গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ২০ মে ২০১৬ ৪:২০ অপরাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.

অনুবাদ: আনিসুজ্জামান

———————————————————————————
ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ৩৬

ওর চিৎকারে এমন কিছু ঘটে, যা কিনা আতংকের সৃষ্টি করে না বরং সৃষ্টি করে বিভ্রমের। ক্যাপ্টেন গুলির আদেশে দেয় আর চৌদ্দটি মেশিনগান তাদের নীড় থেকে উত্তর দেয় সেই আদেশের। কিন্তু সব কিছুকেই মনে হচ্ছিল প্রহসনের মত। যেন মেশিনগানগুলো ছিল আতসবাজির খেলা দেখানোর জন্য মিথ্যা গুলি-ভরা। কারণ, শোনা যাচ্ছিল ওগুলোর ঘর্ঘর শব্দ, দেখা যাচ্ছিল ওগুলোর জ্বলন্ত উদগার কিন্তু সামন্যতম প্রতিক্রিয়াও লক্ষনীয় ছিল না ভীড়ের মধ্যে, একটি শব্দও নয়, এমনকি কোনো দীর্ঘশ্বাসও নয়, যেটাকে মনে হচ্ছিল তাৎক্ষণিক অভেদ্যতায় জমে যাওয়া কঠিন কিছু। হঠাৎ করেই ষ্টেশনের পাশ থেকে এক মরণ চিৎকার ভেঙে দেয় সেই সম্মোহন ”হায় হায়রে, আমার মা”; এক ভুমিকম্পের শক্তি, এক আগ্নেয়গিরির নিঃশ্বাস, এক বিপর্যয়ের গর্জন, ভীড়ের কেন্দ্র থেকে প্রচন্ড শক্তি নিয়ে ছড়িয়ে পরে। কোনো রকমে শিশুটিকে তুলে নেবার সময় পায় হোসে আর্কাদিও সেগুন্দো, যখন তার মা অন্যটিকে নিয়ে আতংকে ঘুরপাক খাওয়া জনতার মধ্যে মিলিয়ে যায়।

অনেক বছর পর শিশুটি গল্প করবে, যে হোসে আর্কাদিও সেগুন্দো ওকে মাথার উপর তুলে যেন জনতার আতংকের বাতাসের উপর ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল লাগোয়া রাস্তায়, যদিও প্রতিবেশী শ্রোতারা তাকে বলবে খ্যাপাটে বুড়ো। সুবিধেজনক অবস্থানে থাকার কারণে শিশুটি দেখতে পেয়েছিল সে। যখন উন্মত্ত জনতা কোনার দিকে যেতে শুরু করেছে তখনই মেশিনগান গুলি আরম্ভ করে। অনেকগুলো স্বর একসঙ্গে চিৎকার করে ”মাটিতে শুয়ে পর”।

প্রথম সারির মানুষগুলো এরই মধ্যে শুয়ে পরেছে মেশিনগানের গুলির আঘাতে। জীবিতরা শুয়ে পরার বদলে ছোট প্লাজায় ফিরে যাবার চেষ্টা করলে আতংক এক ড্রাগনের লেজের আকার ধারন করে, আর ভীড়ের এক নিরেট ঢেউ উল্টো দিক থেকে আসা বিপরীত দিকের রাস্তার অন্য ড্রাগনের লেজের উপর ধাক্কা খেয়ে ফেরা এক নিরেট ঢেউয়ের উপর আছড়ে পরে আর সেখানেও বিরামহীন গুলি ছুড়ছিল মেশিনগানগুলো। ওদেরকে ঘিরে ফেলা হয়েছিল। ওরা ঘুরছিল বিশাল এক ঘূর্নিঝড়ের মত যেটাকে ধীরে ধীরে কেন্দ্রের দিকে ছোট পরিধিতে খাটো হয়ে আসছিলো কারণ নিয়মবদ্ধভাবে পেঁয়াজের খোসা ছাড়ানোর প্রান্তসীমাগুলো ছেঁটে গোলাকৃতি দেয়া হচ্ছিল মেশিনগান নামক ক্ষুধার্ত কাঁচি দিয়ে। শিশুটা দেখতে পায় এক খালি জায়গায় বাহু দুটো ক্রসের মত করে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা এক মহিলাকে আর রহস্যজনকভাবে জনতার ঢেউ তাকে না মাড়িয়ে, এড়িয়ে যাচ্ছে, । সেখানেই হোসে আর্কাদিও সেগুন্দো ওকে নামায় রক্তমাখা মুখ থুবড়ে মাটিতে পরার আগ মুহূর্তে। বিশাল সেই সৈন্যদল মহিলাসহ, খরার সুউচ্চ আকাশের আলোসহ, উরসুলা ইগুয়ারান যেখানে এত ছোট ছোট মিছরির জন্তু জানোয়ার বিক্রি করেছে সেই বেবুশ্যে পৃথিবীসহ, খালি জায়গাটাকে ঝেটিয়ে পরিষ্কারের আগে।

