রবার্ট শেকলির বিজ্ঞান কল্পকাহিনী: জীবনধারনের খরচ

রেশমী নন্দী | ২৭ অক্টোবর ২০১৬ ৭:০১ অপরাহ্ন

Robert S.মার্কিন কল্পবিজ্ঞান লেখক রবার্ট শেকলেই-এর জন্ম ১৯২৮ সালে। কল্পবিজ্ঞানের ২৭টি উপন্যাস ছাড়াও অসংখ্য ছোটগল্পের লেখক তিনি। জীবনের বিভ্রান্তিকর অস্তিত্বের অংশ হিসেবে প্রগাঢ় শূণ্যতাবোধের চর্চা তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কল্পবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ এই লেখককে সায়েন্স ফিকশন এন্ড ফ্যান্টাসি রাইটার অব আমেরিকার পক্ষ থেকে ২০০১ সালে দেয়া হয় “অথর এমিরেটাস” খেতাব। ৭৭ বছর বয়সে ২০০৫ সালে মারা যান তিনি। অনূদিত লেখাটি ১৯৫২ সালে আমেরিকার কল্পবিজ্ঞান বিষয়ক ম্যাগাজিন “গ্যালাক্সি”তে প্রথম ছাপা হয়। ইংরেজি থেকে গল্পটি অনুবাদ করেছেন রেশমী নন্দী। বি.স.

কেরিনের মনে হচ্ছিল, গত সপ্তাহে মিলারের মৃত্যুর শোকটা হয়তো দ্রুত কাটিয়ে উঠবেন তিনি। কিন্তু অস্পষ্ট, অবয়বহীন ভয়টা মনের মধ্যে থাবা গেড়ে বসে আছে আজও। ভয়াবহ বোকামী। মিলার মরলো তো কার কি।

কিন্তু, মোটাসোটা, হাসিখুশি মিলার আত্মহত্যা করলো কেন? ওর তো সবই ছিল- স্ত্রী, সন্তান, ভালো চাকরী, সময়োপযোগী ঝাঁ চকচকে জীবন। তবু, মিলার এমন কেন করলো?

“শুভ সকাল” খাওয়ার টেবিলে বসতেই স্ত্রী লীলার সম্ভাষণ শুনলেন কেরিন।

“শুভ সকাল, ডার্লিং। বিলি, শুভ সকাল”। উত্তরে ছেলে একটু শব্দ করলো মাত্র।

মানুষ সম্পর্কে কিছু বলা মুশকিল, ভাবতে ভাবতে ব্রেকফাস্টের জন্য ডায়াল করলেন কেরিন। মুহূর্তেই এভিগনন ইলেকট্রিক অটো-কুকের বানানো চমৎকার নাশতা হাজির হয় কেরিনের সামনে।

কিছুতেই কেরিনের মনটা ভালো হচ্ছে না। বিরক্তকর। সব ভুলেটুলে গিয়ে আজ একটা চমৎকার দিন শুরু করতে চাইছিলেন কেরিন। ছুটির দিন বলে কথা। আর তাছাড়া, এভিগনন ইলেকট্রিক, সংক্ষেপে লোকে যাকে চেনে এ.ই নামে, সেখান থেকে লোকও আজ আসার কথা। বিষয়টা তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ছেলে স্কুলে যাচ্ছে। দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন ছেলেকে। “দিন ভালো কাটুক, বিলি।”

কোন উত্তর না দিয়ে একটু মাথা নেড়ে বইপত্র নিয়ে বেরিয়ে গেলো বিলি। ছেলেটাও কি কিছু নিয়ে ভাবছে নাকি? “আশা করি তা না। ঘরে একজন বিপ্লবীই যথেষ্ট। ” কেরিন ভাবলেন।

“যাও তাহলে, ঘুরে এসো” শপিং করতে বের হওয়া বউয়ের গালে ঠোঁট ছুঁইয়ে বিদায় জানালেন তাকেও। তারপর সেদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ভাবলেন, যাক, অন্তত বউ তো খুশি। কে জানে, এভিগননের স্টোরে কত টাকা ঢেলে আসবে এবার।

ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলেন, এ.ই-র লোক আসতে আরো আধ ঘন্টার মতো বাকি আছে। “জলের ধারায় ততক্ষণে এই স্যাঁতস্যাঁতে মনটাকে ধুয়ে ফেলা যাক” ভাবতে ভাবতে স্নানঘরের দিকে এগুলেন কেরিন।

