সায়েরার সঙ্গে ডিজিটাল মোলাকাত

মানস চৌধুরী | ২৬ জানুয়ারি ২০০৮ ১:২৬ পূর্বাহ্ন

সাক্ষাৎকারগ্রহণকারীর টীকা
সায়েরা (Saera) জন্মেছেন এবং বড় হয়েছেন টোকিওতে। ইংরেজি ও sayera-13.jpgজাপানীতে দ্বিভাষিক হবার সুবাদে, তিনি লন্ডন যান ইউনিভার্সিটি অব আর্টসে ফ্যাশন এবং পোর্ট্রেইট ফোটোগ্রাফি নিয়ে পড়ালেখা করতে। টোকিওতে ফিরে তিনি এখন সংবাদ- আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করছেন এশীয় পত্রিকা মেরি ক্লেয়ার হংকং বা কসমোপলিটান হংকং-এ। আমেরিকার রিঅ্যাক্টর পত্রিকার জন্য ফ্যাশন ফোটোগ্রাফার হিসেবেও কাজ করছেন।

এটি নেয়া হয়েছিল ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০০৫ জাপানের সময় রাত ৮ টা থেকে, এমএসএন মেসেনজার মারফতে। ১৫ই সেপ্টেম্বর নির্ধারিত ছিল, এবং সময় নিয়ে ভুলবোঝাবুঝিতে সেটা সম্ভব হয়নি। সাক্ষাৎ না হয়েই
5.jpg……..
সায়েরার মডেল ফোটোগ্রাফি
………
সাক্ষাৎকার নেয়া! কিন্তু পদটির গুণগত কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে ব্যবহার করা বাদ দেবার কথা ভাবতে পারিনি। একেবারে খাপছাড়া লাগতে পারে এমন দু’চার লাইন ছাড়া প্রায় অবিকল ধারাবাহিকতায় এটা পুনর্লিখন করার চেষ্টা করেছি। অনুবাদের ক্ষেত্রে বড়জোর ভঙ্গি বোঝাতে একটা বা দুটো শব্দ আনা-নেয়া করেছি–উভয়ের বেলাতেই। কিন্তু বাংলা ও ইংরেজি নামপদে আসা-যাওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট
04.jpg……..
সায়েরার মডেল ফোটোগ্রাফি
………
নিয়ম ব্যাখ্যা করা কঠিন। মানে, কেন আলোকচিত্রী ও ফোটোগ্রাফার উভয় পদই এখানে রেখে গেছি সেটা বিশেষ একটা নিয়ম মেনে নয়। যেমনটা যেখানে করতে আরাম লেগেছে সেটাই করেছি। ইমেইল মাধ্যমের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের কারণেই হোক, আর সেই মাধ্যমে চিন্তাবৃত্তিকে প্রকাশিত করতে আমার ব্যর্থতার কারণেই হোক–লম্বা ও বিস্তৃত আলাপ, প্রাসঙ্গিক দাবি সত্ত্বেও অনেক দাঁড়ায়নি। আমি এটা নিয়ে ভাবছি। হয়তো আগামী সমরূপ কাজে কিছু অগ্রগতি দেখাতে পারব।

সায়েরা’র খোঁজ আমি পেয়েছিলাম জাপান ভিত্তিক একটা পেশাদার ওয়েব গ্রুপে। সেটার ঠিকুজি এখন মনে নেই। এখানে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন হচ্ছে কেন সাধারণ চর্চামতো নামজাদা এবং/অথবা যাকে শিল্পমানসম্পন্ন আলোকচিত্র বলা হয় সেরকম চর্চাকারের সঙ্গে কথোপকথনের বদলে একজন ফ্যাশন আলোকচিত্রীর সঙ্গে আলাপ পাড়লাম, এবং তিনিও যে কোনো বিচারে ‘বিগশট’ নন। প্রথম বিষয়টা তো অবধারিত। কেউকেটা কাউকে নাগাল পাওয়ার সঙ্কট। কিন্তু সেটার বাইরেও বিষয় আছে। আলোকচিত্র কিংবা অপরাপর প্রকাশ-মাধ্যমে ‘শিল্প’ ও ‘নন্দন’ বলে যা বলা হয় তা নিয়ে আমার পেশাদার সংশয় আছে। সংশয়টা এত গাঢ় যে প্রতি-নান্দনিক চর্চা খুঁজতে আমি ব্যাকুল ও প্রয়াসী, ক্ষেত্রবিশেষে ব্যাকুল-প্রয়াসী। একই সাথে সংশয় আছে অধুনা দুনিয়ার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির কার্যপ্রণালী নিয়ে। এসকল দিক বিবেচনায়, এবং সায়েরা এই ইন্ডাস্ট্রিতে একজন নারী আলোকচিত্রী বিধায়, আমার জন্য সকল অর্থেই এটা চিত্তাকর্ষক ছিল। এধরনের ডিজিটাল ‘সাক্ষাৎকার’ অনেক নিতে পারব ভাবলেও বাস্তবে এটিই একমাত্র হয়ে আছে। সফলপ্রায় একজন পেশাজীবী হিসেবে সায়েরা আমার মতো গোত্রহীন একজন সাক্ষাৎকারগ্রহণকারীকে সময় দিয়ে আমার কৃতজ্ঞতাভাজন হয়েছেন।

সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়েছিল কাউন্টারফোটো পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যার জন্য। ঘটনাচক্রে সেটি প্রকাশিত হয়নি।
৯/১২/২০০৭]

——————————–

মানস চৌধুরী: আমি আছি এখানে সায়েরা।

সায়েরা: হেলো!

