শঙ্করলাল ভট্টাচার্য:“উনি ইসলামকে এ্যাটাক করে, মোহাম্মদকে এ্যাটাক করে … লিখেছিলেন”

| ২২ আগস্ট ২০১৫ ১:৫৩ পূর্বাহ্ন

[১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন শঙ্করলাল ভট্টাচার্য। তখন আমি আর ব্রাত্য রাইসু বনানীর কোনো এক রেস্তোরাঁয় বসে তার একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। সেটি পরে বর্তমানে বিলুপ্ত সাপ্তাহিক ‘শৈলী’ পত্রিকার বর্ষ ৪ সংখ্যা ১৩, ১৬ আগস্ট ১৯৯৮, ১ ভাদ্র ১৪০৫-এ প্রকাশিত হয়েছিল। সাক্ষাৎকারটিকে বিলুপ্তির গুহা থেকে উদ্ধার করে দিয়েছেন সাহিত্যিক অাহমাদ মাযহার। সাক্ষাৎকারটির সঙ্গে সেসময় যে ভূমিকা ব্যবহৃত হয়েছিল সেটি অপরিবর্তিত রেখেই এখানে তা পুনর্মুদ্রণ করা হলো। — বি. স.]
picture-003.jpg
শঙ্করলাল ভট্টাচার্যের লেখার সঙ্গে যারা পরিচিত তারা রীতিমত ঈর্ষাবোধ করেন এই লেখকের অতুলনীয় গদ্য এবং তার বিষয়বস্তুর চমৎকারিত্বে। ‘ শৈলী’তে ইতিপূর্বে প্রকাশিত তিনটি নিবন্ধ পড়ে তাঁর এই গদ্যের সঙ্গে ‘শৈলী’র পাঠকসমাজ পরিচিত। তাঁর কিছু দার্শনিক গদ্য পড়ে আমি বেশ উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম। পরে ব্যক্তিগত সাক্ষাতে জানতে পারলাম দর্শন তাঁর পাঠ্যতালিকায় বিরাট জায়গা জুড়ে আছে। বছর খানেক আগে যখন তিনি ঢাকায় গাজীভবন-এর আমন্ত্রণে আসেন তখন তাঁর সঙ্গে আমার এবং ব্রাত্য রাইসুর আলাপ করার সুযোগ হয়। কিন্তু ঐ হুল্লোড়ে কথা বলতে অসুবিধা হওয়ায় পরের দিন উনি আমাদেরকে সময় দেন আড্ডার জন্য। আড্ডায় আমাদের সঙ্গে কবি মঈন চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকারটি ঐ আড্ডারই লিখিত রূপ। শঙ্করলাল ভট্টাচার্যের উল্লেখযোগ্য দুটি বই হচ্ছে-‘রাগ অনুরাগ’ এবং ‘দার্শনিকের মৃত্যূ ও অন্যান্য নিবন্ধ’। এছাড়াও ‘কলকাতার কালচার’, ‘পরমা প্যারিস’ তাঁর উল্লেখযোগ্য বই।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: রাজু আলাউদ্দিনব্রাত্য রাইসু


রাজু আলাউদ্দিন:
আচ্ছা শঙ্করদা, আমাদের নেয়া বিভিন্ন লোকের ইন্টারভিউগুলো সবটা দিতে পারলাম না। কোন কোনটা অর্থেক পাওয়া যাচ্ছে। বাকিটা হাতের কাছে পেলাম না। এই যে পুরোটা পাওয়া যাচ্ছে না–এ রকম কোন ফিলসফি আছে কিনা?
শঙ্করলাল ভট্টাচার্য: হ্যাঁ! টেক্সট-এর চেহারাই তো তাই। কোন টেক্সটই তো কমপ্লিটলি রিভিলিং নয়। কমপ্লিট টেক্সট কিন্তু কমপ্লিট নয়। কোন টেক্সটাই কমপ্লিট নয়। এই খোদ বইটা কিন্তু খোদ বই নয়। কাজেই আপনি মানে করা শুরু করলে কিন্তু শব্দের চেহারা ধরা পড়ে। আপনি জানেন যে বাখতিন বলতেন যে ওয়র্ডস আর দ্য মেটেরিয়েল বডিস অব মিনিং, মানে শব্দ হল উর্থের উপাদানগত বা বস্তুগত চেহারা… এটা তো সারাক্ষণই চেহারা বদলাতে পারে, কারণ বস্তুর ধর্মই হচ্ছে চেহারা বদলানো। কাজেই এই ওয়র্ডটাকে আপনি কিভাবে ব্যবহার করলেন, কী মনে করে ব্যবহার করলেন, ভুল ব্যবহার করলেন নাকি আদৌ অন্য কিছু ঢাকার জন্য ব্যবহার করলেন, কিংবা আদৌ ব্যবহার করতে পারলেন কিনা– এই সব মিলিয়ে এমন একটা জিনিস হয় যা অনেকটা হাওয়ার মত কিংবা রাগের মত। রাগের কতগুলো কাঠামো আছে, বাঁধা স্বরলিপি আছে। রবিশঙ্কর একটা রাগ বাজাচ্ছেন, ধরা যাক বাগেশ্রী, আবার আলি আকবর খাঁ বাজাচ্ছেন, বিসমিল্লাহ খাঁ বাজাচ্ছেন কিংবা ধরুন আমির খাঁ সাহেব গাইছেন, বা ফৈয়াজ খাঁ সাহেব গাইছেন আগেরকার দিনের করিম খাঁ সাহেব গাইছেন– একই রাগের চেহারা কিন্তু বদলে যাচ্ছে। বদলে যাওয়ার কারণ হচ্ছে ঐ একই স্বরলিপির বাঁধুনি থেকে কে কত রকম ধুন বা হাওয়া বের করছে। কত রকমের ধুন তৈরি হচ্ছে, হাওয়া তৈরি হচ্ছে। মানে করবো বলে মানে করা, সত্যি মানে বলে আলাদা কিছু নেই। আপনি আমাকে ভালো মানুষ মনে করেন বলে ভালো মানুষ, আপনি আমাকে খারাপ মনে করলে খারাপ হয়ে গেলাম। তার কারণ হচ্ছে মনে করাটা যখন এতখানি ইমপর্টেন্ট…..
ব্রাত্য রাইসু: কিন্তু আমি যদি মনে করি, তবুও এই বই সমগ্র বই না, সেটা আপনি বললেন।
শঙ্করলাল: না, ঐ মানে অর্থে। আমরা মানের দিকটা ভাবছি তো। আমি যদি মনে করি এই বইটা সম্পূর্ণ তাহলেও এটা সম্পূর্ণ নয়। তার কারণ হচ্ছে গিয়ে কোন একটা শব্দের মানে যদি অন্যরকম হয়, কোন একটা প্রয়োগ যদি অন্যরকম হয়, কোন একটা ভুল প্রয়োগ যদি থাকে বা ভুল বয়ান থাকে তো সেগুলো তো থেকেই যাবে। এই প্রসঙ্গে লুইস ক্যারলের ঐ জিনিসটা আমার মনে পড়ছে যে বইটাকে খুললে–ভয়টা হচ্ছে– সব হরফ বুঝি গোলমাল হয়ে যাবে। লুইস ক্যারল ব্যাপারটা একটু মজা করে বলছেন। কিন্তু এই ননসেন্সের মধ্যে এত সেন্স আছে– এটা আপনি আস্তে আস্তে বুঝতে পারছেন। সেন্স এবং ননসেন্স সম্পর্কে একটা বাঁধাধরা বিশ্লেষণ হচ্ছে গিয়ে যে একটা গোধুলিলগ্নে এসে দাঁড়িয়েছে, কখন যে এটা সেন্স আর কখন যে এটা ননসেন্স এটা বলা মুশকিল, কোন রেখা টানা যাচ্ছে না। কিন্তু সেন্সটাই যে ননসেন্স এবং ননসেন্টাই যে সেন্স– এটাও এখন সম্ভব। এরা কেবল এক জায়গায় এসে মিলেমিশেই থাকছে না বা এরা অ্যাকচ্যুয়ালি যেটা সেটা নয় বা অ্যাকচ্যুয়ালি যেটা নয় সেটাও হয়তো….
—————————————————————–
কিন্তু এই ননসেন্সের মধ্যে এত সেন্স আছে– এটা আপনি আস্তে আস্তে বুঝতে পারছেন। সেন্স এবং ননসেন্স সম্পর্কে একটা বাঁধাধরা বিশ্লেষণ হচ্ছে গিয়ে যে একটা গোধুলিলগ্নে এসে দাঁড়িয়েছে, কখন যে এটা সেন্স আর কখন যে এটা ননসেন্স এটা বলা মুশকিল, কোন রেখা টানা যাচ্ছে না। কিন্তু সেন্সটাই যে ননসেন্স এবং ননসেন্টাই যে সেন্স– এটাও এখন সম্ভব।
—————————————————————–

