10

জীবনের জন্য বই

মোহাম্মদ আসিফ | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ৮:৫৯ অপরাহ্ন

একবার সৈয়দ শামসুল হককে একটা সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল মানব জীবনে ও সমাজে শিল্প-সাহিত্যের প্রয়োজনীয়তা কি। উনি তখন উত্তরে যা বলেছিলেন তা অনেকটা এরকম যে আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক কিছু ব্যবহার করি যা শিল্প-সাহিত্যের অবদান। এই যে চমৎকার সব ডিজাইনের বাহারী জানালার পর্দা, সুন্দর সুন্দর বিছানার বেড কভার এসব চিত্র শিল্পীরা আকেঁ, সময়ের বিবর্তে এগুলো একসময় বাজারে চলে আসে, আমাদের নিত্য ব্যবহার্য হয়ে যায়। সাহিত্যের বেলায়ও সেরকম। এই যে আমরা গুছিয়ে কথা বলি, সুন্দর শব্দ চয়ন করি, ভাষার অলংকরণ করে নিজেদের ভাব, মতামত প্রকাশ করি। পণ্যের প্রচারে, বিজ্ঞাপনে মনকাড়া সংলাপ ব্যবহার করা হয়– এসবই সৃজনশীল সাহিত্যের চর্চা ও পাঠের পরোক্ষ প্রকাশ ও ব্যবহার।

আমাদের ব্যাক্তিগত ও সমাজ জীবনে শিল্প-সাহিত্যের প্রয়োজনীতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে লেখাটি শুরু করার কারণ হচ্ছে লেখালেখি সৃজনশীল কাজের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব সঠিকভাবে, কার্যকর উপায়ে আমাদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছেনা। টেলিভিশনে মাঝে মাঝে সাহিত্য আলাচনার অনুষ্ঠানে বই পড়া নিয়ে কথাবর্তা হয়। সরকারের মুখপাত্র সরকারী টেলিভিশনে এসব অনুষ্ঠানে সাহিত্য চর্চা ও পাঠের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা যতটা না করা হয় তার চেয়ে বেশী এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারী প্রতিষ্ঠান কর্তাব্যক্তিরা কে কী করছেন সেসব প্রসঙ্গই মুখ্য হয়ে ওঠে। (সম্পূর্ণ…)

52

কুয়াকাটা : সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত

নূরুল আনোয়ার | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ৯:২৯ অপরাহ্ন


খুব বেশিদিনের কথা নয় কুয়াকাটা নামটি মানুষের তেমন জানাশুনা ছিল। এখন এই নামটি নিয়ে যেভাবে ঘাটাঘাটি হচ্ছে অল্প ক’ বছর আগেও কেউ বেশি ভাবেনি। ভ্রমণপিপাসু মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের চিরপরিচিত পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে নতুন নতুন জায়গা যোগ হচ্ছে। কুয়াকাটা ইতোমধ্যে ভ্রমণপিপাসু মানুষের চিত্ত জয় করে ফেলেছে।
কুয়াকাটা সম্পর্কে আমার জানাশুনা ছিল অতি অল্প। এটার অবস্থান কোথায় সেটাও আমার জানা ছিল না। এতটুকু আমি জেনেছি, যেখানেই হোক এটার অবস্থান সাগড়ের পাড়ে। আমি যতবারই চোখ বন্ধ করে কুয়াকাটার কথা ভেবেছি কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের মত একটা চেহারা তার মধ্যে দেখতে পেয়েছি। কল্পনা করতে দোষ কি? ভেবেছিলাম এখানে বিশাল বিশাল ঢেউ পাড়ে এসে আছড়ে আছড়ে পড়ে। পর্যটকেরা ওখানে নেমে স্নান করে। তারা লাফঝাঁপ করে। শ’য়ে শ’য়ে স্পিড বোট শাঁ শাঁ করে ছুটে চলে। সাগড়ের পাড়ে আছে ঘন অরণ্য। বন-বনানী। সেখানে আছে নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলি। ঝাউগাছের পাতায় পাতায় বাতাসে শিহরণ। তার সঙ্গে শোঁ শোঁ শব্দ। ছায়াশীতল গাছের নিচে বসে কপোত কপোতিরা বসে প্রেমের আলাপ করছে। তারা একে অপরের সঙ্গে নানারকম খুনসুটি করে চলেছে। আছে বড় বড় মার্কেট। তরুণ-তরুণীরা দল বেঁধে সেখানে ছুটে চলছে কেনাকাটা করতে। সত্যি বলতে কি, আমি এরকম একটি পরিবেশ কল্পনা করে এঁকে নিয়েছিলাম এবং সত্যি সত্যি ধরে নিয়েছিলাম জায়গাটি এরকম। (সম্পূর্ণ…)

86

প্রতিদিনের নতুন বই

| ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ৯:৪৯ অপরাহ্ন

boimela.jpg[আর্টস-এর পাতায় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১২’-এ বের হওয়া বইপত্রের তালিকা নিয়মিত প্রকাশিত হবে। তালিকাটি সরবরাহ করছে বাংলা একাডেমীর ‘সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ’। উল্লেখ্য ১ ফেব্রুয়ারির কোনো তালিকা পাওয়া যায় নি। ‘গ্রন্থমেলা ২০১২-এ প্রকাশিত বই’ বলতে গত বইমেলার পরে প্রকাশিত সব বই বোঝানো হয়েছে। - বি. স.]

