পিঁপড়াবিদ্যা: গতানুগতিক নির্মাণশৈলীর দুর্বল চলচ্চিত্র

নাদির জুনাইদ | ২৫ নভেম্বর ২০১৪ ৯:৪৬ অপরাহ্ন

border=0মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নতুন ছবি পিঁপড়াবিদ্যা কি একটি বিকল্প ধারার চলচ্চিত্র? মূলধারার গতানুগতিকতা-সর্বস্ব চলচ্চিত্র থেকে ভিন্ন ধরনের ছবিকে অল্টারনেটিভ, অফবিট, বা ইনডিপেনডেন্ট চলচ্চিত্র যে নামেই আখ্যায়িত করা হোক না কেন, কোন চলচ্চিত্রকে কেবল তখনই বিকল্প ধারার ছবি হিসেবে বর্ণনা করা যায় যখন সেই ছবি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নির্মিত মূলধারার চলচ্চিত্রের রীতিনীতি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে নির্মিত হয়। যেহেতু ব্যবসাসফল হওয়াই থাকে বাণিজ্যিক ছবির প্রধান লক্ষ্য তাই বহু দর্শককে আকৃষ্ট করার জন্য বিনোদনমূলক, চাকচিক্যময় এবং চটকদার উপাদান এই ধরনের ছবিতে নিয়মিতভাবে ব্যবহার করা হয়। ফলে বাণিজ্যিক ছবি হয়ে ওঠে ফর্মুলা-নির্ভর আর গতানুগতিক। প্রথাবিরোধী এবং উদ্ভাবনী নির্মাণপদ্ধতি এই ধরনের ছবিতে গুরুত্ব পায় না। সমাজের বিভিন্ন জটিল ও গুরুতর সমস্যার মূল কারণ এবং এই সমস্যাসমূহের জন্য কারা দায়ী তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে ছবিকে চিন্তাশীল করে তোলার পরিবর্তে দর্শককে বিনোদন যোগানোর চেষ্টাই বেশি করা হয় বিনোদননির্ভর বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে।

মূলধারার বাণিজ্যিক ছবির নীতি ও চর্চাসমূহ বিরোধিতা করে চলচ্চিত্র তৈরি হলে তা হয়ে ওঠে বিকল্প বা স্বাধীন ধারার ছবি। এক্ষেত্রে পরিচালকের স্বাধীনতা হলো দর্শককে শুধুই বিনোদন যোগানোর জন্য গৎবাঁধা, হালকা উপাদান ব্যবহার করার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত থাকা। একজন বিকল্প ধারার চলচ্চিত্রকার ব্যবহার করেন সৃষ্টিশীল নির্মাণশৈলী, যে ধরনের নতুন চলচ্চিত্র ভাষার ব্যবহার দর্শকদের জন্য কঠিন হবে চিন্তা করে গতানুগতিক বিনোদনধর্মী ছবিতে ব্যবহার করা হয় না। দর্শককে বিনোদন যোগানো বিকল্প বা স্বাধীন ধারার ছবির মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং এই ধরনের ছবি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যার বিশ্লেষণ তুলে ধরার মধ্য দিয়ে দর্শকের মধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। নির্মাণশৈলীর (ফর্ম) অভিনবত্ব অর্থাৎ ক্যামেরা, শব্দ, আলোর অভিনব এবং জটিল ব্যবহার এবং বিষয়বস্তুর (কনটেন্ট) গভীরতার মধ্য দিয়ে বিকল্প ধারার চিন্তাশীল চলচ্চিত্র দর্শকের অলসভাবে বিনোদন উপভোগ করার সুযোগকে বাধাগ্রস্ত করে। এই ধরনের ছবি দেখে দর্শক চিন্তা করতে বাধ্য হয়, যার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় বাস্তবের বিভিন্ন পরিস্থিতি সম্পর্কে তার সচেতনতা।

বিকল্প ধারার চলচ্চিত্র হতে হলেই যে সেই ছবিকে শৈল্পিক ছবিতে (আর্ট সিনেমা) ব্যবহৃত জটিল চলচ্চিত্র কৌশল এবং দ্ব্যর্থক এবং কখনো কিছুটা দুর্বোধ্য বক্তব্য ব্যবহার করতে হবে তা নয়। কিন্তু বিকল্প ধারার ছবির মূল উদ্দেশ্য এবং ছবির নির্মাণপদ্ধতি ও বিষয়বস্তু মূলধারার চলচ্চিত্র থেকে অবশ্যই ভিন্ন হতে হবে। মূলধারার চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির বাইরে নির্মিত কোন ছবির ফর্ম এবং কনটেন্ট দেখে যদি মনে হয় সেই ছবি দর্শককে মূলত বিনোদন প্রদান করতে চেষ্টা করেছে, তাহলে সেই ছবিকে আর মূলধারার গতানুগতিক ছবি থেকে আলাদা করা যায় না। পিঁপড়াবিদ্যা অবশ্যই কোন আর্ট ফিল্ম নয়, এবং মূলধারার নাচ-গান যুক্ত বিনোদনমূলক ছবির আদলেও এই ছবি তৈরি করা হয়নি। বরং সমাজের একটি সাম্প্রতিক সমস্যাকে ভিত্তি করে ছবিটি নির্মিত। কিন্তু ফারুকীর নতুন এই ছবি নির্মাণশৈলীর দিক থেকে গতানুগতিক। এবং ছবিতে পরিচালক যে সমস্যা দেখানোর চেষ্টা করেছেন তার কোন গভীর বিশ্লেষণ তিনি তুলে ধরেননি। ছবিটি হয়ে উঠেছে মাত্র কয়েকজন ব্যক্তির নিজস্ব সমস্যার কাহিনী। সমাজের বৃহত্তর পরিমন্ডলের সাথে ছবির চরিত্রদের সম্পর্ক না দেখানোর ফলে ছবির কাহিনী সামাজিক সমস্যাভিত্তিক হলেও তা দর্শককে চিন্তিত এবং উদ্বিগ্ন করে না। বরং ছবিতে বার বার ব্যবহার করা বিভিন্ন বিনোদনমূলক উপাদান, হালকা ও তরল সংলাপ, কখনো অত্যন্ত একঘেয়ে এবং অন্তঃসারশূন্য দৃশ্য ছবিতে উপস্থাপিত বিভিন্ন সিকোয়েন্সের গুরুত্ব ও গাম্ভীর্য কমিয়ে দেয়। পিঁপড়াবিদ্যা তাই দর্শকের জন্য কেবল গতানুগতিকভাবে হালকা বিনোদন পাওয়ার সুযোগই তৈরি করে। পরিচালক যেভাবে কাহিনী তুলে ধরেছেন তা কোনভাবেই দর্শকের জন্য উপস্থাপিত বিষয় সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে না।

মিঠু নামের এক সাধারণ তরুণ এবং একজন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী রীমাকে ঘিরে পিঁপড়াবিদ্যার কাহিনী আবর্তিত হয়। মিঠু লাকি-সেভেন নামে একটি এমএলএম (মাল্টি লেভেল মার্কেটিং) প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। একদিন এক অচেনা লোকের কাছ থেকে চুরি করে আনা একটি মোবাইল ফোন জেনেশুনে কেনে মিঠু। সেই ফোনের ভেতর ছিল রীমার ছেলেবন্ধু অয়নের সাথে তোলা রীমার একটি যৌন-ভিডিও ক্লিপ। রীমা কোনভাবে মিঠুকে খুঁজে বের করে মিঠুর কাছে তার চুরি-যাওয়া-ফোনটি ফেরত চায়। মিঠু ফোন ফেরত দিলেও ভিডিও ক্লিপটি সে কপি করে রেখেছে এই কথা বলে রীমাকে ব্ল্যাকমেইল করে, এবং ভয় দেখিয়ে রীমাকে বিভিন্ন কাজ করতে বাধ্য করে। একদিন রীমাকে সে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে বললে রীমা তীব্রভাবে প্রতিবাদ করে এবং সন্ত্রাসী ব্যবহার করে মিঠুকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। সেই মুহুর্ত থেকে দেখা যায় মিঠু পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আর রীমা আর তার ছেলেবন্ধু অয়ন মিঠুর কাছ থেকে ভিডিওটি উদ্ধারের চেষ্টা করছে। এক পর্যায়ে রীমার পাঠানো সন্ত্রাসীরা মিঠুকে অপহরণ করলেও ভাগ্যক্রমে মিঠু পালিয়ে আসে। এবং পরবর্তীতে মিঠুকে দেখা যায় পাগলের মতো আচরণ করতে। সে সত্যিই মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে নাকি অভিনয় করছে তা স্পষ্ট হয় না।

pipra-2.jpgছবিটির কাহিনী তাই হয়ে ওঠে থ্রিলার-ভিত্তিক। দর্শকের মনে ছবিটি একধরনের আকর্ষণ তৈরি করে ভিডিও ক্লিপটি শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হয় কিনা তা দেখার জন্য। থ্রিলারধর্মী এই কাহিনী বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্রের সাথেই পিঁপড়াবিদ্যার সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরে। ছবির কাহিনীর গতানুগতিক ধারাবাহিকতা, সাদামাটা এবং বৈচিত্র্যহীন শটের ব্যবহার, এবং একের পর এক একই ধরনের একঘেয়েমিতে ভরা দৃশ্য নির্দেশ করে যে পরিচালক এই ছবিতে প্রথা ভাঙ্গার কোন চেষ্টা করেননি। একটি থ্রিলার ছবিও কখনো প্রথাবিরোধী হয়ে উঠতে পারে। মার্কিন পরিচালক কুয়েনটিন টারানটিনোর ছবি রেসারভোয়ার ডগস (১৯৯২) ছিল থ্রিলার ভিত্তিক। কিন্তু ছবিটি মার্কিন ইনডিপেনডেন্ট চলচ্চিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ছবিতে পরিণত হয়েছে নির্মাণশৈলীর অভিনবত্বের জন্য। ছবির সাধারণ ধারাবাহিকতা বার বার বাধাগ্রস্ত করে এবং জীবন-ঘনিষ্ঠ, রাজনৈতিকভাবে সচেতন সংলাপ ব্যবহারের মাধ্যমে টারানটিনো তার ছবিকে শুধুই বিনোদন-যোগানো সাধারণ থ্রিলার থেকে ভিন্ন করে তুলেছিলেন। আলফ্রেড হিচককের থ্রিলার-ভিত্তিক ছবিগুলো গতানুগতিক ছবি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে উঠেছিল উদ্ভাবনী এবং নান্দনিকভাবে আকর্ষণীয় ক্যামেরা ভাষার জন্য। পিঁপড়াবিদ্যার সাদামাটা নির্মাণশৈলী স্পষ্ট করে ছবির ফর্মকে সৃষ্টিশীল এবং প্রথাবিরোধী করে তোলার কোন চেষ্টা পরিচালকের ছিল না।

পুরো ছবি জুড়েই বেশির ভাগ সময় ক্যামেরা কেবল ঘরের ভেতরেই আবদ্ধ থাকে। বিভিন্ন কক্ষের ভেতর তোলা এই দৃশ্যগুলোতে পরিচালক আবার তার ক্যামেরাকে স্থির রেখেছেন, আকর্ষণীয় ক্যামেরা-অ্যাঙ্গলের ব্যবহারও চোখে পড়ে না। ফলে দৃশ্যগুলো হয়ে ওঠে আরো বেশি সাদামাটা। স্থিরভাবে ঘরের ভেতর দৃশ্য ধারণ করার ফলে পরিচালকের পরিশ্রম কমে যায়, কিন্তু ছবির দৃশ্যগুলোর মধ্যে কোন গতিময়তা দেখা যায় না, যা ছবির নান্দনিক মান কমিয়ে দেয় অনেকখানি। জটিল এবং উদ্ভাবনী চলচ্চিত্র কৌশল ব্যবহার করে দৃশ্যের মাধ্যমে অর্থ তৈরির চেষ্টাও ছবিতে দেখা যায় না। একটি দৃশ্যে মিঠু যখন রীমাকে বাধ্য করে তার সাথে স্ত্রীর মতো অভিনয় করতে, তখন মিঠুকে দেখা যায় রীমার খাবার টেবিলে বসে খাওয়ার ভান করতে। মিঠু খাবারের খালি প্লেট থেকে চামচ দিয়ে খাবার তুলে নেয়ার ভান করে, তার সামনে থাকে খাবারের শূন্য পাত্র, অথচ সে ভান করে সে খাবার খাচ্ছে, পানির অদৃশ্য বোতল থেকেও সে পানি খাওয়ার ভান করে। এমন ভান করার দৃশ্য বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আগেও আমরা দেখেছি। তারেক মাসুদের মাটির ময়না (২০০২) ছবির একটি চরিত্র রোকন অদৃশ্য বল দিয়ে খেলা করার ভান করে। আরো আগে বিখ্যাত ইটালিয়ান চলচ্চিত্রকার মাইকেলঅ্যাঞ্জেলো অ্যানতোনিওনির ব্লো-আপ (১৯৬৬) ছবিতেও কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে শূন্য বল দিয়ে টেনিস খেলতে দেখা যায়। এমন একটি দৃশ্য তাই চলচ্চিত্রে আর কোন নতুনত্ব তৈরি করে না। বহু ব্যবহারে এই দৃশ্য এখন বাসি এবং গতানুগতিক দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। এমন একটি দৃশ্য সংযোজনের মধ্য দিয়ে পরিচালক তার নতুন ছবিতে সৃষ্টিশীলতার অভাবকেই প্রকট করে তুললেন। ছবিতে হাতে গোণা কয়েকবার মিঠুর কল্পনা দৃশ্যে প্রতীক ব্যবহার করে দর্শককে চিন্তাশীল দৃশ্য দেখার সুযোগ দেয়া হলেও এই ধরনের দৃশ্যগুলো হয় খুবই স্বল্পস্থায়ী এবং দায়সারা। ফলে ছবিতে তা কোন গভীর অর্থ তৈরি করে না। বর্তমান শহরের পটভূমিতে ছবিটি তৈরি হলেও শহরের অস্থির পরিমন্ডল ছবিতে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়নি। অল্প কয়েকটি লং শটে কয়েকবার শহরকে দেখানো হয়। কিন্তু শহরের অস্থির পরিমন্ডল তাতে ফুটে ওঠে না। সন্ত্রাসীরা যখন মিঠুকে ধরে নিয়ে যায়, এবং তারপর তারা যখন গাড়িসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সেই দৃশ্যগুলো হয়ে ওঠে কৃত্রিম এবং অতি সাধারণ। খুব সহজে সন্ত্রাসীদের এবং পুলিশের হাত থেকে মিঠুর ছাড়া পাওয়ার দৃশ্য এবং ক্যামেরা সৃষ্টিশীলভাবে ব্যবহার করার অক্ষমতার কারণে এই সিকোয়েন্সগুলো দর্শকের মনে প্রভাব তৈরি করতে পারে না। এতো সাধারণ দৃশ্য মানানসই হয় না চলচ্চিত্র-দৃশ্য হিসেবেও।

ছবিতে খুবই ঘন ঘন দেখানো টেলিফোন সংলাপগুলোও হয়ে ওঠে পীড়াদায়ক। ছবিতে কিছুক্ষণ পর পরই চরিত্রদের ফোনে কথা বলতে দেখা যায়। কখনো টানা তিনটি সিকোয়েন্সেও অন্তর্ভূক্ত করা হয় টেলিফোনে কথা বলার দৃশ্য যা স্বাভাবিকভাবেই ছবিটিকে একঘেয়ে করে তোলে। একদিকে আকর্ষণীয় শটের অনুপস্থিতি, আর অন্যদিকে ক্রমাগত টেলিফোন সংলাপের দৃশ্য ছবির সিকোয়েন্সগুলোকে খুবই মামুলি আর বৈচিত্র্যহীন করে তোলে। ছবির শুরুতেই দেখানো হয় অফিসে উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা মিঠুকে এমএলএম কার্যক্রম সম্পর্কে জানাচ্ছে। তাদের কথা বলার দৃশ্যগুলো হয়ে ওঠে অপ্রয়োজনীয় রকমের দীর্ঘ। মিঠুকে আরো একাধিক সিকোয়েন্সে লম্বা লেকচার দিতে দেখা যায়। কখনো রীমার উদ্দেশ্যে, কখনো তার প্রাক্তন মেয়েবন্ধু সাথীর স্বামী রেদোয়ানের উদ্দেশ্যে। মিঠুর বাড়িতে রীমার বন্ধু অয়নের প্রথমবার আসার দৃশ্যটি দীর্ঘসময় ধরে দেখানো হয়। খুবই সাধারণ শটের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে দেখানো এই দৃশ্যগুলো থেকে কখনোই ছবির ধারাবাহিকতার জন্য প্রয়োজনীয় নতুন তথ্য পাওয়া যায় না। দৃশ্যগুলো কেবল ছবির সময় একঘেয়েভাবে বাড়িয়ে তোলে। ফলে প্রশ্ন ওঠে পরিচালক এই দৃশ্যগুলো ছবিতে ব্যবহার করলেন কেন? চলচ্চিত্রে সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এবং একটি উঁচু মানের চলচ্চিত্রে প্রতিটি দৃশ্যই গুরুত্বপূর্ণ অর্থ প্রদান করে। কিন্তু পিঁপড়াবিদ্যা-র এই দীর্ঘ দৃশ্যগুলোতে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করার মতো কোন ভিন্নধরনের শট ব্যবহার করা হয় না, এবং কোন অর্থ তৈরি না করার ফলে এই দৃশ্যগুলো হয়ে ওঠে তাৎপর্যহীন।

