সিএমও : স্বত্বাধিকার সুরক্ষার সক্ষম সংস্থা

মনজুরুর রহমান | ২২ এপ্রিল ২০১৪ ১০:৩০ অপরাহ্ন

১৪৫০ খ্রিষ্টাব্দে ইউরোপে কপিরাইট ধারণার উদ্ভবের পূর্বেও পৃথিবীব্যাপী সৃষ্টিশীল মানুষ মেধাসম্পদের সাধনা ও চর্চা করেছে। তাই মানব সভ্যতার সূচনা ও বিকাশের অন্য নাম সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ক্রমবিবর্তন। যুগে-যুগে, কালে-কালে মানুষ আনন্দ-আবেগ আর দুঃখ-যন্ত্রণাকে তার অভিব্যক্তি দিয়ে, কণ্ঠের সুর দিয়ে, পাহাড়ের পাথুরে শরীরকে ক্যানভাস বানিয়ে ছবি এঁকে মেধা ও মননকে শাণিত করেছে। পৃথিবীর বহু সংগ্রহশালা, জাদুঘর, আরকাইভস ও গ্রন্থাগারে তুলোট কাগজ আর তালপাতার পুঁথিতেও অতীত দিনের সেই সব বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত আছে। ১৪৫০-এর পূর্বে যিনি বা যারা এ জাতীয় মননশীল কর্মে নিয়োজিত হয়েছেন তার সৃষ্টিজাত অধিকার নিজের বলে গণ্য হওয়ার সুযোগ ছিলো না। কিন্তু মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের ফলে স্রষ্টার কর্ম সীমাবদ্ধতার অচলায়তন ভেঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। দীর্ঘদিন সীমিত সংখ্যক কর্ম উৎপাদনের কারণে যেখানে প্রকাশক বা উৎপাদক ছিলেন স্বত্বের অধিকারী, সেখানে সূচিত হলো নতুন প্রত্যয় ; উৎপাদকের পরিবর্তে স্রষ্টার অধিকার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া হলো শুরু। তারই ধারাবাহিকতায় ঊনবিংশ শতাব্দীতে যন্ত্রের মাধ্যমে ‘শব্দধারণ’ সম্ভব হওয়ায় সাংস্কৃতিক কর্মের স্রষ্টার অধিকার বা ‘কপিরাইট’ পেল দৃঢ় ভিত্তিভূমি।