প্রতিদিনের নতুন বইয়ের তালিকা দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন

৫ ফেব্রুয়ারি
৬ ফেব্রুয়ারি
৭ ফেব্রুয়ারি
৮ ফেব্রুয়ারি
৯ ফেব্রুয়ারি
১০ ফেব্রুয়ারি
১১ ফেব্রুয়ারি
১২ ফেব্রুয়ারি
১৩ ফেব্রুয়ারি
১৪ ফেব্রুয়ারি
১৫ ফেব্রুয়ারি
১৬ ফেব্রুয়ারি
১৭ ফেব্রুয়ারি
১৮ ফেব্রুয়ারি
২১ ফেব্রুয়ারি
২২ ফেব্রুয়ারি

10

মুরাকামি, দ্বিতীয় চাঁদ ও লাগাশ

শিবব্রত বর্মন | ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন

সায়েন্স ফিকশন লেখকদের মধ্যে নিজের নবুয়তি ক্ষমতা নিয়ে বড়াই করার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
কিছুদিন আগে গার্ডিয়ান পত্রিকায় একটা বড় লেখা লিখে অশীতিপর ব্রায়ান অ্যালডিস একপ্রকার উল্লাসই প্রকাশ করেছেন। তার উল্লাসের উপলক্ষ্য সিগনাস নক্ষত্রপুঞ্জে আবিষ্কৃত একটি নতুন গ্রহ, যেটি প্রায় পৃথিবীরই মতো দেখতে। অ্যালডিস তার হেলিকনিয়া স্প্রিং (১৯৮৪) উপন্যাসে ঠিক এই জায়গাটিতেই একটি গ্রহ থাকার কথা বলেছিলেন। এমনকি গ্রহটি সম্পর্কে তিনি যে-যে বিবরণ দিয়েছিলেন, সেগুলোও নাকি নবাবিস্কৃত গ্রহটির সঙ্গে অনেকখানি মিলে যাচ্ছে। ব্রায়ান অ্যালডিসের উপন্যাসে গ্রহটির নাম হেলিকনিয়া। বিচিত্র পরিবেশ সেটির। ৫ হাজার বছরে সেটি একবার নিজের সূর্যকে ঘুরে আসে। সে কারণে গ্রহটিতে আড়াই হাজার বছর ধরে গ্রীষ্মকাল, আড়াই হাজার বছর ধরে শীত। এরকম আবহাওয়ায় গাছপালা, পশুপাখির চেহারা, স্বভাবচরিত্র কেমন হবে, তার বিস্তারিত যুক্তিপূর্ণ বিবরণ তুলে ধরেছেন অ্যালডিস। অ্যালডিসের গ্রহটির আবার দুটি সূর্য। একটি ছোট সূর্যকে ঘিরে ঘোরে হেলিকনিয়া। আর সেই ছোট সূর্যটি আবার হেলিকনিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ৫ হাজার বছরে প্রদক্ষিণ করে আরেকটি বড় নক্ষত্র। (সম্পূর্ণ…)

97

পথে, প্রদেশে

মাসুদ খান | ৩১ জানুয়ারি ২০১২ ৮:২৬ অপরাহ্ন

(২য় পর্ব)
প্রথম পর্বের লিংক http://arts.bdnews24.com/?p=1537#more-1537

মাহী-সওয়ার কলেজ। জনশ্রুতি আছে, হজরত শাহ সুলতান নামের এক দরবেশ এক বিশাল মাছের পিঠে চড়ে করতোয়া নদী দিয়ে ভেসে এসে নেমেছিলেন এইখানে, এই ঘাটে। সেই থেকে দরবেশের নাম হজরত শাহ সুলতান মাহী-সওয়ার আর তাঁর নামে নাম এই বিদ্যায়তনের।

কলেজের পাশ দিয়ে লালচে ধূলি-ওড়া পথ। সেই পথ দিয়ে তুফান-গতিতে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে চল্লিশ-পেরুনো এক লোক। চোখে স্ফূর্তি, মুখে গান- “চলো যাই ভেসে যাই প্রেমসাগরে নাও ভাসিয়ে দুজনে-এ-এ-এ-এ/ নাও ভাসিয়ে দুজনে/ রেখো মোরে তোমার নয়নে।” চেন পড়ে গেছে, সাইকেল চলছে তবু ঊর্ধ্বশ্বাসে। লুঙ্গি খুলে পড়ে যাচ্ছে চেনের সঙ্গে জড়িয়ে-মড়িয়ে, স্ফূর্তির চোটে টের পাচ্ছে না মানুষটা। ওদিকে বগলে একগাদা বই আর হাতে প্রচুর কাগজপত্র নিয়ে কী যেন ভাবতে ভাবতে ক্লাশের দিকে যাচ্ছেন এক অধ্যাপক, ভুলোমন স্বভাবের…হাতের কাগজ পড়ে যাচ্ছে, খেয়াল হচ্ছে না। পাকুড় গাছের নিচে আড্ডা জমিয়েছে কিছু হুল্লোড়বাজ ছাত্রছাত্রী। একজন দৌড়ে গিয়ে কী যেন কী একটা দেখাচ্ছে প্রফেসর সাহেবকে। ছোট্ট একটি স্ক্রু। বলছে, “স্যার, এটা বোধহয় আপনার, পড়ে গেছে।” আলাভোলা প্রফেসর পেছন ফিরে স্ক্রু-টা হাতে নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন, আর বলছেন, “না তো, আমার না তো।” হাসির হিল্লোল পাকুড় গাছের নিচে। খড়ের মালা গলায় দিয়ে একটা বেড়াল হেলেদুলে হেঁটে যাচ্ছে পাশের আলপথ ধরে। একশো একটা ইঁদুর মারার পর নিয়ত করেছে পুরাপুরি অহিংস হয়ে যাবে সে। ‘অহিংসা পরম ধর্ম্মঃ’ মন্ত্র জপতে জপতে যাত্রা করেছে বুদ্ধগয়ার দিকে। ওই বেড়ালটিও কিনা ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে এই দৃশ্য আর মুচকি মুচকি হাসছে। (সম্পূর্ণ…)

