রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা সম্পর্কে অক্তাবিও পাস

রাজু আলাউদ্দিন | ৩০ december ২০১৫ ১:৪২ পূর্বাহ্ন

tagore-painting-1.jpgএর আগে ২০১৩ সালে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে(অক্তাবিও পাসের রবীন্দ্রনাথ) বলেছিলাম অক্তাবিও পাস কেবল রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা নিয়ে প্রবন্ধই লেখেননি, বিভিন্ন উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য দিক সম্পর্কে তাঁর অভিমতও জানিয়েছেন; কখনো কখনো ভিন্ন কোনো প্রসঙ্গে রচিত প্রবন্ধে, কখনো বা আলাপচারিতায়। ইন লাইট অব ইন্ডিয়া গ্রন্থে রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ এসেছিল গান্ধীর ব্যক্তিত্বের সাথে তুলনা করতে গিয়ে। সেখানে তিনি সংক্ষেপে কিন্তু বিচক্ষণ তুলনায় রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিত্বের উচ্চতর মহিমাকে আমাদের যুক্তিবোধ ও হৃদয়বত্তার দুই প্রান্তে সমান মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন। এই তুলনা থেকে মনে হতে পারে যে গান্ধীর চেয়ে রবীন্দ্রনাথের প্রতি বুঝিবা তার বিশেষ প্রীতি রয়েছে। সেই তুল্যমূল্যের বিচার ও বিশ্লেষণ ভিন্ন এক প্রবন্ধের বিষয় হতে পারে। তবে এই মুহূর্তে আমরা কেবল রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলার প্রতি পাসের পক্ষপাতের দিকে মনোযোগ দিতে চাই।

রবীন্দ্রনাথের প্রতি তাঁর প্রধান আকর্ষণ সাহিত্যের চেয়ে বরং চিত্রকলার জন্যেই বেশি। তবে তার অর্থ এই নয় যে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যিক গুরুত্ব তার কাছে মোটেই ছিল না। রবীন্দ্র-কাব্যে কখনো কখনো অতিকথন ও বিগত-রুচির উদ্বোধনে পাস বিমুখ বোধ করলেও, রবীন্দ্রনাথের সৃজনশীলতা ও ভাবুকতার সবর্জনীনতাকে কেবল কাব্যমূল্যেই নয়, দূরদর্শিতার কারণেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছেন তিনি।