মঈন চৌধুরী: এই বিষয়ে দেরিদা কিন্তু তাই বলেছেন: হায়রার্কি চেঞ্জ অব হায়ারার্কি, উগ্রবিচ্যুতি ঘটছে সারাক্ষণ, ভালো হয়তো বা ভালো নয়, মন্দই হয়তো বা ভালো, তাই না?
শঙ্করলাল: এক্সাক্টলি, হ্যাঁ, এই যে প্রত্যেকটা জিনিসের হাযারার্কিক্যাল সিচুয়েশন বা পুরুষ ও নারী কিংবা অন্ধকারের আগে আলো, কিংবা মন্দের আগে ভালো– এই হায়ারার্কিগুলো কে করেছে? এই হায়ারার্কিগুলো তো আমরাই করেছি। আমাদের একটা ট্রেডিশন অব ফিলসফি আছে, ট্র্যাডিশন অব ইথিক্স আছে যেগুলো আমাদের ডিক্টেট করছে যে এগুলো এভাবে সাজাও– এটা একটা সাংঘাতিক সংঘর্ষের এরিয়া বা ক্ষেত্র। এখন উইমেন্স … লোকরা বলছে আমরা পুরুষের সঙ্গে সমান অধিকার চাই। সেটা করতে গিয়েÑ একটা নতুন চিন্তাধারা হচ্ছে কি হচ্ছে না আমি জানি না, কিন্তু আদৌ যে তাদের মনে হয়েছে তার কারণটা হচ্ছে গিয়ে চিরকালই, স্মরণাতীতকাল থেকেই পুরুষকে নারীর আগে জায়গা দেয়া হয়েছে। এখন উনি (মঈন) যেটা বলছেন যে হায়ারার্কি, এতো একটা ট্রেডিশনের মধ্যে দিয়ে এসে গেছে। এটাকে রাতারাতি বদলানো যাবে না আবার যার জন্য…. দেরিদার তো শক্রর সংখ্যা বেশি, কেমব্রিজ থেকে তাঁকে যখন অনারারি ডক্টরেট দেয়া হলো তখন তো প্রচন্ড চেঁচামেচি শুরু হয়েছিলো। চেঁচামেচির কারণ হচ্ছে তিনি শুধু হায়ারার্কিই নয়, যে জ্ঞানটা ছিলো সেটাকেই তিনি অস্বীকার করছেন। অর্থাৎ আমি যেটা জানছি সেটা আসলে জানছি না– এটা যদি মূলমন্ত্র হয় তাহলে তো কোন কিছু জানা যায় না। এটা দেকার্ত বলেছেন… দেকার্তের ডুয়ালিজম যেটা সেটা খুব ইন্টারেস্টিং। সেটা হচ্ছে গিয়ে অনেকগুলো প্রশ্নের মধ্যে একটা প্রশ্ন উনি করলেন: আগে ছিলো আমি যেটা জানছি সেটা কি জানছি? বা আমি কী জানছি? এটা কী , ওটা কী, সেটা কী– মানুষের প্রশ্ন ছিলো ‘কী’। উনি প্রশ্ন করলেন যেটা আমি জানলাম সেটা কি সত্যিই জানলাম? ওনার বিখ্যাত সেই উক্তি আই থিঙ্ক দেয়ার ফর আই অ্যাম। আমি চিন্তা করি, তাই আমি আছি। উনি বলতে চাইলেন আমি যেটা জানলাম, তার থেকেও সরে আমাকে ভাবতে হবে। যেটা আমি জানলাম সেটা কি আমি জানলাম? কে জানলো?
মঈন: আরেকটা প্রশ্ন এখানে আছে: আমি জানলাম আই থিঙ্ক দেয়ার ফর আই অ্যাম– কিন্তু কে চিন্তাটা করছে?
শঙ্করলাল: ‘কে’টা কে? এই ‘আই’টা কে? খুব ইন্টারেস্টিং, উনি কিন্তু ফর দ্য ফার্স্ট, ইফ ইউ রিমেম্বার ওনার যে দুটো বিখ্যাত, অসাধারণ বই, ‘ডিসকোর্স অন দ্য মেথড’ আর ‘মেডিটেশন’। ওনার এই দুটো চিরস্থায়ী বই কিন্তু আত্মজীবনীমূলকভাবে লেখা। আমার এক্সপেরিমেন্ট, আমি এটা করলাম, এইভাবে করলাম, তারপর দেখলাম, এইভাবে তুলনা করলাম, করে বুঝলাম যে এইভাবে এটা হয় কি হয় না। অর্থাৎ উনি কিন্তু কোথাও ‘উই’ বলছেন না। একজন সায়েন্টিস্ট কী করে সবসময় বলে দেন– দেয়ার ফর উই থিঙ্ক ইট ইজ ট্রু। দেয়ার ফর উই ডু দিস, মানে একটা কালেক্টিভিটির মধ্য থেকে সে করে, কারণ সে ধরেই নেয় এই অবজার্ভেশন বা এই এক্সপেরিমেন্টশনটা একটা বৃহৎ কম্যুনিটির প্রতিনিধি হিসেবে করছি। কিন্তু উনি বলছেন আমার প্রশ্নটাই ওইখানে যে জানাটা এমন একটা ব্যক্তিগত ব্যাপার, সেই ব্যক্তিগত ব্যাপার থেকেই প্রশ্নটা উঠছে: ডাউট। এভরি ফেজ অব নোয়িং ইজ বিয়িং ডাউটেড। তো সেটা তো আমি সারা পৃথিবীর হয়ে ডাউট করতে পারি না। হা: হা: হা:।
ব্রাত্য: এরই প্যারালাল একটা জিনিস বোধ হয় ভারতীয় ফিলোসফিতে আছে, যেমনÑ অনেক দিন আগে আমি পড়ছিলাম “আমি বলিয়া যদি কিছু না থাকে তাহা হইলে আমার ভয়ের কারণ আছে। কিন্তু আমি বলিয়া যদি কিছু না-ই থাকে তাহা হইলে ভয় হইবে কাহার?”
মঈন: এটা কিন্তু শঙ্করদা, দিংনাগ, বসুবন্ধ, নাগেশভট্ট– এঁদের যে দর্শন তার মধ্যে কিন্তু এ সম্পর্কে, বাইনারী অপজিশন সম্পর্কে ভারতীয় দর্শন যে খুব এ্যাডভান্সড ছিলো…
শঙ্করলাল: নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই।
