বাইশে শ্রাবণে রবীন্দ্রনাথকে নিবেদিত কবিতা

প্রদীপ কর | ৬ আগস্ট ২০১৭ ১২:০৬ অপরাহ্ন

RabindranathTagore_Lettersঘুমন্ত পাখি ভরাবর্ষার গাছে
ভোরবেলা স্নানে জাগ্রত হয়ে আছে
 
সপসপে মন কেউ নেই তার কাছে
 
ঝমঝমধারা অনুযোগহীন মাঠে
নিশীথ শরীর ভিজিয়ে যৌনপাঠে
 
ভোরে সে দাঁড়ায় গৃহস্থ চৌকাঠে
 
কীর্তন গায় বৃষ্টি কিশোরী কানে
খঞ্জনী ভেজে ভানুসিংহের গানে
 
গহনকুসুমকুঞ্জের মাঝখানে (সম্পূর্ণ…)

পার্থ চট্টোপাধ্যায়: কেউ হিজাব পরলে বা বোরখা পরলে বলবে এটাতো ধর্ম–এখানেই মুশকিলটা হচ্ছে

সাব্বির আজম | ৫ আগস্ট ২০১৭ ৪:০৫ পূর্বাহ্ন

Partha-Chatterjeeপার্থ চট্টোপাধ্যায় এ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসবিদদের মধ্যে অন্যতম। দৈনন্দিন রাজনীতিকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও তত্ত্বায়নে তাঁর জুড়ি নাই। ‘আধুনিকতা’, ‘গণতন্ত্র’, ‘সেকুলারিজম’, ‘জাতীয়তাবাদ’, ‘সিভিল সোসাইটি’ ইত্যাদি ধারণাগুলো এখন পোস্টকলোনিয়াল রাষ্ট্রগুলোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। এগুলো নিয়ে বাহাসের কমতি নাই। অনেকেই মনে করেন এই ধারণাগুলো দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোতে ঠিকভাবে প্রোথিত হতে পারে নাই। খামতি থেকে গেছে। এখানকার গণতন্ত্র, সেকুলারিজম, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি বিকৃত বা অপূর্ণ। বিশেষ করে বাংলাদেশে যেকোনো আলোচনায় এই ধারণাগুলাকে খুব কমই মোকাবেলা করা হয়। এগুলোকে স্বতঃসিদ্ধ ক্যাটেগরি আকারে ধরে নেয়া হয়। কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায় একে একদম ভিন্ন তাত্ত্বিক ফ্রেমওয়ার্ক থেকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেন। তাঁর মূল কথা হল, এইসব ধারণাগুলো পশ্চিমা সমাজ ও ইতিহাসের ক্রমবিকাশ থেকে আমদানি করা হলেও, এখানকার স্থানীয় বাস্তবতার সাথে মিলেমিশে এগুলো নিজস্ব আকার লাভ করেছে। একে ঘাটতি আকারে দেখা বা পশ্চিমা ছাঁচে দেখা যথেষ্ট নয়। বরং উপরোক্ত ধারণাগুলো সর্বজনীনতা দাবি করলেও, তাতে সবসময়ই স্থানিকতার কাদা-মাটি লেগে থাকে। লিনিয়েজেস অব পলিটিকাল সোসাইটি (২০১১) বইয়ে দেখিয়েছেন, কেন আধুনিক বা পশ্চিমা রাজনৈতিক তত্ত্ব দিয়ে পোস্টকলোনিয়াল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোকে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। আজ [৫ই অগাস্ট] পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ৭০তম জন্মদিন। জন্মদিনে তাঁকে জানাই শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।

গত বছর হলি আর্টিজানের ঘটনার সময় রাতে আমরা সবাই সহি-সালামতে আছি কি না জানতে চেয়ে পার্থ-দা ইমেইল করেন। তখন তাঁকে জানাই কয়েকদিন বাদে কলকাতা যাচ্ছি, উনি কলকাতায় থাকবেন কি না। ১১ জুলাই সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস-এ তার সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। আলাপচারিতার সময় আমার দুই বন্ধু আবদুল্লাহ আল মেহেদী ও ব্যারিস্টার আহমেদ ইশতিয়াক রুপম আমার সাথে ছিল।- সাব্বির আজম (সম্পূর্ণ…)

জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য: ৭৪-এ বঙ্গবন্ধুর আর্শীবাদপুষ্ট কবি মহাদেব সাহা

ইজাজ আহমেদ মিলন | ৫ আগস্ট ২০১৭ ১:৩৯ পূর্বাহ্ন

Mahadev- ‘ আমি একটি বন্ধু খুঁজছিলাম যে আমার পিতৃশোক ভাগ করে নেবে, নেবে আমার ফুসফুস থেকে দূষিত বাতাস…/ আমি এই ঢাকা শহরের সর্বত্র, প্রেসক্লাবে, রেস্তোরাঁয়, ঘোড়দৌড়ের মাঠে এমন একজন বন্ধু খুঁজে বেড়াই যাকে আমি মৃত্যুর প্রাক্কালে উইল করে যাবো এইসব অবৈধ সম্পত্তি…/’ আধুনিক বাংলা কাব্য সাহিত্যের অন্যতম কবি মহাদেব সাহা এভাবেই তাঁর কবিতায় একজন খাঁটি বন্ধু খুঁজে বেড়িয়েছেন। জীবনের এই সায়াহ্ণে এসেও কবি পাননি তাঁর আজন্ম বাসনার সেই প্রত্যাশিত বন্ধুর খোঁজ। যে বন্ধু কবির বাবা হারানো শোক ভাগ করে নেবে। ফুসফুস থেকে বের করে নেবে জমে থাকা দূষিত বাতাস। এ প্রসঙ্গে কবিই বলেছেন ‘ মানুষ কখনো মানুষের এতো বন্ধু হয় না। ঈশ্বরই মানুষের একমাত্র আশ্রয়, একমাত্র বন্ধু। তার কাছেই সব কিছু পাওয়া যায়। তিনিই কেবল সুখ দুঃখের সমান অংশীদার। আমার দুঃখে ঈশ্বর যতো ব্যথিত হন- ততো ব্যথিত আমি নিজেও হই না। কিন্তু সবই আমার কৃতকর্মের ফল। ঈশ্বর আমার জন্য কাঁদেন। এমন কোন বন্ধু হয় না যে আমার জন্য কাঁদবে। মানুষ নিজের জন্যই কাঁদে।’ (সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতা: জলবাংলা

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ৩ আগস্ট ২০১৭ ৯:৩৬ অপরাহ্ন

Sezanআকাশ সুনীল ঋষি, অনন্তের কানে কানে মন্ত্র পড়ে যায়;
ঋষির ধ্যানের সুরে ব্রহ্মাণ্ডের বুক জুড়ে বৃষ্টি ঝরে যায়।
ভোরের‌ আলোর সঙ্গে বৃষ্টি আজ সঙ্গোপনে করেছে মিতালি;
মেতেছে মেঘলা ধ্যানে, সূর্য আজ রুমুঝুমু মেঘের আড়ালী।
ধ্যানী সব বাড়িঘর, সরোবর; নদীতীরে খাড়া তরুবর;
বহতা ধ্যানের মন্ত্রে নিত্য সিক্ত, বৃষ্টি শুধু ধুধু ঝরোঝর।
নদীরা প্রমত্ত বেগে ধেয়ে চলে পাল তুলে মোহনার ধ্যানে,
তপস্বিনী তরঙ্গিনী দিকে দিকে সাঁতরায় বাঁকের সন্ধানে।
কালিদাস তন্দ্রাচ্ছন্ন, চণ্ডীদাস কাথা-মুড়ি ঘুমায় বেঘোরে,
শান্তিনিকেতন জুড়ে রবীন্দ্রনাথের চোখে জল-বুলেটেরা ওড়ে।
বজ্র ও বৃষ্টির সন্ধি, গগনে গর্জন-বন্দি, শুধু প্রমুক্ত অতন্ত্র শান্তি,
তিস্তার বিরান বুকে অকস্মাৎ ছলাৎ-ছলাৎ পুষ্ট জলের অমল কান্তি;
পদ্মা আর মহানন্দা মেঘে মেঘে মৈত্রী পাল তুলেছে সমান্তরাল;
সামাল সামাল মাঝি, শক্ত হাতে সামলাও ধর্মবর্ণ সওয়ারীর হাল;
থইথই জলবাংলা, বেনোজলে বুড়ো-আংলা, পড়ো – পাঠ করো,
আজ শুধু বৃষ্টিভাষা, সর্ববঙ্গ জলে ভাসা, পড়ো – জলমন্ত্র পড়ো;
আজ শুধু বৃষ্টিবঙ্গ, আজ শুধু সৃষ্টিবঙ্গ, হে সর্ববঙ্গের কবি পড়ো,
ক্ষমতার পাঠ শেষে মমতার পাঠ নাও, মা-গঙ্গার পাড়খানি ধরো; (সম্পূর্ণ…)

