ব্ল্যাকমেইলিং দ্য ব্ল্যাক কোট?

শামস হক | ৩ december ২০১৩ ৮:৫৪ অপরাহ্ন

বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। তাঁর অনপনেয় সৃষ্টি, বাংলাদেশই, তাঁকে অমরত্ব দিয়েছে। অন্য কোনও মানদন্ড নয়, এই একটি মাত্র অর্জন, বাংলাদেশের সৃষ্টির জন্য হলেও তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। গত একশ, দু’শ বছরের অমর রাষ্ট্রনায়কের মধ্যে শেখ মুজিবকে তাঁর নামেই আলাদা করে চেনা যায়। তবে তাঁকে অসাধারণভাবে আলাদা করবার জন্য যে-বহিরাবণটি অলক্ষ্যে প্রভাব ফেলেছে, তা’ তাঁর হাতাবিহীন, গলাবদ্ধ কাল কোট। “মুজিব কোট” বলে তার পরিচিতি। ইংরেজীতে “দ্য ব্ল্যাক কোট” বলে বহির্বিশ্বে “মুজিব কোট” কেই বুঝানো হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, আরও খানিকটা তলিয়ে বলতে, বাঙালি চেতনায় স্নাত, কোটি কোটি মানুষ এই “মুজিব কোট,” ভাষাস্তরে “দ্য ব্ল্যাক কোট”-কে শেখ মুজিবর রহমানের বিশাল ব্যক্তিত্বের সাথে মিলিয়ে দেখতে পছন্দ করেন।

ঐ “মুজিব কোট” গায়ে চাপিয়ে অনেক আওয়ামী লীগ নেতা-উপনেতা-কর্মী, কথিত আছে, করে-কম্মে উপরে উঠেছেন। অর্থে-বিত্তে, ক্ষমতায়-প্রভাবে, বাহারে-বহরে বড় হয়েছেন। এমনকি শিক্ষক-গবেষক-ব্যবসায়ী-কবি-সাহিত্যিকসহ নামী-দামী আঁতেল অনেকেই ঐ “মুজিব কোট” পরিধান করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করেন আন্তরিকভাবে। কিন্তু স্বাধীনতার ফল ভোগকারী, স্বাধীন বাংলাদেশের তাবৎ সুবিধা ব্যবহার করে “পন্ডিত” বনে যাওয়া স্বেচ্ছানির্বাসিত কেউ একজন ঐ “মুজিব কোট” ভাঙ্গিয়ে যশ-খ্যাতি, অর্থ-বিত্ত কিংবা প্রভাব-প্রতিপত্তিসহ অজানা ফায়দা লুটতে চাইবেন, তাও বিশ্বাস করতে হচ্ছে অধূনা কানাডা-প্রবাসী বাংলাদেশী লেখক নেয়ামত ইমামের দ্য ব্ল্যাক কোট পড়ে।
একাত্তুরের ভয়ংকর স্বাধীনতাযুদ্ধের অব্যবহিত কাল শুরু করে শেখ মুজিব নিহত হবার সময় পর্যন্ত ঘটনাপঞ্জিই এই উপন্যাসের পট।

দুই পর্বে, বুকওয়ান এবং বুক টু, দ্য ব্ল্যাক কোট, মোট ২৬ ও ৩০ অধ্যায়ে ২৪০ পৃষ্ঠার বই। তথাকথিত এই উপন্যাসটির শুরু সংক্ষিপ্ত “প্রলগ” দিয়ে এবং শেষ একটি নাতিদীর্ঘ “এপিলগে”। ফ্রিডম ফাইটার নামক একটি পত্রিকায় চাকুরীরত এক সাংবাদিক, খালেক বিশ্বাসের বয়ানে প্রথম পুরুষে এই উপন্যাসের বর্ণনা।

শুরুটা এরকম : স্বাধীনতা যুদ্ধের অব্যবহিত পরই অন্ন-বস্ত্র সংকটে হাজার হাজার গ্রামের লাখ লাখ মানুষ হয়ে ওঠে রাজধানীমুখী। মালিকপক্ষের নীতির বাইরে অবস্থান নিয়ে, চারিদিকে দূর্দশাগ্রস্থ মানুষের রিপোর্ট লিখে খালেক বিশ্বাস চাকুরী হারায়। খুব সহসাই বেকার খালেক বিশ্বাসের সাথে গ্রাম থেকে এসে যোগ দেয় নূর হোসেন, চাকুরী প্রত্যাশী। নূর হোসেন প্রায় নিরক্ষর, কোনও যোগ্যতা নেই তার। তবে সে গলা ছেড়ে শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ আবৃত্তি করতে পারে বেশ। খালেক বিশ্বাস তার দুঃসহ বেকার জীবনে দু’ পয়সা আয়ের কৌশল বেছে নেয় নূর হোসেনকে রাতারাতি একজন মেকী শেখ মুজিবে পরিণত করে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ এম.পি. ময়না মিয়ার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে খালেক-নূর হোসেন বাঙালি সেন্টিমেন্টকে পুঁজি করে ৭ মার্চের ভাষণ হাটে-বাজারে, রাস্তায়-লোকালয়ে আমজনতার সামনে উপস্থাপনের মাধ্যমে আঙুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হয়।

কিন্তু মাঝপথে, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে, ঢাকায় ছুটে আসা লক্ষ লক্ষ মানুষের দূর্ভোগ ও আহাজারী দেখে নূর হোসেন বিদ্রোহ করে। সে তার প্রতিশ্রুত পথ, শেখ মুজিবের ভাষণ প্রচার, থেকে সরে আসে এবং সেই ভাষণের মাহাত্ব্যের বিপরীতে শেখ মুজিবকে “দানব”, “একনায়ক” ইত্যাদি কটূক্তিতে অসম্মান করতে শুরু করে। এতদ্দর্শনে খালেক বিশ্বাস আশংকিত হয়ে পড়ে, পাছে ময়না মিয়া এম.পি. তাকে সন্দেহ করে বসে বিশ্বাস ঘাতক বলে। ময়না মিয়ার সন্দেহ ও রোষানল থেকে মুক্ত থাকার জন্য খালেক নূর হোসেনকে পৃথিবী থেকে বিদায় করে।

নূর হোসেনকে হত্যার পর খালেক নিঃসঙ্গ ও নিঃস্ব হয়ে পড়ে। সে একটা অপরাধবোধ নিয়ে জীবন থেকে পালিয়ে বাঁচার পরিকল্পনা করে।

উপন্যাসের এপিলগে এসে খালেক তার কৃতকর্মের জন্য বিলাপের মধ্যে দিয়ে উপন্যাসের শেষ টানে স্বদেশকে বিদায় সম্ভাষণ জানিয়ে। এ খালেক কোন খালেক? খালেক কি সত্য-মিথ্যা, বাস্তব-অবাস্তব; কিছু চাক্ষুষ, কিছু মন-গড়া, ঘটনার জন্মসূত্র মাথায় নিয়ে লন্ডন হয়ে কানাডায় গেছে? পাঠকের প্রশ্নের সুযোগ থাকে এইখানে।

black1.gif২০১৩ সালের ২২ মে পেঙ্গুইন বুক ইন্ডিয়া দ্য ব্ল্যাক কোট নামক বইটি (রাজনৈতিক, নাকি ঐতিহাসিক উপন্যাস; স্যাটায়ার নাকি ল্যাম্পুন, বলা মুশকিল) প্রকাশের অব্যবহিত পরপরই এশিয়া-ইউরোপ-আমেরিকার নামী-অনামী ডজনেরও অধিক গণমাধ্যম-সাহিত্য সাময়িকী তার প্রশংসায় মেতে উঠে। ভারত- বাংলাদেশসহ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বইটির রিভিউগুলো পড়বার মতো। বলাই বাহুল্য, কোনও রিভিউতেই দ্য ব্ল্যাক কোট যে অনেকখানি একদেশদর্শী মনোভাব নিয়ে বাংলাদেশের স্থপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আত্মাকে আরও একবার হত্যার চেষ্টা করেছে, তা’ বিন্দুমাত্র বিধৃত হয়নি। একমাত্র ব্যতিক্রম রেডিও কানাডা, যা’র সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, “….দ্য বুক দ্যাট স্লেজ শেখ মুজিব।”

নিদেনপক্ষে, ঐ সূত্র ধরে বইটি আর একবার পাঠ করলে অনুসদ্ধিৎসু পাঠক বাংলাদেশের ইতিহাস-বিকৃতি, পূর্বাপর জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ঘটনা-দুর্ঘটনা আমলে না নিয়ে একজন বিশ্বনন্দিত রাষ্ট্রনায়ককে শুধুমাত্র হেয়প্রতিপন্ন করবার জন্য বিদ্রুপ; শেখ মুজিবের প্রশ্নতীত দেশপ্রেম, তাঁর বাঙালী মানুষের জন্য নিখাঁদ ভালোবাসা, তাঁর আজীবন লালিত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে খাটো করে দেখা - ইত্যাদি বিষয়গুলো পরিষ্কার হয়ে উঠবে।

ঐসব অপপ্রচারমূলক প্রসংগের আগে লেখক নেয়ামত ইমামকে অভাজনেরও কিছু সাধুবাদ আছে। বইটি প্রচ্ছদ পরিকল্পনায় মুনশিয়ানা কাজ করেছে। সেই বরাতে দ্য ব্ল্যাক কোট হাতে নিয়েই যে-কেউ পড়তে আগ্রহী হবে। শেখ মুজিবের নিন্দুকেরা, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীরা, সোৎসাহে এক নিঃশ্বাসে পড়ে এর বহুল প্রচারে নামবে। স্বাধীনতার পক্ষের মানুষেরা, বঙ্গবন্ধুর ভক্তরা, বাস্তবতার নিরিখে সত্যানুসন্ধানী পাঠকেরা; যথেষ্ট বেদনাহত হয়ে বইটির প্রতি পরতে পরতে আরও আহত হতে চাইবে; বাঙালি মানুষের কৃতঘ্নতাবোধ কত নিম্নগামী হতে পারে তা’ যাচাইয়ের জন্য। নেয়ামত ইমাম তার নামাংকিত দ্য ব্ল্যাক কোট ব্রান্ডটির লাল সীলমোহরটি কোটি কোটি বাঙালির প্রাণপ্রিয় নেতা, আবহমান বাঙালির মানসপূত্র, শেখ মুজিবের মুখের উপর সেঁটে দিয়ে নগ্ন নোংড়ামির একটি অরুচি-পূর্ণ চিত্র অংকনের চেষ্টা করেছেন। নেয়ামত ইমামের সে চেষ্টা থাকা সত্বেও বলি, এটি একটি “এ্যাকট অব সাটায়ার” বলে পার পাবার কোনও উপায় আছে বলে মনে হয় না। অন্ততঃ বাঙালির সেন্টিমেন্টের ইতিহাস তা বলে না।

