ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় অরুন্ধতী রায়ের নতুন উপন্যাস

মুহিত হাসান | ১৪ জুন ২০১৭ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন

Author‘এলেন, দেখলেন, জয় করলেন’– আজ থেকে বিশ বছর আগে নিজের প্রথম উপন্যাস তথা প্রথম বই গড অফ স্মল থিংকস প্রকাশ পাবার পর অরুন্ধতী রায় এরকম প্রশংসাবাণীতেই ভেসে গিয়েছিলেন। মাত্র এক মাসের মধ্যে বইখানার চার লক্ষ কপি তখন বিক্রি হয়েছিল। সমালোচকদের বাহবাও জুটেছিল অফুরান। পরে অরুন্ধতী নিজের এই পয়লা উপন্যাস দিয়ে জয় করে নেন দুনিয়াখ্যাত বুকার প্রাইজ। কিন্তু কথাসাহিত্যের ক্ষেত্র থেকে তিনি যেন সরেই গিয়েছিলেন এরপর। এমন রাজকীয় অভিষেকের পর কেন তাঁর কলম থেকে বেরুচ্ছে না আরেকটা উপন্যাস–এই প্রশ্ন তাড়িয়ে ফিরেছে ভক্ত-পাঠকদেরও। অবশ্য লেখালেখি তাঁর থেমে থাকেনি, সামাজিক-রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে ঝাঁঝালো-তর্কপ্রবণ প্রবন্ধ-নিবন্ধ-কলাম লিখেছেন প্রচুর। সেসব গদ্যলেখা এক করে বইও হয়েছে একাধিক। পাশাপাশি ঠোঁটকাটা অ্যাকটিভিস্ট হিসেবে আবির্ভূতও হয়েছেন ওইসব ঘটনা-প্রসঙ্গের পরিপ্রেক্ষিতে।
সুখবর হলো, কথাসাহিত্যের দুনিয়ায় বিশ বছর নীরব থাকার পর গত ৬ জুন অরুন্ধতী রায় হাজির হয়েছেন তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস দ্য মিনিস্ট্রি অফ আটমোস্ট হ্যাপিনেস নিয়ে। গত বছরের অক্টোবরে পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউজের তরফ থেকে বইটি আশু প্রকাশ্য এমন বিবৃতি আসা মাত্রই পাঠকদের মধ্যে আগ্রহ ও অপেক্ষার সূত্রপাত ঘটে। আগ্রহের আগুনে আরো ঘি পড়ে যখন পেঙ্গুইনের দুই প্রতিনিধি সিমন প্রসের ও মিরু গোখলে প্রকাশিতব্য বইটি সম্পর্কে বলেছিলেন : “এই বইটি প্রকাশ করতে পারাটা একইসাথে আনন্দের ও সম্মানের। কী অবিশ্বাস্যরকমের বই এটি–একাধিক স্তর থেকে; সাম্প্রতিককালে আমাদের পড়া নিখুঁত বইগুলোর একটি। এর লেখনী অসামান্য, সাথে চরিত্রগুলোও ঔদার্য ও সহানুভূতির সাথে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে…”। তাঁরা আরো বলেছিলেন, বইটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেবে যে শব্দরাও জীবন্ত। অরুন্ধতী নিজের মন্তব্য ছিল এমন “ আমি এটা জানাতে পেরে খুশি যে উন্মাদ আত্মারা(এমনকি যাঁরা অসুস্থ তারাও) এই উপন্যাসের মাধ্যমে পৃথিবীর পথ খুঁজে পাবে, যেমন করে আমি পেয়েছি আমার প্রকাশককে।” আর তাঁর প্রকাশনা-এজেন্ট ডেভিড গুডউইনের প্রতিক্রিয়া ছিল উচ্ছ্বাসমুখর : “একমাত্র অরুন্ধতীই এই উপন্যাসটি লিখতে পারতেন। একদম খাঁটি। এটা নির্মিত হতে লেগেছে কুড়ি বছর, এবং এই অপেক্ষা সার্থক।” (সম্পূর্ণ…)

