কাইয়ুম চৌধুরী: আঙুল যার রঙের ঝর্ণাধারা

মাজহার সরকার | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১২:৫৩ অপরাহ্ন

kaium chiowdhury“এই প্রদর্শনীতে খোলা ছুরি হাতে কোন উদ্ধত খুনি যদি এসে ঢোকে, এই ছবি দেখে তার হাত থেকে ছুরি নিচে পড়ে যাবে।”
সত্তর দশকের শেষ দিকে শিল্পকলা একাডেমিতে তরুণ শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর একটা চিত্র প্রদর্শনীতে আসা প্রধান অতিথি এই কথা বলেছিলেন।
কাইয়ুম চৌধুরী। তেলরং, জলরং, রেশম ছাপ, কালি-কলম, মোমরং ইত্যাদি মাধ্যমে তিনি কাজ করেছেন। তার ছবিতে রয়েছে জ্যামিতিক প্রবণতা। আসলে নকশা। এর কারণ এই বাংলায় মানুষ ছবি আঁকতে শিখেছে নারীর কাছে। নারী যখন কাঁথা সেলাই করতেন, নানা নকশার পিঠা বানাতেন, মাটি গুলিয়ে উঠোন আর ভিটে লেপতেন- সেই হাতের টান মানবিকী মূর্ছনায় পুরুষের মনে ছবি আঁকার প্রেরণা জুগিয়েছে। গতি দিয়েছে তুলির রেখায়।
ক্যানভাসের পটভূমিতে কাইয়ুম চৌধুরীর মোটাদাগের নকশা সে কথাই বলে। তার বর্ণোজ্জ্বল রঙ মনে করিয়ে দেয় বাংলাদেশের ষড়ঋতুর কথা। লাল, সবুজ আর নীল এই তিনটি রঙের প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার আমাদের জাতীয়তাবাদী করতে তোলে, প্রেমিক হতে শেখায়। এই বর্ণভঙ্গী মাতৃভূমির প্রতি তার অঙ্গীকার। তিনি যেন ছবি আঁকেননি, আজন্ম বাংলাদেশকে এঁকেছেন।
তার চিত্ররীতিতে এ দেশের লোকশিল্পসুলভ পুতুল, পাখা, শীতলপাটি, কাঁথা, হাঁড়ি ইত্যাদির পৌনঃপুনিক ব্যবহার আমাদের শৈশব মনে করিয়ে দেয়। (সম্পূর্ণ…)

নভেরা হোসেনের কবিতা

নভেরা হোসেন | ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ২:৪৭ অপরাহ্ন

images
আমি জেগে আছি

তুমি ঘুমাতে যাচ্ছ
আমি যাচ্ছি না
অনেকে জেগে থাকছে
অনেকে বারুদ পোড়াচ্ছে
কেউ কেউ আগুনে ঘি ঢালছে
ঘিয়ে আগুন
একজন নিবিড় মনে কেটে চলেছে স্রোতহীন জলধারা
অনেকে ঘুমাতে পারছে না
কেউ কেউ ব্যাংকের ভল্ট ভাঙছে
কবিতা লিখছে কোনো একজন
তুমি ঘুমাচ্ছ
আমি জেগে আছি…

নীরবতা

সন্ধ্যার অন্ধকারে তোমাকে ভীষণ ম্লান মনে হয়। বৃক্ষের শরীরে যত ক্ষত, লোকালয়ে যত লোক
সব কোলাহল হয়ে নীরব।
এই সন্ধ্যা, ম্মৃতির শহর একা একা হেঁটে যায় মিনারের পধ ধরে।
লাল লাল বট বৃক্ষ, পুস্তকের সারি। এখানে তুমি নিদারুণ , পড়ো আছো শত শত মলাটের আড়ালে ।
একটা অক্ষর, একজন শব্দ গ্রাস করে রাখে। তুমিও হতে চাও অমলিন যে কোনো নদীর তলদেশে… (সম্পূর্ণ…)