সময়ের ব্যাপ্ত পরিসরে সারা পৃথিবীতেই এখন কপিরাইট এবং কপিরাইটজাত রিলেটেড রাইট বহুল আলোচিত ও স্পর্শকাতর একটি অনুষঙ্গ। ১৯৪৮ সালে ১০ই ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের ধারা ২৭-এ দেয়া হয়েছে এর স্বীকৃতি। এ বিষয়ে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহ সচেতনতার সঙ্গে এগিয়ে এসেছে; প্রণয়ন করেছে আইন ও বিধি ; প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বুদ্ধিভিত্তিক সম্পদ দেখভাল এবং সুরক্ষার সময়বান্ধব উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তারপরও স্রষ্টাবৃন্দ দেশে দেশে বঞ্চিত তাদের অধিকার থেকে, স্বত্বাধিকার থেকে। উন্নত বিশ্ব প্রতিনিয়ত তাদের স্রষ্টার অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে যেমন সচেতন তেমনি তারা স্রষ্টার সৃষ্টি বাজারজাত করে তাদের আর্থনীতিক কর্মকাণ্ডকেও করেছে ঈর্ষণীয় পর্যায়ে গতিশীল। উল্লেখ করলে অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্র তার জিডিপির ১১.৯৭% অর্জন করেছে কপিরাইটজাত কর্মকাণ্ড থেকে। কানাডা করেছে ৫.৩৮%। অন্যদিকে এশিয়ার সিঙ্গাপুর ২০০১ সালে তাদের জিডিপিতে যুক্ত করেছে ৫.৭%। আমরাও করছি ; কিন্তু তার প্রকৃত হিসাব আমাদের কাছে নেই, আছে শুভঙ্করের ফাঁকি। আমাদের স্রষ্টাগণ উপেক্ষিত এবং দারিদ্রে নিমজ্জিত। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বিগত ৫০ বছরে অসংখ্য দেশবরেণ্য লেখক-শিল্পী রোগ-শোকে ভুগে বিনা চিকিৎসায় নিঃশেষ হয়েছেন। কতবার স্রষ্টাদের কল্যাণের জন্য তহবিল গঠনের প্রয়োজন পড়েছে ; ভেবে দেখা দরকার। অন্যদিকে ‘গুড়ের লাভ পিঁপড়া’য় খাওয়ার ফলে সরকার প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে। স্রষ্টা ও দেশের স্বার্থেই এ পরিস্থিতি থেকে জরুরি উত্তরণ প্রয়োজন। কিন্তু উপায় ? আছে ; কী নেই আমাদের ? স্রষ্টা আছেন ; আছেন কোটি কোটি ভোক্তা। আছে ২০০০ সালের চমৎকার কপিরাইট আইন, ২০০৬ সালের বিধিমালা, আইন দেখার জন্য আছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, থানা-পুলিশ, আদালত এবং আরো অনেক কিছু। বিপরীতে আছে স্রষ্টা এবং ভোক্তাবৃন্দের সচেতনতার অভাব, আত্মকেন্দ্রিকতা, অন্যকে ঠকিয়ে সম্পদশালী হওয়ার প্রবণতা এবং আইনানুগভাবে একত্রিত হওয়ার অঙ্গীকারের অভাব। অথচ নেতিবাচক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার আন্তর্জাতিক বিধান ও উদাহরণ আমাদের সামনেই আছে। WIPO ও CISAC দুহাত বাড়িয়ে আছে আমাদের সহযোগিতা দেয়ার জন্য। বাংলাদেশ কপিরাইট আইনের অধ্যায় ৮-এর ধারা ২১ থেকে ৪৭-এও বিধান রাখা হয়েছে স্রষ্টার স্বার্থ সুরক্ষার জন্য করণীয় সম্পর্কে। তাহলে উপায় ? উপায় হচ্ছে স্রষ্টার স্বার্থ সুরক্ষা ও দেখভাল করার জন্য স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিজস্ব সমিতি গঠন ; যা পৃথিবীব্যাপী Collective Management Organization বা CMO নামে পরিচিত।

আজ থেকে প্রায় ২৩৭ বছর আগে ১৭৭৭ সালে পশ্চিমের দেশ ফ্রান্সে গঠিত হয়েছে প্রথম CMO বা কপিরাইট সমিতি। এরপর থেকে ক্রমাগত পৃথিবীব্যাপী স্ব-স্ব স্বার্থের দিকে নজর দিয়ে সংগঠিত হয়েছে সচেতন মানুষেরা। তারাই আবার এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের যোগাযোগ, স্বার্থ সংরক্ষণ ও প্রযুক্তি বিনিময়ের জন্য ১৯২৬ সালে সমিতিসমূহের কনফেডারেশন গঠন করেছে। যা International Confederation of Societies of Authors and Composers বা CISAC নামে খ্যাত। উল্লেখ্য, CMO বা ‘সোসাইটিগুলো সৃষ্টিশীল মানুষের হয়ে দেশে-বিদেশে যেখানে সে দেশের কোন স্রষ্টার কর্ম ব্যবহৃত হয় সেই কর্মের রয়্যালটি সংগ্রহ করে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত স্বত্বাধিকারীকে পৌঁছে দেয়। দেশীয় সোসাইটিগুলো যাদের সঙ্গে অন্যদেশের চুক্তি বিদ্যমান তারা বিদেশি কর্মের রয়্যালটি যা স্বদেশে ব্যবহৃত হচ্ছে তা সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট দেশে পৌঁছে দেয়। সংস্থাগুলো কাজ করে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে। মধ্যস্থকারী হিসেবে কপিরাইট ব্যবহারকারী এবং কপিরাইট স্বত্বাধিকারীর মধ্যে কাজ করে সোসাইটি। সাধারণত একটি কাজের জন্য একটি দেশে একটিমাত্র সোসাইটি থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েক ধরণের কাজের জন্য সোসাইটি গঠিত হয়। যেমন চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, আলোকচিত্র, রিপ্রোগ্রাফ, টেলিভিশন ও ভিডিও এবং ভিজুয়্যাল আর্ট সোসাইটি। সোসাইটিতে যোগদানের পর সদস্যরা তাদের সৃষ্ট কাজ সম্পর্কে সোসাইটিকে অবহিত করে। কপিরাইট ও সংশ্লিষ্ট অধিকার মালিকদের আন্তর্জাতিকভাবে উপস্থাপন করতে সোসাইটিগুলো বিশ্বের অন্যান্য সোসাইটির সঙ্গে পারস্পরিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। তাদের সদস্যদের পক্ষ হয়ে লাইসেন্স প্রদান করে, অর্থ সংগ্রহ করে এবং কপিরাইট মালিকদের সাথে সম্পাদিত চুক্তির আলোকে সংগৃহীত অর্থ পুনঃবণ্টন করে।’১

