মাহী ফ্লোরার একগুচ্ছ কবিতা

মাহী ফ্লোরা | ৭ জানুয়ারি ২০১৭ ৩:২২ অপরাহ্ন

১.
কয়েক মাইল শূন্যতার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে আমার মাঝবয়সী ভুল।
এই স্বপ্নের সাথে সেই স্বপ্নের মিল নেই! জীবনের কথা ভাবতে ভাবতে
আমিও সেই পাহাড়ি স্কুলে গিয়ে চাকরি চাইব। আর গোল একুরিয়ামে
চাষ হতে থাকবে কিছু ঔষধি মাছ!

ভাল লাগছেনা আমার, এভাবে কত আর পিছু টানবে হে বৈশাখ?

২.
পথ থেমে আছে, শূন্য আর শূন্যের মাঝে
হলুদ সংবাদ ধারন করেছে
গোঁজামিলের চিবুক।

হেঁটে হেঁটে আমার ক্লান্তি আসে, নতুন
বৃক্ষের নিচে কয়েকটি মুখ, আমিও নেব
প্রতিশোধ, হব ব্যস্ত কাঁচপোকা!

এই নামজন্মের শেষে দেখি আমার পা
উল্টে গেছে, আমি এখন কোন মুখে
জুতো পরব!

৩.
আমি যখন থাকবোনা আর তখন
তোমার ঘুমগুলো সব
লাল পাহাড়ির মাথায় বাঁধা শব্দবোনা ঝুটি।
আমার চোখে কান্না এলে সমস্ত দিন ছুটি,
আমি হাতে আঁকা খাতা, তোমার এমনতরো
ভীড়ের ভেতর মুখ লুকিয়ে থাকা,
পাহাড়টাকে বুকে চেপে সমুদ্রকে মাখা,

স্নান করেছো? আজ দুপুরের ভীষন ঘামে
লক্ষী মেয়ের বুকের ভেতর দু একটা তিল!

আমি যখন থাকবোনা আর
খুন হয়ো নীল স্মৃতির হাতে…

৪.
আমার ব্যস্ততম তুমি
কপাল জুড়ে সোনার বোতাম
ফোটায় ফোটায় ফুল
কাঠবাদামের বনের ভেতর
নিঃশ্বাসে ঘুম-
আমায় বাঁচাও, মৌ-মাছে চুম
লোহার ছোবল;
জ্বালে জ্বালে জলরঙে দুধ
টং দোকানের চা!

আমার ব্যস্ততম তুমি সোনা-
জ্বরের ঘোরে নড়বড়ে টুল
চায়ে ডোবা বিস্কুটে ফু;
সব কথা হয় কথার কথা…
বদ্যি পথ্য কিচ্ছুটি নয়

রাজার দুটো হাত কেন এই
কপালে রাখছো না!

৫.
চলে যাবার পথ কি বিচ্ছিন্ন কিছু?
আমাকে এভাবে কেন তোমার পথের দিকে তাকাতে হয়!
বারবার চলে যাওয়া দেখে কেন আমি অন্ধ হয়ে যাইনা!
বিষণ্ণতা একটি প্রাচীনবর্ষী গাছ হয়ে ছায়া দিল।

বৃষ্টি নেই। কোথাও এতটুকু বৃষ্টি নেই।
আমার গভীরতম লাজুকতা নাকের নিচে
মেঘ হয়ে উঠলো না। এমন রোদের দিনে চলে যেতে হয়?
আমি নদী বলে জেগে আছো।

কোনো স্রোত নেই তবু ভেসে যাচ্ছো তুমি!

তোমাকে নিয়ে আমার কোন ক্লান্তি নেই
তাই সাত সাতটি পাতার ছোট্ট একটি চিরকুট
আমি তোমাকে দেব আর গাঢ় আঙ্গুরের শরবত!

৬.
এখন আমরা কেউ কারো নই বুঝতে পারি;
নৌকোবিহীন শুকনো নদী— হে কুয়াশা!
কেমন ছিল জলের কাছে আহাজারি?
এখন আমরা কেউ কারো নই সাতটা বছর।
শীত পেরুলেই শীতের পাখি হে কুয়াশা—
কোথায় পাবে? সামলে রাখো বুকের
ভেতর আরেকটু জোর!

এখন আমরা জোড়ামাছি অন্ধকারে
এখন অতীত হামলে পড়ে বারেবারে
হে কুয়াশা!

৭.
যেন বহু দূর থেকে ভেসে আসছে শব্দ স্বর-
তোমার চোখের কাছে আমার কনক ঋণ!
আমি ঘুমুবো। একটি শব্দকে বুকে ধরে
খুব ঘুমুবো, রাত্রি হলো। কেমন অন্ধকার
তুমি বাসো? কেমন ভালোবাসো
অন্ধকার! গুটিহরফের গন্ধে আমার ঘর
ভরে যাচ্ছে। এলোমেলো হয়ে পড়ছে
চাঁদের আলো। আহ! বলো…

এখন আমি কোন বানানে জোৎস্না লিখি?

