সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: নতুন বছরে নারীরাই রবে শীর্ষে

বিপাশা চক্রবর্তী | ১৭ জানুয়ারি ২০১৬ ৮:১৮ পূর্বাহ্ন

সাহিত্য ও সংস্কৃতি এমনই এক বুদ্ধিবৃত্তিক স্থান যেখানে সাদা–কালো, নর-নারী বৈষম্য চলে না। প্রয়োজন হয় না কোন কোটা-ব্যবস্থারও। যে যার মেধা মনন জ্ঞান দিয়ে জায়গা করে নেয় এখানে। অনেকে হয়তো বলবেন, শিল্পী সাহিত্যিকরাও তো সমাজ থেকেই উঠে আসে। সমাজের মনস্তত্ব সে বাদ দিবে কী করে? তবে একজন সত্যিকারের শিল্পীর উচিত এসব চিন্তায় নিজেকে আটকে না রেখে কাজ করে যাওয়া। অর্থাৎ লিঙ্গ, বর্ণ, পুরষ্কার, ধনী-গরীব ইত্যাদি সব বৈষম্যের বাইরে থেকে নিজের সৃষ্টিকর্মের সাধনা করে যাওয়া। আমরা দেখছি, এমনকি লেখনীর জগতও পুরুষ-প্রধান করে রাখার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি, কারণ–আগেই বলেছি–একমাত্র শিক্ষার জগত ও বুদ্ধিজীবী মহলেই মেধা আর মননের কাছে সকল বৈষম্যের প্রাচীর ভেঙে পড়ে। আজ বিশ্বসাহিত্যের অতি সাম্প্রতিককালে ভিন্নভাবে আলোচনায় আসা দুজন ব্যতিক্রমী নারীকে উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে যাদের সৃষ্টিকর্মের কাছে আসলেই ভেঙ্গে পড়েছে সকল বৈষম্যের প্রাচীর।

লুদমিলা পেত্রুসেভস্কায়া: রূপকথার নতুন বয়ান

border=0জীবন্ত কিংবদন্তী লুদমিলা পেত্রুসেভস্কায়া । মস্কোতে জন্ম নেয়া ৭৮ বছর বয়সী এই সাহিত্যিক বর্তমান জীবিত রুশ লেখকদের মধ্যে অন্যতম। গত কয়েকদশক ধরে পূর্ব ইউরোপের সমসাময়িক লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী প্রশংসিত। ১৯৮০ সাল থেকে তার লেখা গল্প উপন্যাস পৃথিবীর ২৪টিরও বেশী ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। একই সাথে গভীর মনস্তত্ব ও উত্তর আধুনিকতার ছোঁয়া পাওয়া যায় তাঁর লেখনীতে। সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের অন্ধকারাচ্ছন্ন , ভীতিকর, রহস্যময়, রোমহর্ষক, অসম্ভব সব কল্পনাকে অনেকটা রূপকথার মতোই তুলে ধরেন তাঁর লেখার মধ্য দিয়ে। সম্ভবত এ কারণেই লুদমিলাকে আন্তভ চেখভের সাথে তুলনা করা হয়।