মানস: হাই! পেশাদার থাকার স্বার্থে আমরা ঠিক ৮টাতেই শুরু করতে পারি…হা হা হা।

সায়েরা: খুব ভাল।

মানস: সায়েরা, খুবই ভাল যে শেষমেশ আমরা সাক্ষাৎকারটার ব্যবস্থা করতে পারলাম। আপনার দিক থেকে সম্ভব করতে পারার জন্য ধন্যবাদ জানাই।

সায়েরা: সুস্বাগতম। গতবারের ঝামেলার জন্য আমি দুঃখিত।…আমি লোকজনের সাক্ষাৎকার নিয়ে বেড়াই কিন্তু নিজে কখনো সাক্ষাৎকার দিইনি। ফলে বেশ উত্তেজিত আছি কিন্তু।

মানস: আরে ধুর। এগুলো হয়ই, দুঃখিত হবার কিছু নেই…হা হা হা…ভূমিকা-বদল হলো তাহলে এক্ষেত্রে। সাক্ষাৎকৃত হবার আনন্দ-বেদনা লাভ করুন তাহলে।

সায়েরা: ঠিক আছে।

মানস: আমি ভাবছিলাম আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সমস্ত সত্তাকে যে ব্যক্তিবিবর্জিত করে ফেলে সেটা নিয়ে। আমাদের মতো দেশে ইন্টারনেটের মতো জিনিসপাতির সঙ্গে পরিচয়ের কথা বাদই দিন, পাঁচ বছর আগে, আমার এমনকি ভাবাই সম্ভব ছিল না যে নেটে এমন একটা সাক্ষাৎকার নেব। এবং এটাও ভাবুন যে আমরা পরস্পরকে চর্মচক্ষে এখনো দেখিওনি। একজন মিডিয়া-পেশাজীবী হিসেবে আপনি কীভাবে দেখেন বিষয়টাকে?

সায়েরা: হুঁম্‌ম্। আলোকচিত্রীদের জন্য ইন্টারনেট খুবই শক্তিশালী হাতিয়ার। ধরুন, এখন আমি একই সাথে হংকং ভিত্তিক মেরি ক্লেয়ার -এর মতো পত্রিকার ফোটো-জার্নালিস্ট এবং ফ্যাশন-ফোটোগ্রাফার। এবং আমার এজেন্ট থাকেন লস এঞ্জেলসে যেখানে আমি কস্মিনকালে যাইনি। আর এই কাজটার অফারও পাই আমি ইমেইলের মাধ্যমে। আমার বস লস এঞ্জেলসে বসে আমার ওয়েবসাইট দেখেছেন এবং যোগাযোগ করেছেন।…আচ্ছা আমি কি আপনার প্রশ্নের উত্তর করছি আদৌ?

মানস: হ্যাঁ একদম।

সায়েরা: আচ্ছা।

মানস: আমি ভাবছিলাম একটা নির্দিষ্ট জায়গায় এইসব যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা না-থাকা নিয়ে যে, ধরুন এগুলো জাপানের মতো একটা দেশ থেকে বাংলাদেশের মতো একটা দেশে কীরকম ভিন্ন হতে পারে। ধন্যবাদ যে 03.jpg
………
মেরি ক্লেয়ার হংকং
………
আপনি এরই মধ্যে আপনার পেশাগত জীবন নিয়ে বলতে শুরু করেছেন। এটাই আমার পরের ভাবনা ছিল। মেহেরবানি করে একটু বিস্তারিত বলেন যে কীভাবে আলোকচিত্রে আপনার আগ্রহ হলো, এবং কীভাবেই বা সিদ্ধান্ত নিয়ে পেশাদার আলোকচিত্রে ঢুকে পড়লেন।

সায়েরা: আচ্ছা, খুব ভাল। এটা সোজা প্রশ্ন কারণ আমার পরিবারের দিকে মেলা মেলা ফোটোগ্রাফার আছেন।

মানস: দারুণ।

সায়েরা: আমার চাচা একজন ফোটোগ্রাফার–স্টিল লাইফ এবং পোর্ট্রেইট–এবং সম্প্রতি জানতে পেলাম আমার দাদাও এক ধরনের ফোটোগ্রাফার ছিলেন। তাঁর ছবি তোলার শখ ছিল এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে একটা পোর্ট্রইেট স্টুডিও ছিল।

মানস: সে তো বেশ আগের কথা।

সায়েরা: হ্যাঁ। ফলে ফোটোগ্রাফি সবসময়েই আমার আশপাশে ছিল। এবং এটাও একটা ব্যাপার যে আমি ৯০-এর প্রডাক্ট। কনিকা বিগ মিনি কমপ্যাক্ট ক্যামেরা সে সময়ে একটা হৈ চৈ ছিল যখন আমি জুনিয়র হাই স্কুলে পড়ি।

মানস: ইন্টারেস্টিং!

সায়েরা: আমার বয়স যখন ৮ তখনই আমি আকাশের ছবি তুলতে শুরু করি।

মানস: আকাশ! শুরু-করছে এমন কারো জন্য খুবই মজার বিষয়। হ্যাঁ বলে যান!

