জাহা হাদিদ: আপোষহীন প্রতিভার অনন্য স্থাপত্য

বিপাশা চক্রবর্তী | ১২ মে ২০১৬ ৫:১৬ অপরাহ্ন

zaha-9.jpgকখনো বিস্তীর্ণ মরুভূমির বিশালতা। কখনো যেন শূন্যে উঠে থমকে আছে একটি বিরাট বালির ঢেউ। মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে, মেরিলিন মনরোর উড়ন্ত স্কার্টের শৈল্পিক সৌন্দর্য হঠাৎ যেন শরীর পেয়ে বাতাসে বেঁধেছে ঘর। আবার কখনো এমন লাগবে, বিশাল সব জলের ফোটা আর তরঙ্গেরা তাদের ইচ্ছে মতো খেলায় মেতে আছে। বস্তুর গঠনগত বৈচিত্র্য ও উর্মির বিশালতা, স্থান আর আলোর ব্যবহারের নতুনত্ব–সব মিলিয়ে পুরো ব্যাপারটা আপনার কাছে ধাঁধা আর বিভ্রমের জন্ম দিবে। কিন্তু ব্যাপারটি আসলে সেই মেরিলিন মনরোর উড়তে থাকা স্কার্টের মতোই খাঁটি, আবেদনময় আর সাবলীল। বলছি সদ্যপ্রয়াত, স্থাপত্যকলার কিংবদন্তী স্থপতি ও শিল্পী দেমা জাহা হাদিদ-এর কর্মশৈলীর কথা।

স্থান ও বস্তুর গঠনের চিরাচরিত ধারণা,গতানুগতিক জ্যামিতিক ভাবনা ও নিয়ম-কানুন সব ভেঙেচুরে তিনি জন্ম দিয়েছিলেন স্থাপত্যশিল্পের নতুন এক ভাষার। সম্পূর্ণরূপে স্বতন্ত্র এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই বিখ্যাত ছিলেন এই স্থপতি। স্থাপত্যকলার সকল প্রতিবন্ধকতা ভেঙে দিয়েছিলেন জাহা হাদিদ। দূর করেছিলেন সব সীমাবদ্ধতা।

একই সাথে একজন মুসলিম ও নারী হিসেবে নয়, বরং তিনি তাঁর কর্মগুণেই ছিলেন ব্যতিক্রম। এক ও অদ্বিতীয়া। অন্যান্য অনেক কিছুর মতোই পুরুষশাসিত স্থাপত্যশিল্পের জগতে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সমকালে তাঁর কাছাকাছি যাবার যোগ্য স্থপতি খুব কমই আছেন।

বর্তমান স্থাপত্যশিল্পে উত্তর-আধুনিকতার সূত্রপাত হয় মূলত জাহা হাদিদের হাত ধরেই। সমকালীন আভা-গার্ড স্থাপত্য কলার সাথে আধুনিক ও উত্তর-আধুনিকতার মিশ্রণে তিনি জন্ম দেন নতুন এক শিল্পভাবনার যাকে বলা হয় প্যারামিট্রিজম। এক্ষেত্রে তিনিই অগ্রদূত। স্থিতিমাপ নকশার ব্যবহার ও স্থিতিমাপ সমীকরণের সীমাবদ্ধতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভভাবন করেন এই প্যারামিট্রিজমের। প্রথমে হাতে কলমে নকশা প্রণয়ন করলেও পরে বিশেষ ধরনের কম্পিউটার সফটওয়্যার ব্যবহার করে এই শিল্পকে আরও উন্নতরূপ দেন জাহা হাদিদ।

বিমুক্ত আবার কখনো খন্ডিত জ্যামিতিক ভাবনা একই সাথে তরল অবয়ব সৃষ্টিকারী। জাহা হাদিদের অভিনব সব স্থাপত্য সৃষ্টিকর্ম অত্যন্ত ভাবপূর্ণ এবং সদূরপ্রসারী যেগুলোকে একাধিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা যায়। তাঁর শিল্পগুলি আধুনিক জীবনের নানান জটিলতা ও নিরন্তর পরিবর্তনকেই নির্দেশ করে। তিনি যেমন একদিকে প্যারামিট্রিজমের অগ্রদূত অন্যদিকে নব্য-ভবিষ্যবাদের আইকন। ঠিক তেমনি একই সাথে মুক্তচিন্তা ও দুর্দান্ত ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তাঁর এই যুগান্তকারী ভাবনা ও কর্মের নিদর্শন হিসেবে পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়ে আছে লন্ডনের ২০১২ অলিম্পিকের একুয়াটিক্স সেন্টার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রড আর্ট মিউজিয়াম, চীনের গোয়াংঝোউ অপেরা হাউজসহ বহু আশ্চর্য স্থাপনা।
zaha-1.jpg
চিত্র: লন্ডন একুয়াটিক্স সেন্টার ভেতরের দৃশ্য।