শৈশব কেটেছিল তাঁর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চরম ভয়াবহতা, অনিশ্চয়তা ও দৈন্যের মাঝে। সেইসবের স্মৃতি এবং পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের আগে ও পরের রাশিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনগাথা অসাধারণভাবে চিত্রায়িত হয় লুদমিলার সমস্ত সৃষ্টিতে। গল্প, উপন্যাস, নাটক, গান, চিত্রনাট্য, চলচ্চিত্র রয়েছে তাঁর সৃষ্টির জায়গা জুড়ে। দ্য টাইমঃ নাইট (১৯৯২) এবং নাম্বার ওয়ান (২০০৪) রুশ বুকার পুরষ্কার লাভ করে। লুদমিলা পুশকিন পুরষ্কারসহ রাশিয়ার প্রায় সবধরনের সর্বোচ্চ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন । পৃথিবীর সব নেতৃত্বস্থানীয় মঞ্চগুলোতে প্রবল জনপ্রিয়তার সাথে প্রদর্শিত হয়েছে তাঁর লেখা নাটকগুলো এবং এখনো হচ্ছে। তার বেশীরভাগ কাজই রূপকধর্মী । প্রতীক বা রূপকের আশ্রয়ে তিনি বর্ণনা করেন মানুষের সাধারণ জীবন যাপনের দৃশ্যমান গল্পের আস্তিনে লুকিয়ে থাকা গল্পকে। এভাবেই লুদমিলা প্রকাশ করতে চান নৈতিক মূল্যবোধ ও ভাবাদর্শের। “ রাশিয়া এমনই এক ভূখন্ড যেখানকার নারীরা অসাধারণ প্রতিভাবান গল্প বলিয়ে। গল্প বলবার জন্য তাদের নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে হয় না, সহজাত প্রবণতার মতোই তারা মুখে মুখে যা বলেন তাই হয়ে যায় অপূর্ব সব গল্পগাথা। আমি সেই সব গল্প বলিয়েদের একজন একনিষ্ঠ শ্রোতা মাত্র”- নিজের লেখা সম্পর্কে এরকমই মন্তব্য লুদমিলার।
There Once Lived a Woman Who Tried to Kill Her Neighbor’s Baby: Scary Fairy Tales বইটি ২০০৯-এর দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার। সেবার নিউ ইয়র্কার ম্যাগাজিনের বর্ষসেরা ও ওয়ার্ল্ড বেস্ট ফ্যান্টাসি এওয়ার্ড জিতে নেয় বইটি। এরপর থেকে এখন অবধি আমেরিকার ইংরেজ ভাষাভাষীদের কাছে তাঁর লেখা সমানভাবে জনপ্রিয়তার আসন ধরে রেখেছে। দ্য নিউ ইয়র্কার-এর ১১ জানুয়ারী ২০১৬(চলতি) সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে তার দীর্ঘ ছোট গল্প “ দ্য স্টোরি অফ এ পেইন্টার’। আশ্রয়হীন দরিদ্র ও হতাশাগ্রস্ত এক চিত্রশিল্পীর নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পাবার এক চমৎকার গল্প । গল্পটির মধ্য দিয়ে বর্তমান রাশিয়ার একদিকে গৃহহীন মানুষ অন্যদিকে গোষ্ঠিশাসন, প্রতারণা আর রিয়েলস্টেট ব্যবসার কথা বর্ণিত হয়েছে যা অভিনবত্ব লাভ করেছে রুপকথার আদলে বর্ণিত হবার দরুণ। গল্পটি প্রকাশিত হবার সাথেই সাথেই বেশ সাড়া জাগায় পাঠক, সমালোচক ও ভক্তদের মাঝে। এ ব্যাপারে একটি সাক্ষাৎকারও প্রকাশিত হয় দ্য নিউ ইয়র্কার-এ।
সাক্ষাৎকারটিতে ‘দ্য স্টোরি অফ এ পেইন্টার’ গল্পের পিছনের গল্প তিনি ব্যাখ্যা করেছেন। “ সেটা ছিল কোন এক নতুন বছরের আগের সন্ধ্যা রাত্রি। বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানি গল্প বলছিলাম, কিন্তু আমার গল্প শেষ হবার আগেই ওরা ঘুমিয়ে পড়ে। আমি কিন্তু গল্পটি সেখানেই শেষ করিনি। আমার কৌতূহল ছিল এর পরবর্তী অংশের প্রতি”। লুদমিলার ভাষায়, “এটা কোন রূপককথা নয় বরং বাস্তবকথা। রূপকধর্মী মনে হলেও সবকিছুই এখানে যথার্থভাবে ও সঠিক নামেই বর্ণিত হয়েছে। একটি সত্যিকারের রূপকথা যেখানে যাদু এবং বাস্তবতার সম্মিলন ঘটেছে। লুদমিলা জানান ছেলেবেলায় ছবি আঁকতে চাইতেন তিনি। কিন্তু এতটাই দারিদ্র্যে ছিলেন যে তাকে ক্ষুধার্ত ও নগ্ন পায়ে হেটে বেড়িয়ে ভিক্ষাও করতে হয়েছিল। নয় বছর বয়স পর্যন্ত তাঁর কাছে একটি মাত্র পুরোনো ফ্রক ছাড়া আর কিছুই ছিল না। কুড়িয়ে পাওয়া পিচবোর্ড, মার্বেল, ক্রেয়ন, কাঠকয়লা, ইট আর ইটের টুকরা দিয়ে রাস্তায় আর পথের ধারের দেয়ালে ছবি আঁকতেন। আর এ কারনেই ছবি আঁকার রঙ, তুলি, ব্রাশ আর মানসম্মত কাগজকে তাঁর কাছে অতি মূল্যবান মনে হয়। এখনো জলরঙের ফুল আর মানুষের মুখের ছবি আঁকতে ভালবাসেন লুদমিলা। উত্তর রাশিয়ার ছোট শহর পোরকভের একদল প্রতিবন্দ্বী কিশোর-কিশোরীদের জন্য খুব শীঘ্রই তিনি তাঁর আঁকা বেশ কিছু ছবি বিক্রি করতে যাচ্ছেন। ‘দ্য স্টোরি অফ এ পেইন্টার’ গল্পের মূল বক্তব্যের সাথে যেন মিলে যায় তাঁর নিজের জীবনের কথাও -“তুমি যখন দরিদ্র তখন দরিদ্রতরকে সাহায্য কর। ভালবাসাই তোমাকে রক্ষা করবে” ।