মার্কেস-অনুবাদক আনিসুজ্জামান: মৌলিক আসলে কিছুই নাই, সবই অনুবাদ

অলাত এহ্সান | ২ আগস্ট ২০১৭ ৭:২৯ অপরাহ্ন

anis.gif
বহুভাষি অনুবাদক আনিসুজ্জামানের উজ্জ্বলতম কাজ নোবেল জয়ী কলাম্বিয়ান সাহিত্যিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের জগৎখ্যাত Cien años de soledad নামক উপন্যাসটি স্প্যানিশ থেকে প্রথমবারের মতো বাংলায় অনুবাদ। ২০১৭ সালে ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে উপন্যাসটি বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমে দুই বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। বইটি প্রকাশের বছরই উদযাপিত হচ্ছে স্প্যানিশে মূল বইটি প্রকাশের ৫০ বছর পূর্তি। বইটির গুরুত্ব, অনুবাদের বিশেষত্ব ও সংকটসহ সাহিত্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি কথা বলেছেন এই সাক্ষাৎকারে। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন তরুণ গল্পকার অলাত এহ্সান। –বি.স

অলাত এহ্সান : প্রতিটি লেখার ভেতরই লেখকের জীবনের একটা ছাপ-ছায়া থাকে; অনুবাদের ক্ষেত্রে কি অনুবাদকের জীবনের সেই প্রভাব থাকে?
আনিসুজ্জামান : বাদকের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা খুব একটা নেই। অনুবাদের মাধ্যমে পাঠককে মূল বইয়ের স্বাদের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়াই অনুবাদকের মূল লক্ষ্য। সেখানে অনুবাদকের ব্যক্তিত্বের ছাপ বা ব্যক্তিগত অভিরুচির অনুপ্রবেশ অনুচিত বলে মনে করি আমি।
অলাত এহ্সান : গল্পের সন্ধান পাওয়ার মতো গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের Cien años de soledad’, (আপনার অনুবাদে ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’) উপন্যাসটাও কি আপনার কাছে অনুসন্ধান পাওয়ার মতো কিছু? মানে, একজন লেখক যেমন গল্পের অনুসন্ধান বা প্লট খুঁজে পান, অনুবাদের ক্ষেত্রে আপনিও কি তেমন কিছু অনুভব করেছেন?
আনিসুজ্জামান : আমি একবার বাংলাদেশে আসি, সম্ভবত ২০১০ সালে বা আরো পরে। সে সময় হাবীব (অনুবাদক ও অধ্যাপক জিএইচ হাবিব) ভাইয়ের বইটা প্রথম প্রকাশিত হয়েছে।
অলাত এহ্সান : সম্ভবত ২০১১ সালে।
আনিসুজ্জামান : ২০১১ সালে বইটা আমি কিনি প্লেনে পড়ার জন্য। অনেকগুলো বই কিনেছিলাম তখন। ওর মধ্যে হাবীবের বইটাও ছিল। প্লেনে বসে তার অনুবাদটির দু তিনটা পরিচ্ছেদ আমি পড়েছিলাম। পড়ার পর হঠাৎ করে মনে হলো বইটা যদি আমি এখনই পড়ে ফেলি তাহলে মূল ভাষা থেকে পড়ার ইচ্ছাটা চলে যাবে। ওটা আমি ওখানেই স্টপ করে দেই। যাই হোক, উনি আসলে আমাকে এই বইটার সাথে পরিচয় করে দিয়েছেন–এজন্য আমি তার কাছে কুতজ্ঞ। মজার ব্যাপার হলো বইটা আমি মূল ভাষা থেকে অনুবাদের আগেও সম্পূর্ণটা পড়িনি। আমি পড়তে পড়তে অনুবাদ করেছি। তারও কারণ আছে। আমার ভয় হচ্ছিল আগেই পুরোটা পড়ে ফেললে আমি অনুবাদ করার প্যাশন হারিয়ে ফেলবো। আমার মতে, আমি যদি একবার-দুইবার বইটা পড়তাম, তারপর যদি অনুবাদ করতাম তাহলে হতো কি, খুব সম্ভবত আমি অজান্তেই আমার নিজস্ব বিশ্বাস ও সংস্কারগুলো ঢুকিয়ে দিতাম। আমি তা করিনি। আমি পড়তে পড়তে অনুবাদ করেছি। একেকটা অংশ অনুবাদ করেছি, তারপর দ্বিতীয় বার সেই অংশটা আবার পড়েছি, অনুবাদ ঠিক হয়েছে কিনা দেখার জন্য–এভাবেই করেছি। (সম্পূর্ণ…)

