নিরবতার দোভাষী সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

রাজু আলাউদ্দিন | ৮ নভেম্বর ২০১৬ ৮:২৩ অপরাহ্ন

Subrata-1বহুদিক থেকেই কবি ও অনুবাদক সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ আমাদের সমকালীন কবিতার জগতকে তার বহুপ্রজ ও বহুমুখী প্রতিভায় সমৃদ্ধ করে তুলেছেন। এই সমৃদ্ধি কাব্যবোধ, কলাকৌশল ও ছন্দের নিখুঁত প্রয়োগের কারণে। দেশি ও বিদেশি সংস্কৃতির নানা উপাদানে সমৃদ্ধ তার কবিতা সুপক্ক পরিণতির সাফল্যে আমাদেরকে শুরু থেকেই উৎকর্ণ করে রেখেছেন। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও কবিতার সংখ্যা প্রায় তিন শতাধিক। সংখ্যার এই বিপুলতাকে তিনি নিছক নিষ্প্রাণ ও নিরক্ত শব্দের কঙ্কালের মতো সাজিয়ে যাননি। প্রতিটি কবিতায় তিনি আমাদেরকে তার কারুবাসনার জ্যোর্তিময় অনুভবে উজ্জীবিত করে তোলেন। তার কাব্যবাগিচায় বহু বৃক্ষ, কিন্তু কোনটিই অনুরূপ নয়; তাদের সুরভিও আলাদা। তিন শতাধিক কবিতায় এই বৈচিত্র সিদ্ধ করা রীতিমত বিস্ময়কর। সুব্রত’র বিরামহীন সৃজনমুখী ও বৈচিত্রবিলাসী মন আমাদের কবিতাকে যেভাবে সমৃদ্ধ করেছে তা আশির দশকে তার সমসাময়িক আর কেউ করেছেন কিনা সন্দেহ। জানি, এ ধরনের চরমপন্থী আপ্তবাক্যে আস্থা রাখতে ভরসা পাবেন না অনেকেই যদি না উদ্বৃতি ও প্রমাণসহ বোমাল ধরিয়ে দেয়া যায় তার কাব্য প্রতিভার নমুনা।

নমুনার আগে তার কবিতা সম্পর্কে আরও কয়েকটি বিষয় উন্মোচন করা জরুরি। যেহেতু তা তার নিজেরই ভাষায় ‘কাব্যশরীর হয়েও, আমি যে রয়েছি জন্মবোবা’, ফলে অকথিত হলেও, কাব্যের বোবাভাষায় অনেক কিছুই পরোক্ষে উচ্চারিত হয়ে আছে শব্দের আচ্ছাদনে।

আমাদের মনে পড়বে তার ‘প্রতিভূ’ কবিতার প্রথম চরণটি যেখানে তিনি বোবাভাষার সপক্ষে বলেছেন: ‘নীরবতা আমার দোভাষী।’ ভালো কবিতা শব্দ ও ভাষার মাধ্যমে নিরুক্তিকে প্রচ্ছন্নভাবে ব্যাঙ্ময় করে তোলে। সুব্রত’র বহু কবিতায় রয়েছে এই নিরুক্তির সৌম্য আয়োজন। নীরবতার দোভাষী ভূমিকা তার কবিতায় রক্তিমসরণ(red shift)-এর মতো কীর্ণ হয়ে থাকে অনেক সময়। ‘তামাদি’, ‘জাগরণপালা’ কিংবা ‘শাহ্ মখদুম’ কবিতায় এ ধরনের ভূমিকার প্রচ্ছন্ন উপস্থিতি যে-কেউ লক্ষ করে থাকবেন।