মঈন: আমার এই প্রবন্ধের বইয়ে (সৃষ্টির সিঁড়ি) লিখেছি যে ভারতীয় চার্বাক দর্শন থেকে আরম্ভ করে পরবর্তী যে দর্শনগুলো ডেভেলপ করছে, বেদান্ত, বৈষ্ণব, দিংনাগ, নাগেশভট্ট, বসুবন্ধ– তাঁদের যে চিন্তাধারা ও সুরের ধারা এদের খুব কাছাকাছি। মানবিক চেতনার কাঠামোগত রূপ যে একই রকম হয় এটা সেই কারণেই হয়েছে কিনা তা চিন্তার বিষয়। আমি আবার সেই স্ট্রাকচারালিজম-এ ফিরে যাচ্ছি; আমাদের মনের যে স্ট্রাকচার, যে ল্যাঙ্গুয়েজ স্ট্রাকচার তার কারণেই চিন্তারূপও কিন্তু পশ্চিমে যা, পূর্বেও একই রকম। আমরা পশ্চিমের দিকে তাকাই, পূর্বের দর্শন খুব একটা আলোচনা করি না। আমরা দেকার্তে জানছি, আমরা হেরাক্লিটাস জানি, আমরা দেরিদা পড়ছি, স্পিনোজা জানছি কিন্তু দিংনাগ, বসুবন্ধু, নাগেশভট্ট- এঁরা কী বলছেন সেটা আমরা খেয়াল করছি না।
শঙ্করলাল: এটা কিন্তু বিমল বাবু (বিমল কৃষ্ণ মতিলাল) করতে চেয়েছিলেন। ওনার পারসেপশন যে বইটা তাতে করেছেন কী, এই আমাদের প্রাচ্য চিন্তাগুলোকে তাদের ওয়েস্টার্ন প্যারালাল দিয়ে বিচার করেছেন।
মঈন: করেছেন এটা, না?
img_20150201_205807.jpgশঙ্করলাল: হ্যাঁ, ওয়ান্ডারফুল বুক। তো ওখানে তাঁর আলোচ্য বিষয়গুলো হচ্ছে ‘ন্যায় বৈশেষিক, কিন্তু পাশ্চাত্যে এটা কীভাবে এসেছে, ওরা তো আর এখান থেকে তুলে নিয়ে ওখানে চিন্তা করেনি, ইন্ডিপেন্ডেন্টলি চিন্তা করেছে। কিন্তু এই ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর মাধ্যমেও একটা … কোথায় যেন একটা … এটা হচ্ছে মানুষের মনের চেহারা। এটা হয়তো এরকমভাবে হয়েছে যে আমরা অনেক জিনিস আগে চিন্তা করে বসে আছি, ওরা পরে করেছে আবার ওরা অনেক কিছু আগে চিন্তা করেছে, যেগুলো আস্তে আস্তে দেখা গেছে আমরা চিন্তা করেছি, কিন্তু সেভাবে চর্চায় রাখিনি বহুকাল। তবে ব্যাপারটা হচ্ছে আমাদেরটা তো ঐ যুগে থেমেই গেছে, তার লজিক্যাল কন্টিনিউয়েশন, সেটা তো হয়নি। গোলমাল পাকিয়ে পাকিয়ে এমন হয়েছে যে কয়েকটা লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডসে আমাদের এই চেহারাগুলো পাওয়া গেছে। তারপর একটা সময় আমাদের রিলিজিয়াস ফিলসফি এত বেশি প্রবল হয়ে উঠেছে- সেটা বৈষ্ণব হোক, কি শৈব হোক, কি শাক্ত হোক -সবকিছুকে প্রশ্ন করাটাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। যে-মূহূর্তে আপনি প্রশ্নগুলোকে বন্ধ করতে শুরু করলেন বা একটা ডগমা তৈরি করতে শুরু করলেন তখন স্বাধীন চিন্তাগুলো আটকা পড়ে যায়। ওখানে তো তা হয়নি। ওখানে রিলিজিয়াস ফিলসফারদেরকে আলাদা করে বরং আটকে রাখা হয়েছে। ফলে রিলিজিয়াস ফিলসফারদের কারণে দেকার্ত চিন্তা বন্ধ করেননি, লাইবনিজ বন্ধ করেননি, পাসকালও … পাসকালকে যদিও থিঙ্কার অব রিলিজিয়ান বলা হয়, তবে পাসকাল কিন্তু এক্সিস্টেন্সিয়ালিজমের ফিলসফি তৈরি করেছেন। পাসকাল ইজ দ্য ফার্স্ট এক্সিস্টেন্সিয়ালিস্ট ফিলসফার। এইভাবে ওদের একটা মুক্তচিন্তার ইতিহাস তৈরি হয়েছিলো। কিন্তু আমাদের ইতিহাস এই ব্যাপারটাকে পারমিট করেনি। বিমলবাবু কিন্তু চিন্তার এই সাদৃশ্যগুলো দেখিয়েছেন। হয়তো উনি ন্যায় বৈশেষিকের একটা সূত্র আলোচনা করতে গিয়ে রাসেলে এসেছেন। কখনো হয়তো হেগেলে গেছেন, প্যারালালগুলো দেখিয়েছেন। আরেকটা জিনিস বলছিলেন না যে আমরা পাশ্চাত্যমুখী হয়েছি। এটা উনি বলছিলেন কেন এই রকম হচ্ছে। সেটা হচ্ছে এই যে আমাদের সংস্কৃত পঠনপাঠন এতকাল ধরে ছিলো কাব্য-অভিমুখী। তার কারণ হচ্ছে আপনাকে ‘অলংকার’ পড়তে হবে, ‘কাব্য’ পড়তে হবে, ‘ন্যায়’ পড়ার দিকে কাউকে ঠেলা হতো না। বড় বড় পণ্ডিত যত, একেবারে বিদ্যাসাগর পর্যন্ত তাঁরা সবাই শকুন্তলার নিখুঁত বিচার করে দিচ্ছেন, এপিকগুলোর বিচার করছেন, কিংবা অমরু, ভাস- এঁদের এত সুন্দর বিচার করছেন যে দেখে তাজ্জব হতে হয়। কিন্তু চিন্তার দিকে, ‘ন্যায়’- এর দিকে বাঙালিদের একটা শ্লথ ব্যাপার থেকেই গেছে। ফলে হয়েছে কী দর্শন জানতে গেলে প্রথমেই যেটা দরকার সেটা হচ্ছে ভাষা, এক্ষেত্রে সংস্কৃত ভাষা, সেটা দখল করতে গিয়ে জীবন কেটে গেছে। বিমল বাবু, সুকুমারী ভট্টাচার্য -এঁরা ব্যতিক্রম। সুকুমারী অবশ্য দর্শনের নন, কিন্তু সংস্কৃত দখলে আছে বলে উনি তখনকার কাব্যের চেহারা ধরে ধরে নারীর অবস্থান কী, নারীর প্রতি অবিচারগুলো কী রকম ছিলো তা তুলে ধরেছেন। আমাদের হয় কী, স্কুলে পড়ি বাংলা, ইংরেজি, এখন ইংরেজিতে তো ভারতীয় দর্শন পড়ার কোন মানে হয় না। ভারতীয় দর্শন পড়ার ডিমান্ডটা ফিল করি কখন? যখন ওয়েস্টার্ন ফিলসফি পড়ার পরে বুঝতে পারছি যে আমাদেরও দর্শন আছে। কিন্তু তখন আর সংস্কৃত শেখার বয়স নেই। এই একটা মুশকিল।

