জাদুর লকেট

ঝর্না রহমান | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৩:২৫ অপরাহ্ন

huda(কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার জন্মদিনে নিবেদিত পঙক্তিগুচ্ছ)

আত্মার কুঠুরিগুলো ভরা ছিলো মধু আর মোমে
শ্রমজীবী মাছিসব পুড়ে গেছে নাপামে এটমে
স্বপ্ন-পোড়া ছাই দিয়ে মেজে নিই দিব্য ঘটিবাটি
দানাপানি কেড়ে নিয়ে বোরাকের নীল ডানা ছাঁটি।

তখনো পরানবনে পদ্মবীজে শিশিরের ধোঁয়া
শিস দিয়ে উঠিতেছে, তখনো হৃদয়ে পুণ্যতোয়া
বহতা, সিম্ফনি খায় ভোরের রোদ্দুরে লুটোপুটি
তখনো সদর কোঠা নাড়া দেয় লালনের ঝুঁটি
তখনো আমার মাঝে ঢুকে পড়ে অন্যতর আমি
তখনো চাঁদের গায়ে দহনের ক্ষত সাল্তামামি। (সম্পূর্ণ…)

কবু (কবি) তর মানুষ

আশরাফ জুয়েল | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১২:৩৯ অপরাহ্ন

nurul(মানুষ- কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা কে নিবেদিত)

নিঃসঙ্গ আকাশে একটি অলৌকিক ফ্যাকাসে কবুতর
যোগ্য ডানার সন্ধান না পেয়ে নেমে আসে মাটির
কাতারে -মানুষের রঙ মেখে মিশে যায় মানুষেরই
সাথে।
কথা বলতে শেখে সে –
কথাগুলো শুধু কথাবলী হয়ে না থেকে
হয়ে ওঠে কবিতা-শংসা।
এভাবে মানুষ -কবুতর– কবুতর- মানুষ;
সংসার শুধু বোঝে ভুল। ভুল বোঝে সংসার। সংসার! (সম্পূর্ণ…)

যেখানেই বাংলাভাষা, সেখানেই কবি হুদা ভাই

মোস্তফা তোফায়েল | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

hudaযেখানেই বাংলাভাষা, সেখানেই কবি হুদা ভাই;
দরিয়ানগরে জন্ম, দরিয়ার সীমারেখা নাই।

ধানের নওল শিষে ফোঁটা ফোঁটা সাদা সাদা দুধ;
নায়ের নিখিল বুকে ঝাঁকে ঝাঁকে কাতল লাফায়;
কিষাণীর মাথে হাতে বাবুই পাখিরা খোঁজে খুদ;
বক আর বালিহাঁস বিলেঝিলে এখনো উড়ায়;
লাল কাঁকড়ার হানা পিল পিল হাঁটছে সদাই,
যেখানেই বাংলাভাষা, সেখানেই কবি হুদা ভাই।

জানালাটা খুলে দিন, হোটেলের । লখ্নৌ কোকিল
কুহু কুহু ডাক দিয়ে ছিঁড়ে দেবে ঝাপ্সা স্মৃতি জাল;
সামনে হাঁটুন ধীরে, দেখা হবে গুম্তির ঝিল-
পাড়ের বসতি ছায়া ঝিল জলমুকুরে মাতাল,
থির-থির কেঁপে চলে। ডাক দেয় স্মৃতির সানাই,
যেখানেই বাংলাভাষা, সেখানেই কবি হুদা ভাই।

নাতিশীত উষ্ণ দেশ নমপেনে, ঝক্ঝকে রোদ,
অডিটরিয়ামে বসে কাটছেন মনের সাঁতার;
মাছের পোনারা ভাসে মনোচোখে, বাংলার হ্রদ
এখানেও মেলে আছে বুক তার। এই বাংলার
ফড়িং নেচেই চলে, ফড়িংয়ের বিরতি তো নাই;
যেখানেই বাংলাভাষা, সেখানেই কবি হুদা ভাই। (সম্পূর্ণ…)