অতঃপর, তিনি এলেন ছুটির নিমন্ত্রণে

অলভী সরকার | ৩১ জুলাই ২০১৭ ১২:৩১ অপরাহ্ন

Shilpaguru Safiuddin ahmedবেশ ভোরে আমার ঘুম ভেঙে গেল।

ঘর থেকে বেরিয়ে, লম্বা করিডোর ধরে এগোই, একেবারে শেষ মাথায় গ্রিল দেয়া বারান্দা। এখান থেকে তাকালে হলের মূল দরজা দেখা যায়। গার্ড মামা গেইট খোলেন নি এখনো। অত তাড়াও নেই, দরজা খোলার। গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। অনেকেই বাড়ি গিয়েছে। আমরা অল্প কজন থেকে গিয়েছি হলে। ছুটি শেষ হলেই মাস্টার্স পরীক্ষা।

সারারাত বৃষ্টি হয়েছে। কেমন শীতের মতো ঠাণ্ডা। গাছের নরম পাতাগুলো ঝকঝক করছে। কামিনী, মধুমঞ্জরী, হাসনাহেনা- চারপাশে বিচিত্র সুঘ্রাণ। দক্ষিণদিকের এই বারান্দায় দাঁড়িয়ে বামে তাকালে পাশাপাশি দুটি নিমগাছ। পাঁচ বছর আগে, যখন হলে প্রথম সিট পাই, তখনও বর্ষাকাল। হল-সুপারকে বলে দুটো দেশি নিমের চারা বুনেছিলাম। ওঁরা অবশ্য বেশ খুশিই হয়েছিলেন। বসতির পুব দিকে নিম গাছ থাকা খুব ভাল এমন কথাও জানলাম সেদিন।
বিশ্বাস-অবিশ্বাস বা অভিজ্ঞতানির্ভর জ্ঞান- এত কিছু ভেবে অবশ্য কিছু করিনি আমি। নেহাত, ইচ্ছে হয়েছিল তাই। এখন গাছ দুটো তিনতলার চেয়েও উঁচু। আমার হাতে লাগানো গাছ, আমার চেয়ে বড় হয়ে গেল!
এমন হয় অবশ্য।
গাছেরও হয়; এমনকী মানুষেরও…

এইসব কল্পনাবিলাসের সময় এখন নেই। (সম্পূর্ণ…)

