সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: সিরিয়াস সাহিত্যের গুরুত্ব, নতুন আয়রনম্যান ও এলবির প্রয়াণ

নাহিদ আহসান | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৯:১২ অপরাহ্ন


সিরিয়াস সাহিত্যের গুরুত্ব

Readerপাঠকের মনে সংবেদনশীলতা সৃষ্টিতে সাহিত্যই শ্রেষ্ঠ। কিন্তুু প্রশ্ন হলো কোন সাহিত্য। সাহিত্যের রয়েছে বহু শাখা যার একটা ধারা হচ্ছে সমকালে অজনপ্রিয় কিন্তু ধীরে ধীরে তা জনপ্রিয় হতে থাকে অর্থাৎ যাকে আমরা চিরায়ত সাহিত্য বলি। আর অন্য একটি ধারা হচ্ছে জনপ্রিয়। কিন্তুু সাহিত্যের জনপ্রিয় ধারা কোনগুলো–সেটা কি আপনি জানেন? সেটা থ্রিলার হতে পারে, রোমান্স হতে পারে কিংবা অ্যাডভেঞ্চারও হতে পারে, এমনকি উচ্চবিত্তের জীবন যাপন নিয়ে লেখা উপন্যাসও সাহিত্যের জনপ্রিয় ধারার মধ্যে পড়তে পারে। কিন্তু যা উন্নত সাহিত্য তা কিন্তু শুধু বিনোদনের যোগান দেবে না, মানুষকে চিন্তার খোরাক দেবে, হৃদয়ের গভীর গোপন তলদেশে আলোড়ন তুলবে, অন্যের অনুভূতি বুঝতে সাহায্য করবে। সালমান রাশদী, হার্পার লি এবং টনি মরিসনের মত লেখকরা পাঠকদের অন্যের অনুভূতি বোঝার মত মন তৈরি করতে সাহায্য করেন। কিন্তু ডেনিয়েল স্টীল বা ক্লাইভ কাসলারের মত লেখকরা সেটা পারেন না। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় তাই প্রমাণিত হয়েছে। প্রসঙ্গত ডেনিয়েল স্টীলের প্রিয় বিষয় উচ্চবিত্তদের জীবনের নানা সমস্যা। যারা টিভি সিরিজ ‘ডালাস’ দেখেছেন, তারা বুঝতে পারবেন বিষয়টি কী। এখনকার হিন্দি সিরিয়ালেও জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য এ বিষযটিকে উপজীব্য করা হয়। ভারতের শোভা দের লেখালেখির মূল পটভূমিও কিন্তু তাই। ক্লাইভ কাসলারের প্রিয় বিষয় থ্রিলার যার মূল কাজ শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনার সৃষ্টি করা। থ্রিলার বা উচ্চবিত্তের জীবনযাত্রা –এইসব ঘরানার লেখা পাঠক পড়তে ভালবাসে। কিন্তু পাঠকের মননের মৌলিক উৎকর্ষে বা অন্যের মনস্তত্ব বোঝার ক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এদের কোন ভূমিকা নেই। সাহিত্যের লেখকরাই পাঠকদের মন ও মনন তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। হার্পার লি এবং টনি মরিসনের মত লেখকদের সাহিত্য পাঠ, পাঠককে বুঝতে সাহায্য করে অন্যের চিন্তা-ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি।

