গ্রন্থমেলা ২০১৬: নতুন মুখ নতুন বই

অলাত এহ্সান | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১০:২৯ অপরাহ্ন

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এখন বইয়ের কাঁচা সৌরভে উদ্বেল। বাংলা একাডেমির ষাট বছর পদার্পনের এই বছরে বইমেলার পরিসর বেড়েছে আগের চেয়ে। ফাগুনের এই মেলা ঘিরে বইপ্রেমি মানুষের সমাগম। নতুন ও পুরাতন বইয়ের উৎসব। বইমেলা প্রতিবছর হাজার হাজার নতুন বই নিয়ে আসে। সেই সঙ্গে নতুন লেখকদেরও পরিচয় করিয়ে দেয় এই মেলা। এবারও মেলায় প্রথম বই বের করেছেন এমন লেখক কম নন। এদের অধিকাংশই তরুণ। বিষয় ভাবনা ও সাহিত্য সাধনায় কেউ কেউ যথেষ্ট পরিপক্ক। তার কারণ দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও একাগ্রতা। এবারের নতুন কেতন উড়িয়ে প্রথম বই প্রকাশ করেছেন এমন বই ও সাহিত্যিক নিয়ে লিখছেন অলাত এহ্সান।

গুলতেকিন খান : আজও, কেউ হাঁটে অবিরাম
border=0এবারের বই মেলায় গুলতেকিন খানের প্রথম বই প্রকাশ একটি বড় খবর। বাংলা গল্প-উপন্যাসের পাঠকদের কাছে তিনি অপরিচিত নন। বাঙালি মুসলমান লেখকদের মধ্যে স্বনামধন্য লেখক প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁয়ের নাতনী তিনি। তাকেও ছাপিয়ে তার আরেক পরিচয় তিনি প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমদের সাবেক স্ত্রী। কিন্তু তিনি নিজেও যে একজন সাহিত্যিক তা অনেকেরই জানা ছিল না। স্কুলবেলা থেকে ছড়া চর্চা ও পত্রপত্রিকায় প্রকাশ তা প্রকাশ করলেও কবিতায় তার সৃষ্টিশীল হাতের পরিচয় ঘটেছে এই প্রথম। তাম্রলিপি থেকে প্রকাশ হয়েছে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ আজও, কেউ হাঁটে অবিরাম। প্রথম বইয়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বই প্রকাশের অনুভূতি খুবই ভাল।’ তিনি স্মরণ করেন, ‘সেই কিশোরী বয়স থেকেই ছড়া লিখতাম। ষষ্ঠ, সপ্তম শ্রেণিতে থাকাকালেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ দাশ প্রায় মুখস্থ হয়ে যায়। আসলে দাদার উৎসাহেই আরো পড়া হত। পত্রিকায় ছড়া প্রকাশ হওয়ার পর দাদাকে দেখালে আমার মাথায় হাত রেখে আর্শিবাদ করেন। তাঁর অনুপ্রেরণায়ই এগিয়ে যেতে থাকি। কিন্তু বিয়ের পর আর কবিতা চর্চা হয়ে ওঠেনি। কেউ আমাকে উৎসাহ দেয় নি। বিয়ের আগে দাদা ছিলেন, কিন্তু বিয়ের পরে কেউ না। দেখা যেত আমার সন্তানের বাবা রাত জেগে লিখছেন, আর আমি একা একা পড়ছি। তারপর প্রবাসে থাকায় তাতেও ছেদ পড়ে। বিদেশ থেকে ফিরে এসে স্কুল শিক্ষকতায় যোগ দেয়ার পর সহকর্মীদের মধ্যে আমার কবিতা লেখার সংক্রমণ ছড়াতে থাকে। শ্রদ্ধেয় সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যার উৎসাহ দেন লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার জন্য। তখন ফেসবুকে কবিতা লিখতাম। তারা ভীষণ উৎসাহ দিতেন। উৎসাহ দেন বই করার জন্য। কন্যা-পুত্ররা ধরে এবার বই মেলাতেই বই করার জন্য। মূলত ফেসবুকে লেখা সেই কবিতাগুলোর থেকে যাচাই বছাই করে এবার বই করলাম। বই প্রকাশ করে খুব ভাল লাগছে। এখন প্রিয় মানুষরা পড়তে পারবে। দাদাকে বইটা উৎসর্গ করতে পেরে ভাল লাগছে। তিনিই ছিলেন আমার সকল প্রেরণার উৎস। এখন পাঠকদের কাছ থেকে কেমন সারা পাই, তার ওপর নির্ভর করবে আমার আগামীতে বই করার ইচ্ছা। তবে লেখালিখি তো চলবেই।’