ছবিটিতে বার বার ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন হাস্যরসাত্মক দৃশ্য এবং সংলাপ। তবে এমন দৃশ্য এবং সংলাপ কখনো হাস্যরসাত্মক হওয়ার পরিবর্তে হয়ে ওঠে হালকা, স্থূল এবং একঘেয়ে। যেমন — দুটি আলাদা দৃশ্যে মিঠু এবং মিঠুর বসের গাড়ি থেকে নেমে রীমা আর অয়নের কাছ থেকে দৌড়ে পালানোর দৃশ্য। একটি সিকোয়েন্সে মিঠু রীমাকে বলে ডারউইনের নতুন তত্ত্বের (!) কথা। তত্ত্বটি হলো প্রেমে ব্যর্থ পুরুষরা তাদের পুরনো মেয়েবন্ধুর বাচ্চা হওয়ার পর পরই সেই বাচ্চার মামায় রূপান্তরিত হয়! এই ধরনের তরল দৃশ্য এবং সংলাপ ছবিটির মেজাজ কেবল হালকাই করে তোলে। ফলে ছবিতে গভীরতার সাথে কোন অর্থ প্রদানের সুযোগ তৈরি হয় না। এছাড়া ছবিতে বার বার লম্বা সময় ধরে দেখানো হয় রেদোয়ানের সাথে মিঠুর অত্যন্ত অপ্রয়োজনীয় এবং মূল্যহীন বিষয়ে টেলিফোনে কথা বলার দৃশ্য। রেদোয়ানের চাকরি নেই বলে মিঠু তাকে পরামর্শ দেয় তার চাকরি আছে তেমন ভান করতে। মিঠুর পরামর্শ অনুযায়ী রেদোয়ান তেমন ভান করতে শুরু করে, এবং সিকোয়েন্সের পর সিকোয়েন্স জুড়ে রেদোয়ান মিঠুকে ফোন করে কখনো তার স্ত্রীকে শুনিয়ে, আবার কখনো একা একাই নিজের চাকরি সংক্রান্ত নানা কাল্পনিক কথা বলে যায়। মিঠ্ওু রেদোয়ানের সাথে তাল মিলিয়ে এই ধরনের মনগড়া কথা বলে যায়। এই দৃশ্যগুলো হয়ে ওঠে সত্যিকার অর্থেই বিরক্তিকর, কারণ এমন দৃশ্য বার বার দেখানোর কোন অর্থ চলচ্চিত্রে তৈরি হয় না। পরিচালক কি এর মাধ্যমে অতীতে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোন ব্যক্তির নির্বুদ্ধিতাকে সমালোচনা করলেন? যদি তাই হয় তবে তার এমন সমালোচনা কোনভাবেই কার্যকর নয়, কারণ বিচ্ছিন্নভাবে কেবল একজন ব্যক্তিকে নির্বোধ হিসেবে উপস্থাপন করে এই ধরনের চাকরি করা আরো অনেক মানুষই নির্বোধ এই সিদ্ধান্তে কোনভাবেই পৌঁছানো যায় না। রেদোয়ান যখন মিঠুর পরামর্শ অনুযায়ী টেলিফোনে এভাবে কথা বলা চালিয়েই যেতে থাকে তখন একদিন মিঠু রেদোয়ানকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিয়ে ফোন রেখে দেয়। মিঠুর নিজের দেয়া পরামর্শ মিঠুর নিজের জন্যই বিরক্তি নিয়ে আসে, এবং তার পরামর্শের অন্তঃসারশূন্যতা স্পষ্ট হয়। ফলে দর্শকের কাছে মিঠু এবং রেদোয়ান দুজনই হয়ে ওঠে সমান নির্বোধ, এবং তাদের নির্বোধ কার্যকলাপের দীর্ঘ বিবরণ দর্শকদের দেখতে হয় সিকোয়েন্সের পর সিকোয়েন্স ধরে।

ছবিতে কোন চরিত্রের প্রতিই দর্শকের কোন সহানুভূতি তৈরি হয় না। মিঠু যেমন রীমাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে, তেমনি রীমাও সন্ত্রাসী ব্যবহার করে মিঠুকে অপহরণ করায়। প্রশ্ন ওঠে কতোজন দর্শক মিঠু বা রীমার মতো চরিত্রের সাথে নিজের মিল খুঁজে পান? আমাদের সমাজে কতোজন সাধারণ মানুষ মিঠু বা রীমার মতো আচরণ করে? আর মিঠু বা রীমার মতো মানুষের নেতিবাচক দিকগুলোর সমালোচনা করাই যদি পরিচালকের উদ্দেশ্য হয় তাহলে মিঠু আর রীমাকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখিয়ে তাদের ওপর সামাজিক পরিবেশের প্রভাব এবং মিঠু আর রীমার এমন মানসিকতার জন্য কি কি কারণ দায়ী পরিচালকের তা বিশ্লেষণ করা জরুরি ছিল। কিন্তু মিঠু আর রীমা ছবিতে উপস্থাপিত হয় বিচ্ছিন্নভাবে, সমাজের বর্তমান পরিস্থিতি এবং মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন উপাদান আর কাঠামোর সাথে মিঠু আর রীমার সম্পর্ক ছবিতে দেখানো হয়না। পিঁপড়াবিদ্যা তাই নির্দিষ্ট একটি সামাজিক সমস্যার কোন গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরে না। ছবিটি কেবল হয়ে ওঠে দুজন বিচ্ছিন্ন মানুষের কাহিনী।

pipra-3.jpgরীমার উপস্থিতি ছবিটিতে যে গ্ল্যামার যুক্ত করে তা ভেঙ্গে দেয়ার মতো কোন দৃশ্য পিঁপড়াবিদ্যায় দেখা যায় না। বরং বিভিন্ন শট রীমার জমকালো উপস্থিতি আরো গুরুত্বের সাথে তুলে ধরে গতানুগতিক বিনোদনধর্মী চলচ্চিত্রের মতো পুরুষ-দৃষ্টিকেই তৃপ্ত করতে চায়। ছবির একটি দৃশ্যে চলচ্চিত্রের দৃশ্যধারণ দেখানো হলেও তা ক্যামেরা এবং শুটিং-এর সময় ব্যবহৃত অন্যান্য যন্ত্রপাতি দেখানোর পরিবর্তে ক্যামেরার সামনে আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা রীমাকেই বেশি দেখায়। এই দৃশ্যটির মাধ্যমে বোঝা যায় ছবির নির্মাণশৈলী সেল্ফ-রিফ্লেক্সিভ তথা প্রথাবিরোধী করার পরিবর্তে গতানুগতিক রাখার দিকেই পরিচালক আগ্রহ দেখিয়েছেন। রীমার অ্যাপার্টমেন্টে বার বার মিঠু আর রীমাকে দেখানোর দৃশ্যগুলোর মধ্যে পাওয়া যায় যৌনতার আভাস। এমন আভাস ফুটে ওঠে ছবির অন্য কিছু দৃশ্যেও। কয়েকটি সিকোয়েন্সে দেখা যায় মিঠু নিরাপত্তার জন্য নিজের বাড়ি ছেড়ে একটি কাপড়ের দোকানে রাত কাটায়। সেই দোকানে এক দৃশ্যে দেখা যায় দোকানে সাজানো নারী ম্যানিকিনগুলোর উর্দ্ধাংশে কোন পোষাক পড়ানো নেই। মিঠুর আরেকটি কল্পনা দৃশ্যে দেখা যায় সে একটি ম্যানিকিনকে পাশে নিয়ে শুয়ে আছে। ফারুকীর পূর্বের আরেকটি ছবি থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার (২০০৯)-এও একটি চরিত্রের কল্পনায় ম্যানিকিনের সাথে যৌনসঙ্গম করার দৃশ্য দেখানো হয়েছিল।

ফারুকীর পূর্বের সব কটি ছবিতেই বিভিন্নভাবে যৌনতার এবং কখনো নারী-পুরুষের গোপনভাবে সম্পর্ক রাখার আভাস দেখানো হয়েছে। যেমন Ñ ব্যাচেলর (২০০৩) ছবিতে একজন বিবাহিত যুবক অন্য একজন মেয়েকে নিয়ে তার এক বন্ধুর ফ্ল্যাটে সময় কাটানোর সময় তার নিজের স্ত্রী সেখানে উপস্থিত হয়। মেড ইন বাংলাদেশ (২০০৭) ছবিতে একজন বিবাহিত মহিলা তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে অবিবাহিত এক তরুণের সাথে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ব্যবহার করে যে ঘটনাটি ছবির মূল কাহিনীর সাথে কোনভাবেই সম্পর্কিত করা যায় না। থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার-এ একটি সিকোয়েন্সে দীর্ঘ সময় ধরে দেখানো হয় এক তরুণের কনডম কেনার দৃশ্য, আর পরবর্তীতে সেই তরুণের তার এক মেয়েবন্ধুর সাথে যৌন সম্পর্ক করার আকাক্সক্ষা। টেলিভিশন (২০১৩) ছবিতে এক কর্মচারী তার মালিকের প্রেমিকার সাথে মালিকের অগোচরে কথাবার্তা বলে। তাই দেখা যায় ফারুকীর এ পর্যন্ত নির্মিত সব ছবিতেই যৌনতার এবং নারী পুরুষের গোপন সম্পর্কের আভাস একটি নিয়মিত উপাদানে পরিণত হয়েছে। ফারুকীর পূর্বের ছবিগুলোতেও সমাজের বিভিন্ন সমস্যার গভীর বিশ্লেষণ এবং জটিল চলচ্চিত্র কৌশল ব্যবহার করা হয়নি। আর এই দুই উপাদানের অনুপস্থিতির কারণে ফারুকীর ছবিতে নিয়মিত দেখতে পাওয়া যৌনতার আভাস দর্শককে হালকা বিনোদন যোগানোর একটি উপাদান হিসেবেই আবির্ভূত হয়। পিঁপড়াবিদ্যা ছবিতেও এর ব্যতিক্রম দেখা যায়নি।

পিঁপড়াবিদ্যা তাই পরিচালকের পূর্বের ছবিগুলো থেকে ভিন্ন কোন নির্মাণশৈলী দর্শকের জন্য তুলে ধরে না। বরং এই ছবিটিতে বিভিন্ন একঘেয়ে দৃশ্যের প্রয়োজনহীন পুনরাবৃত্তি দেখে ছবিটিকে পরিচালকের আগের কয়েকটি ছবি থেকেও কম আকর্ষণীয় মনে হয়। বিকল্প ধারার ছবিতে যে সামাজিক বিশ্লেষণ এবং নান্দনিকভাবে উদ্ভাবনী চলচ্চিত্র কৌশল ব্যবহার করা হয় পিঁপড়াবিদ্যায় তা চোখে পড়ে না। দর্শককে বিনোদন যোগানোর বিভিন্ন গতানুগতিক উপাদান ঘন ঘন ব্যবহারের ফলে ছবিটির শেষদিকের কয়েকটি বিষাদিত দৃশ্য যেমন মিঠুর মা’র কান্না আর মিঠুর বাবার মিঠুর দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকার দৃশ্য দর্শককে নাড়া দিতে পারে না। কারণ ততোক্ষণে বিভিন্ন বিনোদনমূলক, একঘেয়ে এবং হালকা হাস্যরসের উপাদান বার বার উপস্থাপনের ফলে ছবিটি দর্শকের কাছে একটি গতানুগতিক এবং অগভীর ছবিতে পরিণত হয়েছে, যেখানে হঠাৎ একটি বিষাদময় দৃশ্য উদ্দিষ্ট ফলাফল পাওয়ার মতো কার্যকর হয় না। এমন দৃশ্যকেও তখন দর্শক হালকাভাবেই গ্রহণ করতে শুরু করে।

ছবির শেষদিকে সবই যেন খুব দ্রুত ঘটে যায়, যা ছবিটির সমাপ্তিকে অগোছালো করে তোলে। মিঠু পাগলের মতো আচরণ করতে থাকে, যা সত্যি না ভান তা বোঝা যায় না। মিঠুর ছোট বোনকে পুরো ছবিতে কয়েকবার দেখানো হলেও তার কোন সংলাপ ছিল না। ছবির শেষ দৃশ্যে সে মিঠুকে জিজ্ঞেস করে মিঠু সত্যিই মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে নাকি সে পাগল হওয়ার ভান করছে। মিঠুর ছোট বোনকে পুরো ছবিতে নিষ্পাপতার প্রতীক হিসেবেই দেখানো হয়েছে। ইটালিয়ান পরিচালক ফেদেরিকো ফেলিনির বিখ্যাত ছবি লা ডলসে ভিটা (১৯৬০)-তেও এক কিশোরী মেয়েকে শুভত্বের প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছিল। সেই মেয়েটিকেও ছবির শেষ সিকোয়েন্সে ছবির মূল চরিত্র তরুণ সাংবাদিকের সাথে কথা বলার চেষ্টা করতে দেখা যায়। ছবির শেষ দৃশ্যে সেই সাংবাদিককে দেখায় ক্লান্ত, বিপর্যস্ত। নিষ্কলুষতার প্রতীক মেয়েটির কথা সে শুনতে পায় না। কাজেই কিশোরী মেয়েকে শুভত্বের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপনের একটি পুরনো কৌশলই পিঁপড়াবিদ্যায় আবার দেখা যায়। পিঁপড়াবিদ্যা’র আরেকটি পীড়াদায়ক দিক হলো মিঠু আর রীমার ভুল ইংরেজিতে কথা বলার দৃশ্য। মিঠুর ভুল ইংরেজিতে কথা বলা দেখানোর মাধ্যমে বোঝা যায় পরিচালক দেখাতে চেয়েছেন মিঠু বেশি লেখাপড়া জানে না। কিন্তু রীমার দামী অ্যাপার্টমেন্টে আমরা দেখতে পাই বুকশেল্ফে সাজানো অনেক বই, তার মধ্যে বেশ কিছু ইংরেজি বইও চোখে পড়ে। অথচ একটি দৃশ্যে রীমা টেলিফোনে মিঠুকে বলে Ñ আমি ‘অ্যাংরি রিঅ্যাক্ট’ করেছি। আবার আরেকটি দৃশ্যে রীমার ছেলেবন্ধু অয়ন রীমাকে তার দুশ্চিন্তা কমানোর জন্য মনোচিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বললে রীমা রাজী হয় না। সে বলে ওঠে Ñ কেন যাবো? ‘অ্যাম আই এ ম্যাড?’ যার বাড়িতে সিরিয়াস ইংরেজি বইসহ অনেক বই দেখানো হয়, সেই রীমার এমন ভুল ইংরেজিতে কথা বলা তাই হয়ে ওঠে খুবই বেমানান। ফারুকীর এই ছবি বিভিন্ন বিদেশী চলচ্চিত্র উৎসবে যাচ্ছে। অন্য দেশের মানুষরা রীমার এমন ইংরেজি বলা দেখে চিন্তা করবেন বাংলাদেশের একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর ঘর ভরা বই থাকা সত্বেও তিনি এমন ভুল ইংরেজিতে কথা বলেন। কেন ছবিতে রীমাকে একাধিকবার ভুল ইংরেজিতে কথা বলতে দেখা গেল সেই ব্যাপারে জানার আগ্রহ সচেতন দর্শকের তাই তৈরি হতেই পারে।

চলচ্চিত্র হিসেবে পিঁপড়াবিদ্যা তাই কোনভাবেই আকর্ষণীয় নয়, বরং ছবিটির দুর্বল দিকগুলো অত্যন্ত প্রকট। এই ছবিতে দেখতে পাওয়া কিছু দুর্বল দিক ফারুকীর চলচ্চিত্রে আগেও আমরা লক্ষ্য করেছি। সমাজসচেতন বক্তব্য কোন ছবিতে তুলে ধরতে চাইলে প্রয়োজন হয় গভীর সামাজিক বিশ্লেষণ এবং সমালোচনা। কিন্তু পিঁপড়াবিদ্যায় সামাজিক সমস্যার গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়নি। আর প্রথাবিরোধী নির্মাণশৈলী ব্যবহার করে নিজের ছবিকে গতানুগতিক ছবি থেকে আলাদা করে তোলার চেয়ে প্রথাগত ছবির বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করার ক্ষেত্রেই পরিচালক আগ্রহ দেখিয়েছেন। পরিচালকের এই মনোভাবের জন্য পিঁপড়াবিদ্যা বিকল্প ধারার ছবি হয়ে ওঠেনি। সমাজ সচেতন এবং চলচ্চিত্রের ভাষাগত দিক দিয়ে উদ্ভাবনী ছবি হিসেবেও পিঁপড়াবিদ্যাকে আখ্যায়িত করা যায় না। গতানুগতিকতার গন্ডীতেই পিঁপড়াবিদ্যা আবদ্ধ। বাংলাদেশে নির্মিত চিন্তাসমৃদ্ধ এবং নান্দনিকভাবে আকর্ষণীয় চলচ্চিত্রের তালিকায় এই ছবিটিকে তাই অন্তর্ভূক্ত করা যায় না কোনভাবেই।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (51) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন saiful — নভেম্বর ২৬, ২০১৪ @ ১২:৩৭ অপরাহ্ন

      প্রত্যেকটি পয়েন্ট সূচারুভাবে তুলে ধরার জন্য লেখককে ধন্যবাদ। নিঃসন্দেহে ফারুকী ক্ষমতাধর পরিচালক! তা না হলে তার প্রত্যেকটি অসামঞ্জস্যহীন বস্তাপচা কাহিনী কিভাবে গণমাধ্যম ও পরিচিত চলচ্চিত্রবোদ্ধা দ্বারা সমাদৃত হয়–জ্ঞানে আসে না। নতুন ধারার চলচ্চিত্রের নামে ফারুকী সস্তা যৌনতা, রুচিহীন অভ্যাস এবং যাচ্চেতাই ভাষা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন, আমাদের বুদ্ধিজীবি মহল তাতে বাহবা দিচ্ছে!
      পরিশেষে,
      পিপড়াবিদ্যা এমন একটা ক্যামেরা ওয়ার্ক( এটিকে নাটক, ফিল্ম, আর্ট ফিল্ম,ডকু ড্রামা কিছুতে ক্যাটাগোরাইজড করা সম্ভবপর নয়) যা তরূণদের ইন্সপায়ার করবে এম এম এস, বা গোপন ভিড়িও নিয়ে অন্য কাউকে ব্ল্যাক মেইল করাতে, সচেতন দর্শক বিষয়টিকে হালকাভাবে নিলেও এর প্রভাব কিন্তু ভয়ঙ্কর হতে পারে।

      হলে যান বাংলা ছবি দেখুন, বাংলা চলচ্চিত্রকে সাহায্য করুন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Naha — নভেম্বর ২৬, ২০১৪ @ ১:২৯ অপরাহ্ন

      মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পিঁপড়াবিদ্যা বানিয়েছেন বলে জানি।একে বিকল্প ধারার হিসাবে বিচারের কি দরকার? লোকে না দেখ্লে বিকল্প ধারার ছবি
      বানিয়ে লাভ কি? আর এদেশে বেশিরভাগ নায়িকারা ভুল ইংরেজিতে কথা বলে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সারওয়ার রেজা — নভেম্বর ২৭, ২০১৪ @ ২:৫৮ পূর্বাহ্ন

      এদেশে চলচ্চিত্র সমালোচক-যশঃপ্রার্থীদের সমালোচনার এই ভয়ানক হাস্যকর নমুনা দেখে তফাৎ মাপার আদব-লেহাজ আর রাখা যায় কই! তাঁরা সমালোচনার নামে চলচ্চিত্রকারকে সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট হওয়ার ফর্মুলা বাতলে যান। ভাল ছবি হতে হ’লে কী থাকতে হয়, কী থাকা চলবে না- তার লিস্টি ধরিয়ে দেন। ফর্মুলা ছবিকে প্রত্যাখ্যান করতে তাদের মনমতো বিকল্প (এবং ততোধিক ক্লিশে ) ফর্মুলা হাজির করেন। এঁরা চলচ্চিত্রের, এমনকি, শৈলী নিয়েও বিশেষজ্ঞ মতামত দেন। কিন্তু ছবি নির্মাণ প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায় সম্পর্কেই প্রত্যক্ষ কোনো ধারণা নেয়ার প্রয়োজন কখনো বোধ করেন না। খালি বই পড়ে চলচ্চিত্র বোঝেন যাঁরা, তাঁরা যে হিচকক, ফেলিনি আর আলমগীর কবিরের স্রেফ নামেই গড় হবেন, তাতে আর আশ্চর্য কি! টেক্সট ফিল্মের টেক্সটকে বাইবেল মানবেন, তাও বোঝা সহজ। এর বাইরে চলচ্চিত্র যে নিরন্তর বিচিত্র ভাষার অনুসন্ধান করে যাবে, তা তাদের অ্যাকাডেমিয়ার থিওরি ঠাঁসা নিরেট মস্তিষ্কে ঢোকার পথ পায়না। তাঁরা অদ্ভুত ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল খোঁজেন, প্রথানিষ্ঠতার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত রেখে আবার প্রথা ভাঙার কথা বলেন। যৌনতার আভাস মাত্রই ছুঁৎমার্গের চূড়োয় উঠে বসে ইস্তেগফার পাঠ শুরু করেন। বিদেশী ছবির যৌনতায় দেখেন নান্দনিকতা, এদেশের ছবিকে প্রকারান্তরে ১০০% হালাল ছবি করার ফতোয়া দেন। সেইসঙ্গে আছে, অমুক ছবির সঙ্গে তমুক দৃশ্যের সাদৃশ্য-বিসাদৃশ্যের রেফারেন্স টানাটানির জ্ঞানের মুলো প্রদর্শন।

      যা বুঝেছি, এই সমালোচকদের কথাবার্তা কানে ‘না’ তুলে যতদিন আমরা ছবি বানিয়ে যেতে পারবো, কোনো সন্দেহ নেই ততোদিনই এদেশের ছবি সম্ভাবনার পথে হাঁটবে। এঁদের কথা পাতে ফেলেছেন কি সর্বনাশ!

      পুনশ্চ. অ্যাতো কাঁচা বাংলাও আমি ম্যালাদিন পড়িনি। পপি গাইডের বাংলা রচনা মনে পড়ে গেল।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Saif — নভেম্বর ২৭, ২০১৪ @ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন

      খুব সুন্দর গোছনো সমালোচনা। সমালোচককে ধন্যবাদ। তবে মনে হয় না ফারুকী কিংবা তার ভাই ব্রাদার গোষ্ঠি এখান থেকে কিছু শিক্ষা নিতে পারবে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন MAHABUB SUMON — নভেম্বর ২৭, ২০১৪ @ ১২:২৩ অপরাহ্ন

      নাদির জুনাইদ,আপনি আনেক ভাল লিখেছেন। সারয়ার ফারুকী, কী করেছে তা নিয়ে আপনি ভাল লিখেছেন। কিন্তু আপনার চলচিত্র সম্পর্কে আরো ভাল করে পড়াশোনা করার দরকার আছে। আপনি যদি পড়ে সমালোচনা করে থাকেন তবে, মনে হয় না লিখতেন “ক্যামেরা স্তির থাকলে চলচিত্র নান্দনিকতা হারাই”। এটা বলার আগে দয়া করে নান্দনিকতা কিভাবে আসে বা নান্দনিকতা কি এটা পড়েন । আপনি ভাববেন না আমি সারোয়ার ফারুকীকে পছন্দ করি, এখন পর্যন্ত তার কোন সিনেমা আমাকে মুগ্ধ করতে পারেনি। আর দয়া করে ভাল ক্যামেরাম্যানদের interview পড়ে দেখেন। দেখবেন, তারা সবাই একমত পোষণ করেছেন “ক্যামেরা স্তির রাখাটাই সবচেয়ে সিনেমাটিক”।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাদির জুনাইদ — নভেম্বর ২৭, ২০১৪ @ ২:১৭ অপরাহ্ন

      মাহবুব সুমন,

      চলচ্চিত্র নিয়ে কথা বলার আগে চলচ্চিত্র বিষয়টি নিয়ে বিস্তর পড়ালেখা করে নেয়ার প্রয়োজন, সেটা আমিও মনে করি। আর যারা সেটা করে না তাদের আমি সমালোচনা করি, কারণ তাদের কথায় কখনোই গভীরতা বা যুক্তি থাকে না। আমি চলচ্চিত্র নিয়ে কতোটা পড়ালেখা করেছি, সেটা আমার লেখার শিরোনামের নীচে আমার নামে ক্লিক করলেই দেখতে পাবেন। যেহেতু আপনি আমাকে চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়ালেখা করার কথা বললেন তাই এই কথাটি আপনাকে জানানোর প্রয়োজন মনে করলাম।

      আর ক্যামেরা একটি চলচ্চিত্রে সবসময় বা বেশির ভাগ সময় স্থির থাকলেই যদি দৃশ্য নান্দনিক বা সিনেমাটিক হতো তাহলে আর চলচ্চিত্রের দৃশ্যগুলোকে vibrant এবং dynamic করার ব্যাপারে বিশ্বের বড় বড় পরিচালকরা যে গুরুত্ব সবসময় দিয়েছেন, সেই বক্তব্য আমরা পেতাম না। আপনি আইজেনস্টাইনের নাম জানেন? চলচ্চিত্র নিয়ে কথা বলছেন আপনি “ওডেসা স্টেয়ারকেস সিকোয়েন্স”-এর কথা জানেন যেই সিকোয়েন্সটিকে চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত একটি দৃশ্য হিসেবে ধরা হয়? সেই সিকোয়েন্সে সবচেয়ে বেশি সিনেমাটিক উৎকর্ষ আনার জন্য ক্যামেরাকে কি সবসময় স্থির রাখা হয়েছিল? আপনি মিজ-অঁ-সেন মানে কি জানেন? মিজ-অঁ-সেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ক্যামেরা মুভমেন্ট, আরেকটি ক্যামেরা অ্যাঙ্গল। যদি আপনার উল্লেখ করা “ক্যামেরাম্যান”(!!) দের কথা মতো স্থির শটই সবচেয়ে সিনেমাটিক হবে, তাহলে মিজ-অঁ-সেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হিসেবে ক্যামেরা মুভমেন্টকে গ্রহণ করা হতো না। হতো কি?

      সত্যজিৎ রায়ের কলকাতা ত্রয়ীর ছবিগুলো দেখেছেন? এই সংক্রান্ত আলোচনাগুলো জানেন? আর সত্যজিতের শেষ ট্রিলজি’র ছবিগুলো দেখেছেন? বলা হয়ে থাকে কলকাতা ট্রিলজির সিনেমা ল্যাঙ্গুয়েজের তুলনায় সত্যজিতের শেষ ট্রিলজির ছবিগুলোর ক্যামেরা ভাষা অনেক দুর্বল এবং অনাকর্ষণীয়। এর কারণ কি জানেন? কারণ সত্যজিতের শেষ ট্রিলজির ছবিগুলোর সময় ডাক্তারের নিষেধে অসুস্থ সত্যজিৎ রায় কেবল ঘরের ভেতরেই চেয়ারে বসে নির্দেশনা দিতে পারতেন। ঘরের বাইরে বের হতে পারতেন না, ক্যামেরার পেছনে থেকে পরিশ্রম করতে তো পারতেনই না। তাই তার শেষ তিনটি ছবিতে ক্যামেরার গতিশীলতা ছিল অনেক কম। আর এজন্য তার শেষ ট্রিলজির ছবিগুলোর চলচ্চিত্র ভাষাও আগের মতো ভাইব্র্যান্ট বা ডাইনামিক ছিল না। যারা চলচ্চিত্র নিয়ে জানেন, বোঝেন তাঁরা সত্যজিতের এই দুই ট্রিলজির নান্দনিকতার পার্থক্য বোঝেন এবং এও জানেন কেবল অসুস্থতার জন্যই সত্যজিৎ ঘরে বসে ক্যামেরার গতিময়তা বর্জন করে কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। সত্যজিৎ রায় আপনার উল্লেখ করা “ক্যামেরাম্যান”দের কথা কানে তুলে তার ছবিকে স্থির রেখে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নান্দনিকতা যোগ করেননি নিজের ছবিতে।

      জঁ-লুক গদারের মতো ফরাসি নিউ ওয়েভ চলচ্চিত্রকার থেকে শুরু করে স্পাইক লীর মতো মার্কিন ইনডিপেনডেন্ট ফিল্মমেকারের কাজে ক্যামেরা মুভমেন্ট কিভাবে কতোটা গুরুত্ব পেয়েছে, বুনুয়েলের কাজে ক্যামেরার গতিশীলতা কিভাবে এসেছে বা চলচ্চিত্রের বিভিন্ন তত্ত্বে একটি গতিময় দৃশ্য কিভাবে দর্শককে ছবি দেখার সময় সক্রিয় করে তুলে ছবির সাথে দর্শকের সংযোগ ঘটাতে পারে সেই ব্যাপারগুলো নিয়ে কতোটা গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়েছে, তা থেকে এবং আরো বহু বিখ্যাত পরিচালকের কাজ থেকে অজস্র উদাহরণ দিতে পারি। এর ওপর বহু বইও আছে। চলচ্চিত্র তত্ত্বের সিরিয়াস ছাত্র এবং পাঠক মাত্রই তা জানেন। তারা এও জানেন ক্যামেরাম্যানদের কথায় কিছু এসে যায় না। কারণ ক্যামেরাম্যানরা ছবি তৈরি করেন না। তারা ছবির পরিচালক, যিনি একজন অথর তার কথা অনুযায়ী কাজ করেন। পুরো ছবিতে ক্যামেরাকে গতিশীল রাখার কথা কেউ বলে না। তবে চলচ্চিত্রের দৃশ্যে গতিময়তা আনার গুরুত্ব সব পরিচালকই বোঝেন এবং এই জন্যই এমন পরিচালকদের কাজে প্রায় পুরো ছবি জুড়েই একঘেয়ে এবং গতানুগতিক স্থির শটে দায়সারাভাবে দৃশ্য তোলার উদাহরণ কখনোই দেখা যায় না।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাদির জুনাইদ — নভেম্বর ২৭, ২০১৪ @ ৫:২২ অপরাহ্ন

      সারোয়ার রেজা,

      ফারুকী কি কখনো দাবী করেছেন যে তিনি শুধুই বাণিজ্যিক এবং গৎবাঁধা ছবি বানাচ্ছেন? বরং তার ছবিকে বাংলাদেশের নতুন ধারার ছবি বলে প্রচার করার একটা প্রচেষ্টা দেখা যায় না বেশির ভাগ সময়? পিঁপড়াবিদ্যাতেও তো কেবল নাচ-গান-শুভ সমাপ্তির প্রচলিত ফর্মুলা অনুসরণ না করে বরং একটি সামাজিক সমস্যাকে অ্যাড্রেস করার চেষ্টা করা হয়েছে। আপনার জানা নেই (এটা আপনার বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট) যে কোন ছবিতে সামাজিক সমস্যার পারস্পেকটিভ যুক্ত করা হলে সেই ছবিতে সামাজিক সমালোচনা আসাটা জরুরি হয়ে পড়ে, কারণ কেবল হালকাভাবে সামাজিক সমস্যার উল্লেখ কোন উঁচুমানের কাজেই দেখা যায় না। আর এই সমালোচনা না থাকলে পরিচালকের কাজকে অগভীর বলতেই হয়। কারণ তিনি সামাজিক সমস্যা অন্তর্ভূক্ত করেছেন আর তার পর দেখাচ্ছেন বিনোদন আর হাস্যরস, কোন তীব্র সমালোচনা বা সমস্যার গভীর বিশ্লেষণ ছাড়াই। আর আপনার মতো সোশ্যালি-ক্রিটিকাল ছবি সম্পর্কে ধারণা না থাকা মানুষের কাছে মনে হবে বিনা কারণেই পরিচালককে সমালোচনা করা হচ্ছে। অ্যাকটিভিস্ট হওয়ার কথা এখানে বলা হয়নি, সমালোচনা করা হয়েছে সোশাল প্রব্লেম পারস্পেকটিভ রাখার পরও ছবিতে হালকা বিনোদনের সমাহার রাখার জন্য।

      আপনার লেখাতেই স্পষ্ট যে লেখাপড়া করার প্রতি আপনার কতো অনীহা এবং বিদ্বেষ। এইজন্য আপনি ব্যবহার করেন “খালি বই পড়ে চলচ্চিত্র বোঝেন যারা,” “অ্যাকাডেমিয়ার থিওরি ঠাসা নিরেট মস্তিষ্ক” এই ধরনের কথা। “ছবি নির্মাণ প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায় সম্পর্কেই প্রত্যক্ষ কোনো ধারণা নেয়ার প্রয়োজন কখনো বোধ করেন না” সমালোচকদের সম্পর্কে এমন কথাও বলেছেন আপনি। একজন ব্যক্তি যিনি চলচ্চিত্র বিষয়ে বই পড়েন তিনি কি চলচ্চিত্রের নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারেন না? চলচ্চি্ত্রের ওপর যেসব ভাল বই তাতে কি ছবির নির্মাণ প্রক্রিয়ার পর্যায় সম্পর্কে গভীরতাসম্পন্ন আলোচনা না করে ভুনা খিচুড়ী কি করে রাঁধতে হয় বা পড়ালেখা এবং পরিশ্রম না করেই কিভাবে কোন বিষয় ব্যাপক জ্ঞান (!!) অর্জন করা যায় তার রেসিপি দেয়া থাকে? ভাল বই পড়া ছাড়া ছবি নির্মাণ প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায় সম্পর্কে প্রত্যক্ষ কোনো ধারণা নিতে থাকলে একজন আর অত্যুর ডিরেকটর হবেন না, (অত্যুর ডিরেকটর কি তা বোঝেন? নাকি তাও বইয়ের বিষয় বলে বাদ দেবেন?) তিনি হবেন একজন টেকনিশিয়ান বা মেকানিক। আর একজন টেকনিশিয়ান বা মেকানিকের জ্ঞান দিয়ে গভীরতাসম্পন্ন চলচ্চিত্র বানানো যায় না, কেবল ক্যামেরাটা ভাল ভাবে চালানো যায়।

      সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, জঁ-ল্যুক গদার, ফ্রাসোয়া ত্রুফো, জ্যাক রিভেৎ, ক্লদ শ্যাব্রল, টমাস গ্যেতিরেজ আলিয়া, গ্লবার রোশা, ফার্নান্দো সোলানাস, অক্টাভিও গেটিনো, পিয়ের পাওলো পাসোলিনি এদের নাম শুনেছেন তো? যেভাবে আপনি অ্যাকাডেমিক স্টাডি অফ সিনেমার বিরুদ্ধে তীব্র রাগে গরগর করছেন আমার তো মনে হয় এই পরিচালকরা আদেৌ সিনেমা বোঝেন বা সিনেমা বানাতে পেরেছেন আপনার সে ব্যাপারে সন্দেহ আছে। এদের নাম আপনি হয়তো জানেন কিন্তু যেটা মনে হয় না জানেন তা হলো সত্যজিৎ রায় সিনেমা বানানোর আগে বছরের পর বছর ধরে কষ্ট করে পড়েছেন চলচ্চিত্রের নানা তত্ত্ব (নিজের বইতেই তিনি এই কথা উল্লেখ করেছেন)। তারপর সেই জ্ঞান নিয়ে তিনি ছবি নির্মাণের প্রত্যক্ষ কাজে নেমেছেন। এর আগে নয়। আর এই জন্যই তিনি সত্যজিৎ রায়, তাঁর ছবি কেবল হাসির খোরাক যোগানোর মতো ক্যামেরা দিয়ে ধারণ করা কোন দৃশ্য নয়।

      ঋত্বিক ঘটক যখন ১৯৭১ এর পর স্বাধীন বাংলাদেশে আসেন তখন তাঁকে এই দেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য প্রথমে কী করা উচিৎ জিজ্ঞেস করায় তিনি বলেছিলেন চলচ্চিত্রের ওপর লেখা সব গুরুত্বপূর্ণ বই সংগ্রহ করে একটি বিশাল লাইব্রেরী করে সেই বইগুলো এই দেশের পরিচালকদের পড়ে ফেলার কথা। তিনি তো খালি বই পড়া আর অ্যাকাডেমিয়ার থিওরি”র কথাই আগে বলেছেন, বই পড়ার আগে তো ছবি নির্মাণ প্রক্রিয়ার পর্যায় সম্পর্কে প্রত্যক্ষ কোনো ধারণা নেয়ার কথা বলেননি। সত্যজিৎ রায় আর ঋত্বিক ঘটক কি আপনার মতো মানুষের চেয়ে ছবি কম বুঝতেন, সারোয়ার রেজা? নাকি আপনি তাঁদের বলবেন যে তাঁরা ছবি নির্মাণের আগে বই পড়েছেন, বই পড়াকে গুরুত্ব দিয়েছেন তাই তাঁদের মস্তিষ্কও অ্যাকাডেমিয়ার থিওরি ঠাসা নিরেট কিছু? যারা ছবি নির্মাণ করতে চান তাদের সত্যজিৎ রায় আর ঋত্বিক ঘটকের মতো কাজ না করে আপনার বক্তব্য অনুযায়ী চলা উচিৎ, আর তাহলেই তারা “চলচ্চিত্র যে নিরন্তর বিচিত্র ভাষার অনুসন্ধান” করে তা দুর্দান্তভাবে করতে সক্ষম হবেন, আপনি এই কথাই বলতে চান, তাই তো?