zaha-2.jpg
চিত্র: লন্ডন একুয়াটিক্স সেন্টার বাইরের কাঠামো।

কাতারে নির্মিত হচ্ছে তাঁর নকশা অনুযায়ী ২০২২ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম একটি ভ্যেনু আল-ওয়াকারাহ স্টেডিয়াম। যার কয়েকটি ভাঁজ যুক্ত দীপ্তিমান গোলাপী আভার মুখগহ্বর বিশিষ্ট ডিজাইন বিশেষ একটি অঙ্গের কথা মনে করিয়ে দেয়। ডিজাইনটি অনেকের কাছে ঠিক যোনীসদৃশ মনে হতে পারে। ২০১৩ সালে জাহা আনুষ্ঠানিকভাবে এর নকশা প্রকাশ করেন। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলিতে বেশ ভাইরাল হয়ে পরে। নারীবাদীরাও নানা অতিউৎসাহী বক্তব্য দিতে শুরু করে।

জাহা একবাক্যে ‘রিডিকিউলাস’ বলে উড়িয়ে দেন সকল সমালোচনা। ব্যাপারটি কাকতালীয় ও আকস্মিক বলে উল্লেখ করে তিনি অন্যদের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর সব গহ্বরকেই কি নারীর যোনীর সাথে তুলনা করতে হবে? যেন কেবল এর ভেতরেই সমস্ত পৃথিবী লুকিয়ে আছে? কাতার কিংবা অন্যকোথাও যোনী কি নিষিদ্ধ’?
zaha-3.jpg
চিত্র: আল-ওয়াকারাহ স্টেডিয়াম, কাতার।
জাহা হাদিদ নতুন ধরণের বিপ্লবী চেতনার আধুনিক স্থাপত্যকর্মে বিশ্বাস করলেও ছিলেন ইতিহাস-সচেতন। পৃথিবীর যে দেশের জন্যই তিনি স্থাপত্য নকশা করেছেন সেই দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে জেনেশুনে এবং অন্যান্য প্রাচীন স্থাপনার কথা মাথায় রেখে রীতিমতো গবেষণা করেই তা করতেন। আর এক্ষেত্রেও তাই ঘটেছিল। নির্মিতব্য আল-ওয়াকারহ স্টেডিয়ামের নকশার অনুপ্রেরণা তিনি পেয়েছিলেন কাতারের ঐতিহ্যবাহী বিশেষ একধরণের নৌকার ডিজাইন থেকে যা কিনা কাতারি ‘ঢেউ নৌকা’ নামে পরিচিত।

তবে এটাও ঠিক যে, হয়তো নারীর যৌনাঙ্গ ও খেলাধূলা একসাথে প্রকাশ্যে শয্যাসঙ্গী হতে পারে না। তবে এর ভাল দিকটি হলো এই যে মধ্যপ্রাচ্যসহ এমন অনেক দেশে খেলাধূলার মতো ব্যাপারগুলিতে নারীর কম অংশগ্রহণের বিপরীতে এই স্টেডিয়াম এক শক্তিশালী প্রতিবাদ হিসেবে পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়ে থাকবে।

সাম্প্রতিক সময়ে এই স্টেডিয়াম নির্মাণকালে বেশকিছু অভিবাসী শ্রমিকের মৃত্যু ঘটলে, জাহার স্থাপত্য নকশা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। জাহা নিহত শ্রমিকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “এরকম ঘটনা পৃথিবীর সব দেশেই এখনো কম বেশি ঘটছে। আর এসবের জন্য দায়ী মূলত সরকার অথবা ঐ প্রকল্পের মালিক ও দায়িত্বপ্রাপ্তরা। কেননা কোন স্থাপনার যখন নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে যায় তখন আর স্থপতির বিশেষ কিছু করার থাকে না। বিশেষ করে নির্মাণাধীন সময়ে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তার পেছনে স্থপতির কোন ভূমিকা থাকে না। এখানে আমার করার কিছুই নেই। এমনকি কিছু করার অধিকারও নেই”। এ ঘটনার জন্য তিনি সরাসরি কাতার সরকারের অব্যবস্থাপনা আর অবহেলাকে দায়ী করেন।
zaha-8.jpg
ছবি: নিজের অফিসে জাহা হাদিদ

