অন্ধ হয়ে যাওয়ার রাতটি

অলাত এহ্সান | ২৩ জুলাই ২০১৬ ১০:২৫ অপরাহ্ন

Alatঅন্ধ অনেক রকমই হয়। এর মধ্যে যাদের দৃষ্টি ক্ষমতাটুকু নেই তাদেরই কেবল সবাই দেখতে পায়। কিন্তু আমার এক জোড়া চোখ আছে। তা ঘুরিয়ে চারপাশের সবকিছু দেখি। দেখতে দেখতে আবার অনেককিছু বদলেও যায়। তারপরও আমি নিজেকে কেন অন্ধ বলছি, তা কারোর বোঝার কথা নয়। বুঝতে হলে আমাকে সেই রাতের ঘটনাটি বলতে হবে, যখন মেয়েটির শরীর থেকে অজস্র বিচ্ছু তৈরি হয়েছিল এবং একটি বিচ্ছু আমার দ্বিতীয় চোখটিও নষ্ট করে দিল। আমার সারাজীবনে সেটা একটা ঘটনা যার ছায়া আজও বয়ে বেড়াতে হয়। অন্ধত্ব তো এমনই, মানুষ একবার হয় আর বাকি জীবন হাতড়ে বেড়ায়।
সে রাতে বাসে উঠার পরই আমার মনে হয়েছিল—বাসটা আমাকে ঠিক জায়গায় নিয়ে যাবে তো? কেন যেন সেদিন সকাল থেকে আমার ভেতর প্রচণ্ড উৎকণ্ঠা হানা দিয়েছিল। যেন কিছু একটা হতে যাচ্ছে, কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না। আসলে প্রকৃতির সবকিছুই আগাম জানিয়ে আসে। মানুষ তার যতটুকু আলামত বুঝতে পারে, সেটাই তার অর্জন। এপাশ-ওপাশ কোনো রকম ভাবাভাবি ছাড়াই আমি তরতর করে বাসে দোতালায় উঠে গেলাম। যদিও কেউ দাঁড়িয়ে ছিল না, কিন্তু সব সিট প্রায় দখল হয়ে গেছে। যাত্রীরা বসে আছে এক-একটা কাঠের পুতুলের মতো—সোজা আর আড়ষ্টভাবে। অশেষ কৃপা যে মাঝখানে মাত্র একটা সিট ফাঁকা ছিল। তা খুঁজে পেতে আমাকে বিশেষ বেগ পেতে হলো না। সামনের সিটে মাথা ঠেকিয়ে বসে রইলাম ড্রাইভারের হাতে নিজেকে সপে—সে নিশ্চয়ই গন্তব্যে পৌঁছে দিবে। প্রচণ্ড ঝালে হাঁপানোর মতো দম ছাড়ছিলাম-নিচ্ছিলাম। পাশের যাত্রীকে মনে হলো নিকটতম সুদূরের বাসিন্দা।