ব্রাত্য: আবার যারা সংস্কৃত শেখে তাদের আবার দর্শনের দিকে অতটা আগ্রহ থাকে না।
রাজু: বা অন্যদিকে চলে যায়।
শঙ্করলাল: হ্যাঁ, হ্যাঁ। আর এমনিতে দর্শন সাবজেক্ট হিসেবে পড়া ঠিক আছে, কিন্তু একটা বুঝদারী নিয়ে দর্শনকে দর্শন হিসাবে পড়া সেটার জন্য একটা বয়স দরকার। সেই বয়সে গিয়ে কেউ আর সংস্কৃত পড়তে চায় না। এবার ঐ প্রসঙ্গে একটু আসি; সবকিছুর মূল কথা যে- ‘ভাষা’, এটা তো ভিটগেন্সটাইনও বলেছেন। ভিটগেন্সটাইনের লিঙ্গুয়িস্টিক্স-এর জায়গায় যখন এলাম তখন বুঝতে পারলাম যে দর্শন আসলে কিছুই না আনলেস ইউ নো হোয়াট ইজ ল্যাঙ্গুয়েজ। এই ল্যাঙ্গুয়িস্টিক্স- এ সারা পৃথিবীর সত্য আবদ্ধ। অর্থাৎ সবকিছু ভাষা। মানে ভাষা দিয়ে ওটা বলতে পারলাম কি পারলাম না, ব্যাখ্যা দিতে পারলাম কি পারলাম না। আমার জানাটা হচ্ছে ভাষা ওরিয়েন্টেড। একটা শিশুর যেমন ভাষা নেই, কাজেই তার কোন আকাশও নেই। এ চাইল্ড হু ডাজন্ট নো ল্যাঙ্গুয়েজ ডাজ নট হ্যাভ এ স্কাই। এইটা আকাশ, ওইটা অমুক, ওইটা তমুক – একটা বাচ্চা যখন এসব শিখতে শুরু করে তখন একটা আইডিন্টিফিকেশনের খেলা শুরু হয়। অর্থাৎ সে এসব জানছে বাই ল্যাঙ্গুয়েজ; একটা শব্দ দিয়ে একটা জিনিসকে জানছে। একটা ভাষা ছাড়া কোনো জিনিস আমাদের কাছে নেই, বুঝতে পারছেন? আপনার কাছে ‘ক্যাসেট’ শব্দ ছাড়া ক্যাসেটই নেই। আমি তো বলতেও পারছি না এই ‘ক্যাসেট’টা ছাড়া এই ‘বস্তু’টা নেই বড়জোর। ভাষাটা কোথায় চলে গেছে ভাবুন … যেখানে আমার আলটিমেট পারসেপশন অব রিয়ালিটি হচ্ছে ভাষা, মানে আমি যা-ই চিন্তা করতে চাই, আমি যখন মনে মনে আকাশ দেখছি আমি কিন্তু তখন মনে মনে ‘আকাশ’ কথাটা ব্যবহার করছি। ‘আকাশ’ শব্দটা কিন্তু ঐ থট স্ট্রীমের মধ্যে একেবারে খোদাই হয়ে আছে, এখনভাবে আছে যে ওটাকে আর আলাদা উচ্চারণ বা বলার দরকার হচ্ছে না। আপনি কাউকে ভালোবাসলে তাকে বলার দরকার হয় না। ‘আমি তোমাকে ভালবাসি’ বা ‘আই লাভ ইউ’ বলার দরকার হয় না। ঠিক সেই রকম আমাদের রেজিস্ট্রেশন অব রিয়ালিটি ইলেক্ট্রিক তো … যেমন চোখ খুললে আপনি একটা বাড়ি দেখতে পাচ্ছেন, একটা গাড়ি দেখতে পাচ্ছেন, নানান জিনিস দেখছেন। দেখার সঙ্গে জানছেন। বিমলবাবু তাঁর পারসেপশন– এ সংস্কৃত শাস্ত্র থেকে উদাহরণ দিয়ে বলেছেন যে অন্ধকারে একটা হাঁড়ির মধ্যে আলো জ্বলে উঠলো, এখন আলো জ্বললো বলে হাঁড়িটা দেখলেন নাকি …. অর্থাৎ জ্ঞান হওয়ার জন্যেই কি আপনি জিনিসটা জানলেন, মানে মনের আলো তৈরি হলো বলে জিনিসটা জানলেন, অন্ধকারে তো আপনি হাঁড়িটাকে দেখেননি, আপনার ভেতরে জ্ঞান হওয়ার আগে থেকেই জিনিসটা ছিলো কিন্তু আপনি জানতেন না।
রাজু: এটা কি এ প্রায়ওরি কোনো ….
শঙ্করলাল: না, ইন্সট্যান্টেনিয়াস, মানে …
মঈন: যেমন ধরেন, ‘শঙ্করলাল ভট্টাচার্য’ বলে একজন আছে, এটা আমি একঘন্টা আগেও জানতাম না। তার মানে এই মূহূর্তে আমি এটা জানলাম। তার মানে এর আগে যেই ব্যাপারটা ছিলো তাহলো ‘শঙ্করলাল ভট্টাচার্য’ বলে কেউ নেই, তার মানে উনি একটা বাইনারি অপজিশন সৃষ্টি করলেন আমার জন্যে। ‘ নেই’- এর বিপরীতে এখন উনি ‘আছেন’।
শঙ্করলাল: উনি বাইনারি অপজিশনের কথাই বললেন, না-থাকার বিরুদ্ধে। অর্থাৎ থাকতে হলে কারো বিরুদ্ধে থাকতে হবে। হাঃ হাঃ হাঃ। তাছাড়া, সংস্কৃত শাস্ত্র থেকে ঐ যে প্রশ্নটা করলেন: আলোটা জ্বললো বলে হাঁড়িটা দেখলাম। কিন্তু অন্ধকারে হাঁড়িটা ছিলো।
রাজু: এর ভেদ কিভাবে জানা যায়? হাঁড়িটা তো ছিলো।