তিনি কেবল বিপ্লবী ও সাহসী চিন্তার অধিকারীই ছিলেন না, বরং তাঁর ভাবনাকে তিনি কর্মের মাধ্যমে অবকাঠামোগত রূপ দান করতেও সক্ষম হয়েছেন। পৃথিবীর ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, যেকোন নতুন বা বিপরীত ভাবনা ও পরিবর্তনকে প্রথমেই মানুষ স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। ইরাকি-ব্রিটিশ স্থপতি জাহা হাদিদকেও নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তাঁর নতুন ধরনের স্থাপত্যশিল্পকে তারই সমসাময়িক অন্যান্য স্থপতিদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। এমনকি দীর্ঘদিন তাঁর প্রণীত নকশাগুলো আলোর মুখ দেখেনি। নানা বাধার মুখে সেগুলোর বাস্তবায়ন বন্ধ ছিল অনেকদিন। এমনকি ৯০এর দশকে কাডির্ফ বে অপেরা হাউজ নকশা তৈরির প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হবার পরেও সেটি বাস্তবায়িত হয়নি, কারণটা সেই একটাই: গতানুগতিক ধারার বাইরের নতুন ধরনের সুপ্রশস্ত এই স্থাপত্য নকশাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেনি তাঁর সমসাময়িক বিরোধী অন্যান্য সঙ্কীর্ণতাবাদী স্থপতিরা। এর ফলে মানসিকভাবে আহত হলেও পিছু হটেন নি জাহা হাদিদ। তিনি তাঁর নতুন ভাবনা নিয়েই কাজ করে যেতে লাগলেন। ফলাফল ১৯৯৪ সালে তাঁর প্রথম নকশাটি বাস্তবায়িত হয় জার্মানিতে। ভেইল আম রেইনের ‘ভিটরা ফায়ার স্টেশন’। অনেকটা বিধ্বস্ত বিমানের মতো দেখতে ঐ নকশাটি ছিল একটি সাহসী জ্যামিতিক ভাবনার ফসল। স্থাপত্যবিশারদদের মতে, “এটি স্পষ্টতই স্থাপত্যকলার আলঙ্কারিক শক্তির একটি যথার্থ উদারহরণ, একই সাথে বিনয়ী ও চিত্তাকর্ষক” যার সূচালো বারান্দার জ্যামিতিক নকশাটি বেশ সঙ্কেতপূর্ণ। বারান্দাটি দেখলেই মনে হবে,সে চিৎকার করছে অগ্নিনির্বাপক যোদ্ধাদের উদ্দেশ্য করে, যেন বলছে, “জরুরী”! কেননা,এই বারান্দা দিয়েই অগ্নিযোদ্ধারা দ্রুতবেগে ছুটে বেরিয়ে যাবে দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে। ভবনটি এখন জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
zaha-4.jpg
চিত্র: ভিটরা ফায়ার স্টেশন,জার্মানি।
রক্তেই ছিল তার বিপ্লব। ব্যতিক্রমী আর যুগান্তকারী ভাবনাতো তাঁর উত্তরাধিকার সূত্রেই বর্তেছে। ইরাকের বাগদাদ নগরীতে ১৯৫০ সালে ৩১ অক্টোবর এক অভিজাত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন দেমা জাহা হাদিদ। পিতা মোঃ আলহাজ্ব হুসায়েন হাদিদ ছিলেন মশুলের একজন অবস্থাপন্ন ব্যবসায়ী। একজন উদার বামপন্থি রাজনীতিবিদ। ১৯৩২ সালে ইরাকের লেফট-লিবারেল আল-আহালি দলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। পরবর্তীতে একই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে। মা ওয়াইজা আল-সাবুনজি সেই সময়ে মশুলের একজন নামকরা চিত্রশিল্পী ছিলেন। ১৯৬০ এর দশকে কিশোরী জাহা উন্নত শিক্ষার জন্য পাড়ি জমান ইউরোপে। ইংল্যান্ড আর সুইজারল্যান্ডের বোর্ডিং স্কুলে পড়াশুনা করেন। লেবাননের বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সটিতে গণিতের পাঠ চুকিয়ে লন্ডনের স্কুল অব আর্কিটেকচার-এ অধ্যয়ন শুরু করেন। এই সময় তিনি বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ স্থাপত্যবিদ ও বিশেষজ্ঞদের অধীনে কাজ করার সুযোগ পান। এরপর থেকেই শুরু হয় বর্ণাঢ্য সৃষ্টিশীল কর্মজীবন। ১৯৭৯ সালে ব্রিটিশ সরকার তাকে সেদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একজন প্রভাববিস্তারকারী সম্ভাবনাময় স্থাপত্যবিদ হিসেবেই তিনি নাগরিকত্ব লাভ করেন। আশির দশকের শেষ দিক থেকে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করতে থাকেন। ১৯৮৮ সালে নিউইয়র্ক শহরে মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট-এ স্থাপত্যকলায় তাঁর নতুন ভাবনাগুলি নিয়ে এক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ঐ এক প্রদর্শনীর মাধ্যমে পৃথিবী পরিচিত হয় এক যুগান্তকারী স্থপতির সঙ্গে।