দ্য ব্ল্যাক কোট-এর পুস্তক-পরিকল্পনাও ইউনিক। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু প্রলগে এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেই সমাপ্তি, এপিলগে। মাঝখানে ঢাকা শহরে গ্রাম থেকে আসা লাখ লাখ অন্নবস্ত্রহীন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের দূর্বিসহ চিত্র। নূর হোসেনের ৭ মার্চ ভাষণ নকল করবার গ্রাম্য-প্রতিভাকে ব্যবহার করে খালেক-ময়না মিয়াদের আর্থিক ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের বিশদ বিবরণ। বইয়ের এখানে-সেখানে মৃত্যু, ছল-চাতুরী, বেদনার রাজ্যে বিনোদন, সুযোগ বুঝে প্রোটাগনিষ্টের স্মৃতি রোমস্থনে বুঝিবা আত্মজৈবনিক আত্মশ্লাঘা; কখনও মুক্তিযুদ্ধ -মুক্তিযোদ্ধার বিবরণ - ইত্যাদির ঠাঁসবুননে বইটির কলেবর বাড়ানোর চেষ্টা হয়েছে।

বাংলাভাষী একজন অধূনাপ্রবাসী লেখকের কলমে মাঝেমধ্যে ইংরেজী ভাষায় শিল্পময় বর্ণনা বইটিকে সুখপাঠ্য করে তুলেছে অনেকটা। তা’ ছাড়াও, নেয়ামত ইমাম এই উপমহাদেশের বিভিন্ন ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ভান্ডার থেকে উদ্ধৃতি, অলংকার, সংশ্লেষ, এমনকি ইকবালের “সারে জাহাঁসে আচ্ছা,….”; ভূয়া মানুষের বয়ানে, “ভাইজান মনে কিছু নিয়েন না; বড় ভোক লাগছিলো”; রাজনৈতিক কর্মীর “মুজিবভাই” আমজনতার “ডালভাত-পরাটা”, বঙ্গবন্ধুর “জয়বাংলা”, এমনকি ‘গুড়’, ‘চাল’ ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার মূলধারা ইংরেজী ডিকশনের মধ্যেই বইটিকে “স্পাইস্ড আপ” করতে সাহায্য করেছে।

বিশ্বাস করা যেতে পারে যে, বঙ্গবন্ধুর বন্ধু মহল, স্বাধীনতা-বিরোধী চক্র এবং বঙ্গবন্ধুর ভক্তবৃন্দ ছাড়াও প্রচারাক্রান্ত অনেকেই এটি সাগ্রহে পড়বেন। আশা করা যায়, নেয়ামত ইমামকে ইন্টারনেটে ‘ওয়ান্টেড রিভিউয়ারস’ বলে আযান দিয়ে তাঁর বই বিক্রি বৃদ্ধির কসরত করতে হবে না। যা তিনি ইতিমধ্যেই করে সেরেছেন।

নেয়ামত তাঁর অন লাইন প্রচারনায় ‘Wanted: Reviewers’ লেখাটিতে পূর্ববর্তী বেশ কয়েকটি রিভিউ থেকে দ্য ব্ল্যাক কোট সম্পর্কে নানা সুসংবাদ পরিবেশন করে বাংলাদেশেও রিভিউয়ার চেয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের খ্যাতিমান রিভিউয়ারগণ নাকি কোনও ভয় ভীতির কারণে তা করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। এই লেখাটিতেই তার দাবী হয়তো খন্ডন করা যাবে না, তবে চেষ্টাতো করা গেল।

কিন্তু সেকথা থাক। দ্য ব্ল্যাক কোট বইখানি শিল্পের মানদন্ডে কোন অবস্থানে, তা বিচার্য্য বটে। সহজেই অনুমেয়, বঙ্গবন্ধুর বিশ্বনন্দিত ভাবমূর্তিকে উলঙ্গ স্পর্ধায় কলংকিত করার প্রয়াস পেয়েছেন লেখক বইটির নাম-পৃষ্ঠাতেই। এই অপকর্মটিকে তিনি একজন স্যাটায়ারিষ্টের লাইসেন্স নিয়ে জায়েজ করবার সুযোগ নিবেন, জানি, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, দ্য ব্ল্যাক কোট কি আসলে স্যাটায়ার?

কিভাবে মানা যায় সেকথা? সেই গ্রীক নাট্যকার এ্যারিস্টোফিনিস থেকে শুরু করে রোমান কবি হোরেস ও জুভেনাল হয়ে তাবৎ কালের সবচেয়ে প্রশংসিত স্যাটারয়ারিস্ট জোনাথান সুইফ্ট অবদি সাহিত্যের ব্যঙ্গরস পরিবেশনের যে-ধারা বা শৈলী অনুসৃত হয়েছে তার কোনটিই নেয়ামত ইমাম অনুসরণ করেন নি। হাস্যরস, ব্যঙ্গরস, কটাক্ষ, চাতুর্য্যপূর্ণ উক্তি ইত্যাদির যুৎসই ব্যবহারে যে-আবহ নির্মাণ করতে হয় উৎকৃষ্ট স্যাটায়ারে, তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন নেয়ামত। ১৭০৪ সালে The Battle of the Books গ্রন্থের প্রাক-কথনে সুইফ্ট লিখেছিলেন,”Satire is a sort of glass, where in beholders do generally discover everybody’s face but their own, which is the chief reason for that kind of reception it meets in the world, and that so very few are offended with it.”

দুঃখের বিষয়, দ্য ব্ল্যাক কোট বইটির দর্পণে আর সকলের মুখ দেখা যায় না; উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে, কারুর কারুর মুখ দেখা যায় বিবর্ণ ও বিকৃত উপস্থাপনে। তার মধ্যে বাঙালি জাতির পিতা, সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতির বিশাল মুখাবয়কে কলংকিত করেই এ বইয়ের যাত্রা।
মূলতঃ, ১৯৭৪ সালের নিদারুণ দূর্ভিক্ষকে উপজীব্য করে দ্য ব্ল্যাক কোট শেখ মুজিবকে প্রধান এবং একমাত্র আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। ৭৪-এর দূর্ভিক্ষের জন্য আমেরিকার সর্বজনবিদিত ষড়যন্ত্রের কথা নেয়ামত আমলে নেননি। তৎসময়ে চীন ও রাশিয়ায় খাদ্য সংকটে বাংলাদেশকে ঐসব দেশের সাহায্যের অক্ষমতার কথাও তিনি স্বীকার করেন নি। এমনকি বন্ধুরাষ্ট্র ভারতও অজ্ঞাত কারণে সাহায্যের হাত বাড়াতে ব্যর্থ হয়েছিল, এ-সত্যটিও নেয়ামত বেমালুম ভুলে গিয়েছেন। একা শেখ মুজিব যা করতে পারেন নি, তার জন্য জাতীয় অভ্যন্তরীণ সমস্যার সাথে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র-অসহযোগ ইত্যাদি অবশ্যই বিবেচ্য। স্পষ্টতই, নেয়ামত একচোখা দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে শেখ মুজিবের ব্র্যান্ড পোর্টেটের শুধু অবমাননাই করেন নি, অনেকের মতে, তাঁকে নেয়ামত আবারো নিধন করেছেন চরম দায়িত্বহীনতায়।

বুঝা মুশকিল, কী ছিল নেয়ামতের মনে। তবে পূর্বাপর বিশ্লেষণে একথা স্পষ্ট হতে বাধ্য যে, তিনি শেখ মুজিবকে ”খুনী”, “দানব”, “পশু”, বা “নিকৃষ্টতম ডিক্টেটর” বলেই ক্ষান্ত হননি, গোটা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার অশুভ প্রয়াস পেয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রুরা যেমন স্বীকার করেন না যে, দু’লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত এবং ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, তেমনি নেয়ামতের অস্বীকৃতি, তাঁর সৃষ্ট আব্দুল করিম ও নূর হোসেরন কণ্ঠে,“How could Sheikh Mujub say….at least 3 million people died in the war when the actual number was less than three hundred thousand?”

প্রশ্ন থাকে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার প্রতি নেয়ামতের কি ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ আছে? উত্তর, নেই। শুধু কি তাই? দ্য ব্ল্যাক কোট-এর রিভিউয়ার খুঁজতে গিয়ে তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, তিনি শেখ মুজিবকে “জাতির পিতা” মানতেও নারাজ। নেয়ামত কি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের শত্রুদের কারুর হয়ে এ বইটি লিখেছেন? একটু ঘাটাঘাটি করলেই ধরা পড়বে বইটির পরিকল্পনা পর্বেই এটিকে একটি পলিটিক্যাল প্যামফ্লেট হিসেবে বাজারে ছাড়বার প্রয়াস ছিল। তা’ না হলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক চরিত্র, শেখ মুজিবের শাসন-ব্যর্থতা, চুয়াত্তুরের দূর্ভিক্ষ ইত্যাদি বিষয়ে শেখ মুজিবের নিন্দুকেরা এবং কোনও কোনও স্বার্থান্বেষী মহল যে ভাষায় কথা বলে, নেয়ামতের দ্য ব্ল্যাক কোট হুবহু সেই ভাষাতেই তার বক্তব্য উপস্থাপন করে।

আর একটু দৃষ্টি প্রসারিত করলেই দেখা যাবে যে, নেয়ামত ইমাম বাংলাদেশের রাজনীতির শুধু একজন নিবিড় পর্যবেক্ষকই নন, তিনি একটি বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিকে “গতিময়’ দেখতে চান। নেয়ামতের প্রাসঙ্গিক এবং সমসাময়িক অন্যান্য লেখাগুলি পড়লে তা জানা যাবে পরিস্কার। জানা যাবে, বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধেই তাঁর অবস্থান। এমনকি, অধুনাপ্রসিদ্ধ গণজাগরণ মঞ্চেরও তিনি একজন বিশেষ নিন্দুক। আর তিনি দ্য ব্ল্যাক কোট প্রকাশ করেছেন ২০১৩-র ২২মে, যখন বাংলার রাজপথে বাংলাদেশের অস্তিত্ব নিয়ে চলছে টানাহেঁচড়া। দূর্মুখেরা হয়তো বলবে দ্য ব্ল্যাক কোট-এর মর্মবানী বাঙালি জাতির আত্মবিধ্বংসী আগুনে জাতিসত্ত্বাবিদ্বেষী ঘৃতবর্ষন ছাড়া আর কিছু নয়। আর এ কাজটি শুধু নিম্নরুচির কোনও পলিটিক্যাল প্যামফ্লেট লেখকেরই সাজে, সত্যিকারের কোনো লেখকের নয়।

Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (৩১) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Mostafa Tofayel — december ৩, ২০১৩ @ ১০:২৬ অপরাহ্ন

      Glad to have a glance at Shams Haq’s “Blackmailing the black coat”.
      The Black Coat is a veil that Neamat has put on,as an antic disposition,motivated to belie the sky-high height of Bangabonhu Sheikh Mujibur Rahman.Shams Haq has taken up his pen as a sword to pierce through the veil and offer almost an electronic picture of the malfide design of the author.The true citizens,at home or abroad,ought to uphold the honor of the homeland,the nation, and the father of the nation. They must feel proud of all this. It is more so for a writer whom God has given a pen.But very sorry I am that Neamt has misused such a gift from God.Thanks to Shams Haq that he has taken a bold and beautiful attempt to unveil Neamat’s design by the facile strokes of his pen, in bdnews24.com.It is as if,in Shakespeare’s Hamlet;
      “The play is the thing/Wherein I ‘ll catch the conscience of the king”.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সৌরভ — december ৪, ২০১৩ @ ৭:৪১ পূর্বাহ্ন

      “বিশ্বাস করা যেতে পারে যে, বঙ্গবন্ধুর বন্ধু মহল, স্বাধীনতা-বিরোধী চক্র এবং বঙ্গবন্ধুর ভক্তবৃন্দ ছাড়াও প্রচারাক্রান্ত অনেকেই এটি সাগ্রহে পড়বেন।”

      আপনাদের মত চাটার দলই বঙ্গবন্ধুকে খেয়েছিল। চাটার দল আজও আছে । হাহ…

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সৌরভ — december ৪, ২০১৩ @ ৭:৪২ পূর্বাহ্ন

      “আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক চরিত্র, শেখ মুজিবের শাসন-ব্যর্থতা, চুয়াত্তুরের দূর্ভিক্ষ ইত্যাদি বিষয়ে শেখ মুজিবের নিন্দুকেরা এবং কোনও কোনও স্বার্থান্বেষী মহল যে ভাষায় কথা বলে, নেয়ামতের দ্য ব্ল্যাক কোট হুবহু সেই ভাষাতেই তার বক্তব্য উপস্থাপন করে।”

      অন্ধ হলে এসব আপনাদের চোখে পড়বে কীভাবে? চোখ খুলুন। আবার ভালমত পড়ুন বইটি…

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Shyamal Bhattacharjee — december ৪, ২০১৩ @ ১১:৫০ পূর্বাহ্ন

      এ কোন্‌ নেয়ামত ইমাম? আমার যেন কেমন চেনা চেনা ঠেকছে। ইনি কি নওগাঁ জেলার জনৈক ন্যাপ নেতার পুত্র যার নামে একসময় মুজিব হত্যার ষড়যন্ত্রের বিচার শুরু হয়েছিল? তারপর সে দেশত্যাগ করেছে এবং কানাডায় আছে–ছেলেটি খুব মেধাবী ছিল। আমি এ তথ্যটুকুই জানি। সে যে একজন জামাতের তাত্ত্বিক নেতাও সেটা ইদানীং শুনলাম। সত্যাসত্যা আমি জানি না। শোনা কঠায় কান না দেওয়াই ভালো।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Nurunnabi Shanto — december ৪, ২০১৩ @ ১২:৪১ অপরাহ্ন

      খুব ভালো লেখা, স্যার। নেয়ামত সাহেব কানাডায় বসে এরকম একটি পুস্তক রচনায় সাহস তো পাবেনই। এসবই আমাদের স্বাধীনতাকে খর্ব পরিচয়ে তুলে ধরার অপ-প্রয়াস।

      আপনাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ এই জন্য যে, এদেশের সমালোচনা সাহিত্যের ভেতরের স্তুতিবাদকে আপনি ভেঙ্গে দিয়ে পথ দেখালেন। সত্য সমালোচনা অকপটে করা যায়। বর্ণনাকুশলতার প্রশংশা করতে কুণ্ঠিত হন নি দেখে, যারপর নাই ভালো লাগলো।

      আসলেই একটা কুরুচিপূর্ণ অশ্লিল প্রচ্ছ্বদ। ধিক!

      নূরুননবী শান্ত

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন hasan ashik rahman — december ৪, ২০১৩ @ ১:১৫ অপরাহ্ন

      মূল উপন্যাসটি পড়া হয় নি… কিন্তু রিভিউ পড়ে দুঃখ পেলাম। প্রত্যেক মানুষেরই নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শন থাকে, যা তার অভিজ্ঞতা, পড়াশোনা, পর্যবেক্ষণ ও চিন্তা-ভাবনা থেকে গড়ে ওঠে। দেখতে হবে সে নিজের জায়গা থেকে সৎ কিনা। তাকে চেষ্টা করতে হবে নিরপেক্ষ হবার, তথ্য ও তত্ত্ব উপস্থাপনে বস্তুনিষ্ঠ হবার। এই সততার জায়গাটা না থাকলে তাকে আর কোন বিবেচনাতেই সাহিত্যিক বলতে চাই না। … ১৯৭৪ এর দূর্ভিক্ষের চিত্র যদি এতটা একতরফাভাবেই অংকন করা হয় তবে তা দুঃখজনক…একই কথা গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে… তিনি কি সেখানে ছিলেন, সেখানের মানুষদের সাথে কথা বলে দেখেছেন তারা কারা, কি চায়… যাচাই না করেই অন্ধভাবে পক্ষ অবলম্বন ও প্রচার– সমাজে আরো অশান্তি তৈরী করে…

      শামস স্যারকে ধন্যবাদ, আমাদের অগ্রীম সতর্ক করে দেবার জন্য।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Sultana Dilruba — december ৪, ২০১৩ @ ১:২০ অপরাহ্ন

      It requires a good deal of courage and audacity to do something in black and white, against Bangaabandhu Sheikh Mujibur Rahman, the universally accepted founder of Bangladesh.When a meritorious and talented writer like Neamat Imam does something of literature, as ‘The Black Coat” stands out,we get upstart to find how things go. On looking at the review of the book in bdnews24.com, titled “Blackmailing the Blackcoat’ by Shams Hoque, I observe that he has powerfully opposed the ideas of political blasphemy expressed in the book and attempted to vindicate the position of our great national leader. No doubt Mujib is not above criticism, but under no literary consideration he should be put under the attack of a so-called satire that Neamat Imam’s “The Black Coat’ attempts to do.The attitude and the style is the question because it sounds so much subversive to the honour of our nation and the great War of Liberation as a whole. Mujib is widely accepted in the world media as one of the six legendary assassinated leaders of the world. He deserves a literary treatment with certain nobility and civilized decency . Shams Hoque, while unveiling how Neamat Imam has attempted to blackmail the readers, has rightfully put before our eyes the extent of sub-standard satirical elements or literature that the book contains and the proportion of pamphleteering that it has done. I have read the comments above and the ones that Mr. Shourav has made proves the worth of Shams Hoque’s attempt to bring the truth to the fore.
      Congratulations to bdnews24.com and the rare reviewer, Shams Hoque, indeed!
      Sultana Dilruba

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Parisa — december ৪, ২০১৩ @ ১:৩৬ অপরাহ্ন

      ধন্যবাদ bdnews24.com-কে যে এরকম একটি প্রয়োজনীয় কাজ জন-সম্মুখে এনেছেন । ধন্যবাদ জনাব শামস হককেও, তিনি লেখক নেয়ামত ইমাম-এর উদ্দেশ্য নিয়ে সত্য উদঘাটনের জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেহেন। এ রকমটি সহসা আমাদের সাহিত্য অঙ্গনে দেখা জায় না। তাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ ।
      সৌরভ সাহেবের মত কু তর্ক এই সুন্দর intellectual debate টাকে যেন নষ্ট করতে না পারে, সে দিকটা সকলের খেয়াল রাখতে হবে। আমরা আমজনতার দল সেই সুন্দর কাজগুলোর জন্য অপেক্ষা করব।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Rahul Thakur — december ৪, ২০১৩ @ ১:৪১ অপরাহ্ন

      I am simply amazed to see how many viewers have already read the piece in 27 countries. Surely, the article has its own merits. I congratulate Shams Hoque for his courage to take the evil design of the book, The Black Coat to task when, according to the writer, intellectuals of Bangladesh have been refusing to review it despite his utmost efforts to convince them. Mr. Neamat Imam must thank the rare reviewer from the bottom of his heart.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Md. Nuruzzaman Shovon — december ৪, ২০১৩ @ ৩:২৮ অপরাহ্ন

      মহানদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে হৈ চৈ ফেলে নিজেকে বিখ্যাত করার অপসংস্কৃতি থেকে যে আমরা এখনো বের হতে পারিনি এটি তার অন্যতম উদাহরণ। শামস স্যারকে ধন্যবাদ তার ওই সাহসী কলমটি ব্যবহারের জন্য।যারা আমাদের সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে কলমের খোঁচায় বিদ্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে সত্যিকার কলম লিখে চলে অবিরত।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন umme Kulsum — december ৪, ২০১৩ @ ৪:১২ অপরাহ্ন

      Though i didn’t read the “Black Coat” i was intrigued to read the criticism. Neamat Imam was my teacher in University, a young, sharp, talented lecturer. No doubt its better to reflect on past root and history , but no one should hurl the goodness in us in the name of reincarnation of political thought. I wonder how could a literary person like him(Imam) afford such risk, or is it deliberate? Thanks Shams Haque for rear review!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Eiten — december ৪, ২০১৩ @ ১০:৫১ অপরাহ্ন