নৈঃশ্বব্দ্যে সবটুকু তলিয়ে যাওয়ার আগে সিঁড়িতে কয়েকজনের পায়ের আওয়াজ পাওয়া গেল। চার-পাঁচজন যুবকের একটা দল দাপিয়ে উঠে এলো দোতলায়। তারা একজন আরেকজনকে ছুঁয়ে হাসছিল স্বল্প কথার ফাঁকে ফাঁকে। খণ্ড খণ্ড কথা আর হল্লা করা হাসি থেকে বোঝা গেল তাদের সঙ্গে একজন যুবতীও আছে। এজন্যই হয়তো বাক্য আর শেষ করতে পারছিল না। হাসির অমন দমক। মেয়েটাও তাদের মাতিয়ে রাখছিল কল্লোলিনী হাসি, আর যৎকিঞ্চিৎ এর-ওর কোলে ঢোলে পড়ে। একটু এগিয়ে এসে ফাঁকা প্যাসেজে বৃদ্ধা আঙ্গুলে ভর করে নৃত্যের মুদ্রায় একটা চক্কর খেলো সে। দারুন পটিয়সী, ঠিক ব্যালার্ড শিল্পীর মতো। রাতের আবহাওয়া এমনিতেই খানিকটা ঠাণ্ডা থাকে। সাগরের লু’ হাওয়ার মতো হালকা বাতাস আসছিল বাইরে থেকে। এমন সময় শিল্পকলা মন্দ না।
কিন্তু তাতে বাঁধ সাধলো ছেলেটিই। হঠাৎ একজন মেয়েটির হাত টেনে পেশিতে আটকে ফেললো। আর কষে চুমু খেলো নাক ঘষটাতে ঘষটাতে। দ্রুতই সে এতটা উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল যে, টাল সামলাতে না পেরে যাত্রীদের ওপর গিয়ে পড়ছিল। মেয়েটার শরীরে তখনো নৃত্যের তাল। শেষ পর্যন্ত তাকে প্যাসেজে শুয়ে ফেলার পরই বোঝা গেল তারা মোট চারজন ছেলে। তাদের উত্তেজনা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছিল দেখে যাত্রীদের মাঝে প্রতিক্রিয়া আশা করছিলাম। সচরাচর যেমন বলে, অন্তত কেউ একজন বলুন—আপনারা পরিবেশ নষ্ট করছেন। কিন্তু কোনো নড়-চড় দেখা গেল না। আসলে প্রত্যেকে মোবাইলে চ্যাটিং, ভিডিও গেম আর মিউজিক শোনায় এতটাই মত্ত ছিল যে, আমাকে তাদের আড়ষ্ট কাঠ-পুতুল মনে হয়েছিল।
আমার পাশের যাত্রী তখন একটা বিশেষ ভিডিও গেমস খেলছে—ট্যাম্পল রান, মানে ভাগ্যের দৌড়। এক দুর্গম রাস্তায় এক যুবক প্রাণপণ দৌড়াচ্ছে। আর তাকে তাড়া করে ফিরছে ‘আরব্য রজনী’র বিশাল বাজপাখি। ছেলেটার এই প্রাণ বাঁচানো দৌড়ের মাঝেও রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা মোহর থেকে পয়েন্ট পেয়ে যাচ্ছে। দৌড়ের গতি একটু কমে গেলেই তীব্র চিৎকার দিয়ে বাজটা তীক্ষè ঠোঁট সমেত বিশাল পাখা নিয়ে দেখা যাচ্ছিল। ভালই দৌড়াচ্ছিল লোকটা। অবশ্য বিভিন্ন এ্যাপস তাকে কখনো-সখনো এগিয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে বাজটা তাকে খেয়ে নিল। ‘ইস!’—একরাশ বাতাস ছেড়ে ব্রেক কষার মতো বিরক্তির সঙ্গে শব্দ করে উঠলো লোকটা। ইদানিং বাসে এই গেমটা বেশি খেলতে দেখি। বিশেষ করে গাড়িগুলো যখন জ্যামে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকছে। দারুন প্রহসন। কিন্তু আমার ভীষণ রাগ হয়। কারণ শেষ পর্যন্ত দৌড়ের প্রান্তে পৌঁছানো কারো পক্ষেই সম্ভব না, আগেই মারা পরে কয়েকবার। তবুও দৌড়ায়। গাড়িগুলোও জ্যামে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। এই লোকটাকেও দেখলাম ফের দৌড় শুরু করা জন্য তৈরি হচ্ছে। ঠিক তখনই আমার খেয়াল হলো, এই বাসটাও এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।
ছেলেগুলো ততক্ষণে মেয়েটার পোশাক খুলে নিয়েছে। আমি তাদের কাণ্ড দেখে সময় সম্পর্কে সচেতন হতে চেষ্টা করলাম। আর মাত্র কয়েকদিন পর ঈদ। শহর প্রায় খালি হয়ে গেছে। রাস্তা-ঘাট যথেচ্ছাচার ফাঁকা। তাই বলে একেবারে জনশূন্য হয়ে যায়নি। তবে আশেপাশে কাউকে ডেকে পাওয়া যাবে না। এই রাতে কেউ দেখেও এগিয়ে আসবে না। আমি খুব শঙ্কা বোধ করলাম—মেয়েটার কি হয়? নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, শয়তানগুলো মেয়েটির স্তন নিয়ে লুফালুফি করছিল!
‘টুং’। ম্যাসেজ আসার শব্দ। সামনে আরেক যাত্রীর জ্বলে ওঠা মোবাইলের মনিটরে চোখ গেল আমার। মনিটর এতটাই উজ্জ্বল যে, প্যাসেজের আবছায়ায় কি হচ্ছে তা পুরোপুরি আড়াল করে ফেলে।
‘কী করিস?’—ইংরেজি বর্ণমালায় বাংলা লিখে চ্যাটিং করছে সে।
‘একটা জোশ জিনিস দেখছি, অয়েট, হয়ে নিক তোকে শেয়ার দেবো।’
‘কী?’
‘একটা মেয়েকে চারটা ম্যান চ্যাট করছে।’
‘ওয়াও! স্যাকিং, তুই কোথায়? পিক. (পিকচার শব্দকে আজকাল এই ভাবেই সংক্ষিপ্ত করেছে তারা) আপ-লোড দিস।’
‘আই’ম অন দ্য স্পট, ওহ্, আ গ্রেট এক্সপেরিয়ান্স…’