শঙ্করলাল: এটা একটা কগনিশন। একটা জিনিস পৃথিবীতে আছে, কিন্তু এই বিষয়ে যখন আপনার মধ্যে জ্ঞান হলো ঠিক সেই মুহূর্ত থেকে এটা আপনার জন্য থাকতে শুরু করলো।
রাজু: কিন্তু তার আগে থেকেই তো এটা রয়ে গেছে।
border=0শঙ্করলাল: ছিলো কিন্তু তা আপনার কাছে তো ছিলো না। বুঝতে পারছেন তো যেমন ধরুন, এই রেকর্ডের বাইরে আপনাকে ব্রায়ান ম্যাগির বইটার (দ্যা গ্রেট ফিলসফারস) কথা আমি আপনাকে বললাম, আপনি কিন্তু বইটা দেখেন নি, কিন্তু এই মূহূর্ত থেকে বইটা আবছাভাবে এখন আপনার কাছে আছে। এর আগেও কিন্তু ছিলো না। যেদিন আপনি বইটা কিনবেন এবং হাতে ধরবেন সেদিন এটা অন্যভাবে থাকবে। এই থাকার কিন্তু কতগুলো ধরন আছে। আপনার কাছে এরিস্টটল আছে, সফোফ্লিস আছে, ইউরিপিডিস, সক্রেটিস আছে কি ইস্কিলাস আছে একভাবে। আবার আপনার কাছে শামসুর রাহমান কি আল মাহমুদ আছে আরেকভাবে। আগের ক’জনকে আপনি কেবল পড়ে জানেন আর বাকিদেরকে আপনি পড়েও জানেন এবং সামনাসামনিও জানেন। প্রভাব কিন্তু অন্যরকম। শামসুর রাহমান কি আল মাহমুদ -এরা আপনার ভিতরে ততখানি নেই যতখানি সক্রেটিস আছে বা এ্যারিস্টটল আছে। কারণ আপনি কোনো কিছু চিন্তা করার সময় আল মাহমুদকে ব্যবহার করছেন না, হি ইজ নট এন ইনস্ট্রুমেন্ট ইন ইউর থিঙ্কিং টু দ্যাট এক্সটেন্ট। কিন্তু আপনি পৃথিবীটাকে দেখেন একটা সক্রেটিক ভিউতে কিংবা এ্যারিস্টটলিয়ান ভিউতে কিংবা কার্টেজিয়ান ভিউতে কিংবা হেগেলিয়ান ভিউতে এবং এটা এমনভাবে আছে যে এটা অনেক গভীরভাবে আপনার ভিতরে আছে। এবং দর্শন এবং দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আপনি পৃথিবীকে দেখছেন, তাদের কাউকে হয়তো চোখেও দেখেননি, তাদের যে মূর্তিগুলি সেগুলো হয়তো জানেন না আদৌ তাদের কিনা, এবং তাদের যে টেক্সট সেটাও তাদের কিনা সে নিয়েও সন্দেহ থাকতে পারে। হাঃ হাঃ হাঃ।
মঈন: এটার ব্যাপারে আমি বলেছিলাম যে আমি থেকে যে যৌগ-আমি, আমি কখনো ইন্ডিপেন্ডেট আমি না, আমি হচ্ছি …
শঙ্করলাল: কম্পোজিশন অব সো মেনি এলিমেন্টস, ইভেন অপোজিট এলিমেন্টস। এই যে মাহমুদ সাহেবের সাক্ষাৎকারে পড়লাম, তিনি বলেছেন, ‘কাল খেয়ে নিয়েছে মার্ক্সবাদকে’। এটা তাঁর কত ভিতরে রয়েছে যে বারবার ওনাকে বলতে হয়। তার মানে হচ্ছে গিয়ে অপজিশন অব হিমসেলফ, এটা বাইনারি অপজিশনের চূড়ান্ত চেহারা, এজ ইফ উনি থাকতে পারেন ওটা না-থাকতে পারলে। মানে সামনে থাকবে কিন্তু না থাকা ভালো। হাঃ হাঃ হাঃ।
ব্রাত্য: আচ্ছা, কালকে সাজ্জাদ ভাইয়ের সঙ্গে তর্ক হচ্ছিলো: আমরা যে চিন্তা করি এটা কি ব্রহ্মাণ্ডের অংশ? আমাদের চিন্তা, আমাদের ব্যথা?
শঙ্করলাল: হ্যাঁ, হ্যাঁ, এ্যাবস্যুলিটলি, এ্যাবসুলিটলি।
মঈন: বিশ্ব এবং আমি আলাদা কিছু না। আমার ব্যথা, আমার দুঃখ …
ব্রাত্য: কিন্তু কেন, কেন এটা এই রকম? আমি ব্রহ্মাণ্ডের মইধ্যে আছি বইলা?
মঈন: উই আর পার্ট অব দিস ইউনিভার্স।
ব্রাত্য: আমরা তো ব্রহ্মাণ্ডের বাইরেও থাকতে পারি?
শঙ্করলাল: না, তাহলে আবার আপনাকে হকিং-এ যেতে হবে।
ব্রাত্য: ধরেন, ব্রহ্মাণ্ড আমারে ঘিরা আছে আমি ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে নাই -এই রকম হইতে পারে।
শঙ্করলাল: ব্রহ্মাণ্ড তো আপনি সৃষ্টি করছেন। ইট এগজিস্টস বাই ইউর ওনসেফ।
ব্রাত্য: ব্রহ্মাণ্ড বলতে যা বুঝি আমার চিন্তাও কি তার অংশ?
শঙ্করলাল: হ্যাঁ। এটা একটা ইন্টার এ্যাক্টিভ সিস্টেম। ব্রহ্মাণ্ড যেমন আপনাকে ছাড়া নেই, তেমনি আপনিও ব্রহ্মাণ্ড ছাড়া নেই। আপনি যদি মনে করেন আপনি ব্রহ্মাণ্ডে নেই তাহলে আপনি কোথায় আছেন? আপনি কি মনে করেন আপনি নেই?

