নয়াউপনিবেশে ভাষা আন্দোলন

অনিন্দ্য রহমান | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ১:৪৪ পূর্বাহ্ন

untitled-1.gif

ক. ফিরিস্তি

বিলাতি সাময়িকী স্পেকটেটরের সংরক্ষণাগারে মিলল গ্রিফিথ্স সাহেবের নিবন্ধ – ‘পাকিস্তান টুডে’, মানে ‘আজিকার পাকিস্তান’। ‘আজিকার’ হল পূর্বাপর সন ১৯৫২। ঐ বছর ২৮শে মার্চ নাতিদীর্ঘ নিবন্ধখানা পত্রস্থ হয়। প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় আমরা তার বঙ্গানুবাদ করেছি। এ-ভিন্ন কোনও ভাষান্তরের ঘটনা আমাদের অজানা। অনূদিত নিবন্ধখানা এই অর্থে দুর্লভ। ভাষা আন্দোলনের অসংখ্য দলিলের উপস্থিতিতে এই নিবন্ধ দলিল পদবাচ্য কিনা তা তর্কসাপেক্ষ।

‘ভাষা আন্দোলনে’র চরমতম ধাপ ২১শে ফেব্রুয়ারি এই নিবন্ধের একমাত্র প্রসঙ্গ নয়। তদুপরি এর তাৎপর্য কম নয়। বণিকের হাতে ইতিহাস পড়লে (হরহামেশাই পড়ে) তার কী ঘটে সেটার আরও একটিমাত্র নজির এই নিবন্ধ। একালে যখন এডওয়ার্ড সাইদের অরিয়েন্টালিজম আর সাবঅলটার্ন দলের তলা-হইতে-দেখা-ইতিহাসের হালে পানি আছে, তখন গ্রিফিথ্স সাহেবের নিবন্ধ আলাদা মনোযোগের দাবি রাখে। তারও চেয়ে বড় বিষয়, নয়াসাম্রাজ্যবাদী যে ইতিহাসদর্শন এবং ১৯৮০’র দশক থেকে নয়াউদারবাদী চেতনা থেকে ইতিহাসের বোঝাপড়ার যে অভ্যাস আমাদের মজ্জার স্বাদ পেয়েছে, সে দর্শন ও অভ্যাসের একটি আদি নিদর্শন এই রচনা।

গ্রিফিথ্স সাহেব অর্থাৎ স্যার পার্সিভাল গ্রিফিথ্স সম্পর্কে এস্থলে দুইচার কথা আশা করি দোষের হবে না। প্রথম যৌবনে ইনি ছিলেন ব্রিটিশ ইন্ডিয়ায় সিভিল সার্ভিসে। ১৯৩০-এর দশকের গোড়ায় বঙ্গেই, মেদিনীপুরের ডিস্ট্রিক্ট মেজিস্ট্রেট পদে নিযুক্ত হন। ইতিহাসের বইয়ে সেকালের মেদিনীপুরের ডিস্ট্রিক্ট মেজিস্ট্রেটসকল সম্পর্কে সুখবর মিলে না, তার দায় শুধুই ইতিহাস লেখকদের দেওয়া যায় না।

এক ডিস্ট্রিক্ট মেজিস্ট্রেট জেমস প্যাডি সাহেবের কথা জানা যায়। তার নির্দেশে পুলিশ নিরস্ত্র গ্রামবাসীর উপর গুলি চালিয়ে এতই মানুষ মারে এবং/অথবা এমনভাবে মারে যে ঐ ঘটনাকে দ্বিতীয় জালিয়ানওয়ালাবাগ বলা হয়েছে কোথাও। ১৯৩১-এ এই প্যাডি সাহেবকে বিপ্লবী জ্যোতিজীবন ঘোষ ও বিপ্লবী বিমল দাসগুপ্ত গুলিতে হত্যা করেন। গুলি খেয়ে প্যাডি সাহেব নাকি একটাই বাক্য বলেছিলেন “পুলিশের ব্যর্থতা”। এই বাক্যের মানে কী তা আর জানার উপায় নাই।

