ড. রফিকুল ইসলাম: ঢাকাই একদল সংগীত সন্ত্রাসী ইচ্ছেকৃতভাবে নজরুলের সুর বিকৃত করে

অলাত এহ্সান | ২৫ মে ২০১৬ ৫:০৩ অপরাহ্ন

dr-rofikul-islam.jpgকাজী নজরুল ইসলামের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। বাংলাদেশে নজরুল গবেষণার ক্ষেত্রে প্রধান পুরুষ ড. রফিকুল ইসলাম। দীর্ঘ চারদশকের অধিক সময় ধরে তিনি নজরুল গবেষণায় নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছেন। গবেষক হিসেবে তার অন্যতম কাজ কাজী নজরুল ইসলামের ওপর সব চেয়ে তথ্যবহুল জীবনীগ্রন্থ রচনা। এখনো তিনি লিখে যাচ্ছেন নজরুলের বহুমুখী লেখনীর বিভিন্ন দিক নিয়ে। এই মুহূর্তে তিনি কাজ করছেন নজরুলের সুস্থাবস্থায় করা গানের স্বরলিপি উদ্ধারে। দীর্ঘ অধ্যাপনা জীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে প্রথম নজরুল অধ্যাপক এবং নজরুল-গবেষণা কেন্দ্রের প্রথম পরিচালক। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। পেয়েছেন একুশে পদকসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সব পুরস্কার। কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশে নজরুল চর্চার বর্তমান হাল, গবেষণা, প্রাসঙ্গিকতা ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তরুণ গল্পকার অলাত এহ্সান।

অলাত এহ্সান : এটা খুব পীড়াদায়ক বিষয় হচ্ছে যে, কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে তাঁর জন্ম-মৃত্যু দিনেই সবচেয়ে বেশি কথা বলা হয়। প্রবণতাটা একটা মারাত্মক বিষয়, তাই না?
ড. রফিকুল ইসলাম : না, এটা নির্ভর করে প্রচার মাধ্যমগুলোর ওপর, বুঝেছো। তবে আমাদের প্রচার মাধ্যমগুলোতে নজরুল সংগীতের প্রচার এখন বাড়ছে ক্রমে ক্রমেই। যেমন আগে তো হতো না, এখন সকালে প্রায় প্রত্যেকটা প্রচার মাধ্যমে ছোটখাট যে একটা সংগীতানুষ্ঠান হয়, সেখানে নজরুলের গান হয়। এখন আমি এটা দেখলাম–বিটিভি, তারপরে চ্যানেল আই’তে তো ছিলই; অন্যগুলোতে ছিল না। মোহনা চ্যানেলে হয়। এরকম কয়েকটা টিভি চ্যানেলে আমি দেখলাম তারা নিয়মিত সকালে নজরুল সংগীত প্রচার করে। কাজেই এটা বলা যাবে না যে, প্রচারিত হচ্ছে না। তবে বিটিভিতে নিয়মিত হয়।

অলাত এহ্সান : আপনার নজরুল চর্চা প্রায় চারদশকের বেশি সময়। নজরুল গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি করেছেন তা হলো, তাঁর ওপর সবচেয়ে তথ্যবহুল যে জীবনী তা আপনার করা। চারদশক আগে আপনি নজরুলের ওপর অভিসন্দর্ভ রচনা করেছেন। এখন নজরুলের ওপর কী নিয়ে কাজ করছেন?
ড. রফিকুল ইসলাম : এখন যেটা নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে, তা সংগীতের ওপরে। কারণ নজরুল সংগীতে, তাঁর অসুস্থতার কারণে, অনেক অনেক গান হারিয়ে গেছে। অনেক গানের সুর বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অনেক গানের সুর বিকৃত হয়েছে। সুর না শুধু, সুর, বাণী–দুই-ই।

