাড়ির কেহ একলব্যের নাম জানে না অবশ্যি।)আমরা শোভনদের গ্রামের বাড়িতে থেকেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের সময়। আমার দাদা মেঘালয়েপাহাড়ঘেরা জাওয়াই উপত্যকার ‘ইকো-১’ নামের একটা ট্রেনিং সেন্টারে চলে গেছিল, পরে ফিরে এসে খুব যুদ্ধ করেছিল দাদা- আমরা ভেবেছিলাম দাদাকে ‘বীরপ্রতীক’ উপাধি দেয়া হবে। আর কাজরী কি না আমাকে কালো রুটি আর ডেলাপাকানো ঘ্যাঁট খাওয়াচ্ছে। (সম্পূর্ণ…)

দাঁড়াও পথিক

আকতার হোসেন | ২০ মার্চ ২০১৭ ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

ভ্রূণের মধ্যে আটকে আছি শত বছর ধরে। জঠর থেকে জঠরে হস্তান্তরিত হয়েছি, পেয়েছি শত মায়ের আদর। ভাবছি এবার গ্রিন সিগনাল দেব। বেরিয়ে আসবো অন্ধকার থেকে। পাশে দাঁড়াবো আতঙ্কগ্রস্থ পিতার। হাত ধরবো প্রিয়ভাষিণীর। ভয়ানক অশান্ত হতে যাচ্ছে তোমাদের শহর বন্দর গ্রাম। আমি প্রস্তুত। খুলে দাও কপিকল। সীমান্ত সীমানায় তাঁর হুকুমের অপেক্ষায় আমি।

Afsanপ্রথমে যাবো টুঙ্গিপাড়া করবো সেলাম গেমাডাঙ্গা স্কুল। মধুমতীতে সাঁতার কেটে খুঁজবো শেখ মুজিবের গাঁয়ের গন্ধ। তারপর শিলাইদহ কুঠি বাড়ি থেকে সরাসরি যাব সীতাকুণ্ড। অমিত পুরুষ নুরালদীনের রংপুরে রাখবো পা। সেন্ট মার্টিনের পানি থেকে নামাবো বিষ। খাঁচায় পুষে রাখা অচিন পাখীর কণ্ঠ শুনে আসবো। বাংলাদেশ না হলে অন্য কোথাও নামবো না, অন্য গ্রহ নক্ষত্র করবো না স্পর্শ।
ফিরে আসবো সেই বাংলাদেশ থেকে যতদিন দেখতে পারি দেখব তাল বেল সুপারির দেশ। রহিমুদ্দিনের ছোট্ট বাড়ি যাব মুড়কি খেতে। পড়ে থাকা রাইফেল তুলে নিয়ে ট্রিগারে টিপ দিব। মরুক শালার আশি বছরের শত্রু -তাতে কি। বয়স মানে না শত্রু মিত্র খেলা। শুধু ভালোবাসার বয়স নির্ধারিত। আজন্ম তার সীমানা। বাকি সব সুতোয় বাঁধা গুটি গুটি তসবি চিহ্ন।

জন্ম নিয়েই সেই স্কুল পড়ুয়া কিশোর হব। তারপর সুপ্রিমকোর্টের ভাস্কর্য নিয়ে বিভ্রান্তি মেটাবো। মুছে দিব সংখ্যালঘু শব্দটি। হেলতে দুলতে থাকা চব্বিশ হাজার নত শিরকে ইস্পাতসম কঠিন করে তুলবো। ওরাও হবে বাংলাদেশের অংশ। ফিরে এলে ফিরিয়ে নেব, না হলে কচুকাটা করবো আগাছার মত। ফাঁসি দিলে বলবো রশি বদলাও। ক্ষুদিরামের দড়িতে পিচ্ছিল মোম লাগাও সেই দড়িতে মরবো। (সম্পূর্ণ…)