আরও এক ডিস্ট্রিক্ট মেজিস্ট্রেট রবার্ট ডগলাস। ১৯৩১-এ, যেবছর বিপ্লবী দীনেশ গুপ্তের ফাঁসী হয়, মেদিনীপুরের হিজলী জেলে ঘটে কুখ্যাত বন্দী-হত্যাকাণ্ড। ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ডগলাস সাহেবের জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দেন বিপ্লবী প্রদ্যোৎ ভট্টাচার্য। তবে বন্দী হত্যাকাণ্ডের প্রধান নায়ক ছিলেন বার্জ সাহেব। এই বার্জ মেদিনীপুরের ডিস্ট্রিক্ট মেজিস্ট্রেটের পদ অলঙ্কৃত করে পূর্বসূরী ডগলাস সাহেবের বদলা নিতে যথেচ্ছ খুনাখুনি শুরু করেন। ১৯৩৩-এ খেলার মাঠ পরিদর্শনরত অবস্থায় দুই কিশোর বিপ্লবীর হাতে তার মৃত্যু ঘটে। এমনতর ইতিবৃত্তে আলোচ্য গ্রিফিথ্সকে হয় বাহাদুর নয় বিপ্লবীদের নিশানা হওয়ার পক্ষে অকিঞ্চিৎকর কিংবা সুশীল বলতে হবে।

১৯৩৫ এ গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট পাশ হয়। ফলে জিলার সর্বেসর্বা ডিস্ট্রিক মেজিস্ট্রেট মহোদয়কে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির হুকুম শুনতে হতে এমন শঙ্কা উপস্থিত হয়। দুই বৎসরের মাথায়, ১৯৩৭-এ, আমলাগিরি থেকে হাত ধুয়ে ফেলেন গ্রিফিথ্স। ১৯৩৫-এ গঠিত চা-বেনিয়াদের সমিতি ইন্টারন্যশলাল টি মার্কেট এক্সপানশনের উপদেষ্টা হন। ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত ভারতে চা-শিল্পের ইতিহাসের তার প্রশংসিত বই। যা হোক, ঐ পরিচয়েই ১৯৪৬ এ দিল্লিতে এমএলএ হয়ে বসেন গ্রিফিথ্স। সেকালে কলনিয়াল শিল্পপতিদের প্রতিনিধিরূপে ইয়োরোপীয় বণিকের একটি দলকে মনোনয়ন দিয়ে আইনসভায় পাঠানোর নিয়ম ছিল। এই দলের নেতা ছিলেন গ্রিফিথ্স। আজাদীর পরও ভারতে ব্রিটিশ ব্যাবসায়ের প্রসারে নানাবিধ দূতিয়ালি ও পরামর্শ প্রদানের কাজে ব্যস্ত দেখা যায় তাঁকে। পরবর্তীতে মুনাফাভিত্তিক ও অলাভজনক অনেকগুলি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হন এবং শেষ দিকে, লন্ডনের প্রসিদ্ধ স্কুল অফ অরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজ তাকে গবেষকের দরজা দেয়।

গ্রিফিথ্স স্বর্গবাসী হন ১৪ই জুলাই ১৯৯২। টেলিগ্রাফ পত্রিকায় শোকসংবাদে খুব অল্পকথায় স্যার গ্রিফিথ্সের জীবন ও কর্ম সম্বন্ধে বলা হয়ে গেছে –
১৭শ শতকে বাণিজ্যকর্মের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ ও ভারতবর্ষের যে সম্বন্ধ স্থাপিত হয়েছিল তাঁর জীবন সেই সম্বন্ধের প্রতিই সমর্পিত ছিল। তাঁর সুদীর্ঘ জীবনের ব্যাপক অংশই এই ব্যবসায়িক সম্বন্ধ নিয়েই তিনি লেগে ছিলেন, একজন প্রভাবশালী পরামর্শক হিশাবে, একজন ইতিহাসবেত্তা হিশাবেও। এর চেয়ে মানানসই আর কীবা হতে পারে।

১৯৫০-এর দশক, আলোচ্য নিবন্ধের ঘটনাকালে ফিরি। ব্রিটিশ তখনও (এখনও কি?) রাজ্য ছাড়লেও রাজত্ব ছাড়ে নাই। সেকালে স্বাধীনতা ছেলের হাতের মোয়ার অধিক কী, তবু কেড়ে তো নেওয়া যায় না। বরং ঠারে ঠোরে মোয়া মারার হুমকি দিয়ে কাজ হাসিল করতে হয়। এই নিওকলনিয়াল ইশারাভাষার অন্তত দুইটি নমুনা আলোচ্য নিবন্ধে প্রাপ্য।

প্রথমত, পাকিস্তানের বড় ভাই হিশাবে তিনি খুব হালকার ওপর খাজা নাজিমুদ্দীন বিষয়ে সতর্কবাণী দিয়েছেন। বলেছেন,

অতএব এইসকল দাঙ্গাফ্যাসাদের মোদ্দা শিক্ষাটা হল, করাচিকে পূর্ব বাংলার সমস্যাপ্রবণতা নিয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে, বিশেষত সেখানকার শীর্ষ বাঙালি নেতা যখন প্রধানমন্ত্রী, তখন এই সতর্কতায় খামতি থাকা চলবে না।