দূরবর্তী দুই ভিন্ন কারণেই রবীন্দ্রনাথের উপস্থিতি পাসের সাহিত্যিক জীবনে ছিল স্বাভাবিক। ১৯১৮ সালে মেহিকোতে পেদ্রো রেকেনা লেগাররেতার অনুবাদে গীতাজ্ঞলি, কিংবা হোসে বাস্কনসেলোস-এর উদ্যোগে রবীন্দ্রনাথের লা লুনা নুয়েবা( নতুন চাঁদ), নাসিওনালিজমো( জাতীয়তাবাদ), পেরসোনালিদাদ(ব্যক্তিত্ব) ও সাধনা নামক চারটি গ্রন্থ একত্রে প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২৪ সালে। পাসের বয়স তখন ১০। এরপর আরও বহুজনের অনুবাদে রবীন্দ্রনাথের বহু গ্রন্থ অনূদিত ও প্রকাশিত হয়েছে–স্পানঞা ও লাতিন আমেরিকার বহু দেশ থেকে–প্রধানত মেহিকো ও আর্হেন্তিনা থেকেই। মহাদেশের দুই প্রান্তে অবস্থানের কারণে এদুটি দেশের ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে তাদের মধ্যে একটা জায়গায় মিল এই যে দুই দেশেই রবীন্দ্রনাথ লাতিন আমেরিকার অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি মনোযোগ কেড়েছেন। রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে সর্বাধিক চর্চা ও অনুবাদ এ দুটো দেশেই হয়েছে। কেবল অনূদিতই হয়নি, রবীন্দ্রনাথ মেহিকোতে স্কুল পাঠ্যপুস্তকেও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন বিশের দশক থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক দশক পর্যন্ত। ফলে, রবীন্দ্রনাথের লেখার সঙ্গে অক্তাবিও পাসের পরিচয় শৈশবেই ঘটেছিলা বলে অনুমান করা যায়, যদিও তিনি সেই পরিচয়ের কথা কোথায়ও উল্লেখ করেননি। অনেক পরে, পরিণত বয়সে রবীন্দ্র-পাঠের অভিজ্ঞতার কথা তিনি জানিয়েছেন প্রথমত রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা বিষয়ক এক প্রবন্ধে( যেটি ২০০৮ সালে স্পানঞল থেকে বাংলায় তর্জমা করেছিলাম)। আরও পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারেও তিনি রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। সম্প্রতি সে রকমই এক সাক্ষাৎকার নজরে এলো, যেখানে পাস রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা বিষয়ে তাঁর সপ্রশংস অভিমত জানিয়েছেন। ‘আর্তে দে মেহিকো’ নামের শিল্পকলা বিষয়ক এক পত্রিকায় বেরিয়েছিল এই সাক্ষাৎকারটি। আমি কেবল এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের রবীন্দ্র-বিষয়ক অংশটুকু এখানে পাঠকদের কৌতূহল নিবৃত্তির জন্য তুলে দিচ্ছি:
“মনে হয় কোনো কোনো শিল্পীর মূল কাজের পাশে তাদের অন্য কিছু কাজ সাধারণত খুবই, বা তারচেয়েও বেশি কৌতূহলোদ্দীপক। আমরা এর আগে অন্যত্র ভিক্টর উগোর ড্রয়িংগুলো নিয়ে কথা বলেছিলাম, যিনি মহৎ কবি হওয়া সত্ত্বেও ছিলেন এক মহান শিল্পী। তবে আরেকটি লক্ষণীয় ঘটনা আছে যা ভারতীয় কবি রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রে ঘটেছে। আমার স্ত্রী ও আমি যখন কোলকাতায় ছিলাম, তখন রবীন্দ্রনাথের এক শিষ্যা আমাদেরকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন যিনি কবির সমস্ত কাগজপত্র সংরক্ষণ করে রাখতেন। তার ঘরটা ছিল এক রকম স্মৃতিশালার মতো, সেখানেই দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম চিত্রশিল্পী রবীন্দ্রনাথের কাজ যা ভিক্টর উগোর মতোই কৌতূহলোদ্দীপক। তার ক্ষেত্রে একটা বিশেষত্ব হলো এই যে, রবীন্দ্রনাথ যে-ভাষায় লিখতেন তাকে বলা হয় দেবনাগরী, এর লেখ্যরূপ খুবই সুন্দর। তবে হ্যাঁ, দাগ কাটতেন, সংশোধন করতেন, মুছে ফেলতেন এবং দাগগুলোকে রূপান্তরিতও করতেন। কঙ্কৃট কবিতা যে-কাজটা করে অনেকটা সেরকম, তবে তিনি এটা করতেন অনেক বেশি প্রকাশবাদী(Expresionnista) ভঙ্গিতে যা আমাদের চেনা বহু কঙ্কৃট কবিদের চেয়ে অনেক বেশি জীবন্ত। এবং হঠাৎ করেই অক্ষরগুলো দিয়ে তিনি সৃষ্টি করতেন অসামান্য ভূদৃশ্য, আর কাল্পনিক ও ভয়ংকর সব জীবজন্তু। বিক্তোরিয়া ওকাম্পোও এই পাণ্ডুলিপিগুলো দেখেছিলেন, যখন রবীন্দ্রনাথ তার সান ইসিদ্রোর বাসায় ছিলেন। অন্যান্যদের মধ্যে অন্যতম, আঁদ্রে জিদের পৃষ্ঠপোষকতায় রবীন্দ্রনাথ প্যারিসে একটা প্রদর্শনী করেছিলেন। শিল্পকর্ম, চিত্রকলা এবং লেখা যেখানে একে অপরের সাথে জড়িয়ে গেছে সেধরনের কাজগুলোর প্রতি আমার আগ্রহ চিরকালের।”
Creo que los trabajos hechos por algunos artistas al lado de su obra central son generalmente tan interesantes o más que ella. Ya hemos hablado en otras ocasiones de los dibujos de Víctor Hugo, que fue un gran artista plástico además de gran poeta. Pero hay otro caso notable, el del poeta indio Tagore. Cuando mi mujer y yo estuvimos en Calcuta, fuimos invitados por una mujer que había sido discípula de Tagore y que conserva todos los papeles del poeta. Ha hecho de su casa una especie de museo y ahí pudimos ver, además de la obra de Tagore pintor, que era tan interesante como la de Víctor Hugo, algo muy especial: Tagore escribía en unos caracteres que se llaman devanagari, que es una escritura muy hermosa. Pero claro, tachaba, corregía, borraba y transformaba las manchas. De modo que hacía una especie de poesía concreta pero de una manera mucho más expresionista y mucho más vivía de la de muchos poetas concretos que conocemos. Y de pronto, con las letras creaba paisajes extraordinarios y criaturas fantásticas, amenazantes. »
Victoria Ocampo también vio esos manuscritos cuando Tagore vivió en su casa de San Isidro. En París, Tagore hizo una exposición auspiciada por André Gide, entre otros.
Siempre me han interesado esas obras en donde las artes, como la pintura y la escritura, se cruzan. O donde las artes derivan de su cauce central hacia trabajaos, materiales y facturas laterales.
(http://www.artesdemexico.com/adm/09/index.php/adem/cont-ed/una_grandeza_caida._entrevista_a_octavio_paz/)