মারুফ কবিরের কবিতা: হারানোর বদল

মারুফ কবির | ১৯ মার্চ ২০১৭ ৯:০৬ পূর্বাহ্ন

হারানোর বদল
images
বহুদিন পর তোমার সাথে দেখা হবে আবার,
হয়তো গলিত জীবনের শেষে বিধ্বস্ত যুদ্ধক্ষেত্রের প্রান্তসীমায়;
হাসপাতালের করিডোরে কিংবা লাশকাটা ঘরে।
আমি চেয়েছিলাম তোমাকে নিয়ে হারিয়ে যেতে-
ভাটি অঞ্চল ছাড়িয়ে, পাথুরে খরস্রোতা তিস্তা পেরিয়ে (সম্পূর্ণ…)

হুট করে বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা…

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ১৮ মার্চ ২০১৭ ৯:২৮ পূর্বাহ্ন

bangabandhuতোমার সাথে এভাবে কথা বলতে হবে তা কখনো ভাবিনি আমি— শোনো হে বালক, হে একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশ, হে আমার সন্তানেরা— আজ বড়ো বেদনাভারাতুর হৃদয় ও ধ্বসে যাওয়া কণ্ঠ নিয়ে দাঁড়িয়েছি এই মাইক্রোফোনের সামনে— যখন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কবিতা পড়ছি ধরা গলায় এক কবির দেহে অবতীর্ণ হয়ে, তখন তারই এক সতীর্থ কবি সরকারী বাহিনীর হয়রানী সহ্য করছে গরাদের ভেতর নিরপরাধে, কবির বুকের সেই কষ্ট বাজছে কবিতা পড়তে গিয়ে আমারও বুকে।

এখানে আসবার আগে এ কবি তার বন্ধুর হাতে কড়া বাঁধা ছবি দেখে এসেছে ভাসছে নিউজফিডে— কবির সাথে কথা বলে জানলাম— যে দেশের জাতির পিতা আমি সে দেশের দশভাগের একভাগ মানুষ আক্ষরিক অর্থেই বন্যার জলে ভাসছে, হাবুডুবু খাচ্ছে, প্রতিবেশী বন্ধুরাষ্ট্র যাদের মুক্তিযুদ্ধের পরপরই আমি সাহায্যকারী সেনাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করেছিলাম, তারা অসময়ে আমাদের জলের হিস্যা বুঝিয়ে দিতে তোরজোড় করছে, জানলাম বন্ধুরাষ্ট্রের কাছে পরারাষ্ট্রনীতিতে ধরা খেয়ে বসে আছি আমরা— জানলাম হাবুডুবু খাচ্ছে নাকি আমার সুন্দরবন ও একদল রাবিন্দ্রীক দেশপ্রেমিক মানুষের মন—
শোনো হে বাংলাদেশ, শোনো বালক, তোমার পিতা, এই আমি, এই কবির আত্মায় যে ভর করেছি, তিনি বেঁচে থাকলে এতো এতিম, করুণমুখ, দুর্দশাচোখ দেখা যেতো না এই দেশের— তোমাদের বলছি, যারা আমাকে জাতির পিতা মনে করো, দাঁড়াও বালক, আজ তোমার পিতা হবার দিন, বড় হও, পিতা হয়ে ওঠো— শিখে নাও সেই সহি পদ্ধতি, কিভাবে পিতার দিকে তাকাতে হবে তোমাকে— (সম্পূর্ণ…)