এখন ইউরোপ আমেরিকা অস্ট্রেলিয়া এশিয়া সবখানেই নির্মিত হয়েছে তাঁর নকশায় চোখ ধাঁধানো অভিনব সব স্থাপনা। তবে এই সাফল্য পেতে তাঁকে পাড়ি দিতে হয়েছে এক বন্ধুর পথ। একজন প্রগতিশীল স্বাধীনচেতা আধুনিক মুসলিম নারী হিসেবে তাঁকে নিয়ত লড়াই করতে হয়েছে সংস্কারবাদীদের বিপরীতে। আবার, সম্পূর্ণ নতুন চিন্তা ও ভিন্ন ধারার কাজের জন্য মোকাবেলা করতে হয়েছে পুরনো ধ্যান ধারনায় বিশ্বাসী কিছু শূন্যগর্ভ মানুষের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের কর্মগুণ আর যোগ্যতা বলেই হাসিল করতে পেরেছেন শ্রেষ্ঠত্বের আসনটি।
hayder-alvi-center.jpg
ছবি: হায়দার আলীইব সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বাকু আজারবাইজান

জাহা হাদিদের নকশা করা স্থাপনাগুলো প্রতিটিই একটি থেকে আরেকটি সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন। এমনকি একটি অভিন্ন কাঠামোর নির্মাণশৈলী এমন যে এর নিজের একটি অংশের সাথে অন্য অংশের কোন মিল নেই। পুরো স্থাপনাটাই এমন গতিশীল যে শুরু থেকে ভিন্ন ভিন্ন রূপে পরিবর্তন হতে হতে একটি নির্দিষ্ট অবয়ব লাভ করে যা কিনা মানুষকে নিয়ে যায় ঘোর লাগা প্রথাবিরোধী এক পরাবাস্তব জগতে ।
শহুরে একঘেয়ে নিম্নমানের নকশার অসংখ্য ভবনের চেয়ে সুপ্রশস্ত সুবিশাল নান্দনিক ভবন স্থাপন ও এর জন্য বিনিয়োগ করাকে তিনি ফলপ্রসূ মনে করতেন। ফলে জাহা হাদিদ ঐসব ভবনের জন্যই নকশা করতে পছন্দ করতেন যে ভবনগুলি মানুষের নগর জীবনের অংশ হয়ে উঠবে। যে ভবন ব্যবহার করবে নগরের সকল মানুষ। করেছিলেনও তাই। হতে পারে সেটা ব্যয়বহুল তবুও ব্যক্তিগত অসংখ্য ঘিঞ্চি স্থাপনার তুলনায় সমষ্টির ব্যবহার আর সুবিধাভোগের জন্য একটি সুবিশাল সুন্দর স্থাপনাকে তিনি গুরুত্ব দিতেন। এর ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জয়ী হয়ে নিজের নকশাকে বাস্তব অবয়ব দিতে হয়েছে। জাহা হাদিদের নকশার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বেশিরভাগ সময়ই সেগুলো থাম বা স্তম্ভবিহীন থাকে। ছাদ রক্ষা করে ভবনের জেড আকৃতির কোণগুলো। ভবন নির্মাণে মূল উপকরণ হিসেবে তিনি বেছে নেন কাচ, স্টিল, কংক্রিট, ফাইবার গ্লাস। হাদিদ সবসময় প্রথমে ভবনের অভ্যন্তরীণ নকশা করতেন। তারপর করতেন ভবনে মানুষের চলাচল ও যাতায়াতের পথের নকশা। আর এসবের উপর ভিত্তি করে বাইরের নকশাটা করতেন। বহুমুখী প্রতিভার সমন্বয় ঘটেছিল হাদিদের