ঢাকা লিট ফেস্ট ’১৫: দেশ বিদেশের মিলন

অলাত এহ্সান | ২২ নভেম্বর ২০১৫ ৬:০৫ অপরাহ্ন

harold-varmas-0.JPG
মঞ্চে নোবেলজয়ী মার্কিন বিজ্ঞানী হ্যারল্ড ভার্মাস
যুক্তরাজ্যের অঙ্গরাজ্য ওয়েলস-এর রাজধানী ব্রেকনকসায়ার, সংক্ষেপে ব্রকেনসায়ারের বিপনী শহর হে-অন-ওয়ে। সংক্ষেপে হে নামে পরিচিত এই শহরকে অনেকে বইয়ের শহর বলেও চেনেন। তাই বইয়ের প্রাচুর্যে লেখকের সমাবেশ ঘটে অহরহন। ১৯৮৮ সালের মে-জুন মাসে এই হে-অন-ওয়ে শহরেই শুরু হয় ‘হে ফ্যাস্টিভ্যাল’। উদ্দেশ্য, দেশের তরুণ লেখক ও প্রকাশককে উৎসাহ দেয়া। কিন্তু এই ২৮ বছরের দীর্ঘ পরিক্রমায় ‘হে ফ্যাস্টিভ্যাল’ এখন আর হে-অন-ওয়ে শহরের ছোট্ট পরিসরে আবদ্ধ নেই। তাদের উৎসবে যেমন যুক্ত হয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ-এর মতো আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম, তেমনি বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশেই তরুণ সাহিত্যিক ও প্রকাশকরা এই উৎসবের সামিয়ানা টাঙ্গিয়েছেন। যে কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহর, যেমন–কেনিয়ার নাইরোবি, মালদ্বীপ, লেবালনের বৈরুত, উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট, কলম্বিয়ার কার্তাহেনা, ভারতের ক্যারালা ও কলকাতা, গ্রানাডা-আন্দালুসিয়া, আলহামরা, সেগোভিআ, ওয়েলসের ব্রিজেন-এ এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সুতরাং হে ফ্যাস্টিভ্যাল এখন আর কোনো নির্দিষ্ট দেশ-শহরে সীমাবদ্ধ নেই। তবে যেকোনো শহরেই হোক, এটা ওই দেশের ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচয়িতাদেরই উৎসাহ বেশি হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এটা শুধু মাত্র দেশ-বিদেশের লেখক-পাঠক সম্মিলন নয়। এর সঙ্গে আয়োজক দেশ ও শহরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশি লেখকদের নিকট নিজেদের সংস্কৃতিও তুলে ধরার সুযোগ থাকে। আবার ওই দেশের সাহিত্যও ইংরেজি অনুবাদ হয়ে পাঠকের বিশ্ব দরবারেও উপস্থিত হওয়ার প্রক্রিয়া তরান্বিত হয়। ঢাকায় পঞ্চমবারের মতো এই উৎসব অনুষ্ঠিত হল গত ১৯-২১ নভেম্বর। ৩ দিনব্যাপী এই উৎসবে বিদেশি লেখক-সাহিত্যিকদের সঙ্গে প্রবীন তরুণ লেখক-পাঠকদেরও মিলন ঘটে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে।
২০১১ সালে প্রথম এই দেশে হে ফেস্টিভ্যাল বাংলাদেশে আসে, বিশেষ করে কাজী আনিস আহমেদ ও তাহমিমা আনামের উদ্যোগে আয়োজিত হয়। সে বছর ঢাকাস্থ ব্রিটিশ কাউন্সিলের ভেতরেই স্বল্প পরিসরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রীয় টাকায় বিদেশে সাহিত্য উৎসব আয়োজনে যৌক্তিকতা নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক হয়। অনেকের কাছে তা পরের গোয়ালে ধোঁয়া দেয়ার মতো মনে হয়েছে।

গত চার বছরে এটি ছোট থেকে ক্রমশঃ বড় হচ্ছে। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসার ফলে এর আয়তন ও আয়োজন বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। গত তিন বছর যাবৎ এটা বাংলা একাডেমি’র সহযোগিতায় একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে এটি অনুষ্ঠিত হওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।