হৃদয়-কলমে লেখা: হৃৎকলমের টানে

সৈকত হাবিব | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১১:১৪ পূর্বাহ্ন

Syed+Shamsul+Haq_26092016_0001“ছয় দশকের অধিককাল ধরে সৈয়দ শামসুল হক লিখেছেন অজস্র ও বিচিত্র রচনা। তাঁর কাছ থেকে আমরা পেয়েছি কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ, কলাম, আত্মজৈবনিকসহ বহুমাত্রিক রচনা। এজন্যই তিনি আমাদের সব্যসাচী লেখক।
“তাঁর সৃজন-জীবনের যে কটি রচনা কালের অমরতায় অভিষিক্ত হয়েছে, তার মধ্যে সবিশেষ উল্লেখযোগ্য ‘হৃৎকলমের টানে’। অনেক বছর আগে সাময়িকপত্রের পাতায় যখন ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছিল এই রচনারাশি, তখনই তা পাঠকহৃদয়ে চিরকালের মতো জায়গা করে নিয়েছিল। কারণ সৈয়দ হক তাঁর হৃদয়ের নিবিড় নির্যাস কলমে ঢেলে এই রচনাটি লিখছিলেন। একই শিরোনামে এর গ্রন্থভুক্ত হবার ইতিহাসও বেশ পুরনো। আর বইটি বহুদিন ধরেই অমুদ্রিত। তাঁর ভক্ত-পাঠকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবার পুরো বইটিই একসঙ্গে প্রকাশ করেছে নান্দনিক।”

উপরের কথাগুচ্ছ লিখিত হয়েছিল ২০১৪ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হৃৎকলমের টানের অখণ্ড সংস্করণের ফ্ল্যাপে, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হকের আহ্বানে। লেখার সময় মগজে ছিল একদা ‘সংবাদ সাময়িকী’তে প্রতি সপ্তাহে চমৎকার লেটারিংয়ে (কাইয়ুম চৌধুরীর করা?) হৃৎকলমের টানে প্রকাশিত হওয়া, আমার অনিয়মিত পাঠ আর পরবর্তী সময়ে ইউপিএল প্রকাশিত একটি সুশোভন বইয়ের স্মৃতি। কিন্তু বইটি দীর্ঘদিন বাজারে ছিল না এবং অনেক লেখা ওতে ছিলও না, যা এ সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে এই বইটির অখণ্ড প্রকাশের ঘটনাই ছিল আনন্দের। আর আমার মতো অর্বাচীনের জন্য এ তো বিরাট সৌভাগ্যের ঘটনা যে, সৈয়দ হক চেয়েছেন যে আমি বইটির একটি ফ্ল্যাপ লিখি! তাঁর অর্ধবয়সী এক লিখিয়ের জন্য এটি নিশ্চয়ই বড় প্রাপ্তি। এজন্য তাঁকে আবারও সকৃতজ্ঞ স্মরণ করি। (সম্পূর্ণ…)

সৈয়দ শামসুল হক-এর কবিতা

ওমর শামস | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৮:৪৩ অপরাহ্ন

Syed+Shamsul+Haq_26092016_0001সৈয়দ শামসুল হক বহু কিছু লিখেছেন – ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, সিনেমা-স্ক্রিপ্ট, প্রবন্ধ, কলাম, কবিতা। এখানে বিবেচ্য তাঁর কবিতা। তাঁর প্রথম কবিতার বই, বুনোবৃষ্টির গান, ১৯৫৯ সনে ছাপা হলেও বাজারজাত হয় নি। তাঁর অন্যান্য কবিতা গ্রন্থঃ একদা এক রাজ্যে (১৯৬১), বিরতিহীন উৎসব (১৯৬৯), বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা (১৯৬৯), প্রতিধ্বনিগণ ( ১৯৭৪ ), অপর পুরুষ (১৯৭৮), পরাণের গহীন ভিতর (১৯৮১), নিজস্ব বিষয় (১৯৮২), এক আশ্চর্য সঙ্গমের স্মৃতি (১৯৮৮)। এই গ্রন্থগুলোর থেকে সঞ্চয়নে তাঁর শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৯০), যার ভিত্তিতে এই আলোচনা। এর পরের কবিতাগ্রন্থের আলোচনা এখানে নেই। তিনটি পর্যায় – ১৯৫৯-৭৪ (পরাণের গহীন ভিতর –এর আগে) ; ১৯৮১ (পরাণের গহীন ভিতর –) ; ১৯৮২-৮৮ (পরাণের গহীন ভিতর –এর পরে) নিয়ে এই এই নিবন্ধ।

