সময়ের আয়নায় ১৭-কে আমি ৭১ দেখি

তারিক সুজাত | ২০ এপ্রিল ২০১৭ ১০:০৯ অপরাহ্ন

রাষ্ট্র যখন প্রতিদ্বন্দ্বী
কী আর করা!
তজবীর দানার বদলে যারা
আমার পূর্বপুরুষের খুলি দিয়ে
জপমালা গেঁথেছিলো
তাদের দাড়ি আর আলখাল্লায়
আকাশ কালো করে
এ বৈশাখে ফের ঝড় ওঠে!
রুগ্ন সংবিধানটিকে
যেদিন ধর্মের পোষাক পড়ানো হলো
সেই মুহূর্তেই নগ্ন হলো
মাতৃ-প্রতিভু শহীদ মিনার,
৫২-’র উৎসভূমি থেকে
প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে ফিরে আসে
প্রতিবাদী বর্ণমালা! (সম্পূর্ণ…)

রিমঝিম আহমেদের কবিতা

রিমঝিম আহমেদ | ১৮ এপ্রিল ২০১৭ ৮:৩৫ অপরাহ্ন

মাগরিব

কিছু রজঃস্বলা দিন আলুনী দইয়ের সাথে লীন হয়ে থাকে দাদীর ন্যুব্জ দেহ, দাওয়ায় যত্নে রাখা প্রার্থনার জল, দখিণের কবরখানা থেকে ভেসে আসে অপ্রাকৃত ফুলের ঘ্রাণ, এসব প্রাচীনতম মৃত ফসিলের সারি, গতজীবনের ফিসফাস চুইয়ে হাওয়ায় ভেসে আসে ‘মাগরিব’।
পাখিদের কোলাহল থেমে গেলে, পাতায় সন্ধে মেখে থির দাঁড়িয়ে থাকে সমবেত গাছ- যার প্রতিচ্ছবি ভাসে পুকুরের আলো-আঁধারি জলে, সমস্ত নিথরতা থামিয়ে দিয়ে দরুদের কোরাসস্বরে ঘন হয় রাত, ঘন হয়ে আসে কি নিগূঢ়তম হাহাকার! বাদুরের ডানায় কার লেগে থাকে বিচ্ছেদকাতরতা! পাখিচেনা দিনে মা-ও শিখিয়েছিল পেঁচার সবুজ অন্ধতা– ভাঙা আয়নায় প্রতিবিম্ব লেপ্টে থাকে পেঁচাদের ভেংচি নিয়ে আমাদের শিশুত্ব!

হায় মাগরিব!
ঘনায়মান ব্যথাতুর রাত!

আত্মাধীন জেগে আছে পুড়িয়ে দেয়া ইচ্ছের ইতিবৃত্ত–আঙুলের কড়ে গুনে টেনে আনি নিঃসঙ্গতা, বেঁধে রাখা বইয়ের মলাট খুলে জাগিয়ে তুলি দীর্ঘশ্বাস, মসজিদ হতে যে সুর ভেসে আসে, তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেগে রয় প্রিয়হারা চর। দাদীও জানে, সেসব মাগরিব জড়ো করলে একটা সাহারা পাওয়া যেত!
এখনো বাছুরের পিঠে চড়ে দূর হতে সন্ধে আসে, আবারো বোধের শার্সি গলে ঢুকে পড়ে ‘মাগরিব’