72

মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীকের থাকা ও না থাকা

| ৩০ december ২০১১ ২:৩৫ অপরাহ্ন
[১৬ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে আর্টস-এ ছাপা হয় অদিতি ফাল্গুনীর ভূমিকাসহ মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীক প্রণীত ডায়রি বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ এবং ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্ট’ গঠনের মূল ইতিহাস। এই ডায়রি ছাপা হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক ব্যবহারকারী কারো কারো পক্ষ থেকে দাবি ওঠে যে এই নামে কোনো মুক্তিযোদ্ধা কখনো ছিল না। তারা এর প্রমাণ স্বরূপ ‘বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা’র লিংক সরবরাহ করেন। সেখানে মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীক নামে কারো ভুক্তি নেই। এ প্রেক্ষিতে ‘বীর প্রতীক’ সংক্রান্ত প্রকৃত অবস্থা অনুসন্ধানের জন্য ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা রোগমুক্তি বিশ্রামাগার’-এ গিয়ে দেখা গেল ‘বিশ্রামাগার’-এর নির্মাণ কাজ চলছে। সংলগ্ন অস্থায়ী অফিসের সামনে ডিসেম্বর ২০১১-র ২৪ তারিখে হুইলচেয়ারে স্থিত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হক বীর প্রতীকের সঙ্গে কথা বলেন অদিতি ফাল্গুনী। কিন্তু রাস্তার পাশে শব্দের প্রাবল্য থাকায় কাছেই ১/৬বীর উত্তম নুরুজ্জামান সড়কের ‘রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতাপ্রাপ্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থানে’র আঙিনায় অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের কথাবার্তা ধারণ করা হয়। সেখানে মধুর ব্যাপারে কথা বলেন মোঃ গোলাম মোস্তফা বীর বিক্রম বীর প্রতীক, মোঃ সামসুদ্দিন বীর প্রতীক, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শুকুর আলী। এ ছাড়া মিসেস মনোয়ারা সামসুদ্দিন, আবুল কাশেম ও আবদুস সোবাহান মন্টুও মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীকের এক সময়ে অস্তিত্বশীল থাকার ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন। তারা জানান যে মধু এখন আর নাই–২০০৫ সাল থেকেই নাই। তবে তার স্ত্রী এখনও সরকারি ভাতা পাচ্ছেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি চাপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ এলাকায় বন্দুকের গুলি লেগে আহত হন। পরে ভারতে চিকিৎসা লাভ করেন ১৯৭২ সালে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলের শেষ দিকে ১৯৭৯ সালে ২৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে বীর প্রতীক পদকে ভূষিত হন। তবে তাদের সেই তালিকা কখনো গেজেট ভুক্ত হয় নাই।

আর্টস-এ প্রকাশিত তাঁর ডায়রির লিংক: এক মৃত মুক্তিযোদ্ধার দিনপঞ্জির পাতা থেকে…।

–বি. স.]

সাক্ষাৎকার গ্রহণ:ব্রাত্য রাইসুঅদিতি ফাল্গুনী


মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীকের বন্ধু ও পরিচিতজনদের ভিডিও সাক্ষাৎকার।

অদিতি ফাল্গুনী: মোদাস্বার হোসেন মধু বেঁচে ছিলেন। তারপরে উনি মারা গেছেন। ওনার একটা ডায়রি ছিল, ডায়রিটা আমি ছাপালাম, ছাপানোর পরে কেউ কেউ বলতেছেন উনি নাকি ছিলেন না–এটা নাকি কল্পনা, এটা নাকি বানোয়াট, তাই কি?

তোজাম্মেল হক: না না না। আমরা আগাগোড়া এখান থেকে আছি, একসঙ্গে ছিলাম। উনি মারা গেলো, মারা যাওয়ার পরে… উনার অনেক কিছু কথা আছে–সেরকম–উনি প্রথমে গুলি লাগা সৈনিক, তারপরে প্যারালাইসিস, উনি যা কিছু বলতো সত্যি বলতো এবং যা ন্যায় বলতো এবং যা জাতির কাজে লাগবে… এবং সেগুলোর কথাই উনি বলতো।

tozammel.jpg……..
তোজাম্মেল হক বীর প্রতীক। জন্ম. সিংগিমারি, পার্বতীপুর, দিনাজপুর। ১৯৭২-এর ৬ জানুয়ারি দিনাজপুর মহারাজা হাইস্কুলে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে স্বাধীনতা পরবর্তী বিস্ফোরক ও অস্ত্র জমা করার সময়ে আকস্মিক বিস্ফোরণে ৭০০ মুক্তিযোদ্ধা নিহত হন, আহত হন শতাধিক। তাদের একজন তিনি।
……..