ইশরাত তানিয়া : নেমেছ ইচ্ছে নিরিবিলি
border=0মানবিক সম্পর্ক, নৈরাশ্য, স্বপ্ন, প্রকৃতি, প্রেম, অতীন্দ্রিয়তা বিষয়ে তাঁর উপলব্ধি এবং ভাবনা কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে ইশরাত তানিয়ার সাহিত্যকর্ম। তিনি কবি ও গল্পকার। নেমেছ ইচ্ছে নিরিবিলি তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ, এসেছে এবারের বই মেলায়। বিভিন্ন ফরম্যাটে লেখার চেষ্টা করেছেন কবি। দু’লাইনের কবিতা আছে, আছে গদ্য কবিতা। প্রবাসে বসে লেখার কিছু কবিতায় সেখানকার পারিপার্শ্বিকতা এবং উপলব্ধি প্রভাবিত করেছে। নিরিবিলি, নৈঃশব্দ তার কবিতার স্বতন্ত্র দিক। ভালোবাসা ও বোধের বিশুদ্ধ বিস্ময় থেকে কবিতাগুলো জন্মেছে। তিনি বলেন, ‘শুধু আলোয় কবিতা হয় কি? কবিতায় একটু আঁধারও লাগে। আবছায়ার সামান্য আড়াল। দু’টো ক্লাসের অফ টাইমে, বিকেলে বাড়ি ফেরার পথে, প্রিয় চোখের দিকে তাকিয়ে, বসন্তে সাবার্বের বিশাল নির্জন পার্কের বেঞ্চিতে, সাদামাটা কোনো কফি শপে কিংবা তীব্র শীতে ফায়ার প্লেসের কাঠপোড়া গন্ধে কবিতাগুলো এসেছিল। ফিরিয়ে দেইনি। নেমেছ ইচ্ছে নিরিবিলির কবিতা অন্যমনস্ক। পথে হঠাৎ চমকে ওঠে। পরক্ষণে ভালোবাসার কুয়াশাভাপে আচ্ছন্ন। বোধের ধোঁয়াশা বৃষ্টি আসে সেখানে। গোধূলির হাত ধরে। কিংবা বাতাসের বাবুইদুপুরে। আর ইচ্ছেরা? নেমে আসে ঝরা পাতার মতো। এসব নিয়েই আমার কবিতার রাজ্য।’ কবির নিজের করা প্রচ্ছদে বইটি প্রকাশ করেছে চৈতন্য প্রকাশনী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চতর শিক্ষা শেষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ইশরাত তানিয়া। বর্তমানে পিএইচডি করছেন। বিভিন্ন লিটল ম্যাগ এবং ওয়েবজিনে প্রকাশিত গল্পগুলোর সংকলনে আগামীতে বই করার ইচ্ছে আছে তার।

বিপাশা চক্রবর্তী : অন্য আলোয় ভিন্ন চোখে
border=0‘একজন লেখক হিসেবে নিজের বই সম্পর্কে বলা বেশ কঠিনই, তারপর তা যদি হয় প্রথম বই।’ বললেন বিজ্ঞানলেখক ও অনুবাদক বিপাশা চক্রবর্তী। ২০০৬ সাল থেকে বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক ও বিজ্ঞান পত্রিকায় প্রযুক্তির সাথে সামাজিক মিথস্ক্রিয়া বিষয়ে লিখে আসছেন নিয়মিত। ২০১৫ সালে দৈনিক পত্রিকাসহ শীর্ষস্থানীয় অনলাইন পোর্টালে প্রকাশ হয় অনেক লেখা। সেই প্রবন্ধগুলোই প্রয়োজনে খানিক পরিমার্জন, পরিবর্ধন করে সাজিয়েছেন পাণ্ডুলিপি আকারে। এবার বই মেলায় শিখা প্রকাশনী থেকে প্রকাশ হয়েছে তার প্রথম বই অন্য আলোয় ভিন্ন চোখে। বইয়ের প্রতিটি লেখাই বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট। নেই তাত্ত্বিক জটিলতা।
নতুন বইয়ের অনুভূতি নিয়ে বলেন, ‘একজন সাধারণ বিজ্ঞানমনস্ক পাঠক ও ব্যক্তি মানুষ হয়েই লেখাগুলো লিখেছি। আমাদের সাধারণ দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে যেমন বিজ্ঞানের ছোঁয়া থাকে তেমনি আমিও যেকোন বিষয় নিয়েই লিখতে গিয়ে খুঁজে পাই বিজ্ঞান সংশ্লিষ্টতার উপাদান। বিজ্ঞানভিত্তিক সভ্যতায় বাস করে বিজ্ঞান থেকে দূরে থাকা অসম্ভব।’ তার মতে, ‘বিজ্ঞান কেবল গবেষণাগার, বিজ্ঞানী, তত্ত্ব বা নতুন নতুন যন্ত্র আবিষ্কার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞান আমার মতো সাধারণ মানুষের জন্যও। আর সাধারণ মানুষ যদি বিজ্ঞান বুঝে জীবন যাপন করে তাহলে তার নিজের এবং সমাজের চিত্রও ইতিবাচকরূপে পাল্টে যায়।’
এছাড়াও এই বই মেলাতেই ‘বাংলাপ্রকাশ’ নিয়ে আসছে বিপাশা চক্রবর্তীর আরেকটি বই শিশুতোষ জীবনীগ্রন্থ ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল। ফলে বিপাশা চক্রবর্তী আনন্দ সম্ভবত দ্বিগুন। তবে বিপাশা জানিয়েছেন, আনন্দটা তখনই বেশি পাব, যখন দেখব মানুষ লেখাগুলোকে নিজের মাঝে অনুভব করছেন।’