যখন হোসে আর্কাদিও সেগুন্দো জ্ঞান ফিরে পায় তখন অন্ধকারে চিত হয়ে শুয়েছিল সে। টের পায় যে যাচ্ছে সে এক নিঃশব্দ অন্তহীন ট্রেনে, আর শুকনো রক্তে চুলগুলো তার শক্ত হয়ে আছে, ব্যথা করছে সারা শরীর। অদম্য এক ঘুমের ইচ্ছে জাগে তার। আতংক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে অনেক ঘন্টা ঘুমোনোর ইচ্ছেয়, শরীরের যে-দিকটায় কম ব্যথা সেদিকে পাশ ফিরে সে, আর কেবল তখনই বুঝতে পারে সে শুয়ে আছে মৃতদেহের উপর। মাঝের করিডোর ছাড়া ওয়াগনটায় বিন্দু মাত্র জায়গা খালি ছিল না। নৃশংস হত্যার পর নিশ্চয়ই অনেক ঘন্টা পার হয়েছে কারণ মৃতদেহের গায়ে ছিল শরৎকালের পলেস্তেরার মত তাপমাত্রা, আর একই রকম জমে যাওয়া ফোমের মত শক্ত, আর যারা লাশগুলো ওয়াগনে তুলেছিল তারা সময় পেয়েছিল সেগুলোকে কলার ছড়া চালান করার মত করে একই রকমে সাজানোর। এই দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তি পেতে হোসে আর্কাদিও সেগুন্দো এক ওয়াগন থেকে অন্যটায় নিজেকে টেনে নিয়ে যায়, যে দিকে ট্রেন ছুটছিল সেই দিকে, আর কাঠের ফালির ফাঁক দিয়ে ঘুমন্ত শহরগুলো পার হবার সময় বিদ্যুৎচমকের মত ঝলকে আসা আলোয় দেখতে পায় মৃত পুরুষ মৃত মহিলা, মৃত শিশু যাদেরকে পঁচে যাওয়া কলার মত ছুড়ে ফেলা হবে সমুদ্রে। একমাত্র চিনতে পারে প্লাজায় পানীয় বিক্রি-করা এক মহিলা ও কর্ণেল গ্যাভিলানকে যার হাতে তখনও জড়ানো মোরেলিয়ার রুপোর বকলেসওয়ালা বেল্টটা, যেটার সাহায্যে আতংকের সময় সে পথ করে নিতে চেষ্টা করেছিল। যখন প্রথম ওয়াগনটাতে আসে সে তখন ঝাঁপ দেয় অন্ধকারের মধ্যে আর পরে থাকে এক গর্তের মধ্যে ট্রেনটা চলে যাওয়া পর্যন্ত। এত লম্বা ট্রেন সে কখনই দেখেনি, যেটাতে ছিল প্রায় দু-শত মালগাড়ী যেটার দুই প্রান্তে দুই ইঞ্জিন ও মাঝখানে আরেকটা যেটাতে কোন আলোই ছিল না এমনকি অবস্থান জানানোর লাল, সবুজ বাতিগুলোও নয়, যেটা পিছলে যাচ্ছিল, নৈশ রহস্যময় গতিতে। শুধু অন্ধকারে মেশিনগানধারী সৈন্যদের কালো কাঠামো দেখা যাচ্ছিল ওয়াগনের মাথায় ।

