শিল্পী মনিরুল ইসলাম: “আমি হরতাল কোনো সময়ই চাই না”

রাজু আলাউদ্দিন | ১৭ জানুয়ারি ২০১৫ ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

monir-1.gifশিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের মাধ্যমে যে শিল্পকলা চর্চার সূচনা বাংলাদেশে তা পরবর্তীকালে প্রতিভাবান শিল্পীদের হাতে বৈচিত্রে ও বৈভবে আজ এক গৌরবময় ইতিহাস হয়ে উঠেছে। জয়নুলোত্তর শিল্পীদের মধ্যে মনিরুল ইসলাম বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক পরিচিতদের একজন। এই পরিচিতি নানা মাধ্যমে তার কাজের নিজস্ব ধরন ও সৃষ্টিশীলতার জন্য।

মনিরুল ইসলামের জন্ম ১৯৪৩ সালে, বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলায়। চাঁদপুরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পড়াশোনা শেষে ভর্তি হন ঢাকার তৎকালীন আর্ট কলেজে। সেখানে তিনি জয়নুল আবেদিন, সফিউদ্দিন আহমেদ, আমিনুল ইসলাম, মোহাম্মদ কিবরিয়ার কাছে সরাসরি চিত্রকলায় পাঠ নেন। ছাত্রজীবন থেকে তিনি অত্যন্ত মেধাবী। অল্প বয়সেই তিনি চিত্রকলায় নিজের ধরনটি সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। জয়নুল আবেদিনের একান্ত আগ্রহে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে ১৯৬৬-১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতা করেন। তারপর স্পেন সরকারের বৃত্তি নিয়ে উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। এরপর থেকে স্পেনেই স্থায়ীভাবে বাস করে শিল্পচর্চা করছেন। স্পেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার বহু একক ও যৌথ প্রদর্শনী হয়েছে। এছাড়া তিনি স্পেন, ফ্রান্স, মিসর, ভারত, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বহু আন্তর্জাতিক চারুকলা প্রদর্শনীতে বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন। তার ছবি স্থান পেয়েছে পৃথিবীর বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্যালারিতে।

১৯৯৭ সালে তিনি স্পেনের রাষ্ট্রীয় পদক, ২০১০ এ তিনি ভূষিত হন স্পেনের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা দ্য ক্রস অব দি অফিসার অব দি অর্ডার অব কুইন ইসাবেলা পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের একুশে পদক, শিল্পকলা একাডেমী পদকসহ বিভিন্ন পদক ও সম্মাননা পেয়েছেন।
এ মাসের শুরুর দিকে বিভিন্ন বিষয়ে তার সঙ্গে কথা হয় কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের। ভিডিওতে ধারণকৃত তাদের আলাপচারিতার শ্রুতিলিপি এখানে উপস্থাপন করা হলো
। বি.স.

রাজু আলাউদ্দিন: নতুন কী কাজ করছেন এখন… কোনো প্রদর্শনীর জন্য…
মনিরুল ইসলাম: প্রদর্শনী না হলেও নতুন কাজ করছি। আমি দেশে এসেছি অনেকদিন হয়ে গেল। নরমালি আসি ছমাসের জন্য আসি। এবার হয়ে গেছে এক বছর চার মাস। এতো দীর্ঘ সময় আমি থাকি না। কারণ আমার হাফ পার্ট অফ লাইফ স্পেনে। যেহেতু স্পেনে থাকা আমার ৪৫ বছর হয়ে গেলো। তো এখন… নতুন কাজ… এগজিবিশন হওয়ার কথা ছিলো। সেটা পিছালাম কয়েকবার। লাস্টলি ডিসাইড করেছি, ছবি হলে করবো, না হলে করবো না। এখন ব্যাপার হলো এগজিবিশনের চিন্তা করে ছবি আঁকতে আমি পারি না। এটা একটা স্ট্রেস আমার কাছে। আমি ছবি আঁকবো আমার সম্পূর্ণ লিবার্টি নিয়ে। যেহেতু আমি ছবি আঁকার কোনো রুলস মেইন্টেইন করি না। আমার ছবি আঁকার কিন্তু কোনো রেগুলেশনও কিছু নেই। যে কোনো সারফেসে আমি ছবি আঁকি। এই যে আমার পড়া হয়ে গেছে ‘কালি ও কলম’, এই কাগজে কেউ আঁকবে না। কিন্তু এগুলো একবার যখন পড়া হয়ে গেছে, সেইটাই আমি ব্যবহার করি। এই বইটাকে… এই যে রাখছি একটা পাতা। খুব বাজে কাগজ, কিন্তু এর চেয়ে বেশি ইম্পোর্টেন্ট হলো দরদ। কতোটুকু আমি দরদ দিয়ে তৈরি করছি। কাজ আমি যা জানি তা-ই করবো। কিন্তু এর ভেতরে ছবি আঁকার কতোগুলো জিনিস আছে যেগুলো… আমি চাই যে দুটি ছবি এক না হোক। নতুন কিছু খুঁজতে চাই এবং এই বইয়ে কাজ করার অর্থ লিবার্টি যেটা অন্য কিছুতে পাই না। যেহেতু এখানে তিনশো পাতা রয়েছে। এগুলো তৈরি করতে হয় আমাকে… যাতে টেকে, এরপর যেহেতু এটা খুব সস্তা ম্যাটেরিয়াল এখানে আমার লিবার্টিটা খুব চড়া। সম্পূর্ণ লিবার্টি দিয়ে ছবি আঁকতে পারি।
border=0১৯৭৩ সালে শিল্পী মনিরুল ইসলাম।

রাজু আলাউদ্দিন: ভয় থাকে না যে, একটা দারুণ কিছু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে…
মনিরুল ইসলাম: ভয় থাকে না, জড়তা নাই। তারপর একটা অ্যাটিচুড আসে— যা করি নাই আমি, দেখি সেটা এবার কী হয় এবং ইন্সট্যান্ট ছবি আঁকার সময় লক্ষ করে দেখি মিরাক্যালি কিছু ঘটছে কিনা। এই যে ঘটনা, নতুন কিছু খোঁজা বা পাওয়া—সেইটাই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ইম্পোর্টেন্ট।
রাজু আলাউদ্দিন: ওইটার জন্যই অপেক্ষা করে থাকেন?
মনিরুল ইসলাম: সেটাই প্রত্যেক আর্টিস্ট চায়। কিন্তু প্রত্যেক আর্টিস্টের লাস্টে হয় কী, একটা কন্ডিশন হয়ে যায়। গ্যালারি আছে, বায়ার আছে। সবাই না, তবে অধিকাংশ আর্টিস্ট একটা বয়সে এসে চাইলেও আর পারে না। কারণ তার একটা ‘নাম’ আছে।
রাজু আলাউদ্দিন: বন্দী হয়ে থাকে…
মনিরুল ইসলাম: হ্যাঁ, সেটায় বন্দী… তারপর নতুন কিছু চিন্তা করা একটা বয়সে এসে; রিস্ক আছে। হঠাৎ করে একজন অ্যাবস্ট্র্যাক্ট আঁকতেছে, ইমেজ নিয়ে ছবি আঁকছে। বলে, এই করে কী! ওনার ছবি তো এরকম ছিলো না।
রাজু আলাউদ্দিন: আচ্ছা।
মনিরুল ইসলাম: না, সেটা আমার কাছে অতি নগন্য বিষয়। সে যদি চায়… একজন অ্যাবস্ট্র্যাক্ট পেইন্টার একটা অন্য ধরণের ছবি আঁকবে। সেটা… যদি সুররিয়ালিজম হয়, হোয়াই নট। তার করা উচিৎ। এই লিবার্টি যদি না থাকে, তাহলে ছবি আঁকা ছেড়ে দেওয়া উচিত।
রাজু আলাউদ্দিন: এখানে একটা ছবিতে দেখলাম কিছু কথা/উক্তিমতো কিছু যুক্ত করেছেন… এটা আপনার আগেও কখনও কখনও ছিল…
verse-and-painting.gifযে শিল্পকর্মে স্প্যানিশ কবিতাটি ব্যবহার করা হয়েছে

