ধর্মের নান্দনিকতা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ

আবু ফরহাদ | ৩০ জুলাই ২০১৬ ১:১১ পূর্বাহ্ন

border=0ধর্ম নিয়ে কথা বলা এখন বেশ নাজুক। ধর্মের সংঙ্গে অনেকেই সাম্প্রদায়িকতা কিংবা সন্ত্রাসের মেলবন্ধন করে ফেলেছে। কিংবা কেউ এঁটে দিচ্ছে মৌলবাদীর তকমা। ধর্ম নিজেই অনেক মানুষের কাছে এখন অনেকটা দুর্বোধ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। আর ধর্ম যদি ইসলাম হয়, তাহলে তো কথাই নেই, সাম্প্রদায়িক, সন্ত্রাসী কিংবা মৌলবাদী – এর যে কোন একটির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়া খুবই সহজ।
এমন প্রেক্ষাপটে ধর্মের নান্দনিকতা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ গ্রন্থটি ধর্ম সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ও চিন্তাশীল মানুষের অবশ্যপাঠ্য তালিকায় থাকা উচিত। এই গ্রন্থের গ্রন্থকার মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ, ইংরেজী সাহিত্যের কৃতবিদ্য অধ্যাপক।
নান্দনিকতা বিষয়টি শিল্প সাহিত্য সঙ্গীত ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। নান্দনিকতা ধর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয় কিভাবে? কিংবা নান্দনিকতাই বা কী। সৌন্দর্য্য ও নান্দনিকতার কী সম্পর্ক? এমন গুরুগম্ভীর বিষয় শিক্ষাজীবনের পাঠ্যতালিকায়ও খুব একটা থাকে না। সাহিত্য শিল্পের শিক্ষার্থীরা হয়তো এ বিষয়ে কিছু পড়ে থাকতে পারেন। এমনকি যারা ধর্মভীরু, ধর্মচর্চা করেন প্রতিদিনের জীবনাচরণে তাদের অনেকের কাছেও ধর্মের নান্দনিকতা বিষয়টি এখনো অজ্ঞাত।

ধর্ম সমসাময়িককালে কোন না কোনভাবে কিছু কঠোর অনুশাসন পরিপালনে পর্যবসিত হয়েছে। ধর্মের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য্য ও নান্দনিকতার বিষয়টি আমরা আমাদের চিন্তার মধ্যেই আনি না। অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ তাই তাঁর প্রবন্ধের শুরুতেই চেষ্টা করেছেন নান্দনিকতা সম্বন্ধে একটি মৌলিক ধারণা উপস্থাপন করতে । যদিও এই প্রবন্ধের স্তরে স্তরে নান্দনিকতার ধারণাকে তিনি আরও প্রগাঢ় ও স্পষ্ট করেছেন। “সুতরাং নান্দনিকতা হচ্ছে কোন বস্তুর সেই দিক, যাতে সৌন্দর্য্য ও আনন্দ প্রকাশ পায়। তবে শর্ত থাকে যে, এই সৌন্দর্য্য বা আনন্দের সঙ্গে কোন উপযোগিতা বা ইউটিলিটির সংস্রব থাকবে না।” কোন নারীকে সুন্দরী বললে সে বলাটা ততক্ষণ নান্দনিক নয় যতক্ষণ তাকে কামনা বাসনার পাত্র মনে করা হবে। অর্থাৎ যতক্ষণ ভোগের পাত্র হিসেবে বিবেচিত নয় ততক্ষণ সে অনুভূতিটি নান্দনিক।”