মধ্যরাতের পর শুরু হয় মুষলধারে ঝড়বৃষ্টি । হোসে আর্কাদিও সেগুন্দো জানতো না কোথায় সে লাফ দিয়ে নেমেছে কিন্তু জানতো যে ট্রেনের গতিপথের উল্টোদিকে হাটলে মাকন্দোতে গিয়ে পৌঁছুবে। তিন ঘন্টা হাটার শেষে হাড় অব্দি ভিজে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা নিয়ে ঊষার আলোয় প্রথম বাড়ীগুলো চোখে পরে তার । কফির গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে ঢুকে পরে এক রান্না ঘরে যেখানে শিশু কোলে এক মহিলা উনুনের দিকে ঝুঁকে আছে। -“সুপ্রভাত”-শান্তস্বরে বলে –“আমি হোসে আর্কাদিও সেগুন্দো বুয়েন্দিয়া”। উচ্চারণ করে পুরো নামটা অক্ষরের পর অক্ষর, সে যে বেঁচে আছে তা বোঝানোর জন্য। কাজটা সে ঠিকই করে কারণ দরজায় রক্তমাখা মাথা ও পোষাক নিয়ে মৃত্যুর গাম্ভীর্যের স্পর্শ নিয়ে ছায়ার মত ঢুকতে দেখে মহিলা ওকে অপচ্ছায়া বলে ভেবেছিল। ওরা নিজেদের আগে থেকেই চিনত। মেয়েটা ওকে গায়ে জড়াবার জন্য কম্বল এনে দেয় যাতে করে তার কাপড়চোপড় আগুনে শুকোতে পারে। পানি গরম করে ক্ষতস্থান ধোয়ার জন্য, যেটা ছিল শুধুমাত্র চামড়া ছিড়ে যাওয়া, আর একটা পরিষ্কার রুমাল এনে দেয় মাথায় পট্টি বাধার জন্য। পরে চিনি ছাড়া এক ভাড় কফি এনে দেয়, তার জানামতে বুয়েন্দিয়ারা যেভাবে পান করে সেভাবে আর কাপড় ছড়িয়ে দেয় আগুনের পাশে। কফি পান শেষের আগে হোসে আর্কাদিও সেগুন্দো কোন কথা বলে না। ”প্রায় তিন হাজারের মত হবে” বিড়বিড় করে।
– ”কী” ?–
-”মৃতদেহ ” খোলাসা করে বলে , “যারা ষ্টেশনে ছিল তাদের সকলেরই”।