অলাত এহ্সান : এটাও কিন্তু স্যার, আমি আপনার কথার সঙ্গে যদি যুক্ত করি, অনেকে নিজের লেখা গানটা নজরুলের গানের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। এটা নিয়ে গবেষণাও হয়েছে, এখনো হচ্ছে।
ড. রফিকুল ইসলাম : সেগুলো আমি মূল্য দেই না। কারণ আমরা চেষ্টা করছি, তাঁর অধিকাংশ গানের বাণী উদ্ধার করেছি। উদ্ধার করে নজরুল সংগীত সংগ্রহ নামে নজরুল ইন্সটিটিউট থেকে প্রকাশ হয়েছে। এখন সেগুলোর আদি সুর কী ছিল নজরুলের সুস্থাবস্থায়, এটা ইম্পর্টেন্ট। নজরুল সংগীতের আদি সুর কী ছিল, নজরুল জীবিত অবস্থায়, নজরুল ইন্সটিটিউট টাইমটা ফিক্স করেছে আপ-টু-টাইম, সেগুলো আমরা উদ্ধার করে সেই সুরে আবার গান বেঁধে নতুন করে সিডি প্রকাশ করছি নজরুল ইন্সটিটিউট থেকে এবং স্বরলিপি বের করা হচ্ছে। পঞ্চাশখণ্ড স্বরলিপি বেরিয়ে গেছে বা বের হয়ে যাচ্ছে; ত্রিশখণ্ড স্বরলিপি তো বেরিয়ে গেছেই। এই কাজটা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ, নজরুল সংগীতকে উদ্ধার করা।
তাছাড়া এখানেও আছে, কলকাতাতে তো ইচ্ছে মতো বিকৃত হচ্ছে। এবং ঢাকায় তাদের অনুসারী কিছু আছে। (ব্যাপারটা কি তাহলে কলকাতা থেকেই শুরু হয়েছে?–অলাত এহ্সান)। কলকাতা থেকে শুরু হয়েছিল। ঢাকাই একদল সংগীত সন্ত্রাসী, তারা ইচ্ছেকৃতভাবে নজরুলের সুর বিকৃত করে। এইটা একটা আর নজরুলের জীবনী নিয়ে একটা জিনিস দেখেছি, কিছু লোক আছে যারা চিহ্নিত, চরিত্র হননে ব্যস্ত। (এটা তো খুবই, সাংঘাতিক একটা ব্যাপার যে, কারো চরিত্র হননই উদ্দেশ্য!–অলাত এহ্সান)। হ্যাঁ, হ্যাঁ। যে লোক বিয়াল্লিশ সালে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, এতদিন পর তাঁর পারিবারিক জীবন নিয়ে নানান রকম, দেখবে যে এখানকার দুই-একটা লিডিং দৈনিক আছে তারা এই ব্যাপারে খুব উৎসাহী।

অলাত এহ্সান : এটা কিন্তু একটা বিষয় স্যার, রবীন্দ্রনাথের মরণোত্তর সময়ে যেমন এটা নিয়ে একটা তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে, কলকাতাতেও। আমি ওখানের পত্রপত্রিকাগুলোয় দেখলাম, সেখানে যে রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তি জীবন, তার সাংসারিক জীবন ইত্যাদি নিয়ে উপন্যাস লেখা হচ্ছে। বিশেষ করে রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ই এই ব্যাপারে অগ্রণী। এ নিয়ে আমাদের দেশে একজন বুদ্ধিজীবী-শিক্ষক, তার নামটা ভুলে গেলাম (গোলাম মুর্শিদ ?–ড. রফিকুল ইসলাম), হ্যাঁ, তিনি প্রতিবাদ করে বলছেন, এটা হচ্ছে ‘কৃমিঘাটা’। (তিনি ইংল্যান্ডে স্কুল মাস্টার–ড. রফিকুল ইসলাম)। আবার কলকাতায় একদল বলছেন এটা ঠিক না, আরেক দল বলছেন যে এটা একটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হোক। রবীন্দ্রনাথ তাঁর নিজের সময়ই পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলেছেন। দু’টো হল বিষয়। আপনার আগের বিষয়ের প্রেক্ষিতের সঙ্গে একটা লিংক-আপ করে দেই। সেটা হচ্ছে স্যার, ব্যক্তি জীবন নিয়ে এই ধরনের কাজ হবে কী না? বা সুর আধুনিক হবে কি না?
ড. রফিকুল ইসলাম : রবীন্দ্র সংগীত বিকৃত করা সম্ভব না। কারণ বিশ্বভারতীতে তিনি বোর্ড করে দিয়ে গেছেন। এবং তাঁর সব গানের সুর স্বরলিপি করে দিয়ে গেছেন। এখন আমরা, নজরুলের ব্যাপারে যেহেতু ওই ধরনের কোনো বডি নাই। কিন্তু আমরা, এই সময় বাংলাদেশ সরকার নজরুল সংগীতের ক্ষেত্রে একটি নীতিমালা করে দিয়েছেন। নজরুল ইন্সটিটিউটের প্রত্যেকটি স্বরলিপির প্রথমে এই নীতিমালাটা আছে। সেই নীতিমালা অনুসরণ করলেই আর সমস্যা থাকে না।
আর নজরুলের চরিত্র হনন, ওইটা কিছু বিকৃত রুচির লোক আছে তারা করে যাচ্ছে।

