নদীর দেশের চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবির

তারেক আহমেদ | ২০ জানুয়ারি ২০১৬ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

alamgir.jpgমাত্র ৪৯ বছর বয়সে চলে গিয়েছিলেন আলমগীর কবির। এবয়সে অনেকের নতুন যাত্রা শুরু হয় –এমন নজিরও আছে সৃস্টিশীল দুনিয়ায়। মুক্তিযুদ্ধ যেন তার জীবনকে দুভাগ করে ফেলেছিল। যেমন করেছিল তার প্রজন্মের আরো অনেককে। ‘৭১ সনে ত্রিশ বছরের টগবগে চেহারার যুবক আলমগীর কবির কলকাতায় গিয়ে হাজির হলেন। ইচ্ছে ছিল, রনাঙ্গনের যুদ্ধেই যোগ দেবেন–হলো না। অবধারিতভাবে, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে জায়গা হলো তার। ইংরেজি সংবাদ পাঠক হিসেবে যোগ দিয়ে আহমেদ চৌধুরী ছদ্মনামে খবর পাঠ শুরু করলেন। জহির রায়হানের ষ্টপ জেনোসাইড ছবিতে কবিরের ইংরেজি ধারাভাষ্য যারা শুনেছেন, তাদের সকলেরই হয়তো আলমগীর কবিরের ইংরেজি লেখা আর অননুকরনীয় ভঙ্গির বাচনভঙ্গীটি স্মরণে থাকবার কথা।

সুযোগ পেয়ে গেলেন শীঘ্রই। বন্ধু জহির রায়হান তার প্রামান্যচিত্র নির্মানকালে কবিরকে টেনে নিলেন। যাদের হাত দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই নির্মিত হলো –বাঙ্গালীর মুক্তিসংগ্রামের চারটি অনবদ্য দলিল :ষ্টপ জেনোসাইড, লিবারেশন ফাইটার্স, স্টেট ইজ বর্ন আর ইনোসেন্ট মিলিয়ন্স।

