সাহিত্য মানুষকে পোকা হওয়া থেকে রক্ষা করতে চায়

রাজু আলাউদ্দিন | ১১ মার্চ ২০১৭ ১:০৪ পূর্বাহ্ন

‘জীবন, সমাজ ও সাহিত্য’–এই শিরোনামে আহমদ শরীফের একটি প্রবন্ধ পাঠ্য ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। প্রবন্ধটি ছাত্ররা বাধ্য হয়ে একসময় হয়তো পাস করার তাগিদে পড়তেন, কিন্তু এর সাথে জীবন ও সমাজের সম্পর্ক তাতে কতটা উপলব্ধি করতে পারতো তারা সে ব্যাপারে নিশ্চিত নই। শিরোনামের এই ভিন্ন অর্থের পরস্পর-বিচ্ছিন্ন তিনটি শব্দের মধ্যে কোন বাস্তব সম্পর্ক আছে কিনা, এ নিয়ে লেখক শিল্পী ছাড়া–অন্যদের ঘোরতর না হোক, অন্তত কিছুটা সন্দেহতো আছেই। আছে যে তার একটা উদাহরণ আমরা এখনকার সাধারণ ‘জীবন’ ও ‘সমাজ’ থেকে দেয়ার চেষ্টা করতে পারি।

সারা পৃথিবীতেই শিল্প ও সাহিত্যের কদর এতটাই কমে গেছে যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানবিক শাখায়, বিশেষ করে সাহিত্য বিভাগের তুলনায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ব্যবসা বাণিজ্য শাখায় ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চেহারা এই অর্থে আরও করুণ। আমাদের এখানে সবচেয়ে ‘খারাপ’(!) ছাত্রছাত্রীরা সাহিত্য বিভাগে ভর্তি হতে বাধ্য হন আজকের জীবনে সাফল্যদায়ী অন্য বিভাগে ভর্তি হতে না পেরে। বাবা-মায়েরা এমন সব বিষয়ে সন্তানদেরকে পড়তে এবং ভর্তি হতে উৎসাহ দেন যা তাদেরকে দ্রুত আর্থিক সাফল্য ও নিশ্চয়তা দেবে। সাহিত্য যে জীবনে এবং সমাজে প্রয়োজন সে সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা তো নেই-ই, এমনকি থাকলেও, যেহেতু সাহিত্যে পাস করে কোন মোটা অংকের চাকরী পাওয়া যাবে না, অতএব এই বিষয়ে তাদের আস্থাও নেই। সুতরাং সাহিত্য সম্পর্কে প্রায় লোক-দেখানো একটা শ্রদ্ধা থাকলেও জীবনে এর প্রবেশকে মোটামুটি রুদ্ধ করে রেখেছেন এই ভয়ে যে সাহিত্য জীবনকে কোন কিছু দিতে তো পারেই না, বরং জীবনকে নিঃস্ব করে দেয়। এ রকম বিশ্বাসের বহু মানুষ মিলে যে-সমাজটি আমাদের দেশে বিরাজ করছে তার চেহারা এবং মর্মটা আমরা আন্দাজ করে নিতে পারি সহজেই। যেহেতু সমাজ একটা বিমূর্ত জিনিস তাই অনুমান করা ছাড়া আর উপায় কি। তবে এই অনুমান বিমূর্ত হলেও অবাস্তব নয়।
খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, মহামান্য মুজতবা আলীর পর্যবেক্ষণ ও ভাষ্যে জানা যাচ্ছে, “First World War-এর আগ কোন ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারকে ইউরোপের কোন ভদ্রলোকের ড্রইং রুমে ঢুকতে দেওয়া হতো না। বুঝলে, আমার নাতি-নাতনীদের মধ্যে যারা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে তাদেরকে আমার রুমে সাধারণতঃ ঢুকতে দেই না। কারণ ওরা তো অর্ধশিক্ষিত। ওদের সাথে আলাপ করার মতো কিছু নেই। ৫০ বছর বয়স হওয়ার আগে কোন ডাক্তার নিজেকে ভদ্রলোক বলে দাবি করতে পারে না। কারণ ডাক্তারী পাস করার পর ২০/২৫ বছর আমাদের মতো Humanities-এ পড়া লোকজনদের সাথে মেলামেশা না করলে তাঁরা ভদ্রলোক হতে পারে না। অবশ্য ভদ্রলোক হওয়া খুবই কষ্টকর ব্যাপার।” (সৈয়দ মুজতবা আলী: প্রসঙ্গ অপ্রসঙ্গ, গোলাম মোস্তাকীম, স্টুডেন্ট ওয়েজ, তৃতীয় প্রকাশ: বৈশাখ ১৪১৫ বঙ্গাব্দ, পৃ ৪০-৪১)
ইউরোপ নিজেই বস্তুগত বৈভব ও উন্মাদ মুনাফার লোভে রাতারাতি ডিগবাজি খেয়ে এখন সে Humanities-এর তোয়াক্কা করে না। ভদ্র হওয়া মানে মানবিক শাখার শিল্প, সাহিত্য, দর্শন ও ইতিহাসে নিজের মনকে আলোকদীপ্ত করে তোলা। তার এখন অার আলো দরকার নেই, তাই সে ভদ্রতার আভিজাত্য ত্যাগ করে এখন সে রাশি রাশি টাকা চায়। এই আকাঙ্ক্ষা এখন তার সংস্কৃতির সর্বস্তরে প্রতিফলিত।