সমগ্র প্রবন্ধটিতে নান্দনিকতার এই ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে তিনি ধর্মের নান্দনিকতাকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে ব্যাখা করেছেন। তিনি নিজেই বলেছেন “ধর্মের নান্দনিকতা আছে, সে সম্পর্কে বেশীর ভাগ আলেম বা ধর্মবেত্তা অবগত নন।” নান্দনিকতার সঙ্গে সৌন্দর্য্য ও আনন্দের নিবিড় যোগাযোগ বিদ্যমান। সৌন্দর্য্যর রূপ বা আকার কিভাবে শূন্যতাকে অর্থময় করে তোলে তার ব্যাখা তিনি দিয়েছেন, জীবন, জগতের সঙ্গে তার কি সম্পর্ক তা ও ব্যাখা করেছেন। শিল্পী যখন ছবি আঁকেন, তখন ক্যানভাস থাকে শূন্য- ক্যানভাসে দৈর্ঘ্য প্রস্থ, তল থাকে কিন্তু উচ্চতা থাকে না। বুঝবার বিষয় হচ্ছে ক্যানভাসটি থাকে শূন্য বা খালি। শিল্পী তাঁর কল্পনা এবং মনের মাধুরী মিশিয়ে দ্বিমাত্রিক ক্যানভাসে ত্রিমাত্রিক কোন ছবি আঁকেন যা হয়তো তার দেখা চর্তুপার্শ্বের প্রতিরূপ। এই যে শিল্পী শূন্যকে অর্থময় করে তোলেন এবং কল্পনার মিশেলে তার ইন্দ্রিয়োপলব্ধির কোন বিষয়কে বাঙ্ময় করেন – তাও আবার শুধুমাত্র ইন্দ্রিয়োপলব্ধিতেই ধরা পড়ে, কোন অর্থেই তাও ভোগের জন্য নয়। ভোগের সঙ্গে নান্দনিকতার কোন সম্পর্ক নেই।
পৃথিবী বা সৃষ্টি জগতেরও কোনো অস্তিত্ব ছিল না একসময়। স্রষ্টা একে তৈরি করেছেন তার মনের আনন্দ ও সৌন্দর্য্যবোধ থেকে। এক বিশাল শূন্যতাকে তিনি পূর্ণ করেছেন। ‘জীবনের মূলে এ সৌন্দর্য্য আছে বলেই সৃষ্টির একটা অর্থ আছে। অনস্তিত্বের সাগর থেকে ভেসে আসা ফুল দুদিনের সংসার পাতবে, বিধাতার কবিতাসম সৃষ্টিকে প্রাণভরে উপলব্ধি করবে, কর্মে ও আচরণে সুন্দরের সাধনা করবে, এ জন্যই এ বিরাট আয়োজন। এখানে এ পৃথিবীর নান্দনিক উপলব্ধির বিষয়ও যুক্ত। অধ্যাপক হারুন এখানে তার মোর্শেদ সৈয়দ রশীদ আহমদ জৌনপুরী(রহ.)কে উদ্ধৃত করেছেন, তিনি বলেছেন, “যে মানুষ দুনিয়ার মোহে আবদ্ধ, সে ওই মৌমাছির মতো যে মধুর চাকের জন্য মধু সংগ্রহ করতে করতে শেষে ওই চাকের মধুতে আঁটকে মৃত্যুবরণ করে।”
অধ্যাপক হারুন অবশ্য বলেছেন পৃথিবীর এ জীবনকে অস্বীকার করে কোন ধর্ম হয় না। এ জীবনকে দেখতে হবে নির্মোহভাবে। তিনি এখানে শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে উদ্ধৃত করে সাধকের উপমা দিয়ে বলেছেন, “সাধক হবে ডিমে তা দেওয়া মা-পাখীর মতোন। মা-পাখীর চোখ চারপাশের সবকিছু দেখছে, কিন্তু তার মন পড়ে আছে ডিমের মধ্যে।” সাধক বিশেষ কোন ব্যক্তি নয়, সাধক হচ্ছে পৃথিবীর মানুষ।
Harun sirনন্দনশাস্ত্রের একটি বিতর্কিত বিষয় হচ্ছে সৌন্দর্য্য। সৌন্দর্য্য কোথায় দৃষ্টিগ্রাহ্য হয় এটি এক বিশাল প্রশ্ন। সৌন্দর্য্য কি দর্শকের অন্তরে থাকে নাকি দৃশ্যমান বস্তুতে থাকে–তার বিতর্কও কম নয়। নান্দনিকতার আলোচনা প্রসঙ্গে সৌন্দর্য্যর ধারণা অপরিহার্য। এ বিষয়েও অধ্যাপক হারুন বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। তিনি নবীজী(স.)কে উদ্ধৃত করে বলেছেন যে, ‘মানুষ যখন কিছু দেখে তখন তার মধ্যে সে নিজেকে দেখতে পায়।’ অর্থাৎ সৌন্দর্য্য মানুষের অন্তরে বাস করে। কিন্তু সৌন্দর্য্য কি শুধু দর্শকের অন্তরে থাকে–এ বিষয়টিকে তিনি আরও খোলাসা করেছেন সৌন্দর্য্যরে শর্তপূরণের অন্যান্য অনুষঙ্গসমূহকে তাঁর আলোচনা নিয়ে এসে। তিনি এ বিষয়ে এরিস্টটল, প্লেটোর ধারণাকেও বর্ণনা করেছেন। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ যে একজন সুমহান শিল্পী এবং নিপুন ভাস্কর, যিনি মানবদেহকে তৈরী করেছেন সুন্দরতম অবয়বে আবার তার মাঝে নিয়ে এসেছেন বৈচিত্র্য, অনন্যতা ও ছন্দ – নন্দনতত্বের মূল নীতির আলোকে তিনি তারও যুক্তিনিষ্ঠ ব্যাখা দিয়েছেন। মানুষ এবং পৃথিবী এবং যাবতীয় সৃষ্টি সম্পর্কে কুরআনের বর্ণনার আলোকে নান্দনিকতাকে সুমহান আল্লাহতা’লা তাঁর সকল সৃষ্টিতে কিভাবে প্রাসঙ্গিক করেছেন তার নাতিদীর্ঘ চমৎকার আলোচনাও তিনি তুলে ধরেছেন।