বললে অত্যুক্তি হবে না যে, স্রষ্টার অধিকার সম্পর্কে এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় আমরা এখনও যথেষ্ট উদাসীন ও অভিজ্ঞতাহীন। ফলে, অনেকের কাছেই CMO নামক ধারণাটিও নতুন ও অস্পষ্ট। এই অস্পষ্টতা দূর করার লক্ষ্যে WIPO প্রকাশ করেছে এ সম্পর্কিত নানান গ্রন্থ। WIPO-র একটি গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি:
‘The collective management of authors right is a proferssion that demands basic legal training, administrative capabilities, a well-founded knowledge of tariffs, the basic principles governing the collection of royalties (or remunaration for use of works), documentation, distribution, accounting and payments, data processing and social welfare. Anyone who sets about establishing a copyright society without having the necessary professional training runs the risk of rapidly running it aground as it would be a venture managed by an amatur. And since such problems frequently occur, it is important to point out that the successful establishment of a copyright society depends essentially on the professional training of its manager and of its staff.’2

বাংলাদেশের সাহিত্য ও সঙ্গীত জগৎ এত ঋদ্ধ, বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যপূর্ণ যে, অনায়াসে সাহিত্য ও সঙ্গীত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এদেশে সোসাইটি গঠন করে নিজেদের কল্যাণ ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারেন। একজন স্রষ্টা তার সৃষ্টকর্ম কোথায় কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং তিনি কতটা বঞ্চিত হচ্ছেন তার হিসেব একার পক্ষে রাখা কোনদিনই সম্ভব হয় না। তিনি নতুন নতুন সৃষ্টির পেছনে সময় না দিয়ে যদি ক্রমাগত পাওনাদারের পেছনে ছুটতে থাকেন তাহলে অচিরেই ক্লান্ত হয়ে পড়বেন এবং তার সৃষ্টি বাধাগ্রস্থ হতে বাধ্য। বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ নিয়ে যারা কাজ করেন তারা অবগত আছেন যে-
The Creator of a work has the right to allow or to prohibit the use of his works. A playright can consent to his work being performed on sage under certain agreed conditions, a writer can negotiate a contract with a publisher for the publication and distribution of a book, and a composer or a musician can agree to have his music of performance recorded on compact disc’3

কয়েকবছর আগে WIPO প্রেরিত এক সদস্যবিশিষ্ট একটি টীম বাংলাদেশে কপিরাইট সোসাইটির প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করে যে প্রতিবেদন প্রদান করেছেন তাতে সঙ্গীত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সোসাইটি প্রতিষ্ঠার প্রচুর ইতিবাচক উপাদান বিদ্যমান। বিগত প্রায় তিন বছর ধরে এ বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি কার্যক্রম চললেও কোনো সোসাইটি অদ্যাবধি আলোর মুখ দেখেনি। যেহেতু CMO ধারণা বা বাস্তবতা আমাদের জন্য নতুন সে জন্য মনে রাখা প্রয়োজন যে, পরিপূর্ণ প্রস্তুতি, আইন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ, দৃঢ় আর্থনীতিক সক্ষমতা, দক্ষ জনবল, অর্থ ব্যবস্থাপনার জ্ঞান ও স্বচ্ছতা, প্রযুক্তির ব্যবহার, সর্বোপরি সরকারি পরিপূর্ণ সহায়তা ছাড়া একটি স্বার্থক ও সক্ষম সোসাইটি বা সমিতি প্রতিষ্ঠা কখনো সম্ভব নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ন্যূনতম ১৬ থেকে ১৮ মাস সময় ধরে দক্ষতা ও সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে সমিতি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে। বহু পরীক্ষা-নীরিক্ষার চড়াই উৎরাই পার হয়ে পৃথিবীর ১২১টি দেশের ২৩২টি সমিতি আজ স্রষ্টাদের পক্ষ হয়ে কাজ করছে, সমিতিভুক্ত সদস্যগণের কর্ম যারা ব্যবহার করতে চান তাদের কর্ম সমিতির শর্ত অনুসরণ করে ব্যবহারের লাইসেন্স প্রদান করছে, যুক্ত হচ্ছে পরস্পরের সঙ্গে।

