বনলতা সেনের ‘চোখ’-এ নজরুলের ‘আঁখি’

রাজু আলাউদ্দিন | ২৮ আগস্ট ২০১৩ ৮:১৩ অপরাহ্ন

(এই লেখাটি তরুণ কবি সোহেল হাসান গালিবকে উৎসর্গ করা হলো)

সাহিত্যের বিকাশের ক্ষেত্রে পরম্পরা, প্রভাব ও মৌলিকতা এতই যুগপৎ ও অনিবার্য বিষয় যে এ নিয়ে নতুন করে কিছু না বললেও পাঠক এর সত্যতা স্বীকার করে নেবেন। আপাতভাবে যত উদ্ভট আর নতুনই মনে হোক না কেন, প্রত্যেক লেখক বহন করেন পরম্পরার স্বাস্থ্যকর সংক্রাম।

জীবনানন্দের উত্থানকালেই তার পূর্ব-পুরুষদের রক্তের উজ্জল স্পন্দনকে শনাক্ত করা হয়েছিলো ঝরাপালক-এ এবং পরবর্তী কাব্যগ্রন্থ ধুসর পাণ্ডুলিপিতেও। সেকালে রবীন্দ্রনাথের পরিবর্তে বরং নজরুল, সত্যেন দত্ত এবং মোহিতলাল কেন তার পূর্বসূরী হয়ে উঠেছিলেন তার ব্যাখ্যাও আছে। অন্তত প্রথম কাব্যগ্রন্থটিতে তিনি নজরুল ও সত্যেন দত্তের মানবিক প্রণোদনা এবং ছন্দস্পনকে আত্মোৎসারের অনুকূল মনে করেছিলেন। এই গ্রন্থের পর স্বভাবের বড় ধরনের বাঁক আমরা লক্ষ্য করি ধুসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন, সাতটি তারার তিমিরবেলা অবেলা কাল বেলায়।

কিন্তু তবু এই স্বকীয়তা সত্ত্বেও তিনি কোনো কোনো কবিতায়, বা আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে, বিশেষ কোনো কবিতার আলংকারিক নির্মাণ প্রক্রিয়ায় নজরুলকে সঙ্গী করে এগিয়ে গেছেন অন্তত বনলতা সেন পর্যন্ত।
nazrul-join.jpg
জীবনানন্দ দাশের উপর নজরুলের প্রভাবের বিশদ বিবরণ যে-কেউ জীবনানন্দ-নজরুল গবেষকদের লেখায় পাবেন। কিন্তু জীবনানন্দের ‘বনলতা সেন’ কবিতাটিতে নজরুলের আলংকারিক ছায়ার কথা কেউ-ই এ পর্যন্ত কেন উল্লেখ করেননি সেটা আমার কাছে এখনও বোধগম্য নয়।

যদিও এই কবিতায় বিদেশী (বিশেষ করে এ্যালান পোর To Helen কবিতাটির) প্রভাবের বিস্তর আলোচনা হয়েছে। তবে এখনই স্বীকার করে নেয়া ভালো যে এই কবিতার স্বকীয়তা ও মৌলিকতার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাবই শেষ পর্যন্ত বাঁধা হয়ে তো দাঁড়ায়ই নি; বরং প্রভাবের সমস্ত উপকরণ নিয়েই এটি হয়ে উঠেছে বাংলা কবিতার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী রচনা।

তবু সাহিত্যের পরম্পরা বুঝে নেয়ার স্বার্থেই এই কবিতার সঙ্গে নজরুলের সম্পর্কটি আমাদের কাছে স্পষ্ট হওয়া জরুরী। জীবনানন্দ-অনুরাগী এবং গবেষক কবি ভূমেন্দ্র গুহ সম্পাদিত এবং প্রতিক্ষণ থেকে প্রকাশিত পান্ডুলিপির কবিতা-২ আমাদের জানাচ্ছে যে ‘বনলতা সেন’ রচিত হয়েছিলো ১৯৩৪ সালে এবং এটি পরে দুই বছরের ব্যবধানে ১৯৩৬ সালে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। আর বললতা সেন বইয়ে এটি গ্রন্থবদ্ধ হয়ে প্রকাশিত হয় আরও অনেক পরে, ১৯৪২ সালের ডিসেম্বরে, অর্থাৎ বাংলা ১৩৪৯ সালের পৌষ মাসে কবিতা ভবন থেকে।

এবার জীবনানন্দের এই গ্রন্থের পাশাপাশি নজরুলের একটি গ্রন্থের প্রকাশকাল মিলিয়ে দেখা যাক। আমাদের লক্ষ্য অবশ্য নজরুলের একটি গান যেটি গানের মালা গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছিলো বাংলা ১৩৪১ সনে। হিসেব করলে দেখা যাবে যে-বছর জীবনানন্দ ‘বনলতা সেন’ কবিতাটি লিখছেন (১৯৩৪ ইং, ১৩৪১ বাং) সে-বছরই বেরুলো নজরুলের গানের মালা গ্রন্থটি। আর এতো বলাই বাহুল্য যে এই বইয়ের গানগুলো গ্রন্থাকারে প্রকাশেরও বেশ কবছর আগেই লিখেছিলেন।

জীবনানন্দের সূত্রে নজরুলের এই গ্রন্থের যে গানটি আমাদের মনোযোগকে চুম্বকের মতো টেনে নিয়ে যাবে সেটি নিচে উদ্ধৃত করা যাকঃ

আঁখি তোলো, দানো করুণা ওগো অরুণা!
মেলি নয়ন জীর্ণ কানন কর তরুণা।।

আঁখি যে তোমার গানের পাখি
ঘুম সে ভাঙায় আঁধারে ডাকি
আলোক সাগর জাগাও, বরুণা।।

তব আনত আঁখির পাতার কোলে
তরুণ আলোর মুকুল দোলে
রংয়ের কুমার দুয়ারে জাগে
তোমার আঁখির প্রসাদ মাগে,
পাণ্ডুর ভোর হোক তরুণারুনা।।
(গ্রন্থ: গানের মালা ১৩৪১ সন)

জীবনানন্দ ও নজরুল সম্পর্কে বরেণ্য গবেষক আবদুল মান্নান সৈয়দ তার নজরুল ইসলামঃ কবি ও কবিতা গ্রন্থের এক জায়গায় নজরুলের আলংকারিক পরিচয় দিতে গিয়ে নজরুলকে ‘অলংকারচঞ্চল’ কবি বলে অভিহিত করেছিলেন। অন্যদিকে, বুদ্ধদেব বসু বনলতা সেন গ্রন্থের আলোচনা করতে গিয়ে বলেছিলেন, “উপমার এত ছড়াছড়ি আজকালকার কোনো কবিতেই নেই। তাঁর উপমা উজ্জ্বল, জটিল ও দূরগন্ধবহ। এক একটি উপমাই এক-একটি ছোটো কবিতা হতে পারতো। তিনি যে জাতের কবি তাতে উপমাবিলাসী না হয়ে তাঁর উপায় নেই, অর্থাৎ উপমা তার কাব্যের কারুকার্য মাত্র নয়, উপমাতেই তাঁর কাব্য।”( জীবনানন্দ দাশ: বিকাশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, দেবীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়, ভারত বুক এজেন্সি, ১৯৮৬, পৃঃ-১৯৪)

আর এই সূত্রে জীবনানন্দের প্রবাদ প্রতিম উক্তি ‘উপমাই কবিত্ব’ কথাটা কে না জানেন। বুদ্ধদেব বসু আরও সুনির্দিষ্টভাবে ‘বনলতা সেন’ কবিতাটির ক্ষেত্রে উপমা প্রয়োগের নতুনত্বে বিস্মিত হয়ে বলেছিলেন,

“জীবনানন্দ যখন বলেন–
. . . বলেছে সে, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখীর নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

তখনই বুঝতে পারি তাঁর মন কী-ভাবে কাজ করছে। নাটোরের বনলতা সেনের যে চোখের সঙ্গে পাখির নীড়ের উপমা সেই নাটোর, বনলতা সেন এবং তার চোখ এ সমস্তই যে কোনো সর্বদেশকালব্যাপী ভাবের উপমা মাত্র তা উপলব্ধি করে আমাদের বিস্ময়ের সীমা থাকে না।( প্রাগুক্ত, পৃঃ ১৯৫)”

এতো ঠিকই যে তিরিশের দশকেই উপমা বহিরাঙ্গিক সাযুজ্যের বাইরে গিয়ে ভাবগত সাযুজ্যের উপর দাঁড়াতে সাহস করলো। বুদ্ধদেব বসুর মতো সাহিত্যের জহুরীর চোখে তা ঠিকই ধরা পড়েছিলো। কিন্তু বুদ্ধদেব, নিতান্ত অবহেলাবশতই হয়তো, যেটা লক্ষ্য করেননি তা হলো এই উপমাটির ক্ষেত্রে নজরুলের কাছে জীবনানন্দের ঋণ। নজরুলের গানটির দ্বিতীয় স্তবকেই পাচ্ছি যুগান্তকারী সেই উপমার রক্তের বন্ধনকেঃ