এই প্রবন্ধটি ধর্মের নান্দনিকতা বিষয়ে একটি দার্শনিক আলোচনা। এই আলোচনাকে পাঠকের প্রয়োজনে গ্রন্থকার এতই সুবিন্যস্ত করেছেন যে, এতে কুরআনে বর্ণিত আল্লাহ এবং তার সৃষ্টির ধারণাসমূহকে তিনি তুলে এনেছেন কুরআনের বিভিন্ন আয়াত থেকে। কুরআনের উদ্ধৃতিসমূহ অর্থসহ তিনি সরাসরি ব্যবহার করেছেন। অনেক হাদীসও তিনি উদ্ধৃত করেছেন। কুরআন ও হাদীসের ব্যাখায় জীবনযাপনে, ধর্মের ধারণায়, চিন্তায় এবং ধর্মের পরিপালনে নান্দনিকতা যে পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান তার তিনি যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখা উপস্থাপন করেছেন। নবীজীর (স.) জবানীতে তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ নিজে সুন্দর এবং তিনি সুন্দরকে ভালোবাসেন।’ অধ্যাপক হারুন তাই জোর দিয়ে বলেছেন, ‘এই সুন্দরকে ভালোবাসার মধ্যে রয়েছে পরম ধর্ম। পরমাত্মায় বিলীন হতে চাইলে সুন্দরকে ভালোবাসার কোনো বিকল্প নেই।’