খাজা সাহেব উর্দুভাষী হয়েও বাঙালি হিশাবে নজরবন্দী হয়েছেন এতে নিদারুণ আইরনি খুঁজে পাওয়া যায়। আজও যেমন, গতদিনেও, যাকে বলে উন্নয়নের স্বার্থে এইসব দাঙ্গাটাঙ্গা পশ্চিমী বন্ধুদের খুব নাপছন্দ ছিল। বিনা কারণে পূর্ব বাংলা থেকে প্রধানমন্ত্রী করা হয় নাই নিশ্চয়ই, যদিনা পূর্ব বাংলাই ঠিক থাকে। তো খাজা নাজিমুদ্দীন বাঙালের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেও পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকের নিষ্কলুষ মহব্বত পান নাই। পশ্চিমেরও পশ্চিমে আরও পশ্চিম আছে। পরের বছরই খাজাজীর গায়েবানা তখ্ত হাওয়া হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানের প্রগতির প্রশংসা করতে গিয়ে গোপন চিরকূটের মতোই এক লাইন গুঁজে দিয়েছেন –

আবাদানের ঘটনাপ্রবাহ যতদিন অনুকূলে ততদিন বাষ্পচালিত রেলযানকে দ্রুত তৈলচালিত যানে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকেও ইতিবাচক বলতে হবে।

আবাদানে ইরানের আবাদান শহরের তৈল শোধনাগার। তার একটা ইতিহাস আছে। নিবন্ধটির প্রকাশের কালে ব্রিটিশের বণিকবুদ্ধিতে পারসিক খনিজ তৈল মাত্রই বাপের সম্পত্তি, যেহেতু বাপই এর ‘আবিষ্কারক’ এবং উত্তোলক । অথচ বেয়াড়া মোসাদ্দেক – ইরানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক – ভাবলেন ইরানি তেলের ছিটাফোটামাত্র ইরান পায়। নানা সন্দেহ থেকে খাতা-টাতাও দেখতে চাইলেন। শেষে গোরা (দেখতে গেলে ইরানিরাও গোরা বটে) খেদিয়ে আবাদানের তৈলকল ‘অ্যাংলো ইরানিয়ান অয়েল কম্পানি’র কবল হতে জাতীয়করণ করলেন ১৯৫১ সালের মার্চে। তাতে খুব লাভ হয়ই নাই বরং বিপত্তি দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, পশ্চিম জার্মানি – একে একে সকলেই ইরানকে কারিগর সরবরাহ করতে অপরাগতা জানায়। এর মধ্যে ইতালি ব্য্যতিক্রম, তাদের এক জাহাজ আবাদানের তৈল নিয়ে ফিরছিল, ‘চুরির মাল’ দাবি করে সেটার পথ আটকায় রয়াল নেভি। ১৯৫২ সালের জুলাই মাসের ঐ ঘটনার পরে, বিক্রিবাঁটা শিকায় উঠে। পরবর্তী ঘটনা আরও চমকপ্রদ। ১৯শে অগাস্ট ১৯৫৩ তারিখে সিআইএ আর এমআই-৬ মিলে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেককে নামিয়ে দেয়। ঐ মিলিটারি ক্যু তথাকথিত আবাদান ক্রাইসিসের গ্রন্থিমোচন ঘটায়। কম্পানি আমলে ফেরত যায় ইরানের খনিজ সম্পদ।

কৌতুহলের বিষয় এই, গ্রিফিথ্স সাহেবের নিবন্ধটি ১৯৫২ সালের ২৮শে মার্চ প্রকাশিত। “আবাদানের ঘটনাপ্রবাহ যতদিন অনুকূলে” এই কথায় বিশেষ ব্যবস্থাপত্র নিহিত – আবাদান ক্রাইসিসে পাকিস্তানকে তার স্বার্থেই ব্রিটিশ অনুকূল রক্ষা করতে হবে। সুতরাং এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নাই যে, পাকিস্তানও মোসাদ্দেকের ডাকে সাড়া না দিয়ে পশ্চিমা বয়কটের অংশী হয়েছিল।

পরিশেষে ১৯৪৭ সালের তাতানো এপ্রিলের একটি দিনের কথা মনে করি। ২৬শে এপ্রিল মাউন্টব্যাটেন জিন্নাহকে সুহরাওয়ার্দীর যুক্ত বঙ্গরাষ্ট্রের প্রস্তাব বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। জিন্নাহ উত্তর দেন, “আমার তো খুশিই হওয়ার কথা। কলকাতা ছাড়া বাংলার কী উপযোগিতা! ওরা আলাদাভাবে স্বাধীন হলে ভালই করবে। আমি নিশ্চিত আমাদের সাথে তাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হবে।

মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর “আমাদের” অর্থাৎ পাকিস্তান বাংলাবিহনেই তৈরি হয়ে ছিল। কেবল কলিকাতাহীন গ্রাম্য বাংলাকে কী উপায়ে ব্যবহার করা যায় সেটা তাৎক্ষণিক বলতে চান নাই। পাকিস্তান ও তার সখাগন (সখায় মিলবে আইয়ুব খানের ‘ফ্রেন্ডস’ ‘মাস্টারস’ দুই-ই) যারপরনাই বাংলা-ব্যবহার করেছেন। পাকিস্তানের প্রগতির যেসকল দৃষ্টান্ত গ্রিফিথ্স তাঁর নিবন্ধ দিয়েছেন তা-ও বাংলার মাটি পানি মানুষকে ব্যবহার করেই।

গ্রিফিথ্সের ব্যবহারিক দুনিয়ায় ছাত্রজনতার বাঁধানো দাঙ্গা একটি ব্যবহারিক উপদ্রবের অধিক নয়। গুলিই যে এর সফলতম ব্যবহারিক সমাধান তা অবশ্য এককালের ডিস্ট্রিক্ট মেজিস্ট্রেট মহাশয় সোজাসাপ্টা বলেন নাই। আশার কথা, এই না বলার কল্যাণেই আমরা কলনিয়াল হতে নিওকলনিয়াল সভ্যতায় উত্তীর্ণ হলাম।

খ. আজিকার পাকিস্তান
স্যার পার্সিভাল গ্রিফিথ্স

১৯৪৭-এর পাকিস্তানের মতো সঙ্গিন অবস্থায় স্বাধীনতায় উপনীত হয়েছে খুব কম দেশই। পার্টিশনে স্বাভাবিকভাবেই বিষিয়ে ছিল ভারতীয় নেতাদের মন। তাই তারা মহাত্মা গান্ধী ও মিস্টার সি. আর. রাজাগোপালাচারীর সদুপদেশ সত্ত্বেও অভ্যাসের বাইরে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের কাজ সহজ করবেন তা দুরাশা। ফলতঃ উপমহাদেশের ফৌজি সম্পদের অপর্যাপ্ত ভাগা নিয়ে বিসমিল্লা করে পাকিস্তান; সাথী গুটিকয়মাত্র প্রশিক্ষিত সরকারি কর্মকর্তা। প্রশাসনের ভৌত অবকাঠামোয় চেয়ার টেবিল কাগজকলমের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপাতিও ছিল না। আর্থিক কাজকাম চালুর জন্য ব্যাংককে দেয়া অত্যাবশ্যকীয় আদেশ পাঠানো হয়েছিল একটা পুরাতন খামের উল্টা পিঠে লিখে। সেই দিনের গল্প বলতে তখনকার অর্থমন্ত্রী গোলাম মুহাম্মদ সাহেবের (আজকের গভর্নর জেনারেল) কোনও ক্লান্তি নাই।

শূন্য থেকে শুরু করা পাকিস্তানকে প্রশাসনিক কাঠামো তৈয়ারির পাশাপাশি তিনটা প্রধান সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়েছিল। প্রথমত, তাকে এমন এক সংঘের জন্ম দিতে হয়েছিল যার দুইটি অংশের মধ্যে হাজারও মাইলের তফাৎ; পোলিশ করিডোরের মতন কিছু তাদের সংযুক্ত করে না। দ্বিতীয়ত, তাকে শক্তিশালী প্রতিবেশি ভারতের সঙ্গে অনিবার্য দুশমনির ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এবং তৃতীয়ত, কয়লাশূন্য অবস্থায় একটা নিরোগ অর্থনীতির ভিত গড়তে গিয়ে তাকে পড়তে হয়েছিল শিল্পোন্নয়নে অপরিহার্য পুঁজির ও দক্ষতার মারাত্মক সংকটে।