১ পরাণের গহীন ভিতর –এর আগে

প্রথম বইয়ের প্রথম কবিতাটি নাম-কবিতা, ১০ পংক্তির অমিল মাত্রাবৃত্তে প্রেমের কবিতা। ১৯৫৯-র জন্য এই কবিতার চলন অনেকখানি আধুনিক, এই অর্থে যে সেকালের প্রচলিত নজরুলী অনুকরণ বা পুঁথি, উর্দু মেশানো কায়দাও এটি নয়। ‘তার মৃত্যু’, বিমান পতনে ইজদানীর মৃত্যু নিয়ে লেখা গদ্য-কবিতাটি আরো সতেজ। ইজদানীর “স্পর্ধা ছিলো পৃথিবীকে মুঠো করে ধ’রে নরম সুগোল এক কমলালেবুর মতো”। সে এখন মৃত। তার বন্ধুরা যথারীতি চায়ের বিকেলের আড্ডায়। ‘লন্ঠনবাহীদের উদ্দেশ্যে’ ১৪ মাত্রার মাত্রাবৃত্তে লেখা। শেষ ৪ লাইনেই কবিতার গন্তব্য : “এবং তারা উঠুক ক্রমাগত / ততোক্ষণে আমরা করি পান / মদ্য, নারী, কামুক ঠোঁটের লাল, / বয়স হলে ঈশ্বরের গান” /। হক-এর ছন্দের হাত আছে। পরের কালে ছন্দোবদ্ধ আরও লিখেছেন সনেট ফর্মে। (সম্পূর্ণ…)

বহুবর্ণিল সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক

ফরিদ আহমদ দুলাল | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

DSC01604দীর্ঘপাঠে যখন অনীহা, সৈয়দ শামসুল হক-এর ‘খেলারাম খেলে যা’ তখন নীহাররঞ্জন গুপ্তের ‘কালোভ্রমর’, শহীদুল্লাহ কায়সারের ‘সংশপ্তক’-এর পাশাপাশি আমাকে পাঠে মগ্ন করেছে; পাঠে যখন অভ্যস্ত হয়ে গেছি তখন তাঁর ‘হৃদকলমের টানে’ টেনেছে। সচেতন পাঠ যখন প্রয়োজনীয় উপযোগী বইটি খুঁজেছে, হাতে তুলে নিয়েছি ‘বৈশাখে রচিত পংক্তিমালা’, ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘নূরলদীনের সারাজীবন’, ‘অন্তর্গত’, ‘নিষিদ্ধ লোবান’, ‘দূরত্ব’; যখন বহুমাত্রিক সৌন্দর্যে যখন প্রেমকে উপলব্ধি করতে চেয়েছি, তখন পড়েছি ‘পরাণের গহীন ভিতর’। সাহিত্যে যখন দেশপ্রেমে আপ্লুত হতে চেয়েছি, যখন সমসাময়িক নানান প্রসঙ্গ উদ্বেল করেছে অন্তর্জগৎ, তখন পড়েছি ‘এক আশ্চর্য সঙ্গমের স্মৃতি’, ‘রাজনৈতিক কবিতা’; আত্মপরিচয়ের সন্ধানে পড়েছি তাঁর ‘আমার পরিচয়’ শিরোনামের কবিতা। নিজেকে কবিতায় সমর্পণ করে যখন কবিজীবন প্রার্থনা করেছি, তখন অনেক কবির আত্মজৈবনিক রচনার পাশাপাশি অবশ্যপাঠ্য হয়ে উঠেছে সৈয়দ শামসুল হক-এর ‘প্রণীত জীবন’ বা ‘তিন পয়সার জ্যোৎস্না’। জীবনের বাঁকে বাঁকে কবি সব্যসাচী সৈয়দ হক এভাবেই কাঙ্ক্ষিত-প্রার্থিত এবং অনিবার্য হয়ে উঠেছেন একজন সাহিত্যকর্মী এবং মগ্ন পাঠকের কাছে। সৈয়দ শামসুল হক-এর ‘অগ্নি ও জলের কবিতা’ যেমন অন্তর ছুঁয়েছে, তেমনি স্পর্শ করেছে তাঁর অসংখ্য কালজয়ী গানের বাণী। এভাবেই সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক বারবার আমায় আন্দোলিত করেছেন; একজন তৃষিত পাঠকের চিত্ত সিক্ত করেছেন তাঁর বহুবর্ণিল-বৈচিত্র্যঋদ্ধ সৃষ্টিকর্মের দ্যোতনায়। তাঁর বিভিন্ন আঙিনা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন আলোচনার অবতাড়না হওয়াই যৌক্তিক এবং সঙ্গত; তা না হলে আবিষ্কার-উন্মোচনে যেমন অস্পষ্টতা থেকে যাবার সম্ভাবনা থাকে, তেমনি অতৃপ্তির বিষয়ও থেকে যায়। সমস্ত বিবেচনাকে মাথায় রেখেও বর্তমান আলোচনা সৈয়দ শামসুল হককে নিয়ে, এ আলোচনায় সৈয়দ হক-এর যে কোন আঙিনা যেমন আলোচিত হবে, যে কোন দিক তেমনি স্বল্পালোচিত হবার সম্ভাবনাও আছে। (সম্পূর্ণ…)

