ঈদ ও রোজা প্রসঙ্গে কবি নির্মলেন্দু গুণ: “ আমি ওর নামে দুইবার খাশি কুরবানী দিয়েছি”

রাজু আলাউদ্দিন | ৪ জুলাই ২০১৬ ১:০৬ পূর্বাহ্ন

Goon-1এ মাসের প্রথম দিন কবি নির্মলেন্দু গুণের সাথে রোজা ও ঈদের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা হয়েছিল কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের সাথে। এখানে তাদের সেই আলাপচারিতা প্রকাশ করা হলো বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকমর-এর পাঠকদের জন্য।

রাজু আলাউদ্দিন: গুণদা, কেমন আছেন? ভাবছিলাম যে ঈদ সংখ্যার জন্য একটি কবিতা চাইবো আপনার কাছে, কিন্তু জানি ঐভাবে তো কবিতা সঙ্গে সঙ্গে চাইলে পাওয়া যাবে না।
নির্মলেন্দু গুণ : কালকে নাকি যুগান্তর আমার কবিতা ছাপছে।
রাজু :আপনার?
গুণ:হ্যাঁ হ্যাঁ।
রাজু : আচ্ছা, আমি খেয়াল করিনি তো! পুরোনো কবিতা নিশ্চয়।
গুণ:ওটা ফেসকুব থেকে নেয়া ,ছাড়পোকার উপর যে কবিতাটা।
রাজু :ও আচ্ছা। ওরা ছাপছে এইটা তা আমি জানি না।
গুণ: একজনে ফোন করে আমাকে বলল।
রাজু:ও! আচ্ছা। হইতে পারে আমি খেয়াল করিনি। আমি ওদের পাতাটা দেখিনি গতকালকে। আমি যেটা জানতে চাচ্ছিলাম সেটা হলো যে, আপনি তো ধরেন অন্য একটি সম্প্রদায়ের লোক। এখন মুসলমানদের এই ঈদের আনন্দ বলে কী আপনার কোন প্রতিক্রিয়া বা অনুভুতি আছে?
গুণ: হ্যাঁ, আমি তো ডেইলি সেহেরি না খাইলেও ইফতারি করতেছি। আমার বাসায় তো দুইজন ইসলামধর্মী থাকে, তাদেরকে ভোর রাতে তুলে দিতে হয়।
রাজু : আচ্ছা, আপনি যখন ছোট ছিলেন তখন তো মুসলমান বন্ধুবান্ধব ছিল, তাই না? তাদের বাড়ীতে গিয়ে ঈদের আনন্দ আপনি কাটিয়েছেন কিনা কখনো।
গুণ: এইগুলো আমার ছেলেবেলার বইয়ে আছে যে মুসলমান বন্ধুরা আমাদের বাড়ীতে যেত। সেই রকম আমার এক বন্ধু মতউর রহমান, ওর সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক ছিল, যাতায়াত করতো আমাদের বাড়ীতে। তো ওরা যখন আমাদের বাড়ীতে আসতো, আমাদের বাড়ীটা দর্শনীয় ছিল। মানুষ এমনিতেও বাড়ী দেখার জন্য আসতো। তো ঐরকম বন্ধুবান্ধব মুসলমান যারা ছিল বা তাদের বাড়ীতে যাতায়াত ছিল এইরকম আছে দুই চারজন। এসব কাহিনী আমার ছেলেবেলার বইতে আছে।
রাজু : আচ্ছা, এর বাইরেও যেগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়নি–এর রকম দুই একটা স্মৃতি বলেন না অনুগ্রহ করে।