অলাত এহ্সান :
আরেকটা বিষয় হচ্ছে নজরুল সংগীতের যে কথা বলছিলেন তাঁর সুর নিয়ে। তাঁর সুর নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা তো হতে পারে, এটা তো আপনি অবশ্যই করেন…
ড. রফিকুল ইসলাম : না না, যেগুলো নজরুল করে গেছেন সেগুলো তো আগে উদ্ধার করতে হবে। তারপরে তো হবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। নিজেরা গান লিখে সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করুক। রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-অতুল প্রসাদ-ডিএল রায়-রজনীকান্ত এইযে পঞ্চকবি, এঁরা তো আমাদের ঐতিহ্য। এঁদের নিয়ে টানা-হেঁচড়া করা সাজে না।

অলাত এহ্সান : স্যার, আমি আপনাকে কয়েকটা দিক নিয়ে প্রশ্ন করি। সেটা হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের সময় সুর নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলচ্চিত্রের মধ্যে ব্যবহারের কথা উঠছিল, প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ এটা বাতিল করে দিয়েছেন, পরবর্তীতে নিজেও কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছেন যে হ্যাঁ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা হতে পারে।
ড. রফিকুল ইসলাম : উঁনি নিজে করেছেন, সেটা অন্যকে দিয়ে করাননি, অন্যকে এ্যালাউ করেননি। ওই যে, পংকজ কুমার যখন সুর করেছিলেন, তিনি পংকজকে ডেকে বলেছিলেন–পংকজ বাবু, আপনি আর আমার গান করবেন না। তখন পংকজ কুমার মল্লিক নাকে খত দিয়ে গেছেন, বাকি জীবন তার স্বরলিপি ফলো করেছেন। একদম অনুমতি দেয়া যে স্বরলিপি সেই স্বরলিপিতে।

অলাত এহ্সান : এখানে আপনারা একটা দারুন দিক সামনে নিয়ে এলেন, সেটা হচ্ছে যে, ১১ই জ্যৈষ্ঠ হচ্ছে কাজী নজরুল ইসলামের ১১৭ তম জন্মবার্ষিকী। আমরা এখন উদ্ধার করার চেষ্টা করছি যে, তাঁর সংগীতের মূল স্বরলিপিটা।
ড. রফিকুল ইসলাম : মূল সুর। তাঁর মূল বাণী ও সুর। তার বাণীও বিকৃত হয়েছে।

অলাত এহ্সান : এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তাঁর সাহিত্যের সমস্ত দিকও কিন্তু উন্মোচিত হয়নি, এমনকি সমস্ত লেখাও উদ্ধার হয়নি মনে করা হচ্ছে।
ড. রফিকুল ইসলাম : না, তাঁর সাহিত্য আমরা মোটামুটিভাবে বারো ভলিউম নজরুল রচনাবলি যে তৃতীয় সংস্করণ, সেখানে সমস্ত রচনা সন্নিবেশিত করা হয়েছে। মোটামুটিভাবে যথাযথভাবে, যতটা সম্ভব। কিন্তু গানের সুরের ক্ষেত্রে সেটা আমরা করতে পারি নাই। সেটার কাজ চলছে।