জহির রায়হান হারিয়ে গেলেন ‘৭২ সনেই । প্রিয় বন্ধুর এই অন্তর্ধান নিশ্চিতভাবেই শোকাহত করেছিল কবিরকে। কিন্তু থামলেন না তিনি। স্বাধীন বাংলাদেশে চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু হলো তার। চলচ্চিত্র সমালোচক আলমগীর কবির তখন চলচ্চিত্র নির্মাতা। একে একে নির্মান করলেন – ‘ধীরে বহে মেঘনা, সূর্য কন্যা, সীমানা পেরিয়ে, রূপালী সৈকতের মতো ছবি। ততদিনে গড়ে তুলেছেন নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান -‘ইলোরা মুভিজ’। কিন্তু এক সময় চারদিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন – তিনি একা। বুঝতে একটুও সময় লাগলো না যে এফ.ডি.সিকেন্দ্রিক এই তথাকথিত ইন্ডাস্ট্রিতে তার মতো চলচ্চিত্র শিক্ষিত ও রাজনীতিমনস্ক নির্মাতার ঠাঁই হবে না। কবীর আনোয়ার, হারুনুর শীদ, শেখ নিয়ামত আলী, মশিহউদ্দিন শাকেরসহ আরো অনেকেই এলেন। কিন্তু দুয়েকটা ছবি নির্মানের পরই কেটে পরতে হলো তাদের। অন্য কিছু করার ছিল না বলে একসময় ’মহানায়ক’-এর মতো বাণিজ্যিক ছবিও করতে হয়েছিল তাকে, কেবল টিকে থাকবার জন্য। কিন্তু তারপরও পারলেন না। বেরিয়ে এলেন সেই জগত থেকে। আর ১৬মি.মিএ নির্মাণ করেছিলেন তার শেষ ছবি – ‘মনিকাঞ্চন ’। ২৫ মিনিট দৈর্ঘের এই ছবিটি যারা দেখেছেন – তারাই জানেন এই ছবি নিয়ে ভাবনা ও বিকল্প উপায়ে ছবি প্রদর্শনে তার পরিকল্পনার কথা।
কিন্তু স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে কবির যত না সফল, তার চাইতে তিনি অনেক বেশী সফল – সংগঠক হিসেবে। নির্মাতা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে তার যাত্রা শুরু হলেও সংগঠক আলমগীর কবিরের শুরু ও বিকাশ গেল শতকের ষাট দশকেই। মূলত বিলেতফেরত আলমগীর কবির সাপ্তাহিক ’হলিডে‘তে ফিল্ম ক্রিটিক হিসেবে শুরু করলেও অচিরেই দেশের অগ্রণী চলচ্চিত্র সংসদ পাকিস্তান চলচ্চিত্র সংসদে নেতৃত্ব গ্রহণ করলেন। কিন্তু যা হয় আরকি – বাঙালীর বারোজনের সংগঠনে তের রকম মত। তা থেকে মতান্তরে অবশেষে মনান্তর। দু’বছরের মধ্যেই আলমগীর কবির বেরিয়ে এলেন। প্রতিষ্ঠা করলেন – ঢাকা সিনে ক্লাব। পূর্ব পাকিস্তানের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র সংসদ। ’৬৯ সনে তার সক্রিয় উদ্যোগে চালু হলো – ’ঢাকা ফিল্ম ইন্সটিটিউ ‘। এদেশে প্রাতিষ্ঠানিক চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রথম পদক্ষেপ বলা চলে একে।
alamgir-2.jpg
সিনেমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় আলমগীর কবিরের এই ভাবনা পরবর্তীতে স্বাধীনদেশে আরো গতি পায়। বলা চলে, হয়তো তার পথ অনুসরন করেই ১৯৭৫ সনে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদ পুনে ফিল্ম ইন্সটিটিউট-এর শিক্ষক সতীশ বাহাদুরকে নিয়ে প্রথমবারের মতো ফিল্ম এপ্রিসিয়েশন কোর্স আয়োজন করে। এই সতীশ বাহাদুরই পরবর্তীতে ১৯৭৭ সনে তার দ্বিতীয়বারের সফরে এলে বাংলাদেশে ফিল্ম আর্কাইভ প্রতিষ্ঠার মূল রূপরেখা দিয়ে যান। পরের বছর আর্কাইভের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলেও মূলত দেশের চলচ্চিত্রমনস্ক তরুণদের সাথে আর্কাইভের কর্মকান্ডের সংযোগ ঘটে – যখন পুনরায় আলমগীর কবিরই সেখানে চলচ্চিত্র প্রশিক্ষণ কর্মশালার কার্যক্রম শুরু করলেন। বাংলাদেশে এখন স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে সুপরিচিত কয়েকজনেরই যাত্রা শুরু আলমগীর কবিরের তত্বাবধানে পরিচালিত ফিল্ম আর্কাইভের এই কোর্সগুলো থেকে।
সংগঠক আলমগীর কবিরের হাত আরো সম্প্রসারিত হলো- স্বাধীনতার পর দেশে যখন প্রথমবার চলচ্চিত্র সংসদসমূহের এ্যাপেক্স বডি – ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের প্রতিষ্ঠা হলো। সংসদ আন্দোলনের যুক্ত এই সংগঠনটির প্রথম সভাপতি -আলমগীর কবির। দুঃখজনক হলো, মৃত্যুর কয়েক মাস আগে এই এ্যাপেক্স সংগঠনটির প্রথমবারের মতো আয়োজিত কমিটি নির্বাচনে সভাপতি পদে কবিরের পরাজয় ঘটে। নতুন কমিটি নির্বাচিত হওয়ার পর বেরিয়ে এসেই জানালেন, তার নিজের ভোটটি তিনি বিপক্ষের সভাপতি প্রার্থীকে দিয়েছেন। সাংগঠনিক ক্ষেত্রে এমন বদান্যতার নজির বোধ হয় খুব একটা খুঁজে পাওয়া যাবে না এদেশে।

