নায়করাজ রাজ্জাক: আজকের বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের যে বিকাশ এটা বঙ্গবন্ধুরই অবদানের ফল

| ২১ আগস্ট ২০১৭ ১০:২৭ অপরাহ্ন

razzak+01৯৬ সালে রাজ্জাকের এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলাম আমি এবং কবি ব্রাত্য রাইসু অধুনাবিলুপ্ত দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার জন্য। ফোনে আগেই এপয়েন্টমেন্ট করে তার গুলশানের বাসায় আমরা দুজনে হাজির হয়েছিলাম। সকালের দিকে বোধহয় তিনি আমাদেরকে সময় দিয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের সময় তার পরিচিতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল “জন্ম ২৩ জানুয়ারি ১৯৪২। কলিকাতা চারুচন্দ্র কলেজে ইন্টারমিডিয়েট। ১৯৬২ তে বিয়ে করেন। এরপরে বাংলাদেশে আগমন ১৯৬৪ সালে। ৩ ছেলে ২ মেয়ে। অভিনীত ছবির সংখ্যা ১৮০।” — রাজু আলাউদ্দিন

রাজু আলাউদ্দিন: রাজ্জাক ভাই, আপনার বয়স কত হলো?
আবদুর রাজ্জাক: ফিফটি ফোর।
রাজু: সিনেমা থেকে আপনি তাহলে একরকম বিদায়ই নিলেন?
রাজ্জাক: না, তা নয়। সে রকম অর্থে তো বিদায় নেয়া যায় না। আমি যেটা করলাম, গত দু’বছর আমি একটু সিলেকটিভ ছবি করলাম। একটু ‘আদারওয়েজ’ ব্যস্ত ছিলাম, এদিকে গত দু’বছর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি একটু অগোছালো হয়ে গেছে। এ কারণে নিজেকে একটু সরিয়ে রাখলাম আর কি।
রাজু: ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি অগোছালো হয়ে গেল মানে?
রাজ্জাক: মানে হইচইটা একটু বেশি এসে গেল না গত দু’বছর? উত্তেজনাটা যেন একটু বেশি হয়ে গেছে। এটা নর্মালি আমার জন্যে একটু প্রোব্লেম।
রাইসু: নতুনদের আপনি নিতে পারেন না?
রাজ্জাক: না, নতুনদেরকে আমি সব সময় একসেপ্ট করেছি। টোটাল ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে হঠাৎ করে একটু চেঞ্জ হয় না? এতে করে হইচইটা একটু বেশিই হয়। এ জন্যে আমি একটু সরে থাকলাম ওদের কাছ থেকে।
রাজু : আপনার নিজের তৈরি ছবির সংখ্যা কত এখন?
রাজ্জাক: ১৪ টার মতো।
রাজু : একটু আগে আপনি যে সিলেকটিভ ছবির কথা বললেন, সেটা কোন কোন ছবি?
রাজ্জাক: আমি এবার যে ছবিটি করছি সেটা হলো ‘জজ সাহেব’ যমুনা ফিল্মস-এর। মাঝখানে গেস্ট আর্টিস্ট হিসেবে অভিনয় করেছি। পুরোনো লোকরা ধরলে তো আর না করতে পারি না।
রাইসু: এগুলোতে কি নায়কের রোলেই অভিনয় করলেন?
রাজ্জাক: এখনতো আর নায়কের রোলে অভিনয় করা যায় না। সেন্ট্রাল ক্যারেক্টারে অভিনয় করছি। (সম্পূর্ণ…)

বাঙালি হিপোক্রিট পুরুষ-লেখকদের চরিত্র — ১

তসলিমা নাসরিন | ২০ আগস্ট ২০১৭ ১০:০১ অপরাহ্ন

taslimaগত ১২ অগাস্ট ২০১৭ তারিখে রাজু আলাউদ্দিনের নেয়া কবি নির্মলেন্দু গুণ-এর একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিল আর্টস বিভাগে। তাতে কথা প্রসঙ্গে– সাক্ষাৎকারগ্রহিতার প্রশ্নের জবাবে–কবি নির্মলেন্দু গুণ মন্তব্য করেন কবি কলামিস্ট তসলিমা নাসরিন সম্পর্কে। সেই মন্তব্যের সূত্রে তসলিমা নাসরিন এই লেখাটিতে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বি. স.