সুব্রত’র কবিতার মুখোমুখি হলে প্রথমেই নতুন চরের মতো যে-অনুভূতি জেগে ওঠে তা হলো প্রাচুর্য্য। তার কবিতায় প্রাচুর্য কেবল বিষয়ের দিক থেকেই নয়, মূলত নানা ধরনের আলংকারিক প্রয়োগের সাফল্যের জন্যও এই প্রাচুর্য রসজ্ঞ পাঠকের নজরে পড়বে। কবিতার বহু ধরনের আঙ্গিক ও ছন্দ নিয়ে সুব্রত যতটা সাফল্যের সঙ্গে চর্চা করেছেন তার নজির কেবল আশির দশকেই নয়, তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কয়েক দশকেই তার তুল্য নজির সত্যিই বিরল। গত তিন চার দশকে ছন্দ ও আঙ্গিক নিয়ে এককভাবে সুব্রত’র মতো আর কেউই এতটা চৌকষ ও অদ্বিতীয় দক্ষতায় চর্চা করেছেন বলে মনে হয় না। ছন্দ ও আঙ্গিকের আচ্ছাদন ভেদ করে তার কোনো কোনো কবিতা থেকে চাপা শ্লেষ ও কৌতুকী বিভা বেরিয়ে আছে কেন্দ্রীয় আবেগের মেঘলা বলয় রূপে। তার বেশির ভাগ কবিতাই আবেগ ও মননের দুই ডানায় ভর করে পাঠকের নিখিল নভোমনে কাব্যিক অভিজ্ঞতার ভ্রমণরেখা আল্পনার মতো এঁকে যেতে থাকে।

চন্ডাল থেকে চানক্য অবধি তার কবিতার পরিধি। নিম্ন ও উচ্চবর্গীয় সাংস্কৃতিক প্রপঞ্চকে কখনো স্বতন্ত্র তবিয়তে কখনো বা একাসনে যে কাব্যিক স্ফূর্তি নিয়ে সুব্রত তার কবিতায় বসিয়েছেন তা আমাদের পাঠ অভিজ্ঞাকে বিশেষত্বে পৌঁছে দেয়। তার কবিতাকে যতটা হুল্লোড়ের জড়োয়া অঙ্গচ্ছদ বলে মনে হোক না কেন কিন্তু তার আস্তিনের নিচেই লুকিয়ে থাকে নিরবতার ফল্গুস্রোত। যদিও এই নিরবতা স্মৃতিধার্য্য পংক্তিতে পোয়াতী হয়ে ওঠার পরিবর্তে শারীরিক কৃতকৌশলের যাদুকরী মোহাচ্ছন্নতায় অনেক বেশি মনোনিবেশ করে। সুব্রত’র কাব্যশরীর উর্মিল স্রোতের মতোই চঞ্চল। এই শরীরী উপাদানে এসে জড়ো হয় প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গের পাশাপাশি ইসলামি উপাদান– বিশেষভাবে ভারতীয় ও মধ্যপ্রাচীয় ইসলাম। নজরুল ইসলামের পরে একমাত্র সুব্রত’র মধ্যে এসব উপাদানের মিশ্রণ ও প্রয়োগ কাব্যিক সাফল্যে দৃষ্টি ও শ্রুতিনন্দন হয়ে উঠতে পেরেছে। একটা ছোট উদাহরণ দেয়া যাকঃ

কারা কবে রাত-বিরাতের
সাহারাতে ফুটছিল বেশ,
ইশারাতে কে গিলগামেশ
অমানভে মুছল তাদের!

(ভগ্নদূত, সুব্রত অগাস্টিন গোমেজের কাব্যসংগ্রহ, মাওলা ব্রাদার্স, ২০০৬, পৃ: ২৪)

নিম্নবর্গের সাংস্কৃতিক উপাদান ও শব্দের কথ্যরূপ ব্যবহারের প্রতি সুব্রত’র একটা স্পষ্ট ঝোঁক রয়েছে। পাশাপাশি কখনো কখনো বাংলাভাষার প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় আখ্যানের মুখোশ পরে সুব্রত এমন এক ঘোর সৃষ্টি করেন যা শব্দের ভূমণ্ডল ছেড়ে এক বিষয়ী অভিজ্ঞতায় আমাদেরকে আবিষ্ট করে তোলে। যেমন ‘অতিল উবাও’ কবিতাটির কথাই ধরা যাক:

অক্কে-নক্কে মারো, সাঁই, তক্কে-তক্কে থাকো,
ছেন্দা খোঁজো সান্ধাবারে লোহার বাসরে।
উচ্ছ্রিত অচ্ছুত হস্তে দ্বিভাজিত চাকু,
গঞ্জিকাগঞ্জিতচক্ষু তস্কর ফাঁসুরে!
নিদালি বিহলা মম সনকা শাশুড়ি,
ভুজন্ম সঙ্গমে এড়ি যত অটিপটি
আওয়াতি আওরাত–অহো মাংসের বাঁশরি
সিঁদ কাটি’ লুটি’ লয় পতির সম্পত্তি…
অতিল উবাও, বাওয়া তুঁহার দাপটে
পড়িমরি থরোথরি সিরাতের সাকো–

(পৃ:২৫)