      বিখ্যাত মানুষদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার অস্বাভাবিক কিছু নয়। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই কিছু মানুষের (ভদ্রতার খাতিরে মানুষ লেখা ) সপ্নভঙ্গের অন্যতম কারণ কালো কোটের এক ভদ্রলোক যাকে তার দেশের আপামর জনতা ভালবেসে বঙ্গবন্ধু বলে ডাকে। তার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বহুবার। তাকে হেয় করার চেষ্টা হয়েছে বহুবার। সাম্প্রতিক সময়ে নেয়ামত ইমামের দ্যা ব্লাক কোট সেই প্রচেষ্টারই একটা অংশ বলে মনে হয়। আপাত দৃষ্টিতে হয়ত সেটা ধরা পরত না। শামস হককে ধন্যবাদ, তার দক্ষ বিশ্লেষণ চোখে আঙুল দিয়ে সত্যটা দেখিয়ে দিয়েছে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Arman — december ৫, ২০১৩ @ ১২:০০ পূর্বাহ্ন

      অসাধারণ একটি বিশ্লেষণ। এরকম একটি সাহসী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য শামস হককে অসংখ্য ধন্যবাদ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Nazrul — december ৫, ২০১৩ @ ১২:৪৯ অপরাহ্ন

      অসংখ্য পাঠক লেখাটি পড়ছেন এবং দারুণ দারুণ মন্তব্য করছেন দেখে উৎসাহ নিয়ে লেখাটি পড়লাম। না পড়লে অনেক খানি ভুল হত। একটি জরুরী লেখা পাঠকদেরকে উপহার দেবার জন্য শামস হককে ধন্ন্যবাদ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Shams Hoque — december ৫, ২০১৩ @ ৪:৩৪ অপরাহ্ন

      অতি সাধারণ একটি দায়বোধ থেকে লেখাটির জন্ম। আমার বিবেচনায়, বিষয়টি বাংলাদেশের জাতীয় মর্যাদার ব্যুহকে আঘাত করেছে।বইটি হাতে পেয়ে প্রায় দু’মাস অপেক্ষা করেছি কোনও প্রোথিতযশাঃ লেখক-বুদ্ধিজীবী-প্রতিস্ঠান কাজটি করবেন। জনাব ইমাম তাঁর সখেদভাষ্যে খবর দিয়েছেন যে, সে-কাজটি করতে কেউ রাজী হননি। অগত্যা অভাজনকেই এগিয়ে আসতে হল। যারা সময় নিয়ে লেখাটি পড়ছেন আর ধৈর্য নিয়ে মন্তব্য করছেন, তাঁদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আলোচনাটি বস্তুনিষ্ঠ এবং সুস্থ হোক- সেটিই আর সবার মত আমারও কাম্য।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Mostafa Tofayel — december ৫, ২০১৩ @ ৪:৫২ অপরাহ্ন

      I’m following the readers’ comments. I do hail Shams Hoque for the breakthrough. I would request artsbdnews24.com to shoot up the cover design of “The Black Coat” just below the title for first time readers to have an impression about the write-up readily. Certainly there are national institutions in Bangladesh who have a role to play in upholding the ideals of Bengali nationalism and those of the great War of Liberation of ‘71.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন salma — december ৫, ২০১৩ @ ১১:৫৩ অপরাহ্ন

      This was fantastic to see so many viewers showed interest in a short piece of writing on a controversial book. I reckon it would be worthwhile if Shams Hoque detailed about what a novel is and what does the book lack to be satire. But I congratulate Mr. Hoque for his success in drawing so many viewers for a genre(?) of writing which normally doesn’t succeed in drawing attention of the general readers. I wonder is it because there are political elements in the review as
      well?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Rahul Thakur — december ৫, ২০১৩ @ ১১:৫৭ অপরাহ্ন

      You are correct, Salma on your point of clarification on satire etc. I wonder why isn’t the one-eyed writer of the book, Mr. Imam, reacting?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Neamat Imam — december ৬, ২০১৩ @ ৫:০৭ পূর্বাহ্ন

      শামস হক:
      জাতীয়তাবাদীরা বর্হিশত্রুর হাত থেকে সমাজ মুক্ত করে, কিন্তু তারাই আবার মুক্ত সমাজের সবচেয়ে বড় শত্রু। এর মূল কারণ তারা সংরক্ষণবাদী। বাঙালি জাতীয়তাবাদীরাও এই নিয়মের বাইরে নয়। তারা তাদের ইতিহাস ও ভুমিকা সংরক্ষণ সম্পর্কে এত বেশি সচেতন যে মুক্ত বাংলাদেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিতে তারা মোটেই পিছ-পা হয় না। শামস হক, আপনিও এই ক্ষয়িষ্ণু জাতীয়তাবাদী সমাজের একটি অংশ এবং এই দৃষ্টিকোণ থেকেই পাঠ করেছেন আমার উপন্যাস ‘দি ব্ল্যাক কোট’। ক্ষয়িষ্ণু বলছি এই কারণেই যে, সব সংরক্ষণবাদী প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীই সময়ে অতীত হয়, যদিও চড়া মূল্যে, যার উদাহরণ হতে পারে মৃত সংস্কৃত ভাষার পৃষ্ঠপোষকগণ।

      বইটি প্রকাশের আগে, বা এমনকি এর রচনার কালে, আমি বাংলাদেশে এর আবেদন কেমন হবে সে ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন ছিলাম। এর সরাসরি প্রমাণ রয়েছে উপন্যাসটির এপিলগে। আমি জানতাম আমি বাংলাদেশের একমাত্র সঙ্ঘবদ্ধ বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর বিশ্বাস, আবেগ ও স্বার্থের বিপরীতে কাজ করছি। আমি জানতাম এই উপন্যাস লেখার কারণে আমি বাংলাদেশের একজন লেখক হিসেবে স্বীকৃতি পাবার সম্ভাবনাটিকে চিরতরে হারিয়ে দিচ্ছি। বাংলাদেশের মানুষ আমি। বাংলাদেশে লেখক হিসেবে গৃহীত না হলে আমার লেখক জীবনের আর কী গুরুত্ব থাকলো! তবু সব লেখককেই একদিন বড় সিদ্ধান্তটি নিতে হয়। আমি ভেবেছি, না, বাংলাদেশী সমাজের ইতিহাসের স্বচ্ছতা অর্জনের সাথে আমার লেখক হওয়া বা না হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই, আমার ব্যক্তিগত জীবনের সম্ভাবনা ও প্রাপ্তির চেয়ে বাংলাদেশের সুশীল ভবিষ্যৎ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যেভাবে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করবার পর একদিন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমাকে একজন অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করতে হবে এমন কোন কথা নেই।

      শামস হক দি ব্ল্যাক কোট উপন্যাসের কথক সাংবাদিক খালেক বিশ্বাসকে আলাদা করে বলেছেন আমিই হলাম সেই চরিত্র। অথচ খালেক ও শেখ মুজিবুর রহমানসহ বইটির প্রায় দেড় ডজন চরিত্রের সবগুলো আমারই সৃষ্টি। সে যা হোক, আমাকে লেখক হিসেবে আক্রমণ করবার জন্য তিনি উপন্যাসের চরিত্র খালেক বিশ্বাসকে অনুসরণ না করে অনুসরণ করেছেন আমাকে। আমি লন্ডন হয়ে কানাডায় গিয়েছি, কিন্তু খালেক বিশ্বাস শহীদ মিনার ছেড়ে চলে যায় পুলিশ স্টেশনে, নিজেকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে, যদিও শামস হক বলেছেন খালেক চলে যায় কানাডায়। মুক্ত দেশকে বিদায় জানিয়ে খালেক বেছে নেয় কারাগার, কারণ সে আবিষ্কার করে যে-ভুল সে চেপে ছিল মনের গহীনে, নূর হোসেনকে হত্যার কথা, তা জগতের কাছে প্রকাশ করা বা তার দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে তুলে নেয়া ছাড়া তার আর কোন মুক্তি নেই। বলা বাহুল্য, শামস হক বা বাঙালি জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী কোনদিনই খালেক বিশ্বাসের বোধের কাছাকাছিও আসতে পারবেন না। তারা আক্রমণ করবেন তাদের, এবং যে কোন উপায়ে আক্রমন করবেন, যারা তাদের ইতিহাসের রুঢ় সত্যগুলো সামনে তুলে ধরবে এবং কখনোই স্বীকার করবেন না যে একজন শেখ মুজিবুর রহমান তার শাসনকালে একটি জনগোষ্ঠীকে ক্ষুধার কাছে নতজানু করেছিলেন, একদলীয় শাসন ব্যবস্থার কাছে নতজানু করেছিলেন।

      শামস হক ’যশ-খ্যাতি অর্থ-বিত্ত কিংবা প্রভাব-প্রতিপত্তি’ অর্জনের কথা বলেছেন। এই ধারণা পোষণ করবার জন্য তাকে দোষ দিই না। বাংলাদেশী সমাজে একজন বুদ্ধিজীবীর নজর হয়তো এগুলোর দিকেই নির্দেশিত। তিনি তার চারপাশে যা দেখেছেন, তাই হয়তো বলেছেন। হয়তো তিনি মনে করেন এগুলোই একজন বুদ্ধিজীবীর প্রকৃত অর্জন। আমরা দেখি বুদ্ধি কিভাবে বেচা-কেনা হয় আমাদের সমাজে প্রতিদিন, কত ন্যাক্কারজনকভাবে। আমার মতে, বাংলাদেশে কোন বুদ্ধিজীবী নেই; থাকলে তার অবস্থান হতো কারাগারে, মুক্তাঙ্গণে নয়। এবং তা শুধু এই সরকারের সময়ে নয়, যে কোন সরকারের সময়ে। শামস হক নিজে বুদ্ধিজীবী হলে তার আমার বই পড়বার কথা ছিল না মোটেও। বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থায় তিনি জোর করে হলেও কারাগারে চলে যাবার একটি উপায় খুঁজে বের করতেন। না, ’যশ-খ্যাতি অর্থ-বিত্ত কিংবা প্রভাব-প্রতিপত্তি’ এগুলো আমার উদ্দেশ্য নয়; তাহলে আমি একটি উপন্যাস লিখবার জন্য বেয়াল্লিশ বছর অপেক্ষা করতাম না।