মহিলা করুণ দৃষ্টিতে পরখ করে ওকে। ”এখানে কেউই মারা যায় নি” বলে “তোর কাকা কর্ণেলের আমল থেকেই মাকন্দোতে কিছু ঘটেনি”। বাড়ি পৌঁছানোর আগে তিনটে রান্না ঘরে থামে সে আর সকলে একই কথা বলে তাকে “কেউ মারা যায় নি”। ষ্টেশনের ছোট্ট প্লাজার পাশ দিয়ে যাবার সময় দেখতে পায় ভাজাভুজি বিক্রির টেবিলগুলো স্তুপ করা আছে একটার উপর আরেকটা, আর সেখানেও সে দেখতে পায়না গনহত্যার কোন নিশানা। অঝোর ধারায় পরা বৃষ্টির মাঝে রাস্তাগুলো মরুভুমির মত, ভেতরে প্রাণের কোন চিহ্ন ছাড়াই বাড়ীগুলো ছিলো বন্ধ। একমাত্র প্রাণের চিহ্ন ছিল মাস আরম্ভ হবার প্রথম গীর্জার ঘন্টা । কর্ণেল গ্যাভিলানের বাড়ীতে গিয়ে টোকা দেয় সে। এক পোয়াতি মহিলা, যাকে সে অনেকবারই দেখেছে, তার মুখের উপর দরজা বন্ধ করে। ”সে চলে গেছে” আতংকিত স্বরে বলে। ”ফিরে গেছে নিজের দেশে”। তার দিয়ে ঘেরা মুরগীর খোয়াড়টার প্রধান ফটক যথারীতি দুই স্থানীয় পুলিশের প্রহরাবাড়ী ছিল যাদেরকে রেইনকোট ও রাবারের হেলমেট সহ মনে হচ্ছিল বৃষ্টির মধ্যে দাড়িয়ে থাকা পাথরের মুর্তি। শহরের প্রান্তের গলিতে কালো ওয়েষ্ট ইন্ডিয়ানরা গাইছিল শনিবারের সমবেত প্রার্থনা সংগীত। হোসে আর্কাদিও সেগুন্দো লাফিয়ে উঠানোর বেড়া পার হয়ে রান্না ঘর দিয়ে বাড়ীতে ঢোকে। সান্তা সোফিয়া দে লা পিয়েদাদের কোন রকমে গলার স্বর বের হয় ”তোকে যেন ফের্নান্দা না দেখে” – বলে -”কিছুক্ষন আগে ঘুম থেকে উঠেছে”। যেন গুঢ় কোন চুক্তি মোতাবেক কাজ করছে, তেমনিভাবে ছেলেকে সে নিয়ে যায় মলত্যাগপাত্রের ঘরে, বিছানা পাতে মেলকিয়াদেসের জীর্ণ চৌকিটাতে, আর দুটোয় ফের্নান্দার সিয়েস্তার সময় জানালা দিয়ে গলিয়ে দেয় এক থালা খাবার। আউরেলিয়ানো সেগুন্দো বাড়ীতে ঘুমিয়েছিল কারণ সে আসার পর হঠাৎ করে বৃষ্টি আরম্ভ হয় আর বেলা তিনটের সময়ও সে অপেক্ষায় ছিল বৃষ্টি ধরে যাবার। সান্তা সোফিয়া দে লা পিয়েদারের কাছে গোপনে খবর পেয়ে ঐ সময় ভাইকে দেখতে যায় মেলাকিয়াদেসের ঘরে। সেও বিশ্বাস করে না গন-হত্যার ও লাশভরা ট্রেনের সমুদ্রের দিকে যাবার দুঃস্বপ্নটাকে। আগের রাতে সে এক বিশেষ সংবাদ দাতার জাতীয় খবরে পড়ে, যেখানে জানানো হচ্ছে শ্রমিকরা ষ্টেশন করার আদেশ মেনে নিয়েছে আর শান্তভাবে দলে দলে যার যার বাড়ীর দিকে রওয়ানা দিয়েছে। খবরে আরও জানানো হয়েছে যে ইউনিয়নের নেতারা দেশপ্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে সমস্ত দাবী দুটোতে কমিয়ে এনেছে: চিকিৎসা ব্যবস্থার সংস্কার ও কোয়ার্টারগুলোতে শৌচাগার নির্মাণের। জানানো হয় যে, সামরিক কর্তৃপক্ষ যখন শ্রমিকদের সঙ্গে একমত হয় তখন তারা ছুটে যায় সেটা সেনর ব্রাউনকে জানানোর জন্য আর সে সেটাকে শুধু যে মেনে নেয় তাই নয়, সেই সঙ্গে এই বিরোধের সমাপ্তি উদযাপনের জন্য দিনের আনন্দ উৎসবের খরচ দেবার প্রস্তাব করে। শুধুমাত্র যখন সামরিক কর্তৃপক্ষ তাকে জিজ্ঞেস করে তবে তারা চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষনা করবে, সে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বিদ্যুৎ চমকে দাগাঙ্কিত আকাশের দিকে তাকিয়ে এক গভীর অনিশ্চয়তার ভঙ্গী করে । “বৃষ্টি থামলে” – বলে – ”যতদিন বৃষ্টি থাকবে ততদিন সকল কাজকর্ম স্থগিত থাকবে”।

