পাওলো কোয়েলো’র মারিয়া: ভালোবাসায় আত্মার মুক্তি খোঁজা নারী

সেরীন ফেরদৌস | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১:২২ অপরাহ্ন

border=0মারিয়া কারো কথা কানে নিতে শেখেনি। খুব ছোটবেলা থেকে তার চরিত্রের এই বিশেষ দিকটি ফুটে ওঠে যে, সে অপ্রতিরোধ্য, নিজ হাতে জীবনকে ঘেঁটে-ছেনে ভালোবাসার স্বরূপ অনুসন্ধানেই নিয়োজিত থাকবে; ‘টারমিনেটর’ মুভির মতো সে ভেঙে শত টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়বে, আবার জোড়া লেগে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে। ওকে যেন কিছুতেই মাড়ানো যাবে না, ও যেন প্রতিজ্ঞা করেছে অভিজ্ঞতার প্রতিটি শাখা-প্রশাখা থেকে রস নিয়ে ও বারবার নিজেকে অতিক্রম করে যাবে। পুড়ে যাওয়া হৃদয়ের ভস্মের ভেতর দিয়ে বার বার জন্ম নেবে ভালোবাসার নতুন ফিনিক্স!

জীবনকে বুঝে উঠবার আগেই যে ভালোবাসার তীব্র আলোয় ঝলসে উঠেছিলো সে। বুঝে উঠবার আগেই তাকে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়ে যায় তা। ব্রাজিলের দূর শহরের ছোট্ট গ্রামের ভেতরের ততোধিক ছোট্ট পৃথিবীতে প্রথম যখন নিজেকে সে খুঁজে পেয়েছিলো এক বালকের চোখের তারায়, তখন তার বয়স মাত্র ১১ বছর। অচেনা সে বালকের নাম পর্যন্ত কোনোদিন সে জানতে পারেনি। প্রতিদিন তাকে দেখতো, রাস্তার অপর পাশে। চুপচাপ হেঁটে চলেছে মারিয়ার সমান্তরালে, সলাজ ভঙ্গীতে, কখনোই সাহস করে কিছু বলে উঠতে পারেনি। মারিয়া নিজেও ভেবে উঠতে পারেনি, তাকে কিছু বলা উচিত কি না। এভাবে মাসের পর মাস কেটে যেতে মারিয়া একপ্রকার অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলো, যদিও মারিয়া পরবর্তী জীবনে বহুবার নিজেকে ধিক্কার দিয়েছে বালিকা বয়সের ওই অভ্যস্ত হয়ে যাবার প্রক্রিয়াটি রপ্ত করার অপরাধে। পরবর্তী জীবনে মূল্য দিয়ে দিয়ে মারিয়া এই জ্ঞান অর্জন করেছে, ভালোবাসায় অভ্যস্ত হয়ে যাবার মানে ভালোবাসার মৃত্যু!

সে জানতো না ওদের এলাকা ছেড়ে বালকটির পরিবারের চিরতরে হারিয়ে যাবার কথা। শেষদিন অতি কষ্টে বালকটি সাহস সঞ্চয় করেছিলো মারিয়ার কাছে একটি পেন্সিল ধার চাইবার। ছেলেটির বুক পকেটে উঁকি দেয়া কলমটি মারিয়া দেখতে পাচ্ছিলো স্পষ্ট করে, বিব্রত বোধ করেছিলো সেটি দেখতে পেয়ে, তারপর কোনো উত্তর না দিয়ে দ্রুত পা চালিয়ে চলে গিয়েছিলো। সেই রাতে সারারাত ঘুম হয়নি, আফসোস হয়েছিলো কেন কথা শুরু করেনি, পেন্সিলটি দিলেই তো আরো একবার কথা বলার সুযোগ হতো পরবর্তীতে। ভেবেছিলো পরের দিনই ভুলটুকু শুধরে নেবে। সেই পরদিন মারিয়ার জীবনে আর আসেনি,কারণ নাম-না-জানা বালকটিকে আর সেই পথে দেখা যায়নি। আরো কিছুদিন এদিক-ওদিক খোঁজ নিয়ে জেনেছিলো বালকটির পরিবার চলে গেছে। একটি পেন্সিল ধার না দেবার এই ক্ষতি মারিয়া প্রতিজ্ঞা করেছিলো জীবনে দ্বিতীয়বার করবে না সে। একজন যৌনকর্মী হিসেবে সুইজারল্যান্ডে “কোপাকাবানা”য় টাকা কামানোর দিনগুলোতে, অথবা আরও পরে চিত্রশিল্পী রালফকে গ্রহণ করা পর্যন্ত নিজেকে বারবার দন্ডিত করেছে সে ছেলেবেলার ওই অপরাধে।