সুদূরপ্রসারি চিন্তায় এগুলির প্রথমটাকেই সবচেয়ে দুর্লঙ্ঘ্য ফাঁড়া বলে মনে হবে। পূর্ব আর পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষের জাত, বোল, সমাজ, তারিখের ফারাকটা সুগভীর। না তাদের চেহারাসুরতে মিল, না তাদের ভাষায়। তারা একে অপরকে খুব একটা পছন্দ করে তা-ও না। সকল বেমিলে, এক ধর্ম বিনা তাদের আর কোনো মিল নাই। ১৯৪৭ সালেই বাইরের যে পর্যবেক্ষকেরা বিশুদ্ধ যুক্তি দিয়ে বিচার করছিলেন তারা ভবিষ্যদ্বাণী করেন – পূর্ব আর পশ্চিম পাকিস্তানের বন্ধন অচিরেই টুটে যাবে। এই কথায় বোঝা গেল জাতীয় নির্মাণে ইসলামের অসামান্য ভূমিকার কথা মনে রাখেন নাই। কিন্তু বাস্তব হল – ভারত-পাকিস্তানের তিক্ত সম্পর্ক এবং দুইদেশের ভিতরকার সাম্প্রদায়িক টানাপড়েন মানুষের ইসলামী অনুভূতিকে রাজনৈতিক জজবার দিকে নিয়ে গেছে, জাগিয়ে তুলেছে শক্ত দেশপ্রেম। ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষণের চেয়ে আজ পূর্ব পাকিস্তান অনেক বেশি ইসলামিমনা।

তা সত্ত্বেও ১৯৫২ সালে পূর্ব ও পশ্চিমের সম্পর্কে নতুন সমস্যার উদ্ভব ঘটল। কায়েদে আজম নির্দেশ দিলেন পাকিস্তানের সংহতি মজবুত করতে হলে উর্দুকেই দেশের সর্বত্র দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে নিতে হবে। এটা পূর্বপাকিস্তানের মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া সহজ ছিল না যেহেতু তারা উর্দু নয়, বাংলায় কথা বলে। তদুপরি তারা বিষয়টাকে নেক খেয়ালমাত্র হিসাবে নিয়েছিল যেটা এখনো দুরাস্ত্ এবং বাস্তবজীবনে খুব একটা প্রভাব রাখবে না।

কিছু মাস আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীনের বক্তৃতার পর স্বস্তির সেই পর্দা খসে পড়ল। তার কথার ভুল মানে বুঝে মানুষের ধারণা হল – খুব নিকটকালেই উর্দু রাষ্ট্রভাষা হতে যাচ্ছে। পূর্ব পাকিস্তান সরকারের যে ঘরোয়া শত্রুর সহযোগী কমু্নিস্টরা, তারা এমন সুযোগ ছাড়বে কেন? গ্রামেগঞ্জে ছড়াতে লাগল যে পয়লা এপ্রিল থেকে বাসাবাড়িতেও বাংলা বলা নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। ছাত্রদের এই বলে ভয় দেখানো হল যে উর্দু না জানলে তাদের কপালে চাকরি জুটবে না। বাংলাভাষী সরকারী কেরাণীদের বিশ্বাস করানো হল যে তাদের সবাকেই ছাটাই করা হবে। অনিষ্টকারীরা সঙ্গতকারণেই সফলকাম হয়। জুজু সৃষ্টির ফলে বেঁধে যায় গুরুতর দাঙ্গা। একসময় তো স্থানীয় প্রশাসনকেই নাজুক মনে হতে থাকে। তারও চেয়ে গভীর সমস্যা – করাচি ও ঢাকার মধ্যে নয়া ফাটলের জন্ম।

সৌভাগ্যক্রমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের দৃঢ়তা আর কুশলতার ফলে পরিস্থিতি আয়ত্তে চলে আসে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বোঝানো যায় যে তাদের মাতৃভাষা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। শান্তি পুনঃস্থাপিত হয়। নিজেদের দায়ভার নিয়ে উদ্বিগ্ন পাকিস্তানী রাজনীতিকেরা অভিযোগ করলেন এই গন্ডগোলে ইন্ধন জুগিয়েছে ভারতীয় চরেরা। এই চিন্তা যৌক্তিক হলেও ফায়দামন্দ তো নয়। অতএব এই সকল দাঙ্গাফ্যাসাদের মোদ্দা শিক্ষাটা হল, করাচিকে পূর্ব বাংলার সমস্যাপ্রবণতা নিয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে, বিশেষত সেখানকার শীর্ষ বাঙালি নেতা যখন প্রধানমন্ত্রী, তখন এই সতর্কতায় খামতি থাকা চলবে না।