অদিতি ফাল্গুনী: এটা তো অস্থায়ী অফিস? ওই যে আপনাদের যে বিশ্রামাগার…?

তোজাম্মেল হক: বিশ্রামাগার আমাদের স্থায়ী। এখন ভাঙ্গি ফেলাইয়ি অস্থায়ী… অনেকে ভাড়া থাকে, ফ্যামেলি নিয়া থাকে। এখন শেল্টার হইলে আমরা সবাই একত্র হবো।

অদিতি ফাল্গুনী: এইটা কবে নাগাদ মানে পুরাটা আবার ঠিক হবে?

তোজাম্মেল হক: ওই যে ২৪ মাস, দুই বছর টাইম নিছে।

অদিতি ফাল্গুনী: দুই বছর সময় দিছে।

২.
অদিতি ফাল্গুনী: আজ থেকে দশ-এগার বছর আগে আমি প্রথম আসি, এসে আপনাদের দুইজনের একটা ছবিও নিয়েছিলাম? সেটা আর কি পত্রিকাতে ছাপাও হয়েছিল, আমি দেখাই। অনেক আগের পত্রিকা [The Daily Star, 7 December 2000] –এই যে। আপনি আর এই তো মধু, তাই না?

madhu-ds.jpg……..
২০০০ সালে প্রকাশিত অদিতির লেখায় মধু ও গোলাম মোস্তফার ছবি
……..

গোলাম মোস্তফা: হ্যাঁ এই যে, ঠিক আছে। তো এইডা কী হইছে এখন?

অদিতি ফাল্গুনী: এখন ওই ছাপানোর পরে, অনেক দিন পরে আবার দুই বছর আগে এসে আপনাদের অনেকের ইন্টারভিউ নিই, তাই না? তারপরে মধুর একটা ডায়রি খাতাও আমার কাছে ছিল। তো এইগুলো নিয়ে উনার পত্রিকাতে [http://arts.bdnews24.com] একটা লেখা ছাপা হইছে। সেই লেখাটার পরে সবাই বলতেছে মধু নামে কেউ ছিল না। এটা কল্পনা, এটা আমি বানাইয়া লিখছি, আমি টাকা খাইছি…

গোলাম মোস্তফা: মোদাস্বার হোসেন মধু… ঠিকই আছে। এই যে মধু…।

ব্রাত্য রাইসু: এটা চিনেন আপনারা ওনারে?

গোলাম মোস্তফা: আরে চিনা!… আমার সাথে লাখনৌ কমান্ড হসপিটালে… একসাথেই ছিলাম, আহত হইয়া। (সম্পূর্ণ…)

9

ঊনিশ শো তেতাল্লিশ চুয়াল্লিশ বলে মনে হয়

শিকোয়া নাজনীন | ২৬ december ২০১১ ১১:০২ অপরাহ্ন

ঘাঘট নদীর কাছে স্টিমারে উঠেও তো জলঢাকাতে যাওয়া যেতো। কিন্তু ধল শ্রাবণের আকাশে বিশ্বাস নাই। বৃষ্টি নামে যখন তখন, মেঘ কালো আকাশে নবগঙ্গা ফুলে ওঠে। ঢাল ধরে রোহনপুরে পৌঁছতে দিনটা হেলে পড়ে। আল ধরে ঢাল পথে উঠে গিয়ে আবার খাঁড়ি বেয়ে মাঝনদীতে এমন ঢেউ। ডাঙাতেও

