সংস্কৃতি ও ধর্ম: আরববিশ্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে

আবদুস সেলিম | ১৩ এপ্রিল ২০১৬ ১১:১১ অপরাহ্ন

02_boishakh_mongol-sovajatra_140415_0003.jpgবাইরের বিশ্বকে আমরা কিভাবে বিচার করি সেই শিক্ষাই দেয় সংস্কৃতি। ফলে শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের যে অপরিহার্য উপাদান সহনশীলতা তারই উপলব্ধি মানবজাতি অর্জন করে সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে। বিশ্ব ইতিহাসে বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের প্রতিযোগিতার ফলশ্রুতিতে যত হানাহানি এবং ঔপনিবেশিক শক্তি সৃষ্টি হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। এই সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের ভেতর ধর্মও একটি অনুঘটকের কাজ করেছে নিঃসন্দেহে। কিন্তু এ কথা অনস্বীকার্য সংস্কৃতি একটি মানবগোষ্ঠীর অন্তর্গত শক্তি যার উপাদানগুলো হলো, মানুষের সাথে মানুষের ব্যবহার, তার খাদ্যাভ্যাস (রন্ধন প্রণালীসহ), ভাষা, বিনোদন ও অভ্যাস যা ঐ মানবগোষ্ঠীকে একটি সর্বজনীন একাত্মতার অনুভূতি এনে দেয় এবং এমনকি ঐ মানবগোষ্ঠীর পোশাক-পরিচ্ছদ ও পারস্পরিক ব্যবহারও এর অন্তর্ভুক্ত। ইংরেজিতে একে বলা হয় সভ্য ও সংস্কৃতিকবান হবার ইঙ্গিত বা ‘সেমিওটিক্স’। এর সাথে ধর্মীয় উৎসবও যুক্ত। ধর্ম ও সংস্কৃতির সহাবস্থান মানবজাতির জন্যই মঙ্গলজনক কারণ ধর্মের অনেক আচার অনুষ্ঠান যেমন কোনো একটি নির্দিষ্ট ভৌগলিক সীমারেখায় বসবাসকারী মানবগোষ্ঠীকে প্রভাবিত করে, তেমনি সেই ভৌগলিক সীমার অভ্যন্তরের সকল ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে নিজেদের মধ্যে ধারণ করে থাকে। এটি অতি প্রয়োজনীয় কারণ কোনো মানবগোষ্ঠীই তার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে অস্বীকার করে টিকে থাকতে পারে না।