সংগঠক আলমগীর কবিরের একটা বিশেষ কীর্তি, দেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারিভাবে আয়োজিত – আর্ন্তজাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবের নেতৃত্ব দেয়া। মূলতঃ দেশের বিকল্প ধারার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সংগঠন – বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম, ১৯৮৮ সনে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা নতুন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাতারা প্রায় সকলেই ছিলেন কবিরের ভাবশিষ্য ও ছাত্র। স্বাভাবিকভাবেই আলমগীর কবির তাদের আরাধ্য নেতা হয়ে উঠলেন। তখন দেশে এরশাদের স্বৈরশাসন। কিন্তু সরকারী নানা প্রতিকূলতা তো বটেই, বিদেশি দূতাবাস থেকে ছবি সংগ্রহ, বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ, তাদের সফরের জন্য সরকারী অনুমোদন সংগ্রহ থেকে এজাতীয় একটি আয়োজনের যা মূল অনুষঙ্গ –সেই অর্থ সংগ্রহ,পুরোটাই কবির প্রায় একহাতে করেছেন। মনে আছে,কখনো চিত্রনায়িকা ববিতার কাছে গেছেন ছুটে – আবার আহসান উল্লাহ মনি – সবার কাছেই বলেছেন, টাকা দাও। এই ছেলেরা একটা ফিল্ম ফেস্টিভাল করছে – টাকা দিতে হবে তোমাদের,এমনই ছিল তার দাবী। শুধু বলতেন না, টাকা নিয়ে আসতেন-যার কাছ থেকে যেমন নেয়া যেত। অনেকটা ঠাট্টার সুরেই বলতেন যেন, চাদাবাজী করছিতো ভাল কাজেই। আমাদের দুই তরুণ বন্ধু উৎসবের পোষ্টার লাগাতে গিয়ে পুলিশের হাতে পড়লো – অবধারিতভাবে একরাত হাজতবাস। পরদিন আলমগীর কবির বিরিয়ানীসহ থানায় হাজির – থানার ও.সি.কে এক প্রকার ধমকই দিলেন, এরা কি চোর ডাকাত যে ধরেছেন। ছেড়ে দেন এক্ষুনি।
alamgir-1mages.jpg
তবে সংগঠক আলমগীর কবিরের চাইতে শিক্ষক সত্ত্বাটি যেন তার আরো বড়। আজকের খ্যাতিমান স্বাধীণ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাতা মোর্শেদুল ইসলাম, তানভীর মোকাম্মেল আর তারেক মাসুদ থেকে শুরু করে কে নয় তার ছাত্র। এই অধমেরও সৌভাগ্য হয়েছিল তার ছাত্রত্ব অর্জনের। সিনেমার ক্লাসে কবির যেন দৌড়ে বেড়াতেন। কখনও পদার্থবিদ্যা আবার কখনও নন্দনতত্ব- সর্বত্র অবাধ বিচরণ। ছাত্র –ছাত্রীদের মুগ্ধ করেই রাখতেন বলা চলে। অন্য অনেকের বেলায় অংশগ্রহণকারীরা হয়তো অনেক সময় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন – পাঠদানের ভগ্ন বা অন্য কারনে। কিন্তু আলমগীর কবিরের ক্লাসে কারো যেন আপত্তি থাকতো না।
আগেই বলেছি, এদেশে চলচ্চিত্রের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পথিকৃত বলা চলে তাকে। দেশ স্বাধীন হবারও আগে সেই ‘৬৯ সনে তারই উদ্যোগে ঢাকা ফিল্ম ইন্সটিটিউট-এর মধ্য দিয়ে যে যাত্রা শুরু – তা স্বাধীন বাংলাদেশে নতুন রূপ পেল যখন ফিল্ম আর্কাইভ প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরের মধ্যেই আলমগীর কবিরের উদ্যোগে সেখানে শুরু হল – চলচ্চিত্র নির্মান ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা। জীবনের শেষসময় পর্যন্ত যখনই সুযোগ পেয়েছেন, সিনেমার কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে নিজের ভূমিকাটি পালন করে গেছেন।
শিক্ষক আলমগীর কবির কিংবা সংগঠক আলমগীর কবিরের ভীড়ে চলচ্চিত্র সমালোচক বা লেখক কবিরকে যেন আমরা ভুলে না যাই। মূলতঃ ষাট দশকের গোড়ায় বিলেত থেকে দেশে ফিরেই কবির চিত্রসমালোচক হিসেবে সাপ্তাহিক হলিডে পত্রিকায় জড়িয়ে পড়লেন। তার সমালোচনার তীব্র কটাক্ষ থেকে তখনকার চলচ্চিত্র জগতের কেউই রেহাই পেলেন না। কারো কারো সাথে বক্তিগত সম্পর্কেরও টানাপোড়েন শুরু হলো। তবু অব্যাহত থাকলো চিত্রসমালোচক আলমগীর কবিরের কলমের আঘাত। ‘৬৯ সনে এসে প্রকাশিত হলো, গোটা পাকিস্তানের সিনেমার হালচাল নিয়ে ইংরেজিতে লেখা আলমগীর কবিরের বই। তখনকার প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট বুদ্ধিদীপ্ত বিশ্লেষণ বলা চলে এই বইটিকে।