ফারহান হাবিব : প্রস্তুতি পর্বের কবিতা
border=0মাঝরাতে ফাঁকা পথ জাগিয়ে তোলার মতো গিটারে ঘা দেন ফারহান হাবিব। চমৎকার গিটার বাজান। একটা ব্যান্ড দল করেন। কবিতা তার গিটারেরই অনুষঙ্গ, তারে তারে বাজে। কবিতা ছাড়াও ছোট গল্প লিখেন। ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিজেকে পাঠক হিসেবেই মনে করেন ফারহান। কবিতা লিখছেন ২০১৩ থেকে। গত বছরের শেষ দিকে বই করার সিদ্ধান্ত আসে মাথা। ‘যেহেতু বইয়ের নাম প্রস্তুতি পর্বের কবিতা’ তাই মনে হচ্ছে ঠিক সময়ে বের করেছি। গত ক’বছরে প্রেম আর রাজনীতির যে উত্থান পতন তা একটি থেকে অন্যটা আলাদা কিছু নয় আমার কাছে। সে সব বিষয় নিয়েই লিখছি। বিশেষ করে রাজনীতি আমাকে বেশি ভাবায়’–বলেন ফারহান হাবিব।
এ বছর মেলায় এসেছে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রস্তুতি পর্বের কবিতা। রিফাত মল্লিকের প্রচ্ছদে বইটি প্রকাশ করেছে ‘মিস্ত্রী বাড়ি প্রকাশনী’। বইটা পাওয়া যাচ্ছে মানুষজন প্রকাশনীর স্টলে। দাম ১৫০ টাকা। আগামী বইমেলায় ছোটগল্প নয়তো কবিতার বই প্রকাশের ইচ্ছে আছে তার। বর্তমানে তিনি সাংবাদিকতার উপর স্নাতকোত্তর পড়ছেন, পাশাপাশি একটি জাতীয় দৈনিকে কর্মরত। তিনি বলেন, ‘একদম সত্যি করে প্রথম বই প্রকাশ নিয়ে তেমন অনুভূতি নেই। আমি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। আর আমি মনে করি কবিতা হয়ে গেছে অনেক আগেই। এখন স্লোগানগুলো কবিতায় আসা উচিৎ অথবা কবিতাগুলো স্লোগান হোক। আগে তো ভাত কাপড়, তারপর শিল্প, অনেকটা এরকম।’

হাবিবাহ নাসরিন : কবিতা আমার মেয়ে
border=0ভালোবাসা-বিরহ-মায়া-স্নেহ-দেশপ্রমকে উপজীব্য করে হাবীবাহ্ নাসরীনের কবিতা। বাস্তবতা ও সময়কে স্বীকার করেই এই অন্বেষা। এবারের একুশে বইমেলায় প্রকাশ হয়েছে তরুণ কবি ও সাংবাদিক হাবীবাহ্ নাসরীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কবিতা আমার মেয়ে। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে দেশ পাবলিকেশন্স। প্রচ্ছদ চারু পিন্টু। মোট ৬০টি কবিতা স্থান পেয়েছে এতে। প্রতিটি কবিতাতেই ছন্দের ঐক্যতান পাঠকের মনকে আন্দোলিত করবে। চাইলে যাপিত সময়ের স্বচ্ছচিত্রও খুঁজে পাওয়া যায় তার কবিতায়। হাবিবাহ্ নাসরীন বলেন, “কবিতাকে ভালোবেসে নিজেকে তার জন্মদাত্রী পরিচয় দিতেও কুণ্ঠা নেই। এক মলাটে ছন্দের নানা তল্লাট ঘুরে আসতেই ‘কবিতা আমার মেয়ে’।” কবির মনে ভেসে বেড়ানো কথা কিংবা উপলব্ধিগত বিষয়সমূহকে ছন্দের কলকব্জা দিয়ে এঁটেছেন আপন দক্ষতায়।

সোনিকা ইসলাম : হিরণ্যগর্ভ কানীনী
border=0সোনিকা ইসলাম মূলত গল্প ও কবিতা লিখেন। এছাড়া অনুবাদ, সাহিত্য সমালোচনাও লিখছেন। শুরু সেই শৈশব থেকেই, প্রায় ২০ বছরের যাত্রা। প্রকাশের ইস্পিত তৃপ্তির আগে প্রকাশ না করায় এবারের বইমেলায় আসছে লেখকের প্রথম বই হিরণ্যগর্ভ কানীনী। বইটি প্রকাশ করেছে মুক্তগদ্য প্রকাশনী। প্রচ্ছদ নির্ঝর নৈঃশব্দ্য, মূল্য ১১২ টাকা। পেপারব্যাক ইলাস্ট্রেটেড বইটিতে গল্প আছে ৩১টি। পাওয়া যাবে লিটিলম্যাগ কর্নারে প্রকাশ ও কবিতার রাজপথের টেবিলে।
লেখক এখানে ব্যক্তিগত স্মৃতি আর অনুভূতিকে বলার চেষ্টা করেছেন প্রথাগত কাঠামোর বাইরে গিয়ে। বই প্রকাশের অনুভূতি নিয়ে বলেন, ‘এই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মাকে খুব মনে পড়ছে।’ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা শেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। কাজ করছেন ফেমিনিস্ট এবং কুইয়ার থিউরি নিয়ে। সাহিত্যের সব বিভাগেই কমবেশি আগ্রহ আছে তার। একটা ফেমিনিস্ট ছোটোকাগজ করার ইচ্ছা আছে বলে জানালেন।

