গিইয়ের্মো দেল তোরোর সাক্ষাৎকার: স্পেনের ফ্যাসিস্ট আন্দোলনের পুরো সময়টা জুরে চার্চের অংশগ্রহণ ছিল।

হোসেন মোফাজ্জল | ৬ অক্টোবর ২০১৬ ১০:২৮ অপরাহ্ন

toro-1গিইয়ের্মো দেল তোরোর জন্ম ৯ অক্টোবর ১৯৬৪। মেক্সিকান চলচ্চিত্র পরিচালক, স্ক্রিপ্টরাইটার, প্রোডিউসার উপন্যাসিক এবং বিখ্যাত এনিমেটর। উল্লেখযোগ্য ছবি: ক্রনোস(১৯৯৩), দ্যা ডেভিল’স ব্যাকবোন (২০০১), এবং প্যান’স ল্যাবরিন্থ ( ২০০৬)। এই ছবিগুলো স্প্যানিস ভাষার উল্লেখযোগ্য ডার্ক ফ্যান্টাসি মুভি। এছাড়াও মূলধারার আমেরিকান অ্যাকশান মুভি– ব্লেড ২ ( ২০০২), হেলবয় (২০০৪), হেলবয় ২: দ্য গোল্ডেন আর্মি(২০০৮) এবং সায়েন্স ফিকশন ফিল্ম প্যাসিফিক রিম (২০১৩) ইত্যাদি উল্লেখ করার মত। দেল তোরো প্যান’স ল্যাবরিন্থ-এর জন্য ২০০৬ সালে কান ফিল্ম ফেস্টিভালে গোল্ডেন পাম এবং বেস্ট ফরেন ফিল্ম এবং বেস্ট অরিজিন্যাল স্ক্রিনপ্লের জন্য অস্কার পান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মাইকেল গিলেন।
মাইকেল গিলেনের জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ফ্রানসিস্কোতে। তিনি স্যান ফ্রানসিস্কো ফিল্ম ক্রিটিকস্ সার্কেলের সদস্য। ইন্টারভিউটি স্ক্রিনঅ্যানার্কির ডিসেম্বর ২০০৬ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
প্যান’স ল্যাবরিন্থ-এর ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে লেখাটি অনুবাদ করেছেন হোসেন মোফাজ্জল।

মাইকেল গিলেন: প্রথমে এবং সর্বপ্রথমে সপ্তাহের শুরুতে বেস্ট ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ ফিল্মে স্যানফ্রান্সসিস্কো ফিল্ম ক্রিটিকস সার্কেলের পুরস্কার পাবার জন্য কনগ্রাচুলেশন।
গিইয়ের্মো দেল তোরো: আই লাভ ইট!
এম গি: সেইসাথে বোর্ডের সবার পক্ষ থেকে তুলনামূলক প্রশংসা এবং নোমিনেশনের জন্য, সঙ্গে সম্প্রতি ঘোষিত বেস্ট ফরেন ফিল্ম হিসেবে গোল্ডেন গ্লোব নোমিনেশন পাবার জন্যে।
দেল তোরো: যা স্রেফ ফ্যানটাস্টিক।
এম গি: …এবং বেশ পাবার উপযুক্তও বটে। প্যান’স ল্যাবরিন্থ নিশ্চিতভাবে আমার কাছে বছরের সেরা ছবি।
দেল তোরো: ফাকিন্ আ!
এম গি: বিদেশী ভাষা যদিও, সে যাই হোক না কেন এটা আমার কাছে বছরের সেরা মুভি; সত্যিকার অর্থে একটা স্বপ্নদর্শী কাজ।
দেল তোরো: ধন্যবাদ আপনাকে।
toro-2
এম গি: আমি প্রথমে প্যান’স ল্যাবরিন্থ দেখি এলগিন থিয়েটারে টরোন্টো ইন্টারন্যশনাল সময়টাতে যেখানে আপনি এবং আইভানা বাকেরো ফিল্মটাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, তারপর আবার এখানে স্যান ফ্রান্সিসকোতে, আজকে সন্ধ্যায় ছবিটি আবার দেখবো যখন স্যান ফ্রান্সসিকো সোসইটিতে দেখানো হবে।
দেল তোরো: আপনি আবার আজকে রাতে দেখতে যাবেন?
এম গি: জ্বী।
দেল তোরো: দ্যাটস্ গ্রেট। আমার মনে হয় কি জানেন? এই ছবিটার একটা ব্যাপার হলো, আপনি প্রতিবারই ছবিটাতে কিছু না কিছু ডিটেইলস খুঁজে পাবেন।
এম গি: আমিও যদ্দুর উপলব্ধি করতে পেরেছি তাহলো এটা ডিটেইলের ক্ষেত্রে খুব সমৃদ্ধ। প্যান’স ল্যাবরিন্থ বোনা হয়েছে পাপমুক্তির সাথে। আপনি কি আমাকে বলবেন কিভাবে ভুল ব্যাপারগুলো শেষ হলো একেবারে সঠিকভাবে?