নিউ ইয়র্কের নিউ স্কুল অফ সোশাল রির্সাচ-এর শিক্ষাবিদ ডেভিড কিড ও ইমানুয়েল কাসতানো, এক হাজার জনের মধ্যে একটি ‘লেখক সনাক্তকরণের’ পরীক্ষা করেন। এর বিষয় ছিল পাঠকরা কতটুকু উপন্যাস পড়েন সেটা যাচাই করে দেখা। এদের মধ্যে লেখক, অলেখক, ভিন্ন ঘরানার লেখক ও সাহিত্যের লেখকদের একটি তালিকা ছিল। এরপর গবেষকরা সবা্ইকে ‘রিডিং দ্য মাইন্ড টেস্ট”-এ অবতীর্ণ হতে বলেন। সেখানে মানুষের বিভিন্ন অভিব্যক্তির ছবি দেয়া হয় এবং আলাদাভাবে কিছু আবেগের নাম দেয়া হয়। এরপর বিভিন্ন মানুষের অভিব্যক্তির সাথে কোন আবেগটি সবচেয়ে খাপ খায় তা ম্যাচ করতে বলা হয় । Psychology of Aesthetics, Creativity, and the Arts এ প্রকাশিত একটি জার্নালে, তারা এর ফলাফল প্রকাশ করেন। দেখা গেছে, যারা বেশী সংখ্যক সাহিত্যিকদের চিনতে পেরেছেন, তারা সেইসব অভিব্যক্তির আবেগও সঠিকভাবে সনাক্তকরণে সফল হয়েছেন। প্রকৃত সাহিত্যের সাথে ভিন্ন ঘরানার লেখার পার্থক্য কোথায়, তার ব্যাখ্যা তারা দিয়েছেন। এসব লেখা বিভিন্ন সূত্র মেনে চলে। এদের বিষয়বস্তু, কাহিনীকাঠামো সবই র্নিদিষ্ট। অন্যদিকে সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নন্দনতত্ত্ব এবং চরিত্রের বিকাশ। এখানে পূর্ব-নির্ধারিত কাঠামো ও বিষয়বস্তুর তেমন গুরুত্ব নেই। ২০১৩ সালে তাদের এক গবেষণার জিজ্ঞাসা ছিল: সাহিত্য কি মানুষের মানসিকতার ওপর প্রভাব বিস্তার করে? লেখা ও লেখকের ভিন্নতা বোঝানোর জন্য পাঠকদেরকে ৮৫০ শব্দের কিছু লেখার নমুনা দেয়া হয়, যেখানে ফ্যাক্টর অ্যানালাইসিস নামক একটি টেকনিক ব্যবহার করা হয়েছে। তারপর পরীক্ষা করে দেখা হয়, থিওরী অভ মাইন্ড পারফরমেন্সের সাথে তার সম্পর্ক। থিওরী অভ মাইন্ড হলো নিজের এবং অন্যদের বিশ্বাস, আকাঙ্ক্ষা, উদ্দেশ্য এবং দৃষ্টিভঙ্গির যে বিভিন্ন দিক আছে তা বোঝার ক্ষমতা। পরীক্ষার ফলাফল ছিল এই যে– মনের ওপরে সাহিত্যের তাৎক্ষণিক প্রভাব আছে। দেখা গেছে,যাদের শুধুই সাহিত্যের অংশ পড়তে দেয়া হয়েছিল, অন্যান্য জনপ্রিয় ঘরানার লেখা দেওয়া হয়নি,তারাই সবচেয়ে বেশী ভাল করেছে। এমন ফলাফলের কারণ হিসেবে তারা মনে করেন–মানুষের মন ও মস্তিষ্কের ভেতরকার জটিলতা। সাহিত্যে একটি চরিত্রের ওপর নানাভাবে আলো ফেলা হয়। পাঠক এর ভেতর দিয়ে চরিত্রকে বুঝতে শেখে। তত্ত্ব প্রণেতারা অবশ্য জোর দিয়ে বলেছেন, সাহিত্যের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ তাদের উদ্দেশ্য নয়। তারা শুধু বলতে চান, সমাজ বাস্তবতার ওপর প্রত্যেক ঘরানার লেখার প্রভাব আলাদা। সাহিত্যে চরিত্রদের নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। তাদের কোনো শ্রেণীতে ফেলা যায় না। পক্ষান্তরে, জনপ্রিয় ঘরানার লেখার চরিত্রদের সনাক্ত করা সহজ। জনপ্রিয় ঘরানার লেখার হয়তো অন্য কার্যকারিতা আছে। মানবমন ও সমাজের ওপর বিভিন্ন ধরনের লেখার বিভিন্ন প্রভাব বের করাই গবেষকদের উদ্দেশ্য। সারা জীবন যারা সাহিত্য পড়েছেন তাদের ওপর সাহিত্যের প্রভাব কেমন এ নিয়েও তাদের গবেষণা করার ইচ্ছা আছে। দেখা যাক, সেই গবেষণার ফলাফল কী দাঁড়ায়।