এ বছরই প্রথম উৎসবটিকে ‘ঢাকা লিটারেরি ফেস্টিভ্যাল’ সংক্ষেপে ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’ নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কাজী আনিস আহমেদ, সাদাফ সায্ ও আহসান আকবারের পরিচালনায় এবারের আয়োজনে দেশে-বিদেশের লেখকের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখ করা মতো। বাংলা একাডেমির প্রধান মঞ্চ ও বর্ধমান হাউসের উত্তরের প্রাঙ্গণকে মূল করে স্থায়ী-অস্থায়ী মোট সাতটি মঞ্চে আশিটির অধিক পর্বে অনুষ্ঠিত হয়।

গত ১৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলা একাডেমির আব্দুল করীম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে গীতিকার ও গায়ক আরমীন মূসার সংগীতের সঙ্গে ‘ঘাসফড়িং চৈর’-এর পাফরমেন্সের মধ্যদিয়ে তিনদিনের আয়োজন উদ্বোধন হয়। ঢাকা লিট ফেস্টিভ্যালের তিন পরিচালক কাজী আনিস আহমেদ, সাদাফ সায্ সিদ্দিক ও আহসান আকবারের সঞ্চালনায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এই ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করেন। তিনি আশা করেন, দেশের সাহিত্য অঙ্গনে এই লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।
nabil-nayantara-kiron-etc-0.JPG
মঞ্চে অন্যান্যদের মধ্যে নয়নতারা সাহগল
এ বছরে আয়োজনের বিশেষ বক্তা হিসেবে সাহিত্য উৎসবে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেখিকা ও শিক্ষাবিদ নয়নতারা সাহগল। সম্প্রতি তিনি ভারতে ‘অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি’র প্রতিবাদে আকাদেমি পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়ে যে প্রতিবাদের সূচনা করেন তা এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ লেখক-প্রতিবাদ। বিশ্ব আবহে ভারতীয় গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সাহিত্যিকদের বাক-লেখার স্বাধীনতায় প্রতিবন্ধক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। বিশ্বের কোনো দেশই বৈশ্বিক-সন্ত্রাস মুক্ত নয় উল্লেখ করে তিনি মনে করেন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আলাদা করে দেখার কিছু সুযোগ নেই। ফেস্টিভ্যালে দৃষ্টিগ্রাহ্য পরিমাণে বিদেশির অংশগ্রহণকে তিনি বাংলাদেশের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গিরই বহিঃপ্রকাশ মনে করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, সাহিত্যের উৎসব সাহিত্যিকদের একত্রিত করার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে দিকনির্দেশনা দেয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও অধ্যাপক কায়সার হক।

প্রথম দিন

এই দিন মোট ২৩ টি সিগমেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ সাংবাদিক ও উপস্থাপক জন স্নো, ওয়াও-ওম্যান অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এর প্রতিষ্ঠাত ও নাট্য নির্দেশক জুড কেলি এবং ইতিহাসবিদ ও শিক্ষাবিদ রামচন্দ্র গুহ’র আলাপচারিতার মধ্য দিয়ে উৎসবের ধারাবাহিক কার্যক্রম শুরু হয়। অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল- ভারতীয় গল্পকার, ঔপন্যাসিক, মঞ্চ ও টিভি নাট্যকার ফাররুখ ধোন্ডির সঙ্গে খাদেমুল ইসলামের আলাপ; দুই খ্যাতিনাম অভিনেতা আলী জাকের ও আসাদুজ্জামান নূরের মধ্যে অন্তরঙ্গ কথোপকথন; হামদাদ আলীর সঞ্চালনায় ফেসবুকের যুগে সাহিত্য নিয়ে তরুণ কবি শাকিরা পারভীন, জাহিদ সোহাগ, হারুণ রশিদ এবং ফাতেমা আবেদিন নাজলা’র আড্ডা; চায়ের আড্ডায় অন্তরা গাঙ্গুলির সঙ্গে ভারতের মলয়লামভাষি ঔপন্যাসিক ও গল্পকার বেনিয়ামিন, কুনাল বসু ও মার্কিন ঔপন্যাসিক মার্সেল থেরক্সের আলাপ; আন্তর্জাতিক সাহিত্য ম্যাগাজিন ‘ওসাফিরি’ সম্পাদক সুশীলা নাস্তা’র সঙ্গে এর বিশেষ সংখ্যা ‘ওয়াসাফিরি : বাংলাদেশ অন দ্য ওয়ার্ল্ড স্টেজ’-এর অতিথি সম্পাদক কাজী আনিস আহমেদ ও আহমদ আকবারের কথোপকথন; বাংলা একাডেমির লনে ‘বাংলাদেশ প্যারাডক্স’ শীর্ষক পর্বে ‘হিমাল’ সাউথ এশিয়ার সম্পাদক অনুহীতা মজুমদারের সঞ্চালনায় বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িকতা ও সংখ্যালঘু সংকট নিয়ে আলোচনা করেন আফসান চৌধুরী, প্রশান্ত ত্রিপুরা, কাসিয়া পেপরোস্কি ও গর্গ চ্যাটার্জি।