ক্রিটিক আলমগীর কবির কিন্তু ছবি বানাতে গিয়ে হারিয়ে গেলেন না। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিনি – ‘সিকোয়েন্স’ নামে একটি ইংরেজি সিনে সাময়িকী প্রকাশ করলেন – অনিয়মিত এই পত্রিকাটি প্রকাশ করতে গিয়ে হয়তো জগতখ্যাত ফরাসী সিনে সাময়িকী – কাইয়্যে দ্যু সিনেমার কথা তার মনে হয়ে থাকবে। মানের দিক থেকে এই দুয়ের তুলনা চলে না, তথাপি গেল সাড়ে চার দশকে দেশে বাংলা বা ইংরেজি যেসব সিরিয়াস সিনে পত্রিকার প্রকাশ ঘটেছে; ‘সিকোয়েন্স’-এর নামটিও সে তালিকা থেকে বাদ দেয়া যাবে না। যদিও উন্নাসিক চলচ্চিত্র কর্মীদের গাল-মন্দও নেহাৎ কম শুনতে হয়নি তাকে – এই ইংরেজি সিনে সাময়িকী প্রকাশের কারণে।

তবে চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবিরকে অন্য অনেক কাজের ভীড়ে ভুলে যেতে চাইলেও বাংলাদেশের সিনেমার পথপ্রদর্শক হিসেবে তার ভূমিকা ভুলে যাওয়া সম্ভবনা। চলচ্চিত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে গোটা দুনিয়ার চলচ্চিত্র ভান্ডারকে দেশের দর্শকদের সামনে হাজির করা এবং সর্বোপরি আমাদের গোটা সিনেমার জগৎটি কিভাবে চালিত হবে সে চিন্তা মাথায় রেখে চলচ্চিত্র নীতিমালার খসড়া তৈরী- এসবই একজন পথিকৃতের প্রতিকৃতি আমাদের সামনে তুলে ধরে।