‘প্রণীত জীবন’-এর অবসান

মোস্তফা তোফায়েল | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৯:৫৮ পূর্বাহ্ন

Syed+Shamsul+Haq_26092016_0001বাংলা সাহিত্যের সব্যসাচী সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক। বাংলাদেশে আধুনিকতার চর্চা, বিশেষত গদ্য সাহিত্যে বা কথাসাহিত্যে খুব বেশি দিনের নয়। এ দিক থেকে অগ্রণী অবস্থানে আছেন সৈয়দ হক, যিনি তাঁর সব কটি উপন্যাসেই আধুনিক।
‘প্রণীত জীবন’ সৈয়দ শামসুল হকের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। Sons and Lovers যে বৈশিষ্ট্য ও আবেদনে লরেন্স-এর আত্মজৈবনিক উপন্যাস, ‘প্রণীত জীবন’ও সৈয়দ হকের তা-ই। Sons and Lovers এ লরেন্স তাঁর জন্ম, শৈশব, কৈশোর ও বয়োপ্রাপ্ত হয়ে ওঠার জৈবনিক-মনোজাগতিক বর্ণনা দিয়েছেন পল মোরেল নামক এক চরিত্রের আখ্যানে। ‘চেতনাপ্রবাহ তত্ত্ব’ নামে যা বাংলায় অনূদিত – ইংরেজিতে Stream of Consciousness – তার প্রয়োগ সৈয়দ হকের ‘প্রণীত জীবনে’ আছে লেখকের উত্তম পুরুষে। কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা ‘যুগান্তর’ সাহিত্যপাতায় ‘দুটি লাল পাখি’ নামক প্রবন্ধে সৈয়দ হকের প্রশংসা করে বলেছেন যে তিনিই বাংলা সাহিত্যে কনফেশনাল সাহিত্যের অন্যতম পথিকৃত। কনফেশনাল সাহিত্য বিবেচনায় নিয়ে আসা হলে ‘প্রণীত জীবন’কেই মানতে হবে সৈয়দ হকের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসেবে।
সৈয়দ হকের আরো একটি কনফেশনাল সাহিত্য প্রকৃতির উপন্যাসের নাম ‘বনবালা কিছু টাকা ধার নিয়েছিল’। ‘খেলারাম খেলে যা’ একই ধাঁচে লেখা উপন্যাস। এটি তিনি লিখেছেন পঞ্চাশ দশকের শেষ প্রান্তে, রংপুর জেলা পরিষদ ডাকবাংলার দুই নম্বর কক্ষে এক সপ্তাহ অবস্থানকালে। (সম্পূর্ণ…)

