ফতেবেওয়ার একসঙ্গে সাতটি সন্তান প্রসবের ঘটনা সম্পর্কে মন্ত্রণালয় অবগত নন

আফসান চৌধুরী | ১৪ december ২০১৬ ৫:৫২ অপরাহ্ন

ফতেবেওয়া নামক বিধবা মহিলা যিনি রামপুর মাজারের বাসিন্দা বলে কথিত তিনি যুদ্ধের পর পরই এক সঙ্গে সাতটি সন্তান প্রবস করেছে বলে গণমাধ্যমে যেসব তথ্য এসেছে সে সম্পর্কে মন্ত্রণালয় কিছু জানে না। তাদের নথিতেও কোনো উল্লেখ নেই। তবে ওই এলাকায় পাক আর্মি যখন গিয়েছিল, তারা গণহত্যা ও নির্যাতন চালায়। কেউ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুবিধা পেতে হলে সবাইকে সনদ ও প্রমাণাদিসহ আবেদন করতে হবে।

১.ফতেবেওয়া
যতদিন সবার স্মরণে আছে তিনি এই দরগাতেই আছেন। প্রয়োজনে মানুষ তার কাছে যায় বিভিন্ন রকম সাহায্যের জন্য। পাকিস্তান আর্মি এলাকায় পৌঁছে কিছুদিন থাকার পর মেয়েদেরকে তাদের কাছে পাঠাতে বলে। গ্রামের দরিদ্র কুমার সম্প্রদায়ের ওপর এই চাপটা পড়ে বেশি। তারা দুই বোন মিলি আর কলিকে পাকিস্তান আর্মির হাতে তুলে দিতে রাজি হয়। শান্তি কমিটি তাদের বলে, এর বদলে অন্য কোনো মেয়েকে আর উঠিয়ে নেওয়া হবে না। হাফিজ রাজাকারের সঙ্গে ওরা দুই বোন চলে যায়। ফেরত আসার মাস খানেক পরে ওদের পেটে বাচ্চা আসে।

সম্প্রদায়ের মানুষের টিটকারী-গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরে মিলি গাছে ঝুলে কষ্ট থেকে পালায়। এরপর ওর বাবা উপায় না দেখে হাফিজ রাজাকারকে দিয়ে কলিকে ফতেবেওয়ার কাছে পাঠায়। রাত্রে আহারের পর ফতেবেওয়া মেয়েটাকে নিয়ে শুতে যায়। তারপর মেয়েটির কোমড়ে দড়ি বাধে। দড়ির অন্য অংশটি বাধে নিজের পেটে। তারপর দু’জনে ঘুমিয়ে যায়। ভোরের দিকে পেটের বাচ্চাটা কলির পেট ছেড়ে দড়ি বেয়ে ফতেবেওয়ার পেটে আশ্রয় নেয়।

২. মাজার
মাজারের ছাঁদে আর দেয়ালে রাতে একদল জোনাক পোকা নামে। জোনাকির আলোয় সব কিছু উদ্ভাসিত হয়। খাদেম সাহেব ওদের জন্য জলের মধ্যে মিশ্রি মিশিয়ে রেখে দেন। যাতে জোনাক পোকারা আকাশে উড়ে যাবার আগে ওই পানি খেয়ে তৃষ্ণা মেটাতে পারে।


৩. ঘাস

বাসন্তির হাতে একমুঠো মরা ঘাস। ওটা যখন সবুজ ছিল তখন সে রতনের খোঁজে বের হয়। শোনা যায়, রতনের নৌকাটা মারা গেছে, তার সাথে জলের কবরে সেও চলে যায়। এখন তাই পারাপার করার কেউ নেই। লোক মুখে শুনে বাসন্তি নৌকার কবরস্থানটি চিহ্নিত করে। এরপর সেখানে গিয়ে সে জলে নামে। নিচে গিয়ে দেখে, নৌকার গলইয়ে হাত রেখে রতন চোখ বুজে শুয়ে আছে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে রতনকে বিরক্ত না করে বাসন্তি চলে আসে। হাতে তার ঘাস তেমনি ধরা। মরা ধান আর জোনাক পোকার গায়ের গন্ধ দূর থেকে বাতাসে ভেসে আসে। সে হাটতে থাকে জোনাক পোকার পিছে পিছে যতদূর পারে।