পশ্চিমের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থা ব্যাখ্যা করে সাহিত্য-সমালোচক ও দার্শনিক জর্জ স্টেইনারের একটা পর্যবেক্ষণ উদ্ধৃত করে ঔপন্যাসিক মারিও বার্গাস যোসা তার এক প্রবন্ধে লিখেছিলেন যে,The humanities now only attract mediocrities and the dregs of the university, while talented Young People flock to study the sciences. And the Proof of this is that the entrance requirements, for humanities departments in the best academic centers of England and United States have dropped to unseemly levels. (Mario Vargas Llosa, The language of passion, Picador. 2003, P-114). (সম্পূর্ণ…)

নাসির আলী মামুন: বঙ্গবন্ধুর পায়ের কাছে থেকে, তার কাছাকাছি গিয়ে ছবি তুলেছি

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ৯ মার্চ ২০১৭ ৪:৪১ অপরাহ্ন

Nasir-1একটি জাতি কত সমৃদ্ধ তা বোঝা যায় তার বড় মানুষদের সংখ্যাধিক্যে। নাসির আলী মামুন বাঙালি জাতির বড় বিজ্ঞাপন বড় বড় মানুষদের মুখাবয়ব ধরে রেখে আদতে এই জাতির একটি ফটোগ্রাফিক অবয়ব নির্মাণ করেছেন।
স্বাধীন বাংলাদেশের পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির পুরোধা বলা যায় নাসির আলী মামুনকে। তার শস্তা ক্যামেরার লেন্সেই রচিত হয়েছে পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির এক অনবদ্য কাব্যময়তা। নিরন্তর পোর্ট্রেট তোলার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা নাসির আলী মামুন ছুটে বেরিয়েছেন দেশ-দেশান্তরে। তার তোলা পোর্ট্রেটের সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি। শিল্পী, লেখক, রাজনীতিবিদ, বিশ্বের খ্যাতনামা ব্যক্তিরা হয়ে উঠেছেন তার শিল্পিত লেন্সের অন্তর্দর্পন। এছাড়া তার একটি বিশেষ শখ শিল্পীদের শিল্পকর্ম সংগ্রহ এবং খ্যাতনামা ব্যক্তিদের হাতে খাতা ও রঙ-তুলি দিয়ে ছবি আঁকিয়ে নেয়া। ব্যক্তিত্বের পোর্ট্রেট সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যক্তিত্বের গহিনে লুকিয়ে থাকা অন্য এক সত্তাকে তিনি আবিষ্কার করে আনেন। ব্যক্তির মননে লুকিয়ে থাকা শিল্পীর জাদুকরী নান্দনিক রেখায় ধরা দিয়েছে নাসির আলী মামুনের সমৃদ্ধ শিল্প সংগ্রহশালা। বাংলাদেশের শিল্পী শাহাবুদ্দীন, কাজী আবুল কাশেম, আমিনুল ইসলাম, কামরুল হাসান, যোগেন চৌধুরী, সুহাস চক্রবর্তী, দেবদাস চক্রবর্তী, মনিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইউনূস, পরিতোষ সেন, সন্তুর সম্রাট শিবকুমার শর্মা, ঠুমরীর রানী বিদুষী গিরিজা দেবী, কবি শামসুর রাহমান, নির্মলেন্দু গুণ, বরেণ্য শিক্ষাবিদ আবদুর রাজ্জাক, শিল্পী এসএম সুলতান, রণি আহম্মেদ,— কে নেই তার সংগ্রহশালায়?