জিয়াবুল ইবন : কোনো বাইপাস নাই
border=0অনেকের মতো স্কুলের দেয়াল পত্রিকা দিয়ে শুরু জিয়াবুল ইবনের কাব্যচর্চা। এরপর যুক্ত হন স্থানীয় সাহিত্য সংগঠন- সাহিত্য বিকাশ আন্দোলনের সাথে। এবার বইমেলায় এসেছে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনো বাইপাস নাই। বইটি প্রকাশ করেছে বেহুলা বাংলা প্রকাশ। অ্যন্তনি তাপিজ-এর চিত্রকর্ম অবলম্বনে প্রচ্ছদ করেছে রাজীব দত্ত। ব্যক্তি ও দেশের ওপর আন্তর্জাতিক ও পারিপার্শিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সাথে নন্দনবোধের আন্তঃসম্পর্কই ঘুরেফিরে এসেছে তার কবিতায়। ‘বেশ কিছুদিন সহ-কলমযোদ্ধাদের অনুরোধের পর মনে করলাম বই বের করা দরকার। প্রস্তুতি এবং পরিচিতির তো কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়’, বলেন জিয়াবুল ইবন। কবিতা ও শিল্প আন্দোলন সম্পর্কিত প্রবন্ধ নিয়ে কাজ করার আগ্রহ আছে তার। তবে এই বই প্রকাশের অনুভূতি পাঠকের ওপরই ন্যাস্ত রেখেছেন, ‘পাঠকের অনুভূতির অপেক্ষায় আছি।’ মৌলিক বইয়ের পাশাপাশি জিয়াবুল যৌথ সম্পাদনায় ছোটকাগজ ‘ঠিকানা’র শেষ তিনটি সংখ্যা প্রকাশ করেছেন। নারায়নগঞ্জে নিয়মিত সাহিত্যের পাঠচক্র পরিচালনায় যুক্ত। তিনি বলেন, ‘সাহিত্য তো জীবনব্যাপী চর্চার বিষয়। চালিয়ে যাবো।’

আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির : অন্য গাঙের গান, সমুদ্রসমান
border=0দৈনিক সংবাদের সাহিত্য পাতায় ছোটগল্প ও কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদিরের। সেটা ২০১০ সালের কথা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা শেষ করে তিনি এখন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালেই বিভিন্ন লিটল ম্যাগ ও দৈনিকের পাতায় নিয়মিত কবিতা লিখতেন তিনি। বর্তমানে তিনি ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপনা করছেন। ধ্রুবপদ থেকে বেরিয়েছে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ অন্য গাঙের গান, সমুদ্রসমান। প্রচ্ছদ এঁকেছেন তরুণ শিল্পী রাজীব দত্ত। কবি লিখেন, ‘কবিতার মতোন নিখাঁদ জলজ বন্ধু আমার দেবতা হয়ে যায়।/ হায়, একবার জোছনা নিভে গেলে, বানের জলের ঢলে…/ আর একবার শিমুল রঙের ফুলে,/ পাখির মতোন উদাস চোখের বন্ধু আমার আকাশ হয়ে যায়।’

রহমান ফাহমিদা : নানা রঙের কষ্ট
border=0প্রায় দুই দশকের সাহিত্য চর্চার সাথে যুক্ত রহমান ফাহমিদা। কিন্তু বই প্রকাশ করা হয়ে ওঠেনি। ফেসবুকে পোস্ট করা কবিতা পাঠক কর্তৃক যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে তিনি তার সাহিত্যচর্চায় সচেষ্ট হয়। পরবর্তীতে দৈনিক আজাদী পত্রিকায় কিছু ফিচার ছাপার মধ্য দিয়ে কিছু পাঠক পান তিনি। বাড়তে থাকে তার বই-এর খোঁজ। তখনই সিদ্ধান্ত নিলেন এবার তাকে বই প্রকাশ করতে হয়। কবি বলেন, ‘আমার (বই প্রকাশের) জন্য তো সময় ব্যস্ত যথেষ্ট। পড়ালেখা, চাকরি, সংসার ইত্যাদি জন্যই এতটা সময় কখন যে চলে গেল বুঝতে পারলাম না!’ এবছর বই মেলায় তার কবিতার বই নানা রঙের কষ্ট বেরিয়েছে প্রতিভা প্রকাশ থেকে। প্রচ্ছদ শিল্পী রাজিব রায়। মূল্য ১৩৫ টাকা।
এই বইতে মূল বিষয়বস্তু ‘কষ্ট’। এখানে ছোটবেলার হারিয়ে যাওয়ার দিনগুলো থেকে শুরু করে ক্ষোভ, ভালোবাসা, আপনজনের কাছ থেকে আঘাত পাওয়া এবং সমসাময়িক বিষয়বস্তুসহ পাওয়া না-পাওয়ার কষ্টগুলো ফুটে উঠেছে। আসলে আপন কষ্টের আড়ালে কবি অন্যের কষ্টকে কোলে তুলে নিয়েছেন। প্রথম বই প্রকাশের অনুভূতি নিয়ে বলেন, ‘অনুভূতি বলতে গেলে অসাধারণ! ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’ কবিতার বাইরে বিভিন্ন ফিচার ও গল্প লেখায় আগ্রহ আছে তার। ‘পরবর্তীতে এমন কিছু লিখতে চাই যা কখনও তেমনভাবে প্রকাশ পায়নি!’ বলেন ফাহমিদা। সংহতি সাহিত্য পরিষদ, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ শিশু সাহিত্যিক ফোরামের সঙ্গে যুক্ত তিনি।