সেলিনামঙ্গল

বিশ্বজিৎ ঘোষ | ১৪ জুন ২০১৭ ২:১৫ পূর্বাহ্ন

Selina-coverবর্তমান সময়ের বাংলা সাহিত্যের ধারায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক সেলিনা হোসেন (জন্ম ১৯৪৭)। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও ঔপন্যাসিক হিসেবেই তিনি সমধিক খ্যাত। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের নিরন্তর সাধনায় ইতোমধ্যে তিনি নির্মাণ করেছেন নিজস্ব এক শিল্পভুবন, পাঠককে শুনিয়েছেন তাঁর স্বতন্ত্র সত্তার স্বরগ্রাম। সেলিনা হোসেনের ঔপন্যাসিক প্রতিবেদন বিষয়গৌরবে যেমন বিশিষ্ট, তেমনি প্রকরণ-প্রসাধনেও। ইতিহাসের গভীরে সন্ধানী আলো ফেলে ঔপন্যাসিক প্রতিবেদন সৃষ্টিতে তাঁর সিদ্ধি কিংবদন্তিতুল্য। বস্তুত ইতিহাসের আধারেই তিনি সন্ধান করেন বর্তমানকে শিল্পিত করার নানামাত্রিক শিল্প-উপকরণ। সমকালীন জীবন ও সংগ্রামকে সাহিত্যের শব্দস্রোতে ধারণ করাই সেলিনা হোসেনের শিল্প-অভিযাত্রার মৌল অন্বিষ্ট। এক্ষেত্রে শ্রেণি-অবস্থান এবং শ্রেণিসংগ্রাম চেতনা প্রায়শই শিল্পিতা পায় তাঁর ঔপন্যাসিক বয়ানে, তাঁর শিল্প-আখ্যানে। কেবল শ্রেণিচেতনা নয়, ঐতিহ্যস্মরণও তাঁর কথাসাহিত্যের একটি সাধারণ লক্ষণ। উপন্যাসে তিনি পৌনঃপুনিক ব্যবহার করেছেন ঐতিহাসিক উপাদান, কখনো-বা সাহিত্যিক নির্মাণ।
ইতিহাসের নান্দনিক প্রতিবেদন নির্মাণে সেলিনা হোসেনের সিদ্ধি শীর্ষবিন্দুস্পর্শী। এ প্রসঙ্গে তাঁর চাঁদবেনে, নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি, কাঁটাতারে প্রজাপতি, গায়ত্রী সন্ধ্যা, সোনালি ডুমুর— এসব উপন্যাসের কথা স্মরণ করতে পারি। এসব উপন্যাসে সেলিনা হোসেন নিজস্ব ভাবনায় ইতিহাসকে সমকালের সঙ্গে বিমণ্ডিত করেছেন– ইতিহাসের কঙ্কালেই নির্মাণ করেছেন সমকালের জীবনবেদ। ইতিহাস ও শিল্পের রসায়নে সেলিনা হোসেন পারঙ্গম শিল্পী। ইতিহাসের সঙ্গে সমকালীন মানবভাগ্য বিমণ্ডিত করতে গিয়ে সেলিনা হোসেন, অদ্ভুত এক নিরাসক্তিতে, উভয়ের যে আনুপাতিক সম্পর্ক নির্মাণ করেন, বাংলা উপন্যাসের ধারায় তা এক স্বতন্ত্র অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। তাঁর উপন্যাস পাঠ করলে বিস্মৃত হতে হয় কোনটা ইতিহাস আর কোনটা কল্পনা। (সম্পূর্ণ…)

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ‘স্তন’ ও ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনী’