ইস্রাফিলের শিঙা এই বুঝি বেজে ওঠে
এই বুঝি পৃথিবীটা পাখি হয়ে যায়-

কালবেলা

কালবেলা কেটে গেলে আকাশটা ঝাড়ু দিয়ে ফেলে দেব মেঘ
পাতাদের গায়ে গায়ে বেঁধে দেব উদাসী বাতাস ফুরফুরে
কালবেলা কেটে গেলে আবার নতুন করে জীবন গোছাব
কলাপাতা সুখে মোড়া শীতকাল মেখে দেব রোদ্দুরের গায়ে
ভুলেভরা,অভিমানে যে কটা রাত্তির কেটে গেল; অযাচিত
কমলা বিকেলে তার সবটুকু ফুলগন্ধ আনব কুড়িয়ে
আমাদের পাছে পাছে ছায়া ঘোরে; দূর-প্রান্তরের হাতছানি
মন্থর শৈশব যেন কাছে ডাকে পুনরায় বিছিয়ে বিষাদ
সাপের পেছনে হেঁটে বহুকাল যে নদীর নাম খরস্রোতা
তার পাড়ে রুয়ে আসি নিজ হাতে অসুখের চারা, সবুজাভ
মেঘের পালক খসে বৃষ্টি নেমে এলে কোনদিন মধ্যরাতে
জেনেছি থাকবে জেগে ভুল করে ডাকে যদি প্রতীক্ষার রঙিন চড়ুই
লুপ্তপ্রায় প্রণয়ের হাত থেকে যে আঙুল খসে গেসে রাতে
তুমিও কুড়াও জানি সে আঙুল অপ্রকাশ্যে, আমারই তফাতে (সম্পূর্ণ…)

মারিয়া বাররেরা আগারওয়াল: আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে বাঙালিদের কাছ থেকে

সামিন সাবাবা | ১৬ এপ্রিল ২০১৭ ১:৩৯ অপরাহ্ন

17887233_1475700202475455_1890454691_oইস্পানোআমেরিকার তরুণ প্রজন্মের লেখকদের মধ্যে অগ্রগন্য মারিয়া এলেনা বাররেরা-আগারওয়ালের জন্ম একুয়াদরে। পড়াশুনা করেছেন একুয়াদর, ফ্রান্স এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। পেশায় আইনজীবী হলেও তার মূল আগ্রহ সাহিত্য। লাতিন আমেরিকার হাতেগোনা যে দুই একজন লেখক-প্রাবন্ধিক দক্ষিণ এশীয় সাহিত্য নিয়ে স্প্যানিশ ভাষায় লেখালেখি করেন মারিয়া এলেনা তাদের মধ্যে অন্যতম। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, গালিব, মহাদেবী বর্মা, ভৈকম মুহাম্মদ বশীর এবং কুররাতুলাইন হায়দারের রচনাকর্ম নিয়ে বহু প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেছেন। এদের মধ্য থেকে বেশ কিছু প্রবন্ধ পরবর্তীকালে তার গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০১৪ সালে তার অনুবাদে প্রথমবারের মতো স্প্যানিশ ভাষায় প্রকাশিত হয় নজরুলের কবিতা ও প্রবন্ধের তর্জমা। নিউ ইর্য়কে বসবাসকারী মারিয়ার প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হচ্ছে:

La Flama y el Eco (Ediciones Sarasvati, 2009), Jornadas y Talentos (UESS, 2010), Merton y Ecuador, la busqueda del pais secreto (PUCE, 2010). Nazrul: Prosa y poemas selectos ( Nazrul Institute, 2014),Leon Americano (Sureditores, 2013) ইত্যাদি।
২০১০ সালে তিনি একুয়াদরের জাতীয় পুস্কার Aurelio Espinosa Polit-এ ভূষিত হন সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য। মারিয়ার এ সাক্ষাৎকারটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর কার্যালয়ে ইংরেজিতে গ্রহণ করেছিলেন সামিন সাবাবা ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখে। সাক্ষাৎকারটি বাংলায় তর্জমা করেছেন রেশমী নন্দী(সম্পূর্ণ…)

Maria Helena Barrera-Agarwal: Nazrul was universal

সামিন সাবাবা | ১৬ এপ্রিল ২০১৭ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন

17887233_1475700202475455_1890454691_o

Kazi Nazrul Islam wrote in Bangla but he wrote for the world, says Maria Barrera-Agarwal, who was the first to translate the great poet into Spanish. It is this universality about Nazrul’s poetry that attracted her to the great poet. bdnews24.com’s Samin Sababa caught up with her during her first visit to Dhaka in 2015.

Sababa: So I’m just going to start and ask you about where you come from and how you identify yourself in the literary world.