tagore-painting-2.jpgখেয়ালি ছন্দে রচিত রবীন্দ্রনাথের এই মাতাল চিত্রকর্মগুলো সম্পর্কে পাসের এই উক্তির সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের মনে পড়বে চিত্রকলা সম্পর্কে তাঁর প্রগাঢ় পাণ্ডিত্যের কথা যা তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছিল মার্সেল দুশাম্প সম্পর্কে Marcel Duchamp: Appearance shipped Bare , একেবারে ব্যতিক্রমধর্মী একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনায়। তারও অনেক পরে, ১৯৮৭ সালে বেরিয়েছিল Essays on Mexican Art নামের এক গ্রন্থ। রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা সম্পর্কে পাসের প্রবন্ধ এবং পরবর্তীকালে তার বিভিন্ন মন্তব্য যে কোনো ঝোঁকেরবশে বা হুজুগে নয়, বরং চিত্রকলা সম্পর্কে তার সুগভীর পাণ্ডিত্য ও উপলব্ধি থেকে উৎসারিত– তা সেই পূর্বোক্ত প্রবন্ধ( Los manuscritos de Rabindranath Tagor) থেকেই বুঝা যায়। তিনি শিল্পকলা ও সংস্কৃতির বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেই রবীন্দ্রনাথের চিত্রকর্মের স্বতন্ত্র স্পন্দন ও আত্মার আশ্চর্য্যকে সনাক্ত করেছিলেন। সেই বিশ্লেষী প্রবন্ধে তিনি যে বলেছিলেন, “ রবীন্দ্রনাথের হৃদয়গ্রাহী পাণ্ডুলিপি আমাদের কাছে এমন এক শিল্পীকে তুলে ধরে, যিনি একই সঙ্গে আমাদের পূর্বসূরী ও সমকালীন।”(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পাণ্ডুলিপি, এল সিগনো ই এল গারাবাতো, ১৯৭৩), তখন তিনি মোটেই বাড়িয়ে বলেন না, বরং রবীন্দ্রনাথের প্রতিভার অপেক্ষাকৃত আচ্ছাদিত ও অনালোকিত দিকটিকে আমাদের সামনে স্পষ্ট করে দিয়ে বুঝিয়ে দেন রবীন্দ্রনাথের বহুমুখী প্রতিভার বহুবর্ণিল রূপটিকে। রবীন্দ্রনাথের অন্যসব রচনার প্রাচুর্যের পাশে তার চিত্রকলাকে আমরা সমান গুরুত্বে দেখিনি আজও। যদিও রবীন্দ্রনাথ নিজেই তাঁর চিত্রকর্মের গুরুত্ব সম্পর্কে গভীর আস্থার সাথে ঘোষণা করেছিলেন যে, ‘ আমার বাকি সমস্ত শিল্পকর্ম সম্পর্কে এখন আমার আগ্রহ নেই। একমাত্র যার জন্যে আমি গর্বিত: তা আমার ছবি।’(রম্যাঁ রলাঁ, ভারতবর্ষ: দিনপঞ্জী ১৯১৫-১৯৪৩, ফরাসী থেকে অনুবাদ: অবন্তীকুমার সান্যাল, দ্বিতীয় মুদ্রণ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯,পৃ-২৫৫)।

ভাবতে আশ্চর্য লাগে এই ভেবে যে কয়েক দশকের ব্যবধানে, রবীন্দ্র-ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে, প্রথার কল্লোল উজিয়ে রবীন্দ্রনাথের এই গভীর আস্থারই প্রতিধ্বনি করেছেন অক্তাবিও পাস।

রবীন্দ্রনাথের বহুবিধ পরিচয়ের কথা সারা বিশ্ব জানলেও, চিত্রকর রবীন্দ্রনাথের পরিচয়টি এখনও পর্যন্ত অন্য পরিচয়গুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে-পড়া বলে মনে হয়, তা সে ইউরোপেই হোক, কি এশিয়াতেই হোক। লাতিন আমেরিকাতেও কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, শিক্ষাগুরু হিসেবে তার বিপুল পরিচিতি থাকলেও চিত্রকর রবীন্দ্রনাথের স্বাতন্ত্র্য সম্পর্কে অক্তাবিও পাস ছাড়া আর কেউ লেখেননি। লাতিন আমেরিকায় রবীন্দ্র-পরিচয়ের এই অপূর্ণ দিকটিকে অক্তাবিও পাস তার অসামান্য শিল্পবোধ দিয়ে পূরণ করেছিলেন। কেবল লাতিন আমেরিকাতেই নয়, সম্ভবত সারা বিশ্বেই, রবীন্দ্রনাথের চিত্রকর পরিচয়ের গুরুত্বকে তিনি–পৃথিবীর প্রথমসারির সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে–যে গভীরতায় স্পর্শ করেছেন তা আর কেউই করতে পারেননি।
Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (5) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন saifullah mahmud dulal — december ৩০, ২০১৫ @ ৭:৩৩ পূর্বাহ্ন