লীনা দিলরুবা | ১৩ জুন ২০১৭ ১২:০৮ অপরাহ্ন

border=0সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম সারির শিল্পী। তাঁর লেখার আবেদন গভীর এবং বহুমূখী। আমাদের স্মরণের ভেতর তাঁর মত লেখক হাতেগোনা। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ’র আবির্ভাব `কল্লোল যুগে’ ঘটলেও আধুনিকতায় তিনি সময়ের চেয়ে অনেকখানি এগিয়ে ছিলেন; এবং সবসময়ই আমাদের অগ্রজদের সামনে অবস্থান করেছেন– যখন সাহিত্যচর্চা শুরু করেছিলেন তখন- আর সময়-কাল ঘুরে অাজকের বাস্তবতায়ও ওয়ালীউল্লাহ সবার চেয়ে এগিয়েই অাছেন। তাঁর গল্প-উপন্যাস বহুমাত্রিকতায় অনন্য। বর্তমান আলোচনায় সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ’র লেখা দুটি গল্প নিয়ে লিখতে বসে পলে পলে অনুভব করেছি, সমস্ত কিছুর ওপর তাঁর দখলদারিত্বের দিকটি। গভীর আবেদনময় দুটি গল্প নিয়ে এই আলোচনা। একটির নাম ‘স্তন’, এবং অন্যটি ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনী।’

[এক]

“স্তন’ গল্পটি গভীর অর্ন্তভেদী। মানুষের সম্পর্কের ব্যক্তিস্বার্থ’র তুলনায় মানবতার সম্পর্ক কতখানি মহৎ এবং গভীর সেই বাতার্টি এই রূপকধর্মী গল্পের মধ্যে নিহিত আছে।

জনৈক আবু তালেব সালাউদ্দিন সাহেব আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা সাক্ষাতের বিষয়টি সারেন খুবই আয়োজনের মধ্য দিয়ে। তিনি সচরাচর যার বাড়ি যান, তাকে আগাম খবর দিয়েই সেখানে গমন করেন। কার- কার বাড়ি যাবেন সেটিও ছকে আঁকা। একদিন আত্মীয়স্বজনের সেই নির্ধারিত ছঁকের বাইরের একজনের বাড়ী, তা-ও বিনা খবরে যাবার উপলক্ষ্য তৈরি হয় একটি দুঃখজনক ঘটনায়। তাঁর দূর-সম্পর্কের আত্মীয় কাদের-এর স্ত্রী মাজেদা ষষ্ঠ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মৃত সন্তান প্রসব করেন, অন্যদিকে সেই সময়েই সালাউদ্দিন সাহেবের কন্যা খালেদা সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যায়। মা’ মরে গেলেও শিশুটি বেঁচে থাকে। তাঁর সদ্যপ্রসূত নাতি মা’ মরে যাবার কারণে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, আর এদিকে কাদেরের স্ত্রী মৃত সন্তান প্রসব করেছে। সালাউদ্দিন সাহেবের কন্যা খালেদার পুত্রটির প্রয়োজন দুধ আর এদিকে সন্তান মারা গেলেও কাদেরের স্ত্রীর স্তনে দুধ সঞ্চরণ থাকবে ধরে নিয়ে সালাউদ্দিন চান তাঁর মৃতা কন্যার সদ্যজাত নবজাতকটি কাদেরের স্ত্রীর স্তনের দুধ পান করে বেঁচে থাকুক। এই গূঢ় ইচ্ছে বাস্তবায়নে তিনি কাদেরের বাড়ি আসেন, প্রস্তাবটি জারি করলে কাদের মুখে রা না করলেও একধরণের সম্মতি প্রদান করেন, এতে সালাউদ্দিনের স্বস্তি আসে। কিন্তু একটু অস্বস্তি তৈরি হয় কাদেরের বাড়ির ভেতর-বাহির পরিবেশের দরিদ্র অবস্থা আর নোংরা-ময়লা দেখে। কাদের নেহায়েত দরিদ্র মানুষ, তাঁর বাড়ির বর্ণনা সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ এভাবে দিয়েছেন- (সম্পূর্ণ…)

শাপলা সপর্যিতার কবিতা: কনফেস

শাপলা সপর্যিতা | ১১ জুন ২০১৭ ৮:১৬ অপরাহ্ন

Jahanara Abedin Collectionআমার কি আছে বলুন তো?
ধ্বংসেরও কিছু স্মৃতি থাকে শেষ থাকে
কষ্টেরও কিছু ক্ষত থাকে
যেখানে চলে নিয়ত ক্ষরণ
তারপরও সেখানেও কিছু থাকে বিধাতার দান।