পাকিস্তানের দ্বিতীয় সমস্যা ভারতের সাথে সন্তোষজনক সম্পর্ক গড়া বিষয়ক। এই প্রসঙ্গে সবাই এতই জানেন যে আর বিশ্লেষণের প্রয়োজন পড়ে না। তবে একথা বলা দরকার, পার্টিশনের পরপরই পাঞ্জাবের নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বৈরিতার যে সিলসিলা চালু হয় তা পরে তীব্রতর হয়। দুই সরকারই ঐ পরিস্থিতি সামলে নিতে পারলেও, ভারত পাকিস্তানের মধ্যকার বৈরিতা দানা বাঁধতে থাকে কাশ্মীর বিরোধ, ছেড়ে যাওয়া সম্পত্তি ও বাণিজ্য সম্পর্কের প্রশ্নগুলিকে ঘিরে। খুব কম পর্যবেক্ষকই মনে করেন ড. গ্রাহাম কাশ্মীর সমস্যার সমাধা করতে পারবেন; আরও কম পর্যবেক্ষক ভাবেন, তিনি ব্যর্থ হলে জাতিসংঘ কার্যকর কিছু একটা করবে। যেহেতু পাকিস্তানত্যাগী হিন্দুরা ভারতত্যাগী মুসলিমদের চেয়ে বহুগুণ বেশি সম্পত্তি রেখে গেছে সেহেতু ছেড়ে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে পাকিস্তান খুব কমই মাথা ঘামায়। পাকিস্তান যতক্ষণ না কাশ্মীরের ওপর তার দাবি নিয়ে সন্তুষ্ট হচ্ছে, ছেড়ে যাওয়া সম্পত্তির প্রশ্নে ততক্ষণ তার সত্যিকারের কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সুতরাং কাশ্মীর ও ছেড়ে যাওয়া সম্পত্তির পরস্পরযুক্ত সমস্যার অচলাবস্থা কাটাতে বহুকাল লেগে যেতে পারে।

পাকিস্তানের এমত অবস্থানে বিপত্তির দিকগুলি পরিষ্কার। কিন্তু এর ভিতরেই ঠিক করে নিতে হবে ভারত-পাকিস্তানের বাণিজ্য সম্পর্ক। পাট আর তুলার মতো শিল্পে যেখানে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার খুব প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে সদিচ্ছার কোনো চিহ্ন চোখে পড়ছে না। যদিও দুই অধিরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্যপ্রবাহ একপ্রকার বাধাহীন বলা চলে। যাদের দুই বছর আগের বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতাগুলির কথা খেয়াল থাকবে তারা জানেন, এ এক বিরাট অগ্রগতি।

এই অগ্রগতি পাকিস্তানের তৃতীয় সমস্যা অর্থাৎ একটা সবল অর্থনীতি নির্মাণের বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। পার্টিশনের সময়েও তার শক্তি ও দুর্বলতাসমূহ একই রকম স্পষ্ট ছিল। ভারতের মতো সে নিজের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহে ব্যর্থ হয় নাই। রফতানির কাঁচা পাট ও তুলা ছিল বিপুল পরিমাণে। বড় বড় নদী জলবিদ্যুৎ তৈরির বিশাল সম্ভাবনার কথা বলেছে। আরেক দিকে তার হাতে কয়লা, স্টিল কিছুই ছিল না, গোছানো শিল্পও ছিল না। বন্দরের সুবিধাদি ছিল অপ্রতুল। গুরুতর অভাব ছিল ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি দক্ষতার।

পাকিস্তান এহেন অনটন সামাল দিয়েছে তার একাগ্রতা আর কমনসেন্স দিয়ে। বিরাট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, পরিকল্পনায় আছে আরও কিছু। চট্টগ্রাম বন্দরকে অনেকটা বড় করা হয়েছে, চালনায় স্থাপিত হয়েছে নতুন এক বন্দর। আবাদানের ঘটনাপ্রবাহ যতদিন অনুকূলে ততদিন বাষ্পচালিত রেলযানকে দ্রুত তৈলচালিত যানে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকেও ইতিবাচক বলতে হবে। বড় পাট কারখানা নির্মাণ চলছে। এসবে লগ্নির হার উচ্চ হলেও, কলকাতার পুরাতন কারখানাগুলিকে দক্ষতার দিক দিয়ে ছাড়িয়ে যেতে এটা বেশ সহায়ক হবে। আসলে অনভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব পাকিস্তানের অগ্রযাত্রাকে ক্ষেত্রবিশেষে বাধা দিয়েছিল। কিন্তু বিদেশী নিয়োগে পাকিস্তানের কোনো সঙ্কোচ নাই। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানী বিশেষজ্ঞদের এই সহযোগিতা ভাল ফল বয়ে এনেছে।

