নতুনের আবাহনে চাই ঔচিত্যের সংস্কৃতি

ফরিদ আহমদ দুলাল | ১১ এপ্রিল ২০১৫ ৬:৫৪ অপরাহ্ন

baishakh.gifযখন চৈত্র বিদায় নেয়, তখনই তো বৈশাখ আসে। বাংলার ঘরে ঘরে যেমন বর্ষবরণের তোড়জোড় চলে, বর্ষবিদায়ের তোড়জোড়ও কিন্তু কম নয়। নতুনের আবাহনে সবাইকে বরণ করে নেবার আগে নিশ্চয়ই পুরনোকে সসম্ভ্রমে বিদায় করে নেবার প্রয়োজন আছে। নতুনের মধ্যে যখন পুরনোর আত্মা-ই নবায়িত হয়, তখন সঙ্গত কারণেই লক্ষ রাখতে হয় বিদায়ের সময় পুরনো আত্মার হৃদয়ে যেন কোনো গোপন ক্ষত থেকে না যায়।

নতুনকে আবাহন করতে গিয়ে যেন পুরনো পাপের জীবাণু অবশিষ্ট থেকে না যায়। বিষয়টি তো এমন নয় যে আমরা সমস্বরে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো/ তাপস নিঃশ্বাস বায়ে/ মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে/ বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক/ এসো এসো…’ রবীন্দ্র সংগীত গাইলাম আর আমাদের সমস্ত কালিমা দূর হয়ে গেল। পুরনো বছরের যা কিছু জঞ্জাল, যা কিছু ক্লেদ, যা কিছু গ্লানি– সব কর্পুরের মতো পলকে উবে গেল হাওয়ায়; বরং উৎসবের দিনটি কোনোভাবে পাড়ি দিয়েই নিজেরা পরস্পরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ-ঘৃণা-প্রতিহিংসা ছড়াতে তৎপর হয়ে গেলাম। যে দৃশ্য আমরা ফি-বছর দেখছি। সুতরাং বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের উৎসব যেন মুখরতায়ই ফুরিয়ে না যায়, নতুনের সঙ্গে যেন প্রাগ্রসর চেতনাও উজ্জীবিত হয় সবার অন্তরে, তার প্রতি লক্ষ রাখাও আবশ্যক।

ঢাকায় চারুকলার আয়োজনে নববর্ষের প্রথম প্রভাতে বেরোয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। হাজার হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে শোভাযাত্রায়। ঢাকার বাইরেও বেরোয় শোভাযাত্রা; সর্বত্রই শোভাযাত্রার নাম ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নয়। কোথাও ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’, কোথাও ‘বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা’, কোথাও বা ‘স্বাগতম নববর্ষ’ ইত্যাদি শিরোনামে।
ঢাকায় যেমন প্রতিবছরের মঙ্গল শোভাযাত্রায় একটা থিম বেছে নিয়ে সেই থিমের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রস্তুত হয় বিচিত্র অনুষঙ্গ, তেমনি ঢাকার বাইরেও চলে বিচিত্র আয়োজন। ঢাকার আয়োজন যতটা মিডিয়ার আনুকূল্য পায় বাইরের আয়োজন তা পায় না। না এটা কোনো অভিযোগ নয়, এই বাস্তবতা। ধরা যাক, ঢাকার বাইরে ময়মনসিংহ। ঢাকা থেকে খুব কিছু দূরে নয়, কিন্তু মফস্বল; ওখানকার যে কোনো আয়োজনে মফস্বলী আবহ সামান্য হলেও থাকবে; এটা কোনো রোগ-ব্যাধি নয়, এটা মাটির প্রভাব, মাটিঘনিষ্ঠ মানুষের প্রভাব।

baishakh-2.gifঢাকা মানে তো উন্মূল মানুষের ভিড়। এখানে উন্মূল মানুষের সংস্কৃতিই বিকশিত হবে। শিকড় বিচ্ছিন্নতার ঊণতাকে স্মার্টনেস দিয়ে আচ্ছন্ন করার প্রয়াস সেখানে থাকে। এটিকেও আমি দোষ হিসেবে দেখছি না; এটিই বাস্তবতা। ঢাকায় নববর্ষের প্রভাতে যে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ হয় তাতে কী থাকে সমগ্র দেশ সে তথ্য জানে মিডিয়ার কল্যাণে; কিন্তু বাইরে কোথায় কী হয় তা কিন্তু জাতি সে ভাবে জানে না।