দেল তোরো: আপনি যে ভাবে বললেন তা আমার পছন্দ হয়েছে। রুফাস ওয়েনরাইটের একটা গান আছে না ওই যে– ‘‘সিগেরেটস এন্ড চকোলেট মিল্ক’’ এই নামে, আমার মনে আছে গানটাতে বলা হয়েছিল ‘‘আমি যা কিছুই পছন্দ করি না কেন তা আমার জন্য সামান্য পরিমাণের হলেও মন্দ হবে?’’ আপনার সহজাত প্রবৃত্তি আপনার বুদ্ধিবৃত্তির তুলনায় আপনাকে চালনা করবে কোনটা আপনার জন্য ভালো এবং আসলে আরও বেশী করে বললে স্বাভাবিকভাবে ভালো। অবাধ্যতা হচ্ছে আপনার বিবেকের জন্য একটা সবচেয়ে শক্তিশালী ইঙ্গিত কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক তা বোঝার জন্য। আপনি যখন বুদ্ধির দিয়ে অগ্রাহ্য করবেন, তখন আপনি স্বাভাবিকভাবে অগ্রাহ্য করবেন, এটা অন্ধ আনুগত্য থেকে আরও বেশী কল্যাণকর হয়ে উঠবে। অন্ধ আনুগত্য খাসি করে দেয়, অগ্রাহ্য করে, লুকায় এবং যা আমাদেরকে মানুষ করে তোলে তা ধ্বংস করে ফেলে। অন্য দিকে, সহজাত প্রবৃত্তি এবং অবাধ্যতা আপনাকে সবসময় সেই দিকে নিয়ে যাবে যা কি-না স্বাভাবিক, জগতের জন্য যা হবে অর্গানিক। তাই আমি মনে করি অবাধ্যতা হচ্ছে একটা সদগুণ আর অন্ধ আনুগত্য হচ্ছে একটা পাপ।
এম গি: আপনি নিষ্ঠুরতাকে এত যৌনউদ্দীপক করে তোলেন কেন? আপনার খলনায়করা হচ্ছে লোমহর্ষক বীর্যবান। প্রথমে দ্য ডেভিল’স ব্যাকবোন-এর এদুয়ার্দো নরিয়েগা; এখন প্যান’স ল্যাবরিন্থে সের্গিও লোপেজ। আপনি আমার জন্য এটা প্রায় অসম্ভব করে তুলেছেন–একজন চিহ্নিত সমকামী পুরুষকে–বিশ্বাস করতে হবে একজন সুদর্শন লোক হিসেবে! [গিইয়ের্মো হাসেন] আপনি আমাকে একটু বোঝান তো– যদি আমি আজকে সন্ধ্যায় শহরে বেড়াতে বের হই– আমি সত্যি বরং ড. জেকিলকে ল্যাবে রেখে মি. হাইডের সাথে বেরুবো।[গিইয়ের্মো আবারও হাসেন]

toro-3দেল তোরো: হয়েছি কী, এটা হচ্ছে যদি কোন লোক নাদুসনুদুস হয়ে বেড়ে ওঠে মানে যে কি-না খুব একটা দর্শনীয় চেহারার না হন তার জন্য প্রতিশোধ। এটাই হচ্ছে বলদদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ। আমাদের জগতের সত্যিকার শয়তান আর ফ্যাসিবাদের একটা বিপদ হলো যা আমি বিশ্বাস করি তা জারি রয়েছে এবং যা বেশ আকর্ষণীয়। এটা অবিশ্বাস্যরকমের এতটাই আকর্ষণীয় যা লোকজন অগ্রাহ্য করে থাকেন। বেশীর ভাগ লোকজন তাদের খলনায়কদের দেখেন কুৎসিত এবং কদর্য হিসেবে এবং আমার মনে হয়েছে, না, ফ্যাসিবাদের রয়েছে আস্ত একটা কনসেপ্ট, কাপড়চোপর নিয়ে রয়েছে আস্ত একটা ধারণা, আছে সেট ডিজাইন নিয়ে, যা দুর্বল চিত্তের লোকজনদের কাছে যেন আকর্ষণীয় মনে হয়। আমি চেষ্টা করেছি সের্হিও লোপেজকে এমনভাবে তৈরী করতে যাতে সত্যিকার অর্থে সব রাজনীতিবিদদের বজ্জাতের হাড্ডির মত দেখায়– চমৎকার পোশাক পড়েন, বেশ পরিপাটি, চমৎকার কথা বলতে পারেন, যখন একজন মহিলা ঘরে প্রবেশ করেন তখন তিনি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান, একজন মহিলা যখন ঘর ছেড়ে যান তখন তিনি আবার চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। বরং আমি বোকালোকদের মত মনে করবো আহা ব্যাপারটা কতো-না ফিটফাট। কাউকে বাইরের চেহারাটা নিয়ে অতটা চিন্তিত হতে কালেভদ্রে দেখা যায়, এরমধ্যে সত্যি সত্যি একটা ঘাপলা আছে। প্রায়শ বরং তার উল্টোটাই সত্যি বলে মনে হয়। যখন লোকজন স্রেফ স্বাভাবিক অবস্থা নিয়ে অস্বস্থি বোধ করেন, স্রেফ ধরেন– আমার চমৎকার একজোড়া জুতো নেই, আমার একজোড়া ভাল প্যান্ট নেই, কিন্তু আমি বেশ আছি– এটাই হচ্ছে সত্যিকার অর্থে স্বস্থির চিহ্ন, যার ভেতরে কিছুটা শান্তি রয়েছে। চরম ব্যাপারটা সিনেমায় অভাবনীয় রকমের শক্তিশালী এবং সত্যিটা হচ্ছে এই ১১ বছরের মেয়েটা তার বাইরের চেহারটা নিয়ে এতোটাই আরাম বোধ করে যার তুলনায় ফ্যাসিস্ট তার নিজের প্রতি এতটাই ঘৃণা বোধ করে যে সে আয়নার সামনে নিজের গলা লম্বালম্বি ফেরে ফেলে এবং ভুলে যায় তাঁর বাবার ঘড়িটার কথা, আর কতো না উদ্ভট ব্যাপার ঘটায়। এটাই মেয়েটাকে যুগিয়েছে শক্তি আর অন্যদিকে লোকটাকে দিয়েছে ক্ষমতার মোহ এবং নিষ্ঠুর হবার পছন্দ। আমরা যা তার মধ্যে পছন্দটা হচ্ছে চাবিকাঠি। আপনাকে বেছে নিতে হবে হয় ধ্বংস অথবা আপনাকে বেছে নিতে হবে প্রেম দেয়ানেওয়া নিয়ে যা ঘিরে রয়েছে সেসব। প্রত্যেকটা পছন্দ নির্ধারণ করে আমরা কে, তার পেছনে যে যুক্তিই থাকুক না কেন, কারণ সবাই আমল দেন তার কাজের পেছনের যুক্তিটাকে, অথবা যুক্তির থেকে কাজটা করার পেছনে যে আইডিয়া কাজ করেছে সেটাকে। এখনকার দিনে কাজের পেছনের আইডিয়াটাকে কাজের থেকে আরও বেশী মূল্য দেয়া হয়।

এম গি: এই দুটোর ভেতরে বৈপরীত্যটা হচ্ছে অসামান্য। গার্ডিয়ান পত্রিকায় মার্ক কা’মোডকে দেয়া আপনার চমৎকার ইন্টারভিউতে আপনি আলাদা করেছেন বাঁকা রেখাকে, জরায়ুজ ডিজাইন এবং ওফেলিয়ার ফ্যান্টাসি জগতের ফেলোপিয়ান কালার প্যালিটের বিপরীতে রংহীন ফ্যাসিস্ট জগতের সমকোণ দিয়ে। এই কমেন্টটা আমাকে মনে করিয়ে দেয় অস্ট্রিয়ার পেইন্টার হুন্দার্তওয়াসার কথা যার একটা লাইন আছে যা আমি বেশ পছন্দ করি: ‘‘সোজা রেখা হচ্ছে ঈশ্বরহীন।’’
দেল তোরো: আমি একমত। কত চমৎকার লাইন! কে বলেছেন?
এম গি: হুন্দার্তওয়াসা
দেল তোরো: ওহ ফাক্। আপনি আমাকে লিখে দিতে পারেন কি?
এম গি: নিশ্চয়।
দেল তোরো: ধন্যবাদ। সোজা রেখাগুলো হচ্ছে পারফেক্টশনের একটা ঘোর। আর পারফেক্টশনটা হচ্ছে অসাধ্য ব্যাপার। পারফেক্টশনটা হচ্ছে এক ধরনের দেমাক। পারফেক্টশনটা আসলে রয়েছে পুরোপুরি ত্রুটিকে ভালবাসার মধ্যে। আমার মনে হয় এটাই পারফেক্টশন। এটা হচ্ছে হেলবয় ছবিতে একটা লোক বলেছিল না তার মতো, উনি বলেছিলেন ‘‘আমরা লোকজনদের পছন্দ করি তাদের গুণের জন্য; আর আমরা তাদের ভালবাসি তাদের ত্রুটির জন্য।” জীবনে এটা সত্য। এটাও সেরকমের। আমার মনে আছে এ্যাডভার্দ মুঙ্ক-এর পেইনটিং দেখে সমালোচকরা প্রথমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন যে এটা কৌশলগত দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ এবং ‘‘দেখতে কুৎসিত।’’ তারা বলেছিলেন ‘‘ উনি কেবল মাত্র বাজে পেইন্টার না, তিনি পছন্দ করেন যতসব ডিজগাস্টিং বিষয়গুলো।’’ এবং আপনি বলেন, ‘‘হোয়াট দ্যা হেল আর ইউ টকিং অ্যাবাউট?’’ মানবজাতিটাই হচ্ছে এরকম। মানুষ হবে ত্রুটিপূর্ণ,অপূর্ণ আর ধরা খাওয়া এবং এর জন্যই আমরা ভালবাসি, এর কারণে না বরং এর জন্যে। আমার মারকেস দ্য সাদের কথাও মনে আসছে যিনি সুন্দর একটা লাইন প্রায়ই বলতেন: তিনি বলেছিলেন, ‘‘প্রবল অনুরাগের বশবর্তী হয়ে কাউকে খুন করার ব্যাপারটা আমি বুঝতে পারি।’’ তিনি বলেন,‘‘ আমি যে কেবল মাত্র এটা বুঝি তা নয়, বরং আমি এই অপরাধটাকে মার্জনা করি। আমি যা বুঝে উঠতে পারি না তাহলো আইডিয়ার জন্য খুন হওয়াটাকে। বা আইনের জন্য। এইটা বিকৃত।’’ কাউকে খুন করা কারণ সে আইডিয়াকে বা আইনটাকে অমান্য করেছে এইটা কেমন? আমি তার সাথে একমত। আমরা কাউকে খুন করার জন্য বা আইন ভঙ্গের জন্য ইলেকট্রিক চেয়ারে পাঠিয়ে দিচ্ছি কিন্তু আমরা আবার কাউকে কাউকে পারপল হার্ট (ইউ এস আর্মি ডেকোরেশন) পড়িয়ে দিচ্ছি কারণ সে ডজন ডজন লোক খুন করেছে ‘‘সঠিক’’ আইডিয়ার জন্য– দেশপ্রেম, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, যে বালের নাম আপনি উদ্ভাবন করেন না কেন তার জন্য– আমি মনে করি তা পুরোপুরি বিকৃত।

এম গি: এটা পাগলামীর কাছাকাছি। আপনার আগের সব ফিল্মগুলোতে লক্ষণীয়ভাবে দেখা যায় খোলামেলাভাবে আপনি ক্যাথলিক চিত্রকল্প ব্যবহার করেছেন, কিন্তু প্যান’স ল্যাবরিন্থে পুরোপুরি ব্যাপারটাকে পরিহার করেছেন, তারপরও আপনার বন্ধু ইনয়াররুতি বলেছেন সম্ভবত এটাই হচ্ছে আপনার সবচেয়ে বেশী ক্যাথলিক ফিল্ম।
দেল তোরো: উনি তাই বলেছেন, জ্বী।
এম গি: দৃশ্যমান ক্যাথলিক ডিটেইলস বাদ দেয়াটা কি স্রেফ একটা কাকতালীয় ব্যাপার ছিল? নাকি গৃহযুদ্ধ কালের ফ্র্যাঙ্কোর সময়টাতে চার্চের অবস্থান এবং তার প্রতি সমবেদনা এমন একটা কিছুকে আপনি বিবেচনা করে ছবিটির প্রতীকি কৌশল নির্ধারণের পরিকল্পনা করেছিলেন?
দেল তোরো: আমি যখন দ্যা ডেভিল’স ব্যাকবোন ছবিটা নিয়ে গবেষণা করছিলাম, আমি একটা ব্যাপার লক্ষ্য করে রীতিমত ভয় পেয়ে যাই– কেবল মাত্র দুস্কর্মের সহযোগিতা না– স্পেনের ফ্যাসিস্ট আন্দোলনের পুরো সময়টা জুরে চার্চের অংশগ্রহণ ছিল। প্যান’স ল্যাবরিন্থের টেবিলের সামনে বসে ধর্মযাজক যে কথাগুলো বলেছেন তা নেয়া হয়েছিল ফ্যাসিস্ট কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে রিপাবলিকান কারাবন্দীদের সামনে একজন ধর্মযাজক যা বয়ান দিতেন তার সাথে অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে। ধর্মযাজক এসে তাদের কমিয়্যুন করাতেন এবং যাবার আগে অবশ্য বলে যেতেন, ‘‘মনে রেখো, আমার পুত্ররা, তোমরা যা জানো তা কবুল করো কারণ তোমাদের শরীরের কি হবে না হবে তা নিয়ে ঈশ্বরের কিছু যায় আসে না; তিনি এরই মধ্যে তোমাদের আত্মাকে রক্ষা করেছেন।’’ এটা একেবারে অক্ষরে অক্ষরে নেয়া হয়েছে সেই বয়ান থেকে। পেইল ম্যান আমার ধারনায় চার্চকে রিপ্রেজেন্ট করে, আপনি জানেন? [সে] ফ্যাসিবাদকে রিপ্রেজেন্ট করে এবং চার্চ বাচ্চাদের গিলছে যখন তাদের সামনে অস্বাভাবিক রকমের প্রচুর খাবার টাল হয়ে আছে। মাসুমদের গেলার জন্য তারা হা হয়ে আছে। পবিত্রতাকে গেলার জন্য তারা ক্ষুধার্ত। আমি এটাকে পরিহার করতে চাই নি, কিন্তু আমি ক্যাথলিক চিত্রকল্প চাই নি। সে যাই হোক, আমি বুঝতে পেরেছি রক্ত দিয়ে পাপমোচন এবং উৎসর্গের মধ্যদিয়ে পুনর্জন্ম হচ্ছে একটা ক্যাথলিক দেমাক। তাই আমি এটাকে মেনে নিয়েছি কোন রকম ঝামেলা ছাড়া কারণ আমি মনে করি সেক্সুয়ালিটি এবং ধর্ম এগুলো একজন অল্প বয়স থাকতেই তার ভেতরে গেঁথে যায়। ছোট বয়সে যা আপনার চেতনা বা আপনার দেহকে জাগ্রত করে, তাই আপনার বাকিটা জীবনকে জাগিয়ে রাখে। সবকিছু তার অধীনে চলবে। এটা হচ্ছে ব্যক্তিগত পছন্দ এবং এটা হচ্ছে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। একজন পদস্খলিত ক্যাথলিক হিসেবে আমি নিজেকে নিয়ে লজ্জাবোধ করি না এবং তাই যদি আমার ছবিতে সেই সৃষ্টিতত্ত্ব চলে আসে, তাতে আমি নাখোশ না।