মনিরুল ইসলাম: আমি আগে লেখতাম। এটা আমি… একটা সুন্দর স্প্যানিশ ভার্স… এই ছবিটার সঙ্গে একটু রিলেটেড, সেজন্যেই… নারী/ওমেন সম্বন্ধে লেখা…
Son la mujer mas bella de la pintura de todo el arte incluos de la historia. no le costaba nada. Para ello, ni siquiera nesecita levantarse, ni estar pespierta arreglada, ni peinada, ni siquiera asi la veia. el siempre lo pensaba en ella এইভাবেই সমস্ত সমাজ বা ইতিহাস, এইভাবেই তাকে দেখেছে।
রাজু আলাউদ্দিন: আপনি এই ছবি আঁকতে আঁকতে কোথাও টেক্সট জুড়ে দিচ্ছেন… এই যে এই ধরণের জুড়ে দেয়া… এটা হয়তো আপনার আগে কোথাও পড়া ছিলো অথবা নিজের কম্পোজিশন…(মনিরুল: হ্যা) এটা কী পড়া ছিল আগে?
মনিরুল ইসলাম: এইটা একটা ভার্স, পড়া ছিল অবশ্যই। কিন্তু আমি এটাকে ছবির একটা অংশ করে তুলেছি। সেটা পড়ার জন্য নয়। সেটা ইনভেন্টেড, সেটা ছবির একটা কম্পোজিশনের মতো। এখন আমি যদি লিখতে পারতাম তাহলে আমি কবিতা বা নভেল লিখতাম। আমি আর্টিস্ট আমার কাজ হলো ছবি আঁকা।
রাজু আলাউদ্দিন: আপনিও লেখক। আপনি তো রং দিয়ে লিখছেন…
মনিরুল ইসলাম: হ্যাঁ, কতোগুলো জিনিস পড়ার… ছবি আঁকার ভিতর দিয়ে আমার যায় না। তখন দুয়েকটা শব্দ লিখি আর কী।
রাজু আলাউদ্দিন: এই যে পাঠগুলো, আপনার মাথার মধ্যে থেকে যায়, তাই না? তখন কোনো একটা ছবির সঙ্গে যখন আপনি সঙ্গতিপূর্ণ মনে হয় সেটা ছবির মধ্যে প্রবেশ করান।
মনিরুল ইসলাম: শিওর।
রাজু আলাউদ্দিন: পাঠের জায়গাটা বলি… মানে নানান রকম পাঠ তো আপনি করছেন, সেটা চিত্রকলা বিষয়ক পাঠ হতে পারে, কবিতা হতে পারে… যেমন এখানে স্প্যানিশ ভার্স। এইরকম প্রিয় লেখকদের কথা জানতে চাই… সেইটা স্প্যানিসভাষী হতে পারে, বা অন্যভাষী হতে পারে…
মনিরুল ইসলাম: আমরা শিল্পীরা বেশিরভাগ… ইভেন বড় বড় পেইন্টারদের বলা হয় আনকালচার্ড। গয়্যার মতো পেইন্টারদের…
রাজু আলাউদ্দিন: আনকালচার্ড বলা হয়?
মনিরুল ইসলাম: শিল্পীরা কিন্তু বই বেশি পড়ে না এখন। বই বেশি পড়ে না কারণ সময় নেই।
রাজু আলাউদ্দিন: কিন্তু আপনার কাজ দেখলে তো সেটা মনে হয় না বা আপনি কথা বললেও সেটা মনে হয় না… আপনার সময়ের ভালো লাগা গান কোনগুলো?
মনিরুল ইসলাম: এটা বলা মুশকিল।
রাজু আলাউদ্দিন: এটা মুডের উপর নির্ভর করে কি?
মনিরুল ইসলাম: মুড ও সময়। আমি রবীন্দ্রসংগীত পছন্দ করি কিন্তু ওইটার জন্য একটা পরিস্থিতি থাকতে হবে। একটা বিয়ে বাড়িতে যদি রবীন্দ্রসংগীত নির্বাচন করা হয়, সেটা ইম্পসিবল। তারপর জ্যাজ ভালো, ক্ল্যাসিকাল, অপেরা … সবই ভালো লাগে। এথনিক মিউজিক… বহু দেশ ঘুরেছি। যেমন মরক্কোর এথনিক মিউজিক খুবই ভালো লাগে। গিনুয়া…
রাজু আলাউদ্দিন: গিনুয়াটা কী?
monir-jainul.gif শিল্পী জয়নুল আবেদিনের আলোকচিত্রের সামনে শিল্পী মনিরুল ইসলাম।