হাসান মাসুম : যুবকের খেরোখাতা যুবতীকে
border=0দীর্ঘ দিনের কবিতা চর্চার ফসল হাসান মাসুমের কবিতার বই যুবকের খেরোখাতা যুবতীকে। মানব-মানবীর প্রেম ও তৎসংলগ্ন উপসমাচারকেই উপজীব্য করে এই কবিতা। তার কবিতা গল্প আর অভিমানের মিশ্রণে তৈরি। ব্যক্তিগত কথন। কিন্তু সেই ব্যক্তিগত কথনই হয়ে উঠেছে সবারই কথা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্রের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ার প্রেম ও খুনসুটি। হাসান মাসুম নিজেও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের এক ছাত্র ছিলেন। প্রথম কবিতার বই হলেও তার কবিতা অনেক আগেই সায়ম্বর হয়েছে।

মাহতাব হোসেন : তনিমার সুইসাইড নোট
border=0শান্তার সাথে মধ্যরাতের ট্রেনে আকস্মিক পরিচয় থেকে সখ্য তৈরি হয়ে যাওয়া। কত গল্প, আবেগ উচ্ছ্বাস। চিরকুটে লিখে দেয়া ঠিকানা হারিয়ে যাওয়ার পরে শান্তাকে কত বছর পরে খুঁজে পাওয়া। কিন্তু ততদিনে স্বপ্নের ভিত্তিগুলো দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতেও ভেঙে পড়া… তিন বছরের শ্রাবণীকে ঘিরে গড়ে ওঠা প্রেম কিংবা হিলি সীমান্তের যুগ যুগের সংস্কৃতি, বিএসএফ-বিজিবির মধ্যেখানে জীবন টেনে নিয়ে যাওয়া মানুষের ‘ডেথ গেইম’। অথবা তনিমা নামের যে মেয়েটির কোনো অভাব ছিল না, বাড়ি-গাড়ি, ড্রাইভার, দারোয়ান এমনকী নিজেও মেডিকেল কলেজের ছাত্রী। তারপরেও জীবনের বাঁকে বাঁকে ধাক্কা খেতে খেতে হুট করে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা। এমনই ১৪টি গল্প নিয়ে বইমেলায় প্রকাশিত হচ্ছে মাহতাব হোসেনের তনিমার সুইসাইড নোট। অনুপ্রাণন প্রকাশন থেকে প্রকাশিত এ বইয়ের প্রচ্ছদ এঁকেছেন তৌহিন হাসান।
মাহতাব হোসেন দেশের দৈনিক কালের কণ্ঠে সহসম্পাদক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। প্রথম বইপ্রকাশের অনুভূতি নিয়ে মাহতাব বলেন, ‘লেখালেখিটা আমি শুধু শখের বশেই করবো এমনটা নয়। বাংলা সাহিত্যে দীর্ঘ পথ চলা কিংবা পাড়ি দেয়ার ইচ্ছা রয়েছে। এছাড়াও অধিকাংশ প্রকাশনা বইমেলা কেন্দ্রিক হলেও আমার ইচ্ছে রয়েছে এই নিয়ম থেকে বেরিয়ে আসার। আমি নিয়মিত লিখবো এবং বছরের যেকোনো সময় বই প্রকাশের ইচ্ছে রয়েছে। ’

শঙ্খচূড় ইমাম : দ্বৈরথ ও কয়েকটি বল্লম
border=0আপাত সাধারণ দৃশ্যকল্প দিয়ে শুরু হলেও কবিতার শেষ পঙক্তির অমোঘ মোচরে কবিতার ঘোর পেয়ে বসে পাঠকে। চিন্তা ও কাব্যে অনন্য সমন্বয় তার কবিতা। শঙ্খচূড় তেমনই লিখেন। ২০০৫ সাল থেকে লেখালেখি শুরু। মানুষজন প্রকাশনী থেকে বের হয়েছে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ । গত ৪ বছরের লেখা দিয়ে সাজানো বইটির নান্দনিক প্রচ্ছদ করেছেন চারু পিন্টু। বইটির দাম ধরা হয়েছে ১২০ টাকা। কবিতাগুলোতে তিনি মূলত মনুষ্যসৃষ্ট সামাজিক জ্বর তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। একটা মানুষ এসব জ্বরের মধ্য থেকে নিজের সঙ্গে নিজে যুদ্ধ করে কিভাবে বেঁচে থাকেন তার একটা বার্তা দিয়েছেন। শঙ্খচূড় বলেন, ‘এটি আমার প্রথম কাব্যসন্তান। একজন মা, প্রসব বেদনার পর সন্তান জন্ম দিয়ে যে স্বস্তিটুকু পেয়ে থাকেন, যে সুখটুকু তার চোখে-মুখে লেপ্টে থাকে, আমি ঠিক এর চেয়েও অধিক অনুভব করছি!’ আপতত কবিতাই লিখছেন। মূলত কবিতাই লিখতে চান। এছাড়া সম্পাদনা করছেন ‘কৌণিক’ নামক কবিতাবিষয়ক কাগজ। একটি দৈনিকে সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন কবি।