আঁখি যে তোমার গানের পাখি
ঘুম সে ভাঙায় আঁধারে ডাকি

জীবনানন্দ বলেছেন চোখটা পাখির নীড়ের মতন আর নজরুল বলছেন চোখটা পাখির মতো। এই দুটোর কোনোটাই বহিরাঙ্গিক বা আকৃতিগত সাদৃশ্যের কথা বলছে না; উভয় কবিরই লক্ষ্য ভাবগত সাদৃশ্যকে উপমার মাধ্যমে প্রকাশ করা।

নজরুলের গানের প্রতি অমনোযোগের কারণেই হয়তো বুদ্ধদেব এই অসামান্য উপমাটি লক্ষ্য করেননি যা জীবনানন্দ দাশের মতো প্রবলভাবে স্বকীয় কবিকেও কতটা আচ্ছন্ন করেছিলো।

নজরুলের কাব্য-প্রতিভাকে বিচারের ক্ষেত্রে বুদ্ধদেব বসু আরেকটু যত্নবান হলে হয়তো এও লক্ষ্য করতেন যে ‘উপমার এত ছড়াছড়ি’ কেবল জীবনানন্দেই নয়, নজরুলেও তা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এমন কি এই একই গানে ঐ একই বৈশিষ্ট্যের উপমাটিকে আবার অন্য এক সাদৃশ্যের সাথে উপমান হয়ে উঠতে দেখি যখন তিনি বলেনঃ

তব আনত আঁখির পাতার কোলে
তরুণ আলোর মুকুল দোলে

এবার ‘গানের পাখি’র পরিবর্তে তা হয়ে উঠলো ‘তরুণ আলোর মুকুল’। জীবনানন্দে একবার মাত্র ব্যবহৃত হওয়াতেই বুদ্ধদেব বসু কিংবা পরবর্তী সাহিত্য সমালোচকদের মনোযোগ আকৃষ্ট হয়, অথচ নজরুল একই কবিতায়/গানে দু’দুবার যুগান্তকারী উপমা ব্যবহার করেও কারোর মনোযোগ লাভ করেননি।

জীবনানন্দের আলংকারিক বৈশিষ্ট্য বুঝাতে গিয়ে ঐ একই প্রবন্ধে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছিলেন বুদ্ধদেব বসু:

“তাঁর কাব্য বর্ণনাবহুল, তাঁর বর্ণনা চিত্রবহুল এবং তাঁর চিত্র বর্ণবহুল–এটুকু বললেই জীবনানন্দর কবিতার জাত চিনিয়ে দেয়া সম্ভব হতে পারে।” (প্রাযুক্ত, পৃঃ ১৯৪)

জীবনানন্দ দাশ সম্পর্কে এই যে বৈশিষ্ট্যের কথা বুদ্ধদেব বলেছেন তা কি একইভাবে প্রযোজ্য নয় নজরুলের ক্ষেত্রেও? নজরুলের কবিতা ও গানে উপমা ও অলংকারের প্রাচুর্যকে একমাত্র উত্তরসুরী জীবনানন্দ দাশের সাথেই কেবল তুলনা করা যেতে পারে। শুধু উদ্ধৃত এই গানটিতেই নয়, নজরুলের অজস্র কবিতা গানে–উপমার সূত্রে–বর্ণ ও দৃশ্যের উপস্থিতি আমরা সহজেই দেখতে পাবো। সুতরাং আলংকারিক জাত বিচারে নজরুল জীবনানন্দের সবচেয়ে নিকটজন– একথা অস্বীকার করার উপায় নেই।
এমন কি ‘বনলতা সেন’-এর মতো সিগনেচার পোয়েম-এও জীবনানন্দ দাশ নজরুলের আলংকারিক পরাক্রমকে এড়াতে পারেননি । ‘পাখীর নীড়ের মতো চোখ’–এ জাতীয় নতুন উপমা নজরুলে বহু আগে থেকেই উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও আমরা স্রেফ মনোযোগের অভাবে তাকে তার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত রেখেছি। প্রবল আনুষ্ঠানিতা আর নজরুলচর্চার যুগেও তিনি এখনও নানাভাবে আমাদের সাহিত্যিক অরুচি ও অবহেলার শিকার।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (23) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন tapan — আগস্ট ২৯, ২০১৩ @ ১২:১৩ পূর্বাহ্ন

      `আঁখি যে তোমার গানের পাখি
      ঘুম সে ভাঙায় আঁধারে ডাকি’

      এখানে উপমা কই, রাজুভাই?? আমার বোধে কুলোচ্ছে না। উপমা থাকলে হয়তো বুদ্ধদেবের চোখ এড়াতো না বলে আমার ধারণা। যে অলঙ্কারটি এখানে দেখা যাচ্ছে না, তার প্রশংসা ও বিশ্লেষণ করে চমৎকার একটি প্রবন্ধের জন্য রাজু আলাউদ্দিনকে ধন্যবাদ জানাই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন naheed ahsan — আগস্ট ২৯, ২০১৩ @ ৯:০৮ পূর্বাহ্ন

      পাখীর নীড় – হলো আশ্রয় ,বিশ্রাম
      নজরুলের উপমায় আছে জাগরণ উজ্জীবন -ঘুম ভাঙানো পাখী

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Manik Mohammad Razzak — আগস্ট ২৯, ২০১৩ @ ৯:২০ পূর্বাহ্ন

      তুলনামূলক আলোচনাভিত্তিক লেখনিটি পড়ে যার পর নাই মুগ্ধ হলাম। এ ধরনের বিশ্লেষণধর্মী লেখার চর্চা আজকাল নজরে পড়ে খুব কম। রাজু আলাউদ্দিন খুব সহজ ভাষায় আমাদের কাছে তথ্য উপাত্ত সহযোগে যা উপস্থাপন করেছেন তা নিঃসন্দেহে সুখ পাঠ্য এবং প্রশংসনীয়। রাজু ভাইকে অজস্র অভিনন্দন।

      মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন razualauddin — আগস্ট ২৯, ২০১৩ @ ৮:৩৬ অপরাহ্ন

      তপন, প্রথমেই আপনাকে ধন্যবাদ জানাই আমার লেখাটি কষ্ট করে পাঠ করার জন্য। পাঠ করে যে-প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাতে আমার মনে হয়েছে উপমা সম্পর্কে আপনার প্রাথমিক পর্যায়ের ধারনাটুকু থাকলেও এই প্রশ্ন উত্থাপন করতেন না। অলংকারশাস্ত্রে বহু ধরনের উপমার কথা আছে। কেবল ‘যেন’, ‘মতোন’ ‘মতো’ ‘প্রায়’ (মতো অর্থে) ইত্যাদি শব্দ যুক্ত হলেই উপমা হবে, তা না হলে হবে না– তা কিন্তু এই প্রথম আপনার মতো পন্ডিতের কাছে শুনলাম। ‘শুনলাম’ বলছি এই কারনে যে আপনি নজরুলের

      ‘আঁখি যে তোমার গানের পাখি
      ঘুম সে ভাঙার আঁধারে ডাকি’– পংক্তি দুটোর মধ্যে উপমা খুঁজে পাননি। প্রশ্ন করেছেন, ‘এখানে উপমা কই, রাজু ভাই? আমার বোধে কুলোচ্ছে না।’ উপমা বিষয়ক আপনার বোধের আয়তন খুব ছোট বলেই আপনি একে উপমা বলে চিনতে পারেননি। আপনি এও বলেছেন যে, নজরুলের গানটিতে ‘উপমা থাকলে হয়তো বুদ্ধদেবের চোখ এড়াতো না’। এবার আপনার সাক্ষী বুদ্ধদেব বসুর জবানিতেই আপনার প্রশ্নের উত্তরটি দেয়ার চেষ্টা করি। বুদ্ধদেব ‘রবীন্দ্রনাথের উপমা’ নামের একটি লেখা লিখেছিলেন ১৯৬০ সালে। লেখাটির এক জায়গায় তিনি বলেছেন,

      “কিন্তু প্রথমেই ‘উপমা’ শব্দের পাঠ্যকেতাবি সংকীর্ণ অর্থ আমাদের ভুলতে হবে। ‘চাঁদের মতো মুখ’, ‘মেঘের মতো চুল’, ‘আকাশের মতো মন’; সদৃশ বা বিদৃশ বস্তুকে ‘মতো’ শব্দের দ্বারা যুক্ত করলে তাকে উপমা বলে- কিন্তু শুধু তাকেই বলে না। ‘হাওয়াগাড়ি, ‘উড়নচণ্ডী’, দিলদরিয়া’–বাংলা ভাষায় এই ধরনের শব্দগুলোর মধ্যেও এক-একটি উপমা প্রচ্ছন্ন হয়ে আছে- সত্যি বলতে, মুখের ভাষাতেও উপমা ভিন্ন মনের কোনো ভাবই আমরা প্রকাশ করতে পারি না। উপমা, উৎপ্রেক্ষা, চিত্রকল্প, এমনকি প্রতীক– এই সবগুলোকেই উপমার অভিজ্ঞানের মধ্যে ধরে নিতে হবে; শুধু ‘মতো’ থাকলেই উপমা হলো তা নয়; ভাব যেখানে ছবি হয়ে উঠেছে, চিন্তা যেখানে স্পর্শসহ রূপ নিলো, সেখানেই –কোনো-না-কোনো সূক্ষ্ম, চতুর, লুক্কায়িত উপায়ে উপমার ব্যবহার অনিবার্য। ইমেজিস্টদের একটি পণ ছিলো ‘মতো’ বর্জন করে চলবেন, কিন্তু বোদলেয়ার বা জীবনানন্দ দাশের মতো যে-সব কবি ‘মতো’ নিয়ে মাতামাতি করেন তাদের চাইতে ইমেজিস্ট কবিতায় উপমার ব্যবহার কিছু মাত্র কম নয়; এবং যে-কবির কাব্যে ‘মতো’ শব্দের প্রাদুর্ভাব নেই, সেই রবীন্দ্রনাথকেও উপমাশিল্পী বললে ভুল হয় না।”(বুদ্ধদেব বসুর প্রবন্ধসমগ্র-৩, বুদ্ধদেব বসু, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, প্রথম প্রকাশ জানুয়ারি ২০১০, পৃ ২৮২-২৮৩)