বাংলা পর্বে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর সঞ্চালনায় স্বরচিত কবিতা পাঠ করে শোনান ঝর্ণা রহমান, মুহাম্মদ সাদিক, ফরিদ কবির, শিহাব শাহরিয়ার, কবির হুমায়ূন, আলতাফ শাহনেওয়াজ, পিয়াস মজিদ, কাজী রোজী, শামীমুল হক শামীম, মোস্তাফিজ শফি এবং সাজ্জাদ আরেফিন।
সন্ধ্যায় আসলাম সানি’র সঞ্চালনায় পাঁচজন শিশুসাহিত্যিক ছড়া আবৃত্তি করেন–রফিকুল হক দাদু ভাই, মাহমুদুল্লাহ, ফারুক নেওয়াজ, আনজির লিটন, রাজু আলীম, আলম তালুকদার, জাহানারা জানি এবং সঞ্চালকের অনুরোধক্রমে কামাল চৌধুরী। প্রাণবন্ত আলোচনা ছাড়াও শেষে প্রায় প্রতি পর্বে ছিল শ্রোতা-দর্শকদের সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্ব।

দ্বিতীয় দিন

প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী নাশিদ কামাল হৃদয়গ্রাহী নাত-ই-রাসুলের মধ্যদিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় দিন। দ্বিতীয়দিন শুক্রবার হওয়ায় সকাল থেকেই লেখক-পাঠকের সম্মিলন ঘটতে থাকে। এইদিন মোট ৩৩টি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

ইসরায়েলী আগ্রসনে বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনির কবি মাহমুদ দারবিশ বাংলাদেশে অনেকদিন আগে থেকেই পরিচিত। দারবিশের সাহচর্যের স্মৃতি নিয়ে এবারে উৎসবে এসেছিলেন ফিলিস্তিনি কবি, ঔপন্যাসিক ও সম্পাদক ঘাসান জাকতান। তার সঙ্গে আলাপে যোগ দেন ফিলিস্তিনি কবিতা অনুবাদ করে আন্তর্জাতিকভাবে সুখ্যাত অনুবাদক ও কবি ফেডি যোদাহ। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন ব্রিটিশ সাংবাদিক জন স্নো। ঘাসান ইংরেজিতে অভ্যস্ত না হওয়ায় ফেডি দোভাষির কাজটাই করেন। তাদের সুমন্দ্রিত আরবি ও ইংরেজি কবিতা আবৃত্তি শ্রোতাদের আপ্লুত করে। আলাপচারিতা ও কবিতায় উঠে আসে ফিলিস্তিনের সমৃদ্ধ জীবন ও ভয়ংকর অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কবিতা লেখার প্রেরণার কথাও।
muhoni-garlan-chiki-kimeria-and-other-0.JPG
ঢাকা লিট ফেস্ট-এর দ্বিতীয় দিনে ওয়াও-উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে জুড ক্যালির সঙ্গে আলাপে অংশ নেন বাংলাদেশের সাংবাদিক মুন্নী সাহা ও পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার। এছাড়া এইদিনে ‘দ্য লং অ্যান্ড শর্ট অব আইটি’ পর্বে চিত্রগ্রাহক আরিফ হাফিজ, মুনিজে মানজুর, ইহতেশাম কবির ও সাবরিনা ইসলাম তুলে ধরেন তাদের চিত্রগ্রহণের বিচিত্র অভিজ্ঞতা। ‘এ মাল্টি ভার্স অব আইডিয়াজ’ পর্বে অংশ নেন কিউবার সায়েন্স ফিকশন লেখক, সমালোচক, অনুবাদক ও রকস্টার ইয়োস। সাদ জেড হোসেনের সঞ্চালনায় এতে বিজ্ঞানমনস্ক লেখার নানা ধরন ও টেকনিক নিয়ে আরো কথা বলেন ভারতী সাহিত্যিক রনবীর সিধু ও মার্কিন উপন্যাসিক মার্সেল থেরক্স।