      বিদেশে বইটির যে আলোচনা হয়েছে তাতে শেখ মুজিবের আত্মাকে হত্যা করা সম্পর্কে কোন কথা বলা হয়নি বলে শামস হক আশ্চর্য হয়েছেন। কেনই বা বলা হবে? একটি উপন্যাসকে তারা উপন্যাস হিসেবে পড়েছেন, তারা সংরক্ষণবাদী মানসিকতার স্পর্শকাতর জাতীয়তাবাদী কর্মী নন। আমি শামস হকের সংক্ষিপ্ত জীবনীতে দেখি তিনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। একটি বইয়ের আলোচনায় আলোচনার শুরু বা শেষ কোথায় হবে তা সঠিকভাবে নির্দিষ্ট না করতে সক্ষম না হলে তিনি তার শিক্ষার্থীদের কোন বই বা বিষয় সম্পর্কে কিভাবে কী কথা বলবেন তা মনে করে ভয় হচ্ছে। ক্লাসরুমগুলো কি আজ তবে রাজনীতির রণক্ষেত্র? সেখানে কি আজ তবে বিদ্যার্জন ছেড়ে অন্ধ ও সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদীদের জন্ম দেয়া হয় শুধু, যে কাজটি থেকে দূরে থাকতে আমাদের বলেছেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ? (রবীন্দ্রনাথ ডগম্যাটিক জাতীয়তাবাদীদের থেকে মুক্তি চেয়েছেন বলেই হয়তো বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ওপরে স্থান দেয়।)

      মোস্তফা তোফায়েল:

      হ্যামলেট নাটকের মূল বক্তব্য রাজার যথেচ্ছাচারিতায় ইতি টানা; অজ্ঞতা, অপারগতা, অক্ষমতা বা কুসংস্কারের কথা বলে সে যথেচ্ছাচারিতাকে প্রলম্বিত করা নয়। মোস্তফা তোফায়েল, আপনি হ্যামলেট নাটকটি যেমন বোঝেননি, বোঝেননি ’দি ব্ল্যাক কোট‘ উপন্যাসের উদ্দেশ্য। আপনাকে দোষ দেব না। শেখ মুজিবের শাসনকালের মর্মার্থ ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর প্রভাব বুঝতে আমারও তিরিশ বছর লেগেছিল। আর আমাদের বাংলাদেশীদের অধিকাংশ মানুষ তা একেবারে না বুঝেই একদিন নিস্তব্ধ হয়ে যাবে।

      একজন প্রকৃত নাগরিক কিভাবে দেশের সেবা করবে? শেখ মুজিব দেশ স্বাধীন করেছিলেন, কিন্ত আবার তার রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা দিয়ে স্বাধীন দেশটিকে নতজানুও করেছিলেন। প্রকৃত নাগরিকের জন্য কি ইতিহাস ১৯৭১ সালে থেমে যাবে? সেটি কি প্রবাহিত হবে না আরো সামনে, ৭৪ বা ৭৫ সালের দিকে? ৭৪ থেকে ৭৫এর ১৫ আগষ্ট-এর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতি কিভাবে চলেছিল, তা কি আপনি জানেন? না, জানেন না। এই দোষ আপনার নয়। এই সময়টুকু নিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস নিরব। কারণ: শেখ মুজিব তখন শেখ মুজিব ছিলেন না, এবং বাংলাদেশের মানুষ মনে করে যে কোন অন্ধত্বের বিনিময়ে হলেও শেখ মুজিবের ইতিহাসকে রক্ষা করতে হবে।

      শ্যামল ভট্টাচার্য:

      না, আমার বাবা কোন ন্যাপ নেতা ছিলেন না এবং আমার বাড়িও নওগাঁতে নয়। শেখ মুজিব হত্যার ষড়যন্ত্রের সাথে আমাদের পরিবারের কোন সম্পর্ক নেই। জামায়াতে ইসলামীর তাত্ত্বিক নেতা হওয়া তো দূরের কথা, জানামতে দলটির কোন কর্মীর সাথেও আমার কোন পরিচয় নেই। আমি শুধু একজন সাধারণ মানুষ যে দেশের ইতিহাস বা রাজনীতি নিয়ে সঠিক প্রশ্নটি উত্থাপন করা তার কর্তব্য বলে মনে করে। বাংলাদেশ একটি মুক্ত দেশ; এই দেশ সম্পর্কে আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে সে প্রশ্ন নির্বিঘ্নে জনসমক্ষে ছুঁড়ে দেবার অধিকার আপনারও রয়েছে। এক্ষেত্রে আপনার বাবাকে কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত থাকতে হবে না বা কোন রাজনৈতিক দলের উচ্চপদস্থ নীতি-নির্ধারকও হতে হবে না। আপনার একার ব্যক্তি যোগ্যতাই যথেষ্ট। ঠিক এই শক্তিটিই ব্যবহার করেছে ‘দি ব্ল্যাক কোট’ উপন্যাসের চরিত্র নূর হোসেন।

      নুরুননবী শান্ত:

      আপনার মন্তব্যে ’সাহস’ শব্দটি রয়েছে, ‘সহিংসতা’ শব্দটি নেই, যদিও আপনি সেদিকেই ইঙ্গিত করছেন। বাংলাদেশের বর্তমান সহিংস রাজনীতি রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙ্গে ব্যক্তিতে সম্প্রসারিত হয়েছে বলেই সমাজটি ক্রমে আরো সহিংস হয়ে উঠছে। রাষ্ট্র তো কোন ছোট্ট্র গঞ্জে বা শহরের কোন বালককে কোন যাত্রীবাহী রিক্সার দিকে ঢিল ছুঁড়ে মারতে নির্দেশ দেয়নি, বা আপনাকেও শিখিয়ে দেয়নি একজন নেয়ামত ইমাম বাংলাদেশে বাস করলে আপনি কি করতে পারতেন তার ‘দুঃসাহসের’ জন্য! একদিন, যে কোনো একদিন, একজন নাগরিককে নিজের মনের কাছে ফিরে যেতে হয়, নিতান্ত নিরবে ভেবে দেখতে হয় সহিংসতার স্বরূপ। তখনই দেশ বা সমাজের উন্নতি করা সম্ভব। স্বাধীনতা সহিংস মানুষের জন্য নয়।

      হাছান আশিক রহমান:

      ১. “শঙ্কর যে অর্থ করিয়া গিয়াছেন, আমরা সহস্র বর্ষকাল সেই অর্থ গ্রহণ করিয়া আসিয়াছি, শঙ্করের ব্যাখ্যাই আমাদের বেদ, আমাদের উপনিষদ, কষ্ট করিয়া আসল উপনিষদ কে পড়ে? যদি পড়ি, শঙ্করের ব্যাখ্যার বিরোধী কোন ব্যাখ্যা দেখিলে আমরা তখনই তাহা ভুল বলিয়া প্রত্যাখ্যান করি।” - শ্রী অরবিন্দ, “উপনিষদ”, ১৯০৯

      ২. ব্যথা প্রকাশের ভাষা সবসময় একতরফাই হয়। কারণ সে ভাষাটি নির্মাণ করে ভূক্তভোগী। এই ভাষা বা বক্তব্যের সামনে দাঁড়িয়ে কেউ নিশ্চই বলতে পারে ব্যথাটি অবশ্যই তেমন তীব্র ছিল না। তাতে কি ব্যথা কিছুটা কমে যায়? কিন্তু ইতিহাসে ব্যথার অস্তিত্ব ও পরিধি নস্যাৎ করার চক্রান্ত সব সময়েই করে গেছে একটি গোষ্ঠী - সমাজের রাজনৈতিক গোষ্ঠী; তারা ধরে নিয়েছে ব্যথা অস্বীকার করার যোগ্যতার ওপরই শাসকের সফলতা ও দুর্বলতা নির্ভর করেছে এবং করছে। শেখ মুজিবকে সাধুবাদ; তিনি অন্তত নিজ মূখে বলেছিলেন ৭৪-সালে ২৭ হাজার বাংলাদেশী না খেয়ে মরেছিল। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে হাছান আশিকের মতো আমরা সবাই কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়াই কারো ব্যথার উপস্থিতি বা তীব্রতাকে অস্বীকার করতে প্রয়াস পাই। ‘পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’ - কেউ তো বলছে না সুকান্তের এই প্রকাশটি একতরফা ছিল!

      ৩. শাহবাগের বিশাল সমাবেশ নিয়ে স্পষ্ট করে বলতে চাই: আমি জীবনাবসানের বিপক্ষে। আমি জানি অনেক উন্নত দেশে জীবনাবসান এখনও চর্চিত হয় এবং এর পক্ষে যথেষ্ট যুক্তিও হয়তো রয়েছে। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে এটি সমর্থন করি না। আমি জানি শাহবাগের তরুণ প্রজন্ম যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চেয়েছে, এবং একই মত পোষণ করেছে বিভিন্ন বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ মানুষ। দেশের ষোল কোটি মানুষও যদি কোনো অপরাধীর জীবনাবসান প্রার্থনা করে পথে নামে, আমি আমার বিশ্বাসে অটল থাকবো। আমার বিরুদ্ধে কৃত কোন রুঢ়তম অপরাধের জন্য যদি কোনদিন হাছান আপনাকে বা আমার কোন প্রতিপক্ষকে আদালতে দাঁড়াতে হয়, এবং দেশে প্রচলিত জীবনাবসানের আইন যদি সেদিনও প্রচলিত থাকে, আপনারা নিশ্চিত থাকুন আমি নিজের উদ্যোগে আদালতের কাছে আপনাদের জীবন রক্ষা করার জন্য প্রার্থনা করবো, বলবো একটি অপরাধীর জীবন সাঙ্গ করে একটি সমাজকে কলুষমুক্ত করা যাবে না এবং যে কোনো অপরাধের ওপরে যে কোনো জীবনের স্থান।

      সুলতানা দিলরুবা:

      ‘দি ব্ল্যাক কোট’ উপন্যাসটির গল্প ১৯৭৪ এর দুর্ভিক্ষ এবং এর পরের কয়েকটি মাস। ১৯৭১ সালের শেখ মুজিব সম্পর্কে এতে কোন বক্তব্য নেই। শেখ মুজিব এই উপন্যাসের একটি চরিত্র মাত্র, এবং প্রধান চরিত্রও নয়। এই উপন্যাসের গল্পও তাকে ঘিরে নয়, বরং এই সময়ে বাস করা অন্য দুটি মানুষের মধ্যকার সম্পর্কের মানবিক টানাপোড়নের একটি চিত্র নিয়ে, যার মধ্য দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে সেই সময়ের সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থা ও এর জটিলতা। ইতিহাস ও সমাজ বিষয়ে কোন কোন প্রশ্ন নিতান্ত কদাকার হতে পারে। যেমন কখনো ভীষণভাবে কটু ঠেঁকতে পারে কোন কোন স্বাধীনতার চর্চা ও রূপ। বাংলাদেশের কোন রাজনীতিকের ব্যাপারে আমি মায়াগ্রস্ত নই এবং আমি বাংলাদেশে এমন একটি সমাজের আবির্ভাব কামনা করি যেখানে নাগরিকবৃন্দ কোন রাজনীতিকের ব্যাপারেই মায়াগ্রস্ত হবেন না। ইতিহাসে নেতা বা সেনাপতির ইতিহাসই সমাজের ইতিহাস হয়েছে, সাধারণ মানুষ থেকেছে ইতিহাসের বাইরে। আমি মনে করি এটি অন্যায়। নেতা সমাজের মানুষ এবং রাজনীতিতে চিরন্তনতা বলতে কোনকিছু নেই। যারা মনে করেন তা রয়েছে, তারা মেকি, বিকারগ্রস্ত, উদ্দেশ্যপূর্ণ; তারা শুধু অতীত বা বর্তমান নয়, ভবিষ্যতকেও বিকারগ্রস্ত করতে চায়। জাতির ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে কি জাতিকে সর্বোচ্চভাবে সেবা করা বা সম্মাণ প্রদর্শন করা সম্ভব? আমার দেশে আমি মেকি নাগরিক চাই না। কষ্টের বিষয় এই যে শিক্ষাঙ্গন থেকে গণমাধ্যম, রাজনীতি বা সরকার পর্যন্ত আজকের বাংলাদেশ মেকি নাগরিকে ভরপুর। সুলাতানা দিলরুবা, আপনি নিশ্চই জানেন একটি প্রশ্নকে সাবভার্সিব মনে করা হয় তখনই যখন তা গৃহিত বা চর্চিত প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে এবং সাবভার্সিব শব্দটি কোন সুনাগরিকের অভিধানে নেই, এটি রয়েছে সমাজ-নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্রযন্ত্রের অভিধানে। আপনি কি ব্যক্তিগতভাবে রাষ্ট্রের এজেন্ট, নাগরিকের অধিকার নিয়ন্ত্রণের কলকাঠি? আমার আদর্শ সমাজে সাবভার্সিব বলতে কোন শব্দ নেই। আমার আদর্শ সমাজে একটি অনাকাঙ্খিত প্রশ্নের উত্তর প্রদান বা তা বিশ্লেষণ করবার মাধ্যমেই বুদ্ধির মুক্তি ঘটে এবং নাগরিক অধিকতর সুশীল অবস্থার দিকে অগ্রসর হয়।

      পারিসা:

      জনাব সৌরভের মন্তব্যের ভাষাটি কুৎসিত। জনাব সৌরভের সাথে কোন বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক সম্ভব নয়। তিনি অন্ধ-রাজনীতির অন্য অনেকের মত একই দুর্বিসহ ও অনাকাঙ্খিত মেরুকরণে বিশ্বাসী।

      রাহুল ঠাকুর:

      বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবীদের বা সমালোচকদের সমস্যা এই নয় যে তারা সঠিকভাবে চিন্তা করতে পারে না; তাদের সমস্যা এই যে তারা যা চিন্তা করে তা নির্ভয়ে উচ্চারণ করতে পারে না। ‘দি ব্ল্যাক কোট’ সম্পর্কে কথা বলবার সময়টি বাংলাদেশে এখনো ফুরিয়ে যায়নি। সময়টি মাত্র শুরু হলো বলে মনে করি। আমি নিশ্চিত বইটি একদিন বাংলা ভাষায় কেউ প্রকাশ করবেন এবং এটি তখন ইংরেজি জানা এলিট বাংলাদেশীদের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে সাধারণ বাংলাদেশীদের হাতে পড়বে। এলিট বাংলাদেশীরা ৭৪ বা ৭৫ সালে দুর্ভিক্ষে কষ্ট পায়নি, তারা সামরিক শাসকদের সময়েও কষ্ট পায়নি; তারা কিভাবে বুঝবে দুর্ভিক্ষের তীব্রতা কেমন ছিল? অনেক পাঠকের কাছ থেকেই আমি ব্যক্তিগতভাবে শুনি, যারা জনাব হকের আলোচনার শেষে মন্তব্য জুড়ে দেননি। বাংলায় বেরোলে বইটি কতজন পাঠক গ্রহণ করবেন তা নিয়ে আমি চিন্তিত নই, আমি চিন্তিত এই ভেবে যে একদিন কোন নাম না জানা গ্রামের একজন পাঠক বইটি পড়ে তার নিজস্ব প্রশ্নটি উচ্চারণ করার মত সাহসী হয়ে উঠবেন এবং তারপর তার জীবনটি পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়ে যাবে, কারণ তাকে বসবাস করতে হবে এমন একটি সমাজে যেখানে বসবাস করছেন আপনি, জনাব হক, বা বর্তমানের রাষ্ট্রযন্ত্র। আমি তার নিরাপত্তার ব্যাপারে চিন্তিত। শহীদ নূর হোসেন সাধারণ ঘরের মানুষ ছিলেন, ‘দি ব্ল্যাক কোট’ উপন্যাসের নূর হোসেনও সাধারণ ঘরের ছেলে। আমার উদ্দেশ্য তারাই, আর তারাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। রাজনৈতিক মেরুকরণে সিদ্ধ আরামপ্রিয় শহরবাসী দিয়ে সমাজ পরিবর্তিত হয় না।

      নুরুজ্জামান শোভন:

      কলম খুবই মূল্যবাণ; শব্দ খুবই মূল্যবাণ। কেউ কলম দিয়ে মিথ তৈরি করে, কেউ তা দিয়ে সে মিথ রক্ষা করে, আবার কেউ সেই একই কলম দিয়ে মিথ বাস্ট করে। আপনি আপনার ভূমিকা বেছে নিন। যারা মহান তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে তাদেরকে কেউ অ-মহান করতে পারবে না। আপনার ভয় পাবার দরকার নেই। কিন্তু এই কথা তো কোন মহান ব্যক্তিকেই বলতে শুনিনি যে তাদের জীবনকে বিশ্লেষণ করা যাবে না? আর একথাও শুনিনি যে একজন মহানকে অভিযুক্ত করে কোন কালে কোন অ-মহান মহান হয়েছে! লেখক হিসেবে নাম চাইলে আমি গত বিশ বছরে বিশটি বই লিখতাম আর এর সবগুলোর শিরোণামে কোনো না কোনো ভাবে অর্পন করতাম শেখ মুজিবুর রহমানের নাম।

      উম্মে কুলসুম:

      উম্মে, সুখের বিষয় এই যে এখন আমি আর আপনার বা আর কোনো শিক্ষার্থীর সরাসরি শিক্ষক নই। কি করতাম আমি আজ, যদি আপনি একশ শিক্ষার্থীর সামনে কোন শ্রেণীকক্ষে কোন সুযোগে একজন অসংরক্ষণশীল বিদ্যার্থীর মতো আমাকে জিজ্ঞেস করতেন ঠিক কতজন বাংলাদেশী একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন? বিশ্বদ্যিালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমার কাছে আপনি নিশ্চই একটি মনগড়া উত্তর চাইতেন না। আপনি চাইতেন একটি সিরিয়াস উত্তর, চাইতেন একটি বক্তব্য যেটি উদ্বৃতি করা যায়। আমার জন্য তখন দুটি পথ খোলা থাকতো। আমি আপনাকে বলতে পারতাম এই প্রশ্নের উত্তর জানা আপনার জন্য অপরিহার্য নয়, বা প্রশ্নটি পাঠ্যবিষয়ের বাইরে, বা প্রশ্নটি রাজনৈতিক এবং আমি শুধু একজন সাহিত্যের শিক্ষক এবং সেজন্য প্রশ্নটির উত্তর যোগান দিতে মোটেই বাধ্য নই, বা প্রশ্নটির আদতে কোন উত্তর হয় না কারণ প্রশ্নটি হয় না কোন প্রশ্ন যেহেতু কতজন বাংলাদেশী প্রাণ হারিয়েছেন তা এখন অপ্রাসঙ্গিক যেহেতু আমরা এখন স্বাধীন। আপনার গলার স্বরের চেয়ে আরো গভীর বা উঁচু স্বরে কথা বলে আমি আপনাকে এমনভাবে চুপ করিয়ে দিতে পারতাম যাতে আপনি আপনার শিক্ষাজীবনের আর কোন কালে শুধু আমার কাছে নয়, আপনার যে কোন শিক্ষকের কাছে কোন প্রশ্ন নিয়ে আর হাজির না হন। দ্বিতীয় পথটি হতো আপনার প্রশ্নের উত্তর দেয়া, আপনাকে সহজভাবে বলা এই বিষয়ে আমি যা জানি বা অন্যরা যা জানে বা যা শিখেছে: মুক্তিযুদ্ধে তিরিশ লক্ষ বাংলাদেশী নিহত হয়েছিলেন। আপনি তখন আমাকে জিজ্ঞেস করতেন এই তথ্যের ব্যাপারে আমার উৎসটি কী। আমি বলতাম, শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তব্য। আপনি অনুসন্ধিৎসু শিক্ষার্থী, আপনি আমাকে আবার প্রশ্ন করতেন, শেখ মুজিব কোথায় পেলেন তথ্যটি, তিনি কি কোন জার্নাল পড়েছিলেন, বা কোন কমিশন কি তাকে এই তথ্যটি দিয়েছিল? আমি তখন আপনাকে দুটি উত্তর দিতে পারতাম: ১. শেখ মুজিব চিরায়ত নেতা, কোন তথ্য সরবরাহ করতে তার কোন তথ্যসূত্র সরবরাহ করতে হয় না এবং তিনি যা বলেন তাই তথ্য হিসেবে উদ্বৃত করার যোগ্য এবং বাংলাদেশের ইতিহাস বিষয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদী গবেষকদের এর বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই; ২. আমি বলতাম আমি দুঃখিত যে আপনাকে আমি একটি ভুল তথ্য সরবরাহ করেছি, শিক্ষক হিসেবে তা করা আমার মোটেই উচিত হয়নি; শিক্ষক হিসেবে আমার দায়িত্ব ছিল শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর সরবরাহ করা এবং সেজনই আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ করা হয়েছে, আপনি এখন দয়া করে এবং অতি সত্ত্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের কাছে আমার অক্ষমতা ও পেশাগত অসততা বিষয়ে একটি অনুযোগপত্র জমা দিন। উম্মে কুলসুম, আমি আজ নির্বোধভাবে খুশি যে আমাকে বা আপনাকে এই দীর্ঘ বা ঝঞ্জাবহুল প্রক্রিয়াটির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়নি। আমার আর শিক্ষক হবার সম্ভাবনা বা সাধ নেই, কিন্তু আপনার যদি আজ কোন শিক্ষক থাকে, বা প্রাক্তন কোন শিক্ষকের দেখা যদি পান, পথে-ঘাটে-বাজারে, এবং কথা বলার মত দুএক মিনিট সময় থাকে হাতে, আপনি নিশ্চই প্রশ্নটি তাকে করবেন; এবং আপনি ততক্ষণ পর্যন্ত প্রশ্ন করা থামাবেন না যতক্ষণ প্রকৃতই মনে করবেন আপনার বিষয়টি সুচারুভাবে এবং পর্যাপ্তভাবে জানা হয়েছে। তারপর আপনি আমার কাছে আপনার অভিজ্ঞতার কথা লিখবেন, যাতে আপনার হাত ধরে আমিও আলোকিত হতে পারি। আপনি আমাকে লিখতে পারেন এখানে:
      neamatimam@yahoo.com