      বুদ্ধদেবের এই উক্তিতে আমরা পরিস্কার বুঝতে পারছি কেবল ‘মতো’ দিয়েই নয়, ‘মতো’ ছাড়াও উপমা হতে পারে। এমনকি আমরা অনেক সময় দু’ তিনটি শব্দের সমাসবদ্ধ রূপের মাধ্যমেও উপমার চরিত্রকে প্রকাশ করতে পারি; বাংলাভাষার স্বভাব ও চরিত্রের মধ্যে এই সক্ষমতা বহুকাল আগে থেকেই প্রকাশিত।

      আপনার বোধে যাতে কুলায় তাই আমাদের বাংলা ভাষার আরও একজন অসাধারণ লেখকের একটি লেখা থেকে উদাহরণ দিচ্ছি। লেখক হুমায়ুন আজাদ। ‘শব্দের প্রকৌশল: বনলতা সেন’ নামে একটি লেখা তিনি লিখেছিলেন ১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে। এই লেখাটির এক জায়গায় তিনি ‘উপমান’ এবং ‘উপমেয়’-এর মধ্যে সম্পর্ক দেখাবার জন্য জীবনানন্দ থেকে ১৩ টি উদাহরণ হাজির করেছিলেন। তেরতম উদাহরণটি ছিলো এরকম: উপমান: ‘সেই অপরূপ সিন্ধু রাত্রি মৃতদের রোল’, উপমেয়: ‘তুমি’। অর্থাৎ গোটা বাক্যটি হচ্ছে ‘সেই অপরূপ সিন্ধু রাত্রি মৃতদের রোল তুমি’। (বনলতা সেন: ষাট বছরের পাঠ, সম্পা: সৈকত হাবিব, কথাপ্রকাশ, দ্বিতীয় মুদ্রণ ২০০৭, পৃ ১৬৪) এটিও, ‘মতো’ না-থাকা সত্ত্বেও হুমায়ুন আজাদের মতে একটি উপমা।
      এবার ইংরেজি থেকে একটি উপমা দেয়া যাক:
      “How this Herculean Roman does become / The carriage of his chafe.” William Shakespeare, Antony and Cleopatra‘ Act I, sc. 3.
      এখানে কোথাও Like বা As নেই, তারপরেও এটি একটি উপমা ।

      এবার আবারও বুদ্ধদেবের প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক। আপনি বলেছেন, এটি উপমা হলে ‘বুদ্ধদেবের চোখ এড়াতো না’। প্রথম কথা হলো উপমা সম্পর্কিত বুদ্ধদেবের উপরোক্ত ভাষ্য যদি আমরা মান্য করি তাহলে নজরুলের পংক্তিদুটিকে উপমা হিসেবে মেনে নিতে আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু সত্য হলো এই যে এটি উপমা হওয়া সত্ত্বেও বুদ্ধদেবের চোখ এড়িয়ে গিয়েছিলো কিংবা বুদ্ধদেব নজরুলের গানের ব্যাপারে হয়তো মনযোগী ছিলেন না বলেই উপমাটি বা গানটিই তার নজরে আসেনি। তাছাড়া তিরিশের পঞ্চপান্ডদের কাছে–কাব্যরুচির প্রশ্নে–নজরুল যে খানিকটা অপাংক্তেয় ছিলেন তা কি অস্বীকার করার উপায় আছে? নজরুলকে নিয়ে বুদ্ধদেব বসু দু’একটি প্রবন্ধ লিখলেও তা নজরুলের কাব্য-প্রতিভা সম্পর্কে খুব যে সঠিক মূল্যায়ন ছিলো তাও কিন্তু বলা যাবে না। নজরুলের সঠিক মূল্যায়ন হলে এ ধরনের উপমা ও অলংকার বুদ্ধদেবের নজরে পড়া উচিত ছিলো। হয় নজরে পড়েনি কিংবা নজরে পড়লেও বুদ্ধদেব তা গ্রাহ্য করেননি।

      আপনি মন্তব্যের শেষের দিকে বলেছেন, “যে অলংকারটি এখানে দেখা (আশা করি এখন আপনি দেখতে পাবেন) যাচ্ছে না, তার প্রশংসা ও বিশ্লেষণ করে চমৎকার একটি প্রবন্ধের জন্য রাজু আলাউদ্দিনকে ধন্যবাদ জানাই।”
      তপন, আপনার এই চতুর মন্তব্য উন্মোচন করে আপনার অসৎ, স্ববিরোধী ও অসার দৃষ্টিভঙ্গীকেই। কে যেন বলেছিলেন, ‘কবিদের শত্রু সরাসরি দুইজন/ বিজ্ঞের নিরবতা, মুর্খের কীর্তন ’।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সোহেল হাসান গালিব — আগস্ট ২৯, ২০১৩ @ ১০:২৪ অপরাহ্ন

      এই লেখাটিতে একটি নতুন উদ্ভাবন আছে। আমি আনন্দিত যে রাজু ভাই লেখাটি আমার মতো তুচ্ছ সাহিত্যকর্মীকে তা উৎসর্গ করেছেন।

      অনেকদিন ধরেই আমরা বলাবলি করি যে, রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুল উভয়েরই লিটারেরি ট্যালেন্ট বুঝতে হলে তাদের গানের লিরিকগুলির দিকে আমাদের পাঠকের মন নিয়ে (শ্রোতার নয়) ফিরে তাকানো দরকার।

      রাজু ভাই সে কাজটি করে দেখিয়েছেন। নজরুলের কাব্য বিচারে এই কাজ একটি ভিন্ন প্রণোদনা জাগাবে অনেকেরই মধ্যে, আমি নিশ্চিত।

      লেখাটি পড়ে যেমন আনন্দিত হয়েছি, তেমনি যার-পর-নাই ব্যথিত ও হতাশ আমি, এই জেনে যে, ড. তপন বাগচী উপমা বোঝেন না। হায় !

      -সোহেল হাসান গালিব

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নূর সিদ্দিকী — আগস্ট ২৯, ২০১৩ @ ১১:২৭ অপরাহ্ন

      অসাধারণ।
      জনৈক তপন বাবুর প্রশ্নের জবাবে রাজু আলাউদ্দিনকে কিছুটা ক্ষিপ্ত মনে হলেও তিনি উচিৎ জবাবই দিয়েছেন। বিশেষ করে বাংলা ইংরেজি মিলিয়ে যেসব যুক্তি রাজু হাজির করেছেন তাও অসাধারণ। কিন্তু তপন বাবুদের মত মৃত আত্মার পাঠকদের বোধ’র আয়তন বাড়ানোর জন্য এই যুক্তিগুলো যদি এই রচনাটিতে যুক্ত হতো কোন কৌশলে তাহলেও বোধ করি মন্দ হতো না।
      রাজু ভাইকে অশেষ ধন্যবাদ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন zunnu rien — আগস্ট ৩০, ২০১৩ @ ১২:০৩ পূর্বাহ্ন

      এ ধরনের বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ এখন লেখা হচ্ছেনা বললেই চলে। ধন্যবাদ রাজু ভাই একটা ভালো লেখা পড়তে পারলাম।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন hasan shahriar — আগস্ট ৩০, ২০১৩ @ ১:২২ পূর্বাহ্ন

      আলোচনাটা পড়ে চমকে গেলাম। এজন্য নয়, লেখক এইখানে বনলতা সেন’র মত কবিতায় নজরুল প্রভাবকে পাঠকের কাছে তুলে ধরেছেন বরং এই কারণে – কাব্যসাহিত্যের তুলনামূলক বিচারে যাবার নতুন একটা পথ সৃজন করেছেন। যেইখানে একই স্থান-কাল সীমারেখায় একজনের গানে চোখ হয় গানের পাখি; অন্যজনের কবিতায় তার রুপান্তর ঘটে – পাখির নীড়ে! এইখানে একজনের মন্তব্য থেকে বলছি- কোথাও এই রূপান্তর জাগরণের কথা বলছে আবার কোথাও চাইছে আশ্রয়।

      লেখককে অনেক শুভেচ্ছা।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দুপুর মিত্র — আগস্ট ৩০, ২০১৩ @ ১:৪৯ পূর্বাহ্ন