আল-কেমিস্টখ্যাত ব্রাজিলিয় লেখক পাওলো কোয়েলো’র চরিত্ররা ক্রমাগত নিজেকেই অন্বেষণ করতে থাকে, বেঁচে থাকবার গূঢ় মানে, আত্মার মুক্তির অর্থ খুজেঁ চলে জীবনভর। ধর্ম নয়, রিচুয়াল নয়, জীবনের অনুসন্ধান, স্পিরিচুয়ালিটি তাদের তাড়িত করে। আত্মার তৃপ্তির খোঁজে নিরন্তর নিজেদের ঋদ্ধ-শুদ্ধ করে চলে। দুনিয়াজোড়া সুনাম কুড়ানো ব্রাজিলিয় এই লেখকের অন্যান্য উপন্যাসের চরিত্রগুলোর মতোই ইলেভেন মিনিটস উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মারিয়া জীবনের রাস্তায় চলতে চলতে ক্রমাগত নিজেকে আবিষ্কার করে চলেছে, নিজেকে প্রতিমুহূর্তে পুরোনো আমি’র সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে চেয়েছে, এমনি করে করে তার বেঁচে থাকবার পরম লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে গেছে। একটি বার একটি মুহূর্তের জন্যেও লক্ষ্যচ্যুত হয়নি সে। প্রাণের পেয়ালা সত্যিকারের ভালোবাসা দিয়ে পূর্ণ করার প্রতীক্ষায় দিন গুনেছে। কৈশোরে এবং যৌবনের শুরুতে যে সব যুবকের সংস্পর্শে সে এসেছে, তারা শরীরের ভালোবাসায় কাছে টানতে চেয়েছে, সেখানে প্রাণের ভাগ ছিলো না। হৃদয়ের হাহাকার সেখানে তৃপ্ত হয়নি। প্রতারনা আর প্রেমিক হারানোর দুর্ভাগা আগুনে পোড়ার দিনগুলো তাকে আরো পরিণত নারী হবার দিকে ঠেলে দিয়েছে। মারিয়ার ভাবনায়, “যদিও আমার জীবনের আসল লক্ষ্য হল ভালোবাসা কি তা বোঝা, তারপরও দেখতে পাচ্ছি যে যাদেরকে আমি হৃদয় দিয়েছি তাদেরকে নিয়ে বিস্তর যন্ত্রণা ভোগ করছি। যারা আমার হৃদয় ছুঁয়েছে, তারা আমার শরীরকে জাগিয়ে তুলতে ব্যর্থ হল; আর যারা শরীরকে জাগিয়ে তুলতে পেরেছে তারা এখনও হৃদয়কে তৃপ্ত করতে পারলো না।“
এমনি এক সময়ে এক পাচারকারীর খপ্পরে পরে সুইজারল্যান্ডে প্রথমে বেলি ড্যান্সার ও পরে যৌনকর্মী হিসেবে জীবন ধারণে বাধ্য হয় সে। হঠাৎ করেই সে মুখোমুখি হয়ে পরে জীবনের বহুমূখী বাস্তবতার। পাওলো এ উপন্যাসে মারিয়ার ভেতর দিয়ে একজন তরুণীর সত্ত্বানুসন্ধানের আখ্যান বর্ণনা করেছেন। অজানা-অচেনা দেশে নিজেকে খাপ খাওয়াতে মারিয়া ভাষা শিক্ষা ক্লাসে যাওয়া শুরু করে, আর শুরু করে লাইব্রেরীতে আসা-যাওয়া। ‘কোপাকাবানা’ নামের অভিজাত এজেন্সীটির কাজ শুরু হয় বিকেল থেকে। প্রতিটি খদ্দের, প্রতিটি কর্মী গোপনীয়তা আর কাজের নিয়ম কঠিনভাবে মেনে চলে। কাউকে কোনো ক্লায়েন্ট চাপিয়ে দেবার ব্যাপার নেই। সে বিস্ময়ের সঙ্গে আবিষ্কার করে সুইস উচ্চবিত্তের জীবনের বহুমাত্রিকতা। আমরা জানতে পারি, উঁচু তলার সুইসরা অনেক রাত অবধি অফিস করার কথা; অফিসের কাজের অজুহাত দেখিয়ে একশতভাগ গোপনীয়তা বজায় রাখা যৌনকর্মীর সেবা নেয়া, তাদের স্ত্রীরা একে অপরের কাছে স্বামীর সোহাগের মিথ্যে বর্ণনার মিথ্যে অভিনয় করা ইত্যাদি ইত্যাদি। পাওলোর মুন্সিয়ানা চূড়ান্তে পৌঁছে যখন আমরা দেখি, সমাজের মাথাওয়ালা পুরুষেরা ভেতরে ভেতরে কতোটা নিঃসঙ্গ আর অসহায়। দেহের ক্ষুধায় ততোটা নয়, অন্তরের ক্ষুধায় তারা বেশি ক্লান্ত! কেউ তাদের প্রাণের কথা শুনতে দুদন্ড সময় পায় না, তারাও সেটা বলে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করে না। অফিসের জাঁদরেল সিইও, কর্মকর্তা, ম্যানেজার, ব্যাংকার, ডাক্তার আর প্রশাসক কেমন মানসিক সঙ্গলাভের কাঙাল হয়ে থাকে! মারিয়া বিমূঢ় বোধ করে যখন সে দেখে যে তার খদ্দেরদের জীবনের ক্লান্তি, বোঝা, অবসন্নতা তার নিজের তুলনায় কম ভারী নয়। দমবন্ধকরা কাজ আর দায়িত্বের চাপে তার খদ্দেররা প্রতিনিয়ত খাবি খাচ্ছে! দিনের পর দিন সামাজিক চাহিদামাফিক আচরণে কিভাবে তাদের মনের ভেতরে প্রতিনিয়ত জমে ওঠে ক্লেদ আর ক্লান্তি! সেখান থেকে তারা মুক্তি চায়, শত শত সুইস ফ্র্যাংক খরচ করে মারিয়ার কাছে তাঁদের একাকীত্বের গল্প করতে চায়, তাঁদের জাগতিক প্রাপ্তির তুলনায় তাদের ক্লান্তির পাল্লা যে ভারী, তার গল্প করতে চায়, ভালো একজন শ্রোতা চায়! অচেনা দেশে, অচেনা ভাষার জগতে ১৯ বছরের মারিয়ার একাকীত্ব আর সমাজের উঁচুতলার মানুষগুলোর একাকীত্বের বোঝা প্রায় একই! মারিয়ার ডায়রিতে পাওয়া যায়, “তলিয়ে দেখলাম যে একজন পুরুষ টাকা দিয়ে নারী কেনে মূলত: সুখী হতে চায় বলে। শুধুমাত্র অর্গাজম পাওয়ার জন্য সে হাজার ফ্রাংক খরচ করবে কেন?”