গুণ: এখন আমি বলতে পারবো না, এখন আমি খাইতে বসছি।
রাজু : সংক্ষেপে একটু বলেন না, গুণদা।
গুণ: এখন আমার মনে পড়তেছে না।
রাজু : ঠিক আছে, তাহলে আমি অফিসে গিয়ে আপনাকে কল দিব।
(কয়েক ঘন্টা পর অফিসে গিয়ে গুণদাকে আবার কল দিয়ে জানতে চাইলাম)
রাজু : বলতে ছিলাম যে, ধরেন আপনি তো মুসলমান বন্ধু ছোটবেলা থেকে পাইছেন। তাই না? তারা যে ঈদের উৎসব করতো সেগুলোতে আপনি যেতে পারতেন কিনা?
গুণ: ছোটবেলায় ঈদের উৎসবে তো মানুষ খুব গরীব ছিল, ফলে এই উৎসগুলো গরীবী মতেই হতো আর কি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে না এখন আস্তে আস্তে মানুষের টাকা পয়সা হইছে, এখন গ্রাম গজ্ঞেও ঈদের উৎসব। এখন যেমন একটা উৎসবভাব চোখে পরে। সপিংও করে মানুষ, ঈদের বাজার ঈদের মার্কেটিং…
রাজু : তো এখন এই পরিণত বয়সে আপনার, মানে মুসলমান বন্ধুরা ঈদ উৎসব পালন করছে। আপনাকে তো দাওয়াত দেয়, তাই না?
গুণ:আমার মেয়ে যখন ছোট ছিল তখন তার হিন্দুদের সঙ্গে ইন্টারেকশন কম হইতো। যেহেতু চারপাশে সব মুসলমান ছিল, তো ঈদের সময় আমার মেয়েকে ছোটবেলা থেকেই ঈদের জামা কিনে দিতে হতো।
রাজু : তাইলে তো মৃত্তিকা লাভবানই হইতো, কারণ এদিকে ঈদের জন্য সে জামাকাপর পেতো, আবার ঐদিকে হিন্দুদের পুজাতেও সে…
গুণ: দুর্গাপুজায় ঢাকাতে কয়েকটা জাগায় যেমন জগন্নাথ হল, শাখারি পট্টি, এখন ইদানিংতো ধানমন্ডিতে হয় পুজামন্ডপ হয়।
goon-1.jpgরাজু : আর একটা হলো যে আপনার তো একজন মুসলমান বান্ধবী আছেন এবং তিনি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তো আপনার এই বান্ধবী কি আপনাকে ঈদের দাওয়াত দেন বা দিয়েছিলেন আগে কখনো?
গুণ: হ্যাঁ, ঈদের দাওয়াত দেন। শুধু শেখ হাসিনা না খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখনও আমি ঈদের দাওয়াত পেতাম, এবং গিয়েছিও। এখন অবশ্য খুব বেশী একটা যাই না। দুই প্রধানমন্ত্রী আমাকে ঈদের দাওয়াত পাঠাইছে, আমি তাদের দাওয়াত কবুল করেছি।
রাজু : তো আগে যেই দাওয়াতগুলোতে গেছেন, সেগুলোতে ওনাদের সঙ্গে কথা হতো এইসব বিষয়ে?
গুণ: না, এইসব বিষয় না; এমনি কুশল বিনিময় হতো।
রাজু : এবার ঈদের দিন আপনি কি করবেন কোথায় থাকবেন?
গুণ: ঈদের দিন ঢাকাতেই থাকবো।
রাজু : এই ঈদের দাওয়াতে যাবেন না কোথাও?
গুণ: এখন আর কোথাও যাই না। তবে আমার বাসায় তো দুইজন মুসলমান ওরা কিন্তু ডেইলি রোজা রাখে। আমি মাঝেমধ্যে ওদের সাথে সেহেরি খাই।
রাজু : তো আপনি তাহলে রোজা না রেখেও ইফতার খান এবং সেহেরি করেন?
গুণ: সেহেরি করি না প্রতিদিন, ওরা যদি ঘুমিয়ে পরে, তো ওদের ডেকে তুলে দেই। আগে তো একজন ছিল এখন ওরা দুজন। একজন না একজন জাগতে পারে এবং আমি রাত দুটা পর্যন্ত সজাগ থাকি তো, ফলে হয়কি তিনটা পর্যন্ত জেগে থেকে ওদের তুলে দেই। এখন তো আমার বাড়ীর পাশেই একটা মসজিদ আছে, সেই মসজিদ থেকে যে ঘোষণাটা হয় তাতে সজাগ হয়ে যায়। তখন ঘুমানোটা কঠিন।