আমি মাথা তুলতেই একটা শীতল নল আমার কানের গোড়ায় উষ্ণতা দিল। ‘আপনি কিছু দেখছেন?’—যুবকদের একজন শাসানির স্বরে আমাকে বললো।
কুঁজো বুড়ির কথায় প্রতারিত শেয়ালের চাঁদ দেখার মতো আমি কিছুই না বলে জানালার দিকে মুখ ঘুরিয়ে রাইলাম। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অতিক্রম করছিল বাসটা। সেখানে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র লোক ভবন পাহারা দিচ্ছে। একবার ভাবলাম কোনোভাবে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় কি না। পরোক্ষণেই মনে হলো, তা সম্ভব নয়। তারা নির্দিষ্ট দায়িত্বের বাইরে কিছুই দেখে না, কিছুই করে না। আল্টিমেট, দে আর স্পেশাল ফোর্স।
আমার দিকে তাক করা পিস্তল ছাড়াও চোখ দু’টো বদলে যাচ্ছিল নির্দিষ্ট সময় পর পর। ফ্লোরে শুইয়ে ফেলা মেয়েটা তখনও নৃত্যের মুদ্রায় তাদের পুলকিত করতে চাইছিল কিংবা উল্টো সাতারে ভেসে যাওয়ার মতো এইসব উপেক্ষা করতে চাইছিল। দ্রুতই তার মুখের আভা বদলে গেল। হাসি উবে গেল প্রথমেই। মনে হলো সে চিৎকার করছে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে হয়ে গেছে। সর্বনাশের আগে কেউ কি বুঝতে পেরেছে কখনো? তারপর তো বিবেক দুঃস্বপ্নের ভাগার হয়ে ওঠে। যেভাবে এক-একজন চেতন থেকে কোমায় চলে যায়। তার সবকিছু ঘটছিল ঘুমের ভেতর, স্বপ্নের ভেতর কাউকে ডাকার মতো। যে কারণে আমি কিছুই শুনতে পাচ্ছিলাম না। যন্ত্রণায় কঁকিয়ে ওঠা মুখে সে আমার ফুল প্যান্টে প্রান্ত খামচে ধরে। কিন্তু তার পুরো ব্যাপারটাই যেহেতু স্বপ্নের ভেতর ঘটছিল, তাই প্যান্টে কোনো টান পড়েনি, পড়ার কথাও না।
দ্বিতীয়বারের মতো তৃতীয় ছেলেটি জিজ্ঞেস করলো। ইতোমধ্যে দুইজন একই কথা জিজ্ঞেস করেছে—‘আপনি কি কিছু দেখছেন?’
আমি কিছু বললাম না। মনে হলো, আমি সত্যি কিছু দেখিনি।
সাইকিস্টের মতো সে আমার মনের কথারই প্রতিধ্বনি করলো, ‘হ্যাঁ, আপনি সত্যি কিছু দেখেন নি।’
‘আমি আজে-বাজে দিকে চোখ কম দেই’—নিস্পৃহভাবে ব্যাখ্যা দিলাম আমি।
‘আপনি সত্যি কিছু দেখলেন না, এখানে একটা বলৎকার হলো।’—সে বললো।
চোখ রগড়ে আমি বিভ্রম বুঝতে চেষ্টা করলাম। একপেয়ে লাইট পোস্টগুলো কবন্ধ পর্যন্ত এসে দুই পাশে ঝুঁকে পড়েছে ঠিক মূখাভিনেতার মতো। অবলীলায় এই লাইটগুলোর কবন্ধের ওপর তকতা বিছিয়ে সাঁকো করে জ্যাম পেরিয়ে যাওয়া সম্ভব। আইলাইনের দাঁড়ানো গাছের ধুলোমলিন পাতার ওপর জং ধরা রঙের ক্লান্ত আলো গলে গলে পড়ছে। অনাথ দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো সব বনসাই—এই সত্যটি আমি এইমাত্র বুঝলাম। ছেলেটি হয়তো আমার কাছ থেকে সত্যি কথাটাই বের করে চূড়ান্ত রকম বিপদে ফেলতে চাইছে। ‘আমি রাতে কম দেখি…’ মোক্ষম উত্তর খুঁজে পাওয়ার আনন্দে আমার ঠোঁট নেচে উঠলো।
‘আপনি সত্যি দেখেন না?’—বিরক্তিকরভাবে সে একই প্রশ্ন করলো।