যেভাবে নিজের অপরাধবোধকে গল্পে রূপান্তরিত করেছেন রুডইয়ার্ড কিপলিং

সোহরাব সুমন | ২৯ জুলাই ২০১৭ ৮:২১ অপরাহ্ন

Rudyard-Kiplingঠিক কোন জিনিসটি ফিকশন লেখকদের ফিকশনের কাছে টেনে আনে? প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা, সাংবাদিকতা– গদ্যের এমন অনেক কাঠামোয় রয়েছে অকাট্য সব সুযোগের হাতছানি। তবে, আগে থেকে প্রস্তুত রক্তমাংসের কিছু চরিত্র নিয়ে বড় ধরনের বাজি ধরবার শিহরণ এসবের মাঝে নেই। বাস্তবে এমন সুনির্দিষ্ট কিছু ঘটনা সত্যিই ঘটেছে কী-না তা জানবার শিহরণ। কী-করে এই অবাস্তব বাছ-বিচারহীন আবিষ্কারের অব্যবহারিক দক্ষতাটিকে বুঝে ওঠা যেতে পারে? কেমন করে পাওয়া যাবে মিথের অজানা জলরাশির সন্ধানে নিশ্চিত বাস্তব জীবন থেকে প্রস্থান করবার প্রেরণাটুকুকে?
সম্প্রতি কথাসাহিত্যের এমন সব জটিল বিষয় নিয়ে দ্য আটলান্টিক ডেইলি’র প্রতিবেদক জো ফাসলা কথা বলেন ঔপন্যাসিক স্কট স্পেন্সার-এর সঙ্গে। এই কথোপকথনে স্পেন্সার সাহিত্য আবেদনের কাঁচামাল তৈরী সম্পর্কে তার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। এসময় তিনি রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর মনোমুগ্ধকর ছোট গল্প “দ্য গার্ডেনার”কে পথনির্দেশ হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি দেখাতে চেয়েছেন, ফিকশন কী-করে জীবনের দ্বান্দ্বিক ও অপমানজনক, একই সঙ্গে জটিল সব ঘটনা প্রবাহ আঁকড়ে থাকতে আমাদেরকে সহয়তা করে আসছে। লেখক কীভাবে তার চরিত্রসমূহ কল্পনা করেন। কীভাবে তিনি একের পর এক দৃশ্যাবলীর বুনট বাছাই করেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য চরম দক্ষতায় অবতারের মতো নিজের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার থেকে উপাদান মেলে ধরেন– এমন আরো অনেক বিষয় নিয়েও তিনি আলোচনা করেছেন। (সম্পূর্ণ…)

হুমায়ুন আজাদ-এর কবিতা

ওমর শামস | ২৭ জুলাই ২০১৭ ১১:৪০ অপরাহ্ন

humayun_azadহুমায়ূন আজাদ-এর কবিতা লেখার শুরু ষাটের দশকের শেষের দিক থেকে। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ, অলৌকিক ইস্টিমার -এর প্রকাশ ১৯৭৩ সনে। প্রথম বইতেই তাঁর পাকা হাতের স্বাক্ষর এবং এই রচনাগুলোতেই তাঁর কবিতার ভাবনার প্রধান স্রোত এবং টেকনিক, যা পরে আরও কিছু বিস্তৃত হয়েছিলো, তার সবই আছে। সেই জন্য এই গ্রন্থের কবিতাগুলোকে মনোযোগ দিয়ে পড়া দরকার। প্রথম কবিতা, ‘স্নানের জন্য’-এ তাঁর উক্তি : “আমি কি ক’রে ভাসাই নৌকো জলে নামি স্নান করি …… পেছনে স্বভাব কবির কন্ঠনিঃসৃত পদ্যের মতোন ধুঁয়ো ওঠে কারখানার চিমনি চিরে …বড্ডো ময়লা জমে গেছে এ-শরীরে স্নান তাই অতি আবশ্যক… “। স্নান প্রতীকী । প্রচলিত কবিতার প্রতি তাঁর কটুক্তি এবং তিনি যে কিছু করতে চান সে উদ্যাোগ বর্তমান।
১. অলৌকিক ইস্টিমার-এ আজাদ এই সব বিষয়ে, আবহে, টেকনিকে কবিতা লিখেছেন :
• স্ত্রী, পুত্র, কন্যাদের জীবনের মধ্যে দিয়ে সামাজিক সমস্যা, অনিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ সংকট। / [ ‘জল দাও বাতাস –জননী,আমার সন্তান’, ‘আমার কন্যার জন্য প্রার্থনা’ ]
স্ত্রী, পুত্র, কন্যাদের জীবনের মধ্যে দিয়ে সামাজিক সমস্যা, অনিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ সংকট – এ ক্ষেত্রটি খুব সাহসের, অন্তত বলার দিক থেকে। আজাদ ছাড়া অন্য সমসাময়িক কেউ এ-ধরণের কবিতা লেখেন নি। ‘জল দাও, বাতাস’-এর তিনটি কবিতা – ‘জননী’, ‘আমার সন্তান’, ‘আমার কন্যার জন্য প্রার্থনা’ – এই আশংকা, সামাজিক অধঃপতনের আভাষ। ‘জননী’ পাকা অক্ষরবৃত্তে সনেট, বাকি দুটো গদ্য-কবিতা। দ্বিতীয় কবিতার শুরু, “আমার সন্তান যাবে অধঃপাতে, চন্দ্রলোকে নীল বন তাকে মোহিত করবে না। কেবল হোঁচট খাবে রাস্তায় সিঁড়িতে ড্রয়িং রুমে সমভূমি মনে হবে বন্ধুর পাহাড় …”। আরও অধঃপতনের বিস্তারের পরে সব শেষে জিজ্ঞাসা, “ তুমি কি আসবে ওগো স্নিগ্ধ দিব্য প্রসন্ন সন্তান পতনকে লক্ষ্য ক’রে …”। (সম্পূর্ণ…)