      আপনার লেখায় লেখাপড়ার প্রতি তীব্র ক্ষোভ নিয়ে আরো বলেছেন “অমুক ছবির সঙ্গে তমুক দৃশ্যের সাদৃশ্য-বিসাদৃশ্যের রেফারেন্স টানাটানির জ্ঞানের মুলো প্রদর্শন।“ আপনি “কাইয়ে দ্যু সিনেমা” কি জানেন? জানেন “স্ক্রীন” কি? এইস্ব বিশ্ববিখ্যাত ফিল্ম জার্নাল আর ম্যাগাজিনে যারা লিখতেন সেই গদার, ত্রুফো, রিভেৎ এই পরিচালকরা আগে ছিলেন চলচ্চিত্র তাত্ত্বিক তারপর তারা হয়ে ওঠেন বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার। যে পরিচালকদের নাম ওপরে লিখেছি তারা যেমন ছবি বানিয়েছেন তেমনি অ্যাকাডেমিক আলোচনা করেছেন, লিখেছেন একের পর এক অ্যাকাডেমিক আর্টিকেল, বিভিন্ন ছবির সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য নিয়ে রেফারেন্স তুলে ধরেছেন যা তাদের দেশের চলচ্চিত্র নির্মাণে অসীম গুরুত্ব রেখেছে। তারা আপনার মতো অ্যাকাডেমিক চর্চাকে নাক সিটকে চলেননি। ফলে তারা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন বিখ্যাত পরিচালক হিসেবে, তারা মেকানিক বা টেকনিশিয়ান হয়ে ওঠেননি।

      আমার লেখায় বিকল্প ছবির কথা বলতে গিয়ে আমি মনগড়া তত্ত্ব উপস্থাপন করেছি তা আপনি জানলেন কি করে? আপনি তো অ্যাকাডেমিক লেখাপড়াকেই বাতিল করছেন। যা বাতিল করছেন তা একজন সঠিকভাবে উপস্থাপন করলো না মনগড়া ভাবে দিলো তার পার্থক্য আপনি বুঝবেন কি করে? আর আমার লেখায় কোথায় আমি প্রথানিষ্ঠতার কথা বলেছি? আমি এই ছবিতে প্রথাগত পদ্ধতি ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেছি কারণ প্রচার করা হয়েছে যে এটি নতুন ধারার ছবি। কিন্তু প্রথাগত ধারার দুর্বলতা তুলে ধরা কোন প্রথার প্রেসক্রিপশন বাতলে দেয়া নয়। আমি বলিনি যে এই ছবিতে কোন নির্দিষ্ট পদ্ধতি থাকার অবশ্যই দরকার ছিল। কিন্তু ছবিটি নতুন ধারার বলে অনেকে দাবী করছে কিন্তু আসলে তা কতোটা গতানুগতিক আমি তা প্রকাশ করেছি। আপনি আমার লেখা অনুধাবন না করেই কেবলমাত্র আমার লেখার অ্যাকাডেমিক অ্যাপ্রোচ দেখেই রাগ প্রকাশ করছেন। আর আপনার এই রাগ তাই মূল্যহীন এবং অসার কারণ কোন যুক্তি তা তুলে ধরছে না।

      বরং মনগড়া কথা আপনি বলছেন এই কারণে যে ১০০ ভাগ হালাল ছবি (!) নিয়ে কোন কথা সরাসরি বা অপ্রত্যক্ষ কোন ভাবেই আমার সমালোচনায় উঠে আসেনি। আর বিদেশী ছবির যৌনতাকে কোন কারণ ছাড়াই নান্দনিকতা বলার মতো মূর্খও লেখাপড়া করা মানুষ হয় না। তাঁরা কোন কিছু নান্দনিক হলেই কেবল তাকে নান্দনিক বলেন, না হলে না। আর যৌনতা যখন কোন ছবিতে কেবল দর্শককে অতি সস্তা বিনোদন যোগানোর জন্য ব্যবহৃত হয় তখন তা অনেকের কাছে মহা উপভোগ্য বলে মনে হলেও তার সমালোচনা করতে হয়।

      “যা বুঝেছি, এই সমালোচকদের কথাবার্তা কানে ‘না’ তুলে যতদিন আমরা ছবি বানিয়ে যেতে পারবো, কোনো সন্দেহ নেই ততোদিনই এদেশের ছবি সম্ভাবনার পথে হাঁটবে। এঁদের কথা পাতে ফেলেছেন কি সর্বনাশ!” — আপনার এই কথার অর্থ দাঁড়ালো যে চলচ্চি্ত্রের অ্যাকাডেমিক চর্চাকে, চলচ্চিত্রের নিয়ম কানুন, তত্ত্ব, নান্দনিকতার ধারণা, চলচ্চিত্রের সাথে সমাজ আর রাজনীতির সম্পর্কজনিত ধারণা এই সব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে কেবল মেকানিকের জ্ঞান নিয়ে যখন কেউ ছবি বানাবে কেবল তখনই সেই ছবি হয়ে উঠবে দুর্দান্ত রকমের অর্থবহ, নান্দনিকভাবে আকর্ষণীয় আর অসম্ভব রকমের গভীরতাসম্পন্ন। বাংলাদেশের ছবির মান একেবারে আকাশছোঁয়া হয়ে উঠবে চলচ্চিত্র নিয়ে লেখাপড়া না করে কেবল ক্যামেরা হাতে চলচ্চিত্র নির্মাণের নানা পর্যায় নিয়ে প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জন করার জন্য মাঠে নেমে পড়লে!! বাহ্!! সত্যজিৎ, ঋত্বিক, গদার, ত্রুফো লেখাপড়া করে আর কি বিচিত্র চলচ্চিত্র ভাষা তাঁদের ছবিতে যুক্ত করতে পেরেছেন, তাই না? তাঁরা যদি লেখাপড়া না করে আগেই ক্যামেরা হাতে নেমে পড়তেন তাহলে তাঁদের চলচ্চিত্র বিষয়ে মেকানিকের জ্ঞান দিয়ে না জানি কী দারুণ বিচিত্র ভাষা তাঁরা আমাদের উপহার দিতে পারতেন!! সত্যিই বিচিত্র তথ্য পেলাম সারোয়ার রেজার এই মন্তব্য থেকে!! আর সারোয়ার রেজা, এই পিঁপড়াবিদ্যা ছবিতে আগাগোড়া এতো গতানুগতিক আর একঘেয়ে দৃশ্যের মাঝে মনে দাগ কাটার মতো কি বিচিত্র চলচ্চিত্র ভাষা আপনার চোখে পড়েছে তা আপনার মন্তব্যে একটু যুক্ত করতে পারতেন।

      আর আপনি কি বই পড়েন? এর পরের বার যখন কোন বই হাতে নেবেন পড়ার জন্য তখন আপনার করা এই মন্তব্যটির কথা ভাববেন যে অ্যাকাডেমিক চর্চাকে (যার মূল ভিত্তি হলো বই পড়া) আপনি কতোটা অবজ্ঞা আর অবহেলা করেছেন আপনার এই মন্তব্যে। আর বই না পড়েই আপনি বা আপনার মতো মানুষরা চলচ্চিত্র বানিয়ে যান দেখি, আমরা দেখবো সেই চলচ্চিত্রের মান কেমন হয়।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফায়েজুর রহমান সৈকত — নভেম্বর ২৭, ২০১৪ @ ৬:২৯ অপরাহ্ন

      চলচ্চিত্রের সমালোচনা হবে এটাই নিয়ম। এদিক থেকে বলতে গেলে লেখক যা হবার ছিল তা ই করেছেন। আপনার লেখা পড়লাম। তবে দুঃখিত সহমত দিতে পারলাম না। প্রথম কথা আপনার সমালোচনা নবীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপ স্বরূপ মনে হচ্ছে।

      ফারুকীর একটা ইন্টারভ্যূতে শুনেছিলাম তিনি বলেছিলেন, “চলচ্চিত্র একটা না দুইটা না, বরং এক হাজারটা নিয়মে হতে পারে। ” কঠোর সমালোচনাকারীদের বেশির ভাগেই হয়ত সেটা জানেন না। আপনি কি জানেন ভায়া?
      তিনি আরো বলেছিলেন, “আমার অনেক সিনেমাকেই অনেকে নাটক অথবা টেলিফিল্ম ধরণের বলে। অথচ সেই নাটক টেলিফিল্মটিই দেশের বাইরে কোনভাবে যেতে পারলে সেটা চলচ্চিত্র হয়ে যায়!” আপনার কাছে পিঁপড়াবিদ্যাকে টেলিফিল্ম নাকি নাটক মনে হচ্ছে, ভায়া?
      নায়িকার ভুলভাল ইংলিশ উচ্চারণকে আপনি বহির্বিশ্বের কাছে আমাদের ইমেজ নষ্ট হবার সাথে তুলনা করেছেন যেটা হাস্যকর মনে হয়েছে। হা হা হা। সিনেমা একটি চরিত্রের জীবনের খন্ড অংশ তুলে ধরে। এবং সে চরিত্রটি ভুল ইংরেজি বলবে না শুদ্ধ ইংরেজি বলবে সেটা তার ব্যাপার। নাহলে সবাই শহুরে শিক্ষিতদের নিয়েই সিনেমা বানাত। গ্রামের অশিক্ষিতদের চরিত্র ফুটিয়ে তুলতো না।
      একটা সিনেমার সমালোচনা করতে গিয়ে আপনি পুরো ফারুকী চলচ্চিত্রের খুঁটিয়ে ফুটিয়ে যৌন ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন। ভায়া জি, ইংরেজি কিংবা ভারতীয় কিংবা কোরিয়ান কিংবা বিশ্বে আর যত সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি আছে তাদের যেকোন একটার সমালোচক হবার অফার দিলে আপনি সমালোচনা করে করে নির্ঘাত পাগল হয়ে যেতেন। বাস্তবতাকে ভয় পেয়ে এড়িয়ে যাচ্ছেন কেন?

      শুনুন ভাইয়া জি, তরুন নির্মাতাদের নিরুৎসাহিত করবেন না দয়া করে। যে ই আসে তাকে আসতে দিন। কাজ করার সুযোগ দিন। তা না হলে চলচ্চিত্রতে আমরা এগিয়ে যেতে পারবোনা। ভাল থাকবেন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Jubair — নভেম্বর ২৭, ২০১৪ @ ৬:৪২ অপরাহ্ন

      একটি অসাধারণ ও শিক্ষণীয় সমালোচনার জন্য ধন্যবাদ।

      যুবায়ের

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফারুক — নভেম্বর ২৭, ২০১৪ @ ৮:০১ অপরাহ্ন

      সারোয়ার রেজা আর ফায়েজুর রহমান সৈকতের লেখা পড়ে সন্দেহ হল, হয় মোস্তফা সরয়ার ফারুকীই বেনামে এগুলো লিখেছেন, নয়ত তার কোনো ভাই-বেরাদর। নাহলে নাদির জুনায়েদের যৌক্তিক লেখার সমালোচনা করতে গিয়ে তারা এমন হাস্যকর লাফালাফি করবেন কেন? বিশেষ করে ফায়েজুর রহমান-এর ভাষা এতই নিম্নমানের এবং সমালোচনা এতই অন্তঃসারশূন্য যে (‘ভাইয়া জি’ কোন ধরনের সম্বোধন? মানুষকে কীভাবে সম্বোধন করতে হয় তা যে জানে না সে তরুণ নির্মাতাদের উৎসাহিত করার কথা বলে, সত্যি সেলুকাস…) সঙ্গত কারণেই নাদির জুনায়েদ এই ভদ্রলোকের (!) আবর্জনাতুল্য সমালোচনার কোনো জবাব দেননি। মনে হচ্ছে, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী আমাদের দেশের চলচ্চিত্রজগতের এক মহাপুরুষ হিসেবে আবির্ভুত হয়েছেন, আর তাঁর জঘন্য সব ছবির সমালোচনাকারীদের গালিগালাজ করার জন্য কিছু অনলাইন সৈনিককেও রেখেছেন। বহু ঢাকঢোল পিটিয়ে পিঁপড়াবিদ্যা নামে যে মহাচলচ্চিত্র তিনি প্রসব করেছেন, সেটির দর্শকশূন্যতা থেকে এটি স্পষ্ট: ময়ুরের পেখম পরলেও কাক কাকই থাকে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাদির জুনাইদ — নভেম্বর ২৭, ২০১৪ @ ৮:১৪ অপরাহ্ন

      ফায়েজুর রহমান সৈকত,

      আপনার মন্তব্যটিও পড়লাম। এবং আমিও আপনার মন্তব্যের সাথে একমত হতে পারছি না।

      আমার দেশের পরিচালক বলেই, আর সেই পরিচালক নবীন বলেই তার কাজে কোন দুর্বল দিক বার বার দেখলেও তার সমালোচনা করতে পারবো না বরং তাকে তার কাজের দুর্বল দিকগুলো ধরিয়ে না দিয়ে সবসময় তার পিঠ চাপড়ে দিতে হবে এবং তিনি তার ভুল করেই যেতে থাকবেন তা তো হয় না। পরিচালকের কাজে সফলতা থাকলে তাকে অবশ্যই প্রশংসা করা হবে, আর দুর্বল দিক দেখলে তার সমালোচনা করতে হবে। এটাই যৌক্তিক এবং এটাই ন্যায্য। আমার দেশের পরিচালক হলেই সমালোচনা নরম হয়ে যাবে না। বরং নিজেদের ছবির ভুল আরো বেশি ধরিয়ে দেয়া উচিৎ। কারণ আমরা তো আমাদের দেশে দুর্বলভাবে নির্মিত চলচ্চিত্র হোক তা চাই না। চাই কি?

      আপনি আমার রিভিউয়ের বক্তব্য ভাল মতো অনুধাবন না করেই মন্তব্য করেছেন। নায়িকার ভুল ইংরেজি বলা নির্দেশ করা হয়েছে দৃশ্যের একটি অসঙ্গতি তুলে ধরার জন্য। আপনি কি দেখেননি যে নায়িকার ঘরে অনেক বই থাকার প্রসঙ্গ আমি উল্লেখ করেছি? সেটা কি অর্থ তুলে ধরলো তা ভাবুন। বুঝুন।

      আর যৌনতাই কেবল বাস্তব আমাদের সমাজে? আর কোন সামাজিক বা রাজনৈতিক সমস্যা নেই? তাই সব ছবিতেই কেবল এই যৌনতার আর গোপন সম্পর্কের আভাস থাকতেই হবে যেন আমাদের দেশে এই ব্যাপারটিই হচ্ছে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা? বরং আরো অনেক বড় বড় সমস্যাসংক্রান্ত বাস্তবতা যে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে তা নিয়ে আপনাদের চিন্তা হয় না?

      তরুণ নির্মাতাদের অনুৎসাহিত করার কোন প্রশ্নই ওঠে না। তবে অবশ্যই তাদের চলচ্চিত্র মাধ্যমটি সম্পর্কে ভালভাবে জেনে প্রস্তুত হয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে। ভাল চলচ্চিত্র নির্মাণ অতো সহজ না, ছেলেখেলাও না যে ক্যামেরা হাতে থাকলো, এডিটিং প্যানেল থাকলো আর আমি দুর্দান্ত ছবি বানিয়ে ফেললাম। ভাল ছবি করার জন্য পরিশ্রম দরকার, প্রস্তুতি দরকার, চলচ্চিত্রের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে যখেষ্ট জ্ঞান দরকার, দরকার একটি ভাল উদ্দেশ্য। তখনই কেবল ভাল চলচ্চিত্র তৈরি হবে আমাদের দেশে আর এমন চলচ্চিত্র তৈরির জন্য তরুণ পরিচালকদের আমরা সবসময় উৎসাহিতই করবো। আর এই জন্যই চলচ্চি্ত্রে শক্তিশালী দিকের প্রশংসা আর দুর্বল দিকের সমালোচনা এবং ভাল চলচ্চিত্র ও দুর্বল চলচ্চিত্রের মধ্যে প্রভেদ কি তা যুক্তি দিয়ে স্পষ্ট করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

      আপনার শুভেচ্ছার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আপনিও ভাল থাকবেন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মিথুন চক্রবর্তী — নভেম্বর ২৭, ২০১৪ @ ৯:৪৫ অপরাহ্ন

      আগে বাংলা ছবি দেখে অকথ্য ভাষায় কথা বলা মানুষগুলোও শুদ্ধ ভাবে প্রমিত বাংলা ভাষা ব্যবহার করে কথা বলা আয়ত্ত করতো (যারা জন্মগত ভাবে উচ্চ শিক্ষিত পরিবারের সদস্য তাদের কথা বলছি না), আর এখন বাবা-মা, পরিবার-পরিজন সবাই মিলে শুদ্ধ প্রমিত বাংলায় কথা বললেও তাদের বাচ্চারা মানে ১২-২২ বা ২৫ বছরের মানুষেরা ফারুকি স্টাইল, করিম স্টাইল, তাহ্‌সান স্টাইলে কথা বলে। শুনতেও খারাপ লাগে… আগে বলতো “তুমি খেয়েছো ? আর এখন বলে “তুমি খাইসো” … কই আগর তলা, আর কই উগার তলা…… নাদির ভাই, অরন্যে রোদন করে পরিশেষে আপনিই আস্ফালন করবেন…… যদি কারোর লক্ষ্য থাকে আমি শুনবনা, তবে তার কানের কাছে পারমানবিক বোমা ফাটালেও কাজ হবে না ……

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফারাবী — নভেম্বর ২৭, ২০১৪ @ ১০:৩৮ অপরাহ্ন

      লেখাটা সময়োপযোগী তা বলতেই হবে, বিশেষ করে যখন এসব আবর্জনা দেশের স্বনামধন্য সমালোচকেরাও প্রোমোট করছেন। নাদির জুনায়েদ স্যারকে ধন্যবাদ এমন দূর্দিনে এরকম একটা বিশদ সমালোচনা আমাদের কাছে উপস্থাপন করার জন্য।