আয়রন ম্যানের নতুন সিরিজ

Iron-womanরিরি উইলিয়াম্স আয়রনম্যান সিরিজের নতুন নারী উত্তরসুরী, এবার আয়রন ম্যান বা বৃহত্তর অর্থে সুপারহিরোদের জগত কিছুটা বদলে দেবেন। বায়োনিক উওমেন বা সুপার উওমেন শুনলে যেন মনে হয় যেন, পুরুষের সমকক্ষ হবার জন্য মেয়েরা চেষ্টা করছেন।
তাই দুঃস্বপ্ন জাগানিয়া, নেপথলিনের গন্ধমাখা আয়রন মেইডেন( Iron Maiden) নামটি নাকচ করা হয়। সেকেলে Iron Woman (আয়রন উওম্যান) হয় পরিত্যক্ত। স্পাইডার-ম্যান (Spider-Man),মাইলস্ মোরাল (Miles Morale)-এর স্রষ্টা এবং আয়রন ম্যান-এর রচয়িতা ব্রায়ান মিশেল বেন্ডিস বলেন, নতুন চরিত্রটির নাম রাখা হবে আয়রন হার্ট।
ঝকঝকে এই নামটির উদ্ভাবক জো কিসাদা (Joe Quesada)। যদিও এর রূপায়ন করবে একটি মেয়ে- তবুও সেই মেয়ে যেন নারীপুরুষ র্নিবিশেষে আয়রনম্যান প্রতীকেরই প্রতিনিধি। রিরি উইলিয়াম্স একজন তরুণ প্রতিভা। তিনি তার বিশ্ববিদ্যালয় এম আই টি-এর ডর্মে বসে নিজের জন্য উপযুক্ত লৌহ পোশাক তৈরি করেন। আয়রন ম্যান সিরিজে এই চরিত্রটির আর্বিভাব হবে এবছর নভেম্বরে।
রিরি উইলিয়াম্স কেন প্রথমেই লৌহবর্ম দিয়ে তার হৃদপিন্ড ঢাকেন,তার কারণ ভিন্ন। টনি র্স্টাকও তাই করেছিলেন, তবে তার কারণটা ছিল হৃদপিন্ডের সুরক্ষা। Iron Heart নামটি কেন সার্থক সিরিজটি শুরু হলেই সবাই বুঝতে পারবেন।
‘মার্ভেল কমিকস’ আমেরিকার বিখ্যাত কমিক বইয়ের প্রকাশক। তাদের সৃষ্ট সুপারহিরোরা সবাই বিশ্বখ্যাত- আয়রনম্যান, ক্যাপ্টেন আমেরিকা, হ্লাক, থর, স্পাইডার ম্যান, অ্যান্টম্যান যা থেকে পরর্বতীতে টিভি সিরিয়াল বা মুভি তৈরি হয়।
ব্রায়ান মিশেল বেন্ডিস, ‘Time’ ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, নতুন কোন সুপারহিরোর আবির্ভাব ঘটলে মানুষজনের মধ্যে কেমন যেন অস্বস্তিবোধ কাজ করে। তাদের মধ্যে হায় হায় রব ওঠে। তারা মনে করেন, তাদের শৈশবের সুপার হিরোদের উপর এটা এক ধরনের আগ্রাসন। অনেক সময় তারা নিজেরাও বোঝেন না তাদের কথাবার্তা কিরকম বর্ণবাদী। যেমন লোকজন বলেন, রিরি উইলিয়াম্স (কৃষাঙ্গী) এর কি দরকার ছিল? টনিই তো ভাল ছিল।
আসলে তারা জানে না যে, প্রত্যেক সুপারম্যানই স্বতন্ত্র। তা সে ক্যাপ্টেন আমেরিকাই হোক বা মুসলিম সুপার হিরো কামলা খানই হোক। বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ চায় তাদের সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব।
বেন্ডিস আরও বলেন, তবে তার মানে এই নয় যে, “আমরা মিটিং করে পরবর্তী সুপার ম্যানের পরিকল্পনা করি। খুব স্বাভাবিকভাবেই সুপারম্যানের জন্ম হয়। আমাদের চারপাশের জগত থেকেই তার প্রেরণা পাই। জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ধারার প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছাও ঠিক আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে থাকে না ।”
সিরিজটির সম্পাদক টম ব্রেভউর্ট (Tom Brevoort )বলেন পূর্ববর্তী টনি র্স্টাক থাকবেন আগের মত্ই এই ছবিতে। মানে তিনি না থাকলেও তার অদৃশ্য প্রভাব থাকবে। রিরি উইলিয়ামস-এর ব্যক্তিত্বে তার ছায়া থেকে যাবে।