রাজু : চারিদিক থেকে এত আওয়াজ আসতে থাকে তখন তো আর ঘুমানো সম্ভব না।
গুণ: ওদের দুজনার কারণে আমার ইফতারি এবং সেহেরির সঙ্গে সম্পর্ক আছে। যদিও রোজা রাখি না।
রাজু : আপনাদের ধর্মে তো বোধহয় একটা রোজা আছে সেটা খুব অল্প সময়ের তাই না?
গুণ: আমাদের ধর্মে যেটা আছে সেটা মেয়েদের উপর চাপিয়ে দিয়ে আমরা নিশ্চিন্তে আছি।
রাজু : কিরকম সেটা?
গুণ: উপোস-টুপোস যেগুলো থাকে, সেগুলো সাধারণত মেয়েরাই করে। পুরুষদের জন্য এরকম উপবাস ব্যাপার নাই। মহিলারা চার দিন পর্যন্ত ফলমুল খেয়ে থাকে। তারা রান্না করা কিছু খেতে পারে না, ফলে চারদিনব্যাপি তারা ফলমুল খেয়ে উপবাস থাকে। মানে আগুনের উত্তাপে যেগুলো হয় সেগুলো তারা খেতে পারে না। আমাদের গ্রামে আগে যেমন গরু জবোটা খুব কম হতো। ছোটবেলায় প্রায় দেখিই নাই। আমাদের গ্রামে যারা মুসলমান ছিল তারা এত দরিদ্র ছিল যে তারা কুরবানী দিতে পারতো না। এখন আমাদের গ্রামে আমি খবর নিয়েছি যে এখন ২০/২৫টা কুরবানী হয়। আমি যখন আজিমপুরে ছিলাম, ইমন যখন ছোট ছিল–আমার একটা কবিতা আছে না “ও হিন্দু মা তুমি এই ছেলেকে কোথায় পেলে? সত্যি করে বলো এই ছেলেকে কোথায় পেল নইলে তোমার বিচার হবে ধর্মনাশে। … ও হিন্দু মা তুমি এই ছেলেকে কোথায় পেলে? মা হেসে কয় হরি হরি আমি একই পেটে অনেক ধরি। ওতো আমার পেটের ছেলে।” এই রকম একটা কবিতা আছে আমার। ইমন যখন ছোট ছিল তখন ও পরে গেলেই ‘আল্লাহ’ বলত, ওর বাবা মুসলমান মা হিন্দু তো, ধর্ম পালনের ব্যাপারে, ইসলাম পালনে তার যখন আগ্রহ তখন আমি আর তাকে ডাইভার্ট করিনি। নামাজ পরে সে প্রতিদিন।
রাজু : ওকে স্বাধীনতা দিয়ে দিলেন ধর্মীয় আচরণে। আপনি তো ব্যক্তিগত জীবনে ধর্ম চর্চা করেন না।
গুণ: না, করি না। কিন্তু অন্য ধর্মের লোকদেরকে ধর্ম পালন করতে দেখলে আমি ভালোবাসার দৃষ্টিতেই দেখি। এ ব্যাপারে আমার কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া নাই। যারা এটা করে আনন্দ পায়, তাদের প্রতি সমর্থন আছে আমার। ঠিক এই কারণে তখন ওর নামে আমি কোরবানী দিতে বাধ্য হইছি। ও কুরবানী দেয়ার বায়না ধরছিল। আমি ওর নামে দুইবার খাশি কুরবানী দিয়েছি।
রাজু : মানে ঈদের কুরবানি দিয়েছেন তাই তো? তো মুসলমানের এই ঈদের কোন দিকটা ভালো লাগে আপনার?
গুণ: না খেয়ে যে থাকা– খুব কঠিন। আমি একবার রোজা রেখে টেষ্ট করেছিলাম। বিকালের দিকে আমার একেবারে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিল। এই যে কঠিন কাজটা মুসলমানরা যে করে, ফলে তাদের এই ধর্মটা নিয়ে তাদের যে আবেগ তা অন্য ধর্মগ্রন্থের চেয়ে একটু বেশী। অন্য কোন ধর্ম এত কঠিনভাবে পালনীয় না। অন্য ধর্মাবলম্বী যারা তাদেরকে এত কষ্ট করতে হয় না, মুসলমানরা যেভাবে করে। হজ যাকাতটা না হয় বাদ দিলাম।