মনিরুল ইসলাম: এটা হচ্ছে বের্বের (Berber) ডান্স ও মিউজিক।… উপজাতিদের। মরোক্কানরা তো বের্বের (Berber), ওরা তো আরব না। সংগীতের জন্য যেমন সময় দরকার, সেইসঙ্গে ওই পরিস্থিতিও দরকার। ওই দিনের ওই পরিস্থিতি দরকার। ছবির কথা, ছবিটা কী? ছবিটা সময় ধরে রাখে। আজকের কথা বলি, আজকের এই সময়টাতে আমি কী চিন্তা করছি— এই সময়টা ধরে রাখা। এই ছবিটা আসবে না কোনোদিন। জয়নুল (আবেদিন) সাহেব কলকাতায় বসে দুর্ভিক্ষের ছবি এঁকেছেন ১৯৪৩ সালে। তিনি ওই দিন, ওই সময়, ওই পরিস্থিতিটা ধরেছেন। সেটা আর কোনোদিন রিপিট করেননি। ছবিটা একটা ডায়েরির মতো। ছবি দেখলে বুঝি এই দিনটা আমরা কার সাথে ছিলাম, কী করলাম। ছবিটা সেই সময়টাকে ধরে রাখা, সেই ফিলিংস নিয়ে ছবি আঁকা। সেটাকেই ধরে রাখা।
রাজু আলাউদ্দিন: সিনেমা কী আপনাকে প্রভাবিত করেছে কোনোভাবে… আপনার ছবি আঁকা, আপনার ভাবনার ক্ষেত্রে… সেরকম হতে পারে কিনা। যেমন লুইস বুনুয়েল। লুইস বুনুয়েল তার ছবিতে পেইন্টার বা এদের সবাইকে এক সূত্রে গেথে ছিলেন…
মনিরুল ইসলাম: তারা সবাই একসময়ের। লুইস বুনুয়েল, সালভাদর দালি, গার্সিয়া লোরকা,— এরা একসঙ্গে ছিল। ওই সময়টায়, সুররিয়ালিজমের পিরিয়ডে ওদের আবির্ভাব, বুনুয়েলের আলাদা ভাবনা এবং ব্যক্তিত্ব সবাইকে একত্রিত করতে পেরেছিল। তার দরকার ছিলো। কিন্তু এখন হয়ে গেছে ইন্ডিভিজুয়াল সোসাইটি।
রাজু আলাউদ্দিন: সমন্বয়ের অভাব…
মনিরুল ইসলাম: এখন আর্ট নিয়ে আর্ট ইন্সটিটিউটে বসা বা আড্ডা দেওয়া… ছবি নিয়ে আলাপ করা খুব কম হয়।
রাজু আলাউদ্দিন: মানে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের লোকজনগুলো একসঙ্গে হয়না আগের মতো।
মনিরুল ইসলাম: আগে আর্টিস্ট, রাইটার, সিনেমার লোকজন এক সাথে ছিল। এখন বোধহয় এটা কমে গেছে। বিদেশে ছিল, ওদের একটা কফি হাউস থাকতো। সেটাকে ওরা বলে ‘তেরতুলিয়া’। ‘তেরতুলিয়া’ শব্দটা সাউন্ডস গুড। ‘তেরতুলিয়া’ মানে হচ্ছে গল্প করা। ওদের ডেইলি লাইফ… গোলটেবিলে বসে আড্ডা দেওয়া এবং লিটারেচার, তারপর আর্ট, সিনেমা… যার যার অভিব্যক্তি জানাতো আরকি। এর ভেতর খালি এইটাই না..
রাজু আলাউদ্দিন: সেরকম আড্ডা কী আপনি পেয়েছিলেন?
মনিরুল ইসলাম: আড্ডা হয় না, ওই যে বললাম সময়ের অভাব…কারণ এখন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গেলে টাইমটা খরচ হয়। তারপর বসে কোথাও রিলাক্স মাইন্ডে কথা… তারপর দেশের যে পরিস্থিতি, রাত হয়ে গেলে ফিরবো কেমন করে! অনেককিছু মিলিয়ে মানুষ আস্তে আস্তে অন্যরকম হয়ে গেছে।
রাজু আলাউদ্দিন: সংযোগের বাইরে চলে গেছে…
মনিরুল ইসলাম: কমিউনিকেশনের বাইরে চলে গেছে, লেস কমিউনিকেশন হচ্ছে। ওই সব নিয়ে… রিলাক্স যে টাইমটা সেটা মোটামুটি নাই।
রাজু আলাউদ্দিন: আগে দেখা সিনেমাগুলোর কথা আপনার মনে পড়ে?
border=0শিল্পী মনিরুল ইসলামের সাথে রাজু আলাউদ্দিন।