বাঙালি পুরুষ-লেখকদের মধ্যে ভয়ংকর পুরুষতান্ত্রিক, ভয়ংকর নারীবিদ্বেষী, দুশ্চরিত্র, দু’নম্বর লোকের অভাব নেই। ব্যক্তিগতভাবে আমি ক’জনকে জানি, যাঁরা মানুষ হিসেবে অতি নিম্নমানের। তাঁরা ঈর্ষাকাতর, মিথ্যেবাদী। পুরুষ-লেখক বলেই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তাঁদের নিন্দে করার কেউ নেই। এঁদের দোষগুলোকে অবশ্য সমাজের বেশিরভাগ পুরুষের চোখে দোষ বলে মনে হয় না। কারণ ‘সেক্সিজম’ এ দেশে দোষের কিছু নয়। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, হুমায়ুন আজাদ,আহমদ ছফা, সৈয়দ শামসুল হকরা বিনা সমালোচনায় জনপ্রিয়তা ভোগ করতে পারেন বাংলায়, বাংলা বলেই সম্ভব। সভ্য দেশ হলে সম্ভব হতো না। তাঁদের জীবনাচরণের অসততা নিয়ে প্রশ্ন উঠতো। আজ নাস্তিক লেখক স্যাম হ্যারিসের সেক্সিজম নিয়ে নিন্দে হচ্ছে, নাস্তিকরাই নিন্দে করছেন। শুধু স্যাম হ্যারিস নয়, প্রচণ্ড জনপ্রিয় নাস্তিক-বিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিন্সের কিছু নারীবিরোধী উক্তির কারণে তাঁকে নাস্তানাবুদ করেছেন নাস্তিক-নারীবাদীরা। ডকিন্স নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু বাংলার পুরুষ-লেখকদের ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া তো দূরের কথা, ভুল ধরিয়ে দেওয়ার কাজটিতেও নির্বোধ স্তাবকদের আপত্তি। যেহেতু ভালো একটি বই লিখেছেন, সুতরাং তাঁর সাত খুন মাফ—নাস্তিক বাঙালির এই আবেগের সঙ্গে ধর্মান্ধ বাঙালির আবেগের কোনও পার্থক্য নেই।

সম্প্রতি বিডিনিউজ২৪ ডটকম কবি নির্মলেন্দু গুণের একটা সাক্ষাতকার ছাপিয়েছে। ওতে আমার বিরুদ্ধে একগাদা মিথ্যে কথা বলেছেন নির্মলেন্দু গুণ। সম্ভবত ‘স্বাধীনতা পদক’ পাওয়ার জন্য কিছুকাল আগে তাঁর মরিয়া হয়ে ওঠার সমালোচনা করেছিলাম বলে শোধ নিয়েছেন। আমি লিখেছিলাম – ‘শুনলাম কবি নির্মলেন্দু গুণ নাকি স্বাধীনতার পদক পাওয়ার জন্য ক্ষেপেছেন। অনেক তো পুরস্কার পেলেন। আরো পেতে হবে? কী হয় এসব পুরস্কারে? কিছু লোকের হাততালি পাওয়া যায় আর সম্ভবত কিছু টাকা পাওয়া যায়। টাকা তো সেদিনও শেখ হাসিনা দিয়েছেন তাঁকে। হয়তো তিনি মনে করেছেন স্বাধীনতা পদক পাওয়ার যোগ্য তিনি, তাই পদক দাবি করছেন। কত কেউ তো কত কিছুর যোগ্য। সবারই কি সব কিছু পাওয়া হয়? গ্রাহাম গ্রীন যে অত বড় লেখক, নোবেল তো পাননি। (সম্পূর্ণ…)