মোস্তফা কামালের অগ্নিকন্যা

হারুন রশীদ | ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১:৪৮ অপরাহ্ন

border=0একজন বড় লেখকের অভীষ্ট হচ্ছে দেশ-কাল ভূগোল সংশি­ষ্ট শিল্পরীতি। বিষয় ও আঙ্গিকতো বটেই, সময় ও কালকেও মাথায় রাখতে হয়। কথাশিল্পী মোস্তফা কামাল তাঁর অগ্নিকন্যা উপন্যাসে এই লক্ষ্যকে বিবেচনায় রেখেছেন বলে মনে হয়। উপন্যাসের পটভূমি হিসেবে তিনি শুধু দেশভাগের মর্মন্তুদ ইতিহাসকে আশ্রয় করেননি বরং বিশাল ক্যানভাসে আন্দোলনমুখর উত্তাল সেই সময়ের ইতিহাসের নায়ক-খলনায়কদের তুলে ধরেছেন নির্মোহ দৃষ্টিকোন থেকে। একটি দেশ বা অঞ্চলের ইতিহাসের শিরদাঁড়ার ওপর দাঁড়িয়েই সেই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য রচিত হয়। দায়িত্বশীল লেখকের জন্য এ এক ঐতিহাসিক দায়ও বটে। অগ্নিকন্যায় সেই দায়ও যেন মেটালেন লেখক।
ভাাষা-রীতি ও কুশলী উপস্থাপনার গুণেও উপন্যাসটি হয়ে উঠেছে চিত্তাকর্ষক। উপন্যাসটি শুরু হয়েছে নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে–‘মতিয়ার দুই হাতে দুটি পুতুল। সে ঘরের মেঝেতে বসে বসে গভীর মনোযোগে পুতুল দুটিকে সাজায়। পতুলের ছোট্ট চুল বেণী করে। ঠোঁটে পায়ে আলতা লাগায়। মনে মনে বলে বাহ! ভারী সুন্দর হয়েছে তো দেখতে। …হঠাৎ তার কানে শ্লোগানের ধ্বনি ভেসে আসে। একেবারে গগনবিদারি শে­াগান। ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।’ মতিয়া দৌড়ে বারান্দায় যায়। বাইরের দিকে তাকিয়ে সে দেখে, বিশাল একটি মিছিল দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ।…সবার কণ্ঠে এক আওয়াজ ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।’ (সম্পূর্ণ…)

চিন্ময় গুহ: ভারতবর্ষে ইন্ডিয়ান রাইটিং ইন ইংলিশ আসার পর থেকে চটজলদি সফলতার দিকে লোকে চলে যাচ্ছে

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:৫২ অপরাহ্ন

Chinmoy Guhaবাংলা একাডেমির আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিতে ঢাকায় এসেছেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, ফরাসিবিদ ও অনুবাদক চিন্ময় গুহ, অতিথি হয়েছেন কালি ও কলম তরুণ লেখক পুরস্কার অনুষ্ঠানে, বক্তৃতা করেছেন জাতীয় কবিতা উৎসবের প্রথম পর্বে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী সাহিত্যের অধ্যাপক, কয়েকবছর পড়িয়েছেন বাংলা বিভাগেও। দায়িত্ব পালন করেছেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যেরও।

ছিলেন নতুন দিল্লির ফরাসি দূতাবাসে প্রকাশনা উপদেষ্টা। ‘দেশ’ পত্রিকার গ্রন্থসমালোচনা বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন এক দশক। লিখেছেন চিলেকোঠার উন্মাদিনী, গাঢ় শঙ্খের খোঁজে, আয়না ভাঙতে ভাঙতে, লা রোশফুকোর ম্যাক্সিম, আহাম্মকের অভিধান, অপু ট্রিলজি, ভিক্তর য়্যুগো, দাঁতঁ— এলিয়টকে নিয়ে Where the Dreams Cross: T S Eliot and French poetry এবং The Tower and the Sea এর মতোন পাঠকনন্দিত বই।
নিজের সাহিত্যকর্মের জন্য দুবার পেয়েছেন ফরাসী সরকারের নাইট-এর সম্মান, ২০১০ ও ২০১৩ সালে। বিশিষ্ট এই অনুবাদক ও প্রাবন্ধিকের সাথে ঢাকা ক্লাবের লবিতে আলাপ করেছেন কবি শিমুল সালাহ্উদ্দিন, সঙ্গে ছিলেন কবি জাহানারা পারভীনও। (সম্পূর্ণ…)