রাজু : শারীরিক পরিশ্রম না করেই সেগুলো পালন করা যায়।
গুণ: আমার টাকা থাকলে তো আমি এখন বিমানে যেতে পারছি মক্কায়। আগে তো মানুষ অনেক কষ্ট করে মানুষ হজ করতে যেত। তখন দশ গায়ের মধ্যে একজন হাজী পাওয়া যেত না আর এখনতো প্রায় ঘরে ঘরে হাজী এবং এখন তো কাজের জন্য ১০ লক্ষের উপরে মানুষ সৌদি আরবে বাস করে।
রাজু : তো আপনি বললেন যে মুসলমানদের এই যে রোজা রাখার কঠিন ইয়েটা পালন করে, এটা একধরনের শারীরিক সক্ষমতা এবং সংযম বা আর কি বলা যায়–এগুলির একটা পরিচয় তারা দেয়।
গুণ: এটাতো বিরাট একটা সংযমের পরিচয় তারা দেয়। ঐদিন আমি ইটালিতে একটা মুসলমান ছেলের সাথে আলাপ করলাম সে বলল যে তাদের নাকি ১৮ ঘণ্টা রোজা রাখতে হয়।
রাজু : আমি তো পারিই না।
গুণ: এই যে আমাদের এখানে মোয়াজ্জিন যে আজান দেয় সে লোকটার জন্য আমার খুব মায়া হয়। তিনি ঘুম থেকে উঠে খুব ক্লান্ত কণ্ঠে আজান দেন এবং তার ডাকে আবার অনেকে সকালে উঠে নামাজে যায়, তাও তো কঠিন ব্যাপার। তাদের ধর্মটা যে এত কঠিন এই জন্যই তারা ধর্মের সমালোচনা সহ্য করতে পারে না আমার ধারণা।
রাজু : আচ্ছা আর একটা জিনিস সেটা হলো যে নিদ্রার চেয়ে আরাধনা উত্তম আর আরাধনার চেয়ে বোধহয় লেখালেখি উত্তম। কারণ ঐ যে একটা হাদিস আছে না যে …
গুণ: শহীদের রক্তের চেয়ে মসির শক্তি বেশি।
রাজু: হ্যাঁ, হ্যাঁ, এইটা। তাহলে আরাধনার চেয়ে লেখালেখি উত্তমতো বলা যায়।
গুণ: হ্যাঁ, সেটা আছে। তবে এইটা আমি বলতে পারি না।
রাজু : না, আমার মনে হয় এটা বলা যায়।
গুণ: এটা হাদিসের কোথায় আছে আমার তো জানা নাই, শোনা কথা আমার বলা ঠিক না। এটা যদি উত্তম হয়, তাহলে তো নামাজ ছেড়ে সবাই লেখালেখি শুরু করে দেবে। তখন আর কেউ মসজিদে যাবে না।
রাজু : মুসলমানদের রমজানের এই দিকটা আপনার ভালো লাগে তাহলে?
গুণ: দুটো ঈদে অনেক টাকা রোল করে।
রাজু : তাহলে সেই অর্থে ঈদের অর্থনৈতিকভাবে একটা বিশাল গুরুত্ব আছে এবং এই অথৈ আপনি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন একে?
গুণ: হ্যাঁ, এটার গুরুত্ব আছে বলে আমি মনে করি । মানি রোল করছে, এই কেনাকাটা, সপিং মল। ঢাকা শহরে যে এতো দোকান গড়ে উঠছে এই আমাদের ঈদকে কেন্দ্র করে, অর্থনৈতিক যে কর্মকা-টা হয় তাতো বিরাট ব্যাপার। যার সামান্য টাকা আছে সেও ঈদের কাপড় কিনে। পুস্তক বিক্রির ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারির বইমেলায় সারা বছরের বিক্রিটা যেমন হয়, তেমনি দোকানদাররা দুই ঈদের সময়েই সারা বছরের বিক্রিটা করে। এছাড়া মডেলিংয়ে তো এখন অনেক ছেলেমেয়েরা নিয়োজিত। হাজার হাজার কোটি টাকা এতে যুক্ত। অর্থনীতিতে একটা গতি সঞ্চার করছে ঈদ। কত ধরনের ব্যবসা যে ঈদকে কেন্দ্র করে উঠেছে তার কোনা সীমা খুঁজে পাওয়া যাবে না।
রাজু : থ্যঙ্ক ইউ গুণদা।