সম্প্রতি বাংলা নববর্ষ উদযাপন নিয়ে ধর্মীয় বক্তব্য সোচ্চার হচ্ছে। বাংলা বর্ষপঞ্জির সৃষ্টি ও এর ঐতিহাসিক পটভূমি বিশ্লেষণ না করেই আমি আমার কিছু অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করতে চাই। আমি দীর্ঘ চার বছর এক আরব দেশে ছিলাম। তা ছাড়াও আরও বেশ ক’টি আরব দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও আমার আছে। আমি দেখেছি সেই সব দেশে ইসলাম-উত্তর সাংস্কৃতিক আচার অনুষ্ঠানের প্রতুলতা। বিয়ে বা জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উলুধ্বনি দেয়া কিংবা বিয়ের গাড়ি সাজানোর জন্য বার্বিডল ব্যবহার করা থেকে শুরু করে মেয়েদের গান গাওয়া এবং নাচ। শুধু তাই নয়, আমি অনেক অনুষ্ঠানে বেলি-ডান্স’ও দেখেছি যেটি ইসলাম-উত্তর যুগে নীলনদের পাশ দিয়ে যে আরব সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল সেই ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে এই একবিংশ শতাব্দীতেও বর্তমান। উট ও ঘোড়-দৌড়ের প্রতিযোগিতায় এবং সেই উৎসবে মেয়েদের খোলা-চুলের নাচ ও পানাহারে (প্রধানত গাহোয়া বা চা) আমি উপস্থিত ছিলাম একাধিকবার। অনেকেই বলবেন এসব ইসলাম-বিরোধী। আমি বলব এই হলো মানবজীবন যাপনের নির্মল স্বতঃস্ফূর্ততা। কারণ হিজাব পরলেও যে নারীরা পশুর হাত থেকে রক্ষা পায় না তার জ্বলন্ত উদাহরণ তনু–পশু তো কারও কথা শোনে না–সে সভ্যতা ও সংস্কৃতিরও তোয়াক্কা করে না। ধর্মও তাকে সংযত করতে পারে না। তবে একথাও ঠিক পশুরাও অনেক বিচারে মানুষের চেয়ে সভ্য-যেমন তারা ধর্ষণ করে না। ইসলাম যে দেশ থেকে ভারতবর্ষে এসেছে, তা সে আরবদেশ থেকেই হোক বা পারস্য থেকেই হোক– সে দেশগুলোতে বিভিন্ন বিনোদন অনুষ্ঠান, যা তাদের অমূল্য উত্তারাধিকার, ইসলাম-পরিবর্তি যুগেও যুক্তিসঙ্গতভাবেই পালিত হচ্ছে। যেমন ইরানে ‘নওরোজ’ অনেক জাঁকজমকভাবে উদযাপন করা হয়। সৌদি আরবে জমাদ্রিয়া জাতীয় উৎসব পালিত হয় প্রতি ফেব্রুয়ারিতে রিয়াদ থেকে ত্রিশ মাইল দূরে জমাদ্রিয়া শহরে যেখানে লোকজ নাচ-গানসহ ঘোড়া ও উটের দৌড় প্রতিযোগিতা এবং স্বরচিত কবিতা পাঠের জন্য দূরদূরান্ত শহর ও গ্রাম থেকে নারী-পুরুষ একত্রিত হয় টানা দু’সপ্তাহের জন্যে। এ ছাড়াও সৌদি আরবে নিয়মিত বাজ উড়ানোর খেলা (Falcon’s flight games) হয় যেটি পুরাকালের আরব সংস্কৃতি। জুন-জুলাইয়ে জেদ্দা শহরে প্রায় দু’শ বিভিন্ন বিনোদন প্রদর্শনী হয়ে থাকে সৌদি আরবের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসামগ্রী ও আতশবাজী সহকারে। অপেক্ষাকৃত উদারপন্থী মুসলিম দেশ দুবাই এবং আমিরাতে হরহামেশাই ঘোড়-দৌড় এবং এমনকি জ্যাজ ফেস্টিভ্যাল হয়ে থাকে, যদিও জ্যাজ ইসলামী সংস্কৃতি নয়। এমন উদাহরণ আরও অনেক আছে, কিন্তু প্রশ্ন হলো ঐসব মুসলমান দেশগুলোতে কি এমন কোন ফতোয়াবাজ নেই? আমি ব্যক্তিগতভাবে এইসব উদাহরণ দিয়ে একাধিকবার যুক্তি খাড়া করতে চেয়েছি আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের পক্ষে, তখন যে মন্তব্য শুনতে হয়েছে তা এই: ‘ওরা খাঁটি মুসলমান না’। পরিহাসের বিষয় হলো আমার আরব দেশে বসবাসকালে অনেকবার এই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে, ‘তুমি কি মুসলমান?’ আমার সম্মতিসূচক উত্তরে ওরা বলেছে ‘তুমি আসলে তিন দিনের মুসলমান আর আমরা খাঁটি মুসলমান।’

যে কোন দেশ, ভৌগলিক অঞ্চল এবং সেখানে বসবাসরত মানবগোষ্ঠীর একটি অতীত আছে এবং সেই অতীতকে অস্বীকারের অর্থ নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা। এই অতীতেরই একটি সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে সেই মানবগোষ্ঠীর ঐতিহ্য চেতনা, উৎসব ও সংস্কৃতি। কোন ধর্মই উৎসবকে অস্বীকার করে না বলেই পূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা, বড় দিন ও ঈদকে ধর্মীয় সংস্কৃতিতে স্থান দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমার জানামতে কোথাও উল্লেখ নেই অপরাপর সকল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে বিসর্জন দিতে হবে। তাই বাংলা নববর্ষকে বিসর্জন দেয়ার অর্থ বাঙ্গালিত্বকে বিসর্জন দেয়া, নিজেকে বিসর্জন দেয়া।
সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (13) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন K Iqbal — এপ্রিল ১৪, ২০১৬ @ ৪:৪১ পূর্বাহ্ন