স্নানের ঘরটা অভিনব এক ঝলমলে প্লাষ্টিকের ঘর। বিলাসবহুল ঘরটাতে ঢুকেই কেরিনের মন অনেকটা হালকা হয়ে গেলো। গায়ের জামাকাপড়ের ভার এ.ই-র স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রটার উপর ছেড়ে দিয়ে শাওয়ার স্প্রের নব ঘুরালেন তিনি। শরীরের তাপের চেয়ে ৫ ডিগ্রী উষ্ণ জলের ধারা তাঁর শরীরে পড়তে শুরু করলো। স্নান শেষ করতেই এ.ই-র অটো-টাওয়াল শরীরের জল মুছে দিতে শুরু করলো আলতো করে।

অসাধারণ। অবশ্য হওয়াই উচিৎ। কেরিনের মনে পড়লো, শেইভ করা ব্যবস্থাসহ এই অটো-টাওয়ালের জন্য ট্যাক্স ছাড়াও তাঁকে মোট তিনশ তের ডলার গুণতে হয়েছে।

যন্ত্রের যত্নে পরিপাটি হতে হতে কেরিন ভাবলেন, টাকা খরচটা সার্থক। আরামদায়কভাবে জীবন কাটাতে না পারলে বেঁচে থেকে লাভটা কি?

যদিও খুব ভালো লাগারই কথা, তবু কেন যেন ভালো লাগছে না। মিলারের চলে যাওয়াটা মনের মধ্যে খোঁচা দিয়ে দিয়ে ছুটির দিনের শান্তিটা নষ্ট করে দিচ্ছে।

নাকি অন্যকিছু? নাহ, ঘরে তো সব ঠিকঠাকই আছে। এ.ই-র কাগজপত্রগুলোও তো ঠিকঠাক গোছানো আছে।

“কিছু কি ভুলে গেছি?” জোরে বলে উঠলেন কেরিন।

“আর পনের মিনিটের মধ্যে এভিগনন ইলেকট্রিক থেকে লোক আসবে আপনার কাছে” এ.ই-র বাথরুম ওয়াল-রিমাইন্ডার ফিসফিসিয়ে মনে করিয়ে দিলো কেরিনকে।

” সেটা মনে আছে। আর কিছু?”

বাগানে পানি দিতে হবে, জেট-লেশটা ঠিকঠাক আছে কিনা দেখতে হবে, সোমবারের জন্য ভেড়ার মাংস কিনতে হবে- সময় করে যে কাজগুলো এখনো করে উঠতে পারেন নি তিনি, ওয়াল-রিমাইন্ডার তার মেমোরি থেকে সেসবই উগরে দিতে শুরু করলো।

” ঠিক আছে, যথেষ্ট হয়েছে।” এ.ই-র অটো ড্রেসারের হাতে নিজেকে সঁপে দিলেন কেরিন। অসাধারণ দক্ষতায় বাছাই করা পছন্দসই কাপড় পড়িয়ে দিয়ে চমৎকার পুরুষালি এক সুগন্ধি ছড়িয়ে দিলো যন্ত্রটি। পরিপাটি হয়ে দেয়াল ঘেঁষে রাখা নানা যন্ত্রপাতি পেরিয়ে বসার ঘরে আসলেন কেরিন।

যন্ত্রই দ্রুত তদারকি করে জানিয়ে দিলো যে ঘরের সবকিছু গোছানোই আছে। সকালের খাবারের বাসনপত্র পরিষ্কার করে যথাস্থানে রাখা হয়েছে, ঘরদোর ঝাড়পোছ শেষ, লীলার জামাকাপড় ঠিকঠাকভাবেই ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, ছেলের খেলনা রকেটও তুলে রাখা হয়েছে যথাস্থানে।

নিজের অস্থিরতায় নিজের উপরই রেগে উঠলেন কেরিন, ” অসুস্থের মতো চিন্তা করা বন্ধ করো।”

স্বয়ংক্রিয় দরজা জানান দিয়ে উঠলো ” এভিগনন ফাইন্যান্স থেকে মি: প্যা থিস এসেছে”

খুলে দাও, বলতে গিয়েই হঠাৎ কেরিনের নজর পড়লো স্বয়ংক্রিয় সুরা পরিবেশন যন্ত্রটির দিকে।

“হায় ঈশ্বর। এতক্ষণ এটা চোখে পড়ে নি কেন আমার?”

এই যন্ত্রটা এ.ই-র না। ক্যাসটাইল মোটরস থেকে ঝোঁকের মুখে এটা কিনে ফেলেছিলেন কেরিন। এভিগনন হয়তো এটা ভালোভাবে নেবে না।

যন্ত্রটাকে রান্নাঘরে ঠেলে দিয়ে দরজাকে খুলে যেতে আদেশ দিলেন কেরিন।

“কেমন আছেন, স্যার?”