নাসির আলীর মামুন একটি ব্যক্তিগত আর্কাইভ বা মিউজিয়াম গড়ার লক্ষ্য নিয়ে ‘ফটোজিয়াম’ নামের একটি জাদুঘর নির্মাণে কাজ করছেন কয়েক বছর ধরে। ক্যামেরায় ছবি তোলার পাশাপাশি তিনি পরম যত্নে সংগ্রহ করেছেন শিল্পী-সাহিত্যিক এবং সৃজনশীল ব্যক্তিত্বদের আঁকা বিভিন্ন মাধ্যমের দুর্লভ সব ছবি। ছবিমেলার নবম আসরে তিনি পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা। ছবিমেলা শুরুর আগে সংবাদটি জানার পরপরই তার তোলা ছবি দিয়ে সাজানো গ্যালারিতে নাসির আলী মামুনের মুখোমুখি হয়েছিলেন কবি শিমুল সালাহ্উদ্দিন।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন: অভিনন্দন মামুন ভাই! জাস্ট একটু আগেই শুনলাম যে আপনি ছবিমেলার নবম আসরের আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন, আপনার পাশাপাশি এ সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম নারী আলোকচিত্রী সাঈদা খানম। আপনার অনুভূতি জানতে চেয়ে শুরু করতে চাই আজকের এই সাক্ষাৎকারটি। কেমন লাগছে?
নাসির আলী মামুন: আমি তো মহাখুশি। এই কারণে যে এর আগেও কিন্তু আমি সম্মানীত হয়েছি এ রকম লাইফ টাইম এচিভমেন্ট এ্যাওয়ার্ড অনেকগুলো অর্গানাইজেশনের। কিন্তু ছবিমেলা একটা একটা আন্তর্জাতিক উৎসব। দুই বছর পর পর হয় ঢাকাতে। এবং এই উৎসবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আলোচিত শিল্পীরা অংশগ্রহণ করে। শুধু তাই না, বিভিন্ন বড় বড় মিউজিয়াম গ্যালারির কিউরেটর যারা, তারা কিন্তু আসে। কাজেই এটা আমি মনে করি যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এবং এই ফোরাম থেকে, ছবিমেলা থেকে যে আমাকে এইবার লাইফ টাইম এচিভমেন্ট এ্যাওয়ার্ড দেয়া হলো, আমি এটার জন্য সত্যিই সম্মানীত বোধ করছি। (সম্পূর্ণ…)

পুরুষ ছাড়া আমি একদম বাঁচি না

নূরিতা নূসরাত খন্দকার | ৮ মার্চ ২০১৭ ১:৪৯ অপরাহ্ন

সত্যি বলছি, পুরুষ ছাড়া
আমি একদম বাঁচি না।
পুরুষসঙ্গই আমাকে
নারীত্বের শিক্ষা দেয় এখনও।
যেদিন প্রথম অস্ফুটবোলে
বাবা বলে ডাকি,
আয় মা – বলে একজন পুরুষই
বুকে আগলে আমার কচিপনায়
এনে দিয়েছিলো সাবলম্বিতা
ভাইয়া ভাইয়া বলে যে দুটো কোলে
মুখগুজে পৃথিবীতে সহোদর-আনন্দ
খুঁজতাম, সেদুটোও ছিলো পুরুষকোল।
আর এসব চিনিয়ে দিয়েছিলেন,
আমার মা। তিনি কতকটা নারী,
অধিকাংশটাই মানুষ।
নারী-পুরুষ ভেদাভেদ নিয়ে
তাঁর মাথা ব্যথা ছিলো না কোনো। (সম্পূর্ণ…)