অলাত এহ্সান : কাজী নজরুল ইসলাম যিনি তাঁর স্বল্প সময়ে রবীন্দ্রনাথের মতোই নিজেকে বিস্তৃত করেছিলেন। তিনি ছোটগল্প লিখছিলেন, উপন্যাসে হাত দিচ্ছিলেন। কবিতা গান তো আছেই। তবে যে দিক দিয়ে তিনি রবীন্দ্রনাথের চেয়েও এগিয়ে মনে করি, তিনি অনুবাদও করছিলেন। এইভাবে নিজেকে বিকশিত করছিলেন নানা দিকে, সাহিত্যের মাধ্যমে। তাঁর কোন দিকটা আপনি মনে করেন যে পুরোপুরি প্রস্ফুটিত হয়েছে এবং সে ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পেরেছিলেন।
ড. রফিকুল ইসলাম : কবিতায় হয়েছে, গানে হয়েছে। এই দু’টো ক্ষেত্রেই হয়েছে। ব্যাপারটা হচ্ছে যে রবীন্দ্রনাথের পর নতুনভাবে কবিতা লেখা বা গান রচনা করা খুব কঠিন ছিল। যেটা তিনি অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে করেছেন এবং বাংলা সাহিত্যের একটা নতুন মোড় ঘুরিয়েছেন। বুদ্ধদেব বসু তো বলেছেন, বাংলা সাহিত্যের মূলধারায় ঘন্টা বেজে উঠল। তিনি এইভাবে বলেছেন যে, যতদিন পর্যন্ত কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা লেখা হয়নি, যখন লিখলেন তখন মূলধারায় ঘন্টা বেজে উঠলো।
আমি বলবো সেটা খালি বাংলা সাহিত্যে না, বাংলা সংস্কৃতিতে। (হ্যাঁ, এটা খুব জরুরি তিনি পুরো সংস্কৃতির জায়গাটাই ধরেছিলেন-অলাত এহ্সান)। যেখানে একটা গতানুগতিকতা এসে গিয়েছিল, সবাই তা অনুসরণ করছিল, কিন্তু ওঁর যে মৌলিক প্রতিভা, তার কারণে বাংলাসাহিত্যে নতুন কিরণ পথ দেখাবে….
অলাত এহ্সান : এটা কিন্তু খুব সত্যি কথা, রবীন্দ্রনাথের সময় রবীন্দ্র-বলয়ের একটা লেখা এবং রবীন্দ্রনাথের ঢংয়ে কবিতা লেখার একটা প্রভাব-প্রচলন ছিল।
ড. রফিকুল ইসলাম : রবীন্দ্রনাথের সময় রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে লিখে যারা হইচই করেছে, যেমন দ্বিজেন্দ্রলাল রায় সেরকম। এরকম আরো কেউ কেউ করেছে। নজরুল রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে কোনো রকম হইচই করেন নাই, নিজের মতো করে লিখে গেছেন। কিন্তু নতুন সৃষ্টি করেছেন।
অলাত এহ্সান : এবং এ জন্যই ওই সময়কার যারা রবীন্দ্রনাথের খুব অনুসারী বা আনুগত্য দেখিয়েছে, তারা কিন্তু নজরুলকে একটা শেন্য দৃষ্টিতে দেখেছে।
ড. রফিকুল ইসলাম : শনিবারের চিঠি’তে, সজনীকান্ত দাশেরা, তারা নজরুলের বিরুদ্ধে বলেছে। কিন্তু ওগুলো টেকেনি।
অলাত এহ্সান : রবীন্দ্রনাথের সময় তাঁর স্নেহে, তাঁকে শ্রদ্ধা করেই আলাদা একটি সাহিত্য বা নিজের মত একটা সাহিত্য করা–এটা খুব কঠিন ছিল। (বলতে পারো, সাহিত্যের মৌলিক সাধনা–ড. রফিকুল ইসলাম)। প্রথমদিকে তাঁর সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের কিছু প্রভাব ছিল।
ড. রফিকুল ইসলাম : সেটা তো জীবনানন্দ দাশের কবিতার ওপরে নজরুলের প্রভাব ছিল।
অলাত এহ্সান : এটা চমৎকার দিক যে, রবীন্দ্রনাথের একটা প্রভাব প্রথম দিকে নজরুলের ওপর পড়েছে, আবার নজরুলের একটা প্রভাব জীবনানন্দ দাশের উপর পড়েছে। অথচ তিনজনই মৌলিক কবি।
ড. রফিকুল ইসলাম : এইটা স্বাভাবিক সাহিত্যে। এটা অস্বাভাবিক কিছু না।

অলাত এহ্সান : তারপর স্যার, নজরুল এবং রবীন্দ্রনাথ আমাদের দেশে চর্চায় একধরনের সাম্প্রদায়িক বিষয় আছে। অথচ এঁরা দু’জন কিন্তু মোটেই সাম্প্রদায়িক ছিলেন না। নজরুল তো একজায়গায় বলেছেনই–পুজারীরা যেমন ইষ্ট দেবতাকে পুজা করে, আমি তাঁকে সেই রূপে পুজা করতাম।
ড. রফিকুল ইসলাম : শুনেন, রবীন্দ্রনাথকে ধর্মনিরেপক্ষ বলতে পারেন, আর নজরুলকে বলতে পারেন সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক।
অলাত এহ্সান : হ্যাঁ, সেটা ভাল বলেছেন। এই পার্থক্যটা করতে পারলেই বরং নজরুল চর্চায় আমাদের সাম্প্রদায়িকতার অনুপ্রবেশ হবে না।
ড. রফিকুল ইসলাম : সাহিত্যের মানদণ্ডে বা বিচারে সাহিত্যও শিল্প, অন্যকিছু না।