মনিরুল ইসলাম: ভালো সিনেমা যেগুলো, সবগুলোই মনে পড়ে। আমরা এখন বছরে শত শত সিনেমা দেখছি। টেলিভিশন সিরিজ। এখন টিভিটা হওয়াতে হলে মানুষ কম যায়। কিন্তু আমি মনে করি সিনেমাহলে গিয়েই সিনেমা দেখা উচিত… বড় সিনেমা… এখানে ফটোগ্রাফি আছে, কম্পোজিশন, কালার আছে… একটা বিগ ইমেজ। টিভিতে ওইটা নাই। বড় বড় ওয়ার ফিল্ম, ফটোগ্রাফি যেগুলোর ভালো। আমাদের দেশে তো আসে না এখন, সিনেমা একদম নাই বললেই চলে।
রাজু আলাউদ্দিন: সিনেমা হলে আসে না কিন্তু সিডি/ডিভিডিতে আসে।
মনিরুল ইসলাম: হ্যাঁ, ডিভিডিগুলোতে সব কিছু আসে না কিন্তু। ডিটেইলস পাওয়া যায় না। কালার ঠিক মতো আসে না। খুব অর্ডিনারি সিনেমাগুলো হল থেকে বেরুলেই আর মনে থাকে না। কিন্তু ভালো সিনেমা, ওগুলোর প্রায় সিনগুলো মনে থাকে। যেমন— বিদেশি ফিল্ম ‘কাসাব্লাংকা’, হামফ্রে বোগার্ডের এয়ারপোর্টের কিছু দৃশ্য ইমমর্টাল। তারপরে আছে সোফিয়া লরেনের ‘দ্য টু উইম্যান’, ‍যুদ্ধ যে কি রকম বিভৎস হতে পারে, কি কঠিন, করুণ সব মিলিয়ে।
রাজু আলাউদ্দিন: বুনুয়েলের ছবি দেখেছেন নিশ্চয়?
মনিরুল ইসলাম: হ্যাঁ, বুনুয়েলের ‘ভিরিডিয়ানা’ খুব বিখ্যাত ফিল্ম, তারপর ‘উন পেররো আন্দালুস’। সেটাও ওই টাইমে ওই চিন্তা নিয়ে করা। তখন তার সেরকম অ্যাপ্রিসিয়েশন ছিল না। মানুষ বুঝতে পারেনি। পরে বুঝতে পারলো সিনেমাটা অসাধারণ।
রাজু আলাউদ্দিন: তাকে তো বলা হয় সিনেমার দার্শনিক…
মনিরুল ইসলাম: হ্যাঁ, গুরু আরকি। তাছাড়াও বুনুয়েল সবসময় ভালো ছবি করেছে– তা না। মেক্মিকোতে যখন চলে গেলো ফ্রাংকোর তাড়া খেয়ে, সেখানে তাকে অনেক অর্ডিনারি ফিল্ম করতে হয়েছে। সব পেইন্টারেরও সব ছবি মাস্টারপিস না। এমনকি দা ভিঞ্চি, মাইকেঞ্জেলো– তাদেরও আট-দশটা মাস্টারপিস ছবি। বাকিগুলো না।
রাজু আলাউদ্দিন: এটাতো লেখকদের… যেমন কবিদের মধ্যে নজরুল ইসলাম কয়েকশো কবিতা লিখেছে কিন্তু আমরা তো সবগুলো কবিতা পড়িও না। মনে রাখি যেগুলো কালের বিচারে টিকে গেছে সেগুলো। সিনেমার ক্ষেত্রে যেটা আপনি বললেন সেটা ঘটে… হ্যাঁ, পেইন্টিংয়ের ক্ষেত্রেও তো তাই।
মনিরুল ইসলাম: সিনেমার ক্ষেত্রে বা ক্রিয়েটিভ ওয়ার্কে এগুলো মোটামুটি একই রকম জিনিস… ডিফারেন্ট মিডিয়াতে গড়া। মাধ্যম ভিন্ন। তো সেই হিসেবে পেইন্টিং হলো বোবা জিনিস।
রাজু আলাউদ্দিন: বোবা জিনিস নাকি শব্দ জমাটবদ্ধ অবস্থায় আছে?
মনিরুল ইসলাম: আমরা আর্টিস্টরা একটা জিনিস হইতে চাই না। হইতে চাইলেও সেটা হবে ভুল… আমরা থাকি বিহাইন্ড দ্য ক্যানভাস। আর ফিল্ম স্টাররা থাকে সবসময় ফ্রন্টে। আর যেহেতু ল্যাঙ্গুয়েজটা বোবা, এটার কোনো সাউন্ড নাই এবং ছবি দেখতে হলে বোবা হয়ে দেখতে হবে। আমাদের অনেক লোকের চিন্তাধারা— যে কী ভাই কী আঁকলেন কিছুই বুঝি না। এটা নাইনটি নাইন পার্সেন্ট। সাধারণভাবে আমিও তখন বলি, আমিও বুঝি না। বলে– আপনি বোঝেন না, আপনি আর্টিস্ট। আপনি এতো বছর ধরে ছবি আঁকেন। বলি না, না, আপনার চেয়ে এক চুল পরিমাণও বেশি বুঝি না। এখন যে ধরণের ছবি আঁকা হচ্ছে, সেগুলো বোঝার কিছু নাই। সেটা ভালো লাগে কিনা। কারণ, সাধারণ মানুষ যে ছবি আঁকে না তারও কিছু সৌন্দর্য্য বোধ আছে। তারও একটা (রাজু: মানদণ্ড আছে)… সে একটা ড্রেস কিনলে সে দেখবে এই রঙটা পরলে ভালো লাগতে পারে। এর কিছু কমবেশি আছে। তারপর একটা সাধারণ লোক, একজন শহুরে লোক একটা নেকটাই কিনতে গেলে তিনটা দোকান ঘোরে। ঘোরার কী প্রয়োজন। সে তো একটা কিনলেই পারে…
রাজু আলাউদ্দিন: তার মানে সে একটা ইসথেটিক সেন্স দ্বারা পরিচালিত…
মনিরুল ইসলাম: সেই নেকটাইটার সঙ্গে কোন রংয়ের কোন শার্ট পড়লে কেমন হবে। তো এগুলো আর্টেরই একটা অংশ। তারপর আমরা গ্রামে পাকন পিঠা বানাই এতো সময় নিয়ে। তার কী দরকার, ভাজি করেই তো খাওয়া যায়।
রাজু আলাউদ্দিন: নকশাদার…
মনিরুল ইসলাম: হ্যাঁ, নকশাদার, পাকন পিঠা। এগুলো হলো আর্টের ইউজিং অফ ডেইলি লাইফ। তারা ডেইলি লাইফে ইউজ করছে। সাঁওতালদের আর্টের কোনো ট্রেনিং নেই। অথচ ঠিকই সুন্দর করে বাড়ি সাজায়, মাটির দেওয়ালে চুন দিয়ে আল্পনা করে। এগুলো তার নেচার থেকে পাওয়া, যে এইটা সুন্দর লাগে। এই যে সুন্দর বোধটা– এইটাই আর্ট, আর কিছু না। এখন আফ্রিকান যে আর্টটা, ওরা আর্টিস্ট ছিলো না। ওরা রিলিজিয়াস পারপাসে করত।
রাজু আলাউদ্দিন: রিচুয়ালের অংশ…
মনিরুল ইসলাম: সেটা মেক্সিকোতেও একই ব্যাপার। আজ থেকে আর্ট…
রাজু আলাউদ্দিন: এই যুগেরই ফ্রিদা কাহলোও কী ইন্সটিটিউশনাল কোনো প্রশিক্ষন নিয়েছে? নেয়নি তো…
মনিরুল ইসলাম: না নেয়নি।
রাজু আলাউদ্দিন: আরেক জন আছেন নামটা ভুলে গেছি। অক্টাভিও পাজের মেক্সিকান আর্টের একটা বই আছে, ওখানে দেখেছিলাম। ওনার নাম আমি জানতাম না। ভদ্রলোকের নামটা ভুলে গেছি…
মনিরুল ইসলাম: তলেদো হতে পারে। তারপর রুফিনো তামাইয়ো।
রাজু আলাউদ্দিন: রুফিনো তামাইয়ো।
মনিরুল ইসলাম: একেকটা আর্টে একেকজন আর্টিস্ট মিথ হয়ে গেছে। আমাদের দেশে জয়নুল আবেদিনের নাম আসে প্রথমে। মেক্সিকোতে বলে– ‘এভরি কান্ট্রি হ্যাভ দেয়ার ওউন প্রফেট’। আবার অন্যভাবে বলা যায়– ‘নান ইজ দ্য প্রফেট অফ হিজ ওউন কান্ট্রি’, মানে কেউ তার দেশের প্রফেট না।
রাজু আলাউদ্দিন: এটা কেনো?
মনিরুল ইসলাম: কারণ দুটি। আমরা বলি… জয়নুল আবেদিন যেহেতু আমাদের পরিচিত, শিল্পগুরু। মেক্সিকানরা বলবে যে রুফিনো তামাইয়ো, দিয়েগো রিবেরা, ফ্রিদা কাহলো… আমাদের সম্বন্ধে কোনো ধারণাই নেই তাদের। বলেছে আর্ট হয় কিনা। কেউ আঁকেই কিনা, ইন্ডিয়াতে্ও একই ব্যাপার। তো এইটা হয়…
রাজু আলাউদ্দিন: এই কারণেই বলছেন প্রত্যেক দেশের প্রফেট আছে আবার কোনো দেশেই প্রফেট নাই…
