চিকিৎসক হিসেবে আমার শেষদিন

রেশমী নন্দী | ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

kalanithi-1২০১৩ সালের মে মাসে, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির নিউরোসার্জিকাল রেসিডেন্ট পল কালানিথির ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে। ৩৬ বছর বয়সী এ চিকিৎসকের মেটাস্টিক লাংস ক্যান্সার তখন চতুর্থ ধাপে। ২০১৫ সালে মার্চ মাসে মারা যাবার আগ পর্যন্ত এ দুবছরে তিনি তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন, এক সন্তানের জনক হয়েছেন এবং একজন চিকিৎসক একই সাথে একজন রোগী হিসেবে অবশ্যম্ভাবি এ যাত্রার অভিজ্ঞতার কথা লিখে গেছেন অসাধারণ বর্ণনায়। তাঁর মৃত্যুর পর “Random House” প্রকাশনী সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয় এ লেখা। When Breath Becomes Air শিরোনামে বইটি প্রকাশিত হয় ১২ জানুয়ারী ২০১৬ তারিখে। বইটিতে চিকিৎসক হিসেবে তাঁর জীবনের শেষ দিনের বর্ণনা প্রকাশিত হয় ‘দি নিউইয়র্কার’ পত্রিকায়। পল কালানিথির এই লেখাটি অনুবাদ করেছেন রেশমী নন্দী। ……

অপারেশনের সাত মাস পর একদিন, সিটি স্ক্যান শেষ হতেই লাফ দিয়ে নেমেছি। রেসিডেন্সি শেষের আগে, একজন বাবা হিসেবে নবজন্মের আগে, ভবিষ্যতের সত্য বর্তমান হওয়ার আগে এটাই আমার শেষ স্ক্যান।
টেকনিশিয়ান বললেন, “রিপোর্টে চোখ বুলাবেন?”
আমি বলেছিলাম, “এখন না, আজ অনেক কাজ আছে।”
তখনই ৬টা বেজে গিয়েছিল। রোগী দেখতে যেতে হবে, পরের দিনের অপারেশনের সময় ঠিক করতে হবে, আনুষাঙ্গিক কাগজপত্রে চোখ বুলাতে হবে, ক্লিনিক নোটস লিখতে হবে, পোষ্ট অপারেশনের রোগীও দেখতে যেতে হবে এবং এরকম আরো শত কাজ। রাত ৮টার দিকে, নিউরোসার্জারির অফিসরুমে বসে পরের দিনের জন্য রোগীদের স্ক্যান রিপোর্ট দেখছিলাম এক এক করে, এরপর একসময় নিজের নাম টাইপ করলাম। বাচ্চাদের বইয়ের ছবি দেখার মতো করে এবার আর গতবারের রিপোর্টের ইমেজগুলো মিলাচ্ছিলাম-সব একই রকম আছে, পুরোনো টিউমারটাও আগের মতোই আছে, কেবল….