—————————————————————–
কমলকুমার মজুমদার আমাদের বলতেন, ব্যাঙ কি জানে তার লাতিন নাম কী? হাঃ হাঃ হাঃ। হি ডাজ নট এক্সিস্ট ফর লাতিন ল্যাঙ্গুয়েজ। লাতিনভাষীরা জানে ব্যাঙ আছে, কিন্তু ব্যাঙ জানে না লাতিন ভাষা আছে।
—————————————————————–

ব্রাত্য: না, আমি আছি, ঠিক আছে। কিন্তু আমার চিন্তা তো থিং না।
শঙ্করলাল: ইউ কান নট থিং অব নাথিংনেস। নিশ্চিহ্ন একটা কিছুর চিন্তা করতে পারেন?
রাজু: এটা সম্ভবই না।
ব্রাত্য: আপনি ব্যথা পাইলেন, এটা তো ব্রহ্মাণ্ডের অংশ না।
শঙ্করলাল: আপনি যখন অংশ তখন সেটাই বা নয় কেন।
ব্রাত্য: এইটা তো সেই ধরনের লজিক যে টেবিলের উপর গ্লাসটি আছে, টেবিল মাটিতে আছে, সুতরাং গ্লাসটি মাটিতে আছে।
শঙ্করলাল: আসলে তাই তো। আপনি চিন্তাকে ধরুন। এই পুরো বিশ্ব এটাতো কতগুলো চিন্তায় ধরা আছে, আদারওয়াইজ তো কিছু নেই। আজকে বলা হচ্ছে ইউনিভার্স ওয়াজ ক্রিয়েটেড, যে রাফলি ফিফটিন বিলিয়ন ইয়ার্স ফ্রম নাউ। ধরুন, দেড় হাজার কোটি বছর আগে। এখন এটা আপনি কনসিভ করছেন বলেই তো এটা হয়েছে, আপনি অংক করে বার করছেন বলেই তো এটা বলছেন তাই না? তার মানে আপনি চিন্তা করে এটা বার করছেন।
(মাঝখানে কিছু সময়ের বিরতি। তারপর আবার কথোপকথন শুরু হয়। )
শঙ্করলাল: আমরা কোথায় ছিলাম যেন?
রাজু: আমরা তো নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। উই অয়ার ট্রাভেলিং ইন হাইপার রিয়ালিটি।
শঙ্করলাল: হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন। হাঃ হাঃ হাঃ।
রাজু: আপনার ‘দার্শনিকের মৃত্যু ও অন্যান্য নিবন্ধ’- প্রথম যে প্রবন্ধ ‘দার্শনিকের মৃত্যু’, তাতে আপনি গাজ্জালীর ‘তাহাফুত-উল-ফালাসিফা’ থেকে রোলাঁ বার্থ-এর তত্ত্ব পর্যন্ত একটা ইতিহাস তুলে ধরেছিলেন। এই যে ইতিহাসটা পশ্চিমে আমরা দেখতে পাচ্ছি– ঠিক এরকম কোন ইতিহাস কি আমাদের এখানে আপনি পেয়েছেন? মানে ইন্ডিয়ান ফিলসফিতে?
ব্রাত্য: ধারাবাহিকভাবে কি সেটা আছে?
শঙ্করলাল: না, থাকার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ এটা প্রায় স্বতঃসিদ্ধ একটা ব্যাপার হয়ে গেছে যে আমি যদি একটা কিছু বলি তাহলে ওঠার একটা বিপরীত সাড়া থাকবে। ফলে ঐভাবে চিন্তার কোন ধারাবাহিকতা আমাদের নেই।
মঈন: যেমন, আরেকটা জিনিস: আমাদের কিছু বাইনারি অপজিশন রয়েছে। যেমন বাংলাদেশী-বাঙালি, জল-পানি, প্রগতিশীল প্রতিক্রিয়াশীল।
শঙ্করলাল: এগুলো ভাষাগত …
মঈন: কিন্তু এর পিছনে …
শঙ্করলাল: একটা এথনিক সিস্টেম কাজ করছে।
মঈন: এক্সাক্টলি।
img_20150201_205813.jpgশঙ্করলাল: কারণ আলাদা করে একটা শব্দ তৈরি করা হচ্ছে কিন্তু মানেটা একই রকম রয়ে যাচ্ছে। ঐ যে বাখতিনের যে কথাটা রয়েছে: হোয়াট আর দ্য ম্যাটেরিয়াল বডিস অব মিনিং–এটা যদি বলি … ম্যাটেরিয়াল বডিস মিনিং বলছে বাখতিন মানে কতটা কাছে। ভিটগেনস্টাইনে এই বিষয়টা এসেছে, যেমন মানেটা কী? যতগুলো শব্দ দিয়ে একটা অর্থ প্রকাশ করা হচ্ছে, তা এর সমস্ত সামেশন। আমরা যদি ‘গাছ’ বলি তাহলে আমরা ‘উদ্ভিদ’ বলতে পারি। ‘তরু’ বলতে পারি, ‘গাছ’টা এই সবগুলো মানেই ধারণ করে, কিংবা এরচেয়েও বেশি। তার কারণ হচ্ছে, আমি আরও এ্যাড করতে পারি। যে-লোকটা ‘গাছ’ শব্দের মানে জানে না, হয়তো তার কাছে এই জিনিসটার অস্তিত্ব ‘গাছ’ হিসেবে নেই; কিন্তু এই জিনিসটা তো আছে। এটা কিন্তু মানের অঙ্গ, বিকজ ইট ইজ অ্যান এক্সটেনশন অব হিজ রিয়ালিটি। যেমন, একজন মরুভূমির দেশের লোক, সে কখনো বৃষ্টি দেখেনি। সে যখন বৃষ্টির দেশে এলো; তার কাছে এটা অপরিচিত এবং এটার নাম তার জানা নেই।
রাজু: এই প্রবলেমটার কথা আপনি ‘দার্শনিকের মৃত্যূ’ প্রবন্ধটিতে এনেছিলেন, ঐ যে বোর্হেসের ‘আভেরুশ’ গল্পটিতে আভেরুশ এ্যারিস্টটলের অনুবাদ করতে গিয়ে ট্রাজেডির মানেটা সে বুঝতে পারছে না ….
শঙ্করলাল: হ্যাঁ, তাঁর কাছে ট্রাজেডির মানেটা নেই।
রাজু: আরবীতে ট্রাজেডির অনুরূপ কোন শব্দ বা মিনিং নেই।
শঙ্করলাল: ট্রাজেডি নেই। সে জন্য বুঝতে পারছে না। যদিও সে জানছে যে এটাকে একটা থিয়েট্রিকাল আর্টের মধ্যে বা লিটারেরী আর্টের মধ্যে ধরা হয়। কিন্তু ট্রাজেডিটা যে কী … তার মানে কী, সে মৃত্যূ দেখেনি বা বিবাহ বিচ্ছেদ দেখেনি বা মানুষে মানুষে বিচ্ছেদ দেখেনি?
রাজু: সবই সে দেখেছে কিন্তু …
শঙ্করলাল: হি ডাজ নট নো, দ্য কনসেপ্ট ডাজ নট বিলং টু হিম, বিকজ হি ডাজ নট হ্যাভ এ ওয়র্ড।