সুদর্শন, লম্বা, গোছালো পোষাকের প্যাথিসের চোখের কোণায় দাগ – সাধারণত সারাক্ষণ হাসতে থাকা মানুষের চোখের কোণে এমন ভাঁজ থাকে। প্রাণবন্ত প্যাথিস কেরিনের সাথে হাত মেলাতে মেলাতে চারদিকে তাকাতে তাকাতে বললেন,
” চমৎকার সাজিয়েছেন, স্যার। খুব চমৎকার। সত্যি বলতে কি, চাকরীর শর্ত ভেঙ্গেই বলছি যে এই এলাকায় আপনার ঘরটাই সবচেয়ে চমৎকারভাবে সাজানো।”

আশেপাশের একঘেয়ে সব বাড়ির কথা কল্পনা করে কেরিন একধরনের আত্মতৃপ্তি অনুভব করলেন।

” তাহলে স্যার, সবকিছু ঠিকঠাক চলছে তো?” ব্রিফকেস খুলতে খুলতে মি প্যাথিস জিজ্ঞেস করলেন, ” কোন সমস্যা নেই তো?”

” হ্যাঁ ” বেশ ব্যাগ্রভাবে বলে উঠলেন কেরিন “এভিগননের জিনিষ কি খারাপ হতে পারে?”

” ফোনটা? ঠিকঠাক চলছে তো? ১৭ ঘন্টার টানা রেকর্ড বদলে যাচ্ছে তো নিয়মিত?”

“নিশ্চয়” কেরিন বললো বটে, তবে এখনো ফোনটা ব্যবহার করে দেখার সুযোগ হয়নি তাদের, অবশ্য ঘরের আসবাব হিসেবে ফোনটা বেশ চমৎকার।

” সলিডো-প্রজেক্টরটা ঠিক আছে তো? কেমন উপভোগ করছেন অনুষ্ঠান?”

“এককথায় অসাধারণ।” গতমাসে একবারই একটা অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ হয়েছিল তাঁর, সত্যিই একেবারে জীবন্ত।

” রান্নাঘরের অটো-কুক? রেসিপি মাস্টারের লড়াই কেমন চলছে?”

“এককথায় অভূতপূর্ব। অসাধারণ ”

একের পর এক রেফ্রিজারেটর, ভ্যাকুইম ক্লিনার, গাড়ি, হেলিকপ্টার, আন্ডারগ্রাউন্ড সুইমিংপুলসহ এভিগনন থেকে নেয়া শত শত যন্ত্রের খোঁজখবর নিলেন মি: প্যাথিস।

যদিও অনেক যন্ত্রই এখনও খোলা হয়নি, তবু কেরিন বলে চললেন “সব একদম ঠিকঠাকই আছে। চমৎকার।”

অবশেষে মি: প্যাথিস স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললেন “খুব খুশি হলাম। আপনি নিশ্চয় জানেন, আমরা ক্রেতাদের সন্তুষ্ট করতে কি পরিমাণ চেষ্টা করি। কোন পন্য ঠিক না থাকলে আমরা ক্রেতাদের কোন প্রশ্ন পর্যন্ত করি না, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেই। আমরা ক্রেতা সন্তুষ্টিতে বিশ্বাস করি।”

” অনেক ধন্যবাদ মি: প্যাথিস।”

কেরিন মনে মনে ভাবছেন, মি: প্যাথিস নিশ্চয় রান্নাঘরটা দেখতে চাইবে না। কেরিনের চোখে ভেসে উঠলো রান্নাঘরে একগাদা এভিগননের জিনিসপত্রের মাঝখানে ক্যাস্টিল মোটরের যন্ত্রটা কেমন বেমানানের মতো পড়ে আছে।

মি: প্যাথিস বললেন, ” আপনি শুনে খুশি হবেন যে আপনার আশপাশের বেশিরভাগ মানুষই আমাদের কাছ থেকে জিনিষ কেনেন। আমাদের একটা সুনাম আছে।”

” মি: মিলারও কি আপনাদের ক্রেতা ছিলেন?” কেরিন হঠাৎ জানতে চান।

“ওহ, যিনি আত্মহত্যা করেছেন? একটু ভ্রু কুঁচকে মি প্যাথিস বললেন, ” ঘটনাক্রমে, তিনি আমাদের কাছ থেকে জিনিষ নিতেন। পুরো বিষয়টাতে আমি খুব অবাক হয়েছি। গত মাসেও তিনি আমাদের কাছ থেকে এক্কেবারে নতুন একটা জেট-লেশ কিনলেন, পাক্কা ৩৫০ মাইল একটানা চলবে। যদিও, ওটা কিনে মি মিলার একটু খরচের ধাক্কায় পড়ে গিয়েছিলেন।”

” তা তো বটেই।”

” কিন্তু তাতে কি? দুনিয়ার সমস্ত আরাম আয়েশ তাঁর হাতের নাগালে ছিলো। আর তারপর হঠাৎ তিনি দড়িতে ঝুলে পড়লেন। ”

” দড়িতে ঝুলে পড়লেন?”