মনিরুল ইসলাম: প্রফেটরা বেশিরভাগ আবার বলে যে প্রফেট সিম্বলিকালি। জিসাস ক্রাইস্ট… এই যে ‍যিউসদের যতো অত্যাচার… সেখানে কিন্তু ক্রিশ্চিয়ান ধর্ম নাই। বুদ্ধ ধর্মের বুদ্ধ ছিলো ইন্ডিয়ান কিন্তু ইন্ডিয়াতে তার কোনো হদিস নাই। চলে গেছে অন্য দেশে। তারপর যে যেই দেশে জন্ম নিছে, সেখানে তারা সেটা আস্তে আস্তে আর গুরুত্ব দেয়নি। চলে গেছে অন্য জায়গায়।
রাজু আলাউদ্দিন: আপনি জয়নুল আবেদিনের কথা বললেন, জয়নুল আবেদিনের সমপর্যায়ের কিন্তু গুরুত্ব পায়নি– এমন কেউ আছেন কি?
মনিরুল ইসলাম: নিশ্চয় আছেন। অনেক সুন্দর অর্কিড ফ্লাওয়ার বা সুন্দর ফুল লোকের অজান্তেই জঙ্গলে ফোটে বা সেখানেই বিকশিত হয়। সেখানেই তার ফুলটা নষ্ট হয়ে যায়। কেউ তা দেখেও না। এটা সিম্বলিকলি বলছি… সেরকম অনেক শিল্পী আছে যারা ঠিক টাইমে ঠিক পর্যায়ের পাবলিসিটি পায়নি বা এগজিবিট হয়নি বা ফোকস হয়নি। বহু বহু আছে।
রাজু আলাউদ্দিন : কার কথা বলছেন?
মনিরুল ইসলাম: আমি পৃথিবী জুড়েই বলছি। রক্ষা হয়নি তাদের ছবি। পাওয়া গেছে পরে, যেমন এল গ্র্যাকো একজন বিরাট পেইন্টার। তার ছবিগুলোয় লম্বা লম্বা দেখতে ফিগারগুলো। দুইশো বছর পর আবিস্কার হন তিনি, একজন বিরাট মাপের লোক। একজন লেখক লিখলেন তার সম্পর্কে। শুরু হল কৌতুহল। সাধারণ লোকের ছবি নিয়ে আর কয়জন আলোচনা করে! ইউরোপে ওদের মিউজিয়াম আছে, লোকজন মিউজিয়ামে যায়। ক্ল্যাসিকাল গান শোনে। তারা শৈশবেই সবকিছুর টাচ পাচ্ছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ খুব এক্সপার্ট হয়ে যায়। এই যে বই… কাল শুনছিলাম… বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ সুন্দর কথা বললেন। বই যে কতো রকমের বেদনাদায়ক হতে পারে একজন স্টুডেন্টদের জন্য; বই একটা জঘন্য রকমের টর্চার। এই বই পড়তে হবে, এটা জানতে হবে, সেটার পরীক্ষা দিতে হবে।–এই সব আরকি। ‍কিন্তু এখন শুনতে পাচ্ছি সাহিত্য কেন্দ্রের সব সদস্যই ইয়াং এবং সংখ্যাটা বিরাট। এখন যেহেতু হয়ে গেছে ডিজিটাল… কেউ কেউ মনে করে হয়তো ভবিষ্যতে কোনো পাবলিকেশনই থাকবে না। যেহেতু মানুষ এখন… ওই প্লাস্টিক…ল্যাপটপে পড়বে, কম্পিউটারে পড়বে… — আমি এগুলো বিশ্বাস করি না। এতো সহজে… মানুষ বইয়ের স্পর্শ থেকে সরে যাবে না। বইয়ের যে মজা সেটা কিন্তু ওই প্লাস্টিকের বইতে নাই। যারা বই ভালোবাসে, বই পড়ে। আস্তে আস্তে অনেক কিছু অবশ্য লুপ্ত হয়ে যাবে… কমিউনিকেশন লেস হয়ে যাবে। আবেদিন সাহেবের ছবি যেমন। আমি বলি যে গরুর গাড়ির যে তুলির টান, এখন গরুর গাড়ির চাকা হয়ে গেছে মটরের চাকা। তাই না? তারপরে পেশীবহুল মাঝি নাই। কারণ নৌকায় পালও নাই, লগির দরকার নাই। মটর হয়ে গেছে। এখন আবেদিন সাহেবের ছবিগুলো যদি ইয়াং জেনারেশন দ্যাখে, ওই গুণ টানা দেখে প্রশ্ন করবে— আরে নৌকা এভাবে সুতা দিয়ে টেনে নিয়ে যায় কেন? অল্প টাইমের ভেতর কমিউনিকেশন লেস হয়ে গেছে। এগুলো খালি আর্টের ক্ষেত্রে না, অনেকক্ষেত্রেই যে নতুন জিনিস বেরুবো, পুরোনোগুলো মিউজিয়ামের পিস হয়ে থাকবে।
রাজু আলাউদ্দিন: কিন্তু আপনি… বাংলাদেশে ঘটেছে কিনা বললেন না। যোগ্য হওয়া সত্বেও মনোযোগ দেওয়া হয়নি এমন কোন আর্টিস্ট।
border=0আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুনের চোখে মনিরুল ইসলাম।মনিরুল ইসলাম: আর্টটা আমরা পেয়েছি খুব ইয়াং অবস্থায়। তৎকালীন পাকিস্তানি আমলে, আমরা যখন ইয়াং ছিলাম। কোনোদিন অরিজিনাল পেইন্টিং দেখিনি। পেইন্টিংটা কি, বাইরের কোনো ইমেজই দেখিনি। বাইরের কোনে আর্টিস্ট, এগজিবিশনই দেখিনি। গ্যালারি ছিল না। সুতরাং আর্ট নিয়ে আমাদের কমিউনিকেশন তখনকার আর এখনকার অবস্থা দিন আর রাত। এখন কম্পিউটার হওয়াতে আজকে সন্ধ্যায় আমেরিকাতে কী এগজিবিশন হচ্ছে সেটা একই সময়ে দেখা যাবে। আর যার ওয়েবসাইট আছে তার ছবি দুনিয়ার আর্টিস্ট টেবিলে বসে দেখতে পারে। আগে সেই কমিউনিকেশ তো ছিলো না। আমরা তো আগে কোনোদিন বাইরে যেতে পারিনি। সেই আমলে যদি কোনো আর্টিস্ট যেতো, তার দশ বছর অপেক্ষা করতে হতো। কারণ তাকে ফরমই লিখতে দিতো না।
রাজু আলাউদ্দিন: ছবি দেখার সুবিধাগুলো তৈরি করে দিয়েছে…
মনিরুল ইসলাম: হ্যাঁ, আস্তে আস্তে আমাদের বাংলাদেশ হওয়ায় এখন বিদেশে যাতায়াত বেড়েছে। জাপানে অনেক আর্টিস্ট গেছে। চায়নাতেও অনেকে যাচ্ছে। আমেরিকাতে এক গ্রুপ নারী শিল্পী এগজিবিশন করে আসলো কিছুদিন আগে। এটা চিন্তার বাইরে। নেপালে এক গ্রুপ গেলো। একই টাইমে তিনটা দেশে… আমরা গেলাম অস্ট্রেলিয়াতে, কেউ গেল কোরিয়াতে, কেউ গেলো জাপানে। একই টাইমে বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৩০ জন আর্টিস্ট এগবিজিশন করছে। এখন বাংলাদেশ আর্টের একটা স্থান আস্তে আস্তে নিচ্ছে পৃথিবীতে। আগে ধারণা ছিল বাংলাদেশ, এতো একটা গরীব দেশ, আর্ট হয় নাকী! বাংলাদেশ মানেই ঝড় তুফানের জায়গা, লঞ্চ ডুবে। এগুলোই মানুষের ইনফরমেশন ছিল।
রাজু আলাউদ্দিন: হ্যাঁ, সেটা অনেক বদলেছে…
মনিরুল ইসলাম: আস্তে আস্তে আরও বদলাবে। বাংলাদেশে এখন অনেক ভালো আর্ট হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশের চেয়ে্ও ভালো। এটার কারণও আছে। কারণ আমাদের যেহেতু স্ট্রং কোনো ট্রেডিশন ছিল না। ট্রেডিশন খুব স্ট্রং থাকলে এটা ভাঙা খুবই কঠিন। বের হওয়া কঠিন এটা থেকে। ট্রেডিশন যেমন থাকার দরকার আছে, তেমনি ট্রেডিশন থেকে বাইরেও যেতে হবে। এখন আমরা যে ছবি আঁকি তা আমি সাপোর্ট করি। লোকাল ছবি, ফোক আর্ট এগুলোর খুব দরকার। এটা থাকা দরকার। এটা আমাদের নানা, দাদা। তাদের পরিচয়।
রাজু আলাউদ্দিন: সেখান থেকে নতুন দিকে যাত্রাও করতে পারে তো?
monir-2.gifচিত্রকর্ম: “AGONY”Etching 50X100 cm. 1971