Maria: Thank you so much. It really is a special occasion to be here. I am from Ecuador in South America and my family has had a very special relationship with literature. My maternal grandfather was a poet. My parents were also interested in literature. I was brought up with an intense love for literature, mostly from the Spanish speaking world. Later, I married a gentleman from India. Through him and because of a number of life issues, I got interested in knowing more about sub-continental literature and particularly Bengali literature.

Sababa: So, it’s a huge sector, a huge platform, South Asia’s literature, and it’s very diverse. Was it difficult for you to penetrate the language barrier and differences? Was it difficult for you to understand?

Maria: It was very, very complicated in the beginning. Simply because, as you already said, it is so diverse. I found that we, from the Spanish-speaking world, knew almost nothing. So, no matter where I directed my interest, it was all new. I could do far more with that new material. It is not like European literature, about which everybody has spoken already. Exactly … it was so fresh for me. The most surprising thing for me was that I got a chance to avoid the pitfalls of the European gaze, while trying to reach a new realm such as the sub-continent’s literature. I believe this is a sort of ‘sieve effect’. The problem is that we always expect great writers or philosophers to come with a mark of approval from Europe or from the United States. It is necessary to avoid that effect, and I’ve been trying to avoid it.

(সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতা: মঙ্গলপ্রভাতে যাত্রা

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৪ এপ্রিল ২০১৭ ১:০২ অপরাহ্ন

Mangal-Shobhajatra-111শুরু হলো মঙ্গলপ্রভাতে যাত্রা; এই যাত্রা আলোকের দিকে;
শুরু হলো আলোকপ্রভাতে যাত্রা; এই যাত্রা মঙ্গলের দিকে;
দিকে দিকে মঙ্গল-আলোক যাত্রা; এই যাত্রা মঙ্গল মিছিল;
মানুষ, তোমার নিখিল আজ উদয়াস্ত মঙ্গল নিখিল।

আমানির গন্ধ মেখে এ মিছিলে বাংলার তামাটে কিষাণ,
ইলিশপান্তার থালা হাতে নিয়ে শ্যামাঙ্গিনী বাঙালি কিষাণী,
হালখাতা বুকে বেঁধে হন্তদন্ত কারবারী শ্রীমান ধীমান;
পুণ্যাহ আঙিনা জুড়ে মানুষপাখিও যেন তপোবন-ধ্যানী;
আজ ভোরে মানুষ শস্যের রাজা, মানুষীরা ফসলের রাণী।

রাজপথ জনপদ এ বাংলার মাঠঘাট হাটবাট বিল
মানুষে এসেছে আজ নাঙা পায়ে, এ মিছিল নহলি মিছিল;
এসেছে মুখোশ মুখে, গদা হাতে অগণন অসুরবিনাশী
তরুণ-তরুণী-বৃদ্ধা কামার কুমোর আর জেলে-জোলা-চাষী;
মানুষের মুখ আজ গণমুখ, সব মুখ বলে ‘ভালবাসি’ :
মানুষের ভাষা আজ ভালবাসা, সব মুখ বলে ‘ভালবাসি’। (সম্পূর্ণ…)