বলছিলাম ময়মনসিংহের কথা; ময়মনসিংহে প্রথমত সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উদ্যোগ নেয় নববর্ষ আয়োজনের; সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহবানে শহরের বিভিন্ন স্তরের মানুষ যুক্ত হয় আয়োজনের সঙ্গে। কখনও কখনও প্রশাসন যুক্ত হয় আয়োজনের সঙ্গে।

ময়মনসিংহের শোভাযাত্রায় কী থাকে, তা একটু বর্ণনা করা হলেই বোঝা যাবে এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ। ময়মনসিংহের শোভাযাত্রাটিকে বলা যায় আবহমান বাংলার জীবন প্রবাহের দৃশ্যপটের পথ প্রদর্শনী। গ্রামীণ জীবনের অসংখ্য অনুষঙ্গকে শোভাযাত্রায় বাক্সময় করে তোলা হয়। পথে যেমন লাঠিখেলা হয়, তেমনি থাকে রাজা-বাদশা, উজির-নাজির, মন্ত্রী-সেপাই, সৈন্য-সামন্ত, অশ্বারোহী ও পদাতিক যোদ্ধা, পাইক-বরকন্দাজ মিলিয়ে শতাধিক মানুষ; রাস্তায় মাছ ধরাও হয় জাল ফেলে; ধরা যাক মাছ ধরার দৃশ্যপটে একশ জনের অংশগ্রহণ থাকে, কেউ ছিপজাল টানছে, কেউ উড়োজাল ফেলছে, ঝাঁক বেঁধে একদল পলো নিয়ে যাচ্ছে দলবদ্ধ মাছশিকারে, একদল যাচ্ছে কৈজাল-ঠেলাজাল নিয়ে; একইভাবে কেউ ঢেঁকিতে ধান বানছে, কেউ চাউল ঝারছে, কেউ বা ঘায়েল-স্যাকাট নিয়ে গুঁড়ো কুটছে, আবার কেউ যাঁতায় ডাল ভাঙছে, এসব গৃহস্থালী কাজে তৎপর আছে শতাধিক; বরযাত্রী-নাইওরি, বিয়ের গীত, বিয়ে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়, নানান ধর্মবর্ণের-গোত্রের বিয়ের আচার অনুষ্ঠান মিলিয়ে শতাধিক নারী-পুরুষের তৎপরতা; বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষ, সেখানে রিক্সাচালক, ভ্যানচালক, গোয়ালা, মাঝি-তাঁতি-কামার-কুমোর-ধুনকর-কাঁসারু-ধোপা-নরসুন্দর-ডাকহরকরা, গাছি, করাতি, কুলি, পালকি নিয়ে বেহারাদল-ঘটক-পুরোহিত-ধর্মযাজক-বৌদ্ধভিক্ষু-ইমাম-বেদে-বৈষ্ণব-বৈষ্ণবী, কলসি কাঁখে গাঁয়ের বধূ, সব মিলিয়ে সহস্রাধিক মানুষ, কৃষক-উকিল-মোক্তার-ডাক্তার-বদ্যি-হাকিম-কবিরাজ এবং মুক্তিযোদ্ধা মিলিয়ে শতাধিক, এভাবে পনের-বিশ হাজার মানুষের শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ করে। আনন্দ শোভাযাত্রাটিকে বাক্সময় করে তুলতে কতশত উপকরণ যে ব্যবহার করা হয় বলে শেষ করা যাবে না। বিভিন্ন রকমের নৌকা থেকে শুরু করে কুপি-গাছা পর্যন্ত, হাঁপর থেকে শুরু করে জল সেঁচের দুন, জীবনের সহস্র উপকরণ ব্যবহার হয় শোভাযাত্রায়। দেশীয় পশুপাখিও উপস্থাপিত হয়, নববর্ষের সকালে রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ তা প্রত্যক্ষ করে। শোভাযাত্রা বৈশাখিমঞ্চে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ হয় সকালের কর্মসূচি।