তিন মাস ধরে বৃষ্টি হয়নি, চলছিল খরা। কিন্তু সেনর ব্রাউন তার সিদ্ধান্ত ঘোষনার সঙ্গে সঙ্গেই সমস্থ কলা অঞ্চলে মুষলধারে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। যা নাকি মাকন্দের দিকে ফেরার পথে হোসে আর্কাদিও সেগুন্দোকে অবাক করে। এক সপ্তাহ পরও বৃষ্টি চলছিল। হাজারবার পুনরাবৃত সরকারী ভাষ্য, সরকারের হাতে আছে এমন সমস্ত মাধ্যমগুলোতে, সারা দেশজুড়ে চর্বিত: কেউ মারা যায়নি, সন্তুষ্ট শ্রমিকরা নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফিরে গিয়েছে, আর কলা কোম্পানী বৃষ্টির কারণে সমস্ত কার্যকলাপ স্থগিত রেখেছে। অন্তহীন বৃষ্টিতে জনসাধারণকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে সামরিক আইন বজায় রাখা হলেও সৈন্যেরা ব্যরাকেই থাকে। হাঁটু পর্যন্ত প্যান্ট গুটিয়ে দিনের বেলা তারা প্রবল বৃষ্টিতে রাস্তার শিশুদের সঙ্গে জাহাজডুবীর খেলা খেলত। রাতের বেলা কারফিউ আরম্ভের পরে রাইফেলের কুদোর ঘায়ে দরজা ভেঙে সন্দেহভাজনদের বিছানা থেকে উঠিয়ে নিয়ে যেত একমুখি যাত্রায়। তখনও চলতে থাকে দৃষ্কৃতিকারী, খুনী অগ্নিসংযোগকারী ও চার নম্বর ডিক্রির বিরোধিতাকারীদের খুঁজে বের করে শেষ করে দেওয়া কিন্তু নিগৃহীতদের আত্মীয়রা খবরের আশায় কমান্ড্যান্টের অফিসে ভীড় করলে সামরিক কর্তৃপক্ষ সবকিছু অস্বীকার করত। ”নিশ্চয় স্বপ্ন দেখেছ তোমরা”- জোর দিয়ে বলত তারা। “মাকন্দোতে কিছুই ঘটেনি, কিছুই ঘটছে না, কখন্ও ঘটবেও না। এটা এক সুখী শহর”। এভাবেই ইউনিয়নের সমস্ত নেতাদের শেষ করা হয়।