ধর্মের নান্দনিকতার ব্যাখা দাঁড় করাতে গিয়ে অধ্যাপক হারুন সামনে নিয়ে এসেছেন নান্দনিকতা ও ধর্মের নানা প্রসঙ্গ। এমনকি মূর্ত ও বিমূর্তের ধারণা- রূপ, অরূপ কিংবা স্বরূপের ধারণা নিয়েও তিনি আলোচনা করেছেন। আলোচনা করেছেন ইসলামের শরীয়ত, মারেফাত এবং হাকিকত সম্পর্কে। এমনকি আরো গভীরের তাসাউফের বারটি লতিফা সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন।
প্রাসঙ্গিকভাবে এই আলোচনায় স্থান পেয়েছে নানা ইউরোপীয় কবির ধারণা। সাহিত্যতত্ত্বের আলোচনায় শেক্সপিয়ার, হার্বার্ট রীড যেমন এসেছে তেমনি এসেছে বিখ্যাত পয়েটিক্স-এর প্রসঙ্গও। বেদান্তে বর্ণিত ব্রহ্মের কল্পনাও এতে স্থান পেয়েছ- আল্লাহর জাত ও সিফাত বুঝতে বেদান্তের ধারণাকেও প্রাসঙ্গিক বলে তা তুলে আনা হয়েছে। “বেদান্তে বলা হয়েছে, ব্রহ্মা রূপকল্পনা অর্থাৎ ব্রহ্ম আপনাকে বহুবিধ রূপে কল্পনা করেছেন। সেখানে সগুন ব্রহ্ম এবং নিগুন ব্রহ্মের মধ্যে কোন ভেদ নেই, কারন “ইনি সগুন হইয়া ও গুনাতীত; কেননা গুনের দ্বারা তিনি ক্রিয়াপদ নহেন; গুন তাহাতে থাকিয়া স্ব স্ব কার্য করিতেছে মাত্র।” সৃষ্টির মধ্যে শিল্পী যেমন সতত ক্রিয়াশীল, বিধাতাও তাঁর সকল সৃষ্টিতে বর্তমান। অধ্যাপক হারুন বলেছেন, “বাসর ঘরে নববধূ যেমন ঘোমটার আড়ালে অপেক্ষা করেন তাঁর প্রিয় পুরুষটির জন্য, তেমনি বিধাতাও আড়ালেই থাকেন যতক্ষণ না তিনি তার সৃষ্টিতে প্রতিভাত হন।” এ প্রসঙ্গে তিনি বীজের উদাহারণও টেনে এনেছেন, “নতুন উদ্ভিদের জন্ম হয় তখনই যখন বীজ পচে নিঃশেষ হয়ে যায়, তার মধ্যে বীজের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। বীজ তাই উদ্ভিদে নেই, আবার উদ্ভিদে আছে। বীজের সত্ত্বা নিঃশেষ না হলে নতুন উদ্ভিদ হয় না। আবার উদ্ভিদের অস্তিত্ব বীজের অদৃশ্য উপস্থিতি প্রমাণ করে। ”

এই প্রবন্ধটি পাঠ করে পাঠক বিশেষভাবে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে, ধর্মের কল্যাণ, আনন্দ, সৌন্দর্য্য ও নান্দনিকতা সম্পর্কে এক আলোকময় ধারণা লাভ করবেন। হয়তো প্রবন্ধটি বারেবারে পড়েও দেখবেন। কারণ এই তাত্ত্বিক আলোচনা যতই সহজবোধ্য ও সরল ভাষায় উপস্থাপন করা হোক তা কিন্তু পাঠকের অনুসন্ধিৎসায় যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করবে এবং পাঠক বারবার পড়ে তার অনুসন্ধিৎসাকে তৃপ্ত করার চেষ্টা করবেন। ধর্ম সম্পর্কে পাঠকের অনুরাগও বৃদ্ধি পাবে।
ধর্ম সম্পর্কে এই গ্রন্থে আরও কয়েকটি প্রবন্ধ আছে, পাঠক সেগুলো পাঠ করেও সমান আলোকিত বোধ করবেন। উপরি পাওনা হিসেবে এই গ্রন্থে সাহিত্য ও সমসাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে আরও বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে। এইসব প্রবন্ধসমূহেও অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদের পাণ্ডিত্য, মেধা ও মননের প্রতিফলন সমানভাবে বিদ্যমান।

এ কথাটি উল্লেখ করে আমি খুবই প্রফুল্ল বোধ করছি যে, আমি অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদের সরাসরি ছাত্র। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি তার কাছে পড়েছি। আমার এখনও মনে আছে, এই বিদ্বান, পন্ডিত অধ্যাপক শ্রেণিকক্ষে যত সহজ, সাবলীল ভাষা ও ভঙ্গিতে সাহিত্যের নানা সমালোচনা ও তত্ত্বকে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতেন, গ্রন্থ রচনায়ও তিনি একই রকমের ভাষা ও ভঙ্গি ব্যবহার করেছেন। আমি নিজে যথেষ্ট আমোদের সঙ্গে গ্রন্থটি পাঠ করেছি, আমি নিশ্চিত যেকোনো পাঠকই তাঁর লেখার রসে মুগ্ধ হবেন, তাত্ত্বিক আলোচনায় মোহিত ও প্রবুদ্ধ হবেন।
গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে অ্যাডর্ন পাবলিকেশন। সাদা অফসেট কাগজে ছাপা। মূল্য তিনশ ত্রিশ টাকা। জোহরা হোসাইনের প্রচ্ছদ দৃষ্টিনন্দন।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (0) »

এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com