বাংলাদেশের এসিডদগ্ধ নারীদের সম্পর্কে নোবেলবিজয়ী মারিও বার্গাস যোসা

রাজু আলাউদ্দিন | ২২ মার্চ ২০১৫ ১০:০৩ অপরাহ্ন

mario_ed.jpg২০১০ সালে সাহিত্যে নোবেলবিজয়ী লেখক মারিও বার্গাস যোসা উপন্যাস, গল্প ও সাহিত্যসমালোচনা ছাড়াও, লিখেছেন বিশ্বরাজনীতি ও সংস্কৃতি বিষয়ে অসংখ্য প্রবন্ধ। ইউরোপ ও মধ্যপাচ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর মন্তব্য ও পর্যবেক্ষণ পাঠকদের ভাবনা ও অনুভূতিকে করেছে সমৃদ্ধ । তাঁর সার্বজনীন কৌতূহলের কাছে বাদ যায়নি, বাংলাদেশের এসিডদগ্ধ নারীদের করুণ ঘটনাও। ১৯৯৯ সালে স্পানঞা থেকে প্রকাশিত এল পাইস পত্রিকায় বাংলাদেশের এসিডদগ্ধ নারীদেরকে নিয়ে এই লেখাটি প্রকাশিত হয়। পরে ২০০১ সালে লেঙ্গুয়াহে দে লা পাশিয়ন গ্রন্থে এটি প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়, আর ইংরেজি তর্জমায় গ্রন্থটি দ্য লেঙ্গুয়েজ অব প্যাশন নামে ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়। ইংরেজি গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত `Weaker sex’ নামক প্রবন্ধের প্রাসঙ্গিক অংশটি কবি-প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের অনুবাদে এখানে হাজির করা হলো। বি. স.

acidburnt.gifআমার সামনে যে ছবিটি আছে তা হতে পারত হরর্ মুভির কোনো স্থিরচিত্র। এতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের ছয়টি মেয়ে, দু’জন নিতান্তই শিশু, সালফিউরিক অ্যাসিডে যাদের চেহারা নষ্ট হয়ে গেছে। একজন ছিল অন্ধ আর তার শূণ্য চোখের কোটরকে আড়াল করে রেখেছে কালো চশমা। এটা রাসায়নিক পরীক্ষাগারে কোনো দুর্ঘটনা ছিল না, যা তাদের চেহারাকে ভৌতিকভাবে বিকৃত করে তুলেছে। অজ্ঞতা, বোকামি আর নিষ্ঠুরতার শিকার তারা। মানবতাবাদী সংগঠনের সহায়তায় তারা নিজ দেশ থেকে এসেছে বালেনসিয়ার আগুয়াস বিবাস হাসপাতালে, যেখানে তাদের অপারেশন হবে এবং চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে। তবে শরীরবিদ আর সার্জনের দক্ষতা সত্ত্বেও এই মেয়েগুলোর জীবন যে চিরদিনের জন্য মর্মান্তিক বেদনার সাক্ষ্য হয়ে থাকবে, তা বুঝবার জন্য ওদের চেহারা দেখাই যথেষ্ট। ওদের সঙ্গে আসা ঢাকার ডাক্তার লুনা আহমেদ জানালেন, বাংলাদেশে মেয়েদের মুখে সালফিউরিক অ্যাসিড ছুঁড়ে মারার প্রথার অবসান ঘটানো কঠিন, যেখানে প্রতিবছর ২৫০টি ঘটনা নথিবদ্ধ হয়। প্রত্যাশিত যৌতুক না পেয়ে ক্রুদ্ধ স্বামীরা সাধারণত এ ধরনের কাজ করে থাকে। আবার পারিবারিক ঐকমত্যে আয়োজিত বিয়ের ক্ষেত্রেও নারীদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হবু বরও এমন কাজ করে।

সালফিউরিক অ্যাসিড তেলের পাম্পে হয়তো কেনা যায়। অপরাধীদের কদাচিৎ গ্রেফতার করা হয়; হলেও বিচারক সচরাচর ঘুষ খেয়ে তাদের খালাস দিয়ে দেয়। আর তারা অপরাধী সাব্যস্ত হলেও তা-ও খুব গুরুতর বিষয় নয়, যেহেতু কোনো নারীকে দানবে রূপান্তরিত করার জন্য বড়জোর চার কি পাঁচ ডলার জরিমানা দিতে হয়। (The Language of Passion: Selected Commentary, Picador; Reprint edition (June 1, 2004), p 218-219)

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (3) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Abu S Azad — মার্চ ২৩, ২০১৫ @ ১১:২৫ পূর্বাহ্ন

      We are also proud owner of a noble laureate. We would like him to publicly condemn as well as work hard to stop burning& killing innocent people, men & women, by acid, petrol bomb and cocktail.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জহিরুল চৌধুরী — মার্চ ২৪, ২০১৫ @ ৭:৩৫ অপরাহ্ন

      লেখক/অনুবাদকের কৌতুহলকেও ধন্যবাদ। তবে একজন নোবেলজয়ীর পুরো প্রবন্ধটি (weaker sex) তুলে ধরলে পাঠক হিসেবে আরো উপকৃত হতাম। রাজু আলাউদ্দিনকে ধন্যবাদ, মাঝে মাঝেই তিনি আন্তর্জাতিক সাহিত্য পাঠককে উপহার দেন মাতৃভাষায়।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন prokash — মার্চ ২৬, ২০১৫ @ ১:৪১ অপরাহ্ন

      তিনি বাংলাদেশের হাঁড়ির খবরও রাখেন। বেশ।‍‍’ বিচারকরা সচরাচর ঘুষ খেয়ে খালাস দেয়’….। মজা পেলাম এই কথায়। অপ্রিয় সত্য।

      এসিড মামলার আসামি আমাদের একজন বিচারপতির গুণধর পুত্র প্রধান আসামি ছিলেন। কিন্তু সে মামলার কোন খবর নেই।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com