একমাত্র জীবিত থাকে হোসে আর্কাদিও সেগুন্দো । ফেব্রুয়ারীর এক রাতে দরজার শোনা যায় রাইফেলের কুদোর আঘাতের নির্ভুল আওয়াজ। বৃষ্টি থামার অপেক্ষারত আউরেলিয়ানো সেগুন্দো দরজা খুলে দেয় এক কমান্ডারের অধীনে ছয় সৈন্যকে। জবজবে বৃষ্টি ভেজা সৈন্যরা একটিও শব্দ উচ্চারণ না করে বৈঠকখানা থেকে ভাড়ার ঘর পর্যন্ত প্রত্যেকটি ঘর, প্রত্যেকটি দেয়াল ও আলমিরা খুঁজে দেখে। উরসুলা জেগে ওঠে ঘরে আলো জ্বালাতে আর তল্লাসির সময়টাতে সে একটি নিঃশ্বাসও ত্যাগ করে না কিন্তু আঙ্গুলে ধরে রাখে ক্রস চিহ্ন, সৈন্যরা যে দিকে যায় সেই দিকেই ক্রসটাকে সে নির্দেশ করে। সান্তা সোফিয়া দে লা পিয়েদাদ, মেলাকিয়াদেসের ঘরে ঘুমোন, হোসে আর্কাদিও সেগুন্দোকে সর্তক করে দিতে পারলেও সে বুঝতে পারে পালানোর চেষ্টার জন্য তখন যথেষ্ট দেরী হয়ে গেছে। কাজেই সান্তা সোফিয়া আবার দরজা বন্ধ করলে সে জামা জুতো পরে বিছানায় বসে ওদের আসার অপেক্ষায়। সেই সময় ওরা তল্লাশী চালাচ্ছিল রৌপ্যশালায়। অফিসার তালা খুলতে বাধ্য করে তাদের আর দ্রুত লন্ঠনটা একদিক থেকে অপর দিকে দোলাতেই তার চোখে পরে কাজের বেঞ্ছ, এসিডের বোতলসহ আলমারি, সমস্ত কাজের যন্ত্রপাতি, সবকিছুই একই জায়গাতে রয়েছে, যেভাবে ওগুলোর মালিক রেখে গিয়েছেন আর সে বুঝতে পারে ঐ ঘরে কেউ বাস করেনা। তবুও চতুরতার সঙ্গে আউরেলিয়ানো সেগুন্দোকে প্রশ্ন করে সে রৌপ্যকার কি না; আর সে উত্তর দেয় যে ওটা হচ্ছে কর্ণেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার রৌপ্যশালা। ”আচ্ছা” বলে অফিসার আর বাতি জ্বালিয়ে নির্দেশ দেয় তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালাবার যাতে করে তখন পর্যন্ত না গলানো, বোতলগুলোর পিছনে মাটির ভারের মধ্যে আঠারোটি সোনার মাছ তাদের নজর না এড়ায়। কাজের বেঞ্চির উপর একটি একটি করে সবগুলোকে পরীক্ষার পর তার মন নরম হয়ে পরে। ”এগুলোর একটি নিয়ে যেতে চাই আমি তোমার অনুমতি পেলে” বলে। ”এক সময় এগুলো ছিল নাশকতার চাবিকাঠি কিন্তু এখন এগুলো স্মারক হয়ে গিয়েছে”। সে ছিল যুবক, প্রায় বয়ঃসন্ধিকালের কাছাকাছি বয়স তার, কিন্তু চেহারায় ভয়ের কোন চিহ্ন ছিলোনা তার। আর ছিল এক স্বভাবগত ভালমানুষি চেহারা যেটা নাকি এর আগ পর্যন্ত নজরে পরে নি। আউরেলিয়ানো সেগুন্দো সোনার ছোট্ট মাছটি উপহার দেয়। অফিসার ওটাকে জামার পকেটে রাখে এক শিশুসুলভ দীপ্তি চোখে নিয়ে আর বাকীগুলোকে রেখে দেয় মাটির ভাড়ে যেখানে ছিল সেখানেই ”এটা এক অমূল্য স্মৃতিচিহ্ন”- বলে-”কর্ণেল আওরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া ছিল আমাদের সমাজের সেরা মানুষদের একজন”।

——————————-

আর্হেন্তিনার বুয়েনোস আইরেস-এর
এদিতোরিয়াল সুদামেরিকানা প্রকাশনী থেকে
প্রকাশিত ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’ উপন্যাসের
প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ

——————————-
border=0
তার এই মানবিক উচ্ছাস তার পেশাগত আচরণে কোন পরিবর্তন ঘটায় না । মেলাকিয়াদেসের ঘরের সামনে যেটা আবার তালামারা ছিল সেখানে সান্তা সোফিয়া দে লা পিয়েদাদ শেষ চেষ্টা করে। ”প্রায় একশ বছর যাবৎ এঘরে কেউ বাস করে না”- বলে। অফিসার ওকে তালা খুলতে বাধ্য করে লন্ঠনের আলো ফেলে ভেতরে আর আউরেলিয়ানো সেগুন্দো ও সান্তা সোফিয়া দে লা পিয়েদাদ দেখতে পায় হোসে আর্কাদিও সেগুন্দোর আরবীয় চোখ, যখন আলোর দ্যুতি তার মুখ বুলিয়ে যায়। আর বুঝতে পারে এটাই হচ্ছে সমস্ত উৎকন্ঠার অবসান আর অন্য একটির প্রারম্ভে, যেটার নিরসন হবে একমাত্র ভাগ্যের হাতে আত্মসমর্পনের মাধ্যমে। কিন্তু অফিসার বাতি দিয়ে ঘরটা পরীক্ষা করে যেতে থাকে আর আলমারিতে স্তুপ করে রাখা বাহাত্তরটি মলত্যাগপাত্র আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত তার মধ্যে কোন কৌতুহলের লক্ষণ দেখা যায় না। তখন বাতি জ্বালায় সে। হোসে আর্কাদিও সেগুন্দো বসা ছিল বিছানার কিনারায়, বাইরে যাবার জন্য প্রস্তুত হয়ে, আরও গাম্ভীর্য নিয়ে, সবচেয়ে বেশী চিন্তিত অবস্থায়। ভেতর দিকে ছিল ছেড়া বইয়ের তাক ও পার্চমেন্ট কাগজের রোল। আর কাজ করার টেবিলটা পরিষ্কার, পরিপাটি যেখানে কালির দোয়াতের কালি ছিল নতুন। বাতাসে ছিল একই রকমের নির্মলতা, একই রকমের স্বচ্ছতা, ধুলাবালি ও ধ্বংসের বিরুদ্ধে একই রকমের প্রতিরক্ষা, যেটাকে আউরেলিয়ানো লক্ষ করেছিল তার শৈশবে আর যেটাকে একমাত্র কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়াই একমাত্র কখনও অনুভব করেনি। কিন্তু মলত্যাগের পাত্রগুলো ছাড়া অফিসারের অন্য কিছুতে কৌতুহল জাগে না- “কজন বাস করে বাড়িতে?”-জিজ্ঞেস করে- “পাঁচ জন।”
অফিসার স্পষ্টতই কিছুই বোঝে না। দৃষ্টি স্থির রাখে যেখানে আউরেলিয়ানো সেগুন্দো ও সান্তা সোফিয়া দে লা পিয়েদাদ, হোসে আর্কাদিও সেগুন্দোকে দেখছিল, আর হোসে আর্কাদিও সেগুন্দো বুঝে যায় সৈন্যটি তার দিকেই তাকিয়ে আছে কিন্তু তাকে দেখছে না। পরে অফিসার বাতি নিভিয়ে দরজা ভিড়িয়ে দেয়। যখন অফিসার সৈন্যদের সঙ্গে কথা বলে তখন আউরেলিয়ানো সেগুন্দো বুঝতে পারে যে যুবক অফিসারটি ঘরটিকে দেখেছে সেই একই চোখ দিয়ে, যে দৃষ্টি দিয়ে দেখেছিল কর্ণেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া। -“সত্যিই এই ঘরে কম করে হলেও শত বছর কেউ বাস করে নি” বলে অফিসার সৈন্যদের- “সাপখোপও থাকতে পারে ওখানে”।