বৈচিত্রময় বর্ষবরণ

হিরণ্ময় হিমাংশু | ১৪ এপ্রিল ২০১৭ ১২:৫৭ অপরাহ্ন

noboborsh0-1কৃষিভিত্তিক সভ্যতায় বর্ষবরণ হলো প্রাচীনতম উৎসব। প্রায় অর্ধশত বছর আগে ছায়ানটের হাত ধরে রমনার বটমূলে ১৪ এপ্রিল জাতীয়ভাবে বাংলা বর্ষবরণ উৎসব উৎযাপন শুরু হয়। চলতি কথা, সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন। কিন্তু মুঘল আমলেরও পূর্বে প্রাচীন বাংলায় শত শত বছর ধরে মূল জনগোষ্ঠির পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষও বর্ষবরণ করে আসছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে। সরকারি হিসাব মতে ২৯টি আর বিভিন্ন বেসরকারি মতে প্রায় ৪৫ – ৫০টির মত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বাস বাংলাদেশে। জাতীয়ভাবে বাংলা সনের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ পালন করা হলেও বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠী পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে এক সাথে ৩ – ৭ দিন ধরে উৎসব উৎযাপন করে। ভারতের আসামে নববর্ষের উৎসব চলে ৮দিন। বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী লোকজ ধারায় বর্ষ বরণের মধ্যদিয়ে ফুটে উঠে বৈচিত্রময় সাংস্কৃতিক রুচি বোধ। আর ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশেই শুধুমাত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের বর্ষ বরণ বা চৈত্র সংক্রান্তি এলাকা ভেদে ভিন্ন ভিন্ন নাম ও বৈচিত্র্যময় লোকজ ধারার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। উত্তরাঞ্চলে চৈত্র সংক্রান্তিকে বলে বিষুয়া, খুলনা অঞ্চলে সারনী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিউ বা বিহু, বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে সংগ্রাইন বা মাস পইলা পূজা। (সম্পূর্ণ…)

আমার শৈশবে কোন রঙ নেই

সাদিকুর রহমান পরাগ | ১৪ এপ্রিল ২০১৭ ১২:৩২ অপরাহ্ন

বাবা,
তুমিতো আমার জন্মদাতা বাবা
বলতে পারো নিজের শিশুকে
যে হত্যা করে তাকে কি
বাবা বলা যায় না বলা উচিত-
আমি জানি না।
তোমার তথাকথিত ‘সহি’ মোড়কে
মুড়ে দিয়েছিলে তুমি আমার শৈশব
স্কুলে যেতে মানা, বই পড়তে মানা
টিভি দেখতে মানা, গান শুনতে মানা
জোরে হাসতে মানা, খেলতে মানা
নিষেধের বেড়াজালে জিম্মি শৈশব
জানালা দিয়ে চেয়ে দেখে
দূরের মাঠে শিশুদের হৈ হল্লা
বদ্ধ ঘরের ছাদে স্বপ্নহীন
আমার মেঘকালো আকাশ
আমার কোন আল্লাদ নেই
আমার কোন আবদার নেই
আমার শৈশবে কোন রঙ নেই (সম্পূর্ণ…)

শান্তনু কায়সার : তাঁর স্মৃতি ও সৃষ্টি

পিয়াস মজিদ | ১৩ এপ্রিল ২০১৭ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন

photoশান্তনু কায়সারকে (১৯৫০-২০১৭) দেখেছি আমার বেড়ে ওঠার শহর কুমিল্লায়। লেখক নাম ‘শান্তনু কায়সারে’র আড়ালে তাঁর প্রকৃত নাম ‘আবদুর রাজ্জাক’; এ তথ্য জেনেছি যখন তখন ভাবতাম তিনি বুঝি কন্যাকুমারী উপন্যাসের লেখক আবদুর রাজ্জাক। পরে আমার ভুল ভাঙে; জেনেছি তিনি মূলত প্রাবন্ধিক-গবেষক। তবে তাঁর প্রথম দিকের গ্রন্থতালিকায় পাওয়া যাবে কবিতাগ্রন্থ রাখালের আত্মচরিত (১৯৮২) এবং গল্পগ্রন্থ শ্রীনাথ পণ্ডিতের প্রাণপাখি (১৯৮৭)। তাঁর কবিতাগ্রন্থটির প্রচ্ছদ করেছিলেন অকালপ্রয়াত কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। পরে যখন প্রাবন্ধিক-গবেষক হিসেবে শান্তনু কায়সারের চূড়ান্ত সিদ্ধি তখনও কিন্তু তিনি কি এক অন্তর্তাগিদে লিখে গেছেন কবিতাগ্রন্থ শুভ সুবর্ণ জয়ন্তী (২০০২), গল্পগ্রন্থ ফুল হাসে পাখি ডাকে (২০০১), অর্ধশতাব্দী, উপন্যাস- ঐ নূতনের কেতন উড়ে, উপন্যাসিকা সংকলন ত্রয়ী। শকুন শিরোনামে একটি ধারাবাহিক উপন্যাসও কুমিল্লার কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল যা গ্রন্থরূপ পায়নি।
কুমিল্লা শহরে প্রায়শই মন্টুর দোকান নামে পত্রিকাবিপণিতে তাঁকে দেখা যেত একগাদা পত্রিকা কিনে সহ প্রাতঃভ্রমণকারীদের সাথে রাজনীতি থেকে সাহিত্য, সাহিত্য থেকে সংসার ইত্যাদি নানা বিষয়ে আড্ডা দিতে দিতে সময় পার করতে। জীবন চলার বাঁকে বাঁকে দেখা হওয়া, কথা হওয়া প্রতিটি মানুষই তাঁর কাছে ভীষণ মূল্যবান ছিলেন। তাই আমরা দেখি পত্রিকার দোকানদার মন্টু মারা গেলে যেমন তিনি তাঁকে স্মরণ করে লিখেছেন তেমনি তাঁর সুদীর্ঘদিনের সুহৃদ সমীর মজুমদারের পিতা ভুবনেশ্বর মজুমদারের প্রয়াণেও শোকার্ত কলম ধরেছেন। যে মানুষটি লিখেছেন দুই খন্ডে বঙ্কিমচন্দ্র (১৯৮২ ও ৮৪), মীর মশাররফ হোসেনকে নিয়ে গবেষণাগ্রন্থ তৃতীয় মীর (১৯৯৪) এবং অদ্বৈত মল্লবর্মনকে নিয়ে দুই বাংলায় পথিকৃৎপ্রতিম বেশ কয়েকটি গ্রন্থ, তাঁকে আমরা কুমিল্লা শহরে হেঁটো পথিকের মতো মাঠে-ঘাটে সক্রিয় দেখেছি। (সম্পূর্ণ…)

শারমিন শামসের গল্প: ক্যারাভান

শারমিন শামস্ | ১২ এপ্রিল ২০১৭ ১২:৪৩ অপরাহ্ন


– একটা উঁচু পাহাড়ঘেরা শান্ত ছিমছাম শহর, সেইখানে এসে দাঁড়াবে আমার ক্যারাভান
– ক্যারাভান থাকবে?
– উমম নাও থাকতে পারে। আচ্ছা ধরে নিলাম থাকবে নাহ
– হুম
-একটা রাকস্যাক নিয়ে আমি এসে থামবো ওই শহরে। তারপরে সেখানেই থাকবো যতদিন মন চায়
– তারপর
– তারপর আর কি? তারপর নতুন শহর নতুন গ্রাম নতুন কোন দেশ ডাক দেবে। আমি চলে যাব
– হুম
– আই নিড মানি। আই নিড এ ওয়ে অফ আর্নিং এন্ড ট্রাভেলিং অ্যাট দ্য সেইম টাইম
– হাও?
– আই ডোন্নো
– হুম
কথাবার্তা এই পর্যন্ত এগোয়। তারপর থেমে যায়। পরের সাত আটদিন কোনভাবেই মিঠু নামের মেয়েটার কাছে পৌঁছুতে পারেন না তৌফিক। না ফোনে না চ্যাটবক্স। তারপর হুট করে একদিন তার অফিসে এসে হাজির মিঠু। তৌফিক তখন কেবল বোর্ড মিটিং শেষ করে নিজের ঘরে এসে লাঞ্চের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পিএ লাবনী জানায়, মিঠু নামের একটা মেয়ে দেখা করতে চায়। আধাঘণ্টা হলো এসে বসে আছে।
মিঠুর আসা অবাক হবার মত কিছু না। মিঠু কখন কী করবে তা এই মেয়ে নিজেও বলতে পারবে না। তবু তৌফিক কিছুটা অবাক হন।
Caravan
– অফিস চিনলে কীভাবে?
– এইটা কোন ব্যাপার হলো! তোমার এত্ত বিখ্যাত অফিস।
– হুম তাই!
মিঠু মিষ্টি করে হাসে। (সম্পূর্ণ…)