পৃথিবীর সব দেশেই সংশ্লিষ্ট স্বত্বাধিকারীদের নিজস্ব উদ্যোগে সরকারের অনুমতি নিয়ে গঠিত হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান CMO। আয়ের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ খরচ হয় সমিতি পরিচালনার কাজে। অবশিষ্ট অর্থ সংশ্লিষ্ট সদস্যগণ পেয়ে থাকেন। এর বাইরে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয়িত হয় তাদের আয়ের কিছু অংশ। এই রকম মহৎ উদ্দেশ্য যাতে ব্যাহত না হয় সে জন্য কোনো দেশে নতুন কার্যকর CMO গঠনের পেছনে সরকারের ভূমিকাও থাকে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টি ও সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণের ফলে সাধিত হয় অসাধ্য সাধন। সরকারি প্রণোদনা পেলে বিদ্বৎসমাজ সম্মানিত বোধ করেন এবং সৃষ্টিশীল কর্মে অধিকতর নিবিষ্টচিত্তে মনোনিবেশ করেন। CMO গঠনে সরকারের ভূমিকা কী হওয়া প্রয়োজন সে সম্পর্কে WIPO-র পরামর্শ:
‘The stance taken by the Government of a country where the establishment of a new copyright society is being considered is of extrence importance. Without the cooperation of the Government or at least without its goodwill, the attempts to set up a copyright society can very quick become futile. The ground for stating this need for official support is simple : the activities of a copyright society extend to duties that also fall within the responsibility of the State. Both the state and the copyright society must ensure the exercise of individual rights as guaranteed by statute. This is because the activities of the copyright societies impact on several State institutions such as the national radio and television companies, cultural programmes, State registers, laws and regulations (for example anti-trust laws, civil and criminal procedures and currency regulations). In all these areas, the copyright society can get paralyzed if the State is not in favor of its activities. To prevent that from happening, it must be ensured from the very beginning that the State agrees with the principle of collective management of copyright and that it takes the copyright society under its wing.’4
সোসাইটি বা সমিতি গঠন পর্বে আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যে কোন প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্য নির্ভর করে স্বচ্ছ ও দক্ষ আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর। এ বিষয়ে সমিতি গঠন-প্রত্যাশী ব্যক্তিবর্গের জন্য প্রথিতযশা কপিরাইট বিশেষজ্ঞ ড. উলরিচ উচ্টেনহাগেনের বক্তব্য মনে রাখা প্রয়োজন। তিনি লিখেছেন:
‘It is highly likely that a copyright society may be unable, at the beginning to apply tariffs corresponding to the full recognition of these standards in each and every case. Tariffs have to be negotiated with the main user associations (such as hotel owners associations) and these negotiations result mostly in a compromise between the demands of the copyright society and the level of willingness of the user to pay. In all cases, the internationally recognized norms and standards should always direct the entire effort of the copyright society to approach the appropriate tariffs gradually.’5

সৃজনশীল বাংলাদেশে সৃষ্টিশীলতার যতগুলো ক্ষেত্র আছে তার সবগুলোতেই আজ কেবলই নেতিবাচক চিত্র। হাতেগোনা কয়েকজন লেখক ছাড়া অধিকাংশ কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রবন্ধকার তাদের প্রকাশিত গ্রন্থের রয়্যালটি থেকে বঞ্চিত। বে-আইনি চুক্তি (কপিরাইট আইনের ১৯ ধারা প্রতিপালন না করে সম্পাদিত) ও অনুমতিহীন সঙ্গীত যত্র-তত্র ব্যবহারের ফলে চরমভাবে বঞ্চনার শিকার দেশের অধিকাংশ গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী ও মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি। চিত্রকলার ক্ষেত্রে দেশীয় আইনে ‘রিসেল’-এর বিধান থাকলেও বহু গুণী শিল্পী এবং তাদের পরিবারবর্গ এক টাকাও ‘রিসেল’ রয়্যালটি পেয়েছেন কি-না জানা নেই। চলচ্চিত্রশিল্প পড়ে আছে অক্সিজেন মাক্স

