একটি অপ্রচলিত ধারার আখ্যান

হামীম কামরুল হক | ২০ জুলাই ২০১৬ ২:১৬ অপরাহ্ন

Sub_Coverউপন্যাস আর আগের মতো নেই। আধুনিক যেকোনো উপন্যাস পড়ামাত্র পাঠক এটি টের পান। হোসে সারামাগোর মতে, উপন্যাস আর সাহিত্যের একটি বর্গ/জঁর হয়ে নেই। উপন্যাস যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে তাতে এটি এখন একটি সাহিত্যিক পরিসর/লিটারারি স্পেস। অনেক নদী যেমন সমুদ্রে গিয়ে মেশে, উপন্যাস তেমন সাহিত্যের বিপুল বিষয় নিয়ে এক জায়গায় জড়ো করতে পারে। সারামাগোর কথার ভেতরে উপন্যাসকে ক্রিটিক্যালি দেখার ব্যাপারটি আছে। এনিয়ে বিস্তৃত আলাপ আলোচনা হতে পারে। কিন্তু আমাদের এখানে সেই সুযোগ আপাতত নেই। আমরা বরং পাঠকের সাধারণ জায়গা থেকে উপন্যাসকে দেখবার চেষ্টা করছি। বলতে চাইছি যে, পাঠকের দিক থেকে দেখলে আমার মনে হয় উপন্যাস দু রকম। একটির ভেতরে পাঠক নিজেকে খুঁজে পান, অন্যটিতে পাঠক নিজেকে হারিয়ে ফেলেন। আরো অনেক রকমের আখ্যান আছে। কোথাও কাজ করে তিনি যে একটি উপন্যাস পড়ছেন সেটি লেখক তাকে বার বার মনে করিয়ে দেন। ব্রেখটের নাটকের এলিয়েনেশান থিওরির মতো। রুবাইয়াৎ আহমেদের উপন্যাস একজন সাব-এডিটরের কতিপয় ছোঁড়াখোঁড়া দিন-এ পাঠক নিজেকে হারিয়ে ফেলেন, সমকালীন বিশ্বপরিস্থিতির ভেতরে এক রকম ডুবেই যাবেন বলেই মনে হয়, কিন্তু এও বলতে পারি যে, এর ভেতর দিয়ে লেখক হয়তো একটি সাহিত্যিক পরিসরই তৈরি করতে চেয়েছেন।

রাস্তা পার হওয়ার সময় অন্যমনস্ক সাব-এডিটর, এই উপন্যাস যাকে সর্বত্র ‘আমাদের সাব-এডিটর’ বলা হয়েছে, তার হাত থেকে মোবাইল ফোনটা পড়ে যায়। এবং উপন্যাসের শেষে দেখি, এই মোবাইল ফোনটা তুলতে গিয়ে ছুটে আসা একটি বাসে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় তার। এই মোবাইল ফোন পড়ে যাওয়া আর বাসে চাপা পড়ে মৃত্যুর মাঝখানে জায়গাটি হল বাদবাকি উপন্যাসের জমিন। সেই জমিনে ‘আমাদের সাব-এডিটর’ যত না আছে, যত না আছে আমাদের দেশ ও মানুষের কথা, তারচেয়ে বেশি এসেছে বিশ্বপরিস্থিতির ঝড়োতাণ্ডব।
কবিতার প্রতি আসক্তি ছিল এই ‘আমাদের সাব-এডিটর’ চরিত্রটির। বেশ কয়েকটি কবিতাও আছে। তাতে তার কাব্যপ্রতিভা একেবারে ন্যূন নয়। কিন্তু পত্রিকা অফিসের গৎবাঁধা ও ব্যস্ততায়, বলতে গেলে ‘কোনোমতে দিন চলা যায়’ এমন বেতনের সাব-এডিটরের আর কবি হয়ে ওঠা হয় না। যদিও এর হাত থেকে সে মুক্তি চেয়েছিল। চেয়েছিল অব্যাহতি নিয়ে মুক্ত জীবনে পথে যাত্রা করবে। অব্যাহতিপত্র দিয়েওছিল, কিন্তু মুক্তি তার মিলল না। মুক্ত জীবনের দিকে যাত্রার শুরুতেই তাকে থামিয়ে দেয় মৃত্যুর বদ্ধতা। এখানে আশ্চর্যের একটি দিক আছে, সেটি হলো রাস্তায় পড়ে গিয়েছিল তার মোবাইলটা, যেটা কিনা এখন একজন মানুষের জীবনযাপনের অনিবার্য অনুষঙ্গ, যার ভেতরে দিয়ে সে মানুষ ও জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকে, সেই যুক্ত থাকার বস্তুটি তুলতে গিয়েই পৃথিবীর বুক থেকে বিযুক্ত হয়ে গেল আমাদের সাব-এডিটর।
দিনের পর দিন সে পাকিস্তান, ইরাক, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, মিশর, সিরিয়ায় চলা বিদ্রোহ-বিক্ষোভ, হত্যা খুন আর নিহত হওয়ার কাহিনি সম্পাদনা করেছে পত্রিকার জন্য। জাতিগত দাঙ্গায়, যুদ্ধ, অন্যদিকে জঙ্গি হামলায় ছিন্নবিচ্ছিন্ন জীবন ও মানুষের কথা লিখেছে, সেই তার প্রেমিকা যখন অন্যের সঙ্গে পরিণয়ে আবদ্ধ হয়ে বিদেশে পাড়ি দেয়, সেটি তার কাছে একটি তথ্যের বেশি কিছু হয়ে ওঠে না। কিন্তু সে নিরাবেগ তো নয়। নয় বলেই সীমান্তমুক্ত পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে, চায় ভালোবাসা, শুধু ভালোবাসা ছাড়া জগতে আর সব নিষিদ্ধ করে দেওয়া হোক।