রবার্ট হেডেন-এর কবিতা: ও ডেডালাস, ওড়ো এবার ওড়ো

খালিকুজ্জামান ইলিয়াস | ১০ এপ্রিল ২০১৭ ৭:৫৩ অপরাহ্ন

Robert-Hydenরবার্ট হেডেন ( ১৯১৩-১৯৮০) হার্লেম রেনেসাঁর (১৯২৪-২৮) পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি। আফ্রিকান- আমেরিকান কবিদের মধ্যে তিনিই প্রথম লাইব্রেরী অব কংগ্রেসের কবিতা বিষয়ক পরামর্শ দাতা পদে–যা এখন যুক্তরাষ্ট্রের পোয়েটলরিয়েট নামে পরিচিত–তো সেই পদে আসীন ছিলেন। যুক্তিসঙ্গত কারণেই তিনি কবি হিসেবে নিজের বর্ণপরিচয়ে পরিচিত হতে চাননি; তবু তাঁর কবিতায় ঘন ঘন আমেরিকান বর্ণবাদী সমাজের চিত্র ফুটে উঠেছে। বর্তমান কবিতায় হেডেন একজন ক্রীতদাসের মনের সাধ ও সাধ্যাতীত অনুভূতির কথাই লিখেছেন গ্রীস দেশের আইকারাস ও ডেডালাসের মিথ অবলম্বন করে। এই মিথ অবলম্বন করে বহু কবি চিত্রশিল্পীই তাঁদের শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছেন। ইংরেজ কবি অডেন, নেদারল্যান্ডের চিত্রকর পিটার ব্রুগেল, আমেরিকার কবি উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস, বাংলার কবি শামসুর রাহমান প্রমূখ তাঁদের নিজস্ব বক্তব্য প্রকাশের জন্য গ্রীক গল্পের এই শ্রেষ্ঠ কারিগর ডেডালাস ও তার তরুণ পুত্র আইকারাসের বন্দি জীবন থেকে উড়ে পালানোর কথা সবিস্তারে বয়ান করেছেন। আফ্রিকা থেকে ডাকাতি করে মানুষ ধরে এনে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে তাদের দাস হিসেবে ব্যবহারের যে অবিচার এবং দাসের কল্পনাপ্রবণ মনে আফ্রিকায় উড়ে চলে যাওয়ার যে অসম্ভব বাসনা–রবার্ট হেডেন তাঁরই প্রকাশ ঘটিয়েছেন অনূদিত এই কবিতায়।–অনুবাদক (সম্পূর্ণ…)