ভাষার প্রতিভা ও সৃষ্টির ডালপালা

রাজু আলাউদ্দিন | ১৯ আগস্ট ২০১৭ ৪:২৬ অপরাহ্ন

Languages-1নিতান্ত কৌতূহলবশত ২০১০ সালের শুরুর দিকে ওয়েব-রাজ্যের একটি খবরে আমার নজর আটকে পড়েছিল। খবরটা বেদনাদায়ক, কিন্তু অবাক করার মতো কিছু নয়। ক্যামেরুনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ফুরুবানার অধিবাসী এক মহিলা বিকিয়া ভাষায় কথা বলতেন। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি এ ভাষাটি জানতেন। তার ভাষিক নিঃসঙ্গতার কথা ভাবলে আমরা বিষণ্ন না হয়ে পারি না। এই মহিলার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে যাবে এ ভাষাটি। হয়তো এতদিনে তার মৃত্যুর মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়েও গেছে। একটি ভাষা গড়ে উঠতে কত সহস্র বছর লাগে–ভাবা যায়! কত সব সৃষ্টিশীল মনের অবদানের যোগফল যে-ভাষা, তা মাত্র একদিনেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে!
মার্টিন হাইডেগার, একালের দার্শনিকদের মধ্যে যিনি বিশিষ্ট হয়ে আছেন ভাষা এবং কবিতার ওপর আমাদের মনোযোগকে কেন্দ্রীভূত করার জন্য। তিনি বলেছিলেন, ‘যেখানে ভাষা কেবল সেখানেই বিশ্ব।’ কিংবা ‘ভাষার ভিত্তির ওপর অস্তিত্বের সমগ্র ধারণাটা দাঁড়িয়ে আছে।’ অর্থাৎ ভাষার বাইরে আমাদের আসলেই কোনো অস্তিত্ব সম্ভব নয়। সম্ভব নয় এই বিশ্বজগতের ধারণা করা। কারণ, তা কোনো না কোনোভাবে ভাষাশ্রয়ী। বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ভাষাগুলোর তুলনায় বাংলা ভাষা কেবল অস্তিত্বশীলই নয়, রীতিমত পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ ভাষাগুলোর একটি। ভাবুন, বায়ান্ন সালে সত্যি সত্যি যদি আমাদের ভাষার বিজয় না হতো, তাহলে আমাদের সৃজনশীলতা বা আগের সব সৃজনশীলতার যোগফলটুকু ক্রমশ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়ে যেতে পারত চিরকালের জন্য। ইতিহাসে এমন নজির কম নয়। গোটা মানবসভ্যতার ইতিহাসে হাতে গোনা প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন যিশু খ্রিষ্ট, তাঁর মুখের বুলি আরামায়িক বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে বিলুপ্তির ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও যে তা টিকে গেল, তার জন্য আমাদের গভীর শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা মহান ভাষাশহীদদের প্রতি, যাঁরা একেকজন আমাদের প্রাণের, আমাদের অস্তিত্বের চিরন্তন বর্ণমালা হয়ে আছেন। (সম্পূর্ণ…)

মুর্তজা বশীরের ৮৫তম জন্মদিন: তাঁর তুলনা তিনি নিজেই

আশফাকুর রহমান | ১৭ আগস্ট ২০১৭ ৯:৫৭ অপরাহ্ন

Murtaja Baseerযদি তিনি শুধু মুদ্রাবিশারদ হতেন তাহলেও তিনি মুদ্রাবিশারদদের মধ্যে স্বাতন্ত্র্য নিয়ে অবস্থান করতেন। তাঁর বাংলার হাবশি সুলতানের মুদ্রা নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজ এককথায় অতুলনীয়। তিনি তো শুধু মুদ্রা, টাকা কিংবা ডাকটিকেটের সংগ্রাহক নন, তিনি তাতে পাঠ করেন একটি রাষ্ট্রের সমাজের আর মানুষের ইতিহাস। তিনি খোঁজেন মুদ্রার নকশায় শিল্পী ও শিল্পের স্থানীয় শক্তি। শুধু তাই নয়। তিনি যদি শুধু কবিতা, গল্প ও উপন্যাস লিখতেন, সেগুলোও পাঠক সমাজে নন্দিত হতো।
এভাবেই তিনি পাঠ করেন মানুষের মুখ, মানুষের শরীর। আবার দেখেন দেয়ালের দাগ কিংবা পাথরের তল। চিকন রেখায়, স্পষ্ট রেখায় আঁকেন মানুষের অনন্য অভিব্যক্তি। সেই মানুষটি তাঁর আঁকা রেখায় হয়ে ওঠে সবার থেকে আলাদা। রেখায় রেখায় আঁকা সেই স্বাতন্ত্রমণ্ডিত মানুষরা যেন হয়ে ওঠে আরও জীবন্ত। (সম্পূর্ণ…)