অলাত এহ্সান : কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। নজরুলকে কী জাতীয়তাবাদে ভুক্ত করা যায়, কি না?
ড. রফিকুল ইসলাম : এটা হচ্ছে যে, ১৯৩৯ সালে কলকাতায় নজরুলকে বাঙালী জাতির পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। ১৯৩৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর, সম্ভবত। এতে সভাপতিত্ব করেন আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় এবং ওইটাতে মানপত্র পাঠ করেন ব্যারিস্টার এস ওয়াজেদ আলী। এখানে বক্তৃতা করেন ‘ভারতবর্ষ’ সম্পাদক জলধর সেন আর নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। অর্থাৎ বাঙালী জাতির পক্ষ থেকে নজরুলকে জাতীয় সংবর্ধনা দেয়া হয়। কাজেই সেই থার্টি নাইন থেকেই কিন্তু নজরুল জাতীয় কবির মর্যাদ লাভ করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি করা হয়েছে। তিনি কিন্তু সাম্প্রদায়িক না। তখন বাঙালি মুসলাম সমাজে শিল্প-সাহিত্য অনগ্রসর ছিল তো, নজরুলের সাধনায় সেটা দূর হয়। এবং বাঙালি মুসলমান সমাজে শিল্প-সাহিত্য-গানে একটা জোয়ার আসে। ইসলামী গানের জন্য তাঁর আলাদা পপুলারিটি তো ছিলই। ইসলামী গান তো কোনো সাম্প্রদায়িক গান না, ওগুলো ধর্মীয় সংগীত, আধ্যাত্মিক সংগীত। নজরুল তো হিন্দুদের জন্যও লিখেছেন শ্যামা সংগীত, ভজন। ইসলামের এমন কোনো বিষয় নাই যা নিয়ে তিনি লেখেন নাই। হামদ্, নাত, গজল থেকে শুরু করে নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত সব নিয়ে লিখেছেন, তাই তো। হযরত মোহাম্মদের আবির্ভাব নিয়ে লিখেছেন। তারপর ‘মরুভাস্কর’, রাসুলুল্লাহর কাব্যজীবনী লিখেছেন। কাব্য আমপারা, কোরআন শরীফের অনুবাদ করেছেন। আর কোন মুসলমান কবি এতো কাজ করেছেন! তাই না। কিন্তু তিনি তো অসাম্প্রদায়িক ছিলেন, তিনি তো মৌলবাদী ছিলেন না।

অলাত এহ্সান : তাকে আমরা জাতীয়তাবাদীও বলতে পারি না?
ড. রফিকুল ইসলাম : না না, জাতীয় কবি আর জাতীয়তাবাদী কবি এক জিনিসি না।

অলাত এহ্সান : নজরুলের ‘বিদ্রোহী’, ‘মানুষ’ কবিতা প্রচণ্ডভাবেই আন্তর্জাতিকতাবাদী, মানবতাবাদী।
ড. রফিকুল ইসলাম : হ্যাঁ, হ্যাঁ। তাকে আমরা জাতীয় কবি বলছি। তিনি বাঙালি হিন্দু, বাঙালি মুসলমান, বাঙালি বৌদ্ধ, বাঙালি খ্রিস্টান, তিনি সবারই কবি। এজন্য সে বাংলাদেশের জাতীয় কবি। এর সঙ্গে জাতীয়তাবাদের কোনো সম্পর্ক নেই। জাতীয়তাবাদী একটা পলিটিক্যাল কনসেপ্ট।

অলাত এহ্সান : স্যার, আপনি রাজনীতির কথা তুললেন। তো আমরা নজরুলের সাহিত্যে…
ড. রফিকুল ইসলাম : রাজনৈতিক দিক দিয়ে তিনি আউট-এন্ড-আউট স্যেকুলার, এন্টি-ইম্পিরিয়ালিস্ট, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী, উপনিবেশবাদবিরোধী ছিলেন। একদম আউট-এন্ড-আউট। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে যে কলোনাইজেশন হচ্ছে, প্রত্যেকটা মুক্তিসংগ্রামের সপক্ষে তার কবিতা, নয়তো গান আছে।