ম্যান বুকার ও ওবামা দম্পতির পাণ্ডুলিপি নিয়ে প্রকাশকদের কাড়াকাড়ি

মুহিত হাসান | ১৭ মার্চ ২০১৭ ১:২২ অপরাহ্ন

ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজের জন্য মনোনীত যাঁরা
চীনের কমিউনিজম নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক বয়ান, আফ্রিকার পটভূমিতে রবিন হুড ঘরানার একটি গল্পের পুনর্কথন অথবা বিভক্ত জেরুজালেমে বেড়ে ওঠার গল্প– এ বছরের ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজের জন্য মনোনীত উপন্যাসগুলোর বিষয়বৈচিত্র্য দেখবার মতো বটে। সম্প্রতি বুকার কতৃর্পক্ষের প্রকাশ করা একটি ‘লংলিস্টে’ পাওয়া গেছে মোট বারো দেশের তেরোটি উপন্যাসের নাম। মোট আটটি উপন্যাসই অবশ্য মনোনীত হয়েছে ইউরোপ থেকে। এর বাইরে ইজরায়েলের দুটি এবং চীন, আর্জেন্টিনা ও আলবেনিয়ার একটি করে উপন্যাস স্থান পেয়েছে উপন্যাসের জন্য প্রদত্ত এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মনোনয়ন তালিকায়।
&NCS_modified=20161221133400&MaxW=640&MaxH=427&AR-161229871আলবেনিয়ার সুবিখ্যাত কথাকার ইসমাইল কাদারে, যিনি কিনা আগে তাঁর তাবৎ সাহিত্যকর্মের জন্য ২০০৫ সালে ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ পেয়েছিলেন(ওই বছরই আদতে এই মূল্যবান পুরস্কার প্রদানের শুরু)– এ বছর ফের মনোনীত হয়েছেন তাঁর নতুন উপন্যাস The Traitor’s Niche-এর জন্য। যার মূল চরিত্র অটোমান সাম্রজ্যের রাজদরবারের একজন দূত তথা বাহক, যার কাজ হলো সুলতানের ধৃত শত্রুদের শিরচ্ছেদের পর তাঁদের কাটা মন্ডু বহন করে নিয়ে চলা। (সম্পূর্ণ…)

জুয়্যো কাবরাল ডি মেলো নেয়েতোর কবিতা

মাজুল হাসান | ১৫ মার্চ ২০১৭ ১১:০৬ পূর্বাহ্ন

João Cabral de Melo Neto(1)জুয়্যো কাবরাল ডি মেলো নেয়েতো’ ব্রাজিলের আধুনিক কবিতার অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সম্ভাব্য নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের জন্য বারবার উচ্চারিত হয়েছে তাঁর নাম। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার পেলেও শেষ পর্যন্ত নোবেল থেকে গেছে অধরা। জন্ম ১৯২০ সালের ৯ জানুয়ারি ব্রাজিলের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় পুর্নামবুকো’র রেসিফি শহরে। কৈশোর যৌবনের বড় অংশই কেটেছে সেখানে। ছিল পৈত্রিক গেন্ডারি খামার আর চিনির কল। ১৯৪০ সালে সপরিবারে চলে আসেন রিও ডি জেনিরোতে। দু’বছর পর বের হয় প্রথম কবিতার বই পেদ্রা ডি সনো (ঘুমন্ত পাথর), সর্বসাকুল্যে বিক্রি হয়েছিল ৩শ’ ৪০ কপি। ১৯৪৫ সালে কূটনৈতিক হিসেবে কর্মজীবনের সূত্রপাত; নানা দেশ ভ্রমন ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা। বেশ লম্বা সময় কাটিয়েছেন স্পেনে। ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয় সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ মোর্তে ই ভিদা সেভেরিনা (একজন সেভেরিনার জীবন-মৃত্যু)। সব মিলিয়ে ১৮টি কবিতার বই আর ২টি নাটক। যার একটি মোর্তে ই ভিদা সেভেরিনা’র নাট্যরূপ। অন্যটি অটো দো ফ্রাদে

স্যুরিয়েল ধাঁচের লেখা হলেও মেলো নেয়েতো’র কবিতার বিশেষ বৈশিষ্ট আধ্যাত্মিকতা, ন্যায়নিষ্ঠতা, যা তাঁকে আলাদা করেছে ব্রাজিলের অন্য কবিদের থেকে। ব্রাজিলের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় এলাকার আদিম কবিতা ফর্ম করডেলের সংমিশ্রনে গড়ে ওঠে তার কাব্যভাষা। যেখানে ঘুরেফিরে উঠে এসেছে পুর্নামবুকো’র পরিবেশ-প্রতিবেশ, রূঢ় জীবনধারা।

১৯৬৮ সালে ব্রাজিলিয়ান একাডেমি অফ লেটার্স-এর চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন মেলো নেয়েতো। ১৯৯৯ সালের ৯ অক্টোবর রিও ডি জেনিরোতে মৃত্য হয় ব্রাজিলের আধুনিক কবিতার অন্যতম এই পুরোধা ব্যক্তির। তাঁর লেখা ইংরেজি, ফরাসী, স্প্যানিশসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

আমার বডি পেলে খবর দিও

মাজহার সরকার | ১৩ মার্চ ২০১৭ ১০:৪১ অপরাহ্ন

Malibagh-flyover-7ফ্লাইওভারের গার্ডারের নিচে, আমার বডি পেলে
বাসায় একটু খবর দিও, যেও না তো ফেলে।
ঢাকায় আমার মা রয়েছেন, বাবা হাসপাতালে
বাবাকে গিয়ে বলো না যেন, হার্ট অ্যাটাকে মরে!