ইতিপূর্বে আর্টস-এ প্রকাশিত রাজু আলাউদ্দিন কর্তৃক গ্রহীত ও অনূদিত অন্যান্য সাক্ষাৎকার:
দিলীপ কুমার বসুর সাক্ষাৎকার: ভারতবর্ষের ইউনিটিটা অনেক জোর করে বানানো

রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গে সনজীদা খাতুন: “কোনটা দিয়ে কাকে ঠেকাতে হবে খুব ভাল বুঝতেন”

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সাক্ষাতকার: “গান্ধী কিন্তু ভীষণভাবে সমাজতন্ত্রবিরোধী ছিলেন”

নন্দিতা বসুর সাক্ষাতকার: “তসলিমার মধ্যে অনেক মিথ্যা ভাষণ আছে”

ভরদুপুরে শঙ্খ ঘোষের সাথে: “কোরান শরীফে উটের উল্লেখ আছে, একাধিকবারই আছে।”

শিল্পী মনিরুল ইসলাম: “আমি হরতাল কোনো সময়ই চাই না”

মুহম্মদ নূরুল হুদার সাক্ষাৎকার: ‘টেকনিকের বিবর্তনের ইতিহাস’ কথাটা একটি খণ্ডিত সত্য

আমি আনন্দ ছাড়া আঁকতে পারি না, দুঃখ ছাড়া লিখতে পারি না–মুতর্জা বশীর

আহমদ ছফা:”আমি সত্যের প্রতি অবিচল একটি অনুরাগ নিয়ে চলতে চাই”

অক্তাবিও পাসের চোখে বু্দ্ধ ও বুদ্ধবাদ: ‘তিনি হলেন সেই লোক যিনি নিজেকে দেবতা বলে দাবি করেননি ’

নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০০৯: রেডিও আলাপে হার্টা ম্যুলার

কবি আল মাহমুদের সাক্ষাৎকার

শামসুর রাহমান-এর দুর্লভ সাক্ষাৎকার

হুমায়ুন আজাদ-এর সঙ্গে আলাপ (১৯৯৫)

নির্মলেন্দু গুণ: “প্রথমদিন শেখ মুজিব আমাকে ‘আপনি’ করে বললেন”

গুলতেকিন খানের সাক্ষাৎকার: কবিতার প্রতি আমার বিশেষ অাগ্রহ ছিল

নির্মলেন্দু গুণের সাক্ষাৎকার: ভালোবাসা, অর্থ, পুরস্কার আদায় করতে হয়

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (8) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শামীম খান — জুলাই ৪, ২০১৬ @ ৯:৫০ পূর্বাহ্ন

      এদেশে হিন্দু-মুসলমান আমরা ভাইভাই ।
      সর্বজন শ্রদ্ধেয় কবি নির্মলেন্দু গুনের চেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক আর কে হতে পারেন ! পড়তে পড়তে চোখের সামনে ভেসে উঠছিল কি অসীম মমতায় একজন অমুসলিম তার প্রিয় মুসলিম ভাইটিকে খুশী করতে সেহরিতে ডেকে দিচ্ছেন , ইফতারে সাথে বসছেন । কি গভীর ভালোবাসায় আরেকজনের মন তুষ্ট করতে তার হয়ে খাসী কোরবানি দিচ্ছেন । হঠাৎ চোখে পানি চলে এলো । স্যালুট আপনাকে । আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রাখুন , হায়াত বাড়িয়ে দিন । বাংলা সাহিত্য আপনার হাতে আরও শোভনীয় হয়ে উঠুক । এদেশ আপনাকে পেয়ে আরও গর্বিত হোক ।

      আমরা কবে আপনার মত হতে পারবো ?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভানু ভাস্কর — জুলাই ৪, ২০১৬ @ ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন

      আরাধনার চেয়ে লেখালেখি উত্তম – কথাটা ভালো লেগেছে। সত্যই তো। প্রথমেই তো হুকুম হলো – ইকরা, পড়। না পড়ে আরাধনার ফল তো আমরা দেখতেই পাচ্ছি দুনিয়াজুড়ে।
      কিন্তু ‘আমি তো পারিই না’ -এর মানে কি? পারেন না কেন? এটা কোনও কষ্টের কাজ না। বরং বলেন যেটাতে নিজের সুবিধে হয় সেটা করেন, বাকিটা ঝেড়ে ছেড়ে দেন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন OJANA — জুলাই ৪, ২০১৬ @ ১১:৫০ পূর্বাহ্ন