“হ্যাঁ।” আবারো মি: প্যাথিসের ভ্রু কুঁচকে উঠলো, ” সবধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি তাঁর ঘরে ছিলো আর তিনি একটা দড়ি খুঁজে নিলেন নিজের জীবন শেষ করে দিতে। নিশ্চয় অনেক আগে থেকেই মাথায় কোন গন্ডগোল ছিল।”

বিরক্তি মুছে গিয়ে আবার সেই হাসি ফিরে এলো মি: প্যাথিসের মুখে, ” তাহলে স্যার, আপনার হিসাবটাতে আসি। সবশেষ কেনাকাটাসহ আপনার কাছ থেকে আমাদের পাওনা ২ লক্ষ ৩ হাজার ডলার ২৯ সেন্টস। ঠিক আছে কি?”

” ঠিক আছে।” কেরিন মনে মনে নিজের কাগজপত্রের সংখ্যাটা ভেবে নিলেন। ” এই নিন, এবারের কিস্তির টাকাটা।”

টাকাটা গুণে নিয়ে মি: প্যাথিস খামটা পকেটে পুরলেন।

” বেশ ভালো। মি: কেরিন, আপনি নিশ্চয় জানেন যে আমাদের সব দেনা শোধ করা পর্যন্ত আপনি বেঁচে থাকবেন না।”

কেরিন শান্তভাবে জবাব দিলেন, ” আমারও তাই ধারণা।”

যদিও বিজ্ঞানের চমৎকারী আবিষ্কারে এই ঊনচল্লিশ বছর বয়সেও তাঁর হাতে অন্তত আরো একশ বছরের আয়ু আছে, তারপরও বছরে তিন হাজার ডলারের রোজগার দিয়ে সংসার চালিয়ে পুরো দেনা শোধ করা সম্ভব নয়।

“অবশ্য তার জন্য আমাদের তত্ত্বাবধানে পাশ হওয়া আইন আপনাকে যে জীবনযাপনের অধিকার দিয়েছে, তা থেকে আপনাকে আমরা বঞ্চিত করবো না। বলাই বাহুল্য, সামনে আরো যে সব অভিনব পণ্য আসছে, সেগুলো নিশ্চিতভাবেই আপনি ছাড়তে চাইবেন না।”

কেরিন মাথা নাড়লেন। কোন সন্দেহ নেই যে তিনি নতুন নতুন পণ্য উপভোগ করতে চান।

” বেশ। তাহলে আমরা আপনাকে একটা সাহায্য করতে পারি। আপনি যদি আপনার ছেলের প্রথম তিরিশ বছরের রোজগার আমাদের কাছে বাঁধা রাখেন, তাহলে আমরা আপনার জন্য পর্যাপ্ত ঋণের ব্যবস্থা করতে পারি। ”

ব্রিফকেস থেকে কাগজপত্র বের করে মি: প্যাথিস কেরিনের সামনে রাখলেন।

” আপনি কেবল একটা সই করবেন, স্যার।”

” আমি আসলে ঠিক মনস্থির করতে পারছি না। আমি আসলে চাই যে আমার ছেলে মুক্তভাবে তার জীবন শুরু করুক।”

” কিন্তু স্যার। এসব তো আপনার ছেলের জন্যও। ও -ও তো এখানে থাকে, তাই না? ও-র ও তো বিজ্ঞানের এসব অত্যাশ্চর্য আবিষ্কার ভোগ করার অধিকার রয়েছে।”

“তা তো বটেই। তবে…..”

” এখনকার যে কোন সাধারণ মানুষও রাজার হালে জীবন কাটায়। একশো বছর আগেও পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মানুষও যা উপভোগ করতে পারতো না, এখন যে কেউই তা ভোগ করতে পারেন। এগুলোকে ঋণ হিসেবে ভাববেন না। এগুলো তো বিনিয়োগ।”

” তা ঠিক।” একটু দোনামোনা করে বললেন কেরিন।

তিনি তখন ছেলের কথা ভাবছিলেন। ছেলের সেই রকেট, ওর নক্ষত্রপুঞ্জের তালিকা, মানচিত্র। মনে মনে নিজেকেই প্রশ্ন করতে থাকেন কেরিন, এটা কি ঠিক হচ্ছে?