ব্যক্তিত্বে। তাঁর সৃষ্টিকর্মগুলিতে গণিত, জ্যামিতি, অ্যালগোরিদমের জ্ঞান, স্কেচ আর অংকনশৈলির নিপুণতা, নিখুঁত রেপ্লিকা নির্মাণ, আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির উপযুক্ত ব্যবহার ও স্থানিক অভিজ্ঞতার সাথে যুক্ত হয়েছিল প্রকৃতিকে দেখার অন্য এক দৃষ্টিভঙ্গি আর বিশ্লেষণের ক্ষমতা। পৃথিবীর বিশাল বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশ দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিল তাঁর স্থাপত্যসমূহ। আরবের মরুভুমি ও বালির সঙ্গে ইউরোপের পর্বতমালা, উপত্যকা, নদী ও সমুদ্রের জল, ঢেউ, সব মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল তাঁর প্রতিটি কাজে। দেখা মেলে মহাকাশের নক্ষত্রের স্নিগ্ধতা আর উজ্জ্বলতার। এছাড়া আছে আলো-আঁধারের খেলা। বাঁক আর রেখাচিত্রের বিশালতা ছিল তাঁর স্থাপনাগুলির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই জন্য তাঁকে বাঁকের সম্রাজ্ঞী ( Queen of the Curve) বললে একটুও ভুল হবে না। বিচিত্র প্রাণী জগতের অঙ্গভঙ্গির বহিঃপ্রকাশও ছিল তাঁর নকশাগুলিতে।

zaha-5.jpg
ছবি: ফিয়ানো সায়েন্স সেন্টার, উলফসবার্গ জার্মানি (২০০৫)।
ইউরোপের প্রাচীন ক্যাথেড্রেলগুলি থেকে প্রেরণা নিয়ে উপরের এই ভবনটির নকশা করেছিলেন জাহা হাদিদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থাপত্য কলার এক সম্মোহনী সৃষ্টি। যে-কারো মনে হতে পারে ভবনটি বুঝি আধুনিক একটি চার্চ। জাহা হাদিদ চার্চ বানিয়েছেন বটে, তবে এটি বিজ্ঞানের চার্চ।

আশির দশকের গোড়ার দিকে গড়ে তোলেন তাঁর লন্ডনভিত্তিক আর্কিটেকচার ফার্ম। যা কিনা গত তিন দশক ধরে স্থাপত্যশিল্পের জগতে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে আসছে। এই ফার্মে এখন কাজ করছে পৃথিবীর সেরা প্রতিভাবান নবীন ও প্রবীণ স্থপতিসহ চারশোর বেশি কর্মচারী।

এমনকি তাঁর শৈল্পিক ভিন্ন ধরণের জ্যামিতিক নকশার ব্যবহার করে ভবনের অভ্যন্তরীণ সজ্জাতেও নান্দনিক পরিবর্তন এনেছেন। তিনি এসব নকশার ব্যবহার করেছেন বিভিন্ন ধরনের আসবাব, নৌকা, গৃহ সজ্জার সামগ্রী, পেইন্টিংস ও নানা প্রকার গহনা ও জুতা তৈরিতে। সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইনের এসব উপকরণ তাঁকে আরো জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল।
zaha-7.jpg
চিত্র: জাহা হাদিদের ডিজাইন করা গৃহসজ্জার বিভিন্ন উপকরণ ।