মধ্যযুগীয় শব্দরূপের সঙ্গে হরদম আরবি ফারসি ও হিন্দি শব্দের ব্যবহারের মাধ্যমে বাচনিক স্পষ্টতাকে এমন এক আড়ালে রাখেন যা পাঠকের কল্পনাবৃত্তিকে জাগিয়ে তোলে শব্দের সীমাকে অতিক্রম করার জন্য।
তার কবিতায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক চরিত্রের (Protagonist) পরোক্ষোল্লেখ (Allusion) এতই স্বচ্ছন্দ্য যে তা কেবল পান্ডিত্যের স্মারক হিসেবে নয়, বরং সুব্রত’র নিজস্ব ধরনের এক অনিবার্য উপাদান হিসেবে নাগরিকত্ব লাভ করে তার কবিতায়, তারা মোটেই পর্যটকের মতো ভিনদেশী হয়ে থাকে না। ‘ব্যান ব্যান ক্যা ক্যালিব্যান’ কবিতাটি এর এক দীপ্ত নজির।

শব্দ, বিষয়, ছন্দ ও অন্যান্য শিল্পকৌশলের পরীক্ষানিরীক্ষায় সুব্রত আমাদের সমকালের গুরুত্বপূর্ণ এক কাব্যব্যক্তিত্ব। তার সমকালের মাসুদ খানে আছে সমধুর একঘেয়ে সুর, যদিও তা বাচনিক স্পষ্টতা ও সৌন্দর্য্যে নিপাট, কিন্তু সুব্রত’র কবিতায় আছে বৈচিত্রের বিস্ফোরণ। বিভিন্ন প্রণালী ও পদের এক ভোজোৎসব সুব্রত’র কবিতাকে দিয়েছে এক হিরণ্য স্মারক।

তার ছন্দের কাজ রীতিমত চোখ ধাঁধানো। ধরা যাক ‘কোজাগর’ নামক কবিতাটিই:
আজ রক্তের ধারা চঞ্চল,
দুঃ- স্বপ্নের মতো উন্মাদ
আজ সৃষ্টি স্খলদঞ্চল,
কাম -জর্জর গূঢ় সম্পদ;
এই নিঃশেষ হাতে বিশ্বের
আজ নিঃশেষ হবে সিন্দুক
আর গুম-খুন হবে ঈশ্বর-
আহ্! পূর্নিম শরদিন্দু।

এই কবিতাসহ সুব্রত’র অন্যান্য কবিতার ক্ষেত্রেও ছন্দ প্রয়োগের সাফল্য আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় সত্যেন্দ্রনাথ ও নজরুলকে।

জাপানি হাইকু, তনকা, সংস্কৃত, আরবি, ফার্সি ও বাংলা কবিতার বিভিন্ন ছন্দে তার কুশলতা তর্কাতীত। সুব্রত’র আরেকটা উল্লেখযোগ্য ঝোঁক শব্দ নির্মাণের প্রতি। তাঁর বহু কবিতায় রয়েছে শব্দ সৃষ্টির নমুনা, যেমন: ‘কল্পকাল’, ‘রেগেস্তান’, ‘অস্ত্রাল’ ইত্যাদি শব্দ ও অনুপ্রাসের প্রতি সুব্রত’র এক ধরনের মোহ আছে যা তাকে অলোকরঞ্জনীয় আত্মীয়তায় কখনো কখনো অভাবনীয় প্রকাশে সাহায্য করে, কিন্তু মাঝে মধ্যে এই মোহাচ্ছন্নতা তাকে চটুল প্রয়োগ ও প্রকাশেও প্রলুব্ধ করে। যেমন ‘পুলিপোলাও’-এর এক জায়গায় তিনি বলছেন, ‘মাথাব্যথা মম নাই, মাথাই তো নাই?’ –এ ধরনের বাক্যাংশ কবিতার যাত্রাপথকে লঘু ও হাস্যকর করে তোলে বলে মনে হয়। আমার নিজের ধারণা এ ধরনের ঘটনা ঘটে মূলত নিছক সমধ্বনির প্রতি শিশুতোষ প্রলোভন এড়াতে না পারার কারণে। ‘তর্পন’ কবিতায়ও এ ধরনের একটা প্রয়োগ আছে যেখানে তিনি বলছেন, ‘মনে করে মনে আমি মণখানেক কষ্টই পেলাম’–এই ধরনের অভিব্যক্তি কবিতার প্রবহমান ব্যঞ্জনাকে হঠাৎ করে একটা হাস্যকর খাদের মধ্যে ফেলে দেয়। কিন্তু সবাই জানেন এগুলো তাঁর কবিতার সামগ্রিক অর্জনের ক্ষেত্রে এতই সামান্য খুঁত যে তাঁর প্রতিভার উচ্চতাকে তা খুব একটা আড়াল করতে পারে না। সুব্রত অগাস্টিন গোমেজের কবিতাসমূহ শিল্পকুশলতার এমন এক সুউচ্চ মিনার যা কালের দূরত্বে থেকেও আমাদের কাছে দৃশ্যমান হয়ে থাকবে। তার এই ইর্ষনীয় অর্জনকে উপেক্ষাতো নয়ই, বরং একে সাধুবাদ জানাবার সুযোগ পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।