” কি ভাবছেন স্যার?”

” আসলে আমি ভাবছিলাম, ছেলের রোজগার বন্ধক রাখা একটু বেশি হয়ে যাবে হয়তো।”

” বেশি হয়ে যাবে? কি যে বলেন স্যার।” মি: প্যাথিস জোরে হেসে উঠলেন, ” আপনি এ গলির মেলনকে চেনেন? ওঁকে বলবেন না যে আমি আপনাকে বলেছি। উনি তো এরই মধ্যে উনার নাতির পুরো চাকরী জীবনটাই বাঁধা রেখেছেন আমাদের কাছে। তারপরও উনি যা যা চান, তার অর্ধেকও কিনতে পারেন নি। আমরা দেখছি কি করা যায় উনার জন্য। জানেনই তো, আমাদের কাছে ক্রেতা সন্তুষ্টিই সবকিছু।”

কেরিন স্পষ্টতই একটু স্বস্তি পেলেন।

” আর আপনার মৃত্যুর পর এসব তো আপনার ছেলেরই। ”

তা অবশ্য ঠিক। তাঁর মৃত্যুর পর এ সব তো ছেলেই ভোগ করবে। আর ছেলের একশো পঞ্চাশ বছর জীবনের মাত্র ত্রিশ বছরই তো তিনি বাঁধা রাখতে চাইছেন।

তিনি খুশি মনে সই করে দিলেন।

“চমৎকার! আচ্ছা, আপনি কি এ.ই মাস্টার অপারেটর নিয়েছেন?”

এটাতো এখনো কেনা হয় নি। মি: প্যাথিস ব্যাখা করে বুঝালেন যে এ বছরের অত্যাশ্চর্য আবিষ্কার এই যন্ত্রটা। এটা নিলে ব্যবহারকারী হাতের একটা আঙ্গুল না নাড়িয়েও ঘর পরিষ্কার থেকে শুরু করে রান্নাবান্না -সবধরনের ঘরের কাজ অনায়াসে সেরে ফেলতে পারবেন।

” সারাদিন ধরে এ বোতাম ও বোতাম না টিপে মাস্টার অপারেটর কিনলে একটা বোতাম টিপলেই সব কাজ হয়ে যাবে। কি অসাধাণ আবিষ্কার!”

যেহেতু মাত্র ৫৩০ ডলার লাগবে এটা কিনতে, কেরিনও তখনই একটা কিনে ফেললেন। আর খরচটা নিজে থেকেই যোগ হয়ে গেলো ছেলের নামে নেয়া ঋণের তালিকায়।

মি: প্যাথিসকে এগিয়ে দিতে দিতে তিনি ভাবলেন, ঠিকই তো। এখন ঘরটা তাদের, ঘরটা একদিন বিলির হবে। ঘরটা আধুনিক থাকুক, সবাই তো তাই চাইবে।

মাত্র একটা বোতাম টিপেই সব কাজ হয়ে যাবে। কত সময় বাঁচবে তাতে। ভাবতে থাকেন কেরিন।

মি: প্যাথিস চলে যাবার পর, কেরিন যান্ত্রিক চেয়ারে বসে প্রজেক্টরটা চালু করলেন। কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে দেখলেন, কিছুই দেখতে ইচ্ছে করছে না। চেয়ারটা একটু পিছনে ঠেলে দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলেন তিনি।

মনের ভিতরটা এখনো খচখচ করেই যাচ্ছে।

“ওঠো ডার্লিং” লীলার ডাকে ঘুম ভাঙ্গে কেরিনের। কানের পাশে আলতে চুমু দিয়ে বললেন, ” দেখো কি এনেছি।”

একটা এ.ই-র সেক্সিটাইজার হাউজকোট। দেখে কেরিন বেশ অবাক হলেন, খুশিও। অন্যসময় তো একগাদা জিনিষ নিয়ে বাড়ি ফিরে লীলা।

খুব সুন্দর হয়েছে জানাতেই স্ত্রী আরেকটা চুমু খেয়ে খিলখিল করে হাসলেন। সদ্য আয়ত্ব করা এ অভ্যাসটা না হলেই ভালো হতো লীলার, ভাবলেন কেরিন।

” দুপুরের খাবারের জন্য ডায়াল করছি তাহলে” বলতে বলতে ভিতরে চলে গেলেন লীলা আর সেদিকে তাকিয়ে কেরিন মুচকি হেসে ভাবলেন, আর কদিন পরই ডায়াল করার জন্য এ ঘর ছেড়ে ও ঘরে যেতে হবে না। চেয়ারে নড়েচড়ে বসতে বসতেই দেখলেন ছেলে ঘরে ঢুকছে।

” কেমন কাটলো দিন?”