বাংলাসাহিত্যের দ্রুপদী কাব্যগ্রন্থ ‘মনসা মঙ্গল’ মোড়ক উন্মোচিত হয় ‘দ্য ট্রায়াম্প অব স্ন্যাক গডেজ’ পর্বে। বেঙ্গল লাইটস প্রকাশিত এই বইটি নিয়ে অনুবাদক নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
অনুবাদক মাসরুর আরেফিনের সঞ্চালনায় ‘মাদার টাং’ পর্বে সাহিত্যে মাতৃভাষার ব্যবহার ও তার অনুবাদ নিয়ে আলোচনা করেন লেখক ও শিক্ষাবিদ মনজুরুল ইসলাম, ক্যারালাভাষি ভারতী প্রাবন্ধিক ও ঔপন্যাসিক কিরণ নাগরকর ও মারাঠি লেখক বেনিয়ামিন।

প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহানের ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস’ নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয় ‘লাইব্রেরি অব বাংলাদেশে’ শীর্ষক পর্বে। মাহফুজ আনামের সঞ্চালনায় এই মোড়ক উন্মোচন আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার কামাল হোসেন। স্মৃতিচারণ আর বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন এই তিনজন।
আরমিন মুসা ও জয়িতা খানের সংগীতে শ্রোতারা আপ্লুত হন বর্ধমান হাউসে অনুষ্ঠিত ‘আনপ্লাগড’ পর্বে। এর আগে অনুষ্ঠিত হয় ‘ইটস অ্যা শি থিংস’। এখানে একদল তরুণী তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি দর্শক-শ্রোতাদের সঙ্গে শেয়ার করেন।

ভারতীয় লেখক ও সাংবাদিক শোভা দে ইতোমধ্যে ইংরেজি ভাষার পাঠক-পাঠিকদের নিকট পরিচিত। অন্তরা গাঙ্গুলি সঞ্চালনায় ‘নেভার এ ডল দে’ শীর্ষক পর্বে সাহিত্য ছাড়াও তিনি নারীবাদী দৃষ্টিতে নারীদের অবস্থান ও বাস্তবতা বিষয়ে কথা বলেন। কবি ও অধ্যাপক শামীম রেজার সঞ্চালনায় কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক নিজের জীবন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন ‘জীবন জুড়ে লেখা’ পর্বে।

‘ট্রান্সলেটিং ব্লুস’ পর্বে কথা বলেন অনুবাদ মাসরুর আরেফিন, ভারতের প্রখ্যাত অনুবাদক ও অধ্যাপক চিন্ময় গুহ এবং একাডেমিসিয়ান ও শিক্ষক রোসিনকা চৌধুরী।

দিনের গুরুত্বপূর্ণ এক পর্বে, উৎসব আয়োজনের পরিচালক কাজী আনিস আহমেদের সঞ্চালনায় সাংবাদিক জন স্নো, নারীবাদী সংগঠক জুড কেলি এবং ভারতীয় শিক্ষাবিদ রামচন্দ্র গুহ ওয়ান ইলেভেন থেকে গত সপ্তাহের প্যারিস হামলার ঘটনা ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সহিংসতা থেকে শুরু করে ভারতের সাম্প্রতিক গো-রাজনীতিসহ রাজনৈতিক বিভিন্ন পটপরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা করেন।

