কারা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়

সোহেল হাসান গালিব | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৭:১৮ অপরাহ্ন

বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীকে এখন আর একটি ‘সমগ্র’ রূপে বিবেচনার সুযোগ নেই। মুখ্যত দুই বাংলায়–বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলায়–ভাষা দুই ভাগে, দুইটি ধারায় বিকাশের এক বিশেষ পর্যায়ে এসে উপস্থিত। এ দুটি ধারাকে চিহ্নিত করতে কেবল শব্দ ও বাক্যের সংগঠন বিচার করলেই চলবে না। শব্দ যে প্রতীক ধারণ করে, যে ইমেজের প্রতিফলন ঘটায়, যে ইতিহাসকে তুলে আনে, তার তাৎপর্যও খেয়াল করতে হবে।

প্রমথ চৌধুরী বলে গিয়েছেন, ‘বাংলা ভাষার অস্তিত্ব প্রকৃতিবাদ অভিধানের ভিতর নয়, বাঙালির মুখে।’ অর্থাৎ ভাষার প্রাণ-উৎস মরা মানুষের জাবেদাখাতা নয়, জ্যান্ত মানুষের মুখের জবান।

হিন্দি ভাষা নয় কেবল, প্রকৃত প্রস্তাবে ভারতের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য বহন করতে গিয়ে প্রাদেশিক ‘বাংলা’র একটা চেহারা দাঁড়িয়েছে পশ্চিম বাংলায়। পক্ষান্তরে, ‘উর্দু’–ভাবান্তরে ‘পাকিস্তানি ইসলাম’–মোকাবেলা করেই গড়ে উঠেছে স্বাধীন রাষ্ট্রের বাংলা ভাষা। ফলে খুব সহজেই দুইটি বাংলার দুই ভিন্ন উৎসারণ চিনে নেয়া সম্ভব। পশ্চিমের বাংলা ক্রমশ ঘোমটা পরছে অপরের আধিপত্য কবুল করে। স্বাধীন বাংলা জেগে উঠছে অন্যের আধিপত্য খারিজ করার মধ্য দিয়ে।

কিন্তু এই উৎসারণ, এই প্রবণতা এক বিশেষ কালপর্বের জন্য সত্য, ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে সদাই এমন ঘটেছে তা বলা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গের ‘বাংলা’ প্রধানত তার আদলটা তৈরি করেছে বর্জনের সংস্কৃতি উদযাপন করতে করতে। ১৮৩৮ সালে ‘পারসীক অভিধান’ নামে যে সংকলনটি করেন জয়গোপাল তর্ক্কালঙ্কার, তার উদ্দেশ্য ছিল বাংলা ভাষায় যে সব বিদেশি (ফারসি) শব্দ ব্যবহৃত হয় তা চিহ্নিত করা। যাতে এসব শব্দ পরিহার করে শুদ্ধ বাংলা চর্চায় লেখকরা সচেতন হয়ে ওঠেন। এ অবস্থা জারি ছিল দীর্ঘদিন। প্রায় একশো বছর পর কাজী আবদুল ওদুদ নতুন একটি অভিধান সংকলনে এগিয়ে আসেন। তাঁর অভিধানের নাম ‘ব্যবহারিক শব্দকোষ’। অভিধানের ভূমিকায় তিনি লিখছেন : ‘বাংলা ভাষা তার বিচিত্রমূল সাধারণ ও অ-সাধারণ শব্দ ও শব্দ-সংশ্লেষ নিয়ে বর্তমানে যে বিশিষ্ট রূপ ধারণ করছে, ক্ষেত্রবিশেষে করতে যাচ্ছে, সে-সবের সঙ্গে প্রধানত শিক্ষার্থীদের যথাসম্ভব অন্তরঙ্গ পরিচয় ঘটানো ‘ব্যবহারিক শব্দকোষে’র উদ্দেশ্য।…
বাংলার মুসলমান-সমাজে প্রচলিত অথচ বাংলা অভিধানে সাধারণত অচলিত শব্দগুলোও সংকলন করতে চেষ্টা করা হয়েছে। মুসলমান-সমাজের চিত্র বাংলা সাহিত্যে ব্যাপকভাবে অঙ্কিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সবের প্রয়োজনীয়তা সহজেই বৃদ্ধি পাবে।’