—————————————————————–
ঠিক এই কারণে হি ইজ সাচ এ ফেভারিট অথার অব মাইন এন্ড ফর মেনি অব আস। সে হচ্ছে বোর্হেস। বোর্হেস মনের মত জগৎ-বিশ্বকে ঘোল পাকাচ্ছে। একেবারে দুমড়ে মুচড়ে দিচ্ছে-এই যে জিনিসটা, এটা হচ্ছে সাহিত্যের এক সেরা খেলা। এইটুকু একটা বইয়ের মধ্যে, ল্যাবিরিন্থ বলে একটা বইয়ের মধ্যে পৃথিবীটাকে দুমড়ে মুচড়ে ভেঙেচুড়ে কত কাণ্ড করে দিলো, তাও আবার লজিক্যালি সেটা করছেন তিনি। দেয়ার ইজ নো ইললজিক্যালিটি ইন এনি সেন্টেন্স হোয়াটসোএভার। ইট ইজ এ হাইলি সায়েন্টিক ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড উইথ লিটারেরী বিউটি।
—————————————————————–

রাজু: থিয়েট্রিকাল ঘটনা দেখার পরও কিন্তু গল্পের চরিত্রটি বুঝতে পারছে না। কারণ গল্পের এক পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে তিনি অনুবাদ করতে গিয়ে বার বার যখন ‘ট্রাজেডি’ এবং ‘কমেডি’ শব্দ দুটো পাচ্ছেন তখন তিনি থেমে পড়ছেন; শব্দ দুটোর মানে তার কাছে জানা নেই। অনুবাদ বন্ধ রেখে তিনি জানালার কাছে দাঁড়িয়ে বাচ্চা ছেলেদের খেলাধূলা দেখতে লাগলেন, দেখছেন যে একটা ছেলে আরেকটা ছেলের কাঁধের উপর মিনারের মত দাঁড়িয়ে আজান দিচ্ছে। থিয়েটারিক্যাল এই দৃশ্যটা সে দেখছে কিন্তু মানেটা তার জানা নেই।
শঙ্করলাল: একটা দ্বন্দ্বে উনি জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে গেলেন। তো এই হচ্ছে সমস্যা। কমলকুমার মজুমদার আমাদের বলতেন, ব্যাঙ কি জানে তার লাতিন নাম কী? হাঃ হাঃ হাঃ। হি ডাজ নট এক্সিস্ট ফর লাতিন ল্যাঙ্গুয়েজ। লাতিনভাষীরা জানে ব্যাঙ আছে, কিন্তু ব্যাঙ জানে না লাতিন ভাষা আছে। একটা অজ্ঞান-অস্তিত্ব এবং সজ্ঞান-অস্তিত্ব বা সজ্ঞান-ভ্রম বা বোধ–এ দুয়ের যে দ্বন্দ্ব তা চিরকালই থাকবে। আমরা এখন বাইনারি অপজিশনগুলো আরও ডেলিকেট ফর্মে পাচ্ছি। আপনি যদি মার্ক্সবাদী হন তাহলে আপনি লড়াই করছেন বিপরীত ধারণার সঙ্গে।
ব্রাত্য: কিন্তু ফিলসফির চর্চাও যখন হয় সেগুলো আমরা বেসিক্যালি রাজনৈতিক অবস্থান থেকেই করি, নাকি?
শঙ্করলাল: নাহ! রাজনৈতিক অবস্থান থেকে দর্শনকে বিচার করার আগে থেকেই তো দর্শন ছিলো। এবং দর্শন থেকে এই পলিটিক্যাল স্ট্যান্টগুলো বেরিয়েছে। মার্ক্সবাদের আগেও কিন্তু দর্শন ছিলো। মার্ক্সের আগে দার্শনিকরা বলছে পৃথিবী কী বিস্ময়, কী অদ্ভুত -এইসব ব্যাখ্যা করছে। কিন্তু মার্ক্স বললেন পৃথিবীটা আমরা চেঞ্জ করে দেব-এটা একটা ভেরী লোকাল কনস্টিটিউশন। এর কিন্তু ক্ষমতা অতখানি নয়, এটা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডকে চেঞ্জ করতে পারবে না। ঐ এলিয়টের কথা:‘ক্যান আই চেঞ্জ দ্য ইউনিভার্স ফর আ মোমেন্ট?’ এই সমস্যাগুলো, আমরা তো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে চেঞ্জ করতে পারি না, আমরা সমাজ ব্যবস্থা বদলে দিতে পারি, আংশিক বদল আমরা আনতে পারি।
মঈন: এটা বোধ হয় ফ্যান্টাসী, আমরা ফ্যান্টাসী করতে পারি যে আমরা চেঞ্জ করবো।
শঙ্করলাল: ইন্টারেস্টিং হচ্ছে যে, … ঠিক এই কারণে হি ইজ সাচ এ ফেভারিট অথার অব মাইন এন্ড ফর মেনি অব আস। সে হচ্ছে বোর্হেস। বোর্হেস মনের মত জগৎ-বিশ্বকে ঘোল পাকাচ্ছে। একেবারে দুমড়ে মুচড়ে দিচ্ছে-এই যে জিনিসটা, এটা হচ্ছে সাহিত্যের এক সেরা খেলা। এইটুকু একটা বইয়ের মধ্যে, ল্যাবিরিন্থ বলে একটা বইয়ের মধ্যে পৃথিবীটাকে দুমড়ে মুচড়ে ভেঙেচুড়ে কত কাণ্ড করে দিলো, তাও আবার লজিক্যালি সেটা করছেন তিনি। দেয়ার ইজ নো ইললজিক্যালিটি ইন এনি সেন্টেন্স হোয়াটসোএভার। ইট ইজ এ হাইলি সায়েন্টিক ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড উইথ লিটারেরী বিউটি।
ব্রাত্য: শঙ্করদা ঐ জায়গাটায় আবার আসি, আমি যখন ভাবি সেই ভাবনাটা ব্রহ্মাণ্ডেরই অংশ, এবং ফ্যান্টাসীও যদি ব্রহ্মাণ্ডেরই অংশ হয়, তাহলে ফ্যান্টাসীর মাধ্যমে আমরা ব্রহ্মাণ্ড ওলটপালট করতে পারি- আমরা সেটা কেন করতে পারি না? তাহলে ব্রহ্মাণ্ড চেঞ্জ করতে পারি না, তা তো না?
শঙ্করলাল: এটা একটা পারসেপশনের কথা বলছেন। ল্যাবিরিস্থ– এ ব্রহ্মাণ্ড চেঞ্জ করছেন বলে ব্রহ্মাণ্ড চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে তা তো না। উত্তর দক্ষিণ তো বদলায় নি। উনি ফ্যান্টাসাইজ করে করছেন, উলটপালট করে দেখতে কী রকম লাগে।
ব্রাত্য: সেটা একটা লেভেলে, কিন্তু বলতে চাচ্ছি ফিলসফিগত ….
শঙ্করলাল: পাসকালেই যেতে হয় আবার। পাসকাল বলেছেন, কী বৃহৎ এই বিশ্ব, হাউ ইনফিনিট ইজ দ্য ইউনিভার্স এন্ড হাউ লিটল, ইনসিগনিফিকেন্ট আই এ্যাম। মানে আমি এই সামান্য ক্ষুদ্র সত্তাটি চিন্তা করতে পারি। কিন্তু এই সারা বিশ্ব চিন্তা করতে পারি না। আমি চিন্তা করতে পারি বলেই এই জিনিসটা অস্তিত্ব পেলো, কারণ মহাবিশ্ব জানে না সে আছে। দেকার্তেও তাই, আই থিঙ্ক দেয়ার ফর আই এক্সিস্ট। আমি চিন্তা করি বলে পৃথিবীটাও কিন্তু আছে। অথচ জড় পৃথিবী জানে না সে আছে।
ব্রাত্য: বোর্হেস নিয়ে কী যেন বলতে চাইছিলেন।
শঙ্করলাল: আপনি একটু আগে বলছিলেন ব্রহ্মাণ্ড চেঞ্জ করাকরি নিয়ে। এ নিয়ে প্রাসঙ্গিক একটা কথা আছে বোর্হেসের। বোর্হেসের একটা প্রবন্ধ হচ্ছে ‘দ্য ফিয়ারফুল স্ফিয়ার অব পাসকাল’। উনি বলছেন যে ওনার আগে জোর্দানো ব্রুনোও এটা চিন্তা করেছিলেন, উই ক্যান এসার্ট উইথ সার্টিচ্যুড দ্যাট দ্য সেন্টার অফ দ্য ইউনিভার্স ইজ এভরিহয়ার অ্যান্ড ইটস সার্কম্ফারেন্স নোহয়ার।
রাজু: আমাদের এখানে কিন্তু বোর্হেস অনুরাগী বেশ লোকজন আছেন। আপনার মত আমাদের অনেকেরই তিনি প্রিয় লেখক।
শঙ্করলাল: হ্যাঁ। আপনি একটা সংকলন করবেন বললেন না, ওটা সত্যি করা উচিত।
রাজু: আপনার জম্ম কত সালে?
শঙ্করলাল: আমার জম্ম ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্টে। আমি এ্যাকচুয়ালি মিডনাইটস চাইল্ড।
রাজু: বোর্হেসের জম্মও অগাস্টে, সম্ভবত ২৪ তারিখে।
শঙ্করলাল: উড ইউ বিলিভ ইট এ্যাকচুয়ালি ভোররাতে, মিউনাইটেস আমার জম্ম।
রাজু: আপনিও তাহলে রুশদীর মিডনাইটস চিলড্রেন।
শঙ্করলাল: হ্যাঁ। বলতে পারেন। আমার ছোটবেলার একটা ঘটনা বলি। আমার বাবার একটা চমৎকার লাইব্রেরী ছিলো, নানান ধরনের বই ছিলো। আইনের বইতো ছিলোই। বাবা মারা যাবার পর যে যার মত বইপত্র নিয়ে গেছে। কিন্তু আমি যখন বড় হলাম তখন বাড়িতে পড়েছিলো কেবল দর্শনের বইগুলো। ওগুলো কেউ ছোঁয়ও নি। ঐ বইগুলোই রয়েছে, সো দাট ওয়াজ মাই ল্যাগেসি।
রাজু: যারা অন্য বইগুলো নিয়ে গেছে তারা এক অর্থে আপনার উপকারই করেছে। উপকার এই অর্থে যে সবগুলো বই থাকলে আপনি হয়তো অন্যদিকে বিক্ষিপ্ত হয়ে যেতে পারতেন।
শঙ্করলাল: হ্যাঁ, হ্যাঁ, তাইতো বলছি। সেখানে দেখি পাসকাল রয়েছে, নীটশে রয়েছে, নীটশে তো আমাদের দেশে তখন পপুলার রিডিং ছিলো না আজ থেকে অতকাল আগে। আমি পাসকালের একটা লেখা অনুবাদ করতে গিয়েছিলাম, করতে গিয়ে আমি আটকে গিয়েছিলাম, একটা কারণ আমি সেটা করিনি, ফাদার দ্যাতিয়েন আমাকে বললেন, কেন অনুবাদ করছ না? আমি বললাম একটা জায়গায় আমি আটকে গেছি যে … হি ওয়াজ এ ওয়ান্ডারফুলম্যান। কিন্তু উনি ইসলামকে এ্যাটাক করে, মোহাম্মদকে এ্যাটাক করে অনেকগুলো কথা লিখেছিলেন। তো আমার একটু খটকা লাগলো, উনি কিন্তু র‌্যাশনালিস্ট, নট এগেইনস্ট ইসলাম, নাথিং এগেইনস্ট ইসলাম। তিনি ফিলসফিক্যাল কন্ট্রাডিকশনটা দেখছেন।