পৃথিবীর প্রায় সবকটি শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে তিনি স্থাপত্যকলার উপর পড়িয়েছেন। শিক্ষক হিসেবে তরুণ স্থপতিদের কাছে ছিলেন তুমুল জনপ্রিয়। শিক্ষকতাকে ভালবাসতেন জাহা। একজন অগ্রজ হিসেবে নিজের অর্জিত জ্ঞান আর অভিজ্ঞতা অনুজদের মাঝে বিলিয়ে দেয়াই ছিল তাঁর শিক্ষকতার মূল উদ্দেশ্য যাতে নতুনেরা আরো বেশি যোগ্য ও কর্মক্ষম হয়ে উঠতে পারে যতটুকু যোগ্য বলে তারা নিজেদের ভেবে থাকে। একজন নন-ফিকশন লেখক হিসেবেও জাহা হাদিদ ছিলেন অনবদ্য। স্থাপত্য কলায় তাঁর অর্জিত জ্ঞান অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি রচনা করেছেন এই বিষয়ে বেশ কয়েকটি গুরত্বপূর্ণ গ্রন্থ।

২০০৪ সালে স্থাপত্যকলায় সর্বোচ্চ সম্মান প্রিতজকার পুরস্কার অর্জন করেন যা এই ক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত। প্রথম কোন মুসলিম এবং নারী হিসেবে জাহা হাদিদ এই পুরস্কার জয় করেন। এবং অবশ্যই নিজেই যোগ্যতার কারণেই। অসাধারণ মেধা এবং সৃষ্টিশীল মননশীলতার সঙ্গে কঠোর অধ্যবসায় ও পরিশ্রম তাঁর অর্জনের তালিকায় যোগ করেছে একের পর এক সম্মাননা পুরস্কার ও খেতাব। তবে স্থাপত্যশিল্পের মতো একটি পেশায় নারী হিসেবে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জনের জন্য সবচেয়ে বেশি যে গুণটি তাকে সাহায্য করেছে তা সম্ভবত তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তা আর মনোবল। আর্কিটেকচারে ব্রিটেনের সবচেয়ে সম্মানজনক ও অভিজাত পুরস্কার ‘রিবা স্টার্লিং প্রাইজ’ জয় করেন দু’দুবার। সর্বশেষ মৃত্যুর কিছুকাল আগে ২০১৬ রিবা’স গোল্ড মেডেল লাভ করেন। সেটিও প্রথম নারী হিসেবেই। এই স্বর্ণপদক যতটা না প্রাপ্তি তারচেয়ে বেশি তাঁর অধিকার।
ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত জাহা হাদিদ ছিলেন ভীষণ রুচিশীল। পোষাকে আভরণে সুসজ্জিত স্টাইলিশ। ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর এক জরিপে তিনি ‘বেস্ট ড্রেসড’ খেতাবও জয় করে নিয়েছিলেন । জীবনের অন্তিম মুহূর্তেও তিনি ছিলেন পৃথিবীর অন্যতম প্রভাবশালী নারীদের একজন। ছিলেন সেরা অনুপ্রেরনাদায়ক ব্যক্তিত্বদের অন্যতম। ফোর্বস ম্যাগাজিন, বিবিসি’সহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের জরিপে বিভিন্ন সময়ে উঠে আসে জাহা হাদিদের নাম।

ব্রঙ্কাইটিসের জন্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ মার্চ ২০১৬ তারিখের সকালে ফ্লোরিডার মিয়ামি হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে জাহা হাদিদ এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। সময়ের তুলনায় পৃথিবীর সৌন্দর্যকে তিনি অনেকখানি এগিয়ে রেখে গেছেন। ব্যাপারটা বিস্ময়করই বটে। ৩১ অক্টোবর ২০১৫ তে নিজের ৬৫তম জন্মদিন পালনের পাঁচ মাস পর জাহা হাদিদ মারা গেলেন ৩১ মার্চ ২০১৬তে। জন্ম মৃত্যুর তারিখের সংখ্যাগত এই কাকতালীয় মিলের মাঝের সময়টুকুতে তিনি সেইসব কাজ করে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন যা তাঁর সমকালে খুব কম মানুষের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে। এই সময়ের ভেতরে তিনি আমাদের ভবিষ্যতের পৃথিবীকে দেখিয়ে গিয়েছেন। তাঁর স্থাপনাগুলি বলে দেয় ভবিষ্যৎ পৃথিবীর অবকাঠামোগত রূপ কেমন হবে। সেগুলি আমাদের নিয়ে যায় সুদূর ভবিষ্যতের মহাকাশ যুগে।