অবিশ্বাস্য অভিযান ও ঘটনায় পূর্ণ এক রোমাঞ্চকর আত্মজীবনী

সৈয়দ ফায়েজ আহমেদ | ৭ মার্চ ২০১৭ ১২:৪৯ অপরাহ্ন

Cover Muhammal Ttakiullah‘যে দেশে গুনীর কদর নাই সেই দেশে গুনী জন্মায় না’, কথাটি বলেছিলেন ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। কি কাকতালীয় ব্যাপার, উনার ষষ্ঠ সন্তান, চতুর্থ পুত্র, আবুল জামাল মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ, যিনি কমরেড মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ নামে অধিক পরিচিত তার স্মৃতিকথার একটি অনুলিখন পড়তে গিয়ে ঐ কথাগুলাই মনে হচ্ছিল।
উচ্চশিক্ষিত, লেখালেখি আর ছবি তোলার গুনসম্পন্ন, সুদর্শন, বলশালী, প্রথম বাঙালী হিসেবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমিশন্ড অফিসার হিসেবে নিয়োগ পাবার পরেও কেবল ভাষা আন্দোলনের টানে সেটি ছেড়ে আসা এই অসামান্য মানুষটির গল্প নিয়ে কোন ছায়াছবি করলে সেটিকে কাল্পনিক বলে মনে হতে পারে কারণ তার জীবনে রয়েছে অবিশ্বাস্য সব অভিযান ও ঘটনাবলী।
আজীবন মার্ক্সবাদী, পিতার মতোই ধর্মপরায়ন এবং সততার প্রতীক এই মানুষটির জীবন যদি কেবল তার নিজের আলেখ্য হতো তাও তাকে নিয়ে উপেক্ষা মানা যেত, কিন্তু তিনি এক দুর্দান্ত সময়ের প্রতীক। দেশভাগের আগে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থামানোর চেষ্টাকারী কিশোর, ভাষা আন্দোলনের সংগঠক, পাকিস্তানী স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ নাম, শ্রমিক-মেহনতী মানুষের কল্যানে লড়াই করা, দেশের জন্য জেলখাটা রাজবন্দী আর এসবের পরে একটু বেশী বয়সে এসে একজন গুরুত্বপূর্ণ গবেষক, যিনি বাংলার পঞ্জিকা বিনির্মাণ আর সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
এতো কিছুর পরেও তিনি আমাদের কাছে অচেনা! অথচ তাঁকে চেনা মানে একটি অবিশ্বাস্য জীবনের স্বাদ পাওয়া নয়, বরং আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল সময়কে চেনা, সেই সময়কে ধারন করা। (সম্পূর্ণ…)

অনুবাদ সাহিত্য: বৈচিত্র্য ও বৈভব, আদর্শ ও বিতর্ক

আবদুস সেলিম | ৫ মার্চ ২০১৭ ৪:০১ অপরাহ্ন

translation-1১.অনুবাদ সাহিত্য
জ্যাক দেরিদা, ওয়াল্টার বেনজামিন-এর একটি বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেছিলেন, অনুবাদ কোনো গ্রন্থ বা মুদ্রিত পাঠ্যবস্তুর টিকে থাকা নিশ্চিত করে। ইংরেজিতে বক্তব্যটি এমন, ‘Translation, . . . ensures the survival of a text.’। তিনি এও বলেছেন অনুবাদ আসলে সাহিত্যকর্মের অন্যজীবন দেয়–এক নতুন মৌলিক অস্তিত্ব সৃষ্টি করে অপরাপর ভাষায়। প্রসঙ্গত এও বলা হয়েছে–বলেছেন জোসেফিন পামার–অনুবাদ ছাড়া কি আমরা পড়তে পারতাম খৃস্টপূর্ব সাত দশকের গ্রিক মহিলা কবি স্যাফোর কবিতা বা পাঁচ দশকের গ্রিক নাট্যকার ইস্কিলাসের নাটক?
অনুবাদকর্মের আলোচনায় সনাতনভাবে দুটি বিতর্কিত বিষয় উত্থাপিত হয়–আনুগত্য ও স্বাধীনতা (fidelity and license)। অর্থাৎ বিশ্বাসযোগ্য ভাষান্তরের স্বাধীনতা এবং তা করতে গিয়ে মূলের প্রতি অনুগত থাকা। মানতেই হবে, অনুগত থাকার অর্থ উৎস ভাষার অর্থটিকেই বিশ্বস্তরূপে অনুকরণ করা নয় আক্ষরিকভাবে। কারণ শব্দ বা word কখনই কোনো সাহিত্যকর্মের অন্তর্নিহিত অর্থকে চিহ্নিত করে না কারণ যেকোনো শব্দের দুটি অবস্থান রয়েছে–বিশেষ করে সাহিত্যকর্মে–একটি আভিধানিক এবং অন্যটি দ্যোতনিক বা গূঢ়ার্থিক। বিরোধ বাধে ঐ দ্যোতনিক বা গূঢ়ার্থিক শব্দের ভাষান্তর কালে। যদিও নীগিতভাবে অনুপযোগী (politically inappropriate) তবুও বর্তমান প্রসঙ্গে উপযোগী, আমি এই উদ্ধৃতিটি বিনয়ের সাথে উত্থাপন করতে চাই: Translation is like a woman: if she is faithful, she is not beautiful; if she is beautiful, she is not faithful. গূঢ়ার্থটি হলো, অনুবাদক কখনই একাধারে মূলের প্রতি অনুগত থেকে নান্দনিক অনুবাদকর্ম করতে পারে না। নান্দনিক বা সুন্দর হতে হলে স্বাধীনতা অপরিহার্য। (সম্পূর্ণ…)