উপন্যাসের বেশ কয়েকটা পরিচ্ছেদ আছে কেবল তার ঘুমের ঘোরে থাকা স্বপ্ন নিয়ে। তবে জেগে থেকে সে আসলে যে যে স্বপন দেখে, সেগুলি খোঁজ পাওয়া যায় কেবল তার কবিতায়। নানান জায়গায় এসেছে মুক্তিযুদ্ধের কথা। বিশ্বপরিস্থিতির সঙ্গে যোগ খুঁজে পেয়েছে সে সেখানে। বসনিয়ার গণহত্যার সঙ্গে মিলে গেছে একাত্তরে পাকিস্তানিদের হাতে নিহত বাঙালিরদের কথা।
একই সঙ্গে প্রবল বৈপরীত্যময় পৃথিবীর কথা বার বার আমার টের পেয়েছি, এই উপন্যাসের একের পর এক পরিচ্ছেদে। এদিকে উন্নত বিশ্বে নারী রাষ্ট্রপ্রধান হচ্ছে, অন্যদিকে ইরানে ব্যভিচারে দোষী সাব্যস্ত করে পাথর ছুঁড়ে হত্যার রায় দেওয়া হচ্ছে একজন নারীকে। পাকিস্তানে চার কন্যাকে নিজের হাতে গলা কেটে হত্যা করে তাদের পিতা, এর ভেতরে অপরাধ নাকি করেছিল তার সৎ কন্যা যে ভালোবেসেছিল, এজন্য তাকেসহ বাদবাকিদেরও হত্যা করেছে ওই পাষণ্ড পিতা। আমরা দেখি প্রাচ্যের দেশে দেশে রক্ষণশীলতার ঘোরাটোপের বিপরীতে পাশ্চাত্যের মুক্ত সমাজে বিয়ে ছাড়া দিব্যি সন্তানের জন্ম দিয়ে যাচ্ছেন এই বিশ্বের আইকনিক ব্যক্তিরা। ক্রিচিয়ান রোনাল্ডো, মেসি, বা রোমান পোলানস্কিরা প্রেম বিয়ে সংসারের কোনো বাধ্যবাধকতার ধার না ধেরে জীবনযাপন করছেন। তাদের এতে সম্মানের বা কাজের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। তবে একইসঙ্গে আমাদের গ্রামে মফস্বলে যে-বহুবিবাহের চল আছে সেকথাও এড়িয়ে যাওয়া হয় না।
খবরের পর খবর, কখনো নিজের জীবনের টুটাফাটা দিনের কথা বর্ণনা করতে করতে এগিয়েছে এই উপন্যাসের কাহিনি। মর্মস্পশী অনেক জায়গা আছে, যেমন ধর্ষণ এড়াতে ধর্ষকের ছুরি বসানোর অপরাধে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তা রিহান জাবেরি-র তার মাকে লেখা চিঠিটি।