র‌্যাচেল ম্যাকার্থি: শিল্প ও বিজ্ঞানের অর্ধনারীশ্বর

rachel.jpg
আমরা বেশিরভাগ মানুষই যে ভুলটা করে থাকি সেটা হলো বিজ্ঞান আর শিল্পকলাকে আলাদা করে দেখি। বিজ্ঞান বুঝতে হলে পরমানুর ভেতরের জগত সম্পর্কে না জানলেও চলে– এটা বুঝতে পারেন যে কোন উন্নতস্তরের মনের অধিকারী মানুষ। আর একজন মানুষ তখনই উন্নত স্তরের মনের অধিকারী হন যখন শিল্পকলা ও বিজ্ঞান–এই উভয়দিক থেকেই জ্ঞান আহরণ করে পরিতৃপ্ত হবার চেষ্টা করেন। সভ্যতার ঊষালগ্নের শ্রেষ্ঠ সময়ের ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাব বিজ্ঞান, শিল্পকলা ও সাহিত্যর বিকাশ কখনোই আলাদাভাবে হয়নি; একে অপরের সঙ্গে অর্ধ-নারীশ্বরের মতো যুক্ত হয়ে ছিল । এমনকি সাধারণ মানুষও তা একই সাথে গ্রহণ করেছে। আমাদের শিক্ষার ধারা আর অভিজ্ঞতা আমাদের আলাদা করে বটে কিন্তু আদতে সর্বকালের সব মানুষের মানবিক আচরণতো একই রকম। আর সেই স্বাভাবিক প্রবণতা থেকেই আমরা সবাই একটি সার্বজনীন দক্ষতার অধিকারী হই। তাই বিজ্ঞানী আর অবিশেষজ্ঞ সাধারণ মানুষকে আলাদা করে দেখার কিছু নেই। এজন্যই গ্রীক নাটকের অসামান্য স্রষ্টা এস্কালাইসকে মানুষ যেভাবে আদরের সাথে গ্রহণ করেছিল, ঠিক তার আগেই পিথাগোরাসকে ভালবেসেছিল। আজও ভুলতে পারা যায় না সক্রেটিস অথবা লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির নাম। আমার আজকের এই সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতির উপস্থাপনায় এযুগের এমনই এক তরুণ মস্তিস্ককে আপনাদের সামনে পেশ করব যার মাধ্যমে বিজ্ঞান ও শিল্পকলা উভয়ই বিকশিত হয়েছে সমানভাবে।