আমার বিবাহের শাড়িটি ছিল ৫ কেজি ওজন
দারুণ ঐতিহ্যে বেনারসী কাতান জড়ি পুতি চুমকীর বাহারে
হারিয়েছে যে নিজেরই বেশ।

আমি তখন ইথিওপিয়া থেকে এসেছি কেবল
বয়স পঁচিশ কি ছাব্বিশ
রুগ্ন হাড় জিরজিরে শরীরে
বয়স কমে দেখতে হয়েছিল আমাকে বিশ কি বাইশ
দেখুন না, এই দেখুন আমার বিবাহের সেই ছবি
এখনো জ্বলছে শাড়িতে নিয়ত আগুন
সিঁদূরে লাল, তাতে গাঢ় ঘন জমাট রক্তের ছোপ ছোপ
সত্যি করে বলি আজ আপনাদের
শাড়িটি লেগেছিল বড় ভার। (সম্পূর্ণ…)

উৎপলকুমার বসু পেইন্টার ছিলেন

মাজুল হাসান | ১০ জুন ২০১৭ ১২:১৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম দেখে চমকানোর কিছু নাই। লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা কবি উৎপলকুমার বসুর পেইন্টিং-এর কোনো গোপন মহাফেজখানা আবিষ্কৃত হয়নি। তবু তাকে চিত্রশিল্পী বলছি। কেনো? কারণ, তিনি তার কবিতাকে ব্যবহার করেছেন পেইন্টিং-এর ক্যানভাস হিসেবে।
utpal যেখানে বিচিত্র সব চরিত্র, ঘটনা, রূপক, সেগুলোর নির্মাণ-ভাঙচুর-পুনঃনির্মাণ- এমন ইশারাভাষ্যে খোদিত যে তা কোনো অংশে পেইন্টং-এর চেয়ে কম মূর্ত-বিমূর্ত নয়। আধুনিক চিত্রকলায় শিল্পীর ছবিতে যতটুকু দৃশ্য মূর্তমান, শিল্পী যে চিন্তা থেকে যতটুকু দর্শককে দেখাতে চান, দর্শক-বোদ্ধাদের সেটির বাইরেও নতুন অর্থ তৈরি করতে পারেন। এটিই হচ্ছে ব্যক্তিগত স্পেস, যা পেইন্টিং দিয়ে থাকে। যে কারণে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি মোনালিসার হাসি নাকি গোমরা মুখ এঁকেছেন, তা দর্শকের মন-মর্জি, দৃষ্টিভঙ্গীভেদে বদলে যায়। মানে দর্শক সেই ছবিতে নিজের রঙ চড়াতে পারেন। সেই সুযোগ থাকে বলে মূর্ততা ভেঙে বিমূর্ত, আবার বিমূর্ত থেকে মূর্ততায় পৌঁছায় বোধ। উৎপলকুমার বসুর কবিতাও তেমনি। এই যে ক্রাফট, সেই ব্যাপারটা উৎপল কিন্তু শিখেছেন দৃশ্য ও বস্তুজগৎ থেকে, উনি নিজ মুখেই বলেছেন- ‘ব্যাপারটা বাংলা ট্রাডিশনাল কবিতা থেকে পাওয়া নয়।’- এই বক্তব্যের সত্যতার সাক্ষী তার কবিতা।

চৈত্রে রচিত কবিতায় বাক্য ও দৃশ্য অবতারণায় জীবনানন্দীয় স্কুলিং-এর ছাঁচ থাকলেও পুরী সিরিজ থেকে আমরা যে উৎপলকে পাই সে অনন্য। বলছি না শ্রেষ্ঠ, ভালো- কী মন্দ। বলছি- অনন্য; অন্যের মতো নয়। এই অনন্যতা তার পর্যবেক্ষণ ও কবিতার ফর্মে ভাংচুর ও নীরিক্ষার ফসল। (সম্পূর্ণ…)