তাছাড়াও ‘আউট সাইড দ্য কমফর্ট জোন’ পর্বে ভারতে সাহিত্যবিষয়ক বেসরকারি প্ল্যাটফর্ম ‘সিক্রেট সক্রেটিস’র প্রতিষ্ঠাতা ও আইনজীবী অবন্তিকা সুজনের সঞ্চালনায় বিশ্বব্যাপী নতুন সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন ওয়াও-ওম্যান অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নাট্য নির্দেশক জুড কেলি, কেনিয়ার স্টোরিমজা, ফেস্টিভ্যালের প্রতিষ্ঠাতা ও সাহিত্যিক মুথোনি গারল্যান্ড, জার্মান-ব্রিটিশ লেখক ও প্রকাশক মেইক জারভোগেল এবং ঢাকা লিট ফেস্ট-এর পরিচালক-প্রযোজক এবং কবি সাদাফ সায্।

তৃতীয় দিন

এই দিন দর্শক-শ্রোতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাছাড়া উৎসবে আসা বইয়ের স্টলগুলো বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য বিশেষ ছাড়েরও সুবিধা দেয়া হয়। এই দিন মোট ২৯টি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৯:৩০ থেকে ১০:১৫, এই সময়ের মধ্যে উৎসবের চারটি স্টেজে একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় চারটি ভিন্ন পর্ব। শুরুতেই বর্ধমান হাউসের দক্ষিণ দুয়ার তথা ‘লন স্টেজ’-এ গুরুদুয়ারার সাধুদের কীর্তন। ধূপ-ধুনার গন্ধের সাথে এসে মিশে গিয়েছে বাংলা একাডিমের প্রঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা ফুল ও ছায়া বৎসল গাছের পাতায় আগমনী শীতের স্নিগ্ধতা। সংগীত চলতে চলতেই হাউজের উত্তর দুয়ারের প্রধান মঞ্চে প্রদর্শিত হয় লেসলি উডউইনের আলোচিত চলচ্চিত্র ‘ইন্ডিয়া’স ডটার’। ছবির প্রতিবাদ্য, পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় পুরুষের ক্ষমতা চর্চার মধ্যেও একজন ধর্ষক পুরুষের ভিক্টিম হয়ে উঠা। অবশ্য দিনের দ্বিতীয় ভাগে ছবিটি নিয়ে নির্মাতার সঙ্গে অভিনেত্রী সারা যাকের ও শিরিন হকের বিতর্কও কম উপভোগ্য ছিল না। নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত এই তিন নারী তাদের দেখা সমাজে নারীর অবস্থান নিয়ে কথা বলেন।

একই সময়ে পাশের ‘কে কে টি স্টেজে’ চলে ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা, গদ্য ও ব্লগ লেখক নুপু প্রেসের চলচ্চিত্রায়নের অভিজ্ঞতার আখ্যান। ‘ক্যারেক্টার’ নামক এই পর্বে তিনি কীভাবে তার অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করেছেন সেই কথাই বলেন। অন্যদিকে এই সময় ভাষা-মঞ্চে চলছিল ‘পপ ফিকশন’ শীর্ষক পর্বটি। বেস্ট সেলার উপন্যাসের ভারতীয় লেখিকা নিরুপমা সুবরামানিয়ামের সঞ্চালনায় এই পর্বে তিনটি বইয়ের উদ্বোধন করা হয়। বেঙ্গল প্রকাশনী থেকে খন্দকার আসিফ উজ জামানের থ্রিলার উপন্যাস ‘ফেডেড’, ডেইলি স্টার বুকস থেকে নেসার নাদিমের ভৌতিক উপন্যাস ‘ডিমন’ এবং শ্রাবন্তী শারমিন আলীর একটি উপন্যাস।
ভারতের সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণাত্মক লেখার জন্য আলোচিত এবং নারীবাদী প্রকাশনা সংস্থা ‘কালী ফর উইমেন’ এবং ‘জুবান’-এর প্রতিষ্ঠাতা উর্বশী বাটালিয়া জুবান-এর নতুন সংকলন প্রকাশ করেন দিনের প্রথম ভাবেই। সম্প্রতি দিল্লিতে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের প্রেক্ষাপটে তৈরি বিভিন্ন লেখার সংকলন এটি।