      ‘জীবনানন্দ বলেছেন চোখটা পাখির নীড়ের মতন আর নজরুল বলছেন চোখটা পাখির মতো। এই দুটোর কোনোটাই বহিরাঙ্গিক বা আকৃতিগত সাদৃশ্যের কথা বলছে না; উভয় কবিরই লক্ষ্য ভাবগত সাদৃশ্যকে উপমার মাধ্যমে প্রকাশ করা।’

      ছাগলের চার পা আর ভেড়ার চার পা। অতএব ছাগল আর ভেড়া একই জিনিস।

      অথবা নজরুল=জীবনানন্দ
      অথবা রাজু = গালিব

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজু আলাউদ্দিন — আগস্ট ৩০, ২০১৩ @ ৫:১২ পূর্বাহ্ন

      জনাব নূর সিদ্দীকি,
      না, আমি ক্ষিপ্ত নই মোটেই, আমি সৎভাবে যা অনুভব করেছি তাই বলেছি, আমার প্রকাশের ধরনে একটা ক্ষিপ্ত ভাব হয়তো প্রকাশিত হয়ে থাকতে পারে, তবে সেটা কোনো ব্যক্তিবিশেষের প্রতি নয়, বরং গোটা পরিস্থিতির কারণেই ঘটেছে বলে মনে হয়। একজন তপন তো আর একক চেষ্টার ফসল নয়; তিনি গোটা পরিস্থিতির আকাংক্ষার প্রতিরূপ । আর এই কারণেই আপনি যখন বহুবচনে বলেন ‘তপন বাবুদের মত মৃত আত্মার পাঠকদের’ কথা তখন আপনার আর আমার বোধের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না । আপনাকে অনেক ধন্যবাদ বোধের ঐক্যে সামিল হওয়ার জন্য । আপনার আকাংক্ষার সাথে(‘এই যুক্তিগুলো যদি এই রচনাটিতে যুক্ত হতো’) আমি একমত । অচিরেই তা যুক্ত হবে বলে আশা করি ।

      জুননু,
      এই ধরনের ‘বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ’ কম লেখা হলেও, লেখা কিন্তু হচ্ছে, তা আমরা আবিস্কার করতে পারলে একটা বড় কাজ হয় । আপনি বিষয়টি এভাবে দেখছেন–এটাই একটা বড় অগ্রগতি।

      ভাই হাসান শাহরিয়ার,
      বহুদিন থেকেই আমার মনে হচ্ছিল নজরুল গণমুখী হয়ে তথাকথিত তিরিশের আধুনিক কবিদের কাছ অপাংক্তেয় খেকেছেন । আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন তিরিশের তথাকথিত বামকবি বিষ্ঞু দে’র মতো অভিজাত পাণ্ডবের কোনো লেখা নেই নজরুল সম্পর্কে। অথচ বিদেশি বামকবি নেরুদা সম্পর্কে তার কাজ রয়েছে। এটা এক রহস্যময় ব্যাপার । যাইহোক, নতুন পথ সৃজন করেছি কিনা জানি না, তবে আমি চেয়েছি নজরুল তার প্রাপ্য মর্যাদায় ভূষিত হোক । আপনার সহৃদয় পর্যবেক্ষণের জন্য ধন্যবাদ।

      প্রিয় গালিব,
      আপনার কাছে আমার কৃতজ্ঞতা এই জন্যে যে নজরুলের গানটি/কবিতাটি যখন খুঁজছিলাম তখন আপনি আমাকে তা অতি সহজে আমার হাতে পৌঁছে দিয়েছেন–আপনাকে লেখাটি উৎসর্গ করার এটি একটি প্রধান কারণ ।
      তবে এহ বাহ্য । সবচেয়ে বড় কথা, নজরুল আসলে কী? নজরুলকে বুঝতে হলে, যেমনটি আপনি বলেছেন, “রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুল উভয়েরই লিটারেরি ট্যালেন্ট বুঝতে হলে তাদের লিরিকগুলির দিকে আমাদের পাঠকদের মন নিয়ে(শ্রোতাদের নয়) ফিরে তাকানোর দরকার ।”
      আপনি যে-দরকারের কথা বলেছেন তা আমাদের সাহিত্যিক মানচিত্রটিকে অখণ্ড রূপে পাওয়ার আশা থেকেই বলেছেন বলে আমার মনে হয়েছে। আমি এই পূর্ণাঙ্গ মানচিত্রটি পাওয়ার জন্য ব্যাকুল । কাউকে ছোট কিংবা কাউকে বড় করার জন্যে নয়। আপনার এবং আমার এই আকাংক্ষার কাছে তপন বাবুর ক্ষুদ্রতা অতিশয় তুচ্ছ ব্যাপার ।

      দুপুর মিত্র,
      আপনার সান্ধ্য ভাষার অর্থ বুঝবার জন্য আমাকে চর্যাপদের যুগে যেতে হবে, আমি চতুষ্পদ প্রাণীদের পেছনে রেখে দু পায়ে সামনে এগিয়ে যা্ওয়ার পক্ষে। আদিওস পারা সিয়েম্প্রে ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন saikat Habib — আগস্ট ৩০, ২০১৩ @ ৪:১৮ অপরাহ্ন

      প্রিয় রাজু ভাই,
      আপনাকে গভীর অভিনন্দন। এই ঐক্য-নৈকট্যর জায়গাটি খুব সুন্দর ধরেছেন আপনি। এবং আমাদের জীবনানন্দ-নজরুল ধারণায় বেশ ভালো ধাক্কা দিয়েছেন।

      আমার মনে হয় না, আপনার আগে কেউ বিষয়টি এভাবে এনেছেন। জীবনানন্দের ভাষাতেই বলি, এ রচনা পাঠে অনন্ত আমার ‌‌‌’গভীরতর লাভ’ হলো। এজন্য আপনার প্রতি সবিশেষ কৃতজ্ঞতা।

      ‘যদিও এই কবিতায় বিদেশী (বিশেষ করে এ্যালান পোর To Helen কবিতাটির) প্রভাবের বিস্তর আলোচনা হয়েছে। তবে এখনই স্বীকার করে নেয়া ভালো যে এই কবিতার স্বকীয়তা ও মৌলিকতার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাবই শেষ পর্যন্ত বাঁধা হয়ে তো দাঁড়ায়ই নি; বরং প্রভাবের সমস্ত উপকরণ নিয়েই এটি হয়ে উঠেছে বাংলা কবিতার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী রচনা।’— আপনার এ উক্তির সঙ্গে আমি কেবল একমতই নই, বরং গত বছর এটিএন নিউজের এক জীবনানন্দবিষয়ক সাক্ষাৎকারে আমি এ ধরনের বক্তব্যর সঙ্গে আরো বলেছি, কেউ একটু মিলিয়ে পড়লেই বুঝবেন বিদেশি কারো (পো, কীটস, ইয়েটস) প্রভাব থাকলেও বিস্মিত হতে হয় জীবনানন্দ কী জিনিশ থেকে কী বানিয়ে তুলেছেন। এ বিষয়টি নিয়ে কিন্তু খুব কথা বলা হয় না। বরং আমাদের পণ্ডিত-অধ্যাপকরা পশ্চিমা বায়ুগ্রস্ত বলে পশ্চিমকেই শ্রেষ্ঠ বলে জীবনানন্দের কৃতিকে অবচেতনে খাটো করতেই পছন্দ করেন।
      ……

      আপনাদের উপমা-বিতর্ক বেশ উপভোগ্ করলাম। ভাই তপনকে খুব দোষ দেওয়া যায় না, কারণ তিনি যদি সাহিত্যের ছাত্র হয়ে থাকেন এবং কথিত সহায়কগ্রন্থ-সকল পড়ে এ ব্যাপারে জেনে থাকেন, তাহলে কী করণীয়? আর আমাদের অধিকাংশ অধ্যাপকের অবস্থাও তো তথৈবচ।

      বরং আপনার মন্তব্য পড়তে পড়তেই মনে হলো উপমা বিষয়ে একটি সরস ও বোধ্য রচনা বরং আপনার কলম থেকে এলে আমাদের বেশ লাভ হয়। শীঘ্রই আপনার কাছ থেকে এ বিষয়ক একটি রচনার দাবি কিন্তু আমি কোনোভাবেই ছাড়ছি না। কবে পাব?