মনিরুল ইসলাম: হ্যাঁ, নতুন দিকে… আর্ট এতো কমপ্লিকেটেড হয়ে গেছে। তার যে এতো ভ্যারাইটিজ মিডিয়া… ইন্সটলেশন আর্ট, ইলেকট্রিক আর্ট, ডিজিটাল আর্ট–এগুলো মিডিয়া। তারপর এচিং, উডকাট, সিল্কস্ক্রিন, এগুলো গ্রাফিক আর্টের। তারপরে ওয়েল পেইন্টিং ছিলো, এখন অ্যাক্রেলিক। অ্যাক্রেলিক মানে কী? অ্যাক্রেলিক হলো প্লাস্টিক মিডিয়া। সেটা আইকা দিয়েও করা যায়, অন্য গ্লু যেটা শক্ত থাকে। যেটা লাস্টিং করে। যেহেতু আমাদের দেশের আবহাওয়া খারাপ, ওর্স্ট টেম্পারেচার টু প্রিজার্ভ দ্য আর্ট ওয়ার্ক। সেখানে যত্ন নিতে হবে ছবির। এখন আমাদের অনেক বায়ার গ্রো করছে। আগে সাহেবরা কিনতো। এখন সাহেবদের পয়সা নেই। কারণ ইকোনমিক যে সিচুয়েশন ইউরোপের, দূতাবাসের লোক যারা আছে বাইরের বা এনজিওর প্রচুর বাংলাদেশি আছে এখন। যেহেতু ইউরোপিয়ান ক্রাইসিস… তাদের ফ্রোজেন স্যালারি, এন্টারটেইনিং এলাউন্স নাই। তাদের খুবই সময় খারাপ যাচ্ছে এবং আর্ট ডিপেন্ড করে ইকোনমিক সিচুয়েশনের উপর। আমেরিকা এতো বছর রাজত্ব করেছে… এখনও করছে। ওরাই হিস্টরি করেছে, বিল্ডিং, আর্কিটেকচার, সবকিছু। এখন কিছু কিছু চায়নাতে চলে যাবে। যাচ্ছেও আস্তে আস্তে। সাইরাইজ এবং সানসেট বলে একটা কথা আছে না! ইউরোপ এতো বছর রাজত্ব করেছে। এখন সেটা অন্য দেশে চলে যাবে। এটা হয়, কারণ কোথায় গেলো ফারাও এম্পায়ার, রোমান এম্পায়ার। এতো বিরাট বিরটা শক্তিশালী…
রাজু আলাউদ্দিন: জীবনানন্দর দাস যেমন বলেছেন ‘এশিরিয়া ধূলো আজ- বেবিলন ছাই হয়ে গেছে’…
মনিরুল ইসলাম: সেই ধূলা ধূলাতেই, ক্রিশ্চিয়ানরা লাস্টে বলে— ডাস্ট টু ডাস্ট…
রাজু আলাউদ্দিন: ডাস্ট টু ডাস্ট, অ্যাশেজ টু অ্যাশেজ…। আপনার সময়ের, কনটেম্পরারি কার কাজ ভালো লাগে?
মনিরুল ইসলাম: এটা বলতে গেলে… যখন স্টুডেন্ট ছিলাম। অবশ্যই আবেদিন স্যারের ছবি। তারপরে কামরুল হাসান, আবুল বাসেদ, ‍মুস্তফা মনোয়ার। সৌভাগ্য ছিলো যে, বাংলাদেশে আমি একমাত্র শিক্ষার্থী জয়নুল স্যারের সঙ্গে পনেরো দিন ছবি আঁকছি। অন্য কেউ পারেনি। কারণ, জয়নুল স্যার এতো ব্যাস্ত ছিলেন আর্ট কলেজ নিয়ে।
রাজু আলাউদ্দিন: সময় দিতে পারতেন না..
মনিরুল ইসলাম: আর্ট কলেজ প্রতিষ্ঠায় তার একটা বিরাট স্যাক্রিফাইস ছিল। এটা হতো, দশ বছর দেরি হতো হয়তো বা অন্যভাবে হতো। তবে আমরা গর্বিত যে, আর্ট কলেজটা এতো সুন্দর একটা বিল্ডিং, এরকম এশিয়াতে কোথাও নেই, এমনকি ইউরোপের কোথাও নেই।
রাজু আলাউদ্দিন: তাই নাকি?
মনিরুল ইসলাম: এই রকম একটা সুন্দর বিল্ডিং, একটা জায়গা নিয়ে গাছপালা। অনেক বিরাট বিরাট আর্ট কলেজ আছে, দেখলে মনে হয় হসপিটাল। এতো সুন্দর আর্কিটেক্ট, মাজহারুল সাহেব করে গেছেন। মানে পৃথিবীর খুব কম আর্ট কলেজ আছে এরকম।
রাজু আলাউদ্দিন: তা আপনার কনটেম্পরারি কার কার ছবি ভালো লাগে?
মনিরুল ইসলাম: কনটেম্পরারি অনেক, একেক সময়ে একেক ধরণের… তখনকার সময়ে রিয়েলিস্টিক ছবি আঁকতো যারা; রেমব্রেন্টের ছবি দেখতাম, গয়্যার, ভেলাস্কেস এবং এখনও তারা গ্রেট মাস্টার। যারা রিয়েল গ্রেইট মাস্টার তারা থাকবে চিরদিন। তাদের রঙ, তাদের ড্রয়িং, তাদের সবকিছু। যদিও আমরা অন্য ধরণের ছবি আঁকি। যেমন ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক কোনোদিন পুরাতন হয় না। অনেকদিন শোনা যায়। তারপর নিউ টেন্ডেন্সির যে আর্টগুলো হচ্ছে সেগুলোর… এখন এত হয়ে গেছে… আর্ট অর নন আর্ট বোঝা মুশকিল। কারণ আর্টিস্টরা সব থেকে বেশি ফ্রিডম এবং লিবার্টি নিয়ে কাজ করছে যেটা আগে ছিল না। আগে শিল্পীরা বাইবেলিক ছবি আঁকতো। কমিউনিস্ট ব্লকের যেটা ছিলো, ছবি আঁকতে হবে যাতে সোসাইটির কাজে লাগে ।
রাজু আলাউদ্দিন: যেমন দিয়েগো রিবেরা…
মনিরুল ইসলাম: যেমনটা রাশান ব্লকের শিল্পীরা করতেন: ফ্যাক্টরির কাজ কীভাবে হচ্ছে, ফার্মাররা কেমন কাজ করছে।
হিটলার, তার শাসনামলে মর্ডান আর্টস শুরু হল। যদি্ও তিনি আর্ট খুবই অপছন্দ করতেন, প্রহিবিট করেছিলেন।
রাজু আলাউদ্দিন: উনি নিজে ভালো ছবি আঁকতেন…
মনিরুল ইসলাম: তিনি রিয়েলিস্টিক ছবি আঁকতেন। অন্য ধরণের…
রাজু আলাউদ্দিন: রিয়েলিস্টিক এবং ল্যান্ডস্কেপ…
মনিরুল ইসলাম: খুবই… আমি দেখেছি তার ছবি এবং ইন্টারনেটে দেখলাম, খুবই যত্ন নিয়ে ছবি আঁকা। হিটলারের অনেক সাইকো-এনালিস্টরা বলে যুইসদের উপর তার যে হেইট গ্রো করছে অনেকে বলে। সে যে আর্ট ইন্সটিটিউটে ছিলো–ভিয়েনাতে স্কুল অফ আর্টে– তার আঁকা ছবি দেখালে যুইস প্রফেসর বললেন, ‘এগুলো কি আঁকে, পোস্টকার্ডের কপি, আজেবাজে ছবি’। এই বলে তাকে ঢুকতে দেয়নি। সেই সূত্রে অনেক সাইকো-এনালিস্টরা মনে করে একারণে তার অনেক হেইট গ্রো করেছিল যুইসদের উপর। তারপর সে আর্কিটেক্ট কলেজে ভর্তি হলো, যদিও পড়াশুনা করেনি আর। কিন্তু এতো বড় ডিক্টেটর ….
রাজু আলাউদ্দিন: তাকে তো বলা যায় আর্কিটেক্ট অফ কিলিং, দ্য পেইন্টার অফ কিলিং… মাস কিলিং
মনিরুল ইসলাম: কিন্তু তার একটা সফট কর্নার ছিলো। সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ারে অনেক ছবি রক্ষা করেছে সে।
রাজু আলাউদ্দিন: এইটা ছবি প্রীতি থেকে…
মনিরুল ইসলাম: মিউজিয়ামে বম্বিং নিয়ে… সে নিজে যদিও এসব ছবি চুরি করেছে, এসব ছবি নিয়ে গেছে। অনেক ছবি নিয়ে গেছে… কিন্তু অতি যত্নের সাথে। হয়তো সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ারে এইসব নষ্ট হয়ে যেতো। প্রত্যেকটা মানুষের দুইটা সাইট আছে আরকি। নো ডাউট সে একটা ফ্যাসিস্ট, দুনিয়ার বহুলোক খুন করছে জঘন্যভাবে… তারে কেউ প্লাস পয়েন্ট দিতে পারে না। নো ডাউট, তবে আমি বলছি ফ্র্যাঙ্কোর মতো বিরাট ডিক্টেটর তারও অন্য দিক আছে। তার সময়ে ফরেন ইনভেস্টমেন্ট বেড়েছে। আস্তে আস্তে স্পেন মিরাক্যালি ডেভলপ হয়, ফ্যাসিস্ট ছিলো সে, ডিক্টেটর– এই পর্যন্ত হতে পারে।
রাজু আলাউদ্দিন: তার মানে তার সময়ে অনেক উন্নয়ন হয়েছিল…
মনিরুল ইসলাম: উন্নয়ন হয়েছিলো… এগুলো নিয়ে অনেক কন্ট্রভার্সিয়াল কথা আছে যেগুলো লাইটে আসে না।
রাজু আলাউদ্দিন: আমাদের এইখানে খালেদা জিয়ার পিরিয়ড দেখছেন এবং শেখ হাসিনার পিরিয়ড দেখছেন। কোন পিরিয়ডটাকে বেশি দেশবান্ধব মনে হয়?
মনিরুল ইসলাম: আমাদের দেশে এসব বলা খুব কঠিন, অ্যাজ আ আর্টিস্ট। অনেকে বলে যে এই দেশ হয়তো উন্নত, এইটা এই পর্যন্ত হবে, এটা আরও হবে। এটা…
রাজু আলাউদ্দিন: কিন্তু আপনি নিশ্চয় চান না জামায়াত ইসলাম ক্ষমতায় আসুক?
মনিরুল ইসলাম: না না, তা আমরা কোনো সময়ই চাই না।
রাজু আলাউদ্দিন: জামায়াত ক্ষমতায় আসুক চান না আপনি?
মনিরুল ইসলাম: জামায়াত ক্ষমতায় আসুক তা চাই না। কিন্তু এই যে পলিটিক্যাল ব্যাপারটা অনেক সময় … করে দিতে পারে… এখন কোন মোটিভে আসবে তারা? আমরা কী দেখছি… ওদের প্রোগ্রাম সবকিছু নিয়ে…
রাজু আলাউদ্দিন: ওরাও তো ক্ষমতায় আসতে চায়…
মনিরুল ইসলাম: পলিটিক্স আসলে… এই যে ডেমোক্রেসি, তারপর সোস্যালিস্ট, কমুনিস্ট। দেখা গেছে কমিউনিস্ট ব্লকের অনেক লোকই ছিল বেশি ডিক্টেটর। এখন আমি চাই এমন একজন–যেই নামেই হোক–ভালো রুল করুক। দেশের উন্নতি করুক। আমি হরতাল কোনো সময়ই চাই না … এতে কত ক্ষতি হয় দেশের। সেটা সাধারণ লোক বুঝতে পারে না। সুতরাং এটা আমরা কেউ চাই না। এমন পলিটিক্স যে-ই করুক, তাতে দেশের ক্ষতি হয়। আমি পার্টির লোক হয়ে একথা বলছি না। আমি একটা আদর্শে বিশ্বাস করি…
রাজু আলাউদ্দিন: হ্যাঁ, অ্যাপলিটিক্যাল হয়ে্ও সেটা পারেন…
war.jpgচিত্রকর্ম: “page of a history”, Etching 50X100 cm. 1971