আর্টস-এ প্রকাশিত রাজু আলাউদ্দিনের অন্যান্য প্রবন্ধ:
বোর্হেস সাহেব

অনুবাদ, আদর্শ ও অবহেলা

“একজন তৃতীয় সারির কবি”: রবীন্দ্রকবিতার বোর্হেসকৃত মূল্যায়ন

রক্তমাংসের রবীন্দ্রনাথ

কার্লোস ফুয়েন্তেসের মৃত্যু:
সমাহিত দর্পন?

মান্নান সৈয়দ: আমি যার কাননের পাখি

বাংলাদেশ ও শেখ মুজিব প্রসঙ্গে আঁদ্রে মালরো

স্পানঞল জগতে রবীন্দ্র প্রসারে হোসে বাসকোনসেলোস

অক্তাবিও পাসের চোখে বু্দ্ধ ও বুদ্ধবাদ:
‘তিনি হলেন সেই লোক যিনি নিজেকে দেবতা বলে দাবি করেননি ’

কবি শামসুর রাহমানকে নিয়ে আমার কয়েক টুকরো স্মৃতি

বনলতা সেনের ‘চোখ’-এ নজরুলের ‘আঁখি’

ন্যানো সাহিত্যতত্ত্ব: একটি ইশতেহার

যোগ্য সম্পাদনা ও প্রকাশনা সৌষ্ঠবে পূর্ণ বুদ্ধাবতার

দিয়েগো রিবেরার রবীন্দ্রনাথ: প্রতিপক্ষের প্রতিকৃতি

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: তাহলে গানের কথাই বলি

অজ্ঞতার একাকীত্ব ও আমাদের মার্কেস-পাঠ

আবেল আলার্কন: স্পানঞল ভাষায় গীতাঞ্জলির প্রথম অনুবাদক

জামান ভাই, আমাদের ব্যস্ততা, উপেক্ষা ও কদরহীনতাকে ক্ষমা করবেন

এদুয়ার্দো গালেয়ানোর ‘দর্পন’-এ বাংলাদেশ ও অন্যান্য

প্রথমার প্রতারণা ও অনুবাদকের জালিয়াতি

আবুল ফজলের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

আবু ইসহাকের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

কুদরত-উল ইসলামের ‘গন্ধলেবুর বাগানে’

মহীউদ্দীনের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

বোর্হেস নিয়ে মান্নান সৈয়দের একটি অপ্রকাশিত লেখা

অকথিত বোর্হেস: একটি তারার তিমির

ধর্মাশ্রয়ী কোপ

রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা সম্পর্কে অক্তাবিও পাস

লাতিন আমেরিকার সাথে বাংলার বন্ধন

উপেক্ষিত কাভাফির অর্জুন ও আমরা

পাবলো নেরুদার প্রাচ্যবাসের অভিজ্ঞতা ও দুটি কবিতা

রবি ঠাকুরের নিখিল জগৎ

শিল্পী মুর্তজা বশীরকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

ফুকোর হাসি, একটি গ্রন্থের জন্ম এবং বোর্হেস

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (3) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Dr. Binoy Barman — নভেম্বর ৮, ২০১৬ @ ১০:৪১ অপরাহ্ন