মুস্তাফিজ শফির আটটি কবিতা

মুস্তাফিজ শফি | ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ৬:৫৭ অপরাহ্ন

হাতের মুঠোয় একগুচ্ছ অন্ধকার

আমি এখন ইচ্ছে করলে খুব সহজেই তোমাকে বানিয়ে ফেলতে পারি। আমার হাতের মুঠোয় তুমি খলবল হেসে ওঠো, প্রথম শাড়ি পরার উচ্ছ্বলতা নিয়ে পরিপাটি দাঁড়াও সকাল-সন্ধ্যা। আমরা ঠিকই হেঁটে আসি আদিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ, হলুদ শর্ষে ক্ষেত। তোমার বাম গালে ঠিক আগের মতো টোল পড়ে। আর আবেগে কিছুটা ফুলে ফুলে ওঠে ঠোঁট।

আমি এখন ইচ্ছে করলেই সকালে মুড়িয়ার পথে থামিয়ে দিতে পারি লাতুর ট্রেন। আর ট্রেনের ধোঁয়াগুলোকে অনায়াসে বানিয়ে ফেলতে পারি মেঘ। তুমিতো মেঘ ভালবাসতে, মাঝে মাঝে ঝরাতে বৃষ্টিও। মেঘ ধরবো বলে আমরা কতোবার ছুটেছি নীলগীরি-নীলাচল। আর প্রকৃতির ছলনায় কতোবার ভেসেছি আক্ষেপের জলে। অথচ দেখো আমার হাতে এখন একসাথে ব্ল্যান্ড হতে থাকে মেঘ, বৃষ্টি এবং নীল আকাশ।

Shakil-storyধোঁয়াওঠা চায়ের কাপে তুমি মাঝে মাঝে ঝড় তুলতে, ফুটপাত পেরিয়ে চারুকলার বারান্দা ধরে হাঁটতে হাঁটতে ধরতে চাইতে পরাবাস্তব নির্জনতা। আমি এখন খুব সহজেই হাতের মুঠোয় ধরে থাকি সেই নির্জন দুপুর আর নিঃসঙ্গ শালিকের ডানায় ভর করে আসা একগুচ্ছ অন্ধকার।

আমার হাতের তালুতে খেলা করে নদীÑ সুরমা, কুশিয়ারা, সোনাই। সুরমাকে আমি এখন অনায়াসে ধানসিঁড়িতে রূপান্তর করে ফেলতে পারি, কুশিয়ারাকে কীর্তনখোলায়। সোনাইয়ের বুকে তোমাকে ভাসিয়ে রাখি, কেবলই ভাসিয়ে রাখি জলগামী নীল বালিহাঁস। (সম্পূর্ণ…)

শঙ্খ ঘোষের জন্মবার্ষিকী : ‘কাল থেকে রোজই আমার জন্মদিন’

মুহিত হাসান | ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ২:৪০ অপরাহ্ন

Shonkhoআলোকচিত্র: রাজু আলাউদ্দিন

আজ বাংলা ভাষার প্রধানতম কবি ও গদ্যকার শঙ্খ ঘোষের ছিয়াশিতম জন্মদিন। ১৯৩২ সালের পাঁচই ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলাদেশের চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। এই শুভদিন উপলক্ষ্যে তাঁর গুণগ্রাহী ও স্নেহধন্য তিন লেখক—কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক, প্রাবন্ধিক-অর্থনীতিবিদ সনৎকুমার সাহা ও কবি-গদ্যকার মোহাম্মদ রফিকের তিনটি সংক্ষিপ্ত তাৎক্ষণিক শ্রদ্ধালেখ মুদ্রিত হলো। তাদের তাৎক্ষণিক শুভেচ্ছাবার্তাগুলোর শ্রুতিলিখন করেছেন তরুণ লেখক মুহিত হাসান। বি. স.