চিরদিন বিকল্পবিহীন

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৫ আগস্ট ২০১৭ ১:৫৪ পূর্বাহ্ন

Mujib-2বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির জন্যে বঙ্গবন্ধু চিরদিন বিকল্পবিহীন। কথাটি গতানুগতিক বা প্রথাসিদ্ধ শোনালেও আজ এই সত্যটিকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার সময় এসেছে। কারণ সময় ও পরিপ্রেক্ষিত দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। বাস্তব ঘটনা বা তথ্যকে বিকৃত করে ইতিহাসকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার  চেষ্টা চলছে দীর্ঘদিন। এখন তা আরো ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের যাঁরা ঘোষিত বিরোধিতাকারী কেবল তাঁরাই নয়, যাঁরা তাঁকে জাতির পিতা হিসাবে স্বীকিৃতি দিয়ে থাকেন, সম্প্রতি তাদেরও কেউ কেউ কৌশলে বঙ্গবন্ধুর মৌলিক অবদানকে খাটো করে দেখতে ও দেখাতে  শুরু করেছেন। হয়তো এভাবেই তাঁরা নিজেদেরকে সমাজের নব্যবিবেক হিসেবে চিহ্নিত করে আত্মপ্রতিষ্ঠার উচ্চাকাঙ্ক্ষী সিঁড়িটাকে মজবুত করতে প্রস্তুত। এটি সামষ্টিক স্বার্থ-প্রসূত বিবেচনা বলে মনে হয় না। বঙ্গবন্ধু বা অন্য কেউ একা বাংলাদেশকে স্বাধীন করেনি, এটা কোনো নতুন তথ্য বা যুক্তি নয়। এই আটপৌরে যুক্তি তুলে বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করার কোনো কারণ থাকতে পারে না।
বরং যে যুক্তি, তথ্য ও সত্য সর্বাধিক বাস্তবতাসম্মত সেটি হচ্ছে, একমাত্র বঙ্গবন্ধুর নিখুঁত ও নির্বিকল্প উপলব্ধি, তাঁর দ্বিধাহীন ঘোষণা, তৎপ্রণীত বাস্তবায়নযোগ্য পরিকলপনা, রাজনৈতিক কর্মসূচী, তার ধাপানুক্রমিক বাস্তবায়ন, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি, সর্বোপরি দেশ ও জাতির জন্যে তার চূড়ান্ত আত্মদানের মাধ্যমেই বাঙালি জাতির নব-উত্থান-বাহিত একটি সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভবপর হয়েছে। রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর গুরু, পূর্বসূরী ও সহযাত্রী আছেন অনেক শ্রদ্ধেয় নেতা। কিন্তু  দ্বিতীয় কারো ভূমিকা বঙ্গবন্ধুর এই আনুপূর্বিক ভূমিকার সঙ্গে তুলনীয় নয়। (সম্পূর্ণ…)