সাবিনা আনোয়ার : নিভৃত স্বপ্ন এবং…
border=0কবিতার সঙ্গেই সাবিনা আনোয়ারের সখ্য। ইতিমধ্যেই বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন কবিতাপাড়ায়। এবারের একুশে বইমেলায় প্রকাশ হয়েছে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নিভৃত স্বপ্ন এবং…’। ৬৪টি কবিতা দিয়ে সাজানো বইটি প্রকাশ করছে চৈতন্য প্রকাশনী। খ্যাতিমান শিল্পী ধ্রুব এষের করা প্রচ্ছদে চার ফর্মার বইটির মূল্য ১৫০ টাকা। যাপিত জীবন বাস্তবতায় সাহিত্য চর্চা তার। কবিতাকে ভালবেসেই তার সাহিত্য যাত্রা। ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে সমাজ-সংস্কৃতির মিথস্ত্রিয়া ঘটেছে তান কাব্যে।
বইটির ভূমিকা লিখেছেন সেন্টার ফর হায়ার অ্যাডুকেশন এন্ড রিসার্চ, বাংলাদেশের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শফিউদ্দিন আহমদ। পাঠক মহলে বইটি সমাদৃত হবে বলে আশা করেন সাবিনা আনোয়ার।

রেজাউল করিম : শূন্যতার মাঝে পূর্ণতা খুঁজি
border=0বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত রেজাউল করিমের কবিতা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে আগেই। অত্যন্ত সহজবোধ্য ও সাবলীল ভাষায় নিজের অনুভূতিগুলো কবিতার ভাষায় লেখেন তিনি। পেশায় একজন সাংবাদিক। এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্তে তার বিচরণ। কাব্যচর্চা তার সঙ্গ ধরেই এগিয়েছে। তবু নিজেকে সংবাদকর্মী হিসেবেই পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। শব্দশৈলী প্রকাশনী থেকে বের হয়েছে তার প্রথক কাব্যগ্রন্থ শূন্যতার মাঝে পূর্ণতা খুঁজি
ব্যক্তিগত অনুভূতির পসরাকে কবিতা করে তিনি ২০১৩ সাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে আসছেন। প্রত্যহিক অনুভূতি থেকে লেখা ৮৫টি কবিতাকে তিনি মলাট বন্দি করেছেন। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন নাছিম আহাম্মেদ। ৫ ফর্মার এই বইটির দাম রাখা হয়েছে ১৫০ টাকা। তার কবিতায় উঠে এসেছে প্রকৃতির শহর রাঙামাটি জেলার নৈসর্গিক দৃশ্যকল্প।

রাসেল রায়হান : ফাইভ মিনিটস অব এ মাইম আর্টিস্ট
border=0অন্তর্মুখী ধরনের মানুষগুলো খুব বেশি খোলামেলা হতে পারে না। অথচ তিনি বলতে চান, বলতে চেয়েও না পারার ফলে স্বাভাবিকভাবেই ইশারার আশ্রয় নিতে হয়ে তাকে। ফলে তিনি পরিণত হন মাইম আর্টিস্টে। ইতোপূর্বে যৌথ কবিতার বইয়ে অংশগ্রহণ করলেও এটা রাসেল রায়হানের প্রথম একক বই ফাইভ মিনিটস অব এ মাইম আর্টিস্ট। গত দুই বছরের মধ্যে লেখা কবিতা নিয়েই এই বইতে কবিতা আছে ৩৭টি। কবিতায় লেখক কোনো না কোনোভাবে, কোনো না কোনো সময়, কাউকে না কাউকে বলতে চেয়েছেন।

দীনা আফরোজ : অনামিকা তুলেছি হেমন্ত আকাশে
border=0 প্রায় এক দশক ধরে কবিতাচর্চা করছেন। শুরুটা সেই উচ্চমাধ্যমিকে থাকা কালেই। এবার প্রকাশ হচ্ছে তার প্রথম গ্রন্থ ‘কবি প্রকাশনী’ থেকে। অনামিকা তুলেছি হেমন্ত আকাশে বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন তৌহিন হাসান, মূল্য ১৩০ টাকা। কবির ভাষায়,‘আমি যেন অতল সমুদ্রের মাঝে এক মুক্তহীন ঝিনুক। মাঝে মাঝে মনে হয়, এই সুখটুকু বা কম কী। আর এই ভাবনাই আমার কবিতা। বিরহ আমার প্রাণ, কবিতার সাথে বিরহের সম্পর্কটা নিবিড়।’ কবিতার পাশাপাশি ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও উপন্যাস লিখছেন তিনি। নতুন বই প্রকাশের অনুভূতি জানিয়ে বলেন, ‘অনেকেই বলে থাকেন কবিতা নিজের সন্তানের মতো। আমি তা মনে করি না। কবিতা আমার হৃদয়স্থিত চিন্তার ফসল। সুতরাং কবিতা সন্তানের চেয়েও বেশি কিছু। প্রথম বই প্রকাশে আমি বেশ শিহরিত। লেখক-পাঠক জানতে চাইছে, কবি আপনার বই কোন স্টলে। খুব ভালো লাগছে। আসলে এই অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়।’ সালাম মাহমুদ সম্পাদিত ‘পরাগ’ সাহিত্য পত্রিকার সহকারি সম্পাদক হিসেবে পরাগের কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি। পেশাজীবনে সরকারি চাকরিজীবী।