      ফারুকির ভক্তদের এখানে এসে আস্ফালন করা দেখে খুব একটা অবাক হইনি। সত্যিকার সিনেমা-প্রেমী হয়ে থাকলে কেউ কোন সমালোচনার প্রতিক্রিয়া এরকম যুক্তিহীনভাবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে না। এটা একমাত্র অর্ধ-শিক্ষিত অন্ধ-ভক্ত মুরীদদের পক্ষেও সম্ভব, যেটা ইতিমধ্যে তাদের লেখায় উত্তম রূপে প্রকাশ পেয়েছে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Nira — নভেম্বর ২৭, ২০১৪ @ ১০:৪২ অপরাহ্ন

      শুরুতেই নাদির জুনাইদকে অনেক ধন্যবাদ চমৎকার একটি বিশ্লেষণধর্মী একটি সমালোচনা লেখার জন্য। ফায়েজুর রহমান সৈকতের ভাষ্যমতে লেখকের এই সমালোচনা নবীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপ তুল্য। কি ধরনের অভিশাপ নিয়ে আসবে এই বিষয়টিই বুঝতে পারিনি। আপনি যদি একজন তরুন নির্মাতার উদাহরণ দিতেন যিনি মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ এমন একটি সমালোচনা পড়ে উৎসাহী হয়ে একটি দুর্দান্ত চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন, তাহলে খুব ভালো হতো। আর লেখকের ধৈর্য়ের সত্যিই প্রশংসা করব কারণ তিনি আপনার এই কমেন্টের জবাব্ও দিয়েছেন।

      সারোয়ার রেজা বললেন, একজন চলচ্চিত্র সমালোচক এর ছবি নির্মাণ প্রক্রিয়ার পর্যায় সম্পর্কেই প্রত্যক্ষ কোনো ধারণা নেয়ার প্রয়োজন আছে– এই অসাধারণ তত্ব প্রথম শুনলাম। অর্থ কি দাঁড়ায়? চলচ্চিত্র সমালোচনা করতে হলে সেটার নির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ে নিবিড় ভাবে প্রতক্ষ করতে হবে? তিনি আবার বলেছেন চলচ্চিত্র নিরন্তর বিচিত্র ভাষা খুঁজে যাবে? এই ভাষাটি আসলে যে কি তা ঠিক বুঝতে পারলাম না। বোধহয় সারোয়ার রেজার কমেন্টের মতোই বিচিত্র। ভদ্রলোক আরর্ও বলেছেন “প্রথানিষ্ঠতার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত রেখে আবার প্রথা ভাঙার কথা বলেন” আমি তো লেখকের লেখায় প্রধানিষ্ঠতার দৃষ্টান্তের কোন উল্লেখ পাইনি। উনি কোথায় পেলেন! তিনি বললেন সমালোচকদের কথাবার্তা কানে না তুলে সিনেমা বানিয়ে গেলে ব্যাপক সম্ভাবনার পথে তিনিসহ গোটা জাতিকে তিনি নিয়ে যাবেন, অনেকদিন পর তো এই ধরনের একটি সমালোচনা আসলো, তো আপনারা এতোদিন সম্ভাবনার পথে কতোদূর গেলেন? লেখকের বাংলা লেখা নিয়ে আপনি হাস্যকর মন্তব্য করার চেষ্টা করেছেন। আপনার লেখা তো কেনো গাইডে ফেলানোরও যোগ্য বলে আমি মনে করি না। লেখক যে ধৈর্য ধরে আপনার এই মহান লেখার জবাব দিয়েছেন এতেই আমি অবাক! আর ফারুক, আপনার কথার সাথে একমত পোষণ করে বলতে চাই নামের মিল্ও আছে যেহেতু বেনামে ফারুকীর মন্তব্য হ্ওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না।

      একটি গঠনমূলক সমালোচনা অবশ্যই থাকা উচিৎ বলে আমি মনে করি। এতে বরং যারা নবীন চলচ্চিত্র নির্মাতা তারা এসব বস্তাপচা চলচ্চিত্রগুলোর দুর্বল দিক নিয়ে ভাববে। সমালোচনা মানে কোনো কাজের রিভিউ বা সিনোপসিস নয়। তথাকথিত ভিন্নধারার সস্তা বিনোদনের স্রোতে যারা গা ভাসিয়ে দিয়ে আসছে সেই শ্রেণির কথা অবশ্য আমি বলছি না। মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর সিনেমাতে যেসব ভাষা ব্যবহার করা হয় সেগুলো এই সস্তা শ্রেণির কিছু ভাই ব্রাদারদেরকেই বিনোদন দেয় বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। আর এই সস্তা ভাষা ব্যবহার করে নাটকগুলোকে যাচ্ছেতাই বানানোর পর এখন চলচ্চিত্রেও এসব ভাষা ব্যবহার করছেন! আর এক শ্রেণির দর্শক এমনকি সমালোচক্ও এই ভাষাকে সমর্থন করছে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন asgar ali sarker — নভেম্বর ২৭, ২০১৪ @ ১০:৪৮ অপরাহ্ন

      আমি ফারুকির কোন ছবি দেখিনি, আমি আতেলদের থেকে দূরে থাকি।
      তবে বিশ্বের বহু ভাল ভাল ছবি আমি দেখেছি । চলচ্চিত্র আতেল হওয়ার যায়গা নয়। কোন ইজম বা রাজনীতি পেটে নিয়ে ভাল চলচ্চিত্রকার হওয়ার সুযোগ নেই। ফারুকির ভেতর যা দেখা যায় বলে আমার মনে হয়।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Md. Hasanuzzaman — নভেম্বর ২৮, ২০১৪ @ ১:১৮ পূর্বাহ্ন

      1. Ami cinema ta deksi
      2. kintu birotir somoy amar bandhu k bollam moja pailam na.
      3. ei dhoroner cinema hole ami dekte jetam na.
      2. cinema diye eta bujanor janno kono dorkar nai.

      val lagey nai..

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সারওয়ার রেজা জিমি — নভেম্বর ২৮, ২০১৪ @ ১:৩৫ পূর্বাহ্ন

      লেখকের প্রতি:

      আপনার সমালোচনার মতোই পাঠকের মন্তব্যের জবাবে শিশুতোষ প্রতিক্রিয়া পড়ে বেশ কৌতুক হ’ল। আপনার নামে ক্লিক করে পরিচয়ের ওজন ঠাহর করার এবং বারংবার বই পড়ার ফিরিস্তি দিয়ে জ্ঞানের বহর দেখানোর চেষ্টা ততোধিক হাস্যকর। এই অপরিণত, অসংলগ্ন, গাল ফোলানো ছেলেমানুষী সংলাপের পিঠে কিছুই বলার প্রবৃত্তি ছিলনা। কিন্তু মনে হলো, আপনাকে জানানো জরুরী, সবাইকে যেভাবে ‘পড়েছেন তো?/দেখেছেন তো?/শুনেছেন তো?’ বলে খারিজ করে গেলেন, তা শুধু আপনার উন্নাসিকতার পরিচয়ই নয়, ‘”খালি” বই পড়ে চলচ্চিত্র বোঝা’ বলে যেই কথাটির অর্থ আপনার বোধের বাইরে দিয়ে গেছে, তার যাথার্থ্যকেও আরো পোক্ত করে।
      কী পড়েছি, কী দেখেছি, কী শুনেছি- তার ফিরিস্তি আপনার মতো দিতে যাওয়ার মধ্যে বিশেষ গৌরব খুঁজে পাচ্ছিনা। তাই ঐখানে আপনাকেই মোবারকবাদ।
      তবে আপনার জ্ঞাতার্থে বলে রাখি, পৃথিবী অনেকটা এগিয়েছে এরই মধ্যে। অন্তর্জালের কল্যাণে বিশ্বের প্রায় সব ভাল বই, লেখা, জার্নাল- এর মধ্যে আপনার ‘স্ক্রিন’ও আছে- এখন হাতের নাগালে। প্রতিটা পিসিই এখন একেকটা বড় লাইব্রেরি। ও জিনিস এখন শুধু আপনার মতো এলিট অ্যাকাডেমিশিয়ানের স্থাবর সম্পত্তি আর নেই। তাই জ্ঞানের পুরুতগিরিরও এখন আর চলেনা।
      আর ঐ সেই ওদেসা স্টেপ সিকোয়েন্স, সত্যজিতের কলকাতা ট্রিলজি আর শেষ পর্বের ছবির দুর্বলতা, কাইয়্যে দ্যু সিনেমা, মিজঁসেন… আর কত কপচাবেন! নতুন কিছু বলুন! জেনে আবারও কৌতুক হ’ল, আপনার মতো চলচ্চিত্রবোদ্ধা এটুকুও জানেন না যে, এসব বিষয় ফিল্ম নিয়ে আগ্রহী শিশুরাও এখন জানে। আর তার জন্য কেউ বিশেষ ‘পড়াশোনা’ করার মাহাত্ব দাবি করার প্রয়োজন বোধ করেনা। কারণ আপনার মতো তাদের সেগুলো বদহজম হয়নি।
      মোস্তফা সরয়ার ফারুকী’র ছবিটি নিয়ে কথা বলার চেয়ে আমার জন্য কৌতুহলের বিষয় ছিল অ্যাতো ওজনদার চলচ্চিত্র গবেষক এদেশে চলচ্চিত্র সমালোচনার চলতি বস্তাপচা-অর্ধশিক্ষিত ধারাটির বাইরে কিছু বলেন কি না- দেখা। কোথায় কী! লেখাাটি তো ঐ প্রেসক্রিপশন-সমালোচনার আদর্শ দৃষ্টান্ত হলোই, নিচের মন্তব্যে সেটা বারো হাত কাঁকুড়ের তেরো হাত বিচিতে গিয়ে ঠেকলো। বাংলা চলচ্চিত্র সমালোচনা ঐ অনুপম হায়াতেই থেকে গেল। অ্যাতো অ্যাতো বিদ্যা আর ডিগ্রির জলাঞ্জলি।
      ও হ্যাঁ, ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল ও মুভমেন্ট নিয়ে আপনার রেফারেন্স সমৃদ্ধ তথ্যের পিঠে আপনাকে আমারও ছোট্ট একটা ক্লিশে রেফারেন্স দেয়ার ছিল। ওজু’র ছবি। আমার কিন্তু কোনো সন্দেহ নেই, আপনি দেখেছেন :)
      কি জানেন, আমার প্রথম প্রতিক্রিয়াটায় ঐ নির্মাণ পদ্ধতি সম্পর্কে কথাটা বলার সময়ই ভেবেছিলাম একবার ত্রুফো, গদারদের স্মরণ করি। জ্ঞান জাহিরের গ্লানি থেকে এগুইনি। এখন যখন আপনি বলেই ফেললেন তখন বলার সুযোগ আর ছাড়ি কেন। কাইয়্যে দ্যু গোষ্ঠিই বরং এর আদর্শ দৃষ্টান্ত যে, ফিল্ম তাত্ত্বিকদের ফিল্মটা কতখানি বুঝতে হয়। তাঁরা শুধু পড়েননি বা লেখেননি, নির্মাাণ পদ্ধতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে থেকে ‘সবটুকু’ বুঝে উঠতে চেয়েছেন। নিজেরা ক্যামেরা হাতে তো পরবর্তীতে নেমেছেনই, তারো আগে চলচ্চিত্রের নতুন ভাষা নিয়ে লেখার সময়টাতেই এই প্রয়োজন বোধ করেছেন যে চলচ্চিত্র শুধু বইয়ের পাতায় বুঝে ওঠা যায় না, তার জন্য নির্মাণ এবং নির্মাাতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা জরুরী। অ্যাকাডেমিয়ার থিওরি ঠাঁসা নিরেট মস্তিস্ক হওয়ার জো কোথায় তাঁদের!

      সুতরাং, আপনাকেও শিগগিরই ক্যামেরা হাতে মাঠে দেখবো, কি বলেন? ফরাসি নিউ ওয়েভের মতো একটা বাংলা নিউ ওয়েভ এবার না ঘটে যায় কোথায়!

      আর আশা করি, ততোদিনে সত্যিকারের শিক্ষিত, চলচ্চিত্রকে সম্যকভাবে বোঝা সত্যিকারের মননশীল কিছু চলচ্চিত্র সমালোচক এদেশে তৈরি হবেন, আপনার চলচ্চিত্রের ক্রিটিক করার জন্য। শুভকামনা :)

      ফারুক.
      আপনার জন্য একটা শব্দ- ignored :)

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সারওয়ার রেজা জিমি — নভেম্বর ২৮, ২০১৪ @ ১:৪৭ পূর্বাহ্ন

      Nira,

      আপনার অসংলগ্ন কথাবার্তাকেও ইগনোর করাই শ্রেয় ছিল। একটা কথার জবাব দেয়া জরুরী বলে কিবোর্ড ধরা- ‘এই সমালোচকদের কথাবার্তা কানে ‘না’ তুলে যতদিন “আমরা” ছবি বানিয়ে যেতে পারবো’- আমার এই বাক্যের ‘আমরা’ শব্দটাকে লক্ষ্যবস্তু করেছেন দেখলাম। এখানে ‘আমি’ যেমন আছি, আপনিও আছেন। নির্মাতা, দর্শক, দেশবাসী সবাই এই আমরার মধ্যে পড়ে। সবাইকে ছবি বানাতে হবে জরুরী না। তবে নিজেদের ছবিকে ওউন করতে পারাটা জরুরী। ‘পারলে বানিয়ে দেখা দেখি’ টাইপ বালখিল্য তর্কে আমার উৎসাহ নেই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এনামুর রেজা — নভেম্বর ২৮, ২০১৪ @ ৩:৪৮ পূর্বাহ্ন

      অনেক ধৈর্য্য নিয়ে পুরো লেখাটা পড়লাম, তারপর এক অদ্ভুত কৌতুহল নিয়ে মন্ত্যব্যগুলো পড়লাম। যেই লাউ সেই কদু, বাংলাদেশের আর সব ব্লগ বা গ্রুপের মত এখানেও শুরু হয়েছে পালটা পালটি বক্তব্য দেয়ার লড়াই পাশাপাশি কিছু মন্তব্যকারী লেখককে তো তুলোধুনা করছেনই, উপরন্ত তাদের পক্ষে বলছেন না এমন মন্ত্যব্যকারীদেরও বেশ অল্পকথায় তুলোধুনা করতে প্রয়াস পেয়েছেন।
      ব্যাক্তি লেখককে আক্রমণ না করে তার লেখার কোথায় কি অযুক্তি তা নিয়ে পাল্টা গঠনমূলক সমালোচনা করুন। এতে চলচ্ছিত্রটার সমালোচনা হবে।

      এবার নিজের কথাটা বলি, আমি একেবারেই এলেবেলে লেভেলের দর্শক। সিনেমা কাঁদালে আমি কাঁদি, হাসালে হাসি। এবং শেষ পর্যন্ত সিনেমাটা আমার ভাল লাগল না খারাপ লাগল সেটা বুঝতে পারি। সেই বোধ থেকেই বলছি, ফারুকী সিনেমা বানাচ্ছেন, আরো বানাবেন সেটাই আমরা বাংলাদেশের দর্শকরা চাই। যেখানে সিনেমা ইন্ডাষ্ট্রিরই অস্তিত্ব নিয়ে টানাটানি সেখানে এমন দু-একজন এখনো সিনেমা বানিয়ে যাচ্ছেন সেটাই অনেক।

      কিন্তু, দর্শক সমালোচক যে ফিডব্যাক দিচ্ছেন বা পেক্ষাগৃহে দর্শকের যে সাড়া পাচ্ছেন সেটা গোনায় ধরুন। আপনার শেষ দুএকটা ছবি যেভাবে দেশের পত্রপত্রিকায় প্রচার পেয়েছে বা প্রচার করা হয়েছে তার তুলনায় ছবিটা দেখতে গিয়ে আমরা নিদারুণ হতাশ হয়েছি। সিনেমা সেটা বাণিজ্যিক হোক আর অবাণিজ্যিক হোক দর্শক যদি না দেখে তো সে সিনেমা বানিয়ে লাভ কি ???