প্যান’স ল্যাবরিন্থের ড্রয়িং খাতা

এম গি: আমি যখন মিথোলজিস্ট জোসেফ ক্যাম্বেলের ছাত্র, তিনি আমাকে শিখিয়েছিলেন কোন না কোন ভাবে যেভাবে ৬০ দশকের বাচ্চারা পূর্বদেশীয় অতীন্দ্রিয়বাদ নিয়ে ভীমরতিগ্রস্থ হয়েছিল তা অযথা ছিল। তারা এর থেকে শিখতে পারতো। তারা এটা থেকে আনন্দ পেতে পারতো। কিন্তু সত্যিকার অর্থে এটা তাদের পথ না তারা যতভাবেই তা চান না কেন, তারা অন্তরের অন্তস্থলে খ্রিস্টান তাই তাদের আধ্যাত্মিক বিষয়গুলো মেটাতে হবে খ্রিস্টান উপায়ে। তাদের টেমপ্লেট বা আপনি যাকে বলেন ছাপ্পর মারা–সব আগের থেকে ঠিক হয়ে আছে।
দেল তোরো: সব সময় পশ্চিমা লোক পাবেন যারা পূর্বের দিকে তাকিয়ে থাকেন। আপনার পা যেখানেই থাকুক না কেন তা আপনার দেখাটাকে সীমাবদ্ধ করে না, বরং আপনি কোন পরিপ্রেক্ষিতে বিচারটা করবেন তাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলে।
এম গি: আপনার অবস্থানটা কোথায়?
দেল তোরো: আমি চাইলে তাওইজমের উপর লেখা সবগুলো বই পড়ে ফেলতে পারি; আমি একজন ক্যাথলিক বেটা হওয়া সত্ত্বেও। এটা এড়ানোর কোন উপায় নেই।
এম গি: প্যান’স ল্যাবরিন্থে আরেকটা থিমেটিক ইমেজ আমার চোখে পড়ে তা হলো ওফেলিয়া এবং মেরসেদেজের সম্পর্কটা। প্রথমে আপনি ল্যাবরিন্থের মাঝখানে পাথরের টুকরোর উপর ফন/ফাদারের চিত্র তৈরী করেছেন, মেয়েটা এবং বাচ্চাটা; তারপর দেখালেন ওফেলিয়া তার শিশু ভাইটাকে জড়িয়ে রেখেছে; তারপর ওফেলিয়া মারা গেল এবং মেরসেদেজ ওফেলিয়ার শিশু ভাইটাকে জড়িয়ে রাখলো। এই তিনটা চিত্র আমার কাছে সমান মনে হয়েছে এবং একটা আরেকটার প্রতীকি বিকল্প হিসেবে কাজ করেছে, ওফেলিয়া এবং মেরসেদেজের মধ্যে একটা সমান্তরাল সংযোজনকে কটাক্ষ করেছে। ওফেলিয়া এবং তার মায়ের মধ্যকার থেকে আরও বেশী করে।

দেল তোরো: আপনি একদম পুরোটাই ঠিক। আমি অবাক এবং খুশী হয়েছি। আপনি পুরস্কার জিতেছেন। আপনিই একমাত্র যে ব্যাপারটা লক্ষ্য করেছেন। আমি আপনাকে অনেক সাধুবাদ জানাই। আমার ভাবনা ছিল আপনি একজন, আপনি জন্মেছেন মায়ের সাথে তারপর আপনি দেখলেন আরেকজন আসছে। আপনি জন্মেছেন ভাইয়ের সাথে তারপর আপনি খুঁজে পেলেনে আরেকজন আসছে। আপনি আপনার পরিবারটাকে বানিয়ে নিচ্ছেন যতই আপনি বড় হচ্ছেন। মেরসেদেজ হচ্ছে ওফেলিয়ার ভবিষ্যত যদি না ওফেলিয়া তা বিশ্বাস করা বাদ দেয়। ওফেলিয়া মেরসেদেজকে জিজ্ঞেস করে, ‘‘তুমি কি পরীতে বিশ্বাস করো?’’ এবং মেরসেদেজ উত্তর দেয়, ‘‘ আমি যখন বাচ্চা ছিলাম তখন বিশ্বাস করতাম। আমি যেসব বিশ্বাসে অভ্যস্ত ছিলাম এখন আর সেসব বিশ্বাস করি না।” সে কারণেই আকর্ষণটা এত গভীর। তারা একজন আরেকজনকে দেখে। তারা তাদের শক্তিটাকে দেখে। মেরসেদেজ মেয়েটার পবিত্রটাকে ভালবাসে আর ওফেলিয়া স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মহিলাটির চরিত্রটাকে বুঝতে পারে। তারা তৈরী করে মা এবং মেয়ের বন্ধন। এজন্য এটা আমার কাছে এতোটা দুঃখজনক যখন শেষের দিকে মেরসেদেজ [ওফেলিয়ার জন্য] এই ভেবে কাঁদে কারণ মেরসেদেজের