      আপনার জয় হোক

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মোস্তফা তোফায়েল — আগস্ট ৩১, ২০১৩ @ ১২:০৩ পূর্বাহ্ন

      ‘পাখির নীড়ের মত চোখ’ উপমা ব্যবহার করে জীবনানন্দ দাশ যে কাব্যিক আবেদন সৃষ্টি করেছেন, তার তুলনা নজরুল বা রবীন্দ্র কবিতায় খুঁজে পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ আছে। ‘পাখির নীড়ের মত চোখ’ উপমাটি বাংলা কবিতার পাঠককে যত সহজে আবহমান বাংলার সাথে একাত্ম করে দেয়, নজরুল ব্যবহৃত প্রায় সমার্থক উপমাটি তা করে না। কাব্যিকতার উপস্থাপনায় জ়ীবনানন্দ দাশ যোজন যোজন এগিয়ে আছেন, থাকবেন। ‘আর্ট’ এর বিচারে জীবনানন্দ আজ বাঙালি পাঠকচিত্তে যে আসনে অধিষ্ঠিত, তা থেকে তাঁকে স্থানচ্যুত করার মানসিকতা থেকে হয়তো নয়; কবিতে কবিতে পারষ্পরিক ধার-দেনা ধরনের একটি ‘উজ্জ্বল আবিষ্কার’ অভিপ্রায়ে আপনি এ-বক্তব্য সামনে নিয়ে এসেছেন। আপনার এ আবিষ্কারকে উজ্জ্বল, ধোঁয়াশাচ্ছন্ন বা অপ্রয়োজনীয় অভিধায় অভিহিত করার গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষণ করেই বলা যায়, আপনি কবিতার একজন বোদ্ধা সমালোচক, যার আছে ব্যাপক পড়াশুনা ও সামর্থ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন matin bairagi — আগস্ট ৩১, ২০১৩ @ ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন

      দেরীতে হলেও প্রবন্ধটি পড়তে পারলাম ড.বিনয় বর্মণ-এর সৌজন্যে। উপমা-উৎপ্রেক্ষা,প্রতীক,চিত্রকল্প রূপ-রস-সৌন্দর্য় নিয়ে নানা মত আছে। নন্দনতত্ত্বেও নানাজন নানা মত ব্যক্ত করেছেন। এসব বিষয়ে ভারতীয়রা যে সব মত ব্যক্ত করেছেন তা অনেকাংশে পশ্চিম গ্রহণ করে না। কারণ দুজনের সামাজিক ভিত দুরকমের । মানুষের চিন্তার প্রকাশগুলোর বাহন যদিও তার ভাষা, কিন্তু সামাজিক রাজনৈতিক কারণে মূল চিন্তার পরিমন্ডলটাই হয় ভীরুতার নয়ত পরিবর্তনের আকাঙখায় এক অস্থিরতার মধ্যে বিবর্তিত হয় । স্বাভাবিক যে তাতে প্রকাশ রীতিরও খানিকটা পরিবর্তন লক্ষণীয় হয়ে ওঠে । আলোচনাটি সুন্দর,তথ্যবহুল উপভোগ্য আবার তর্কও সমৃদ্ধ করেছে প্রবন্ধটিকে। বন্ধু ড.তপন বাগচী যেমন বলেছেন ওটা উপমা নয়. আবার বন্ধু রাজু আলাউদ্দিন তা প্রমাণ করবার জন্য ফিরতি যাত্রায় আরেকটি প্রবন্ধ লিখে ফেলেছেন তা কিন্তু মন্দ নয়– আমাকে দারুণভাবে আলোড়িত করেছে। এজন্য দু’জনকেই আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং এজাতীয় তর্ক বিতর্ক চলুক আরো, কবিতার সঙ্গে সম্পৃক্তদেরকে সমৃদ্ধ করুক মৌলিকভাবে, তাই চাই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন tapan bagchi — সেপ্টেম্বর ১, ২০১৩ @ ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন

      রাজু আলাউদ্দিনের প্রতি
      …………………………
      রাজুভাইয়ের প্রবন্ধ নিয়ে আলোচনা-প্রশংসার চেয়ে আমার মন্তব্যের প্রতি ঝোঁক এবং ঝোঁপ বুঝে কোপ মারার প্রবণতা বেশ উপভোগ করেছি।

      রাজুভাই আমাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, ‘পাঠ করে যে-প্রতিতিক্রয়া জানিয়েছেন তাতে আমার মনে হয়েছে উপমা সম্পর্কে আপনার প্রাথমিক পর্যায়ের ধারণাটুকু থাকলেও এই প্রশ্ন উত্থাপন করতেন না।’ ঠিক বলেছেন রাজুভাই। পূর্ণ পর্যায়ের এবং অন্তিম পর্যায়ের ধারণা যাদের আছে, তাঁদের যা অবস্থা, তার চেয়ে এই প্রাথমিক পর্যায়ের ধারণারহিত অবস্থাই বেশি উপভোগ্য মনে হচ্ছে। আপনাদের মতো গুণী লেখকদের কাছ থেকে উপমা-সম্পর্কিত ধারণার পুষ্টি গ্রহণ করতে পারব, সেই আশায় বুক বেঁধে থাকলাম। আশা করি অশিক্ষিতরে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে আপনাদের আপত্তি থাকতে থাকবে না।

      আপনি বলেছেন, ‘উপমা বিষয়ক আপনার বোধের আয়তন খুব ছোট বলেই আপনি একে উপমা বলে চিনতে পারেননি।’ আমার সম্পর্কে একেবারে যথাযথ সিদ্ধান্ত আপনার। আপনার ব্যাখ্যা পড়ে আমার বোধের আয়তন একটু স্ফীত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তাই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

      প্রশ্ন করেছিলাম, ‘এখানে উপমা কই, রাজুভাই?’ উপমাটি দেখিয়ে দিলেই ল্যাঠ্যা চুকে যেত। আমার জ্ঞানের সীমা পূর্ণ হতো। আমার মতো আরো কারো অজানা থাকলে তাদের ঝুলিও ভরে উঠতো। তবু আপনার সবিস্তার ব্যাখ্যা ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা থেকে আমার মতো অজ্ঞরা (আদৌ এমন যদি কেউ এ আসরে থেকে থাকেন) উপকৃত হবেন বলে মনে করি। বুদ্ধদেব বসু উপমা, উৎপ্রেক্ষা, চিত্রকল্প, এমনকি প্রতীককেও ‘উপমার অভিজ্ঞানের মধ্যে ধরতে’ চাইলেও এগুলো ভিন্ন বৈশিষ্ট্যৈর কারণে অলঙ্কারশাস্ত্রে ভিন্ন নামেই চিহ্নিত। মজার ব্যাপার হলো, বুদ্ধদেব বসু কিংবা হুমায়ুন আজাদ কবি-সমালোচক-প্রাবন্ধিক কিন্তু অলঙ্কারবিদ নন। অলঙ্কার-মীমাংসায় তাঁদের অভিমত চূড়ান্ত হতে পারে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থাকতে পারে। আমার প্রশ্ন যে শুধু প্রশ্ন নয়, আশা করি সেটি বুঝেছেন। সে কারণেই জবাবটি একটু বিস্তৃত করে আপনার জ্ঞানের জাহির করতে হলো। আমার মতো পাঠকের তাতে লাভই হলো।
      ‘মতো’ ছাড়াও যে উপমা হয়, তা বুঝতে বুদ্ধদেবের অভিমত নিতে হয় না। অলঙ্কারতাত্ত্বিকরাই এই সুযোগ দিয়ে গেছেন। কিন্তু ‘মতো’ ছাড়া ঘটিত উপমা কিন্তু পূর্ণ-উপমা (পূর্ণোপমা) নয়। ‘মতো’ থাকা সত্ত্বে জীবনানন্দের ‘পাখির নীড়ের মতো চোখে তুলে…’ চরণের উপমাও কি পূর্ণোপমা? জীবনানন্দ দাশের এত বিখ্যাত উপমাকেও আমি পূর্ণোপমা বলতে নারাজ হওয়ায় হয়তো অনেকেই আগের চেয়ে বেশি তোড়ে তেড়ে আসবেন! হয়তো আরো সুঁচালু অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করবেন। কিন্তু সত্য উচ্চারণে আমি ‘মূর্খে’র মতোই অনড় থাকতে চাই।

      সাহিত্যে তর্ক-বিতর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু আক্রমণটা ব্যাক্তিগত পর্যায়ে নিয়ে গেলে যুক্তির চেয়ে গায়ের জোর বেশি প্রদর্শনের অভিপ্রায় প্রকাশ পায়। উপমা ধরে রাজু আলাউদ্দিন যে আলোচনা করেছেন, তা চমৎকার। কিন্তু আমার কাছে ওটি উৎপ্রেক্ষার মূল্য প্রাপ্য। ‘আঁখি যে তোমার গানের পাখি’ চরণে দুই বিজাতীয় (আঁখি ও পাখি) শব্দের মধ্যে সাদৃশ্য প্রদর্শিত হয়েছে কিন্তু সাধারণ সাদৃশ্যবাচক শব্দ (মতো, সম, ন্যায় ইত্যাদি) নেই এবং সাধারণ ধর্মেরও অনুপস্থিতি। তাই এই অসাধারণ তুলনাকেও উপমা বলে মানতে আমার মন সায় দেয়নি। ‘মতো’ না থাকার জন্য নয়। আমার বিচেনায় এখানে উপমেয়কে উপমান বলে প্রবল সংশয় (সম্ভাবনা অর্থে) হচ্ছে। তাই উৎপ্রেক্ষা অলঙ্কারের সৃষ্টি হয়েছে। এখানেও উৎপ্রেক্ষাবাচক শব্দ (‘যেন’, ‘বুঝি’, ‘প্রায়’ ইত্যাদি) উহ্য রয়েছে বলে একে ‘প্রতীয়মানোৎপ্রেক্ষা’ অলঙ্কার বলা যায়। জীবনানন্দ যদি নজরুল থেকে এই আঁখি-পাখি তুলনার ধারণা নিয়ে থাকেন, তা নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও যে এ ধরনের একটি উৎপ্রেক্ষা সৃষ্টি করেছেন, তার উদাহরণ নিশ্চয়ই অমূলক মনে হবে না। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন ‘সাধ্বী জননীর দৃষ্টি সমুদ্যত বাজ’। অলঙ্কারবিদ জীবেন্দ্র সিংহ রায় একে ‘প্রতীয়মানোৎপ্রেক্ষা’ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এখানে ‘আঁখি’ নেই, ‘দৃষ্টি’ আছে; ‘পাখি’ নেই, ‘বাজ’ আছে। নজরুলের ‘আঁখি যে তোমার গানের পাখি’ কি এই চরণের চেতনার কাছাকাছি নয়? আর এঁদের অনেক আগেই তো লালন সাঁই বলে গেছেন ‘আঁখির কোণে পাখির বাসা’র মতো অলঙ্কারঋদ্ধ চরণ, তা-ই বা ভুলি কী করে? নজরুল থেকেই যে জীবনানন্দ পাখি-আঁখির তুলনা গ্রহণ করেছেন, এমন সিদ্ধান্ত টানার আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিংবা আরো আগে লালন সাঁইজির কথাও একটু স্মরণ করা যেতে পারে। রাজুভাই যাকে ‘উপমা’ বলে গণ্য করেছেন, আমি তাকে ‘উৎপ্রেক্ষা’ বলে মান্য করছি। আমার বোধে যা কুলোবে, তার বাইরে আমি যাই কী করে! আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা নিয়েই আমি অগ্রজ রাজুভাইয়ের কাছ থেকে কিছু শিখতে চেয়েছিলাম। যথেষ্ট শিক্ষা হল! অনেক কৃতজ্ঞতা রাজুভাই। গালিবকে উদ্দেশ্য করে আপনি লিখেছেন, ‘আপনার এবং আমার এই আকাক্সক্ষার কাছে তপন বাবুর ক্ষুদ্রতা অতিশয় তুচ্ছ ব্যাপার’| সাধু সাধু। খুব অচেনা লাগছে রাজুভাই– আপনাকে নয় নিজেকে।