baishakh-3.gifযারা এসব আয়োজনের জন্য শ্রম বিনিয়োগ করেন, তারা মিডিয়ায় প্রদর্শিত হবার মোহে নিশ্চয়ই এ কাজ করেন না, তারা করেন প্রাণের উত্তাপ থেকে; বাঙালির শৌর্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য পৃথিবীর সামনে তারা তুলে ধরতে চান। তাদের এই আত্মনিবেদনকে যারা যৌক্তিক মনে করেন তারাই পর্যায়ক্রমে এইসব আনন্দ শোভাযাত্রা অথবা মঙ্গল শোভাযাত্রার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরম্পরার পতাকা এগিয়ে নিয়ে যান; কিন্তু এই শুভপ্রবণতার বিরুদ্ধেও অপতৎপরতা আছে; অপতৎপরতা পশ্চাৎপদদের, কূপমণ্ডুকদের। যারা যুক্তি ও বিজ্ঞানকে ঔদার্য নিয়ে ধারণ করে না, তারা প্রকাশ্যে না হলেও বাঙালির স্বপ্ন ও সংস্কৃতির বিরোধিতা করে যায় গোপনে গোপনে।

baishakh-4.gifতাই বলছিলাম নতুনের আবাহনে পুরনোকে যখন পেছনে ফেলে যাব, তখন যেন যা কিছু জঞ্জাল, দুর্গন্ধময়, যা কিছু ক্লেদাক্ত, বর্জ্য–তার সবটাকেই যেন পরিত্যাগ করি, পাশাপাশি যা আমার গৌরব, যা আমার অহংকার, যা আমার ইতিহাস, যা আমার ত্যাগের-সম্ভ্রমের তাকে যেন অন্তরে ধারণ করি শ্রদ্ধায়। নববর্ষ বরণ এবং বিগত বর্ষের বিদায়ে এ সত্যটি যেন মনে রেখে বারবার নবায়ন করে নিই নিজেকে। নতুনের আবাহনে বাঙালির লোকজীবনের যে সম্প্রীতির চেতনা, যে চেতনা আমাকে শেখায় ‘নানান বরণ গাভীরে ভাই একই বরণ দুধ/ জগৎ ভরমিয়া দেখি একই মায়ের পুত’ অথবা ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’।

baishakh-5.gifএই সত্যকে যেন অন্তরে লালন করি ঔদার্যের মহিমায়। বর্ষবিদায় আর বর্ষবরণের উৎসবে যেন আমরা ঔচিত্যের সংস্কৃতির সঙ্গে সহাবস্থানে অঙ্গীকারাবদ্ধ হই। আর আমাদের অঙ্গীকারে যেন উচ্চারিত হয় ‘যতদূর বাংলাভাষা ততদূর এই বাংলাদেশ’। বাংলাদেশ ও বাংলাভাষাকে আমরা বিশ্বসভার সর্বোচ্চ শিখরে স্থাপন করতে চাই।
Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাবীবুল্লাহ সিরাজী — এপ্রিল ১১, ২০১৫ @ ৭:৩৫ অপরাহ্ন

      ফরিদ আহমদ দুলালের রচনাটি সুখপাঠ্য। বর্ষবিদায় এবং বর্ষবরণ উভয়ই তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলা ও বাঙালির নানা সংকটে চৈত্র-সংক্রান্তি এবং নববর্ষের প্রথম দিনটি যৌথ বিহারে প্রতিফলিত হোক। মিলন ঘটুক তথা দূরত্ব ঘুচুক গ্রাম ও শহরের, ছোট ও বড়োর।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন matin bairagi — এপ্রিল ১১, ২০১৫ @ ৮:৩২ অপরাহ্ন