সেই ভয়ংকর দিনের স্মৃতি কিছু আমারও ছিল

ফারুক আলমগীর | ১৫ আগস্ট ২০১৭ ১:২৬ পূর্বাহ্ন

Mujibশেষ শ্রাবণের রাত। আকাশে মেঘের ঘনঘটা থাকলেও বৃষ্টি ছিলো না। কালো মেঘ মাঝে মাঝে ঢেকে দিচ্ছিলো চাঁদকে। হয়তো বৃষ্টি হয়েছে কাছে কোথাও। বাতাস তাই শীতল। কিন্তু রমনায় বৃষ্টি হয়নি। বৃষ্টি হয়নি ধানমন্ডী লেক ঘেঁষে বত্রিশ নম্বর সড়কের বাড়ীটিতে; যেখানে থাকেন বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের চ্যান্সেলর। আগামীকাল তাই তিনি আসবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে। উৎসবের সাজে সেজেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাধীনতার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন। স্বাধীনতার আগে মধ্যষাটে আমরা যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ; ১৯৬৫ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠান শুধু বর্জন করিনি; আমাদের যুগপৎ আন্দোলনে ষাটের দশকে কোন সমাবর্তন হতে পারেনি। তারপরের ইতিহাস- ঊনসত্তরের উত্তাল গণআন্দোলনের জোয়ার আর বাংলাদেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ ও অভ্যুদ্যয়ের ইতিহাস যার অংশীদার আমরা, যারা তখন নবীন, যুবা, তারুন্যে টগবগ। আমাদের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-জনতার এমন মিলিত ঐক্য বাংলাদেশ আর দেখেনি। সেই দুর্মর সময়ে কত ভয়ংকর রাত ও দিন পেরিয়ে এসেছি তা আমাদের সকলের অভিজ্ঞতায় কত রকম বেদনার দুঃসহ দাগ কেটেছে ,কিন্তু স্বাধীনদেশে যে এমন একটা সময়ে আমাদের হৃদয়ে কালো রক্তাক্ত ক্ষত সৃষ্টি হবে তা কি আমরা কখনো স্বপ্নে ভেবেছি? (সম্পূর্ণ…)

কাব্য সুষমায় বঙ্গবন্ধু

ফরিদ আহমদ দুলাল | ১৫ আগস্ট ২০১৭ ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

Mujiburবাঙালির হাজার বছরের শিল্প-সাহিত্য-শিক্ষা-ক্রীড়া-সংস্কৃতি অথবা গ্রামীণ জীবন, যেখানেই ইতিহাস ও প্রত্নবিদের পর্যবেক্ষণী দৃষ্টিতে অনুসন্ধান করা যায়; মহাকালের আবর্তে বাঙালির সংগ্রামী জীবনে মহাকাব্যিক দ্যোতনায় নায়োকোচিত সৌর্য-বীর্য আর দীপ্যমান ঔজ্জ্বল্য নিয়ে যে বাঙালি মহানায়ক অনিবার্য ভাস্বর হয়ে ওঠেন, তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নিজের অপরিসর যাপিত জীবনে বড় মাপের মানুষ যত প্রত্যক্ষ করেছি সামনা-সামনি অথবা পত্রপত্রিকায়, যাদের জীবন পাঠের সুযোগ পেয়েছি, তাতে নিজের সাথে পরামর্শ করে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে নির্দ্বিধায় বলতে পারি বঙ্গবন্ধুর যাপিত জীবন, বেড়ে ওঠা, বিকশিত হওয়া, বাঙালির জন্য তাঁর আপোশহীন সংগ্রাম এবং তাঁর প্রয়াণ—সব কিছুর মধ্যে রয়েছে মহাকাব্যিক দ্যুতির ব্যাঞ্জনা। বঙ্গবন্ধুর জীবনের সেই মহাকাব্যিক দ্যুতিতে যদি কেউ নিজেকে আলোকিত করে নিতে পারেন তাহলে তার নিজের ভেতরের কিছু অন্ধকার অনায়াসেই দূর করে নিতে পারবেন। (সম্পূর্ণ…)

নির্মলেন্দু গুণ: মানুষ কী এক অজানা কারণে ফরহাদ মজহার বা তসলিমা নাসরিনের চাইতে আমাকে বেশি বিশ্বাস করে