অলাত এহ্সান : তাঁর কবিতা ওই সময় মানুষের এতটা সংস্পর্শে আসতে পেরেছিল তার কারণ, তিনি মানুষের রাজনীতিটাকে লেখনীতে তুলে নিয়েছিলেন।
ড. রফিকুল ইসলাম : না, আপনি লক্ষ্য করেছেন, অটোমান, মধ্যপ্রাচ্য তো একসময় অটোমানদের ছিল। তার্কিশরা তো ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড ওয়ারে জার্মানের সঙ্গে ছিল, সেই জন্য তো তার্কিশ এম্পায়ার ভেঙে গেল, তখন এর প্রত্যেকটা দেশ কলোনাইজড হয়ে গেলে। শুধু তার্কিশ এম্পায়ারের ওপর মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক প্রথম একটা সেক্যুলার রিপাবলিক স্টাব্লিশ করলেন। ওই জন্য মোস্তফা কামাল তাঁর হিরো ছিল। ওই যে ‘কামাল পাশা’ কবিতা। (হ্যাঁ, ‘কামাল তুনে কামাল কিয়া ভাই’–অলাত এহ্সান)। এই জন্য যে অটোমান-তুর্কি ধ্বংস্তুপের ওপরে, গ্রিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করে, ব্রিটিশ-আমেরিকা-ফ্রেঞ্চ হুমকি অগ্রাহ্য করে ওই যে মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক রিপাবলিক করলেন, ওইটা তাকে উজ্জীবিত করেছিল। এখন অবশ্য তার্কিতে মৌলবাদীরা ক্ষমতায়।

অলাত এহ্সান : তবে নজরুল এতো বিস্তৃত, হার্দ্য, বিচিত্র কাজের কারণেই আমাদের হয়তো এখনো জিজ্ঞেস করতে হয়ে, নজরুলের চেতনাটা আসলে কী? এই প্রশ্নটা সামনে নিয়ে আসি।
ড. রফিকুল ইসলাম : নজরুলে চেতনা, আমি বলি, ‘মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান’। এটা নজরুলের কবিতার লাইন। মানুষ, মনুষ্যত্ব তাঁর চেতনার জিনিস। মানুষ, মানে সত্যিকারের মানুষের তিনি জয়গান করেছেন। মানবতার জয়গান করেছেন, সেই দিক থেকে বিশশতকে আমরা তাকে বলতাম মানবতার কবি। বিশশতকে জাতিতে জাতিতে, দেশে দেশে যুদ্ধ হয়েছে, খুনাখুনি হয়েছে। একুশ শতকে মানুষে মানুষে হচ্ছে। (আরো সংকীর্ণ হয়ে এসেছে, আরো ক্ষুদ্র পর্যায়ে চলে গেছে–অলাত এহ্সান)। হ্যাঁ, হ্যাঁ। সেই দিক থেকে নজরুল হচ্ছে একুশ শতকে সবচেয়ে বড় মনুষ্যত্বের কবি।

অলাত এহ্সান : আরেক ব্যাপার হচ্ছে আমরা যতটা কাজের জায়গা থেকে নজরুলকে মিলিয়ে দেখি, একটা তাঁর চিন্তা ও কাজের মধ্যে, কাজের মধ্য দিয়ে। তো, তাঁর চিন্তার গড়ে ওঠার পেছনে কমরেড মোজাফ্ফর আহমেদের একটা ভূমিকা আছে, তার সংস্পর্শটাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এটা স্বীকৃত।
ড. রফিকুল ইসলাম : না, মোজাফ্ফর আহমেদ একটা সার্টেইন পিরিয়ড পর্যন্ত ছিলেন। নজরুল মৌলিক কবি। নজরুলের মৌলিক প্রতিভা, মৌলিক চিন্তা-চেতনা, মৌলিক ধ্যান-ধারণা, মৌলিক দর্শন–এটা কারো প্রভাব না।

অলাত এহ্সান : সেক্ষেত্রে আমরা তাঁর কবিতা পড়ছি, একধরনের পাঠের আনন্দের জন্য পাঠ, গরগর করে শুধু পড়ে যাওয়া মাত্র।
ড. রফিকুল ইসলাম : সেটাও পড়ে না তো, কেউ পড়ে না। নজরুলকে কেউ পড়ে না। কে পড়ে আর!
অলাত এহ্সান : নজরুলকে আমরা যতখানি উযযাপনে ধরেছি, ততখানি নজরুলের চিন্তা-চেতনাকে গ্রহণ করিনি। নজরুল তো আসলে ওই চেতনাজাতই। উযযাপন হচ্ছে, অনেকটা বাঘের ছাল তুলে দেখার মতো।