ডিমের খোলস ভেঙে

আনন্দময়ী মজুমদার | ৪ মার্চ ২০১৭ ১:৩১ অপরাহ্ন

imagesডিমের খোলস ভেঙে বারবার
বারবার বেরিয়ে এসে
যেন জাতকের প্রেমে নতুন মানুষ
হওয়া যায়
নতুন প্রাণ যেন কৃষ্ণঅভিসারে যাবে
এমন প্রণয়, সব মৃত্যু ভুলে
পথ সামনে বা পিছনে চলে যায়
নদীরা মরার আগে জন্মে নেয় শেষে
অতীত-অববাহিকায়
দেহের রিরংসা, হতাশা, ম্লানতায় রক্ত
সমুদ্রের লবণে কি তবু জলের মতো মেশে?
সমুদ্রে যে লোবানের ঘ্রাণ আছে
বেদনার অপার অন্তিম স্বাদ
আলোর ত্বক চিতার ফোঁটার মতো
ঢেকে আছে পৃথিবীর দাফনপোশাক
আমরা এখানেই বীতংসী মনে (সম্পূর্ণ…)

সৃষ্টিশীলতাই উপমহাদেশের অভিন্নতা

রিমি মুৎসুদ্দি | ৩ মার্চ ২০১৭ ১১:১৬ পূর্বাহ্ন

Rimi-2সার্ক সাহিত্য উৎসবে বাংলাদেশের জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার সাথে আলাপচারিতায় উঠে এল উপমহাদেশীয়তা, South Asianism, পোস্টমডার্নিজম, মেটামডার্নিজম আরও বহু অজানা তথ্য। কবির নিজস্ব ভাষায়, “যাবতীয় দানবিক, বিমানবিক ও আণবিক প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে প্রতিটি মানুষকে তার সৃষ্টিশীল মানবিকতা ও মনোময়তার দিকে ফিরিয়ে নেবার প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন। তারই একটি অভিব্যক্তি এই সার্ক সাহিত্য সম্মেলন। সৃষ্টিশীলতাই উপমহাদেশের অভিন্নতা।”

ভারত-পাক রাজনৈতিক টানাপড়েনে পাকিস্তান অংশগ্রহণ না করতে পারলেও এইবছর সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে সংখ্যাধিক্য লক্ষ করার মত। ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন তরুণ ও প্রবীণ প্রজন্মের ২৬ জন কবি-সাহিত্যিক। এই দলে যেমন আছেন ষাটের দশকের প্রথিতযশা কবি-সাহিত্যিকবৃন্দ, তেমনি আছেন ২০০০-এর প্রথম দিকের নবীন কবি ও লেখকেরা। বাংলাদেশের জননন্দিত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, জাতিসত্তার কবি নূরুল হুদা, বরেণ্য নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, কবি মাহবুব সাদিক, কবি বিমল গুহ, কবি ফারুক মাহমুদ, কবি রুবানা হক, তরুণ কবি আশরাফ জুয়েল, কবি জাব্বার আল নাইম সহ এবারে মোট ২৬ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন বাংলাদেশ থেকে। ভারতের বাইরে এটিই বৃহত্তম প্রতিনিধি দল। (সম্পূর্ণ…)

লুসি কালানিথি: বৈধব্য আমার যুগল জীবনের সমাপ্তি টানেনি

রেশমী নন্দী | ১ মার্চ ২০১৭ ২:১৮ অপরাহ্ন

paulপল কালানিথি, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির নিউরোসার্জিকাল বিভাগে। ২০১৩ সালের মে মাসে তাঁর ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে। বেঁচে ছিলেন আরো বছর দুয়েক। ২০১৫ সালে মার্চ মাসে মারা যাবার আগ পর্যন্ত একজন রোগী হিসেবে এই চিকিৎসক মৃত্যুর দিকে তাঁর যাত্রা অভিজ্ঞতার কথা লিখে গেছেন যা তাঁর মৃত্যুর পর “When Breath Becomes Air” নামে প্রকাশিত হয়। তাঁর স্ত্রী লুসি কালানিথি, যিনি নিজেও একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লিনিকাল একসিলেন্স রিসার্চ সেন্টারে কর্মরত, বইটির পরিশেষ অংশে লেখেন তাঁর প্রিয় হারানোর বেদনা আর মৃত পলের হাত ধরে জীবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা। লেখাটি অনুবাদ করেছেন রেশমী নন্দী।