মারা যাবার মাসখানেক আগে গত ফেব্রুয়ারীতে বিবিসি রেডিও’কে দিয়ে যান তাঁর সর্বশেষ সাক্ষাৎকার। নিজের স্থাপত্যকর্ম সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে জাহা বলেন, “আমার কখনো মনে হয় না আমি এই প্রতিষ্ঠানিকতার অংশ। আবার এও মনে হয় না আমি বাইরের কেউ, আমি ঠিক এর প্রান্তে অবস্থান করি। অনেকটা কিনারা ধরে ঝুলে থাকার মত আনতশিরে। এবং আমি এটাই পছন্দ করি…আমি কখনোই এই প্রতিষ্ঠানিকতার বিরুদ্ধে নই। আমি শুধু তাই করি যা আমি করতে চাই, ব্যস এতটুকুই”।
জাহা হাদিদের আকস্মিক মৃত্যু ছিল বর্তমান পৃথিবীর স্থাপত্যকলার আকাশ থেকে সূর্যের ন্যায় এক নক্ষত্রের পতন। তাঁর মৃত্যুর পরদিন পৃথিবীর তাবৎ গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের জানানো শোকবার্তায় ভরে উঠেছিল দ্য নিউইয়র্কার, দ্য গার্ডিয়ান-এর মতো পত্রিকাগুলোর পাতা।

ভবিষ্যতের স্বপ্নদ্রষ্টা এই শিল্পীর নকশা করা স্থাপনাগুলি হয়তো টিকে থাকবে ১০০ বছর কিংবা তারও বেশি সময়। কিন্তু তিনি বেঁচে থাকবেন আরো অনেকদিন। তাঁর প্রতিটি কাজই ছিল ভবিষ্যতের এক একটি ইশতেহার। বর্তমানে যাপিত জীবনে থেকেও প্রতি মুহূর্তে উদযাপন করে গেছেন ভবিষ্যতের।
আর এখন সারা পৃথিবী জুড়েই ছড়িয়ে পড়ছে তার অনুসারী নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান স্থপতিরা। তাদের কর্মেই টিকে থাকবেন জাহা। সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা চিরকালের আপোষহীন অনন্য প্রতিভাধর এক সত্ত্বা।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি, দ্য নিউ ইয়র্কার, জাহা হাদিদ অফিসিয়াল ওইয়েবসাইট।
আর্টস বিভাগে প্রকাশিত বিপাশা চক্রবর্তীর আরও লেখা:
জীবন ও মৃত্যুর সঙ্গম: অর্ধনারীশ্বর অথবা তৃতীয় প্রকৃতি

মানব তুমি মহীরুহ তুমি

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: আইনস্টাইন, শেক্সপিয়র, আঁদ্রে গ্লুক্সমাঁ, ফের্নান্দো ও বিয়োরো

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: স্রোতের বিরুদ্ধে স্নোডেন, অরুন্ধতী, কুসাক

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: ভিক্টর হুগো ও টেনেসি উইলিয়াম

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: আরবমুখী ফরাসী লেখক ও মার্গারেটের গ্রাফিক-উপন্যাস

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: গত বছরের সেরা বইগুলো

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: নতুন বছরে নারীরাই রবে শীর্ষে

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: নতুন এলিয়ট, ব্যাংকসির প্রতিবাদ ও তাতিয়ানার রসনা

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য:চিরকালের শত শ্রেষ্ঠ

নারী দীপাবলী: তুমি হবে সে সবের জ্যোতি

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য:চিরকালের শত শ্রেষ্ঠ ননফিকশন

গ্রন্থাগারের জন্য ভালোবাসা

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: যাদুবাস্তবতার শাহেনশাহ মার্কেসের মানসিক গ্রন্থাগার

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য:ভাষারাজ্যের তীর্থযাত্রী ঝুম্পা লাহিড়ী ও টেন্টাকলের মার্গারেট এটউড

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: প্রত্যাখ্যাত রাউলিং ও পুনর্বাসনে লুইয এলিজাবেত ভিযে ল্য ব্রাঁ

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: রোবট লিখবে হাইব্রিড উপন্যাস?