ফলে সহজেই অনুমেয়, পশ্চিমবঙ্গের ‘প্রমিত বাংলা’ পরিত্যাগ করেছে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর বাগভঙ্গি ও শব্দসম্ভার। ছুড়ে ফেলেছে সেদিনের পূর্ব বাংলার মুখ্যত মুসলমান, সামগ্রিকভাবে কৃষককুলের মুখের জবানকে(বিস্তারিত জানতে পড়ুন :অভিধানের আপন ও পর)। পরবর্তীকালে কৃষককুলের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের মধ্য দিয়ে যে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়–আশা করা গিয়েছিল তার ভাষা বহুস্বরের সমন্বয়েই গড়ে উঠবে। পশ্চিমবাংলার আধিপত্যশীল ভাষা-সংস্কৃতির ঐতিহ্যের সঙ্গে সংঘাতে-সংযোগে সজীব-সপ্রাণ একটি ভাষা উঠে দাঁড়াবে।

কিন্তু সেখানে বাধ সাধছে ‘প্রমিত ভাষা’ নামীয় পুরনো সংস্কার, নতুন এক এলিটিজম। অর্থাৎ আধিপত্যের আসনটি দখল করে নিল আভিজাত্য। একটা সাধারণ ‘কাজ-চালানো’ ভাষার বিপক্ষে আমরা নই। কিন্তু সেই ভাষাটি বহুদিনচর্চিত ‘প্রমিত ভাষা’ই কেন হবে, যখন ভেতর থেকে তাগিদ আসছে তার স্বরূপ পাল্টানোর? কেন আঞ্চলিক ভাষার অভিধান রচনাতেই ভাষাগোষ্ঠীর মুখের জবানকে বন্দি করা হবে?

পশ্চিম বাংলার বুদ্ধিজীবীরা প্রায়ই বলে থাকেন, ‘এপার-ওপার বাংলা ভাষা–একই ভাষা–একটিই ভাষা।’

এই কথাটির প্রতিধ্বনি এখানেও তৈরি হয়, বিশেষত ষাটোর্ধ্ব পণ্ডিতদের মুখে, যাদের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি ‘পশ্চিম’-শাসিত। কথাটি এত বেশি উচ্চারিত হবার কারণ আর কিছু নয়, আধিপত্য হারানোর ভয়। সেই সঙ্গে আভিজাত্যও।

abulbarkatlibraryandmemorialmuseum_200216_10.jpg‘দাবিয়ে রাখতে না পারা’ বাঙালির প্রতীক হিসেবে আমরা ‘মুজিব’কে চিনি। আলোচনার সুবিধার্থে সেই বাঙালির মুখের জবানের ব্যক্তিরূপ হিসেবে ‘মুজিব’কেই গ্রহণ করা যাক। আর আধিপত্যশীল ইংরেজি ভাষার প্রতীক রূপে গ্রহণ করছি ‘ক্লাইভ’কে। ইতিহাসে ক্লাইভের কাছে সিরাজের পরাজয় ঘটেছিল। তার প্রধান কারণ এ অঞ্চলের বেনিয়াদের অনায্য মুনাফা অর্জনের লোভ। বেনিয়ারা তাদের স্বার্থে সিরাজের পতন ঘটাতে নিয়েছিল যুদ্ধ-সেনাদের খরিদ করে। তার ফলস্বরূপ আমরা পেয়েছিলাম দুশো বছরের পরাধীনতা।