গত মার্চে (মার্চ, ২০১৫) মাত্র ৩৭ বছর বয়সে আমার বর মারা যাওয়ার পর আমি শোকে এতটাই মূহ্যমান পড়েছিলাম যে দিনের পর দিন ঘুমাতে পারতাম না। সান্তাক্রুজ পাহাড়ের উঁচু মাঠে ওর যেখান সমাধি, একদিন বিকেলে সেখানে গেলাম। প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে ঘুরেও না তাকিয়ে শুয়ে পড়লাম ওর সমাধির উপর। অনেকদিন পর গভীর ঘুমে ঢলে পড়লাম। চারপাশের প্রকৃতি নয়, অশান্ত আমাকে শান্ত করেছিল পল যে ওখানেই ছিল, মাটির নীচে। ওর শরীরকে কত সহজে মনে করতে পারছি- রাতের বেলা ওকে ছুঁয়ে শুয়ে থাকা, আমার মেয়ের জন্মের সময় ওর যে নরম হাতগুলো জোরে চেপে ধরেছিলাম সেগুলো, ক্যান্সারে শুকিয়ে যাওয়ার পরও মুখের উপর ওর তীক্ষ্ন চোখ — তবুও কি কঠিন ওকে ছোঁয়া। তার বদলে মাটিতে গাল লাগিয়ে আমি ঘাসের উপর শুয়েছিলাম।
ওর সাথে পরিচয়ের পর থেকেই আমি ওকে ভালবাসতাম। ২০০৩ সালে আমরা তখন মেডিকেলের শিক্ষার্থী। ও ছিল এমন একজন যে সত্যিকার অর্থেই মানুষকে হাসাতে পারতো ( স্নাতক পড়াকালীন গরিলার পোষাক গায়ে দিয়ে ও লন্ডনে ঘুরে বেড়িয়েছিল, বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে ছবি তুলেছিল, টিউবে চড়েছিল)। কিন্তু একই সাথে ও ছিল গভীর প্রজ্ঞার অধিকারী। ওর পরিকল্পনা ছিল ইংরেজী সাহিত্যে স্নাতোকত্তর শেষ করে পিএইচডি করবে, কিন্তু তার বদলে ও মেডিকেল স্কুলে যোগ দিল গভীর এক আকাঙ্খা নিয়ে। পরে ও লিখেছিল- “ এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যা বইয়ে লেখা নেই … এমন প্রশ্নের পিছনে ধাওয়া করতে যার জবাবে মিলবে মৃত্যু ও নিঃশেষের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও মানুষের জীবনের অর্থময়তার উৎস।” (সম্পূর্ণ…)

ভাষার বিকৃতি: হীনম্মন্যতায় ভোগা এক মানসিক ব্যাধি?

রাজু আলাউদ্দিন | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:১২ পূর্বাহ্ন

The corruption of man is followed by the corruption of language–Ralph Waldo Emerson

বাংলা ভাষা নিয়ে আমাদের গর্বের কোন শেষ নেই, আবার নিজের ভাষাকে অপমানেও আমাদের কোনো জুড়ি নেই। যে ভাষার জন্য আমরা শহীদ হয়েছি সেই ভাষাই যথেচ্ছ ব্যবহারের দায়িত্বহীনতার মাধ্যমে তার ঘাতক হয়ে উঠেছি। পুরো বিষয়টি জাতীয়তাবাদের দ্বৈতরূপ সম্পর্কে হোর্হে লুইস বোর্হেসের উক্তিরই সমধর্মী হয়ে উঠেছে: “যিনি শহীদ হওয়ার জন্য প্রস্তুত তিনি জল্লাদও হতে পারেন এবং তোর্কেমাদা(স্পেনে ইনকুইজিশনের যুগে অত্যাচারী যাজক–লেখক) খ্রিষ্টের অন্য রূপ ছাড়া আর কিছু নন।” আর এই জল্লাদের ভূমিকায় এখন জনগন ও রাষ্ট্র একই কাতারে সামিল হয়েছে।

একটি সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত অভিব্যক্তিপূর্ণ ভাষা গড়ে উঠতে হাজার হাজার বছর লাগে। আর একটি ভাষার গড়ে ওঠার পেছনে থাকে শত সহস্র মানুষের অবদান যারা শব্দ ও শব্দার্থের জন্ম দিয়ে ভাষাকে সমৃদ্ধ করে। আর লেখকরা এসে এই শব্দ ও শব্দার্থের সীমা বাড়িয়ে দেন বা নতুন নতুন অর্থের ব্যঞ্জনায় দীপিত করে তোলেন ভাষাকে।

কিন্তু আমাদের অজ্ঞতা, অবহেলা, স্বেচ্ছাচার ও দায়িত্বহীনতার কারণে এই সম্মিলিত অর্জনকে আমরা বিকৃত করছি প্রতিনিয়ত।