দরজা বন্ধের পর হোসে আর্কান্দি সেগুন্দো নিশ্চিত হয় যে তার যুদ্ধ শেষ হয়েছে। বছর কয়েক আগে কর্ণেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া ওকে বলেছিল যুদ্ধের প্রতি আকর্ষণ সমন্ধে, নিজের অভিজ্ঞতার অসংখ্য উদাহরণ টেনে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিল তা। সে বিশ্বাস করেছিল ওর কথা, কিন্তু রাতে যখন ও ভাবছিল গত কয়েক মাসের উৎকন্ঠার কথা, জেলের দুর্দশার, ষ্টেশনে আতংকের কথা, লাশ ভর্তি ট্রেনের কথা, তখন অফিসার ওর দিকে তাকিয়ে থেকেও যখন ওকে দেখে না তখন ও সিন্ধান্তে পৌঁছায় যে কর্ণেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া ঠকবাজ বা নির্বোধ ছাড়া তার বেশী কিছু ছিল না। সে বুঝতে পারে না যুদ্ধের সময়ের অনুভূতি বোঝাতে কেন এত কথার প্রয়োজন ছিল, যা শুধুমাত্র একটি শব্দেই সে সব প্রকাশ করতে পারত: ভয়। অন্যদিকে মেলকিয়াদেসের কামরায় অতিপ্রাকৃত আলো, বৃষ্টির শব্দ, অদৃশ্য থাকার অনুভূতি, নিরাপত্তা, এসবের মাঝে সে পায় এমন এক প্রশান্তি যা আগের সারা জীবনে এক মুহূর্তের জন্যও পায়নি, আর ওর একমাত্র ভয় ছিল যে ওকে না জ্যান্ত কবর দেয়া হয়। প্রতিদিন খাবার নিয়ে যাওয়া সান্তা সোফিয়া দে লা পিয়েদাদকে সে কথাটা জানায়। আর সে প্রতিজ্ঞা করে নিজের ক্ষমতার অতীত চেষ্টা করবে বেঁচে থাকতে যাতে তাকে জ্যান্ত কবর দেয়া না হয়। সব ভয়মুক্ত হয়ে সে নিজেকে নিয়োগ করে বারবার মেলকিয়াদেসের পার্চমেন্টগুলোকে পড়াতে আর ওগুলা সে যত কম বুঝতো, ততবেশী আনন্দ পেত। বৃষ্টির শব্দে অভ্যস্ত হয়ে দু-মাসের মাথায় সে রূপান্তরিত হয় অন্য ধরনের নীরবতায় আর একমাত্র যা তার নিঃসঙ্গতাকে উত্যক্ত করে তা হচ্ছে সান্তা সোফিয়া দে লা পিয়েদাদের আসা যাওয়া। যার জন্য সে অনুরোধ করে খাবারটা জানালার চৌ-কাঠের নীচের কাঠের উপর রেখে দিতে এবং দরজায় তালা লাগাতে। পরিবারের অন্য সকলে তাকে ভুলে যায়, এমনকি ফের্নান্দাও, যে নাকি সৈন্যরা তারদিকে তাকিয়েও তাকে চিনতে পারেনি জেনে, তার সেখানে থাকার ব্যাপারে প্রায় আপত্তি করেনি। ছয় মাস আবদ্ধ থাকার পর, সৈন্যরা যখন মাকন্দো ছেড়ে চলে গিয়েছে আউরেলিয়ানো সেগুন্দো দরজার তালা খোলো বৃষ্টি ধরে যাবার অপেক্ষার সময়টাতে কারও সঙ্গে গল্প করার ইচ্ছেয়। দরজা খুলে সে শিকার হয় মেঝেতে নামানো অনেকগুলো মলত্যাগ পাত্র থেকে আসা দুর্গন্ধের যেগুলো অসংখ্যবার ব্যবহৃত হয়েছে। আর এদিকে চুলপড়া রোগে আক্রান্ত মাথা নিয়ে, বমি উদ্রেককারী বাষ্পে কটু হয়ে যাওয়া বাতাসের প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করে হোসে আর্কাদিও সেগুন্দো বার বার পড়েই চলছে অবোধ্য পার্চমেন্টগুলো। ঐশ্বরীয় আলোয় উদ্ভাসিত ছিল সে। দরজা খোলার অনুভূতি পেয়ে শুধু মাত্র ক্ষণিকের জন্য চোখ তোলে, কিন্তু তার ভাইয়ের জন্য ঐ ক্ষনিক দৃষ্টি যথেষ্ট ছিল বুঝে নেবার জন্য যে এ হচ্ছে তার পরদাদার নিয়তির অমোচনীয় পুনরাবৃত্তি। “ওরা তিন হাজারেরও বেশী ছিল”- শুধু মাত্র এইটুকুই বলে হোসে আর্কাদিও সেগুন্দো- “এখন আমি নিশ্চিত যে ষ্টেশনে যারা ছিল, তারা সকলেই ছিল ওখানে”।
(চলবে)

কিস্তি-১ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৩ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৪ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৫ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৬ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৭ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৮ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৯ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১০ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১১ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১২ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৩ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৪ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৫ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৬ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৭ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৮ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৯ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২০ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২১ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২২ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২৩ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২৪ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২৫ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২৬ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২৭ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২৮ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২৯ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৩১ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৩২ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৩৩ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৩৪ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৩৫ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (2) »

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com