‘নয়নতারা সাহগল’ পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়েছে এবার ঢাকা লিট ফেস্টের উদ্বোধনী বক্তা নয়নতারা সাহগলের সঙ্গে তার জীবনীকার নারীবাদী লেখক ঋতু মেননের সঙ্গে কথোকথনে। এখানে তিনি স্বাধীনতা-উত্তর সময় থেকে আজকের বিশাল এলাকা জুড়ে ভারতীয় সাহিত্য ও রাজনীতির ভাষ্য নিয়ে কথা বলেন। তার মতে, ঐতিহাসিকভাবে পরমতসহিষ্ণু ও নানা ধর্ম বর্ণের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে যে ধর্মান্ধ রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তার বিপরীতে নিজের অবস্থান জানাতেই আরও চল্লিশজন লেখকের সঙ্গে সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি।
নোবেল পুরস্কার জয়ি হ্যারল্ড ভার্মাস উৎসবের পরিচালক সাদাফ সায্’র সঙ্গে সাহিত্য ও বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনার ‘এ লাইফ ইন আর্ট এন্ড সাইন্স’ পর্বটি ছিল খুবই মনোজ্ঞ। হ্যারল্ড ক্যান্সার নিয়ে গবেষণা ও নোবেল পাওয়ার অভিজ্ঞতার সঙ্গে সাহিত্য পড়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।

‘লন্ডন ফিল্ডস’ অধিবেশনে ইংল্যান্ড প্রবাসী দুই ভারতীয় সাহিত্যিকের কথোপকথনের মধ্যদিয়ে অভিবাসনের যন্ত্রণা ও গল্পের উৎসাহের দিক উঠে আসে। ভারতীয় গল্পকার, ঔপন্যাসিক, মঞ্চ ও টিভি নাট্যকার ফাররুখ ধোন্ডি এবং ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার ‘আকাদেমি এওয়ার্ড’ জয়ি সাহিত্যিক ও অধ্যাপক অমিত চৌধুরী ভরদুপুরে জমিয়েছিলেন এই পর্বটি।
ঢাকা লিট ফেস্ট-এর বাংলা পর্বগুলোর মধ্যে সব চেয়ে হৃদয়গ্রাহী পর্ব ‘কবিদের কবিতা পাঠ’। বাংলা ও ইংরেজি–দুই ভাষাতেই বাঙালি কবিদের কবিতা পাঠ করা হয়। এতে অংশ নিয়েছিলেন নির্মলেন্দু গুণ, চিন্ময় গুহ, মুহাম্মদ নূরুল হুদা আর কামাল চৌধুরী।

নিঃসন্দেহে ইংরেজি ভাষায়ই সবচেয়ে বেশি ভাষিক মানুষের কাছে সাহিত্য পৌঁছে দেয়া সম্ভব, তাই বাংলা সাহিত্যকে ইংরেজি করণের বিকল্প নেই। আবার বিশ্ব সাহিত্যের স্বাদ পেতে গেলেও অনুবাদ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা অনুবাদে ভারতের একাধিক পুরস্কারপ্রাপ্ত অনুবাদক অরুনাভ সিনহা’র সঙ্গে অনুবাদ নিয়ে কথা বলেন ফরিদা হোসেন, মাসুদ আহমেদ, পেন বাংলাদেশের সৈয়দা আইরিন জামান। ‘অনুবাদের অধিকার’–এই পর্ব চিন্তায় বেশ সমৃদ্ধ ছিল।
ইমদাদুল হক মিলনের সঙ্গে সাহিত্যের সার্বজনীনতা নিয়ে আলাপচারিতা উষ্ণ হয়ে ওঠে ‘সাহিত্য যখন সবার’ পর্বে। অংশ নেন আনিসুল হক, আন্দালিব রাশদী, পৌলমি সেনগুপ্ত এবং আতা সরকার। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ’র বিখ্যাত বই ‘গান্ধী বিফোর ইন্ডিয়া’ নিয়ে আলোচনায় হয় ভারতীয় কলাম লেখক গর্গ চ্যাটার্জির সঙ্গে। অন্যদিকে ‘ফ্যামিনিজম: দ্য নেক্সট ফিউচার ওয়ার্ল্ড’ পর্বে জুড ক্যালি, উর্বশী বাটালিয়া, শোভা দে ও তাসাফি রহমানের নারীবাদ নিয়ে আলোচনাও চিন্তা ও মননের কেন্দ্র স্পর্শ করে।
সন্ধ্যার আঁধার ফিকে করে লন স্টেজে শুরু হয় বেহুলার লাচারির জারি। টাঙ্গাইল থেকে আসা বিশেষ দল নেচে গেয়ে মাতিয়ে তুলেছেন লিট ফেস্টের মঞ্চ। বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতির সঙ্গে শহুরে পাঠকরা পরিচিত হওয়ার আনন্দ অনুভব করেন।