      আর উৎসাহ নিয়ে দর্শক হলে গিয়েও যদি হতাশ হয়ে ফেরত আসে তাতেও পরিচালক হিসেবে আপনার ভাল মান প্রমাণিত হয় না। আমরা চাই যতটা বিশাল মাপের পরিচালক আপনাকে দেখানোর চেষ্টা করা হয় বা আপনি নিজেও তা দেখতে চান, আপনার কাজগুলোও অমন মাপের হয়ে উঠুক। তাতে আমরাও কিছু ভাল সিনেমা দেখতে পাব আর বাংলাদেশের সিনেমাও সমৃদ্ধ হবে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফারুক — নভেম্বর ২৮, ২০১৪ @ ৯:২৪ পূর্বাহ্ন

      প্রথমে ‘সারোয়ার রেজা’ এবং তারপর ‘সারোয়ার রেজা জিমি’ – একই ব্যক্তি তো? মোস্তফা সরয়ার ফারুকির গুণমুগ্ধ এই ভক্ত নাদির জুনাইদকে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও সমালোচনা বিষয়ে বিশাল লেকচার দেয়ার শেষে দয়া করে এই অধমের জন্যও একটি শব্দ ব্যয় করেছেন, আর সেটি হচ্ছে ‘ইগনোরড’। কী সৌভাগ্য আমার, এত্তো বড়ো চলচ্চিত্রবেত্তা এই অকিঞ্চিৎকর মানুষের জন্য একটি শব্দ ব্যয় করেছেন! অনেক ধন্যবাদ। আমি ইগনোরড হয়ে থাকলাম, সমস্যা নেই। আসলে হয়েছে কি, আপনি আর ফায়েজুর রহমান নাদির জুনাইদের সমালোচনার নামে যে ঔষধ দিচ্ছিলেন সেই ঔষধই আমি কিঞ্চিৎ প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছিলাম। সেটি আপনার শিরঃপীড়া ঘটাল বলে দুঃখিত।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাদির জুনাইদ — নভেম্বর ২৮, ২০১৪ @ ১:১৬ অপরাহ্ন

      সারওয়ার রেজা,

      আপনি নিজে কি কেবল একজন পাঠকের মতো মন্তব্য করেছেন? সৌজন্য রেখে? না আপনি তা করেননি। বরং আমার লেখার বিষয়বস্তু এবং বক্তব্য নিয়ে কোন কথা না বলে, এই চলচ্চিত্র সম্পর্কে আমার সাথে আপনার ভিন্নমতগুলো কি তা যুক্তি দিয়ে উল্লেখ না করে আমাকে জঘন্যভাবে ব্যক্তিআক্রমণ করে কথা বলা শুরু করেছেন। ব্যক্তিআক্রমণ করে কথা বলে তারাই যাদের যু্ক্তি দিয়ে কথা বলার বা যুক্তির গুরুত্ব অনুধাবনের যোগ্যতা নেই। ফলে আপনাকে পাল্টা জবাব দেয়া দরকার ছিল, কেবল সবাইকে বোঝানোর জন্য যে আপনি যেই দিক নিয়ে কথা বলতে এসেছেন সেই দিক সম্পর্কে আপনার কোন ধারণাই নেই। আপনি মানুষকে ব্যক্তিআক্রমণ করেই কেবল কথা বলতে পারবেন।

      আপনি হচ্ছেন তেমন একজন মানুষ যারা নিজেরা পরিশ্রম করে পড়ালেখা করবেন না, সেই মানসিকতা, চেষ্টা আর রুচি আপনার নেই, আর পড়ালেখা করা কাউকে দেখলে হিংসায় জ্বলে উঠবেন। নিজের যে যোগ্যতা নেই অন্যের মাঝে সেই যোগ্যতা দেখলে সহ্য করবেন না। আমার নামে ক্লিক করে আমার পরিচয় দেখা প্রসঙ্গে আপনার মন্তব্য করার মধ্য দিয়েই আপনার এমন হিংসা-বিদ্বেষ ভরা মানসিক গঠন প্রমাণিত। আমি তো আপনাকে আমার নামে ক্লিক করে আমার পরিচয় দেখতে বলিনি। আমি বলেছি আরেকজনকে যিনি চলচ্চিত্র নিয়ে আমার লেখাপড়া করার কথা বলছিলেন। আমি সেই ব্যক্তিকে বলেছিলাম এমন উপদেশ দেয়ার আগে আমি এই বিষয়ে কি লেখাপড়া করেছি তা দেখে নিতে। আমার এই বলা কথা আপনাকে উদ্দেশ্য করে না বললেও তা আপনার শরীরে জ্বালা ধরাচ্ছে কেন? আমি চলচ্চিত্র বিষয়ে লেখাপড়া করেছি বলে আপনি কেন ক্ষিপ্ত হচ্ছেন? আপনার মন হিংসায় আচ্ছন্ন কেবল সেই কারণেই। আপনার আচরণ দেখে তা বুঝতে তো সমস্যা হয় না।

      আর আপনার দু্ইটি মন্তব্যের চেয়ে অসংলগ্ন, অপরিণত কথা আর কে বলেছে এখানে? প্রথম মন্তব্যে লেখাপড়ার চর্চাকেই পুরো বাদ দিলেন, আর যেই আমি কাইয়ে দ্যু সিনেমা আর গদার-ত্রুফোর কথা বললাম তখন আবার তাদের রেফারেন্স টানছেন! আবার বলছেন আগেই তাদের কথা বলতে পারতেন, জ্ঞান (!) জাহির করতে চাননি বলে বলেননি। আপনার জ্ঞান (!) যে কেমন তা তো দেখতেই পাচ্ছি, বরং নিজের ভাসা ভাসা জ্ঞান দিয়ে কথা বলতে যেয়ে চলচ্চিত্র বিষয়ে নিজের অজ্ঞতাই জাহির করলেন। ফরাসি নিউ ওয়েভের এই শীর্ষ ব্যক্তিদের কথা এখন বলছেন যে তারা পড়ালেখার পাশাপাশি ছবি তৈরির কাজও করেছেন। কিন্তু যদি আপনি গদার-ত্রুফোদের এবং কাইয়ে দ্যু সিনেমা সম্পর্কে জানবেনই তাহলে আপনার প্রথমে মন্তব্যে তাত্ত্বিকদের পড়ালেখা করা নিয়ে এতো ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন কেন? তখন কি জানতেন না যে গদার-ত্রুফোরা আগে ক্রিটিক ছিলেন আর পরে ছবি বানিয়েছেন? এই তথ্যটা কি আমি কাল বলার পর ইন্টারনেট চেক করে জানলেন? আমি যে আপনাকে বার বার বলেছি যে পড়েছেন কিনা তার জন্য আপনি নিজেই দায়ী। কারণ আপনার যুক্তিহীন, অসংলগ্ন কথা শুনে কোনভাবেই মনে হয় না যে চলচ্চিত্র সম্পর্কে আপনার কোন ধারণা আছে।

      গদার কতোদিন কেবল লিখেছেন এবং তারপর কবে থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করলেন জানেন? ত্রুফো চলচ্চিত্রকার হওয়ার আগে কতোদিন কি কি লেখালেখি করেছেন? আর সত্যজিতের কথা? ঘটকের কথা? আন্দ্রে বাযার নাম জানেন? এইসব যু্ক্তি তুললে পাল্টা যু্ক্তি দেয়ার ক্ষমতা নেই, আর তখন বলবেন সত্যজিৎ-মিজঅসেন-ওডেসা সিকোয়েন্স আর কতো বলবেন, নতুন কিছু বলুন!! কতোটা অজ্ঞ এবং গভীরতাহীন আপনি তা তো দেখাই যাচ্ছে। মিজঅসেন, মন্টাজ ছাড়া যে ছবি হয় না, আর গুরুত্বপূর্ণ পরিচালকদের উদাহরণ যে সবসময়ই প্রাসঙ্গিক এটা আপনার মতো মানুষের বোঝার কথা নয়। জানেন তো যে অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী? কেবল ইন্টারনেট ঘেটে গদার, ত্রুফো আর কাইয়ে দ্যু সিনেমা নিয়ে দুই চার কথা পড়লে জানার পরিধি আপনার উল্লেখ করা ওই শিশুদের পর্যায়েই থেকে যাবে। তা আর পরিণত হবে না। যা পূর্ণভাবে জানেন না তা নিয়ে কথা বলতে গেলে কেবল নিজের অজ্ঞতাই স্পষ্ট হবে। যেমন হলো আপনার ক্ষেত্রে। মার্কস-লেনিন, চে গেভারা-ক্যাস্ট্রো, শেক্সপীয়ার-রবীন্দ্রনাথ, ব্র্যাডম্যান-পেলে এরাও আগের মানুষ। কিন্তু নতুন কিছু বলার সময়ও এদের রেফারেন্স টেনে আনা হয় বার বার। কেন? আপনার অজ্ঞতা এবং মানসিকতার দীনতা কতোটা ভয়াবহ পর্যায়ে তা তো স্পষ্ট। আপনার নিজের কথাই বার বার তা তুলে ধরছে।

      গদার-ত্রুফো-কাইয়ে দ্যু সিনেমার কথা যদি জানতেন, বুঝতেন তাহলে আর পিঁপড়াবিদ্যার সমালোচনা দেখে এতো ক্ষোভে ফেটে পড়তেন না। বুঝতেন যে এই পিঁপড়াবিদ্যা ধরনের ছবির প্রতি গদার-ত্রুফোর মনোভাব কি ছিল। আর ওযু’র কথা বললেন। শুধু ওযুর নাম উল্লেখ কেন? কেন তার আলোচনা এখানে প্রাসঙ্গিক বোঝান। শুধু ইন্টারনেট ঘেঁটে নাম জেনে তা উল্লেখ করলে তো চলবে না। কিন্তু এটা স্পষ্ট যে আপনার মতো একজন মানুষ কেবল তাই পারে। গভীরে যাওয়ার ক্ষমতা কোথায় আপনার। তার জন্য তো পরিশ্রম করে জানতে হবে। পিঁপড়াবিদ্যার দুর্বলতা এতো বেশি যে তা নিয়ে রিভিউ লিখলে কেবল দুর্বল দিকগুলোই উল্লেখ করা যায়। ক্লাস ওয়ানের ছেলের একটি লেখার ওপর করা রিভিউ আর একটি পিএইচডি থিসিসের রিভিউ কি একরকম হবে? কি বুঝলেন? শুধু ক্যামেরা হাতে থাকলেই চলচ্চিত্র হয় না। সেটা অবশ্য আপনার মতো চলচ্চিত্র বিষয়ে ভালভাবে জানা বাদ দিয়ে কেবল ক্যামেরা নিয়ে মাঠে নেমে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী আর ইন্টারনেট ঘেঁটে অগভীরভাবে কয়েকটি নাম আর ঘটনা জানা মানুষের বোঝার কথা নয়।

      আপনি আমার সমালোচনা দুর্বল বলছেন অথচ কেন দুর্বল তা দুই কমেন্টের একটাতেও বলেননি। বরং আপনার কথা শুরুই করেছেন ব্যক্তিগত আক্রমণ দিয়ে। আপনার উদ্দেশ্যটা কি তা তো স্পষ্ট। উদ্দেশ্য হলো আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা। এই ছবিকে ডিফেন্ড করার, ভাল বলার যুক্তি নেই আপনার। তাই এই ছবিকে যারা সমালোচনা করছে তাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন নির্লজ্জভাবে। আপনার দু্ই মন্তব্য দিয়ে কেবল স্পষ্ট করেছেন নিজের কথার অসংলগ্নতা, নিজের হিংসা, জানার অনাগ্রহ আর ব্যর্থতা, আর যু্ক্তি দিয়ে কথা না বলে অন্যকে শুরু থেকেই ব্যক্তিআক্রমণ করার প্রবণতা।

      আপনার কথা কতো অসংলগ্নতায় ভরা তা তো সবাই দেখতে পাচ্ছে। নিরাকে লিখেছেন, “সবাইকে ছবি বানাতে হবে জরুরী না। তবে নিজেদের ছবিকে ওউন করতে পারাটা জরুরী। ‘পারলে বানিয়ে দেখা দেখি’ টাইপ বালখিল্য তর্কে আমার উৎসাহ নেই।“ আবার আমাকে বলছেন “সুতরাং, আপনাকেও শিগগিরই ক্যামেরা হাতে মাঠে দেখবো, কি বলেন? ফরাসি নিউ ওয়েভের মতো একটা বাংলা নিউ ওয়েভ এবার না ঘটে যায় কোথায়!” আমাকে কেন ছবি বানানোর কথা বলছেন? নিজেই না বললেন সবাইকে ছবি বানাতে হবে তা নয়। কি হাস্যকর রকমের অসংলগ্ন কথা বলেন তাহলে আপনি!! দুই জায়গায় দুইরকম কথা!! হাস্যকর!! গদার-ত্রুফোরা ছবি বানালেও বহু চলচ্চিত্র তাত্বিক যেমন আন্দ্রে বাযা কি ছবি বানিয়েছেন? তাতে করে বাযার গুরুত্ব কি কম গদারদের চেয়ে? আর নিজেদের ছবি দুর্বল হলে তার সমালোচনা বাদ দিয়ে তাকে ওউন করতে হবে কেন? বরং সমালোচনাই দরকার যাতে করে নিজেদের ছবির দুর্বল দিকগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ে এবং তা দূর করার চেষ্টা করা হয়।

      ওপরে মিথুনের কথাই ঠিক। আপনার মতো মানুষদের কানের কাছে পারমাণবিক বোমা ফাটালেও আপনার অবস্থার পরিবর্তন হবে না। আপনি যুক্তি বাদ দিয়ে অন্যকে ব্যক্তিআক্রমণ করার জঘন্য, কুৎসিৎ চর্চা চালিয়ে যাবেন আর অন্যদের অর্জন দেখে হিংসায় জ্বলবেন। আপনার করা দুটি মন্তব্য থেকে সেটা আপনি নিজেই স্পষ্ট করেছেন সবার কাছে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Nira — নভেম্বর ২৮, ২০১৪ @ ২:০৫ অপরাহ্ন

      সারোয়ার রেজা জিমি
      আমি মোটামুটি নিশ্চিতই ছিলাম যে ফারুক সাহেব বা আমার কথাকে আপনি ফলা্ও করে ইগনোরই করবেন। কারণ এ কথাগুলোর প্রেক্ষিতে আপনার (আস্ফালন করা ছাড়া) মূলতঃ বলার কিছুই নেই।

      আপনার কাছে আমার কমেন্ট তো অসংলগ্ন লাগছে। অথচ এ্খানে পিঁপড়াবিদ্যা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে, আপনি সেটা ভুলেই গেছেন বা চলচ্চিত্রটি আপনি ভালো করে দেখেন নাই কারণ আপনার কমেন্ট এর (আস্ফালনে) কোথা্ও পিঁপড়াবিদ্যার কন্টেন্ট নিয়ে কোনে টু’ শব্দটি নেই। আপনি যদি মনে করেন এই মহান চলচ্চিত্রকে (!) ওউন করার স্বপক্ষে আপনার কাছে যথেষ্ট যুক্তি ও রেফারেন্স রয়েছে আপনি সেটা নির্ভয়ে তুলে ধরতে পারতেন। অবশ্য রেফারেন্স-এর কথা বলে আপনাকে আর বিপদে ফেলতে চাই না। কারণ আপনি গুগলে সার্চ করে রেফারেন্স দিতে গিয়ে যথেষ্টই ধরা খেয়েছেন।

      আপনি নিজেই বলছেন, “চলতি বস্তাপচা-অর্ধশিক্ষিত ধারাটির বাইরে কিছু” আবার নিজেই সেটাকে ওউন করার জন্য দেশ ও জাতির প্রতি আহবান জানাচ্ছেন? নাকি মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর সিনেমাগুলো এতোটাই ওউন করেছেন যে সেটা নিয়ে সমালোচনা দেখেই আপনার এতো ক্রোধের সৃষ্টি।

      আপনি বললেন, ‍”কাইয়্যে দ্যু গোষ্ঠিই বরং এর আদর্শ দৃষ্টান্ত যে, ফিল্ম তাত্ত্বিকদের ফিল্মটা কতখানি বুঝতে হয়।” তাহলে আপনি তাত্বিক পড়াশোনার বিরুদ্ধে এতো উঠে পড়ে লেগেছেন কেন?

      আমি আমার কমেন্টে ‘পারলে বানিয়ে দেখা টাইপ’ তর্ক সৃষ্টি করেছি বলে মনে করি না। আর যেহেতু আপনার কোনো ধরনেরই একাডেমিক জ্ঞান নেই (আপনার গুগলসর্বস্ব তথ্যের জাহিরই তার প্রমাণ)। আপনার কাছে অন্যের মত শিশুসুলভই মনে হবে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সারওয়ার রেজা জিমি — নভেম্বর ২৮, ২০১৪ @ ৮:৪০ অপরাহ্ন

      বাহ্! সদলবলে যেভাবে ঝগড়া করতে নেমেছেন, ক্ষান্ত দেয়াটাই চূড়ান্ত সৌজন্য হবে। চলচ্চিত্র সমালোচনার অনুশীলন চালিয়ে যান। একদিন নিশ্চয়ই ভাল লিখতে পারবেন। তদ্দিন প্রিমিয়ার শো-তে আমন্ত্রণ পাওয়া না পাওয়ার রাগ-অনুরাগের হিসেব কষে আরো কিছু অপাঠ্য রিভ্যু উৎপাদন না হয় হলোই। আর সমালোচনার সমালোচনায় শিশুতোষ ক্রোধে হিংসা-বিদ্বেষ বলে চিৎকার করে যেভাবে হাত পা ছোঁড়াছুঁড়ি করা শুরু করেছেন, তাতে আপনাকে স্রেফ আর একটি কথা বলেই ক্ষান্ত দিতে চাই (সহসা এই গুরুত্বপূর্ণ সত্যিটা আপনাকে কেউ বলার সাহস পায়না হয়তো, অ্যাতো ডিগ্রি নিয়ে বসে আছেন যে! বিভাগের ছাত্রদেরও তো সিজিপিএ নিশ্চিত করার দায় আছে)- GROW UP!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফারুক — নভেম্বর ২৮, ২০১৪ @ ১১:০১ অপরাহ্ন

      সারোয়ার রেজা জিমিকে বলছি। নাদির জুনাইদ আর নিরা-র সর্বশেষ প্রতিক্রিয়া (সত্যিই বলছি, তাঁদের প্রতিক্রিয়ার কাঠিন্যে আপনার জন্য মায়াই লেগেছে। ভবিষ্যতে আর গুগলবিদ্যা প্রয়োগ করে তাত্ত্বিক হবার চেষ্টা করবেন না)-র পর আপনি আরও একটি পোস্ট দিয়েছেন। এবং কিমাশ্চর্যৎপুরম! এই সর্বশেষ প্রতিক্রিয়ায়ও আর কিছু না পেয়ে আপনি নাদির জুনাইদকে খুবই বাজেভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। নইলে ‘তদ্দিন প্রিমিয়ার শো-তে আমন্ত্রণ পাওয়া না পাওয়ার রাগ-অনুরাগের হিসেব কষে’ জাতীয় একেবারেই নিম্নশ্রেণীর মন্তব্যটি করতেন না। এটি তো আপনার মানসিক বৈকল্যের (নাদির জুনাইদের ভাষায় হিংসা বিদ্বেষ)-এর প্রকৃৃষ্টতম উদাহরণ। মহাচলচ্চিত্রকার সরয়ার ফারুকির ভক্তরা বোধ করি এমনই হয়। কী আর করা যাবে!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাদির জুনাইদ — নভেম্বর ২৮, ২০১৪ @ ১১:২২ অপরাহ্ন

      আরো একটা মন্তব্য সারওয়ার রেজার কাছ থেকে, এবং এবারও আমাদের যুক্তির বিপরীতে একটি যু্ক্তিও তুলে না ধরে কেবলই ব্যক্তিগত আক্রমণ, এবং এবার তার ভাষা হয়ে উঠেছে আরো কুৎসিৎ, আরো জঘন্য। ঝগড়া তো কেউ করছে না এখানে সারওয়ার রেজা। এই লেখায় প্রথম ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলা শুরু করেছেন আপনি। আর তার পর আপনাকে যখন জবাব দেয়া শুরু হলো তখন একটিবারের জন্যও আমাদের কারো যুক্তির জবাব দিতে না পেরে চলচ্চিত্র বিষয়ে নিজের অজ্ঞতা তো স্পষ্ট করেছেনই, সাথে সাথে নিজের কদর্যতার প্রমাণ রাখতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে আপনার ব্যক্তিগত আক্রমণ। শুধু আমাকে না, অন্য সবাইকেও।