উপরন্তু ভাগ্য পাকিস্তানের প্রগতির সহায় হন। বিশ্ববাজারে পাট ও তুলার দাম অনুকূলে থাকায় সামরিক খাতে প্রচুর ব্যয় সত্ত্বেও পাকিস্তানের বাজেটে সঙ্গতি আসে। বৈশ্বিক লেনদেনে আসে ভারসাম্য, বজায় থাকে মুদ্রামান। তবে ইদানীং কাঁচামালের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আবার এমন কথা শোনা যাচ্ছে যে তুলাশিল্পে শ্লথগতির কারণে পাকিস্তানী রুপির অবমূল্যান হতে পারে। এতদসত্ত্বেও, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থান পোক্তই আছে। বলতেই হয় প্রধান প্রধান পণ্য ঘিরে নতুন কলকারখানা গড়াটা ছিল আকলমন্দির পরিচয়।

আজ পাকিস্তানের বন্ধুদের প্রধান উদ্বেগ – পাকিস্তান না আবার আত্মতুষ্টিতে ভুগে তার করণীয় ভুলে যায়, ভুলে যায় ব্রিটিশ ও অন্যান্য বিদেশি সাহায্য তার কতটা দরকার। বিশ্বপরিস্থিতি যতটুকু অনুমোদন করে ততটুকু সহায়তা কিন্তু আসছেই। পাকিস্তান তাই এবার আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রগতি ও উন্নয়নের দিশায় এগুতে পারে, যদি না ভারত পুনরায় বাগড়া দেয়।

গ্রিফিথ্স প্রতিকৃতি: আজিজী ফাওমি খান
টীকা

১. যথা: টানজেলম্যান, অ্যালেক্স ভি, ইন্ডিয়ান সামার: দ্য সিক্রেট হিস্ট্রি অফ দ্য এন্ড অফ অ্যান এমপায়ার, লন্ডন: ২০০৭
২. চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী ভারত অধিরাজ্যের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল। লর্ড মাউন্টব্যাটেনের স্থলাভিষিক্ত হন ১৯৪৮ সালে। সি. আর. তাঁর নামসংক্ষেপ, সুতরাং সি. আর. রাজাগোপালাচারী লেখার কোনও অর্থ নাই।
৩. এই দাবি পুরোপুরি সঠিক বলে মেনে নেওয়া কঠিন। ভারতীয় আমলা সংখ্যায় বেশি ছিল একথা সত্য। তবে চেয়ার টেবিল থেকে শুরু করে এমনকি অভিধান পর্যন্ত (যেখানে এ থেকে কে পর্যন্ত ভারত পেয়েছে, এল থেকে জেড অবধি পাকিস্তান) ভাগাভাগির অসংখ্য ‘গল্প’ প্রচলিত রয়েছে। পাকিস্তানের আমলাতান্ত্রিক ব্যর্থতা ঘটে অন্যত্র। সিন্ধু প্রদেশের উদ্বৃত্ত চালের ভাগ আগেই ভারতকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ভারত তাদের উদ্বৃত্ত চালের ক্ষেত্রে সেটা করে নাই। নয়ত পূর্ব পাকিস্তানে দুর্ভিক্ষ মোকাবেলায় তা কাজে আসত। এই ঘটনায় পার্টিশনের রাজনীতিতে ভারত পাকিস্তানের দ্বন্দ্বে তখনও-না-জন্মানো বাংলাদেশের শোষিত-সত্ত্বার বিকাশ শুরু হয় বললে অত্যুক্তি হবে কি?
৪. মালিক গোলাম মুহাম্মদ ১৯৫১ সালে গভর্নর জেনারেল হন। কার্যত খাজা নাজিমুদ্দীনের প্রধানমন্ত্রিত্বের সরকার চালাতেন তিনিই। সেনা ও আমলাসমর্থিত গোলাম মুহাম্মদই নাজিমুদ্দীনকে সরিয়ে দেন। যদিও সেনাপতিরা তার সঙ্গে সদাচারণ করেছে ইতিহাস এমত সাক্ষ্য দেয় না।
৫. “পাকিস্তানের সর্বত্র” লেখকের ব্যবহৃত এই শব্দদ্বয় বর্তমান প্রেক্ষিতে ব্যখ্যার দাবি করে। উর্দুকে বলপূর্বক কেন্দ্রিকতা দেওয়ার খায়েস থাকলেও, অন্তত মাপা মাপা বয়ানে মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ প্রাদেশিক স্তরে উর্দুর একচেটিয়া ব্যবহারের কথা বলেন নাই। ঢাকায় একাধিক বক্তৃতায় তার এই অবস্থান ধ্বনিত হয়েছে –

আমি রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কে আমার বক্তব্য আবার বলছি। এই প্রদেশের সরকারী কাজের জন্য এই প্রদেশের লোকেরা নিজেদের ইচ্ছামতো যে কোনো ভাষা ব্যবহার করতে পারে। যথাসময়ে এবং এই প্রদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সুচিন্তিত মতামতের মাধ্যমে তাদের ইচ্ছানুসারেই এই প্রশ্নের মীমাংসা হবে। কিন্তু রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রদেশের যোগাযোগের ভাষা হিসাবে একটি ভাষা থাকবে। এবং সে ভাষা হবে উর্দু, অন্য কোনো ভাষা নয়। (উমর, ব., পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রজানীতি, ঢাকা: ১৯৭২, পৃ . ১০৯ )