৪. সাতটি সন্তান
যুদ্ধের পরে শীতের সকালে সাতটি নাদুস-নুদুস বাচ্চা মাজারে ভেতরে অন্দরের আঙ্গিণায় খেলা করে। অন্য বেওয়ারা ফতেকে আড়াল করে রেখেছিল যখন তার পরপর সাতটি বাচ্চা প্রসব হয়। যারা ঘিরে দাড়িয়েছিল তারা একেকজন একেকটি বাচ্চা কোলে তুলে নেয়। ফতেবেওয়া সারা দিন ঘুমিয়েছিল কাহিল হয়ে। সবাই চলে গেলে ফতেবেওয়ার শরীরে আশ্বর্য আনন্দ আর বেদনা নামে।

৫. জোনাকিপোকা
রাতে জোনাকপোকা পঙ্গপালের মতো চারিদিক আলোকিত করে মাজারে নামে। আসে আবার চলে যায়। চিনি-পানির বাটির কাছে বসে ফতেবেওয়া নামতার মতো নাম আওড়ে যায়… কলিম, সেলিম, অমল, চ্যাগা, রতন, মালতি, কদর, মিলি…

Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (8) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিমুল সালাহ্উদ্দিন — december ১৪, ২০১৬ @ ৮:২১ অপরাহ্ন

      অসাধারণ, মর্মন্তুদ, মোর দ্যান গল্প। এমন দারুণ গল্প বহুদিন পড়িনি।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ওমর শামস — december ১৪, ২০১৬ @ ৮:৩৬ অপরাহ্ন

      বাহ! বাস্তবতার চমৎকার কল্পনাশ্রিত প্রকাশ। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবিকতার স্বরূপও এর মধ্যে নিহিত। মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয় নাই, হবেও না। সর্বদাই সংগ্রাম। গল্প হিশেবে হয়তো আরেকটু কুশলতা দেয়া যেত। কিন্তু বোধের কাঠামো ঠিকই পোক্ত।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হুমায়ূন শফিক — december ১৫, ২০১৬ @ ১:১২ পূর্বাহ্ন

      লেখাটা ভালই লাগল। তবে বিডিনিউজের মত পাতায় বানানগুলো কি কেউ ঠিক করার নেই। তাও আবার সহজ বানানগুলোই ভুল।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কাজী চপল — december ১৫, ২০১৬ @ ২:১০ পূর্বাহ্ন

      আবারো মোহিত হলাম, দারুন

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অপূর্ব সাহা — december ১৫, ২০১৬ @ ৯:১৭ পূর্বাহ্ন

      অসাধারণ একটি লেখা। এক কথায় নাড়া খেলাম। ধন্যবাদ প্রিয় আফসান ভাই। যুগ যুগ জিও…

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Rahat R Chowdhury — december ১৫, ২০১৬ @ ৩:৩৯ অপরাহ্ন

      “Don’t expect the puppets of your mind to become the people of your story. If they are not realities in your own mind, there is no mysterious alchemy in ink and paper that will turn wooden figures into flesh and blood.”
      —Leslie Gordon Barnard, WD

      “Fatebeoa sounds like she existed” this is incredible.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন arin amir — december ১৬, ২০১৬ @ ৩:৩৪ অপরাহ্ন

      ফেরত আসার মাস খানেক পরে ওদের পেটে বাচ্চা আসে। This is bit strange!Koli and Mili came back as pregnant. This is the reality, isn’t it?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আলমগীর হক — december ১৭, ২০১৬ @ ৩:৩০ অপরাহ্ন

      I liked the vignettes woven into structured prose form. the case of ফতেবেওয়া may exist or not in real life , but it happened to that climax in our social political history ! I reckon Afsan Bhai being a journalist and admirer of Borges has the power of creating images like droplets and compression of prose narrative! That’s the great feature here! I recall as Fredric Jameson when says, all narrative has sorts of suppression of the truth, only by analysis and interpretation we could unfold the real truth, it’s like hermeneutics, the art of analysis we reach to a historical truth here! Cheers , Afsan Bhai

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com