সায়েরা:(আমাকে বেশ বড়সড় একটা কুকুরে কামড়েছিল যখন আমি ৬ এবং আপনারা যাকে বলেন পিটিএসডি হয়ে গেছিল আমার।)

মানস: ওহ্!

সায়েরা: ক্ষতটা খুবই ভয়ানক ছিল এবং এই ২০ বছর পরেও তার দাগটা যায়নি। আমার মনে হয় আকাশের ছবি তোলাটা এক ধরনের নিজস্ব থেরাপি ছিল যেটা আমি আবিষ্কার করেছিলাম বলে আমার ধারণা। যা আমি দেখছি তার ছবি তোলার মানে হলো আমি যে বেঁচে আছি তার নথি রাখা। এতটাই ভয়ানক ছিল দুর্ঘটনাটা।

মানস: শুনতে ভীতিকর কিন্তু চমকদার সায়েরা।

সায়েরা: আর ভাবেন যে ৬ বছর মাত্র বয়স এবং সাংঘাতিক আহত হয়ে আপনার দুবার অপারেশন করতে হয়েছে। আপনার কিন্তু একটা মানসিক চাপ হবে।

মানস: অবশ্যই।

সায়েরা: ফলে হ্যাঁ ওভাবেই ভালমতো শুরু হয়ে গেছিল আসলে। এবং তারপর আমি নিত্য-নৈমিত্তিক তুলতে শুরু করি ১৫ থেকে ১৭ বছরের সময়ে। আমার ধারণা সকল মেয়েই একটা ‘ফোটোগ্রাফিক কাল’ পাড়ি দেয়। লস্ট ইন ট্রান্সলেশন -এর মেয়েটা যেমন বলে, ‘টেকিং আ ড্যাম পিকচার অব অউন ফিট অ্যান্ড স্টাফ।’

মানস: আমি একটা গভীরতর মানে পাই আপনার কথার…তবু যদি এই বাক্যাংশকে একটু ভেঙে বলেন।

সায়েরা: আমি কনিকা বিগ মিনি ব্যবহার করতাম। হাইস্কুলের সময়কালে আমি কখনোই এটা ছাড়া বাইরে বেরোতাম না।

মানস: আমার ধারণা আপনার কাহিনী ইতোমধ্যেই আমাকে অভিভূত করেছে। তবু আমার মনে হয়, এমনকি জাপানেও, যখন আপনি কিশোরী, কেউই ঠিক `পেশাদার আলোকচিত্রী’ হবার ভাবনাটাকে সমর্থন করেনি…আচ্ছা, আপনার লেখাপড়ার কী অবস্থা? মানে কোন দিকে পড়লেন? এবং মেহেরবানি করে মেয়ে এবং ফোটোগ্রাফি সম্পর্কে যেটা বলছিলেন সেটাও একটু বিস্তারিত করেন। আমার ওটা খুবই ভাল লেগেছে।

সায়েরা: এই ছবিগুলো আমি আমার ১৬ থেকে ২০-র মধ্যে তুলি। (অনলাইনে লিংক এগিয়ে দিয়ে) । আচ্ছা?

মানস: বাহ্। ধন্যবাদ।

সায়েরা: তো যখন আমি হাইস্কুলে, হিরোমিক্স একটা বিরাট ব্যাপার ছিল। সেও একজন স্কুল ছাত্রীই ছিল। যদিও সে একটা পুরস্কার জিতে এবং আরাকির চোখে পড়ে হুলুস্থূল ব্যাপার হয়ে যায়।

মানস: আরাকি…মানে যিনি ফিনল্যান্ডে কিউরেটর হিসেবে কাজ করছেন?

সায়েরা: তেনসাই আরাকি! চেনেন না? দ্য জিনিয়াস আরাকি (অনলাইনে লিংক এগিয়ে দিয়ে) !

মানস: আমি আসলেই চিনি না। এবং এজন্য আমাকে মাফ করতে হবে। arakiportrait.jpg…….
তেনসাই আরাকি
……..
আমি আপনাকে এটাই বলতে চেয়েছিলাম যে হিগাশিহিরোশিমা থেকে এবং নিহোঙ্গো ভাষা না জানাতে এই বিষয়ে নাক-গলানোই আমার কঠিন হয়েছে। আপনার লেখাপড়া আর আলোকচিত্রের গল্প প্লিজ চালান।

সায়েরা: আচ্ছা। মানে কি ফোটোগ্রাফার হিসেবে আমার পড়ালেখা?

মানস: কেবল তা নয়…মানে আপনার লেখাপড়ার ইতিবৃত্ত এবং সেখান থেকে আলোকচিত্রকে আপনার লক্ষ্য বানানো।

সায়েরা: আমি টোকিওর একটা এলেমেন্টারি স্কুলে গেলাম, সেখান থেকে একটা প্রাইভেট গার্লস স্কুলে গেলাম ইকেবুকুরো, টোকিওতে। ইকেবুকুরো ঠিক টোকিওর প্রাণ না, আবার হ্যাঁও। শিবুয়াতে আপনি ১০ মিনিটেই যেতে পারবেন। আমি গেলাম মুসাশিনো জোশি গাকুইন। এখন অবশ্য ওরা ছেলেদেরও ভর্তি করে। সেখানে আমার জুনিয়র হাইস্কুল এবং হাইস্কুল। মানে হলো ১৩ থেকে ১৮।