      সোহেল হাসান গালিবের প্রতি
      ……………………………
      ‘সোহেল হাসান গালিব লিখেছেন, ‘লেখাটি পড়ে যেমন আনন্দিত হয়েছি, তেমনি যার-পর-নাই ব্যথিত ও হতাশ আমি, এই জেনে যে, ড. তপন বাগচী উপমা বোঝেন না। হায়!’ হ্যাঁ রে, গালিব, তপন বাগচী উপমা না বুঝলে আপনি তা জেনে ব্যথিত ও হতাশ হতেই পারেন। তপন বাগচী সব কিছু বোঝেন, এমন দাবি তো তিনি করেন নাই। নজরুলের ওই দুটি চরণে ‘উপমা কই’ প্রশ্ন করা মানে যে উপমা না-বোঝা নয়, তা নিশ্চয়ই আপনি বুঝেছেন। তিনি উপমা বোঝেন না, এমন একপেশে ধারণা করে কেন ব্যথিত হতে গেলেন ভাই? ধরুন নীলক্ষেত-কচুক্ষেত থাকা শহর দেখে কেউ যদি জানতে চায়, ‘ঢাকা শহরে ধানক্ষেত কই?’ তখন প্রশ্নকারী ধানক্ষেত বোঝেন না বলে মনে করে ‘যার-পর-নাই ব্যথিত ও হতাশ’ হওয়ার কোনো কারণ নেই। ধানক্ষেত থাকলে তা দেখিয়ে দিয়ে অথবা না থাকার তথ্যটি জানিয়ে দেয়াটাই সঙ্গত নয় কি? ‘তপন বাগচী উপমা বোঝেন না’ বলে আপনি যে ব্যথা পেয়েছেন তার জন্য গভীর সমবেদনা জানাই আর হতাশা কাটিয়ে ওঠার জন্য কায়মনে দোয়া করি।

      নূর সিদ্দিকীর প্রতি
      ……………………..
      ‘জনৈক তপন বাবুর প্রশ্নের জবাবে’ রাজু আলাউদ্দিনের জবাবকে আমিও উচিত জবাব বলে গ্রহণ করছি। ‘তপন বাবুদের মতো মৃত আত্মার পাঠকদের বোধের আয়তন’ মেপে নেওয়ার জন্য নূর সিদ্দিকীর প্রতি সবিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ কিন্তু আক্রমণকারীর প্রতিও ফিরে যায়। তাঁর ‘জনৈক তপন বাবু’ বলা আর ‘মৃত আত্মার পাঠক’ বলার প্রতিক্রিয়া জানানোর রুচি আমার নেই। যাঁরা জীবিত আত্মার পাঠক আছেন এই আসরে, তাঁরাই বিবেচনা করবেন আশা করি।

      সৈকত হাবিবের প্রতি
      ……………………..
      না, ভাই, আমি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সাহিত্যের ছাত্র ছিলাম না। কথিত সহায়কগ্রন্থ-সকল পাঠ করে আমার অই ধারণার জন্ম হয়নি। সাহিত্যচর্চাকারী অর্থে সাহিত্যের ছাত্র ভাবতে পারি মাত্র। আর এখানে ব্যক্তিগত দোষ-গুণের ব্যাপার নয় রে ভাই। এটি সাহিত্যিক বিতর্ক। লাভ আমার মতো আমপাঠকেরই।

      মতিন বৈরাগীর প্রতি
      ………………………
      রাজু আলাউদ্দিনের আলোচনা থেকে আপনার মতো আমিও উপকৃত হয়েছি। আপনার প্রতিক্রিয়াটি ভাল লেগেছে। তর্ক-বিতর্ক ভাল। ব্যক্তি আক্রমণের বাইরে এসে সাহিত্যিক তর্ক-বিতর্ক হলে বেশি ভাল। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন tapan bagchi — সেপ্টেম্বর ১, ২০১৩ @ ১:৩০ পূর্বাহ্ন

      রাজুভাই
      আবারো বলছি আপনার আলোচনটি ভাল। প্রশ্ন ছিল ‘উপমা’ না উৎপ্রেক্ষা’ তাই নিয়ে। আপনি আপনার যুক্তি দিয়েছেন। আমি আমার যুক্তি দিলাম (সকল অজ্ঞতা সত্ত্বেও)। আপনি দেখালেন জীবনানন্দ দাশের ‘পাখির নীড়ের মতো চোখ..’ লেখার আগে কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন ‘আঁখি যে তোমার গানের পাখি’। আমি দেখালাম, নজরুলের আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখলেন ‘সাধ্বী জননীর দৃষ্টি সমুদ্যত বাজ’। এবং রবীন্দ্রনাথের আগে লালন সাঁই গাইলেন ‘আঁখির কোণে পাখির বাসা’। এভাবেই পরম্পরা! আপনার আলোচনার সূত্র ধরে আরো দুজন পূর্বসূরী পাওয়া গেল। এভাবেই তো পূর্ণ হয় বিতর্ক! শুভমিতি!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আহমাদ মাযহার — সেপ্টেম্বর ২, ২০১৩ @ ২:১৯ পূর্বাহ্ন

      রাজু অলাউদ্দিন,
      ‘উপমা’ নিয়ে আপনার নান্দনিক অভিযাত্রা খুবই আনন্দদায়ক লেগেছে আমার কাছে। নান্দনিকতার অবস্থান থেকে কোনো সৃষ্টিকর্মকে বিশ্লেষণ করার প্রবণতা আজকাল অনেক কমে গেছে বলে মনে হয়। এমনকি কবিতার আলোচনায় সৌন্দর্যসন্ধানের চেয়ে দেখি সমাজবিশ্লেষণের আগ্রহ বেশি, বেশি আগ্রহ রাজনীতির খোঁজ করার দিকে। কখনও কখনও এমনকি ন্যায়-অন্যায় বিচারও এতটা প্রাধান্য পায় যে কবিতায় কবির কল্পনাসামর্থ্য বা ব্যঞ্জনাসৃষ্টিসক্ষমতার খোঁজ করতে দেখা যায় না। সেদিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে আপনার রচনাটি নন্দনসন্ধানের দিকে গেছে বলেই রচনাটি আমার ভালো লেগেছে। এতে যথার্থ সৃষ্টিশীলের আবেগযোগ লক্ষ করেছি।
      সকালে অফিসে যাবার আগে প্রাথমিক পাঠশেষে এর ভালোলাগাটুকুকে বন্ধুদের সঙ্গে ভাগাভাগির লক্ষ্যে তখন তখনই শেয়ার করেছিলাম ফেসবুকে। প্রতিক্রিয়াগুলোর দিকে ভালোভাবে তাকানোর ফুরসৎ হয়নি তখন।
      পরে দেখলাম তপন বাগচী তাঁর প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে খানিকটা সূক্ষ্ম পরিহাস করেছিলেন। আপনার বোধ হয় সেটা ভালো লাগে নি। ফলে আপনার প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা পড়ে নি সে উষ্মা। আপনার ক্রোধ খানিকটা অশোভনভাবেই মুখ ব্যাদন করে ফেলেছে। এই উষ্মার অগ্নিতে ঘৃতাহূতি পড়েছে সোহেল হাসান গালিবের প্রতিক্রিয়ায়! নূর সিদ্দিকী তো তিরষ্কারে আরও একটু এগিয়ে রইলেন। তপন বাগচী উপমা না বুঝলে গালিবকে এভাবে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হতে হবে কেন? তপনের অজ্ঞতা তো আর আঘাত করছে না গালিবকে! নূর সিদ্দিকীকেও বা কেন এমন চরম আঘাতমূলক ভাষ্য দিতে হবে তা বোঝা যায়নি। আর এই ধরনের সূক্ষ্মতাসম্পন্ন উপমা আরো অনেকেরই না বোঝা থাকতে পারে। তাদের কথা বিবেচনা করে তপন যেখানে উপমা খুঁজে পান নি তার খোঁজ দেয়ার চেষ্টা করলেই তো শোভন হতো!
      কিছুক্ষণ আগে বাড়ি ফিরে তপনের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ভালো করে পড়লাম! আমার তো মনে হয়েছে তাঁর বক্তব্যেও যুক্তিসংগত তর্কের উপাদান রয়েছে।
      ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় আমি আপনার কাছে এমন মনোভাবই প্রকাশ করেছি যে সাহিত্যের ক্ষেত্রে বিচারের সময় সীমাবদ্ধতার নির্দেশই যথেষ্ট শাস্তিমূলক, সীমাবদ্ধকে বাড়তি আঘাত করলে বিচারকের বিচারভাষ্যের মর্যাদার হানি ঘটে। এক্ষেত্রে খানিকটা সেরকম ঘটেছে বলে আমার মনে হয়। তবে আবারও বলছি, রচনা ও প্রতিক্রিয়ায় মিলে আলোচনাটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে, কলহ এর নান্দনিকতাকে অতিক্রম করে যায় নি শেষ পর্যন্ত। তপন বাগচীও যে উষ্মাকে বাগে রেখে আলোচনায় প্রত্যাবর্তন করেছেন তাতেও আলোচনাটি এর প্রাণবন্ততাকেই প্রতিষ্ঠা করেছে। ধন্যবাদ আপনাকে ও প্রতিক্রিয়াদানকারীদের সবাইকে!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন razualauddin — সেপ্টেম্বর ২, ২০১৩ @ ৪:২৩ পূর্বাহ্ন