প্রথম জীবনে কবির বিপ্লবের চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। প্যালষ্টোইনীদের সংগ্রামে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই কবিরকেই আমরা পরবর্তীতে দেখি – সাবেক সামরিক শাসক এরশাদ যখন সৈয়দ আলী আহসানের নেতৃত্বে সংস্কৃতি কমিশন গঠন করলেন, সেখানে চলচ্চিত্র বিষয়ক নীতি তৈরির কাজে যোগ দিয়েছেন। অনেকে একে সুবিধাবাদ বলতে পারেন। কিন্তু আলমগীর কবির ছিলেন প্রবল বাস্তববাদী একজন মানুষ। তাই ব্যাক্তিগত কোন চাওয়া পাওয়ার জন্য নয়, জাতীয় স্বার্থেই একাজে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তার হাত দিয়ে তৈরি চলচ্চিত্র বিষয়ক নীতির সেই খসড়াটুকুই আজ দেশের চলচ্চিত্র বিষয়ক নীতিমালা তৈরির প্রেক্ষাপট হিসেবে কাজ করছে। এমন দূরদৃষ্টি কেবল আলমগীর কবিরেরই ছিল।
এত বিশাল সব কর্মযজ্ঞের মাঝে কি ব্যক্তি আলমগীর কবিরকে হারিয়ে ফেললাম আমরা? হয়তো না। মেঘনার মতো বিশাল এক হৃদয় নিয়েই যেন এসেছিলেন কবির। তার ছবির নায়ক লেলিনের মতো আজীবন রোমান্টিক আর প্রেমিক। প্রেম বারবার এসে কড়া নেড়েছে তার হৃদয়ের দরজায়। লেলিনের মতো নিজের প্রেয়সীকে যেন আলো আঁধারিতে খুঁজে বেরিয়েছেন আজীবন। কখনও মঞ্জুরা, কখনও জয়শ্রী – আবার কখনোবা টিনার রূপ নিয়ে তার মানস কন্যারা প্রেমিকা কিংবা স্ত্রী হিসেবে ফিরে এসেছে কবিরের জীবনে। এইখানে কবির কিন্তু তার অগ্রজ বন্ধু জহিরের পথই বেছে নিয়েছেন। জহির আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ের পিড়িতে বসেছিলেন দু’বার। কিন্তু তার মানস কন্যারাও যেন বারবার ধরা দিয়ে চলে গেছে দূরে। শোনা যায়, তখনকার বাংলা সিনেমার আরো একাধিক খ্যাতিমান নায়িকাও সে কারনে জহিরের প্রেমে পড়েছিলেন।
আলমগীর কবিরের নশ্বর দেহটি কবরের গহব্বরে ঠাঁই নিয়েছে সেই কবে। কিন্তু তার স্বপ্নরা মরে যায়নি। আজকে যখন জাতীয় পর্যায়ে ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা হয়, যখন দেশে আয়োজিত হয় কোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব কিংবা কোনো চলচ্চিত্রমনস্ক তরুণ যখন নতুন ছবির কাজ শুরু করেন বা স্বপ্ন দেখেন – তখনই যেন কবিরের স্বপ্নেরা ফিরে ফিরে আসে। বাংলাদেশে স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্রের প্রথম নির্মাতা হিসেবে, বাংলাদেশে সিনেমার ভবিষ্যৎ রূপরেখা কি হবে – সেই নীতি পরিকল্পনার আদিসূত্রধর হিসেবে আলমগীর কবিরকে জানাই সশ্রদ্ধ সালাম।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (3) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এনায়েত করিম বাবুল — জানুয়ারি ২১, ২০১৬ @ ৩:১১ পূর্বাহ্ন

      ২০ জানুয়ারি কবির ভাইয়ের বিদায়ের দিনকে সামনে রেখে ,একটা ভাল লেখার জন্য ধন্যবাদ ,তবে টিনার বিষয়টা ঠিক না, সে কেবল মাত্র তার শেষ সিনেমায় অভিনয় করেছিল, পরের সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ধরনা দিত,তারেক আহমেদ।
      আশা করি পরে এটা পরিবর্তন করবেন। কবির ভাইয়ের ছাত্র ও তার সাথে সহকারী হিসাবে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল আমার।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন mir shamsul alam baboo — জানুয়ারি ২১, ২০১৬ @ ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন

      বুলবুল ভাইয়ের লেখাটা চমৎকার লাগলো। কবির ভাই সম্পর্কে নির্মোহ লেখা এটা।
      জহির রায়হান বোধ হয় তিনবার বিবাহ (নায়িকা কবরী) করেছিলেন। তবে কবির ভাইয়ের সংগে ‘টিনা খান’-এর কি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিলো ?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রুদ্র আরিফ — জুন ৬, ২০১৬ @ ১:০১ অপরাহ্ন

      বাহ। আলমগীর কবির, দ্য মাস্টার।
      আলমগীর কবিরের লেখা, তাকে নিয়ে লেখা বইপত্র কোথায় পাওয়া যাবে, জানেন কেউ?

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com