সালমা বাণীর প্রতিক্রিয়া: তিনি লিঙ্গ দোষে দুষ্ট এবং সনাতনী মানসিকতার রক্ষণশীল লেখক

সালমা বাণী | ২৬ জুলাই ২০১৭ ৫:৩৫ পূর্বাহ্ন

Hasan-4দেবেশদার সাথে কথা বলে আজ আমি নিশ্চিত হয়েছি, তিনি কখনো হাসান আজিজুল হককে ‘ইমিগ্রেশন’ উপন্যাস নিয়ে আলোচনার অনুরোধ করেননি। দেবেশদা হোয়াটস এ্যাপ-এর মাধ্যমে আমাকে এসএসএম করে লিখেছেন- ‘আমি ওনাকে তোমাকে নিয়ে কখনো লিখতে বলিনি। তুমি আমার স্নেহভাজন কী না এমন ব্যক্তিগত কথা বলার মতো সম্পর্ক ওনার সঙ্গে আমার কখনোই নয়। অত্যন্ত আপত্তিকর।’
এবং হাসান ভাই আপনি আমার কোন উপন্যাস নিয়ে আজ পর্যন্ত কোথাও কোন আলোচনা লেখেননি। অন্তত আমার দৃষ্টি গোচর হয়নি। একজন অগ্রজ সাহিত্যিকের নিকট থেকে এই ধরনের ভুল মনগড়া মন্তব্য মূলত দুঃখজনক।
“তুমি মেয়ে, তোমার হাতে সেক্স অঙ্গের এমন খোলা বর্ণনা তুমি যে করছো, তুমি কি মনে কর, এতে তোমার সাহিত্যের কোন উন্নতি হচ্ছে?”
ওপরের এই উদ্ধৃতিটি আমার শ্রদ্ধেয় কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক-এর।
আমি সালমা বাণী একজন মেয়ে মানুষ, সেক্সের বর্ণনা এমন করে কেন দেবো? সাহিত্যে যদি সেক্সের বর্ণনা দিতে হয় সেটা দেবে পুরুষ লেখকেরা। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ওটা তাদের জন্য নির্ধারিত, ওটাতে পুরুষ সাহিত্যিকদের অবাধ স্বাধীনতা ও অধিকার। দর্শন শাস্ত্রের অধ্যাপক, বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পের রাজকুমার বলে খ্যাত আমাদের শ্রদ্ধার ও প্রিয় হাসান আজিজুল হক তিনি সাহিত্যের ক্ষেত্রে এভাবে লিঙ্গ বিভাজন করেন? সাহিত্য রচয়িতা নারী না পুরুষ এই লিঙ্গ ভেদটা মনে হয় হাসান আজিজুল হকের নিকট একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার বক্তব্যে নারী সাহিত্যিক হলেও সে মেয়েমানুষ! সমাজের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নারীর যেমন কোনো অধিকার নেই তেমনি সাহিত্যের ক্ষেত্রেও একই রকম বৈষম্যমূলক মনোভাব প্রকাশ করলেন গল্পকার হাসান আজিজুল হক। চরিত্রের প্রয়োজনে সেক্সের খোলা বর্ণনা দিতে হলে সে যে কোনো সাহিত্যিক নারী অথবা পুরুষ অথবা তৃতীয় লিঙ্গের হউন এটা তাঁরা সবাই সমমর্যাদায় সমঅধিকারের ভিত্তিতে করতে পারেন। এই ধরণের মুক্ত চিন্তা চেতনার মানুষ বলে আজ আর হাসান আজিজুল হককে মনে হলো না। যদিও আমরা অনুজরা হাসান ভাইকে প্রগতিশীল চিন্তা চেতনার, বাম রাজনীতিতে বিশ্বাসী লিঙ্গ ও শ্রেণীবৈষম্য-বিরোধী বলে অনুমান করতাম। হাসান ভাই নিজেই তার রক্ষণশীল বক্তব্যে প্রমাণ কর দিলেন তিনি আদতে তা নন, মানসিকভাবে রক্ষণশীল। যদিও ‘সাবিত্রী উপাখ্যান’-এ ধর্ষণের বর্ণনা এসেছে অযাচিতভাবে। (সম্পূর্ণ…)