আজ এতদিন পর, সেই লড়াইটা আবার ফিরে এসেছে। এবার ময়দানে সিরাজ নেই। লড়াইটা তাই ক্লাইভের সাথে মুজিবের। এবং তা সম্পূর্ণ অশরীরী, কেননা তারা কেউ বেঁচে নেই। এ কথাও আমাদের অজানা নয়, কেউ এখন ভূমির অধিকার নিয়ে যুদ্ধ করে না। ভূমিপুত্র স্বয়ং যদি দাসত্ব স্বীকার করে নেয়, তবে আর মাটি কামড়া-কামড়ির কী দরকার! এই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে প্রকাশ্য অথচ নীরব যুদ্ধ-পরিস্থিতিটা বুঝে নেয়া দরকার। কাগজে-কলমে রাষ্ট্রভাষা যাই থাক না, ক্ষমতাসীন শ্রেণির চোখে বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা ইংরেজি। ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনাটা এখন আর রাজধানী বা কয়েকটি বড় শহরে সীমাবদ্ধ নেই, ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামে-মফস্বলে। এটি এখন একই সঙ্গে আধিপত্য ও আভিজাত্যের প্রতীক।

এর ফল কতদূর প্রসারিত তা ছোট্ট একটা উদাহরণ থেকেই বোঝা যাবে। খুব সাধারণ ঘরের মানুষও আজকাল তার সন্তানের বিয়ের কার্ড ইংরেজিতে লিখতে স্বস্তি ও আনন্দ বোধ করে। এমনকি যারা বাংলার শিক্ষক, তারাও। এই ইংরেজি-মনের হদিস নেয়াটা তাই জরুরি। তাহলে আমাদের যুদ্ধের ফল মেনে নিতে কষ্ট কম হবে কিংবা হতবিহ্বল হয়ে পড়ার সম্ভবনা থাকবে না অন্তত।

আমরা জানি, ক্লাইভের সাথে মুজিবের যুদ্ধে, এবারও পরাজয় সুনিশ্চিত। কারণ, বেনিয়া-মুৎসুদ্দিরা এখন আরও বেশি সতর্ক, তৎপর। পক্ষান্তরে আমাদের একাডেমি, বিদ্যায়তনসমূহ, তাদের কর্তাগণ অনেক বেশি বেখবর, বেহুঁশ। কাজেই, পরাজয়ের পর কী করণীয় তাই ভাবতে হবে এখন থেকে।

আমরা আসলে পরাজিতই হয়ে আছি। আধিপত্য আর আভিজাত্যের বিরুদ্ধে বাংলার মানে বাংলা ভাষার লড়াই-সংগ্রাম আজকের নয়। তার জন্ম-বিকাশ সমস্তই এই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। সংস্কৃতের বিরুদ্ধে, উর্দুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করে এখন তাকে দাঁড়াতে হচ্ছে ইংরেজির বিরুদ্ধে। সর্বশেষ এই প্রতিপক্ষ আদতে নতুন তো নয়। আগে একে আমরা শত্রুরূপেই মোকাবেলা করেছি। এখন তার বন্ধুত্বের মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

ইংরেজি ভাষার সুবিধা নিতে চাই আমরা সবাই। চাইব না কেন? কিন্তু দেখতে পাচ্ছি, এই সুবিধা বগল-দাবা করতে গিয়ে একটা বিশেষ শ্রেণির একটা প্রজন্মের গোটা হাতটাই কাটা পড়ছে।

পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কথা ভুলে গেলে চলবে না। হাত-কাটাদের দেখে ভিন্ন কিছু শিখবার সুযোগও তৈরি হচ্ছে। অনুমান করা যায়, তারা আসবে আরও প্রস্তুত হয়ে, বন্ধু ও প্রভুর তফাতটা বুঝে নিয়ে। কিন্তু কথা হলো, রাষ্ট্র তাদের পাশে দাঁড়াবে কি? নাকি আবার নতুন করে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের দিকে চলে যেতে হবে আমাদের?
Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (10) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিমুল সালাহ্উদ্দিন — ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৬ @ ৮:০৬ অপরাহ্ন