      সুব্রত অগাস্টিন গোমেজের কবিতা নিয়ে একটি অসাধারণ আলোচনা পড়লাম। গদ্য নয়, যেন আরেকটি কবিতাই পড়লাম। সুব্রত নিঃসন্দেহে বর্তমান বাংলা সাহিত্যের এক প্রতিভাবান কবি। কবিতা নিয়ে তাঁর নিরন্তর পরীক্ষানিরীক্ষা বিশেষভাবে ফলদায়ী প্রতিপন্ন হয়েছে। তিনি বৈচিত্রবিলাসী। সুপাচক—নানারকম উপাদানকে একত্রে মিশিয়ে রন্ধন করেন অতীব উপাদেয় খাবার। কবিতার জন্য তিনি নানা পথে হাঁটেন, নানা তত্ত্ব ঘাঁটেন। কোনো এক জায়গায় সুব্রত নিজেকে বলেছিলেন “মাধুকর”। কথাটি যথার্থ, এবং কবিতাই তার প্রমাণ। কবি-অনুবাদক-প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনকে ধন্যবাদ “নিরবতার দোভাষী সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ’ লেখাটির মাধ্যমে তাঁর কাব্যস্বরূপ সঠিকভাবে উন্মোচনের জন্য।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিমুল সালাহ্উদ্দিন — নভেম্বর ১৪, ২০১৬ @ ৪:৫৬ অপরাহ্ন

      লেখাটি যুক্তিশৃঙ্খলাপূর্ণ ও যথার্থ হয়েছে। কবি সুব্রত অগাস্টিন গোমেজকে অভিনন্দন।

      এই লেখাটিই লোক পত্রিকার সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ সংখ্যায় পড়েছি আগে। সেখানকার অনেক ট্র্যাশ লেখার মধ্যে মাত্র গোটাতিন ভালো লেখার একটি এইটি।

      কাব্যবিচারসংশ্লিষ্ট অনেকগুলো প্রসঙ্গেই রাজু ভাইয়ের সাথে একমত পোষণ করছি। তবে কিছু জায়গা আরো বিশ্লেষণ দাবি করে। যেমন, মাসুদ খানের সুর একঘেয়ে কিভাবে! কিংবা সুব্রত অগাস্টিন গোমেজের মনে রাখবার মতোন বা শ্রুতিধর পংক্তি না থাকাটা দুর্বলতা না ধ্রুপদমুখীতা, ইত্যাদি।

      মুদ্রণপ্রমাদ এই প্রকাশে রয়ে গেছে, কবি মাসুদ খানের নাম ছাপা হয়েছে ‘মাসুম খান’। গোমেজও হয়েছে কখনো কখনো ‘গোমেস’।

      রাজু ভাইকে অভিনন্দন তবুও, এমন নির্মোহ সমালোচনা যে কোন কবির কপালেই রাজতিলক এঁকে দেয়।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন razualauddin — নভেম্বর ১৬, ২০১৬ @ ৫:৫৮ অপরাহ্ন

      প্রিয় শিমুল, অনেক ধন্যবাদ লেখাটি আপনার ভালো লাগা এবং অামার বিচারবিশ্লেষণের সাথে একমত হওয়ার জন্য। আপনি বলছিলেন “যেমন, মাসুদ খানের সুর একঘেয়ে কিভাবে!”–এর আরও বিশদ ব্যাখ্যা আশা করছিলেন । সেটা এখানে ব্যাখ্যা করতে গেলে আলোচনা কেন্দ্রচ্যুত হয়ে যাবে বলে করা হয়নি। মাসুদ খানকে নিয়ে আলাদা কোনো প্রবন্ধে সেটা বিশদভাবে আলোচনা করা হবে। আর “ সুব্রত অগাস্টিন গোমেজের মনে রাখবার মতোন বা শ্রুতিধর পংক্তি না থাকাটা দুর্বলতা না ধ্রুপদমুখীতা,”– সেটা আপনারা নির্ধারণ করবেন। যারা কবিতায় বাচনিক ঐশ্বর্যের পক্ষপাতী তাদের কাছে এটা দুর্বলতা মনে হতে পারে। আর যারা আলংকারিক ও কলাকুশলতার ব্যায়ামের পক্ষপাতী তাদের কাছে ধ্রুপদমুখিতা বলে বিবেচিত হবে। আমি তো সেই সিদ্ধান্ত দেয়ার মালিক না। আমি কেবল তার প্রবণতাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি। প্রমাদগুলো নির্দেশ করার জন্য অনেক ধন্যবাদ। ‘ধ্রুপদমুখীতা’ শব্দের সঠিক বানানটি বোধহয় ‘ধ্রুপদমুখিতা’ হবে। যদিও আপনার মন্তব্যের আন্তরিকতাকে এই গৌণ প্রমাদ মোটেই ম্লান করে না।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com