হাসান আজিজুল হক
border=0

তিনি শতবর্ষী হোন

শঙ্খ ঘোষ, আমাদের সকলের প্রিয় শঙ্খদা, ছিয়াশিতে পা দিলেন, এই খবরটি নির্দিষ্টভাবে জানার পর— শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সর্বোপরি তাঁর প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করার মতোন যথোপযুক্ত ভাষা আমার আয়ত্তে নেই। এই সময়ের বাঙালি কবিদের মধ্যে তাঁকেই আমি শ্রেষ্ঠতার আসন অনেক আগেই দিয়ে বসে আছি। আমি মানুষ শঙ্খদা ও কবি শঙ্খ ঘোষকে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে আবার আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানাতে চাই।

শঙ্খদার প্রতিভা, তুলনাহীন তো বটেই, আমি বলবো, তিনি উচ্চতার যে শিখরে পৌঁছেছেন, তাতে তাঁকে দুর্নিরিক্ষ্য বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু, তিনি নেমে আসেন সকলের সঙ্গে, বিপদে-আপদে। প্রতিভার এরকম নিরহংকার প্রকাশ আর আমি দেখিনি। কবি হিসেবে যেমন তিনি আজ আমাদের সকলের কাছে এসে পড়েছেন তেমনিই এক এক সময় মনে হয় তিনি অতি দূরের নক্ষত্র। তাঁর আলো এসে পৌঁছুচ্ছে আমাদের কাছে প্রতি মুহূর্তে, প্রতিক্ষণে। (সম্পূর্ণ…)

জেবুননাহার জনির কবিতা: ভয়

জেবুননাহার জনি | ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১০:০৯ পূর্বাহ্ন

Shelyসাপটি যখন লম্বা এক ফণা তোলে
ভয় না পেয়ে আমি বরং জাপটে ধরি
বিছুটি যখন কাঁধের পরে আঁকড়ে ধরে
ভয় না পেয়ে আমি বরং আঙুল নাড়ি
কুকুর যখন লেজ উঁচিয়ে দৌড়ে আসে (সম্পূর্ণ…)

কবিতার অনুবাদ : মুক্ততা ও মৌলিকতা

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১২:৩৩ অপরাহ্ন

অনুবাদ কি? মানব অনুভূতির ভাষিক রূপান্তরই প্রাথমিক অনুবাদ। অনুবাদের দ্বিতীয় প্রকারভেদ হচ্ছে স্ব-ভাষিক অনুবাদ, তৃতীয় প্রকারভেদ দ্বিভাষিক বা বহুভাষিক অনুবাদ এবং শেষোক্ত প্রকারভেদভাষা-বহির্ভূতভিন্ন-মাধ্যমে অনুবাদ। গদ্য, পদ্য, প্রবহমান বয়ান, সংলাপ বা অন্য যে কোনো প্রাকরণিক ভাষ্য প্রথমে স্ব-ভাষিক অনুবাদের মাধ্যমে অনুবাদকের উপলব্ধিতে একটি অর্থময়তা সৃষ্টি করে। এই স্তর পার না হলে দ্বিতীয় বা তৎপরবর্তী অন্য কোনো ভাষায় অনুবাদ করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ উৎস ভাষার প্রথম টেক্সট বা ভাষ্য থেকে পরবর্তী সহজতর বা স্বচ্ছতর ভাষ্যে বিষয়টিকে উপলব্ধি করার এই পর্যায়টি অতি প্রাথমিক স্তরে মনোগতভাবেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। ভাষ্যের মূল ভাষাকে উৎস ভাষা (Source language or SL)এবং অনুবাদ্য ভাষাকে লক্ষ্য ভাষা (Target language or TL) বলা হয়।
এবারে প্রাথমিক বা অতি প্রাথমিক স্তরে মনোগতভাবেই রূপান্তর হওয়ার একটি উদাহরণ দিচ্ছি বাংলা ভাষা থেকে : ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’। এটি একটি কবিতার পঙক্তি। এর প্রাথমিক স্ব-ভাষিক অনুবাদ হচ্ছে ‘আমার ছেলেমেয়েরা যেন দুধ আর ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে’। স্বভাষিক গভীরতর ও ব্যাখ্যামূলক অনুবাদ হচ্ছে ‘আমার পরবর্তী প্রজন্ম যেন অভাব অনটনের বাইরে সচ্ছল জীবন যাপন করতে পারে।’ প্রথমটি শাদামাটা আক্ষরিক অনুবাদ, আর দ্বিতীয়টি বিবিধ অনুষঙ্গ বিবেচনায় রেখে তাৎপর্যময় অনুবাদ। এই দুই স্তরের অনুবাদ স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করার পরই অনুবাদক ভিন্নভাষিক বা ভাষা-বহির্ভূত ভিন্নমাধ্যমিক অনুবাদে ব্রতী হতে পারেন । তবে কাজটি যত সহজে বলা হলো, আসলে তত সহজ নয়। (সম্পূর্ণ…)