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Ahnaf Istiaq — december ৬, ২০১৩ @ ১২:১৮ অপরাহ্ন

      জনাব শামস হক, সত্য অর্ধেক প্রকাশ করা আর সত্য গোপন করা যে এক, সেটা কি আপনি বোঝেন? খুব চমৎকার মূল্যায়ন করেছেন আপনি দ্যা ব্লাক কোট এর। কেমন সে মূল্যায়ন? আপনি একটা পুরো বাক্যের অর্ধেক এখানে উল্লেখ করেছেন….”“How could Sheikh Mujub say….at least 3 million people died in the war when the actual number was less than three hundred thousand?”
      অথচ পুরো বাক্য হলো, ..How could Sheikh Mujib say only twenty-seven thousand people have died in the famine,’ he said ‘when the actual number is over a million and a half, and at least three million people died in the liberation war when the actual number was less than three hundred thousand? How could he do that? Does he, then, love Bangladeshis when others come to kill them because he cannot kill them, and hate Bangladeshi when he himself is killing them because he cannot hate himseld? ….
      বইতে সে সময়ের মানুষের অনুভূতিকে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথমেই স্বীকার করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা, একজন অসামান্য নেতা হিসেবে। এবং মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে তার আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা যখন মানুষ তাকে দেবতার মত পূজনীয় মান্য করতো। মানুষের জবানীতেই লেখক তুলে এনেছেন ……” They all believed in the leadership of Sheikh Mujib. All of them believed that if the country were not free now, under his direction, it would never be free.Some said they didi not go war for the country; they went for him. They did not know what they were doing; he said they must go and they did. One old man, whom i met on a ferry on the Buriganga, gave me an absolute answer. ‘If he call upon you, you can’t just say no, or say you’re afraid to die,’ he said. ‘It is impossible. “………”he told me he had heard the voice of Sheikh Mujib in the fall of the waves
      and in the sound of the thunder’ that helped him overcome his fear during the battle”
      ……”but you may believe in God. At this moment I can only tell you that if you believe in God
      you must believe in Sheik Mujib”
      জনাব শামস হক, আপনি আপনার চতুর লেখনীতে নেয়ামাত ইমামকে হয়তো ঘায়েল করতে পারবেন, কিন্তু ১৫ লক্ষ বনী আদমের মর্মান্তিক মৃত্যুকে কি অস্বীকার করতে পারবেন? তাকে স্বাধীনতাবিরোধী, হেন-তেন যা ইচ্ছা বলেন, দুর্ভিক্ষের জন্য আমেরিকা, চীন, রাশিয়া এবং অজানা কারণে সাহায্য করতে অপারগ ভারতকে দায়ী করতে পারেন……..এতে হয়তো আমাদের মত তরুণরা বিভ্রান্ত হবে কিন্তু তখন যারা ছিলেন তারা ঠিকই জানেন যে লক্ষ লক্ষ মেট্রিকটন খাদ্যের যে বিদেশ সাহায্য কিভাবে আওয়ামীলীগ নেতারা মজুত করেছিলো। কিভাবে তারা এই বিদেশী সাহায্যকে কাজে লাগিয়ে টাকা কামাই করেছিলো। বলা হয় যে, যে পরিমাণ সাহায্য এসেছিলো তাকে ১০ কোটি মানুষকে খাওয়ানো সম্ভব ছিলো। এই দুর্ভিক্ষ মানবসৃষ্ট এবং তার দায় রাষ্ট্রের অভিভাবকের কাঁধেই বর্তায়। এই গণমৃত্যুই বঙ্গবন্ধুর পতনের জন্য দায়ী। যার ফলে তার মৃত্যুর পরে জানাজা পড়ার মত মানুষ্ও পাওয়া যায়নি। আজ কথার চাতুরীতে সত্যকে অথবা ইতিহাসকে আড়ালের চেষ্টা করছেন। সত্য সত্যই। যারা বইটা পড়েছেন তারা ঠিকই জানবেন, লেখক কি বলতে চেয়েছেন এবং কেন চেয়েছেন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন towfique hossain — december ৬, ২০১৩ @ ১১:৩০ অপরাহ্ন

      Thank you Sir for giving a good opportunity to know about such a great matter. It’s really very shame for us to know anything bad about a person like SHEIKH MUJIBOR RAHMAN.We should respect him always as he is our national father.And must tell the right things about him to our new generation.Thus they can know the real story.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন hasan ashik rahman — december ৭, ২০১৩ @ ১২:২৫ অপরাহ্ন

      আমাকে দেওয়া উত্তরের দ্বিতীয় অংশের শুরুতে লিখলেন, “ব্যথা প্রকাশের ভাষা একতরফাই হয়।”

      তৃতীয় অংশের বক্তব্য হলোঃ জীবনাবসানের মত সাজা আপনি সমর্থন করেন না। তাই শাহবাগ আন্দোলনেও হয়তো আপনার সমর্থন নেই।

      আপনাকে আপনার কথাই ফিরিয়ে দিতে চাই, ” ব্যথা প্রকাশের ভাষা সবসময় একতরফাই হয়। কারণ সে ভাষাটি নির্মাণ করে ভূক্তভোগী। এই ভাষা বা বক্তব্যের সামনে দাঁড়িয়ে কেউ নিশ্চই বলতে পারে ব্যথাটি অবশ্যই তেমন তীব্র ছিল না। তাতে কি ব্যথা কিছুটা কমে যায়? কিন্তু ইতিহাসে ব্যথার অস্তিত্ব ও পরিধি নস্যাৎ করার চক্রান্ত সব সময়েই করে গেছে একটি গোষ্ঠী…”

      আশা করি উত্তর পেয়েছেন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আহমদ ফখর কামাল — december ৮, ২০১৩ @ ৮:১৫ অপরাহ্ন

      একাত্তর ও পঁচাত্তরের ঘাতকদের সমর্থকরা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বাঁচানোর চেষ্টার অংশ হিসেবে স্বাধীনতা পরবর্তী নবীন আ.লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে যোগ দেয়ায় চুয়াত্তর সালের খাদ্য সংকট মোকাবিলা করা যায়নি। সেই সময় মানবতাবিরোধী অপরাধী গোলাম আযম লন্ডনে বসে বাংলাদেশে মসজিদ নির্মানের জন্য সৌদি আরব থেকে টাকা সংগ্রহ করলেও দেশের খাদ্য সংকটে সাহায্যের সামান্যতম চেষ্টাও করেননি। এখন যেভাবে নামে-বেনামে বিশ্বের নানা দেশের মানুষের জন্য অর্থ সংগ্রহে ঝাপিয়ে পড়েন [যদিও ওইসব অর্থের সঠিক ব্যায় নিয়ে অনেক সন্দেহ আছে], সেইভাবে যদি সামান্য চেষ্টা হত তাহলে দূর্ভিক্ষটা এড়ানো যেত।….পঁচাত্তরের ঘাতকদের মত একাত্তরের ঘাতকদের নির্মূল করা গেলে আমার মনে হয় ওই দুই দল ঘাতকের সহায়ক সব প্রকাশনা আবর্জনার স্তুপেই জমা হবে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাওয়াদ জাহিদ — december ৯, ২০১৩ @ ৩:৩১ অপরাহ্ন

      The most befitting response to the author would have been an absolute silence. Because, he is not worth giving time and space for publicity. But then, his claim that intellectuals of Bangladesh do not dare writing in his support would remain unchallenged.

