প্রয়াত-স্মরণ ও রোদ-বৃষ্টির কবিতা

মতিন বৈরাগী | ১৯ জুন ২০১৪ ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

বিকেলটা থমকে আছে। আকাশে মেঘ। বৃষ্টি নেই। আনন্দও নেই। যেন কষ্ট ও বেদনার এই বিকেল জীবনের সংগে লেপ্টে বলছে তাঁদের কথা, যাঁদেরকে আমরা হারালাম মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে। ১৭ জুন ২০১৪, মঙ্গলবার। বিকেল ৫টা। এক মিনিট নীরবতার মধ্য দিয়ে ঢাকায় গণগ্রন্থাগারের সেমিনার কক্ষে ‘কবিতাবাংলা’র আয়োজনে সদ্য প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিম, পশ্চিম বাংলার বিশিষ্ট কবি উত্তম দাশ এবং বাংলাদেশের নান্দনিক অনুবাদক ও সাহিত্য-সমালোচক ফখরুজ্জামান চৌধুরীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর অনুষ্ঠিত হলো চেতন কবিতা কবিতা পাঠের ১০ম আসর। শিরোনাম : ‘রোদ-বৃষ্টির’ কবিতা।

স্মরণ সভায় জাতীয় অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিম, কবি উত্তম দাশ ও অনুবাদক-সাহিত্য সমালোচক ফখরুজ্জামান চৌধুরীর সৃজনশীল কর্ম ও তাঁদের নানামত্রিক জীবনের বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোক পাত করে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে কবি ফরিদ আহমদ দুলাল (পাঠ করেন মতিন বৈরাগী), কবি ড. তপন বাগচী এবং কবি রাজু আলাউদ্দিন। স্মৃতিচারণ করেন কবি ড. মাহবুব সাদিক, কথা-সাহিত্যিক আতা সরকার, কবি মতিন বৈরাগী, কবি ড. বিমল গুহ, কবি আসলাম সানী, সুন্দরম পত্রিকার সম্পাদক ও লেখক কামরুল ইসলাম, কবি মনির ইউসুফ প্রমূখ। আলোচকরা আমাদের সমাজ-দর্শন সাহিত্য, কাব্য, অনুবাদ ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমাদের এই প্রিয় মানুষদের কৃতির প্রসংগ টেনে তাঁদের অনুপস্থিতি যে আমাদের সৃষ্টিশীল জগতে অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে, সে বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তাঁরা আরো বলেন, আমাদের বর্তমান ও আগামীকে সমৃদ্ধ করার জন্যে আমরা যদি তাঁদের জ্ঞান, দক্ষতা, কর্মস্পৃহা ইত্যাদি সম্পর্কে যথাযথভাবে অবহিত হই এবং সেগুলো আমাদের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারি তাহলেই তাঁদের প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা দেখানো হবে।

কবিতাবাংলার সভাপতি কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা প্রয়াত এই তিন ব্যক্তিত্বের জীবন কর্মের উপর আলোকপাত করেন এবং বলেন যে আমরা যাঁদেরকে হারালাম তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে আমাদের আলোকবর্তিকা। তবে আমরা যদি তাঁদের সচেতন সৃষ্টিসাধনা এবং বিশুদ্ধ শিল্প-প্রেরণাকে আমাদের জীবনানুষঙ্গ করি, তা হলেই আমরা তাঁদের যোগ্য-উত্তরাধিকারীত্ব অর্জন করনো। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কবি ও অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান। তিনি তিনজনের জীবনের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করে একটি স্বকবিতায় প্রয়াতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁর এই কবিতায় তিনি সমকালীন আরো অনেক কবির প্রসঙ্গ টেনেছেন।
সন্ধ্যা ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে রাত্রির দিকে। আর কবিতাপাঠের আসরে উপস্থিতির সংখ্যা বাড়ছে আশ্চর্যজনকভাবে। উপস্থিত সব কবিকেই যেন কবিতা পড়া ও শোনার নেশায় পেয়েছে। কবিরা একাধিক কবিতা পড়লেন প্রবল উচ্ছ্বাসে, মাতিয়ে রাখলেন রাত নটা অবধি। কবিতা পড়লেন মতিন বৈরাগী, তপন বাগচী, বিমলগুহ,আসলাম সানী, মনসুর আজিজ, হাসান মাহমুদ, গোলাম মোরশেদ চন্দন, আফরোজা সোমা, রহিমা আফরোজ মুন্নী, পারভিন আকতার, জাহানার জানিসহ প্রায় অর্ধশত কবি। অনুষ্ঠানাটি পরিচালনা করেন কবি অাশরাফ জুয়েল।
দীর্ঘ চার ঘণ্টার আলোচনা ও কবিতাপাঠের পর সভাপতি তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ও কবিতাপাঠের মাধ্যমে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাপ্তি টানলেন এই ব্যতিক্রমী আসরের।

Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (0) »

এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com