map_s2.jpg
সহায়ক মানচিত্র;মিজানুর রহমানের ত্রৈমাসিক ১৯৯৯-২০০০ সংখ্যা থেকে।

পিছল মাটি। কাঁচা সড়ক পথে হাঁটখোলার মানুষচলা পথেই আবার নদী উঠে আসা। দপদপিয়া পেরোলোই তো জলঢাকা। লতাবেড়ি দিয়ে প্যাঁচানো আশ্চর্য বিলপাড় জমিগুলি ঘরগুলি সেখানে উঁচু। পারে নোঙর বাঁধা। মলিনাহাটের মানুষ বলে এখানে রাজার বাড়ি ছিল। বসত জায়গাটা আর নেই। চক্রাকারে জমিজমা ঘাটপাট রাজাপ্রজা, জলমাটি, নৌকা ভিড়ানো নদীপাড়। শ্রাবণ ভাদ্রে জল না পাওয়ায় পলি পড়ে বাখরগঞ্জ, ফরিদপুর হয়েছে, আঁড়িয়াল খাঁ শায়েস্তাবাজার। বৃষ্টিতে বাণের জলে সেসব তো শুধু অন্ধকার ঘন স্যাঁতস্যঁতে ঘেমো চলতা পড়া বলেশ্বরের স্থলভূমি। চক্রাকার হাওড় জলাঙ্গি আর সমুদ্রমুখ। অববাহিকার খাঁড়িতে, বাবুবাজার ঘাটে রাহেলারা, চন্দনারা বসে আছে লঞ্চের গলুইয়ের ডগায়। চন্দনারা প্রতীক্ষা করছে আর ভিড়টা কোনদিকে গড়াচ্ছে তা দেখছে। কাল রাত থেকে যাত্রীরা এখানে আসছে। পরেশ, আলি মিঞা, জান্নার বাপ প্রতিদিনের আসা যাওয়া, হাঁটাচলাতে প্রতিদিনের এই শ্রাবণ প্রান্তর আর মেঘলা দিগন্তের মধ্যে এমন টুকরাটাকরা নদী মোহনা, খাল বিল, ধানের ডগা পায়ে দলিয়ে এমন আনমনা পার হয় যে, এই রাতের আকাশটা তারা ছিটানো গোধূলিবেলাটা তাদের শোরগোলের ভেতরে আলাদা কিছু হয়ে ওঠে না। এই তল্লাটে ব্যস্ত নিবারণ চরণ, বলাইরা ডাঙাজলের নানাবিধ কর্মকাণ্ড দেখে। ঘটিবাটি কিছু কিছু বিক্রী করে দিয়েছে শানুরা, রাহেলারা বলে এখানে তারা বিচ্ছিন্ন। সমাজ নাই। জলঢাকাতে, মলিনাহাটে চন্দনাদেরও সমাজ ছিল। মলিনাহাটে কাঁটামণসার, ময়নাকাঁটার বেড়া দিয়ে ঘেরা উনুন ছিল। বাষ্প ছিল। সেই ফুটন্ত ভাতের গন্ধটা স্টিমার ঘাটে এসে বাতাসে নদীতে মিশে থাকে। এমন যে সেই স্মৃতিতে সন্ধ্যের ক্ষেতে বিছন ছড়ানো রাতটা, সেই গুড়জাল, খৈসা, তালপা, বিছুটি, চলনবালাম ধানগুলো একদম নিজস্ব শৈলীতে ফলানো যার বাসনাটাও আলাদা হতো। সেই সুগন্ধি বাসনাটা এখন স্টিমার ঘাট পর্যন্ত মৌ মৌ করে। নিজের খাটনিতে উৎপন্ন রাতপোহানি ধানের গন্ধও আলাদা। কোনোটাই এক রকমের না। তাই এই ধানের বাসনা নিয়ে তাদের কোনো যৌথ স্মৃতি নেই। চন্দনাদের আঠারো কানি জমিতে বারোমাসি চাষের বায়না। নিচু চলতাপড়া ঘসটানো থোবড়ানো দাওয়া, দক্ষিণের ভিটায় বারবাড়ি, উঠোন পেরিয়ে দৌড়ঝাঁপ করেই বাঁদিকের ঘাটলা ছাড়িয়ে সোজাসিধা ঘরের ঝাঁপ। গোলাঘরের একটু আগ বেরিয়ে বাঁ হাতে মলিনাহাট। বড় সরদারবাড়ি। সেটাই একটা নিজস্ব গ্রাম। একটা আস্ত পরিচয়। দাড়িঅলা যবেত আলি, তুলসির মা, নানা ধর্মের নানা সমাজের নারী পুরুষের অজস্র শব্দমালা ধ্বনি পটুয়াখালি, বরিশাল, নোয়াখালি চাঁদপুর সবটাই বাতাস মাটি রৌদ্র ছায়াতাপের ভেতরে ঢেউয়ের পর ঢেউ তোলে। বড়খালের রৌদ্রহাওয়াময়তার ছবিটি, উচু শক্ত খাদের গল্পটি, কোথাও বাঁশের সাঁকোতে অদৃশ্য পারাপারের স্মৃতিটি, দক্ষিণের ক্ষেতে বারোমাসি ধানভানার রাংমালি টিলা সব একই পটের ছায়াছবি বনে যায়। নদীর মধ্যে স্রোতের টান টের পায় তারা। বাকেরগঞ্জে… ফরিদপুরে… বরিশাল বুড়িশ্বরে শাহবাজপুরে ব্রহ্মপুত্রতে মাটির উপর ফুলে ফেঁপে ওঠা আবার মাটি আকড়ে থাকা। কীর্তনখোলা, আঁড়িয়াল খা, মেঘনা তেতুলিয়া… বিঘাই বারনাবাদ সব ছড়িয়ে কেমন সুবিশাল স্থলভাগ বিরাণ করে দিয়ে গেল। কিন্তু বরিশালে… সুগন্ধাতে মধুখালিতে নদীর বৈচিত্র কই? সেগুন শাল খয়ের পাতা বর্ষায় ঘন মাটির তলার নদীর জল টেনে নিয়ে বাড়ছে। ভাদ্রে মাটি পোড়ে। মাটির শেষ জলটুকু টেনে নিয়ে পাতার বাড়ন্ত গঠনে ক্রমে মাটি জলশূন্য হয়ে পড়ে। মাটি খঁটমটে শক্ত পাথর বনে যায়। ঝোপজঙ্গলের ভেতর মাটি পঁচা পাতায় বিদীর্ণ হয়ে সেখানের জলটা সারাবচ্ছর নরম পলির মতো জমাট বেঁধে বেঁধে একটা আস্ত হাওড়ে রূপ নেয়। সেখানে ঝোপঝাড় গাছগাছড়া আকাশ ভাঙা জল, মাটির তলার জল সব জমে শক্ত জমাট আচ্ছাদন। সামনে তাকালেই কালচে গুমোট সবুজ গাছের জটিল বাঁক। যেন মাটির ভেতর থেকে গজিয়ে ওঠা। এই বুনো ভারি পাতার পিঠটা সরেস হবে বলে জল শুধু এর ঘন দৈর্ঘ্যটার দিকে তাকিয়ে রয়। একটা পাকিয়ে ওঠা আড়াল তৈরি হলে একসারি গাছের বাকলের খাবলানো চ্যাবকানো ঘনতা এভাবে খলিল মাষ্টার, বদিমাষ্টারের তালুক বনে যায়। (সম্পূর্ণ…)