      একটা দুর্দান্ত লেখা। প্রায় সবগুলো যুক্তির সাথে একমত হতে পারি, এমন লেখা এখন অপ্রতুল। খুব ভালো লাগছে লেখাটি পড়ে, একধরনের আরাম অনুভব করছি। প্রশান্তি অনুভব করছি এই ভেবে যে এতো ভালো মানের প্রাবন্ধিক আমাদের কবিদের মধ্যে আছে।

      আলিঙ্গন প্রিয় গালিব ভাই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন saifullah mahmud dulal — ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৬ @ ৮:২০ অপরাহ্ন

      বাহ! মাস্টারি-মাস্টারি ভাবে ভালো বিশ্লেষণ!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সোহেল হাসান গালিব — ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৬ @ ১০:১৩ অপরাহ্ন

      অনেক ধন্যবাদ শিমুল।

      দুলাল ভাই, মাস্টার বইলা টিটকারি দিলে কিন্তু আর লিখব না।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন saifullah mahmud dulal — ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৬ @ ১১:১১ অপরাহ্ন

      ভাই গালিব,
      “বাহ (!)/ ভালো / বিশ্লেষণ/ !()/”
      ————————————–
      তারপরও ‘ টিটকারি’ মনে করলা?
      লিখবা। আরো বেশি করে লিখবা।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গৌতম চৌধুরী — ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৬ @ ১১:৩২ অপরাহ্ন

      সাড়ে ১৫কোটি মানুষের ভাষা রুশ রাষ্ট্রসংঘের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা। সব থেকে বেশি বলা ভাষাগুলির মধ্যে রুশের জায়গা ৮ম। ৭ম জায়গায় আছে সাড়ে ২০ কোটি মানুষের ভাষা বাংলা। রাষ্ট্রসংঘের দপ্তরে কবে যে জায়গা পাবে এই ভাষা! এই দিকটা নিয়েও কিছু কন। অপ্রমিতেই কন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এহসান হায়দার — ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৬ @ ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

      একটা দুর্দান্ত লেখা। খুব ভালো লাগছে লেখাটি পড়ে,
      একধরনের আরাম অনুভব করছি।
      ———————–প্রিয় গালিব ভাই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইকবাল হাসনু — ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৬ @ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন

      ভাষার প্রমিতরূপ রাষ্ট্রিক-সামাজিক প্রয়োজনে আপনিতেই তৈরি হয়, কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর চক্রান্তে নয়। প্রাবন্ধিক বা্ংলাদেশে প্রমিত বাংলার স্বরূপ কোনটি হবে সেই প্রশ্ন খুঁজতে গিয়ে অনর্থক বাগবিস্তার করেছেন। পশ্চিমবঙ্গে প্রচলিত প্রমিতরূপের সঙ্গে বিভাজন টানার অভিপ্রায়ে লেখক প্রচলিত প্রমিত বাংলাকে অভিজাত, আধিপত্যবাদী ইত্যাকার ছাপ দিয়ে নিজেকে পূর্ববাংলা তথা বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মুখের ভাষার হিতৈষী ভাবার মধ্যে আত্মশ্লাঘা অনুভব করলে করতে পারেন কিন্তু তাতে তাঁর চিন্তার অস্বচ্ছতা আড়ালে থাকে না। আমার আঞ্চলিক ভাষা চট্টগ্রামের, যা বাংলাভাষার মূল (গ্রিয়ার্সনের মতেও তাই)রূপের সঙ্গে বেশ দূরত্বে অবস্থান করে তার বাক্যরীতির কারণে (নঞর্থক বাক্যের কথা বিবেচনা করলে)। পশ্চিমবঙ্গে প্রচলিত প্রমিত বাংলা যদি আমাকে আকৃষ্ট করে তার ভাবপ্রকাশের ক্ষমতা, উচ্চারণ ও শ্রুতিমধুরতার জন্যে তাহলে আমাকেও কি অভিজাত ও আধিপত্যবাদী হওয়ার নিন্দা কুড়োতে হবে? হায়াৎ মামুদ যেমন বলেছেন, অনেকেই মনে করেন বাংলা তো আমার মাতৃভাষা ‘ওটাতো আমি পারিই, শেখার কী দরকার?’ প্রমিত ও আঞ্চলিক ভাষার কাল্পনিক দ্বন্দ্বের দোহাই টেনে ওই আয়াসটুকু না করা্রই যত্তোসব বালখিল্য অজুহাত এই প্রবন্ধে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Dr. Binoy Barman — ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৬ @ ২:৫৫ অপরাহ্ন