‘আমি সত্যি দেখি না।’ সাক্ষ্য দেয়ার মতো আমি পুনরায় বললাম। সত্যি বলতে কি, আমি খানিক ভয়ই পাচ্ছিলাম। নইলে যে সব শব্দ উচ্চারণ করতে বাঁধে তেমন শব্দে আমাকে ঘটনার বিশদ বলতে হতো। হঠাৎ মনে হলো আমি, সত্যি কোনো দুঃস্বপ্ন দেখছি না তো?
একে একে চারজনই মেয়েটার ওপর ঝাপিয়ে পড়েছে। জলের ভেতরে কাঁদা মাখা আখ ধোয়ার মতো মেয়েটার শরীর ঝাঁকাচ্ছিল ওরা। একটা কীটের দঙ্গল, নিজেদের ভেতর একটা আরেকটার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে যেমন বিষ্ঠায় তলিয়ে যায়। হঠাৎ সেখান থেকেই গভীর চিমনি দিয়ে ছাতিমে ঝাঁঝালো গন্ধের ধোয়া উঠতে শুরু করে। কোনো বিষ্ফোরণ হয় কিনা, সেটাই তখন দেখার বিষয়। আমার দিকে অস্ত্র তাক করে না থাকলেও আমি ঠিক নড়ছিলাম না। এখন সে দিকে উৎসুক হতেই একটা ছেলে বললো, ‘আপনি না কিছু দেখেন না?’
‘হ্যাঁ, আমি কিছুই দেখি না।’ ক্যাশ থেকে সামান্য কয়’টা টাকা সরাতে গিয়ে ধরা পড়া নাবালক কর্মচারীর মতো অবস্থা আমার। তবু নিজেকে সংযত করলাম।
‘হ্যাঁ, আপনি কিছুই দেখেন না। কিছু দেখবেনও না’—কণ্ঠে জোর দিয়ে বলেই ছোকড়াটা আমার চোখের ওপর ঘুষি চড়িয়ে দিল। সমুদ্রের তলদেশে বিষ্ফোরণে কেঁপে ওঠা জলের মতো সামান্য দুলে উঠলো বাসটা। চোখ কচলাতে কচলাতে দেখলাম ধোয়া উঠছে। ধোয়া গিলে খাচ্ছিল ছেলেগুলোকে। গমর জলে সাঁতার কাটার মতো নিনাদ করে আবক্ষ নাড়ছিল তারা। চোরাবালিতে ডুবে যাওয়ার মতো উদ্ধার রহিত অন্ধকারে তলিয়ে গেল একসাথে। কী আশ্চর্য! ভোজবাজির মতো যাত্রীও উধাও হয়ে গেল নিমিষে। নিশ্চয় কোনো গোলক ধাঁধাঁয় পড়েছি আমি—মনে হলো আমার।
ধোঁয়ার কুণ্ডলি থেমে যাওয়ার পর প্যাসেজে বহু বছরের মরে থাকা একটা শরীর ক্রমেই পষ্ট হয়ে উঠলো। পিরামিডে রক্ষিত মমি যেন। বালির ভাস্কর্যের মতো ধীরে আলগা হতে হতে অজস্র মাকড়া হেঁটে বেড়িয়ে যাচ্ছে সেখান থেকে। খেয়াল করলেই বোঝা যায়, সেগুলো প্রকৃতই ছিল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছু। বাসের দরজা-জানালা-ভাঙা জায়গা দিয়ে বয়ে যাওয়া স্রোতের মতো ছড়িয়ে পড়ছিল শহরময়। পুরোপুরি বুঝে উঠার আগেই এ্যালিউমিনিয়ামের প্যাসেজ মুটোমুটি দেখা গেল। একটা কুনো ব্যাঙের সমান বিচ্ছু বেরিয়ে এলো স্বদর্ভে। আমার চোখে তখনো সহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে। তবুও বিচ্ছিরি ব্যাপারটার সঙ্গে পুরোপুরি জড়িয়ে পড়িনি ভেবে স্নিগ্ধ মনে হলো নিজেকে।
বিচ্ছুটা আমার সামনের সিটের হেডবারে দাঁড়িয়ে হুল নাড়ছে। আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না, ব্যাপারটা কি ঘটতে যাচ্ছে। আঘাত পাওয়া চোখ বন্ধ রেখে অন্য চোখ পিট পিট করে দেখছিলাম সবকিছু। প্রচণ্ড ক্রোধে আমার দ্বিতীয় চোখটাতে হুল ফুটিয়ে দিল ওটা। আমার আর কিছুই দেখার থাকলো না। ধপ করে নিভে যাওয়া বৈদ্যুতিকবাতির অন্ধকারের ঘোর এসে গ্রাস করে নিলো আমাকে।