      ‘নতুনের আবহনে চাই ঔচিত্যের সংস্কৃতি’ ফরিদ আহমদ দুলালের ১লা বৈশাখ অর্থাৎ নতুন বর্ষের আগমন উপলক্ষে বাঙালি জীবনে তার উপলব্ধি ও অনুভবের বিস্তার। বাংলার নতুন বছরের আগমন বাঙালি জীবনে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ কেবল এ কারণে নয় যে এই উপলক্ষে জারি, সারি, ভাটিয়ালি, নাটক, শোভাযাত্রার উদ্দাম উল্লাসের মধ্যে সারাদিন কাটিয়ে বিনোদন পাওয়া গেলো, বরং এর মৌলিক বিষয়টি অর্থনৈতিক, উৎপাদন ক্রিয়ার উদ্বোধন। একদিকে যেমন পুরানো বছরের দেনা-পাওনা হিসেব-নিকেশ শেষ করে নতুন বছরের পরিকল্পনা, অন্যদিকে এক আশাবাদ ও প্রার্থনা : আগামীটা যেন শুভ হয়। আমি এর ঐতিহাসিক ঘটনাবলী নিয়ে কোন আলোচনা টানছি না, বরং আমি এটুকুই বলি যা আমি আমার জীবনে দেখেছি। আমি দেখেছি সকাল সকাল গ্রামের কৃষক মাঠে গরু লাঙল নিয়ে জমিতে চাষ দিতো। মহাজনের ঘরে হালখাতায় যোগ দিত, এ বাড়ি ও বাড়ি যেত, ভালমন্দ খেতো, পড়শিকে দাওয়াত করে খাওয়াতো, পরষ্পরের কুশল জানতো, গরুবাছুর গোছল করাতো, জুমার দিন হলে অধিক সংখ্যক মানুষ জুমা পড়তো, মন্দিরে প্রার্থনা হতো এবং বিকেলে হালখাতায় মহাজনের ঘরে উপস্থিত হয়ে পুরানো হিসাবে কিছু জমাকরতো বা শোধ করে নতুন খাতায় নাম উঠাতো। [কারণ দেনার ঘরেই তো তাদের থাকতে হতো] স্কুল মাঠে খেলা হতো. মেলা বসত, তাতে নানা রকম খেলনা আলতা বিনোদন থাকতো, চড়কগাছেও উঠতাম আমরা। এ আমার গ্রামে এবং থানা বন্দর হাটে দেখা, তার পরে তো শহরের জীবন এখানে শোভাযাত্রা কিংবা ফরিদ আহমদ দুলালের বর্ণনা মতো কতোরকম আয়োজন, আর ঢাকাতে তো বিশাল ব্যাপার। দিনে দিনে এর রকম ফের হচ্ছে। আমি অনেক দিন শহরে, আমি জানিনা আমার দেখা অনুষ্ঠানগুলো আমার জন্মগ্রামে বা থানায় এখন আর বহমান আছে কিনা , না-কি ঢাকার মতো তার কলেবর বেড়েছে । হয়তো তাই আছে, তার সাথে যুক্ত হয়েছে বর্তমান, হয়তো অনেক কিছু বাদ পড়ে গেছে, সে সবের আর প্রয়োজন নেই বলে, হয়তো আবার ফিরে আসবে পুরান নতুন হয়ে । এ-সব যে সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করছে তা হয়তো নয়, তবে আনন্দঘন তো করছেই, এবং জানান দিচ্ছে আমরা বাঙালি, আমাদেরও একটা দিন আছে, আমাদেরও আগামী আছে, আমাদেরও প্রত্যয় প্রত্যাশা আছে। ফরিদ সে সব খুব সুন্দর করে তুলেছেন এবং ময়মসিংহ-এর অনুষ্ঠানের যে বর্ণনা দিয়েছেন সেতো মোহময়, নিশ্চয়ই একটা দিন জীবনের তিতবিরক্তি কাটিয়ে দিয়ে আসা যায় ফরিদের অতিথি হয়ে। কিন্তু তবুও কিছু কথা আছে যা ফরিদ বলেছেন আর বলছেন। এভাবে সব কিছুই যেন ঔচিত্যের মধ্যে থাকে, যেন বাঙালি জীবনে হাজার বছরে অর্জিত মূল্যবোধ কেবল সমৃদ্ধ হয়, কোনোভাবে আগ্রাসনের মধ্যে পড়ে এর মৌলিকত্ব খর্ব না হয়। ধন্যবাদ ফরিদ আহমদ দুলালকে এবং ধন্যবাদ বিডিকে এ জন্য যে, তারা ছবিগুলো দিয়ে প্রবন্ধটিকে আরো সমৃদ্ধ এবং আনন্দময় করেছেন।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com