“ভালো” ছেলের আনমনা উত্তর দেখে কেরিন জিজ্ঞেস করলেন, “কি হয়েছে?” নিরুত্তরভাবে ছেলেকে মাথা নিচু করে থাকতে দেখে তিনি আবারো জিজ্ঞেস করলেন, “বাবাকে বলো সোনা, কি হয়েছে।”

একটা প্যাকিং বক্সের উপর বসে গালে হাত দিয়ে বাবার দিকে তাকালো বিল। ” আমি কি চাইলেই মাষ্টার রিপেয়ারম্যান হতে পারবো?”

প্রশ্ন শুনে কেরিন হাসলেন। মাষ্টার রিপেয়ারম্যান নাকি রকেট পাইলট হবে- এ নিয়েই তাহলে ছেলের এত চিন্তা। তুলনামূলকভাবে মাষ্টার রিপেয়ারম্যানের কাজটা বেশি সম্মানের। যে যন্ত্র দিয়ে সব যন্ত্র ঠিক করা হবে, সেটাকে ঠিক করার কাজ এটা। যে যন্ত্র অন্য যন্ত্রকে ঠিক করবে, সেটাতো আর অন্য যন্ত্র ঠিক করতে পারে না, এর জন্য কোন মানুষকেই লাগে, আর সেটাই মাষ্টার রিপেয়ারম্যানের কাজ। তবে, সবচেয়ে মেধাবীরাই এ পেশা বেছে নিতে পারে। যদিও ছেলেটার মেধা আছে, তবু ঠিক এর উপযোগী নয় ও।

” সবকিছুই সম্ভব।”

ছেলে জানতে চাইলো, ” আমার পক্ষে সম্ভব?”

” আমি ঠিক জানি না রে।” যতটা সত্যি বলা যায় ততটুকুই বললেন কেরিন।

” যাই হোক, আমি এমনিতেও মাষ্টার রিপেয়ারম্যান হতে চাই না। আমি স্পেস পাইলট হবো।”

“স্পেস পাইলট?” কেরিন বিলির কাছে এসে বললেন, “এরকম কিছু তো নেই।”

” আছে,” বিলি জানালো, “স্কুলে আমাদের বলা হয়েছে যে সরকার কয়েকজনকে মঙ্গলগ্রহে পাঠাবে।”

” কিন্তু সেটা তো প্রায় একশ বছরের জন্য,আর বিষয়টাতো এখনও নিশ্চিত হয়নি।”

“এবার হবে।”

” তুমি মঙ্গলগ্রহে কেন যেতে চাও?” কেরিনের দিকে তাকিয়ে একটু চোখ টিপে লীলা বলে উঠলেন, ” ওখানে তো তুমি কোন সুন্দরী মেয়ে পাবে না।”

” মেয়েদের ব্যাপারে আমার কোন আগ্রহ নেই। আমি মঙ্গলগ্রহে যেতে চাই।”

” বিলি, জায়গাটা তোমার একটুও ভালো লাগবে না। পুরোনো নোংরা একটা জায়গা, যেখানে কোন বাতাস পর্যন্ত নেই।”

” সামান্য বাতাস আছে মা। আমি ওখানে যেতে চাই।” বিলি গোমড়ামুখে বললো, ” আমার এখানে ভালো লাগে না।”

শুনে কেরিন নড়েচড়ে বসলেন, ” কি বলছো? কি এমন আছে যেটা তুমি চেয়েছ অথচ পাওনি। ”

” না স্যার। আমি চাওয়ামাত্রই সবকিছু পেয়েছি।” ছেলের মুখে স্যার সম্বোধন শুনেই কেরিন বুঝলেন, কোথাও একটা সমস্যা হয়েছে।

” দেখো সোনা। তোমার বয়সে আমি যখন ছিলাম, আমিও তোমার মতই মঙ্গলগ্রহে যেতে চেয়েছিলাম। এরকম রোমান্টিক ব্যাপারস্যাপার আমার মধ্যেও ছিল। আমিও মাষ্টার রিপেয়ারম্যান হতে চেয়েছিলাম।”

” হলে না কেন তাহলে?”