তারপর থেকে আমাকে যখনই বলা হয়েছে, আমি কখনো বাসে ধর্ষণ দেখেছি কি না, আমি বলেছি—না। দিন গড়াতে গড়াতে এমন পর্যায় গেছে যে, আমি মনে করি আমি একজন জন্মান্ধ। যদিও আমি পঁচিশ বছর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি। প্রায় পনের বছর একটা কোম্পানির বিশ্বস্ত এসিসট্যান্ড ম্যানেজারি করেছি। ওভার টাইম না থাকলেও কোম্পানির ভালোর জন্য রাত অবধি খেটেছি আমি। প্রমোশন, ইয়ার ইনক্রিমেন্টও পেয়েছি যথা সময়ে। আমার স্ত্রী আছে, মিলি। স্কুল পেরুন কন্যা আছে, রাইসা। আজকাল মনে হয়, এখন কানেও তেমন শুনি না। কেউ কাঁধ ঝাঁকিয়ে না বললে সম্বিৎ ফেরে না।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে কেউ আমার কাঁধ ঝাঁকিয়ে দিয়ে বললো—‘মামা, এখানে ঘুমাইতাছেন ক্যা? গাড়ি এইডা তো যাইবো না।’
আমি বিস্ময়ে ফিরে তাকালাম লোকটার দিকে। কয়েকবার দ্রুত গতিতে ঘাড় ঘুরিয়ে চারপাশ দেখে নিলাম। বুঝতে চেষ্টা করলাম আমি আসলে কোথায় আছি? এতক্ষণ কিইবা ঘটলো?
মনে পড়লো, আমি রাস্তার পাড়ে দাঁড়ানো একটা দ্বিতল বাসে উঠে বসেছিলাম। কেউ একজন ভিডিও গেম খেলছিল আমার পাশে, ট্যাম্পল রান…। হয়তো একটা দুঃস্বপ্ন।
কিন্তু এখন অনেক রাত। দূরে লাইট-পোস্ট থেকে চোখ জ্বালা করা ঢুলু ঢুলু আলো চুইয়ে পড়ছে রাস্তায়। সিঁড়ির পাশের হাতল ছুঁয়ে ছুঁয়ে নেমে এলাম গাড়ি থেকে। চারপাশে ভৌতিক নিরবতা। অন্ধকারে কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। হঠাৎ আমার সেল ফোনটা বেজে ওঠলো। আলাদা করে দেয়া রিং টোন, নিশ্চিত আমার স্ত্রী।
কিছু বলার আগেই ওপাশে কাঁদো কাঁদো স্বর, ‘তুমি কোথায়? এত রাত করছো কেন? চার-পাঁচটা ছেলে রাইসাকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। তুমি কোথায়?’ এর বেশি সে বলতে পারলো না।
আমারও কোনো উত্তর ফুটে উঠছে না। ঘোর তখনো কাটেনি। নিজেকে দুঃস্বপ্নের বাইরে রাখতে পারার স্নিগ্ধতা আমার মুহূর্তেই উধাও হয়ে গেল। আরো এক ঘোরের ভেতর ঢুকে পরলাম। হঠাৎ দুঃস্বপ্নের ভেতর কঁকিয়ে ওঠা মেয়েটার কথা মনে পড়লো। কী আশ্চর্য, আমি তার মুখটাই দেখতে পাইনি। কিংবা যে কোনো যুবতীর মুখ সেটা। কিংবা আমার মেয়ে? ভাবতে পারছিলাম না কিছুই। মনে পড়লো, সে আমার প্যান্ট আঁকড়ে ধরে ছিল। চোখ ফেরাতেই দেখি, সেখানে অনেকটা জুড়ে লেগে আছে রক্ত।
সে রাতের পর থেকে আমাদের মেয়েকে আর কখনোই খুঁজে পেলাম না। মিলিও কোনো সন্তান নিলো না আর। এখনো ওকে খুঁজে ফিরি। মিলি অবশ্য মাঝেমধ্যে রাইসাকে দেখে—বাসায় ওর প্রিয় তক্ষক নৃত্যটা প্র্যাকটিস করছে। কখনো স্কুল থেকে ফিরছে। ‘ওই, ওই যে, রাইসা, আমাদের রাইসা, বাড়ি আসছে।’—জানালার দিকে মুখ করে চিৎকার করে ওঠে মিলি। আঙুল তুলে দেখায়। কিন্তু আমি দেখি না। আঁতিপাতি করে খুঁজি। তবুও না। তখন চশমা খোঁজার নাম করে, এখানে-সেখানে হাতাই, কৌশলে পালিয়ে রুমের ভেতরে চলে আসি। নিজেকে অন্ধ বলে দাবি করি, মনে মনে। কখনো তা অনুশোচনারই নামান্তর। আসলে অন্ধত্ব তো এমনই, কেউ একবার হয়, তারপর বাকিজীবন হাতড়ে বেড়ায়।

Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (3) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সন্নাসী পিঁপড়া — জুলাই ২৪, ২০১৬ @ ১:২০ পূর্বাহ্ন

      প্রথম তারা এসেছিল
      -মার্টিন নেইমুলার

      প্রথমে ওরা ইহুদীদের ধরতে এলো,
      আমি কোনো কথা বলিনি;
      কারণ আমি ইহুদী ছিলাম না।

      এরপর তারা এলো কমিউনিস্টদের ধরতে,
      তখনও আমি কথা বলিনি;
      কারণ আমি কমিউনিস্ট ছিলাম না।

      অতপর তারা শ্রমিক ইউনিয়নের লোকদের ধরতে এলো,
      তবুও আমি কিছু বলিনি;
      কারণ আমি শ্রমিক ইউনিয়নের কেউ ছিলাম না।

      এরপর যখন তারা আমাকে ধরতে এলো,
      তখন আমার পক্ষে কথা বলার জন্য কেউ আর অবশিষ্ট ছিল না।

      এই কবিতার মতই গল্পটা। সব সময় আমরা নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, কখনও অন্যের দিকে ফিরেও তাকাই না। ব্যাপারটা যে কতটা জঘন্য তা বলার উপেক্ষা রাখে না। কে মরল, কে বাঁচল, দায়-ছাড়া অবস্থা। নিজে বাঁচলেই যেন বাপের নাম। নিজেকে নিয়ে যখন আমরা ব্যস্ত, তখন পাশে কি হচ্ছে? দেখেও দেখছি না। এই গল্পের মতই অন্ধ হয়ে বসে রয়েছি। টিনের চশমার সেই বিজ্ঞাপণের কথা মনে পড়ল। যদি বিজ্ঞাপণের সাথে এই ব্যাপারটা মেলানো ঠিক না। তবে আমরা যে সবাই টিন জাতীয় কিছু দিয়ে তৈরি চশমা পরিধান করে আছি, সেটাই এই গল্পে প্রতিয়মান।
      গল্প বলার ঢঙটা চমৎকার। সুন্দর গাথুনী। এমন গল্প লেখার জন্যে সাহস লাগে। যা গল্পকারের আছে। এইরকম সচরাচর দেখা যায় না।
      ধন্যবাদ গল্পকার।

      হুমায়ূন-আল-শফিক

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দীপ — জুলাই ২৪, ২০১৬ @ ৪:৩৪ অপরাহ্ন

      সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে লেখাটার গুরুত্ব অনেক

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাব্বির জাদিদ — জুলাই ২৪, ২০১৬ @ ৮:২২ অপরাহ্ন

      অলাত এহ্সান ভাইয়ের গল্প ‘অন্ধ হয়ে যাওয়ার রাতটি” পড়া হল। এই সময়ের মধ্যবিত্তের স্বার্থপরতা, আত্মকেন্দ্রিকতার এক উজ্জ্বল চলচ্চিত্র এই গল্প। আত্মকেন্দ্রিকতার এই যুগে আমরা সবাই বেঁচে আছি নিজেকে নিয়ে। সমাজ-চিন্তা, রাষ্ট্র-চিন্তা থেকে হাতমুখ ধুয়ে আমরা মগ্ন আছি শুধুই পরিবার-চিন্তায় বা ব্যক্তিস্বার্থচিন্তায়। একেবারে নিজের ঘরে আগুন না লাগলে আমরা ঘাড় তুলেও দেখি না। যা পোড়ে, ছলিমদ্দির পুড়ুক, আমার কী, ব্যাপার অনেকটা এমন। এমনই এক ভয়ঙ্কর বিচ্ছিন্ন সময়ে আমরা বাস করতে এসেছি বাংলাদেশে। কিন্তু রাষ্ট্র বিপন্ন হলে যে পরিবারও বিপন্ন হয়, বিপন্ন হয় ব্যক্তিও, তার সংকেত আছে এই গল্পে।