৩১ বছর বয়সী র‌্যাচেল ম্যাকার্থি। কবি ও বিজ্ঞানী। তার যেমন কাব্যগ্রন্থ আছে তেমনি আছে বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ। ইংল্যান্ডের এই প্রজন্মের তুখোড় সম্ভাবনাময় একজন কবি। ২০০৬ সালে যখন ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্মান ডিগ্রী লাভ করেন তখন রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানে ডাবল ফার্স্ট ক্লাস ছিল । জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও ব্রিটিশ সরকারের একজন উপদেষ্টা হিসেবে ২০০৮ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের জাতীয় জলবায়ু পরিসেবা অধিদপ্তরে । পদার্থ ও রসায়নের মতো নিরস শাস্ত্রে অধ্যয়ন করে জলবায়ু অধিদপ্তরের মতো ব্যস্ততম কাঠখোট্টা অফিসে কর্মরত থেকেও কাব্যচর্চা করে যাচ্ছেন নিয়মিত। এমনকি নিজেই গড়ে তুলেছেন কবিতা বিষয়ক একটি সংগঠন । কারণ ম্যাকার্থি সবসময়ই লিখতে চাইতেন। তার রয়েছে ছন্দোময় পদ্য লেখার অসাধারণ দক্ষতা। ব্রিটিশ রাজকবি ক্যারোল অ্যান ডাফি তাকে দেশের সম্ভাবনাময় নতুন কন্ঠ বলে অভিহিত করেছেন। তার কাজকে তিনি সাহসী ও সম্মোহনী বলেছেন। ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয় র‌্যাচেলের এলিমেন্ট কাব্যগ্রন্থ । এই গ্রন্থের প্রতিটি কবিতাই ইতিহাসের বিভিন্ন সময় থেকে নেয়া বিভিন্ন বিষয়বস্তু ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট উপাদান নিয়ে লিখেছেন অত্যন্ত আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে। বইটির শেষ ভাগে ছোট ছোট নোট আকারে যার ব্যাখাও তিনি দিয়েছেন। যেমন মৌমাছি (ক্রৌমিয়াম) অক্টোপাস (কপার) প্রজাপতি (ইরিডিয়াম) প্রেম (ইত্রিউম) দুর্যোগ (প্লাটিনাম/অসমিয়াম) শিল্প ও ইতিহাস (দস্তা) । উদাহরস্বরূপ, সামুদ্রিক প্রাণী অক্টোপাস যার রক্তে রয়েছে কপার। এই কপার অক্সিজেন বহন করে জলের অতি গভীরে অক্টোপাসকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। আর কপার এমনই এক উপাদান যা কিনা জলের গভীরে এই কাজটি করতে পারে হিমোগ্লোবিনে থাকা আয়রনের চেয়ে বেশী কার্যকরভাবে। এই জন্যই অক্টোপাস জলের তলায় অক্সিজেন তৈরির জন্য আয়রন নয়, কপার ব্যবহার করে। এসব কিছুই র‌্যাচেল ম্যাকার্থি কাব্যের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। র‌্যাচেল বলেন “প্রত্যেক বস্তুই উপাদান দ্বারা তৈরি। আপনি, আমি এমনকি এই টেবিল–এসবকিছুই আমাদের অস্তিত্বের এক একটি বর্ণমালা”। এ সপ্তাহেই র‌্যাচেল বিজ্ঞান ও শিল্পকলা নিয়ে তার ভাবনা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে বলবেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ‘মিউজিয়াম অব দি হিস্টোরি অব সায়েন্স’এ। কবিতা প্রকাশন ও লেখক উন্নয়ন সংস্থা “পোয়েট্রি বিজনেস” সরাসরি রাজকবির তত্বাবধানে পরিচালিত হয় যা কিনা ইংল্যান্ডের সবচেয়ে গরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক সংস্থা হিসেবে বিবেচিত। এখান থেকে প্রকাশিত পুস্তিকা ‘লরিয়েট চয়েস ইমপ্রিন্ট’-এ আরও তিনজন কবির কবিতার সাথে প্রকাশিত হবার জন্য নির্বাচিত হয়েছে র‌্যাচেল ম্যাকার্থির এলিমেন্ট কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোও।

নতুন বছরে নারীরাই রবে শীর্ষে

women.jpg
গত প্রায় সারাটি বছর জুড়ে–কি ইউরোপ কি আমেরিকা– বিশ্ব সাহিত্যের পাঠকদের মুখে মুখে ছিল লরেন গ্রোফ, পলা হকিংস, সাবাহ তাহির, এল জেমস, সি এল টেলর, গ্লিয়ান ফ্লিন–এই সব ঔপন্যাসিকদের নাম। মজার ব্যাপার হচ্ছে এরা সবাই নারী। এল জেমস-এর ফিফটি শেডস অব গ্রে এখন পর্যন্ত বিক্রির শীর্ষে। আর এ বছরেও আমরা পাব র‌্যাচেল জয়েস, ফিওনা বাটন, নাতাশা ওয়াল্টার, রেবেকা ম্যাকেঞ্জি, লুসিয়া ইয়ং, নোওমি এল ডারম্যান-এর মতো তরুণ নারী ঔপন্যাসিকদের সাথে জেনেট উন্টারসন, মার্গারেট এটউড-এর মতো প্রবীনদের। গল্প উপন্যাসের ক্ষেত্রে নারী লেখকদের জয়জয়কার নতুন নয়। তবে ঘাটতি ছিল টেলিভিশন ও মঞ্চে, নাটক ও চিত্রনাট্য লেখনীর জগতে। ২০১৬ তে এই ঘাটতিও ঘুচে যাচ্ছে। দারুন দারুন সব শো নিয়ে টেলিভিশন মাতাতে আসছেন লিনা ডানহাম, জুলিয়া ডেভিস, মিচেলা কোল, শ্যারন হোরগান। এর সবাই নারী চিত্রনাট্যকার।