      Abdus Selim has touched something which many of us willingly consider a “matter to avoid”. Thank you Selim, for bringing it up as I too have almost similar experience.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Saiful Islam — এপ্রিল ১৪, ২০১৬ @ ১০:২৭ পূর্বাহ্ন

      বাংলা নববর্ষ পালন করেন করবেন, কিন্তু বিভিন্ন ধরনের মূর্তি দিয়ে শোভযাত্রা কোথা থেকে আমদানি করলেন?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Mohibur Rahman — এপ্রিল ১৪, ২০১৬ @ ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

      Middle east er one deshe to pap kaj hoy. Se jonno ki ta boidho? Shunen, apni jai korben quran hadis er aloke korben.R na hoy quran hadis er sathey sanghorshik emon kono kaj korte paren na.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Rakib — এপ্রিল ১৪, ২০১৬ @ ১২:০০ অপরাহ্ন

      বাংলা নববর্ষ পালন করেন করবেন, কিন্তু বিভিন্ন ধরনের মূর্তি দিয়ে শোভযাত্রা কোথা থেকে আমদানি করলেন? আপনি আরবের কথা বললেন, আরবের লোকেরা আপনাদের মত মূর্তি মঙ্গল পুজা করে না।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ওবাইদ — এপ্রিল ১৪, ২০১৬ @ ১২:১০ অপরাহ্ন

      পূজা বাদ দিয়ে করুন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন MD.ARIF — এপ্রিল ১৪, ২০১৬ @ ১২:২৭ অপরাহ্ন

      লেখাটা পড়ে খুব খারাপ লাগল কারণ অধিকাংশ সাধারণ মানুষ কোন বিচার বিবেচনা না করে আপনাদের কথাগুলো বিশ্বাস করে। আর করবে না কেন? আপনারা যে যুক্তি দাড় করান। আপনার যুক্তি হচ্ছে আরব দেশে বিভিন্ন রকমের উৎসব করে বিধায় সেগুলো জায়েজ। কারণ সেটা আরব দেশ। আমার আপনার মত বাহিরে যাওয়ার সুযোগ হয় নাই, আপনাকে নিজের দেশ সম্পর্কে একটা প্রশ্ন। 92% মুসলমানের বাংলাদেশে কোন মুসলমান যদি হজ্বকে নাজায়েজ বলে তাহলে সেটা কি আপনি নাজায়েজ বলবেন? অথবা যে সকল দেশে মুসলমানের সংখ্যা 10% এর কম তারা কি ৯২% মুসলিমের দেশের সেই মুসলমানের কথা( যে হজ্বকে অস্বীকার করেছে) বিশ্বাস করবে? তেমনি কোন আলেম যদি নামায না পরে তাহলে আমরাও কি নামায ছেড়ে দেব? আরব দেশ বলে সেখানে সবাই ভাল হবে সেটা আপনি মনে করলেন কিভাবে? তাই বলে আপনি গুটিকয়েক মানুষের জন্য পুরো আরবকে টেনে আনলেন কেন? সকল দেশে ভাল খারাপ আছে। তবে শুধু আরবদেশের কয়েকজন মুসলিম সেটা করে বলে সেটাতো জায়েজ হতে পারে না। আর মুসলমানের জন্য সবার আগে ইসলাম।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Abdul Haque — এপ্রিল ১৪, ২০১৬ @ ১:৫৭ অপরাহ্ন

      Culture and religion are two different things. Culture depends on the geographic locations – all Christians are not similar – similarly all Muslims or Hindus are not similar. We speak Bangla and our history and civilization is very old. Just because of our religions (Islam, Hinduism, Buddhist or Christians) we can not copy everything like Arabs, English, Indians from far away states like Gujarat etc or Japanese). Dhak, Dhol, Kasha, Mela, idols, Hilsa Fish, Pantha are our culture!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন hasib — এপ্রিল ১৪, ২০১৬ @ ৩:২২ অপরাহ্ন