      Mr. Raju,
      Apni Nirmolendu Gun ke tel dite cheyechilen je Prarthona theke lekhlekhi uttom. BUt eta as a Muslim hishebe apnar thik hoy nai…

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাসুদ রানা — জুলাই ৪, ২০১৬ @ ৩:৫০ অপরাহ্ন

      ইমন আর নির্মলেন্দু গুণের সম্পর্ক কী? জানতে চাই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন masud hasan — জুলাই ৪, ২০১৬ @ ৪:২৯ অপরাহ্ন

      সাক্ষাতকারটি মোটেও জমেনি। আযানের উদ্ধৃতি দিয়ে রাজু আলাউদ্দিন জোর করে “আরাধনার চেয়ে লেখালেখি উত্তম” বলানোর চেষ্টা করেছেন।নিজের মতামত (না, আমার মনে হয় এটা বলা যায়) কবির ঘাড়ে চাপানর চেষ্টা করেছেন।সচেতন কবি তার ফাঁদে পা দেননি।মানবিক, বিপ্লবী এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে আছে কবির প্রতিটি পংক্তি জুড়ে।আর সে কারনেই তিনি আমাদের প্রিয় কবি।জোর জবরদস্তি করে কবিদের দিয়ে কিছু বলানো যায়না (যদিও কেউ কেউ বলে থাকেন)

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আনিস — জুলাই ৪, ২০১৬ @ ১০:৫৪ অপরাহ্ন

      অজানা-কে বলছি, রাজু মুসলিম কিনা তা আপনি জানেন কিভাবে? মুসলিম হয়ে কি করবে না করবে সেটা সম্পূর্ণ তার ব্যাপার। একইভাবে, আপনি কি লিখছেন না লিখছেন আপনার ব্যাপার হোলেও, না লিখে পারছিনা যে অন্যের ব্যাপারে আমরা জাতিগতভাবেই বেশী মাথা ঘামাই। আর একটি প্রশ্ন, মুসলিম হয়ে যে এটা লেখা উচিত নয়, এই ব্যাপারে আপনি পবিত্র কোরআন শরীফের অথবা হাদীস শরীফের কোন জায়গা থেকে নিশ্চিত হয়েছেন? জানালে বাধিত হব।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন razualauddin — জুলাই ৫, ২০১৬ @ ১:৫১ অপরাহ্ন

      Ojana সাহেব,
      গুণী জনকে তেল দেয়া উত্তম। ইতর আর অজ্ঞকে ঘৃণা করা যেমন উত্তম। ইসলাম সম্পর্কে আপনি বিশেষ অজ্ঞ বলেই বিশেষজ্ঞের মতো উপদেশ বিতরণ করতে এসেছেন। আপনার মতো মুসলমানদের সমস্যা হলো নিজেকে পণ্ডিত ভেবে বসে আছেন। আপনার লেখাপড়া নেই বলেই আপনি আরাধনাকে উত্তম মনে করছেন। আগে পড়াশুনা করে তারপর কথা বলেন।

      Masud Hasan সাহেব,

      না জমলে এত লোক পড়লেন কেন? “আরাধনার চেয়ে লেখালেখি উত্তম”–এই কথার জবার উপরেই দেয়া আছে। আপনি দয়া করে দেখে নিতে পারেন। প্রশ্নকর্তা হিসেবে আমার জেনে নেয়ার অধিকার আছে বলেই উত্তরদাতাকে প্রশ্ন করা আমার দায়িত্ব, সেটাকেই আপনি ‘চাপিয়ে’ হিসেবে দেখছেন কেন?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রফিকুল — জুলাই ৫, ২০১৬ @ ২:১৭ অপরাহ্ন

      শুধু হিন্দুদের লেখনীতে অসাম্প্রদায়িকতার গল্প শুনি। কোন মুসলমানকে কোনদিন অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলতে শুনলাম না। সন্ত্রাসী কি এমনি জন্ম হয়???

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।