বলরাম রায় দ্বীপ : সব কথা বলা নিষেধ
border=0গত দুই বছরে আপাত নিস্তরঙ্গ সময়েও রাষ্টে অনেক ঘটনাই ঘটেছে। এই সময়পর্বে লেখা কবিতাগুলোয় তাই ধরা পড়েছে দেশ এবং বহির্বিশ্বের রাজনৈতিক টানাপোড়েন। এক রঙ্গা এক ঘুড়ি থেকে এসেছে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ সব কথা বলা নিষেধ। কবিতায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে রাজনীতির উত্থান-পতন এবং যুদ্ধের ভয়াবহতার উপর। এছাড়াও আছে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অবক্ষয়ের কিছু কবিতা। প্রেমের কবিতাও থাকছে। বইটি পাওয়া যাবে লিটল ম্যাগ চত্বরের ‘মেঘফুল’ স্টলে । প্রচ্ছদ করেছেন নবী হোসেন। মূল্য ৬০ টাকা। বলরাম বলেন, ‘বই প্রকাশের অনুভূতি এখনো মিশ্রই মনে হচ্ছে । কখনো মনে হচ্ছে বই প্রকাশে আরোও কিছুদিন সময় দেয়া উচিৎ ছিলো, কখনো মনে হচ্ছে না এটাই উপযুক্ত সময়।’ ইতোমধ্যে গুছিয়েছেন দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থের পাণ্ডুলিপি ‘এখন প্রেমের সময় নয়’। ‘এই বইও রাজনৈতিক এবং সামাজিক অবক্ষয়ের দিকগুলো বেশি আলোকপাত করে লেখা’ জানান বলরাম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে শেষ বর্ষের ছাত্র বলরাম সাহিত্যের ত্রৈমাসিক কাগজ ‘শব্দীয়’র সহ-সম্পাদক এবং ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ত। ভবিষ্যতে লেখালেখি অব্যাহত রাখার ইচ্ছে তার।

খালিদ মারুফ: ইসরাফিলের প্রস্থান
border=0ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালেই লেখালেখিতে পরিচিতি এলেও প্রথম গল্পগ্রন্থ ইসরাফিলের প্রস্থান এনেছেন এবারের বইমেলায়। নড়াইল-গোপালগঞ্জে শৈশব কৈশোর পেরিয়ে আসা খালিদের গল্পে উঠে এসেছে এই জনপদের মানুষের জীবনযুদ্ধের প্রতিচ্ছবি। মুক্তিযোদ্ধা বাবার মুখে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের বর্ণনা, স্বাধীনতাবিরোধীদের সমাজে মিশে গিয়ে প্রভাব-প্রতিপত্তি নিয়ে চলা প্রত্যক্ষ এবং নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ছাপ তার গল্পে এনেছে ভিন্ন মাত্রা। দৃশ্যমান বাস্তবতার বয়ানে তিনি তুলে এনেছেন ভিতরকার কথা।

বইমেলার লিটল ম্যাগ কর্নারের ‘দাঁড়কাক’-এর টেবিলে পাওয়া যাবে ইসরাফিলের প্রস্থান। ‘জননী ও পুত্রেরা’, ‘ঘর্মাক্ত সন্ধ্যায় তুমি’, ‘ইসরাফিলের প্রস্থান’, ‘তিব্বত ৫৭০’ এবং ‘সিঁড়ির ধাঁধায় জামালুদ্দিন’ শিরোনামে পাঁচটি গল্প রয়েছে বইটিতে।

তার আখ্যানগুলোতে বর্তমান বিশ্বের বিশাল অংশজুড়ে ক্রমরূপান্তরমান অধিবাস্তবের সমান্তরালে এই প্রান্তবর্তী জনসীমায় সংগ্রামশীল মানুষের প্রাত্যহিক বাস্তবের অনুপূঙ্খ উঠে এসেছে। এ এক অকল্পনীয় বাস্তবতা, যার অনেকটাই অবর্ণনীয়। কিন্তু সেগুলোই এদের জীবনে মুখ্য। এগুলোর রচয়িতা তীক্ষ্নভাবে এসব ঘটনা অবলোকন বা পর্যবেক্ষণ করেছেন। এরপর বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক অভিঘাত ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিসহ ঘটনাগুলো বর্ণনা করে গেছেন। সেই বর্ণনার মধ্যে জীবনের প্রতিটি অনুষঙ্গ একেকটা বহুকৌণিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বোঝা যায়, তিনি মানুষের জীবনের দিকে ঝুঁকেছিলেন তীব্র আসক্তি নিয়ে। আর তা থেকে তিনি যা পেয়েছিলেন, তা বলার সময় তিনি ছিলেন ততোধিক নিরাসক্ত, অনাক্রান্ত। এই আপাতনির্মোহতার কারণেই এগুলো হয়ে উঠেছে সেই বাস্তবের সাহসিকতাপূর্ণ সাক্ষ্য। তবে তার সুতীক্ষ্ণ সংবেদনও দুর্লক্ষ্য নয়। কারণ, দৃশ্যতই এখানকার অধিবাসীরা এক ধরনের বিবশতা নিয়েই যাপন করে চলে তাদের জীবন। আর তিনি প্রবলভাবে অনুবর্তী হন সেই জীবনেরই।