51

কুর্মিটোলা, ময়নামতি

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ২৩ december ২০১১ ১:৩১ অপরাহ্ন

লেফটেন্যান্ট/সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট–এই দুই পদবীধারীকে ডাকাডাকি করতে লেফটেন্যান্ট অমুক বলার রীতি। লিখতে গেলে অবশ্যই সঠিক র‌্যাঙ্ক উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয়। আমরা সকলেই সরাসরি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে কমিশনপ্রাপ্ত–যেহেতু এমএ/এমএসসি/বিই ইত্যাদি ডিগ্রিধারী এবং বিশেষ বিশেষ টেকনিক্যাল কোরে নিয়োগপ্রাপ্ত। তো আমার ‘সামান’ এসে গেলে আমি সুটকেস খুলে তোয়ালে, সাবান বের করে হাতমুখ ধুয়ে এসে ইজিচেয়ারে বসেছি। চা এল একপট। কমপ্লিমেন্টারি। নতুন অফিসারের রিসেপশ্যনের অঙ্গ। সঙ্গে একটা ফলের চ্যাঙারি আর বিস্কিট। বেশ ভাল লাগল। মেস ওয়েটার বলে গেছে, চা খেয়ে মেসে গেলে অন্যান্য অফিসারদের সঙ্গে আলাপ হবে। অবশ্য, যাবার আগে ফুলহাতা শার্ট এবং টাই পরে নিলে ভাল হয়, কারণ আমাদের ইন-সার্ভিস মিলিটারি ট্রেইনিং–গ্রুমিং শুরু হয়ে গেছে।

c_wali.jpg……
সেনাশিক্ষা কোরের ক্যাপ্টেন ওয়ালী, সাল ১৯৭৫
……
পড়েছি মোগলের হাতে…। অতএব, এর শেষ দেখার সহজ সংকল্প নিয়ে ধড়াচূড়ো ধারণ করে অফিসার্স মেসে গেলাম। ভুলে গেলাম, আমি একজন কমিশন্ড আর্মি অফিসার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএ, প্রাক্তন প্রভাষক, মোমেনশাহী ক্যাডেট কলেজ। মেসে পা দিয়ে মনে হল, আমি একজন জেন্টলম্যান ক্যাডেট মাত্র, ভরদুপুরে গলায় টাই বেঁধে ঘামছি আর সামনে কী দেখব, সে বিষয়ে পূর্বধারণা অনুযায়ী সবচেয়ে খারাপ কিছু র‌্যাগিং নমুনা মনশ্চক্ষে অবলোকনের চেষ্টা চালাচ্ছি। ঢুকেই লম্বাটে রিসেপশ্যনে হ্যাট স্ট্যান্ড, বড় বড় আয়না দেয়ালে আর একপাশে বার কাউন্টার। সব ফার্নিচার মেহগনি রং-এর। ভারি লাল ভেলভেট দিয়ে তৈরি পর্দা–কাল্‌চে লাল। কার্পেটও ম্যারুন। আমি একটু বাঁয়ে ঘুরে কাছের লম্বা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে টাইয়ের গেরো ঠিকঠাক করলাম। আসলে এনটিসিপেশনের এলোমেলো একটু স্ট্রিমলাইন করা আর কি। কিন্তু অনন্তকাল তো আর ওখানে দাঁড়িয়ে থাকা চলে না।