মনিরুল ইসলাম: এখন, আমিও যুদ্ধের সময় যুদ্ধের অনেক ছবি এঁকেছি স্পেনে। এগজিবিটও করেছি, যুদ্ধের মোটিভ নিয়ে। ওই টাইমে সবাই করছে, লেখকরা লিখেছে, সিনেমাও করছে সিনেমার লোকেরা…
রাজু আলাউদ্দিন: শুনলাম… প্যারিসে বশীর ভাই করেছেন সে সময়ে…
মনিরুল ইসলাম: অনেকেই আছে এরকম… শ্যাডোতে আছে, ফোকাস হয় না। তখন সবাই ফিল করেছে দেশটাকে। যখন যুদ্ধ লাগে, তখনই সবাই এক হয়। সেই সময় সবারই পার্টিসিপেশন আছে, ডিরেক্টলি অর ইনডিরেক্টলি। কিন্তু যুদ্ধ হয়ে গেছে অনেকদিন… প্রায় ৪৪ বছর। এখন দরকার নিউ জেনারেশন, নতুন ডিমান্ড। এটা হলো সাইন্সের জগত, মানুষ চায় অন্যভাবে চোখে পড়ার মতো উন্নয়ণ। রাস্তাঘাট আমাদের নাই, একটা ফুটপাথ নাই। তারপর রাস্তাগুলো ব্রোকেন…
রাজু আলাউদ্দিন: চোখে পড়ার মতো উন্নয়নগুলো দরকার…
মনিরুল ইসলাম: হ্যাঁ, এগুলো ভেরি সিম্পল থিং। মানুষ, আমরা এখন হয়ে গেছি এনার্কিস্ট। মানুষ ইচ্ছেমতো এদিকে যাচ্ছে, ওদিকে যাচ্ছে। রেডলাইট জ্বলছে অথচ গাড়ি চলছে। সেটা অনেক সময় চিন্তা করল কোনো খেই পা্‌ওয়া যায় না । কবে চেইঞ্জ হবে বলা মুশকিল। কারণ আমাদের লোক সংখ্যা এতো বেশি। হ্যাঁ, ম্যান পাওয়ারেরও দরকার আছে আবার।
রাজু আলাউদ্দিন: এই আতিশয্যকে আপনি কী মনে করছেন, আমাদের বোঝা বা অগ্রগতির পথে বাধা?
মনিরুল ইসলাম: এখন যে বাংলাদেশের অর্থনীতি, তা ট্রিমেন্ডাস। ব্যাংকে এতো টাকা আছে। কিন্তু এটা রোলিং হতে হবে… ইকোনমিস্টরা বলে, রোলিং না হলে এই টাকা কাজে আসে না। তারপর আমাদের কোনো প্রাইজ কন্ট্রোল নাই। অনেক সময় মনে হয় ইউরোপের চেয়ে এক্সপেন্সিভ। মাছ, মাংশের এতো দাম। ইউরোপে এসবের দাম অনেক কম। ক্যাপসিকাম নয়শো টাকা কেজি! হোয়্যারঅ্যাজ যেটা ইউরোপে একশো টাকা। এসব কন্ট্রোল করা দরকার। আমরা না হয় কোনোরকমে খেতে পারছি, গরীবদের অবস্থা কী? ওরা… অনেক সময় চিন্তা করি ওরা বেঁচে আছে কীভাবে। সবকিছু এতো এক্সপেন্সিভ হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। কী খায়, কীভাবে বাঁচবে… মানে অনেক কিছুই করতে হবে আরকি। তবে সেটার জন্য দেশকে ফিল করতে হবে এবং এথি্ক্স, অ্যাসথেটিক্স নিয়ে ভাবতে হবে যেটা দরকার একান্ত, প্রত্যেক মানুষের জন্য, এটা শুধু আর্টিস্টদের জন্য না। পেইন্টিং এমন জিনিস, যা ইনার হার্টকে ওয়াশ করে।
রাজু আলাউদ্দিন: ছবি হৃদয়কে প্রক্ষালন করে…
মনিরুল ইসলাম: হ্যাঁ, ছবি হৃদয়কে ওয়াশ করে। এথিক্স, অ্যাসথেটিক্স আমাদের খুব কম। আমাদের বাহিরটা অপরিস্কার, সিড়ি অপরিস্কার, একটা গ্লাসও পরিস্কার করি না আমরা। হোয়্যার অ্যাজ এসব কিন্তু আমাদের জন্য খুব ইজি।
রাজু আলাউদ্দিন: … ওই অর্থে শিল্প ভেতরের জগতকে পরিচ্ছন্ন করে… ভূমিকা পালন করে…
মনিরুল ইসলাম: সিওর সিওর, আমাদের এই ভূমিকাটা দরকার। আমাদের এথিক্স, অ্যাসথেটিক্সের দরকার সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য। আর্ট কিন্তু শুধু ছবি না। আর্টটা এভরি কর্নারে প্রতিটি ইঞ্চিতে আর্ট অফ লিভিং। এই যে সুন্দর করে কথা বলা, একটা লোকের কথা শুনতে ইচ্ছা হয়। কারণ হি নোজ দ্য আর্ট অফ টকিং,… এমনভাবে আর্ট অফ ইটিং, আর্ট অফ ওয়াকিং, আর্ট অফ ড্রেসিং, আর্ট অফ সিংগিং। মানে এভরি ইঞ্চি অফ লাইফ উই হ্যাভ আর্ট। সেটা আমাদের অনুভব করতে হবে এবং একান্ত দরকার। পিকাসো আরেকটা কন্ট্রাভার্সিয়াল কথা বলছে— ‘আর্ট ইজ দ্য মোস্ট লাই’। কিন্তু এই মিথ্যাটাই আস্তে আস্তে সত্যের কাছে নিয়ে যায়।
রাজু আলাউদ্দিন: মারিও বার্গাস যোসা একেই বলেছেন বের্দাদ দে লাস মেন্তিরাস বা ট্রুথ অব লাইজ।
মনিরুল ইসলাম: হ্যাঁ, শিল্প হচ্ছে মিথ্যার সত্য।