আমাদের বেবী আপা

আনিসুর রহমান | ২৫ জুলাই ২০১৭ ৮:৩৮ পূর্বাহ্ন

baby.gifবদরুদ্দোজা মোঃ ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম ভাইর সঙ্গে রিক্সায় করে সেগুনবাগিচায় একটি ছোট ছিমছাম দালানের দোতলা বাসায় আমরা গিয়ে হাজির। বেবী আপা বাসায় নেই। বাসায় আছেন বুয়া, বেবী আপার ছোট ছেলে পুটু, সম্ভবত বুয়ার ছেলে আনোয়ারও ছিল। পুটু মানে কি বেবী আপার পরিচিত সকলেই তার মামা। আমাদের দেখেই পুটুর উৎফুল্ল কথার ঝুড়ি- মামা আসেন, বসেন। আম্মুতো বাসায় নাই। কিন্তু এসে যাবেন শীঘ্রই। খানিকক্ষণ পর বেবী আপা আসলেন। বাসায় ঢুকার আগেই পুটুর মাধ্যমে খবর পেয়ে গেলেন- আমরা এসেছি। বেবী আপা বাসায় ঢুকলেন পরিচয় পর্বের পরে বললেন চা টা কিছু খাও। আজ তো রাত হয়ে গেছে। তুমি বরং ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে এসো। ওখানে বঙ্গবন্ধু যাদুঘরে আমার খোঁজ করো; দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাশ শেষ করে এসো। ক্লাশ মিস করো না।
পরের দিন যথারীতি আমি যাদুঘরে গিয়ে হাজির। পাশের বাড়ির একতলা একটা ভবনে বেবী আপার সঙ্গে আমিও গেলাম। ভবনের একটা কক্ষে একটা টেবিল আর গোটা কয়েক চেয়ার। তিনি আমার খোঁজ খবর জানলেন। তারপর বললেন-
বন্ধ হয়ে যাওয়া সাপ্তাহিক বিচিত্রা আমরা নতুন ব্যবস্থাপনায় বের করব। তার প্রস্তুতি হিসেবে আসন্ন জাতীয় শোক দিবসে ১৫ আগস্টে ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি’ নামে একটা স্মরণিকা প্রকাশ করব। আমার সঙ্গে তেমন কেউ নাই; কম্পিউটার কম্পোজের জন্যে আছে চম্পক। পুরো কাজটা আমি আর তুমি মিলে করব। আসলাম সানীও আমাদের সঙ্গে থাকতে পারে। তোমার কাজ হবে জুতো সেলাই থেকে চন্ডিপাঠ। শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং বিচিত্রা দুটোরই সম্পাদক থাকবেন শেখ রেহানা। আমি বিনয়ের সঙ্গে বললাম, আপা শ্রদ্ধাঞ্জলির কাজের সঙ্গে আমি থাকব। কিন্তু বিচিত্রার কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া আমার জন্যে কঠিন হবে। সে দেখা যাবেনি। ও নিয়ে ভেবো না। (সম্পূর্ণ…)