অনেকেই বলেন ভাষা কোন স্থির বিষয় নয়, নদীর মতো পরিবর্তিত হতে বাধ্য। অবশ্যই তা পরিবর্তিত হবে, কিন্তু বিকৃত নয়। আমরা স্বেচ্ছাচার ও অবহেলার মাধ্যমে একে বিকৃতও করে তুলতে পারি, প্রবহবান নদীতে রাসায়নিক বর্জ ও জঞ্জাল ফেলে একে দুষিতও করতে পারি, যেভাবে বুড়িগঙ্গা নদীকে আমরা করেছি।
ভাষা স্থির কোন বিষয় নয় বলেই তা প্রতিনিয়ত বদলায়। আর বদলায় বলেই শব্দে ও অর্থে বৈচিত্র ও বিস্তার লাভ করে। কিন্তু ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে পরিবর্তন এক জিনিস আর দায়িত্বহীনতার কারণে বিকৃতি ঘটানো আরেক জিনিস। (সম্পূর্ণ…)

বইমেলা ২০১৭: আলোকোজ্জ্বল একশ বইয়ের সন্ধানে…

আবদুর রাজ্জাক শিপন | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ৭:২৮ অপরাহ্ন

BooksWhenever you read a good book, somewhere in the world a door opens to allow in more light. –Vera Nazarian

ভালো বই পৃথিবীর যে কোথাও আলোকোজ্জ্বল একটি দরজা খুলে দেয় । একুশের বইমেলা ২০১৭ তে, ফেব্রুয়ারির ২৫ পর্যন্ত প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৩ হাজারের অধিক ! ৩ হাজার বইয়ের সবগুলো নিশ্চয় ভালো বই নয় । ৩ হাজার বইয়ের ভেতর আছে আলোকোজ্জ্বল কিছু বই ! সে সংখ্যা কত হবে, ১০০ শ’ ? ২০০ শ’? ৩ হাজার বইয়ের গাদা থেকে আলোকোজ্জ্বল সেই বইগুলোর সন্ধান কীভাবে পাওয়া সম্ভব ? পত্রিকাতে বিজ্ঞাপন দেখে ? রিভিউ পড়ে ? পাঠকের মুখে শুনে ? সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের তালিকা দেখে ?

বিদ্যমান নিবন্ধে উত্তরগুলো খুঁজবো । তার আগে, শুদ্ধতম কবিখ্যাত রূপসী বাংলার জীবনানন্দ দাশের দিকে খানিক মুখ ফেরানো যাক । আমাদের এই লেখাতে প্রাসঙ্গিকভাবেই ভদ্রলোক এসে হাজির হয়েছেন । মৃত্যুর পূর্বে তাঁর রচিত ছোটগল্প ১০৮ টি । ২১টি উপন্যাস । জীবদ্দশাতে তিনি এই লেখাগুলোর একটিও ছাপার অক্ষরে আলোর মুখ দেখান নি । কবি হিসেবে ততোদিনে তিনি বেশ আলোচিত হচ্ছিলেন যদিও। পাঠক কী একটু অবাক হচ্ছেন ? বর্তমান সময়ের যশঃপ্রার্থী লেখকের সঙ্গে মিলিয়ে ? কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক, প্রকাশকাল ১৯২৭ । দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ধূসর পাণ্ডুলিপি, ১৯৩৬ । প্রথমটির সঙ্গে ব্যবধান ৯ বছর । ততোদিনে নিজের ভেতর নিজেকে কবি ঝালিয়েছেন, একটু একটু করে ঝালিয়ে নিয়েছেন । পরিপক্ক করেছেন নিজেকে । তারও ৬ বছর পর প্রকাশিত হয় তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘বনলতা সেন’ ! বাংলা কবিতা পাঠকমাত্রই বনলতাসেনের কথা জানেন । (সম্পূর্ণ…)

ভাষা ব্যবহার ও মানসিক দাসত্বের খামখেয়ালি

অলভী সরকার | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ২:২৬ অপরাহ্ন

“কোনো ভাষারই চলে না শুধু নিজের শব্দে। দরকার পড়ে অন্য ভাষার শব্দ। কখনো ঋণ করতে হয় অন্য ভাষার শব্দ। কখনো অন্য ভাষার শব্দ জোর করে ঢুকে পড়ে ভাষায়। জোর যার তারই তো সাম্রাজ্য।”

ভিন্ন ভাষার শব্দ প্রসঙ্গে হুমায়ুন আজাদ তাঁর কতো নদী সরোবর বা বাংলা ভাষার জীবনী গ্রন্থে এভাবেই বলছেন।