      আহমাদ মাযহার, তপনকে আঘাত কি করেছি? আমি তো তার ‘ সূক্ষ্ম পরিহাস’-এর জবাব দিয়েছি। আর সেটা দিতে গিয়ে উষ্মা প্রকাশ পেয়েছে এটা ঠিক। জল যখন বরফ(‘ সূক্ষ্ম পরিহাস’) হয়ে সামনে আসে তখন তাকে দ্বিখণ্ডিত করতে হলে বা চূর্ণ চূর্ণ করতে হলে শক্ত কিছু দিযে আঘাত করা ছাড়া উপায় থাকে না । আপনার কাছে এটাকেই বোধহয় অশোভন বলে মনে হয়েছে । সোহেল হাসান গালিবের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আপনি যে অভিমত ব্যক্ত করেছেন তার ব্যাপারে গালিবের কী অভিমত তা জানাবার স্বাধীনতা গালিবের । তবে একেবারে তৃতীয় একজন ব্যক্তি হিসেবে আমার অভিমত হলো তপনের ‘অজ্ঞতা’ কাউকেই আঘাত করবে না–এ কথা সত্য, কিন্তু যথন তা ধারণা আকারে প্রকাশ পায় তথন তাতে সবারই অধিকার জন্মায় সমর্থন করার বা খণ্ডন করার। ঠিক এই কারণেই কি একই কথা একান্তে কাউকে বলা আর পাবলিক প্লেসে বলার মধ্যে অর্থের তফাৎ ঘটে যায় না ? পাবলিক প্লেসে বলা মানেই তাতে সবার অংশগ্রহণের( দেখা, শুনা, বলা, লক্ষ্য করা ইত্যাদি বুঝাচ্ছি) অধিকার তৈরি করে দেয়া । গালিব সেই অধিকার থেকেই এখানে অংশগ্রহণ করেছেন । এক্ষেত্রে তার মতামত জানাবারও অধিকার আছে । আপনি যদি মনে করেন আমার রচনাটি আপনার ভালো লেগেছে তাহলে সেটা নিয়ে তপনের ‘ সূক্ষ্ম পরিহাস’টা আপনার এই ভালো লাগাকেই কি পরিহসিত করছে না ? সেক্ষেত্রে এটা আপনাকেও আঘাত নয় কি? গালিবকেও হয়তো তাই করেছে বলে বোধ করেছেন । আর তা থেকেই এই প্রতিক্রিয়া । নূর সিদ্দীকির ব্যাপারও তাই বলে মনে হয়। অজ্ঞতা তো আমাদের মধ্যে থাকতেই পারে, আমার মধ্যেও আছে। কিন্তু সেটা নিয়ে পরিহাস করাটা কি অশোভন বা নিম্নরুচিকর কাজ নয়? শেষ পর্যন্ত লেখাটি যে আপনার ভালো লেগেছে এতে আমি আনন্দিত । তপনকেও ধন্যবাদ এই জন্য যে তর্কটা না তুললে আমিও উপমা সম্পর্কে ব্যাখ্যা ও উদাহরণ দেয়ার এতটা প্রযোজন বোধ করতাম না । এখন মনে হচ্ছে প্রতিক্রিয়ার সূত্রে হলেও অসম্পূর্ণ লেখাটি সম্পূর্ণ হয়েছে কিছুটা হলেও । আপনার প্রতিক্রিয়া আমাদেরকে আরো একটু পূর্ণতা এনে দিলো । আপনার স্বতঃস্ফূর্ত ও আন্তরিক প্রতিক্রিয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা ।

      ড. তপন বাগচী,
      আপনি রবীন্দ্রনাথ থেকে যে উদাহরণ (‘সাধ্বী জননীর দৃষ্টি সমুদ্যত বাজ’) দিয়েছেন তা বনলতা সেনের উপমার আত্মীয় বলে মনে হয় না । বরং লালনেরটাকে (‘আঁখির কোণে পাখির বাসা’) স্বজনী বলা যেতে পারে । কিন্তু আমার মনে হয় না জীবনানন্দ লালন পড়েছিলেন বা তার গান শুনেছিলেন । কিন্তু নজরুল যে তিনি পড়েছেন তার অনেক প্রমাণ আছে । ফলে বনলতা সেনের উপমাটিতে লালনের চেয়ে নজরুলের প্রভাব থাকাটা বেশি যৌক্তিক নয় কি ?
      আপনি বলেছেন, “বুদ্ধদেব বসু কিংবা হুমায়ুন আজাদ কবি-সমালোচক-প্রাবন্ধিক কিন্তু অলঙ্কারবিদ নন। অলঙ্কার-মীমাংসায় তাঁদের অভিমত চূড়ান্ত হতে পারে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থাকতে পারে।” অলংকারশাস্ত্র নিয়ে তাদের আলাদা কোনো কেতাব নেই বলেই কি তারা অলংকারশাস্ত্র বোঝেন না, অতএব “অলঙ্কারবিদ নন”– এ কথা বলাটা সত্যি সাহসের ব্যাপার । আমার এখনও এত জ্ঞানবু্দ্ধি হয়নি যার জোরে এ দাবী করতে পারবো। আমার সীমিত জ্ঞান দিয়ে বুঝেছি বুদ্ধদেব বসুর প্রবন্ধগুলোই যথেষ্ট তার অলংকারশাস্ত্র সম্পর্কিত ধারণার গভীরতা বুঝবার জন্য। বুদ্ধদেব, হুমায়ুন আজাদের অলংকার মীমাংসায় আপনার আস্থা না থাকতে পারে, আমার আছে । জীবেন্দ্র সিংহ আমাকে যা শেখাতে পারেন তা হলো অলংকারের কঙ্কাল, আর বুদ্ধদেব, হুমায়ুন আজাদ আমাকে শেখান রক্ত মাংসসহ প্রাণস্পন্দনময় এক অলংকারচঞ্চল শাস্ত্র এবং তারও চেয়ে বেশি কিছু । তাই স্রেফ অলংকারবর্জিত কোনো নারীকেও তখন মনে হবে নগ্নতার অলংকারে মোড়ানো এক সৌন্দর্য । জীবেন্দ্ররা সেখানে হয়তো খুঁজে পাবেন পর্ন, অলংকার না দেখে সাহিত্যের আদালতে মামলা ঠুকবেন অশ্লীলতার । এই হচ্ছে একজন জীবেন্দ্র সিংহের সঙ্গে বুদ্ধদেব বসু ও হুমায়ুন আজাদদের পার্থক্য।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সোহেল হাসান গালিব — সেপ্টেম্বর ২, ২০১৩ @ ৭:১৫ পূর্বাহ্ন

      আমি আগে ড. বাগচীর বক্তব্যে হতাশ ও ব্যথিত হয়েছিলাম। এক্ষণে বিরক্ত। কারণ উনি থার্ড ইয়ারের বাংলা সিলেবাসে আটকা পড়ে আছেন। আমার ছাত্রীরাও পরীক্ষার খাতায় উপমা ও উৎপ্রেক্ষার পার্থক্য লেখে বটে, কিন্তু সাধারণভাবে আমরা বলে থাকি, এ সবই উপমার রকমফের। যথা : উৎপ্রেক্ষা, অপহ্নুতি, সন্দেহ, সংশয়, নিশ্চয়, প্রতীপ ইত্যাদি। অলঙ্কারশাস্ত্রে অবশ্য ‘সাদৃশ্যবাচক’ বলে একটা গ্রুপ বানানো হইছে।