বলা বাহুল্য নয়, “রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রদেশের যোগাযোগে”র গুরত্বপূর্ণ অংশই হচ্ছে প্রান্তিক প্রদেশগুলির সঙ্গে ক্ষমতাকেন্দ্রের যোগাযোগ। আর এতে ক্ষমতাকেন্দ্রের পছন্দের ভাষা উর্দুই বটে। যদিও অধ্যাবধি পাকিস্তানের জন্মদাতাদের এই খোয়াব খোয়াবই থেকে গেছে।
৬. জিন্নাহর নিন্মোক্ত মন্তব্যের হুবহু প্রতিধ্বনি করতে লেখকের লজ্জা নাই।

… আমাদের মধ্যে নানা বিদেশী এজেন্সীর অর্থ সাহায্যপুষ্ট কিছু লোক আছে যারা আমাদের সংহতি বিনষ্ট করতে বদ্ধ-পরিকর। তাদের উদ্দেশ্য হলো পাকিস্তানকে ধ্বংস করা। আপনারা সাবধান হয়ে চলতুন আমি তাই চাই ; আমি চাই আপনারা সতর্ক থাকুন এবং আকর্ষণীয় শ্লোগান ও বুলির দ্বারা বিভ্রান্ত না হন। তারা বলছে যে পাকিস্তান ও পুর্ব বাঙলা সরকার সর্বতোভাবে আপনাদের ভাষাকে ধ্বংস করতে চায়। মানুষের পক্ষে এর থেকে বড় মিথ্যা ভাষণ আর কিছু হতে পারে না। সোজাসুজিভাবে আমি একথা আপনাদেরকে বলতে চাই যে আপনাদের মধ্যে কিছুসংখ্যক কমিউনিস্ট এবং বিদেশীদের সাহায্যপ্রাপ্ত এজেন্ট আছে এবং এদের সম্পর্কে সাবধান না হলে আপনারা বিপদগ্রস্ত হবেন। পূর্ব বাযলাকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা তারা পরিত্যাগ করেনি এবং এখনো পর্যন্ত সেটাই তাদের লক্ষ্য। (পূর্বোক্ত, পৃ. ১০৭)
৭. ড. ফ্র্যাঙ্ক পর্টার গ্রাহাম। একদা ডেমক্রেট সিনেটর মার্কিন নাগরিক গ্রাহামকে নিরাপত্তা পরিষদের তরফ থেকে কাশ্মীর সমস্যার সমাধানকল্পে, বিশেষত কাশ্মীর উপত্যকার অ-সামারিকীকরণের উপায় করতে পাঠানো হয়।
Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (3) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এম এল গনি — ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৫ @ ১১:৪২ পূর্বাহ্ন

      “..উর্দুকে বলপূর্বক কেন্দ্রিকতা দেওয়ার খায়েস থাকলেও, অন্তত মাপা মাপা বয়ানে মোহাম্মদা আলি জিন্নাহ প্রাদেশিক স্তরে উর্দুর একচেটিয়া ব্যবহারের কথা বলেন নাই।..” – এ বিষয়টি আগে কখনো শুনিনি |

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসাদ মোহাম্মাদ আসাদুজ্জামান — ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৫ @ ১২:২৫ পূর্বাহ্ন

      অনুবাদ হলেও অনিন্দ্য সুন্দর ও সহজপাঠ্যভাবে প্রেক্ষাপটের বর্ণনা করেছে। এই উপমহাদেশের রাজনীতি যে বিলেতি বেণিয়াচক্রে ঘূর্নীয়মান ছিলো, এবং তা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলোকে কিভাবে প্রভাবিত করেছিলো সে সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায় এখান থেকে। বৃটিশ গেছে, পাকিস্তান গেছে, কিন্তু দুঃখজনকভাবে রাজনীতি আজও বেণিয়াবৃত্ত্বির চক্র ভেঙ্গে বেরোতে পারেনি।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পৃথ্বী — ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৫ @ ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন

      বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে আলোচনার সাথে নিওলিবারেল মতবাদের ক্রিটিকের এই সংশ্লেষণটা ভালো লাগল। বাংলা ভাষায় এক ব্লগ ছাড়া নিওলিবারেলিজমের সমালোচনা খুব একটা লক্ষ করি না।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com