চমকপ্রদ কিছু তথ্যকে গল্প করে তুলতে চেয়েছেন রুবাইয়াৎ। যেমন আইএস-এর উদ্ভবের তথ্যটি। কী করে ইরাক-কুয়েত সীমান্তের গার্মায় অবস্থিত ক্যাম্প বুকা থেকে আইএস তৈরি হলো। আছে সাহিত্যে নোবেল পাওয়া পিন্টার ও পামুকের কথা।
বার বার স্বপ্ন দেখে ‘আমাদের সাব-এডিটর’। নানান রকমের স্বপ্ন। এর ভেতরে একটি স্বপ্নের কথা বলতে হয়– যেখানে নরকে থাকা এক সংগীত শিল্পীর সংগীত শোনার জন্য স্বর্গ থেকে নরকের দিকে চলে আসতে চায় স্বর্গবাসীরা। শিল্পীর সেই সংগীত শুনে স্বয়ং ঈশ্বরের চোখে জল আসে। এদিকে ঘড়ির অ্যালার্মে স্বপ্ন ভেঙে গেলে কাজে যেতে হয়, সেদিন মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যু খবর আছে। মাইকেল জ্যাকসনকে আমাদের সাব-এডিটর মিলিয়ে দিতে পারে ক্রিস্টোফার মার্লোর ডক্টর ফস্টাসের সঙ্গে। ফস্টাস শয়তান লুসিফারের কাছে আত্মা বিক্রি করেছিল জাগতিক ভোগ-বিলাসের লোভে, আর জ্যাকসন পুঁজিবাদী সভ্যতায় থেকেই এর বৈষ্যমের বিরুদ্ধে লড়তে চেয়েছিল পুঁজির হাতেই লালিত হয়ে, জ্যাকসনকে তার মনে হয় ‘ সংগীতের ফস্টাস’।
কত না বিষয় আর খবর পাশপাশি। জীবন ও মৃত্যুর স্রোত চলে সমান্তরাল। নিজের থাকার জায়গাটা যে বস্তির পাশে সেখানকার শিশুদের দেখে সাব-এডিটরের মনে জেগে ওঠে ইরাকি শিশুদের কথা। আসে আয়লান কুর্দির কথা। যার সমুদ্রে উপুড় হয়ে থাকা ছবি দেখে সারা বিশ্বের বিবেক একটু সময়ের জন্য নড়ে উঠেছিল। এরই পাশাপাশি আছে ক্রসফায়ারের কথা। ‘আমাদের সাব-এডটরের’ নিজের বিপথে যাওয়া ভাইকেও এভাবে মরতে হয়েছে। একে নাটক বলেই মনে হয় তার। এর জন্য একটি আগাম ‘প্রেসরিলিজের ফরম’ও তৈরি করার চেষ্টা করেছিল সে। এর মানে আমাদের সাব-এডিটরের ভেতরে সব সময় একটি প্রতিবাদী বিদ্রোহী সত্তা সজাগ ছিল। এবং সে কবি বলেই সময়ের এই অসংখ্য স্রোতের ভেতরে বিপরীতে যাত্রা করার ক্ষমতা লালন করত।