বুলবন ওসমানের সাক্ষাৎকার: কলকাতায় একবার বাঙালি মুসলিমরা হামলা করেছিল বাবাকে

বিপাশা চক্রবর্তী | ৯ জুন ২০১৭ ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন

bulbon-1বুলবন ওসমানের জন্ম ১৮ মার্চ ১৯৪০ সালে মামাবাড়ি হাওড়া জেলার ঝামাটিয়া গ্রামে। মা সালেহা ওসমান ও বাবা শওকত ওসমানের প্রথম সন্তান। পৈতৃক নিবাস সবলসিংহপুর, হুগলি। ১৯৪৭-এ দেশভাগে পর শওকত ওসমান চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে যোগ দেন। ১৯৫০ সালে দুই বাংলায় বড় ধরনের দাঙ্গা বাধলে পুরো পরিবার চটগ্রামে চলে আসেন। চট্টগ্রামে স্কুল ও কলেজ পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বুলবন ওসমান পড়াশোনার পাঠ শেষ করেন সমাজতত্ত্বে। ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত প্রথম বই – কিশোর উপন্যাস কানামামা। ১৯৬৬ সালে চারুকলা মহাবিদ্যালয়ে শিল্প সম্পর্কিত সমাজতত্ত্বের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে নিয়মিত স্বরচিত কথিকা পাঠ করতেন। ১৯৭৩ সালে শিশুসাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত চারুকলা ইনিস্টিউটে অধ্যাপনা করেন। অনুবাদ সাহিত্যেও কাজ করেছেন। একজন স্বশিক্ষিত শিল্পী হিসেবে ঢাকা ও কলকাতায় করেছেন জলরঙ, তেলরঙ, প্যাস্টেল ও ড্রাইপেইন্টের প্রদর্শনী। বর্তমানে আঁকা ও লেখালেখিতে পরিপূর্ণভাবে নিয়োজিত। বুলবন ওসমানের এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারটি গৃহীত হয়েছিল ২০১৬ সালে শওকত ওসমানের জন্মশত বর্ষে। এ বছর তার জন্মশত বর্ষ উপলক্ষে প্রাবন্ধিক বিপাশা চক্রবর্তীর নেয়া বুলবন ওসমানের সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হলো। বি. স (সম্পূর্ণ…)

মরিবার হলো তার সাধ

সাব্বির জাদিদ | ৮ জুন ২০১৭ ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

anisurবকুল গাছের নিচ দিয়ে পথ। সবুজ ঘন ঘাসের ভেতর লম্বা হয়ে শুয়ে আছে মেটে রঙের চিকন রেখা। হঠাৎ দেখলে চুলের সিঁথির কথা মনে পড়ে যায়। আব্দুল করিম সিঁথি মাড়িয়ে ফজরের নামাজ পড়তে যাচ্ছে। আবছা আলো আবছা আঁধারের মিশেল চারপাশে। কোথাও মোরগ ডাকছে। আব্দুল করিমের মাথায় পাঁচকুল্লি টুপি। হঠাৎ কী ভেবে সে টুপিটা খোলে। দুই হাতে টুপির দুই প্রান্ত ধরে মুখের সামনে এনে জোরসে ফু দেয়। বাতাস পেয়ে টুপির পেট ফুলে উঠলে সে নতুন উদ্যমে টুপিটা মাথায় বসায়। টুপিটা ঠিকঠাক মাথায় সেট করতে গিয়ে তার ঘাড় উঁচু হয় আর তখন তার চোখ আটকে যায় বকুল গাছের ডালে। হাফপ্যান্টপরা এক ছেলে ঝুলে আছে ডালে।