রাজু আলাউদ্দিন | ১২ আগস্ট ২০১৭ ৯:২৩ অপরাহ্ন

কবি নির্মলেন্দু গুণের সাথে দেখা যতটা হয় তার চেয়ে আলাপ হয় বেশি । সে আলাপ মূলত ফোন-নির্ভর। গত রমজানের মাঝামাঝি ফোনে আলাপ শুরু হয়েছিল হাইকোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য সরানোর ব্যাপারে তার নিরবতা দিয়ে, পরে একে একে আলাপের অংশ হয়ে ওঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া, হেফাজত, লেখক ফরহাদ মজহার, তসলিমা নাসরিন, অভিনেত্রী কবরী, সুচিত্রা সেন, মুনমুন সেন, সাম্প্রদায়িকতা, লেখকের ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়। এসব নিয়ে বরাবরেরই মতো কবি তার স্বভাবসুলভ অকপট ও কৌতুকরসের সমন্বয়ে জানিয়েছেন তার পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্য। তার সাথে আমার এই আলাপচারিতার লিখিত রূপটি তৈরি করেছেন তরুণ গল্পকার সাব্বির জাদিদ। –রাজু আলাউদ্দিন।
goon.jpg
রাজু আলাউদ্দিন: হ্যালো গুণদা, শুনতে পাচ্ছেন? আমি রাজু আলাউদ্দিন। এই পবিত্র রমজান মাসে আপনাকে নমস্কার।
নির্মলেন্দু গুণ: আচ্ছা, আচ্ছা, আচ্ছা।
রাজু আলাউদ্দিন: আর এই পবিত্র রমজান মাসেই আপনার সম্পর্কে সামান্য নিন্দাও করছি, আমি খানিকটা উষ্মা প্রকাশ করেছি(ফেসবুকে) আপনার নিরবতায়।
নির্মলেন্দু গুণ: : কী সেটা?
রাজু আলাউদ্দিন: আপনি এই যে মূর্তি নিয়ে কিছুই বললেন না! সেজন্য কথা বলতে একটু উৎসাহ প্রকাশ করছি। ভাস্কর্য সরানো বা রাখার বিষয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণদা তো কিছুই বললেন না! তিনি কাশবনে সংরক্ষিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি নিয়ে কী করবেন!
নির্মলেন্দু গুণ: কিছু বলিনি, সেজন্য একজন বলেছে কাশবন থেকে (বঙ্গবন্ধুর)ভাস্কর্যটি নিয়ে যাওয়া হবে। (সম্পূর্ণ…)

সক্কলে কবি নয়

আনন্দময়ী মজুমদার | ১১ আগস্ট ২০১৭ ৬:৫৭ অপরাহ্ন

সক্কলে কবি নয়,
কেউ কেউ কবি —
এই বোধোদয়-বিভা
গ্রহপথে সত্যময় পাঠ
কবে হয়ে গেছে!
Mohammed Kibria

তবু,
তবু, দোলনচাঁপা আগুনে
ফুলে-ওঠা মশারির ভিতর
জাহাজের স্বপ্নসফর
বাধা নেই মহাকাশ,
বাধা নেই
তারাবাতি হয়ে ফেরা কবিতার
সমুদ্রের শ্বাস

লেখার ক্ষমাহীন লোভে
সারসের উড্ডীন বাগান,
খাতা ভ’রে ওঠে (সম্পূর্ণ…)

কবি ইউসেফ কমুনিয়াকার কবিতা: মোকাবেলা

বিপাশা চক্রবর্তী | ১০ আগস্ট ২০১৭ ৯:১৭ পূর্বাহ্ন

B-Kমার্কিন কবি ইউসেফ কমুনিয়াকা(৬৯)। মার্কিন কবিতার ইতিহাসে একটি পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় নাম। প্রথম পুরুষ কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান কবি যিনি পুলিতজার পুরস্কার পেয়েছেন। জন্ম নিয়েছিলেন আমেরিকার লুইসিয়ানা প্রদেশে । বাবা ছিলেন ছুতোর মিস্ত্রি। ভাষার শক্তি সম্পর্কে কমুনিয়াকা প্রথম ধারণা পান দাদা দাদীর কাছ থেকে। তারা চার্চে প্রায়ই ওল্ড টেস্টামেন থেকে স্তবক আবৃত্তি করতেন, এভাবে কবিতার সাথে পরিচয় হয় ইউসেফ কমুনিয়াকার। তাঁর কবিতার প্রতিটি অক্ষর আফ্রিকা, ভিয়েতেনামের কথা বলে। সেসময় মার্কিন সমরনীতির কারণে তাঁকে ভিয়েতনাম যুদ্ধে যেতে হয়েছিল। ইউসেফ বর্তমানে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত আছেন। এখানে তাঁর বিখ্যাত একটি কবিতার বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করা হলো। অনুবাদ করেছেন প্রাবন্ধিক বিপাশা চক্রবর্তী। (সম্পূর্ণ…)