অন্যদিকে, আগামী ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় গ্রেট বৃটেনের জাতীয় নাট্যশালায় খুব সুন্দর একটি ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। সেদিন সন্ধ্যায় একই সাথে প্রদর্শিত হবে তিনজন নারী চিত্রনাট্যকারের তিনটি নাটক। লররেইন হ্যান্সব্যারির লেস ব্লান্স, সুহায়েলা এল বুশরা-র দ্য সুসাইড এবং এনী বেকার-এর দ্য ফ্লিক। ২২ এপ্রিল একই ঘটনা ঘটবে আবার, এখানে যুক্ত হবেন সারাহ কেইন তার ক্লিনসড নাটক নিয়ে। এসব নাটক যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র– উভয় দেশেই প্রদর্শিত হবে। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে ২০১৬ সাল জুড়ে গল্প উপন্যাস কবিতা মঞ্চ টেলিভিশন সবখানেই নারী লেখকরাই মাতিয়ে রাখবেন আটলান্টিকের দুই তীরের বাসিন্দাদের ।

তথ্যসুত্র: দ্য গার্ডিয়ান, দ্য নিউ ইয়র্কার

আর্টস বিভাগে প্রকাশিত বিপাশা চক্রবর্তীর আরও লেখা:
জীবন ও মৃত্যুর সঙ্গম: অর্ধনারীশ্বর অথবা তৃতীয় প্রকৃতি

মানব তুমি মহীরুহ তুমি

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: আইনস্টাইন, শেক্সপিয়র, আঁদ্রে গ্লুক্সমাঁ, ফের্নান্দো ও বিয়োরো

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: স্রোতের বিরুদ্ধে স্নোডেন, অরুন্ধতী, কুসাক

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: ভিক্টর হুগো ও টেনেসি উইলিয়াম

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: আরবমুখী ফরাসী লেখক ও মার্গারেটের গ্রাফিক-উপন্যাস

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: গত বছরের সেরা বইগুলো

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (3) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Avijeet Kumar — জানুয়ারি ১৭, ২০১৬ @ ১১:৩৮ অপরাহ্ন

      “তুমি যখন দরিদ্র তখন দরিদ্রতরকে সাহায্য কর। ভালবাসাই তোমাকে রক্ষা করবে” –জীবনের অন্তঃমূল থেকে তুলে আনা এক অসাধারন দ্রষ্টার গভীরতম দৃষ্টি! ধন্যবাদ বিপাশা।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Avijeet Kumar — জানুয়ারি ১৭, ২০১৬ @ ১১:৪৬ অপরাহ্ন

      সামাজিক বৈষম্য বা পারিবারিক যান্ত্রিক যাতাকলে ব্যস্ত রেখে কৌশলে মেয়েদের সব সময় দমিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ ভাষা সংস্কৃতিক জ্ঞানে মেয়েরা পুরুষদের চেয়ে বেশি দক্ষ এটা বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রমাণিত। মানব সভ্যতার উত্তরোত্তর প্রবৃদ্ধিতে নারীদের স্বাধীনতা এবং মুক্ত চিন্তা প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার আবেদন ছিল অনেক আগে থেকেই যা এখন প্রকাশ পেতে শুরু করেছে বিশ্বব্যাপী। ধন্যবাদ দেব না, আরো লিখা চাই!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিপাশা চক্রবর্তী — জানুয়ারি ২৩, ২০১৬ @ ৯:৪১ পূর্বাহ্ন

      ধন্যবাদ , অভিজিৎ কুমার। আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য। এবং আমি চেষ্টা করব লিখে যাবার।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com