জন্যই মেয়েটি মারা গেল, যদিও আমরা জানি মেয়েটা সে কারণে মারা যায় নি। এটাই বড় ধরনের ক্যাথলিক ব্যাপার। [ওফেলিয়া] তার ভেতরে সবচেয়ে ভাল জায়গটায় রয়ে গেছে। সে হয়তো সত্যিকার ভাবেই তার বেঁচে থাকাটা পরিহার করেছে কিন্তু এখানে আমি মনে করি ছবিটার উপসংহারটা অবিশ্বাস্যরকমের জরুরী এবং মর্মস্পর্শী। আপনি যদি মারা যান আপনার জন্য এটা বড় পাওয়া হবে একটা শুকনো গাছে একটা ছোট ফুল ফুটলে, এটা আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া বলে মনে হয়। আর তা হচ্ছে একটা মোহনীয় লিগ্যাসি। মেয়েটা যা করেছে তা যদি সে না করতো, গাছটাতে কোনদিনই ফুল ফুটতো না, কিন্তু মেয়েটা যেহেতু তা করেছে, ছোট একটা ফুল ফুটেছে। অন্যদিকে, মেয়েটা মারা গেছে শান্তিতে। সে মারা গেছে শান্তিতে যেভাবে সে ছিল সেভাবেই। ছবিটাতে মেয়েটিই একমাত্র চরিত্র যে বেছে নিয়েছিল কোন প্রকারের জোর জবরদোস্তিতে যাবে না। কারুর জীবন নেবে না। এমন কি ডাক্তার পর্যন্ত একজনের জীবন নিয়েছেন। কিন্তু মেয়েটিই একমাত্র যে বেছে নিয়েছিল ‘‘আমি কারুরই জীবন নিব না কারণ ফ্যাসিস্টের মৃত্যু হচ্ছে সবচেয়ে নিঃসঙ্গ মৃত্যু যা আপনি যতদূর পর্যন্ত ভাবতে পারেন এবং মেয়েটা … [আমার মনে পড়ে] কিয়ের্কেগার্দের একটা উদ্ধৃতির কথা, যেখানে তিনি বলেছিলেন ‘‘স্বৈরাচারী শাসকের শাসন শেষ হয় তার মৃত্যুতে। আর শহীদদের শাসন শুরু হয় সেখান থেকে।” এটাই হচ্ছে লিগ্যাসি– যত ছোটই হোক না কেন ব্যাপারটা– যা [ওফেলিয়াকে] এই এ্যাপিসোডটাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। সিনেমাটা হচেছ একটা রোসাখ টেস্ট (Rorschach test)১ এর মতো যেখানে, আপনি যদি এটা দেখেন এবং আপনি তা বিশ্বাস করেন না, তবে আপনি মুভিটাকে দেখবেন এভাবে ‘‘ও, এই ছিল মেয়েটার মনে!’’ আপনি যদি একজন বিশ্বাসী হয়ে দেখেন, তাহলে আপনি স্পষ্ট দেখবেন আমি কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, যা হচ্ছে বাস্তব। ছবিটাতে আমার শেষ বস্তুগত ছোট শাদা ফুল মরা গাছে ফুটে উঠেছে যেখানে একটা পোকা তা দেখছে। ইত্যাদি ….

এম গি: আমার ভাল লাগলো এটা শুনে। যারা আপনার ছবিটা দেখেছেন তাদের মধ্যে এই ক্যাচালটা চলছিল। ওফেলিয়া কি তার ফ্যান্টাসি জগতে? এটা কি বাস্তব জগত? আমি বলেই চলেছিলাম এই ধরনের প্রশ্ন তোলাটা একটা ঝুটা ডাইখোটমির দাবি তোলে।
দেল তোরো: হ্যাঁ, নিশ্চয়। এবং এটা বদ্ধমূল ধারণা। যদি সিনেমাটা একখন্ড গল্পবলার মতো হিসাবে কাজ করে, একখন্ড শৈল্পিক সৃষ্টি হিসেবে, এটা সবার কাছে কিছুটা ভিন্নভাবে বলা যাবে। এটা হতে পারে ব্যক্তিগত আলাপ আলোচনার বিষয়। এখন নিরপেক্ষভাবে যদি বলি, আমি এটাকে যেভাবে দাঁড় করিয়েছি, সিনেমাটাতে তিনটা যোগসূত্র রয়েছে যা আপনাকে বলে দিবে আমার অবস্থানটা কোথায়। আমি যেখানে অবস্থান নিয়েছি তা হচ্ছে বাস্তব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্রটা হচ্ছে সবার শেষে ফুলটা, এবং সত্যিটা হচ্ছে চিলেকোঠা থেকে ক্যাপ্টেইন-এর অফিসে যাবার জন্য খড়ি দিয়ে আঁকা দরজাটা ছাড়া বাড়তি কোন পথ ছিল না।
এম গি: জ্বী, এবং আবার সেই উল্লেখে ফিরে আসতে হয় তাদের যুগল দৃঢ় চরিত্রের কাছে, মেরসেদেজ লক্ষ্য করেছেন খড়ি দিয়ে আঁকা দরজাটা, সেটা কেবল মাত্র ওফেলিয়ার কল্পনায় ছিল না।