ড. রফিকুল ইসলাম : ওটা কিংবদন্তীর নজরুল। আমরা নজরুল পড়ি না, বোঝার চেষ্টাও করি না। শোনেন, আমরা যারা নজরুল গবেষণায় গিয়েছি, পঞ্চাশ-ষাট বছর আগে, এই কিংবদন্তীর হাত থেকে রক্ষা করবার জন্য এবং বস্তুনিষ্ঠ নজরুলকে তুলে ধরার জন্য। তিনি যেটা করেন নাই তাঁকে দিয়ে সেটা করানো হচ্ছে, তিনি যেটা করেছেন তা কেউ বলছেন না। (এটা আমাদের ভীষণ সংকট–সত্যের অপলাপ ও মিথ্যে উপস্থাপনের বিভ্রান্তি–অলাত এহ্সান)। হ্যাঁ, এই আরকি, কী বলবো। (দুর্ভাগ্য বলবেন কী? –অলাত এহ্সান)। দুর্ভাগ্য না, আমাদের চিন্তাচেতনার ইয়ে আরকি। মানে সংকীর্ণতা, সীমাবদ্ধতার চেয়ে বেশি। না জেনে না পড়ে এই যে নজরুল সম্পর্কে এই যে কথা বলছে, লিখছে–হাস্যকর ব্যাপার।

অলাত এহ্সান : নজরুলকে অনুধাবনের চেষ্টা করছে না। নজরুলকে যারা পড়ছে তারা আবার অনুধাবন করছে না। সে কারণে মূলানুগ হচ্ছে না। নজরুল তো মানুষের মঙ্গলের জন্য একটা রাষ্ট্র কল্পনা করেছেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
ড. রফিকুল ইসলাম : নজরুলের শেষ একটা প্রবন্ধ ছিল যে, ‘বাঙালীর বাঙলা’। এটা দৈনিক নবযুগ পত্রিকায় বেরিয়েছিল ১৯৪২ সালে বোধ হয়। তাতে তিনি লিখেছেন বাংলার তরুণ সমাজকে একটা মঞ্চে এসে দাঁড়াও। বাংলা থেকে তাড়াতে হবে রামাদের আর গামাদের। রামাদের মানে মাড়োয়ারিদের আর গামাদের মানে পাঞ্জাবিদের তাড়াতে হবে। লেখাটা শেষ করেছিলেন–বাংলার জয় হোক, বাংলার বাঙালির হোক–এই ধরনের একটি কথা। প্রবন্ধটার নাম হচ্ছে ‘বাঙালীর বাঙলা’। ওখানে পরিষ্কার তিনি বলেগেছেন–বাংলা বাঙালির হোক, বাংলার জয় হোক। কাজেই বাংলার জয় থেকেই তো জয় বাংলা এসেছে।

অলাত এহ্সান : নজরুলের জীবন নিয়ে কথা বলতে গেলে অবশ্যম্ভাবীভাবে আমরা দুইজনের কথা বলি, কমরেড মোজাফফর আহমেদ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নানান উপকথা, অনুসিদ্ধান্ত টানার চেষ্টা হয়…
ড. রফিকুল ইসলাম : এইটা আমার করা জীবনীতে পরিষ্কার করেছি–কার সঙ্গে কী রকম সম্পর্ক ছিল। কেউ সেটা পড়বে না, না পড়ে কথা বলবে। তাহলে তাদের সঙ্গে কী কথা বলবো আমরা ? আমরা জীবন কাটিয়ে দিলাম তাঁর একটা জীবনী দাঁড় করাতে। তার অনুবাদও বেরিয়ে গেছে। সেইখানে যারা পড়ে না, তাদের সঙ্গে কী আলোচনা করবো?

অলাত এহ্সান :
নজরুলের অনুবাদ নিয়ে বললেন। আমরা কী নজরুলের সব অনুবাদ করেছি, বিশ্বে নজরুলের সাহিত্য ছড়িয়ে দেয়ার জন্য।
ড. রফিকুল ইসলাম : আপনারা হয়তো খবর রাখেন না, নজরুলের অনেক অনুবাদ হয়ে গেছে। ইংরেজিতে তো হয়েছেই, ফ্রেঞ্চে হয়েছে, স্প্যানিশে বেশ কিছু হয়েছে, চাইনিজ, ইতালিয় লেঙ্গুয়েজে হয়েছে। (স্প্যানিশ অনুবাদে তো সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ইকুয়োডেরের সাহিত্যিক মারিয়া বাররেরা আগারওয়াল স্বপ্রণোদিত হয়ে অবদান রাখলেন–অলাত এহ্সান)। উর্দুতে তো অনেক হয়েছে। ও হ্যাঁ, জাপানিজে হয়েছে। হয়েছে যে, খবর রাখে না এই দেশ। হয়নি আরবিতে। আরবিতে আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। মরোক্কতে একটা প্রজেক্ট পাশ করিয়েছিলাম। কিন্তু রাষ্ট্রদূত ট্রান্সফার হয়ে যাওয়ায় হয়নি। আর এখানকার আরবি বিভাগ দিয়ে চেষ্টা করানো হয়েছে, আরবি বিভাগগুলো তো আরবি ভাষা জানে না।