      সোহেল হাসান গালিবের ‘কারা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ গদ্যটি সুলিখিত, যুক্তির বিস্তারে পাকাপোক্ত, যদিও খানিকটা আবেগসিক্ত। দুই বাংলার ভাষাপ্রচল ভিন্নরকম, প্রধানত সামাজিক মাত্রায়। এই পার্থক্য তৈরি হয়েছে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কারণে, গোষ্ঠীমানসের দূরত্বের সূত্র ধরে। এটি ভাষার কনোটেশন, ভেতরের দিক এবং এটি এতোই সূক্ষ্ম যে তা প্রায়শ সাধারণের নজর এড়িয়ে যায়। কিন্তু আমার মতে, বাইরের আঙ্গিকে, ডিনোটেশনের দিক থেকে, দুই অঞ্চলের বাংলা ভাষার মধ্যে তেমন বড় পার্থক্য নেই। বাংলার বাক্যগঠন, শব্দগঠন, উচ্চারণ (বাগভঙ্গি বাদ দিয়ে) ও আভিধানিক-ব্যবহারিক অর্থ সর্বত্র মোটামুটি একই রকম। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ইংরেজি রূপের মধ্যে যেটুকু পার্থক্য, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাংলার মধ্যে পার্থক্যও তার বেশি নয়। ভৌগোলিক ভিন্নতার কারণে ভাষারূপ ভিন্ন হতে বাধ্য, যেহেতু বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অভিজ্ঞতার স্বরূপটি ভিন্ন। সময় পরিক্রমায় পার্থক্য-ফাটল ক্রমশ গভীর ও প্রশস্ত হতে থাকে – দুটি নিতান্ত উপাভাষা (dialect) রূপান্তরিত হতে পারে দুটি পরিপূর্ণ ভিন্ন ভাষায় (language)। গালিবের চোখে যে পার্থক্যটি ধরা পড়েছে, তা আরো স্পষ্ট হবে একশো-দুইশো-পাঁচশো-হাজার বছর পরে। তখন হয়তো দুই বাংলারূপের অবস্থা হবে হিন্দি ও উর্দুর মতো, পারস্পরিকভাবে বোধগম্য হয়েও আলাদা। এটি ভৌগোলিক-রাজনৈতিক ভিন্নানুশীলনের সুদূরপ্রসারী পরিণাম!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জহিরুল ইসলাম — ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৬ @ ৬:৫৯ অপরাহ্ন

      বেশ ভাল লেখা, তথ্যভিত্তিক, ধন্যবাদ লেখককে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সোহেল হাসান গালিব — ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৬ @ ৩:৩০ অপরাহ্ন

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানাই এহসান হায়দার, ইকবাল হাসনু, বিনয় বর্মণ ও জহিরুল ইসলামকে।

      ইকবাল হাসনু প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সদয় হতে পারেন নি আমার প্রতি। অধিকন্তু ভাষাবিজ্ঞানের আলোচনায় উনি আবেগকেই স্থান দিয়েছেন বলে মনে হয়েছে। আরও সূক্ষ্মতর তর্কবিতর্কে উপনীত হবার আগে আমি তাকে অনুরোধ করব আমার এই লেখাটি পড়ে দেখতে : http://bit.ly/1TF91vQ।

      বিনয়দার প্রতি অনুরোধ রইল।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com