      অধিকন্তু, সূক্ষ্মতর আলোচনার স্বার্থে বলতে হয়, ‘আঁখি যে তোমার গানের পাখি’—এইটা উৎপ্রেক্ষা নয়, রূপকের উদাহরণ। সেও কিন্তু উপমারই বিশেষ দশা।

      আমি বিরক্ত কেন সে ব্যাপারে আরেকটু বলা দরকার। কারণ, ড. বাগচী প্রথমে বলেছেন, ওখানে উপমা থাকলে বুদ্ধদেব বসুর নজর এড়াতো না। পরে বলছেন, বুদ্ধদেব অলঙ্কারবিদ নন।

      আবার, ড. বাগচী রাজু আলাউদ্দিনকে অভিনন্দিত করেন এই বলে, “যে অলঙ্কারটি এখানে দেখা যাচ্ছে না, তার প্রশংসা ও বিশ্লেষণ করে চমৎকার একটি প্রবন্ধের জন্য রাজু আলাউদ্দিনকে ধন্যবাদ জানাই।”

      অলঙ্কারকে আপনি ভিন্ন নামে ডাকতেই পারেন। জীবেন্দ্রসিংহের দেয়া নামে বা নিজের দেয়া নামে, কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু জ্ঞান জাহিরের এই বুকিশপনা আমার ভালো লাগে নাই বলে দুঃখিত।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন omar shams — সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৩ @ ১০:৪১ অপরাহ্ন

      রাজুকে কবিতার “শার্লক হোমস্”–গিরি করার জন্য ধন্যবাদ। আশলে ডিটেকটিভের চোখের অভাব বলেই হালের বাংলা কবিতার মধ্যে বেশ কিছুটা নৈরাজ্য। এবার নজরুলের পাখিটিকে দেখা যাক। তাঁর বিভিন্ন কবিতায়, গানে জেনেরিক এবং বিশিষ্ট পাখি (কোয়েলিয়া , বৌ কথা কও ইত্যাদি) আছে। এখানে আমি দুটো গান থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছিঃ
      (১) একি সুরে, তুমি ঘুম ভাঙালে – ভিন দেশী পাখি। (রাগঃ ভৈরবী)
      (২) ভোরেরও হাওয়ায় কে ঘুম ভাঙাতে এলে
      চুম হেনে নয়ন পাতে। (রাগঃ ভায়রো )
      যারা প্রাজ্ঞ শিল্পী, তাঁরা দুটোই গেয়ে থাকেন। রাজু যে কোটেশনটা দিয়েছে,
      আঁখি যে তোমার গানের পাখি
      ঘুম সে ভাঙায় আঁধারে ডাকি
      এখানে (১), (২) থেকে স্পষ্টতই বোঝা যায় যে “আঁখি” “চুম হেনে নয়ন পাতে” ঘুম ভাঙাচ্ছে বলেই নজরুল উপমা তৈরী করেছেনঃ “আঁখি” যেন পাখির মত ঘুম ভাঙালে “চুম হেনে নয়ন পাতে”। দ্বিতীয় পার্টটা উহ্য।
      এরপর রাজুর implicit conclusionঃ জীবনানন্দ নজরুলের গান হয়ত দেখেছিলেন, এবং সেটাকে ব্যবহার করেছিলেন। এই জায়গাটা একটু মুশকিল – আন্দাজ করা যেতে পারে, কিন্তু প্রমাণ করা যায় না। ঝরা পালক-এর পরে, জীবনানন্দ মধ্য লয়ের মাত্রাবৃত্ত থেকে ব—হু দূরে চলে গিয়েছিলেন। এবং কবিতার স্টাইলে রবীন্দ্র-নজরুলের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা জগতে নিজেকে স্থাপন করতে পেরেছিলেন। বনলতা সেন ও অন্যান্য কবিতায় তাঁর লয়, টোন , শব্দ, ভঙ্গী , বিস্তৃত উপমা –বাংলা ভাষায় সব নতুন এবং আলাদা। শুধু “পাখি” থেকে “পাখির নীড়”-এ যাওয়া অনেক পরিভ্রমণের দরকার – “অতি দূর সমুদ্রের পর” । নজরুলের গান মিডিয়াম টেম্পোর মাত্রাবৃত্ত – এখানে পাখি, রাখি, ফাঁকি , বাকি , থাকি, নাকি, তাকি – নানা কিছু ফিট করানো যাবে। কিন্তু “পাখির নীড়ের মতো “ ঢোকানো যাবে না। কল্পনার দিক থেকেও মুশকিল, কেননা আঁখি চুমু দিয়ে ঘুম ভাঙায় বুঝি, কিন্তু পাখির নীড় চুমু দিয়ে ঘুম ভাঙানোর ছবি ভাবা ঝামেলাজনক।
      শেষ-মেশ কোন সিদ্ধান্ত দেয়া কঠিন যা ১০০% সঠিক। তপন বাবু উপমার সংজ্ঞায় একটু ঝামেলা করে ফেলেছেন। আমরা তো করিই fallible হিশেবে, তার জন্য চায়ের কাপে ঝড় তুলে কি হবে! নাজিম হিকমতের উপরে আমার একটা লেখা আছে bdnews24.com-এর ঈদ সংখ্যায় ; তাতে ঠিক চিত্রকল্প নিয়ে একই ব্যাখ্যা আছে। উপসংহার – এ রকম বিশ্লেষণ, ডিটেকটিভগিরি চলতে থাকুক, তাতে কবিতার উপকার বৈকি ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নূর সিদ্দিকী — সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৩ @ ৬:১৮ অপরাহ্ন

      রাজু ভাই’র লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে 28শে আগস্ট। আমি সেটি পড়েছি পরের দিন। মন্তব্যও করেছি সেদিনই। মন্তব্যের মধ্যে ‌জনৈক তপন বাবু’ এবং ‌‌‌’মৃত আত্মার পাঠক’ এমন কিছু শব্দ আমি ব্যবহার করেছি সত্য। কেন করেছি? কারণ ওই জনৈক তপন বাবুর প্রশ্ন করার ধরণ এবং রাজু ভাই’র জবাব দেয়ার প্রক্রিয়াটি সঠিক বলে মনে হয়নি। জনৈক তপন বলার কারণ নাম পরিচয়ের স্থানে কেবল তপন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমেই যদি পরিচয়টা শ্রদ্ধেয় ড. তপন বাগচী দাদা উল্লেখ করতেন তাহলে আমি আর সাহসী হতাম না, কারণ তার সঙ্গে টক্কর দেওয়ার মত জ্ঞান আমার নেই এটা প্রকাশ্যেই স্বীকার করছি। যখন ধীরে ধীরে দাদা বিভিন্ন দিক থেকে আক্রান্ত (মধুর আক্রমনও হতে পারে) হচ্ছেন তখন তিনি খোলস ভেঙে বের হলেন। জবাব দিলেন সব কিছুর কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। তপন দা যখন আমার মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে লেখেন রুচি হয় না, তখন আমারও প্রশ্ন পরিচয়টা স্পষ্ট করলে আমি অরুচিকর কিছুই বলতাম না। রাজু ভাই এবং আহমাদ মাযহার ভাইর কাছে কৃতজ্ঞতা যে আমার মত অভাজনকে আলোচনায় ঠাঁই দিয়েছেন। মূল লেখা প্রতিক্রিয়া পাল্টা প্রতিক্রিয়া সব মিলিয়ে উপভোগ্য একটা ব্যাপারে ঘটালেন রাজু ভাই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাজিব তারেক — আগস্ট ২৭, ২০১৫ @ ২:৩৯ অপরাহ্ন

      অবশ্যই চমৎকার একটি আলোচনা। সাম্প্রতিকতা, উচ্ছাস এবং সাম্প্রদায়িকতা (মুসলিম নজরুল ভক্তি, মুসলিম নজরুল অভক্তি) নজরুল আলোচনার মূল অন্তরায়। তা সরিয়ে এ আলোচনা একটি সাহিত্যিক আলোচনার উদাহরন হবে থাকুক…

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শামস আরেফিন — জানুয়ারি ১, ২০১৭ @ ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

      রাজু ভাই সাধু সাধু
      অনেকদিন পর লেখাটা অাবার পড়লাম

      সুতরাং আলংকারিক জাত বিচারে নজরুল জীবনানন্দের সবচেয়ে নিকটজন– একথা অস্বীকার করার উপায় নেই।
      এমন কি ‘বনলতা সেন’-এর মতো সিগনেচার পোয়েম-এও জীবনানন্দ দাশ নজরুলের আলংকারিক পরাক্রমকে এড়াতে পারেননি । ‘পাখীর নীড়ের মতো চোখ’–এ জাতীয় নতুন উপমা নজরুলে বহু আগে থেকেই উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও আমরা স্রেফ মনোযোগের অভাবে তাকে তার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত রেখেছি। প্রবল আনুষ্ঠানিতা আর নজরুলচর্চার যুগেও তিনি এখনও নানাভাবে আমাদের সাহিত্যিক অরুচি ও অবহেলার শিকার।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com