Rubayet_picপ্রচার মাধ্যমের চরিত্র নিয়ে ‘ক্যাথরিন ব্লুমের হারানো সম্ভ্রম’ নামে যে উপন্যাস লিখেছিলেন হেনরিশ ব্যোল তাতে দেখানো হয়েছিল কতটা নেতিবাচকতার জন্ম দিতে পারে প্রচারমাধ্যম তথা মিডিয়াজগৎ। আমাদের সাব-এডিটরও দেখে, অ্যাঙ্গেলা মেরকেলতে ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ করার পরের নামটিই হল আইএস-এর শীর্ষনেতা আবু বকর আল বাগদাদির, মানে দ্বিতীয়তে। তাহলে মেরকেলের মতো সেও আর্দশ ছাপ্পা পেয়ে যাচ্ছে না? এই প্রশ্ন ওঠে।
এ উপন্যাসে সর্বনাশই বার বার খবর হয়। হজব্রতে ভিড়ে পদদলিত হয়ে মরে যায় অসংখ্য মানুষ। শিয়া নেতা নিমরকে শিরোচ্ছেদ করা হয় সৌদি আরবে। এই শিরোচ্ছেদ নিয়ে ফেসবুকের একজন মন্তব্যের সার কথা উঠে আসে, তাতে আইএস-এর সঙ্গে এর আসলে তফাত কোথায়? এরই পাশাপাশি রাশিয়ার একটি সাফারি পার্কে আমুর নামের একটি বাঘের সঙ্গে, সেই বাঘটিকে খেতে দেওয়া ছাগলের গভীর বন্ধুত্বের কাহিনি আনা হয়, সে দুটোকে একসঙ্গে যত্ন নেওয়ার দিকে নজর দেয় পার্ক কর্তৃপক্ষ। ছাগলটির নাম হয় তিমুর। আশ্চর্য এই গল্পে আমরা ‘পশুর মধ্যে মানবিকতা’র পাশে মানুষে মানুষে- জাতি-ধর্ম-গ্রোত্রে-শ্রেণি-লিঙ্গে তীব্র বিভেদের বাস্তবতা দেখি।

আমাদের সাব-এডিটরের ব্যক্তিগত জীবনের কথা এর ফাঁকে উঁকি দিয়ে যায়। মেসের সহবাসীরা জিসম টু দেখে। সানি লিয়নের কথা ও কাহিনি তালে তালে আমাদের সাব-এডিটরের উত্তেজনা জেগে ওঠে। বাথরুমে গিয়ে সানি লিওনের সঙ্গে সে মিশিয়ে দিতে থাকে আরো আরো নায়িকাদের বসনহীন শরীর। এই করতে করতে তার মনে এসে হাজির হয় এদেশের এক অভিনেত্রীর কথা, যার সঙ্গে একান্ত মুহূর্তের ভিডিও তার প্রাক্তন প্রেমিক ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়েছিল, কারণ মেয়েটি অন্যেকে বিয়ে করছে। এজন্য সেই বিয়েও ভেঙে যায়। ব্যক্তিগত এই চরম বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠে মেয়েটি। সেতো আত্মহত্যাও করতে পারত। সাব এডিটরের মনে জাগে ইডিপাসের কথা। যৌনতাকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারার মাত্রাবোধ তাকে নিজের স্খলনের হাত থেকে বাঁচিয়ে দেয়।
আমাদের সাব-এডিটরের চোখ ক্যামেরার মতো ঘোরে তার আশেপাশের অনেক কিছুর দিকে। মিডিয়া পাড়া বলে খ্যাত এলাকায় সে দেখে রাতের বেলা ছিন্নমূল মানুষের স্তূপাকার শুয়ে থাকা। তার মনে জাগে মঙ্গলগ্রহের কথা। খবরের কাগজের জীবন তো একটা দ্বিতীয় বাস্তবতার জগৎ। সেখানে পাঠক মজানো চমকানো খবরের ভিড়ও কম নয়। চুম্বনের রেকর্ড করা যুগলের সমান্তরালে বোমাতঙ্কে ভোগা লন্ডনের কথা যেমন আছে, তেমন আসে স্টিফেন হকিংয়ের ঈশ্বর বিশ্বাস নিয়ে করা উক্তি।
নিজের বেতন পদোন্নতি, নিজের খবর হারিয়ে ফের পায় বার বার আমাদের সাব-এডিটর। নিজের পিতার মৃত্যুর স্মৃতি উঁকি দিয়ে যায়, চিলির স্বর্ণখনিতে আটকে পড়া শ্রমিকদের খবরের পাশাপাশি। টাইটানিক জাহাজের ডুবে যাওয়া, টাইটানিক সিনেমার প্রেম ও মৃত্যুর নিড়িতায় ভিজে ওঠে সাব-এডিটরের মন প্রেমে ও কবিতায়, বেদনায়। তাঁর জীবনবোধ তাকে বলে বেঁচে থাকতে মানুষের খুব বেশি জিনিসের প্রয়োজন পড়ে না। মানুষ আনন্দের সঙ্গে বাঁচবে, কিন্তু কেবল লক্ষ্য রাখতে হবে তার আনন্দ যেন একটি ব্যক্তিরও কষ্টের উৎস না হয়।