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দেশীয় কপিরাইট আইন এবং আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান প্রতিপালন করে আমাদের স্রষ্টাবৃন্দ যদি পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, দূরত্ব ও আলস্য ভুলে এগিয়ে আসেন তা হলে বাংলাদেশেও সম্ভব দ্রুত কপিরাইট সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করা। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, উন্নত প্রযুক্তি ও অর্থ সাহায্য দিয়ে সমিতি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করতে CISAC সম্মত আছে মর্মে আমরা জ্ঞাত হয়েছি। এই মুহূর্তে সকল বিষয়ে না হোক, অন্তত সঙ্গীত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ খুব স্বল্প সময়ে কাজটি সম্পন্ন করতে পারেন। সোসাইটি হলেই কেবল বন্ধ হবে ফুটপাতের পাইরেসি, এফএম রেডিও, মোবাইল ফোনে বে-আইনি সঙ্গীত ব্যবহার, পেনড্রাইভ ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিনা অনুমতিতে সঙ্গীত সংগ্রহ, হোটেল, পরিবহণ এবং বিমানসহ যে যে স্থান এবং মাধ্যমে চুক্তিবিহীন সঙ্গীত ব্যবহৃত হয় তার সব কিছুই। বন্ধ হবে বুদ্ধিবৃত্তিক জগতের চাতুর্য, তাস্কর্য ও দুর্বৃত্তায়ন। তদুপরি দেশীয় সোসাইটি হলে বিদেশ থেকেও আসতে বাধ্য বিপুল পরিমাণ রয়্যালটি। সোসাইটিই কেবল পাহারা দিতে সক্ষম তার সমিতিভুক্ত সদস্যদের উর্বর সোনালি শস্যক্ষেত্র।

বৃহত্তর কল্যাণের জন্যই প্রয়োজন প্রকৃত জাগরণ। কিন্তু আমরা যে কুম্ভকর্ণ ! আমাদের ঘুম ভাঙাবে কে ?


তথ্যনিদের্শ

১. মনজুরুর রহমান, বুদ্ধিবৃদ্ধিক সম্পদ ও বাংলাদেশের কপিরাইট আইন, ধ্রবপদ, ঢাকা, ২০১২, পৃষ্ঠা : ৩৬
২. DR. ULRICH UCHTENHAGE, The Setting-up of New Copyright Societies, WIPO, Page
৩. WIPO Intellectual Property Handbook, WIPO, 2008, Page: 388.
৪. DR. ULRICH UCHTENHAGE, The Setting-up of New Copyright Societies, WIPO, Page : 7
৫. DR. ULRICH UCHTENHAGE, The Setting-up of New Copyright Societies, WIPO, Page : 10

Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন saifullah dulal — এপ্রিল ২৩, ২০১৪ @ ৫:০২ পূর্বাহ্ন

      খুবই ভালো এবং গুরুত্বপূর্ণ লেখা!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন MD ABU AOWAL — এপ্রিল ২৩, ২০১৪ @ ১২:৪৫ অপরাহ্ন

      ‘কপিরাইট’ বা ‘স্বত্বাধিকার’ শব্দগুলোর সাথে খুব ছোটবেলা থেকে, গল্প/উপন্যাস পড়তে শুরু করার সময় থেকেই পরিচিতি লাভ করলেও এগুলোর মর্মার্থ বুঝে উঠতে লেগে গেল কয়েক যুগ। এ শব্দগুলো যে জাতীয়/আন্তর্জাতিক আইন, এমনকি মানবাধিকারের সাথেও সম্পৃক্ত, জানলাম আরও পরে, কবি মনজুরুর রহমান এর “বুদ্ধিবৃদ্ধিক সম্পদ ও বাংলাদেশের কপিরাইট আইন” বইটি পড়ার পর। মেধাসম্পদের সাধনা ও চর্চা যে নিছক শখ বা অন্তর্গত তাগিদের ফসল-ই নয়, বরং একটি পেশা এবং অর্থনৈতিক নিয়ামক… তাই বা জানা আছে ক’জনের? বিষয়টি নিয়ে ভাববার সময় দ্রুত গড়িয়ে গেলেও কবি মনজুরুর রহমান এর এই লেখা আরও একবার প্রেষণা, প্রেরণা এবং পীড়া জাগানোর জন্য আপাত সোপান… বলতে হবে নির্দ্বিধায়। ধন্যবাদ লেখককে।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com