আবার পিছনে গেলাম। ইমেজগুলো ভালো করে দেখলাম–ফুসফুসের ডান অংশের মধ্যভাগে নতুন আরেকটা টিউমার, বেশ বড়। অদ্ভুতভাবে এটাকে দেখাচ্ছিল যেন দিগন্ত আলো করে থাকা পূর্ণচন্দ্র। পুরোনো রিপোর্ট ভালো করে দেখে নজরে পড়লো ঝাপসা মতো কিছু একটা, যা এখন পূর্ণসত্য।
রাগ কিংবা ভয় কিছুই অনুভব করলাম না। এ কেবল পৃথিবী থেকে সুর্যের দূরত্বের মতো একটা তথ্য, এক সত্য। গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরলাম, লুসিকে জানালাম কথাটা। সেদিন ছিল বৃহষ্পতিবার, সোমবারের আগে ডাক্তার এমার দেখা পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমি আর লুসি বসার ঘরে ল্যাপটপ খুলে আমাদের পরবর্তী করণীয় ঠিক করে নিচ্ছিলাম: বায়োপসি, অন্যান্য টেস্ট, কেমোথেরাপী। এবারের চিকিৎসা সহ্য করা আগের চেয়ে কঠিন হবে, দীর্ঘ জীবনের সম্ভাবনাও দুরাস্ত। টি এস এলিয়টের সেই লেখার মতো,
“ But at my back in a cold blast I hear,
the rattle of the bones, and chuckle spread from ear to ear.”
নিউরোসার্জারি আগামী কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত অসম্ভব, হয়তো কয়েক মাস, হয়তো সারাজীবনের জন্য। কিন্তু আগামী সোমবার পর্যন্ত এসব সত্য অপেক্ষা করে থাকুক। আজ বৃহষ্পতিবার, কালকের অপারেশনের সবকিছু আগেই ঠিক করা ছিল। ভাবলাম, শেষ আরেকদিন আমি কাজে যাবো।
পরেরদিন সকাল ৫টা ২০ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছালাম। গাড়ি থেকে নেমে জোরে শ্বাস টানলাম-ইউকেলিপ্টাসের সুবাস, সাথে আরো কিছু একটা… পাইন? আগে কখনো খেয়াল করিনি। সকালের দায়িত্বে থাকা রেসিডেন্ট টিমের অন্যদের সাথে দেখা হলো। নতুন রোগী ভর্তি, নতুন স্ক্যান, রাতের অন্যান্য কাজগুলো পর্যালোচনা করলাম আমরা, তারপর মরবিডিটি এন্ড মর্টালিটি কনফারেন্সে (নিউরোসার্জনরা নিজেদের ভুলগুলো পর্যালোচনা করতে নিয়মিতই এভাবে জমায়েত হন) যোগ দেয়ার আগে রোগী দেখতে গেলাম। পরে, একটু বেশি সময় কাটালাম মিস্টার আর-এর সাথে- আমার রোগী যার “Gerstmann” নামের বিরল এক লক্ষণ দেখা দিয়েছে। উনার ব্রেইন টিউমার অপসারণের পর কিছ কিছু কাজ, যেমন লেখালেখি বা অংক করা, ডান বাম কোনটা বা কোনটা কোন আঙ্গুল বলতে পারা-এধরনের বিষয়গুলো তিনি পারছিলেন না। আমি আট বছর আগে একবারই এধরনের ঘটনা দেখেছিলাম, আমার ছাত্রাবস্থার প্রথম রোগীর ক্ষেত্রে। সেই রোগীর মতোই মিস্টার আর-ও বেশ উচ্ছ্বল- আমি ভাবছিলাম এটাও কি রোগের একটা লক্ষণ যেটা আগে কেউ খেয়াল করেনি। অবশ্য উনি ভালো হয়ে উঠছিলেন- কথাবার্তা প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে, গোণার ক্ষমতায় অবশ্য তখনো কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। হয়তো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবেন তিনি।
সকালটা এভাবে কেটে গেলো। আমি শেষবারের মতো অপারেশনের জন্য হাত ধুতে গেলাম। হঠাৎ করেই সেই মূহুর্তটাকে অসম্ভব ভারি মনে হলো। শেষবারের মতো? হয়তো তাই। আমি দেখতে লাগলাম হাত বেয়ে গড়িয়ে পড়ে সাবানের ফেনা কেমন মিলিয়ে যাচ্ছে। অপারেশন থিয়েটারে ঢুকলাম, পোষাক পড়ে নিলাম, রোগীকে ঢেকে দিলাম, নিশ্চিত হয়ে নিলাম প্রয়োজনীয় যন্ত্রগুলো ঠিকঠাক ধারালো আর পরিচ্ছন্ন আছে। আমি চাইছিলাম সবকিছু যেন নিখুঁত হয়। কোমরের কাছাকাছি জায়গাতে ছুরি বসালাম। রোগী একজন বয়স্ক মানুষ। মেরুদন্ড ক্ষয়ে যাওয়ায় স্নায়ু শিরাগুলো সংকোচিত হয়ে গেছে আর সেটা থেকেই প্রচন্ড ব্যাথা। চর্বি সরাতে সরাতে কশেরুকার অস্তিত্ব টের পেলাম। পাতলা স্তর (fascia) ছেদ করে মসৃণভাবে মাংসপেশি কেটে এগুতেই দেখা গেলো চকচকে কশেরুকা-পরিচ্ছন্ন, রক্তবিহীন। ছুরি চালাতে চালাতে আরো এগিয়ে ঝিল্লি ফালা করে ফেলতে পারি ভেবে আমার সহকারী বললেন, “ ঠিকঠাক দেখাচ্ছে। যদি কনফারেন্সে যেতে যান, আমি অন্য কাউকে সাথে নিয়ে কাজটা শেষ করতে পারি।”