হকভাই এখন চিরজীবিত

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৭:২৫ অপরাহ্ন

syed-hoque

সমকালীন বাংলা কবিতা ও বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীলতার এক সর্বাগ্রগণ্য কারুকৃৎ কবিশ্রেষ্ঠ সৈয়দ শামসুল হক এখন থেকে চিরজীবিত। মানবশরীর নিয়ে আশি বছরের অধিককাল মর্ত্যবাসী থেকে এখন তিনি মহাবিশ্বের মহাকালের আদিঅন্তহীনতায় সমর্পিত। তাঁর সৃষ্টি অবিনাশী, তাঁর সত্তা অবিনাশী, তাঁর আলোক চির-সক্রিয় বাঙালির মনে ও মননে। তাঁর প্রতি উত্তরপ্রজন্মের সশ্রদ্ধ প্রণতি।
মাত্র ছয়দিন আগে ২১ সেপ্টেম্বর সকালবেলা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রচিত আমার সর্বশেষ কবিতাটি এখানে পত্রস্থ করা হলো:

অনন্তের সঙ্গে গোল্লাছুট

যে জানে না তার কোনো ভয় নেই,
যে জেনে গেছে ভয় শুধু তার;
অনন্তের সঙ্গে আড়ি দিয়ে কী লাভ?
বরং অনন্তকে বন্ধু করো তোমার আমার।
অনন্তকে বলি,
এসো, আবার আমরা গোল্লাছুট খেলি;
এসো, আবার আমরা খেলতে শুরু করি ডাংগুলি;
দোল-পূর্ণিমার রাতে জোছনার ডানায় চড়ে
এসো, আরেকবার ঘুরে আসি পরানের গহীন ভিতর;
আমাদের চারপাশে নেবুলার হল্লা,
শাদাবিবর ও কালোবিবরের দাড়িয়াবান্দা,
বাঘবন্দি তারকাপুঞ্জ এক্কা-দোক্কা খেলছে
আপন আপন কক্ষপথে;
আর সেই শৈশব থেকে
আমরাও চড়ে বসেছি আপন আপন রথে; (সম্পূর্ণ…)

বিজ্ঞানীদের কেন সাহিত্য ও অন্যান্য বিষয় পড়া উচিৎ

নাহিদ আহসান | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১:৪০ অপরাহ্ন

বিজ্ঞান ও সাহিত্য নিয়ে কোথায় যেন একটি রেষারেষি আছে। বিজ্ঞানকে অনেক সময় ভাবা হয় যুক্তিপূর্ণ এবং তা শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। সাহিত্যকে ভাবা হয় আবেগনির্ভর, কল্পনাশক্তি দ্বারা চালিত।
আসলে বিজ্ঞানেও আবেগ ও কল্পনার ভূমিকা আছে। আইনস্টাইনের ভাষায়:
“I’m enough of an artist to draw freely on my imagination, which I think is more important than knowledge. Knowledge is limited. Imagination encircles the world.”
আর গবেষণার বিষয়বস্তুর প্রতি আবেগ না থাকলে বিজ্ঞানী কাজ করবেই বা কিভাবে?
পক্ষান্তরে অযৌক্তিক সাহিত্য বা যে-সাহিত্য তার পূর্ববর্তী ইতিহাসের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে নেই সেটাই বা কেমন সাহিত্য? তাই বিজ্ঞান ও মানবিক বিষয়সমূহ পরষ্পরের পরিপূরক। বিজ্ঞানকে মানবিক এবং সাহিত্যকে ভাবালুতা মুক্ত করতে “যুক্ত কর হে সবার সঙ্গে, মুক্ত কর হে বন্ধ” পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার।
অনেকেই মনে করেন, বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের মানবিক বিষয়সমূহ পড়ার দরকার নেই। ইতিহাস, সাহিত্য, রাষ্ট্র বিজ্ঞান সবই যেন অগুরুত্বপূর্ণ এবং হালকা বিষয়। ব্যাপারটি ঠিক তার উল্টো। সাহিত্যের ছাত্রের যেমন বিজ্ঞান জানা জরুরী, বিজ্ঞানের ছাত্রদের তেমনি সাহিত্য, কমিউনিকেশন স্কিল, ইতিহাস, রাজনীতি সর্ম্পকে জানা থাকা দরকার। এটা আপনার জন্য অপশনাল নয়, এটা আবশ্যিক।