ছুটিপুরে কয়টা ছেলে হাফপ্যান্ট পরা? পরে অনেকেই। তবে এই মুহূর্তে মনে পড়ে যায় কায়েসের কথা। কারণ, গত সপ্তায় কায়েস একটা ফুলপ্যান্টের জন্য বায়না ধরেছিল বাপের কাছে। বাপ মসলেম উদ্দিন ফুলপ্যান্ট কিনে দিতে পারেনি। কিংবা বলা যায়, কিনে দেয়নি। কারণ হিসেবে অনুমান করা যায় অভাব। কায়েস অবশ্য এইসব অভাব টভাবের ব্যাপারগুলো বোঝে না। বোঝার কথাও না। নিতান্তই সে এক বালক এখন। ছুটিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাশ ফোরে পড়ে। এতটাই অবোধ সে, হিসি করার পর প্রায় সময় তার প্যান্টের জানালায় খিল তুলতে ভুলে যায়। তার বাবার কোন জমিজিরেত নেই। গ্রামে ধনী আর গরিব বোঝার মাপকাঠি জমি। যার জমি বেশি, সে বেশি ধনী। যার জমি কম, সে কম ধনী। যার কিছু নেই সে গরিব। কায়েসের বাবার যেহেতু জমি নেই তাই সে গরিব। কায়েস গরিব বাবার একমাত্র ছেলে। এরপর আর কোনো ভাইবোন তার হবে কি না জানা নেই। আপাতত মসলেম উদ্দিনের সংসারে কায়েস একাই এক ছেলে। (সম্পূর্ণ…)

জেগে উঠবো কোন অন্ধকারে

প্রকাশ বিশ্বাস | ৬ জুন ২০১৭ ২:২২ অপরাহ্ন

Shilpaguru Safiuddin ahmedবসন্ত বাউরির বাতাসে কোন লেবুফুলের গন্ধ ভেসে আসে। ভেসে আসে আমের বোল আর কাঁঠাল মুচির সুবাস ।সবুজ নরম এই ঘাসের বন, আর বহু প্রাচীন, বুড়িয়ে যাওয়া ছাল বাকলের বৃকোদর আম,কড়ই, শিমূল, নারকেল বৃক্ষের সারি। পলাশ আর পারিজাত গাছও চেখে পড়লো। এর পাশে কাজল পড়া অতি শান্ত ধীর স্রোতস্বিনী। এ নদীর পাড়ে ভূট্টা, গম আর যবের ক্ষেতনীচ থেকে উপরে উঠে গেছে।
আমি কেন এখানে এই পরিপাটি করে সাজানো ঘাস আর লতা গাছের বাগানে পড়ে আছি? আমায় এখোনে নিয়ে এল কে? শেষ বিকেলের নরম রোদ। এই রোদে গাছপালার ছায়া পড়েছে তীর্যক আর লম্বা হয়ে।
জায়গাটি কোথায় আর কেনই বা আমি এখানে আমি জানি না। আর কে আমাকে কেন কিভাবে নিয়ে এসেছে তাও জানি না।
কিন্তু এ জায়গা যেন অমরাবতী অথবা ইডেন গার্ডেন।
একি একটি কাঠবেড়ালি আমার পাতলুনের পকেটে মুখ ঢুকিয়ে দিচ্ছে কেন? মনে পড়ছে যে আমার পকেটে রয়েছে চিনাবাদামামের ঠোঙ্গা। স্মৃতির আবছা অস্পষ্ট আলোছায়ায় মনে পড়ছে আমাকে যে ঘোড়ার গাড়িতে করে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে সেখানে এক সহযাত্রী আমাকে জল খাবারের জন্য এ ঠোঙ্গা উপহার দিয়েছিল।
মিহি বাতাসে ঘুঘুর ডাকে করুণ মূচ্ছর্ণা, হঠাৎ নারকেল গাছের শীর্ষদেশের পাতার আন্দোলনে চোখ আটকে গেল। সাদা ওড়না জাতীয় কাপড়ে মোড়ানো একটি আবছায় মূর্তি । ভালো করে দেখার পর মনে হলো ওটা আমার মনের ভুল। (সম্পূর্ণ…)