চিকিৎসক হিসেবে আমার শেষদিন

রেশমী নন্দী | ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

kalanithi-1২০১৩ সালের মে মাসে, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির নিউরোসার্জিকাল রেসিডেন্ট পল কালানিথির ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে। ৩৬ বছর বয়সী এ চিকিৎসকের মেটাস্টিক লাংস ক্যান্সার তখন চতুর্থ ধাপে। ২০১৫ সালে মার্চ মাসে মারা যাবার আগ পর্যন্ত এ দুবছরে তিনি তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন, এক সন্তানের জনক হয়েছেন এবং একজন চিকিৎসক একই সাথে একজন রোগী হিসেবে অবশ্যম্ভাবি এ যাত্রার অভিজ্ঞতার কথা লিখে গেছেন অসাধারণ বর্ণনায়। তাঁর মৃত্যুর পর “Random House” প্রকাশনী সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয় এ লেখা। When Breath Becomes Air শিরোনামে বইটি প্রকাশিত হয় ১২ জানুয়ারী ২০১৬ তারিখে। বইটিতে চিকিৎসক হিসেবে তাঁর জীবনের শেষ দিনের বর্ণনা প্রকাশিত হয় ‘দি নিউইয়র্কার’ পত্রিকায়। পল কালানিথির এই লেখাটি অনুবাদ করেছেন রেশমী নন্দী। ……

অপারেশনের সাত মাস পর একদিন, সিটি স্ক্যান শেষ হতেই লাফ দিয়ে নেমেছি। রেসিডেন্সি শেষের আগে, একজন বাবা হিসেবে নবজন্মের আগে, ভবিষ্যতের সত্য বর্তমান হওয়ার আগে এটাই আমার শেষ স্ক্যান।
টেকনিশিয়ান বললেন, “রিপোর্টে চোখ বুলাবেন?”
আমি বলেছিলাম, “এখন না, আজ অনেক কাজ আছে।”
তখনই ৬টা বেজে গিয়েছিল। রোগী দেখতে যেতে হবে, পরের দিনের অপারেশনের সময় ঠিক করতে হবে, আনুষাঙ্গিক কাগজপত্রে চোখ বুলাতে হবে, ক্লিনিক নোটস লিখতে হবে, পোষ্ট অপারেশনের রোগীও দেখতে যেতে হবে এবং এরকম আরো শত কাজ। রাত ৮টার দিকে, নিউরোসার্জারির অফিসরুমে বসে পরের দিনের জন্য রোগীদের স্ক্যান রিপোর্ট দেখছিলাম এক এক করে, এরপর একসময় নিজের নাম টাইপ করলাম। বাচ্চাদের বইয়ের ছবি দেখার মতো করে এবার আর গতবারের রিপোর্টের ইমেজগুলো মিলাচ্ছিলাম-সব একই রকম আছে, পুরোনো টিউমারটাও আগের মতোই আছে, কেবল…. (সম্পূর্ণ…)