ফারুক মঈনউদ্দিনের গল্প: শারীরবৃত্তীয়

ফারুক মঈনউদ্দীন | ২৪ জুলাই ২০১৭ ৭:২২ পূর্বাহ্ন

Shakil-story
গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের মতো লম্বা টানা ভাড়া ঘরগুলোর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কালো ময়লা জলের নালাটা লাফ দিয়ে পার হওয়ার মুহূর্তে চারপাশের ছাড়া ছাড়া টিম টিম করে জ্বলতে থাকা হলদেটে আলোর বাতিগুলো নিভে যায়। আলকাতরার মতো কালো কাদায় পড়তে পড়তে নিজেকে সামলে নেয় রাজিয়া। কিছুক্ষণ আগে মাগরেবের আজান পড়ে গেছে, এ সময়টাতে চারপাশের সবকিছু কেমন যেন অদ্ভুত নিস্তব্ধ হয়ে যায়। কেবল আশপাশের ঝোপঝাড় থেকে পতঙ্গের ডাক করাতের মতো শব্দ করে আধো অন্ধকারের ভেতর গেঁথে যেতে থাকে। দিনের আলো নিভে যাওয়ার পর পচা পানির নালা এবং ময়লার ডাঁই থেকে নিশাচর দুর্গন্ধ চোরের মতো চুপি চুপি বাতাসের সঙ্গে মিশে ছড়িয়ে ময়লা ভেজা কাপড়ের মতো ভারি হয়ে ঝুলে থাকে যেন। বিভিন্ন ফ্যাক্টরি থেকে উগড়ে দেওয়া মেয়েদের ক্লান্ত অবসন্ন মিছিল থেকে কিছু কিছু অংশ খসে পড়তে পড়তে এ দিকটায় পৌছে মিছিলটা মরা নদীর মতো মিলিয়ে যায়। রাজিয়াদের সঙ্গে একই বস্তিতে থাকা কয়েকটা মেয়ে স্যান্ডেল ঘষটাতে ঘষটাতে ওকে ছাড়িয়ে চলে গেলে চলার গতি বাড়িয়ে দেয় ও। একটা কুনো ব্যাঙ এ সময় ওর পায়ের পাতায় পেচ্ছাব করে দিয়ে লাফিয়ে সরে যায়। এসব উপেক্ষা করে দ্রুত ঘরে ফেরার তাগিদ অনুভব করলেও পা দুটো আর চলতে চায় না যেন। (সম্পূর্ণ…)

সর হুয়ানা ইনেস দে লা ক্রুস-এর একগুচ্ছ কবিতা

জয়া চৌধুরী | ২২ জুলাই ২০১৭ ৯:২৬ পূর্বাহ্ন

sorjuana
সরা হুয়ানা ইনেস দে লা ক্রুস কিংবা শুধুই সর হুয়ানা রামিরেস হিসেবে খ্যাত এই কবি মেক্সিকোয় জন্ম নিয়েছিলেন আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে। স্পেনের সাহিত্যের ‘স্বর্ণ যুগ’-এর অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসাবে তাঁকে গণ্য করা হয়। কেননা সেরভান্তেস ও শেক্সপিয়রের উত্তরসূরি এই মহিলা কবি যখন মেক্সিকোয় জন্মান তখন সেটি স্পেন এর অধীনে ছিল। সন্নাসিনী এই কবি সাহসী সময়ের চেয়ে তাঁর অনেক এগিয়ে থাকা মতাদর্শের জন্য জীবদ্দশাতেই বহু নিন্দার সম্মুখীন হন। নারীবাদী সাহিত্য বলে যে ধারাটি প্রচলিত তাঁর প্রবক্তা তিনিই। আজও তাঁর কবিতা সমান প্রাসঙ্গিক। এইভাবেই তিনি দেশ কাল-এর গন্ডী ছাড়িয়ে কালজয়ী হয়ে আছেন। কবিতাগুলো স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছে অনুবাদক জয়া চৌধুরী। বি. স.

অদৃষ্টকে গাল পাড়া

আমার পশ্চাৎ ধাবনে, পৃথিবী, তোমার আগ্রহ কীসের?
তোমার কোনখানে আঘাত দিয়েছি আমি? যখন আমি স্রেফ
আমার বোধগম্যতায় সৌন্দর্য লেপন করতে চাইছি
আমার সৌন্দর্যকে বোধগম্যতায় নয়? (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com