      ‘রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা সম্পর্কে অক্তাবিও পাস’ পড়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম। রাজু, আপনি আগেও আমাদের এ ধরণের তথ্যসমৃদ্ধ লেখা পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। আগামীতেও সেও আশা করি।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইকবাল হাসনু — december ৩০, ২০১৫ @ ১০:৩১ পূর্বাহ্ন

      ”ভাবতে আশ্চর্য লাগে এই ভেবে যে কয়েক দশকের ব্যবধানে, রবীন্দ্র-ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে, প্রথার কল্লোল উজিয়ে রবীন্দ্রনাথের এই গভীর আস্থারই প্রতিধ্বনি করেছেন অক্তাবিও পাস।” প্রাবন্ধিক রাজুর মনস্বিতায় মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাপস গায়েন — december ৩১, ২০১৫ @ ১:১০ পূর্বাহ্ন

      সৃজনশীল সত্তা শুধু নিজেকে দেখান না । তাঁর মধ্য দিয়ে আমরা সবাই– লেখক, পাঠক– ক্রমাগত আবর্তিত, প্রতিধ্বনিত, এবং প্রতিফলিত হতে থাকি । অক্তাভিও পাসের মধ্য দিয়ে আমরা দেখছি রবীন্দ্রনাথকে; আর এই দুই প্রতিভাবান মণীষীদের মধ্য দিয়ে আমরা দেখছি কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিনকে । এইভাবে আমরা পাঠকরা এই বিশ্বের ঋষিপ্রবাহে (= সাংস্কৃতিক প্রবাহে) অবগাহন করি ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন zunnu rien — জানুয়ারি ১, ২০১৬ @ ৫:২৪ অপরাহ্ন

      চমৎকার তথ্যবহুল লেখা

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রফি হক — জানুয়ারি ১৬, ২০১৬ @ ২:৪৬ পূর্বাহ্ন

      লেখাটি অস্পস্ট । সম্পূর্ণ নয় ।
      “…রবীন্দ্রনাথের বহুবিধ পরিচয়ের কথা সারা বিশ্ব জানলেও, চিত্রকর রবীন্দ্রনাথের পরিচয়টি এখনও পর্যন্ত অন্য পরিচয়গুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে-পড়া বলে মনে হয়, তা সে ইউরোপেই হোক, কি এশিয়াতেই হোক…” –এটি একেবারেই একটি ভুল ধারণা ।

      শিল্পের জায়গাটিতে রবীন্দ্রনাথ এখনো সর্বচ্চো জায়গাটিতে আছেন, বিশেষ করে ইউরোপে । তিনিই প্রথম এক্সপ্রেশনিস্ট (অভিব্যাক্তিবাদী) শিল্পী এই উপমহাদেশের ।

      ইউরোপের একাধিক মিউজিয়ামে, বিশেষ করে প্যারিসে, সেন্ট্রাল ফ্রান্সের শামালিয়াতে, অস্ট্রিয়াতে তাঁর শিল্পকর্মের সংগ্রহ রয়েছে । ইউরোপের শিল্পীমহল তাঁকে লেখক হিসেবে সেভাবে চেনে না ।

      রবীন্দ্রনাথ যখন শিল্পচর্চা করছেন তখন ম্যাক্স আর্নেস্ট, মার্শাল ডুশাম্পদের দাদাবাদও শেষ হয়েছে । কিন্তু তার জোয়ার ছিলো তখনও । আমি ধারণা করি রবীন্দ্রনাথের ছবি আঁকবার সাহসটি দাদাবাদ থেকে উৎসারিত হয়েছিলো । নাহলে রবীন্দ্রনাথের মতন ডিসিপ্লিনিড মানুষ কখনোই অমন করে সাহসী ছবি আঁকতেন না । রবীন্দ্রনাথ সেকথা বহু চিঠিপত্রে উল্লেখ করেছেন । তার ‘রবিবার’ -এ অভীকের মুখ দিয়ে ছবি আঁকবার অভিপ্রায়ের কথা বলিয়েছেন ।

      এই আলোচনাটি এতটা অল্প পরিসরের ক্যানভাসের নয় । আরও গবেষণার দাবী রাখে ।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com