মিলটন রহমানের পাঁচটি কবিতা

মিলটন রহমান | ৫ জুন ২০১৭ ৯:৫০ অপরাহ্ন

Monirul Islamবালির শহর

যে ধূলোর শহরে তোমাকে রেখে এসেছিলাম

তার আর কোন খবর নেইনি কখনো

তুমি হয়ে গেলে নানান রঙের প্রজাপতি

আর আমি ডানা সদৃশ ভূপালী এক প্রাণী

কেবল সুরের জিকির তুলি নিয়নের আলোয়

পাথর কেটে কেটে তৈরী করি টিউনিক পথ

বিশ্বাসের বিভ্রমে গড়ে তুলি পাললিক শহর

এখানে সেখানে নদী-বিল আর ছায়া রাখি

আরতিসম আহবানে কাঠ চিরে দুঃখ রাখি

আমার এসব জঙ্গনামার বিবরণ শুনে, (সম্পূর্ণ…)

আমি পাহাড়ি

আনিসুর রহমান | ৫ জুন ২০১৭ ৬:০৫ অপরাহ্ন

Aminul Islamসূর্য উঠল; দিনের সবকিছু স্বাভাবিক ছিল, হঠাৎ কী যে হল!
বাড়ি পুড়ছে, ঘর পুড়ছে, সকলে ছোটাছুটি শুরু করে দিল:
প্রথমে আগুন দিল দক্ষিণের ঘরে, এরপর একে একে সারা গাঁও
পুড়ে সাবাড় করে; দিনেদুপুরে ওরা আমাকেও তাড়া করেছিল !

সকলে প্রাণভয়ে দৌড়ে পেছনে জঙ্গলে চলে যাই। বাড়িঘরে ওরা
আগুন দিতে থাকে, সে আগুন আমি দেখি জঙ্গলের ফাঁকে ফাঁকে;
ঘরে পুড়ে ছারখার; দাউ দাউ আগুন জ্বলে, আমি দেখি অন্ধকার !

লাঠিসোটা নিয়ে ওরা যেভাবে ধেয়ে এলো, সকলে ভীষণ ভয় পেল;
কীভাবে যে বাঁচি? আতঙ্কে লোকজন নানান জায়গায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল;
মা বাবা ভাই বোন আর পাড়াপড়শি — গাঁয়ের সকলেই পালাই পালাই ! (সম্পূর্ণ…)

শুধু একটি বিশ্বাস

স্বদেশ রায় | ৫ জুন ২০১৭ ১২:০১ অপরাহ্ন

Monirul Islamতুমি অনেক বেশি বিশ্বাসী- না? বিশ্বাস করো ঈশ্বরকে,
বিশ্বাস করো দেবতাকে, বিশ্বাস করো আমাকে, তোমার
চারপাশকে। এ বিশ্বাস তুমি কোথা থেকে পেলে?
আমি তো শুধু বিশ্বাস করতে চেয়েছিলাম নদীকে,
ভেবেছিলাম সেই আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে সাগরে।
অথচ দেখ কী অদ্ভুত, সেই কবে থেকে এই চড়ায় বসে
আছি অথচ নদী ভাসায় না আমাকে। এই আমার সামনে
দিয়ে কত কেয়া ফুলের পাপড়ি গেলো ভেসে, সাগর থেকে
কত ফল এসে জম্ম দিলো কত নতুন গাছের, তাদেরও
ফুটলো ফুল। অথচ এখনও আমি ঠিক বসে আছি চড়ায়। (সম্পূর্ণ…)