border=0শরীর নিয়ে পুরুষের খেলায় যে পরিশ্রম তাকে মারিয়া পরোয়া করে না কারণ হিসেব করে সে দেখেছে, শরীরের খেলায় পুরুষ গড়ে মাত্র ১১ মিনিট সময় নেয়! আর বাদবাকি সময়টায় জাঁদরেল এ মানুষগুলো মারিয়াকে একজন ভালো শ্রোতা হিসেবেই পেতে চায়। মাত্র ১১ মিনিট! মারিয়ার বিশ্বাসের জগত টলে যায়, তবে কি সমস্ত দুনিয়া ঘুরছে এই ১১ মিনিটকেই কেন্দ্র করে! এই সত্য একজীবনে কোনোদিনও আবিষ্কার করতে পারতো না যদি না সে এই পেশায় আসতে বাধ্য হত! রীতিমতো ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে এই পেশায় আসতে হয়েছিলো তাকে, অজানা-অচেনা দেশে উপোস শুরু করার ঠিক সপ্তাহখানেক আগে। ওরিয়েন্টেশনের শুরুতেই এজেন্সীর মালিক মিলান কঠিন টার্মস এন্ড কন্ডিশনস জানিয়ে দিয়েছিলো। কোনোক্রমেই খদ্দেরদের প্রেমে পড়া যাবে না, রাস্তাঘাটে দেখা হলে অচেনা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পেশার এথিকস ঠিক রেখেই মারিয়া অন্য যৌনকর্মীদের থেকে নিজেকে আলাদা করে নিয়েছিলো খদ্দেরদের মেধা আর বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিরন্তর খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। লাইব্রেরীতে গিয়ে সাইকোলজি আর মটিভেশনের উপর নিয়মিত পড়াশোনা তাকে খদ্দের চাহিদার শীর্ষে নিয়ে আসে। সে দেখতে পায় লাইব্রেরী সেক্স বিষয়ক বইগুলো কতোটা ট্র্যাশ আর বোরিং!