অতএব, যা থাকে কপালে ভাব নিয়ে ভেতরে ঢুকে গেলাম। মস্ত ঘর। দু’দিকের দেয়ালজোড়া সোফায় কেউ বসে, নিচুস্বরে বাক্যালাপে রত, কেউবা দাঁড়িয়ে। আস্‌সালামু আলাইকুম, স্যর। অন্ধের মতো উইশ করে এগিয়ে গিয়ে সবচেয়ে কাছের অফিসারের সঙ্গে করমর্দন করে নিজের নাম এবং র‌্যাঙ্ক উচ্চারণ করলাম, মুখে চিলতে হাসি ধরে রেখে। অফিসার মোটা গোঁফ নাচিয়ে হেসে উঠলেন, বললেন, আই থিঙ্ক উই হ্যাভ মেট বিফোর। আয়্যাম ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম, ইস্ট বেঙ্গল। সিন্স আয়্যাম দ্য সিনিয়্যরমোউস্ট অফিসার প্রেজেন্ট হিয়ার, ইটস মাই প্রিভিলিজ টু ইন্ট্রোডিউস ইউ টু দ্য রেস্ট…। পরিচয় হল। আমার ব্যাচের আরো ক’জন এসে ইতোমধ্যে জয়েন করছে। কামাল, জহির, আলী, জাকারিয়া, আলম, ভুঁইয়া, রায়হান, কায়সার আর মাহ্‌বুব। আরো কয়েকজন আসবে বিকেলের মধ্যে। আমাদের সবারই বাসস্থান এই মেসে। পরদিন সকাল থেকে প্রশিক্ষণ শুরু হবার কথা। বোঝা গেল, ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম আমাদের প্রাথমিক ব্রিফিং দেবার জন্যই মেসে উপস্থিত এবং দিনটি উনি আমাদের সঙ্গেই কাটাবেন। আমরা যে কোনো বিষয়ে তার সঙ্গে আলাপ করতে পারি দিনভর, রাতে ডিনারের পর দশটা পর্যন্ত। পরদিন সকালে উঠে সাড়ে পাঁচটায় পিটি কিটে আমাদের উনি মার্চ করিয়ে ৪ ইস্ট বেঙ্গলের মাঠে নিয়ে পরবর্তী ট্রেইনারের কাছে সোপর্দ করবেন। (সম্পূর্ণ…)

52

সিডনির পথে পথে (৯)

আবু সুফিয়ান | ২১ december ২০১১ ১০:১০ অপরাহ্ন

hb8.jpg
বিয়ের ছবি তোলার সেশন হচ্ছে। ওপর থেকে তোলা ছবি।

সিডনির পথে পথে ১ | সিডনির পথে পথে ২ | সিডনির পথে পথে ৩ | সিডনির পথে পথে ৪ | সিডনির পথে পথে ৫ | সিডনির পথে পথে ৬ | সিডনির পথে পথে ৭ | সিডনির পথে পথে ৮

(গত সংখ্যার পর)

রাস্তা হারানো আমার জন্য নতুন কোনো বিপদ না। দেশে এবং বিদেশে বহুবার এই ঘটনা ঘটেছে। কচু গাছ কাটতে কাটতে মানুষ ডাকাত হয়। পথ হারিয়ে আমি পথ চিনি। তবে আজ খানিক সুবিধাজনক আবস্থায় আছি। কারণ সাবৃনা সাথে নেই। স্ত্রীর কাছে এই ধরনের ‘কেলাসপনা’ স্বামীদের বড় ধরনের অযোগ্যতার প্রমাণ।

মোবাইল ফোনে সময় দেখলাম। বেলা একটার মধ্যে বাসায় ফিরতে হবে। একসাথে খাবো। বাড়ির রাস্তা খুঁজে পাওয়ার জন্য এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় হাতে আছে।

আমি হাঁটা শুরু করলাম।

সিডনির ফুরফুরে উজ্জ্বল আবহাওয়া বড়ই মনোরম। একটা সুখ সুখ ভাব হয়। রাস্তায় গাড়ি যথেষ্ট। কিন্তু পথে হাঁটা লোকজনের সংখ্যা কম। দু-একজন যাও পাই, তারা আমার চেয়েও মহককল। ঠিকানা জিজ্ঞেসা করলে ঠোঁট উল্টানি দেয়। অর্থাৎ চেনে না।

hb7.jpg
সিডনি হারবার ব্রিজের কাছে বাড়িঘর, সাথে লাগোয়া সমুদ্র।

সামনে মোটা মতো এক ভদ্র মহিলা অপেক্ষা করছেন, রাস্তা পার হবেন। বয়স্ক। হাতে বাজারের ব্যাগ। সম্ভবত স্থানীয়। তাকে ঠিকানা দেখিয়ে জিজ্ঞেসা করলাম, এই রাস্তাটা কোথায়? তিনি যে উত্তর দিলেন, সেই ডিরেকশন ফলো করলে দুপুরে আমাকে বাইরে খেতে হবে। মহিলা বললেন, সামনে ৫০ গজ গিয়ে ডানে টার্ন করবে। তারপর ত্রিশ থেকে চল্লিশ স্টেপ যাবে। তারপর আবার টার্ন করে স্ট্রেইট হাঁটবে… কিছুদুর গেলে একটা পাম্প দেখবে…

উনার ডিরেকশন যতক্ষণ শুনবো, সেই সময়টাই নষ্ট। ‘বিশেষ ধন্যবাদ’ বলে আমি কেটে পড়লাম।

সামনে বেশ কিছু স্টেশনারি জাতীয় ছোট দোকান আছে। ফোন কার্ড রিচার্জ করা দরকার। (সম্পূর্ণ…)