সাহিত্য ও ইতিহাসের গুরুত্ব

অন্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে পৃথিবী দেখতে কেমন তা সাহিত্য আপনাকে শেখাতে পারে। আপনি যখন একটা মুভি দেখেন তখন সেই পরিচালকের দৃষ্টিতে, অভিনেতাদের দৃষ্টিতে পৃথিবীর দিকে তাকান। সাহিত্যও সেরকম পৃথিবী সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেবে। যাদের অভিজ্ঞতা আপনার চেয়ে আলাদা তারা কিভাবে চিন্তা ভাবনা করে তা শিখতে পারবেন। দেখবেন যে অধিকাংশই আপনার মত চিন্তা ভাবনা করেনা, বরং মানসিকতার দিক দিয়ে আপনি সংখ্যালঘুদের একজন। আপনি সাহিত্য-পড়ুয়া বিজ্ঞানী হলে বিষয়টির মোকাবেলা করতে পারবেন।
পৃথিবীর ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কেও জানা থাকা জরুরী। একজন বিজ্ঞানী তার ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতিনিধি। আপনার সাথে যারা কাজ করবেন তারা ভিন্ন মানুষ। ভিন্ন অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে বড় হয়েছেন। তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি আলাদা এটা যখন বুঝতে পারবেন তখন আপনার জন্য অন্যদের সাথে কাজ করা সহজ হয়ে যাবে। আপনি যাদের জন্য কাজ করছেন, যাদের সাথে কাজ করছেন,পাশে নিয়ে কাজ করছেন তাদেরকে বুঝতে পারা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানকে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা ঠিক না। তাই অন্যের ইতিহাস ও সংস্কৃতির পেছনের ব্যাকরণ আপনার জানা দরকার। যেমন পূর্ব পশ্চিমের দুজন মানুষ কাজ করছেন একসাথে, তাদেরকে বাসায় নিমন্ত্রণ জানালে একজন হয়তো পাচঁ মিনিট আগে আসলেন, অন্যজন আধঘন্টা পরে আসবেন। তাদের পোশাকও বিপরীত মেরুর। আপনার মানসিকতা যাই হোক না কেন। তাদের আচার আচরণ মেনে নিতে হলে আগে তাদের মানসিকতা বুঝতে হবে। (সম্পূর্ণ…)