শ্রুতিলিখন: চিন্তামন তুষার
Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (7) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শামীম সিদ্দিকী — জানুয়ারি ১৭, ২০১৫ @ ২:২১ পূর্বাহ্ন

      অসাধারণ…

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Abu Nahean Hossain — জানুয়ারি ১৭, ২০১৫ @ ৪:৫৫ অপরাহ্ন

      Excellent.
      You made us proud. By the way Mr. Monirul Islam is my uncle.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Anisuz Zaman — জানুয়ারি ১৯, ২০১৫ @ ২:১১ পূর্বাহ্ন

      nice work Razu. i enjoyed it.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন MD.SHAHIN — জানুয়ারি ২০, ২০১৫ @ ১২:৩৭ অপরাহ্ন

      কত সুন্দর মনের মানুষ আপনি। আমিও আপনার সাথে একমত।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন MD.SHAHIN — জানুয়ারি ২০, ২০১৫ @ ১২:৪২ অপরাহ্ন

      হরতাল মানব জাতির জ‌ন্য অভিশাপ, তাই এটা কখনো কাম্য হতে পারে না ।আমি দেশের প্রধানমন্ত্রী হলে কখনো বিরোধী দলের সাথে জের ধরে হরতাল দিতাম না।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Lutfor — জানুয়ারি ২০, ২০১৫ @ ২:০২ অপরাহ্ন

      কি দেখার কথা আর কি দেখছি, কি শোনার কথা আর কি শুনছি। চুয়াল্লিশ বছর পরও আমরা ‘গণতন্ত্র’ খুঁজছি ! যে দেশে দলীয় গণতন্ত্র নেই, সে দেশে জাতীয় গণতন্ত্র কীভাবে আশা করা যায় ? এমতাবস্থায় রহমান & রহমান কোং তথা পরিবারতন্ত্র মুক্ত বাংলাদেশ চাই |

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com