অলাত এহ্সান : আমরা জানি নজরুল ইসলাম ও জীবনানন্দ সমসাময়িক কবি। এদের মধ্যে সম্পর্কের মিথস্ত্রিয়া কেমন ছিল?
ড. রফিকুল ইসলাম : জীবনানন্দ দাশ নজরুলের প্রশংসা করে প্রবন্ধ লিখেছেন। নজরুল অবশ্য জীবনানন্দ দাশ সম্পর্কে কিছুই লেখেন নি। জীবনানন্দ দাশ তার ওপর নজরুলের প্রভাব স্বীকার করেই লিখেছেন।
অলাত এহ্সান : হ্যাঁ, যেমন জীবনানন্দ দাশের ঝরা পালক, তাঁর প্রথম কবিতার বইতে একটা প্রভাব আছে নজরুলের চিন্তা-ভাবনার।
ড. রফিকুল ইসলাম : জীবনানন্দ দাশের প্রথম দিকের কবিতায় কিছুটা আছে। তারপরেও জীবনানন্দ দাশ অত্যন্ত মর্ডান রাইটার। এটা রবীন্দ্র-নজরুল বলয়ের বাইরে।
অলাত এহ্সান : আমরা কি স্যার একটা সংকটে ভুগছি না যে, নজরুলকে নিয়ে যতটা প্রাতিষ্ঠানিক, প্রজেক্ট নির্ভর গবেষণা হয়েছে ততটা আসলে সৃজনশীল ও বহুমাত্রিক গবেষণা হচ্ছে না। আপনার কাছে কী মনে হয়?
ড. রফিকুল ইসলাম : না, সৃজনশীল আর কী হবে। এখন বাংলাদেশে সাহিত্য বলতে সৃজনশীল সাহিত্যের অবস্থা কী, আপনাদের ওখানকার নূরুল হুদা আমার চেয়ে ভাল বলতে পারবে। আমাকে আর কিছুই বলতে হবে না। তো ঠিক আছে, আজ এখানেই শেষ করি।
অলাত এহ্সান : আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনার ব্যস্ত সময়ের মাঝে সময় দেয়ার জন্য। আপনার করা জীবনী, নজরুলকে নিয়ে কাজের ভিত্তিতে আপনার দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নেয়ার ইচ্ছে পোষণ করছি। ভাল থাকবেন।
ড. রফিকুল ইসলাম : আচ্ছা ঠিক আছে। তোমাকেও ধন্যবাদ।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (3) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Saif Barkatullah — মে ২৫, ২০১৬ @ ৬:৩২ অপরাহ্ন

      ভাল লাগল সাক্ষাৎকার, ধন্যবাদ অলাত

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন saifullah mahmud dulal — মে ২৬, ২০১৬ @ ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

      সং গীত সন্ত্রাসী! হাহাহাহাহা…

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভানু ভাস্কর — মে ২৮, ২০১৬ @ ১:১৪ অপরাহ্ন

      নজরুলকে ধারণ করতে হলে যে সমস্ত বিষয় ত্যাগ করতে হয়, যেমন চাটুকারবৃত্তি, ধোঁকাবাজি, লোভ, পশ্চিমাপ্রীতির বৃত্ত কিংবা শৃঙ্খল ইত্যাদি, ধনতন্ত্রের মোয়া পাবার এই যুগে ভোগের ওই বৃত্ত ভাঙতে পারে না বলেই পাঠককুল, মিডিয়া, কিংবা বুদ্ধিপাপীরা বেশ জেনে-শুনেই নজরুলকে ব্রাত্য করে রেখেছে। কিন্তু টিকবে না, ষড়যন্ত্র টিকবে না। যারা, হোক সে অল্প, নজরুলকে ধারণ করেন, পাঠ করেন, গবেষণা করেন, তাদের এই আলো ছড়াবেই।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com