      So, thanks Mr. Haque for carrying out a sacred responsibility on behalf of us.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Mostafa Tofayel — december ৯, ২০১৩ @ ৬:২২ অপরাহ্ন

      প্রসঙ্গ নিয়ামত ইমামের দি ব্লাক কোট

      এক। নিয়ামত ইমামের দি ব্লাক কোট এর উপর শামস হকের আলোচনা নিয়ে আমার প্রতিক্রিয়ায় আমি নিয়ামতের দি ব্লাক কোট ছদ্ম আবরণ বা ছদ্মবেশ বলতে চেয়েছি। ‘ব্লাক কোট’ শব্দ-বন্ধের অন্তরালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকাল আলোচনা লেখক নিয়ামত ইমামের উদ্দেশ্য। বইটির লেখক তাঁর এ-উদ্দেশ্য অস্বীকার করেন নি। তিনি সততার সাথে তা স্পষ্ট করেছেন। আমি আমার বক্তব্যে ‘ছদ্ম আবরণ’ বুঝাতেই ‘Antic disposition’ কথাটা হ্যামলেট নাটক থেকে ধার করেছি। হ্যামলেট নাটকের কোনো ব্যাখ্যাতেই আমি যাইনি। প্রতিক্রিয়া-বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত পরিসরের শেষে আমি বলতে চেয়েছি যে দি ব্লাক কোট বইটিতে লেখকের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আবিষ্কার করা সম্ভব; বইয়ের পাঠের মধ্যেই লেখক লুকিয়ে আছেন। এই বক্তব্যটা তুলে ধরতে গিয়ে আমি আবারও হ্যামলেট-উক্তি ব্যবহার করে বলেছি : ‘‘The play is the thing/wherein I’ll catch the conscience of the king”। সেখানে ‘Play’ বলতে আমি নিয়ামত ইমামের বই দি ব্লাক কোটকে ইংগিত করেছি। এ-ছাড়া শেক্সপিয়রের হ্যামলেট নাটকের বিষয়বস্তু নিয়ে উক্ত প্রতিক্রিয়ায় কোনো আলোচনার অবকাশ থাকেও না, আমি সে দিকে একেবারেই যাইনি।

      দুই । হ্যামলেট নাটকের থীম্ সম্পর্কে এই পরিসরে বড়ো বড়ো কথা বলা অপ্রাসঙ্গিক। তবু নিয়ামত ইমাম হ্যামলেট-এর থীম্ সম্পর্কে যা বলেছেন, তা আমি সমর্থন করি। Right to Property and inheritance এর মতো একটি আধুনিক বিষয় এখানে আছে এবং এ নিয়ে আমার কাজও চলছে। হ্যামলেটের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যাও একটি বিষয়। একটি বিশেষ দর্শনের চর্চা এর Soliloquyগুলোতে পাওয়া যায়। সে এক দীর্ঘ বয়ান। আমিও নিয়ামত ইমামকে পাল্টা জবাবে বলতে পারতাম যে তিনি হ্যামলেট নাটকে মাত্র একটি থীম আছে বলেছেন, সুতরাং এ-সম্পর্কে তার পড়াশুনা সীমিত! কিন্তু এরকম আচরণ আমার স্বভাব-বিরুদ্ধ। কারও কোনো উগ্র আচরণেই আমি সংক্ষুব্ধ হই না।
      তিন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সহপাঠীদের মধ্যে দু’জন ছিলেন শেক্সপিয়ার বিষয়ে পন্ডিত। এর মধ্যে ড. আলী আরিফুর রহমান শেক্সপিয়ার বিষয়ে ডক্টরেট করেছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ওয়াকিফহাল অধ্যাপক মহলে সুখ্যাত ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সম্পাদিত ইংরেজি বিভাগীয় জর্নালে হ্যামলেট এর ‘To Be Or Not To Be ’ নিয়ে আমার একটি প্রবন্ধের প্রশংসা করেছিলেন তিনি। অপর শেক্সপিয়ার বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. এনামুল হক আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। ১৯৭৪-৭৬ সময়কালে আমরা সতীর্থ ছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির প্রফেসর ড. খোন্দকার আশরাফ হোসেন কাব্যচর্চার সূত্রে আমার বন্ধু ছিলেন। এই তিন জনই সম্প্রতি প্রয়াত। নিয়ামত ইমাম এদের কারও ছাত্র ছিলেন কি-না, আমি নিশ্চিত নই। আমি একদা সরকারী কলেজ পর্যায়ে ইংরেজির শিক্ষক ছিলাম বিধায় অপরিচিত কাউকে আচমকা ধাক্কা দেওয়া শোভন মনে করি না।
      চার। বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আমার দেশপ্রেমের অংশ। যদি কখনো কোনো কারণে দেশপ্রেম আমার চরিত্র থেকে লোপ পেয়ে যায়, সেদিন যেন একই সাথে আমার মাতৃভক্তিও বিলুপ্ত হয় এবং আমি সন্তর্পণে দেশ-ত্যাগ করি!
      পাঁচ। কথাসাহিত্যে উপন্যাসের সংজ্ঞায়নে উইকিপিডিয়ায় বলা হয়েছে: কোনো লেখক উপন্যাসে রটনাধর্মী তথ্য-উপাত্তের সমাবেশ ঘটাতে পারেন, তথ্যের বিকৃতি ঘটানোর সুযোগও তার লেখনীর সামনে খোলা আছে। তবে ঝুঁকি তৈরি হয়ে যায় তখন, যখন সে-উপন্যাসটি সাহিত্য জগতের নবতর অঙ্গনে স্বকীয় সাফল্যে বিশিষ্ট হয়ে না ওঠে। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের উপন্যাসকে প্রতিযোগিতা করে টিকে যেতে হয় শৈল্পিক ও উদ্ভাবনী উৎকর্ষের স্বাক্ষর রেখে, ইতিহাসের তথ্য-পরিসংখ্যানের গড়াপেটা দিয়ে নয় (“It may relate facts with scandalous accuracy, or distort them; yet one can ignore any such work as worthless if it does not try to be an achievement in the new field of literary works. It has to compete with works of art and invention, not with factual accounts of history”.)।
      ছয় । নিয়ামত ইমাম বলেছেন যে, বাংলাদেশে কোনো বুদ্ধিজীবী নেই। বাংলাদেশের সুধী সমাজকে বুদ্ধিজীবী বানানোর প্রক্রিয়া হিসেবে দি ব্লাক কোট নামক বইটিতে ইতিহাসের তথ্য-পরিসংখ্যানকে তিনি যেভাবে গড়াপেটা করেছেন, তাতে আশংকা হয় যে কথাসাহিত্যের মর্যাদা হারিয়ে এটি শেষ অবধি একটি প্রচারপত্র হয়ে না দাঁড়ায়! রুডিয়ার্ড কিপলিঙ ও অ্যামেরি ওয়ালপো-ই ছিলেন সবচেয়ে বেশি ভারতবর্ষ-বিদ্বেষী, কারণ তাঁদের জন্ম ছিল ভারতবর্ষে। প্রফেসর রেহমান সোবহানের বুদ্ধিজীবীসুলভ ভূমিকা ও অবদান জানেন না অথবা নিয়ামত ইমাম মেনে নিতে পারেন না বিধায় তিনি বলেন যে বাংলাদেশে কোনো বুদ্ধিজীবী নেই।
      সাত। কবি বিনয় বর্মন আমাকে বলেছেন যে তিনি প্রতিভাবান মানুষ। আমি তাঁর প্রতিভার দীপ্তি প্রত্যাশা করি, যার প্রকাশ বিনয়ে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Sultana Dilruba — december ১০, ২০১৩ @ ১১:২০ অপরাহ্ন

      I have looked at writer Neamot Imam’s response to my comments on Mr. Hoque’s review of his The Black Coat.I understand that a further comprehension of the themes of the book is yet to be had.Mr. Imam is far in advance of our time.He lives in an idealistic society where there is no room for a national hero like Sheikh Mujibur Rahman and no scope to waste away time for hero worship.Added to this, Mr imam has advised to forget about the legendary events of 1971 that are epoch-making.As a matter -of- fact,epic events like that of creation of a new state can hardly be blotted out from the memory when eighty percent of the participants of the great and blissful time are living in the society.Our hero worship mindset too,is a by-product of the same history.His views and notions,though common mass- oriented,will look utopean.He is too ambitious to push forward those views.The writer-reader gap may widen so much so that informations and statistics provided in the book will look fabricated and motivated,and even propaganda against the common cult.Since Mr. Imam is a talented thinker and promising writer, he should take into consideration the 71 factor and the peoples belief.Better he writes essays and tries to convince the educated and the intellectuals first about how he thinks the more rightful way.None is infallible,including myself.Thanks.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন shams Hoque — december ১১, ২০১৩ @ ৪:৩৯ অপরাহ্ন

      হাসান আশিক, আহমদ ফখর কামাল, মোস্তফা তফায়েল, সুলতানা দিলরুবা- আপনারা এখনও প্রতিক্রিয়া শুধু পড়ছেনই না, প্রতিক্রিয়া ব্যক্তও করছেন দেখে আমার লেখাটির সার্থকতা খুঁজে পাচ্ছি । আমি আরও কিছু মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রইলাম শেষ মন্তব্যটি করবার আশায়। সকলকে ধন্যবাদ আন্তরিক ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Parisa — december ১১, ২০১৩ @ ৬:২৬ অপরাহ্ন

      If a copy of The Black Coat could be available in Dhaka,I and many of my friends might have collected copy of it and have thorough reading to see how much of history and of fiction are there in the book.I have that much curiosity.But,so far as the reviewer Shams Hoque has made it public, there is a great deal of statistical information in the book which may create anxiety, and may perturb the close attention and entertainment which the readers deserve to enjoy.Shams Hoque has called it autobiographical; I would rather like to see it as semi-autobiographical.Mr. Imam has,most probably intended to create a Byronic anti-hero character in his fiction.The character of Noor Hossain may be the anti-hero,framed in line with Byron’s Child harold’s Pilgimage.In that book,too, the anti-hero is cynical,moody and proud-with defiance on his brow and misery in his heart he is a scorner of the establishment.But,sorry,sir-we do not have a bookmart in our city so as to buy it.Thanks.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন shams Hoque — december ১২, ২০১৩ @ ২:২৩ অপরাহ্ন

      Dear Parisa, please make no mistake in referring to what others say or write. I haven’t called the book “autobiographical” at all. Oblique references may be deduced from the discussion that there are touches of the experiences of the author or, some ideals that s/he may have attempted to uphold. However, thank you taking time to show your reaction to the article.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন shams Hoque — december ১২, ২০১৩ @ ৩:২৫ অপরাহ্ন

      PS: Sorry, there was a small mistake in my response to Parisa. My response above will read as follows:
      “Dear Parisa, please make no mistake in referring to what others say or write. I haven’t called the book “autobiographical” at all. Oblique references may be deduced from the discussion that there are touches of the life experiences of the author or, some ideals that he may have attempted to uphold through the book. However, thank you for taking time to show your reaction to the article.”

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Shams Araffin — december ২১, ২০১৩ @ ৯:১৭ পূর্বাহ্ন

      An excellent writing against the heinous step of Niamot Imam but the definition of the satire demand clean explanation to prove that either in satire or in literature this book has nothing to achieve.

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us  |  Bangla Font Help

© bdnews24.com