পঞ্চম ঢাকা লিটারেরি ফেস্টিভ্যালের শেষ দিনে শেষ পর্ব বসে প্রধান মঞ্চ বাংলা একাডেমি’র আব্দুল করীম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে। ‘ইজ দেয়ার এনি ফিউচার ফর লিবারাল ইন সাউথ এশিয়া?’ শীর্ষক পর্বে দর্শকের উপস্থিতি ও মনোযোগের কমতি ছিল না মোটেই। সাংসদ কাজী নাবিল আহমেদ, ভারতে লেখিকা ও এক্টিভিস্ট নয়নতারা সাহগল, মারাঠি ভাষি লেখক ও সাহিত্যিক কিরণ নাগরকার, ফসিহ আহমেদ ও নেপালের বিকাশ সানগ্রলা। সাংবাদিক ভিক্টর মালেট’র সঞ্চালনায় বক্তারা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ার আগে ব্যক্তি পর্যায়ে মানসিকভাবে গ্রহণের প্রবণতা ও আগ্রহের ওপর জোর দেন। ভারতের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী মৌলবাদের উত্থানে নয়নতারা সাহগল ও কিরণ নাগরকার উদারপন্থা নিয়ে খানিক হতাশ হলেও এর জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই বলে মনে করেন সবাই। আর এই প্রত্যয় নিয়েই শেষ হয় পঞ্চম আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’। বাংলা সাহিত্যকে বিশ্ব দরবারে আরো এগিয়ে নেয়ার জন্য এই ধরনের আন্তর্জাতিক উৎসব সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ।
p1060922.JPG
কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক ও সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
বিগত বছরের ন্যায় এবার বেশ কিছু বিদেশী সাহিত্যিক এই সাহিত্য উৎসবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তারা যেমন স্বদেশে সমাদৃত, বিশ্বেও স্বীকৃত। এছাড়া এসেছিলেন বাংলা একাডেমির পরিচালক ও গবেষক শামসুজ্জামান খান; কমনওয়েলথ শর্ট স্টোরিজ প্রাইজসহ নানা পুস্কারের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশগ্রহণকারী কেনিয়ান লেখক ও সাংবাদিক মহেশ রাও; পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী আসমা জাহাঙ্গীর, চ্যানেল ফোর ইন্টারন্যাশনালের সম্পাদক ও লেখক লিন্সসে হিলসাম; বাঙালি বংশোদ্ভূত কানাডা অভিবাসী কবি গালিব ইসলাম; কবি-শিক্ষক-সাংবাদিক রুবী রহমান; কথাসাহিত্যিক রিজিয়া রহমান; বাংলাদেশের ইংরেজি ভাষার অগ্রগণ্য কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক, লেখক কায়সার হক; ইংল্যান্ডপ্রবাসী ইংরেজিভাষি বাঙালি কবি আহসান আকবার; লেখক-অধ্যাপক নিয়াজ জামান; আবুধাবির সাংবাদিক ওসমান সামিউদ্দদীন; কেনিয়ান লেখক-ট্রাভেল ব্লগার ও বাগ্মী চিকু কিমেরিয়া; ভারতের লেখক ও সাংবাদিক সোনিয়া ফালেইরো; হিমাল সাউথ-এশিয়ান ম্যাগাজিনের সম্পাদক অনুহতা মজুমদার; ওয়াসাফিরি’র সম্পাদক সুশিলা নাস্টা; জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ জুডিথা ওলমেকার প্রমুখ।