নগ্নপদ ইলিয়াড ও আসুয়েলার বিপ্লব

রাজু আলাউদ্দিন | ৩০ জানুয়ারি ২০১৭ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন

Azuelaনিকারাগুয়ার রুবেন দারিও, কিংবা পেরুর সেসার বাইয়েহোর নামটি স্মরণে রেখেই আমরা প্রায়শই বলতে শুনি যে লাতিন আমেরিকায় চিলেই হচ্ছে কবিতার সেই দেশ যা সৃষ্টির বৈচিত্র ও গভীরতা দিয়ে বিশ্বের বৃহত্তর পাঠকগোষ্ঠীকে অভিভূত করেছে। এমনটা বলার কারণও আমাদের অজানা নয়, কারণ চিলেতে প্রায় কাছাকাছি সময়ে বিসেন্তে উইদোব্রো, গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল, পাবলো নেরুদা, পাবলো দে রোকা ও নিকানোর পাররার মতো বিশ্বমানের কবির আর্বিভাব। অন্যদিকে, কথাসাহিত্যের জন্য আর্হেন্তিনাকেই পরানো হয় প্রশংসার অতুল্য মুকুট; কেননা এস্তেবান এচেবেররিয়া থেকে শুরু করে মাসেদোনিও ফের্নান্দেস, হোর্হে লুইস বোর্হেস, আদোল্ফো বিয়ই কাসারেস, দানিয়েল মোইয়ানো, হুলিও কোর্তাসার ও মানুয়েল পুুইগ-এর মতো লেখকরা কেবল লাতিন আমেরিকার প্রেক্ষাপটেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের প্রেক্ষাপটেই বিস্ময়কর উত্থান হিসেবে স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে আছেন। কিন্তু লাতিন আমেরিকার একেবারে উত্তরে অবস্থিত মেহিকো সম্পর্কে এমন কিছু কখনোই বলতে শুনা যায় না। অথচ মেহিকো, কী কবিতায়, কী প্রবন্ধে, কী কথাসাহিত্যে-বলতে গেলে সাহিত্যের এই তিনটি শাখায়ই রয়েছে তার অনন্য অর্জন। কবিতায়, সেই ঔপনিবেশিক যুগের বিস্ময়কর প্রতিভা সর হুয়ানা ইনেস্ দে লা ক্রুস থেকে শুরু করে আমাদো নের্বো, রামোন লোপেস বেলার্দে, হাবিয়ের বিইয়াউররুতিয়া, হোসে গরোস্তিসা কিংবা লাতিন আমেরিকার প্রথম ঔপন্যাসিক হোসে হোয়াকিন ফের্নান্দেস দে লিসার্দি, তিনিও মেহিকানো। প্রবন্ধে দার্শনিক ও ভাবুক হোসে বাসকন্সেলোস, এদমুন্দো ওগোরমান, আলফোনসো রেইয়েস, অক্তাবিও পাস। অর্থাৎ তিনটি ক্ষেত্রেই মেহিকোর রয়েছে অসামান্য অর্জন। আর কথাসাহিত্যের ক্ষেত্রে আমরা যদি সময়ক্রমের ধারাবাহিকতায় দেখতে চাই তাহলে লক্ষ্য করবো লিসার্দি দিয়ে গোটা লাতিন আমেরিকার উপন্যাসের যে শুরু, তার পরে ধীরে ধীরে এসে যুক্ত হচ্ছেন বিস্ময়কর সব ঔপন্যাসিক, যেমন হুয়ান রুলফো, আগুস্তিন ইয়ানঞেস, হুয়ান গার্সিয়া পন্সে, হোসে এমিলিও পাচেকো, ফের্নান্দো দেল পাসো কিংবা কার্লোস ফুয়েন্তেস। কিন্তু এদের সবার আগে উচ্চারণ করতে হবে মারিয়ানো আসুয়েলার নাম, যিনি কেবল মেহিকোরই নয়, গোটা লাতিন আমেরিকার প্রেক্ষাপটেই প্রথম সত্যিকারের এক উল্লম্ফন ঘটিয়েছিলেন কথাসাহিত্যের ক্ষেত্রে। (সম্পূর্ণ…)