প্রতিটি খদ্দের থেকে নেয়া জীবনের আর মননের পাঠ, লাইব্রেরীর পড়াশোনার ভেতর দিয়ে আরো একটা জিনিস সে বুঝে দেখতে চায় মারিয়া, সেটা হচ্ছে, সত্যিকার ভালোবাসা কি! সে নিজেকেও প্রশ্ন করে উত্তর খুজেঁ নেয় এইভাবে, “আমি একটি শরীর নই, যার ভেতরে আত্মার বসবাস; বরং আমি একটি আত্মা লোকজন যাকে শরীর দেখে সনাক্ত করতে পারছে। তাই এমন একজন মানুষ আমার প্রয়োজন যে আগে আমার হৃদয়কে দেখতে পাবে।“ মারিয়ার ডায়রির পাতা গুটি গুটি ভরে ওঠে প্রতিদিনকার অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণে। জৈবিক ক্ষুধার চেয়ে প্রাণের ক্ষুধারই জয়যাত্রা ঘোষিত হয়েছে এ উপন্যাসে। আমরা দেখতে পাই একজন তরুণীর রূপান্তরের, মানসিক পরিপক্কতা অর্জনের ধাপগুলো যেখানে নিজেকে ছাড়িয়ে সে আত্মার মিল, মনের মিলের মতো সুক্ষ্নতর মানবিক গুণাবলীর কদর করতে সক্ষম হয়। “ভালোবাসা মানে কারো কাছে স্বেচ্ছাদাসত্ব স্বীকার করে নেয়া। প্রতিদিনের দাসত্বের খত দেয়া নয়, মিথ্যে অর্গাজমের অভিনয় করা নয়। ভালোবাসা মানে মুক্তি, আত্মা স্পর্শ করা আত্মার সাথে। আত্মার স্পর্শ ব্যতিরেকে শরীর স্পর্শ করার নাম সঙ্গম মাত্র, ভালোবাসা নয়।” পেন্সিল ধার চাওয়া বালকটির কথা মনে পড়ে তার বারবার। এক জীবনে এই ভুল দ্বিতীয়বার করা চলবে না, প্রতিজ্ঞা করে সে।

অচিরেই মারিয়া “স্পেশাল” খদ্দের গ্রহণ করার যোগ্যতা লাভ করে। চিত্রশিল্পী রালফ তার স্পেশাল খদ্দেরদেরই একজন যে কিনা প্রথমদিনই মারিয়ার ভেতরের “আলো” দেখতে পেয়েছিলো এক ক্যাফেতে বসে। কোপাকাবানা’র নিষেধাজ্ঞা এই প্রথম অগ্রাহ্য করে মারিয়া প্রেমে পড়ে যায় রালফের, যে কি না হাজার ফ্র্যাংক-এর বিনিময়ে মারিয়াকে নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সারারাত আগুনের পাশে নিস্তব্ধ বসে কাটিয়ে দিতে পারে সময়। যে মারিয়ার দিকে তাকিয়ে শরীর নয়, দেখতে পায় মারিয়ার হৃদয়ের আলো। রালফ শুধুমাত্র এই আলোটুকু ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখবার আশায় মারিয়াকে বার বার ভাড়া করে নিয়ে আসে। রালফ নতজানু হয়ে মারিয়াকে কামনা করে একসময়। মারিয়া তাকে ফেরায় না, কারণ আত্মার মিল হয়ে গেছে তাদের কবেই! এই প্রথম ১১ মিনিটের শারীরিক মিলন মারিয়াকে আরেক পবিত্র জগতে নিয়ে যায় যেখানে পৌঁছে সে প্রথম শরীর ও আত্মা মিলে যাবার স্বর্গীয় তৃপ্তি লাভ করে। তবে,এইবার ব্রাজিলে ফেরত যাবার টিকেট কেটে ফেলে সে, জীবনের পথে হাঁটতে হাঁটতে তাঁর কাম্য ভালোবাসার দেখা সে পেয়েছে, যাকে পুরোপুরি মুক্ত করে দিতে হবে, কিছুতেই সাংসারিক দৈনন্দিকতায় বা অন্যকোনো পিছুটানে এ পরম ধনকে নষ্ট হতে দেয়া যায় না! ভালোবাসাকে জীবনের ঘেরাটোপে বন্দি করে ফেলা আর আত্মার প্রাপ্তিতে গলাটিপে মেরে ফেলা একই ব্যাপার। “ জীবনকে যদি তীব্রভাবে যাপন করা যায়, তবে প্রতিমুহূর্তেই আনন্দ গ্রহণ করা সম্ভব, শুধুমাত্র রতিক্রিয়া আর কতটুকুই বা আনন্দ দিতে পারে! একজন নারীকে অবশ্যই জানতে হবে একজন পুরুষকে কখন আলিঙ্গন করা যায় আর কখন আলিঙ্গন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে হয়।“ রালফকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে স্যুটকেস দুটো নিয়ে এয়ারপোর্টের দিকে পা বাড়ায় ঋজু, তৃপ্ত, বিষাদগ্রস্ত আর আনন্দিত মারিয়া!

Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (7) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাকিয়া সুলতানা — এপ্রিল ২১, ২০১৬ @ ২:০৭ অপরাহ্ন

      বইটির আলোচনা পড়ে একরাশ মুগ্ধতা ছড়িয়ে গেল, না জানি বইটা পড়তে কত ভালো লাগবে! প্রথমাংশ পড়েই বিহ্বল হয়ে গেছি।
      ধন্যবাদ সেরীন ফেরদৌস।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এনামুল রেজা — এপ্রিল ২১, ২০১৬ @ ২:১৭ অপরাহ্ন

      কোয়েলোর শিল্পযাত্রাটাই তো আদতে আত্ম-অনুসন্ধানের, একটা সোল জার্নি। ইলেভেন মিনিটসের ফোকাস ছিল একজন নারীর চোখে প্রেমের শরীরি আর আত্মিক লড়াই, স্বভাবতই সোল এখানে মূখ্য হয়ে উঠেছে যেহেতু সোল শরীরের চে’ দীর্ঘস্থায়ি। যারা উপন্যাসটা পড়েনি নিশ্চিতভাবেই এ আলাপ তাদের টেনে নিয়ে যাবে বইটির দিকে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Faysal — এপ্রিল ২১, ২০১৬ @ ৩:৪৪ অপরাহ্ন

      সত্যিকারের ভালবাসা এমনি হয়,,
      সবার আগে আমাদের ভালবাসতে হবে সর্বশক্তিমান আল্লাহকে, অনুসরন করতে হবে আল্লাহর কিতাব, তাহলেই মানুষ সত্যিকারের ভালবাসা উপলব্দি করতে পারবে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মামুন — এপ্রিল ২১, ২০১৬ @ ৫:০৭ অপরাহ্ন

      হৃদয় ছুয়ে গেল, ভিন্নচিন্তার জগতে খাবি খাচ্ছি, আসলেই কি জগত এই এগারো মিনিটকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে সে প্রশ্ন মনোজগতে আলোড়ন তুলে গেল।

      রালফকে রেখে ব্রাজিলের পথে পা বাড়ানো মারিয়ার কথা ভেবে কষ্ট হচ্ছে।

      অন্যরকম অনভূতি।

      বইটা পড়ার ইচ্ছা আছে, হয়ত শীঘ্রই পড়া হবে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Md. Ismail — এপ্রিল ২৬, ২০১৬ @ ৪:০৬ অপরাহ্ন

      মানুষ ধনের কাঙ্গাল নয়, মানুষ প্রেমের কাঙ্গাল। সেই প্রেম শুধুই সঙ্গম নয়।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শঙ্খচূড় ইমাম — মার্চ ৫, ২০১৭ @ ৮:১২ অপরাহ্ন

      “ জীবনকে যদি তীব্রভাবে যাপন করা যায়, তবে প্রতিমুহূর্তেই আনন্দ গ্রহণ করা সম্ভব, শুধুমাত্র রতিক্রিয়া আর কতটুকুই বা আনন্দ দিতে পারে! একজন নারীকে অবশ্যই জানতে হবে একজন পুরুষকে কখন আলিঙ্গন করা যায় আর কখন আলিঙ্গন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে হয়।“

      খুবই ভালো লাগলো। পাওলো কোয়েলহো আমার প্রিয় কথাশিল্পী।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com