কিছু না বলতে বলতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ছি।
একটি নিঃশ্বাস ঘন পৃথিবীতে আমি
বার বার যাই বার বার— এই যে আমাকে ফিরে আসতে হয়।
আমি ফিরে আসি।

খালি হাত একটি রহস্যকে ধারন করে।
তুমি জানো আমি কেমন চন্দ্রাহত!

৮.
আমার চাওয়া একটি দীর্ঘ জীবন।
সমুদ্রে ডুবতে থাকা একটি উরু যেমন
জলের কাছে নগ্ন করে দেয় পোষাকের অভ্যন্তর।
আমি সেই দীর্ঘ জীবনে অনেক সমুদ্র দেখব বলে
বুকের দিকে তাকাই। জিভের আদর পেলে ওরা ফুলে ওঠে।
একটি স্রোত লক্ষ্য করো। তাকাও।
সমুদ্রকে কতদিন দেখোনা তুমি!

আমার চেয়ে গভীর কবিতা কি সমুদ্র লিখেছে কোনোদিন?

৯.
দৃশ্যত আমরা ভাল আছি,
ফলত আমরা ভাল নেই,
নৃতত্ত্বের গাঢ় দাগে জমে যাচ্ছে আমাদের খুন,
শহরের নিঃশাসে হলকা আগুন-
আমাদের চাওয়া কিছু সবুজ বৃষ্টি!

১০.
আমি ভুলে গেছি প্রেমের সূত্র!
আমি ভুলে গেছি বিসর্জন..
কতটা অন্যায় আটকে আছে
কাপড়ের সুতোয়, বুনো চোরকাঁটা!

কে জানে সে সব ভুলে যায়,
তুমি তার হৃদয়ের থাক..

থলথলে মাছরাঙা মেদ!
কে জানে সে তোমাকে চেনে না…

যারা কেবল উড়তে পারে,
যারা উড়তে পারে না তাদের সদৃশ একজনমাত্র!

একজন ভোর পাখির বুকে… শাদা আর ধোঁয়া ধোঁয়া।
আমার সকল স্মৃতি আজ থেকে গল্পের নাম!

আমাদের উষ্ণতা যেমন আমাদের আয়ু!
কিছু পাখি পাখি মেঘ চলো কিনে আনি..
নগর হাঁটতে থাক মিরপুর রোড ধরে…
পুরনো চায়ের কাপ, লাল বনসাই..
সাহসী সড়ক পথ— যেখানে ঠাঁই নেই দাঁড়িয়ে থাকার,
সেখানে অভিজাত নগ্ন বনানী!

আমার সকল দুঃখ তোমার নগরের পাখি…
উড়ছে উড়ে যাচ্ছে… গ্রীষ্ম থেকে গ্রীবার দিকে..

টের পাচ্ছো?

সব স্পর্শই একদিন নিরবের জল…
সব স্পর্শই জলের মত জমে থাকা কাদা!

পর্দার নিচে এক কাঁদো কাঁদো নদী।
Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (8) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল — জানুয়ারি ৮, ২০১৭ @ ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন

      বাহ! বেশ ভালো!!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন monzu — জানুয়ারি ৮, ২০১৭ @ ৫:২৮ অপরাহ্ন

      It is long since i last read so nice poems

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিমুল সালাহ্উদ্দিন — জানুয়ারি ৮, ২০১৭ @ ৬:৩৯ অপরাহ্ন

      মাহীর কবিতা সহজ আর সুন্দর। আমার খুবই পছন্দের। অভিনন্দন এই চুপচাপ থাকা কবিকে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন shams hoque — জানুয়ারি ৮, ২০১৭ @ ১১:১৬ অপরাহ্ন

      The lines below draws my attention particularly:
      “দৃশ্যত আমরা ভাল আছি,
      ফলত আমরা ভাল নেই,
      নৃতত্ত্বের গাঢ় দাগে জমে যাচ্ছে আমাদের খুন,
      শহরের নিঃশাসে হলকা আগুন-
      আমাদের চাওয়া কিছু সবুজ বৃষ্টি!”
      Does it paint a picturesque post-modern world of human misery? Or, a meta-modern attempt to paint the real internal world of human feelings today? Whatever it is, it pulls my feelings in that direction. What do the readership (I can see 1,018 right now)feel. We need to know what poetry of today is achieving motivate the masses that matter for greater good. Would any reader please try and add their opinions in this string? Thank you. Shams Hoque

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির — জানুয়ারি ৯, ২০১৭ @ ২:৩৪ অপরাহ্ন

      কবিতাটি পড়ে ভাল লেগেছে।
      “আমার সকল দুঃখ তোমার নগরের পাখি…
      উড়ছে উড়ে যাচ্ছে… গ্রীষ্ম থেকে গ্রীবার দিকে..
      টের পাচ্ছো?
      সব স্পর্শই একদিন নিরবের জল…
      সব স্পর্শই জলের মত জমে থাকা কাদা!
      পর্দার নিচে এক কাঁদো কাঁদো নদী।”
      সুন্দর অনুভূতি।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Unseen — জানুয়ারি ৯, ২০১৭ @ ৩:৫৩ অপরাহ্ন

      অনন্য… বরাবরের মতোই সুন্দর… শুভকামনা কবি…

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com