      ২ ঈদের দিন ছাড়া মুসলিমদের কোন আনন্দ উৎসব শরীআতে (কুরআন আর সহীহ হাদিস দ্বারা) বৈধ নয়। মক্কার ইমাম সাহেব যদি কবরে/মিনারে/স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়ে অথবা ইলিশ পান্তা দিয়ে কোন উৎসব পালন করে তবু তা শির্ক। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যা করেছেন বা অনুমোদন করে গেছেন তার বা্ইরে কিছু পালন করে তার মাধ্যমে কল্যাণ আশা করা ইসলামী সংস্কৃতি বিরুদ্ধ এবং তা গুরুতর অন্যায়। আশা করি মানুষকে কিছু উপদেশ দেয়ার আগে জনাব লেখক সাহেব বিষয়গুলি ভাববেন-
      ১. আমার মাধ্যমে কেউ যেন অন্যায়ে উৎসাহিত না হয়।
      ২. আমার দায়িত্ব মানুষকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানো, বিভ্রান্ত করে জাহান্নামে ছুড়ে ফেলা নয়, যা শয়তান করে থাকে।
      ৩. দেখে দেখে কোন কিছু শেখা উচিত নয়। ইউরোপে গিয়ে আপনি হয়তো বন্ধুর মেয়ে/স্ত্রী-কে অর্ধনগ্ন অবস্থায় দেখবেন, তাই বলে দেশে এসে নিজ কন্যা/স্ত্রী-কে তা করতে বলা যাবে না।
      ৪. ইতিহাস আর চর্চা থেকে কোন জ্ঞান নেয়া যাবে না। কারণ মুর্খ ব্যক্তি দ্বারা ভুল ইতিহাস ভুল চর্চা (প্রাকটিস) হতে পারে, যেমন- হিটলার, ইয়াহিয়া খান, জর্জ বুশ, .. .. ।
      পরিশেষে প্রার্থনা, আল্লাহ আমাদের সকলকে জ্ঞান (কোরআন. সহীহ হাদিস) নির্ভর জীবন যাপন করার সামর্থ্য দান করুন। আমীন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মো: আওলাদ হোসেন — এপ্রিল ১৫, ২০১৬ @ ১:৫৫ পূর্বাহ্ন

      ভাই । মাঝে মাঝে অবাক হই উদ্ভট কিছু যুক্তি দেখে । আসলে আপনারা কেনো যে এসব যুক্তি দেখান আমার মাথায় আসে না ।
      মাথায় আসার কথাও না । কারণ আমরা সাধারণ মানুষ এসব বুঝি কম ।

      তবে জানেন কি ভাই, একটা কথা আপনিও জানেন আমরাও যারা সাধারন মানুষ তারাও জানি । মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় সত্য হল আল-কোরআন । তাই বলছি , ধর্ম নিয়ে যদি কোন যুক্তি দেখাতে হয় তবে কোরআন-হাদিসের আলোকে দেখানোর চেষ্টা করবেন ।

      আপনার তো লেখক, লক্ষ লক্ষ মানুষের মন-মানসিকতা অনেকটাই নির্ভর করে আপনাদের লেখার উপর । আপনাদের ফালতু যুক্তি যদি কেউ বিশ্বাস করে তবে তো তার দায়-ভার আপনাকেই নিতে হবে ।

      আশা রাখি ভবিষ্যতে আপনার নিকট থেকে ভাল কিছু পাব ।

      ধন্যবাদ ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন R. Masud — এপ্রিল ১৫, ২০১৬ @ ১১:১৬ পূর্বাহ্ন

      ধর্ম আমার ইসলাম।
      তা থেকেই আমি জেনেছি আমি আশ্রাফুল মখলুকাত মানে সৃষ্টির সেরা জীব।
      আমি ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ নই, হতেও চাই না-
      কারন, যারা আজ নিজেদের ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ ভাবেন তাদের কথা আর তাদের বিলানো বার্তা থেকে যে খবর পাই তা আমার আশরাফুল মখলুকাতের সম্মানে আঘাত করে।
      আমার আশরাফুল-মখলুকাত-জ্ঞ্যান আমাকে বলে,
      জাতীয়তার স্থান ধর্মের উপরে, তার কারণ, আমার সৃষ্টিকর্তা আমার জন্য ধর্ম পরিবর্তনের সুযোগ রেখেছেন জাতীয়তা পরিবর্তনের সুযোগ রাখেন নি। একজন, পর্তুগীজ ভদ্রলোক খৃস্টান থেকে মুসলমান হতে পারেন, কিন্তু সে কখনো পর্তুগীজ থেকে ইরানি হতে পারেন না।
      তাই যারা বাঙালী জাতির উৎসবকে ইসলামের কারনে দূরে ঠেলে বা অপবাদ দিচ্ছেন, তারা আল্লাহর ইচ্ছাকে পদদলিত করছেন। গুনাহর কাজ করছেন,
      জানি তথাকথিত ইসলামি বিশেষজ্ঞরা তা স্বীকার করবেন না। তাতে কি! ওদের মুখে পা রেখেই আমি আগামিতেও বাঙালীর উৎসবে যাবো আর খোদাতালাকে সালাম দেবো আমাকে বাঙালী করার জন্য, বাঙালী মুসলমান করার জন্য।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অকম রুহুল আমিন — এপ্রিল ১৫, ২০১৬ @ ১:০৬ অপরাহ্ন