স্বদেশ রায়ের কবিতা: বেহুলা ভাসান

স্বদেশ রায় | ৮ আগস্ট ২০১৭ ৮:১৪ অপরাহ্ন

Shakil-story
জানাইতেছি- জানাইতেছি- জানাইতেছি- আজ রাতের আকর্ষণ
বেহুলা ভাসান, বেহুলা নিজেই গাবে এ ভাসান গান।
আপনারা বেহুলার কন্ঠে শুনিতে পাইবেন, কেমন করে বেহুলা ভেলায়
ভেসে ভেসে পার হয়েছিলো বাংলার সব নদী, কেমন করে পাড়ি
দিয়েছিলো উত্তাল ঢেউ। বেহুলাই জানাইবেন আপনাদেরকে- কেমন করে
একের পর এক নিস্তব্দ গভীর অন্ধকার রাত পাড়ি দিয়েছিলো
ভেলায় বসে ভরা নদীর মত বাংলার এই বেহুলা একা- মৃত এক মানুষের
দেহ সঙ্গে নিয়ে। তা ছিলো কি বেহুলার প্রেম না পতি শুধু তার-
আজ তা গানের সুরে গাহিয়া শুনাবেন, বেহুলা আপনাদের।
আপনারা শুনিতে পাইবেন সেই সব কালো কালো রাতের কথা ,
তার পাশে কাপড়ে ঢাকা পুরুষের মতই দেখতে জীবন্ত পুরুষরা
কেমন করে নারী শরীর খুবলে খাবার দাঁত নিয়ে ঝাপটে ধরতে গেছে
বেহুলাকে। সে সব রাতে কীভাবে রক্ষা করেছে বেহুলা (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রনাথ ও জাপান

সৌরভ সিকদার | ৬ আগস্ট ২০১৭ ৮:১১ অপরাহ্ন

tagore1 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একজন বহুমাত্রিক লেখক। তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘গীতাঞ্জলির জন্য ১৯১৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি এশিয়ার কবি-লেখকদের মধ্যে প্রথম যে এই পুরস্কার লাভ করেন। তাই সঙ্গত কারণেই এই মরমী (Mystic) কবিকে নিয়ে জাপানি জনগণ এবং সেদেশের সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়। বিশ শতকের সূচনালগ্ন থেকেই জাপান ছিল এশীয় দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান, বিজ্ঞান, অর্থ ও সমর শক্তিতে অগ্রসর। এমনকি শিল্প-সাহিত্য চর্চায় ও তারা কৃতিত্বের সাক্ষর রেখেছিল।
জাপানীদের কাছে রবীন্দ্র বিষয়ে আগ্রহ তৈরি নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির কারণে হলেও জাপান বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছিল বেশ আগেই। তিনি জমিদার পরিবারের সন্তান হওয়ায় যুবক বয়সে ইউরোপ তথা ইংল্যান্ড ভ্রমন করেছিলেন। পাশ্চাত্যের সমাজ, সভ্যতা ও সাহিত্য জ্ঞান ক্ষেত্রের বিষয়ে তাঁর একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু জাপানে যাবার এবং সেখানকার জীবন আচরণের অভিজ্ঞতা তখনও তার হয়নি- অর্থাৎ সুযোগ ছিল না। কবির নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তি সে দরোজা খুলে দিলো। জাপানের আমন্ত্রনে তাই ১৯১৬ সালে প্রথম কলকাতা থেকে জাহাজে তার জাপান যাত্রা শুরু হল। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com