এর মধ্যে আমার পেছনে ব্যাথা করতে শুরু করেছে। কেন যে একটু বেশি ওষুধ খেয়ে আসলাম না? অবশ্য কেসটা তাড়াতাড়িই শেষ হয়ে যাবার কথা। প্রায় হয়ে এসেছে। বললাম, ” নাহ, আমিই শেষ করবো।”
সহকারী হাত লাগালো আর দুজনে মিলে অস্থি অপসারণ শেষ করলাম। এরপর ও লিগামেন্টে হাত দেবে, যার নীচেই রয়েছে সেই মেরুদন্ডের তরল আর স্নায়ু শিকড়ের স্থান “ডুরা” (the dura)। এ পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি যে ভুলটা হয় তা হলো এই বিপজ্জনকস্থান ফুটো করে দেয়া। আমি উল্টো দিকে কাজ করছিলাম, চোখের কোণা দিয়ে দেখলাম, সহকারীর হাতের যন্ত্র প্রায় সেই “ডুরা” ছিদ্র করার দিকেই এগুচ্ছে।
“সাবধান!” বলতে বলতেই তাঁর হাতের যন্ত্রের স্পর্শ লেগে গেলো সেখানে। স্বচ্ছ তরলে ভরে যেতে শুরু করলো ক্ষতস্থান। অন্তত একবছরের মধ্যে এমন কিছু আমার অপারেশনের ক্ষেত্রে ঘটেনি। ঠিকঠাক করতে আরো এক ঘন্টা লেগে যাবে এখন। ” মাইক্রো সেটটা বের করো, একটা ফুটা সারাতে হবে”।
যতক্ষণে সব ঠিকঠাক করে পাতলা টিস্যু অপসারণ করলাম, ততক্ষণে আমার কাঁধ যেন জ্বলে যাচ্ছিল। সহকারী ক্ষমা প্রার্থনা করে আর ধন্যবাদ জানালেন, অপারেশনের সমাপ্তি টানার ভার আমার উপর। সব চমৎকারভাবে এগুচ্ছিল। নাইলনের সুতা দিয়ে সেলাই শেষ করলাম। অনেকে এ ক্ষেত্রে স্টেপল করে, কিন্তু আমার বিশ্বাস নাইলন ব্যবহারে সংক্রমণের ঝুঁকি কম থাকে। এই কেসের সমাপ্তি আমার মনের মতো করে টানবো। কোনরকম সমস্যা ছাড়াই চমৎকারভাবে সেলাই শেষ হলো, দেখে মনেই হচ্ছিল না সেখানে কোন কাঁটাছেঁড়া হয়েছে।
ভালো। একটা ভালো কিছু হলো।
যখন রোগীর আচ্ছাদন সরাচ্ছিলাম, একজন নার্স যাকে আগে কখনো দেখিনি, তিনি জানতে চাইলেন, ” ডক্টর, এসপ্তাহে আপনি অন-কলে?”
“নাহ।” হয়তো আর কখনো থাকাও হবে না।
“আজ আর কোন কেস আছে?”
“নাহ।” এবং সম্ভবত কখনো থাকবেও না।
“বেশ, তাহলে বলতে হয় যে শুভ সমাপ্তি ঘটলো। কাজ ভালভাবে শেষ হলো। এমন সুন্দরভাবে কিছু শেষ হলে আমার বেশ লাগে। আপনার ভালো লাগে না ডক্টর?”
“হুম, আমারও ভালো লাগে।”
কম্পিউটারে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে নিলাম, ততক্ষণে নার্স সব পরিষ্কার করে নিলো আর এনস্থেসিয়লজিস্টও কাজ শুরু করে দিলো রোগীকে জাগিয়ে তুলতে। আমি সবসময় সবাইকে মজা করে ভয় দেখাতাম, অপারেশন থিয়েটারের দায়িত্বে থাকলে সবার মতো ধুমধারাক্কা পপ মিউজিক না চালিয়ে কেবল “bossa nova” চালাবো। রেডিওতে “Getz/Gilberto” চালিয়ে দিলাম, সেক্সোফোনের গমগমে সুরের হালকা শব্দে ভরে উঠলো কামরাটা।
অল্পকিছুক্ষণের মধ্যেই অপারেশন থিয়েটার ছাড়লাম। নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে নিতে শুরু করলাম আমি, গত সাত বছর ধরে কাজ করতে করতে কত কিছুই না জমেছে- রাতে হাসপাতালে থেকে যেতে হতো মাঝে মাঝে, তার জন্য বাড়তি পোষাক, টুথব্রাশ, সাবান, ফোনের চার্জার, স্ন্যাকস, স্কাল মডেল, নিউরোসার্জারির বই এবং এরকম আরো কত কিছু।
একটু ভেবে বইগুলো সাথে নিলাম না। এখানে থাকলেই এগুলোর যথাযথ ব্যবহার হবে।
ফেরার সময় পার্কিংয়ের কাছাকাছি পৌঁছাতেই এক সহকর্মী কিছু একটা বলার জন্য এগিয়ে এসেছিল, কিন্তু ওর পেজারটা বেজে উঠতেই ওটার দিকে তাকিয়ে আমাকে হাত নেড়ে হাসপাতালের ভিতর যেতে যেতে বললো, “পরে কথা বলছি!” গাড়িতে বসতেই চোখের জল গড়াতে শুরু করলো আমার। চাবি ঘুরিয়ে গাড়ি সচল করে আস্তে আস্তে রওনা হলাম বাড়ির দিকে। বাড়িতে ফিরে আমার সাদা গাউন, আইডি ব্যাজ খুলে রাখলাম, পেজার থেকে ব্যাটারী সরিয়ে নিলাম আর তারপর লম্বা স্নান সেরে নিলাম।
সে রাতে, আমি আমার সহকর্মী ভিক্টোরিয়াকে ফোন করে জানালাম, আমি আগামী সোমবার কাজে যাবো না। বললাম, হয়তো আর কখনোই আসা হবে না, অপারেশনের ভারও নেয়া হবে না।
ও বললো, “জানো, আমি প্রায়ই দুঃস্বপ্ন দেখতাম যে এদিনটা আসছে। জানি না, এতদিন কি করে তুমি চালাচ্ছিলে।”

Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (9) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Jo — ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৭ @ ১২:০৯ অপরাহ্ন

      শুভকামনা.. আরও পড়ার ইচছা …

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Suparna Dey — ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৭ @ ৩:০৩ অপরাহ্ন

      It’s touchy at the same time inspiring. We should live to the last moment so actively.
      No Give Up —

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন SHAHEEN — ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৭ @ ৩:৪৪ অপরাহ্ন

      fine

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Yousuf — ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৭ @ ১০:৪১ পূর্বাহ্ন

      Heart touching and inspirational. Keeps it up…

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন afsan chowdhury — ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৭ @ ১২:১০ অপরাহ্ন

      Great of you to do this. Most would not get a chance to read this. It might have added a background that he was a Tamil from India and a Catholic. He had an AM in Literature and wanted to do a ph.d on it before turning to science and medicine.

      Much appreciated.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Hafizur Rahim — ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৭ @ ৭:৫৭ পূর্বাহ্ন

      Every life ends after certain stage. This one is pathetic, as it was not known before the test result.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন shameem Akhtar Chawdhury — ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৭ @ ৪:০৪ পূর্বাহ্ন

      অভিভূত হলাম। অনুবাদও চমৎকার হয়েছে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন shams hoque — ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৭ @ ৬:০০ অপরাহ্ন

      What a brave man! What a great soul dedicated to life and its cause! What an angelic personality committed to duty and service to mankind! I am amazed. A shiny encouragement to be brave trickled down my feeling while going through this beautiful, meaningful and short article. Congratulations, Arts.bdnews24!
      Shams Hoque

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গনী আদম — মার্চ ৬, ২০১৭ @ ৮:৩৯ পূর্বাহ্ন

      কী যে মন খারাপ করা! কী যে অসহায় বোধের হাহাকার!

      আজ ভোরটা শুরু হলো পবিত্র বিষণ্ণতা দিয়ে। পরপর দু’টো লেখাই পড়লাম, পল এবং লুসি’র। ভালোবাসার পবিত্রতা, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও প্রিয়জনের পাশে থাকার অঙ্গীকারের দৃঢ়তা এবং শান্তচিত্তে অমোঘ সত্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার তীব্র মানসিক শক্তির দৃঢ়তা– লেখা দু’টো থেকে অনুভব হলো।

      আমার চোখ ভিজে উঠেছিলো। পলের নির্বিকার বর্ণনার শেষে যখ সে গাড়ি উঠলো আর তার “চোখের জল গড়াতে শুরু করলো।”

      আমি খুব শক্তিও পেলাম। হয়তো আমারও জানা হতে পারে শেষযাত্রার সময়ের নৈকট্য, হয়তো একসময় প্রতিটা দিন আসতে পারে ওই দিনটি বেঁচে থাকার স্বস্তি ও তৃপ্তি নিয়ে। পল জানিয়েছে, কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। আমি ভয় পাবো না।

      অনেক ধন্যবাদ, রেশমী। দিন দিন ভালো হচ্ছে আপনার হাত। অনেক স্বচ্ছন্দ, সাবলীল। মূলটা পড়া নেই বলে কতোটা বিশ্বস্ত থাকছেন মূলের প্রতি, জানিনা- তবে মৌলিক লেখা পড়ার আস্বাদন হয় যে অনুবাদে, সেটাই উত্তম।

      অনুবাদ বিষয়ে আরেকটা তত্ত্ব আছে (আমার নিজের)– সেটা পড়ে যদি মূলটা পড়ার আগ্রহ জাগে, তাহলে অনুবাদককে সার্থক ভাবি আমি। যদি মনে আসে যে ‘আহা! অনুবাদে এ-ই! না জানি নিজের ভাষায় সে আরো কতো সুন্দর!’ — তাহলেই না ভাষান্তরে ভালো লাগা আসে।

      আপনার অনুবাদ সে রকমই। পলের বইটি পড়ার আগ্রহ বোধ করছি। জয়তু রেশমী।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com