অনিন্দ্য আরিফ : শাদা অথবা শূন্য
border=0সমাজ, সংস্কৃতি, রাষ্ট্র ও রাজনীতিকে সাবলীলভাবে বহন করেও অনিন্দ্য আরিফের গল্পগুলো নান্দনিক। গত দশবছরে জমা হওয়া পাঠকনন্দিত ১০টি গল্প নিয়ে এবারের বই। ইতোপূর্বে বই প্রকাশ না করলেও তরুণ সাহিত্যিকমহলে পরিচিতি আছে গল্পকার অনিন্দ্য আরিফের। এই মেলায় প্রকাশ হচ্ছে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ শাদা অথবা শূন্য। প্রকাশক অনুপ্রাণন প্রকাশন। প্রচ্ছদ কাব্য কারিম।
শাদা অথবা শূন্যের ভেতর থেকে প্লট ও ভাষাবৈচিত্রের মাধ্যমে আলাদা বৈশিষ্ট্য দেয়ার চেষ্টা করেছেন লেখক। তবে নানা প্রকার সত্যের ভেতরে থাকা পাঠকগণ গল্প ও গল্পে ব্যবহৃত শব্দ-বাক্য বিন্যাস নিয়ে নিজেদের রুচি-অরুচি ধরে রাখবেন। এটা পাঠকের নিজস্ব স্বাধীনতা। কিশোরগঞ্জে জন্ম নেয়া এই লেখক এখন সংবাদ মাধ্যমে যুক্ত।

মামুন মোয়াজ্জেম : কালো জল অন্তহীন
border=0বন্ধু ও তরুণ কবি মহলে মামুন মোয়াজ্জেমের কবিতা আগে থেকেই পরিচিত। তবে বই করা হয়ে ওঠেনি। তারও কারণ কবিতার ইস্পিত মান অর্জন। এবার সাহিত্য পত্রিকা ‘মেঘ’-এর প্রকাশনা থেকে বেরিয়েছে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ কালো জল অন্তহীন। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন তৌহিন হাসান। পাওয়া যাবে লিটল ম্যাগ চত্বরের মেঘ-এর স্টলে।

সপ্তবর্না পাল সোমা : দেখ মর্তবাসিনী চোখ
border=0মেলার দ্বিতীয় দিনই স্টলে এসেছে কবি সপ্তবর্না পাল সোমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ দেখ মর্তবাসিনী চোখ। সরল আর শুভ প্রার্থনায় সমৃদ্ধ তার কবিতা। মুক্তদেশ প্রকাশন থেকে বেরিয়েছে তার বই। দেশ প্রেম-মানব মানবীর সম্পর্ক-সময়ের বিরুদ্ধে কখনো বিদ্রোহ কখনো শুভ উপদেশ দিয়ে গড়া তার কবিতা। ময়মনসিংহবাসী এই কবি স্থানীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়।

রিমঝিম আহমেদ : লিলিথের ডানা
border=0সময় ও মানুষের অগ্রযাত্রা সচেতনতা ইত্যাদি বিষয় নানাভাবে কবিতা এনেছেন কবি রিমঝিম আহমেদ। কবিতার দীর্ঘযাত্রার মধ্যদিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন তার কবিতা ও শব্দভাণ্ডার। কাব্যিকতা ও ছন্দের দ্যোতনা তার কবিতায় প্রাঞ্জল। এবার বই মেলায় বেরিয়েছে তার প্রথম কবিতার বই লিলিথের ডানা। শাদা অমসৃণ কাগজের ওপর ছড়ার রঙের বিচ্ছুরণে প্রচ্ছদ এঁকেছেন নির্ঝর নৈঃশব্দ্য। চৈতন্য প্রকাশনীর স্টলে পাওয়া যাবে তার বই। বইটি পাঠক প্রিয় হবে বলেই লেখিকার বিশ্বাস।

প্রতীক ওমর : পেরেকবিদ্ধ সময়
border=0সময়কে দেখার তির্যক চোখ কবি প্রতীক ওমরের। তিনি সময়কে দেখেন কৌণিক দৃষ্টিতে, দেখান বিস্তারিতভাবে। ইঙ্গিত ও ইশারা থাকে। সময়ের জীর্ণতা দূর করার জন্য তার প্রার্থনা মনিষী ও কিংবদন্তীর কাছেই। ‘আমি বিশ্বাস করি তোমাকে ফিরতে হবে/ ফিরতেই হবে আজ কাল পরশু / যে কোনো দিন যে কোনো সয়ম’।
প্রতীক ওমরের কবিতা বিশ্বাস আর শ্লোগানের প্রাদুর্ভাব আছে। দ্রোহ আর প্রার্থনাও একই আসনে সমাহিত। এবারের বইমেলায় বের হয়েছে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ পেরেকবিদ্ধ সময়। পাওয়া যাবে পৃষ্ঠা প্রকাশনের স্টলে। প্রচ্ছদটি এঁকেছেন আফসার নিজাম।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (4) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন saifullah mahmud dulal — ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৬ @ ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন

      বাহ! সবার প্রথম বই!! অভিনন্দন!!!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সামিরা আক্তার — ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৬ @ ৮:৩৯ পূর্বাহ্ন

      সবার নতুন বই। সবাইকে অভিনন্দন ও শুভ কামনা।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রয় — ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৬ @ ৪:৫৩ অপরাহ্ন

      দেশে মাত্র এই কয়েকজন লেখক না কি এরা দলবদ্ধ বলে প্রকাশিত হইলো? আর তরুণ জিনিসটা কী বয়সে? না কি লেখায়?
      একজন তো ২০বছর পার করে ফেলেছেন লেখায়, সেই ক্ষেত্রে তিনিও কি তরুণ?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এনামুল রেজা — ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৬ @ ৫:৫৫ পূর্বাহ্ন

      বলরাম রায় দ্বীপের কবিতা আগ্রহ নিয়েই পড়ি। নতুনদের মধ্যে সে উজ্জ্বল। শুভকামনা দ্বীপ।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com