এটা অবশ্যই বেদনাভারাক্রান্ত হওয়ার মতো বিষয় নয়। কারণ, পরিবর্তন, বিবর্তন- এ সবই ভাষার ধর্ম। আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে রাখতে গেলে ভাষা, এমনকী ধ্বংসও হয়ে যেতে পারে। ইতিহাসে এর নজিরও দুষ্প্রাপ্য নয়। কিন্তু, যদি কেউ তার প্রকৃত সম্পদের চেয়ে বেশি ঋণ করে, তবে নিঃসন্দেহে তার নাম হবে দেউলিয়া। ফলত, কোনোদিন, সুদের হিসেব মেলাতে না পারার দায়ে, নিলামে উঠতে পারে আসলটুকু।

একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ দিয়ে শুরু করা যাক।

দেশের প্রথম সারির একটি গণমাধ্যমে, কথোপকথন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন জনৈক তারকা। (সংগত কারণেই, নাম উহ্য রাখছি)। প্রতি চার শব্দের বাক্যে, অন্তত দুটি করে ইংরেজি শব্দ। “অন্তত” বলছি এই কারণে যে, অনুপাতটা প্রায়ই আরো বেশি হারেই ইংরেজির দিকে ঝুঁকছিল।

শুনতে শুনতে আমার খুব প্রিয় একটি চলচ্চিত্রের সংলাপ মনে পড়ে গেল, “… বাংলা বলতে হবে থেমে থেমে। যেন, তুমি ভালো করে বাংলাটা বলতেই জানো না…!”-একজন তরুণী, অপেক্ষাকৃত প্রাচীন যুগের এক চরিত্রকে হাল আমলের কায়দা-কানুন রপ্ত করানোর চেষ্টা করছেন। (সম্পূর্ণ…)

কবরীর জীবনস্মৃতি: কবির রচিত আত্মজৈবনিক গদ্য

নির্মলেন্দু গুণ | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

Cover-Smriti-Tuku-Thakসুচিত্রা সেনকে নিয়ে, তাঁর জীবদ্দশায় আমি একটি কবিতা লিখেছিলাম। ঐ কবিতায় সুচিত্রা সেনের অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি তাঁর দৈহিক সৌন্দর্যের অকপট বর্ণনাও ছিল।
তাঁর মৃত্যুর বছর দশেক আগে লেখা আমার ঐ কবিতাটি সুচিত্রার মহাপ্রয়াণের পর আলোচনায় আসে।
তখন কেউ-কেউ কবিতাটির বিরুদ্ধে অশ্লীলতার অভিযোগ হানেন।
সুচিত্রা সেন স্মরণে প্রযোজিত একটি টিভি অনুষ্ঠানে আমি এই কবিতাটি পাঠ করি। ঐ অনুষ্ঠানে প্রয়াত চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম, চিত্রপরিচালক ও কথাশিল্পী আমজাদ হোসেন ও নায়িকা কবরী উপস্থিত ছিলেন। নায়িকা কবরী আমার কবিতাটির প্রসংশা করেন। বলেন, ‘সুন্দরের সুষম বন্টন’ কথাটা সুচিত্রা সেনের বেলায় খুব যথাযথ হয়েছে।
পরে কলকাতায় অনুষ্ঠিত একটি কবিসভায় আমি ঐ কবিতাটি পুনরায় পড়ি। দর্শকসারিতে সেদিন উপস্থিত ছিলেন সুচিত্রা সেনের কন্যা নায়িকা মুনমুন সেন। আমার কবিতা শুনে তাঁর চোখ অশ্রুসিক্ত হয়। মঞ্চ থেকে নেমে আসার পর মুনমুন আমাকে পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন এবং বলেন – “আমার মাকে নিয়ে এমন কবিতা পশ্চিমবঙ্গের কোনো কবি লেখেননি।”
কবরী এবং মুনমুন দুই নায়িকাই যে কবিতা বোঝেন– এই তথ্যটি সকলের গোচরে আনার জন্যই এই ঘটনাটির উল্লেখ করেছি।

সম্প্রতি আমাদের কিংবদন্তীতুল্য চিত্রনায়িকা কবরীর লেখা আত্মজীবনী “স্মৃতিটুকু থাক” -এর পান্ডুলিপি পাঠ করে আমার মনে হলো, আমি কোনো কবির রচিত আত্মজৈবনিক গদ্য পাঠ করছি।
১৯৬৪ সালে, সুভাষ দত্ত পরিচালিত সুতরাং ছবিতে সদ্য কৈশোর পেরোনো কবরীর অভিনয় ও কবরীর দেহপট দর্শন করে যারপরনাই মুগ্ধ হয়েছিলাম। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com