ইয়েভগেনি ইয়েভতুসেনকো : বর্ণাঢ্য জীবন ও কীর্তি

কামরুল হাসান | ৮ এপ্রিল ২০১৭ ৮:৪৭ অপরাহ্ন

Evgenyষাটের দশকে রাশিয়া মাতানো কবি ইয়েভগেনি ইয়েভতুসেনকো জন্মগ্রহণ করেছিলেন রাশিয়ার সাইরেরিয়ার ছোট্ট শহর জিমা জংশনে, ১৯৩২ সালে। স্ট্যালিন বিরোধিতার জন্য তাঁর অংকের শিক্ষক বাবাকে গোটা পরিবারসহ সাইবেরিয়ায় নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল। আশ্চর্য নয় যে, ইয়েভতুসেনকোর বেড়ে ওঠায় সে ঘটনার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছিলো। তাঁর রক্তধারায় এসে মিশেছিল অনেকগুলো জাতিসত্ত্বার মিলিত ধারা। তাই বুঝি ইয়েভতুসেনকো এত প্রতিভাবান, এত দুর্জ্ঞেয়। শৈশবেই বাবার সাথে বেড়িয়ে এসেছেন রাশিয়ার সংলগ্ন কয়েকটি দেশ। কিন্তু সাত বছর বয়সে মায়ের সাথে বাবার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে পিতার সাহচর্য থেকে বঞ্চিত হন তিনি। অতঃপর মা এবং মাতৃকুলের পরিজনদের কাছেই বড় হন। বাবার পারিবারিক নাম গ্যাংগনাস ছেড়ে মায়ের উপাধি ইয়েভতুসেনকো জুড়ে দেন নিজ নামের সাথে। অনেক বছর পরে যখন ইয়েভতুসেনকোর কবিতায় উদ্বেল গোটা রাশিয়া, তখন মায়ের উপাধি থেকে নেয়া নামের শেষাংশটুকু নামের প্রথমাংশের সাথে মিলে এক সাঙ্গীতিক দ্যোতনা হয়েই বিশ্ববাসীর কানে পৌঁছায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে বসবাসের জন্য তিনি সাইবেরিয়া থেকে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে চলে আসেন। অত্যন্ত সমৃদ্ধ রাশিয়ান সাহিত্যের রাজধানীও সেটাই। মস্কোতে তিনি সাহিত্য রচনার সঠিক পরিবেশটি খুঁজে পান, পরিচিত হন সমসাময়িক এবং অগ্রজ অনেক কবির সাথে। ১৯৫১ থেকে ১৯৫৪ এই চার বছর মস্কোর গোর্কি সাহিত্য ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছিলেন সাহিত্য পড়ার জন্য, কিন্তু অনেক প্রতিভাবান লেখকের মতোই, শেষ করেননি সে পড়াশোনা। কবিতা তখন তাকে পেয়ে বসেছে। উন্মাদের মতো প্রেমে পড়ছেন আর কবিতা লিখে চলেছেন। (সম্পূর্ণ…)

চিনুয়া আচেবে আত্মশুদ্ধির আলোকিত পৈঠায়

রুখসানা কাজল | ৭ এপ্রিল ২০১৭ ১২:১৫ অপরাহ্ন

achebeনাইজেরিয়ার ইগবো সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি উপকথা বেশ প্রচলিত ছিলএরকম ভাবে, মানুষ একবার ভেবেছিল যে তারা ঈশ্বরের কাছে অমরত্ম চাইবে। কিন্তু তাদের হয়ে কে যাবে ঈশ্বরের কাছে এই অমরত্ম চাইবার ইচ্ছার কথা নিয়ে? তখন তারা একটি কুকুরকে শিখিয়ে পড়িয়ে ঈশ্বরের কাছে রওয়ানা করিয়ে দিল। কুকুরের মত বন্ধু তো আর কেউ নয় মানুষের! একটি কুচুটে ব্যাঙ মানুষের এই গোপন ইচ্ছার কথা কি করে যেন জেনে যায়। কুকুরের আগেই সে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছে যায়। গদগদ চিত্তে সে ঈশ্বরের কাছে জানায়, প্রভু মানুষ তাকে বিশেষ বার্তা দিয়ে আপনার কাছে নিবেদন পাঠিয়েছে। ঈশ্বর সদাশয়, মহাদয়ালু। জানতে চান, কি বার্তা বলে ফেল! তখন ব্যাঙ কূটনামি করে মিথ্যে বলে যে, বার্তাটি হচ্ছে, মৃত্যুর পরে মানুষ আর এই পৃথিবীতে ফিরে আসতে চায় না। ঈশ্বর বললেন তথাস্তু, মানুষের ইচ্ছাই পূর্ণ হবে ।

এইরকম সময়ে কুকুর সেখানে পৌঁছে যায় এবং যথাযথ নম্রতায় মানুষের অমরত্মের ইচ্ছাকথা ঈশ্বরের কাছে নিবেদন করে। ঈশ্বর তথাগত কি করবেন তখন? তিনি ত কিছুতেই একটু আগে ব্যাঙকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ফিরিয়ে নিতে পারেন না। আবার কুকুরের নিবেদনের সত্যতাকে অস্বীকার করে ফেলেও দিতে পারেন না। তাই তিনি রহস্য রেখে কুকুরের নিবেদনকে গ্রহন করে জানালেন, তথাস্তু। মানুষ পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারবে বটে তবে কিনা মনুষ্য রূপে নয়, অন্যান্য বিভিন্ন রূপ ধারণ করেই মানুষ এই পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকবে। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com