এডওয়ার্ড এলবির প্রয়াণ

Albee গত ১৬ই সেপ্টেম্বর,২০১৬ প্রয়াত হন এডওয়ার্ড এলবি যিনি আমেরিকার সর্বশ্রেষ্ঠ নাট্যকারদের একজন। তার জন্ম হয় ১৯২৮ সালের ১২ই মার্চ। তার অসামান্য নাট্যপ্রতিভার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি তিনবার পুলিটজার পুরষ্কার পেয়েছিলেন। তার বিশ্ববিখ্যাত নাটক হচ্ছে ‘হু ইজ অ্যাফরেড অফ ভার্জিনিয়া উলফ’ । স্যামুয়েল বেকেট, ইউজিন আয়ানেস্কো এবং জাঁ জেনের হাতে নাটকের যে ধারার গোড়াপত্তন হয় সেই অ্যাবর্সাড থিয়েটারের সফল আমেরিকায়ন ঘটে এডওয়ার্ড এলবির হাতে। নাট্যকৌশল ও আধুনিক জীবনের খোলামেলা নিরীক্ষায় যার নাটক অনন্য। ছাত্র জীবনে অনিয়মিত হওয়ায় কয়েকবার বহিষ্কৃত হন স্কুল ও কলেজ থেকে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তিনি গ্রাজুয়েশন করতে সক্ষম হন। তার মা পছন্দ করতেন না শিল্পী সাহিত্যিকদের সাথে মেলামেশা। মায়ের আপত্তি সত্ত্বেও New York City’s artsy Greenwich Village এ চলে যান তিনি। WNYC radio-এর জন্য মিউজিক প্রোগ্রাম লেখার মাধ্যমে তিনি কেরিয়ার শুরু করেন। নাট্যকার থ্রনটন ওয়াইল্ড তাকে প্রথম অনুপ্রাণিত করেন নাটক লেখার ব্যাপারে। নিউইয়ক থেকে প্রত্যাখাত হয়ে বার্লিনে তার একাকিঙ্কা The Zoo Story প্রর্দশিত হয়। এরপরই আমেরিকার নতুন ধারার নাট্যকার হিসেবে তিনি স্বীকৃতি পেয়ে যান। The Sand Box, A Delicate Balance তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটক।

আর্টস বিভাগে প্রকাশিত নাহিদ আহসানের আরও লেখা:

গুচ্ছ কবিতা

নাহিদ আহসানের তিনটি কবিতা

নাহিদ আহসানের একগুচ্ছ কবিতা

নাহিদ আহসানের কবিতা

নাহিদ আহসানের সাতটি কবিতা

পি বি শেলীর দীর্ঘ কবিতা: ওড টু দ্য ওয়েস্ট উইন্ড

Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (1) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল — সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৬ @ ১২:০৯ পূর্বাহ্ন

      প্রথম বাক্যটিতেই খটকা লাগলো, হোচট খেলাম। ‘পাঠকের মনে সংবেদনশীলতা সৃষ্টিতে সাহিত্যই শ্রেষ্ঠ’ কি, তা ঠিক বুঝলাম না!

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com