মানস: আচ্ছা।

সায়েরা: যে কারণে আমি ওখানটাতেই গেছিলাম তা হচ্ছে ইংরেজিতে নিবিড় পাঠ দেয় ওরা। আমি আসলে ইংল্যান্ডে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু মা কিছুতেই রাজি হয়নি যেহেতু আমি একমাত্র বাচ্চা।

মানস: হা হা হা…।

সায়েরা: ফলে সেটা করতে না পেরে আমি পাগলের মতো ইংরেজি পড়তে শুরু করেছিলাম যাতে বাইরে পড়তে যেতে পারি।

মানস: গেলেন তো শেষমেশ…পরে যদিও বা।

সায়েরা: ইয়েস।

মানস: বাইরে পড়তে যেতে পারেন নাকি বাইরে ফোটোগ্রাফি পড়তে যেতে পারেন–কোনটা?

সায়েরা: হুঁমমমম, ফোটোগ্রাফি পড়া এবং কাজ শুরু করা। দেখেন আমি কিন্তু যথেষ্ট উচ্চাভিলাষী বাচ্চা ছিলাম।

মানস: সে আমি বুঝতে পারছি।

সায়েরা: কিন্তু তাও আমার মা যেতে দিল না।

মানস: মানে আপনি যখন ১৮ বছর বয়সে স্কুল শেষ করলেন তখন?

সায়েরা: হ্যাঁ। যদি ফোটোগ্রাফির কথা বলেন, তো আমি একজন টিনএজার যে কিনা বন্ধুবান্ধব, বিড়াল এবং আকাশের ছবি তুলত একটা কমপ্যাক্ট ক্যামেরা দিয়ে। ফোটোগ্রাফির আসলে কিছুই জানি না।

মানস: হুঁম।

সায়েরা: কিন্তু ফ্যাশন পত্রিকা দেখতে আমার বরাবরই ভাল লাগে।

মানস: বাচ্চাবেলা থেকেই?

সায়েরা: হ্যাঁ। আমার মনে হয় ফ্রেঞ্চ ভোগ এবং আমেরিকান ভোগ আমি দেখতে শুরু করেছিলাম ১৪ থেকে। হার্ব রিৎস, স্টিভেন মেইজেল এসব ফোটোগ্রাফারদের। আমি এখনো এঁদের পছন্দ করি। হেলমুট নিউটন, এ্যাভেডন।

মানস: তারপর…স্কুলের পর তাহলে।

সায়েরা: আচ্ছা যখন আমি ১৭, মানে সেকেন্ড গ্রেড হাইস্কুল, ইংল্যান্ডের কেম্ব্রিজ গেলাম সামার স্কুলে। যে ছবিগুলো দেখলেন তার উপরের তিনটা ওই সময়ে তোলা।

মানস: কোন সালে গেলেন তাহলে?

সায়েরা: আআআ…১৯৯৫? ওরকমই হবে।

মানস: কী পড়লেন সেখানে?

সায়েরা: জাস্ট একটা নিবিড় ইংরেজি কোর্স গ্রীষ্মকালে বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য। এবং তখন আমি ফয়সালা করলাম নিউ ইয়র্কে গিয়ে ফ্যাশন ফোটোগ্রাফি পড়ব।

মানস: আচ্ছা!!

সায়েরা: আসলে আমি লন্ডন সেই সময়টাতে ঠিক পছন্দ করে উঠতে পারিনি। স্কুলের পড়ালেখা শেষ করে আমি নিউ ইয়র্ক যাই এবং আর্ট স্কুলে ভর্তি হবার জন্য আমি ইংরেজি পড়া চালিয়ে যাই। কিন্তু হলো কী, যতো আমি পড়ায় মন দিয়েছি আসলে নিউ ইয়র্ক স্কুলের কোর্স আমার পছন্দ হয়নি। ফলে লন্ডনেই গেলাম।

মানস: কত সময় থাকলেন?

সায়েরা: নিউ ইয়র্কে? সামান্য।

মানস: মানে বোঝা গেল আপনার লন্ডনের পরিকল্পনা একদম সুনির্দিষ্ট হয়েছিল। কতদিন আর কী পড়লেন সেখানে।

সায়েরা: আমি নিউ ইয়র্কে ছিলাম ৬ মাস (একা একা এবং ১৯ বছর বয়সে, আপনাকে মনে করিয়ে দিই) এবং সেখানে বসেই লন্ডনে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। ইউনিভার্সিটি অব আর্টস লন্ডনের লন্ডন কলেজ অব কমিউনিকেশনে (যার আগের নাম ছিল লন্ডন কলেজ অব প্রিন্টিং) আমি এক বছরের কোর্স নিই। এবং কাজ করি আরো ২ বছর। মানে লন্ডনে সব মিলিয়ে ৩ বছর।

মানস: তার মানে আপনি জাপানে ফিরলেন ২০০০-এর কাছাকাছি এবং ইতোমধ্যেই একজন পেশাদার আলোকচিত্রী হিসেবে?