সাম্প্রতিক শিল্পসাহিত্য: পানামা পেপার্স-এ চিত্রকলাও

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: বিজ্ঞানসচেতন শেক্সপিয়র

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: দ্য জাঙ্গল বুক-এর চোখধাঁধানো নতুন অলংকরণ

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (5) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Saif Barkatullah — মে ১২, ২০১৬ @ ৮:৫৩ অপরাহ্ন

      পড়ে ভাল লাগল। ধন্যবাদ

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিমুল সালাহ্উদ্দিন — মে ১৩, ২০১৬ @ ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

      বাহ্। সাবাস বিপাশা চক্রবর্তী।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাপস গায়েন — মে ১৫, ২০১৬ @ ৯:১৩ পূর্বাহ্ন

      স্থপতি ও শিল্পী জাহা হাদিদের নাম শুনি তাঁর মৃত্যুর ঠিক পরে । অসামান্য এই নারী, অসামান্য এই মানুষটির কাজের গভীরতা, বিস্তৃতি, এবং ব্যাপ্তি দেখে বিস্ময় মেনেছি । বিপাশা চক্রবর্তী বাংলাভাষী মানুষদের কাছে শিল্পী জাহা হাদিদকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে একটি ভালো এবং সময়োচিত কাজ করেছেন । এই লেখায় ভাষার বুনন, তার স্বচ্ছলতা, স্থাপত্য শাখার টেকনিক্যাল শব্দসমূহকে যেভাবে বিপাশা চক্রবর্তী গ্রথিত করেছেন, তার জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানাই । লেখক বিপাশা চক্রবর্তীর লেখনি আরও বেগবান হোক, আরও শক্তিশালী হোক, এই আশা রাখছি । বিডিনিউজের সাহিত্যশাখার সম্পাদকমণ্ডলীকেও ধন্যবাদ জানাই এই ভালো লেখাটিকে প্রকাশ করার জন্য ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিপাশা চক্রবর্তী — মে ১৫, ২০১৬ @ ৩:২৯ অপরাহ্ন

      এপ্রিলের প্রথম সপ্তায় মৃত্যু সংবাদটা পড়বার পর থেকেই ভাবছিলাম লিখব কিছু এই অবাক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে। কিন্তু কোথায় লিখব কেমন হবে লেখা ইত্যাদি নিয়ে ভাবতে ভাবতে সহসা মনে পড়ল, জ্ঞানের সকল দিক নিয়ে এখন পর্যন্ত বিডি আর্টসে লিখবার স্বাধীনতা আমার আছে। লেখাটি লিখে আমি সেই স্বাধীনতা উদযাপন করলাম মাত্র। ধন্যবাদ বিডি আর্টস। আর লেখাটি পড়ে আপনাদের মন্তব্য আমার ভাল লাগাকে দ্বিগুণ করে দিল।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন saifullah mahmud dulal — মে ১৬, ২০১৬ @ ১১:৩৯ অপরাহ্ন

      “কখনো বিস্তীর্ণ মরুভূমির বিশালতা। কখনো যেন শূন্যে উঠে থমকে আছে একটি বিরাট বালির ঢেউ। মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে, মেরিলিন মনরোর উড়ন্ত স্কার্টের শৈল্পিক সৌন্দর্য হঠাৎ যেন শরীর পেয়ে বাতাসে বেঁধেছে ঘর।… ধাঁধা আর বিভ্রমের জন্ম দিব… আসলে সেই মেরিলিন মনরোর উড়তে থাকা স্কার্টের মতোই খাঁটি, আবেদনময় আর সাবলীল”।
      … এবং বিপাশার লেখাটাও খুব ‘সাবলীল’ লেখা। যেমন আরেকটি দৃষ্টান্তঃ- ‘আল-ওয়াকারাহ স্টেডিয়াম। যার কয়েকটি ভাঁজ যুক্ত দীপ্তিমান গোলাপী আভার মুখগহ্বর বিশিষ্ট ডিজাইন বিশেষ একটি অঙ্গের কথা মনে করিয়ে দেয়। ডিজাইনটি অনেকের কাছে ঠিক যোনীসদৃশ মনে হতে পারে।”
      এভাবেই অত্যন্ত সাবলীলভাবে স্থপতি জাহা হাদিদকে চমৎকার উপস্থাপন করেছেন বিপাশা। যাকে নিয়ে লেখা এবং যিনি লিখেছেন, দু’জনই নারী। কিন্তু কোথাও কারো জড়তা নেই।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com