” তারপর আমি বড় হলাম আর বুঝতে পারলাম যে আমার আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু করার আছে। যেমন, আমাকে আমার ধার শোধ করতে হয়েছে যেটা আমার বাবা রেখে গেছেন, আর তারপর তোমার মায়ের সাথে দেখা হলো……….”

লীলা হেসে উঠলেন।

“… এরপর মনে হলো নিজের একটা ঘর হোক। তোমারও এমনই হবে। তুমিও বাকিদের মতোই তোমার ধার শোধ করবে, বিয়ে করবে।”

একটু সময় চুপ করে থাকলো বিলি। তারপর কপাল থেকে চুল সরিয়ে ঠোঁটটা একটু ভিজিয়ে নিয়ে বললো, ” আমার ধার কি করে হলো, স্যার?”

কেরিন খুব সাবধানে ব্যাখ্যা করতে শুরু করলেন। সভ্য দুনিয়ায় বেঁচে থাকতে হলে যা যা লাগে এবং সেগুলোর জন্য যা খরচ হয়, যেভাবে তারা সেই অর্থ পরিশোধ করেন। কিভাবে বংশপরম্পরায় এমনটাই চলে আসছে যেখানে ছেলেকে তার বাবার রেখে যাওয়া দেনা শোধ করতে হয়।

বিলির চুপ করে থাকতে দেখে কেরিনের বিরক্ত লাগলো। কেমন যেন অনুযোগের ভঙ্গীতে ও চুপ করে আছে। এই অকৃতজ্ঞের জন্য বছরের পর বছর ধরে দাসের জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

” শোনো” কেরিন একটু রেগে বললেন, ” স্কুলে ইতিহাস তো পড়াচ্ছে তোমাদের। তাহলে নিশ্চয় তুমি অতীত সম্পর্কে জানো। যুদ্ধের কথা নিশ্চয় পড়েছো। যুদ্ধে ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতে তোমার কেমন লাগতো?”

বিলি তখনো নিশ্চুপ।

তিনি বলে চললেন, ” অথবা দিনে আট ঘন্টা গাধার খাটুনি খাটতে হতো তোমাকে, সারাক্ষণ ক্ষুধার্ত থাকতে হতো তখনকার মতো। অথবা ধরো যদি এমন হতো যখন প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে তোমাকে মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের অভাবে বৃষ্টিতে ভিজতে হতো।”

একটু থামলেন কেরিন। অপেক্ষা করলেন ছেলের উত্তরের। তারপর বললেন, ” মানবসভ্যতার ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো সময়টাতে তুমি আছো। বিজ্ঞান বা শিল্পকলা, সবক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অর্জন তুমি ভোগ করছো। সবচেয়ে ভালো গান, বই, ছবি-সবই তোমার আঙ্গুলের ডগায়। তোমাকে কেবল একটা বোতাম টিপ দিতে হয়।” আস্তে আস্তে নরম হয়ে আসতে থাকে কেরিনের কন্ঠ, “কি ভাবছো তুমি?”

” আমি আসলে ভাবছিলাম, এই ঋণ মাথায় নিয়ে আমি মঙ্গলে কি করে যাবো? আমার মনে হয় না, আমি এটা থেকে কোনভাবে বেরিয়ে আসতে পারবো।”

কেরিন বললেন, ” না, তা তুমি পারবে না।”

” যদি না কোন রকেটের ভেতর আমি লুকিয়ে থাকি।”

” তুমি নিশ্চয় সেরকম কিছু করার কথা ভাবছো না।” কেরিন জানতে চাইলেন।

” নাহ, তা তো অবশ্যই না” বিলির গলায় কেমন যেন আত্মবিশ্বাসের অভাব।

লীলা আলতো করে বললেন, ” তুমি এখানেই থাকবে আর খুব চমৎকার একটা মেয়েকে বিয়ে করবে।”

” হুম, তা তো বটেই।” হঠাৎ বিলি দাঁত বের করে হাসার ভঙ্গি করে বললো, ” আমি আসলে সত্যি সত্যি মঙ্গলে যাওয়ার কথা ভাবছিলাম না। সত্যি বলছি আমার মঙ্গলে যাওয়ার কোন ইচ্ছা নেই।”

“শুনে খুশি হলাম।”

কেমন যেন কাঠ কাঠ ভঙ্গিতে দৌড়ে উপরে উঠে যেতে যেতে বিলি বললো ” বাদ দাও এসব কথা। এগুলো মনে রাখার দরকার নেই।”

” রকেট নিয়ে আবার খেলতে ছুটলো হয়তো। এত দুষ্ট হয়েছে ছেলেটা।” বিলির চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে লীলা বলে উঠলেন।