সায়েরা: আসলে নিউ ইয়র্ক এবং লন্ডনের মাঝখানে ফাঁক ছিল। আমি টোকিওতে ছিলাম। তখনো আমি একজন ল্যান্ডস্কেপ ফোটোগ্রাফার এবং কাজ করেছি যাতে পয়সা জমিয়ে দুনিয়া ঘুরে বেড়ানো যায়। একটা পর্যায়ে
trend.jpg……..
ট্রেন্ডস
………
আমি ল্যান্ডস্কেপ ফোটোগ্রাফি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়লাম, মনে হলো এখনি আমার লন্ডনে গিয়ে ফ্যাশন ফোটোগ্রাফি পড়ার সময়। যদিও আমি একাই ভেবেছি কিন্তু আমার চাচা এবং আমার পেশাদার বন্ধু এক আর্কিটেকচার ফোটোগ্রাফার পিটার এম. কুক আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছিলেন যাতে আমার ৩ বছরের কোর্স নিয়ে গোড়া থেকে আবার পড়তে শুরু করতে না হয়। ফলে আমি লন্ডনে ১ বছরের কোর্স নিলাম এবং কাজ শুরু করে দিলাম।

মানস: তার মানে নিউ ইয়র্ক থেকে ফিরেই আপনি আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করছেন… মানে আমি বলছি পেশাদারভাবে।

সায়েরা: ল্যান্ডস্কেপ ফোটোগ্রাফার হিসেবে…হ্যাঁ। আমার প্রদর্শনী হয়েছে, ছবি বিক্রি হয়েছে।

মানস: ওই বয়সেই!

সায়েরা: হ্যাঁ কিন্তু এটা আমার মূল আয় ছিল না যদিও। আমি শিবুজুকুতে একটা আইরিশ পাবে কাজ করতাম। হা হা হা।

মানস: হা হা হা…আমি যা বুঝলাম, এমনকি আপনার সাইট দেখেও, ফ্যাশন ফোটোগ্রাফি হচ্ছে আপনার প্রাথমিক এবং মুখ্য পছন্দ। এবং যেগুলোকে আপনার প্রিয় পত্রিকা বললেন, সেগুলো আপনাকে খুবই প্রভাবিত করেছে। ঠিক তো? কিন্তু ঢুকলেন কি দৈবাৎ নাকি কোনো বন্ধু বা মা ওসব পত্রিকা পছন্দ করতেন বা এরকম কিছু? সব পত্রিকাই কি ইংরেজিতে ছিল? মানে আপনার ইংরেজি শেখার অত্যুৎসাহটাও বুঝতে চাইছি।

সায়েরা: হা হা হা, রোম একদিনে বানানো হয়নি জনাব।

মানস: বটেই…হা হা হা।

সায়েরা: তবে হ্যাঁ, আপনি যদি বিদেশে না থাকেন, তাহলে ইংরেজি পড়া নিয়ে আপনার অত্যুৎসাহীই হতে হবে। জাপানী ভাষা অন্যান্য ভাষা থেকে কীরকম ভিন্ন আপনি জানেন। আপনি কি এটাও জানতে চাচ্ছেন যে ভোগ পত্রিকা দিয়ে আমি প্রভাবিত হয়ে পড়লাম কীভাবে? আমি সবসময়ে আর্টি ধরনের বইয়ের দোকানে যেতাম এবং আমি একা একাই খুঁজে বের করেছিলাম বলে মনে পড়ে।

মানস: হ্যাঁ যেসব পত্রিকার নাম বললেন আপনি সেগুলোর সঙ্গে আপনার পরিচয়ের বিত্তান্তটা মেহেরবানি করে বলেন। এবং আপনি মুগ্ধ ছিলেন এমন এক পত্রিকায় এখন ছবি দিচ্ছেন এটাতে কেমন লাগে?

সায়েরা: হুঁমমমম, আমি আসলে এখনো এর অংশ নিজেকে মনে করি না। কারণ এই মুহূর্তে আমি যা করি তা হচ্ছে মেরি ক্লেয়ার -এর এশিয়ান ভার্সনের জন্য এক ধরনের রিপোর্টিং। আমার স্বপ্ন হলো আমেরিকান ভোগ-এর প্রচ্ছদ করা। সুতরাং এখনো আমার মনে হয় যে মইয়ের ডগাটা কেবল উপরেই উঠছে। তবে অবশ্যই, আমি হংকং-এর মেরি ক্লেয়ার-এর কাজটা পছন্দ করি।

মানস: আমার মনে পড়ে আপনি বলছিলেন একদিন যে জাপানের আলোকচিত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে তেমন কোনো ফারাক আসলে নেই–যদি আমার ঠিক মতো মনে পড়ে থাকে। এটা নিয়ে কিছু বিস্তারিত বলবেন কি?

সায়েরা: হ্যাঁ। মানে আমি যেহেতু ফ্যাশন শিল্পে কাজ করি, নারী আলোকচিত্রী হিসেবে আমি কোনো চাপ বা সেরকম কিছু আমি বোধ করি না। খুব বিখ্যাত সব নারী আলোকচিত্রী আছেন, যেমন এ-চ্যাঙ। কিংবা তোশিয়ে কিনোশিতা। তাঁর এজেন্টের হোমপেজ হলো… । আমার মনে হয় ফ্যাশন শিল্প অন্যান্যগুলো থেকে বরাবরই আলাদা। আপনি কি আর কোনো শিল্পের কথা জানেন যেখানে পুরুষেরা নারীদের থেকে কম মজুরি পায়? মানসম্পন্ন একটা মডেল ইন্ডাস্ট্রিতে ধরা যাক যদি নারী পায় ১ লাখ ইয়েন, তো পুরুষ পায় ৩০০০০, তিন ভাগের একভাগ।