      ক্ষান্ত দেবেন কেন? যদি যুক্তি দিয়ে কথা বলতে পারেন তো কথা বলুন। যতো পারুন বলুন। যৌক্তিক আলোচনা করতে রুচিশীল মানুষদের সবসময়ই আগ্রহ থাকবে। কিন্তু আপনি ক্ষান্ত দিচ্ছেন কারণ এখানে আপনার জঘন্য ব্যক্তিগত আক্রমণের বিরুদ্ধে যারা কথা বলছেন তাঁদের যৌক্তিক কথার বিপরীতে পাল্টা যুক্তি দেয়ার যোগ্যতা আর সামর্থ্য আপনার নেই। তাই ক্ষান্ত দিচ্ছেন, আর চলে যাওয়ার আগে আবার দেখাচ্ছেন যে একমাত্র ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেই এখানে এসেছিলেন আর আপনার সব কটি মন্তব্যে কেবল তাই করে গেলেন।

      বার বার আপনার কথার ভুল চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার পরও আপনি বলছেন যে আমি “শিশুতোষ ক্রোধ” দেখাচ্ছি। শিশুতোষ ক্রোধ দেখালে তো আর ধৈর্য ধরে বহু উদাহরণ দিয়ে আপনার ভুলগুলো দেখাতাম না, বরং কোন যু্ক্তি বাদ দিয়ে আপনাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতাম। তা যে করিনি তা তো আমার মন্তব্যেই সবাই দেখতে পাবে। আর আমাকে grow up বলার পরিবর্তে বরং দেখুন নিজেকে যেভাবে খেলো আর হালকা করে গেলেন এখানে আপনার জঘন্য ব্যক্তিগত আক্রমণ আর কুৎসিৎ সব ইঙ্গিতের মধ্য দিয়ে, নিজের সেই কদর্যতা দূর করতে পারেন কিনা। আর আমার বিভাগের ছাত্রদের নিয়ে যে অসম্ভব বাজে ইঙ্গিত করে গেলেন আপনার শেষ মন্তব্যে তাতে আমি বলবো আপনি নিজে হয়তো অন্য সবাইকে আপনার মতো নীচু স্তরের মানুষ ভাবেন, কিন্তু সৌভাগ্য যে সবাই আপনার মতো নীচু স্তরের মানুষ না।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Nira — নভেম্বর ২৮, ২০১৪ @ ১১:৫৮ অপরাহ্ন

      সারোয়ার রেজা জিমি
      আবারও সেই একই ধাঁচের ব্যক্তিগত আক্রমণ!! লেখক তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে কি পেল আর না পেল তা নিয়ে আপনার এতো মাথাব্যথা কেন?এতোগুলো পাঠক এখানে কমেন্ট করলো কেউ তো আপনার মতো টপিকের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত রাগ ঝাড়তে আসেনি। আর আপনি কি করে জেনে বসে থাকলেন যে সিজিপিএর জন্য লেখকের ছাত্র-ছাত্রীরাই এখানে তার পক্ষ নিয়ে সদলবলে ঝাঁপিয়ে পড়েছে? একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে যেকেউই স্যার বলে সম্বোধন করতে পারে। এজন্য আপনি সবাইকে তার সিজিপিএপ্রার্থী বলে জেনারালাইজ করে ফেললেন? আপনার মুর্খতা ও অন্তসারশূণতার সাথে সাথে আপনার বিচারবুদ্ধি দেখে বিরক্ত হচ্ছি।
      লেখকের রিভিউ যদি অপাঠ্য হয় তাহলে আপনার ভাষ্যমতে দুই একটা পাঠযোগ্য রিভিউ-এর রেফারেন্স অন্তত দিতে পারতেন। অবশ্য আপনার কাছে রেফারেন্স প্রত্যাশা করাটা নিজের কাছেই হাস্যকর লাগছে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজীব — নভেম্বর ২৯, ২০১৪ @ ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

      @ সারওয়ার রেজা জিমি আপনি বার বার অপ্রাসঙ্গিক কথা কেন বলছেন? লেখক পিঁপড়াবিদ্যার বিভিন্ন দিক নিয়ে সমালোচনা করেছেন। বলাবাহুল্য লেখক প্রতিটা পয়েন্ট যুক্তি দিয়ে, কারন দিয়ে বিশ্লেষন করেছেন। লেখার কোথাও ফারুকী বা অন্য কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন নি।
      সিনেমা নিয়ে সমালোচনা লেখা পৃথিবীর সবদেশেই বহু আগে থেকে চলে আসছে। সুতরাং লেখক নতুন কিছু করেননি, তিনিও সমালোচনা করেছেন। সমালোচনার প্রতি-সমালোচনা থাকতেই পারে। লেখকের সাথে আপনার দ্বিমত থাকতেই পারে। দ্বিমত থাকলে লেখক যেই যেই পয়েন্ট নিয়ে সমালোচনা করেছেন সেগুলো ভিন্ন দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা করুন। এই সিনেমার কোন কোন দিক আপনার কাছে শিল্পসম্মত মনে হয়েছে সেগুলোও বলুন। আমরা যারা পাঠক তারাও অনেক কিছু শিখতে পারতাম তাহলে।
      কিন্তু সেসব কিছু না করে আপনি সরাসরি লেখকের সমালোচনা শুরু করলেন, তাও আবার কুৎসিত ভাষায়, যুক্তিহীন ভাবে। পরিশেষে কোন রকমের যুক্তির ধার না ধেরে লেখককেই বলে বসলেন – Grow Up! কি অদ্ভুত!
      আপনি বরং যুক্তি দিয়ে কথা বলা শিখুন, সমালোচনার প্রতি-সমালোচনা কিভাবে করতে হয় সেটা শিখুন। তারপর পাবলিক ডোমেইনে কথা বলতে আসুন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রবিন বোস — নভেম্বর ২৯, ২০১৪ @ ১:১৯ পূর্বাহ্ন

      আপনার অনেক কথার সাথেই একমত। কিন্তু ক্যামেরা স্থির রাখা নিয়ে দেয়া যুক্তিটা দুর্বল। প্রাসঙ্গিকভাবেই এখানে ওজু এসে যায়। কেন এসে যায় সেটা আমার ধারণা আমার চেয়ে আপনি ভালো জানেন।

      পড়তে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে গেলাম, দৈর্ঘ্যটা একটু বেশি হয়ে গেছে।

      বাংলাদেশে একাডেমিক অ্যাপ্রোচ নিয়ে কেউ রিভিউ করছে সেটাই অনেক কিছু। আশা করি নিয়মিত লিখবেন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাদির জুনাইদ — নভেম্বর ২৯, ২০১৪ @ ১:৫৮ পূর্বাহ্ন

      রবিন বোস,

      অনেক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। ওযু’র ছবিতে বার বার দেখতে পাওয়া ট্রেডমার্ক স্থির লংশটগুলি, বা অ্যানতোনিওনি এবং কখনো আইজেনস্টাইনের ছবিতে ব্যবহার করা স্থির শটগুলি কিন্তু তাদের ছবির নির্দিষ্ট ভাষা হয়ে উঠেছিল। দর্শককে এই শটগুলি বোঝাতে সক্ষম হয়েছিল যে বিশেষ একটি দিকে দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য, এবং একই সাথে নান্দনিকতা তুলে ধরা এবং কোন নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ ইনফরমেশন দেয়ার জন্য পরিচালক সচেতনভাবে লম্বা সময় ধরে এই স্থির শটগুলি ব্যবহার করছেন।

      কিন্তু পিঁপড়াবিদ্যায় তো সেরকম কোন সচেতন স্থির শটের ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায় না যা একটি বিশেষ স্টাইলিসটিক দিক হয়ে উঠেছে এবং সেই সাথে কোন নির্দিষ্ট তথ্যও দিচ্ছে। এখানে চোখে পড়ে ক্যামেরার সাদামাটা অবস্থান। নান্দনিক উৎকর্ষ আনার মতো ক্যামেরা মুভমেন্ট, ক্যামেরা অ্যাঙ্গল, ভিন্ন ফ্রেমিং কিছুই দেখা যায় না। সব একই ধরনের শট। এতো সাদামাটা আর ভাবনাহীন গতানুগতিক শট ছবিটিকে ভিশুয়ালি-ইন্টারেস্টিং করে না, তৈরি হয় না কোন অর্থও। পিঁপড়াবিদ্যায় ক্যামেরার স্থিরতা তাই দৃশ্যগুলোকে গতিময় আর আর আকর্ষণীয় করতে ব্যর্থ। আমার রিভিউতে আমি এই দিকটিই বলেছি।

      আবারো ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন aminul islam — নভেম্বর ৩০, ২০১৪ @ ১:০৭ অপরাহ্ন

      prothom ami vebe chilam pipra bidda chinema ti hazar bosor dhore, monpura, srabon megher dine, daruchini dip, ai dhoroner valo betikrom dhormi hobe & valo maner hobe, kintu chinema hole gia pipra bidda dekhey monta kharap hoe gelo, amar kase akdom baje legese.
      valo lage nai.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Ahsan — december ১, ২০১৪ @ ১২:২৬ পূর্বাহ্ন

      onke boro lekha & comments. porte onk kosto hocchilo but soilpik vabe, geyan diye kivabe murkhota ke jobab deya jay ta sikhlam. & murkher asfalon kotota sotto biborjito, mittha, ohongkar r hingsay vora thake tar proman abaro pelam. geyani r murkher porichoy ei comments gulor maddhomey alo-r-ondhokarer moto poriskar.
      Dhonnobad vai-beradar der, ami apnader moto cinema eto bujhi na, but apnader moto common sense chara murkho lok je Bangladesh-a 10% er kom seita bujhi. apnader ninmo maner ruchi, sahitto bodh, totha kothito bastobota bodh, film er bepare base chara Zero level Google marka academic geyan diye camera niye neme porar obostha sobar samne tule dhore mone mone afsos korar jonno. RIP vai-beradar gon.
      Dhonnobad accademic & gothon mulok somalochona karider.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন — december ১, ২০১৪ @ ৯:৩৮ পূর্বাহ্ন

      ধন্যবাদ নাহিদ জুনাইদ ভাই, আপনার লেখাটা পড়ে খুব ভালো লাগলো। অনেক দিকনির্দেশনা আছে এতে এবং পরবর্তীতে উনার করা কমেন্টে। আমি ফারুকী ভাইয়ের একজন ভক্ত। আমার মনে হয় এই লেখা এবং কমেন্টগুলো পড়ে ফারুকী ভাইও এতটা প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না যতটা কেউ কেউ দেখিয়েছেন। কারন চলচ্চিত্র প্রতি, এই দেশের প্রতি, যুবসমাজের প্রতি তার অসীম ভালোবাসা রয়েছে। তিনি বরং এই লেখা থেকে নিজের উপলব্দিকে আরও সমৃদ্ধ করবেন। তার বিভিন্ন সাক্ষাৎকার দেখে আমার তাই মনে হয়েছে। নিঃসন্দেহে বর্তমান সময়ে যেসব চলচিত্র আমাদের দেশে তৈরী হয় সেগুলোর মধ্যে ফারুকী ভাইয়ের গুলোই শ্রেষ্ঠ। তিনি চলচিত্রকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন এটাই আমরা আশা করি উনার থেকে। আর নাহিদ জুনাইয়েদ ভাই এভাবেই বিভিন্ন অসংগতীগুলো তুলে ধরে ফারুকী ভাইয়ের চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবেন এবং আমি এই আশাও করি কোনো একদিন তিনি নিজে পরিচালনায় আসবেন আমদের চলচিত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাদির জুনাইদ — december ১, ২০১৪ @ ৮:৩০ অপরাহ্ন

      আহসান,
      আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাদির জুনাইদ — december ১, ২০১৪ @ ৮:৩৫ অপরাহ্ন

      মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন,

      আপনাকেও ধন্যবাদ।
      আর আমার ফার্স্ট নেম কিন্তু নাদির, “নাহিদ” না :-)

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সৈয়দ আজিজুল হক — december ১, ২০১৪ @ ৯:২০ অপরাহ্ন

      নাদির জুনাইদ, ইংরেজি বলার ভুলটি আপনি প্রাসঙ্গিক একটি অসঙ্গতি হিসেবে তুলে ধরেছেন। আপনার কাছে সবিনয়ে একটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। “মিঠু আর রীমার এমন মানসিকতার জন্য কি কি কারণ দায়ী পরিচালকের তা বিশ্লেষণ করা জরুরি ছিল।”; “সেটা কি অর্থ তুলে ধরলো তা ভাবুন।”; “ত্রুফো চলচ্চিত্রকার হওয়ার আগে কতোদিন কি কি লেখালেখি করেছেন?”- আপনার এইরকম লেখাগুলোতে লক্ষ্য করেছি আপনি ‘কি’ আর ‘কী’ এর পার্থক্য সম্পর্কে সচেতন নন। আপনি ‘শেক্সপীয়ার’ শব্দটি লেখার কারণে বুঝলাম আপনি বিদেশি শব্দের বানানের ক্ষেত্রে সতর্ক নন। যত দূর জানি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম সেমিস্টারেই বাংলা ভাষার বানানরীতি সম্পর্কে পড়ানো হয়। আপনি সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই বিভাগটির শিক্ষক বলে আপনার কাছ থেকে এই বানানগুলোর ভুল একেবারেই অনাকাঙ্খিত এবং এই বিষয়ে আপনার পরিপূর্ণ সচেতনতা আমাদের কাম্য। আপনার উত্তোরত্তর সাফল্য কামনা করি।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন shaila — december ১, ২০১৪ @ ১০:২৮ অপরাহ্ন

      OMG, I just read the profile of Mr. Junyed. What a scholar he is!!!!! I just wonder about the stupid courage of some idiots who have attacked Mr. Junayed personally and judged his review without any scholarly or academic background. Feels like a patients knows better than a surgeon. I am a movie lover and by profession, I am a doctor. If any one has to challenge my work, s/he mus have to be equally qualified or better than me. I will never accept anybodies criticism unless it is worthy. I have to thank Mr. Junayed again for his patience and hope to read more reviews from other movies, at least we, the movie lovers can learn something from him.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাদির জুনাইদ — december ২, ২০১৪ @ ১:২৫ পূর্বাহ্ন

      জনাব সৈয়দ আজিজুল হক,

      আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই ‍’কি’ আর ‘কী’ লেখার ক্ষেত্রে আমার ভুুলগুলো নির্দেশ করার জন্য। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, ‘কি’ আর ‘কী’ লেখার ক্ষেত্রে আমি প্রায়ই ভুল করে ফেলি। হয়তো এই পার্থক্যটি পরিপূর্ণভাবে আমি এখনো বুঝে উঠতে পারিনি। তবে এই ব্যাপারে যেন সামনের দিনগুলোতে আমার আর ভুল না হয় সেই ব্যাপারে আমি সচেতন থাকবো।

      আপনার মন্তব্য থেকে বুঝতে পারছি Shakespeare বাংলায় আমি যে ‘শেক্সপীয়ার’ লিখেছি তা সঠিক হয়নি। হয়তো ‘শেক্সপিয়ার’ লিখলে তা সঠিক হতো? কোন্ বানানটি সঠিক আমি তা জানার চেষ্টা করবো।

      আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ছিলাম তখন আমাদের বিভাগে বাংলা ভাষার বানানরীতি সংক্রান্ত যে কোর্সটির কথা আপনি উল্লেখ করলেন সেটি ছিল না। এই কোর্সটি আরো পরে শুরু হয়েছে। যদি আমাদের সময়ে এই কোর্সটি থাকতো তাহলে হয়তো ‘কি’ আর ‘কী’ লেখার ক্ষেত্রে পার্থক্য সম্পর্কে আমার ধারণা এবং সচেতনতা আরো অনেক আগেই তৈরি হতো।

      আপনাকে আবারও অনেক ধন্যবাদ জানাই এই দুটি বাংলা বানানের ব্যাপারে আমার ভুলগুলো উল্লেখ করে আমার উপকার করার জন্য। আপনার শুভকামনার জন্যও অনেক ধন্যবাদ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাদির জুনাইদ — december ২, ২০১৪ @ ২:১৩ পূর্বাহ্ন

      Shaila,

      Many thanks for your kind words.

      I fully agree with your opinions. We know it’s difficult to reason with them who are unwilling to acquire knowledge and appreciate sensible argument and thought. Still, I kept my patience and wrote long replies only to expose their shallowness and sheer aversion to gaining critical and solid understanding of Cinema. The replies I received also revealed how one of them ignored the importance of using logic and maintaining a discussion with civility.