ইতিপূর্বে আর্টস-এ প্রকাশিত রাজু আলাউদ্দিন কর্তৃক গ্রহীত ও অনূদিত অন্যান্য সাক্ষাৎকার:
নির্মলেন্দু গুণ: “প্রথমদিন শেখ মুজিব আমাকে ‘আপনি’ করে বললেন”

দিলীপ কুমার বসুর সাক্ষাৎকার: ভারতবর্ষের ইউনিটিটা অনেক জোর করে বানানো

রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গে সনজীদা খাতুন: “কোনটা দিয়ে কাকে ঠেকাতে হবে খুব ভাল বুঝতেন”

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সাক্ষাতকার: “গান্ধী কিন্তু ভীষণভাবে সমাজতন্ত্রবিরোধী ছিলেন”

নন্দিতা বসুর সাক্ষাতকার: “তসলিমার মধ্যে অনেক মিথ্যা ভাষণ আছে”

ভরদুপুরে শঙ্খ ঘোষের সাথে: “কোরান শরীফে উটের উল্লেখ আছে, একাধিকবারই আছে।”

শিল্পী মনিরুল ইসলাম: “আমি হরতাল কোনো সময়ই চাই না”

মুহম্মদ নূরুল হুদার সাক্ষাৎকার: ‘টেকনিকের বিবর্তনের ইতিহাস’ কথাটা একটি খণ্ডিত সত্য

আমি আনন্দ ছাড়া আঁকতে পারি না, দুঃখ ছাড়া লিখতে পারি না–মুতর্জা বশীর

আহমদ ছফা:”আমি সত্যের প্রতি অবিচল একটি অনুরাগ নিয়ে চলতে চাই”

অক্তাবিও পাসের চোখে বু্দ্ধ ও বুদ্ধবাদ: ‘তিনি হলেন সেই লোক যিনি নিজেকে দেবতা বলে দাবি করেননি ’

নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০০৯: রেডিও আলাপে হার্টা ম্যুলার

কবি আল মাহমুদের সাক্ষাৎকার

শামসুর রাহমান-এর দুর্লভ সাক্ষাৎকার

হুমায়ুন আজাদ-এর সঙ্গে আলাপ (১৯৯৫)

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (5) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন mostafa tofayel — আগস্ট ২২, ২০১৫ @ ১২:০৫ অপরাহ্ন

      It is a wonderful dissertation that I have just looked at.It is mostly about western philosophy and the eastern thought. The western philosophy is called philosophy because it has a regular growth and ccontinuity which the eastern thoughts lack.The interviewers have sufficiently touched on it. But there is one factor to be considered,that is circular outlook and the linear outlook. Be that literature or philosophy or social history, one may interprete it with either of the outlooks. For example, Walt Whitman narrates his Song of Myself in circular way but Neruda does in linear way. After all, my hearty thanks must go for Razu for this very very valuable dissertation.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সার্থক — আগস্ট ২২, ২০১৫ @ ৭:৫৩ অপরাহ্ন

      চেতনা ছাড়া জগত নেই, কিন্তু চেতনাও এককভাবে নেই। আসলে এককভাবে কিছুই বিরাজ করে না।… শেষ লাইনটা আজকের পরিপ্রেক্ষিতে ভীষণ বাস্তব।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সারওয়ার চৌধুরী — আগস্ট ২৩, ২০১৫ @ ১১:৩৭ অপরাহ্ন

      বাহ! সারগর্ভ জমজমাট একটা সাক্ষাতকার!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কুমার দীপ — আগস্ট ২৫, ২০১৫ @ ৭:৩৬ অপরাহ্ন

      পড়লাম। গভীর ও আনন্দদায়ী। শৈল্পিক ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ — আগস্ট ৩০, ২০১৫ @ ১:৪৬ পূর্বাহ্ন

      উপভোগ করলাম পুরোটা সাক্ষাৎকার। একটা কথা শুধু, সাক্ষাৎকারের শিরোনাম – “শঙ্করলাল ভট্টাচার্য:“উনি ইসলামকে এ্যাটাক করে, মোহাম্মদকে এ্যাটাক করে … লিখেছিলেন”” – এটাকে মিসরীড করা সম্ভব; এবং আজকাল যেহেতু কিছু ঘাতক চাপাতি উঁচিয়ে কান খাড়া ক’রে আছে, তাতে প্যাস্কালের বদলে শঙ্করলাল-বাবুর মাথা কাটা যাওয়া বিচিত্র হবে না। ওদের যে পুরো রচনা প’ড়ে দেখবার ধৈর্য আছে, তা মনে হয় না।… সাংবাদিকতার সাহিত্যিক অংশটিতেও গিমিকের এত বেধড়ক ব্যবহার না-করলেই নয়?

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com