দেল তোরো: নিরপেক্ষভাবে, এ দুটো যুগসূত্র আপনাকে যা বলছে তা বাস্তব। তৃতীয় যুগসূত্রটা হচেছ মেয়েটা তার সৎবাবার কাছ থেকে দৌড়ে পালাচ্ছে, সে আখেরে একটা জায়গায় এসে পৌঁছায়, কিন্তু যখন তার সৎবাবা এসে সেখানে পৌঁছান তখন দেখে মেয়েটা নেই। কারণ দেয়ালটা মেয়েটার জন্য খুলে গেছে। বেশ দুঃখিত, এখানে যে যোগসূত্র রয়েছে তা আপনাকে বলবে কোথায় আমি অবস্থান করছি এবং কোথায় আমি ফ্যান্টাসি নিয়ে অবস্থান করছি। এসব হচ্ছে বস্তুগত জিনিস যা আপনি চান। ছবিটা হচ্ছে লোকজন কোথায় অবস্থান করছেন তার একটা রোসাখ টেস্ট।

এম গি: দ্যা টেলিগ্রাফ পত্রিকায় উইল লরেন্সের সাথে দেয়া আপনার ইন্টারভিউতে আপনি উল্লেখ করেছিলেন: ‘‘প্রত্যেকের জীবনে একটা সময় আসে যখন তাদের সুযোগ আসে অমর হবার, আক্ষরিক অর্থে না, কিন্তু এরকম একটা মুহূর্তে তাদের কিছু যায় আসে না মৃত্যু নিয়ে–তারপর তারা অমর হয়ে যায়।” আপনি কি এ ব্যাপারটা নিয়ে আরেকটু বলবেন? আমার মনে হয়েছে এটা ছিল একটা চিত্তাকর্ষক মন্তব্য।
দেল তোরো: ব্যাপারটা এররম। আমার বাবাকে অপহরণ করা হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। সত্যিকার অর্থে তাকে ৭২ দিন জিম্মি করে রাখা হয়েছিল, ঠিক আছে? প্রথম দিন আপনি ভাবতে শুরু করলেন আপনি মরতে যাচ্ছেন। দ্বিতীয় দিনে আপনি সম্পূর্ণ নিশ্চিত আপনি আর বাঁচতে পারছেন না। তৃতীয় দিনে আপনি সামনে পিছে না ভেবেই নিশ্চিত এই ব্যাপারটা যে কোন মুহূর্তে ব্যাপারটা ঘটবে কারণ আপনি বুঝে ফেলেছেন এটা নরক ছাড়া আর কি। তারপর এমন একটা সময় আসবে যখন আপনি বুঝতে পারবেন আপনাকে বন্দি করা হয়েছে তার সাথে। আপনি একই সাথে জিম্মি অবস্থারও একজন জিম্মি। এমন একটা মুহূর্ত যখন আপনি নিজে সংকল্পবদ্ধ হবেন নিজেকে মুক্ত করতে কারণ আপনি তাই। আপনি বলবেন, ‘‘এটা যদি সত্য হয় আমি একজন বন্দি, এটাও কিন্তু সত্য আমি বন্দি না।’’ একটা সময় আসবে আপনি আবার চলতে শুরু করবেন। আপনার তাই ইচ্ছে করবে। মানুষজন যেভাবে অমরত্বের কথা বলেন, তখন অমরত্বটা মনে হয় একটা সবচেয়ে মর্যদাহানিকর শব্দ। একটা লোক যদি ১৮০ বছর বা ১০০০ বছর বাঁচেন এটাই অমরত্ব? এটা এমনটা না। এটা দৈহিক ভাবে অসম্ভব। আমি তাতে বিশ্বাস রাখি না। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি অমরত্বটা হচ্ছে এমন একটা ফর্ম যা হচ্ছে: আপনি যদি ভাবেন আপনার জীবনটা নিয়ে আপনি কি কি করবেন সে রকম একটা দীর্ঘ লন্ড্রি লিস্টের মত, যেখান আমাকে আমার পাছা মুছতে হবে, দাঁত মাজতে হবে, কাপড় পাল্টাতে হবে, শুতে হবে, ওর‌্যাল সেক্স করতে হবে, এসব জিনিস, আপনাকে তাই করতে হবে। আপনাকে আপনার চেকলিস্ট ধরে ধরে যেতে হবে, ঠিক তো? আরেকটা ধরেন: মারা যাওয়টা। এসবের মধ্যে থেকে যেকোন একটা বাকি অন্যগুলোর থেকে বেশী গুরত্ব পাবে কেন?। যে মুহূর্তে এটা থেমে যাবে সেটাই হবে গুরুত্বপূর্ন- আপনার মৃত্যু, অন্য লোকজনদের মৃত্যু নয়; আমার আসলেই সত্যিকার অর্থে তখন বেশ কঠিন সময় গেছে কারণ এমন একজন লোক মারা যাচ্ছেন যার জন্য আমি দরদ বোধ করতাম, কিন্তু আমার ব্যক্তিগত জীবনে মারা যাওয়াটা গুরুত্বহীন একটা ব্যাপার, অনেকটা আমার জুতা এবং আমার মোজা পাল্টনোর মত বা আমার দাঁত মাজার