72

এক মৃত মুক্তিযোদ্ধার দিনপঞ্জির পাতা থেকে…

অদিতি ফাল্গুনী | ১৬ december ২০১১ ১০:১৬ পূর্বাহ্ন


মুক্তিবাহিনী ট্রেনিং, ১৯৭১; ছবি. উইকিপিডিয়া

গল্পের লোভে মাঝে মাঝেই আমি এদিক ওদিক ঘুরি। নানা মানুষের সাথে মেশার চেষ্টা করি। মূলতঃ এই গল্প খোঁজার লোভ থেকেই ঢাকার মোহাম্মদপুর কলেজ গেট সংলগ্ন ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা রোগমুক্তি বিশ্রামাগার’-এ গত বছর দশেক ধরে আমার ঘোরাঘুরি। কখনো টানা ঘোরা, আবার কখনো লম্বা সময়ের বিরতিতে যাওয়া। শুধু বিশ্রামাগার নয়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের বারান্দা বা করিডোরেও আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা হয়েছে প্রচুর। ২০০০ সালে ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা রোগমুক্তি বিশ্রামাগার’-এ হুইল চেয়ার বন্দি বীরপ্রতীক মোদাস্বার হোসেন মধুর সাথে আমার পরিচয়। কথায় কথায় দেখলাম স্কুল-কলেজের সার্টিফিকেটের হিসেবে এই ‘স্বল্পশিক্ষিত’ মানুষটির স্বচ্ছ রাজনৈতিক চিন্তার বিন্যাস। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি একদিকে যেমন রয়েছে তাঁর অপরিসীম শ্রদ্ধা, তেমনি রয়েছে ক্ষোভ। কিম্বা, বঙ্গবন্ধুর চেয়েও ‘মুজিব বাহিনী’র কেষ্ট-বিষ্টুদের প্রতিই এই ক্ষোভটা যেন বেশি। মধু, যিনি একাত্তরের যুদ্ধে প্রাক-পঁচিশেই সারাজীবনের মতো চলৎশক্তি হারিয়েছেন, তিনি একদিন আমার হাতে তুলে দিলেন একটি সাদা কাগজের সেলাই করা খাতায় বেশ কিছু পাতা লেখা। মধুর চোখে দেখা মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধের পরবর্তী কয়েক বছরের ইতিহাস।
—————————————————————–
“হঠাৎ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলে উঠলেন, ‘এ্যাটেনশন প্লিজ!’ সকলের দৃষ্টি ও কান চলে যায় রাষ্ট্রপতির দিকে। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আপনারা মন দিয়ে শুনুন। আমি শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দূর করার লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করব। কমিটিতে পুঁজির দরকার।… প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান সর্বপ্রথম যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ফান্ড কমিটিতে তাঁর এক মাসের বেতন দান করেন।… ক্ষোভে-দুঃখে তখন শুধু পাশে বসা বন্ধু নূরুল আমিনের হাতটা চেপে ধরে শরীরের রাগ মেটালাম। রাজাকারের প্রথম সাহায্যে গঠিত হল যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ফান্ড কমিটি।” / মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীক
—————————————————————-
ফটোকপি করলাম। প্রচুর বানান ভুল। কাঁচা হাতের অক্ষর। তবু, মুক্তিযুদ্ধের অনেক না-বলা কথা আছে তাঁর এই লেখায়। তারপর… তারপর মধ্যবিত্ত জীবনের দৌড়, কর্মব্যস্ততা ও মধুকে আমার ভুলে যাওয়া! মধুর ঐ লেখা আমার কাছে ফাইলবন্দিই হয়ে রইলো। প্রায় বছর দশেক পরে গত বছরের শুরুতে আবার যখন ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা রোগ বিশ্রামাগার’-এ গেলাম, মধুর সহযোদ্ধারা জানালেন মধু মারা গেছেন (এর ভেতর আরো দু/তিন বার গেছিলাম। দুর্ভাগ্যক্রমে, সেই সময়গুলোয় প্রতিবারই গিয়ে শুনেছি যে মধু ক’দিনের জন্য দেশের বাড়ি গেছেন)। মধুর স্ত্রী ছিল জানতাম। তার ছেলে-মেয়ে ক’জন জিজ্ঞাসা করতে গেলে অপর এক হুইল-চেয়ারবন্দি সহযোদ্ধা খুব নির্বিকার ভাবে জানালেন, ‘বিয়া তো করিছিল শেষের দিকি দেশের বাড়ির ঘর দেখা-শুনা করতি আর নিজির কিছু সেবা-যত্নির জন্যি। মাঝে মাঝে দেশের বাড়ি গেলি পর সেবা করার লোক লাগে না? ছেলে-মেয়ে হবি কীভাবে? যুদ্ধে ওর পায়ের মতো পেনিসও উড়ি গিছিল!’ চমকে উঠলাম। মধুর এই কয়েক পাতার অপ্রকাশিত আত্মজীবনীতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সাথে মরিয়া হয়ে দেখা করা কিছু তরুণ মুক্তিযোদ্ধার ভেতর জনৈক তরুণের হঠাৎই নিজের হাতে ট্রাউজার ও অন্তর্বাস খুলে হারিয়ে যাওয়া পৌরুষের জন্য হাহাকার করার বেদনার কথা লেখা আছে। বঙ্গবন্ধু তখন দু’হাতে চোখ চাপা দিয়েছিলেন। মধুর হাতে লেখা দিনপঞ্জির পাতায় আবার চোখ বুলাই। হ্যাঁ, যুদ্ধে যে ‘পুরুষত্ব’ হারিয়েছেন সেকথা তিনি নিজেও লিখেছেন। (সম্পূর্ণ…)

 

হরেন দাশের ছবি

Get the Flash Player to see the slideshow.
 
পরের পাতা » 
free counters
wordpress com stats