মানস: নারী আলোকচিত্রীদের নিয়ে আপনি যা বললেন তা নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমরা কি বিষয়টার দিকে একটু অন্যভাবে তাকাতে পারি? ধরা যাক, জাপানী পপুলার কালচারে “কাওয়াই” ধারা। আপনার কি মনে হয় না যে এই থিমগুলো এত গভীরভাবে প্রতাপশালী হয়েছে যাকে বলে কিনা “সঠিক” নারীদের প্রচ্ছদে হাজির করার জন্য, কিংবা সাধারণভাবে ছবিতেই হাজির করার স্বার্থে? এবং অবশ্যই আমি ফ্যাশন পত্রিকার কথাই বোঝাচ্ছি।

সায়েরা: হ্যাঁ, তা বটে। কাওয়াই আসলে খুবই জাপানী ঘরানার চিন্তা। জাপানী একজন পুরুষকে আকৃষ্ট করতে সুন্দর (বিউটিফুল) না, তোমার হতে হবে রমণীয় (কিউট)। কারণ সুন্দর একজনকে খুব শীতল-হৃদয়ের মনে হতে পারে। এভাবেই সাধারণ জাপানী মেয়েরা চিন্তা করে।

মানস: কিন্তু এটা তো একটা ধারা হিসেবে ৮০’র দশকে হাজির হয়েছিল।

সায়েরা: কেবল ৮০’র দশকে? কী বলতে চাচ্ছেন আপনি?

মানস: আচ্ছা আমি বলতে চাইছি যে বিশেষজ্ঞদের মনে হয় যে “কাওয়াই”–একটা মিডিয়া-ঘরানা হিসেবে–৮০’র দশকে আধিপত্য করেছে।

সায়েরা: এটা ৮০’র দশকেই শুরু হয়েছে। তা বটে।

মানস: ঠিক আছে তাহলে…আপনার কি মনে হয় যে কাওয়াই ধারা জাপানের আলোকচিত্রকে প্রভাবিত করেছে? এবং আপনার কাজ, যদিও মুখ্যতঃ আন্তর্জাতিক ভোক্তাদের জন্যই, একটা যথার্থ “রমণীয়তা (ফেমিনিনিটি)” কে জারি রাখতে চায়–তা সে “কাওয়াই” বা এরকম অন্য কোনো ধারার প্রতি নিবেদিত হয়ে–ভঙ্গুর, মোহময়/আকর্ষণীয়…এরকম?

সায়েরা: হুঁমমম, আমি ব্যক্তিগতভাবে কাওয়াই ধারা মানি না।

মানস: তাহলে আপনি যে নারী-আদল চিত্রিত করছেন তা নিয়ে কিছু বলুন।

সায়েরা: কিন্তু হ্যাঁ। কাওয়াই ধারা জাপানের আলোকচিত্রকে প্রভাবিত করেছে। ধরা যাক, জেজে বা ক্যানক্যান -এর মতো পত্রিকাগুলো সবসময়েই কাওয়াই ধারা অনুসরণ করে আসছে। আমি বরং বেশি উৎসাহী সেক্সি, কার্ভি, স্ট্রং দেখতে নারীদের ব্যাপারে।

মানস: সেটা আমি অনুধাবন করছিলাম। বলিষ্ঠ বলতে কী…যৌনাত্মকভাবে?

সায়েরা: হ্যাঁ, যেমন এ্যাঞ্জেলিনা জোলি। এমনকি মডেল ধরুন স্কিনি, ১৭৫ সেমি জাপানী মডেল, বুক বা পাছা কিছুই নেই। কিন্তু আমি তবু বলিষ্ঠ এবং সিডাকটিভ দেখতে ছবি তুলে ফেলি।

মানস: তাহলে, দয়া করে আমার অজ্ঞতা বিবেচনায় রাখবেন, স্কিনি এবং কার্ভি–একই পাটাতনে কীভাবে আনছেন…এবং এটা কি “কাওয়াই”-এর সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করেন?

সায়েরা: আচ্ছা। আসলে আমার দৃষ্টিকোণ থেকে, যদি মডেল “একজন বলিষ্ঠ সিডাকটিভ নারী” হিসেবে ক্রিয়া করেন তাহলে স্কিনি বা কার্ভি আসলে কোনো ব্যাপার নয়। কিন্তু এই বলিষ্ঠ শক্তিশালী নারী কাওয়াই ধারার একদম বিপরীত।

মানস: খুবই চমকপ্রদ। এখন আমি বুঝতে পারছি আপনি কী বোঝাচ্ছিলেন এটা বলে যে একজন ক্ষীণাঙ্গী নারীর থেকেও আপনি বলিষ্ঠ ও আবেদনময় ছবি তুলতে পারেন। আমি নিশ্চিত যে আপনি তা পারেন। তার মানে জাপানের জনপ্রিয় মিডিয়ার “কাওয়াই” এবং আপনার তোলা আদলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে।

সায়েরা: হ্যাঁ, একেবারেই।

মানস: নারীর যৌনরূপকরণ, যেমনটা বলা হয়ে থাকে, ফ্যাশন ফোটোগ্রাফির অতীব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে আপনার কাজকর্ম সেদিকে নিতে হবে। আপনার কি মনে হয় আপনার কাজ দিয়ে আপনি এমনকি ফ্যাশন শিল্পে কিছু রূপান্তর প্রস্তাব করতে পারেন? নাকি আপনি মনে করেন যখন ফ্যাশন শিল্পে কাজ করা হয় তখন এই প্রশ্নটা অবান্তর?