আগামী বছর অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা লিট ফেস্ট’র ষষ্ঠ আসর। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমসাময়িক লেখালেখি বিষয়ক ম্যাগাজিন ওয়াসাফিরি এবার তাদের বিশেষ সংখ্যা করেছে বাংলাদেশের সাহিত্যের ওপর। আন্তর্জাতিক মানের একটা ইংরেজি ম্যাগাজিন বেঙ্গল লাইট প্রকাশ হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। তাছাড়া এর সুবাদেই আন্তর্জাতিক প্রকাশকের নজর পড়ছে বাংলাদেশের লেখকদের প্রতি। তবে বলাবাহুল্য যে বাংলাদেশে যারা ইংরেজিতে লিখছেন তাদের উপরই মূল নজরটি বিদ্যমান। আর এই কারণেই মারিয়া চৌধুরী, কাজী আনিস আহমেদ, খাদেমুল ইসলামের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের প্রকাশক তাদের সঙ্গে চুক্তি করছে, বই প্রকাশ হচ্ছে। তবে এর পাশাপাশি যেটা বেশি জরুরী তা হলো এখনকার বাংলাভাষী লেখকদের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম বিদেশী প্রকাশনা সংস্থা থেকে বেরুনো। তবে মন্দের ভালো হিসেবে এখান থেকে বেরুলেও অন্তত অনুবাদ যে হচ্ছে সেটাই আপাতত প্রাপ্তি। তাছাড়া সারা বছরব্যাপী ভাল বইপ্রকাশ ও পাঠের তাগিত তৈরি হবে। সর্বপরি বর্তমান সাহিত্য বিশ্বের সঙ্গে বাংলা সাহিত্যেরও একটা যোগাযোগ গড়ে ওঠছে। তবে যে প্রশ্নটি এই আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবের প্রথমেই ছিল, এখনো তা বিদ্যমান আছে, শুধু বাংলাদেশিদের ইংরেজি সাহিত্য কি সমগ্র বাংলা সাহিত্যের প্রতিনিধিত্ব করে? নিশ্চয় নয়। তাই খুব বেশি কাজ হবে বাংলাদেশের সাহিত্য বেশি মাত্রায় ইংরেজিতে অনুবাদ হওয়া। এতোমধ্যে একটা বাংলা সাহিত্যের ইংরেজি অনুবাদ করানোর নানা উদ্যোগ চোখে পড়তে শুরু করেছে। এবার অনুবাদের মান বজায় রেখে তাকে বিশ্ববাজারে উপস্থান করা জরুরি।
উল্লেখ্য, এবারের সাহিত্য উৎসবেও কয়েকটি ভাল বই প্রকাশ হয়েছে। যেমন বাংলাদেশি-সুইডিশ ঔপন্যাসিক দিলরুবা জেড আরা’র ‘ব্লেম’, নাভিদ মাহমুদের ‘হিউমরাসলি ইউরস’, সুদীপ সেন’র কবিতা সংকলন ‘ফ্রাকটালস’, ঔপন্যাসিক কুনাল বসু’র ‘ক্যালকাটা’ ইত্যাদি। অনুবাদের মধ্যে আছে কায়সার হক’র অনুবাদে ‘মনসামঙ্গল’, নিয়াজ জামানের অনুবাদে সৈয়দ ওয়ালীউল্লার ‘কাঁদে নদী কাঁদো’(ক্রাই, রিভার, ক্রাই)ইত্যাদি।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহযোগিতায় আয়োজিত ঢাকা লিট ফেস্ট’র টাইটেল স্পন্সরে ছিল ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন এবং প্ল্যাটিনাম স্পন্সর সিটি ব্যাংক। অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজনে রয়েছে যাত্রিক। এছাড়া, গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ওরিয়ন ফুটওয়্যার, ইউল্যাব ও ব্র্যাক ব্যাংক। সিলভার স্পন্সরের ভূমিকায় ছিল পুর্নভা লিমিটেড ও ইগনাইট পাবলিকেশন লিমিটেড।
Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (1) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন dipongker goutam — নভেম্বর ২২, ২০১৫ @ ৭:০৮ অপরাহ্ন

      এহসানের লেখাটি তথ্যের চাদরে মোড়া। সবগুলো অনুষ্ঠানের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা উঠে এসেছে লেখায়। যারা এ অনুষ্ঠানে যাননি বা যেতে পারেননি তাদের জন্য লেখাটি গুরুত্ববহ।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com