চুপচাপ দুপুরের খাবারটা খেয়ে উঠলেন কেরিন। এবার কাজে যেতে হবে তাঁর। আজ রাতের শিফটের দায়িত্বে তিনি। স্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে জেট-লেশে উঠে বসলেন কেরিন। দ্রুত গতিতে পৌঁছে গেলেন কারখানার ফটকে। অটো-গেট কেরিনকে চিনতে পেরে নিজে নিজে খুলে গেলো।

বিশাল এ কারখানার সবকিছুই স্বয়ংক্রিয়। হালকা শব্দ তুলে যন্ত্রগুলো নিজে নিজেই কাজ করে যাচ্ছে।

কেরিন হেঁটে অটোমেটিক ওয়াশিং মেশিন যেখানে তৈরি হচ্ছে, সেদিকে গেলেন। সহকর্মীর কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিতে নিতে সব ঠিকঠাক আছে কিনা জানতে চাইলেন।

“সব ঠিক আছে। পুরো বছরে একটাও খারাপ ছিল না। নতুন মডেলগুলোর তো বিল্ট-ইন ভয়েস। আগেরগুলোর মতো এগুলোতে আলো জ্বলে উঠে না।”

লোকটার জায়গায় বসে পড়লেন কেরিন। তাঁর কাজ শুরু করার পালা এখন। কাজটা খুবই সহজ। তিনি যেখানে বসে আছেন যন্ত্রগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সেখানে আসবে। তিনি কেবল একটা বোতাম টিপে দেখবেন সব ঠিক আছে কিনা। সবসময় ঠিকই থাকে। এখান থেকে ছাড় পেয়ে যন্ত্রগুলো প্যাকেটবন্দী হবে।

প্রথম যন্ত্রটা এসে পৌঁছাতেই তিনি কাজ শুরু করলেন।

” কাজ শুরুর জন্য তৈরি।” ওয়াশিং মেশিন সাড়া দিলো।

এরপর একের পর এক যন্ত্র নিজের কর্মক্ষমতা কেরিনকে জানান দিয়ে যেতে লাগলো।

কেরিন তখন ভাবছেন, বিলি কি বড় হয়ে সত্যিই ওর দায়িত্বগুলো পালন করবে? পরিণত বয়সে ছেলেটা কি পারবে সমাজে তার অবস্থান করে নিতে? জন্ম থেকেই ছেলেটা একটু বেয়ারা। কেউ যদি সত্যি সত্যিই মঙ্গলে যায়, তাহলে বিলিই যাবে।

কিন্তু কেন যেন ভাবনাটা কেরিনকে খুব একটা বিচলিত করলো না।

” কাজ শুরুর জন্য তৈরি।” আরেকটা যন্ত্রের স্বর শুনতে পেলেন তিনি।

হঠাৎ করেই মিলারের কথা মনে পড়লো কেরিনের। হাসিখুশি লোকটা সবসময় গ্রহনক্ষত্র নিয়ে কথা বলতো, সবসময় বলতো, কোথাও একটা চলে যাবার কথা। কোথাও যাওয়া হলো না লোকটার, কেবল নিজেকে শেষ করে দেয়া ছাড়া।

” কাজ শুরুর জন্য তৈরি।”

কেরিনকে পুরো আট ঘন্টা এভাবে কাজ করে যেতে হবে। আট ঘন্টা ধরে বোতাম টিপে টিপে যন্ত্রের ঠিকঠাক থাকার হদিশ নিতে হবে তাঁকে।

” কাজ শুরুর জন্য তৈরি।”

একের পর এক যন্ত্র পেরিয়ে যাচ্ছে তাঁকে।

” কাজ শুরুর জন্য তৈরি।”

কেরিনের মনটা কেমন যেন উদাস হয়ে আছে। অবশ্য যে ধরনের কাজ তিনি করেন, তাতে মনোযোগের কোন প্রয়োজন পরে না। তিনি তখন ভেবে চলেছেন, ছোটবেলার সেই স্বপ্নগুলো যদি তিনি পূরণ করতে পারতেন। সত্যিই যদি তিনি রকেট চালক হতেন। একটা বোতাম টিপ দিতেন আর সাঁই করে পৌঁছে যেতেন মঙ্গলে।
Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Istiak Ahmad — অক্টোবর ২৮, ২০১৬ @ ৪:১২ অপরাহ্ন

      গল্পটার মূল নাম, ইংরেজি নামটা জানিয়ে বাধিত করবেন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রেশমী — অক্টোবর ২৯, ২০১৬ @ ১১:২০ পূর্বাহ্ন

      গল্পটির মূল নাম “Cost of living”.

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com