বাসে উঠবো না রিক্সা নেবো, এই ভাবছিলাম জানো
এমন সময় আকাশ ভাঙলো, টের পাইনি কেন?
সিমেন্টের বদলে ময়দা, আর রডের জায়গায় বাঁশ
ঠিকাদার আর ইঞ্জিনিয়ার ভালো! উন্নয়নের ফাঁস। (সম্পূর্ণ…)

মাহী ফ্লোরার মরিয়ম

মাহী ফ্লোরা | ১২ মার্চ ২০১৭ ৮:৪৬ অপরাহ্ন

১.
মরিয়মকে মনে আছে? ইচ্ছে সমবয়সী যার একটি কুকুর ছিল। ড্যানি বলে ডাকতেই এতদিন পর বনজঙ্গল ফুঁড়ে এসে হাজির হল স্মৃতিতে। হাতে টিকিট নিয়ে আমরা বলেছিলাম চলো যাই, সিনেমার হলে। তোমাকে না দেখতে দেখতে আমার চোখ অন্ধ হয়ে যায়। বুকের উপর থাবা গেড়ে ড্যানিও দেখেছিল পুরোটা ছবি,আমরা বলেছিলাম মানুষ মানুষের জন্য।

২.
তোমার ঘরের দরজা এমন চাপা মরিয়ম, আকাশ ঢুকতে ঢুকতে ঘেমে যায়। হাওয়া করো হাওয়া, বাতাসের আগে যেন আসে নিমপাতার ঘ্রাণ,মরিয়ম বসন্ত আসে যেকোনো পরীক্ষার আগে। স্বপ্নে যেমন তুমি দেখো আজ পড়ে এসেছো ভুল বিষয়ের প্রশ্ন অথবা তোমার গায়ে নেই কোনো পোষাকের ভ্রুন!

৩.
ঘুম বলছে দুচোখ ফুলে যাচ্ছে তোমার মরিয়ম। রাত গভীর হয়। কুয়াশা ঘনায় জানালার কাঁচে। চিঠির কম্পন কেবলই টের পায় চোখের পাতা। রাত উঠে যায়, রাত নেমে আসে, মরিয়ম মনে আছে ভালোবাসা তোমাকে কি নামে ডাকে? ঘুমুতে ঘুমুতে ঝুম রাত হয়ে যায়। ছেলেটি আজকাল বড় জেগে থাকে।

৪.
মরিয়ম মানে আমরা। পনির যাত্রার মত,একটা সহজ জীবন মুখের ভেতর গলতে গলতে যায়। হাত বাড়ালে দেখি বৃষ্টি হয়। দরজা বন্ধ করলে প্রতিবেশি আসে। মরিয়ম মানে আমরা, বিকেল খেলে দাড়িয়াবান্ধা উঠোন জুড়ে, বহুদিন পর খাঁ খাঁ বাড়িটা মরে যাচ্ছে। কতদিন কোনো গাছ জন্মায় না এখানে অথচ মরিয়ম শেকড় ছেড়ে গেছে চা গাছের মত।

৫.
দূর্বলতাগুলো তোমার ঘরের দিকে ছুঁড়ে দেব মরিয়ম। জলে ছেড়ে দিও। মাছ হয়ে জন্মাবে!
পূর্বজন্মের স্মৃতি নিয়ে আমাদের কথা শেষ। জলকে তুমি কখনো বলোনি সাঁতারের কথা। আমি জলে গেলে তাই জমে যাই। তোমারো ভীষণ তৃষ্ণা পায়।
আকাশ থেকে যে মেঘ নামে তাকে পাত্তা দিওনা, চোখের বৃষ্টিকে দূর্বলতা ভেবে তুমিও কতদিন ছুঁড়ে ফেলেছো কাছের জলাশয়ে!
ইদানীং তাদের কেউ কেউ মাছ হয়ে বেঁচে গেছে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com