      চলতি সময়ের খুব কুৎসিত এক প্রবনতা নিয়ে লেখা হয়েছে গল্প। ইদানীং ভারতে এবং আমাদের বাংলাদেশেও চলন্ত বাসে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এই গল্প তেমনই এক ঘটনা নিয়ে। জাদুবাস্তবতার আশ্রয় নিয়ে পরাবাস্তবকে বাস্তবতার উপযোগী করে তোলা হয়েছে। গল্পে গল্প আছে, কিন্তু ঘটনার ঘনঘটা নেই। লেখক নিজের জবানেই গল্পটা আমাদের কাছে শেয়ার করেছেন। এক রাতে তিনি দোতলা বাসে উঠেছেন। জায়গাটা ঢাকা শহর। তিনি উঠার পরপরই চারটে ছেলের সাথে এক মেয়ে ওঠে দোতলায়। তাদের আচরণ বলে দেয় তারা বন্ধু। কিন্তু রাতের নির্লিপ্ততার সুযোগে বন্ধুরাই মেয়েটিকে রেইপ করতে উদ্যত হয় এবং করেও। লেখক, তিনি সংবেদী মানুষ, চোখের সামনে জলজ্যান্ত এই অপরাধ তার বিবেকে হুল ফোটায়। কিন্তু ছেলেদের রিভলভারের শীতল নল তাকে চুপ করিয়ে রাখে। লেখক সংবেদী কিন্তু প্রতিবাদী নন। তিনি আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর মধ্যবিত্ত। আর তাই ছেলেগুলোর ‘তুমি কিছু দেখছ?’ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘আমি আজে বাজে জিনিসে চোখ কম দিই’। এমনকি তার ভীরুতার সর্বোচ্চ প্রকাশ— ‘রাতের বেলা আমি চোখে কম দেখি’। অথচ পায়ের কাছে বাসের ফ্লোরে ধর্ষিত হয়ে চলা মেয়েটি তার প্যান্টের প্রান্ত ধরে টান মারে। তবু তিনি দেখেন না। এক সময় সবাই নেমে যায় বাস ছেড়ে। বাসের ফ্লোরে মেয়েটির দেহ হয়ে যায় শতশত মাকড়শা। সেগুলো ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে। সেই মাকড়শার একটি লেখকের চোখে ঢুকে অন্ধ করে দেয় চোখ।
      গল্পের এই জায়গায় এসে আমরা বুঝতে পারি, অন্ধ হয়ে যাওয়াই গল্পকথকের নিয়তি। কারণ, তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, রাতে তিনি কম দেখেন। অথবা যার চোখের সামনে বীভৎস অপরাধ সংগঠিত হয়, অথচ দেখেও না দেখার ভান করেন, ব্যক্তিস্বার্থচিন্তায়, তিনি তো অন্ধই। চোখে না হোক, মনবলের পঙ্গুত্বে তিনি অন্ধ।
      বাসের গল্প বলার ফাঁকে কথক এক সময় জানিয়ে দেন, বাসায় তার বউ এবং সোমত্ত এক মেয়ে আছে। তখন চতুর পাঠক ধরে ফেলেন, গল্পকথকের এই সোমত্ত মেয়েটার কপালে খারাবি অাছে। চতুর পাঠকের ধারণা মিছে হয় না। সে কথা পরে হবে।
      গল্পে লেখক দুটো জায়গায় আমাদের পতিত মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার প্রতি তীব্র শ্লেষ প্রকাশ করেছেন। প্রথম: বাসে গল্পকথকের সহযাত্রীর মোবাইলে মেসেজ চালাচালির একটা দৃশ্য আমরা পাই। সেখানে সহযাত্রী তার কোন বন্ধুকে মেসেজে জানায়— “একটা জোশ জিনিস দেখছি, অয়েট, হয়ে নিক তোকে শেয়ার দেবো।” এই দৃশ্যপটে লেখক আমাদের অবক্ষয়িত মূল্যবোধের ঘোমটা সরিয়ে কুৎসিত বাস্তবতা সেঁকে তুলেছেন। দ্বিতীয়: ধর্ষণ চলাকালে বাসটা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশ দিয়ে চলতে থাকে। গল্পকথক জানলা দিয়ে দেখেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা রক্ষায় সশস্ত্র সৈনিকদের প্রহরা কার্যালয় ঘিরে। তখন তার মনে উদয় হয় এরা যদি মেয়েটিকে বাঁচাতে আসত! পরক্ষণে তার ভুল ভাঙে, এদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব অাছে। এরা যেখানে সেখানে শক্তির অপচয় করে না।