মত। এটা স্রেফ আমাকে আরেকটা জিনিস করতে হবে সেরকম। এটা লন্ড্রি লিস্টের একটা অংশ। তাই আপনি সেই মুহূর্তে পান একধরনের অমরত্ব, তার মানে আপনি মৃত্যু থেকে মুক্ত। এটাই আসলে রয়েছে প্যান’স ল্যাবরিন্থ এর ভেতর। যদি লোকজন মনোযোগ দিয়ে দেখেন, মেয়েটাকে বলা ফনের সুনির্দিষ্ট কথাগুলো হচ্ছে: ‘‘তোমাকে অবশ্যই আকাশে পূর্ণ চন্দ্র উঠার আগে তিনটা পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। তোমাকে নিশ্চিত হতে হবে যেন তোমার আত্মা অক্ষত থাকে, তার বিনাশ না ঘটে।” এটাই পরীক্ষার আসল উদ্দেশ্য। এটা এমন না যে মেয়েটা ছোরাটা পেল এবং সে চাবিটা পেল, এগুলোই হচ্ছে পরীক্ষাটার ম্যাকানিকস, ম্যাকানিকস যাতে মেয়েটা ভুলের পথে পা বাড়ায়। সে যেন পরীক্ষায় বিপত্তি ঘটায়। পরীক্ষার ম্যাকানিকসগুলোতে মেয়েটা উতরে যায়। তার নিজের উপর আস্থা ছিল। সে তাই করেছে যা তার কাছে সঠিক মনে হয়েছে। সে ইতস্তত করছিল কিন্তু, যখন সত্যিকারের পরীক্ষা এসেছে, যখন সে আর কোন উপায় না পেয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে– হয় মারো নয়তো নিজের জীবন শেষ করো। সে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছে বাচ্চাটার বদলে। এটাই হচ্ছে আসল পরীক্ষা। এটাই মেয়েটাকে অমর করেছে। এটাই তাকে বানিয়েছে তা যা তাকে নশ্বর হতে দেয় নি… তাই মুভিতে সবগুলো পরীক্ষা ছিল একটা ভুল নিদের্শনা এবং আপনি সত্যিকারে আবার গিয়ে ছবিটা দেখেন এবং বুঝতে পারেন যে আমার থিসিসটা ছিল ফনই, আসলে পেইল ম্যানের আরেকটা ভোল। তার আরেকটা ভোল সে ধাপ্পাবাজ। ফনও তাই ছিল। এবং প্রমাণ হিসেবে মুভিটার শেষে মেয়েটি গিয়ে তাঁর বাবা এবং মা এবং শিশুটার সাথে মিলিত হয় অন্য জগতে, পেইল ম্যান যে পরীগুলোকে খেয়ে ফেলেছিল তারা ছিল মেয়েটার পাশে। সেই একই পরীগুলো, যাদের আমি রাঙিয়েছি তিনটি রং দিয়ে– সবুজ, নীল এবং লাল দিয়েÑ– তাই যখন তারা আবার আর্বিভূত হয় আপনি বুঝতে পারবেন, ‘‘ ও, এইতো সেই সবুজ, নীল আর লাল পরীগুলো।”
এম গি: এ’ জন্যে আমি আজ রাত্রেও আবার ছবিটা দেখবো।
দেল তোরো: আজকে রাতেও দেখবেন! মুভিটার সবচেয়ে বড় ব্যাপার আর সৌন্দর্যটা হলো যে আপনি অনেক অনেক বার ছবিটা দেখতে পারেন এবং প্রত্যেকবার আপনি খুঁজে পাবেন নতুন ছোট একটা পট এবং নতুন একটা ছোট ডিটেইল।
এম গি: তা হলে তো বেশ, আমি আশা করি আমার আরও বহুবার ইন্টারভিউ নেবার সুযোগ হবে যদি আমি বারবার প্যান’স ল্যাবরিন্থ ছবিটা দেখার সুযোগ গ্রহণ করি। কিন্তু এখন আমাদের উঠতে হচেছ। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
দেল তোরো: আপনাকে ধন্যবাদ। ভাল লাগলো।

১.রোসাখ টেস্ট যা রোসাখ ইন্কবোল্ট টেস্ট বা দ্যা রোসাখ টেকনিক বা শুধুমাত্র ইন্কবোল্ট টেস্ট হিসেবেও পরিচিত। সুইস মনোবিজ্ঞানি হারমান রোসাখ এটি তৈরী করেন। একধরনের মন¯তাত্ত্বিক টেস্ট যা দিয়ে সাইকোলোজিকাল ইন্টারপ্রেশন এবং জটিল আলগোরিদমের সাহায্যে পারসেপশন পরীক্ষা করা হয়। যার সাহায্যে চিন্তার অসুস্থতাকে খুঁজে বের করা হয় যখন রুগি তার চিন্তার প্রক্রিয়াগুলোকে সহজে ব্যাখ্যা করতে চান না।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (0) »

এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com