অরুণাভ রাহারায়ের তিনটি কবিতা

অরুণাভ রাহারায় | ২৯ জানুয়ারি ২০১৭ ৯:০৮ পূর্বাহ্ন

বয়স

আমার বয়স থাকে দূরে
গাছেদের ডালপালা ঝোলে…

Afsan
কথা

কথাদের দূরে যেতে বলি
তারা যত উড়ে যায়
দূরে যায় পাহাড়ের পাখি।
পথ তবে বেঁকে গেছে, বেঁকেচুরে ভেঙে গেছে, কবে?

এখন কথার পিঠে, ইচ্ছে করে, দুটো-একটা কথা লিখে রাখি। (সম্পূর্ণ…)

কবিতার নুন ও গুণ

শান্তনু কায়সার | ২৮ জানুয়ারি ২০১৭ ৬:৫৩ অপরাহ্ন

kamal chowdhuryজগতে নুনের মূল্য শোধ দিতে বহু দেনা বাকি
কবিতাংশ ৫ : রোদ বৃষ্টি অন্ত্যমিল

১৯৫৭-র ২৮ জানুয়ারি কামাল চৌধুরীর জন্ম। আর তাঁর কবিতাসমগ্র প্রকাশিত হয়েছে ২০০৯-এর ফেব্রুয়ারিতে। অর্ধশতকের যে জীবন তিনি যাপন করেছেন তার একটি কাব্যিক প্রকাশ তাঁর এই সংকলনগ্রন্থ। এতে সংকলিত হয়েছে মোট আটটি কাব্যগ্রন্থের প্রায় সব অথবা নির্বাচিত কবিতা। প্রসঙ্গ-কথা’য় কবি বলেছেন, ‘সংগ্রহের বিশালত্বের প্রশ্রয় পেয়ে আমার অনেক অপছন্দের কবিতাও ঢুকে গেছে এ সংকলনে।’ কবিতাসমগ্র’য় অন্তর্ভুক্ত কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে মিছিলের সমান বয়সী, টানাপোড়েনের দিন, এই পথ এই কোলাহল, এসেছি নিজের ভোরে, এই মেঘ বিদ্যুত ভরা, ধূলি ও সাগর দৃশ্য, রোদ বৃষ্টি অন্ত্যমিল এবং হে মাটি পৃথিবীপুত্র। কবির জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ১৯৭৬ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত লেখা কবিতাগুলো এই সংগ্রহে অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ তিরিশ বছরের কাব্যচর্চার সাক্ষ্য এই সংকলন।
কিন্তু আমরা যারা তাকে কাব্যক্ষেত্রে আবির্ভূত হতে দেখেছি তাদের কাছে এখনো তিনি মিছিলের সমান বয়সীরই কবি। এ বছরই অর্থাৎ ১৯৮১-র ফেব্রুয়ারিতে দ্রাবিড় প্রকাশ করেছিল বেশ কিছু কবিতাগ্রন্থ। মুহম্মদ নুরুল হুদার আমরা তামাটে জাতি, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম, কামাল চৌধুরীর মিছিলের সমান বয়সী এবং আমার রাখালের আত্মচরিত। তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতায় বলেছেন ‘একটি বয়স থাকে, ভালোবাসার জন্য ভেতরে ভেতরে মানুষ বিপ্লবী হয়ে ওঠে’ রুদ্র সেই বয়সে প্রয়াত হয়ে মানুষকে ভালোবাসার বয়সে থেকে গেছেন।
রুদ্রর দ্রোহ এতোটাই জীবন্ত ছিল যে তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এর অভ্যন্তরীণ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধেও তাঁর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। কামাল তাঁর এই সংকলনের দুটি কাব্যগন্থের দুটি কবিতায় রুদ্রকে স্মরণ করেছেন– (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com