সায়েরা: হুঁমমম, জটিল প্রশ্ন। সহজ করে একটু প্রশ্ন করবেন আর একবারে একটা প্রশ্ন?

মানস: আচ্ছা আমি দুঃখিত। যেমন আপনি এ্যাঞ্জেলিনা জোলির কথা বললেন (আমারও তাকে পছন্দ)…আপনি এসব আদল পছন্দ করেন। কিন্তু পুরুষের চোখের কথা ভাবলে কি খুব বড় কোনো পার্থক্য?

সায়েরা: মানে কি নারী ফোটোগ্রাফার আর পুরুষ ফোটোগ্রাফারের দেখার পার্থক্যের কথা বলছেন?

মানস: আমি আসলে দর্শকের কথা বোঝাতে চেয়েছি…পুরুষ দর্শক…কাওয়াই হোক বা আধুনিক ধারা…সবই তো “নারী” তাকানোর জন্য এবং অধিকন্তু…কোনো ফারাক আছে আপনি মনে করেন?

সায়েরা: আমি যখন ছবি তুলি, দর্শকদের নিয়ে আমি ভাবি না। কিন্তু আমি মনে করি নারী ফোটোগ্রাফারদের সামনে মডেলরা ভিন্নভাবে ক্রিয়া করে।

মানস: সেটা চমকপ্রদ। আমি আপনার দেয়া সময় ইতোমধ্যেই ডিঙিয়ে ফেলেছি।…আপনার নিজের কোনো প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছেন এই মুহূর্তে? মানে আপনার এ্যাসাইনমেন্ট এবং কমিশন্ড কাজের বাইরে?

সায়েরা: এই মুহূর্তে একটা পত্রিকার প্রচ্ছদ নিয়ে কাজ করছি যেটা আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের একটা ফ্রি কালচারাল পেপারের প্রজেক্ট। আমাদের ছবি তোলা শেষ এবং সম্পাদক এবং আমি প্রচ্ছদের জন্য চূড়ান্ত ছবি বাছাই করছি এখন। সেখান থেকে, আমি হংকং-এর কাগজওয়ালাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টোকিওতে একই ধরনের একটা প্রজেক্ট করতে চাই। আমরা এখানে টোকিওতে ফ্যাশন ছবি তুলব এবং হংকং ও তাইওয়ানের ফ্যাশন পত্রিকায় ছাপব। সেখানে থাকবে টোকিওতে এই মুহূর্তে হট কী।

মানস: একেবারেই আপনার ভাবনা জানার জন্য…আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে বিগত কয়েক বছরে ফ্যাশন পত্রিকায় (এবং সাধারণভাবে মডেল শিল্পেই) পুরুষদের আদল আগাপাশতলা বদলে গেছে–হি-ম্যান থেকে অনেকটা “নম্র”, অ-পেশীবহুল এবং কখনো কখনো দ্বিধাগ্রস্ত। এই বদল নিয়ে কী ভাবনা আপনার?

সায়েরা: বলতে চাচ্ছেন যে স্টেরয়েড মাসল ধরনের ধারা এখন গরম না, বরং স্কিনি টাইপ এখন কাটতি যাচ্ছে? আসলে এইসব “বুম” সবসময়েই আসে আর যায়। এটা অনেকটা এখন অরিয়েন্টাল বুম তো এরপর ব্রেজিলিয়ান বুম তো আবার ডলি ফেইস বুম। এইসব আরকি।

মানস: আমার চোখে একটা বিরাট বদল ধরা পড়েছে…বিরাট…পেশীতে, চোখে, পোশাক-আশাকে…যা কিছু “পৌরুষ” বলে স্বীকৃত ছিল তা কমানোর একটা প্রচেষ্টা।…ডলি ফেইস!

সায়েরা: হ্যাঁ গত মৌসুমে এটা বিরাট ছিল। অনেকটা ফরাসী পুতুলের মতো দেখতে।

মানস: পুরুষ…কী বলেন?

সায়েরা: আরে না। নারীদের কথা বলছি। কিন্তু পুরুষরাও একই রাস্তায়। ৮০’র দশকে পেশীবহুল ছিল ব্যাপার এবং ৯০-এ অনেকটা নামানো কিন্তু তাও পেশীই এবং ২০০০-এ স্কিনি ধরনের। এটা একদম এই সময়ের বুম মাত্র।

মানস: আমার ভবিষ্যৎ ভাল দেখা যাচ্ছে…আর বিভিন্ন পত্রিকার প্রচ্ছদ ছাড়া আর কীসের ছবি তুলছেন ইদানীং? নিজের জন্য কোনো লক্ষ্য ঠিক করে রেখেছেন?