অন্যদিকে শেষ অব্দি তার কাছে খবর মানেই মানুষের বিনষ্টির সংবাদ। তবু সে তার ফেসবুকে একটা লেখা লেখে তার শিরোনাম হয় ‘জন্মেছিলে বলে কৃতজ্ঞ হও’। আমাদের সাব-এডিটর বুঝতে পারে তাকে মুক্ত হতে হবে, স্বাধীন হতে হবে। অব্যাহতি নিতে হবে গতানুগতিকতার হাত থেকে। আর সে মরমের আশ্রয় হিসেবে যাবে ফের আমর্ম কবিতায়। কিন্তু তার সেই ফেরা হয় না। খবরের কাগজের সামান্য সাব-এডিটর, যে নিজেকে ‘শোয়ামাল’ হিসেবেও দেখেছে একসময়– রাস্তা পার হওয়ার সময় হঠাৎ পড়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি তুলতে গিয়ে সে পরিণত হয় একটি মৃত্যুসংবাদে; এবং তাও গৎবাঁধা নিয়মরক্ষার একটি সংবাদ হয় মাত্র। অমুক পত্রিকার তমুক, অমুক দৈনিকের তমুক সম্পাদক– এই তীব্র ব্যঙ্গটা দিয়ে উপন্যাসের ইতি টানেন রুবাইয়াৎ।

আসলে চরম অমানবিক একটি পৃথিবীতে, দম আটকানো বেঁচে থাকার গল্পই হয়ে ওঠে এই উপন্যাসটি। দুয়েক জায়গায় আশার আলো দেখা দেয়, কিন্তু তাতে তেমন কোনো জোর নেই। ব্যর্থতা হতাশার ঝড়ে সেটি প্রায় নিভু নিভু জ্বলে মাত্র। আর তার ভেতরেই মরে যায় ‘আমাদের সাব-এডিটর’। এই মৃত্যুতে আমাদের কী আসে যায়? এমন একটি প্রশ্ন বোধ করি থেকে যেতে পারত, কিন্তু আমাদের সাব-এডিটর এতটা তুচ্ছ যে তাও ওঠে না। আর পৃথিবীরও কোনো বদল হয় না। হত্যা-মৃত্যু-গুম-খুন-ধর্ষণ চলতে থাকে। হিংসার জায়গা প্রেমময়তা গিয়ে কখনোই পুরোপুরি দখলে নিতে পারে না। পুরো উপন্যাস জুড়ে বিনষ্টির খবর, তথ্য ও স্রোত বইয়ে দিয়ে, মাত্র দুয়েক জায়গায় আশার একটু আলো, কয়েকটা স্বপ্ন ও স্বপ্ন ভঙ্গের গল্প বলে রুবাইয়াৎ মনে হয় সেই ফ্লবেয়ারের পথটাই বেছে নিয়েছেন, সেটি হল: ‘আমি আমার বমি ঢেলে দিয়ে মানবতার প্রতি প্রেম প্রকাশ করব।’ রুবাইয়াৎও ‘বিনষ্টি’ অবিরল স্রোতের কথা শুনিয়ে নতুন নির্মাণ ও সৃষ্টির দিকে সচকিত করতে চাইলেন আমাদের। আর সেটি কতটা পারলেন পাঠকরা তার এই বইটি পড়ামাত্র অনুধাবন করতে পারবেন। এছাড়াও দারুণ গতিশীল কাহিনিস্রোত এবং সম্পূর্ণ একঘেয়েমিমুক্ত একটি নির্মাণ শৈলীর জন্য পাঠকরা তার প্রতি কৃতজ্ঞও হবেন বলে বোধ করি।

একজন সাব-এডিটরের কতিপয় ছোঁড়াখোঁড়া দিন ॥ রুবাইয়াৎ আহমেদ ॥ প্রথম প্রকাশ ফেব্রুয়ারি ২০১৬॥ কাগজ প্রকাশন, ঢাকা ॥ প্রচ্ছদ: সব্যসাচী হাজরা ॥ ৮০ পৃষ্ঠা ॥ ২০০ টাকা।

Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (0) »

এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com