      লেখাটি সুন্দর হয়েছে । তবে ইসলাম-পূর্ব প্রচলিত আরবের যে সব লোকাচার নবী সঃ কর্তৃক বা কোরান কর্তৃক অনুমোদিত নয় (যা এখনো আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত আছে ) সেগুলি ইসলামী সংস্কৃতি নয়। কথা হলো স্থানীয় সংস্কৃতি ততটুকু ইসলাম মেনে নিতে বলেছে যতটুকু ইসলামী সংস্কৃতিতে সাংঘর্ষিক নয়। তারপরেও একটি কথা আছে, ধর্মীয় আচরণ এবং সাংস্কৃতিক আচরণ কখনোই এক নয় । বিষয়টি সমান্তরালে ভাবা যায়। আর অসুন্দর কখনো ধর্ম নয়, সংস্কৃতিও নয়। সুন্দর অসুন্দর স্থানীয় বিবেচনায় মূল্যায়ন করতে হবে।
      ধন্যবাদ ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Fazlul Haq — এপ্রিল ১৫, ২০১৬ @ ৫:১৭ অপরাহ্ন

      সংস্কৃতি প্রাকৃতিক (ভৌগলিক) পরিবেশ ও সামাজিক পরিবেশের জীবনযাপন থেকে হাজার হাজার বছরে তৈরী হয়। আর তার উপর নির্ভর করে ধর্মের উৎপত্তি। এমনকি অদৃশ্য মহাশক্তির উপর বিশ্বাস যা সব ধর্মের মূলকথা সেটাও মানুষের বিশ্বাসের বিবর্তনের মধ্যদিয়ে স্থির হয়েছে এবং তাও সাংস্কৃতিক জীবনের অঙ্গ। তাই ধর্ম এক হলেও বিভিন্ন দেশে ও সমাজে সেটা পালনের রীতিনীতির ক্ষেত্রে কিছু বিভিন্নতা দেখা যায় এবং সুসংস্কৃতি বা কুসংস্কৃতির বিচারের ক্ষেত্রেও দৃষ্টিভঙ্গি এক হবে না। সর্বোপরি মানুষ ও সমাজ পরিবর্তনশীল যা অস্বীকার করে টিকে থাকা যায় না।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুজাম্মেল — এপ্রিল ১৫, ২০১৬ @ ১০:০৯ অপরাহ্ন

      ইসলামের জ্ঞানে সমৃদ্ধ না হয়ে ইসলাম নিয়ে কথা বলার লিপ্সা যাদের রয়েছে তাঁদের সংখ্যা রীতিমতো বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। ইসলাম ও সংস্কৃতিকে এভাবে গুলিয়ে ফেলা চরম আপত্তিজনক। সংস্কৃতি মানুষের বানানো আর ইসলাম ঐশী এক ব্যবস্থাপনা যা মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতার পথ দেখায়। ইসলামের জ্ঞানীরা যদি না থাকতেন তাহলে মন ও সাংস্কৃতি পুজকেরা পশুর চেয়ে হিংস্র ও নিকৃষ্ট হয়ে যেত। ঐশী বানীই পথ দেখিয়েছে সকল প্রকার সভ্যতা ও ভদ্রতার। যদিও নানান সমাজে নানানভাবে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ঐশী শিক্ষার সুবাদেই একজন নাস্তিকও সমাজে একজন ভদ্র লোক বলে পরিচিতি পেয়ে থাকে। যদিও সে আল্লাহ্, রাসুল ও আসমানি কেতাব মানে না। দুঃখের বিষয় এই যে একজন ইসলামের পণ্ডিত কারো মুখে পা রেখে কথা বলে না কিন্তু আজব সংস্কৃতমনাদের কেউ কেউ তা বিনা দ্বিধায় করে থাকে!

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com