      I am very glad to see your interest in reading film reviews. At the beginning of last month, I wrote another film review which was published in the Arts page of BDNews24. I am giving you the link. You may take a look at the review when you have time.
      http://arts.bdnews24.com/?p=6180

      Thank you again.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Choton — december ২, ২০১৪ @ ৯:৫৩ পূর্বাহ্ন

      Hats off to the writer for his constructive comments and after coming out from typical vulgarism, BD movies are moving towards modern vulgarism. Faroqui and his brothers only shows how a man see a woman as his respectful manner. They don’t know anything about film making, they are like Nai desh e bharon brikho.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Farid — december ২, ২০১৪ @ ২:০৭ অপরাহ্ন

      Ami cinema ta dekhte giechialam, kinto hotash hoiechi. Eto boaring, disgusting cinema ar dekhni.
      Erokom cinema jate manush taka die na dheke.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফারুক — december ২, ২০১৪ @ ৮:৩৩ অপরাহ্ন

      নাদির জুনাইদ-এর এই লেখা প্রসঙ্গে এটি আমার চতুর্থ কমেন্ট। এর আগে আর কোনো লেখায় আমি এত কমেন্ট করিনি। এবারের কমেন্টটা করছি জনাব সৈয়দ আজিজুল হক সাহেবের লেখার প্রতিক্রিয়ায়। ‘কি’ আর ‘কী’-এর পার্থক্য সম্বন্ধে নাদির জুনাইদের অসতর্কতার ব্যাপারটি হালকাভাবে উল্লেখ করে থেমে গেলেই চলত, কিন্তু ‘সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম সেমিস্টারে এটি পড়ানো হয়’ জাতীয় জ্ঞানদান অনাবশ্যক মনে হযেছে। আর শেক্সপীয়ার বানানটিও শতকরা নব্বই ভাগ বাঙালি এভাবেই লেখে। এখানে বিশাল কোনো প্রমাদ ঘটে গেছে বলেও মনে হয় না। মজার ব্যাপার হচ্ছে, বাংলা বানানের ব্যাপারে এত সচেতন সৈয়দ আজিজুল হক সাহেব নিজেই শেষ বাক্যটিতে ‘উত্তরোত্তর’ কথাটিকে লিখেছেন ‘উত্তোরত্তর’ – যা ‘কী/কি’ এবং ‘শেক্সপীয়ার’-এর চেয়েও অনেক গুরুতর প্রমাদ নিঃসন্দেহে। ভাল লাগল, সৈয়দ আজিজুল হক-এর এই ‘প্রায়-অপ্রয়োজনীয়’ সমালোচনার বিপরীতেও নাদির জুনাইদ যথেষ্ট ভদ্রতা আর সৌজন্য রেখে জবাব দিয়েছেন, যা তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরেকটু বাড়াল। নাদির জুনাইদ সাহেব, আমিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন শিক্ষক, আপনার সহকর্মী, যদিও ভিন্ন অনুষদের। হয়ত একদিন আপনার সাথে মুখোমুখি পরিচিত হব! … শেষে বলি, যদি কোনো প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিয়ে দেয়া যায় তাহলে ‘কি’ শব্দটি ব্যবহৃত হবে, আর অন্য সব ক্ষেত্রে ‘কী’ হবে। আমি মোটামুটি এভাবেই জানি, জানায় ভুলও থাকতে পারে। বাংলা বিষয়ে কোনো বিশেষজ্ঞ আরও সূক্ষ্ম নিয়ম তুলে ধরতে পারবেন হয়ত।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন — december ৩, ২০১৪ @ ১২:০৯ পূর্বাহ্ন

      নাম ভুল লিখার জন্য দুঃখিত। আপনার নিকট আমি যেটা আশা করছি সেটা কি বাস্তবে ঘটার সম্ভাবনা আছে? অররথাত আপনি ভবিষ্যতে পরিচালনায় আসবেন?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাদির জুনাইদ — december ৩, ২০১৪ @ ১২:৩৪ অপরাহ্ন

      ফারুক সাহেব, অনেক ধন্যবাদ। জেনে খুব ভাল লাগছে যে আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সহকর্মী। এখানে দেখতে পাওয়া কয়েকটি যুক্তিহীন এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ-সর্বস্ব মন্তব্যগুলোর বিপরীতে আপনার তীক্ষ্ণ এবং কঠোর সমালোচনা ছিল মোক্ষম। যু্ক্তিহীনভাবে এবং নোংরাভাবে কথা বলা মানুষদের কথার অন্তঃসারশূন্যতা স্পষ্ট করে দেয়ার জন্য তাদের কঠোরভাবেই জবাব দিতে হয়। আপনার কড়া এবং যুক্তিনির্ভর সমালোচনা সবার সামনে তাদের অন্তঃসারশূন্যতাই তুলে ধরেছে। ‘কি’ আর ‘কী’-এর পার্থক্যটি আমাকে জানানোর জন্য ধন্যবাদ। আশা করি দ্রুতই আপনার সাথে আমার সামনাসামনি দেখা হবে।

      সৈয়দ আজিজুল হক আমার লেখায় “কি/কী” সংক্রান্ত বানানের ভুল উল্লেখ করেছেন, কিন্তু পার্থক্যটি কখন কিভাবে করা হয় তা বলে দেননি। এখানে একটি ইন্টারেস্টিং বিষয় উল্লেখ করতে চাই। সৈয়দ আজিজুল হক আমাদের ডিপার্টমেন্টে বাংলা বানানরীতি সংক্রান্ত যে কোর্সটির কথা উল্লেখ করেছেন, সেই কোর্সটি স্বাভাবিকভাবেই আমাদের বিভাগের কোন শিক্ষক পড়ান না। সেটি পড়ানোর জন্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের একজন শিক্ষককে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে আনা হয়। গত বেশ ক’বছর ধরে আমাদের বিভাগে এই কোর্সটি পড়াচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক।

      আমার লেখায় করা এই মন্তব্যে সৈয়দ আজিজুল হক নাম দেখে এবং তিনি যখন আমাদের এই কোর্সটির কথাও উল্লেখ করেছেন, স্বাভাবিকভাবেই তাই মনে হয় হয়তো অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হকই এই মন্তব্যটি করেছেন। তাই আমি গতকাল অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হকের সাথে এই ব্যাপারে কথা বলি। কিন্তু অধ্যাপক হক আমাকে জানিয়েছেন এই মন্তব্য করা তো দূরের কথা, আমার লেখাটিও তিনি পড়েননি এখনো। তিনি এও জানালেন যদি আমার লেখা পড়ে তিনি আমাকে কোন কথা জানাতে চাইতেন তাহলে আমার সাথে সরাসরিই কথা বলতেন।

      এখানে মন্তব্যে বাংলা বানান নিয়ে কথা, আমাদের বিভাগের বাংলা লেখা সংক্রান্ত কোর্সের কথা, আর মন্তব্যকারীর নাম অন্য আর কোন নাম না হয়ে হলো সৈয়দ আজিজুল হক, শুধুই কাকতালীয় ব্যাপার বলে মনে হয়? আমি অস্বীকার করবো না যে আমার কাছে এই ব্যাপারটিকে কেবলই কাকতালীয় বলে মনে হচ্ছে না, আমার মনে একটা খটকা থেকে যাচ্ছে। যদিও আমার কাছে প্রমাণ নেই (এবং আমি বলছিও না যে এমনই ঘটেছে) কিন্তু এমন তো হতেই পারে যে অন্য কোন ব্যক্তি এই কোর্সটির নাম উল্লেখ করে এই কোর্সের শিক্ষকের নাম নিয়ে মন্তব্য করলেন। যদি কেউ এই মন্তব্যে এই কোর্সের নাম দেখে এবং মন্তব্যকারীর নাম সৈয়দ আজিজুল হক দেখে ভাবেন যে এই মন্তব্য অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হকেরই করা তখন তারা এও ভাবতে পারেন যে অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক বাংলা বানান নিয়ে কথা বলে নিজেই উত্তরোত্তর এর বানান ভুল করে লেখেন “উত্তোরত্তর!!” কিন্তু কথা হলো অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক এখানে এই মন্তব্যটি করেননি।

      এখানে বানানের শুদ্ধত্ব নিয়ে মন্তব্য করা সৈয়দ আজিজুল হকের নিজের মন্তব্যেই “উত্তোরত্তর” এমন ভুল একটি বানান আমার দৃষ্টি এড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ফারুক সাহেবের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তা ঠিকই ধরা পড়েছে। ফারুক সাহেবকে সাধুবাদ জানাই।

      মন্তব্যকারী সৈয়দ আজিজুল হক হয়তো বলবেন যে তিনি সঠিক বানান জানেন, ভুল করে ভুল করেছেন। সেটাই, বানানের ভুল হতেই পারে। কিন্তু সেটা কোন্ পর্যায়ের ভুল এবং কতোটা গুরুতর তা দেখতে হবে। গতকাল আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব বিভাগের একজন অধ্যাপকের সাথে আমার এই লেখার কয়েকটি ক্ষেত্রে “কি/কী” এর সঠিক ব্যবহার প্রসঙ্গে আলোচনা করছিলাম তখন “সেটা কি অর্থ তুলে ধরলো তা ভাবুন” আমার লেখা এই বাক্যটির ক্ষেত্রে বাংলা বানানের একজন বিশেষজ্ঞ হওয়ার পরও তাঁকে কিছুক্ষণ ভাবতে হয়েছিল “কি/কী” এর সঠিক ব্যবহার প্রসঙ্গে। কাজেই আমি দেখলাম “কি/কী”-এর পার্থক্য নিয়ে কখনো বাংলা ভাষার একজন শিক্ষকও কিছুুটা বিভ্রান্তিতে পড়তে পারেন। আমার লেখায় আমি “শেক্সপিয়ার” না লিখে “শেক্সপীয়ার” লিখেছি, মনে করিয়ে দিতে চাই বাংলা একাডেমি কি দীর্ঘদিন “বাংলা একাডেমী” লেখা হয়নি? শুদ্ধ, সঠিক বানান একজন লিখবে তা অবশ্যই প্রত্যাশিত। কিন্তু ভুল বানান যদি দেখা যায় তা কতোখানি গুরুতর ভুল সেটাও যেমন সমালোচনা করার আগে ভেবে দেখা দরকার, তেমনি এটাও ভাবা দরকার যে কিছু ভুল/শুদ্ধের পার্থক্য বোঝা অতোটা সহজ নয়, এবং কিছু ক্ষেত্রে ভুল হয়ে যেতেই পারে যেমন বানানের শুদ্ধত্ব নিয়ে কথা বলার পরও মন্তব্যকারী সৈয়দ আজিজুল হকের লেখায় “উত্তোরত্তর” এমন ভুল একটি বানানের উপস্থিতি।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Nira — december ৩, ২০১৪ @ ১:৩৫ অপরাহ্ন

      সৈয়দ আজিজুল হক-এর মন্তব্য পড়ে আমার মনে হলো তিনি আতশ কাঁচ দিয়ে যেন পুরো লেখাটি পড়ে দুটো বানান ভুল (ভুল বলাটা ঠিক না কারণ গুরুতর ভুল ঠিক নয়, কি এবং কী এর ব্যবহারে খুব বেশি পার্থক্য নেই বলে আমার ধারণা। “ত্রুফো চলচ্চিত্রকার হওয়ার আগে কতোদিন কি কি লেখালেখি করেছেন?” এই অংশটিতে ‌’কি’ এর ব্যবহার সঠিক রয়েছে কারণ যে কোনো সংশয়সূচক বা প্রশ্নবোধক শব্দে ই’ কার বসতে পারে বলে আমি জানি) বের করেছেন| আর এই বিষয়টি মন্তব্য করে বলার মতো আদৌ কি গুরুত্বপূর্ণ! এছাড়া্ও আরো প্রাসঙ্গিক বিষয় হয়ত মন্তব্যে আসতে পারত। বিশেষ করে এখানে ‘পিঁপড়াবিদ্যা’ চলচ্চিত্র নিয়ে যেহেতু আলোচনা হচ্ছে সেখানে বানানের খুব সামান্য অসংগতি মন্তব্য করে ‘অনাকাঙ্খিত’ বলে প্রতিষ্ঠিত করার তো কোনো দরকার নেই।

      ভুল ধরা ও তাই নিয়ে মন্তব্য করে লেখকের দুর্বলতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা যদি থাকে তাহলে সেটি অনেকভাবেই করা সম্ভব। খুব সামান্য টাইপিং মিসটেক দিয়েও তুলে ধরা যায়। ছোটখাটো ভুল না ধরে কন্টেন্ট বা অডিয়েন্স রিএ্যাকশন সংশ্লিষ্ট মত যদি মন্তব্যগুলোতে আরও আসতো তাহলে মন্তব্যগুলো পড়তেও ভালো লাগতো আর অনেক অজানা দিকগুলোও জানা হতো।

      আর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগসহ কলা অনুষদের অনেক বিভাগেই বাংলাভাষারীতির কোর্সটি রয়েছে। খুব সম্ভবত কলা অনুষদের সবগুলো বিভাগেই এই কোর্সটি রয়েছে। আর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ কলা অনুষদ থেকে সমাজিক বিজ্ঞান অনুষদের আ্ওতায় নিয়ে আসার পর এই বিভাগের শিক্ষকদের উদ্যোগেই বাংলাভাষারীতি কোর্সটি বহাল রাখা হয় বলেই আমি জানতাম। সুতরাং এ বিভাগের শিক্ষকদের প্রমিত ভাষারীতি নিয়ে যে কোনোধরনের উদাসীনতা আছে বলে মনে করি না।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাদির জুনাইদ — december ৩, ২০১৪ @ ১:৫৪ অপরাহ্ন

      মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন,

      ফিল্ম স্টাডিজে মাস্টার্স এবং পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণের ব্যবহারিক দিক নিয়েও আমার প্রশিক্ষণ নেয়া আছে। তাই চলচ্চিত্র নির্মাণে কখনো আগ্রহী হতেও পারি। সেটা সময়ই বলে দেবে।

      তবে চলচ্চিত্র এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার শিক্ষক হিসেবে গত প্রায় পনেরো বছর ধরে আমি লক্ষ্য করছি আমাদের দেশে ফিল্মমেকার হওয়ার প্রতি মানুষের যতো আগ্রহ ফিল্ম স্কলার হওয়ার প্রতি তার অর্ধেক আগ্রহও মানুষের নেই। কিন্তু কোন সমাজে চলচ্চিত্র বিষয়ে অ্যাকাডেমিক জ্ঞানসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ না থাকলে সেই সমাজে চলচ্চিত্র বিষয়ে সিরিয়াস আলোচনা এবং সমালোচনার ধারা কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। চলচ্চিত্রকারদের পক্ষেও নিজেদের কাজের দুর্বল দিক সম্পর্ক সচেতন হওয়ার সুযোগ থাকে না। আর চলচ্চিত্র বিষয়ে অ্যাকাডেমিক নির্দেশনা ও আলোচনা চলচ্চিত্রের নান্দনিকতার ধারণার এবং সমাজ ও রাজনীতি সচেতন টেক্সট হিসেবে চলচ্চিত্রের গুরুত্বের জন্যই প্রয়োজনীয়।

      যেহেতু বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের অ্যাকাডেমিক চর্চার দিকটি খুব বেশি অবহেলিত এবং এই দেশে চলচ্চিত্র বিষয়ে উচ্চতর অ্যাকাডেমিক ডিগ্রী অর্জন করা মানুষের সংখ্যা হাতে গোণা কয়েকজন, তাই আমি এই মুহুর্তে ফিল্ম স্কলার হিসেবেই আমার দায়িত্ব পালন করতে চাই। দেখা যাক পরবর্তীতে কখনো চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী হই কিনা।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফারুক — december ৩, ২০১৪ @ ৬:১৭ অপরাহ্ন

      জনাব নাদির জুনাইদ, আপনার সুশোভন মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। সৈয়দ আজিজুল হক নামটি দেখে খটকা আমারও লেগেছিল। স্যারকে যতটুকু চিনি তাতে মনে হয়নি, সামান্য ‘কি/কী’ আর ‘শেক্সপীয়ার’ বানান নিয়ে তিনি এখানে মন্তব্য লিখে বসবেন। কাজেই ধরে নিয়েছিলাম যে, এই সৈয়দ সাহেব অন্য কেউ, যদিও নামের মিলটা আমার কাছেও নেহাৎ কাকতালীয় মনে হয়নি! এ প্রসঙ্গে নীরা-র মন্তব্যই সঠিক। বানানের এসব অতি সামান্য অসঙ্গতির চেয়েও মন্তব্য করার মত আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার আপনার লেখায় ছিল। সৈয়দ আজিজুল হক সাহেব যেহেতু তা করেননি সেহেতু বোঝাই যায়, স্রেফ সমালোচনার জন্য সমালোচনাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। চমৎকার গোছানো মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ নীরাকেও। ভাল থাকবেন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Nira — december ৪, ২০১৪ @ ১২:১১ অপরাহ্ন

      Mr. Faruk Thanks for your kind words. I like your every logical and objective comments too as well as your criticism against unethical personal attack against Dr. Junaid on this comment thread.

      Best Regards
      Nira

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Rasel — মে ১৪, ২০১৫ @ ২:৫৬ পূর্বাহ্ন

      উপরের কমেন্ট পড়ে মাথা খারাপ হয়ে গেল । তবে আমি নাদির জুনায়েদ ভাইয়ের সাথে একমত কারন ছবিটি আমার মোটেও ভাল লাগেনি । জাস্ট ফাউ সময় কাটল ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পরাজিত মধ্যবিত্তের একজন — জুন ১১, ২০১৬ @ ১১:০৬ অপরাহ্ন

      ফারুকীয় চলচ্চিত্র রিভিউয়ের উপযুক্ত নয়। যদিও আমাদের সমাজে ফারুকীকে নিয়ে নির্বোধদের নাচানাচির পরিপ্রেক্ষিত এই রিভিউকে স্বাগত জানাই। অন্তত অখাদ্যকে অমৃতভেবে গেলা দর্শকদের বোঝানো দরকার যে, সেগুলো অমৃত নয়, আসলে ‘গু’। গুয়ের জন্য হাজার পুরস্কার পেলেও গু গুই থেকে যায়। রিভিউটি পড়ে ফারুকী ভক্তদের অনেকের বদহজম হয়েছে। তাই তারা মন্তব্যে বমি উগড়ে দিচ্ছেন। ছবিটি দেখারও প্রয়োজন বোধ হয়নি। ফারুকীয় চলচ্চিত্রের মায়ের সঙ্গে সঙ্গম করার বাসনা জানাই। (ভদ্দরনোকেরা, আমি কিন্তু আপনাদের রুচির কথা বিবেচনা করে কোনো খারাপ শব্দ উচ্চারণ করি​নি, যদিও আমি আপনাদের রুচির মায়ের সঙ্গেও সঙ্গম করার বাসনা জানিয়ে থাকি)।
      পাশাপাশি এই রিভিউয়ের জন্য লেখককে ধন্যবাদ জানাই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Mehrab Hosain — সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৬ @ ১:০৫ পূর্বাহ্ন

      স্যার আপনি যথেষ্ট গঠন মূলক সমালোচনা করেছেন বিষয়টা ভাল লাগছে, এবার আপনি কিছু একটা বানায় দেখান……..!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Naadir Junaid — অক্টোবর ১৪, ২০১৬ @ ৬:০৮ অপরাহ্ন

      Mehrab Hosain,

      Thanks for your comment.
      I am a Professor and a film critic. I am not a film director. So it’s not my job to make a film. I wrote and will write books on film because that is my job. A film scholar might go for making a film if s/he intends to, but it’s not mandatory for him/her. But a film critic’s job is important too for the progress of cinema in any society. Not that everyone needs to be filmmakers. The presence of film critics is of crucial importance as well.
      I hope my answer helps.

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com