রফিকুননবী : সৌদি আরবের শিল্পীরা ইউরোপে বসে ন্যুড ছবিটবি আঁকে

রাজু আলাউদ্দিন | ৩ জুন ২০১৭ ৬:১২ অপরাহ্ন

Razu-Ronobi-1
কাগজ এবং ক্যানভাস–দুয়েই তার স্বাচ্ছন্দ্য । কাগজে তিনি আঁকেন তার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে এমন এক ভাষায় যা চিত্রল গুণে ঋদ্ধ। অন্যদিকে ক্যানভাসে তিনি তুলে ধরেন রংয়ের সেই বর্ণময় সম্ভার যা কথার অমরাবতী হয়ে উঠেছে। বর্ণ ও বর্ণমালা অভিন্ন মর্যাদায় রফিকুননবীর কাছে উদ্ভাসিত, তারা একে অপরের বিরুদ্ধে না গিয়ে শিল্পী রফিকুননবীকে অনন্য করে তুলেছে। চিত্রশিল্পী, কার্টুনিষ্ট, ঔপন্যাসিক, শিশুসাহিত্যিক, শিল্পসমালোচ এবং চিত্রকলার শিক্ষক এখন পরিচয়ের ব্যাপ্তির কারণে কেবলই ‘রনবী’ নামে সুপরিচিত, যিনি অসামান্য খ্যাতি অর্জন করেছেন টোকাই নামক এক চরিত্রের জন্ম দিয়ে।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই লেখক-শিল্পীর জন্ম ১৯৪৩ সালের ২৮ নভেম্বর রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়।
পুলিশ অফিসার বাবার বদলির চাকুরির সুবাদে রফিকুন নবীর বাল্য ও কৈশোরকাল কেটেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়৷ পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝিতে ঢাকায় স্থায়ী হন তাঁরা। পুরান ঢাকাতেই কৈশোর ও যৌবনের অনেকটা সময় কাটে রফিকুন নবীর৷ ১৯৫০-এর মাঝামাঝিতে স্কুলে ভর্তি হন তিনি৷ পুরান ঢাকার পোগোজ হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৫৯ সালে ঢাকার সরকারি আর্ট কলেজে ভর্তি হন তিনি৷ এখানে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, কামরুল হাসানসহ খ্যাতিমান দিকপালের সান্নিধ্যে থেকে পড়াশোনা করেন৷
পড়াশোনা শেষ করে রফিকুন নবী সে সময়ে ঢাকার প্রথম সারির পত্রিকাগুলিতে নিয়মিত কাজ শুরু করেন। নিয়মিত কার্টুন আঁকতেন সাপ্তাহিক পূর্বদেশ পত্রিকায় কবি আবদুল গনি হাজারির কলাম কাল পেঁচার ডায়েরীতে৷১৯৬৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকা আর্ট কলেজের শিক্ষক হিসেবে জীবন শুরু করেন তিনি৷ আর্ট কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রদের নিয়ে তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শুরু হয়৷ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ঢাকায় থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্থ, কাপড় ও খাদ্য সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। ১৯৭৩ সালে গ্রীক সরকারের পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন বৃত্তি নিয়ে তিনি ভর্তি হলেন গ্রীসের এথেন্স স্কুল অব ফাইন আর্ট-এ৷ পড়াশোনা করলেন প্রিন্ট মেকিং-এর ওপর৷ ১৯৭৬ সালে দেশে ফিরে আসেন তিনি৷ শিক্ষক থেকে ধীরে ধীরে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপকের পদে অধিষ্ঠিত হন৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ ফাইন আর্টস-এর ড্রইঙ ও পেইন্টিং বিভাগে প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৮৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন এই ইন্সটিটিউটের পরিচালক।
রফিকুন নবী পেয়েছেন একুশে পদক, চারুকলায় জাতীয় সম্মাননা শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার, বুক-কভার ডিজাইনের জন্য ১৩ বার ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার৷২০০৮ সালে তাঁর আঁকা খরা শীর্ষক ছবির জন্য ৮০টি দেশের ৩০০ জন চিত্রশিল্পীর মধ্যে ‘এক্সিলেন্ট আর্টিস্টস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে মনোনীত হন।
লেখক-শিল্পী রনবীর দীর্ঘ এই সাক্ষাৎকারটি গৃহীত হয়েছিল গত ১৫ এপ্রিল শনিবার ধানমন্ডির গ্যালারি চিত্রক-এ।
কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের সাথে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে রনবী তার শিল্পী ও লেখক জীবনের নানাদিক তুলে ধরেন। ভিডিওতে ধারণকৃত এই সাক্ষাৎকারের লিখিত রূপটি তৈরি করেছেন গল্পকার সাব্বির জাদিদ। সাক্ষাৎকারটি ভিডিওতে ধারণ ও আলোকচিত্র গ্রহণে ছিলেন নয়ন কুমার। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com