      গল্প উপন্যাসে বিশ্বাসযোগ্যতার বিরাট দখল রয়েছে। যে গল্পে বিশ্বাসযোগ্যতার ঘাটতি থাকে তা কোন সফল গল্প নয়। অলাত এহসানের এই গল্পের শুরুর দিকে পাঠকের মনে খটকা জাগে— এও কখনো হয়! বাসভর্তি মানুষের ভেতর গণধর্ষণ বাংলাদেশে জাস্ট অসম্ভব। হ্যাঁ, লেখকের কাছেও এটা জাস্ট অসম্ভব। তাই শেষের দিকে এসে তিনি আমাদের ধন্দ দূর করেন। মূলত ধর্ষণের এই ঘটনা এক দুঃস্বপ্ন, যার মুখোমুখি তিনি অন্য কোথাও হয়েছিলেন। তিনি রাস্তার ধারে থেমে থাকা এক দোতলা বাসে চড়েন, যে বাস কোথাও যাবে না। তখনই এই দুঃস্বপ্ন তার মনোজগতকে ওলটপালট করে দেয়। তিনি তখন অাচ্ছন্ন, আর বাসের হেল্পার তাকে ধাক্কা দিয়ে জানায়— এই বাস কোথাও যাবে না। তাকে নামতে হবে। আর তখনই তার মোবাইলে ফোন আসে স্ত্রীর। স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে জানান, চারপাঁচটা ছেলে রাইসাকে তুলে নিয়ে গেছে। এবং আমাদের, পাঠকদের সন্দেহ হয়, হয়তবা বাসের মেয়েটাই তার মেয়ে, যে কিনা লুণ্ঠিত হওয়ার সময় বারবার তার প্যান্টের প্রান্ত ধরে টান দিচ্ছিল। আর তিনি নলের ভয়ে একবারের জন্যও মেয়েটির দিকে তাকাননি। এর মাধ্যমে লেখক আমাদের কানে কানে বার্তা দিয়ে যান, নগরে আগুন লাগলে দেবালায়ও রক্ষা পায় না। বলা বাহুল্য নয়, রাইসা আর কোনদিন ফিরে আসেনি। রাইসার শোকে তার মা আর কোন সন্তান নেননি। তবে তিনি হ্যালুসিনেশনের শিকার হন, প্রায়ই তিনি রাইসাকে দেখতে পান। আর আমাদের গল্পের কথক, তিনি রাইসার মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে কল্পিত অন্ধ সেজে বসে থাকেন।
      এই গল্পের মেয়েটিকে আমরা বাংলাদেশও কল্পনা করতে পারি। যে কিনা প্রতিনিয়ত ধর্ষিত হচ্ছে। আর আমরা, উদাসীন নাগরিক, চোখে ঠুলি পরে বসে আছি। কিংবা এই মেয়েটি আমাদের সুন্দরবন। যাকে ধ্বংস করার সব আয়োজন চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আর আমরা মনে মনে বলছি, আজে বাজে জিনিস নিয়ে আমরা কম ভাবি। আমাদের ভাবার মতো বড় বড় কাজ পড়ে আছে। গল্পকথক যেভাবে বলেছিল, আজেবাজে জিনিস আমি কম দেখি।
      অলাত এহ্সান এই গল্পে চমৎকার কয়েকটা উপমা ব্যবহার করেছেন। উপমা আমাকে আপ্লুত করে বলে একটা উল্লেখের লোভ সামলাতে পরলাম না। বাসের ভেতর ছেলেগুলো যখন মেয়েটির উপর হামলে পড়ে, তার উপমা— “জলের ভেতরে কাঁদা মাখা আখ ধোয়ার মতো মেয়েটার শরীর ঝাঁকাচ্ছিল ওরা।”
      পরিশেষে, লেখকের কলম আরো চমৎকার দার্শনিক গল্প জন্ম দিক এই প্রত্যাশা করছি।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com