সায়েরা: আমার লক্ষ্য ভোগ -এর জন্য ফোটোগ্রাফার হওয়া, ব্রিটিশ এবং ইটালীয় হচ্ছে আমার পছন্দ।

মানস: শুভকামনা সেটার জন্য। আর সায়েরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে আমরা এই সাক্ষাৎকারটাকে দাঁড় করানোর জন্য আপনার কাছে কিছু ছবি চাইব।

সায়েরা: ঠিক আছে।

মানস: জার্নালটা তো আপনি দেখেছেনই…সাদাকালোতে ছাপা হয়…এবং ছবিগুলো আপনার মুফতে দিতে হবে।

সায়েরা: তাও ঠিক আছে।

মানস: আপনি মেহেরবান…এরপর আপনার একখানা পোর্ট্রেইট…

সায়েরা: ফাইন। আমি পাঠিয়ে দেব।

মানস: সময় দেবার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

সায়েরা: আপনাকে সত্যি সত্যিই অনেক ধন্যবাদ। বিদায়।

মানস: বিদায়।

তথ্যনির্দেশ

১. লিংকটি বর্তমানে অকার্যকর। এর বাইরে সায়েরার পেশাগত ওয়েব সাইটের ঠিকানা:http://www.SAERA.biz
২. http://www.arakinobuyoshi.com/
৩. সায়েরা একটা লিঙ্ক দিয়েছেন – http://www.a-chang.jp/
৪. http://www.gunns.jp/photographer.html
৫. জাপানী পপুলার সংস্কৃতিতে ৭০ থেকে ৯০ দশকের সময়কালে একটা বিশেষ ধারা আধিপত্যশীল হয়ে ওঠে। বিশেষভাবে ৮০’র দশকে এটা একদম উত্তুঙ্গ হয়েছিল। নারীর বিশেষ কিছু আদল বা ইমেজ নির্মাণ ও পরিবেশন এই ধারার মুখ্য বৈশিষ্ট্য ছিল। গবেষক ইয়মানে’র ৯০ সালের কাজ থেকে অনুবাদ করে Sharon Kinsella তাঁর ‘Cuties in Japan’ প্রবন্ধে জানাচ্ছেন: “[Kawai] … celebrates sweet, adorable, innocent, pure, simple, genuine, gentle, vulnerable, weak, and inexperienced (1) social behaviour and physical appearances. It has been well described as a style which is ‘infantile and delicate at the same time as being pretty.”
আর্টস-এ প্রকাশিত লেখা
প্রত্যাবর্তন: আমার ‘ফেরা’ নিয়ে যে কাহিনী না বললেও চলত (গল্প)
সায়েরার সঙ্গে ডিজিটাল মোলাকাত (সাক্ষাৎকার)
কক্ মানে মোরগ: উদ্ভ্রান্ত মোরগজাতি ও তাহাদের বিহ্বল প্রতিপালকগণ (গল্প)
বেযোগাযোগ: কী ফারাক বন্ধু কিংবা প্রতিবন্ধুতে? (জার্নাল)
(আমার) রবিভাব… ভাব ও অভাব
নীলফামারী’তে মাঠ গবেষণা
পানশালা কিংবা প্রেম থেকে পলায়ন: যেভাবে আমি লেখক হয়ে পড়লাম

—–
manosh-ch1.jpg
মানস চৌধুরী
…….

লেখকের আর্টস প্রোফাইল: মানস চৌধুরী
ইমেইল: manoshchowdhury@yahoo.com


ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (7) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাজলা — জানুয়ারি ২৯, ২০০৮ @ ৪:২৩ পূর্বাহ্ন

      আমার জানা মতে অনলাইন চ্যাটিং তুলে ধরার প্রয়াস বোধহয় এটাই প্রথম। আশা করি অনেক লেখক অনুপ্রেরণা পাবেন।
      জয়তু মানস। এমন লেখা আরো চাই।
      নাজলা

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Delowar Hossain — ফেব্রুয়ারি ৭, ২০০৮ @ ৩:২৭ পূর্বাহ্ন

      একটা অসাধারণ সাক্ষাৎকার উপহার দেওয়ার জন্য মানস চৌধুরীকে ধন্যবাদ। বিশেষ করে, msn-এর মাধ্যমে technology-কে ব্যবহার করে এই কাজটি করার মধ্যে দিয়ে আপনি ‘কঠিন’ভাবে একটি গুরু দায়িত্ব পালন করেছেন। অনেক গুঢ় তথ্য জানতে পারলাম।
      দেলোয়ার
      লন্ডন

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাদিমূল হক মন্ডল — ফেব্রুয়ারি ৮, ২০০৮ @ ২:০৬ পূর্বাহ্ন

      অনেক দির পর মানস চৌধুরীর লেখা পড়লাম। ভালো লাগলো। তবে নাজলার বক্তব্য: ‘অনলাইন চ্যাটিং তুলে ধরার প্রয়াস বোধহয় এটাই প্রথম’–সম্ভবত আদ্যোপান্ত ঠিক না। নির্মলেন্দু’র সম্ভবত একই ধাচের একটি রিফ্লেকশন কোনো এক সময় পড়া হয়েছিল।
      নাদিমূল হক মন্ডল
      nadim.mandal@gmail.com

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন tanu — এপ্রিল ১১, ২০০৯ @ ১১:১০ পূর্বাহ্ন

      সত্যিই সুন্দর হয়েছে।

      – tanu

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মামুন আব্দুল্লাহ — জানুয়ারি ১৪, ২০১৫ @ ৬:০৮ অপরাহ্ন

      বেশ আগ্রহ নিয়ে পড়লাম

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com