মায়াবতী

শারমিন শামস্ | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

Anondo(বহুকাল আগে হারিয়ে যাওয়া সিমিকে ভেবে…)
মায়াবতীকে তাদের বাড়ির কাছাকাছি নামিয়ে দিয়ে রিকশা ঘুরিয়ে আমি চলে এসেছিলাম। তারপর সারারাত তার সাথে আমার আর কোন কথা হয়নি ফোনে। সকালে জানলাম, মায়াবতী আত্মহত্যা করেছে। বন্ধু হুমায়ূন ফোন করে খবরটা আমাকে দিল। আরো বললো, দোস্ত, একটু সাবধানে থাক। তোরে নিয়ে টানাহ্যাঁচরা করবো পুলিশ।
হুমায়ূনের কথা সঠিক। পুলিশ আমাকে নিয়ে যথেষ্ট টানাহ্যাঁচরা করলো। তিনবার থানায় ডেকে পাঠালো। একেক বার দশ থেকে পনেরো ঘণ্টা বসিয়ে রেখে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে আমাকে এমন পর্যায়ে নিতে চাইলো, আর একটু হলেই আমি বদ্ধ উন্মাদ হয়ে বলতাম, সব দোষ আমার। মায়াবতীর মৃত্যু, তার আত্মহত্যা, তার অপমান, তার বেদনা, বিমর্ষতার সব দায় এই আমি, মোহম্মদ রাকিবুল ইসলাম, এই আমি মাথা পেতে নিলাম।
কপাল ভালো, এরকম কিছু ঘটলো না। কেস পরিস্কার। পাড়ার মোড়ে প্রতিদিন যে ছেলেগুলি জোট পাকিয়ে মায়াবতীকে যথেচ্ছ অপমান করতো, তাদের উপর খেপে গিয়ে সেদিন ঘুরে দাঁড়িয়ে তর্ক ঝগড়া করেছে মায়াবতী। তারপর সেই ছেলের দল বাড়ি এসে শাসিয়ে গেছে মায়াবতী আর তার বাড়ির লোকদের। বলেছে, তারা তাকে কাপড় খুলে ন্যাংটো করে পুরো পাড়ায় চক্কর দেয়াবে। বাপ মা ভাইয়ের সামনে তারে ধর্ষণ করে এই বাড়িতে বসেই পোলাও মাংস খেয়ে পার্টি করবে- এরকম অজস্র হুমকি দিয়ে বীরদর্পে বেরিয়ে গেছে ছেলের দল। (সম্পূর্ণ…)

কবি ও সম্রাট

রেজাউদ্দিন স্টালিন | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৭:৩৩ অপরাহ্ন

হতাশাগ্রস্থ সম্রাটকে শ্লোক শোনাতে
সমবেত হলেন দেশের প্রখ্যাত কবিগণ
স্বর্ণবোতাম খচিত কেতাদুরস্ত কণ্ঠস্বর–
জাঁহাপনা আমি রচনা করেছি আপনার
পূর্বপুরুষের শৌর্যবীর্য গৌরবগাঁথা
আপনি ফিরে পাবেন হৃত মনোবল
আর দৃঢ়চিত্তে শাসন করবেন ভারতবর্ষ
বিপুল করতালি ও হর্ষধ্বনিতে ফেটে পড়লো রাজদরবার
সহস্র স্বর্ণ মুদ্রা প্রাপ্য হলো তার

এগিয়ে এলেন মখমলের টুপি আর
জরিদার পাঞ্জাবি শোভিত বাবরি দোলানো কবি
হে মহাত্মন পুজনীয় ভারতেশ্বর
আমি লিখেছি আশ্চর্য সব চরণ
প্রতি পাঠে অনুভব করবেন আক্রোশ
হতাশাকে হত্যা করে জাগিয়ে তুলবে জিঘাংসা
করতালিতে কেঁপে উঠলো দরবার কক্ষ
দুই সহস্র স্বর্ণমুদ্রা এনাম মিললো তাঁর (সম্পূর্ণ…)

ধ্রুবতারা

ফারজানা হায়দার চৌধুরী | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৭:১১ অপরাহ্ন

farzanaরক্তে রক্ত মিশে তৈরি হচ্ছে ‘ডেড সি’
লবণের ভিড়ে প্রাণি-উদ্ভিদ অসহায়—
বাড়ছে ব্যাপকতা বাড়ছে গভীরতা
লাইব্রেরির বইয়ের বাধাই আজ ঢিলেঢালা;
টিভি সিরিয়ালে নূতনতা যে নেই
ভালোবাসা গেছে শীতনিদ্রাতে!
হাসনাহেনা হারিয়েছে সুবাস
ফণীমনসার চাহিদা বেড়েছে
সাকুলেন্টস কারও রুচিতে স্থান পাচ্ছে না
শামুক গুটিয়ে থাকছে নিজ খোলে;
আবর্জনা এখনও ডাস্টবিনে পাই না
বিষবৃক্ষ তৈরি করছে ক্ষত এবং পুঁজ। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com